🕋
الإسراء
(১৭) বানী ইসরাঈল
১১১
﴾১৭:১﴿
﴾ ১৭:১ ﴿
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴿١﴾
পবিত্র ও মহিমান্বিত (সেই আল্লাহ তায়ালা) , যিনি তাঁর (এক) বান্দাকে রাতের বেলায় মাসজিদে হারাম থেকে মাসজিদে আকসায় নিয়ে গেলেন, যার পারিপার্শ্বিতাকে আমি (আগেই) বরকতপুর্ণ করে রেখেছিলাম, যেন আমি তাকে আমার (দৃশ্য অদৃশ্য) কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি; (মুলত) সর্বশ্রোতা ও সর্বস্রষ্টা তো স্বয়ং তিনিই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২﴿
﴾ ১৭:২ ﴿
وَآتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَجَعَلْنَاهُ هُدًى لِبَنِي إِسْرَائِيلَ أَلَّا تَتَّخِذُوا مِنْ دُونِي وَكِيلًا ﴿٢﴾
আমি মুসাকে (-ও) কিতাব দিয়েছি, আমি এ (কিতাব) -কে বনী ইসরাঈলের হেদায়াতের উপকরণ বানিয়েছিলাম (আমি আদেশ দিয়েছিলাম) , আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে তোমরা (নিজেদের) কর্মবিধায়করূপে গ্রহণ করো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩﴿
﴾ ১৭:৩ ﴿
ذُرِّيَّةَ مَنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ إِنَّهُ كَانَ عَبْدًا شَكُورًا ﴿٣﴾
(তোমরা হচ্ছে সেসব লোকের বংশধর) , যাদের আমি নুহের সাথে (নৌকায়) আরোহণ করিয়েছিলাম, অবশ্যই সে ছিলো (আমার) এক কৃতজ্ঞ বান্দা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪﴿
﴾ ১৭:৪ ﴿
وَقَضَيْنَا إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ فِي الْكِتَابِ لَتُفْسِدُنَّ فِي الْأَرْضِ مَرَّتَيْنِ وَلَتَعْلُنَّ عُلُوًّا كَبِيرًا ﴿٤﴾
আমি বনী ইসরাঈলদের প্রতি (তাদের) কিতাবের মধ্যে (এ কথার) ঘোষণা দিয়েছিলাম, অবশ্যই তোমরা দু'বার (আমার) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং (মানুষের উপর তখন) বড়ো বেশী বাড়াবাড়ি করবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫﴿
﴾ ১৭:৫ ﴿
فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ أُولَاهُمَا بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًا لَنَا أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ فَجَاسُوا خِلَالَ الدِّيَارِ وَكَانَ وَعْدًا مَفْعُولًا ﴿٥﴾
অতপর এ দু'য়ের প্রথমটির নির্ধারিত সময় যখন এসে হাযির হলো, তখন (তোমাদের বিপর্যয় বন্ধ করার জন্যে) আমি তোমাদের উপর আমার এমন কিছু বান্দাকে পাঠিয়েছিলাম, যারা ছিলো বীরত্বের অধিকারী, অতপর তারা (তোমাদের) ঘরে ঘরে প্রবেশ করে সব কিছুই তছনছ করে দিয়ে গেলো; আর (এভাবেই) আমার (শাস্তির) প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়ে থাকে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬﴿
﴾ ১৭:৬ ﴿
ثُمَّ رَدَدْنَا لَكُمُ الْكَرَّةَ عَلَيْهِمْ وَأَمْدَدْنَاكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَجَعَلْنَاكُمْ أَكْثَرَ نَفِيرًا ﴿٦﴾
অতপর আমি তাদের উপর (বিজয় দিয়ে) দ্বিতীয় বার তোমাদের (সুদিন ফিরিয়ে দিলাম এবং) ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্তনি দিয়ে তোমাদের আমি সাহায্য করলাম, (সর্বোপরি এ জনপদে) আমি তোমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ করলাম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭﴿
﴾ ১৭:৭ ﴿
إِنْ أَحْسَنْتُمْ أَحْسَنْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ وَإِنْ أَسَأْتُمْ فَلَهَا فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ الْآخِرَةِ لِيَسُوءُوا وُجُوهَكُمْ وَلِيَدْخُلُوا الْمَسْجِدَ كَمَا دَخَلُوهُ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَلِيُتَبِّرُوا مَا عَلَوْا تَتْبِيرًا ﴿٧﴾
যদি তোমরা কোনো ভালো কাজ করে থাকো তা করেছো (একান্তভাবে) তোমাদের নিজেদের জন্যে। (অপরদিকে) তোমাদের কেউ যদি কোনো মন্দ কাজ করে থাকো, তার দায়িত্বও একান্তভাবে তার নিজের উপর; অতপর যখন আমার দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতির সময় হাযির হলো, (তখন আমি আরেক দলকে তোমাদের মোকাবেলার জন্যে পাঠিয়েছিলাম) যেন তারা তোমাদের মুখমন্ডল কালিমাচ্ছন্ন করে দিতে পারে, যেমন করে প্রথমবার এ ব্যক্তিরা মাসজিদে (আকসায়) প্রবেশ করেছে (এবং এর প্রচুর ক্ষতি সাধন করেছে, আবারও) যেন তারা মাসজিদে প্রবেশ করতে পারে এবং যে যে জিনিসের উপর তারা অধিকার জমাতে পারে তা যেন তারা ধ্বংস করে দিতে পারে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮﴿
﴾ ১৭:৮ ﴿
عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يَرْحَمَكُمْ وَإِنْ عُدْتُمْ عُدْنَا وَجَعَلْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ حَصِيرًا ﴿٨﴾
সম্ভবত এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর অনুগ্রহ করবেন, আর তোমরা যদি (আবার বিদ্রোহের দিকে) ফিরে যাও তাহলে আমিও (আমার শাস্তির) পুনরাবৃত্তি করবো, আর আমি তো কাফেরদের জন্যে জাহান্নামকে তাদের (চির) কারাগারে পরিণত করে রেখেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯﴿
﴾ ১৭:৯ ﴿
إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا ﴿٩﴾
অবশ্যই এ কোরআন এমন এক পথের দিকে নির্দেশনা দেয় যা অতি (সরল ও) মযবুত এবং যেসব ঈমানদার মানুষ নেক আমল করে, এ (কিতাব) তাদের (এ) সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে (আল্লাহর কাছে) এক মহাপুরস্কার রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০﴿
﴾ ১৭:১০ ﴿
وَأَنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ﴿١٠﴾
(অপরদিকে) যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের জন্যে (এক) কঠিন আযাব প্রস্তুত করে রেখেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১১﴿
﴾ ১৭:১১ ﴿
وَيَدْعُ الْإِنْسَانُ بِالشَّرِّ دُعَاءَهُ بِالْخَيْرِ وَكَانَ الْإِنْسَانُ عَجُولًا ﴿١١﴾
আর মানুষ (যেভাবে নিজের জন্যে না বুঝে) অকল্যাণ কামনা করে, তেমনি সে) তার (নিজের) জন্যে (বুঝে সুঝে) কিছু কল্যাণও (কামনা করে আসলে) মানুষ (কাংখিত বস্তুর জন্যে এমনিই) তাড়াহুড়ো করে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১২﴿
﴾ ১৭:১২ ﴿
وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلًا ﴿١٢﴾
আমি রাত ও দিনকে (আমার কুদরতের) দুটো নিদর্শন বানিয়ে রেখেছি, অতপর রাতের নিদর্শন আমি বিলীন করে দিয়েছি এবং দিনের নিদর্শনকে আমি করেছি আলোকময়, যাতে করে (এর আলোতে) তোমরা তোমাদের মালিকের রিযিক সংগ্রহ করতে পারো, (সর্বোপরি) তোমরা (এর মাধ্যমে) বছরের গণনা ও (এর) হিসাবও জানতে পারো; আর (এর) সব কয়টি বিষয়ই আমি খুলে খুলে বর্ণনা করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১৩﴿
