বিষয়ভিত্তিক কুরআন > কাফিরদের বৈশিষ্ট্য

তারা ধোঁকার মধ্যে ডুবে থাকে:

আল-মুলক, ৬৭:২০
أَمَّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ جُنْدٌ لَكُمْ يَنْصُرُكُمْ مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ ﴿٢٠﴾
দয়াময় ছাড়া কে তোমাদেরকে সাহায্য করবে তোমাদের সেনাবাহিনী হয়ে? কাফিররা তো কেবল ধোঁকার মধ্যে পড়ে আছে। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা দুনিয়ার ভোগবিলাসকেই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি মনে করে:

আল-মুমিনুন, ২৩:৫৫
أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ ﴿٥٥﴾
তারা কি ভেবে নিয়েছে, আমি যে তাদেরকে ধনৈশ্বর্য ও সন্তানাদির প্রাচুর্য দিয়ে সাহায্য করেছি [তাইসিরুল কুরআন]
আল-মুমিনুন, ২৩:৫৬
نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ بَلْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٥٦﴾
এর দ্বারা কি তাদের কল্যাণ ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝে না। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের জীবন-যাপন হয় পশুর মতো:

মুহাম্মাদ, ৪৭:১২
إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَهُمْ ﴿١٢﴾
যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে আল্লাহ তাদেরকে প্রবিষ্ট করবেন জান্নাতে যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। আর যারা কুফুরী করে তারা ভোগ বিলাসে মত্ত থাকে আর আহার করে যেভাবে আহার করে জন্তু জানোয়াররা। জাহান্নামই তাদের বাসস্থান। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা শিরক করে:

আল-আন'আম, ৬:১
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ ﴿١﴾
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আর সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো, এতদসত্ত্বেও যারা কুফরী করেছে তারা (অন্যকে) তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ দাঁড় করিয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেয়:

আন-নাহাল, ১৬:১০৭
ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴿١٠٧﴾
এর কারণ এই যে, তারা আখিরাত অপেক্ষা দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালবাসে, আর আল্লাহ ঈমান প্রত্যাখ্যানকারীদেরকে সঠিক পথ দেখান না। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা মুসলিমদেরকে নিয়ে উপহাস করে:

আল-বাকারা, ২:২১২
زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاللَّهُ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ﴿٢١٢﴾
কাফিরদের নিকট পার্থিব জীবন মোহনীয় করা হয়েছে এবং তারা মুমিনদেরকে বিদ্রূপ করে থাকে, বস্তুতঃ ক্বিয়ামাতের দিন মুত্তাকীগণ তাদের চেয়ে উন্নত অবস্থায় থাকবে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত রিযক দিয়ে থাকেন। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা মুসলিমদের কল্যাণ চায় না:

আল-বাকারা, ২:১০৫
مَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلَا الْمُشْرِكِينَ أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْكُمْ مِنْ خَيْرٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَاللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ ﴿١٠٥﴾
গ্রন্থধারীদের মধ্যে যারা অবিশ্বাসী তারা ও মুশরিকরা এটা চায় না যে, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক অথচ আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় দয়ায় নির্দিষ্ট করে নেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা মুসলিমদের সাথে শত্রুতা করে:

আন-নিসা, ৪:১০১
وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُبِينًا ﴿١٠١﴾
যখন তোমরা দেশে-বিদেশে সফর কর, তখন নামায কসর করাতে তোমাদের কিছুমাত্র দোষ নেই, যদি তোমরা ভয় কর যে, কাফিরগণ তোমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করবে। নিঃসন্দেহে কাফিরগণ তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [তাইসিরুল কুরআন]

মুসলিমদেরকেও তাদের মতো বানাতে চায়:

আন-নিসা, ৪:৮৯
وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً فَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ أَوْلِيَاءَ حَتَّى يُهَاجِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا ﴿٨٩﴾
তারা আকাঙ্ক্ষা করে যে, তারা নিজেরা যেমন কুফরী করেছে, তোমরাও তেমনি কুফরী কর, যাতে তোমরা তাদের সমান হয়ে যাও। কাজেই তাদের মধ্য হতে কাউকেও বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত তারা আল্লাহর পথে হিজরত না করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তাদেরকে গ্রেফতার কর এবং যেখানেই তাদেরকে পাও, হত্যা কর। তাদের মধ্য হতে কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী গ্রহণ করো না। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা নিজেদেরকে মুসলিমদের চেয়েও উত্তম মনে করে:

মারইয়াম, ১৯:৭৩
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَيُّ الْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌ مَقَامًا وَأَحْسَنُ نَدِيًّا ﴿٧٣﴾
আমার স্পষ্ট আয়াত যখন তাদের নিকট আবৃত্তি করা হয় তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘দু’টি দলের মধ্যে মর্যাদায় কোনটি শ্রেষ্ঠ আর মজলিস হিসেবে অধিক উত্তম?’ [তাইসিরুল কুরআন]

তারা মুমিনদের সাথে প্রতারণা করে:

