🕋
النحل
(১৬) আন্-নাহল
১২৮
﴾১৬:১﴿
﴾ ১৬:১ ﴿
أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿١﴾
(এ বুঝি) আল্লাহ তায়ালার (আযাবের) আদেশ এসে গেলো! অতপর (হে কাফেররা) , এর জন্যে তোমরা (মোটেই) তাড়াহুড়ো করো না; তিনি মহিমান্বিত, এ (যালেম) লোকেরা তাঁর সাথে (অন্যদের) যে (ভাবে) শরীক করে, তিনি তার থেকে অনেক উধের্ব।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২﴿
﴾ ১৬:২ ﴿
يُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ بِالرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ أَنْ أَنْذِرُوا أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاتَّقُونِ ﴿٢﴾
তিনি ওহী দিয়ে তাঁর আদেশবলে তাঁর যে বান্দার উপর চান ফেরেশতাদের পাঠান, মানুষদের সতর্ক করে দাও, আমি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই, অতএব তোমরা আমাকেই ভয় করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩﴿
﴾ ১৬:৩ ﴿
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ تَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿٣﴾
তিনি আসমানসমূহ ও যমীনকে যথাবিধি তৈরী করেছেন; তারা যাদের (তাঁর সাথে) শরীক করে তিনি তার চাইতে অনেক ঊর্বে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪﴿
﴾ ১৬:৪ ﴿
خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُبِينٌ ﴿٤﴾
তিনি (ক্ষুদ্র একটি) শুক্রকণা থেকে (যে) মানুষ তৈরী করেছেন- (আশ্চর্যের ব্যাপার!) সে (এখানে এসে স্বয়ং তার স্রষ্টার সাথেই) প্রকাশ্য বিতর্ককারী বনে গেলো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫﴿
﴾ ১৬:৫ ﴿
وَالْأَنْعَامَ خَلَقَهَا لَكُمْ فِيهَا دِفْءٌ وَمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ ﴿٥﴾
তিনি চতুস্পদ জানোয়ার পয়দা করেছেন, তোমাদের জন্যে ওতে শীত বস্ত্রের উপকরণ (সহ) আরো অনেক ধরনের উপকার রয়েছে, (সর্বোপরি) তাদের কিছু অংশ তোমরা তো আহারও করে থাকো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬﴿
﴾ ১৬:৬ ﴿
وَلَكُمْ فِيهَا جَمَالٌ حِينَ تُرِيحُونَ وَحِينَ تَسْرَحُونَ ﴿٦﴾
তোমরা যখন গোধূলিলগ্নে ওদের ঘরে ফিরিয়ে আনো, আবার প্রভাতে যখন ওদের (চারণভূমিতে) নিয়ে যাও, তখন এর মাঝে তোমাদের জন্যে (নয়নাভিরাম) সৌন্দর্য উপকরণ থাকে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭﴿
﴾ ১৬:৭ ﴿
وَتَحْمِلُ أَثْقَالَكُمْ إِلَى بَلَدٍ لَمْ تَكُونُوا بَالِغِيهِ إِلَّا بِشِقِّ الْأَنْفُسِ إِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ ﴿٧﴾
তোমাদের (পণ্য সামগ্রীর) বোঝাও তারা (এমন দূর-দুরান্তের) শহরে (বন্দরে) নিয়ে যায়, যেখানে প্রাণান্তকর কষ্ট ব্যতিরেকে তোমরা (কোনোদিনই সেসব পণ্য নিয়ে) পৌঁছুতে পারতে না; অবশ্যই তোমাদের মালিক তোমাদের উপর স্নেহপরায়ণ ও পরম দয়ালু,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮﴿
﴾ ১৬:৮ ﴿
وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً وَيَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٨﴾
(তিনি) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা (সৃষ্টি করেছেন) , যাতে তোমরা আরোহণ করো, (এ ছাড়া তাতে) শোভা (বর্ধনের ব্যবস্থাও) রয়েছে; তিনি আরো এমন (অনেক ধরনের জন্তু-জানোয়ার) পয়দা করেছেন, যার (পরিমাণ ও উপযোগিতা) সম্পর্কে তোমরা (এখনও পর্যন্ত) কিছুই জানো না।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯﴿
﴾ ১৬:৯ ﴿
وَعَلَى اللَّهِ قَصْدُ السَّبِيلِ وَمِنْهَا جَائِرٌ وَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٩﴾
আল্লাহ তায়ালার উপরই (নির্ভর করে মানুষদের) সরল পথ নির্দেশ করা, (বিশেষ করে) যেখানে (অন্য পথের মধ্যে) কিছু বাঁকা পথও রয়েছে, তিনি যদি চাইতেন তাহলে তিনি তোমাদের সবাইকেই সরল পথে পরিচালিত করতে পারতেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০﴿
﴾ ১৬:১০ ﴿
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لَكُمْ مِنْهُ شَرَابٌ وَمِنْهُ شَجَرٌ فِيهِ تُسِيمُونَ ﴿١٠﴾
তিনিই আসমান থেকে তোমাদের জন্যে পানি বর্ষণ করেন, তার কিছু অংশ হচ্ছে পান করার আর (কিছু অংশ এমন, সেখানে) তা দ্বারা গাছপালা (জন্মায়) যাতে তোমরা (জন্তু-জানোয়ারদের) প্রতিপালন করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১﴿
﴾ ১৬:১১ ﴿
يُنْبِتُ لَكُمْ بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّيْتُونَ وَالنَّخِيلَ وَالْأَعْنَابَ وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴿١١﴾
সে (পানি) দ্বারা তিনি তোমাদের জন্যে শস্য উৎপাদন করেন- যায়তুন, খেজুর ও আংগুর (সহ) সব ধরনের ফল (জন্মান) , অবশ্যই এর মাঝে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে (অনেক) নিদর্শন রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২﴿
﴾ ১৬:১২ ﴿
وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومُ مُسَخَّرَاتٌ بِأَمْرِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ ﴿١٢﴾
তিনি তোমাদের (সুবিধার) জন্যে রাত, দিন ও চাঁদ সুরুজকে নিয়ন্ত্রিত করে দিয়েছেন; নত্ররাজিও তাঁর আদেশে নিয়ন্ত্রণাধীন (রয়েছে) , অবশ্যই এর মাঝে তাদের জন্যে (প্রচুর) নিদর্শন রয়েছে যারা বোধশক্তিসম্পন্ন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১৩﴿
﴾ ১৬:১৩ ﴿
وَمَا ذَرَأَ لَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُخْتَلِفًا أَلْوَانُهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَذَّكَّرُونَ ﴿١٣﴾
রং বেরংয়ের আরো অনেক বস্তুও (তিনি তোমাদের নিয়ন্তণাধীন করেছেন) , যা পৃথিবীর বুকে তিনি তোমাদের জন্যেই সৃষ্টি করে রেখেছেন; অবশ্যই এসব (কিছুর) মাঝে সেসব জাতির জন্যে নিদর্শন রয়েছে যারা (এসব থেকে) নসীহত গ্রহণ করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১৪﴿
﴾ ১৬:১৪ ﴿
وَهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَأْكُلُوا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُوا مِنْهُ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿١٤﴾
তিনিই সমুদ্রকে (তোমাদের) অধীনস্থ করে দিয়েছেন, যেন তার মধ্য থেকে তোমরা তাজা মাছ খেতে পারো এবং তা থেকে তো তোমরা (মণিমুক্তার) গহনাও আহরণ করো, যা তোমরা পরিধান করো, তোমরা দেখতে পাচ্ছো, কিভাবে ওর বুক চিরে জলযানগুলো এগিয়ে চলে, যেন তোমরা এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ (রিযিক) সন্ধান করতে পারো, (সর্বোপরি) তোমরা যেন তাঁর (নেয়ামতের) কৃতজ্ঞতা আদায় করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১৫﴿
﴾ ১৬:১৫ ﴿
وَأَلْقَى فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَارًا وَسُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٥﴾
তিনিই যমীনের মধ্যে পাহাড়সমূহ রেখে দিয়েছেন, যাতে করে যমীন তোমাদের নিয়ে (এদিক সেদিক) ঢলে না পড়ে, তিনিই নদী ও পথঘাট বানিয়ে দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা (সব জায়গা দিয়ে নিজেদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছুতে পারো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১৬﴿
﴾ ১৬:১৬ ﴿
وَعَلَامَاتٍ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ ﴿١٦﴾
(তিনি তোমাদের জন্যে) বিভিন্ন ধরণের) চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন, (তা ছাড়া) নত্রের (অবস্থান) দ্বারাও তারা পথের দিশা পায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১৭﴿
﴾ ১৬:১৭ ﴿
أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لَا يَخْلُقُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿١٧﴾
অতপর (তোমরাই বলো, ) যিনি (এতো কিছু) সৃষ্টি করেন তিনি কি (করে) তার মতো (হবেন) যে কিছু সৃষ্টিই করতে পারে না; তোমরা কি (এ থেকে) কোনো উপদেশ গ্রহণ করবে না?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১৮﴿
﴾ ১৬:১৮ ﴿
وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٨﴾