﴾ ১৭:১৩ ﴿
وَكُلَّ إِنْسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنْشُورًا ﴿١٣﴾
প্রত্যেক মানুষের ভাগ্যলিপি আমি তার গলায় (হারের মতো করে) ঝুলিয়ে রেখেছি; কেয়ামতের দিন তার জন্যে (আমলনামার) একটি গ্রন্থ আমি (তার সামনে) বের করে দেবো, সে তা (তার সামনে) খোলা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১৪﴿
﴾ ১৭:১৪ ﴿
اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا ﴿١٤﴾
(আমি তাকে বলবো) পড়ো, (এ হচ্ছে) তোমার আমলনামা; আজ নিজের হিসাবের জন্যে তুমি নিজেই যথষ্টে;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১৫﴿
﴾ ১৭:১৫ ﴿
مَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا ﴿١٥﴾
যে ব্যক্তি হেদায়াতের পথে চলবে, সে তো চলবে একান্ত ভাবে নিজের (ভালোর) জন্যে, যে ব্যক্তি গোমরাহ হবে তার গোমরাহীর দায়িত্ব অবশ্যই তার উপর; (আসল কথা হচ্ছে, সেদিন) কেউই অন্য কারো (গুনাহের) ভার বইবে না; আর আমি কখনোই কোনো জাতিকে) আযাব দেই না, যতোক্ষণ না আমি (সেখানে আযাব থেকে সতর্ককারী) কোনো রসুল না পাঠাই ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১৬﴿
﴾ ১৭:১৬ ﴿
وَإِذَا أَرَدْنَا أَنْ نُهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا ﴿١٦﴾
আমি যখন কোনো জনপদকে ধ্বংস করতে চাই তখন তার বিত্তশালী লোকদের (ভালো কাজের) আদেশ করি, কিন্তু (তা না করে) সেখানে তারা গুনাহের কাজ করতে শুরু করে, অতপর (এ জন্যে) সেখানে আমার আযাবের ফয়সালা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, পরিশেষে আমি তা সম্পূর্ণরূপে বিনাশ করে দেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১৭﴿
﴾ ১৭:১৭ ﴿
وَكَمْ أَهْلَكْنَا مِنَ الْقُرُونِ مِنْ بَعْدِ نُوحٍ وَكَفَى بِرَبِّكَ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا ﴿١٧﴾
নুহের পর আমি (এই একই কারণে) কতো মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি; (হে নবী, ) তোমার মালিক তাঁর বান্দাদের গুনাহের খবর রাখা ও তা পর্যবেক্ষণ করার জন্যে (একাই) যথষ্টে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১৮﴿
﴾ ১৭:১৮ ﴿
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلَاهَا مَذْمُومًا مَدْحُورًا ﴿١٨﴾
কোনো ব্যক্তি দ্রুত (দুনিয়ার সুখ সম্ভোগ) পেতে চাইলে আমি তাকে এখানে তার জন্যে যতোটুকু দিতে চাই তা সত্বর দিয়ে দেই, (কিন্তু) পরিশেষে তার জন্যে জাহান্নামই নির্ধারণ করে রাখি, যেখানে সে প্রবেশ করবে একান্ত নিন্দিত, অপমানিত ও বিতাড়িত অবস্থায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১৯﴿
﴾ ১৭:১৯ ﴿
وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا ﴿١٩﴾
(অপরদিকে) যারা আখেরাত (ও তার সাফল্য) কামনা করে এবং তা পাওয়ার জন্যে যে পরিমাণ চষ্টো করা উচিত তেমনভাবেই চষ্টো করে, (সর্বোপরি) যারা হয় (সত্যিকার) মু’মিন, (মুলত) তারাই হচ্ছে এমন লোক যাদের চেষ্টা সাধনা (আল্লাহর দরবারে) স্বীকৃত হয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২০﴿
﴾ ১৭:২০ ﴿
كُلًّا نُمِدُّ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ مِنْ عَطَاءِ رَبِّكَ وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا ﴿٢٠﴾
(হে নবী, ) আমি এদের (যারা দুনিয়া চায়) এবং ওদের (যারা আখেরাত চায়) , সবাইকেই তোমার মালিকের দান থেকে সাহায্য করে যাচ্ছি এবং তোমার মালিকের দান কারো জন্যেই বন্ধ নয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২১﴿
﴾ ১৭:২১ ﴿
انْظُرْ كَيْفَ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَلَلْآخِرَةُ أَكْبَرُ دَرَجَاتٍ وَأَكْبَرُ تَفْضِيلًا ﴿٢١﴾
(হে নবী, ) তুমি দেখো, কিভাবে আমি (পার্থিব সম্পদের বেলায়) তাদের একজনকে আরেকজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করলাম; অবশ্য মর্যাদার দিক থেকে আখেরাত অনেক বড়ো, তার ফযীলতও বহুলাংশে বেশী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২২﴿
﴾ ১৭:২২ ﴿
لَا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتَقْعُدَ مَذْمُومًا مَخْذُولًا ﴿٢٢﴾
(হে মানুষ, ) আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে মাবুদ বানিয়ো না, নতুবা (পরকালে) তোমরা নিন্দিত অপমানিত ও নিসহায় হয়ে পড়বে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২৩﴿
﴾ ১৭:২৩ ﴿
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ﴿٢٣﴾
তোমার মালিক আদেশ করছেন, তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদাত করো না এবং তোমরা তোমাদের) পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো; তাদের একজন কিংবা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তাহলে তাদের (সাথে) বিরক্তি সুচক কিছু বলো না এবং কখনো তাদের ধমক দিয়ো না, তাদের সাথে সম্মানজনক ভদ্রজনোচিত কথা বলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২৪﴿
﴾ ১৭:২৪ ﴿
وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّي ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ﴿٢٤﴾
অনুকম্পায় তুমি ওদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বলো, হে (আমার) মালিক, ওদের প্রতি (ঠিক সেভাবেই) তুমি দয়া করো, যেমনি করে শৈশবে ওরা আমাকে লালন পালন করেছিলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২৫﴿
﴾ ১৭:২৫ ﴿
رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِي نُفُوسِكُمْ إِنْ تَكُونُوا صَالِحِينَ فَإِنَّهُ كَانَ لِلْأَوَّابِينَ غَفُورًا ﴿٢٥﴾
(আসলে) তোমাদের মালিক তোমাদের অন্তরসমুহের ভেতরে যা আছে তা ভালো করেই জানেন; তোমরা (সত্যিই) যদি ভালো মানুষ হয়ে যাও তাহলে (আল্লাহ তায়ালা তা মাফ করে দেবেন, কেননা) , যারা তাওবা করে তিনি তাদের (গুনাহ) মাফ করে দেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২৬﴿
﴾ ১৭:২৬ ﴿
وَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا ﴿٢٦﴾
আত্মীয় স্বজনকে তাদের (যথার্থ) পাওনা আদায় করে দেবে, অভাবগ্রস্ত এবং মুসাফিরদেরও (তাদের হক আদায় করে দেবে) , কখনো অপব্যয় করো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২৭﴿
﴾ ১৭:২৭ ﴿
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا ﴿٢٧﴾
অবশ্যই অপব্যয়কারীরা হচ্ছে শয়তানের ভাই; আর শয়তান হচ্ছে তার মালিকের বড়োই অকৃতজ্ঞ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২৮﴿
﴾ ১৭:২৮ ﴿
وَإِمَّا تُعْرِضَنَّ عَنْهُمُ ابْتِغَاءَ رَحْمَةٍ مِنْ رَبِّكَ تَرْجُوهَا فَقُلْ لَهُمْ قَوْلًا مَيْسُورًا ﴿٢٨﴾
