🕋
يونس
(১০) ইউনুস
১০৯
﴾১০:১﴿
﴾ ১০:১ ﴿
الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ ﴿١﴾
আলিফ-লা-ম-রা| এগুলো (হচ্ছে) একটি জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থের আয়াত|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২﴿
﴾ ১০:২ ﴿
أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَا إِلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ أَنْ أَنْذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ قَالَ الْكَافِرُونَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ مُبِينٌ ﴿٢﴾
মানুষের জন্যে এটা কি (আসলেই) একটা আশ্চর্যের বিষয় যে, আমি তাদের মধ্য থেকে (তাদেরই মতো) একজন মানুষের কাছে ওহী পাঠিয়েছি, যেন সে মানুষকে (তা দিয়ে জাহান্নাম সম্পর্কে) সাবধান করে দিতে পারে, আবার যারা (এ ওহীর উপর) ঈমান আনে; তাদের (এ মর্মে) সুসংবাদও দিতে পারে যে, তাদের জন্যে তাদের মালিকের কাছে উচু মর্যাদা রয়েছে, কাফেররা (এমনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে পড়লো যে, তারা) বললো, অবশ্যই এ ব্যক্তি একজন সুদক্ষ যাদুকর!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩﴿
﴾ ১০:৩ ﴿
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿٣﴾
(হে মানুষ, ) তোমাদের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ছয় দিনে পয়দা করেছেন, অতঃপর তিনি “আরশে" সমাসীন হন, তিনি (তার) কাজ স্বহস্তে) নিয়ন্ত্রণ করেন; কেউই তাঁর অনুমতি ছাড়া (কারো জন্যে) সুপারিশকারী হতে পারে না; এই হচ্ছেন তোমাদের মালিক আল্লাহ তায়ালা, অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদাত করো; তোমরা কি (সত্যি কথা) অনুধাবন করবে না?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪﴿
﴾ ১০:৪ ﴿
إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا إِنَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ بِالْقِسْطِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ ﴿٤﴾
(মৃত্যুর পর) তোমাদের সবার ফিরে যাবার জায়গা হবে একমাত্র তাঁর কাছে; (সেখানে গিয়ে তোমরা) আল্লাহ তায়ালার (সকল) প্রতিশ্রুতিই সত্য (পাবে) তিনিই এ সৃষ্টির অস্তিত্ব দান করেন, (মৃত্যুর পর) তিনিই আবার তাকে (তার জীবন) ফিরিয়ে দেবেন, যাতে করে যারা (তাঁর উপর) ঈমান আনে, ভালো কাজ করে, (যথার্থ) ইনসাফের সাথে তিনি তাদের (কাজের) বিনিময় দান করতে পারেন এবং (এ কথাটাও পরিষ্কার করে দিতে পারেন, ) যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করে তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানীয় ও কঠিন শাস্তি রয়েছে, কেননা তারা (পরকালের এ শাস্তি) অস্বীকার করতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫﴿
﴾ ১০:৫ ﴿
هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ﴿٥﴾
মহান আল্লাহ তায়ালা যিনি সূর্যকে (প্রথর) তেজোদ্দীপ্ত বানিয়েছেন এবং চাঁদকে (বানিয়েছেন) জ্যোতির্ময়, অতঃপর (আকাশে) তার জন্যে কিছু মনযিল তিনি নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যাতে করে (এ নিয়ম দ্বারা) তোমরা বছরের গণনা এবং দিন-তারিখের হিসাবটা জানতে পারো; (আসলে) আল্লাহ তায়ালা যে এসব কিছু পয়দা করে রেখেছেন (তোর) কোনোটাই তিনি অনর্থক করেননি; যারা (সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে) জানতে চায় তাদের জন্যে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিদর্শন খুলে খুলে বর্ণনা করেন|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬﴿
﴾ ১০:৬ ﴿
إِنَّ فِي اخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ ﴿٦﴾
অবশ্যই দিন ও রাতের পরিবর্তনে এবং আল্লাহ তায়ালা যা কিছু (এ) আসমানসমুহ ও যমীনের মাঝে পয়দা করেছেন, তার (প্রতিটি জিনিসের) মাঝে পরহেযগার লোকদের জন্যে (আল্লাহ তায়ালাকে চেনার) নিদর্শন রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭﴿
﴾ ১০:৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا وَرَضُوا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاطْمَأَنُّوا بِهَا وَالَّذِينَ هُمْ عَنْ آيَاتِنَا غَافِلُونَ ﴿٧﴾
(মানুষের মাঝে) যারা (মৃত্যুর পর) আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করেনা, যারা এ পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট এবং (এখানকার) সবকিছু নিয়েই পরিতৃপ্ত, (সর্বোপরি) যারা আমার [সৃষ্টি বৈচিত্রের) নিদর্শনসমুহ থেকে গাফেল থাকে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮﴿
﴾ ১০:৮ ﴿
أُولَئِكَ مَأْوَاهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿٨﴾
তারাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের (নিশ্চিত) ঠিকানা হবে (জাহান্নামের) আগুন; (এ হচ্ছে তাদের সে কর্মফল) যা তারা দুনিয়ার জীবনে অর্জন করেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯﴿
﴾ ১০:৯ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُمْ بِإِيمَانِهِمْ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ﴿٩﴾
(অপরদিকে) যারা (আল্লাহ তায়ালার উপর) ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে, তাদের মালিক তাদের (এ) ঈমানের কারণেই তাদের সঠিক পথ দেখাবেন; তাদের তলদেশ দিয়ে (অসংখ্য) নেয়ামতে (পরিপূর্ণ) জান্নাতে (সুপেয়) ঝর্ণাধারা প্রবাহমান থাকবে |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০﴿
﴾ ১০:১০ ﴿
دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٠﴾
(এ সময়) তাদের (মুখে একটি মাত্র) ধ্বনিই (প্রতিধ্বনিত) হতে থাকবে, হে আল্লাহ তায়ালা, তুমি (কতো) মহান, (কতো) পবিত্র! (সেখানে) তাদের (পারস্পরিক) অভিবাদন হবে “সালাম” (এবং) তাদের শেষ ডাক হবে, যাবতীয় তারীফ সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার জন্যে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১১﴿
﴾ ১০:১১ ﴿
وَلَوْ يُعَجِّلُ اللَّهُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ فَنَذَرُ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿١١﴾
(ভেবে দেখো, ) আল্লাহ তায়ালা যদি মানুষের জন্যে তাদের (অন্যায় কাজকর্মের শাস্তি দিতে গিয়ে) অকল্যাণকে তরান্বিত করতেন, যেভাবে মানুষ নিজেদের কল্যাণ তরান্বিত করতে চায়, তাহলে তাদের অবকাশ (দেয়ার এ সুযোগ কবেই) শেষ হয়ে যেতো (কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাদের টিল দিয়ে রেখেছেন) ; অতঃপর যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা করে না, আমি তাদের না-ফরমানীর জন্যে তাদের উদ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে দিই|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১২﴿
﴾ ১০:১২ ﴿
وَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنْبِهِ أَوْ قَاعِدًا أَوْ قَائِمًا فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّهُ مَرَّ كَأَنْ لَمْ يَدْعُنَا إِلَى ضُرٍّ مَسَّهُ كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْمُسْرِفِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٢﴾
মানুষকে যখন কোনো ছুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে, তখন সে বসে, শুয়ে, দাঁড়িয়ে সর্বাবস্থায় আমাকেই ডাকে, অতঃপর আমি যখন তার দুঃখ-কষ্ট তার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাই, তখন সে এমনি (বেপরোয়া হয়ে) চলতে শুরু করে, তাকে যে এক সময় দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছিলো, (মনে হয়) তা দুর করার জন্যে আমাকে সে কখনো ডাকেইনি; এভাবেই যারা (বার বার) সীমালংঘন করে তাদের জন্যে তাদের কাজকর্ম শোভনীয় করে দেয়া হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১৩﴿
﴾ ১০:১৩ ﴿
وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا الْقُرُونَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَمَّا ظَلَمُوا وَجَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ وَمَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا كَذَلِكَ نَجْزِي الْقَوْمَ الْمُجْرِمِينَ ﴿١٣﴾
তোমাদের আগে অনেক কয়টি মানবগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, যখন তারা যুলুম করেছিলো, (অথচ) তাদের কাছে (আমার) সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের রসুলরা এসেছিলো, (কিন্ত) তারা (কোনো রকমেই) ঈমান আনলো না; এভাবেই (ধ্বংসের মাধ্যমে) আমি না ফরমান জাতিদের (তাদের যুলুমের) প্রতিফল দিয়ে থাকি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১৪﴿
﴾ ১০:১৪ ﴿
ثُمَّ جَعَلْنَاكُمْ خَلَائِفَ فِي الْأَرْضِ مِنْ بَعْدِهِمْ لِنَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ ﴿١٤﴾
অতঃপর আমি এ যমীনে (তাদের জায়গায়) তোমাদের খলীফা করে পাঠিয়েছি, আমি যেন দেখতে পাই তোমরা কি ধরনের আচরণ করো|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১৫﴿
﴾ ১০:১৫ ﴿
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا ائْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا أَوْ بَدِّلْهُ قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿١٥﴾
(হে নবী, ) যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমুহ তাদের পড়ে শোনানো হয়, তখন (তাদের মধ্যে) যারা আমার সাথে (মৃত্যুর পর কোনো রকম) দেখা সাক্ষাতের আশা করে না, তারা (ওুদ্ধত্যের সাথে তোমাকে) বলে, এছাড়া অন্য কোনো কোরআন নিয়ে এসো, কিংবা একে বদলে দাও; তুমি (এদের) বলো, আমার নিজের এমন কোনো ক্ষমতাই নেই যে, আমি একে বদলে দেবো; আমি তো তাই অনুসরণ করি যা আমার উপর ওহী আসে, আমি যদি আমার মালিকের কোনো রকম না-ফরমানী করি, তাহলে আমি একটি মহা দিবসের (কঠিন) শাস্তির ভয় করি|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১৬﴿
﴾ ১০:১৬ ﴿
قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلَا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِنْ قَبْلِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿١٦﴾
(তুমি বলো, ) আল্লাহ তায়ালা না চাইলে আমি তোমাদের উপর এ (কোরআন) তো পাঠই করতাম না, আমি তো এ গগ্রন্থ) সম্পর্কে তোমাদের কোনো কিছু জানাতামই না, আমি তো এর আগেও তোমাদের মাঝে অনেকগুলো বয়স কাটিয়েছি, (কখনো কি আমি এমন ধরণের কোনো গ্রন্থের কথা তোমাদের বলেছি?) তোমরা কি বুঝতে পারছো না?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১৭﴿
﴾ ১০:১৭ ﴿
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُونَ ﴿١٧﴾
অতঃপর (বলো) , তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে, যে আল্লাহ তায়ালার উপর মিথ্যা আরোপ করে কিংবা তাঁর আয়াত অস্বীকার করে; (এ ধরনের) না-ফরমান লোকেরা কখনোই সফলকাম হয় না]
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১৮﴿
﴾ ১০:১৮ ﴿
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿١٨﴾
এ মের) লোকেরা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর উপাসনা করে, যা তাদের কোনো রকম ক্ষতি করতে পারে না, (আবার) তা তাদের কোনো রকম উপকারও করতে পারে না, তারা বলে, এগুলো হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের সুপারিশকারী; তুমি (মুশরিকদের) বলো, তোমরা কি আল্লাহ তায়ালাকে এমন কোনো কিছুর খবর দিতে চাও, যা তিনি আসমানসমুহের মাঝে অবহিত নন এবং যমীনের মাঝেও নন; তিনি পাক পবিত্র এবং মহান, তারা যে শেরেক করে তিনি তার চাইতে অনেক উর্ধ্বে
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১৯﴿
﴾ ১০:১৯ ﴿
وَمَا كَانَ النَّاسُ إِلَّا أُمَّةً وَاحِدَةً فَاخْتَلَفُوا وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ فِيمَا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿١٩﴾
(মুলত) মানুষ ছিলো একই জাতি, অতঃপর তারা (তাদের মাঝে) মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে; তোমার মালিকের পক্ষ থেকে (তাদের মৃত্যু পরবর্তি শাস্তির মুহূর্তটির) ঘোষণা না থাকলে কবেই সে বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যেতো, যে বিষয় নিয়ে তারা মতবিরোধ করে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২০﴿
﴾ ১০:২০ ﴿
وَيَقُولُونَ لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَقُلْ إِنَّمَا الْغَيْبُ لِلَّهِ فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ ﴿٢٠﴾
তারা (আরো) বলে, তার মালিকের কাছ থেকে তার উপর কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন? তুমি (তাদের) বলো, গায়েব সংক্রান্ত যাবতীয় জ্ঞান তো একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যে, অতএব (আল্লাহ তায়ালার সে গায়বী ফয়সালার জন্যে) তোমরা অপেক্ষা করো, (আর) আমিও তোমাদের সাথে (সেদিনের) প্রতীক্ষা করছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২১﴿
﴾ ১০:২১ ﴿
وَإِذَا أَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً مِنْ بَعْدِ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُمْ إِذَا لَهُمْ مَكْرٌ فِي آيَاتِنَا قُلِ اللَّهُ أَسْرَعُ مَكْرًا إِنَّ رُسُلَنَا يَكْتُبُونَ مَا تَمْكُرُونَ ﴿٢١﴾
মানুষকে দুঃখ-মসিবত স্পর্শ করার পর যখন আমি তাদের কিছুটা করুণার স্বাদ ভোগ করাই, তখন সাথে সাথেই তারা আমার রহমতের (নিদর্শনসমুহের) সাথে চালাকি শুরু করে দেয় (হে নবী) , তুমি বলো, কলা-কৌশলে (তোমাদের আমলনামায়) লিখে রাখে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২২﴿
﴾ ১০:২২ ﴿
هُوَ الَّذِي يُسَيِّرُكُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ وَفَرِحُوا بِهَا جَاءَتْهَا رِيحٌ عَاصِفٌ وَجَاءَهُمُ الْمَوْجُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ لَئِنْ أَنْجَيْتَنَا مِنْ هَذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ ﴿٢٢﴾
তিনিই মহান আল্লাহ তায়ালা, যিনি তোমাদের জলে-সথলে ভ্রমণ করান; এমনকি তোমরা যখন নৌকায় আরোহণ করো এবং এ (নৌকা) -গুলো যখন তাদের নিয়ে অনুকূল আবহাওয়ায় চলতে থাকে, তখন (নৌকার) আরোহীরা এতে (ভীষণ) আনন্দিত হয়, (হঠাৎ এক সময়) এ (নৌকা) -গুলো ঝড়বাহী বাতাসের কবলে পড়ে এবং চারদিক থেকে তাদের উপর ঢেউ আসতে থাকে এবং তারা মনে করে, (এবার সত্যিই) এ (বাতাস ও ঢেউ) দ্বারা তারা পরিবেষ্টিত হয়ে গেছে, তখন তারা একান্ত নিষ্ঠাবান বান্দা হয়ে আল্লাহ তায়ালাকে (এই বলে) ডাকতে শুরু করে (হে আল্লাহ) , যদি তুমি আমাদের এ (মহাছুর্যোগ) থেকে বাঁচিয়ে দাও তাহলে অবশ্যই আমরা তোমার শোকরগোযার বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২৩﴿
﴾ ১০:২৩ ﴿
فَلَمَّا أَنْجَاهُمْ إِذَا هُمْ يَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا بَغْيُكُمْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ مَتَاعَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُكُمْ فَنُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٢٣﴾
অতঃপর (সত্যি সত্যিই) যখন তিনি তাদের এ (বিপর্যয়) থেকে বাঁচিয়ে দেন, তখন তারা (ওয়াদার কথা ভূলে) সাথে সাথেই অন্যায়ভাবে যমীনে না-ফরমানী শুরু করে দেয়; হে মানুষ (তোমরা শুনে রাখো) , তোমাদের এ নাফরমানী তোমাদের নিজেদের জন্যেই (ক্ষতিকারক) হবে, (মুলত এ হচ্ছে) দুনিয়ার (অস্থায়ী) সহায় সম্পদ, অতঃপর তোমাদের আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে, তখন আমি তোমাদের বলে দেবো, (ছুনিয়ার জীবনে) তোমরা (কে) কি করতে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২৪﴿
﴾ ১০:২৪ ﴿
