🕋

هود
(১১) হুদ

১২৩

﴾১১:১﴿
﴾ ১১:১ ﴿
الر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ ﴿١﴾
আলিফ-লাম-রা । এ (কোরআন হচ্ছে এমন একটি) কিতাব, যার আয়াতসমুহ অত্যন্ত সুস্পষ্ট (ও সুবিন্যস্ত) করে রাখা হয়েছে, অতঃপর (এর বর্ণনাসমুহও এখানে) বিশদভাবে বলে দেয়া হয়েছে, (এ কিতাব) এক প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ সত্তার কাছ থেকে (তোমার কাছে এসেছে ।) [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২﴿
﴾ ১১:২ ﴿
أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنَّنِي لَكُمْ مِنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ ﴿٢﴾
(এর বক্তব্য হচ্ছে, ) তোমরা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কারো গোলামী করবে না, আর আমি তো তোমাদের জন্যে তাঁর কাছ থেকে (আযাবের) ভয় প্রদর্শনকারী ও (জান্নাতের) সুসংবাদদানকারী মাত্র । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩﴿
﴾ ১১:৩ ﴿
وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُمْ مَتَاعًا حَسَنًا إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ ﴿٣﴾
(এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ) তোমরা যেন তোমাদের মালিকের (দরবারে তোমাদের গুনাহখাতার জন্য) ক্ষমা চাইতে পারো, অতঃপর (গুনাহ থেকে তাওবা করে) তাঁর দিকে ফিরে আসতে পারো, (তাহলে) তিনি তোমাদের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত উত্তম (জীবন) সামগ্রী দান করবেন এবং প্রতিটি মর্যাদাবান ব্যক্তিকে তার মর্যাদা অনুযায়ী (পাওনা আদায় করে) দেবেন; আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্যে একটি কঠিন দিনের আযাবের ভয় করছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪﴿
﴾ ১১:৪ ﴿
إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٤﴾
(কেননা, এ জীবনের শেষে) তোমাদের সবাইকে আল্লাহ তায়ালার কাছেই ফিরে যেতে হবে এবং তিনি সর্ববিষয়ের উপর একক ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫﴿
﴾ ১১:৫ ﴿
أَلَا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُوا مِنْهُ أَلَا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿٥﴾
সাবধান, এ (নির্বোধ) লোকেরা (মনের কথা দিয়ে কিন্তু) নিজেদের অন্তরসমুহকে ঢেকে রাখে, যেন আল্লাহর কাছ থেকে তা লুকিয়ে রাখতে পারে; কিন্তু এরা কি জানে না, যখন তারা কোনো কাপড় দিয়ে (নিজেদের) ঢেকে দেয়, তখন আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই জানেন তারা (তার ভেতরে) কোন বিষয় লুকিয়ে রাখছে, আর কোন বিষয় তারা প্রকাশ করছে, অবশ্যই তিনি মনের ভেতরের সব কথা জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬﴿
﴾ ১১:৬ ﴿
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُبِينٍ ﴿٦﴾
যমীনের উপর বিচরণশীল এমন কোনো জীব নেই, যার রিযিক (পৌঁছানোর দায়িত্ব) আল্লাহর উপর নেই, তিনি (যেমন) তার আবাস সম্পর্কে অবহিত, (তেমনি তার মৃত্যুর পর) তাকে যেখানে সোপর্দ করা হবে তাও তিনি জানেন; এসব (কথা) একটি সুস্পষ্ট গ্রন্থে (লিপিবদ্ধ) আছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭﴿
﴾ ১১:৭ ﴿
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَلَئِنْ قُلْتَ إِنَّكُمْ مَبْعُوثُونَ مِنْ بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُبِينٌ ﴿٧﴾
আর তিনিই আল্লাহ তায়ালা, যিনি আসমানসমুহ ও যমীন ছয় দিনের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন, (সে সময়) তাঁর “আরশ’ ছিলো পানির উপর (এ সৃষ্টি কৌশলের লক্ষ্য) , যেন তিনি এটা যাচাই করে নিতে পারেন, তোমাদের মধ্যে কে তার কাজে কর্মে উত্তম; (হে নবী, ) আজ যদি তুমি এদের বলো, মৃত্যুর পর তোমাদের অবশ্যই পুনরুত্থিত করা হবে, তাহলে যেসব মানুষ কুফুরের রাসা গ্রহণ করেছে তারা সাথে সাথেই বলবে, এ (কিতাব) তো সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮﴿
﴾ ১১:৮ ﴿
وَلَئِنْ أَخَّرْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِلَى أُمَّةٍ مَعْدُودَةٍ لَيَقُولُنَّ مَا يَحْبِسُهُ أَلَا يَوْمَ يَأْتِيهِمْ لَيْسَ مَصْرُوفًا عَنْهُمْ وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٨﴾
আমি যদি নির্দিষ্ট একটা মেয়াদের জন্যে তাদের (এ) আযাব তাদের কাছ থেকে সরিয়ে রাখি, তাহলে (তামাশাচ্ছলে) ওরা বলবে, কোন জিনিস এখন এ (আযাব) -কে আটকে রেখেছে; (অথচ) যেদিন এ আযাব তাদের উপর এসে পতিত হবে, সেদিন এ আযাব তাদের কাছ থেকে সরাবার কেউই থাকবে না, যে (আযাব) নিয়ে তারা হাসি-বিদ্রুপ করছিলো, তা তাদের পরিবেষ্টন করে ফেলবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯﴿
﴾ ১১:৯ ﴿
وَلَئِنْ أَذَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنَّا رَحْمَةً ثُمَّ نَزَعْنَاهَا مِنْهُ إِنَّهُ لَيَئُوسٌ كَفُورٌ ﴿٩﴾
আমি যদি মানুষকে (একবার) আমার রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই এবং পরে (কোনো কারণে) যদি তা তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিই, তাহলে সে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০﴿
﴾ ১১:১০ ﴿
وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ نَعْمَاءَ بَعْدَ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ ذَهَبَ السَّيِّئَاتُ عَنِّي إِنَّهُ لَفَرِحٌ فَخُورٌ ﴿١٠﴾
আবার কোনো দুঃখ-দৈন্য তাকে স্পর্শ করার পর যদি তাকে আমি অনুগ্রহের স্বাদ ভোগ করাই, তখন সে বলতে শুরু করে (হ্যাঁ) , এবার আমার থেকে সব বিপদ-মসিবত কেটে গেছে, (আসলে) সে (অল্পতেই যেমন) উফুল্ল (হয়ে ওঠে, তেমনি সহজেই আবার) অহংকারী (হয়ে যায়) , [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১﴿
﴾ ১১:১১ ﴿
إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ ﴿١١﴾
কিন্তু যারা পরম ধৈর্য ধারণ করে এবং নেক আমল করে, এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের জন্যে রয়েছে (আল্লাহর) ক্ষমা ও মহাপুরস্কার । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১২﴿
﴾ ১১:১২ ﴿
فَلَعَلَّكَ تَارِكٌ بَعْضَ مَا يُوحَى إِلَيْكَ وَضَائِقٌ بِهِ صَدْرُكَ أَنْ يَقُولُوا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ كَنْزٌ أَوْ جَاءَ مَعَهُ مَلَكٌ إِنَّمَا أَنْتَ نَذِيرٌ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ ﴿١٢﴾
(হে নবী, কাফেররা মনে করে, ) সম্ভবত তোমার কাছে যা ওহী নাযিল হয় তার কিয়দংশ তুমি ছেড়ে দাও এবং এ কারণে তোমার মনোকষ্ট হবে যখন তারা বলে বসবে, এ ব্যক্তির উপর কোনো ধন-ভান্ডার অবতীর্ণ হলো না কেন, কিংবা তার সাথে (নবুওতের সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে কোনো ফেরেশতা এলো না কেন (তুমি এতে মনোক্ষুন্ন হয়ো না) ; তুমি তো হচ্ছো (আযাবের) ভয় প্রদর্শনকারী (একজন রসুল মাত্র) ; যাবতীয় কাজকর্মের (আসল) কর্মবিধায়ক তো হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১৩﴿
﴾ ১১:১৩ ﴿
أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿١٣﴾
অথবা এরা কি (একথা) বলে, (মোহাম্মদ নামের) সে (ব্যক্তি কোরআন) নিজে নিজে রচনা করে নিয়েছে! (হে নবী, ) তুমি (তাদের) বলো, তোমরা (যদি তাই মনে করো) তাহলে নিয়ে এসো এর অনুরূপ (মাত্র) দশটি (তোমাদের স্বরচিত) সুরা এবং আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য যাদের তোমরা সাহায্যের জন্যে ডাকতে পারো তাদের ডেকে নাও, যদি তোমরা তোমাদের (দাবীতে) সত্যবাদী হও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১৪﴿
﴾ ১১:১৪ ﴿
فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ﴿١٤﴾
আর যদি তারা তোমাদের (কথায়) সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রেখো, এটা আল্লাহর জ্ঞান (ও কুদরত) । দ্বারাই নাযিল করা হয়েছে, তিনি ব্যতীত আর কোনো মাবুদ নেই, (বলো, ) তোমরা কি মুসলমান হবে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১৫﴿
﴾ ১১:১৫ ﴿
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ ﴿١٥﴾
যদি কোনো ব্যক্তি শুধু এ পার্থিব জীবন ও তার প্রাচুর্য ভোগ করতে চায়, তাহলে আমি তাদের সবাইকে তাদের কর্মসমুহ এ (দুনিয়ার) মধ্যেই যথাযথ আদায় করে দেই এবং সেখানে তাদের (বৈষয়িক পাওনা) কম করা হবে না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১৬﴿
﴾ ১১:১৬ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٦﴾
