🕋
مريم
(১৯) মারইয়াম
৯৮
﴾১৯:১﴿
﴾ ১৯:১ ﴿
كهيعص ﴿١﴾
কাফ-হা-ইয়া-আঈন-ছোয়াদ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২﴿
﴾ ১৯:২ ﴿
ذِكْرُ رَحْمَةِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا ﴿٢﴾
(হে নবী, এ হচ্ছে) তোমার মালিকের অনুগ্রহের (কথাগুলো) স্মরণ (করা) , যা তিনি তাঁর এক অনুগত বান্দা যাকারিয়ার উপর (প্রেরণ) করেছিলেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩﴿
﴾ ১৯:৩ ﴿
إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا ﴿٣﴾
যখন সে একান্ত নীরবে তার মালিককে ডাকছিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪﴿
﴾ ১৯:৪ ﴿
قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا ﴿٤﴾
সে বলেছিলো, হে আমার মালিক, আমার (শরীরের) হাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং (আমার) মাথা শুভ্রোজ্জ্বল হয়ে গেছে (তুমি আমার দোয়া কবুল করো) , হে আমার মালিক, আমি তো কখনো তোমাকে ডেকে ব্যর্থ হইনি!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫﴿
﴾ ১৯:৫ ﴿
وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَرَائِي وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا ﴿٥﴾
আমার (মৃত্যুর পর) আমি আমার পেছনে পড়ে থাকা আমার ভাই বন্ধুদের (দ্বীনের ব্যাপারে) আশংকা করছি, (অপরদিকে) আমার স্ত্রীও হচ্ছে বন্ধ্যা, (সন্তান ধারণে সে সক্ষম নয়, তাই) তুমি একান্ত তোমার কাছ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬﴿
﴾ ১৯:৬ ﴿
يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ وَاجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا ﴿٦﴾
যে আমার উত্তরাধিকারিত্ব করবে উত্তরাধিকত্ব করবে ইয়াকুবের বংশের, হে (আমার) মালিক, তুমি তাকে একজন সন্তষভাজন ব্যক্তি বানাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭﴿
﴾ ১৯:৭ ﴿
يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى لَمْ نَجْعَلْ لَهُ مِنْ قَبْلُ سَمِيًّا ﴿٧﴾
(আল্লাহ তায়ালা বললেন, ) হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে একটি ছেলে (হওয়া) -র সুখবর দিচ্ছি, তার নাম (হবে) ইয়াহইয়া, এর আগে এ নামে আমি কোনো মানুষের নামকরণ করিনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮﴿
﴾ ১৯:৮ ﴿
قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا ﴿٨﴾
সে বললো, হে আমার মালিক, আমার ছেলে হবে কিভাবে, আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা এবং আমি নিজেও (এখন) বার্ধক্যের শেষ সীমানায় এসে উপনীত হয়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯﴿
﴾ ১৯:৯ ﴿
قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا ﴿٩﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন (হাঁ) , এটা এভাবেই (হবে) , তোমার মালিক বলছেন, এটা আমার জন্যে নিতান্ত সহজ কাজ, আমি তো এর আগে তোমাকেও সৃষ্টি করেছিলাম (তখন) তুমিও তো কিছু ছিলে না!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১০﴿
﴾ ১৯:১০ ﴿
قَالَ رَبِّ اجْعَلْ لِي آيَةً قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا ﴿١٠﴾
সে বললো, হে আমার মালিক, আমাকে (এ জন্যে কিছু) একটা নিদর্শন (বলে) দাও; তিনি বললেন (হাঁ) , তোমার নিদর্শন হচ্ছে, (সুস্থ থেকেও) তুমি (ক্রমাগত) তিন রাত মানুষদের সাথে কোনোরকম কথাবার্তা বলবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১১﴿
﴾ ১৯:১১ ﴿
فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا ﴿١١﴾
অতপর সে কামরা থেকে বেরিয়ে তার জাতির লোকদের কাছে এলো এবং ইশারা ইংগিতে তাদের বুঝিয়ে দিলো, তারা যেন সকাল সন্ধ্যা আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১২﴿
﴾ ১৯:১২ ﴿
يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ وَآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا ﴿١٢﴾
(এরপর এক সময় ইয়াহইয়ার জন্ম হলো, সে যখন বড়ো হলো, তখন আমি তাকে বললাম, ) হে ইয়াহইয়া, (আমার) কিতাবকে তুমি শক্ত করে ধারণ করো; (আসলে) আমি তাকে ছেলে বেলায়ই বিচার বুদ্ধি দান করেছিলাম,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১৩﴿
﴾ ১৯:১৩ ﴿
وَحَنَانًا مِنْ لَدُنَّا وَزَكَاةً وَكَانَ تَقِيًّا ﴿١٣﴾
সে আমার একান্ত কাছ থেকেই হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতা লাভ করলো; সে ছিলো (আসলেই) একজন পরহেযগার ব্যক্তি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১৪﴿
﴾ ১৯:১৪ ﴿
وَبَرًّا بِوَالِدَيْهِ وَلَمْ يَكُنْ جَبَّارًا عَصِيًّا ﴿١٤﴾