إِنَّمَا مَثَلُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاءٍ أَنْزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ مِمَّا يَأْكُلُ النَّاسُ وَالْأَنْعَامُ حَتَّى إِذَا أَخَذَتِ الْأَرْضُ زُخْرُفَهَا وَازَّيَّنَتْ وَظَنَّ أَهْلُهَا أَنَّهُمْ قَادِرُونَ عَلَيْهَا أَتَاهَا أَمْرُنَا لَيْلًا أَوْ نَهَارًا فَجَعَلْنَاهَا حَصِيدًا كَأَنْ لَمْ تَغْنَ بِالْأَمْسِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴿٢٤﴾
এ পার্থিব জীবনের উদাহরণ হচ্ছে) , যেমন আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করলাম, যা দ্বারা অতঃপর যমীনের গাছপালা ঘন সম্নিবষ্টি হয়ে উদগত হলো, যা থেকে মানুষ ও জন্ত-জানোয়াররা (তাদের) আহার সংগ্রহ করলো; এরপর (একদিন) যখন যমীন তার সৌন্দর্যের রূপ ধারণ করলো এবং (আপন সৌন্দর্যে) সে শোভিত হয়ে উঠলো, তখন (এসব দেখে) তার (যমীনের) মালিক মনে করলো, তারা বুঝি এর (ফসল ভোগ করার) উপর (এখন সম্পূর্ণ) ক্ষমতাবান (হয়ে গেছে, এ সময়) হঠাৎ করে রাতে কিংবা দিনে আমার (আযাবের) ফয়সালা তাদের উপর আপতিত হলো, ফলে আমি তাদের এমনভাবে নির্মূল করে দিলাম যেন গতকাল (পর্যন্ত এখানে) তার কোনো অস্তিত্ই ছিলো না; এভাবেই আমি আমার আয়াতসমুহ সেসব জাতির জন্যে খুলে খুলে বর্ণনা করি, যারা (এ সম্পর্কে) চিন্তা-ভাবনা করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২৫﴿
﴾ ১০:২৫ ﴿
وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٢٥﴾
হে মানুষ, তোমরা এ পার্থিব জীবনের ধোকায় পড়ে আছো, অথচ) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের (চিরস্থায়ী এক) শান্তির নিবাসের দিকে ডাকছেন; তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সহজ-সরল পথে পরিচালিত করেন]
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২৬﴿
﴾ ১০:২৬ ﴿
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٦﴾
যারা ভালো কাজ করেছে, যোবতীয়) কল্যাণ তো (থাকবে) তাদের জন্যে এবং (থাকবে তার চাইতেও) বেশী; সেদিন তাদের চেহারা কোনো কালিমা ও হীনতা দ্বারা আচ্ছন্ন থাকবে না; তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, তারা সেখানে থাকবে চিরদিন|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২৭﴿
﴾ ১০:২৭ ﴿
وَالَّذِينَ كَسَبُوا السَّيِّئَاتِ جَزَاءُ سَيِّئَةٍ بِمِثْلِهَا وَتَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ مَا لَهُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ كَأَنَّمَا أُغْشِيَتْ وُجُوهُهُمْ قِطَعًا مِنَ اللَّيْلِ مُظْلِمًا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٧﴾
(অপরদিকে) যারা মন্দ কাজ করেছে, (তাদের) মন্দের প্রতিফল মন্দের সাথেই হবে, অপমান তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলবে; সেদিন আল্লাহর (আযাব) থেকে তাদের রক্ষাকারী কেউই থাকবে না, (তাদের চেহারা এমনি কালো হবে) যেন রাতের অন্ধকার ছিড়ে (তার) একটি টুকরো তাদের মুখের উপর ছেয়ে দেয়া হয়েছে, এরা হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২৮﴿
﴾ ১০:২৮ ﴿
وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا مَكَانَكُمْ أَنْتُمْ وَشُرَكَاؤُكُمْ فَزَيَّلْنَا بَيْنَهُمْ وَقَالَ شُرَكَاؤُهُمْ مَا كُنْتُمْ إِيَّانَا تَعْبُدُونَ ﴿٢٨﴾
(হে নবী, তুমি তাদের সেদিনের ব্যাপারে সাবধান করো, ) যেদিন আমি তাদের সবাইকে আমার সামনে একত্রিত করবো, অতঃপর যারা আমার সাথে শরীক করেছে তাদের আমি বলবো, তোমরা এবং যাদের তোমরা শরীক করেছো স্ব স্ব স্থানে অবস্থান করো, এরপর আমি তাদের (এক দলকে আরেক দল থেকে) আলাদা করে দেবো এবং যাদের তারা শরীক করেছিলো তারা বলবে, না, তোমরা তো কখনো আমাদের উপাসনা করতে না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:২৯﴿
﴾ ১০:২৯ ﴿
فَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ إِنْ كُنَّا عَنْ عِبَادَتِكُمْ لَغَافِلِينَ ﴿٢٩﴾
(আজ) আল্লাহ তায়ালাই আমাদের এবং তোমাদের মাঝে সাক্ষ্য প্রদানকারী হিসেবে যথেষ্ট হবেন, আমরা তোমাদের উপাসনার ব্যাপারে (আসলেই) গাফেল ছিলাম |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩০﴿
﴾ ১০:৩০ ﴿
هُنَالِكَ تَبْلُو كُلُّ نَفْسٍ مَا أَسْلَفَتْ وَرُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ ﴿٣٠﴾
এভাবেই সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি (নিজের কর্মফল যা সে করে এসেছে, (পুরোপুরি) জানতে পারবে এবং সবাইকে তাদের সত্যিকারের মালিক আল্লাহ তায়ালার কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে, দুনিয়ায় তারা যেসব মিথ্যা ও অলীক কথাবার্তা আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে) উদ্ভাবন করতো, (নিমিষেই) তা তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩১﴿
﴾ ১০:৩১ ﴿
قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمْ مَنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ ﴿٣١﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, তিনি কে যিনি তোমাদের আসমান ও যমীন থেকে জীবিকা সরবরাহ করেন, অথবা (তোমাদের) শোনা ও দেখার ক্ষমতা কে নিয়ন্ত্রণ করেন? কে (আছে এমন) যিনি জীবিতকে মৃত থেকে, আবার মৃতকে জীবিত থেকে বের করে আনেন! কে (আছে এমন) , যিনি (এসব কিছুর) পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন; (তাদের জিজ্ঞেস করলে) তারা সাথে সাথেই বলে ওঠবে, হ্যোঁ, অবশ্যই) আল্লাহ, তুমি (তাদের) বলো, (যদি তাই হয়) তাহলে (সত্য অস্বীকার করার পরিণামকে কি) তোমরা ভয় করবে না?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩২﴿
﴾ ১০:৩২ ﴿
فَذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمُ الْحَقُّ فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلَّا الضَّلَالُ فَأَنَّى تُصْرَفُونَ ﴿٣٢﴾
তিনিই আল্লাহ তায়ালা, তিনিই তোমাদের আসল মালিক, সত্য আসার পর (তাঁকে না মানা) গোমরাহী নয় তো আর কি? সুতরাং (তাঁকে বাদ দিয়ে বলো) , কোন দিকে তোমাদের ধাবিত করা হচ্ছে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩৩﴿
﴾ ১০:৩৩ ﴿
كَذَلِكَ حَقَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ عَلَى الَّذِينَ فَسَقُوا أَنَّهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٣٣﴾
এভাবেই যারা নাফরমানী করেছে তাদের উপর তোমার মালিকের সে কথাই সত্য বলে প্রমাণিত হলো যে, এরা কখনো ঈমান আনবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩৪﴿
﴾ ১০:৩৪ ﴿
قُلْ هَلْ مِنْ شُرَكَائِكُمْ مَنْ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ قُلِ اللَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ ﴿٣٤﴾
তুমি (তাদের আরো) বলো, তোমাদের (বানানো) এসব শরীকদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে প্রথম বার বানাতে পেরেছিলো, অতঃপর (মৃত্যুর পর) আবারও তা সে তৈরী করতে পারবে! তুমি বলো, আল্লাহ তায়ালাই সৃষ্টিকে প্রথম অস্তিত্ব প্রদান করেন, অতঃপর দ্বিতীয়বার তিনিই তাতে জীবন দান করেন, (এরপরও) তোমাদের কেন (বার বার সত্য থেকে) বিচ্যুত করা হচ্ছে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩৫﴿
﴾ ১০:৩৫ ﴿
قُلْ هَلْ مِنْ شُرَكَائِكُمْ مَنْ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ قُلِ اللَّهُ يَهْدِي لِلْحَقِّ أَفَمَنْ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ أَحَقُّ أَنْ يُتَّبَعَ أَمَّنْ لَا يَهِدِّي إِلَّا أَنْ يُهْدَى فَمَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ وَمَا ﴿٣٥﴾
(তাদের আরো) বলো, তোমাদের বানানো শরীকদের মধ্যে এমন কে আছে যে মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, (তুমি) বলো, হোঁ) আল্লাহ তায়ালাই সঠিক পথ দেখাতে পারেন; যিনি সঠিক পথ দেখান তিনি অনুসরণের বেশী যোগ্য, না সে ব্যক্তি যে নিজেই কোনো পথের সন্ধান পায় না যতোক্ষণ না তাকে (সে) পথের সন্ধান দেয়া হয়, তোমাদের এ কি হলো, কেমন ধরনের ফয়সালা করো তোমরা?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩৬﴿