(আসলে) এরাই হচ্ছে সে সব (দুর্ভাগা) লোক, যাদের জন্যে পরকালে (জাহান্নামের) আগুন ছাড়া আর কিছুই থাকবে না, (দুনিয়ার) জীবনে সেখানে যা কিছু তারা বানিয়েছে তা সব হবে বেকার, যা কিছু তারা (দুনিয়ায়) করে এসেছে তা সবই হবে নিরর্থক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১৭﴿
﴾ ১১:১৭ ﴿
أَفَمَنْ كَانَ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّهِ وَيَتْلُوهُ شَاهِدٌ مِنْهُ وَمِنْ قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَى إِمَامًا وَرَحْمَةً أُولَئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَمَنْ يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الْأَحْزَابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِنْهُ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٧﴾
অতঃপর যে ব্যক্তি তার মালিকের পক্ষ থেকে নাযিল করা সুস্পষ্ট (কোরআনের) প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং তা সে তেলাওয়াত করে, (যার উপর স্বয়ং) তাঁর পক্ষ থেকে সে (মোহাম্মদ) সাক্ষী (হিসেবে মজুদ) রয়েছে, (তদুপরি রয়েছে) তার পুর্ববর্তী মুসার কিতাব, (যা তাদের জন্যে) পথপ্রদর্শক ও রহমত; এরা এর উপর ঈমান আনে; (মানব) দলের মধ্যে যে অতঃপর একে অস্বীকার করবে তার প্রতিশ্রুত স্থান হচ্ছে (জাহান্নামের) আগুন, সুতরাং তুমি সে ব্যাপারে কোনো রকম সন্দিগ্ধ হয়ো না, এ সত্য হচ্ছে তোমার মালিকের পক্ষ থেকে নাযিল করা, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনে না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১৮﴿
﴾ ১১:১৮ ﴿
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أُولَئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ ﴿١٨﴾
আল্লাহ তায়ালা সম্বন্ধে যে মিথ্যা রচনা করে, তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে হতে পারে? এ লোকদের যখন কেয়ামতের দিন তাদের মালিকের সামনে হাযির করা হবে এবং তাদের (বিপক্ষীয়) সাক্ষীরা যখন বলবে (হে আমাদের মালিক) , এরাই হচ্ছে সে ব্যক্তি, যারা তাদের মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা রচনা করেছিলো, হ্যাঁ, আজ যালেমদের উপর আল্লাহ তায়ালার অভিসম্পাত । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১৯﴿
﴾ ১১:১৯ ﴿
الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ ﴿١٩﴾
(সে যালেমদের উপরও আল্লাহর লানত) যারা (অন্য মানুষদের) আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর পথে দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ায় (সর্বোপরি) যারা শেষ বিচারের দিনকেও অস্বীকার করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২০﴿
﴾ ১১:২০ ﴿
أُولَئِكَ لَمْ يَكُونُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَمَا كَانَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ يُضَاعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ مَا كَانُوا يَسْتَطِيعُونَ السَّمْعَ وَمَا كَانُوا يُبْصِرُونَ ﴿٢٠﴾
এরা এ যমীনের বুকেও (আল্লাহ তায়ালাকে) কখনো ব্যর্থ করে দিতে পারেনি, না আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের (সেখানে) কোনো অভিভাবক ছিলো, এদের জন্যে আযাব হবে দ্বিগুণ; এরা কখনো (দ্বীন-ঈমানের কথা) শুনতে সক্ষম হতো না, না এরা (সত্য দ্বীন নিজেরা) দেখতে পেতো । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২১﴿
﴾ ১১:২১ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ ﴿٢١﴾
এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যারা নিজেদের দারুণ ক্ষতি সাধন করলো, (দুনিয়ায়) যতো মিথ্যা তারা রচনা করেছিলো, (আখেরাতে) তা সবই তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২২﴿
﴾ ১১:২২ ﴿
لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ ﴿٢٢﴾
অবশ্যই এরা হবে আখেরাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২৩﴿
﴾ ১১:২৩ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَخْبَتُوا إِلَى رَبِّهِمْ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٣﴾
(পক্ষান্তরে) যারা আল্লাহর উপর নিশ্চিত ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, (উপরন্তু) নিজেদের মালিকের প্রতি সদা বিনয়াবনত থেকেছে, তারা হবে জান্নাতের বাসিন্দা, সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২৪﴿
﴾ ১১:২৪ ﴿
مَثَلُ الْفَرِيقَيْنِ كَالْأَعْمَى وَالْأَصَمِّ وَالْبَصِيرِ وَالسَّمِيعِ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿٢٤﴾
(জাহান্নামী আর জান্নাতী এ) দুটো দলের উদাহরণ হচ্ছে এমন, যেমন (একদল হচ্ছে) অন্ধ ও বধির, (আরেক দল হচ্ছে) চক্ষুম্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্ন; এ দুটো দল কি সমান? তোমরা কি এখনো শিক্ষা গ্রহণ করবে না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২৫﴿
﴾ ১১:২৫ ﴿
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ ﴿٢٥﴾
আমি অবশ্যই নুহকে তার জাতির কাছে পাঠিয়েছি (সে তাদের বললো) , আমি হচ্ছি তোমাদের জন্যে একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২৬﴿
﴾ ১১:২৬ ﴿
أَنْ لَا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ ﴿٢٦﴾
(আমার দাওয়াত হচ্ছে, ) যেন তোমরা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত না করো, (অন্যথায়) আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর এক ভয়াবহ দিনের আযাব এসে পড়বে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২৭﴿
﴾ ১১:২৭ ﴿
فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَى لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ ﴿٢٧﴾
অতঃপর তার জাতির নেতৃস্থানীয় লোকেরা যারা কুফরী করছিলো, বললো, আমরা তো তোমার মধ্যে এর বাইরে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না যে, তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ, আমরা এও দেখতে পাচ্ছি না যে, আমাদের মধ্যেকার কিছু নিম্নসারির লোক ছাড়া কেউ তোমার অনুসরণ করছে এবং তারাও তা করছে (কিছু না। বুঝে) শুধু ভাসা ভাসা দৃষ্টি দিয়ে, (আসলে) আমরা আমাদের উপর তোমাদের জন্যে তেমন কোনো মর্যাদাই দেখতে পাচ্ছি না, (মুলত) আমরা তোমাদের মনে করি (তোমরা হচ্ছো) মিথ্যাবাদী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২৮﴿
﴾ ১১:২৮ ﴿
قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كُنْتُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَآتَانِي رَحْمَةً مِنْ عِنْدِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنْتُمْ لَهَا كَارِهُونَ ﴿٢٨﴾
সে বললো, হে আমার জাতি! তোমরা কি (একথা) ভেবে দেখেছো, আমি যদি আমার মালিকের (পাঠানো) একটি সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকি, অতঃপর তিনি যদি আমাকে তাঁর (নবুওতের) বিশেষ রহমত দিয়ে (ধন্য করে) থাকেন, যাকে তোমাদের দৃষ্টির বাইরে রাখা হয়েছে, তাহলে সে (বিষয়টার) ব্যাপারে আমি কি তোমাদের বাধ্য করতে পারি, অথচ তোমরা তা অপছন্দও করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:২৯﴿
﴾ ১১:২৯ ﴿
وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّهُمْ مُلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ ﴿٢٩﴾
হে আমার জাতি, আমি (যা কিছু তোমাদের বলছি) এর উপর তোমাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ-সম্পদ চাই না, আমার বিনিময় তো আল্লাহ তায়ালার কাছেই আছে এবং যারাই আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে, (গরীব হওয়ার কারণে) তাদের তাড়িয়ে দেয়ার (মানুষ) আমি নই; (কেননা) তাদেরও (একদিন) তাদের মালিকের সাথে সাক্ষাত করতে হবে, বরং আমি তো তোমাদেরই দেখতে পাচ্ছি তোমরা সবাই হচ্ছে এক (নিরেট) অজ্ঞ সম্প্রদায়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩০﴿
﴾ ১১:৩০ ﴿
وَيَا قَوْمِ مَنْ يَنْصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِنْ طَرَدْتُهُمْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿٣٠﴾
হে আমার জাতি, আমি যদি তোমাদের কথায় গরীবদের তাড়িয়ে দেই, তাহলে (এ জন্যে) আল্লাহ তায়ালা (-র শাস্তি) থেকে আমাকে কে বাঁচিয়ে দেবে; তোমরা কি অনুধাবন করতে পাচ্ছো না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩১﴿
﴾ ১১:৩১ ﴿
وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَنْ يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنْفُسِهِمْ إِنِّي إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ ﴿٣١﴾