তোমরা যদি তোমাদের উপর) আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতগুলো গণনা করতে চাও, তাহলে কখনো তা গণনা। (করে শেষ করতে পারবে না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অসীম ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১৯﴿
﴾ ১৬:১৯ ﴿
وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ ﴿١٩﴾
তোমরা যা কিছু গোপন রাখো আর যা কিছু প্রকাশ করো, আল্লাহ তায়ালা তা সবই জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২০﴿
﴾ ১৬:২০ ﴿
وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا يَخْلُقُونَ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ ﴿٢٠﴾
আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে এরা কার্যসিদ্ধির জন্যে যাদের ডাকে, তারা তো নিজেরা কিছুই পয়দা করতে পারে না, বরং তাদেরই সৃষ্টি করা হয়;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২১﴿
﴾ ১৬:২১ ﴿
أَمْوَاتٌ غَيْرُ أَحْيَاءٍ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ ﴿٢١﴾
সেগুলো তো হচ্ছে (কতিপয়) মৃত (বস্তু) , জীবিত কিছু নয়, (অথচ) তাদের (এটুকুও) বোধ নেই যে, তাদের কখন আবার উঠিয়ে আনা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২২﴿
﴾ ১৬:২২ ﴿
إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ قُلُوبُهُمْ مُنْكِرَةٌ وَهُمْ مُسْتَكْبِرُونَ ﴿٢٢﴾
(হে মানুষ, ) তোমাদের মাবুদ তো একজন (তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই) , অতপর যারা পরকালের উপর ঈমান আনে না তাদের অন্তরসমূহ (এমনিই সত্য) অস্বীকারকারী হয়ে পড়ে এবং এরা নিজেরাও হয় (দারুণ) অহংকারী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২৩﴿
﴾ ১৬:২৩ ﴿
لَا جَرَمَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِينَ ﴿٢٣﴾
নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা জানেন, এরা যা কিছু গোপন করে এবং যা কিছু প্রকাশ করে, তিনি কখনো অহংকারীদের পছন্দ করেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২৪﴿
﴾ ১৬:২৪ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ مَاذَا أَنْزَلَ رَبُّكُمْ قَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ ﴿٢٤﴾
যখন এদের (এ মর্মে) জিজ্ঞেস করা হয়, তোমাদের মালিক কি ধরনের জিনিস নাযিল করলেন, তখন তারা বলে, তা তো আগের কালের উপকথা (ছাড়া আর কিছুই নয়) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২৫﴿
﴾ ১৬:২৫ ﴿
لِيَحْمِلُوا أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِينَ يُضِلُّونَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ ﴿٢٥﴾
ফলে শেষ বিচারের দিন এরা নিজেদের (পাপের) ভার পূর্ণমাত্রায় বহন করবে, (এরা সেদিন) তাদের (পাপের) বোঝাও (বহন করবে) যাদের এরা জ্ঞান (-ভিত্তিক প্রমাণ) ছাড়া গোমরাহ করে দিয়েছিলো; (সেদিন) ওরা যা বহন করবে তা কতো নিকৃষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২৬﴿
﴾ ১৬:২৬ ﴿
قَدْ مَكَرَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَأَتَى اللَّهُ بُنْيَانَهُمْ مِنَ الْقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَيْهِمُ السَّقْفُ مِنْ فَوْقِهِمْ وَأَتَاهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٢٦﴾
এর আগেও (অনেক) মানুষ (দ্বীনের বিরুদ্ধে) চক্রান্ত করেছিলো, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাদের (পরিকল্পনার সমগ্র) ইমারত তার ভিত্তিমূল থেকে নির্মূল করে দিয়েছিলেন, তার পর তাদের (এ চক্রান্তরূপী) ইমারতের ছাদ তাদের উপরই ধসে পড়লো এবং তাদের উপর এমন (বহু) দিক থেকেই আযাব এসে আপতিত হলো, যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২৭﴿
﴾ ১৬:২৭ ﴿
ثُمَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُخْزِيهِمْ وَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنْتُمْ تُشَاقُّونَ فِيهِمْ قَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ إِنَّ الْخِزْيَ الْيَوْمَ وَالسُّوءَ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿٢٧﴾
কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা অতপর ওদের (আরো বেশী পরিমাণে) লাঞ্ছিত করবেন, তিনি (তাদের) জিজ্ঞেস করবেন, কোথায় আমার সেসব শরীক যাদের ব্যাপারে তোমরা মানুষদের সাথে বাকবিতন্ডা করতে? যাদের (সঠিক) জ্ঞান দেয়া হয়েছিলো তারা (সেদিন) বলবে, অবশ্যই যাবতীয় অপমান লাঞ্ছনা ও অকল্যাণ (আজ) কাফেরদের উপরই (আপতিত হবে) ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২৮﴿
﴾ ১৬:২৮ ﴿
الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ فَأَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوءٍ بَلَى إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٢٨﴾
এরা হচ্ছে তারা, ফেরেশতারা (এমন অবস্থায়) যাদের মৃত্যু ঘটায় যখন তারা নিজেদের উপর যুলুম করতে থাকে, অতপর তারা আত্মসমর্পণ করে (এবং বলে) , আমরা তো কোনো মন্দ কাজ করতাম না; (ফেরেশতারা বলবে) হাঁ, তোমরা যা কিছু করতে আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:২৯﴿
﴾ ১৬:২৯ ﴿
فَادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ ﴿٢٩﴾
সুতরাং (আজ) জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে তোমরা (আগুনে) প্রবেশ করো, সেখানে তোমরা চিরদিন থাকবে, অহংকারীদের আবাসস্থল কতো নিকৃষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩০﴿
﴾ ১৬:৩০ ﴿
وَقِيلَ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا مَاذَا أَنْزَلَ رَبُّكُمْ قَالُوا خَيْرًا لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِينَ ﴿٣٠﴾
(অপরদিকে) পরহেযগার ব্যক্তিদের বলা হবে, তোমাদের মালিক (তোমাদের জন্যে) কি নাযিল করেছেন; তারা বলবে, (হাঁ, এ তো হচ্ছে) মহাকল্যাণ; যারা নেক কাজ করে তাদের জন্যে এ দুনিয়ায়ও কল্যাণ রয়েছে, আর। পরকালের ঘর তো হচ্ছে (আরো) উৎকৃষ্ট কল্যাণ; পরহেগার ব্যক্তিদের (এ) আবাস কতো সুন্দর!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩১﴿
﴾ ১৬:৩১ ﴿
جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُونَ كَذَلِكَ يَجْزِي اللَّهُ الْمُتَّقِينَ ﴿٣١﴾
চিরস্থায়ী এক জান্নাত- যাতে তারা প্রবেশ করবে, যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, (উপরন্তু) সেখানে তারা যা কিছুই কামনা করবে তাই তাদের জন্যে (সরবরাহের ব্যবস্থা) থাকবে; এভাবেই আল্লাহ তায়ালা পরহেযগার ব্যক্তিদের (তাদের নেক কাজের প্রতিফল দান করেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩২﴿
﴾ ১৬:৩২ ﴿
الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٣٢﴾
এরা হচ্ছে তারা, ফেরেশতারা যাদের পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু ঘটাবে, তারা (তাদের উদ্দেশে) বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, (দুনিয়ায়) তোমরা যে আমল করতে তারই কারণে আজ তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩৩﴿
﴾ ১৬:৩৩ ﴿
هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ أَمْرُ رَبِّكَ كَذَلِكَ فَعَلَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٣٣﴾
(হে নবী, তুমি কি মনে করো, ) ওরা (শুধু এ জন্যেই) অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে (একদিন) ফেরেশতা নাযিল হবে, কিংবা তোমার মালিকের পক্ষ থেকে কোনো (আযাবের) হুকুম আসবে; এদের আগে যারা এসেছিলো তারা এমনটিই করেছে; (এদের উপর আযাব পাঠিয়ে) আল্লাহ তায়ালা কোনো যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩৪﴿
﴾ ১৬:৩৪ ﴿
فَأَصَابَهُمْ سَيِّئَاتُ مَا عَمِلُوا وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٣٤﴾
অতপর তাদের উপর তাদের (মন্দ) কাজের শাস্তি আপতিত হলো, (এক সময়) সে আযাব তাদের পরিবেষ্টন করে নিলো, যা নিয়ে তারা (হামেশা) ঠাট্টা বিদ্রুপ করে বেড়াতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩৫﴿
﴾ ১৬:৩৫ ﴿
وَقَالَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا عَبَدْنَا مِنْ دُونِهِ مِنْ شَيْءٍ نَحْنُ وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِنْ دُونِهِ مِنْ شَيْءٍ كَذَلِكَ فَعَلَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَهَلْ عَلَى الرُّسُلِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴿٣٥﴾
মুশরিকরা বলে, যদি আল্লাহ তায়ালা চাইতেন তাহলে আমরা তো তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুর ইবাদাত করতাম না- না আমরা, না আমাদের বাপ দাদারা (অন্য কারো ইবাদাত করতো) , আমরা (তাঁর অনুমতি ছাড়া) কোনো জিনিস হারামও করতাম না; একই ধরনের কাজ তাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও করেছে, (আসলে) রসূলদের উপর সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া ছাড়া আর কোনো (অতিরিক্ত) দায়িত্ব কি আছে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩৬﴿
﴾ ১৬:৩৬ ﴿
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ ﴿٣٦﴾
আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছি, যাতে করে (তাদের কাছে সে বলতে পারে, ) তোমরা এক আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করো এবং আল্লাহ তায়ালার বিরোধী শক্তিসমূহকে বর্জন করো, সে জাতির মধ্যে অতপর আল্লাহ তায়ালা কিছু লোককে হেদায়াত দান করেন, আর কতেক লোকের উপর গোমরাহী চেপে বসে গেলো; অতএব তোমরা (আল্লাহর) যমীনে পরিভ্রমণ করো তারপর দেখো, যারা (রসূলদের) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের কি (ভয়াবহ) পরিণাম হয়েছিলো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩৭﴿
﴾ ১৬:৩৭ ﴿
إِنْ تَحْرِصْ عَلَى هُدَاهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ يُضِلُّ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ ﴿٣٧﴾
(হে নবী, ) তুমি এদের হেদায়াতের উপর যতোই আগ্রহ দেখাওনা কেন (এরা কখনো হেদায়াত পাবে না) , কেননা আল্লাহ তায়ালা যাকে গোমরাহ করে দিয়েছেন তাকে তিনি সৎপথে পরিচালিত করবেন না, আর এমন লোকদের (আযাব থেকে বাঁচানোর) জন্যে কোনো সাহায্যকারীও নেই!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩৮﴿
﴾ ১৬:৩৮ ﴿
وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَا يَبْعَثُ اللَّهُ مَنْ يَمُوتُ بَلَى وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٣٨﴾
এরা আল্লাহ তায়ালার নামে শক্ত (ধরনের) শপথ করে বলে, যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে যায় তাকে আল্লাহ তায়ালা কখনো (দ্বিতীয় বার) উঠিয়ে আনবেন না; (হে নবী, তুমি বলো, ) হাঁ, (অবশ্যই এটা) তাঁর সত্য ওয়াদা, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তো জানে না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৩৯﴿
﴾ ১৬:৩৯ ﴿
لِيُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ كَانُوا كَاذِبِينَ ﴿٣٩﴾
(এটা তিনি) এ জন্যে (করবেন) , যে বিষয়ে এরা মতবিরোধ করতো, (কেয়ামতের দিন) তাদের জন্যে তিনি তা স্পষ্ট করে বলে দেবেন এবং যারা (আজ) অস্বীকার করে তারাও (এ কথাটা) জেনে নেবে, তারা সত্যি সত্যিই ছিলো মিথ্যাবাদী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪০﴿
﴾ ১৬:৪০ ﴿
إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ ﴿٤٠﴾
আমি যখনই কোনো কিছু (ঘটাতে) চাই, তখন সে বিষয়ে আমার বলা কেবল এটুকুই হয় যে, 'হও' অতপর তা (সংঘটিত) হয়ে যায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪১﴿
﴾ ১৬:৪১ ﴿
وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا لَنُبَوِّئَنَّهُمْ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَلَأَجْرُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿٤١﴾
(স্মরণ রেখো, ) যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছে (বিশেষ করে ঈমান আনার কারণে) তাদের উপর যুলুম হওয়ার পর, আমি অবশ্যই তাদের এ পৃথিবীতেই উত্তম আশ্রয় দেবো; আর আখেরাতের পুরস্কার- তা তো (এর থেকে) অনেক বেশী শ্রেষ্ঠ। (কতো ভালো হতো) যদি তারা কথাটা জানতো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪২﴿
﴾ ১৬:৪২ ﴿
الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ﴿٤٢﴾
যারা (বিপদে) ধৈর্য ধারণ করে এবং যারা আল্লাহর উপর নির্ভর করে (তাদের জন্যে আখেরাতে অনেক পুরস্কার রয়েছে) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪৩﴿
﴾ ১৬:৪৩ ﴿
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٤٣﴾
(হে নবী, ) আমি তোমার আগেও (এ) মানুষদের মধ্য থেকেই (কিছু ব্যক্তিকে) রসূল বানিয়ে প্রেরণ করেছিযাদের উপর আমি ওহী পাঠিয়েছি, অতএব, যদি তোমরা না জানো তাহলে কিতাবধারীদের জিজ্ঞেস করো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪৪﴿
﴾ ১৬:৪৪ ﴿
بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ﴿٤٤﴾
(এ সব নবীকে) আমি সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ ও কিতাব সহকারে পাঠিয়েছি, (একইভাবে আজ) তোমার কাছেও কিতাব নাযিল করেছি, যাতে করে যে (শিক্ষা) মানুষদের জন্যে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তুমি তা তাদের সুস্পষ্টভাবে বোঝাতে পারো, যেন তারা (নিজেরাও একটু) চিন্তা ভাবনা করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪৫﴿
﴾ ১৬:৪৫ ﴿
أَفَأَمِنَ الَّذِينَ مَكَرُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ يَخْسِفَ اللَّهُ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٤٥﴾
যারা (আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে হীন চক্রান্ত করে, তারা কি এ বিষয়ে নিশ্চিত (ও নিরাপদ) হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তায়ালা (এ জন্যে) তাদের ভূগর্ভে ধসিয়ে দেবেন না, কিংবা এমন কোনো দিক থেকে তাদের উপর আযাব এসে আপতিত হবে না, যা তারা কখনো চিন্তাও করতে পারেনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪৬﴿
﴾ ১৬:৪৬ ﴿
أَوْ يَأْخُذَهُمْ فِي تَقَلُّبِهِمْ فَمَا هُمْ بِمُعْجِزِينَ ﴿٤٦﴾
কিংবা তাদের তিনি (এমন সময়) পাকড়াও করবেন, যখন তারা চলাফেরা করতে থাকবে, এরা কখনোই তাঁকে (তাঁর কোনো কাজে) অক্ষম করে দিতে পারবে না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪৭﴿
﴾ ১৬:৪৭ ﴿
أَوْ يَأْخُذَهُمْ عَلَى تَخَوُّفٍ فَإِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ ﴿٤٧﴾
অথবা (এমন হবে যে, প্রথমে) তিনি তাদের (কিছুদূর) চলার (অবকাশ) দেবেন, অতপর পাকড়াও করবেন, অবশ্যই তোমার মালিক একান্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪৮﴿
﴾ ১৬:৪৮ ﴿
أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى مَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ يَتَفَيَّأُ ظِلَالُهُ عَنِ الْيَمِينِ وَالشَّمَائِلِ سُجَّدًا لِلَّهِ وَهُمْ دَاخِرُونَ ﴿٤٨﴾
এরা কি আল্লাহ তায়ালা যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি লক্ষ করে না যে, তার ছায়া আল্লাহর সামনে সাজদাবনত অবস্থায় (কখনো) ডান দিক থেকে (কখনো) বাঁ দিক থেকে (তাঁরই উদ্দেশে) ঢলে পড়ে, এরা সবাই তাঁর সামনে অক্ষমতা প্রকাশ করে যাচ্ছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৪৯﴿
﴾ ১৬:৪৯ ﴿
وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلَائِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ ﴿٤٩﴾
যা কিছু আছে আসমানসমূহে এবং এ যমীনে বিচরণশীল যা কিছু আছে, আছে যতো ফেরেশতাকুল, তারা সবাই আল্লাহকে সাজদা করে যাচ্ছে, এদের কেউই (নিজেদের) বড়াই (যাহির) করে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫০﴿
﴾ ১৬:৫০ ﴿
يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ﴿٥٠﴾
(উপরন্তু) তারা ভয় করে তাদের মালিককে, যিনি (তাদের উপর) পরাক্রমশালী, তাঁর পক্ষ থেকে তাদের যা আদেশ করা হয় তা তারা (বিনীতভাবে) পালন করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫১﴿
﴾ ১৬:৫১ ﴿
وَقَالَ اللَّهُ لَا تَتَّخِذُوا إِلَهَيْنِ اثْنَيْنِ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ ﴿٥١﴾
(হে মানুষ, ) আল্লাহ তায়ালা বলছেন, তোমরা (আনুগত্যের জন্যে) দু'জন মাবুদ গ্রহণ করো না, মাবুদ তো শুধু একজন, সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫২﴿
