🕋
الكهف
(১৮) আল-কাহফ
১১০
﴾১৮:১﴿
﴾ ১৮:১ ﴿
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجَا ﴿١﴾
সব তারীফ আল্লাহ তায়ালার জন্যে, যিনি তাঁর (একজন বিশেষ) বান্দার প্রতি (এ) গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তার কোথাও তিনি কোনোরকম বক্রতা রাখেননি;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২﴿
﴾ ১৮:২ ﴿
قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا ﴿٢﴾
(একে তিনি) প্রতিষ্ঠিত করেছেন (সহজ সরল একটি পথের উপর) , যাতে করে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সে (নবী তাদের জাহান্নামের আযাবের ব্যাপারে) সতর্ক করে দিতে পারে এবং যারা ঈমানদার, যারা নেক কাজ করে, তাদের সে (এ মর্মে) সুসংবাদ দিতে পারে (যে) , তাদের জন্যে আল্লাহর দরবারে উত্তম পুরস্কার রয়েছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩﴿
﴾ ১৮:৩ ﴿
مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا ﴿٣﴾
যেখানে তারা চিরকাল থাকবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪﴿
﴾ ১৮:৪ ﴿
وَيُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا ﴿٤﴾
এবং সেসব লোকদেরও ভয় দেখাবে যারা (মুখের মতো) বলে, আল্লাহ তায়ালা সন্তান গ্রহণ করেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫﴿
﴾ ১৮:৫ ﴿
مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا ﴿٥﴾
(অথচ এ দাবীর পক্ষে) তাদের কাছে কোনো জ্ঞান (-সম্মত দলীল প্রমাণ) নেই, তাদের বাপ দাদাদের কাছেও (এ ব্যাপারে কোনো যুক্তি) ছিলো না; এ সত্যিই বড়ো একটি কঠিন কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হচ্ছে; (আসলে) তারা (জঘন্য) মিথ্যা ছাড়া কিছুই বলে না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬﴿
﴾ ১৮:৬ ﴿
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ إِنْ لَمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا ﴿٦﴾
(হে নবী, ) যদি এরা এ কথার উপর ঈমান না আনে তাহলে মনে হয় দুঃখে-কষ্টে তুমি এদের পেছনে নিজেকেই বিনাশ করে দেবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭﴿
﴾ ১৮:৭ ﴿
إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ﴿٧﴾
যা কিছু এ যমীনের বুকে আছে আমি তাকে তার জন্যে শোভা বর্ধনকারী (করে) পয়দা করেছি, যাতে করে তাদের আমি পরীক্ষা করতে পারি যে, তাদের মধ্যে (কাজকর্মের দিক থেকে) কে বেশী উত্তম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮﴿
﴾ ১৮:৮ ﴿
وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا ﴿٨﴾
(আজ) যা কিছু এর উপর আছে, (একদিন ধ্বংস করে দিয়ে একে) আমি উদ্ভিদশুন্য মাটিতে পরিণত করে দেবো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯﴿
﴾ ১৮:৯ ﴿
أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ كَانُوا مِنْ آيَاتِنَا عَجَبًا ﴿٩﴾
(হে নবী, ) তুমি কি মনে করো যে, গুহা ও পাহাড়ের (উপত্যকার) অধিবাসীরা আমার নিদর্শনসমুহের মধ্যে একটি বিস্ময়কর নিদর্শন ছিলো?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০﴿
﴾ ১৮:১০ ﴿
إِذْ أَوَى الْفِتْيَةُ إِلَى الْكَهْفِ فَقَالُوا رَبَّنَا آتِنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا ﴿١٠﴾
(ঘটনাটি এমন হয়েছিলো, ) কতিপয় যুবক যখন গুহায় আশ্রয় নিলো, অতপর তারা (আল্লাহর দরবারে এই বলে) দোয়া করলো, হে আমাদের মালিক, একান্ত তোমার কাছ থেকে আমাদের উপর তুমি অনুগ্রহ দান করো, আমাদের কাজকর্ম (আঞ্জাম দেয়ার জন্যে) তুমি আমাদের সঠিক পথ দেখাও ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১১﴿
﴾ ১৮:১১ ﴿
فَضَرَبْنَا عَلَى آذَانِهِمْ فِي الْكَهْفِ سِنِينَ عَدَدًا ﴿١١﴾
অতপর আমি গুহার ভেতরে তাদের কানে বহু বছর ধরে (ঘুমের) পর্দা লাগিয়ে রাখলাম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১২﴿
﴾ ১৮:১২ ﴿
ثُمَّ بَعَثْنَاهُمْ لِنَعْلَمَ أَيُّ الْحِزْبَيْنِ أَحْصَى لِمَا لَبِثُوا أَمَدًا ﴿١٢﴾
তারপর (এক পর্যায়ে) আমি তাদের (ঘুম থেকে উঠিয়ে দিলাম, যাতে করে আমি একথা জেনে নিতে পারি (তাদের) দু'দলের মধ্যে কোন দলটি ঠিক করে বলতে পারে যে, তারা কতোদিন সেখানে অবস্থান করেছিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১৩﴿
﴾ ১৮:১৩ ﴿
نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُمْ بِالْحَقِّ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى ﴿١٣﴾
(হে নবী, ) আমিই তোমার কাছে তাদের বৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি; (মুলত) তারা ছিলো কতিপয় নওজোয়ান ব্যক্তি, যারা তাদের মালিকের উপর ঈমান এনেছিলো, আমি তাদের হেদায়াতের পথে এগিয়েও দিয়েছিলাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১৪﴿
﴾ ১৮:১৪ ﴿
وَرَبَطْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ إِذْ قَامُوا فَقَالُوا رَبُّنَا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَنْ نَدْعُوَ مِنْ دُونِهِ إِلَهًا لَقَدْ قُلْنَا إِذًا شَطَطًا ﴿١٤﴾
আমি তাদের অন্তকরণকে (ধৈর্য দ্বারা) দৃঢ়তা দান করেছি, যখন তারা (আল্লাহর পথে) দাঁড়িয়ে গেলো এবং ঘোষণা করলো, আমাদের মালিক তো হচ্ছেন তিনি, যিনি আসমানসমুহ ও যমীনের মালিক, আমরা কখনো আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কাউকে ডাকবো না, যদি (আমরা) এমন (অযৌক্তিক) কথা বলি তাহলে (তা হবে মারাত্মক) দ্বীন বিরোধী কাজ ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১৫﴿
﴾ ১৮:১৫ ﴿
هَؤُلَاءِ قَوْمُنَا اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً لَوْلَا يَأْتُونَ عَلَيْهِمْ بِسُلْطَانٍ بَيِّنٍ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا ﴿١٥﴾
এরা হচ্ছে আমাদের স্বজাতির (লোক, যারা) তাঁকে বাদ দিয়ে অসংখ্য মাবুদ (-এর গোলামী) গ্রহণ করেছে; (তারা যদি সত্যবাদীই হয় তাহলে) তারা স্পষ্ট দলীল নিয়ে আসে না কেন? তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে, যে আল্লাহ তায়ালার উপর মিথ্যা আরোপ করে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১৬﴿
﴾ ১৮:১৬ ﴿
وَإِذِ اعْتَزَلْتُمُوهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ فَأْوُوا إِلَى الْكَهْفِ يَنْشُرْ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيُهَيِّئْ لَكُمْ مِنْ أَمْرِكُمْ مِرْفَقًا ﴿١٦﴾
(অতপর জোয়ানরা পরস্পরকে বললো, ) আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্যদের যারা মাবুদ বানায় তাদের কাছ থেকে তোমরা যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে চলেই গেলে, তখন তোমরা (এখান থেকে বের হয়ে বিশেষ) একটি গুহায় গিয়ে আশ্রয় নাও, (সেখানে) তোমাদের মালিক তোমাদের উপর তাঁর রহমতের (ছায়া) বিস্তার করে দেবেন এবং তোমাদের বিষয়গুলো তোমাদের জন্যে সহজ করে দেবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১৭﴿