﴾ ১০:৩৬ ﴿
وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ ﴿٣٦﴾
তাদের অধিকাংশ ব্যক্তিই নিজেদের আন্দায অনুমানের অনুসরণ করে, আর সত্যের পরিবর্তে আন্দায অনুমান তো কোনো কাজে আসে না; আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই ওদের কর্মকান্ড সম্পর্কে পুর্ণাংগ ওয়াকেফহাল রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩৭﴿
﴾ ১০:৩৭ ﴿
وَمَا كَانَ هَذَا الْقُرْآنُ أَنْ يُفْتَرَى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٣٧﴾
এ কোরআন এমন (কোনো গ্রন্থ) নয় যে, আল্লাহর (ওহী) ব্যতিরেকে (কারো ইচ্ছামাফিক একে) গড়ে দেয়া যাবে, বরং এ (গ্রন্থ) সেসব গ্রন্থের সত্যবাদিতার সাক্ষ্য প্রদান করে যা এর আগে নাযিল হয়েছিলো, এতে কোনোরকম সন্দেহ নেই যে, এটা (হচ্ছে) সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার সত্য বিধানসমুহের বিশদ ব্যাখ্যা
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩৮﴿
﴾ ১০:৩৮ ﴿
أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٣٨﴾
তারা কি একথা বলে, এ ব্যক্তি (মোহাম্মদ) এ (প্রন) -টি রচনা করে নিয়েছে; (হে নবী, ) তুমি (এদের) বলো, তোমরা তোমাদের দাবীতে যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তোমরাও এমনি ধরনের একটি সুরা বানিয়ে নিয়ে এসো এবং (এ ব্যাপারে) আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর যাদের যাদের তোমরা ডাকতে চাও ডেকে (তাদেরও সাহায্য) নাও |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৩৯﴿
﴾ ১০:৩৯ ﴿
بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ كَذَلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ ﴿٣٩﴾
(আসল কথা হচ্ছে, ) যে বিষয়টিকেই তারা তাদের জ্ঞান দিয়ে আয়ত্ত করতে পারলো না, কিংবা (মানবীয় জ্ঞান বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে) যার ব্যাখ্যা এখনো তাদের পর্যন্ত পৌঁছুয়নি তারা তাকেই অস্বীকার করে বসলো; তাদের পূর্ববর্তী মানুষরাও এভাবে অস্বীকার করেছিলো, (আজ) দেখো, (এ অস্বীকারকারী) যালেমদের পরিণাম কি হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪০﴿
﴾ ১০:৪০ ﴿
وَمِنْهُمْ مَنْ يُؤْمِنُ بِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ لَا يُؤْمِنُ بِهِ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِالْمُفْسِدِينَ ﴿٤٠﴾
তাদের মধ্যে কিছু লোক এ (গ্রন্থের) উপর ঈমান আনবে, আবার কিছু আছে যারা এতে ঈমান আনবে না; (জেনে রেখো, ) তোমার মালিক (কিন্তু এ) বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালো করেই জানেন|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪১﴿
﴾ ১০:৪১ ﴿
وَإِنْ كَذَّبُوكَ فَقُلْ لِي عَمَلِي وَلَكُمْ عَمَلُكُمْ أَنْتُمْ بَرِيئُونَ مِمَّا أَعْمَلُ وَأَنَا بَرِيءٌ مِمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٤١﴾
(এতো বলা-কওয়া সত্তেও) তারা যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতেই থাকে, তাহলে তুমি (তাদের) বলে দাও (দেখো) , আমার কাজকর্মের দায়িত্ব আমার উপর, আর তোমাদের কাজকর্মের দায়িত্ব তোমাদের উপর, আমি যা কিছু করছি তার জন্যে তোমরা দায়িত্মুক্ত, আবার তোমরা যা করো তার জন্যেও আমি দায়িত্বযুক্ত|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪২﴿
﴾ ১০:৪২ ﴿
وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُونَ إِلَيْكَ أَفَأَنْتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ وَلَوْ كَانُوا لَا يَعْقِلُونَ ﴿٤٢﴾
(হে নবী, ) এদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে, যারা তোমার দিকে কান পেতে রাখে; তুমি কি বধিরকে (আল্লাহর কালাম) শোনাবে? যদিও তারা এর কিছুই বুঝতে না পারে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪৩﴿
﴾ ১০:৪৩ ﴿
وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْظُرُ إِلَيْكَ أَفَأَنْتَ تَهْدِي الْعُمْيَ وَلَوْ كَانُوا لَا يُبْصِرُونَ ﴿٤٣﴾
(আবার) ওদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে; (কিন্তু) তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাবে? যদিও তারা নিজেরা এর কিছুই দেখতে না পায়!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪৪﴿
﴾ ১০:৪৪ ﴿
إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْئًا وَلَكِنَّ النَّاسَ أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٤٤﴾
নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা মানুষের উপর কোনো রকম যুলুম করেন না, (বরং আল্লাহর অবাধ্য হয়ে) মানুষেরা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪৫﴿
﴾ ১০:৪৫ ﴿
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ كَأَنْ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِنَ النَّهَارِ يَتَعَارَفُونَ بَيْنَهُمْ قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ ﴿٤٥﴾
যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন (সেদিন তাদের মনে হবে) , যেন তারা ছুনিয়ায় দিনের একটি ক্ষণমাত্র কাটিয়ে এসেছে, (তখন) তারা একজন আরেকজনকে চিনতে পারবে; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা, যারা আল্লাহর সামনা-সামনি হওয়াকে অস্বীকার করেছিলো, (আসলে) তারা কখনোই হেদায়াতপ্রাপ্ত ছিলো না
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪৬﴿
﴾ ১০:৪৬ ﴿
وَإِمَّا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ الَّذِي نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ اللَّهُ شَهِيدٌ عَلَى مَا يَفْعَلُونَ ﴿٤٦﴾
আমি ওদের কাছে যে (বিষয়ের) ওয়াদা করেছি, তার কিছু কিছু (বিষয়) যদি আমি তোমাকে দেখিয়ে দেই, অথবা (এর আগেই) যদি আমি তোমাকে (ছুনিয়া থেকে) উঠিয়ে নেই, (এ উভয় অবস্থায়) তাদের আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে, অতঃপর এরা যা কিছু (ছুনিয়ায়) করতো তার উপর আল্লাহ তায়ালাই (একক) সাক্ষী হবেন|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪৭﴿
﴾ ১০:৪৭ ﴿
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ رَسُولٌ فَإِذَا جَاءَ رَسُولُهُمْ قُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٤٧﴾
প্রত্যেক উম্মতের জন্যেই একজন রসুল আছে, অতঃপর যখনি তাদের কাছে তাদের রসুল এসে যায়, তখন (তাদের সাথে আল্লাহ তায়ালার) সিদ্ধান্ত করার কাজটি ইনসাফের সাথে সম্পন্ন হয়ে যায়, তাদের উপর কখনো যুলুম করা হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪৮﴿
﴾ ১০:৪৮ ﴿
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٤٨﴾
এরা (ওদ্ধত্য দেখিয়ে) বলে (হে মুসলমানরা) , তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বলো, কবে তোমাদের (সে) আযাবের ওয়াদা ফলবে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৪৯﴿
﴾ ১০:৪৯ ﴿
قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي ضَرًّا وَلَا نَفْعًا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ إِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ ﴿٤٩﴾
তুমি বলো (এটা বলা আমার বিষয় নয়) , আল্লাহ তায়ালা যা চান তা ব্যতিরেকে আমি তো আমার নিজস্ব ভালো-মন্দের অধিকারও রাখি না (আসল কথা হচ্ছে) , প্রত্যেক জাতির জন্যে (আযাব ও ধ্বংসের) একটি দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করা আছে; তাদের সে ক্ষণটি যখন আসবে তখন (তাদের ব্যাপারে) এক মুহূর্তকাল সময়ও দেরী করা হবে না এবং তাদের দিনক্ষণ আগেও নিয়ে আসা হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫০﴿
﴾ ১০:৫০ ﴿
قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُهُ بَيَاتًا أَوْ نَهَارًا مَاذَا يَسْتَعْجِلُ مِنْهُ الْمُجْرِمُونَ ﴿٥٠﴾
