فَكَذَّبُوهُ فَأَنْجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا عَمِينَ ﴿٦٤﴾
কিন্তু তারা তাকে (মিথ্যেবাদী মনে করে) অস্বীকার করল। অতঃপর আমি তাকে আর তার সঙ্গে নৌকায় যারা ছিল তাদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম আর আমার আয়াতগুলোকে যারা অস্বীকার করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। তারা ছিল এক অন্ধ সম্প্রদায়। ( সুরাঃ আল-আ'রাফ আয়াতঃ 64 )
৬৩-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা হযরত নূহ (আঃ) সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে বলেন যে, তিনি তাঁর কওমকে সম্বোধন করে বললেনঃ “তোমরা এতে ব্ৰিত কেন হচ্ছ যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরই একজন লোকের উপর অহী প্রেরণ করেছেন। এটা তো তোমাদের উপর দয়া ও অনুগ্রহ। সে তোমাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখাচ্ছে, যেন তোমরা তার শাস্তি থেকে ভয় কর এবং শিরক থেকে বিরত থাক। এর ফলে হয়তো তোমাদের উপর দয়া প্রদর্শন করা হবে। কিন্তু হযরত নূহ (আঃ)-এর কওম তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো এবং তার বিরোধিতা করতে শুরু করে দিলো। তাদের অতি অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান আনয়ন করলো। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “সুতরাং আমি তাকে এবং তার সাথে নৌকায় যারা ছিল তাদেরকে (আমার শাস্তি হতে) রক্ষা করলাম, আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে অমান্য করেছিল, তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ “তাদের পাপের কারণে তাদেরকে ডুবিয়ে দেয়া হয় এবং জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়, এখন তারা আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকেও সাহায্যকারী পায়নি। আল্লাহ পাক বলেনঃ এরা অন্ধ ছিল। সত্যকে তারা দেখতেই পাচ্ছিল না। আল্লাহর বন্ধুদের সাথে শত্রুতা পোষণকারীরা কেমন শাস্তি পেলো, এই ঘটনায় আল্লাহ এর বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি এটাও দেখিয়েছেন যে, রাসূল ও মুমিনগণ মুক্তি পেয়ে গেল। যেমন তিনি বলেনঃ আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে সাহায্য করবো। বিজয় ও সফলতা সৎ লোকেরাই লাভ করবে, দুনিয়াতে এবং আখিরাতেও। যেমন তিনি নূহ (আঃ)-এর কওমকে ডুবিয়ে দিয়ে ধ্বংস করলেন এবং নূহ (আঃ) ও তার সঙ্গীদেরকে মুক্তি দিলেন। যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ) বলেনঃ “নূহ (আঃ)-এর কওম এত বেশী ছিল যে, শহর ও জঙ্গল ভরে গিয়েছিল। যমীনের প্রতিটি অংশের উপর তাদের দখল ছিল। ইবনে অহাব (রঃ) বলেনঃ “ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে আমার কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, হযরত নূহ (আঃ)-এর সাথে যারা নৌকায় আশ্রয় নিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাদের সংখ্যা ছিল আশিজন। তাদের মধ্যে জুরহুম’ নামক একজন লোক ছিলেন যার ভাষা ছিল আরবী।” (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
তাফসিরে তাবারি লোড হচ্ছে...
তাফসিরে কুরতুবি লোড হচ্ছে...
তাফসিরে বাগাবি লোড হচ্ছে...
তাফসিরে সা'দি লোড হচ্ছে...
তাফসিরে জাকারিয়া লোড হচ্ছে...
আহসানুল বায়ান লোড হচ্ছে...
ফাতহুল মাজীদ লোড হচ্ছে...