﴾ ১৮:১৭ ﴿
وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ وَهُمْ فِي فَجْوَةٍ مِنْهُ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُرْشِدًا ﴿١٧﴾
(হে নবী, ) তুমি যদি (সে গুহা দেখতে, তাহলে) দেখতে পেতে, তারা তার (মধ্যবর্তী) এক প্রশস্ত চত্বরে অবস্থান করছে, সুর্য (তার) উদয়কালে তাদের গুহার দক্ষিণ পাশ দিয়ে হেলে যাচ্ছে, (আবার) যখন তা অস্ত যায় তখন তা গুহার বাম পাশ দিয়ে অতিক্রম করে ( সুর্যের প্রখরতা কখনো তাদের কষ্টের কারণ হয় না) ; আসলে এ সবই হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার (কুদরতের) নিদর্শন, (এ সব নিদর্শনের মাধ্যমে) আল্লাহ তায়ালা যাকে হেদায়াত দান করেন সে-ই একমাত্র হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়, আর (যাকে) তিনি গোমরাহ করেন সে কখনো কোনো পথ প্রদর্শনকারী ও অভিভাবক পেতে পারে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১৮﴿
﴾ ১৮:১৮ ﴿
وَتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَهُمْ رُقُودٌ وَنُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَذَاتَ الشِّمَالِ وَكَلْبُهُمْ بَاسِطٌ ذِرَاعَيْهِ بِالْوَصِيدِ لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا ﴿١٨﴾
(হে নবী, তুমি যদি দেখতে তাহলে) তুমি তাদের ভাবতে, তারা বুঝি জেগেই রয়েছে, অথচ তারা কিন্তু ঘুমন্ত, আমি তাদের (কখনো) ডানে (কখনো) বামে পরিবর্তন করে দিতাম, তাদের কুকুরটি (গুহার) সামনে তার হাত দুটি প্রসারিত করে (পাহারারত অবস্থায় বসে) ছিলো, তুমি যদি তাদের দিকে (সত্যি) উঁকি মেরে দেখতে, তাহলে তুমি অবশ্যই তাদের কাছ থেকে পেছনে ফিরে পালিয়ে যেতে এবং তাদের (এ আজব দৃশ্য দেখে তুমি নিসন্দেহে ভয়ে (তাদের থেকে) আতংকিত হয়ে যেতে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১৯﴿
﴾ ১৮:১৯ ﴿
وَكَذَلِكَ بَعَثْنَاهُمْ لِيَتَسَاءَلُوا بَيْنَهُمْ قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالُوا رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هَذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنْظُرْ أَيُّهَا أَزْكَى طَعَامًا فَلْيَأْتِكُمْ بِرِزْقٍ مِنْهُ وَلْيَتَلَطَّفْ وَلَا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا ﴿١٩﴾
এ ভাবেই তাদের আমি (ঘুম থেকে) উঠিয়ে দিলাম, যাতে করে তারা (তাদের অবস্থান সম্পর্কে) নিজেরা পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে; (কথা প্রসংগে) তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো (বলো তো) , তোমরা এ গুহায় কতোকাল অবস্থান করেছে; তারা বললো, (বড়ো জোর) একদিন কিংবা একদিনের কিছু অংশ আমরা (এখানে) অবস্থান করেছি; অতপর (যখন তারা একমত হতে পারলো না তখন তারা বললো, তোমাদের মালিকই এ কথা জানেন, তোমরা (এ গুহায়) কতো কাল অবস্থান করেছে; এখন (সে বিতর্ক রেখে বরং) তোমরা তোমাদের একজনকে তোমাদের এ মুদ্রাসহ শহরে পাঠাও, সে (বাজারে) গিয়ে দেখুক কোন খাবার উত্তম, অতপর সেখান থেকে কিছু খাবার তোমাদের কাছে নিয়ে আসুক, সে যেন বিচক্ষণতার সাথে কাজ করে এবং সে যেন কোনো অবস্থায় কাউকে তোমাদের ব্যাপারে কিছু জানতে না দেয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২০﴿
﴾ ১৮:২০ ﴿
إِنَّهُمْ إِنْ يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ وَلَنْ تُفْلِحُوا إِذًا أَبَدًا ﴿٢٠﴾
তারা হচ্ছে (এমন) সব লোক যদি তাদের কাছে তোমাদের (কথাটি) তারা প্রকাশ করে দেয়, তাহলে তারা তোমাদের প্রস্তরাঘাত (করে হত্যা) করবে কিংবা তোমাদের (জোর করে) তারা তাদের দ্বীনে ফিরিয়ে নেবে, (আর একবার) তেমনটি হলে কখনোই তোমরা মুক্তি পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২১﴿
﴾ ১৮:২১ ﴿
وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِمْ بُنْيَانًا رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدًا ﴿٢١﴾
আর এভাবেই আমি (একদিন) তাদের ব্যাপার (শহরবাসীদের) জানিয়ে দিলাম, যাতে করে তারা (এ কথা) জানতে পারে, (মৃতকে জীবন দেয়ার ব্যাপারে) আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা (আসলেই) সত্য এবং কেয়ামতের (আসার) ব্যাপারেও কোনো রকম সন্দেহ নেই, যখন তারা নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে বিতর্ক করে যাচ্ছিলো, (তখন) কিছু লোক বললো, (তাদের সম্মানে) তাদের উপর একটি (স্মৃতি-) সৌধ নির্মাণ করে দাও; (আসলে) তোমাদের মালিকই তাদের সম্পর্কে সর্বাধিক খবর রাখেন; (অপর দিকে) যেসব মানুষ তাদের কাজের উপর বেশী প্রভাবশালী ছিলো তারা বললো (স্মৃতিসৌধ বানানোর বদলে চলো) আমরা তাদের উপর একটি মাসজিদ বানিয়ে দেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২২﴿
﴾ ১৮:২২ ﴿
سَيَقُولُونَ ثَلَاثَةٌ رَابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ وَيَقُولُونَ خَمْسَةٌ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًا بِالْغَيْبِ وَيَقُولُونَ سَبْعَةٌ وَثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ قُلْ رَبِّي أَعْلَمُ بِعِدَّتِهِمْ مَا يَعْلَمُهُمْ إِلَّا قَلِيلٌ فَلَا تُمَارِ فِيهِمْ إِلَّا مِرَاءً ظَاهِرًا وَلَا تَسْتَفْتِ فِيهِمْ مِنْهُمْ أَحَدًا ﴿٢٢﴾
কিছু লোক বলে, (গুহার অধিবাসীরা ছিলো) তিন জন, ওদের মধ্যে চতুর্থটি (ছিলো) ওদের (পাহারাদার) কুকুর, (আবার) কিছু লোক বলে, (তারা ছিলো) পাঁচ জন, তাদের ষষ্ঠটি (ছিলো) ওদের কুকুর, (আসলে) অজানা অদেখা বিষয়সমুহের প্রতি এরা (খামাখা) অনুমান নিক্ষেপ করেই (এ সব কিছু) বলছে, তাদের কেউ বলে (ওরা ছিলো) সাত জন এবং অষ্টমটি ছিলো তাদের কুকুর; (হে নবী, ) তুমি (এদের) বলো (হাঁ) , আমার মালিক ভালো করেই জানেন ওদের (আসল) সংখ্যা কতো ছিলো, তাদের সংখ্যা খুব কমসংখ্যক লোকই বলতে পারে । তুমিও এদের ব্যাপারে সাধারণ আলোচনার বাইরে বেশী বিতর্ক করো না এবং তাদের সম্পর্কে (খামাখা অন্য) মানুষদের কাছেও জিজ্ঞাসাবাদ করো না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২৩﴿
﴾ ১৮:২৩ ﴿
وَلَا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَلِكَ غَدًا ﴿٢٣﴾
(হে নবী, ) কখনো কোনো কাজের ব্যাপারে এ কথা বলো না, (এ কাজটি) আমি আগামীকাল করবো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২৪﴿
﴾ ১৮:২৪ ﴿
إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ وَاذْكُرْ رَبَّكَ إِذَا نَسِيتَ وَقُلْ عَسَى أَنْ يَهْدِيَنِ رَبِّي لِأَقْرَبَ مِنْ هَذَا رَشَدًا ﴿٢٤﴾
(হাঁ, ) বরং (এভাবে বলো, আল্লাহ তায়ালা যদি চান (তাহলেই আমি আগামীকাল এ কাজটা করতে পারবো) , যদি কখনো (কোনো কিছু) ভুলে যাও তাহলে তোমার মালিককে স্মরণ করো এবং বলো, সম্ভবত আমার মালিক এর (কাহিনীর) চাইতে নিকটতর কোনো কল্যাণ দিয়ে আমাকে পথ দেখাবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২৫﴿