তুমি (এদের আরো) বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছো, যদি তোমাদের উপর (আল্লাহর) আযাব রাতে কিংবা দিনের বেলায় এসে পতিত হয়, তাহলে আর কোন বিষয় নিয়ে না-ফরমান লোকেরা তাড়াহুড়ো করবে (বলো) ?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫১﴿
﴾ ১০:৫১ ﴿
أَثُمَّ إِذَا مَا وَقَعَ آمَنْتُمْ بِهِ آلْآنَ وَقَدْ كُنْتُمْ بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ ﴿٥١﴾
অতঃপর যখন (সত্যিই) একদিন এ বিষয়টি ঘটবে তখন কি তোমরা এটা বিশ্বাস করবে; তোমাদের বলা হবে (হাঁ) , এখন (তো আযাব এসেই গেলো, অথচ) তোমরা এর জন্যেই তাড়াহুড়ো করছিলে |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫২﴿
﴾ ১০:৫২ ﴿
ثُمَّ قِيلَ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذُوقُوا عَذَابَ الْخُلْدِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا بِمَا كُنْتُمْ تَكْسِبُونَ ﴿٥٢﴾
অতঃপর যালেমদের বলা হবে, এবার চিরস্থায়ী (জাহান্নামের) আযাবের স্বাদ ভোগ করো, (দুনিয়ার জীবনে) তোমরা যা কিছু অর্জন করেছো, (এখন) তোমাদের শুধু তারই বিনিময় দেয়া হবে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫৩﴿
﴾ ১০:৫৩ ﴿
وَيَسْتَنْبِئُونَكَ أَحَقٌّ هُوَ قُلْ إِي وَرَبِّي إِنَّهُ لَحَقٌّ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ ﴿٥٣﴾
(হে নবী, ) এরা তোমার কাছে জানতে চায়, (আযাব সম্পর্কিত) সে কথা আসলেই কি ঠিক? বলো, হাঁ, আমার মালিকের শপথ, এটা আমোঘ সত্য; (জেনো রেখো, প্রতিশোধ নেয়ার ব্যাপারে) তোমরা কোনোদিনই তাঁকে অক্ষম করে দিতে পারবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫৪﴿
﴾ ১০:৫৪ ﴿
وَلَوْ أَنَّ لِكُلِّ نَفْسٍ ظَلَمَتْ مَا فِي الْأَرْضِ لَافْتَدَتْ بِهِ وَأَسَرُّوا النَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٥٤﴾
যদি প্রতিটি যালেম ব্যক্তির কাছে (সেদিন) যমীনের সমুদয় সম্পদ এসে জমা হয়, তাহলে সে তার সব কিছু মুক্তিপণ হিসাবে ব্যয় (করে আযাব থেকে বাঁচার চষ্টো) করবে; যখন এ (যালেম) মানুষরা (জাহান্নামের) আযাব দেখবে তখন তারা মনে মনে ভারী অনুতাপ করবে (কিন্তু তখন তা কোনোই কাজে আসবে না) , সম্পূর্ণ ইনসাফের সাথেই তাদের বিচার মীমাংসা সম্পন্ন হবে এবং তাদের উপর বিন্দুমাত্র যুলুমও করা হবে না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫৫﴿
﴾ ১০:৫৫ ﴿
أَلَا إِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَلَا إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٥٥﴾
মনে রেখো, আসমানসমুহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা সব আল্লাহ তায়ালার জন্যেই; জেনে রেখো অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা সত্য, কিন্ত অধিকাংশ লোকই তা জানে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫৬﴿
﴾ ১০:৫৬ ﴿
هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٥٦﴾
তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান এবং (মৃত্যুর পর) তোমাদের সবাইকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫৭﴿
﴾ ১০:৫৭ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٥٧﴾
হে মানুষ, তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে নসীহত (বিশিষ্ট কিতাব) এসেছে, (এটা) মানুষের অন্তরে যেসব ব্যাধি রয়েছে তার নিরাময় এবং মু’মিনদের জন্যে হেদায়াত ও রহমত
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫৮﴿
﴾ ১০:৫৮ ﴿
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ ﴿٥٨﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, মানুষের উচিত আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতের কারণে আনন্দ প্রকাশ করা, কারণ তারা যা কিছু (জ্ঞান ও সম্পদ) জমা করেছে, এটা তার চাইতে অনেক ভালো |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৫৯﴿
﴾ ১০:৫৯ ﴿
قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ رِزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِنْهُ حَرَامًا وَحَلَالًا قُلْ آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ ﴿٥٩﴾
তুমি (এদের) বলো, তোমরা কি কখনো (একথা) চিন্তা করে দেখেছো, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে যে রেষেক নাধিল করেছেন তার মধ্য থেকে কিছু অংশকে তোমরা হারাম আর কিছু অংশকে হালাল করে নিয়েছো; (তুমি এদের আরো) বলো, এসব হালাল-হারামের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কি তোমাদের কোনো অনুমতি দিয়েছেন, না তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করছো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬০﴿
﴾ ১০:৬০ ﴿
وَمَا ظَنُّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ ﴿٦٠﴾
যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, তাদের শেষ বিচারের দিন সম্পর্কে ধারণা কি এই (এটা কখনো আসবেই না) ; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা বড়ো অনুগ্রহশীল (তাই তিনি তাদের অবকাশ দিয়ে রেখেছেন) , কিন্তু অধিকাংশ মানুষই (এ জন্যে) আল্লাহর শোকর আদায় করে না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬১﴿
﴾ ১০:৬১ ﴿
وَمَا تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَلَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ ﴿٦١﴾
(হে নবী, ) তুমি যে কাজেই থাকো না কেন এবং সে (কাজ) সম্পর্কে কোরআন থেকে যা কিছু তেলাওয়াত করো না কেন (তা আমি জানি, হে মানুষেরা) , তোমরা যে কোনো কাজ করো, কোনো কাজে তোমরা যখন প্রবৃত্ত হও, আমি তার ব্যাপারে তোমাদের উপর সাক্ষী হয়ে থাকি, তোমার মালিকের (দৃষ্টি) থেকে একটি অণু পরিমাণ জিনিসও গোপন থাকে না, আসমানে ও যমীনে এর চাইতে ছোট কিংবা এর চাইতে বড়ো কোনো কিছুই নেই যা এ সুস্পষ্ট গ্রন্থে লিপিবদ্ধ নেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬২﴿
﴾ ১০:৬২ ﴿
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٦٢﴾
জেনে রেখো, (কেয়ামতের দিন) আল্লাহ তায়ালার বন্ধুদের জন্যে (কোনো) ভয় নেই, (সেদিন) তারা চিন্তিতও হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬৩﴿
﴾ ১০:৬৩ ﴿
الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ كَانُوْا یَتَّقُوْنَؕ﴿٦٣﴾
এরা হচ্ছে সে সব লোক, যারা (আল্লাহর উপর) ঈমান এনেছে এবং (তাঁকে) ভয় করেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬৪﴿
﴾ ১০:৬৪ ﴿
لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿٦٤﴾
এ (ধরনের) লোকদের জন্যে দুনিয়ার জীবনে (যেমন) সুসংবাদ রয়েছে, (তেমনি) পরকালের জীবনেও (রয়েছে সুসংবাদ) ; আল্লাহ তায়ালার বাণীর কোনো রদবদল হয় না; আর (সত্যিকার অর্থে) এটাই হচ্ছে সে মহাসাফল্য|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬৫﴿
﴾ ১০:৬৫ ﴿
وَلَا يَحْزُنْكَ قَوْلُهُمْ إِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿٦٥﴾
(হে নবী, ) তোমাকে তাদের কথা যেন কোনো দুঃখ না দেয়। নিশ্চয়ই মান-ইজ্জত সবই আল্লাহ তায়ালার করায়ত্তে, তিনি সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন]
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬৬﴿
﴾ ১০:৬৬ ﴿
أَلَا إِنَّ لِلَّهِ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَتَّبِعُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ شُرَكَاءَ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ ﴿٦٦﴾
জেনে রেখো, যা কিছু আসমানে আছে, (আবার) যা কিছু আছে যমীনে, সবই আল্লাহর (অনুগত) ; যারা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া (কল্পিত) শরীকদের ডাকে তারা তো শুধু (কিছু আন্দাষ) অনুমানেরই অনুসরণ করে মাত্র! তারা মুলত মিথ্যাবাদী ছাড়া আর কিছুই নয়|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬৭﴿