(তদুপরি) সে ছিলো পিতা মাতার একান্ত অনুগত কখনো সে অবাধ্য ও নাফরমান ছিলো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১৫﴿
﴾ ১৯:১৫ ﴿
وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا ﴿١٥﴾
তার উপর শাস্তি (বর্ষিত হয়েছিলো) , যেদিন তাকে জন্ম দেয়া হয়েছে, (শান্তি বর্ষিত হবে সেদিন) যেদিন সে মৃত্যু বরণ করবে এবং যেদিন পুনরায় সে জীবিত হয়ে পুনরুত্থিত হবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১৬﴿
﴾ ১৯:১৬ ﴿
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا ﴿١٦﴾
(হে নবী, ) এ কিতাবে মারইয়ামের কথা তুমি স্মরণ করো] (বিশেষ করে সে সময়ের কথা) যখন সে তার পরিবারের লোকজনদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব দিকের একটি ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১৭﴿
﴾ ১৯:১৭ ﴿
فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا ﴿١٧﴾
অতপর লোকদের কাছ থেকে (নিজেকে আড়াল করার জন্যে) সে পর্দা করলো । আমি তার কাছে আমার রূহ (জিবরাঈল) -কে পাঠালাম, সে পূর্ণ মানুষের আকৃতিতে তার সামনে আত্মপ্রকাশ করলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১৮﴿
﴾ ১৯:১৮ ﴿
قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيًّا ﴿١٨﴾
সে বললো (হে আগত ব্যক্তি) , তুমি যদি আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, তাহলে আমি তোমার (অনষ্টি) থেকে দয়াময় আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহ চাই ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:১৯﴿
﴾ ১৯:১৯ ﴿
قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا ﴿١٩﴾
সে বললো, আমি তোমার মালিকের পাঠানো দুত, (আমি তো এজন্যে এসেছি) যেন তোমাকে একটি পবিত্র সন্তান দিয়ে যেতে পারি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২০﴿
﴾ ১৯:২০ ﴿
قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا ﴿٢٠﴾
সে বললো (এ কি বলছো তুমি) ! আমার ছেলে হবে কিভাবে, আমাকে (তো আজ পর্যন্ত) কোনো পুরুষ স্পর্শও করেনি, আর না আমি কখনো অসতী ছিলাম!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২১﴿
﴾ ১৯:২১ ﴿
قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَقْضِيًّا ﴿٢١﴾
সে বললো (হাঁ) , এভাবেই (হবে) , তোমার মালিক বলছেন, তা আমার জন্যে খুবই সহজ কাজ এবং আমি তাকে মানুষদের জন্যে (কুদরতের) একটি নিদর্শন ও আমার কাছ থেকে অনুগ্রহ (-সাদৃশ্য একটি মানুষ) বানাতে চাই, (মুলত) এটা ছিলো (আমার পক্ষ থেকে) এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২২﴿
﴾ ১৯:২২ ﴿
فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا ﴿٢٢﴾
অতপর সে তাকে (গর্ভে) ধারণ করলো এবং তাকে সহ দুরে (কোনো) এক জায়গায় চলে গেলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২৩﴿
﴾ ১৯:২৩ ﴿
فَأَجَاءَهَا الْمَخَاضُ إِلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يَالَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا وَكُنْتُ نَسْيًا مَنْسِيًّا ﴿٢٣﴾
তারপর তার প্রসব বেদনা তাকে এক খেজুর গাছের নীচে নিয়ে এলো, সে বললো, হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম এবং আমি যদি (মানুষদের স্মৃতি থেকে) সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে যেতাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২৪﴿
﴾ ১৯:২৪ ﴿
فَنَادَاهَا مِنْ تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا ﴿٢٤﴾
তখন একজন (ফেরেশতা) তাকে তার নিচের দিক থেকে আহ্বান করে বললো (হে মারইয়াম) , তুমি কোনো রকম দুঃখ করো না, তোমার মালিক (তোমার পিপাসা নিবারণের জন্যে) তোমার (পায়ের) নীচে একটি (পানির) ঝর্ণা বানিয়ে দিয়েছেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২৫﴿
﴾ ১৯:২৫ ﴿
وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا ﴿٢٥﴾
তুমি এ খেজুর গাছের কান্ড তোমার দিকে নাড়া দাও, (দেখবে) তা তোমার উপর পাকা ও তাজা খেজুর ফেলছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২৬﴿
﴾ ১৯:২৬ ﴿
فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّي عَيْنًا فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا ﴿٢٦﴾
অতপর (এ গাছের) খেজুর তুমি খাও এবং (এ ঝর্ণার) পানীয় পান করো এবং (সন্তানের দিকে তাকিয়ে তোমার চোখ জুড়াও, (ইতিমধ্যে) যখনি তুমি মানুষদের কাউকে দেখো তাহলে বলবে, আমি আল্লাহ তায়ালার নামে রোযার মান্নত করেছি, (এ কারণে) আমি আজ কোনো মানুষের সাথে কথা বলবো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২৭﴿