যদি তোমাকে কখনো (এ) হকদারদের বিমুখ করতেই হয় (এ কারণে যে) , তাকে দেয়ার মতো সম্পদ তোমার কাছে নেই এবং তুমি তোমার মালিকের কাছ থেকে অনুগ্রহ কামনা করছো, যা পাওয়ার তুমি আশাও রাখো তাহলে একান্ত নম্রভাবে তাদের সাথে কথা বলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:২৯﴿
﴾ ১৭:২৯ ﴿
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا ﴿٢٩﴾
কখনো নিজের (ব্যয়ের) হাত নিজের গর্দানের সাথে বেঁধে রেখো না (যাতে কার্পণ্য প্রকাশ পায়) , আবার তা সমপুর্ণ খুলেও রেখো না, অন্যথায় (বেশী খরচ করার কারণে) তুমি নিন্দিত নিস্ব হয়ে যাবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩০﴿
﴾ ১৭:৩০ ﴿
إِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ إِنَّهُ كَانَ بِعِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا ﴿٣٠﴾
তোমার মালিক যাকে চান তার রিযিক বাড়িয়ে দেন, আবার যাকে চান তাকে কম করে দেন, অবশ্যই তিনি তাঁর বান্দাদের (প্রয়োজন সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এবং (তাদের অবস্থাও) তিনি দেখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩১﴿
﴾ ১৭:৩১ ﴿
وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا ﴿٣١﴾
তোমরা তোমাদের সন্তানদের কখনো দারিদ্রের ভয়ে হত্যা করো না; আমি (যেমন) তাদের রিযিক দান করি (তেমনি) তোমাদেরও কেবল আমিই রিযিক দান করি; (রিযিকের ভয়ে) তাদের হত্যা করা (হবে) অবশ্যই একটি মহাপাপ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩২﴿
﴾ ১৭:৩২ ﴿
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا ﴿٣٢﴾
তোমরা ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেয়ো না, নিসন্দেহে এ হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩৩﴿
﴾ ১৭:৩৩ ﴿
وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا فَلَا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُورًا ﴿٣٣﴾
কোনো জীবনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করো না, যা আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন; যে ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয় আমি তার উত্তরাধিকারীকে (এ) অধিকার দিয়েছি (সে চাইলে রক্তের বিনিময় দাবী করতে পারে) , তবে সে যেন হত্যার (প্রতিশোধ নেয়ার) ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করে; কেননা (হত্যার মামলায় যে ব্যক্তি মযলুম) তাকেই সাহায্য করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩৪﴿
﴾ ১৭:৩৪ ﴿
وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا ﴿٣٤﴾
এতীমদের মাল সম্পদের কাছেও যেয়ো না, তবে এমন কোনো পন্থায় যা (এতীমের জন্যে) উত্তম (বলে প্রমাণিত) হয় তা বাদে যতোক্ষণ পর্যন্ত সে (এতীম) তার বয়োপ্রাপ্তির পর্যায়ে উপনীত হয় এবং তোমরা (এদের দেয়া যাবতীয়) প্রতিশ্রুতি মেনে চলো, কেননা (কেয়ামতের দিন এ) প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে (তোমাদের) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩৫﴿
﴾ ১৭:৩৫ ﴿
وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا ﴿٣٥﴾
কোনো কিছু পরিমাপ করার সময় মাপ কিন্তু পুরোপুরিই করবে, আর (ওযন করার জিনিস হলে) দাঁড়িপাল্লা সোজা করে ধরবে; (লেনদেনের ব্যাপারে) এই হচ্ছে উত্তম পন্থা এবং পরিণামে (-র দিক থেকে) এটাই হচ্ছে উৎকৃষ্ট।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩৬﴿
﴾ ১৭:৩৬ ﴿
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا ﴿٣٦﴾
যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, (অযথা) তার পেছনে পড়ো না; কেননা (কেয়ামতের দিন) কান, চোখ ও অন্তর, এ সব কয়টির (ব্যবহার) সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩৭﴿
﴾ ১৭:৩৭ ﴿
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولًا ﴿٣٧﴾
আল্লাহর যমীনে (কখনোই) দম্ভভরে চলো না, কেননা (যতোই অহংকার করো না কেন) , তুমি কখনো এ যমীন বিদীর্ণ করতে পারবে না, আর উচ্চতায়ও তুমি কখনো পর্বত সমান হতে পারবে না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩৮﴿
﴾ ১৭:৩৮ ﴿
كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا ﴿٣٨﴾
(হে নবী, ) এগুলো সবই (খারাপ কাজ, ) এর মন্দ দিকগুলো তোমার মালিকের কাছেও একান্ত ঘৃণিত ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৩৯﴿
﴾ ১৭:৩৯ ﴿
ذَلِكَ مِمَّا أَوْحَى إِلَيْكَ رَبُّكَ مِنَ الْحِكْمَةِ وَلَا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتُلْقَى فِي جَهَنَّمَ مَلُومًا مَدْحُورًا ﴿٣٩﴾
তোমার মালিক ওহীর মাধ্যমে যে প্রজ্ঞা দান করেছেন এ (সব) হচ্ছে তার অন্তরভুক্ত, যা তোমার মালিক ওহীর মাধ্যমে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন; তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে মাবুদ বানাবে না, অন্যথায় তুমি নিন্দিত, অপমানিত ও (আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে) বঞ্চিত হয়ে জাহান্নামে নিক্ষপ্তি হবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪০﴿
﴾ ১৭:৪০ ﴿
أَفَأَصْفَاكُمْ رَبُّكُمْ بِالْبَنِينَ وَاتَّخَذَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِنَاثًا إِنَّكُمْ لَتَقُولُونَ قَوْلًا عَظِيمًا ﴿٤٠﴾
এটা কেমন কথা, তোমাদের মালিক তোমাদের জন্যে নির্ধারিত করেছেন পুত্র সন্তান, আর নিজে ফেরেশতাদের কন্যা হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন; তোমরা সত্যিই (আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে) একটা জঘন্য কথা বলে বেড়াচ্ছো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪১﴿
﴾ ১৭:৪১ ﴿
وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِيَذَّكَّرُوا وَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَّا نُفُورًا ﴿٤١﴾
আমি এই কোরআনে (এ কথাগুলো) সবিস্তারে বর্ণনা করেছি, যাতে করে তারা এর থেকে কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে; কিন্তু এ (বিষয়) -টি তাদের (ঈমানের প্রতি) বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই বাড়ালো না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪২﴿
﴾ ১৭:৪২ ﴿
قُلْ لَوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا ﴿٤٢﴾
(হে নবী, এদের) তুমি বলো, যদি আল্লাহর সাথে আরো মাবুদ থাকতো যেমন করে এ (মুশরিক) লোকেরা বলে, তাহলে অবশ্যই তারা (এতোদিনে) আরশের মালিকের কাছে পৌঁছার একটা পথ বের করে । নিতো
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪৩﴿
﴾ ১৭:৪৩ ﴿
سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا ﴿٤٣﴾