﴾ ১০:৬৭ ﴿
هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَسْمَعُونَ ﴿٦٧﴾
(হে মানুষ, ) তিনিই মহান আল্লাহ তায়ালা, যিনি তোমাদের জন্যে রাত বানিয়েছেন, যাতে করে তোমরা তাতে বিশ্রাম গ্রহণ করতে পারো, আর দিনকে বানিয়েছেন আলোক (-উজ্জ্বল) , অবশ্যই এতে আল্লাহ তায়ালার মহত্বের) অনেক নিদর্শন রয়েছে সে সম্প্রদায়ের জন্যে, যারা (নিষ্ঠার সাথে) শোনে |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬৮﴿
﴾ ১০:৬৮ ﴿
قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ إِنْ عِنْدَكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ بِهَذَا أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٦٨﴾
তারা বলে, আল্লাহ তায়ালা (নিজের একটি) ছেলে গ্রহণ করেছেন, (অথচ) আল্লাহ তায়ালা মহাপবিত্র; তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ, অভাবমুক্ত; আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর; তোমাদের কাছে এ (দাবীর) পক্ষে কোনো দলিল-প্রমাণও নেই; তোমরা কি আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এমন সব কথা বলে বেড়াচ্ছো, যে বিষয়ে তোমরা কিছুই জানো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৬৯﴿
﴾ ১০:৬৯ ﴿
قُلْ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ ﴿٦٩﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, যারা আল্লাহ তায়ালার উপর মিথ্যা আরোপ করে, তারা কখনোই সফলকাম হবে না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭০﴿
﴾ ১০:৭০ ﴿
مَتَاعٌ فِي الدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ نُذِيقُهُمُ الْعَذَابَ الشَّدِيدَ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ ﴿٧٠﴾
(এ মিথ্যাচার হচ্ছে) পার্থিব (জীবনের একটা) সম্পদ, পরিশেষে তাদের আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে, অতঃপর আমি তাদের কুফরী করার জন্যে এক কঠোর আযাবের স্বাদ গ্রহণ করাবো|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭১﴿
﴾ ১০:৭১ ﴿
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ نُوحٍ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُمْ مَقَامِي وَتَذْكِيرِي بِآيَاتِ اللَّهِ فَعَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْتُ فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ وَشُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُنْ أَمْرُكُمْ عَلَيْكُمْ غُمَّةً ثُمَّ اقْضُوا إِلَيَّ وَلَا تُنْظِرُونِ ﴿٧١﴾
(হে নবী, ) ওদের কাছে তুমি নুহের কাহিনী শোনাও| যখন সে তার জাতিকে বলেছিলো, হে আমার জাতি, যদি তোমাদের উপর আমার অবস্থিতি ও আল্লাহর আয়াতসমুহ দ্বারা আমার উপদেশ (প্রদান) খুব দুঃসহ মনে হয়, তবে (শোনে রাখো) , আমি (সম্পূর্ণরূপে) আল্লাহর উপর ভরসা করি, অতঃপর তোমরা যাদের আমার সাথে শরীক বানাচ্ছো, তাদের (সবাইকে) একত্রিত করে (আমার বিরুদ্ধে তোমাদের) পরিকল্পনা চুড়ান্ত করে নাও (দেখে নাও) , যেন সে পরিকল্পনা (-এর কোনো বিষয় তোমাদের দৃষ্টির) আড়ালে না থাকে, অতঃপর আমার সাথে (তোমাদের যা করার) তা করে ফেলো এবং আমাকে কোনো অবকাশও তোমরা দিয়ো না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭২﴿
﴾ ১০:৭২ ﴿
فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿٧٢﴾
হোঁ, ) যদি তোমরা (আমার থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও (তাহলে আমার ক্ষতি হবে না) , আমি তো তোমাদের কাছ থেকে (এ জন্যে) কোনো পারিশ্রমিক দাবী করিনি; আমার পারিশ্রমিক সে তো আমার আল্লাহ তায়ালার কাছে, (তাঁর পক্ষ থেকেই) আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে আমি যেন তাঁর অনুগত বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাই]
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭৩﴿
﴾ ১০:৭৩ ﴿
فَكَذَّبُوهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَجَعَلْنَاهُمْ خَلَائِفَ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنْذَرِينَ ﴿٧٣﴾
অতঃপর (এতো বলা-কওয়া সত্তেও) লোকেরা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, তখন আমি তাকে এবং তার সাথে যারা নৌকায় (আরোহী) ছিলো, তাদের (তুফান থেকে) উদ্ধার করেছি এবং (যাদের বাঁচিয়ে রেখেছিলাম) আমি তাদের (পূর্ববর্তী লোকদের) প্রতিনিধি বানিয়ে দিয়েছি, (পরিশেষে) যারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে, তাদের আমি (মহাপ্নাবনে) ডুবিয়ে দিয়েছি, অতঃপর (হে নবী) , তুমি (চেয়ে) দেখো, তাদের কী ভয়াবহ পরিণাম হয়েছে, যাদের (বার বার আল্লাহর আযাবের) ভয় দেখানো হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭৪﴿
﴾ ১০:৭৪ ﴿
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِ رُسُلًا إِلَى قَوْمِهِمْ فَجَاءُوهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا بِمَا كَذَّبُوا بِهِ مِنْ قَبْلُ كَذَلِكَ نَطْبَعُ عَلَى قُلُوبِ الْمُعْتَدِينَ (﴿٧٤﴾
আমি তার পর অনেক (কয়জন) রসুলকে তাদের (নিজ নিজ) জাতির কাছে পাঠিয়েছি, তারা (সবাই) সুস্পষ্ট প্রমাণসমুহ নিয়ে নিজ জাতির কাছে এসেছে, কিন্তু এমনটি হয়নি যে, (আগের) লোকেরা ইতিপূর্বে যা অস্বীকার করেছিলো তার উপর এরা ঈমান আনবে; এভাবে যারা (না-ফরমানীতে) সীমালংঘন করে, তাদের দিলে আমি মোহর মেরে দেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭৫﴿
﴾ ১০:৭৫ ﴿
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُوسَى وَهَارُونَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ بِآيَاتِنَا فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ ﴿٧٥﴾
তাদের পর আমি আমার সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে মুসা ও হারূনকে ফেরাউন এবং তার পারিষদবর্ণের কাছে পাঠিয়েছি, কিন্তু তারা সবাই অহংকার করলো, (আসলে) তারা ছিলো বড়োই না-ফরমান জাতি|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭৬﴿
﴾ ১০:৭৬ ﴿
فَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا إِنَّ هَذَا لَسِحْرٌ مُبِينٌ ﴿٧٦﴾
আমার পক্ষ থেকে সত্য যখন তাদের কাছে এলো, তখন ওরা বললো, নিশ্চয়ই এ হচ্ছে সুস্পষ্ট যাদু!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭৭﴿
﴾ ১০:৭৭ ﴿
قَالَ مُوسَى أَتَقُولُونَ لِلْحَقِّ لَمَّا جَاءَكُمْ أَسِحْرٌ هَذَا وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُونَ ﴿٧٧﴾
মুসা বললো, তোমরা কি সত্য সম্পর্কে এসব (বোজে) কথা বলছো, যখন তা তোমাদের কাছে (প্রমাণসহ) এসে গেছে! (তোমরা কি মনে করো) এটা আসলেই যাছু? অথচ যাছুকররা কখনোই সফলকাম হয় না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭৮﴿
﴾ ১০:৭৮ ﴿
قَالُوا أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا وَتَكُونَ لَكُمَا الْكِبْرِيَاءُ فِي الْأَرْضِ وَمَا نَحْنُ لَكُمَا بِمُؤْمِنِينَ ﴿٧٨﴾
তারা বললো, তোমরা কি এ উদ্দেশেই আমাদের কাছে এসেছো যে, যা কিছুর উপর আমরা আমাদের বাপ- দাদাদের পেয়েছি, তা থেকে তোমরা আমাদের বিচ্যুত করে দেবে এবং (আমাদের এ) ভূখন্ডে তোমাদের ছু' (ভাই) -য়ের প্রতিপত্তি (প্রতিষ্ঠিত) হয়ে যাবে (না, তা কিছুতেই হবে না) ; আমরা তোমাদের দু'জনের উপর কখনো ঈমান আনবো না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৭৯﴿
﴾ ১০:৭৯ ﴿
وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُونِي بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ ﴿٧٩﴾
(এবার) ফেরাউন (নিজের দলবলকে) বললো, তোমরা আমার কাছে (রাজ্যের) সব সুদক্ষ যাদুকরদের নিয়ে এসো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮০﴿
﴾ ১০:৮০ ﴿
فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ ﴿٨٠﴾