আল-আনকাবূত, ২৯:১২
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا اتَّبِعُوا سَبِيلَنَا وَلْنَحْمِلْ خَطَايَاكُمْ وَمَا هُمْ بِحَامِلِينَ مِنْ خَطَايَاهُمْ مِنْ شَيْءٍ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ ﴿١٢﴾
কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘আমাদের পথ অনুসরণ কর, আমরা তোমাদের পাপের বোঝা বহন করব, মূলতঃ তারা তাদের পাপের কিছুই বহন করবে না, অবশ্যই তারা মিথ্যেবাদী। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা ইসলামের ক্ষতি করার জন্য সম্পদ ব্যয় করে:

আল-আনফাল, ৮:৩৬
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ ﴿٣٦﴾
যে সব লোক সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা আল্লাহর পথ হতে (লোকেদেরকে) বাধা দেয়ার জন্য তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে থাকে, তারা তা ব্যয় করতেই থাকবে, অতঃপর এটাই তাদের দুঃখ ও অনুশোচনার কারণ হবে। পরে তারা পরাজিতও হবে। যারা কুফরী করে তাদেরকে (অবশেষে) জাহান্নামের পানে একত্রিত করা হবে। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা বাতিলের অনুসরণ করে:

মুহাম্মাদ, ৪৭:৩
ذَلِكَ بِأَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا اتَّبَعُوا الْبَاطِلَ وَأَنَّ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّبَعُوا الْحَقَّ مِنْ رَبِّهِمْ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ لِلنَّاسِ أَمْثَالَهُمْ ﴿٣﴾
এর কারণ এই যে, যারা কুফুরী করে তারা মিথ্যার অনুসরণ করে, আর যারা ঈমান আনে তারা তাদের প্রতিপালকের প্রেরিত সত্যের অনুসরণ করে। এমনিভাবে আল্লাহ মানুষের জন্য তাদের (মধ্যেকার পাপী এবং পুণ্যবানের) দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা তাগুতের সাথে বন্ধুত্ব করে:

আল-বাকারা, ২:২৫৭
اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٥٧﴾
আল্লাহ মু’মিনদের অভিভাবক, তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং কাফিরদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত, সে তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই আগুনের বাসিন্দা, এরা চিরকাল সেখানে থাকবে। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা আল্লাহর দ্বীনকে মিটিয়ে দিতে চায়:

আস-সাফ, ৬১:৮
يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ ﴿٨﴾
তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পরিপূর্ণ করবেনই যদিও কাফিররা (তা) অপছন্দ করে। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা সত্যকে মিথ্যা দ্বারা ব্যর্থ করার চেষ্টা করে:

আল-কাহফ, ১৮:৫৬
وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَيُجَادِلُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَمَا أُنْذِرُوا هُزُوًا ﴿٥٦﴾
আমি রসূলদেরকে পাঠিয়ে থাকি একমাত্র সুসংবাদদাতা আর সতর্ককারী হিসেবে। কিন্তু কাফিরগণ মিথ্যা যুক্তি পেশ করে বিতর্ক করছে তা দিয়ে সত্যকে দুর্বল করে দেয়ার উদ্দেশে, আর তারা আমার নিদর্শন ও ভয় দেখানোকে হাসি-তামাশার বিষয় বানিয়ে নিয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা মানুষকে কুরআন থেকে সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করে:

হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:২৬
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ ﴿٢٦﴾
কাফিররা বলে- এ কুরআন শুনো না, আর তা পড়ার কালে শোরগোল কর যাতে তোমরা বিজয়ী হতে পার। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা ইসলামের বাহকদেরকে উৎখাত করতে চায়:

আল-হজ্জ, ২২:৭২
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ تَعْرِفُ فِي وُجُوهِ الَّذِينَ كَفَرُوا الْمُنْكَرَ يَكَادُونَ يَسْطُونَ بِالَّذِينَ يَتْلُونَ عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا قُلْ أَفَأُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِنْ ذَلِكُمُ النَّارُ وَعَدَهَا اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿٧٢﴾
আর তাদের সম্মুখে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তুমি কাফিরদের চেহারায় একটা অনীহার ভাব দেখতে পাবে। তাদের কাছে যারা আমার আয়াত তিলাওয়াত করে তাদেরকে তারা আক্রমণ করতে উদ্যত হয়। বল, তাহলে আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও খারাপ কিছুর সংবাদ দেব? তা হল আগুন। আল্লাহ কাফিরদেরকে এর ওয়া‘দা দিয়েছেন। আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল! [তাইসিরুল কুরআন]

উপদেশ দিলেও তারা সৎপথে আসে না:

আল-বাকারা, ২:৬
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٦﴾
নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে তাদেরকে তুমি ভয় দেখাও আর না দেখাও উভয়টাই তাদের জন্য সমান, তারা ঈমান আনবে না। [তাইসিরুল কুরআন]

সত্য অস্বীকারকারীরা (নবী ও কিয়ামত বিষয়ে) পরস্পরবিরোধী ও বিভিন্ন মতবাদে নিমজ্জিত।

আয-যারিয়াত, ৫১:৮
إِنَّكُمْ لَفِي قَوْلٍ مُخْتَلِفٍ ﴿٨﴾
(পরকাল সম্পর্কে) তোমরা অবশ্যই রয়েছ মতভেদের মধ্যে। [তাইসিরুল কুরআন]

অহংকারী কাফির ব্যক্তি আল্লাহর কোনো আয়াত সম্পর্কে অবগত হলে তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে।