﴾ ১৯:২৭ ﴿
فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا ﴿٢٧﴾
অতপর সে তাকে নিজের কোলে বহন করে নিজের জাতির কাছে (ফিরে) এলো; লোকেরা (তার কোলে সন্তান দেখে) বললো, হে মারইয়াম, তুমি তো সত্যিই এক অদ্ভুত কান্ড করে বসেছো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২৮﴿
﴾ ১৯:২৮ ﴿
يَا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا ﴿٢٨﴾
হে হারূনের বোন (একি করলে তুমি) ? তোমার পিতা তো কোনো অসত্ ব্যক্তি ছিলো না, তোমার মাতাও তো (চারিত্রিক দিক থেকে) কোনো খারাপ (মহিলা) ছিলো না!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:২৯﴿
﴾ ১৯:২৯ ﴿
فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا ﴿٢٩﴾
সে (সবাইকে) তার (কোলের শিশুটির) দিকে ইশারা করলো (এবং বললো তোমাদের যদি কিছু জিজ্ঞেস করার থাকে তাহলে একেই জিজ্ঞেস করো) ; তারা বললো, আমরা তার সাথে কিভাবে কথা বলবো, যে (এখনো) দোলনার শিশু!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩০﴿
﴾ ১৯:৩০ ﴿
قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا ﴿٣٠﴾
(এ কথা শুনেই) সে (শিশু) বলে ওঠলো (হাঁ) , আমি হচ্ছি আল্লাহ তায়ালার বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে তিনি নবী বানিয়েছেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩১﴿
﴾ ১৯:৩১ ﴿
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا ﴿٣١﴾
যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে (তাঁর) অনুগ্রহভাজন করবেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতোদিন আমি বেঁচে থাকি ততোদিন যেন আমি নামায প্রতিষ্ঠা করি এবং যাকাত প্রদান করি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩২﴿
﴾ ১৯:৩২ ﴿
وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا ﴿٣٢﴾
আমি যেন মায়ের প্রতি অনুগত থাকি, (আল্লাহর শোকর, ) তিনি আমাকে না-ফরমান বানাননি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩৩﴿
﴾ ১৯:৩৩ ﴿
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا ﴿٣٣﴾
আমার উপর (আল্লাহ তায়ালার বিশেষ) প্রশাস্তি যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, প্রশাস্তি (থাকবে) সেদিন, যেদিন আমি (আবার) মৃত্যুবরণ করবো এবং (মৃত্যুর পরে) যেদিন জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩৪﴿
﴾ ১৯:৩৪ ﴿
ذَلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ ﴿٣٤﴾
এ হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ঈসা এবং (এ হচ্ছে তার) আসল ঘটনা, যা নিয়ে তারা অযথাই সন্দেহ করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩৫﴿
﴾ ১৯:৩৫ ﴿
مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ سُبْحَانَهُ إِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ ﴿٣٥﴾
(তারা বলে, সে আল্লাহ তায়ালার সন্তান, কিন্তু) সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহ তায়ালার কাজ নয়, তিনি (এ থেকে) অনেক পবিত্র; তিনি যখন কোনো কিছু করতে চান তখন শুধু বলেন হও' এবং সাথে সাথেই তা হয়ে যায়';
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩৬﴿
﴾ ১৯:৩৬ ﴿
وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ ﴿٣٦﴾
অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা আমার মালিক এবং তোমাদেরও মালিক, অতএব তোমরা সবাই তাঁরই গোলামী করো; আর এটাই হচ্ছে (সহজ ও) সরল পথ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩৭﴿
﴾ ১৯:৩৭ ﴿
فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِنْ بَيْنِهِمْ فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ مَشْهَدِ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿٣٧﴾
এরপর (তাদের) দলগুলো নিজেদের মাঝে (মারইয়াম পুত্রকে নিয়ে) নানা মতানৈক্য সৃষ্টি করলো, অতপর (যারা আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা) অস্বীকার করলো তাদের জন্যে রয়েছে (কেয়ামতের) কঠিন দিনের দুর্ভোগ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩৮﴿
﴾ ১৯:৩৮ ﴿
أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ يَوْمَ يَأْتُونَنَا لَكِنِ الظَّالِمُونَ الْيَوْمَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٣٨﴾
যেদিন এরা আমার সামনে এসে হাযির হবে, সেদিন তারা ভালো করেই শুনবে এবং ভালো করেই দেখতে পাবে, কিন্তু আজ এ যালেমরা (না শোনা ও না দেখার ভান করে) সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে আছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৩৯﴿