﴾ ১৬:৫২ ﴿
وَلَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَهُ الدِّينُ وَاصِبًا أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَتَّقُونَ ﴿٥٢﴾
আকাশমন্ডলী ও যমীনের (যেখানে) যা কিছু আছে তা সবই তাঁর জন্যে, জীবন বিধানকে তাঁর অনুগত করে দেয়াই কর্তব্য; (এরপরও কি) তোমরা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫৩﴿
﴾ ১৬:৫৩ ﴿
وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ ﴿٥٣﴾
নেয়ামতের যা কিছু তোমাদের কাছে আছে তা তো আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকেই এসেছে। অতপর তোমাদের যদি কোনো দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন (তা দূর করার জন্যে) তাঁকেই তোমরা বিনীতভাবে ডাকতে শুরু করো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫৪﴿
﴾ ১৬:৫৪ ﴿
ثُمَّ إِذَا كَشَفَ الضُّرَّ عَنْكُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْكُمْ بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ ﴿٥٤﴾
অতপর আল্লাহ তায়ালা যখন তা দূরীভূত করে দেন, তখন তোমাদেরই এক দল লোক তাদের মালিকের সাথে অন্যদের শরীক বানিয়ে নেয়,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫৫﴿
﴾ ১৬:৫৫ ﴿
لِيَكْفُرُوا بِمَا آتَيْنَاهُمْ فَتَمَتَّعُوا فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٥٥﴾
যাতে করে আমি তাদের যা (নেয়ামত) দান করেছি তারা তা অস্বীকার করতে পারে; সুতরাং (কিছুদিনের জন্যে এ জীবনটা) তোমরা ভোগ করে নাও, অচিরেই তোমরা (এ অকৃতজ্ঞতার পরিণাম) জানতে পারবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫৬﴿
﴾ ১৬:৫৬ ﴿
وَيَجْعَلُونَ لِمَا لَا يَعْلَمُونَ نَصِيبًا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ تَاللَّهَ لَتُسْأَلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَفْتَرُونَ ﴿٥٦﴾
আমি ওদের যা কিছু রিযিক দান করেছি তার একাংশকে ওরা এমন সবার জন্যে নির্ধারণ করে নেয়; যারা (মূলত) জানেও না (রিযিকের উৎসমূল কোথায়?) আল্লাহ তায়ালার শপথ, তোমরা (তাঁর সম্পর্কে ) যে মিথ্যা অপবাদ দিতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের প্রশ্ন করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫৭﴿
﴾ ১৬:৫৭ ﴿
وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ الْبَنَاتِ سُبْحَانَهُ وَلَهُمْ مَا يَشْتَهُونَ ﴿٥٧﴾
এ (মুশরিক) ব্যক্তিরা কন্যা সন্তানদের আল্লাহর জন্যে নির্ধারণ করে, (অথচ) আল্লাহ তায়ালা এসব (কিছু) থেকে অনেক পবিত্র, মহিমান্বিত, ওরা নিজেদের জন্যে তাই কামনা করে যা তারা পছন্দ করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫৮﴿
﴾ ১৬:৫৮ ﴿
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ ﴿٥٨﴾
অথচ যখন এদের কাউকে কন্যা (জন্ম) হওয়ার সুখবর দেয়া হয়, তখন (দুঃখে ব্যথায়) তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৫৯﴿
﴾ ১৬:৫৯ ﴿
يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿٥٩﴾
যে বিষয়ে তাকে সুসংবাদ দেয়া হয়েছিলো তার মনের কষ্টের কারণে সে (তার) জাতির লোকদের কাছ থেকে আত্মগোপন করে থাকতে চায় (ভাবতে থাকে) ; সে কি এ (সদ্যপ্রসূত কন্যা সন্তান) -কে অপমানের সাথে রাখবে, না তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে? ভালোভাবে শুনে রাখো, (আসলে কন্যা সন্তান সম্পর্কে ) ওরা যা সিদ্ধান্ত করে তা অতি নিকৃষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬০﴿
﴾ ১৬:৬০ ﴿
لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٦٠﴾
(বস্তুত) যারা আখেরাত দিবসের উপর ঈমান আনে না, তাদের জন্যে এ ধরনের নিকৃষ্ট পরিণামই রয়েছে, আর আল্লাহ তায়ালার জন্যেই সর্বশ্রেষ্ঠ পরিণাম, তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রবল প্রজ্ঞাময়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬১﴿
﴾ ১৬:৬১ ﴿
وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِمْ مَا تَرَكَ عَلَيْهَا مِنْ دَابَّةٍ وَلَكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ ﴿٦١﴾
আল্লাহ তায়ালা মানুষদের তাদের নাফরমানীর জন্যে যদি (সাথে সাথেই) পাকড়াও করতেন, তাহলে এ (যমীনের) বুকে কোনো (একটি বিচরণশীল) জীবকেই তিনি ছেড়ে দিতেন না, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাদের এক বিশেষ সময়সীমা পর্যন্ত অবকাশ দেন, অতপর যখন (অবকাশের) সে সময় তাদের সামনে এসে হাযির হয়, তখন তারা (যেমন) মুহূর্তকালও বিলম্ব করতে পারে না, (তেমন) তাকে তারা একটুখানি এগিয়েও আনতে পারে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬২﴿
﴾ ১৬:৬২ ﴿
وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ مَا يَكْرَهُونَ وَتَصِفُ أَلْسِنَتُهُمُ الْكَذِبَ أَنَّ لَهُمُ الْحُسْنَى لَا جَرَمَ أَنَّ لَهُمُ النَّارَ وَأَنَّهُمْ مُفْرَطُونَ ﴿٦٢﴾
এরা আল্লাহ তায়ালার জন্যে সে বিষয়টি প্রস্তাব করে যা স্বয়ং তারা (নিজেদের জন্যেও) পছন্দ করে না, তাদের জিহ্বা তাদের জন্যে মিথ্যা কথা বলে যে, (পরকালে) তাদের জন্যেই সব কল্যাণ রয়েছে; (অথচ) তাদের জন্যে সেখানে থাকবে (জাহান্নামের) আগুন এবং তারাই (সেখানে) সবার আগে নিক্ষিপ্ত হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬৩﴿
﴾ ১৬:৬৩ ﴿
تَاللَّهِ لَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِنْ قَبْلِكَ فَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَهُوَ وَلِيُّهُمُ الْيَوْمَ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٦٣﴾
(হে নবী, ) আল্লাহর শপথ, তোমার আগেও আমি জাতিসমূহের কাছে নবী পাঠিয়েছিলাম, অতপর শয়তান। তাদের (খারাপ) কাজসমূহ তাদের জন্যে শোভনীয় করে দিয়েছিলো, সে (শয়তান) আজো তাদের বন্ধু হিসেবেই (হাযির) আছে, তাদের (সবার) জন্যেই রয়েছে কঠোর আযাব।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬৪﴿
﴾ ১৬:৬৪ ﴿
وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٦٤﴾
(হে নবী, ) আমি তোমার উপর (এ) কিতাব এ জন্যেই নাযিল করেছি যেন তুমি তাদের সামনে সে বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট করে পেশ করতে পারো, (যে বিষয়ের মধ্যে) তারা মতবিরোধ করেছে, বস্তুত এ (কিতাব) হচ্ছে ঈমানদার লোকদের জন্যে হেদায়াত ও (আল্লাহ তায়ালার) অনুগ্রহস্বরূপ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬৫﴿
﴾ ১৬:৬৫ ﴿
وَاللَّهُ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَسْمَعُونَ ﴿٦٥﴾
আল্লাহ তায়ালা আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতপর (একবার) মুর্দা হয়ে যাওয়ার পর সে পানি দিয়ে তিনি যমীনকে জীবিত করে তোলেন; অবশ্যই এতে (আল্লাহর কুদরতের) বহু নিদর্শন রয়েছে সে জাতির জন্যে, যারা (আল্লাহর কথা কান দিয়ে) শোনে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬৬﴿
﴾ ১৬:৬৬ ﴿
وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً نُسْقِيكُمْ مِمَّا فِي بُطُونِهِ مِنْ بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَبَنًا خَالِصًا سَائِغًا لِلشَّارِبِينَ ﴿٦٦﴾
অবশ্যই তোমাদের জন্যে গৃহপালিত জন্তু জানোয়ারের মাঝে (প্রচুর) শিক্ষার বিষয় রয়েছে, তাদের উদরস্থিত (দুর্গন্ধময়) গোবর ও (নাপাক) রক্তের মধ্য থেকে নিসৃত (পানীয়) খাঁটি দুধ আমিই তোমাদের পান করাই, পানকারীদের জন্যে (এটি) বিশুদ্ধ ও সুস্বাদু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬৭﴿
﴾ ১৬:৬৭ ﴿
وَمِنْ ثَمَرَاتِ النَّخِيلِ وَالْأَعْنَابِ تَتَّخِذُونَ مِنْهُ سَكَرًا وَرِزْقًا حَسَنًا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ ﴿٦٧﴾
খেজুর এবং আংগুর ফলের মধ্যেও (শিণীয় বিষয় রয়েছে) , তা থেকে তোমরা নেশাকর (হারাম) জিনিস যেমন বের করে আনছো, তেমনি (তা থেকে হালাল এবং) উত্তম রিযিকও তোমরা লাভ করছো, নিসন্দেহে এতে (আল্লাহর কুদরতের) অনেক নিদর্শন আছে তাদের জন্যে, যারা জ্ঞানসম্পন্ন সম্প্রদায়ের লোক।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬৮﴿
﴾ ১৬:৬৮ ﴿
وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ ﴿٦٨﴾
তোমার মালিক মৌমাছিকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, পাহাড়ের (গায়ে) গাছে (-র ডালে) এবং (অন্য কিছুর উপর) যা তোমরা বানাও তার উপর নিজেদের থাকার ঘর নির্মাণ করো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৬৯﴿
﴾ ১৬:৬৯ ﴿
ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴿٦٩﴾
তারপর প্রত্যেক ফল থেকে (রস আহরণ করে তা) খেতে থাকো, অতপর তোমার মালিকের (নির্ধারিত) পথ ধরে পূর্ণ আনুগত্যের সাথে (সেদিকে) এগিয়ে চলো; (এভাবে) তার পেট থেকে রং বেরঙের পানীয় (দ্রব্য) বের হয়, যার মধ্যে মানুষদের নিরাময়ের ব্যবস্থা রয়েছে; (অবশ্য) এতেও নিদর্শন রয়েছে সে সম্প্রদায়ের জন্যে, যারা (আল্লাহর এ সৃষ্টি বৈচিত্র্য নিয়ে) চি ন্তা করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭০﴿
﴾ ১৬:৭০ ﴿
وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ ثُمَّ يَتَوَفَّاكُمْ وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْ لَا يَعْلَمَ بَعْدَ عِلْمٍ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ قَدِيرٌ ﴿٧٠﴾
আল্লাহ তায়ালাই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনিই তোমাদের মৃত্যু দেবেন। তোমাদের কোনো ব্যক্তি (এমনও হবে যে, সে) বৃদ্ধ বয়সের দুর্বলতম স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, এতে করে (কৈশোরে এবং যৌবনে কোনো বিষয়ে) জানার পর সে (পুনরায়) অজ্ঞ হয়ে যাবে, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই সর্বজ্ঞ, (তিনিই) সর্বশক্তিমান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭১﴿
﴾ ১৬:৭১ ﴿
وَاللَّهُ فَضَّلَ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِي الرِّزْقِ فَمَا الَّذِينَ فُضِّلُوا بِرَادِّي رِزْقِهِمْ عَلَى مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَهُمْ فِيهِ سَوَاءٌ أَفَبِنِعْمَةِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ ﴿٧١﴾
আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কাউকে কারো উপর রিযিকের ব্যাপারে প্রাধান্য দিয়ে রেখেছেন, অতপর যাদের (এ ব্যাপারে) শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে তারা (আবার) তাদের অধীনস্থ দাস দাসীদের নিজেদের সামগ্রী থেকে কিছুই দিতে চায় না, (তাদের আশংকা হচ্ছে, এমনটি করলে) এ ব্যাপারে তারা উভয়েই সমান (পর্যায়ের) হয়ে যাবে; তবে কি এরা আল্লাহর এ নেয়ামত অস্বীকার করে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭২﴿
﴾ ১৬:৭২ ﴿
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَنِينَ وَحَفَدَةً وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ أَفَبِالْبَاطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَةِ اللَّهِ هُمْ يَكْفُرُونَ ﴿٧٢﴾
আল্লাহ তায়ালাই তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জোড় পয়দা করেছেন এবং তোমাদের এ যুগল (দম্পতি) । থেকে তিনি তোমাদের পুত্র পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের উত্তম রিযিক দান করেছেন; তারপরও কি এরা বাতিলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে আর আল্লাহর নেয়ামত অবিশ্বাস করবে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭৩﴿
﴾ ১৬:৭৩ ﴿
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَهُمْ رِزْقًا مِنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ شَيْئًا وَلَا يَسْتَطِيعُونَ ﴿٧٣﴾
এবং এরা কি আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে তাদের (বানানো মাবুদদের) গোলামী করবে, যাদের আকাশমন্ডলী ও যমীনের (কোথাও) থেকে কোনো প্রকারের রিযিক সরবরাহ করার কোনো ক্ষমতা নেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭৪﴿
﴾ ১৬:৭৪ ﴿
فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٧٤﴾
সুতরাং (হে মানুষ, ) তোমরা আল্লাহ তায়ালার কোনো সদৃশ দাঁড় করিয়োনা, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) জানেন, তোমরা কিছুই জানো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭৫﴿
﴾ ১৬:৭৫ ﴿
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا عَبْدًا مَمْلُوكًا لَا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ وَمَنْ رَزَقْنَاهُ مِنَّا رِزْقًا حَسَنًا فَهُوَ يُنْفِقُ مِنْهُ سِرًّا وَجَهْرًا هَلْ يَسْتَوُونَ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٧٥﴾
আল্লাহ তায়ালা (এখানে অপরের) অধিকারভুক্ত একটি দাসের উদাহরণ দিচ্ছেন, যে (নিজে থেকে) কোনো কিছুই করার মতা রাখে না- (উদাহরণ দিচ্ছেন) এমন ব্যক্তির (সাথে) , যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিযিক দান করেছি এবং সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে চলেছে; (তোমরা কি মনে করো) এরা উভয়েই সমান? (না কখনো নয়, ) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্যে; কিন্তু এদের অধিকাংশ মানুষই কিছু জানে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭৬﴿
﴾ ১৬:৭৬ ﴿
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا أَبْكَمُ لَا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ وَهُوَ كَلٌّ عَلَى مَوْلَاهُ أَيْنَمَا يُوَجِّهْهُ لَا يَأْتِ بِخَيْرٍ هَلْ يَسْتَوِي هُوَ وَمَنْ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَهُوَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٧٦﴾
আল্লাহ তায়ালা আরো দু'জন মানুষের উদাহরণ দিচ্ছেন, তাদের একজন হচ্ছে মূখ- সে কোনো কিছুই নিজে থেকে করতে (বা বলতে) পারে না, সে (সব সময়) নিজের মনিবের উপর বোঝা হয়ে থাকে, যেখানেই তাকে সে পাঠায় না কেন, সে কোনো ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারে না; এ (অক্ষম) ব্যক্তিটি কি সমান হতে পারে সে ব্যক্তির, যে (নিজে মুখ তো নয় বরং) সে অন্য মানুষদের ন্যায় কাজের আদেশ দিতে সক্ষম, (সর্বোপরি) যে ব্যক্তি সহজ সরল পথের উপর আছে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭৭﴿
﴾ ১৬:৭৭ ﴿
وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٧٧﴾
আসমানসমূহ ও যমীনের যাবতীয় গায়েব (সংক্রান্ত জ্ঞান) একমাত্র আল্লাহর জন্যেই (নির্দিষ্ট রয়েছে) , কেয়ামতের ব্যাপারটি তো (তাঁর কাছে) চোখের পলকের চাইতে (বেশী) কিছু নয়, বরং তা তার চাইতেও নিকটবর্তী; আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই সর্ববিষয়ের উপর শক্তিমান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭৮﴿
﴾ ১৬:৭৮ ﴿
وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٧٨﴾
আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মায়ের পেট থেকে (এমন এক অবস্থায়) বের করে এনেছেন যে, তোমরা (তার) কিছুই জানতে না, অতপর তিনি তোমাদের কান, চোখ ও দিল দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা শোকর আদায় করতে পারো।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৭৯﴿
﴾ ১৬:৭৯ ﴿
أَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ مُسَخَّرَاتٍ فِي جَوِّ السَّمَاءِ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٧٩﴾
এরা কি পাখীটির দিকে তাকিয়ে দেখে না? যে আকাশের শূন্যগর্ভে (সহজে) বিচরণ করছে, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া এমন কে আছে যিনি এদের (শূন্যের মাঝে) স্থির করে ধরে রাখেন, অবশ্যই এ (ব্যবস্থাপনার) মাঝে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮০﴿
﴾ ১৬:৮০ ﴿
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ سَكَنًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ جُلُودِ الْأَنْعَامِ بُيُوتًا تَسْتَخِفُّونَهَا يَوْمَ ظَعْنِكُمْ وَيَوْمَ إِقَامَتِكُمْ وَمِنْ أَصْوَافِهَا وَأَوْبَارِهَا وَأَشْعَارِهَا أَثَاثًا وَمَتَاعًا إِلَى حِينٍ ﴿٨٠﴾