﴾ ১৮:২৫ ﴿
وَلَبِثُوا فِي كَهْفِهِمْ ثَلَاثَ مِائَةٍ سِنِينَ وَازْدَادُوا تِسْعًا ﴿٢٥﴾
তারা তাদের (এ) গুহায় কাটিয়েছে মোট তিনশ বছর, তারা (এর সাথে) যোগ করেছে আরো নয় (বছর) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২৬﴿
﴾ ১৮:২৬ ﴿
قُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوا لَهُ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَبْصِرْ بِهِ وَأَسْمِعْ مَا لَهُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَدًا ﴿٢٦﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, (বস্তুত) একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই সঠিক করে বলতে পারেন, ওরা (গুহায়) কতো বছর কাটিয়েছে, আসমানসমূহ ও যমীনের (যাবতীয়) গায়ব বিষয়ের জ্ঞান তো একমাত্র তাঁর (জন্যেই নির্দষ্টি রয়েছে) ; কতো সুন্দর দ্রষ্টা তিনি, কতো সুন্দর শ্রোতা তিনি। তিনি ছাড়া তাদের দ্বিতীয় কোনোই অভিভাবক নেই, আল্লাহ তায়ালা নিজের কতৃত্ব ও ক্ষমতায় অন্য কাউকে কখনো শরীক করেন না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২৭﴿
﴾ ১৮:২৭ ﴿
وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَلَنْ تَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا ﴿٢٧﴾
(হে নবী, ) তোমার উপর তোমার মালিকের যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে তা তুমি তেলাওয়াত করতে থাকো; তাঁর (কিতাবে বর্ণিত) কথাবার্তা রদবদল করার কেউই নেই, তিনি ছাড়া তুমি আর কোনোই আশ্রয়স্থল পাবে না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২৮﴿
﴾ ১৮:২৮ ﴿
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا ﴿٢٨﴾
(হে নবী, ) তুমি নিজেকে সদা সে সব মানুষদের সাথে রেখে চলবে, যারা সকাল সন্ধ্যায় তাদের মালিককে ডাকে, তারা একমাত্র তাঁরই সনত্মষ্টি কামনা করে এবং কখনো তাদের কাছ থেকে তোমার (স্নেহের) দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না, (তোমার অবস্থা দেখে এমন যেন মনে না হয় যে, ) তুমি এই পার্থিব জগতের সৌন্দর্যই কামনা করো, কখনো এমন কোনো ব্যক্তির কথামতো চলো না, যার অন্তকরণকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, আর যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির গোলামী করতে শুরু করেছে এবং যার কার্যকলাপ (আল্লাহ তায়ালার) সীমানা লংঘন করেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:২৯﴿
﴾ ১৮:২৯ ﴿
وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا ﴿٢٩﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, এ সত্য (দ্বীন) তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে এসেছে। সুতরাং যার ইচ্ছা সে (এর উপর) ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে (তা) অস্বীকার করুক, আমি তো এ (অস্বীকারকারী) যালেমদের জন্যে এমন এক আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বষ্টেনী তাদের পুরোপুরিই পরিবষ্টেন করে রাখবে; যখন তারা (পানির জন্যে) ফরিয়াদ করতে থাকবে তখন এমন এক গলিত ধাতুর মতো পানীয় তাদের দেয়া হবে, যা তাদের সমগ্র মুখমন্ডল জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেবে, কী ভীষণ (হবে সে) পানীয়; আর কী নিকৃষ্ট হবে তাদের আশ্রয়ের স্থানটি!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩০﴿
﴾ ১৮:৩০ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا ﴿٣٠﴾
আর যারাই আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে (তাদের কোনো আশংকা নেই) , আমি কখনো তাদের বিনিময় বিনষ্ট করি না যারা নেক কাজ করে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩১﴿
﴾ ১৮:৩১ ﴿
أُولَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا ﴿٣١﴾
এদের জন্যে রয়েছে এমন এক স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, তাদের সেখানে সোনার কাঁকন দ্বারা অলংকৃত করা হবে, তারা পরিধান করবে সুক্ষ ও পুরু রেশমের পোশাক, (উপরন্তু) তারা সমাসীন হবে (এক) সুসজ্জিত আসনে, কতো সুন্দর (তাদের এ) বিনিময়; কতো চমৎকার (তাদের) আশ্রয়ের (এ) স্থানটি!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩২﴿
﴾ ১৮:৩২ ﴿
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلًا رَجُلَيْنِ جَعَلْنَا لِأَحَدِهِمَا جَنَّتَيْنِ مِنْ أَعْنَابٍ وَحَفَفْنَاهُمَا بِنَخْلٍ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمَا زَرْعًا ﴿٣٢﴾
(হে নবী, ) তাদের জন্যে তুমি দু'জন লোকের উদাহরণ পেশ করো, যাদের একজনকে আমি দুটো আংগুরের বাগান দান করেছিলাম এবং তাকে দুটো (কতিপয়) খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত করে রেখেছিলাম, আবার এ দু'য়ের মধ্যবর্তী স্থানকে (পরিণত) করেছিলাম একটি সুফলা শস্যক্ষেত্রে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩৩﴿
﴾ ১৮:৩৩ ﴿
كِلْتَا الْجَنَّتَيْنِ آتَتْ أُكُلَهَا وَلَمْ تَظْلِمْ مِنْهُ شَيْئًا وَفَجَّرْنَا خِلَالَهُمَا نَهَرًا ﴿٣٣﴾
উভয় বাগানই (এক পর্যায়ে) যথষ্টে ফল দান করলো, (ফলদানে) বাগান দুটো কোনোরকম ত্রুটি করেনি, উভয় বাগানে আমি পানির ঝর্ণাধারাও প্রবাহিত করে রেখেছিলাম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩৪﴿
﴾ ১৮:৩৪ ﴿
وَكَانَ لَهُ ثَمَرٌ فَقَالَ لِصَاحِبِهِ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَنَا أَكْثَرُ مِنْكَ مَالًا وَأَعَزُّ نَفَرًا ﴿٣٤﴾
(এক পর্যায়ে) তার অনেক ফল হয়ে গেলো, অতপর (একদিন) সে তার সাথীকে কথা প্রসংগে বললো, দেখো, আমি ধন-সম্পদের দিক থেকে তোমার চাইতে (যেমন) বড়ো, তেমনি) জনবলেও আমি তোমার চাইতে বেশী শক্তিশালী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩৫﴿
﴾ ১৮:৩৫ ﴿
وَدَخَلَ جَنَّتَهُ وَهُوَ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ قَالَ مَا أَظُنُّ أَنْ تَبِيدَ هَذِهِ أَبَدًا ﴿٣٥﴾
নিজের (শক্তি সামর্থের) ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে করতে সে নিজের বাগানে গিয়ে প্রবেশ করলো এবং বললো, আমি ভাবতেই পাচ্ছি না, এ বাগান (-এর সৌন্দর্য কোনো দিন) নিশেষ হয়ে যাবে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩৬﴿
﴾ ১৮:৩৬ ﴿
وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِنْ رُدِدْتُ إِلَى رَبِّي لَأَجِدَنَّ خَيْرًا مِنْهَا مُنْقَلَبًا ﴿٣٦﴾
আমি (এও) মনে করি না, একদিন (এসব ধ্বংস হয়ে) কেয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে এবং (কেয়ামতের পর) আমাকে যদি আমার মালিকের সামনে ফিরিয়ে নেয়াও হয়, তাহলে এর চাইতে উৎকৃষ্ট কোনো কিছু আমি (সেখানে) পাবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩৭﴿
﴾ ১৮:৩৭ ﴿
قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَكَفَرْتَ بِالَّذِي خَلَقَكَ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ سَوَّاكَ رَجُلًا ﴿٣٧﴾