(মূলত) এরা আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে যা কিছু (অবান্তর কথাবার্তা) বলে, তিনি তার চাইতে অনেক পবিত্র, অনেক মহিমান্বিত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪৪﴿
﴾ ১৭:৪৪ ﴿
تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا ﴿٤٤﴾
সাত আসমান, যমীন এবং এ (দু'য়ের) মাঝখানে যা কিছু (মজুদ) আছে তা সবই আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে; (সৃষ্টিলোকে) কোনো একটি জিনিসই এমন নেই যা তাঁর প্রংশসা, পবিত্রতা ও মাহাত্ম ঘোষণা করে না; কিন্তু তাদের এ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পারো না; অবশ্যই তিনি একান্ত সহনশীল ও ক্ষমাপরায়ণ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪৫﴿
﴾ ১৭:৪৫ ﴿
وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ حِجَابًا مَسْتُورًا ﴿٤٥﴾
(হে নবী, ) যখন তুমি কোরআন পাঠ করো তখন তোমার ও যারা পরকালের উপর বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে আমি একটি প্রচ্ছন্ন পর্দা এঁটে দেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪৬﴿
﴾ ১৭:৪৬ ﴿
وَجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا وَإِذَا ذَكَرْتَ رَبَّكَ فِي الْقُرْآنِ وَحْدَهُ وَلَّوْا عَلَى أَدْبَارِهِمْ نُفُورًا ﴿٤٦﴾
আমি তাদের অন্তরের উপর (এক ধরনের) আবরণ রেখে দেই, ওদের কানে (এনে) দেই বধিরতা, যাতে করে ওরা তা উপলব্ধি করতে না পারে, (তাই তুমি দেখবে) ; যখন তুমি কোরআনে তোমার মালিককে স্মরণ করতে থাকো, তখন তারা ঘৃণাভরে (তোমার কাছ থেকে) সরে পড়ে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪৭﴿
﴾ ১৭:৪৭ ﴿
نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَسْتَمِعُونَ بِهِ إِذْ يَسْتَمِعُونَ إِلَيْكَ وَإِذْ هُمْ نَجْوَى إِذْ يَقُولُ الظَّالِمُونَ إِنْ تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلًا مَسْحُورًا ﴿٤٧﴾
আমি ভালো করেই জানি যখন ওরা কান পেতে তোমার কথা শোনে, তখন ওরা কান পেতে (কি কথা) শোনে (আমি এও জানি) , যখন এই যালেমরা নিজেদের মধ্যে সলাপরামর্শ করে বলে, তোমরা তো একজন যাদুগ্রস্ত লোকেরই অনুসরণ করে চলেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪৮﴿
﴾ ১৭:৪৮ ﴿
انْظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا لَكَ الْأَمْثَالَ فَضَلُّوا فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلًا ﴿٤٨﴾
হে নবী, দেখো, এরা তোমার ব্যাপারে কি ধরনের উপমা তৈরী করেছে, (মুলত এসব কারণেই) অতপর এরা গোমরাহ হয়ে গেছে, অতএব এরা সঠিক পথের সন্ধান পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৪৯﴿
﴾ ১৭:৪৯ ﴿
وَقَالُوا أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا ﴿٤٩﴾
এ (মুখ) লোকেরা বলে, আমরা (মৃত্যুর পর) হাড্ডিতে পরিণত হয়ে পচে গেলেও কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরায় উত্থিত হবো?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫০﴿
﴾ ১৭:৫০ ﴿
قُلْ كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا ﴿٥٠﴾
তুমি (তাদের) বলো, (মৃত্যুর পর) তোমরা পাথর হয়ে যাও কিংবা লোহায় (পরিণত) হও (সর্বাবস্থায়ই তোমরা পুণরুত্থিত হবে) ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫১﴿
﴾ ১৭:৫১ ﴿
أَوْ خَلْقًا مِمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ فَسَيَقُولُونَ مَنْ يُعِيدُنَا قُلِ الَّذِي فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَسَيُنْغِضُونَ إِلَيْكَ رُءُوسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَى هُوَ قُلْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَرِيبًا ﴿٥١﴾
কিংবা এমন কিছু সৃষ্টি, তোমাদের ধারণায় যার (বাস্তবায়ন) হওয়া খুবই কঠিন, অচিরেই তারা বলবে, (অবস্থা এমন হলে) কে আমাদের পুনরায় জীবিত করবে; তুমি বলো (হাঁ) , তিনিই করবেন যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, অতপর (তুমি দেখবে) তারা তোমার সামনে মাথা নাড়াবে এবং বলবে, (তাহলে) কবে হবে (এ সব কিছু) ; তুমি বলো, সম্ভবত সেদিন খুব শীঘ্রই (সংঘটিত) হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫২﴿
﴾ ১৭:৫২ ﴿
يَوْمَ يَدْعُوكُمْ فَتَسْتَجِيبُونَ بِحَمْدِهِ وَتَظُنُّونَ إِنْ لَبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا ﴿٥٢﴾
যেদিন আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ডাক দেবেন এবং তোমরা সবাই তাঁর প্রশংসা করতে করতে তাঁর ডাকে সাড়া দেবে, (আর) তোমরা ভাববে, সামান্য কিছু সময়ই তোমরা (কবরে) কাটিয়ে এসেছো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫৩﴿
﴾ ১৭:৫৩ ﴿
وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْزَغُ بَيْنَهُمْ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوًّا مُبِينًا ﴿٥٣﴾
(হে নবী, ) আমার বান্দাদের বলে দাও, তারা যেন (কথা বলার সময়) এমন সব কথা বলে যা উত্তম; (কেননা) শয়তান (খারাপ কথা দ্বারা) তাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; আর শয়তান তো হচ্ছে মানুষের প্রকাশ্য দুশমন
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫৪﴿
﴾ ১৭:৫৪ ﴿
رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِكُمْ إِنْ يَشَأْ يَرْحَمْكُمْ أَوْ إِنْ يَشَأْ يُعَذِّبْكُمْ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا ﴿٥٤﴾
(হে মানুষ, ) তোমাদের মালিক তোমাদের সম্পর্কে ভালো করেই জানেন; তিনি চাইলে তোমাদের উপর দয়া করবেন, কিংবা তিনি চাইলে তোমাদের শাস্তি দেবেন (হে নবী) ; আমি তো তোমাকে তাদের উপর কোনো অভিভাবক করে পাঠাইনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫৫﴿
﴾ ১৭:৫৫ ﴿
وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِمَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَقَدْ فَضَّلْنَا بَعْضَ النَّبِيِّينَ عَلَى بَعْضٍ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا ﴿٥٥﴾
তোমার মালিক (তাদের) ভালো করেই জানেন যা আসমানসমূহ ও যমীনের মাঝে (মজুদ) রয়েছে; আমি একেকজন নবীকে একেকজনের উপর (স্বতন্ত্র কিছু) মর্যাদা দান করেছি, (এমনিভাবেই আমি) দাউদকে যাবুর কিতাব দান (করে মর্যাদাবান) করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫৬﴿
﴾ ১৭:৫৬ ﴿
قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا ﴿٥٦﴾
(হে নবী, এদের) বলো, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের (মাবুদ) মনে করে ডাকো, তাদের ডেকে দেখো, (দেখবে, তারা তোমাদের কাছ থেকে কষ্ট দুর করার কোনো ক্ষমতাই রাখেনা না ক্ষমতা রাখে (তাকে) বদলে দেয়ার
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫৭﴿