﴾ ১৯:৩৯ ﴿
وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٣٩﴾
(হে নবী, ) সেই আক্ষেপের দিনটি সম্পর্কে তুমি এদের সাবধান করে দাও, যেদিন (জান্নাত জাহান্নামের ব্যাপারে চূড়ান্ত) সন্ধিান্ত হয়ে যাবে। (এখন তো) এরা এ ব্যাপারে গাফলতে (ডুবে) রয়েছে, ওরা (আল্লাহর উপরও) ঈমান আনছে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪০﴿
﴾ ১৯:৪০ ﴿
إِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْأَرْضَ وَمَنْ عَلَيْهَا وَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ ﴿٤٠﴾
নিন্দেহে (এ) পৃথিবীর মালিক আমি এবং তার উপর যা কিছু রয়েছে সেসবেরও, আর তাদের সবাইকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪১﴿
﴾ ১৯:৪১ ﴿
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَبِيًّا ﴿٤١﴾
(হে নবী, এই) কিতাবে তুমি ইবরাহীম (-এর ঘটনা) -কে স্মরণ করো, অবশ্যই সে ছিলো এক সত্যবাদী নবী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪২﴿
﴾ ১৯:৪২ ﴿
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنْكَ شَيْئًا ﴿٤٢﴾
(বিশেষ করে সে সময়ের কথা) যখন সে তার পিতাকে বললো, হে আমার পিতা, তুমি কেন এমন একটা জিনিসের পূজা করো, যা দেখতে পায় না, শুনতে পায় না, যা তোমার কোনো কাজেও আসে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪৩﴿
﴾ ১৯:৪৩ ﴿
يَا أَبَتِ إِنِّي قَدْ جَاءَنِي مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِي أَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا ﴿٤٣﴾
হে আমার পিতা, আমার কাছে (আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে) যে জ্ঞান এসেছে তা তোমার কাছে আসেনি, অতএব তুমি আমার কথা শুনো, আমি তোমাকে সোজা পথ দেখাবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪৪﴿
﴾ ১৯:৪৪ ﴿
يَا أَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَنِ عَصِيًّا ﴿٤٤﴾
হে আমার পিতা (সে জ্ঞানের মৌলিক কথা হচ্ছে) , তুমি শয়তানের গোলামী করো না; কেননা শয়তান হচ্ছে পরম দয়ালু আল্লাহ তায়ালার না-ফরমান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪৫﴿
﴾ ১৯:৪৫ ﴿
يَا أَبَتِ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَمَسَّكَ عَذَابٌ مِنَ الرَّحْمَنِ فَتَكُونَ لِلشَّيْطَانِ وَلِيًّا ﴿٤٥﴾
হে আমার পিতা, আমার ভয় হচ্ছে, (না-ফরমান শয়তানের গোলামী করলে) পরম দয়ালু আল্লাহ তায়ালার কোনো আযাব এসে তোমাকে স্পর্শ করবে, আর (এর ফলে জাহান্নামে) তুমি শয়তানেরই সাথী হয়ে যাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪৬﴿
﴾ ১৯:৪৬ ﴿
قَالَ أَرَاغِبٌ أَنْتَ عَنْ آلِهَتِي يَا إِبْرَاهِيمُ لَئِنْ لَمْ تَنْتَهِ لَأَرْجُمَنَّكَ وَاهْجُرْنِي مَلِيًّا ﴿٤٦﴾
সে বললো, হে ইবরাহীম, তুমি কি (আসলেই) আমার দেব দেবীগুলো থেকে বিমুখ হয়ে যাচ্ছো, (তবে শুনো, এখনো) যদি তুমি এসব কিছু থেকে ফিরে না আসো তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করবো, (আর যদি বেঁচে থাকতে চাও তাহলে) তুমি চিরতরে আমার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাও ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪৭﴿
﴾ ১৯:৪৭ ﴿
قَالَ سَلَامٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي إِنَّهُ كَانَ بِي حَفِيًّا ﴿٤٧﴾
সে বললো (আচ্ছা) , তোমার প্রতি আমার সালাম, (আমি তোমার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি; কিন্তু এ সত্ত্বেও) আমি আমার মালিকের কাছে তোমার জন্যে মাগফেরাত কামনা করতে থাকবো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা আমার প্রতি অতিশয় মেহেরবান।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪৮﴿
﴾ ১৯:৪৮ ﴿
وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَأَدْعُو رَبِّي عَسَى أَلَّا أَكُونَ بِدُعَاءِ رَبِّي شَقِيًّا ﴿٤٨﴾
আমি তোমাদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি এবং আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের ডাকো তাদের সবার কাছ থেকেও (আলাদা হয়ে যাচ্ছি) , আমি তো আমার মালিককেই ডাকতে থাকবো, আশা (করি) আমার মালিককে ডেকে আমি কখনো ব্যর্থকাম হবো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৪৯﴿
﴾ ১৯:৪৯ ﴿
فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا ﴿٤٩﴾
অতপর যখন সে সত্যিই তাদের কাছ থেকে পৃথক হয়ে গেলো এবং (পৃথক হয়ে গেলো তাদের থেকেও) যাদের ওরা আল্লাহ তায়ালার বদলে ডাকতো, তখন আমি তাকে ইসহাক ও (ইসহাক পুত্র) ইয়াকুব দান করলাম; এদের সবাইকেই আমি নবী বানিয়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫০﴿