(তার) সে (গরীব) সাথীটি যে তার সাথে কথা বলছিলো, বললো, (এ পার্থিব সম্পদ দেখে) তুমি কি সত্যিই সে মহান সত্তাকে অস্বীকার করছো, যিনি তোমাকে (প্রথমত) মাটি থেকে অতপর শুক্রকণা থেকে পয়দা করেছেন, পরিশেষে তিনি তোমাকে (একটি) মানুষের আকৃতিতে পুর্ণাংগ করেছেন;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩৮﴿
﴾ ১৮:৩৮ ﴿
لَكِنَّا هُوَ اللَّهُ رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِرَبِّي أَحَدًا ﴿٣٨﴾
কিন্তু (আমি তো বিশ্বাস করি, ) সেই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন আমার মালিক এবং আমার মালিকের (কোনো কাজের) সাথে আমি কাউকে শরীক করি না।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৩৯﴿
﴾ ১৮:৩৯ ﴿
وَلَوْلَا إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ إِنْ تَرَنِ أَنَا أَقَلَّ مِنْكَ مَالًا وَوَلَدًا ﴿٣٩﴾
কতো ভালো হতো তুমি যখন তোমার (ফলবতী) বাগানে প্রবেশ করলে, তখন যদি তুমি (একথাটি) বলতে, আল্লাহ তায়ালা যা চেয়েছেন তাই হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা ব্যতিরেকে কারোই (কিছুই ঘটানোর) শক্তি নেই, যদিও তুমি আমাকে ধনে জনে তোমার চাইতে কম দেখলে (কিন্তু আমি আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান রাখি) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪০﴿
﴾ ১৮:৪০ ﴿
فَعَسَى رَبِّي أَنْ يُؤْتِيَنِ خَيْرًا مِنْ جَنَّتِكَ وَيُرْسِلَ عَلَيْهَا حُسْبَانًا مِنَ السَّمَاءِ فَتُصْبِحَ صَعِيدًا زَلَقًا ﴿٤٠﴾
সম্ভবত আমার মালিক আমাকে তোমার (এ পার্থিব) বাগানের চাইতে আখেরাতে উৎকৃষ্ট (কোনো বাগান) দান করবেন এবং (অকৃতজ্ঞতার জন্যে) তার উপর আসমান থেকে এমন কোনো বিপর্যয় নাযিল করবেন, ফলে তা (উদ্ভিদ) শুন্য (এক বিরান) ভূমিতে পরিণত হয়ে যাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪১﴿
﴾ ১৮:৪১ ﴿
أَوْ يُصْبِحَ مَاؤُهَا غَوْرًا فَلَنْ تَسْتَطِيعَ لَهُ طَلَبًا ﴿٤١﴾
কিংবা তার পানি তার (যমীনের) নীচেই অন্তর্হিত হয়ে যাবে, (তেমন কিছু হলে) তুমি কখনো তা (আবার) খুঁজে আনতে পারবে না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪২﴿
﴾ ১৮:৪২ ﴿
وَأُحِيطَ بِثَمَرِهِ فَأَصْبَحَ يُقَلِّبُ كَفَّيْهِ عَلَى مَا أَنْفَقَ فِيهَا وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا وَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُشْرِكْ بِرَبِّي أَحَدًا ﴿٤٢﴾
(অতপর তাই ঘটলো, ) তার (বাগানের) ফলফলাদিকে বিপর্যয় এসে ঘিরে ফেললো, তখন সে ব্যক্তি সেই ব্যয়ের উপর যা সে বাগানের (শোভাবর্ধনের পেছনে) করেছিলো, হাতের উপর হাত রেখে আক্ষেপ করতে লাগলো (বাগানের অবস্থা এমন হলো যে) , তা মুখ থুবড়ে পড়ে থাকলো এবং সে (নিজের ভুল বুঝতে পেরে) বলতে লাগলো, কতো ভালো হতো যদি আমি আমার মালিকের (ক্ষমতার সাথে অন্য কাউকে শরীক না করতাম।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪৩﴿
﴾ ১৮:৪৩ ﴿
وَلَمْ تَكُنْ لَهُ فِئَةٌ يَنْصُرُونَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مُنْتَصِرًا ﴿٤٣﴾
(যারা বাহাদুরী করেছে তাদের) কোনো দলই (আজ) তাকে আল্লাহর (এ প্রতিশোধের) মোকাবেলায় সাহায্য করার জন্যে (অবশষ্টি) রইলো না না সে নিজে কোনো রকম প্রতিশোধ নিতে পারলো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪৪﴿
﴾ ১৮:৪৪ ﴿
هُنَالِكَ الْوَلَايَةُ لِلَّهِ الْحَقِّ هُوَ خَيْرٌ ثَوَابًا وَخَيْرٌ عُقْبًا ﴿٤٤﴾
(কেননা) এখানে রক্ষা করার যাবতীয় এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহ তায়ালার, যিনি একমাত্র সত্য, পুরস্কারদানে ও পরিণাম নির্ধারণে তিনিই উত্তম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪৫﴿
﴾ ১৮:৪৫ ﴿
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاءٍ أَنْزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَأَصْبَحَ هَشِيمًا تَذْرُوهُ الرِّيَاحُ وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُقْتَدِرًا ﴿٤٥﴾
(হে নবী, ) তুমি এদের কাছে দুনিয়ার জীবনের উদাহরণ পেশ করো (এ জীবনটা হচ্ছে) পানির মতো আমি তাকে আকাশ থেকে বর্ষণ করি, যার কারণে যমীনের উদ্ভিদ ঘন (সুশোভিত) হয়ে ওঠে, অতপর এক সময় বাতাস তা উড়িয়ে নিয়ে ফিরে; (মুলত) আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর উপর প্রচন্ড ক্ষমতাবান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪৬﴿
﴾ ১৮:৪৬ ﴿
الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا ﴿٤٦﴾
(আসলে) ধন সম্পদ ও সন্তান সন্তনি হচ্ছে (তোমাদের) পার্থিব জীবনের কতিপয় (অস্থায়ী) সৌন্দর্য মাত্র, চিরস্থায়ী বিষয় হচ্ছে (মানুষের) নেক কাজ, (আর তা হচ্ছে) তোমার মালিকের কাছে পুরস্কার পাওয়ার জন্যে অনেক ভালো, আর কোনো (কল্যাণময়) কিছু কামনা করতে গেলেও তা হচ্ছে উত্তম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪৭﴿
﴾ ১৮:৪৭ ﴿
وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا ﴿٤٧﴾
যেদিন আমি পাহাড়সমুহকে চলমান করে (সরিয়ে) দেবো এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে, (তা) একটি শুন্য প্রান্তর, (সেদিন) আমি তাদের (মানবকুল) -কে এক জায়গায় জড়ো করবো, তাদের কোনো একজনকেও আমি বাদ দেবো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪৮﴿
﴾ ১৮:৪৮ ﴿
وَعُرِضُوا عَلَى رَبِّكَ صَفًّا لَقَدْ جِئْتُمُونَا كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ بَلْ زَعَمْتُمْ أَلَّنْ نَجْعَلَ لَكُمْ مَوْعِدًا ﴿٤٨﴾
তাদের (সবাই) -কে তোমার মালিকের সামনে সারিবদ্ধভাবে এনে হাযির করা হবে; (অতপর আমি বলবো, আজ তো) তোমরা সবাই আমার কাছে এসে গেছো (ঠিক) যেমনি করে আমি তোমাদের প্রথম বার পয়দা করেছিলাম, কিন্তু তোমরা (অনেকেই) মনে করতে, আমি তোমাদের (দ্বিতীয় বার আমার কাছে হাযির করার) জন্যে কোনো সময় (- সুচী) নির্ধারণ করে রাখিনি!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৪৯﴿
﴾ ১৮:৪৯ ﴿
وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا ﴿٤٩﴾
(অতপর তাদের সামনে) আমলনামা রাখা হবে, (তখন) নাফরমান ব্যক্তিদের তুমি দেখবে, সে আমলনামায় যা কিছু লিপিবদ্ধ আছে তার কারণে তারা (খুবই) আতংকগ্রস্ত থাকবে, তারা বলতে থাকবে, হায় দুর্ভাগ্য আমাদের, এ (আবার) কেমন গ্রন্থ! এ তো (দেখছি আমাদের জীবনের) ছোটো কিংবা বড়ো প্রত্যেক বিষয়েরই হিসাব রেখেছে, তারা যা কিছু করেছে তার প্রতিটি বস্তুই তারা (সে গ্রন্থে) মজুদ দেখবে, তোমার মালিক (সেদিন) কারো উপর বিন্দুমাত্র যুলুমও করবেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫০﴿
﴾ ১৮:৫০ ﴿
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا ﴿٥٠﴾