﴾ ১৭:৫৭ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا ﴿٥٧﴾
ওরা যাদের ডাকে তারা (স্বয়ং) নিজেরাই তো তাদের মালিকের কাছে (পৌঁছার) উসিলা তালাশ করতে থাকে, (তারা দেখতে চায়) তাদের মধ্যে কে (আল্লাহ তায়ালার) নিকটতর হতে পারে এবং তারা তাঁরই দয়া প্রত্যাশা করে, তাঁর আযাবকে ভয় করে; (মুলত) তোমার মালিকের আযাব এমনই একটি বিষয় যা একান্ত ভীতিপ্রদ ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫৮﴿
﴾ ১৭:৫৮ ﴿
وَإِنْ مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا نَحْنُ مُهْلِكُوهَا قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ أَوْ مُعَذِّبُوهَا عَذَابًا شَدِيدًا كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا ﴿٥٨﴾
এমন কোনো একটি জনপদ নেই যা আমি কেয়ামতের দিন আসার আগেই ধ্বংস করে দেবো না! কিংবা তাদের আমি কঠোর আযাব দেবো না! এসব কথা তো (আমার পাঠানো) কিতাবেই লিপিবদ্ধ আছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৫৯﴿
﴾ ১৭:৫৯ ﴿
وَمَا مَنَعَنَا أَنْ نُرْسِلَ بِالْآيَاتِ إِلَّا أَنْ كَذَّبَ بِهَا الْأَوَّلُونَ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُوا بِهَا وَمَا نُرْسِلُ بِالْآيَاتِ إِلَّا تَخْوِيفًا ﴿٥٩﴾
আমাকে (আযাবের) নিদর্শনসমুহ পাঠানো থেকে এ ছাড়া অন্য কোনো কিছুই নিবৃত্ত করতে পারেনি যে, তাদের আগের লোকেরা তা অস্বীকার করেছে; আমি সামুদ জাতিকে দৃশ্যমান নিদর্শন (হিসেবে) একটি উষ্ট্রী পাঠিয়েছিলাম, অতপর তারা (আমার) সে (নিদর্শন) টির সাথে যুলুম করেছে; (আসলে) আমি ভয় দেখানোর জন্যেই (তাদের কাছে আযাবের) নিদর্শনসমুহ পাঠাই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬০﴿
﴾ ১৭:৬০ ﴿
وَإِذْ قُلْنَا لَكَ إِنَّ رَبَّكَ أَحَاطَ بِالنَّاسِ وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلَّا فِتْنَةً لِلنَّاسِ وَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ فِي الْقُرْآنِ وَنُخَوِّفُهُمْ فَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَّا طُغْيَانًا كَبِيرًا ﴿٦٠﴾
(হে নবী, ) যখন আমি তোমাকে বলেছিলাম, তোমার মালিক (তার অপরিমিত জ্ঞানের পরিধি দিয়ে) সব মানুষদের পরিবষ্টেন করে আছেন; যে স্বপ্ন আমি তোমাকে দেখিয়েছিলাম তাকে আমি (আসলে) মানুষদের জন্যে পরীক্ষার (বিষয়) বানিয়ে দিয়েছিলাম এবং কোরআনের (বর্ণিত) অভিশপ্ত গাছটিকেও (পরীক্ষার কারণ বানিয়েছি) , (এভাবেই) আমি তাদের ভয় দেখাই, (মুলত) আমার ভয় দেখানো তাদের গোমরাহীই কেবল বাড়িয়ে দিয়েছে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬১﴿
﴾ ১৭:৬১ ﴿
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ قَالَ أَأَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِينًا ﴿٦١﴾
(স্মরণ করো, ) যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সাজদা করো, তখন তারা সবাই (আমার আদেশে) সাজদা করলো, ইবলীস ছাড়া; সে বললো, আমি কি তাকে সাজদা করবো যাকে তুমি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬২﴿
﴾ ১৭:৬২ ﴿
قَالَ أَرَأَيْتَكَ هَذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلًا ﴿٦٢﴾
সে বললো, তুমি কি সে ব্যক্তিকে দেখেছো যাকে তুমি আমার উপর মর্যাদা দান করলে! যদি তুমি আমাকে কেয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দাও, তাহলে আমি অবশ্যই তার (গোটা) বংশধরদের নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসবো, তবে একটি ক্ষুদ্র দল ছাড়া (যারা বেঁচে থাকতে পারবে) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬৩﴿
﴾ ১৭:৬৩ ﴿
قَالَ اذْهَبْ فَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَاؤُكُمْ جَزَاءً مَوْفُورًا ﴿٦٣﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন, যাও, (দুর হয়ে যাও এখান থেকে, তাদের মধ্যে) যারা তোমার আনুগত্য করবে, তোমাদের সবার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম, আর (জাহান্নামের) শাস্তিও পুরোপুরি (দেয়া হবে) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬৪﴿
﴾ ১৭:৬৪ ﴿
وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِمْ بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا ﴿٦٤﴾
এদের মধ্যে যাকেই পারো তুমি তোমার আওয়ায দিয়ে গোমরাহ করে দাও, তোমার যাবতীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের উপর গিয়ে চড়াও হও, ধনসম্পদ ও সন্তান সন্তনিতে তুমি তাদের সাথী হয়ে যাও এবং (যতো পারো) তাদের (মিথ্যা) প্রতিশ্রুতি দিতে থাকো; আর শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬৫﴿
﴾ ১৭:৬৫ ﴿
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ وَكَفَى بِرَبِّكَ وَكِيلًا ﴿٦٥﴾
নিসন্দেহে যারা আমার (খাস) বান্দা তাদের উপর তোমার কোনো ক্ষমতা চলবে না; (হে নবী, ) তোমার মালিক (অবশ্যই তাদের) কর্মবিধায়ক হিসেবে যথষ্টে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬৬﴿
﴾ ১৭:৬৬ ﴿
رَبُّكُمُ الَّذِي يُزْجِي لَكُمُ الْفُلْكَ فِي الْبَحْرِ لِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ إِنَّهُ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا ﴿٦٦﴾
(হে মানুষ, ) তোমাদের মালিক তো হচ্ছেন তিনি, যিনি তোমাদের জন্যে সমুদ্রে জলযান পরিচালনা করেন, যাতে করে তোমরা (জলে স্থলে তাঁর প্রদত্ত) রিযিক তালাশ করতে পারো; নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের উপর পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬৭﴿
﴾ ১৭:৬৭ ﴿
وَإِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فِي الْبَحْرِ ضَلَّ مَنْ تَدْعُونَ إِلَّا إِيَّاهُ فَلَمَّا نَجَّاكُمْ إِلَى الْبَرِّ أَعْرَضْتُمْ وَكَانَ الْإِنْسَانُ كَفُورًا ﴿٦٧﴾
আর (উত্তাল) সমুদ্রের মধ্যে যখন তোমাদের উপর কোনো বিপদ মসিবত আপতিত হয় তখন আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে (ইতিপূর্বে) তোমরা যাদের ডাকতে তারা সবাই (তোমাদের মন থেকে) হারিয়ে যায় এবং (ডাকার জন্যে) এক আল্লাহই (সেখানে বাকী) থেকে যান; অতপর তিনি যখন তোমাদের স্থলে (এনে বিপদ থেকে) উদ্ধার করেন, তখনই তোমরা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও; (আসলে) মানুষ হচ্ছে (নেহায়াত) অকৃতজ্ঞ ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬৮﴿
﴾ ১৭:৬৮ ﴿
أَفَأَمِنْتُمْ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمْ جَانِبَ الْبَرِّ أَوْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا ثُمَّ لَا تَجِدُوا لَكُمْ وَكِيلًا ﴿٦٨﴾