﴾ ১৯:৫০ ﴿
وَوَهَبْنَا لَهُمْ مِنْ رَحْمَتِنَا وَجَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِيًّا ﴿٥٠﴾
আমি তাদের উপর আমার (আরও বহু) অনুগ্রহ দান করেছি এবং তাদের আমি সুউচ্চ নাম যশ দান করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫১﴿
﴾ ১৯:৫১ ﴿
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى إِنَّهُ كَانَ مُخْلَصًا وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا ﴿٥١﴾
(হে নবী, ) তুমি (এ) কিতাবে মুসার (ঘটনা) স্মরণ করো, অবশ্যই সে ছিলো একনিষ্ঠ (বান্দা) , সে ছিলো রসুল-নবী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫২﴿
﴾ ১৯:৫২ ﴿
وَنَادَيْنَاهُ مِنْ جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَاهُ نَجِيًّا ﴿٥٢﴾
(আমার কথা শোনার জন্যে) আমি তাকে তূর' (পাহাড়ের) ডান দিক থেকে ডাক দিলাম এবং তাকে আমি গোপন তথ্য (-সমৃদ্ধ কথা) বলার জন্যে আমার নিকটবর্তী করলাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫৩﴿
﴾ ১৯:৫৩ ﴿
وَوَهَبْنَا لَهُ مِنْ رَحْمَتِنَا أَخَاهُ هَارُونَ نَبِيًّا ﴿٥٣﴾
আমি আমার নিজ অনুগ্রহে তার ভাই হারূনকে নবী বানিয়ে তাকে (তার সাহায্যকারী হিসেবে) দান করলাম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫৪﴿
﴾ ১৯:৫৪ ﴿
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا ﴿٥٤﴾
(হে নবী, ) এ কিতাবে তুমি ইসমাঈলের (কথাও) স্মরণ করো, নিশ্চয়ই সে ছিলো যথার্থ প্রতিশ্রুতি পালনকারী, আর সে ছিলো রসুল (ও) নবী,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫৫﴿
﴾ ১৯:৫৫ ﴿
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِنْدَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا ﴿٥٥﴾
সে তার পরিবার পরিজনদের নামায (প্রতিষ্ঠা করা) ও যাকাত আদায় করার আদেশ দিতো, (উপরন্তু) সে ছিলো তার মালিকের একান্ত পছন্দনীয় ব্যক্তি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫৬﴿
﴾ ১৯:৫৬ ﴿
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيسَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَبِيًّا ﴿٥٦﴾
(হে নবী, ) তুমি এ কিতাবে ইদরীসের (কথাও) স্মরণ করো, সেও ছিলো একজন সত্যবাদী নবী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫৭﴿
﴾ ১৯:৫৭ ﴿
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا ﴿٥٧﴾
আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় সমাসীন করেছিলাম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫৮﴿
﴾ ১৯:৫৮ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ مِنْ ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا ﴿٥٨﴾
এরা হচ্ছে সে সব (নবী) , যাদের উপর আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ করেছেন, (এরা সবাই ছিলো) আদমের বংশোদ্ভূত, যাদের তিনি (মহাপ্লাবনের সময়) নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছেন এরা তাদেরই বংশের লোক, (এদের কিছু লোক) ইবরাহীম ও ইসরাঈলের বংশোদ্ভূত, (উপরন্তু) যাদের তিনি হেদায়াতের আলো দান করেছিলেন এবং যাদের তিনি মনোনীত করেছিলেন (এরা হচ্ছে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত) ; (এদের অবস্থা ছিলো এই, ) যখনি এদের সামনে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার আয়াতসমুহ তেলাওয়াত করা হতো তখন এরা আল্লাহ তায়ালাকে সাজদা করার জন্যে ক্রন্দনরত অবস্থায় যমীনে লুটিয়ে পড়তো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৫৯﴿
﴾ ১৯:৫৯ ﴿
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ﴿٥٩﴾
তাদের পর (তাদের অপদার্থ) বংশধররা এলো, তারা নামায বরবাদ করে দিলো এবং (নানা) পাশবিক লালসার অনুসরণ করলো, অতএব অচিরেই তারা (তাদের এ) গোমরাহীর (পরিণাম ফলের) সাক্ষাত পাবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬০﴿
﴾ ১৯:৬০ ﴿
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا ﴿٦٠﴾
কিন্তু যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে (তাদের কথা আলাদা) , তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে, (সেদিন) তাদের উপর কোনোরকম যুলুম করা হবে না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬১﴿
﴾ ১৯:৬১ ﴿
جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدَ الرَّحْمَنُ عِبَادَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّهُ كَانَ وَعْدُهُ مَأْتِيًّا ﴿٦١﴾