আল-জাসিয়া, ৪৫:৯
وَإِذَا عَلِمَ مِنْ آيَاتِنَا شَيْئًا اتَّخَذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿٩﴾
আমার আয়াতগুলোর কোন কথা যখন সে অবগত হয় তখন তাকে ঠাট্টা বিদ্রূপের বিষয় বানিয়ে নেয়, তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর আয়াত শুনে কাফিররা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল।

আল-জাসিয়া, ৪৫:৩১
وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا أَفَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَاسْتَكْبَرْتُمْ وَكُنْتُمْ قَوْمًا مُجْرِمِينَ ﴿٣١﴾
আর যারা কুফরী করেছিল তাদেরকে বলা হবে- আমার আয়াতগুলো কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি? তখন তোমরা অহঙ্কার করেছিলে আর তোমরা ছিলে এক অপরাধী জাতি। [তাইসিরুল কুরআন]

এবং কাফিররা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।

আল-জাসিয়া, ৪৫:৩১
وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا أَفَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَاسْتَكْبَرْتُمْ وَكُنْتُمْ قَوْمًا مُجْرِمِينَ ﴿٣١﴾
আর যারা কুফরী করেছিল তাদেরকে বলা হবে- আমার আয়াতগুলো কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়নি? তখন তোমরা অহঙ্কার করেছিলে আর তোমরা ছিলে এক অপরাধী জাতি। [তাইসিরুল কুরআন]

শয়তানের সঙ্গীরা পরকালের প্রতিও ঈমান রাখে না।

আন-নিসা, ৪:৩৮
وَالَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَنْ يَكُنِ الشَّيْطَانُ لَهُ قَرِينًا فَسَاءَ قَرِينًا ﴿٣٨﴾
(আর সেসব লোককেও আল্লাহ পছন্দ করেন না) যারা মানুষকে দেখানোর জন্য নিজেদের ধন-সম্পদ খরচ করে এবং আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর বিশ্বাস রাখে না। শয়ত্বান কারো সঙ্গী হলে সে সঙ্গী কতই না জঘন্য! [তাইসিরুল কুরআন]

বনী ইসরাইল আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছিল।

আন-নিসা, ৪:১৫৫
فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ وَكُفْرِهِمْ بِآيَاتِ اللَّهِ وَقَتْلِهِمُ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَقَوْلِهِمْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ طَبَعَ اللَّهُ عَلَيْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿١٥٥﴾
(তাদের প্রতি আল্লাহর অসন্তোষ নেমে এসেছে) তাদের ওয়া‘দা ভঙ্গের কারণে, আর আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করার কারণে, অন্যায়ভাবে নাবীগণকে তাদের হত্যা করার কারণে, আর ‘আমাদের হৃদয়গুলো আচ্ছাদিত’ তাদের এ কথা বলার কারণে- বরং তাদের অস্বীকৃতির কারণে আল্লাহ তাদের হৃদয়গুলোতে মোহর মেরে দিয়েছেন। যে কারণে তাদের অল্পসংখ্যক ছাড়া ঈমান আনে না। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিরদের কাছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যখনই কোনো নিদর্শন আসে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

আল-আন'আম, ৬:৪
وَمَا تَأْتِيهِمْ مِنْ آيَةٍ مِنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ ﴿٤﴾
তাদের রব্বের নিদর্শনাবলী হতে এমন কোন নিদর্শন তাদের কাছে আসে না যা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় না। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ (মানুষের রূপে ফেরেশতা পাঠিয়ে) কাফিরদেরকে তাদের বিদ্যমান সংশয়ের মধ্যেই ফেলে দিতেন।

আল-আন'আম, ৬:৯
وَلَوْ جَعَلْنَاهُ مَلَكًا لَجَعَلْنَاهُ رَجُلًا وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِمْ مَا يَلْبِسُونَ ﴿٩﴾
আর আমি যদি তাকে ফেরেশতা করতাম তবে তাকে মানুষের আকৃতি বিশিষ্টই করতাম, আর তাদেরকে অবশ্যই গোলকধাঁধায় ফেলে দিতাম যেমন ধাঁধাঁয় তারা এখন পড়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]

জেনে রেখো, কাফিররা আল্লাহর নিকট থেকে নিজেদের গোপন করার জন্য তাদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে নেয়।

হূদ, ১১:৫
أَلَا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُوا مِنْهُ أَلَا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿٥﴾
লক্ষ্য কর, এরা নিজেদের বুক ঘুরিয়ে নেয় যাতে তারা তাঁর (অর্থাৎ আল্লাহর) থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে। সাবধান! এরা যখন কাপড় দিয়ে নিজেরা নিজেদেরকে ঢেকে নেয়, তখন তারা যা গোপন করে আর প্রকাশ করে তিনি তা জানেন। তাদের মনের গভীরে যা আছে সে বিষয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি অবহিত। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা বিকল্প হিসেবে আল্লাহর কাছে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিও কামনা করেছিল।

আল-আনফাল, ৮:৩২
وَإِذْ قَالُوا اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٣٢﴾
স্মরণ কর, যখন তারা বলেছিল, ‘হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার নিকট থেকে (প্রেরিত) সত্য (দ্বীন) হয় তাহলে আমাদের উপর আসমান থেকে পাথর বর্ষণ কর, কিংবা আমাদের উপর কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে এসো।’ [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা পরকালের উপর দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়।