তোমরা কি করে নিশ্চিত হয়ে গেছে, তিনি তোমাদের স্থলে এনে (এর কোথাও) তোমাদের গেড়ে দেবেন না, অথবা তোমাদের উপর (মরণমুখী) কোনো ধূলিঝড় নাযিল করবেন না, (এমন অবস্থা যখন আসবে) তখন তোমরা কোনো অভিভাবকও পাবে না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৬৯﴿
﴾ ১৭:৬৯ ﴿
أَمْ أَمِنْتُمْ أَنْ يُعِيدَكُمْ فِيهِ تَارَةً أُخْرَى فَيُرْسِلَ عَلَيْكُمْ قَاصِفًا مِنَ الرِّيحِ فَيُغْرِقَكُمْ بِمَا كَفَرْتُمْ ثُمَّ لَا تَجِدُوا لَكُمْ عَلَيْنَا بِهِ تَبِيعًا ﴿٦٩﴾
অথবা তোমরা এ ব্যাপারেও কি নিশ্চিত হয়ে গেছো যে, তিনি পুনরায় তোমাদের সেখানে নিয়ে যাবেন না এবং (স্থলে এসে যে আচরণ তোমরা তাঁর সাথে করছো, ) তোমাদের (সেই) অকৃতজ্ঞতার শাস্তিস্বরূপ তিনি অতপর তোমাদের উপর প্রচন্ড ঝড় পাঠাবেন না এবং তোমাদের (উত্তাল) সমুদ্রে ডুবিয়ে দেবেন না! (আর এমন অবস্থা দেখা দিলে) তোমাদের জন্যে (সেদিন) আমার মোকাবেলায় কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭০﴿
﴾ ১৭:৭০ ﴿
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا ﴿٧٠﴾
আমি অবশ্যই আদম সন্তানদের মর্যাদা দান করেছি, স্থলে ও সমুদ্রে আমি ওদের চলাচলের বাহন দিয়েছি এবং তাদের পবিত্র (জিনিসসমুহ দিয়ে) আমি রিযিক দান করেছি, অতপর আমি অন্য যতো কিছু সৃষ্টি করেছি তার অধিকাংশের উপরই আমি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭১﴿
﴾ ১৭:৭১ ﴿
يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ فَمَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَأُولَئِكَ يَقْرَءُونَ كِتَابَهُمْ وَلَا يُظْلَمُونَ فَتِيلًا ﴿٧١﴾
যেদিন আমি প্রত্যেক জাতিকে তাদের নেতাদের সাথে ডাকবো, সেদিন যাদের আমলনামা তাদের ডান হাতে দেয়া হবে, তারা (খুশী হয়ে তা) পড়তে শুরু করবে, তাদের উপর সেদিন বিন্দুমাত্রও যুলুম করা হবে না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭২﴿
﴾ ১৭:৭২ ﴿
وَمَنْ كَانَ فِي هَذِهِ أَعْمَى فَهُوَ فِي الْآخِرَةِ أَعْمَى وَأَضَلُّ سَبِيلًا ﴿٧٢﴾
যে ব্যক্তি (জেনে বুঝে) এখানে (সত্য থেকে) অন্ধ হয়ে থেকেছে, পরকালেও সে (আল্লাহর নেয়ামত থেকে) অন্ধ থেকে যাবে এবং (হেদায়াত থেকেও) সে হবে পথহারা!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭৩﴿
﴾ ১৭:৭৩ ﴿
وَإِنْ كَادُوا لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ لِتَفْتَرِيَ عَلَيْنَا غَيْرَهُ وَإِذًا لَاتَّخَذُوكَ خَلِيلًا ﴿٧٣﴾
(হে নবী, ) আমি তোমার প্রতি যে ওহী পাঠিয়েছি, তার (প্রচার ও প্রতিষ্ঠা) থেকে তোমার পদস্খলন ঘটাবার ব্যাপারে এরা কোনো প্রকার চষ্টো থেকেই বিরত থাকেনি, যাতে করে তুমি (ওহীর বদলে) আমার সম্পর্কে কিছু মিথ্যা কথা বানাতে শুরু করো, (যদি তেমন কিছু করতে) তাহলে এরা তোমাকে (তাদের ঘনিষ্ঠ) বন্ধু বানিয়ে নিতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭৪﴿
﴾ ১৭:৭৪ ﴿
وَلَوْلَا أَنْ ثَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا ﴿٧٤﴾
যদি আমি তোমাকে অবিচল না রাখতাম তাহলে তুমি অবশ্যই তাদের দিকে সামান্য কিছুটা হলেও) ঝুঁকে পড়তে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭৫﴿
﴾ ১৭:৭৫ ﴿
إِذًا لَأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًا ﴿٧٥﴾
(আর এমনটি যদি হতো) তাহলে (এ) জীবনে ও মৃত্যু পরবর্তীকালে আমি তোমাকে দ্বিগুণ (শাস্তি) আস্বাদন করাতাম, অতপর তুমি আমার বিরুদ্ধে তখন কোনোই সাহায্যকারী পেতে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭৬﴿
﴾ ১৭:৭৬ ﴿
وَإِنْ كَادُوا لَيَسْتَفِزُّونَكَ مِنَ الْأَرْضِ لِيُخْرِجُوكَ مِنْهَا وَإِذًا لَا يَلْبَثُونَ خِلَافَكَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿٧٦﴾
(হে নবী, ) এরা এ ব্যাপারেও কোনো চেষ্টার ত্রুটি করেনি যে, তোমাকে এ ভূখন্ড থেকে উৎখাত করে (এর বাইরে কোথাও ফেলে) দেবে, যদি তেমনটি হতো তাহলে তোমার পরে তারা নিজেরাও (সেখানে) সামান্য কিছুক্ষণই মাত্র টিকে থাকতে পারতো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭৭﴿
﴾ ১৭:৭৭ ﴿
سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا ﴿٧٧﴾
তোমার আগে আমি যতো নবী রসুল পাঠিয়েছিলাম তাদের ব্যাপারে এই ছিলো আমার নিয়ম, আর তুমি আমার সে নিয়মের কখনো রদবদল (দেখতে পাবে না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭৮﴿
﴾ ১৭:৭৮ ﴿
أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا ﴿٧٨﴾
(হে নবী, ) সুর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত (সময়ের ভেতর) নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং ফজরের সময় কোরআন তেলাওয়াত (জারি রাখবে) ; অবশ্য ফজরের কোরআন তেলাওয়াত (সহজেই) পরিলক্ষিত হয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৭৯﴿
﴾ ১৭:৭৯ ﴿
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا ﴿٧٩﴾
রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ (নামায) প্রতিষ্ঠা করো, এটা তোমার জন্যে (ফরয নামাযের) অতিরিক্ত (একটা নামায) , আশা করা যায় তোমার মালিক এর (বরকত) দ্বারা তোমাকে প্রশংসিত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮০﴿
﴾ ১৭:৮০ ﴿
وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا ﴿٨٠﴾
তুমি বলো, হে আমার মালিক (যেখানেই আমাকে নিয়ে যাও না কেন) , তুমি আমাকে সত্যের সাথে নিয়ে যেও এবং (যেখান থেকেই আমাকে বের করো না কেন) সত্যের সাথেই বের করো এবং তোমার কাছ থেকে আমার জন্যে একটি সাহায্যকারী (রাষ্ট্র) শক্তি প্রদান করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮১﴿
﴾ ১৭:৮১ ﴿
وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا ﴿٨١﴾
তুমি বলো সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা (চিরতরে) বিলুপ্ত হয়ে গেছে; অবশ্যই মিথ্যাকে বিলুপ্ত হতে হবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮২﴿
﴾ ১৭:৮২ ﴿
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا ﴿٨٢﴾
আমি কোরআনে যা কিছু নাযিল করি তা হচ্ছে ঈমানদারদের জন্যে (তাদের রোগের) উপশমকারী ও রহমত, কিন্তু এ সত্ত্বেও তা যালেমদের জন্যে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮৩﴿
﴾ ১৭:৮৩ ﴿
وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الْإِنْسَانِ أَعْرَضَ وَنَأَى بِجَانِبِهِ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ كَانَ يَئُوسًا ﴿٨٣﴾
যখন আমি মানুষদের উপর কোনোরকম অনুগ্রহ করি তখন (তারা কৃতজ্ঞতার বদলে আমার দিক থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং (নিজেকে) দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়, আবার যখন (কোনোরকম) কষ্ট মসিবত তাকে স্পর্শ করে তখন সে (একেবারে) নিরাশ হয়ে পড়ে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮৪﴿