(স্মরণ করো) , যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা সবাই আদমকে সাজদা করো, তখন তারা সবাই সাজদা করলো, কিন্তু ইবলীস ছাড়া, (সে সাজদা করলো না) ; সে ছিলো (আসলে) জ্বিনদেরই একজন, সে তার মালিকের আদেশের নাফরমানী করলো; (যে এতো বড়ো নাফরমানী করলো) তোমরা কি তাকে এবং তার বংশধরদের আমার বদলে তোমাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ (প্রথম দিন থেকেই) সে তোমাদের (প্রকাশ্য) দুশমন; (চেয়ে দেখো, ) যালেমদের কি নিকৃষ্ট বিনিময় (দেয়া হয়েছে) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫১﴿
﴾ ১৮:৫১ ﴿
مَا أَشْهَدْتُهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنْفُسِهِمْ وَمَا كُنْتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّينَ عَضُدًا ﴿٥١﴾
আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করার সময় আমি তাদের কাউকে ডাকিনি, এমনকি স্বয়ং তাদের নিজেদের বানানোর সময়ও (তো আমি তাদের ডাকিনি, আসলে আমি তো অক্ষম ছিলাম না যে, তাদের পরামর্শ আমার দরকার) , অন্যদের যারা গোমরাহ করে আমি তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫২﴿
﴾ ১৮:৫২ ﴿
وَيَوْمَ يَقُولُ نَادُوا شُرَكَائِيَ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمْ مَوْبِقًا ﴿٥٢﴾
যেদিন তিনি (এদের) বলবেন, তোমরা তাদের ডাকো যাদের তোমরা (আমার শরীক) মনে করতে, অতপর ওরা তাদের ডাকবে (কিন্তু) তারা তাদের এ ডাকে কোনোই সাড়া দেবে না, আমি এদের উভয়ের মাঝখানে এক (মরণ) ফাঁদ রেখে দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫৩﴿
﴾ ১৮:৫৩ ﴿
وَرَأَى الْمُجْرِمُونَ النَّارَ فَظَنُّوا أَنَّهُمْ مُوَاقِعُوهَا وَلَمْ يَجِدُوا عَنْهَا مَصْرِفًا ﴿٥٣﴾
(এ) নাফরমান লোকেরা যখন (জাহান্নামের) আগুন দেখতে পাবে তখন তারা বুঝে যাবে, তারা (এক্ষুণি) । সেখানে গিয়ে পতিত হচ্ছে, (আর একবার সেখানে পতিত হলে) ওরা তা থেকে কখনোই মুক্তির পথ পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫৪﴿
﴾ ১৮:৫৪ ﴿
وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا ﴿٥٤﴾
আমি মানুষের (বোঝার) জন্যে এই কোরআনে সব ধরনের উপমা (ও উদাহরণ) বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু মানুষরা অধিকাংশ বিষয় নিয়েই তর্ক করে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫৫﴿
﴾ ১৮:৫৫ ﴿
وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا ﴿٥٥﴾
হেদায়াত যখন মানুষের সামনে এসে গেলো তখন ঈমান আনা ও (গুনাহের জন্যে) তাদের মালিকের কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে তাদের কোন জিনিস বিরত রাখছে, তারা (সম্ভবত) পূর্ববর্তী মানুষদের অবস্থা তাদের কাছে এসে পৌঁছানোর কিংবা (আমার) আযাব তাদের সামনে এসে হাযির হবার অপেক্ষা করছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫৬﴿
﴾ ১৮:৫৬ ﴿
وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَيُجَادِلُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَمَا أُنْذِرُوا هُزُوًا ﴿٥٦﴾
আমি তো রসুলদের পাঠাই যে, তারা (মানুষদের জন্যে জান্নাতের) সুসংবাদবাহী ও (জাহান্নামের) সতর্ককারী (হবে) , কিন্তু যারা কুফরী করেছে তারা (ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে) ঝগড়া শুরু করে, যাতে তারা সত্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে, (মুলত) তারা আমার আয়াতসমুহকে এবং যেসব বিষয় দিয়ে তাদের (জাহান্নাম থেকে) সতর্ক করা হয়েছিলো তাকে বিদ্রুপের বিষয়ে পরিণত করে নিয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫৭﴿
﴾ ১৮:৫৭ ﴿
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا وَإِنْ تَدْعُهُمْ إِلَى الْهُدَى فَلَنْ يَهْتَدُوا إِذًا أَبَدًا ﴿٥٧﴾
তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে আছে যাকে তার মালিকের আয়াতসমুহ স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং সে এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, (সর্বোপরি) যা কিছু (গুনাহের বোঝা) তার হাত দুটো অর্জন করেছে সে (তা) ভুলে যায়; আমি তাদের অন্তরের উপর (জাহেলিয়াতের) আবরণ লাগিয়ে দিয়েছি, যেন তারা (সত্য দ্বীন) বুঝতে না পারে, (এমনিভাবে) তাদের কানেও (এক ধরনের) কঠিন বস্তু ঢেলে দিয়েছি (এ কারণে তারা সত্য কথা শুনতে পায় না, অতএব হে নবী) ; তুমি ওদের যতোই হেদায়াতের পথে ডাকো না কেন, তারা কখনো হেদায়াত পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫৮﴿
﴾ ১৮:৫৮ ﴿
وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ لَوْ يُؤَاخِذُهُمْ بِمَا كَسَبُوا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ بَلْ لَهُمْ مَوْعِدٌ لَنْ يَجِدُوا مِنْ دُونِهِ مَوْئِلًا ﴿٥٨﴾
(হে নবী, ) তোমার মালিক বড়োই ক্ষমাশীল ও দয়াবান; তিনি যদি তাদের সবাইকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে শাস্তি দিতে চাইতেন, তাহলে তিনি (সহজেই) শাস্তি ত্বরান্বিত করতে পারতেন; বরং (এর পরিবর্তে তাদের জন্যে (শাস্তির) একটি প্রতিশ্রুত ক্ষণ (নির্ধারিত) আছে, যা থেকে ওদের কারোই পরিত্রাণ নেই!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৫৯﴿
﴾ ১৮:৫৯ ﴿
وَتِلْكَ الْقُرَى أَهْلَكْنَاهُمْ لَمَّا ظَلَمُوا وَجَعَلْنَا لِمَهْلِكِهِمْ مَوْعِدًا ﴿٥٩﴾
এ জনপদ (ও তাদের অধিবাসীরা) যখন (আল্লাহ তায়ালার) সীমা লংঘন করেছিলো তখন আমি তাদের নির্মল করে দিয়েছি, তাদের ধ্বংসের জন্যেও আমি একটি দিন ক্ষণ নির্দিষ্ট করে রেখেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬০﴿
﴾ ১৮:৬০ ﴿
وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِفَتَاهُ لَا أَبْرَحُ حَتَّى أَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ أَوْ أَمْضِيَ حُقُبًا ﴿٦٠﴾
(হে নবী, তুমি এদের মুসার ঘটনা শোনাও, ) যখন মুসা তার খাদেমকে বললো, যতোক্ষণ পর্যন্ত আমি দুটো সাগরের মিলনস্থলে না পৌঁছবো, ততোক্ষণ পর্যন্ত আমি (আমার পরিকল্পনা থেকে) ফিরে আসবো না, কিংবা (প্রয়োজনে এ জন্যে) দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আমি চলা অব্যাহত রাখবো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬১﴿
﴾ ১৮:৬১ ﴿
فَلَمَّا بَلَغَا مَجْمَعَ بَيْنِهِمَا نَسِيَا حُوتَهُمَا فَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ سَرَبًا ﴿٦١﴾
যখন তারা উভয়ে (সেই প্রত্যাশিত) দুটো সাগরের সংগমস্থলে এসে পৌঁছলো তখন তারা উভয়েই তাদের (খাবাবের জন্যে রাখা) মাছটির কথা ভুলে গেলো, অতপর সে মাছটি (ছুটে গিয়ে) সুড়ংয়ের মতো (একটি) পথ করে (সহজেই) সাগরে চলে গেলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬২﴿
﴾ ১৮:৬২ ﴿
فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا ﴿٦٢﴾
যখন তারা আরো কিছু দুর এগিয়ে গেলো তখন সে তার খাদেমকে বললো, (এবার) আমাদের নাশতা নিয়ে এসো, আমরা আজকের এ সফরে সত্যিই ভারী ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬৩﴿