আল্লাহ তায়ালাই তোমাদের জন্যে তোমাদের ঘরগুলোকে (শান্তির নীড় বানিয়েছেন, তিনিই তোমাদের জন্য পশুর চামড়া দিয়ে (তাঁবুর হালকা) ঘর বানাবার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে তোমরা ভ্রমণের দিনে তা সহজভাবে (বহন) করে নিতে পারো, আবার কোথাও অবস্থান নেয়ার সময়ও (তা ব্যবহার করতে পারো) , ওদের পশম, ওদের ললাম, ওদের কেশ থেকে তিনি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যে তোমাদের অনেক ব্যবহার (উপযোগী) সামগ্রী বানাবার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮১﴿
﴾ ১৬:৮১ ﴿
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِمَّا خَلَقَ ظِلَالًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنَ الْجِبَالِ أَكْنَانًا وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُمْ بَأْسَكُمْ كَذَلِكَ يُتِمُّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُونَ ﴿٨١﴾
আল্লাহ তায়ালা যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা থেকে তিনি তোমাদের জন্যে ছায়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, তিনিই তোমাদের জন্যে পাহাড়ের মাঝে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন, তিনি (আরো) ব্যবস্থা করেছেন তোমাদের জন্যে। পরিধেয় বস্ত্রের, যা তোমাদের (প্রচন্ড) তাপ থেকে রক্ষা করে, (আরো) ব্যবস্থা করেছেন (এমন) পরিধেয়সমূহের যা তোমাদেরকে তোমাদের সমস্যা সংকট থেকে বাঁচিয়ে রাখে; এভাবেই তিনি তোমাদের উপর তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দেন, যাতে করে তোমরা তাঁর অনুগত (বান্দা) হতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮২﴿
﴾ ১৬:৮২ ﴿
فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴿٨٢﴾
যদি তারা (সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে (তুমি জেনে রেখো, তাদের কাছে) সুস্পষ্ট বক্তব্য পৌঁছে দেয়াই হচ্ছে তোমার একমাত্র দায়িত্ব।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮৩﴿
﴾ ১৬:৮৩ ﴿
يَعْرِفُونَ نِعْمَةَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ ﴿٨٣﴾
এ (সব) লোকেরা আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত ভালো করেই চেনে, অতপর তারা তা অস্বীকার করে, (আসলে) ওদের অধিকাংশ (মানুষ) -ই হচ্ছে অকৃতজ্ঞ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮৪﴿
﴾ ১৬:৮৪ ﴿
وَيَوْمَ نَبْعَثُ مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا ثُمَّ لَا يُؤْذَنُ لِلَّذِينَ كَفَرُوا وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُونَ ﴿٨٤﴾
(স্মরণ করো, ) যেদিন আমি প্রতিটি সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে এক একজন সাক্ষী উঠিয়ে আনবো, অতপর কাফেরদের কোনো রকম (কৈফিয়ত দেয়ার) অনুমতি দেয়া হবে না- না তাদের (সেদিন) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে কোনো সুযোগ দেয়া হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮৫﴿
﴾ ১৬:৮৫ ﴿
وَإِذَا رَأَى الَّذِينَ ظَلَمُوا الْعَذَابَ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ وَلَا هُمْ يُنْظَرُونَ ﴿٨٥﴾
(সেদিন) যখন যালেমরা আযাব দেখতে পাবে (তখন চীৎকার করে তা থেকে বাঁচার চেষ্টা করবে) , কিন্তু (কোনো চীৎকারেই) তাদের উপর থেকে শাস্তি লঘু করা হবে না, না (এ ব্যাপারে) তাদের কোনোরকম অবকাশ দেয়া হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮৬﴿
﴾ ১৬:৮৬ ﴿
وَإِذَا رَأَى الَّذِينَ أَشْرَكُوا شُرَكَاءَهُمْ قَالُوا رَبَّنَا هَؤُلَاءِ شُرَكَاؤُنَا الَّذِينَ كُنَّا نَدْعُوا مِنْ دُونِكَ فَأَلْقَوْا إِلَيْهِمُ الْقَوْلَ إِنَّكُمْ لَكَاذِبُونَ ﴿٨٦﴾
মুশরিক ব্যক্তিরা যাদের আল্লাহর সাথে শরীক করেছিলো, (সেদিন) যখন তারা সেসব লোকদের দেখবে, তখন বলবে, হে আমাদের মালিক, এরাই তো আমাদের সেসব শরিক লোক- যাদের আমরা তোমার বদলে ডাকতাম, অতপর সে (শরীক কিংবা মুশরিক) ব্যক্তিরা উল্টো তাদের উপরই অভিযোগ নিক্ষেপ করে বলবে, , (আসলে) তোমরাই হচ্ছে মিথ্যাবাদী,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮৭﴿
﴾ ১৬:৮৭ ﴿
وَأَلْقَوْا إِلَى اللَّهِ يَوْمَئِذٍ السَّلَمَ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ ﴿٨٧﴾
তখন এ (মুশরিক) ব্যক্তিরা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে, যা কিছু কথা তারা উদ্ভাবন করতো (সেদিন) তা নিষ্ফল হয়ে যাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮৮﴿
﴾ ১৬:৮৮ ﴿
الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ زِدْنَاهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوا يُفْسِدُونَ ﴿٨٨﴾
যারা কুফরী করেছে এবং (অন্য মানুষদেরও) আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিয়েছে, আমি (সেদিন) তাদের আযাবের উপর আযাব বৃদ্ধি করবো, এটা হচ্ছে তাদের (সেই) অশান্তি ও ফাসাদের শাস্তি, যা তারা (দুনিয়ায়) করে এসেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৮৯﴿
﴾ ১৬:৮৯ ﴿
وَيَوْمَ نَبْعَثُ فِي كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا عَلَيْهِمْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِيدًا عَلَى هَؤُلَاءِ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ ﴿٨٩﴾
(সেদিনের কথাও স্মরণ করো, ) যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বয়ং তাদেরই মধ্য থেকে তাদের উপর একজন সাক্ষী উত্থিত করবো এবং এ লোকদের উপর আমি তোমাকেও সাক্ষীরূপে নিয়ে আসবো; আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি, মুসলমানদের জন্যে এ কিতাব হচ্ছে (দ্বীন সম্পর্কিত) সব কিছুর ব্যাখ্যা, (আল্লাহর) হেদায়াত ও মুসলমানদের জন্যে (জান্নাতের) সুসংবাদস্বরূপ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯০﴿
﴾ ১৬:৯০ ﴿
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿٩٠﴾
অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্তীয় স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজকর্ম ও সীমালংঘনজনিত সব কাজ থেকে নিষেধ করেন, তিনি তোমাদের (এগুলো মেনে চলার) উপদেশ দেন, যাতে করে তোমরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯১﴿
﴾ ১৬:৯১ ﴿
وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلَا تَنْقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ ﴿٩١﴾
যখন তোমরা (নিজেদের মধ্যে) আল্লাহর নামে কোনো অংগীকার করো, তখন তা পূর্ণ করো এবং (একবার) এ (শপথ) -কে পাকাপোক্ত করে নেয়ার পর তা ভংগ করো না, কেননা (এ শপথের জন্যে) তোমরা আল্লাহকে। অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা জানেন তোমরা (কখন কোথায়) কি করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯২﴿
﴾ ১৬:৯২ ﴿
وَلَا تَكُونُوا كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ أَنْكَاثًا تَتَّخِذُونَ أَيْمَانَكُمْ دَخَلًا بَيْنَكُمْ أَنْ تَكُونَ أُمَّةٌ هِيَ أَرْبَى مِنْ أُمَّةٍ إِنَّمَا يَبْلُوكُمُ اللَّهُ بِهِ وَلَيُبَيِّنَنَّ لَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ﴿٩٢﴾
তোমরা কখনো সেই নারীর মতো হয়ো না, যে অনেক পরিশ্রম করে নিজের (জন্যে কিছু) সুতা কাটলো, কিন্তু পরে তা (নিজেই) টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেললো; তোমরা তো তোমাদের পারস্পরিক ব্যাপারে (নিজেদের) । শপথগুলো ধােকা প্রবঞ্চনার উদ্দেশে ব্যবহার করো, যাতে করে তোমাদের) এক দল আরেক দল থেকে অগ্রগামী হয়ে যেতে পারে; (আসলে) আল্লাহ তায়ালা এ বিষয়টি দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা নেন মাত্র; (তা ছাড়া) তোমরা যেসব বিষয়ে মতবিরোধ করছো, কেয়ামতের দিন অবশ্যই তিনি তা (সবার সামনে) প্রকাশ করে দেবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯৩﴿
﴾ ১৬:৯৩ ﴿
وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَلَتُسْأَلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٩٣﴾
আল্লাহ তায়ালা যদি চাইতেন তাহলে তোমাদের সবাইকে এক জাতি বানিয়ে দিতে পারতেন, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে বিভ্রান্ত করেন আবার যাকে ইচ্ছা তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন; তোমরা কি করতে সে সম্পর্কে তোমাদের অবশ্যই প্রশ্ন করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯৪﴿