﴾ ১৭:৮৪ ﴿
قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ أَهْدَى سَبِيلًا ﴿٨٤﴾
(হে নবী, এদের) তুমি বলো, প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ প্রকৃতির উপর কাজ করে যাচ্ছে; অতপর তোমাদের মালিক ভালো করেই জানেন কে সঠিক পথের উপর রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮৫﴿
﴾ ১৭:৮৫ ﴿
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا ﴿٨٥﴾
(হে নবী, ) এরা তোমার কাছে জানতে চায় রূহ' কি (জিনিস) , তুমি (এদের) বলো, রূহ হচ্ছে আমার মালিকের আদেশ সম্পর্কিত একটি বিষয়, (আসলে সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে) তোমাদের যা কিছু জ্ঞান দেয়া হয়েছে তা নিতান্ত কম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮৬﴿
﴾ ১৭:৮৬ ﴿
وَلَئِنْ شِئْنَا لَنَذْهَبَنَّ بِالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ بِهِ عَلَيْنَا وَكِيلًا ﴿٨٦﴾
(তারপরও) আমি তোমার প্রতি যে (কতোটুকু) ওহী পাঠিয়েছি, যদি আমি চাইতাম তা অবশ্যই তোমার উপর থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারতাম, আর (তেমন কিছু হলে) তুমি আমার মোকাবেলায় কোনোই সাহায্যকারী পেতে না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮৭﴿
﴾ ১৭:৮৭ ﴿
إِلَّا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ إِنَّ فَضْلَهُ كَانَ عَلَيْكَ كَبِيرًا ﴿٨٧﴾
কিন্তু (এটা হচ্ছে) তোমার মালিকের একান্ত দয়া; এতে কোনোই সন্দেহ নেই, তোমার উপর তার অনুগ্রহ অনেক বড়ো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮৮﴿
﴾ ১৭:৮৮ ﴿
قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا ﴿٨٨﴾
তুমি (তাদের এও) বলো, যদি সব মানুষ ও জ্বিন (এ কাজের জন্যে) একত্রিত হয় যে, তারা এ কোরআনের অনুরূপ (কোনো কিছু) বানিয়ে আনবে, তাতেও তারা এর মতো কিছু (তৈরী করে) আনতে পারবে না, যদিও এ ব্যাপারে তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয় (তবুও নয়) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৮৯﴿
﴾ ১৭:৮৯ ﴿
وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا ﴿٨٩﴾
আমি এ কোরআনের মধ্যে মানুষদের (বুঝানোর) জন্যে সব ধরণের উপমা দ্বারা (হেদায়াতের বাণী) বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা অমান্য না করে ক্ষান্ত হলো না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯০﴿
﴾ ১৭:৯০ ﴿
وَقَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الْأَرْضِ يَنْبُوعًا ﴿٩٠﴾
এরা বলে, কখনোই আমরা তোমার উপর ঈমান আনবো না, যতোক্ষণ না তুমি আমাদের জন্যে এ যমীন থেকে এক প্রস্রবণ (ধারা) প্রবাহিত না করবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯১﴿
﴾ ১৭:৯১ ﴿
أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الْأَنْهَارَ خِلَالَهَا تَفْجِيرًا ﴿٩١﴾
কিংবা তোমার জন্যে খেজুরের অথবা আংগুরের একটি বাগান (তৈরী) হবে এবং তাতে তুমি অসংখ্য নদীনালা বইয়ে দেবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯২﴿
﴾ ১৭:৯২ ﴿
أَوْ تُسْقِطَ السَّمَاءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ تَأْتِيَ بِاللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ قَبِيلًا ﴿٩٢﴾
অথবা যেমন করে তুমি (কেয়ামত সম্পর্কে) মনে করো সে অনুযায়ী আসমানকে টুকরো টুকরো করে আমাদের উপর ফেলে দেবে অথবা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা ও (তাঁর) ফেরেশতাকে আমাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯৩﴿
﴾ ১৭:৯৩ ﴿
أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِنْ زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقَى فِي السَّمَاءِ وَلَنْ نُؤْمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَابًا نَقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلَّا بَشَرًا رَسُولًا ﴿٩٣﴾
কিংবা থাকবে তোমার কোনো স্বর্ণ নির্মিত ঘর অথবা তুমি আরোহণ করবে আসমানে; কিন্তু আমরা তোমার (আকাশে) চড়ার ঘটনাও বিশ্বাস করবো না, যতোক্ষণ না তুমি (সেখান থেকে) আমাদের জন্যে একটি কিতাব নিয়ে আসবে যা আমরা পড়তে পারবো; (হে নবী, ) তুমি (এদের শুধু এটুকু) বলো, মহান পবিত্র (আমার) আল্লাহ তায়ালা, আমি তো কেবল (তাঁর পক্ষ থেকে) একজন মানুষ, (একজন) রসুল বৈ কিছুই নই ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯৪﴿
﴾ ১৭:৯৪ ﴿
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى إِلَّا أَنْ قَالُوا أَبَعَثَ اللَّهُ بَشَرًا رَسُولًا ﴿٩٤﴾
যখনই মানুষদের কাছে (আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে) হেদায়াত এসেছে তখন তাদের ঈমান আনা থেকে এ ছাড়া অন্য কোনো জিনিসই বিরত রাখেনি যে, তারা বলতো, আল্লাহ তায়ালা (আমাদের মতো) একজন মানুষকেই কি নবী করে পাঠালেন!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯৫﴿
﴾ ১৭:৯৫ ﴿
قُلْ لَوْ كَانَ فِي الْأَرْضِ مَلَائِكَةٌ يَمْشُونَ مُطْمَئِنِّينَ لَنَزَّلْنَا عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ مَلَكًا رَسُولًا ﴿٩٥﴾
(হে নবী, ) তুমি (তাদের) বলো, (যদি এ) যমীনে ফেরেশতারাই (বসবাস করতো এবং তারা এখানে) নিশ্চিন্তভাবে ঘুরে বেড়াতো, তাহলে অবশ্যই আমি তাদের জন্যে আসমান থেকে কোনো ফেরেশতাকেই নবী করে পাঠাতাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯৬﴿
﴾ ১৭:৯৬ ﴿
قُلْ كَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ إِنَّهُ كَانَ بِعِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا ﴿٩٦﴾
তুমি বলো, আমার এবং তোমাদের মাঝে আল্লাহ তায়ালাই (আমি মনে করি) সাক্ষী হিসেবে যথষ্টে, অবশ্যই তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে জানেন, তিনি (তাদের সব আচরণও) দেখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯৭﴿
﴾ ১৭:৯৭ ﴿
وَمَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِهِ وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمًّا مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا ﴿٩٧﴾
যাকে আল্লাহ তায়ালা হেদায়াত দান করেন সে-ই (মুলত) হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়, আর যাকে তিনি গোমরাহ করেন তাদের (হেদায়াতদানের) জন্যে (হে নবী, ) তুমি আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর অন্য কাউকেই সাহায্যকারী পাবে না; এমন সব গোমরাহ লোকদের আমি কেয়ামতের দিন মুখের উপর ভর দিয়ে চলা অবস্থায় একত্রিত করবো, এরা তখন হবে অন্ধ, বোবা ও বধির; এদের সবার ঠিকানা হবে জাহান্নাম; যতোবার তা স্তিমিত হয়ে আসবে ততোবার আমি তাকে তাদের জন্যে (প্রজ্বলিত করে) আরো বাড়িয়ে দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯৮﴿