স্থায়ী জান্নাত এমন এক বস্তু যার ওয়াদা দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের কাছে অদৃশ্য করে রেখে দিয়েছেন; অবশ্যই তাঁর ওয়াদা পূরণ হয়েই থাকবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬২﴿
﴾ ১৯:৬২ ﴿
لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا إِلَّا سَلَامًا وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةً وَعَشِيًّا ﴿٦٢﴾
সেখানে তারা কোনো অর্থহীন কথা শুনতে পাবে না, (চারদিকে থাকবে) শুধু শাস্তি (আর শাস্তি) ; সেখানে সকাল সন্ধ্যা তাদের জন্যে (নিত্য নতুন) রিযিকের ব্যবস্থা থাকবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬৩﴿
﴾ ১৯:৬৩ ﴿
تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي نُورِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَنْ كَانَ تَقِيًّا ﴿٦٣﴾
এ হচ্ছে জান্নাত, আমার বান্দাদের মাঝে যারা পরহেযগার আমি শুধু তাদেরই এর অধিকারী বানাবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬৪﴿
﴾ ১৯:৬৪ ﴿
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذَلِكَ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا ﴿٦٤﴾
(ফেরেশতারা বললো, হে নবী, ) আমরা কখনো তোমার মালিকের আদেশ ছাড়া (যমীনে) অবতরণ করি না, আমাদের সামনে পেছনে যা কিছু আছে, যা কিছু আছে এর মধ্যবর্তী স্থানে, তা সবই তো তাঁর জন্যে, (মুলত) তোমার মালিক (কখনো কাউকে) ভুলে থাকেন না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬৫﴿
﴾ ১৯:৬৫ ﴿
رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا ﴿٦٥﴾
তিনিই আসমানসমুহ ও যমীনের মালিক এবং (তিনি মালিক) এদের উভয়ের মাঝে যা কিছু আছে (তারও) , অতএব তোমরা একমাত্র তাঁরই গোলামী করো, তাঁর গোলামীর উপরই কায়েম থাকো, তুমি তাঁর সম (-গুণসম্পন্ন এমন) কোনো নাম কি জানো (যে, তুমি তার গোলামী করবে!)
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬৬﴿
﴾ ১৯:৬৬ ﴿
وَيَقُولُ الْإِنْسَانُ أَئِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا ﴿٦٦﴾
(কিছু সংখ্যক মুখ) মানুষ বলে, (একবার) আমার মৃত্যু হলে আমি কি জীবিত অবস্থায় (মাটির ভেতরে থেকে) পুনরুত্থিত হবো?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬৭﴿
﴾ ১৯:৬৭ ﴿
أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنْسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا ﴿٦٧﴾
(এ নির্বোধ) মানুষটি কি (একবারও) চিন্তা করে না, এর আগে তো আমিই তাকে সৃষ্টি করেছি; অথচ সে তখন কিছুই ছিলো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬৮﴿
﴾ ১৯:৬৮ ﴿
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا ﴿٦٨﴾
অতএব তোমার মালিকের শপথ, আমি অবশ্যই এদের একত্রিত করবো, (একত্রিত করবো) শয়তানদেরও, অতপর এদের (সবাইকে) হাঁটু গাড়া অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে এনে জড়ো করাবো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৬৯﴿
﴾ ১৯:৬৯ ﴿
ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَنِ عِتِيًّا ﴿٦٩﴾
তারপর আমি অবশ্যই এদের প্রত্যেক দলের মধ্য থেকে দয়াময় আল্লাহ তায়ালার প্রতি যারা সবচাইতে বেশী বিদ্রোহী (ছিলো) , তাদের (খুঁজে খুঁজে) বার করে আনবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭০﴿
﴾ ১৯:৭০ ﴿
ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَى بِهَا صِلِيًّا ﴿٧٠﴾
ওদের মধ্যে যারা (জাহান্নামে) নিক্ষপ্তি হবার অধিকতর যোগ্য, আমি তাদের সবার চাইতে বেশী জানি।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭১﴿
﴾ ১৯:৭১ ﴿
وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا ﴿٧١﴾
(জাহান্নামে তোমাদের মধ্যে) এমন একজন ব্যক্তিও হবে না, যাকে এর উপর দিয়ে পার হতে হবে না, এটা হচ্ছে তোমার মালিকের অমোঘ সিদ্ধান্ত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭২﴿
﴾ ১৯:৭২ ﴿
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا ﴿٧٢﴾
(এ পার হওয়ার সময়) আমি শুধু ওসব মানুষদেরই পার করিয়ে নেবো যারা দুনিয়ার জীবনে (আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করেছে, (অবশষ্টি) যালেমদের আমি নতজানু অবস্থায় সেখানে রেখে দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭৩﴿
﴾ ১৯:৭৩ ﴿
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَيُّ الْفَرِيقَيْنِ خَيْرٌ مَقَامًا وَأَحْسَنُ نَدِيًّا ﴿٧٣﴾