আমি তো তোমাদের (কখনো) একথা বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন-ভান্ডার আছে, না আমি গায়ব জানি, না আমি একজন ফেরেশতা, না আমি সেসব লোকের ব্যাপারে যাদের তোমাদের দৃষ্টি হেয় করে দেখে, এটা বলতে পারি যে, আল্লাহ তায়ালা কখনো তাদের কোনো কল্যাণ দান করবেন না; আল্লাহ তায়ালা নিজেই তা ভালো জানেন, তাদের মনে যা কিছু লুকিয়ে আছে। (আমি যদি এমন কিছু বলি) , তাহলে সত্যি সত্যিই আমি যালেমদের দলে শামিল হয়ে যাবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩২﴿
﴾ ১১:৩২ ﴿
قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٣٢﴾
লোকেরা বললো, হে নুহ (এ বিষয়টা নিয়ে) তুমি আমাদের সাথে বাকবিতন্ডা করছে এবং বিতন্ডা তুমি একটু বেশীই করেছো, তুমি যদি সত্যবাদী হও তাহলে সে (আযাবের) জিনিসটাই আমাদের জন্যে নিয়ে এসো, যার ভয় তুমি আমাদের দেখাচ্ছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩৩﴿
﴾ ১১:৩৩ ﴿
قَالَ إِنَّمَا يَأْتِيكُمْ بِهِ اللَّهُ إِنْ شَاءَ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ ﴿٣٣﴾
সে বললো, তা তো আল্লাহ তায়ালাই তোমাদের কাছে আনবেন যদি তিনি চান, আর (তেমন কিছু হলে) তোমরা কখনো তাঁকে ব্যর্থ করে দিতে পারবে না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩৪﴿
﴾ ১১:৩৪ ﴿
وَلَا يَنْفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدْتُ أَنْ أَنْصَحَ لَكُمْ إِنْ كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يُغْوِيَكُمْ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٣٤﴾
(আসলে) তোমাদের জন্যে আমার (এ) শুভ কামনা কোনো কাজেই আসবে না, আমি তোমাদের ভালো। কামনা করলে (তাও কার্যকর হবে না) যদি আল্লাহ তায়ালা তোমাদের গোমরাহ করে দিতে চান; (কারণ) তিনিই। হচ্ছেন তোমাদের মালিক এবং তাঁর কাছেই তোমাদের সবাইকে ফিরে যেতে হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩৫﴿
﴾ ১১:৩৫ ﴿
أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ إِنِ افْتَرَيْتُهُ فَعَلَيَّ إِجْرَامِي وَأَنَا بَرِيءٌ مِمَّا تُجْرِمُونَ ﴿٣٥﴾
(হে নবী, ) এরা কি বলছে, এ (গ্রন্থ) -টা সে (ব্যক্তি নিজেই) রচনা করে নিয়েছে? তুমি বলো, যদি আমি তা রচনা করে থাকি তাহলে এ অপরাধের দায়িত্ব আমার উপর, (তবে এ মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করে) যে অপরাধ তোমরা করছো তা থেকে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩৬﴿
﴾ ১১:৩৬ ﴿
وَأُوحِيَ إِلَى نُوحٍ أَنَّهُ لَنْ يُؤْمِنَ مِنْ قَوْمِكَ إِلَّا مَنْ قَدْ آمَنَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ﴿٣٦﴾
নুহের উপর ওহী পাঠানো হলো, তোমার জাতির লোকদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে, তারা ছাড়া আর কেউই (নতুন করে) ঈমান আনবে না, সুতরাং এরা যা কিছু করছে (হে নবী) , তুমি তার জন্যে দুঃখ করো না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩৭﴿
﴾ ১১:৩৭ ﴿
وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا إِنَّهُمْ مُغْرَقُونَ ﴿٣٧﴾
তুমি আমারই তত্ত্বাবধানে আমারই ওহীর (আদেশ) দিয়ে একটি নৌকা বানাও এবং যারা যুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে তুমি আমার কাছে কোনো আবেদন নিয়ে) কিছু বলোনা, নিশ্চয়ই তারা নিমজ্জিত হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩৮﴿
﴾ ১১:৩৮ ﴿
وَيَصْنَعُ الْفُلْكَ وَكُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ مَلَأٌ مِنْ قَوْمِهِ سَخِرُوا مِنْهُ قَالَ إِنْ تَسْخَرُوا مِنَّا فَإِنَّا نَسْخَرُ مِنْكُمْ كَمَا تَسْخَرُونَ ﴿٣٨﴾
(পরিকল্পনা মোতাবেক) সে নৌকা বানাতে শুরু করলো । যখনই তার জাতির নেতৃস্থানীয় লোকেরা তার পাশ দিয়ে আসা-যাওয়া করতো, তখন (নৌকা বানাতে দেখে) তাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে দিতো; সে বললো, (আজ) তোমরা যদি আমাদের উপহাস করো (তাহলে মনে রেখো) , যেভাবে (আজ) তোমরা আমাদের নিয়ে হাসছো (একদিন) আমরাও তোমাদের নিয়ে হাসবো । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৩৯﴿
﴾ ১১:৩৯ ﴿
فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَنْ يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُقِيمٌ ﴿٣٩﴾
অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর (এমন) আযাব আসবে যা তাকে (দুনিয়াতে) অপমানিত করবে এবং পরকালে (কঠিন ও) স্থায়ী আযাব কার জন্যে (নির্দিষ্ট) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪০﴿
﴾ ১১:৪০ ﴿
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ قُلْنَا احْمِلْ فِيهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ وَمَنْ آمَنَ وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلٌ ﴿٤٠﴾
অবশেষে (তাদের কাছে আযাব সম্পর্কিত) আমার আদেশ এসে পৌঁছলো এবং চুলো থেকে একদিন পানি) উথলে ওঠলো, আমি (নুহকে) বললাম, (সম্ভাব্য) প্রত্যেক জীবের (পুরুষ-স্ত্রীর) এক এক জোড়া এতে উঠিয়ে নাও, (সাথে) তোমার পরিবার-পরিজনদেরও (ওঠাও) তাদের বাদ দিয়ে, যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত (ঘোষিত) হয়েছে এবং (তাদেরও নৌকায় ওঠিয়ে নাও) যারা ঈমান এনেছে; (মুলত) তার সাথে (আল্লাহর উপর) খুব কম সংখ্যক মানুষই ঈমান এনেছিলো । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪১﴿
﴾ ১১:৪১ ﴿
وَقَالَ ارْكَبُوا فِيهَا بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٤١﴾
সে (তার সাথীদের) বললো, তোমরা এতে ওঠে পড়ো, আল্লাহর নামে এর গতি ও স্থিতি (নির্ধারিত হবে) ; নিশ্চয়ই আমার মালিক ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪২﴿
﴾ ১১:৪২ ﴿
وَهِيَ تَجْرِي بِهِمْ فِي مَوْجٍ كَالْجِبَالِ وَنَادَى نُوحٌ ابْنَهُ وَكَانَ فِي مَعْزِلٍ يَا بُنَيَّ ارْكَبْ مَعَنَا وَلَا تَكُنْ مَعَ الْكَافِرِينَ ﴿٤٢﴾
অতঃপর সে (নৌকা) পাহাড়সম বড়ো বড়ো ঢেউয়ের মধ্যে তাদের বয়ে নিয়ে চলতে থাকলো । নুহ তার ছেলেকে (নৌকায় আরোহণ করার জন্যে) ডাকলো, সে (আগে থেকেই) দুরবর্তী এক জায়গায় (দাঁড়িয়ে) ছিলো; হে আমার ছেলে, আমাদের সাথে (নৌকায়) ওঠো, (আজ এমনি এক কঠিন দিনে) তুমি কাফেরদের সাথী হয়ো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪৩﴿
﴾ ১১:৪৩ ﴿
قَالَ سَآوِي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ ﴿٤٣﴾
সে বললো, (পানি বেশী দেখলে) আমি কোনো পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেবো (এবং) তা আমাকে পানি থেকে বাঁচিয়ে দেবে; নুহ বললো, (কিন্তু) আজ তো কেউই আল্লাহর (গযবের) হুকুম থেকে (কাউকে) বাঁচাতে পারবে না, তবে যার উপর আল্লাহ তায়ালা দয়া করবেন (সে-ই শুধু আজ রক্ষা পাবে, পিতা-পুত্র যখন কথা বলছিল তখন) হঠাৎ করে একটা (বিশাল) ঢেউ তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলো, (মুহূর্তের মধ্যেই) সে নিমজ্জিত লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪৪﴿
﴾ ১১:৪৪ ﴿
وَقِيلَ يَا أَرْضُ ابْلَعِي مَاءَكِ وَيَا سَمَاءُ أَقْلِعِي وَغِيضَ الْمَاءُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ وَاسْتَوَتْ عَلَى الْجُودِيِّ وَقِيلَ بُعْدًا لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٤٤﴾
(অতঃপর) বলা হলো, হে যমীন, তুমি (এবার) তোমার পানি গিলে নাও, হে আসমান, তুমিও (পানি বর্ষণ থেকে) ক্ষান্ত হও, অতএব, পানি (-র প্রচন্ডতা) প্রশমিত হলো এবং (আল্লাহর) কাজও সম্পন্ন হলো, (নুহের) নৌকা গিয়ে স্থির হলো জুদী (পাহাড়) -এর উপর, (আল্লাহর ঘোষণা) ধ্বনিত হলো, যালেম সম্প্রদায়ের লোকেরা (নিশেষিত হয়ে) বহুদুর চলে গেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪৫﴿
﴾ ১১:৪৫ ﴿
وَنَادَى نُوحٌ رَبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنْتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ ﴿٤٥﴾
নুহ (তার ছেলেকে ডুবতে দেখে) তার মালিককে ডেকে বললো, হে আমার মালিক, আমার ছেলে তো আমারই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। (আমার আপনজনদের ব্যাপারে) তোমার ওয়াদা অবশ্যই সত্য, আর তুমিই হচ্ছো সর্বোচ্চ বিচারক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪৬﴿
﴾ ১১:৪৬ ﴿
قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ فَلَا تَسْأَلْنِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنِّي أَعِظُكَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ ﴿٤٦﴾