﴾ ১৭:৯৮ ﴿
ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا وَقَالُوا أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا ﴿٩٨﴾
এ হচ্ছে তাদের (যথার্থ) শাস্তি, কেননা তারা আমার আয়াতসমুহকে অস্বীকার করতো, তারা আরো বলতো, (মৃত্যুর পর) যখন আমরা অস্থিতে পরিণত হয়ে যাবো ও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবো, তখনও কি আমরা নতুন সৃষ্টিরূপে উত্থিত হবো?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:৯৯﴿
﴾ ১৭:৯৯ ﴿
أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلًا لَا رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى الظَّالِمُونَ إِلَّا كُفُورًا ﴿٩٩﴾
এ (মুখ) লোকেরা কি ভেবে দেখেনি, আল্লাহ তায়ালা যিনি আসমানসমুহ ও যমীন পয়দা করেছেন, তিনি এ বিষয়ের উপরও ক্ষমতা রাখেন যে, তাদের মতো মানুষদের তিনি সৃষ্টি করতে পারেন, (দ্বিতীয় বার) তাদের পয়দা করার জন্যে একটি ক্ষণ তিনি নির্ধারণ করে রেখেছেন যাতে কোন রকম সন্দেহের অবকাশ নেই; তথাপি এ যালেম লোকেরা (সেদিনকে) অস্বীকার করেই যাচ্ছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০০﴿
﴾ ১৭:১০০ ﴿
قُلْ لَوْ أَنْتُمْ تَمْلِكُونَ خَزَائِنَ رَحْمَةِ رَبِّي إِذًا لَأَمْسَكْتُمْ خَشْيَةَ الْإِنْفَاقِ وَكَانَ الْإِنْسَانُ قَتُورًا ﴿١٠٠﴾
(হে নবী, ) বলো, আমার মালিকের দয়ার ভান্ডার যদি তোমাদের করায়ত্তে থাকতো, তবে তা ব্যয় হয়ে যাবে এ ভয়ে তোমরা তা আকঁড়ে রাখতে চাইতে, (আসলে) মানুষ (স্বভাবগতভাবেই) অতিশয় কৃপণ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০১﴿
﴾ ১৭:১০১ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ فَاسْأَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِذْ جَاءَهُمْ فَقَالَ لَهُ فِرْعَوْنُ إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا مُوسَى مَسْحُورًا ﴿١٠١﴾
আমি মুসাকে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছিলাম, অতএব (হে নবী) , তুমি স্বয়ং বনী ইসরাঈলদের কাছেই (কথাটা) জিজ্ঞেস করো, যখন সে তাদের কাছে (নবী হয়ে) এসেছিলো, তখন ফেরাউন তাকে বলেছিলো, হে মুসা, আমি মনে করি তুমি একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০২﴿
﴾ ১৭:১০২ ﴿
قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا فِرْعَوْنُ مَثْبُورًا ﴿١٠٢﴾
(এর জবাবে) সে (মুসা) বলেছিলো, তুমি একথা ভালো করেই জানো, (নবুওতের প্রমাণ সম্বলিত এসব) অন্তদৃষ্টিসম্পন্ন জ্ঞান আসমানসমুহ ও যমীনের মালিক ছাড়া আর কেউই নাযিল করেননি, হে ফেরাউন, আমি তো মনে করি তুমি সত্যিই একজন ধ্বংসপ্রাপ্ত মানুষ ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০৩﴿
﴾ ১৭:১০৩ ﴿
فَأَرَادَ أَنْ يَسْتَفِزَّهُمْ مِنَ الْأَرْضِ فَأَغْرَقْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ جَمِيعًا ﴿١٠٣﴾
অতপর সে (ফেরাউন) তাদের (এ) যমীন থেকে উৎখাত করে দিতে চাইলো, কিন্তু আমি তাকে এবং যারা তার সংগী-সাথী ছিলো তাদের সবাইকে (এ না-ফরমানীর জন্যে) সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০৪﴿
﴾ ১৭:১০৪ ﴿
وَقُلْنَا مِنْ بَعْدِهِ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ اسْكُنُوا الْأَرْضَ فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ الْآخِرَةِ جِئْنَا بِكُمْ لَفِيفًا ﴿١٠٤﴾
অতপর আমি বনী ইসরাঈলদের বললাম, (এবার) তোমরা এ যমীনে (নির্বিবাদে) বসবাস করো, এরপর যখন আখেরাতের প্রতিশ্রুতি (-র সময়) আসবে তখন আমি তোমাদের সবাইকে সংকুচিত করে (আমার সামনে) নিয়ে আসবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০৫﴿
﴾ ১৭:১০৫ ﴿
وَبِالْحَقِّ أَنْزَلْنَاهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ﴿١٠٥﴾
এ (কোরআন) -কে আমি সত্য (বাণী) সহকারে নাযিল করেছি, তাই তা সত্য নিয়েই নাযিল হয়েছে; আমি তো তোমাকে কেবল (জান্নাতের সুসংবাদদাতা ও (জাহান্নামের) সতর্ককারীরূপেই প্রেরণ করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০৬﴿
﴾ ১৭:১০৬ ﴿
وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا ﴿١٠٦﴾
আমি কোরআনকে (ভাগে ভাগে) বিভক্ত করে দিয়েছি, যাতে করে তুমিও ক্রমে ক্রমে তা মানুষদের সামনে পড়তে পারো, আর (এ কারণেই) আমি তা পর পর নাযিল করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০৭﴿
﴾ ১৭:১০৭ ﴿
قُلْ آمِنُوا بِهِ أَوْ لَا تُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا ﴿١٠٧﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, তোমরা এ (কোরআন) -কে মানো কিংবা না মানো (তাতে এর মর্যাদা মোটেই ক্ষুন্ন হবে না) , যাদের এর আগে (আসমানী কিতাবের) জ্ঞান দেয়া হয়েছে (তাদের অবস্থা হচ্ছে) , যখনি তাদের সামনে এটি পড়া হয় তারা নিজেদের মুখের উপর সাজদায় লুটিয়ে পড়ে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০৮﴿
﴾ ১৭:১০৮ ﴿
وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًا ﴿١٠٨﴾
তখন তারা বলে, আমাদের মালিক পবিত্র, অবশ্যই আমাদের মালিকের ওয়াদা পরিপূর্ণ হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১০৯﴿
﴾ ১৭:১০৯ ﴿
وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا ﴿١٠٩﴾
আর তারা কাঁদতে কাঁদতে মুখের উপর ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে, (মুলত) এ (কোরআন) তাদের বিনয়ই বৃদ্ধি করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১১০﴿
﴾ ১৭:১১০ ﴿
قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا ﴿١١٠﴾
তুমি (আরো) বলো, তোমরা (আল্লাহ তায়ালাকে) আল্লাহ (বলে) ডাকো কিংবা রহমান; তোমরা যে নামেই তাঁকে ডাকো, তাঁর সবকটি নামই উত্তম, (হে নবী) , চীৎকার করে নামায পড়ো না, আবার তা অতিশয় ক্ষীণভাবেও নয়, বরং (নামায পড়ার সময়) এ দু'য়ের মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৭:১১১﴿
﴾ ১৭:১১১ ﴿
وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا ﴿١١١﴾
তুমি আরো বলো, সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্যে, যিনি কখনো কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সার্বভৌমত্বে কখনোই কারো কোনো অংশীদারিত্ব ছিলো না, না তিনি কখনো দুর্দশাগ্রস্ত হন যে, তাঁর কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন হয় (তিনি সব কিছুর ঊর্ধ্বে) , তুমি (শুধু) তাঁরই মাহাত্ম ঘোষণা করো পরমতম মাহাত্ম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]