وَاذْكُرُوا إِذْ أَنْتُمْ قَلِيلٌ مُسْتَضْعَفُونَ فِي الْأَرْضِ تَخَافُونَ أَنْ يَتَخَطَّفَكُمُ النَّاسُ فَآوَاكُمْ وَأَيَّدَكُمْ بِنَصْرِهِ وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٢٦﴾
স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন তোমরা ছিলে সংখ্যায় অল্প, দুনিয়াতে তোমাদেরকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হত। তোমরা আশঙ্কা করতে যে, মানুষেরা তোমাদের কখন না হঠাৎ ধরে নিয়ে যায়। এমন অবস্থায় তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দিলেন, তাঁর সাহায্য দিয়ে তোমাদেরকে শক্তিশালী করলেন, উত্তম জীবিকা দান করলেন যাতে তোমরা (তাঁর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। ( সুরাঃ আল-আনফাল আয়াতঃ 26 )
আল্লাহ তা'আলা ঐ নিয়ামতরাজির কথা বলেছেন যা মুমিনদের উপর করা হয়েছে যে, তারা সংখ্যায় কম ছিল, তাদের সংখ্যা তিনি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা দুর্বল ছিল ও ভীত সন্ত্রস্ত ছিল, তিনি তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। তাদের ভয়ের কারণগুলো দূর করে দিয়েছেন। তারা গরীব ও ফকির ছিল, তিনি তাদেরকে পবিত্র জীবিকা দান করেছেন। তাদেরকে তিনি কৃতজ্ঞ বান্দা বানিয়েছেন। তারা অনুগত বান্দারূপে পরিগণিত হয়েছে। প্রতিটি কাজে তারা বাধ্য ও অনুগত হয়ে গেছে। এই ছিল মুমিনদের অবস্থা, যখন তারা মক্কায় ছিল এবং সংখ্যায় খুবই কম ছিল। তারা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। মুশরিক, মাজুসী, রুমী সবাই তাদেরকে তাদের সংখ্যার স্বল্পতা ও শক্তিহীনতার কারণে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল। সব সময় তাদের এই ভয় ছিল যে, আকস্মিকভাবে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। কিছুকাল পর্যন্ত তাদের এই অবস্থাই ছিল। অতঃপর তাদেরকে মদীনায় হিজরত করার নির্দেশ দেন। সেখানে তারা আশ্রয় লাভ করে । মদীনার ললাকেরা তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। বদর ও অন্যান্য যুদ্ধে তাদের সাথে অংশগ্রহণ করে। জান ও মাল তাদের উপর কুরবান করে দেয়। কেননা, তারা চাচ্ছিল আল্লাহ ও তার রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য করতে। (আরবী) -এ সম্পর্কে কাতাদা (রঃ) বলেন যে, আরবে এই লোকগুলো অত্যন্ত লাঞ্ছিত অবস্থায় ছিল। তাদের জীবন ছিল অত্যন্ত দুর্বিসহ। তাদের পেটে খাবার ছিল না, পরনে কাপড় ছিল না। সুপথ থেকেও তারা ছিল ভ্রষ্ট। তারা ছিল খুবই হতভাগা। তারা খাবার পেতো না, বরং তাদেরকেই খেয়ে নেয়া হচ্ছিল। দুনিয়ায় যে তাদের অপেক্ষা বেশী লাঞ্ছিত ও অপমানিত আর কেউ ছিল তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু ইসলাম আনয়নের পর এই লাঞ্ছিত লোকেরাই দেশের পর দেশ দখল করে নেয় এবং আমীর ও বাদশাহ বনে যায়। রাজা বাদশাহদের উপরও হুকুম চালাতে থাকে। ঢেরি ঢেরি খাবার তারা পেতে শুরু করে। আল্লাহ তাদেরকে সব কিছুই দান করেন যা তোমরা আজ স্বচক্ষে দেখছো। সুতরাং এখন তোমরা নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। তিনিই হচ্ছেন প্রকৃত নিয়ামত দাতা। কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে তিনি ভালবাসেন এবং তাদের ধন-সম্পদ আরো বাড়িয়ে দেন।
তাফসিরে তাবারি লোড হচ্ছে...
তাফসিরে কুরতুবি লোড হচ্ছে...
তাফসিরে বাগাবি লোড হচ্ছে...
তাফসিরে সা'দি লোড হচ্ছে...
তাফসিরে জাকারিয়া লোড হচ্ছে...
আহসানুল বায়ান লোড হচ্ছে...
ফাতহুল মাজীদ লোড হচ্ছে...