আল্লাহ বললেন, হে নুহ, সে তোমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়, সে তো হলো এক অসৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি, অতএব তোমার যে বিষয়ের জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে আমার কাছে তুমি কিছু চেয়ো না; আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, নিজেকে কোনো অবস্থায় জাহেলদের দলে শামিল করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪৭﴿
﴾ ১১:৪৭ ﴿
قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُنْ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٤٧﴾
সে বললো, হে আমার মালিক, যে বিষয় সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই, সে ব্যাপারে কিছু চাওয়া থেকে আমি তোমার কাছে পানাহ চাই; তুমি যদি আমাকে মাফ না করো এবং আমার উপর দয়া না করো, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪৮﴿
﴾ ১১:৪৮ ﴿
قِيلَ يَا نُوحُ اهْبِطْ بِسَلَامٍ مِنَّا وَبَرَكَاتٍ عَلَيْكَ وَعَلَى أُمَمٍ مِمَّنْ مَعَكَ وَأُمَمٌ سَنُمَتِّعُهُمْ ثُمَّ يَمَسُّهُمْ مِنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٤٨﴾
তাকে বলা হলো, হে নুহ (বন্যার পানি নেমে গেছে) , এবার তুমি (নৌকা থেকে) নেমে পড়ো, তোমার উপর, তোমার সাথে যারা আছে তাদের উপর আমার দেয়া সালাম ও বরকতের সাথে এবং (অন্য) সম্প্রদায়সমুহ । (হাঁ) আমি (আবার) তাদের জীবনের (যাবতীয়) উপকরণ প্রদান করবো, (তবে নাফরমানীর জন্যে) আমার কাছ থেকে মর্মান্তিক শাস্তিও তাদের ভোগ করতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৪৯﴿
﴾ ১১:৪৯ ﴿
تِلْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ مَا كُنْتَ تَعْلَمُهَا أَنْتَ وَلَا قَوْمُكَ مِنْ قَبْلِ هَذَا فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ ﴿٤٩﴾
(হে নবী, ) এগুলো হচ্ছে অদৃশ্য জগতের (কিছু) খবর, যা আমি তোমাকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছি, এর আগে না তুমি এগুলো জানতে, না তোমার জাতি এগুলো জানতো; অতএব, তুমি ধৈর্য ধারণ করো, কারণ (ভালো) পরিণাম ফল সব সময় পরহেযগার লোকদের জন্যেই (নির্দিষ্ট) থাকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫০﴿
﴾ ১১:৫০ ﴿
وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ ﴿٥٠﴾
আমি আ'দ জাতির কাছে তাদেরই (এক) ভাই হৃদকে পাঠিয়েছিলাম; সে তাদের বললো, হে আমার জাতি, তোমরা ইবাদাত করো একমাত্র আল্লাহ তায়ালার, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো মাবুদ নেই; (আসলে আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে) তোমরা তো মিথ্যা রচনাকারী ছাড়া আর কিছুই নও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫১﴿
﴾ ১১:৫১ ﴿
يَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى الَّذِي فَطَرَنِي أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٥١﴾
হে (আমার) জাতি, (আল্লাহর দিকে ডেকে) তার উপর আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক দাবী করছি না আমার (যাবতীয়) পাওনা তো আল্লাহ তায়ালার কাছেই, যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তোমরা কি বুঝতে পারো না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫২﴿
﴾ ১১:৫২ ﴿
وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَى قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ ﴿٥٢﴾
হে (আমার) জাতি, তোমরা তোমাদের মালিকের কাছে গুনাহখাতা মাফ চাও, অতঃপর তোমরা তাঁর দিকেই ফিরে আসো, তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণকারী মেঘমালা পাঠাবেন এবং তোমাদের (আরো) শক্তি যুগিয়ে তোমাদের (বর্তমান) শক্তি আরো বাড়িয়ে দেবেন, অতএব তোমরা অপরাধী হয়ে (তাঁর ইবাদাত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫৩﴿
﴾ ১১:৫৩ ﴿
قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَنْ قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ ﴿٥٣﴾
তারা বললো, হে হুদ, তুমি তো আমাদের কাছে (ধরা-ছোঁয়ার মতো) কোনো স্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে আসোনি, শুধু তোমার (মুখের) কথায় আমরা (কিন্তু) আমাদের দেবতাদের ছেড়ে দেয়ার (লোক) নই, আমরা তোমার উপর (বিশ্বাস করে) মু’মিনও হয়ে যাবো না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫৪﴿
﴾ ১১:৫৪ ﴿
إِنْ نَقُولُ إِلَّا اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوءٍ قَالَ إِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَاشْهَدُوا أَنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ ﴿٥٤﴾
আমরা তো বরং বলি, (আসলে) আমাদের কোনো দেবতা অশুভ কিছু দ্বারা তোমাকে আবিষ্ট করে ফেলেছে; (এ উদ্ভট কথা শুনে) সে বললো, আমি আল্লাহকে সাক্ষী করছি এবং তোমরাও (আমার এ কথায়) সাক্ষী হও, তোমরা যে (-ভাবে আল্লাহর সাথে) শেরেক করো, আমি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫৫﴿
﴾ ১১:৫৫ ﴿
مِنْ دُونِهِ فَكِيدُونِي جَمِيعًا ثُمَّ لَا تُنْظِرُونِي ﴿٥٥﴾
(যাও, ) তোমরা সবাই মিলে আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে যতো রকম ষড়যন্ত (করতে চাও) করো, অতঃপর আমাকে কোনো রকম (প্রস্তুতির) অবকাশও দিয়ো না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫৬﴿
﴾ ১১:৫৬ ﴿
إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُمْ مَا مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٥٦﴾
আমি অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করি, (যিনি) আমার মালিক, তোমাদেরও মালিক; বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই যার নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতের মুঠোয় নয়; অবশ্যই আমার মালিক সঠিক পথের উপর রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫৭﴿
﴾ ১১:৫৭ ﴿
فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ مَا أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَيْكُمْ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّي قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُ شَيْئًا إِنَّ رَبِّي عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ ﴿٥٧﴾
(এ সত্ত্বেও) যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে (জেনে রেখো) , আমি যে (পয়গাম) তোমাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যে প্রেরিত হয়েছিলাম, তা আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি; (সে অবস্থায় অচিরেই) আমার মালিক অন্য কোনো জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি সাধন করতে পারবে না । অবশ্যই আমার মালিক প্রত্যেকটি বস্তুরই উপর একক রক্ষক (ও অভিভাবক) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫৮﴿
﴾ ১১:৫৮ ﴿
وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَنَجَّيْنَاهُمْ مِنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ ﴿٥٨﴾
অতঃপর যখন আমার (আযাব সম্পর্কিত) হুকুম এলো, তখন আমি হৃদকে এবং তার সাথে যতো ঈমানদার ছিলো, তাদের আমার রহমত দ্বারা (আযাব থেকে) বাঁচিয়ে দিয়েছি, (এভাবেই) আমি তাদের এক কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করেছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৫৯﴿
﴾ ১১:৫৯ ﴿
وَتِلْكَ عَادٌ جَحَدُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا رُسُلَهُ وَاتَّبَعُوا أَمْرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ ﴿٥٩﴾
এ হচ্ছে আদ জাতি (ও তাদের কাহিনী) , তারা তাদের মালিকের আয়াতসমুহ অস্বীকার করেছিলো, তারা তাঁর রসুলদের নাফরমানী করেছিলো, (সর্বোপরি) তারা প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারীর নির্দেশই মেনে নিয়েছিলো । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬০﴿
﴾ ১১:৬০ ﴿
وَأُتْبِعُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلَا إِنَّ عَادًا كَفَرُوا رَبَّهُمْ أَلَا بُعْدًا لِعَادٍ قَوْمِ هُودٍ ﴿٦٠﴾
পরিশেষে এ দুনিয়ায় (আল্লাহর) অভিশাপ তাদের পিছু নিলো, কেয়ামতের দিনও (এ অভিশাপ তাদের পিছু নেবে) ; ভালো করে শুনে রেখো, আদ (জাতি) তাদের মালিককে অস্বীকার করেছিলো; এও জেনে রেখো, ধ্বংসই ছিলো হৃদের জাতি আ'দের (একমাত্র) পরিণতি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬১﴿
﴾ ১১:৬১ ﴿
وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ هُوَ أَنْشَأَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُجِيبٌ ﴿٦١﴾
সামুদ (জাতির) কাছে (নবী) ছিলো তাদেরই (এক) ভাই সালেহ । সে (তাদের) বললো, হে (আমার) জাতি, তোমরা সবাই (একান্তভাবে) আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো মাবুদ নেই, তিনি তোমাদের (এ) যমীন থেকেই পয়দা করেছেন এবং তাতেই তিনি তোমাদের বসবাস করিয়েছেন, অতঃপর (কৃতজ্ঞতাস্বরূপ) তোমরা তাঁর কাছে গুনাহের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর (তাওবা করে) তাঁর দিকেই ফিরে এসো, অবশ্যই আমার মালিক (প্রত্যেকের) একান্ত নিকটবর্তী এবং (প্রত্যেক ব্যক্তির) ডাকের তিনি জবাব দেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬২﴿
﴾ ১১:৬২ ﴿
قَالُوا يَا صَالِحُ قَدْ كُنْتَ فِينَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَذَا أَتَنْهَانَا أَنْ نَعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِي شَكٍّ مِمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ ﴿٦٢﴾
তারা বললো, হে সালেহ, এর আগে তুমি এমন (একজন মানুষ) ছিলে, (যার) ব্যাপারে আমাদের মধ্যে (বড়ো) আশা করা হতো, (আর এখন) কি তুমি আমাদের সে সব মাবুদের ইবাদাত থেকে বিরত রাখতে চাও যাদের ইবাদাত আমাদের পিতা-মাতারা (যুগ যুগ থেকে) করে আসছে, (আসলে) তুমি যে (দ্বীনের) দিকে আমাদের ডাকছো, সে ব্যাপারে আমরা সন্দেহে নিমজ্জিত আছি, (এ ব্যাপারে) আমরা খুব দ্বিধাগ্রস্তও বটে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬৩﴿
﴾ ১১:৬৩ ﴿
قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كُنْتُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَآتَانِي مِنْهُ رَحْمَةً فَمَنْ يَنْصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِنْ عَصَيْتُهُ فَمَا تَزِيدُونَنِي غَيْرَ تَخْسِيرٍ ﴿٦٣﴾
সে বললো, হে আমার জাতি, তোমরা কি এ বিষয়টি নিয়ে একটুও চিনত্মা করে দেখোনি যে, যদি আমি আমার মালিকের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট দলীলের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর অনুগ্রহ দিয়ে (ধন্য করে) থাকেন, (তা সত্ত্বেও) যদি আমি কোনো গুনাহ করি তাহলে কে এমন আছে, যে আল্লাহর মোকাবেলায় আমাকে সাহায্য করবে? (আসলে অন্যায় আবদার করে) তোমরা আমার ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই তো বাড়াচ্ছো না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬৪﴿
﴾ ১১:৬৪ ﴿
وَيَا قَوْمِ هَذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً فَذَرُوهَا تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابٌ قَرِيبٌ ﴿٦٤﴾
হে আমার সম্প্রদায়, এ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার (পাঠানো) উটনী, (তোমরা যে নিদর্শন চাচ্ছিলে) এটা হচ্ছে তোমাদের জন্যে (সে) নিদর্শন। অতঃপর (আল্লাহর) এ (নিদর্শন) -কে ছেড়ে দাও, সে আল্লাহর যমীনে চরে খাক, তাকে কোনো রকম কষ্ট দেয়ার নিয়তে ছুঁয়ো না, (তেমনটি করলে) অতিসত্তর (বড়ো ধরনের) আযাব তোমাদের পাকড়াও করবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬৫﴿
﴾ ১১:৬৫ ﴿
فَعَقَرُوهَا فَقَالَ تَمَتَّعُوا فِي دَارِكُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ذَلِكَ وَعْدٌ غَيْرُ مَكْذُوبٍ ﴿٦٥﴾
অতঃপর তারা সেটিকে বধ করে ফেললো, সে তারপর (তাদের) বললো (চলে যাও) , তোমরা তোমাদের নিজ নিজ ঘরে তিন দিন জীবন উপভোগ করে নাও; (আযাবের ব্যাপারে আল্লাহর) এ ওয়াদা কখনো মিথ্যা হবার নয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬৬﴿
﴾ ১১:৬৬ ﴿
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا صَالِحًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَمِنْ خِزْيِ يَوْمِئِذٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ ﴿٦٦﴾
এর পর (ওয়াদামতো যখন আমার আযাবের) নির্দেশ এলো (এবং তা তাদের ভীষণভাবে পাকড়াও করলো) , তখন আমি সালেহকে এবং তার সাথে আরো যারা ঈমান এনেছিলো তাদের সবাইকে আমার রহমত দিয়ে সে দিনের অপমান (-কর আযাব) থেকে বাঁচিয়ে দিলাম; অবশ্যই (হে নবী, ) তোমার মালিক শক্তিমান ও পরাক্রমশালী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬৭﴿
﴾ ১১:৬৭ ﴿
وَأَخَذَ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ ﴿٦٧﴾
অতঃপর যারা (আল্লাহর দ্বীনের সাথে) যুলুম করেছে, এক মহানাদ (তাদের উপর মরণ) আঘাত করলো, ফলে তারা তাদের ঘরসমুহে মুখ থুবড়ে পড়ে রইলো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬৮﴿
﴾ ১১:৬৮ ﴿
كَأَنْ لَمْ يَغْنَوْا فِيهَا أَلَا إِنَّ ثَمُودَ كَفَرُوا رَبَّهُمْ أَلَا بُعْدًا لِثَمُودَ ﴿٦٨﴾
(অবস্থা দেখে মনে হলো) যেন তারা কোনোদিন সেখানে বসবাসই করেনি। শুনে রাখো, সামুদ জাতি তাদের মালিককে অস্বীকার করেছিলো; আরো জেনে রেখো, (নির্মম) এক ধ্বংসই ছিলো সামুদ জাতির জন্যে (নির্দিষ্ট পরিণাম) ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৬৯﴿
﴾ ১১:৬৯ ﴿
وَلَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَى قَالُوا سَلَامًا قَالَ سَلَامٌ فَمَا لَبِثَ أَنْ جَاءَ بِعِجْلٍ حَنِيذٍ ﴿٦٩﴾
(একদিন) আমার পাঠানো ফেরেশতারা (বিশেষ একটি) সুসংবাদ নিয়ে ইবরাহীমের কাছে এলো, তারা (তার কাছে এসে) বললো, তোমার উপর) শান্তি (বর্ষিত হোক) ; সেও (জবাবে) বললো, (তোমাদের উপরও) শান্তি (বর্ষিত হোক) , অতঃপর সে (তাড়াহুড়ো করে এদের মেহমানদারীর জন্যে) একটি ভুনা গো-বৎস নিয়ে এলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭০﴿
﴾ ১১:৭০ ﴿
فَلَمَّا رَأَى أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُوا لَا تَخَفْ إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَى قَوْمِ لُوطٍ ﴿٧٠﴾
(কিন্তু) সে যখন দেখলো, তারা তার (খাবারের) দিকে হাত বাড়াচ্ছে না, তখন তাদের (এ বিষয়টি) তার (কাছে) খারাপ লাগলো এবং তাদের সম্পর্কে তার মনে একটা (প্রচ্ছন্ন) ভয়ের সৃষ্টি হলো; তারা (ইবরাহীমকে) । বললো, (আমাদের ব্যাপারে) তুমি কোনো রকম ভয় করো না, আমরা প্রেরিত হয়েছি লুতের জাতির প্রতি; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭১﴿
﴾ ১১:৭১ ﴿
وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِنْ وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ ﴿٧١﴾
তার স্ত্রী (সেখানে) দাঁড়িয়ে ছিলো, (এদের কথাবার্তা শুনে) সে হাসলো, অতঃপর আমি তাকে (তার ছেলে) ইসহাক ও তার পরবর্তী (পৌত্র) ইয়াকুবের (জন্মের) সুসংবাদ দিলাম । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭২﴿
﴾ ১১:৭২ ﴿
قَالَتْ يَا وَيْلَتَا أَأَلِدُ وَأَنَا عَجُوزٌ وَهَذَا بَعْلِي شَيْخًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عَجِيبٌ ﴿٧٢﴾
সে (এটা শুনে) বললো, কি আশ্চর্য! আমি সন্তান জন্ম দেবো, আমি তো (এখন) বৃদ্ধা (হয়ে গেছি, ) আর এই (যে) আমার স্বামী, (সেও তো) বৃদ্ধ হয়ে গেছে; (এমন কিছু হলে) এটা (আসলেই হবে) একটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭৩﴿
﴾ ১১:৭৩ ﴿
قَالُوا أَتَعْجَبِينَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ رَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ إِنَّهُ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ﴿٧٣﴾
তারা বললো, তুমি কি আল্লাহর কোনো কাজে বিস্ময়বোধ করছো, (নবীর) পরিবার-পরিজন (হিসেবে) তোমাদের উপর আল্লাহর (বিশেষ) রহমত ও তাঁর অনুগ্রহ রয়েছে; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা প্রচুর প্রশংসা ও বিপুল সম্মানের মালিক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭৪﴿
﴾ ১১:৭৪ ﴿
فَلَمَّا ذَهَبَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الرَّوْعُ وَجَاءَتْهُ الْبُشْرَى يُجَادِلُنَا فِي قَوْمِ لُوطٍ ﴿٧٤﴾
অতঃপর যখন ইবরাহীমের (মন থেকে) ভীতি দুরীভূত হয়ে গেলো এবং (ইতিমধ্যে) তার কাছে (সন্তানের ব্যাপারেও) সুসংবাদ পৌঁছে গেলো, তখন সে লুতের সম্প্রদায়ের (কাছে আযাব না পাঠানোর ব্যাপারে আমার সাথে যুক্তি তর্ক করলো; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭৫﴿
﴾ ১১:৭৫ ﴿
إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَحَلِيمٌ أَوَّاهٌ مُنِيبٌ ﴿٧٥﴾
(আসলে স্বভাবের দিক থেকে) ইবরাহীম ছিলো (ভীষণ) সহনশীল, কোমল হৃদয় ও আল্লাহর প্রতি নিবেদিত । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭৬﴿
﴾ ১১:৭৬ ﴿