﴾ ১৬:৯৪ ﴿
وَلَا تَتَّخِذُوا أَيْمَانَكُمْ دَخَلًا بَيْنَكُمْ فَتَزِلَّ قَدَمٌ بَعْدَ ثُبُوتِهَا وَتَذُوقُوا السُّوءَ بِمَا صَدَدْتُمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَلَكُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿٩٤﴾
তোমরা তোমাদের শপথগুলো পরস্পরকে প্রবঞ্চনা করার উদ্দেশে গ্রহণ করো না, (এমন করলে মানুষের) পা একবার স্থির হওয়ার পর পুনরায় পিছলে পড়ে যাবে এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষদের বাধা দেয়ার কারণে (এ। দুনিয়ায়ও) তোমাদের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, আর (আখেরাতেও) তোমাদের জন্যে থাকবে কঠোর আযাব।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯৫﴿
﴾ ১৬:৯৫ ﴿
وَلَا تَشْتَرُوا بِعَهْدِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا إِنَّمَا عِنْدَ اللَّهِ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٩٥﴾
তোমরা আল্লাহর (নামে) অংগীকারকে (দুনিয়ার) সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়ো না; (সততা ও বিশ্বস্ততার পুরস্কার) যা আল্লাহর কাছে আছে তা তোমাদের জন্যে অনেক উত্তম, যদি তোমরা জানতে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯৬﴿
﴾ ১৬:৯৬ ﴿
مَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ بَاقٍ وَلَنَجْزِيَنَّ الَّذِينَ صَبَرُوا أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٩٦﴾
যা কিছু (সহায় সম্পদ) তোমাদের কাছে আছে তা (একদিন) নিশেষ হয়ে যাবে, অপরদিকে আল্লাহর কাছে (এর) যা (বিনিময়) আছে তা (হামেশাই) বাকী থাকবে; (সে আশায়) যারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং (ভালো কাজ) করেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাদের (সেসব) কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯৭﴿
﴾ ১৬:৯৭ ﴿
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٩٧﴾
(তোমাদের) পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যে ব্যক্তিই কোনো নেক কাজ করবে এমতাবস্থায় যে, সে হবে যথার্থ মু’মিন, তাহলে অবশ্যই তাকে আমি দুনিয়ার বুকে পবিত্র জীবন যাপন করাবো এবং আখেরাতের জীবনেও তাদের (দুনিয়ার) জীবনের কার্যক্রমের অবশ্যই উত্তম বিনিময় দান করবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯৮﴿
﴾ ১৬:৯৮ ﴿
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ﴿٩٨﴾
অতপর তোমরা যখন কোরআন পড়তে শুরু করবে তখন বিতাড়িত শয়তানের (ওয়াসওয়াসা) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:৯৯﴿
﴾ ১৬:৯৯ ﴿
إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ﴿٩٩﴾
যারা (আল্লাহর উপর) ঈমান আনে এবং (যাবতীয় কার্যকলাপে) তাদের মালিকের উপর ভরসা করে, তাদের উপর (শয়তানের) কোনোই আধিপত্য নেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০০﴿
﴾ ১৬:১০০ ﴿
إِنَّمَا سُلْطَانُهُ عَلَى الَّذِينَ يَتَوَلَّوْنَهُ وَالَّذِينَ هُمْ بِهِ مُشْرِكُونَ ﴿١٠٠﴾
তার সব আধিপত্য তো তাদের উপরই (চলে) , যারা তাকে বন্ধু (ও অভিভাবক) হিসেবে গ্রহণ করেছে, (উপরন্তু) যারা তাঁর (আল্লাহর) সাথে শরীক করেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০১﴿
﴾ ১৬:১০১ ﴿
وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوا إِنَّمَا أَنْتَ مُفْتَرٍ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٠١﴾
(হে নবী, ) আমি যখন এক আয়াত পরিবর্তন করে তার জায়গায় আরেক আয়াত নাযিল করি- (অথচ) আল্লাহ তায়ালা যা কিছু নাযিল করেন তা তিনি ভালো করেই জানেন। তখন তারা বলে, তুমি তো এগুলো এমনিই নিজ থেকে বানিয়ে নিচ্ছো; (আসলে) তাদের অধিকাংশ মানুষই (আল্লাহর সূক্ষ রহস্য) জানে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০২﴿
﴾ ১৬:১০২ ﴿
قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ ﴿١٠٢﴾
তুমি তাদের বলো, হাঁ এ (কোরআন) -কে জিবরাঈল (ফেরেশতা) তোমার মালিকের কাছ থেকে ঠিকভাবেই নাযিল করেছে, যাতে করে যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে তাদের তিনি সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, (সর্বোপরি) এটা যেন হয় অনুগত বান্দাদের পথনির্দেশ ও (জান্নাতের) সুসংবাদবাহী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০৩﴿
﴾ ১৬:১০৩ ﴿
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُبِينٌ ﴿١٠٣﴾
(হে নবী, ) আমি ভালো করেই জানি (এরা তোমার ব্যাপারে কি বলে) , এরা বলে, এ (কোরআন) তো একজন মানুষ (এসে) এ ব্যক্তিকে পড়িয়ে দিয়ে যায়; (অথচ) যে ব্যক্তিটির দিকে এরা ইংগিত করে তার ভাষা আরবী নয়, আর এ (কোরআন) হচ্ছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০৪﴿
﴾ ১৬:১০৪ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ لَا يَهْدِيهِمُ اللَّهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٠٤﴾
(আসল কথা হচ্ছে, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তায়ালাও তাদের সঠিক পথে। পরিচালিত করেন না, আর তাদের জন্যেই মর্মান্তিক আযাব রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০৫﴿
﴾ ১৬:১০৫ ﴿
إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْكَاذِبُونَ ﴿١٠٥﴾
নিজের পক্ষ থেকে কথা বানানো (কখনো নবীর কাজ হতে পারে না, বরং এটা) হচ্ছে তাদের কাজ, যারা আল্লাহর আয়াতের উপর ঈমান আনে না, (আসলে) এরাই হচ্ছে মিথ্যাবাদী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০৬﴿
﴾ ১৬:১০৬ ﴿
مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١٠٦﴾
যে ব্যক্তি একবার ঈমান আনার পর কুফরী করে, যদি তাকে (কুফরী বাক্য উচ্চারণ করতে) বাধ্য করা হয়, অথচ তার অন্তর ঈমানের উপরই সন্তুষ্ট থাকে (তাহলে আল্লাহ তায়ালা তা হয়তো মাফ করে দেবেন) , কিন্তু যে তার অন্তরকে কুফরীর জন্যে (সদা) উন্মুক্ত করে রাখে তাদের উপর আল্লাহর গযব, তাদের জন্যেই রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০৭﴿
﴾ ১৬:১০৭ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴿١٠٧﴾
এটা এ জন্যে যে, তারা দুনিয়ার জীবনকে আখেরাতের উপর প্রাধান্য দিয়েছে, আল্লাহ তায়ালা কখনো কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০৮﴿
﴾ ১৬:১০৮ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ ﴿١٠٨﴾
১০৮, এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের অন্তরে, (যাদের) কানে ও (যাদের) চেখের উপর আল্লাহ তায়ালা সিল এঁটে দিয়েছেন, (আসলে) এরা সবাই (ভয়াবহ আযাব সম্পর্কে ) গাফেল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১০৯﴿
﴾ ১৬:১০৯ ﴿
لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿١٠٩﴾
নিশ্চয়ই ওরা আখেরাতে (ভীষণ) ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১০﴿
﴾ ১৬:১১০ ﴿
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ هَاجَرُوا مِنْ بَعْدِ مَا فُتِنُوا ثُمَّ جَاهَدُوا وَصَبَرُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١١٠﴾
(এর বিপরীত) যারা (ঈমানের পথে) নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরত করে, অতপর (আল্লাহর পথে) জেহাদ করে এবং (বিপদে) ধৈর্য ধারণ করে (হে নবী) , অবশ্যই তোমার মালিক এ (পরীক্ষা) -র পর তাদের প্রতি অসীম ও পরম দয়ালু (হবেন) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১১﴿
﴾ ১৬:১১১ ﴿
يَوْمَ تَأْتِي كُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلُ عَنْ نَفْسِهَا وَتُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿١١١﴾
(স্মরণ করো, ) যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিই আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি প্রদর্শন করতে (এগিয়ে) আসবে, প্রত্যেক ব্যক্তিকেই (কানাকড়ি হিসাব করে) তার কৃতকর্মের প্রতিফল আদায় করে দেয়া হবে এবং তাদের (কারো) উপর কোনো রকম অবিচার করা হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১২﴿