﴾ ১৮:৬৩ ﴿
قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا ﴿٦٣﴾
সে বললো, তুমি কি দেখোনি, আমরা যখন শিলাখন্ডের পাশে বিশ্রাম করছিলাম, সত্যিই আমি মাছের কথাটি ভুলেই গিয়েছিলাম, (আসলে) শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে যে, আমি তার কথাটা স্মরণ রাখবো, আর সে (মাছটি) ও কি আশ্চর্যজনক পদ্ধতিতে নিজের পথ ধরে সাগরের দিকে নেমে গেলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬৪﴿
﴾ ১৮:৬৪ ﴿
قَالَ ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا ﴿٦٤﴾
সে বললো (হাঁ) , এই তো হচ্ছে সে (জায়গা, ) যার আমরা সন্ধান করছিলাম (মাছটি চলে যাওয়ার জায়গাই হচ্ছে সাগরের সেই মিলনস্থল) , অতপর তারা নিজেদের পথের চিহ্ন ধরে ফিরে চললো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬৫﴿
﴾ ১৮:৬৫ ﴿
فَوَجَدَا عَبْدًا مِنْ عِبَادِنَا آتَيْنَاهُ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَعَلَّمْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا عِلْمًا ﴿٦٥﴾
এরপর তারা (সেখানে পৌঁছলে) আমার বান্দাদের মাঝ থেকে একজন (পুণ্যবান) বান্দাকে (সেখানে) পেলো, যাকে আমি আমার অনুগ্রহ দান করেছি, (উপরন্তু) তাকে আমি আমার কাছ থেকে (বিশেষ) জ্ঞান শিখিয়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬৬﴿
﴾ ১৮:৬৬ ﴿
قَالَ لَهُ مُوسَى هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا ﴿٦٦﴾
মুসা তাকে বললো, আমি কি তোমার অনুসরণ করতে পারি, যাতে করে আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে যে জ্ঞান। তোমাকে শেখানো হয়েছে তার কিছু অংশ তুমি আমাকে শেখাতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬৭﴿
﴾ ১৮:৬৭ ﴿
قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا ﴿٦٧﴾
সে বললো (হাঁ পারো) , তবে আমার সাথে থেকে (তো) তুমি কখনো ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬৮﴿
﴾ ১৮:৬৮ ﴿
وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا ﴿٦٨﴾
(অবশ্য এটাও ঠিক) , যে বিষয় তুমি (জ্ঞান দিয়ে) আয়ত্ব করতে পারোনি তার উপর তুমি ধৈর্য ধরবেই বা কি করে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৬৯﴿
﴾ ১৮:৬৯ ﴿
قَالَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا ﴿٦٩﴾
সে বললো, আল্লাহ তায়ালা যদি চান তাহলে তুমি আমাকে ধৈর্যশীল (হিসেবেই) পাবে, আমি তোমার কোনো আদেশেরই বরখেলাফ করবো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭০﴿
﴾ ১৮:৭০ ﴿
قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلَا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا ﴿٧٠﴾
সে বললো, আচ্ছা যদি তুমি আমাকে অনুসরণ করোই তাহলে (মনে রাখবে) কোনো বিষয় নিয়ে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবে না, যতোক্ষণ না সে কথা আমি (নিজেই) তোমাকে বলে দেবো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭১﴿
﴾ ১৮:৭১ ﴿
فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا ﴿٧١﴾
অতপর তারা দু'জন পথ চলতে শুরু করলো। (নদীর পাড়ে এসে) উভয়েই একটি নৌকায় আরোহণ করলো, (নৌকায় ওঠেই) সে তাতে ছিদ্র করে দিলো; সে (মুসা) বললো, তুমি কি এজন্যে তাতে ছিদ্র করে দিলে যেন এর আরোহীদের তুমি ডুবিয়ে দিতে পারো, তুমি সত্যিই এক গুরুতর (অন্যায় কাজ করেছো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭২﴿
﴾ ১৮:৭২ ﴿
قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا ﴿٧٢﴾
(মুসার কথা শুনে) সে বললো, আমি কি তোমাকে একথা বলিনি, আমার সাথে থেকে তুমি কখনো ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭৩﴿
﴾ ১৮:৭৩ ﴿
قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا ﴿٧٣﴾
সে বললো, আমি যে ভুল করেছি সে ব্যাপারে তুমি আমাকে পাকড়াও করো না এবং (এ ব্যাপারে) আমার উপর বেশী কঠোরতাও আরোপ করো না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭৪﴿
﴾ ১৮:৭৪ ﴿
فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا ﴿٧٤﴾
আবার তারা পথ চলতে শুরু করলো। (কিছু দুর গিয়ে) তারা উভয়ে একটি (কিশোর) বালক পেলো, (সাথে সাথে) সে তাকে হত্যা করে ফেললো, (এ কাজ দেখে) সে বললো, তুমি তো কোনোরকম হত্যার অপরাধ ছাড়াই একটি নিস্পাপ জীবনকে বিনাশ করলে! তুমি (সত্যিই) একটা গুরুতর অন্যায় কাজ করে ফেলেছো! পারা
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭৫﴿
﴾ ১৮:৭৫ ﴿
قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا ﴿٧٥﴾
সে বললো, আমি কি তোমাকে একথা বলিনি যে, তুমি আমার সাথে (থেকে) কখনো ধৈর্য ধরতে পারবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭৬﴿
﴾ ১৮:৭৬ ﴿
قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا ﴿٧٦﴾
সে বললো, যদি এরপর আর একটি কথাও আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করি, তাহলে তুমি আমাকে তোমার সাথে রেখো না, (অবশ্য এখন তো) তুমি আমার পক্ষ থেকে ওযর পেশ করার (প্রান্ত) -সীমায় পৌঁছে গেছো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭৭﴿
﴾ ১৮:৭৭ ﴿
فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا ﴿٧٧﴾
আবার তারা চলতে শুরু করলো। (কিছুদুর এগিয়ে) তারা জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছলো, (সেখানে পৌঁছে) তারা (সেই জনপদের) অধিবাসীদের কাছে কিছু খাবার চাইলো, কিন্তু তারা তাদের উভয়ের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করলো, অতপর সেখানে তারা একটি পতনোন্মুখ (পুরনো) প্রাচীর (দেখতে) পেলো, সে প্রাচীরটা সোজা করে দিলো, সে (মুসা) বললো, তুমি চাইলে তো (এদের কাছ থেকে) এর উপর কিছু পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭৮﴿
﴾ ১৮:৭৮ ﴿
قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا ﴿٧٨﴾
সে বললো (বেশ) , এখানেই তোমার আমার মধ্যে বিচ্ছেদ (হয়ে গেলো কিন্তু তার আগে) যেসব কথার ব্যাপারে তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারোনি তার ব্যাখ্যা আমি তোমাকে বলে দিতে চাই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৭৯﴿
﴾ ১৮:৭৯ ﴿
أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيبَهَا وَكَانَ وَرَاءَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًا ﴿٧٩﴾
(প্রথম ঘটনাটি হচ্ছে, ) নৌকা সম্পর্কিত, (মুলত) তা ছিলো কয়েকজন গরীব মানুষের (মালিকানাধীন) , তারা (এটা দিয়ে) সমুদ্রে (জীবিকা অন্বেষণের) কাজ করতো, কিন্তু আমি (নৌকাটিতে ছিদ্র করে) তাকে ত্রুটিযুক্ত করে দিতে চাইলাম, (কারণ) তাদের পেছনেই ছিলো (এমন) এক বাদশাহ, যে (ত্রুটিবিহীন) যে নৌকাই পেতো, তা বল প্রয়োগে ছিনিয়ে নিতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮০﴿
﴾ ১৮:৮০ ﴿
وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينَا أَنْ يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا ﴿٨٠﴾
(আর হাঁ, সে) কিশোরটি (-র ঘটনা!) তার পিতামাতা উভয়েই ছিলো মু’মিন, আমি আশংকা করলাম, (বড়ো হয়ে) সে এদের দু'জনকেই (আল্লাহর) নাফরমানী ও কুফুর দ্বারা বিভ্রান্ত করে দেবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮১﴿
﴾ ১৮:৮১ ﴿
فَأَرَدْنَا أَنْ يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا ﴿٨١﴾
আমি চাইলাম তাদের মালিক তার বদলে তাদের (এমন) একটি সন্তান দান করবেন, যে দ্বীনদারী ও রক্তের সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে তার চাইতে অনেক ভালো (প্রমাণিত) হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮২﴿
﴾ ১৮:৮২ ﴿
وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا ﴿٨٢﴾
(সর্বশেষ ওই যে) প্রাচীরটি (-র ব্যাপার! আসলে) তা ছিলো শহরের দুটি এতীম বালকের, এর নীচেই তাদের জন্যে (রক্ষিত) ছিলো গুপ্ত ধনভান্ডার, ওদের পিতা ছিলো একজন নেককার ব্যক্তি, (এ কারণেই) তোমার মালিক চাইলেন ওরা বয়োপ্রাপ্ত হোক এবং তাদের (সে ভান্ডার থেকে তারা) সম্পদ বের করে আনুক (এ প্রাচীরটাকেই আমি তাদের বড়ো হওয়া পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম) , এ ছিলো (মুলত) তোমার মালিকের অনুগ্রহ (দ্বারা সম্পাদিত কতিপয় কাজ) , এর কোনোটাই (কিন্তু) আমি আমার নিজে থেকে করিনি; আর এ হচ্ছে সেসব কাজের ব্যাখ্যা, যে ব্যাপারে তুমি (আমার সাথে থেকে) ধৈর্য ধারণ করতে পারছিলে না!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮৩﴿
﴾ ১৮:৮৩ ﴿
وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ ذِي الْقَرْنَيْنِ قُلْ سَأَتْلُو عَلَيْكُمْ مِنْهُ ذِكْرًا ﴿٨٣﴾
(হে নবী, ) এরা তোমার কাছে যুলকারনায়ন সম্পর্কে জানতে চায়, তুমি (তাদের) বলো, (হাঁ) আমি (আল্লাহর কিতাবে যা আছে) তা থেকে (সে) বিবরণ তোমাদের কাছে এক্ষুণি (পড়ে) শোনাচ্ছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮৪﴿
﴾ ১৮:৮৪ ﴿
إِنَّا مَكَّنَّا لَهُ فِي الْأَرْضِ وَآتَيْنَاهُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ سَبَبًا ﴿٨٤﴾
(আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ) আমি যমীনের বুকে তাকে (বিপুল) ক্ষমতা দান করেছিলাম এবং আমি তাকে (এর জন্যে প্রয়োজনীয়) সব উপায় উপকরণও দান করেছিলাম,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮৫﴿
﴾ ১৮:৮৫ ﴿
فَأَتْبَعَ سَبَبًا ﴿٨٥﴾
(একবার) সে অভিযানে বেরোবার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগলো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮৬﴿
﴾ ১৮:৮৬ ﴿
حَتَّى إِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِي عَيْنٍ حَمِئَةٍ وَوَجَدَ عِنْدَهَا قَوْمًا قُلْنَا يَاذَا الْقَرْنَيْنِ إِمَّا أَنْ تُعَذِّبَ وَإِمَّا أَنْ تَتَّخِذَ فِيهِمْ حُسْنًا ﴿٨٦﴾
(চলতে চলতে) এমনিভাবে সে সুর্যের অস্তগমনের জায়গায় গিয়ে পৌঁছুলো, সেখানে গিয়ে সে সুর্যকে (সাগরের) কালো পানিতে ডুবতে দেখলো, তার পাশে সে একটি জাতিকেও (বাস করতে) দেখলো, আমি বললাম, হে যুলকারনায়ন (এরা তোমার অধীনস্থ) , তুমি ইচ্ছা করলে (তাদের) শাস্তি দিতে পারো অথবা তাদের সাথে তুমি সদয় ভাবও গ্রহণ করতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮৭﴿
﴾ ১৮:৮৭ ﴿
قَالَ أَمَّا مَنْ ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهُ ثُمَّ يُرَدُّ إِلَى رَبِّهِ فَيُعَذِّبُهُ عَذَابًا نُكْرًا ﴿٨٧﴾
সে বললো (হাঁ) , এদের মাঝে যে (আল্লাহর সাথে) বিদ্রোহ করবে তাকে আমি অবশ্যই শাস্তি দেবো, অতপর তাকে (যখন) তার মালিকের সামনে ফিরিয়ে নেয়া হবে (তখন) তিনি তাকে (আরো) কঠিন শাস্তি দেবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮৮﴿
﴾ ১৮:৮৮ ﴿
وَأَمَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُ جَزَاءً الْحُسْنَى وَسَنَقُولُ لَهُ مِنْ أَمْرِنَا يُسْرًا ﴿٨٨﴾
(অপরদিকে) যে ব্যক্তি (আল্লাহর উপর) ঈমান আনবে এবং নেক কাজ করবে, তার জন্যে (আখেরাতে) থাকবে উত্তম পুরস্কার, আর আমিও তার সাথে আমার কাজকর্ম সম্পাদনের সময় একান্ত বিনম্র ব্যবহার করবো;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৮৯﴿
﴾ ১৮:৮৯ ﴿
ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا ﴿٨٩﴾
অতপর সে আরেক (অভিযানে) পথে বেরুলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯০﴿
﴾ ১৮:৯০ ﴿
حَتَّى إِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْلُعُ عَلَى قَوْمٍ لَمْ نَجْعَلْ لَهُمْ مِنْ دُونِهَا سِتْرًا ﴿٩٠﴾
এমনকি (চলতে চলতে) সে সুর্যোদয়ের স্থানে গিয়ে পৌঁছুলো, তখন সে সুর্যকে এমন একটি জাতির উপর (দিয়ে) উদয় হতে দেখলো; যাদের জন্যে তার (প্রখর তাপ) থেকে (আত্মরক্ষার) কোনো অন্তরাল আমি সৃষ্টি করে রাখিনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯১﴿
﴾ ১৮:৯১ ﴿
كَذَلِكَ وَقَدْ أَحَطْنَا بِمَا لَدَيْهِ خُبْرًا ﴿٩١﴾
(যুলকারনায়নের ঘটনা ছিলো) এ রকমই; আমার কাছে সে সম্পর্কিত পুরোপুরি খবরই (মজুদ) আছে৷
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯২﴿
﴾ ১৮:৯২ ﴿
ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا ﴿٩٢﴾
অতপর সে আরেক (অভিযানে) পথে বেরুলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯৩﴿
﴾ ১৮:৯৩ ﴿
حَتَّى إِذَا بَلَغَ بَيْنَ السَّدَّيْنِ وَجَدَ مِنْ دُونِهِمَا قَوْمًا لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا ﴿٩٣﴾
এমনকি (পথ চলতে চলতে) সে দুটো প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে গিয়ে পৌঁছলো, দুই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে (পৌঁছে) সে এমন এক সম্প্রদায়ের লোকদের পেলো, যারা (যুলকারনায়নের) কোনো কথাই (তেমন) বুঝতে পারছিলো বলে মনে হলো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯৪﴿
﴾ ১৮:৯৪ ﴿
قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَى أَنْ تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا ﴿٩٤﴾
তারা (বিভিন্নভাবে তাকে বললো, হে (বাদশাহ) যুলকারনায়ন, নিসন্দেহে ইয়াজুজ মাজুজ হচ্ছে (নামক দুটো সম্প্রদায়) এ যমীনে (নানারকম) বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, (এমতাবস্থায় তাদের থেকে বাঁচার জন্যে) আমরা কি তোমাকে (এ শর্তে কোনোরকম) একটা কর' দেবো যে, তুমি আমাদের এবং তাদের মাঝে একটি প্রাচীর বানিয়ে দেবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯৫﴿
﴾ ১৮:৯৫ ﴿
قَالَ مَا مَكَّنِّي فِيهِ رَبِّي خَيْرٌ فَأَعِينُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا ﴿٩٥﴾