يَا إِبْرَاهِيمُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا إِنَّهُ قَدْ جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ وَإِنَّهُمْ آتِيهِمْ عَذَابٌ غَيْرُ مَرْدُودٍ ﴿٧٦﴾
(আমি তাকে বললাম, হে ইবরাহীম, এ (যুক্তিতর্ক) থেকে তুমি বিরত হও, (এদের ব্যাপারে) তোমার মালিকের সিদ্ধান্ত এসে গেছে, (এখন) এদের উপর এমন এক ভয়ানক শাস্তি আসবে, যেটা (কারো পক্ষেই) রোধ করা সম্ভব হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭৭﴿
﴾ ১১:৭৭ ﴿
وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالَ هَذَا يَوْمٌ عَصِيبٌ ﴿٧٧﴾
যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা লুতের কাছে এলো, সে (এদের অকস্মাৎ আগমনে কিছুটা) বিষন্ন হলো, তাদের কারণে তার মনও (কিছুটা) খারাপ হয়ে গেলো এবং সে (নিজে নিজে) বললো, আজকের দিন (দেখছি) সত্যিই বড়ো (কঠিন) বিপদের (দিন) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭৮﴿
﴾ ১১:৭৮ ﴿
وَجَاءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِنْ قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ قَالَ يَا قَوْمِ هَؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِي فِي ضَيْفِي أَلَيْسَ مِنْكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ ﴿٧٨﴾
(এই অপরিচিত লোকদের দেখে) তার জাতির লোকেরা তার কাছে দৌড়ে আসতে লাগলো; আর তারা তো আগে থেকেই কুকর্মে লিপ্ত ছিলো; (তাদের কুমতলব বুঝতে পেরে) সে বললো, হে আমার সম্প্রদায়, এরা হচ্ছে আমার (জাতির) মেয়ে, (বিয়ে ও দৈহিক সম্পর্কের জন্যে) এরাই হচ্ছে তোমাদের জন্যে বেশী পবিত্র, সুতরাং (তোমরা) আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং আমার (এ) মেহমানদের মধ্যে আমাকে তোমরা অপমানিত করো না; তোমাদের মধ্যে (এ কথাগুলো শোনার মতো) একজন ভালো মানুষও কি (অবশিষ্ট) নেই? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৭৯﴿
﴾ ১১:৭৯ ﴿
قَالُوا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنَاتِكَ مِنْ حَقٍّ وَإِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِيدُ ﴿٧٩﴾
তারা বললো, তুমি ভালো করেই (একথাটা) জানো, তোমার (জাতির) মেয়েদের আমাদের কোনোই প্রয়োজন নেই, তুমি জানো, আমরা সত্যিকার অর্থে কি চাই! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮০﴿
﴾ ১১:৮০ ﴿
قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ ﴿٨٠﴾
সে (এদের অশালীন কথাবার্তা শুনে) বললো, (কতো ভালো হতো) যদি আজ তোমাদের উপর আমার কোনো ক্ষমতা চলতো, কিংবা যদি (তোমাদের মোকাবেলায়) আমি কোনো একটি শক্তিশালী সম্ভের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারতাম! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮১﴿
﴾ ১১:৮১ ﴿
قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ يَصِلُوا إِلَيْكَ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ ﴿٨١﴾
(অবস্থা দেখে) তারা বললো, হে নূত (তুমি ভেবো না) , আমরা তো হচ্ছি তোমার মালিকের (পাঠানো) ফেরেশতা, (আমাদের কথা দূরে থাক) এরা তো তোমার কাছেও পৌঁছতে পারবে না, তুমি (বরং এক কাজ করো, ) রাতের কোনো এক প্রহরে তোমার পরিবার-পরিজনসহ (ঘর থেকে) বেরিয়ে পড়ো, তবে তোমাদের কোনো ব্যক্তিই যেন (যাবার সময়) পেছনে ফিরে না তাকায়, কিন্তু তোমার স্ত্রী ব্যতীত; (কেননা) যা কিছু (আযাবের তান্ডব) তাদের (উপর) ঘটবে, তা তার (উপর) -ও ঘটবে; তাদের (উপর আযাব আসার) ক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে সকাল বেলা; সকাল হতে আর কতোই বা দেরী! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮২﴿
﴾ ১১:৮২ ﴿
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ ﴿٨٢﴾
অতঃপর যখন (সত্যিই) আমার (আযাবের নির্ধারিত) হুকুম এলো, তখন আমি সেই জনপদগুলো উল্টিয়ে দিলাম এবং তার উপর ক্রমাগত পাকা মাটির পাথর নিক্ষেপ করতে শুরু করলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮৩﴿
﴾ ১১:৮৩ ﴿
مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ ﴿٨٣﴾
যা (অপরাধী ব্যক্তিদের নাম-ধামসহ) তোমার মালিকের কাছে চিহ্নিত ছিলো, আর (গযবের) এ স্থান তো এ যালেমদের কাছ থেকে দুরেও নয়! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮৪﴿
﴾ ১১:৮৪ ﴿
وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ وَلَا تَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِنِّي أَرَاكُمْ بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُحِيطٍ ﴿٨٤﴾
মাদইয়ান (বাসী) এর কাছে (ছিলো) তাদেরই (এক) ভাই শোয়ায়ব; সে (তাদের) বলেছিলো, হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো মাবুদ নেই; (আর সে মাবুদেরই নির্দেশ হচ্ছে, তোমরা মাপ ও ওযন কখনো কম করো না, আমি তো তোমাদের (অর্থনৈতিকভাবে খুব) ভালো অবস্থায়ই দেখতে পাচ্ছি, (এ সত্ত্বেও এমনটি করলে) আমি কিন্তু তোমাদের জন্যে এক সর্বগ্রাসী দিনের আযাবের আশংকা করছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮৫﴿
﴾ ১১:৮৫ ﴿
وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿٨٥﴾
হে আমার জাতি, তোমরা মাপ ও ওযনের কাজ ইনসাফের সাথে আঞ্জাম দেবে, লোকদের তাদের জিনিসপত্রে (কম দিয়ে তাদের) ক্ষতি করো না, আর যমীনে বিশৃংখলা সৃষ্টি করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮৬﴿
﴾ ১১:৮৬ ﴿
بَقِيَّةُ اللَّهِ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِحَفِيظٍ ﴿٨٦﴾
যদি তোমরা সঠিক অর্থে আল্লাহর উপর ঈমান এনে থাকো, তাহলে জেনে রেখো, ) আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত যে সম্পদ তোমাদের কাছে অবশিষ্ট থাকবে, তাই তোমাদের জন্যে উত্তম (আমার কাজ শুধু তোমাদের বলা) আমি তো তোমাদের উপর পাহারাদার নই । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮৭﴿
﴾ ১১:৮৭ ﴿
قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ ﴿٨٧﴾
তারা বললো, হে শোয়ায়ব, তোমার নামায কি তোমাকে এই আদেশ দেয় যে, আমরা আমাদের দেবতাদের ইবাদাত ছেড়ে দেবো (বিশেষ করে এমন সব দেবতাদের) যাদের ইবাদাত আমাদের পিতৃপুরুষরা করতো, (তোমার নামায কি তোমাকে এ আদেশ দেয় যে, ) আমরা আমাদের ধন-সম্পদ নিয়ে যা করতে চাই তা (আর) করতে পারবো না? (আমরা জানি) নিশ্চয়ই তুমি একজন ধৈর্যশীল নেককার মানুষ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮৮﴿
﴾ ১১:৮৮ ﴿
قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كُنْتُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَرَزَقَنِي مِنْهُ رِزْقًا حَسَنًا وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ ﴿٨٨﴾
সে বললো, হে আমার জাতি, তোমরা কি কখনো (একথা) ভেবে দেখেছো, যদি আমি আমার মালিকের পাঠানো একটি সুস্পষ্ট দলীলের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, অতঃপর তিনি যদি আমাকে তাঁর কাছ থেকে উত্তম রিযিকের ব্যবস্থা করেন; (তাহলে কি আমি তোমাদের তাঁর পথে ডাকবো না?) আমি (কখনো) এটা এরাদা করি না, যে (কথা) থেকে আমি তোমাদের বারণ করি, নিজে (তার বিরুদ্ধে চলে) তোমাদের বিরোধিতা করবো; (আসলে) আমি তো এর বাইরে আর কিছুই চাই না যে, যদুর আমার পক্ষে সম্ভব আমি তোমাদের সংশোধন করে। যাবো; আমার পক্ষে যতোটুকু কাজ আঞ্জাম দেয়া সম্ভব তা তো একান্তভাবে আল্লাহ তায়ালার (সাহায্য) দ্বারাই (সম্ভব) ; আমি তো সম্পূর্ণত তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং (সব ব্যাপারে) আমি তাঁরই দিকে ধাবিত হই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৮৯﴿
﴾ ১১:৮৯ ﴿
وَيَا قَوْمِ لَا يَجْرِمَنَّكُمْ شِقَاقِي أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَ قَوْمَ نُوحٍ أَوْ قَوْمَ هُودٍ أَوْ قَوْمَ صَالِحٍ وَمَا قَوْمُ لُوطٍ مِنْكُمْ بِبَعِيدٍ ﴿٨٩﴾
হে আমার জাতি, আমার বিরুদ্ধে (তোমাদের) জেদ (এবং শক্রতা) যেন তোমাদের জন্যে এমন এক (আযাবজনিত) বিষয়ের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় যে, তোমাদের উপরও সে ধরনের কিছু আপতিত হবে, যেমনটি নুহ কিংবা হুদ অথবা সালেহের জাতির উপর আপতিত হয়েছিলো; আর লুতের সম্প্রদায়ের (পাথর বর্ষণের সে) স্থানটি তো তোমাদের থেকে খুব বেশী দুরেও নয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯০﴿
﴾ ১১:৯০ ﴿
وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ إِنَّ رَبِّي رَحِيمٌ وَدُودٌ ﴿٩٠﴾
তোমরা তোমাদের মালিকের কাছে (নিজেদের গুনাহের জন্যে) ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর (তাওবা করে) তাঁর দিকেই ফিরে এসো; অবশ্যই আমার মালিক পরম দয়ালু ও স্নেহময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯১﴿