তাদের সামনে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমুহ তেলাওয়াত করা হয়েছে, তখন যারা (ঈমানের বদলে) কুফরী করেছে তারা ঈমানদারদের লক্ষ্য করে বলে (বলো তো) , আমাদের উভয় দলের মাঝে কোন দলটি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও কোন দলের মাহফিল বেশী শানদার!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭৪﴿
﴾ ১৯:৭৪ ﴿
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ هُمْ أَحْسَنُ أَثَاثًا وَرِئْيًا ﴿٧٤﴾
অথচ ওদের পুর্বে কতো (শানদার মাহফিলের অধিকারী) মানবগোষ্ঠীকে আমি নিমরল করে দিয়েছি, যারা (আজকের) এ (কাফেরদের) চাইতে সহায় সম্পদ ও প্রাচুর্যের বাহাদুরীতে ছিলো অনেক শ্রেষ্ঠ!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭৫﴿
﴾ ১৯:৭৫ ﴿
قُلْ مَنْ كَانَ فِي الضَّلَالَةِ فَلْيَمْدُدْ لَهُ الرَّحْمَنُ مَدًّا حَتَّى إِذَا رَأَوْا مَا يُوعَدُونَ إِمَّا الْعَذَابَ وَإِمَّا السَّاعَةَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مَكَانًا وَأَضْعَفُ جُنْدًا ﴿٧٥﴾
(হে নবী, এদের) বলো, যে ব্যক্তি গোমরাহীতে (নিমজ্জিত) থাকে, তাকে দয়াময় আল্লাহ তায়ালা অনেক ঢিল দিতে থাকেন যতোক্ষণ না তারা সে (বিষয়) -টি (স্বচক্ষে) প্রত্যক্ষ করবে, যে বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে হয় তা (হবে) আল্লাহ তায়ালার শাস্তি, নতুবা হবে কেয়ামত, (তেমন সময় উপস্থিত হলে) তারা অচিরেই একথা জানতে পারবে, কোন ব্যক্তিটি মর্যাদায় নিকৃষ্ট ছিলো এবং কার জনশক্তি ছিলো দুর্বল!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭৬﴿
﴾ ১৯:৭৬ ﴿
وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ مَرَدًّا ﴿٧٦﴾
(এর বিপরীত) যারা হেদায়াতের পথে চলে, আল্লাহ তায়ালা তাদের হেদায়াতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন; (হে নবী, ) তোমার মালিকের কাছে তো স্থায়ী জিনিস হিসেবে (মানুষের) নেক আমলই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট পুরস্কার পাবার দিক থেকে যেমন (তা ভালো) , প্রতিদান হিসেবেও (তা তেমনি উত্তম) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭৭﴿
﴾ ১৯:৭৭ ﴿
أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآيَاتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًا وَوَلَدًا ﴿٧٧﴾
তুমি সে ব্যক্তির অবস্থা লক্ষ্য করেছো কি যে আমার আয়াতসমুহকে প্রত্যাখ্যান করে এবং (ঔদ্ধত্যের সাথে) বলে বেড়ায়, (কেয়ামতের হলে সেদিন) আমাকে অবশ্যই (আমার) মাল ও সন্তান দিয়ে দেয়া হবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭৮﴿
﴾ ১৯:৭৮ ﴿
أَطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمَنِ عَهْدًا ﴿٧٨﴾
সে কি গায়বের) কোনো খবর পেয়েছে? না দয়াময় আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে (এ ব্যাপারে) সে কোনো প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৭৯﴿
﴾ ১৯:৭৯ ﴿
كَلَّا سَنَكْتُبُ مَا يَقُولُ وَنَمُدُّ لَهُ مِنَ الْعَذَابِ مَدًّا ﴿٧٩﴾
না (এর কোনোটাই নয়) , যা কিছু সে বলে আমি তার (প্রতিটি কথাই) লিখে রাখবো এবং সে হিসেবেই (কেয়ামতের দিন) আমি তার শাস্তি বাড়াতে থাকবো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮০﴿
﴾ ১৯:৮০ ﴿
وَنَرِثُهُ مَا يَقُولُ وَيَأْتِينَا فَرْدًا ﴿٨٠﴾
সে (তার শক্তি সমর্থ সম্পর্কে আজ) যা কিছু বলছে আমিই হবো তার অধিকারী, আর সে একান্ত একাকী (অবস্থায়ই) আমার কাছে (ফিরে) আসবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮১﴿
﴾ ১৯:৮১ ﴿
وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لِيَكُونُوا لَهُمْ عِزًّا ﴿٨١﴾
এরা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে অন্যদের মাবুদ বানায়, যেন এরা তাদের জন্যে সাহায্যকারী হতে পারে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮২﴿
﴾ ১৯:৮২ ﴿
كَلَّا سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا ﴿٨٢﴾
কিন্তু না; (কেয়ামতের দিন বরং) এরা তাদের ইবাদাতের কথা (সম্পূর্ণত) অস্বীকার করবে, এরা (তখন) তাদের বিপক্ষ হয়ে যাবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮৩﴿
﴾ ১৯:৮৩ ﴿
أَلَمْ تَرَ أَنَّا أَرْسَلْنَا الشَّيَاطِينَ عَلَى الْكَافِرِينَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّا ﴿٨٣﴾
(হে নবী, ) তুমি কি (এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য করোনি, আমি (কিভাবে) কাফেরদের উপর শয়তানদের ছেড়ে দিয়ে রেখেছি, তারা (আল্লাহ তায়ালার বিরুদ্ধে) তাদের ক্রমাগত উৎসাহ দান করছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮৪﴿
﴾ ১৯:৮৪ ﴿