ইবরাহীম, ১৪:৩
الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا أُولَئِكَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ ﴿٣﴾
যারা আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জিন্দিগীকে শ্রেয় জ্ঞান করে, যারা আল্লাহর পথ থেকে (লোকদেরকে) বিরত রাখে আর তাতে বক্রতা আনার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। এরা গোমরাহীতে বহু দূরে চলে গেছে। [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয়ই কাফিরদের কৃতকর্ম অত্যন্ত মন্দ।

আত-তাওবা, ৯:৯
اشْتَرَوْا بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِهِ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٩﴾
আল্লাহর আয়াতকে তারা (দুনিয়াবী স্বার্থে) অতি তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছে, আল্লাহর পথে (মানুষদের চলার ক্ষেত্রে) প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তারা যা করে কতই না জঘন্য সে কাজ। [তাইসিরুল কুরআন]

কেবল তারাই আপনার কাছে (যুদ্ধ থেকে) অব্যাহতি চায়, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করে না।

আত-তাওবা, ৯:৪৫
إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ ﴿٤٥﴾
তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা তারাই করে যারা আল্লাহ্ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করে না, যাদের অন্তর সন্দেহপূর্ণ, কাজেই তারা তাদের সন্দেহের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও (সত্য প্রত্যাখ্যান করে) ঠিক এমনই আচরণ করেছিল।

আন-নাহাল, ১৬:৩৩
هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ أَمْرُ رَبِّكَ كَذَلِكَ فَعَلَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٣٣﴾
তারা কি এই অপেক্ষায় আছে যে, ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে কিংবা তোমার প্রতিপালকের ফায়সালা এসে পড়বে? তাদের পূর্ববর্তীরাও এ রকমই করত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোন যুলম করেননি বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করত। [তাইসিরুল কুরআন]

বরং কাফিরদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না।

আন-নাহাল, ১৬:১০১
وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوا إِنَّمَا أَنْتَ مُفْتَرٍ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٠١﴾
আমি যখন এক আয়াতের বদলে অন্য আয়াত নাযিল করি- আর আল্লাহ ভালভাবেই জানেন, যা তিনি নাযিল করেন- তখন এই লোকেরা বলে, ‘তুমি তো মিথ্যা রচনাকারী।’ প্রকৃত ব্যাপার এই যে, এ সম্পর্কে তাদের অধিকাংশেরই কোন জ্ঞান নেই। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর আয়াতসমূহে অবিশ্বাসীরাই হলো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।

আন-নাহাল, ১৬:১০৫
إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْكَاذِبُونَ ﴿١٠٥﴾
যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে না, তারাই মিথ্যে রচনা করে আর তারাই মিথ্যাবাদী। [তাইসিরুল কুরআন]

আর এই সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরাই হলো প্রকৃত উদাসীন।

আন-নাহাল, ১৬:১০৮
أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ ﴿١٠٨﴾
এরা ঐ সব লোক আল্লাহ যাদের অন্তর, কান আর চোখে মোহর মেরে দিয়েছেন আর তারা বে-খেয়াল, উদাসীন। [তাইসিরুল কুরআন]

আর লূতের জাতির অধিকাংশই মু'মিন ছিল না।

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭৫
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ (﴿١٧٥﴾
তোমার প্রতিপালক, তিনি মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু। [তাইসিরুল কুরআন]

অপরাধীরা যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না।

আশ-শুআ'রা, ২৬:২০১
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِ حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ ﴿٢٠١﴾
তারা এর প্রতি ঈমান আনবে না যতক্ষণ না তারা ভয়াবহ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা আখেরাত বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে অন্ধ।

আন-নামাল, ২৭:৬৬
بَلِ ادَّارَكَ عِلْمُهُمْ فِي الْآخِرَةِ بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِنْهَا بَلْ هُمْ مِنْهَا عَمُونَ ﴿٦٦﴾
বরং আখিরাত সম্পর্কিত তাদের জ্ঞানের সীমা শেষ, বরং এ ব্যাপারে তারা সন্দেহে আচ্ছন্ন বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিরদের চক্ষু আল্লাহর স্মরণ থেকে পর্দায় আবৃত ছিল।

আল-কাহফ, ১৮:১০১
الَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَاءٍ عَنْ ذِكْرِي وَكَانُوا لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا ﴿١٠١﴾
আমার স্মরণ থেকে যাদের চক্ষু ছিল আবরণে ঢাকা আর তারা শুনতেও সক্ষম ছিল না। [তাইসিরুল কুরআন]

আর কাফিররা (সত্য) শুনতে সক্ষম ছিল না।

আল-কাহফ, ১৮:১০১
الَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَاءٍ عَنْ ذِكْرِي وَكَانُوا لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا ﴿١٠١﴾
আমার স্মরণ থেকে যাদের চক্ষু ছিল আবরণে ঢাকা আর তারা শুনতেও সক্ষম ছিল না। [তাইসিরুল কুরআন]