﴾ ১১:৯১ ﴿
قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفًا وَلَوْلَا رَهْطُكَ لَرَجَمْنَاكَ وَمَا أَنْتَ عَلَيْنَا بِعَزِيزٍ ﴿٩١﴾
তারা বললো, হে শোয়ায়ব, তুমি যা (ভালো ভালো কথাবার্তা) বলো তার অধিকাংশ কথাই আমাদের (ঠিকমতো) বুঝে আসে না (আসল কথা হচ্ছে, আমরা তোমাকে দেখতে পাচ্ছি, তুমি আমাদের মাঝে খুবই দুর্বল, (আমাদের মাঝে) তোমার (আপন) গোত্রের লোকজন না থাকলে আমরা (অবশ্যই) তোমাকে পাথর নিক্ষেপ (করে হত্যা) করতাম, (তা ছাড়া) তুমি তো আমাদের উপর খুব শক্তিশালীও নও (যে, অতঃপর আমাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারবে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯২﴿
﴾ ১১:৯২ ﴿
قَالَ يَا قَوْمِ أَرَهْطِي أَعَزُّ عَلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَاتَّخَذْتُمُوهُ وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا إِنَّ رَبِّي بِمَا تَعْمَلُونَ مُحِيطٌ ﴿٩٢﴾
সে বললো, হে আমার জাতি, তোমাদের কাছে আমার গোত্রীয় ভাই-বন্ধু কি আল্লাহ তায়ালার চাইতে বেশী প্রভাবশালী (যে, তোমরা ওদের দোহাই দিচ্ছো) ? আল্লাহ তায়ালাকে কি তোমরা তোমাদের পেছনে ফেলে রাখলে? (জেনে রেখো, ) তোমরা (এখন) যা কিছু করছো, আমার মালিকের জ্ঞানের পরিধি দ্বারা তা পরিবেষ্টিত হয়ে আছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯৩﴿
﴾ ১১:৯৩ ﴿
وَيَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَى مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ سَوْفَ تَعْلَمُونَ مَنْ يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَمَنْ هُوَ كَاذِبٌ وَارْتَقِبُوا إِنِّي مَعَكُمْ رَقِيبٌ ﴿٩٣﴾
হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদের জায়গায় যা কিছু করতে চাও করে যাও; আমিও (আমার জায়গায় যা করার) করে যাবো; অচিরেই তোমরা (একথা) জানতে পারবে, কার উপর এমন আযাব আসবে যা তাকে অপমানিত করে ছাড়বে, আর কে মিথ্যাবাদী (তাও তখন জানা যাবে) ; অতএব তোমরা (সেদিনের) প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯৪﴿
﴾ ১১:৯৪ ﴿
وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا شُعَيْبًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَأَخَذَتِ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ ﴿٩٤﴾
পরিশেষে যখন আমার (আযাবের) সিদ্ধান্ত এলো, তখন আমি শোয়ায়বকে এবং তার সাথে যে কয়জন (মানুষ) ঈমান এনেছিলো তাদের সবাইকে আমার নিজস্ব রহমত দ্বারা (প্রলয়ংকরী আযাব থেকে) বাঁচিয়ে দিলাম, অতঃপর যারা (আল্লাহর সাথে) যুলুম করেছে, সেদিন তাদের উপর মহানাদ আঘাত হানলো, ফলে মুহূর্তের মাঝেই তারা নিজেদের ঘরসমুহেই (এদিকে সেদিকে) উপুড় হয়ে পড়ে রইলো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯৫﴿
﴾ ১১:৯৫ ﴿
كَأَنْ لَمْ يَغْنَوْا فِيهَا أَلَا بُعْدًا لِمَدْيَنَ كَمَا بَعِدَتْ ثَمُودُ ﴿٩٥﴾
(অবস্থা এমন হলো) যেন সে জনপদে কখনো তারা কোনো প্রাচুর্যই অর্জন করেনি, শুনে রাখো, এ ধ্বংসই ছিলো মাদইয়ান (বাসী) -এর চুড়ান্ত পরিণাম, (ঠিক) যেমন (ধ্বংসকর) পরিণাম হয়েছিলো (তার পুর্ববর্তী সম্প্রদায়) সামুদের! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯৬﴿
﴾ ১১:৯৬ ﴿
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُبِينٍ ﴿٩٦﴾
আমি মুসাকে তার জাতির কাছে আমার নিদর্শনসমুহ ও (নবুওতের) সুস্পষ্ট দলীলসহ পাঠিয়েছিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯৭﴿
﴾ ১১:৯৭ ﴿
إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَاتَّبَعُوا أَمْرَ فِرْعَوْنَ وَمَا أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيدٍ ﴿٩٧﴾
(তাকে আমি পাঠিয়েছিলাম) ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে, (কিন্তু) তারা (সর্বদা) ফেরাউনের কথাই মেনে চলতো, (অথচ) ফেরাউনের কোনো কাজ (ও কথাই তো) সঠিক ছিলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯৮﴿
﴾ ১১:৯৮ ﴿
يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَوْرَدَهُمُ النَّارَ وَبِئْسَ الْوِرْدُ الْمَوْرُودُ ﴿٩٨﴾
কেয়ামতের দিন সে তার (দন্ডপ্রাপ্ত) জাতির আগে আগে থাকবে, অতঃপর সে তাদের (জাহান্নামের) আগুন পর্যন্ত নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে যাবে; কতো নিকৃষ্ট সে জায়গা, যেখানে তাদের নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে যাবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:৯৯﴿
﴾ ১১:৯৯ ﴿
وَأُتْبِعُوا فِي هَذِهِ لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ بِئْسَ الرِّفْدُ الْمَرْفُودُ ﴿٩٩﴾
এ দুনিয়াতে আল্লাহর অভিশাপ তাদের পেছনে ধাবিত করা হলো, আবার কেয়ামতের দিনও (তারা কঠিন আযাবে নিমজ্জিত হবে) ; কতো নিকৃষ্ট (এ) পুরস্কার, যা (তাদের) সেদিন দেয়া হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০০﴿
﴾ ১১:১০০ ﴿
ذَلِكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْقُرَى نَقُصُّهُ عَلَيْكَ مِنْهَا قَائِمٌ وَحَصِيدٌ ﴿١٠٠﴾
(হে নবী, ) এ হচ্ছে (ধ্বংসপ্রাপ্ত) কতিপয় জনপদের কাহিনী, যা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি, এদের (ধ্বংসাবশেষের) কিছু তো (এখানে সেখানে এখনো) বিদ্যমান আছে, আবার (তার অনেক কিছু কালের গর্ভে) বিলীনও (হয়ে গেছে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০১﴿
﴾ ১১:১০১ ﴿
وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَكِنْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ فَمَا أَغْنَتْ عَنْهُمْ آلِهَتُهُمُ الَّتِي يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ لَمَّا جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ وَمَا زَادُوهُمْ غَيْرَ تَتْبِيبٍ ﴿١٠١﴾
(এ আযাব পাঠিয়ে) আমি (কিন্তু) তাদের উপর যুলুম করিনি, যুলুম তো বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর করেছে, যখন (সত্যি সত্যিই) তোমার মালিকের আযাব তাদের উপর নাযিল হয়েছে, তখন তাদের সে সব দেবতা তাদের কোনো কাজেই আসেনি, যাদের তারা আল্লাহর বদলে ডাকতো, বরং তারা তাদের ধ্বংস ছাড়া অন্য কিছুই বৃদ্ধি করতে পারেনি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০২﴿
﴾ ১১:১০২ ﴿
وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ ﴿١٠٢﴾
(হে নবী, ) তোমার মালিক যখন কোনো জনপদকে তাদের অধিবাসীদের যুলুমের কারণে পাকড়াও করেন, তখন তাঁর পাকড়াও এমনিই হয়; আল্লাহ তায়ালার পাকড়াও অত্যন্ত কঠোর (অত্যন্ত ভয়ংকর) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০৩﴿
﴾ ১১:১০৩ ﴿
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِمَنْ خَافَ عَذَابَ الْآخِرَةِ ذَلِكَ يَوْمٌ مَجْمُوعٌ لَهُ النَّاسُ وَذَلِكَ يَوْمٌ مَشْهُودٌ ﴿١٠٣﴾
এ (কাহিনীগুলো) -র মাঝে তার জন্যে (সত্য জানার প্রচুর) নিদর্শন (মজুদ) রয়েছে, যে ব্যক্তি পরকালের আযাবকে ভয় করে, সেদিন হবে সমস্ত মানুষদের একত্রিত করার দিন, (উপরন্তু) সেটা সবাইকে উপস্থিত করার দিনও বটে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০৪﴿
﴾ ১১:১০৪ ﴿
وَمَا نُؤَخِّرُهُ إِلَّا لِأَجَلٍ مَعْدُودٍ ﴿١٠٤﴾
আমি সে (দিন) -টি একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্যে মুলতবি করে রেখে দিয়েছি; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০৫﴿
﴾ ১১:১০৫ ﴿
يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ ﴿١٠٥﴾
সেদিন যখন (আসবে তখন) কেউ আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো কথা বলবে না, অতঃপর (মানুষরা দু'দলে বিভক্ত হয়ে যাবে, ) তাদের মধ্যে কিছু থাকবে হতভাগ্য আর কিছু থাকবে) ভাগ্যবান।। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০৬﴿
﴾ ১১:১০৬ ﴿
فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُوا فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ ﴿١٠٦﴾
অতঃপর যারা হবে হতভাগ্য পাপী, তারা থাকবে (জাহান্নামের) আগুনে, সেখানে তাদের জন্যে থাকবে (আযাবের ভয়াবহ) চীৎকার ও (যন্তণার ভয়াল) আর্তনাদ, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০৭﴿
﴾ ১১:১০৭ ﴿
خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ ﴿١٠٧﴾
তারা সেখানে থাকবে চিরকাল যতোক্ষণ পর্যন্ত আসমানসমুহ ও যমীন বিদ্যমান থাকবে, তবে হ্যাঁ, তাদের কথা আলাদা যাদের ব্যাপারে তোমার মালিক ভিন্ন কিছু চান; তোমার মালিক যখন যা চান তার বাস্তবায়নে তিনি একক ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০৮﴿