অতঃপর (ফেরাউনের নির্দেশে) যাদুকররা যখন এসে হাযির হলো, তখন মুসা তাদের (লক্ষ্য করে) বললো, তোমাদের যা নিক্ষেপ করার তা তোমরা নিক্ষেপ করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮১﴿
﴾ ১০:৮১ ﴿
فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ ﴿٨١﴾
তারা যখন (তাদের যাছুর বাণ) নিক্ষেপ করলো, তখন মুসা বললো, তোমরা যা নিয়ে এসেছো তা (হচ্ছে আসলেই) যাছু; (দেখবে) অচিরেই আল্লাহ তায়ালা তা ব্যর্থ করে দেবেন; আল্লাহ তায়ালা কখনো ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজকর্ম শুধরে দেন না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮২﴿
﴾ ১০:৮২ ﴿
وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ ﴿٨٢﴾
আল্লাহ তায়ালা স্বীয় বাণী দ্বারা সত্যকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও না-ফরমান মানুষরা একে খুবই অন্রীতিকর মনে করে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮৩﴿
﴾ ১০:৮৩ ﴿
فَمَا آمَنَ لِمُوسَى إِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِنْ قَوْمِهِ عَلَى خَوْفٍ مِنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِمْ أَنْ يَفْتِنَهُمْ وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِي الْأَرْضِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الْمُسْرِفِينَ ﴿٨٣﴾
ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের ভয়ে মুসার উপর তার জাতির কতিপয় কিশোর (যুবক) ছাড়া অন্য কোনো লোক ঈমান আনেনি, (অবশ্যই) ফেরাউন ছিলো যমীনের মাঝে অহংকারী (বাদশাহ) এবং (মারাঅক) সীমালংঘনকারী|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮৪﴿
﴾ ১০:৮৪ ﴿
وَقَالَ مُوسَى يَاقَوْمِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُسْلِمِينَ ﴿٨٤﴾
মুসা (তার উপর যারা ঈমান এনেছে তাদের) বললো, হে আমার জাতি, তোমরা যদি সত্যিই মুসলমান হয়ে থাকো, তাহলে (অধৈর্য না হয়ে) যিনি তোমাদের মালিক তোমরা তাঁর উপর ভরসা করো, যদি তোমরা আল্লাহতে আত্মসমর্পণকারী হও |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮৫﴿
﴾ ১০:৮৫ ﴿
فَقَالُوا عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٨٥﴾
(মুসার কথায়) অতঃপর তারা বললো (হাঁ) , আমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করি (এবং আমরা বলি) , হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের যালেম সম্প্রদায়ের অত্যাচারের শিকারে পরিণত করো না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮৬﴿
﴾ ১০:৮৬ ﴿
وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٨٦﴾
এবং তোমার একান্ত রহমত ছারা তুমি আমাদের (ফেরাউন ও তার) কাফের সম্প্রদায়ের হাত থেকে মুক্তি দাও |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮৭﴿
﴾ ১০:৮৭ ﴿
وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى وَأَخِيهِ أَنْ تَبَوَّآ لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًا وَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٨٧﴾
আমি (এরপর) মুসা ও তার ভাই (হারূন) -এর কাছে ওহী পাঠালাম, তোমরা তোমাদের জাতির (লোকদের) জন্যে মিসরেই ঘরবাড়ি বানাও এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কেবলা (-মুখী করে) বানাও এবং (তাতে) তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো; সর্বোপরি) ঈমানদারদের মুক্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে মর্মে তাদের) সুসংবাদ দাও |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮৮﴿
﴾ ১০:৮৮ ﴿
وَقَالَ مُوسَى رَبَّنَا إِنَّكَ آتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَأَهُ زِينَةً وَأَمْوَالًا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا عَنْ سَبِيلِكَ رَبَّنَا اطْمِسْ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَاشْدُدْ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ ﴿٨٨﴾
মুসা আল্লাহ তায়ালাকে) বললো, হে আমাদের মালিক, নিসন্দেহে তুমি ফেরাউন ও তার (মন্ত্রী) পরিষদকে দুনিয়ার জীবনে সৌন্দর্য (-মন্ডিত উপকরণ) এবং ধন-সম্পদ দান করে রেখেছো, (এটা কি এ জন্যে) হে আমাদের মালিক, তারা (এ দিয়ে জনপদের মানুষকে) তোমার পথ থেকে গোমরাহ করে দেবে? হে আমাদের মালিক, তাদের (সমুদয়) ধন-সম্পদ বিনষ্ট করে দাও, তাদের অন্তরসমূহকে (আরো) শক্ত করে দাও, (মুলত) তারা একটা কঠিন আযাব (নাধিল হতে) না দেখলে ঈমান আনবে না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৮৯﴿
﴾ ১০:৮৯ ﴿
قَالَ قَدْ أُجِيبَتْ دَعْوَتُكُمَا فَاسْتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَانِّ سَبِيلَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٨٩﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন, (হাঁ) তোমাদের উভয়ের দোয়াই কবুল করা হয়েছে, অতএব তোমরা (দ্বীনের উপর) সুদৃঢ় হয়ে দৌঁড়িয়ে) থাকো, তোমরা দু'জন কখনো সেসব লোকের (কথার) অনুসরণ করো না, যারা কিছুই জানে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯০﴿
﴾ ১০:৯০ ﴿
وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُ بَغْيًا وَعَدْوًا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿٩٠﴾
অতঃপর (ঘটনা এমন হলো) , আমি বনী ইসরাঈলদের সাগর পার করিয়ে দিলাম, এরপর ফেরাউন এবং তার সৈন্য-সামন্ত বিদ্বেপরায়ণতা ও সীমালংঘন করার জন্যে তাদের পিছু নিলো; এমনকি যখন (দলবলসহ) তাকে সাগরের অথৈ ঢেউ ডুবিয়ে দিতে লাগলো, (তখন) সে বললো, (এখন) আমি ঈমান আনলাম, যে মাবুদের উপর বনী ইসরাঈল ঈমান এনেছে, তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই, আমিও (তাঁর) অনুগতদের একজন |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯১﴿
﴾ ১০:৯১ ﴿
آلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ ﴿٩١﴾
(আমি বললাম, ) এখন (ঈমান আনছো) ? অথচ (একটু) আগেই তুমি না-ফরমানী করছিলে এবং (যমীনে) তুমি ছিলে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্যতম (নেতা) |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯২﴿
﴾ ১০:৯২ ﴿
فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ عَنْ آيَاتِنَا لَغَافِلُونَ ﴿٩٢﴾
আজ আমি তোমাকে (অর্থাৎ) তোমার দেহকেই বাঁচিয়ে রাখবো, যাতে করে তুমি (তোমার এ দেহ) পরবর্তী (প্রজন্মের লোকদের) জন্যে একটা নিদর্শন হয়ে থাকতে পারো; অবশ্য অধিকাংশ মানুষই আমার (এসব) নিদর্শনসমূহ থেকে সম্পূর্ণ (অজ্ঞ ও) বেখবর|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯৩﴿
﴾ ১০:৯৩ ﴿
وَلَقَدْ بَوَّأْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ مُبَوَّأَ صِدْقٍ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ فَمَا اخْتَلَفُوا حَتَّى جَاءَهُمُ الْعِلْمُ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿٩٣﴾
(ফেরাউনকে ডুবিয়ে মারার পর) আমি বনী ইসরাঈলের লোকদের (বরকতপুর্ণ ও) উৎকৃষ্ট আবাসভূমিতে বসবাস করালাম এবং তাদের জন্যে উত্তম জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করলাম, অতঃপর তারা (নিজেদের মধ্যে) মতবিরোধ শুরু করে দিলো, এমনকি যখন (দ্বীনের সঠিক) জ্ঞান তাদের কাছে এসে পৌঁছুলো (তোরপরও তারা মতবিরোধ থেকে ফিরে এলো না) ; অবশ্যই তোমার মালিক কেয়ামতের দিন তাদের সেসব বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন, যে বিষয়ে তারা (নিজেদের মাঝে) বিভেদ করতো |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯৪﴿
﴾ ১০:৯৪ ﴿
فَإِنْ كُنْتَ فِي شَكٍّ مِمَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ فَاسْأَلِ الَّذِينَ يَقْرَءُونَ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكَ لَقَدْ جَاءَكَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ ﴿٩٤﴾