বস্তুত এই কাফিররাই পূর্বে মূসাকে (আঃ) প্রদত্ত বিষয় অস্বীকার করেছিল।

আল-কাসাস, ২৮:৪৮
فَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا لَوْلَا أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ مُوسَى أَوَلَمْ يَكْفُرُوا بِمَا أُوتِيَ مُوسَى مِنْ قَبْلُ قَالُوا سِحْرَانِ تَظَاهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونَ ﴿٤٨﴾
অতঃপর আমার নিকট থেকে তাদের কাছে যখন সত্য আসল তখন তারা বলল- ‘মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তাকে কেন সেরূপ দেয়া হল না? ইতোপূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তারা কি তা অস্বীকার করেনি?’ তারা বলেছিল- ‘দু’টোই যাদু, একটা আরেকটার সহায়তাকারী। আর তারা বলেছিল আমরা (তাওরাত ও কুরআন) সবই প্রত্যাখ্যান করি।’ [তাইসিরুল কুরআন]

সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফিরগণ ব্যতীত আর কেউই আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে না।

আল-আনকাবূত, ২৯:৪৭
وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ فَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَمِنْ هَؤُلَاءِ مَنْ يُؤْمِنُ بِهِ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا الْكَافِرُونَ ﴿٤٧﴾
(পূর্বে যেভাবে নাযিল করেছিলাম) এভাবেই আমি তোমার প্রতি কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি। কাজেই আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম তারা তাতে বিশ্বাস করে, আর তাদেরও (অর্থাৎ মক্কার মুশরিকদেরও) কতক তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে, অবিশ্বাসীরা ছাড়া আমার নিদর্শনাবলীকে কেউ অস্বীকার করে না। [তাইসিরুল কুরআন]

সুতরাং, এই অবিশ্বাসীরা কি ঈমান আনবে?

আল-আম্বিয়া, ২১:৬
مَا آمَنَتْ قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَفَهُمْ يُؤْمِنُونَ ﴿٦﴾
তাদের পূর্বে আমি যে সমস্ত জনপদ ধ্বংস করেছি তাদের একটিও ঈমান আনেনি, তাহলে এরা কি ঈমান আনবে? [তাইসিরুল কুরআন]

অথচ এই কাফিররাই পরম করুণাময় আল্লাহর স্মরণকে অস্বীকারকারী।

আল-আম্বিয়া, ২১:৩৬
وَإِذَا رَآكَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ وَهُمْ بِذِكْرِ الرَّحْمَنِ هُمْ كَافِرُونَ ﴿٣٦﴾
কাফিররা যখন তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে একমাত্র উপহাসের পাত্র হিসেবেই গণ্য করে। (আর তারা বলে) ‘এই কি সেই লোক যে তোমাদের দেবতাগুলোর ব্যাপারে কথা বলে? অথচ এই লোকগুলোই ‘রহমান’ (শব্দটির) উল্লেখকে অগ্রাহ্য করে। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা তাদের উদাসীনতা ও অজ্ঞতার গভীরে নিমজ্জিত রয়েছে।

আল-মুমিনুন, ২৩:৫৪
فَذَرْهُمْ فِي غَمْرَتِهِمْ حَتَّى حِينٍ ﴿٥٤﴾
কাজেই তাদেরকে কিছুকাল তাদের অজ্ঞানতাপ্রসূত বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও। [তাইসিরুল কুরআন]

অবশেষে আল্লাহ কাফিরদের বিলাসী ব্যক্তিদেরকে আযাব দ্বারা পাকড়াও করেন।

আল-মুমিনুন, ২৩:৬৪
حَتَّى إِذَا أَخَذْنَا مُتْرَفِيهِمْ بِالْعَذَابِ إِذَا هُمْ يَجْأَرُونَ ﴿٦٤﴾
অবশেষে আমি যখন তাদের (অর্থাৎ কাফিরদের) মধ্যে বিত্ত সম্পদশালীদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করব, তখন তারা চিৎকার জুড়ে দেবে। [তাইসিরুল কুরআন]

বস্তুত কাফিরদের অধিকাংশই সত্যকে অপছন্দ করে।

আল-মুমিনুন, ২৩:৭০
أَمْ يَقُولُونَ بِهِ جِنَّةٌ بَلْ جَاءَهُمْ بِالْحَقِّ وَأَكْثَرُهُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ ﴿٧٠﴾
অথবা তারা কি বলে যে, সে উন্মাদ? না, প্রকৃতপক্ষে সে তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই সত্যকে অপছন্দ করে। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর পক্ষ থেকে কাফিরদের প্রতি প্রশ্ন: তাহলে তোমরা কীভাবে জাদুগ্রস্তের মতো বিভ্রান্ত হচ্ছো?

আল-মুমিনুন, ২৩:৮৯
سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ ﴿٨٩﴾
তারা বলবে (সকল কিছুর কর্তৃত্ব) আল্লাহর। তাহলে কেমন করে তোমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়ছ? [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয়ই সেই অবিশ্বাসীরা মিথ্যাবাদী।

আল-মুমিনুন, ২৩:৯০
بَلْ أَتَيْنَاهُمْ بِالْحَقِّ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ ﴿٩٠﴾
কিছুই না, আমি তাদের নিকট সত্য পাঠিয়েছি কিন্তু তারা বাস্তবিকই মিথ্যেবাদী। [তাইসিরুল কুরআন]