﴾ ১১:১০৮ ﴿
وَأَمَّا الَّذِينَ سُعِدُوا فَفِي الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ عَطَاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ ﴿١٠٨﴾
(অপরদিকে সেদিন) যাদের ভাগ্যবান বানানো হবে তারা থাকবে জান্নাতে, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে, যতোদিন পর্যন্ত আসমানসমুহ ও যমীন বিদ্যমান থাকবে, তবে তার কথা আলাদা যা তোমার মালিক ইচ্ছা করেন; আর এ (জান্নাত) হবে এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার, যা কোনোদিনই শেষ হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১০৯﴿
﴾ ১১:১০৯ ﴿
فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِمَّا يَعْبُدُ هَؤُلَاءِ مَا يَعْبُدُونَ إِلَّا كَمَا يَعْبُدُ آبَاؤُهُمْ مِنْ قَبْلُ وَإِنَّا لَمُوَفُّوهُمْ نَصِيبَهُمْ غَيْرَ مَنْقُوصٍ ﴿١٠٩﴾
সুতরাং (হে নবী) , যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ছাড়া এসব কিছুর গোলামী করে, তাদের (শাস্তির) ব্যাপারে তুমি কখনো সন্দিগ্ধ হয়ো না; (আসলে) ওদের পিতৃপুরুষরা আগে যাদের বন্দেগী করতো, এরাও তাদেরই বন্দেগী করে; আমি এদের (এ জঘন্য অপরাধের) পাওনা পুরোপুরিই আদায় করে দেবো, বিন্দুমাত্রও কম করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১০﴿
﴾ ১১:১১০ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ فَاخْتُلِفَ فِيهِ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مُرِيبٍ ﴿١١٠﴾
(হে নবী, ) আমি মুসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর (বনী ইসরাঈলের তরফ থেকে) তাতেও নানা রকম মতবিরোধ সৃষ্টি করা হয়েছিলো; (আসলে) তোমার মালিকের পক্ষ থেকে এ (বিদ্রোহী) -দের ব্যাপারে যদি আগে থেকেই এ কথার ঘোষণা না করে রাখা হতো যে, এদের বিচার পরকালেই হবে) , তাহলে কবেই এদের ব্যাপারে (দুনিয়ায় গযবের) সিদ্ধান্ত এসে যেতো; (অবশ্যই) এরা এ (গ্রন্থের) ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে নিমজ্জিত আছে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১১﴿
﴾ ১১:১১১ ﴿
وَإِنَّ كُلًّا لَمَّا لَيُوَفِّيَنَّهُمْ رَبُّكَ أَعْمَالَهُمْ إِنَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿١١١﴾
আর তখন তোমার মালিক এদের (সবাইকে) নিজেদের কর্মফলের পুরোপুরি বিনিময় আদায় করে দেবেন; কেননা, এরা যা কিছু করছে তিনি তার সব কিছুই জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১২﴿
﴾ ১১:১১২ ﴿
فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَنْ تَابَ مَعَكَ وَلَا تَطْغَوْا إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿١١٢﴾
অতএব (হে নবী) , তোমাকে যেমনি করে (সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার) আদেশ দেয়া হয়েছে তুমি তাতেই দৃঢ় থাকো, তোমার সাথে আরো যারা (কুফরী থেকে) ফিরে এসেছে তারাও (যেন ঈমানের উপর দৃঢ় থাকে) , তোমরা কখনো সীমালংঘন করো না; এরা যা কিছু করছে, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তার সব কিছু দেখছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১৩﴿
﴾ ১১:১১৩ ﴿
وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ ﴿١١٣﴾
(হে মুসলমানরা, ) তোমরা কখনো তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ো না যারা (ন্যায়ের) সীমালংঘন করেছে, (তেমনটি করলে অবশ্যই) অতঃপর জাহান্নামের আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে, (আর তেমন অবস্থায়) আল্লাহ তায়ালা ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক থাকবে না, এবং (সে সময়) তোমাদের কোনো রকম সাহায্যও করা হবে না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১৪﴿
﴾ ১১:১১৪ ﴿
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ ﴿١١٤﴾
(হে নবী, ) নামায প্রতিষ্ঠা করো দিনের দুপ্রান্তভাগে ও রাতের একভাগে; অবশ্যই (মানুষের) ভালো কাজসমুহ (তাদের) মন্দ কাজসমুহ মিটিয়ে দেয়; এটা হচ্ছে (এক ধরনের) উপদেশ তাদের জন্যে, যারা (আল্লাহর) স্মরণ করে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১৫﴿
﴾ ১১:১১৫ ﴿
وَاصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ ﴿١١٥﴾
তুমি ধৈর্য ধারণ করো, অতঃপর নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা নেককারদের পাওনা কখনো বিনষ্ট করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১৬﴿
﴾ ১১:১১৬ ﴿
فَلَوْلَا كَانَ مِنَ الْقُرُونِ مِنْ قَبْلِكُمْ أُولُو بَقِيَّةٍ يَنْهَوْنَ عَنِ الْفَسَادِ فِي الْأَرْضِ إِلَّا قَلِيلًا مِمَّنْ أَنْجَيْنَا مِنْهُمْ وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوا فِيهِ وَكَانُوا مُجْرِمِينَ ﴿١١٦﴾
তারপর এমনটি কেন হয়নি যে, যেসব উম্মতের লোকেরা তোমাদের আগে অতিবাহিত হয়ে গেছে, (তাদের মধ্যে) অবশিষ্ট (যারা) রয়ে গেছে, তারা (মানুষকে) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করা থেকে নিষেধ করতো, এদের সংখ্যা ছিলো নিতান্ত কম, আমি যাদের আযাব থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলাম, আর যালেমরা তো যে (বৈষয়িক) প্রাচুর্য ছিলো তার পেছনেই পড়ে থেকেছে, তারা ছিলো (আসলেই) অপরাধী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১৭﴿
﴾ ১১:১১৭ ﴿
وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ ﴿١١٧﴾
এটা কখনো তোমার মালিকের কাজ নয় যে, কোনো জনপদকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, (বিশেষ করে) যখন সে জনপদের অধিবাসীরা সংশোধনে নিয়োজিত থাকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১৮﴿
﴾ ১১:১১৮ ﴿
وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ ﴿١١٨﴾
(হে নবী, ) তোমার মালিক চাইলে দুনিয়ার সব মানুষকে তিনি একই উম্মত বানিয়ে দিতে পারতেন (কিন্তু আল্লাহ তায়ালা কারো উপর তার ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চাননি) , এ কারণে তারা হামেশাই নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ করতে থাকবে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১১৯﴿
﴾ ১১:১১৯ ﴿
إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ﴿١١٩﴾
১১৯, তবে তোমার মালিক যার উপর দয়া করেন তার কথা আলাদা; তাদের তো এ জন্যেই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন (যে, তারা সত্য দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, আর তা যখন লংঘিত হবে তখন) তাদের ব্যাপারে তোমার মালিকের ওয়াদাই সত্য হবে, (আর সে ওয়াদা হচ্ছে) ; অবশ্যই আমি জাহান্নামকে জ্বিন ও মানুষ দিয়ে পুর্ণ করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১২০﴿
﴾ ১১:১২০ ﴿
وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ وَجَاءَكَ فِي هَذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿١٢٠﴾
(হে নবী, ) আগের নবীদের কাহিনীগুলো আমি তোমাকে শোনাচ্ছি, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমি এর দ্বারা তোমার মনকে দৃঢ়তা দান করবো, এই সত্যের মাঝে যে শিক্ষা তা এখন তোমার কাছে এসে গেছে; (তা ছাড়া) । ঈমানদারদের জন্যে কিছু শিক্ষণীয় উপদেশ ও সাবধানবাণী (এখানে দেয়া রয়েছে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১২১﴿
﴾ ১১:১২১ ﴿
وَقُلْ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ اعْمَلُوا عَلَى مَكَانَتِكُمْ إِنَّا عَامِلُونَ ﴿١٢١﴾
(এতো কিছু সত্ত্বেও) যারা ঈমান আনে না, তাদের বলো, তোমরা তোমাদের জায়গায় যা (কুফরী কাজ) করার করে যাও, আর আমরাও আমাদের কাজ করে যাবো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১২২﴿
﴾ ১১:১২২ ﴿
وَانْتَظِرُوا إِنَّا مُنْتَظِرُونَ ﴿١٢٢﴾
তোমরা (তোমাদের জাহান্নামের) অপেক্ষা করো, আমরাও (আমাদের জান্নাতের) অপেক্ষা করছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১১:১২৩﴿
﴾ ১১:১২৩ ﴿
وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿١٢٣﴾
আসমানসমুহ ও যমীনের যাবতীয় গায়ব বিষয় আল্লাহ তায়ালার জন্যেই (নিবেদিত) এবং এর সব কয়টি বিষয় তাঁর দিকেই ধাবিত হবে, অতএব (হে নবী) , তুমি তাঁরই ইবাদাত করো এবং (বিপদে-আপদে) একান্তভাবে তাঁর উপরই ভরসা করো; (হে মানুষ, ) তোমরা যা কিছু করছো সে সম্পর্কে তোমার মালিক কিন্তু মোটেই বে-খবর নন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]