(হে নবী, ) আমি তোমার উপর যে কিতাব নাযিল করেছি, তাতে (বর্ণিত কোনো ঘটনার ব্যাপারে) যদি তোমার (মনে) কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে সেসব লোকের কাছে (এসব ঘটনা) জিজ্ঞেস করো, যারা তোমার আগে (তাদের উপর নাযিল করা) কিতাব পড়ে আসছে, অবশ্যই তোমার কাছে তোমার মালিকের কাছ থেকে সত্য এসেছে, তাই তুমি কখনো সন্দেহবাদীদের (দলে) শামিল হয়ো না]
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯৫﴿
﴾ ১০:৯৫ ﴿
وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ فَتَكُونَ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٩٥﴾
আর তুমি তাদের দলেও শামিল হয়ো না যারা আল্লাহর আয়াতসমুহ মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, (এরূপ করলে) তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯৬﴿
﴾ ১০:৯৬ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٩٦﴾
(হে নবী, ) অবশ্যই তাদের ব্যাপারে তোমার মালিকের কথা (সত্য) প্রমাণিত হয়ে গেছে, তারা কখনো ঈমান আনবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯৭﴿
﴾ ১০:৯৭ ﴿
وَلَوْ جَاءَتْهُمْ كُلُّ آيَةٍ حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ ﴿٩٧﴾
এমনকি তাদের কাছে আল্লাহর প্রত্যেকটি নিদর্শন এসে পৌঁছলেও (তারা ঈমান আনবে এমন) নয়, যতোক্ষণ না তারা কঠিন আযাব (নিজেদের চোখে) দেখতে পাবে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯৮﴿
﴾ ১০:৯৮ ﴿
فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ ﴿٩٨﴾
ইউনুস (নবীর) সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য (কোনো) জনপদ এমন ছিলো না, যে (জনপদ আযাব দেখে) ঈমান এনেছে এবং তার এ ঈমান তার কোনো উপকার করতে পেরেছে; তারা যখন আল্লাহর উপর ঈমান আনলো, তখন আমি তাদের এ পার্থিব জীবনের অপমানকর আযাব তাদের কাছ থেকে সরিয়ে নিলাম এবং তাদের আমি এক (বিশেষ) সময় পর্যন্ত জীবনের (উপায়) উপকরণও দান করলাম |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:৯৯﴿
﴾ ১০:৯৯ ﴿
وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ ﴿٩٩﴾
(হে নবী, ) তোমার মালিক চাইলে এ যমীনে যতো মানুষ আছে তারা সবাই ঈমান আনতো; (কিন্ত তিনি তা চাননি, তাছাড়া) তুমি কি মানুষদের জোরজবরদস্তি করবে যেন, তারা সবাই মু’মিন হয়ে যায়!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০০﴿
﴾ ১০:১০০ ﴿
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تُؤْمِنَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَجْعَلُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ ﴿١٠٠﴾
কোনো মানুষেরই এ সাধ্য নেই যে, আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে সে ঈমান আনবে; যারা (ঈমানের রহস্য) বুঝতে পারে না, আল্লাহ তায়ালা এভাবেই তাদের উপর (কুফুর ও শেরেকের) কলুষ লাগিয়ে দেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০১﴿
﴾ ১০:১০১ ﴿
قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا تُغْنِي الْآيَاتُ وَالنُّذُرُ عَنْ قَوْمٍ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٠١﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, তোমরা দেখো, আসমানসমুহ ও যমীনে কি কি জিনিস রয়েছে; কিন্তু যারা ঈমানই আনবে না তাদের জন্যে (আল্লাহর এসব) নিদর্শন ও (পরকালের) সাবধানবাণী কোনোই উপকারে আসে না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০২﴿
﴾ ১০:১০২ ﴿
فَهَلْ يَنْتَظِرُونَ إِلَّا مِثْلَ أَيَّامِ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِهِمْ قُلْ فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ ﴿١٠٢﴾
তারাও কি সে ধরনের কোনো দিনের অপেক্ষা করছে, যে ধরনের (অপমানকর) দিন তাদের আগের লোকদের উপর এসেছিলো; (যদি তাই হয় তাহলে) তুমি বলো, তোমরা (সেদিনের) অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করতে থাকবো |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০৩﴿
﴾ ১০:১০৩ ﴿
ثُمَّ نُنَجِّي رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا كَذَلِكَ حَقًّا عَلَيْنَا نُنْجِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٠٣﴾
অতঃপর (যখন আযাবের সময় আসে তখন) আমি আমার রসুলদের এভাবেই (সে আযাব থেকে) বাঁচিয়ে দেই এবং তাদেরও (বাঁচিয়ে দেই, যারা) ঈমান আনে, আমি আমার উপর এটা কর্তব্য করে নিয়েছি যে, আমি মু’মিনদের (আযাব থেকে) উদ্ধার করবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০৪﴿
﴾ ১০:১০৪ ﴿
قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي شَكٍّ مِنْ دِينِي فَلَا أَعْبُدُ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ أَعْبُدُ اللَّهَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُمْ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٠٤﴾
(হে নবী, ) তুমি (লোকদের) বলো, হে মানুষরা, তোমরা যদি আমার (আনীত) দ্বীনে কোনো সন্দেহ করো (তাহলে শুনে রাখো) , আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য যাদের তোমরা ইবাদাত করো, আমি তাদের ইবাদাত করি না, আমি তো বরং তাঁর মহান সত্তার) ইবাদাত করি, যিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান, আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে আমি যেন মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত থাকি|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০৫﴿
﴾ ১০:১০৫ ﴿
وَأَنْ أَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿١٠٥﴾
(আমাকে বলা হয়েছে, ) তুমি আল্লাহর দ্বীনের জন্যে একনিষ্ঠভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং কখনো তুমি মুশরিকদের দলে শামিল হয়ো না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০৬﴿
﴾ ১০:১০৬ ﴿
وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿١٠٦﴾
(আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, ) তুমি কখনো আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডেকো না, যে তোমার কোনো কল্যাণ (যেমন) করতে পারে না, (তেমনি) তোমার কোনো অকল্যাণও সে করতে পারে না, (এ সত্তেও) যদি তুমি অন্যথা করো, তাহলে অবশ্যই তুমি যালেমদের মধ্যে গণ্য হবে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০৭﴿
﴾ ১০:১০৭ ﴿
وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ﴿١٠٧﴾
যদি আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কোনো ছুঃখ-কষ্ট দেন তাহলে তিনি ছাড়া অন্য কেউই নেই তা দুরীভূত করার, (আবার) তিনি যদি (মেহেরবানী করে) তোমার কোনো কল্যাণ চান তাহলে তাঁর সে অনুগ্রহ রদ করারও কেউ নেই; তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে চান তাকেই কল্যাণ পৌঁছান; আল্লাহ তায়ালা বড়োই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০৮﴿
﴾ ১০:১০৮ ﴿
قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِوَكِيلٍ ﴿١٠٨﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, হে মানুষ, তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সত্য (দ্বীন) এসেছে; অতএব যে হেদায়াতের পথ অবলম্বন করবে সে তো তার নিজের ভালোর জন্যেই হেদায়াতের পথে চলবে, আর যে গোমরাহ থেকে যাবে সে তো গোমরাহীর উপর চলার কারণেই গোমরাহ হয়ে যাবে, আমি তো তোমাদের উপর কর্মবিধায়ক নই (যে, জোর করে তোমাদের গোমরাহী থেকে বের করে আনবো) |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১০:১০৯﴿
﴾ ১০:১০৯ ﴿
وَاتَّبِعْ مَا يُوحَى إِلَيْكَ وَاصْبِرْ حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ ﴿١٠٩﴾
(হে নবী, ) তোমার উপর যে হেদায়াত নাধিল করা হয়েছে তুমি তার অনুসরণ করো এবং ধৈর্য ধারণ করো, যে পর্যন্ত আল্লাহ কোনো ফয়সালা না করেন, (কেননা) তিনিই হচ্ছেন সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]