এবং তারা পার্থিব ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকুক।

আল-আনকাবূত, ২৯:৬৬
لِيَكْفُرُوا بِمَا آتَيْنَاهُمْ وَلِيَتَمَتَّعُوا فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿٦٦﴾
যার ফলে তাদের প্রতি আমার দানকে তারা অস্বীকার করে আর ভোগ বিলাসে ডুবে থাকে। শীঘ্রই তারা জানতে পারবে! [তাইসিরুল কুরআন]

কেবল চরম বিশ্বাসঘাতক ও পরম অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিরাই আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে।

লুকমান, ৩১:৩২
وَإِذَا غَشِيَهُمْ مَوْجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ فَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا كُلُّ خَتَّارٍ كَفُورٍ ﴿٣٢﴾
ঢেউ যখন তাদেরকে (মেঘের) ছায়ার মত ঢেকে নেয়, তখন তারা আল্লাহকে ডাকতে থাকে তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে। অতঃপর আমি যখন তাদেরকে উদ্ধার ক’রে স্থলে এনে দেই, তখন তাদের কতক ন্যায়পূর্ণ আচরণ করে। কেবল মিথ্যাচারী অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিই আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে। [তাইসিরুল কুরআন]

অধিকন্তু, কাফিররা মু'মিনদেরকেই স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত বলে অভিযুক্ত করে।

ইয়াসীন, ৩৬:৪৭
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنُطْعِمُ مَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ أَطْعَمَهُ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٤٧﴾
তাদেরকে যখন বলা হয় ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তাত্থেকে তোমরা (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর; তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘‘আমরা কি এমন লোককে খাওয়াবো আল্লাহ ইচ্ছে করলে যাকে খাওয়াতে পারতেন? তোমরা তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতে পড়ে আছ। [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয়ই কাফিররাও (তাদের পরিণতির জন্য) অপেক্ষা করছে।

আস-সাজদাহ, ৩২:৩০
فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَانْتَظِرْ إِنَّهُمْ مُنْتَظِرُونَ ﴿٣٠﴾
কাজেই তুমি তাদেরকে এড়িয়ে চল আর (আল্লাহর ফয়সালার জন্য) অপেক্ষা কর, তারাও (সেই ফয়সালার জন্য আছে) অপেক্ষমান। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ কাফিরদেরকে তাদের অনুধাবনহীনতার জন্য ভর্ৎসনা করেন।

আস-সাফফাত, ৩৭:১৫৫
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿١٥٥﴾
তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? [তাইসিরুল কুরআন]

তবে কি কাফিররা আল্লাহর শাস্তিই ত্বরান্বিত করতে চায়?

আস-সাফফাত, ৩৭:১৭৬
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ ﴿١٧٦﴾
তারা কি আমার শাস্তি তরান্বিত করতে চায়? [তাইসিরুল কুরআন]

বস্তুত, কাফিররা ঔদ্ধত্য ও অহমিকায় নিমজ্জিত।

সোয়াদ, ৩৮:২
بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ ﴿٢﴾
কিন্তু কাফিররা আত্মম্ভরিতা আর বিরোধিতায় নিমজ্জিত। [তাইসিরুল কুরআন]

এবং কাফিররা চরম বিরোধিতা ও সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে।

সোয়াদ, ৩৮:২
بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ ﴿٢﴾
কিন্তু কাফিররা আত্মম্ভরিতা আর বিরোধিতায় নিমজ্জিত। [তাইসিরুল কুরআন]

এবং ইবলিস কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সোয়াদ, ৩৮:৭৪
إِلَّا إِبْلِيسَ اسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ ﴿٧٤﴾
ইবলীস ছাড়া। সে অহঙ্কার করল আর কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয়ই ফেরাউন ছিল চরম উদ্ধত।

আদ-দুখান, ৪৪:৩১
مِنْ فِرْعَوْنَ إِنَّهُ كَانَ عَالِيًا مِنَ الْمُسْرِفِينَ ﴿٣١﴾
ফেরাউনের। সে ছিল সীমালঙ্ঘনকারীদের শীর্ষে। [তাইসিরুল কুরআন]

ফলে কাফিররা এক চরম বিশৃঙ্খল ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় রয়েছে।

কাফ, ৫০:৫
بَلْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ فَهُمْ فِي أَمْرٍ مَرِيجٍ ﴿٥﴾
তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তা অস্বীকার করেছে, কাজেই এখন তারা সংশয়ের মধ্যে পড়ে আছে। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিরদের বিবেক-বুদ্ধি কি তাদেরকে এই ধরনের অযৌক্তিক কথা বলতে নির্দেশ দেয়?

আত-তূর, ৫২:৩২
أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلَامُهُمْ بِهَذَا أَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ ﴿٣٢﴾
তাদের বুদ্ধি বিবেক কি তাদেরকে এ নির্দেশ দেয়, নাকি তারা মূলতঃই এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি? [তাইসিরুল কুরআন]

বরং কাফিররা হলো এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।

আত-তূর, ৫২:৩২
أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلَامُهُمْ بِهَذَا أَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ ﴿٣٢﴾
তাদের বুদ্ধি বিবেক কি তাদেরকে এ নির্দেশ দেয়, নাকি তারা মূলতঃই এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি? [তাইসিরুল কুরআন]

বরং প্রকৃত সত্য হলো, কাফিররা কোনো বিষয়েই দৃঢ় বিশ্বাসী নয়।

আত-তূর, ৫২:৩৬
أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَلْ لَا يُوقِنُونَ ﴿٣٦﴾
নাকি তারা আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? আসলে তারা নিশ্চিত বিশ্বাসী নয়। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিরদের কাছে কি গায়েবের জ্ঞান রয়েছে?