সে বললো (কোনো কর নেয়ার প্রয়োজন নেই, কেননা) , আমার মালিক আমাকে যা কিছু দিয়ে রেখেছেন তাই (আমার জন্যে) উত্তম, হাঁ, (শারীরিক) শক্তি দ্বারা তোমরা আমাকে সাহায্য করতে পারো, আমি তোমাদের এবং তাদের মাঝে এক মযবুত প্রাচীর বানিয়ে দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯৬﴿
﴾ ১৮:৯৬ ﴿
آتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ حَتَّى إِذَا سَاوَى بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انْفُخُوا حَتَّى إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ آتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا ﴿٩٦﴾
তোমরা আমার কাছে (এ কাজের জন্যে) লোহার পাতসমুহ নিয়ে এসো (অতপর সে অনুযায়ী তা আনা হলো এবং প্রাচীর তৈরীর কাজ শুরু হয়ে গেলো) ; যখন মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানটি (পুর্ণ হয়ে লৌহ স্তুপপগুলো দুটো পর্বতের) সমান হয়ে গেলো, তখন সে (তাদের) লক্ষ্য করে বললো, তোমরা (হাঁপরে) দম দিতে থাকো; অতপর যখন তা আগুনকে (উত্তপ্ত) করলো, (তখন) সে বললো, (এখন) তোমরা আমার কাছে (কিছু) গলানো তামা নিয়ে এসো, আমি তা এর উপর ঢেলে দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯৭﴿
﴾ ১৮:৯৭ ﴿
فَمَا اسْطَاعُوا أَنْ يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا ﴿٩٧﴾
(এভাবেই এমন একটি মযবুত প্রাচীর তৈরী হয়ে গেলো যে, ) অতপর তারা তার উপর উঠতে (আর) সক্ষম হলো না না তারা তা ভেদ করে (বাইরে) আসতে পারলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯৮﴿
﴾ ১৮:৯৮ ﴿
قَالَ هَذَا رَحْمَةٌ مِنْ رَبِّي فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاءَ وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا ﴿٩٨﴾
(যুলকারনায়ন বললো, ) এই যা কিছু হয়েছে তা সবই আমার মালিকের অনুগ্রহে (হয়েছে) , কিন্তু যখন আমার মালিকের ওয়াদা (-মতো কেয়ামত) আসবে, তখন তিনি তা চূর্ণ বিচুর্ণ করে একাকার করে দেবেন, আর আমার মালিকের ওয়াদা হচ্ছে সত্য ওয়াদা;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:৯৯﴿
﴾ ১৮:৯৯ ﴿
وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا ﴿٩٩﴾
(কেয়ামতের আগে) আমি তাদের দলে দলে ছেড়ে দেবো, তারা (সমুদ্রের) ঢেউয়ের আকারে একদল আরেক দলের মধ্যে প্রবষ্টি হবে, যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে তখন তাদের সবাইকে আমি (হাশরের ময়দানে) একত্রিত করবো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০০﴿
﴾ ১৮:১০০ ﴿
وَعَرَضْنَا جَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لِلْكَافِرِينَ عَرْضًا ﴿١٠٠﴾
(সেদিন) আমি জাহান্নামকে (তার) অবিশ্বাসীদের জন্যে (সামনে) এনে হাযির করবো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০১﴿
﴾ ১৮:১০১ ﴿
الَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَاءٍ عَنْ ذِكْرِي وَكَانُوا لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا ﴿١٠١﴾
যাদের চোখের মধ্যে আমার স্মরণ থেকে আবরণ পড়েছিলো, তারা (হেদায়াতের কথা) শুনতেই পেতো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০২﴿
﴾ ১৮:১০২ ﴿
أَفَحَسِبَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ يَتَّخِذُوا عِبَادِي مِنْ دُونِي أَوْلِيَاءَ إِنَّا أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ نُزُلًا ﴿١٠٢﴾
কাফেররা কি এ কথা মনে করে নিয়েছে যে, তারা আমার বদলে আমারই (কতিপয়) গোলামকে অভিভাবক বানিয়ে নেবে; (আর আমি এ ব্যাপারে তাদের কোনো জিজ্ঞাসাবাদই করবো না!) আমি তো জাহান্নামকে কাফেরদের মেহমানদারীর জন্যে সাজিয়ে রেখেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০৩﴿
﴾ ১৮:১০৩ ﴿
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا ﴿١٠٣﴾
(হে নবী, এদের) তুমি বলো, আমি কি তোমাদের এমন লোকদের কথা বলবো, যারা আমলের দিক থেকে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত (হয়ে পড়েছে) ;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০৪﴿
﴾ ১৮:১০৪ ﴿
الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا ﴿١٠٤﴾
(এরা হচ্ছে) সেসব লোক যাদের সমুদয় প্রচষ্টো এ দুনিয়ায় বিনষ্ট হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে মনে ভাবছে, তারা (বুঝি) ভালো কাজই করে যাচ্ছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০৫﴿
﴾ ১৮:১০৫ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا ﴿١٠٥﴾
এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যারা তাদের মালিকের আয়াতসমুহকে অস্বীকার করে এবং (অস্বীকার করে) তাঁর সাথে ওদের সাক্ষাতের বিষয়টিও, ফলে ওদের সব কর্মই নিষ্ফল হয়ে যায়, তাই কেয়ামতের দিন আমি তাদের (নাজাতের জন্যে) জন্যে ওযনের কোনো মানদন্ডই স্থাপন করবো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০৬﴿
﴾ ১৮:১০৬ ﴿
ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَرُسُلِي هُزُوًا ﴿١٠٦﴾
এটাই জাহান্নাম! (এটাই হলো) তাদের (যথার্থ) পাওনা, কেননা তারা (স্বয়ং স্রষ্টাকেই) অস্বীকার করেছে, (উপরন্তু) তারা আমার আয়াতসমুহ ও (তার বাহক) রসুলদের বিদ্রুপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০৭﴿
﴾ ১৮:১০৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا ﴿١٠٧﴾
(অপরদিকে) যারা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান এনেছে এবং (সে অনুযায়ী) নেক আমল করেছে, তাদের মেহমানদারীর জন্যে জান্নাতুল ফেরদাউস' (সাজানো) রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০৮﴿
﴾ ১৮:১০৮ ﴿
خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا ﴿١٠٨﴾
সেখানে তারা চিরদিন থাকবে, (সেদিন) তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও যেতে চাইবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১০৯﴿
﴾ ১৮:১০৯ ﴿
قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا ﴿١٠٩﴾
(হে নবী, ) তুমি (এদের) বলো, আমার মালিকের (প্রশংসার) কথাগুলো (লিপিবদ্ধ করা) -এর জন্যে যদি সমুদ্র কালি হয়ে যায়, তাহলে আমার মালিকের কথা (লেখা) শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র শুকিয়ে যাবে, এমনকি যদি আমি তার মতো (আরো) সমুদ্রকে (লেখার কালি করে) সাহায্য করার জন্যে নিয়ে আসি (তবুও) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৮:১১০﴿
﴾ ১৮:১১০ ﴿
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ﴿١١٠﴾
(হে নবী, ) তুমি (এদের) বলো, আমি তো তোমাদের মতোই একজন (রক্ত মাংসের) মানুষ, তবে আমার উপর ওহী নাযিল হয় (আর সে ওহীর মুল কথা হচ্ছে) , তোমাদের মাবুদ হচ্ছেন একজন, অতএব তোমাদের মাঝে যদি কেউ তার মালিকের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন (হামেশা) নেক আমল করে, সে যেন কখনো তার মালিকের ইবাদাতে অন্য কাউকে শরীক না করে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]