فَلَا تَعْجَلْ عَلَيْهِمْ إِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمْ عَدًّا ﴿٨٤﴾
অতএব, তুমি এদের (আযাবের) ব্যাপারে কোনো রকম তাড়াহুড়ো করো না; আমি তো এদের (চুড়ান্ত ধ্বংসের) দিনটিই গণনা করে যাচ্ছি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮৫﴿
﴾ ১৯:৮৫ ﴿
يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا ﴿٨٥﴾
সেদিন আমি পরহেযগার বান্দাদের সন্তানিত মেহমান হিসেবে দয়াময় আল্লাহ তায়ালার কাছে একত্রিত করবো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮৬﴿
﴾ ১৯:৮৬ ﴿
وَنَسُوقُ الْمُجْرِمِينَ إِلَى جَهَنَّمَ وِرْدًا ﴿٨٦﴾
আর না-ফরমানদের জাহান্নামের দিকে তৃদ্মার্ত (উটের ন্যায়) তাড়িয়ে নিয়ে যাবো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮৭﴿
﴾ ১৯:৮৭ ﴿
لَا يَمْلِكُونَ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمَنِ عَهْدًا ﴿٨٧﴾
(সেদিন) কোনো মানুষই আল্লাহ তায়ালার দরবারে সুপারিশ পেশ করার ক্ষমতা রাখবে না, হাঁ, যদি কেউ আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে (তেমন কোনো) প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে থাকে (তবে তা ভিন্ন কথা) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮৮﴿
﴾ ১৯:৮৮ ﴿
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا ﴿٨٨﴾
(এ মুখ) লোকেরা বলে, করুণাময় আল্লাহ তায়ালা সন্তান গ্রহণ করেছেন;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৮৯﴿
﴾ ১৯:৮৯ ﴿
لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا ﴿٨٩﴾
(তুমি এদের বলো, ) এটি অত্যন্ত কঠিন একটি কথা, তোমরা যা (আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে) নিয়ে এসেছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯০﴿
﴾ ১৯:৯০ ﴿
تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا ﴿٩٠﴾
(এটা এতো কঠিন কথা) যার কারণে হয়তো আসমান ফেটে পড়ার উপক্রম হবে, যমীন বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পাহাড়সমুহ চুর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯১﴿
﴾ ১৯:৯১ ﴿
أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا ﴿٩١﴾
(এর কারণ, ) এরা দয়াময় আল্লাহ তায়ালার জন্যে সন্তান হওয়ার কথা বলেছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯২﴿
﴾ ১৯:৯২ ﴿
وَمَا يَنْبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَدًا ﴿٩٢﴾
(অথচ) সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহ তায়ালার জন্যে কোনো অবস্থায়ই শোভনীয় নয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯৩﴿
﴾ ১৯:৯৩ ﴿
إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا ﴿٩٣﴾
(কেননা) আসমানসমুহ ও যমীনে যা কিছু আছে, তাদের মাঝে কিছুই এমন নেই যা (কেয়ামতের দিন) দয়াময় আল্লাহ তায়ালার সম্মুখে তার অনুগত (বান্দা) হিসেবে উপস্থিত হবে না;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯৪﴿
﴾ ১৯:৯৪ ﴿
لَقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا ﴿٩٤﴾
তিনি (তাঁর সৃষ্টির) সব কিছুকেই (কড়ায় গন্ডায়) গুনে তার পুর্ণাংগ হিসাব রেখে দিয়েছেন;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯৫﴿
﴾ ১৯:৯৫ ﴿
وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا ﴿٩٥﴾
কেয়ামতের দিন এদের সবাই নিসংগ অবস্থায় তাঁর সামনে আসবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯৬﴿
﴾ ১৯:৯৬ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا ﴿٩٦﴾
যারা (আল্লাহ তায়ালার উপর) ঈমান আনে এবং নেক কাজ করে, আল্লাহ তায়ালা অচিরেই তাদের জন্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯৭﴿
﴾ ১৯:৯৭ ﴿
فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِينَ وَتُنْذِرَ بِهِ قَوْمًا لُدًّا ﴿٩٧﴾
আমি তো এ কোরআনকে তোমার ভাষায় সহজ (করে নাযিল) করেছি, যাতে করে তুমি এর দ্বারা যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করে তাদের (জান্নাতের) সুসংবাদ দিতে পারো এবং (দ্বীনের ব্যাপারে) যে জাতি (খামাখা) ঝগড়া করে, তুমি তাদেরও (এ দিয়ে) সাবধান করে দিতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৯:৯৮﴿
﴾ ১৯:৯৮ ﴿
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا ﴿٩٨﴾
তাদের আগেও আমি বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, এদের কোনোরকম অস্তিত্ব কি তুমি এখন অনুভব করো, না শুনাতে পাও এদের কোনো ক্ষীণতম শব্দও?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]