আত-তূর, ৫২:৪১
أَمْ عِنْدَهُمُ الْغَيْبُ فَهُمْ يَكْتُبُونَ ﴿٤١﴾
নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে, আর তারা তা লিখছে? [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা কি গায়েবের বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করে?

আত-তূর, ৫২:৪১
أَمْ عِنْدَهُمُ الْغَيْبُ فَهُمْ يَكْتُبُونَ ﴿٤١﴾
নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে, আর তারা তা লিখছে? [তাইসিরুল কুরআন]

যে ব্যক্তি সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে অতি সামান্যই দান করে।

আন-নাজম, ৫৩:৩৪
وَأَعْطَى قَلِيلًا وَأَكْدَى ﴿٣٤﴾
এবং সামান্য দান করে অতঃপর (হৃদয়) শক্ত করে ফেলে? [তাইসিরুল কুরআন]

এবং কাফির ব্যক্তি দুঃখে ও ক্ষোভে পূর্ণ হয়ে তা সংবরণ করে।

আয-যুখরুফ, ৪৩:১৭
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمَنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ ﴿١٧﴾
তাদের কাউকে যখন সংবাদ দেয়া হয় সেই সন্তানের যা তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, তখন তার মুখ মন্ডলে কালিমা ছেয়ে যায়, আর মন দুঃখ বেদনায় ভরে যায়। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা সত্যকে অস্বীকার করেছে।

আল-কামার, ৫৪:৩
وَكَذَّبُوا وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ وَكُلُّ أَمْرٍ مُسْتَقِرٌّ ﴿٣﴾
তারা সত্যকে অস্বীকার করে, আর নিজেদের কামনা বাসনার অনুসরণ করে। প্রতিটি বিষয়েরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে (সময় আসলেই বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে)। [তাইসিরুল কুরআন]

কিন্তু কাফিরদের অধিকাংশই ছিল সত্যবিদ্বেষী।

আয-যুখরুফ, ৪৩:৭৮
لَقَدْ جِئْنَاكُمْ بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ ﴿٧٨﴾
আমি তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্যকে অপছন্দকারী। [তাইসিরুল কুরআন]

রাসূল (ﷺ) তাঁর রবের কাছে বলেন যে, 'হে আমার রব! নিশ্চয়ই এই লোকেরা এমন এক সম্প্রদায় যারা ঈমান আনে না।'

আয-যুখরুফ, ৪৩:৮৮
وَقِيلِهِ يَا رَبِّ إِنَّ هَؤُلَاءِ قَوْمٌ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٨٨﴾
রসূলের এ উক্তির শপথঃ ‘হে আমার প্রতিপালক! এ জাতির লোকেরা ঈমান আনবে না।’ [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা আন্তরিকভাবে কামনা করে যেন মুমিনরা কুফরি অবলম্বন করে।

আল-মুমতাহিনা, ৬০:২
إِنْ يَثْقَفُوكُمْ يَكُونُوا لَكُمْ أَعْدَاءً وَيَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ وَأَلْسِنَتَهُمْ بِالسُّوءِ وَوَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ ﴿٢﴾
তারা তোমাদেরকে জব্দ করতে পারলেই শত্রুর আচরণ করবে, আর তোমাদের অনিষ্ট করার জন্য তারা তাদের হাত ও মুখের ভাষা সম্প্রসারিত করবে আর তারা চাইবে যে, তোমরাও যেন কুফুরী কর। [তাইসিরুল কুরআন]

বরং কাফিরদের ক্রমাগত কৃতকর্মই তাদের অন্তরের উপর মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।

আল-মুতাফফিফীন, ৮৩:১৪
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿١٤﴾
কক্ষনো না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]

অপরাধীরা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে উৎফুল্ল হয়ে হাসাহাসি করতে করতে ফিরে যেত।

আল-মুতাফফিফীন, ৮৩:৩১
وَإِذَا انْقَلَبُوا إِلَى أَهْلِهِمُ انْقَلَبُوا فَكِهِينَ ﴿٣١﴾
আর তারা যখন তাদের আপন জনদের কাছে ফিরে আসত, তখন (মু’মিনদেরকে ঠাট্টা ক’রে আসার কারণে) ফিরত উৎফুল্ল হয়ে। [তাইসিরুল কুরআন]

অপরাধীরা যখন মুমিনদেরকে দেখত, তখন তারা বলত যে মুমিনগণ নিশ্চিতভাবে পথভ্রষ্ট।

আল-মুতাফফিফীন, ৮৩:৩২
وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوا إِنَّ هَؤُلَاءِ لَضَالُّونَ ﴿٣٢﴾
আর তারা যখন মু’মিনদেরকে দেখত তখন বলত, ‘এরা তো অবশ্যই গুমরাহ্।’ [তাইসিরুল কুরআন]

কাফির ব্যক্তি সম্পদ ও সন্তানের অধিকারী হওয়ার কারণে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে এবং আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যান করে।