﴾ ১৬:১১২ ﴿
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا قَرْيَةً كَانَتْ آمِنَةً مُطْمَئِنَّةً يَأْتِيهَا رِزْقُهَا رَغَدًا مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِأَنْعُمِ اللَّهِ فَأَذَاقَهَا اللَّهُ لِبَاسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ ﴿١١٢﴾
আল্লাহ তায়ালা এমন একটি জনপদের উদাহরণ (তোমাদের সামনে) উপস্থাপন করছেন, যা ছিলো নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, (সেখানে) চারদিক থেকে তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণ রিযিক আসতো, অতপর (এক পর্যায়ে) তারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করলো, ফলে তারা যে আচরণ করে বেড়াতো তার শাস্তি হিসেবে আল্লাহ তায়ালা । তাদের ক্ষুধা ও ভীতির পোশাক পরিয়ে শাস্তি দিলেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১৩﴿
﴾ ১৬:১১৩ ﴿
وَلَقَدْ جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِنْهُمْ فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ وَهُمْ ظَالِمُونَ ﴿١١٣﴾
অবশ্যই তাদের কাছে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রসূল এসেছিলো, অতপর তারা তাকে অস্বীকার করলো, (পরিশেষে আল্লাহর) আযাব তাদের যুলুম করা অবস্থায় পাকড়াও করলো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১৪﴿
﴾ ১৬:১১৪ ﴿
فَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا وَاشْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ ﴿١١٤﴾
আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে যা কিছু পবিত্র ও হালাল রিযিক দিয়েছেন তোমরা তা আহার করো, যদি তোমরা একান্তভাবে তাঁরই গোলামী করো, তাহলে (এ জন্যে) আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো। উপর (শুধু) মৃত (জন্তায় আল্লাহ তায়ালা ছাড়া গুলি
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১৫﴿
﴾ ১৬:১১৫ ﴿
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١١٥﴾
তিনি তো তোমাদের উপর (শুধু) মৃত (জন্তু) , রক্ত এবং শুয়োরের গোশতই হারাম করেছেন, (আরো হারাম করেছেন) এমন জানোয়ার যার উপর (যবাই করার সময়) আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো নাম নেয়া হয়েছে, কিন্তু যদি কাউকে (এর কোনো একটার জন্যে) বাধ্য করা হয়- সে যদি বিদ্রোহী কিংবা সীমালংঘনকারী না হয়, তাহলে (সে যেন জেনে রাখে) , আল্লাহ তায়ালা অসীম ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১৬﴿
﴾ ১৬:১১৬ ﴿
وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ ﴿١١٦﴾
তোমাদের জিহ্বা আল্লাহ তায়ালার উপর মিথ্যা আরোপ করে বলেই কখনো একথা বলো না যে, এটা হালাল ও এটা হারাম, (জেনে রেখো, ) যারাই আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, তারা কখনোই সাফল্য লাভ করতে পারবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১৭﴿
﴾ ১৬:১১৭ ﴿
مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١١٧﴾
(তাদের জন্যে এটা পার্থিব জীবনের) সামান্য কিছু সামগ্রী (মাত্র, পরকালে) তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১৮﴿
﴾ ১৬:১১৮ ﴿
وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا مَا قَصَصْنَا عَلَيْكَ مِنْ قَبْلٌ وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿١١٨﴾
(হে নবী, ) ইহুদীদের উপর আমি সেসব কিছু হারাম করেছি যা ইতিপূর্বে আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি, (এগুলো হারাম করে) আমি তাদের উপর কোনো অবিচার করিনি, বরং তারা (আমার আদেশ না মেনে) নিজেরাই নিজেদের উপর অবিচার করেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১১৯﴿
﴾ ১৬:১১৯ ﴿
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ عَمِلُوا السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١١٩﴾
১১৯, অতপর অবশ্যই তোমার মালিক (তাদের উপর দয়া করেছেন) যারা অজ্ঞতাবশত কোনো গুনাহের কাজ করলো, অতপর (অন্যায় বুঝতে পেরে) তাওবা করলো এবং সে অনুযায়ী) নিজেদের সংশোধনও করে নিলো (হে নবী, ) তোমার মালিক অবশ্যই এরপর তাদের জন্যে (হবেন) অসীম ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২০﴿
﴾ ১৬:১২০ ﴿
إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ حَنِيفًا وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿١٢٠﴾
নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলো একটি উম্মত (-এর সমমর্যাদাবান, সে ছিলো) আল্লাহর একান্ত অনুগত ও একনিষ্ঠ (বান্দা) , সে কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২১﴿
﴾ ১৬:১২১ ﴿
شَاكِرًا لِأَنْعُمِهِ اجْتَبَاهُ وَهَدَاهُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿١٢١﴾
(সে ছিলো) আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তায়ালা তাকে (নবুওতের জন্যে) বাছাই করেছেন এবং তাকে তিনি সরল পথে পরিচালিত করেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২২﴿
﴾ ১৬:১২২ ﴿
وَآتَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ ﴿١٢٢﴾
আমি তাকে দুনিয়াতেও (প্রচুর) কল্যাণ দান করেছি, আর পরকালেও সে নিসন্দেহে নেক মানুষদের অন্তরভুক্ত (হবে) ;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২৩﴿
﴾ ১৬:১২৩ ﴿
ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿١٢٣﴾
অতপর (হে নবী, ) আমি তোমার উপর ওহী পাঠালাম যে, তুমি একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের মিল্লাত অনুসরণ করো; আর সে কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত ছিলো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২৪﴿
﴾ ১৬:১২৪ ﴿
إِنَّمَا جُعِلَ السَّبْتُ عَلَى الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿١٢٤﴾
শনিবার (পালন করা) তো কেবল তাদের জন্যেই (বাধ্যতামূলক করা হয়েছিলো, যারা এ (বিষয়টি) নিয়ে (অযথা) মতবিরোধ করেছে; অবশ্যই তোমার মালিক কেয়ামতের দিন তাদের মাঝে সে সব বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন, যেসব বিষয়ে সেখানে তারা মতবিরোধ করতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২৫﴿
﴾ ১৬:১২৫ ﴿
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ ﴿١٢٥﴾
(হে নবী, ) তুমি তোমার মালিকের পথে (মানুষদের) প্রজ্ঞা ও সদুপদেশ দ্বারা আহ্বান করো, (কখনো তর্কে যেতে হলে) তুমি এমন এক পদ্ধতিতে যুক্তিতর্ক করো যা সবচাইতে উৎকৃষ্ট পন্থা; তোমার মালিক (এটা) ভালো করেই জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিপথগামী হয়ে গেছে, (আবার) যে ব্যক্তি (হেদায়াতের) পথে রয়েছে তিনি তার সম্পর্কে ও সবিশেষ অবহিত আছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২৬﴿
﴾ ১৬:১২৬ ﴿
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ وَلَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّابِرِينَ ﴿١٢٦﴾
যদি তোমরা কাউকে শাস্তি দাও তাহলে ঠিক ততোটুকু শাস্তিই দেবে যতোটুকু (অন্যায়) তোমাদের সাথে করা হয়েছে; অবশ্য যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো তাহলে (জেনে রেখো, ) ধৈর্যশীলদের জন্যে তাই হচ্ছে উত্তম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২৭﴿
﴾ ১৬:১২৭ ﴿
وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ ﴿١٢٧﴾
(হে নবী, ) তুমি (নির্যাতন নিপীড়নে) ধৈর্য ধারণ করো, তোমার ধৈর্য (সম্ভব হবে) শুধু আল্লাহ তায়ালার সাহায্য দিয়েই, এদের (আচরণের) উপর দুঃখ করো না, এরা যে সব ষড়যন্ত্র করে চলেছে তাতে তুমি মনোক্ষুন্ন হয়ো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৬:১২৮﴿
﴾ ১৬:১২৮ ﴿
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ ﴿١٢٨﴾
অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাদের সাথে রয়েছেন যারা (জীবনের সর্বত্র) আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে চলে, (সর্বোপরি) তারা হবে সৎকর্মশীল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]