আল-ক্বলাম, ৬৮:১৪
أَنْ كَانَ ذَا مَالٍ وَبَنِينَ ﴿١٤﴾
কারণ সে সম্পদ আর (অনেক) সন্তানাদির অধিকারী। [তাইসিরুল কুরআন]

নামাজে বাধাদানকারী ব্যক্তি সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

আল-আলাক, ৯৬:১৩
أَرَأَيْتَ إِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى ﴿١٣﴾
তোমার কী ধারণা যদি সে (অর্থাৎ নিষেধকারী ব্যক্তি) সত্যকে অস্বীকার করে আর মুখ ফিরিয়ে নেয় (তাহলে তার এ কাজ কেমন মনে কর?) [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয়ই ঐ কাফির ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতসমূহের ঘোর বিরোধী ছিল।

আল-মুদ্দাসসির, ৭৪:১৬
كَلَّا إِنَّهُ كَانَ لِآيَاتِنَا عَنِيدًا ﴿١٦﴾
কক্ষনো না, সে ছিল আমার নিদর্শনের বিরুদ্ধাচারী। [তাইসিরুল কুরআন]

অতঃপর সেই কাফির ব্যক্তিটি (সিদ্ধান্তের জন্য) দৃষ্টিপাত করল।

আল-মুদ্দাসসির, ৭৪:২১
ثُمَّ نَظَرَ ﴿٢١﴾
তারপর সে তাকালো। [তাইসিরুল কুরআন]

অতঃপর সত্য অস্বীকারকারী ব্যক্তি তার পরিবারের নিকট ফিরে গেল।

আল-ক্বিয়ামাহ, ৭৫:৩৩
ثُمَّ ذَهَبَ إِلَى أَهْلِهِ يَتَمَطَّى ﴿٣٣﴾
অতঃপর সে অতি দম্ভভরে তার পরিবারবর্গের কাছে ফিরে গিয়েছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

অচিরেই কাফিররা প্রকৃত সত্য জানতে পারবে।

আন-নাবা, ৭৮:৫
ثُمَّ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ﴿٥﴾
আবার বলছি, কক্ষনো না (তাদের ধারণা একেবারে অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। [তাইসিরুল কুরআন]

পক্ষান্তরে, এমন এক ব্যক্তি রয়েছে যে নিজেকে (ঈমানের ব্যাপারে) অমুখাপেক্ষী মনে করে।

আবাসা, ৮০:৫
أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى ﴿٥﴾
পক্ষান্তরে যে পরোয়া করে না, [তাইসিরুল কুরআন]

কিন্তু সেই জাতিগুলো ঈমান আনার মতো ছিল না।

ইউনুস, ১০:১৩
وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا الْقُرُونَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَمَّا ظَلَمُوا وَجَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ وَمَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا كَذَلِكَ نَجْزِي الْقَوْمَ الْمُجْرِمِينَ ﴿١٣﴾
তোমাদের পূর্বেকার বহু জনগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হয়েছিল, তাদের কাছে রসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিল, কিন্তু তারা আদৌ ঈমান আনেনি। এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে (পাপের) প্রতিদান দিয়ে থাকি। [তাইসিরুল কুরআন]

পূর্ববর্তী জাতিসমূহের উপর আসা শাস্তির পুনরাবৃত্তি দেখার জেদই মানুষকে হিদায়াত লাভের পরও ঈমান আনা ও ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিরত রাখে।

আল-কাহফ, ১৮:৫৫
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا ﴿٥٥﴾
তাদের কাছে যখন পথের নির্দেশ আসে তখন ঈমান আনতে আর তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাইতে মানুষকে এ ছাড়া আর অন্য কিছুই বাধা দেয় না যে, (তারা অপেক্ষায় থাকে যে) অতীতের জাতিগুলোর সঙ্গে যা করা হয়েছে, কখন তাদের সঙ্গেও তাই করা হবে অথবা কখন ‘আযাবকে তারা সরাসরি সামনে দেখতে পাবে। [তাইসিরুল কুরআন]

শাস্তিকে সরাসরি ও সামনাসামনি দেখার জেদই মানুষকে হিদায়াত লাভের পরও ঈমান আনা ও ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিরত রাখে।

আল-কাহফ, ১৮:৫৫
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا ﴿٥٥﴾
তাদের কাছে যখন পথের নির্দেশ আসে তখন ঈমান আনতে আর তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাইতে মানুষকে এ ছাড়া আর অন্য কিছুই বাধা দেয় না যে, (তারা অপেক্ষায় থাকে যে) অতীতের জাতিগুলোর সঙ্গে যা করা হয়েছে, কখন তাদের সঙ্গেও তাই করা হবে অথবা কখন ‘আযাবকে তারা সরাসরি সামনে দেখতে পাবে। [তাইসিরুল কুরআন]

অতঃপর সেই সত্য প্রত্যাখ্যানকারী ব্যক্তিটি ভ্রুকুটি করলো।

আল-মুদ্দাসসির, ৭৪:২২
ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ﴿٢٢﴾
তারপর ভ্রু কুঁচকালো আর মুখ বাঁকালো। [তাইসিরুল কুরআন]

এবং সেই ব্যক্তিটি মুখমণ্ডল বিবর্ণ ও সংকুচিত করলো।

আল-মুদ্দাসসির, ৭৪:২২
ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ﴿٢٢﴾
তারপর ভ্রু কুঁচকালো আর মুখ বাঁকালো। [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px