🕌

البقرة
(২) আল-বাকারাহ

২৮৬

﴾২:১﴿
﴾ ২:১ ﴿
الم ﴿١﴾
আলিফ লা-ম মী-ম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২﴿
﴾ ২:২ ﴿
ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ ﴿٢﴾
(এই) সেই(মহা) গ্রন্থ’(আল কোরআন) , তাতে (কোনো) সন্দেহ নেই, যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে (এই কিতাব কেবল) তাদের জন্যেই পথ প্রদর্শক, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩﴿
﴾ ২:৩ ﴿
الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ﴿٣﴾
যারা না দেখে আল্লাহ তা’আলাকে বিশ্বাস করে, যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, তাদের আমি যা কিছু দান করেছি, তারা তা থেকে (আমারই নিদের্শিত পথে) ব্যয় করে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪﴿
﴾ ২:৪ ﴿
وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ﴿٤﴾
যারা তোমার উপর যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান আনে (ঈমান আনে) তোমার আগে (নবীদের উপর) যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার উপরও, (সর্বোপরি) তারা পরকালের উপর ও দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫﴿
﴾ ২:৫ ﴿
أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿٥﴾
(সত্যিকার অর্থে) এ লোকগুলোই তাদের মালিকের দেখানো সঠিক পথের উপর রয়েছে এবং এরাই হচ্ছে সফলকাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬﴿
﴾ ২:৬ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٦﴾
যারা (এ বিষয়গুলো ) অস্বীকার করে, তাদের তুমি (পরকালের কথা বলে) সাবধান করো আর না করো, (কার্যত) উভয়টাই তাদের জন্যে সমান (কথা) , এরা (কখনো) ঈমান আনবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭﴿
﴾ ২:৭ ﴿
خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿٧﴾
(ক্রমাগত কুফরী করার কারণে) আল্লাহ তা’আলা তাদের মন মগজ ও শ্রবণ শক্তির উপর মোহর মেরে দিয়েছেন, এদের দৃষ্টি শক্তির উপরও এক ধরনের আবরণ পড়ে আছে (যারা এ ধরনের লোক) তাদের জন্যে (পরকালের) কষ্টদায়ক শাস্তি রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮﴿
﴾ ২:৮ ﴿
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ ﴿٨﴾
মানুষদের মাঝে কিছু (লোক এমনও) আছে যারা (মুখে) বলে, আমরা আল্লাহ তা’আলা ও পরকালের উপর ঈমান এনেছি, কিন্তু এদের কর্মকাণ্ড দেখলে তুমি বুঝতে পারবে এরা (মোটেই) ঈমানদার নয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯﴿
﴾ ২:৯ ﴿
يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ ﴿٩﴾
(মুখে ঈমানের দাবি করে) এরা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর নেক বান্দাদের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছে, (মূলত এ কাজের মাধ্যমে) তারা অন্য কাউকে নয়, নিজেদেরই ধোকা দিয়ে যাচ্ছে, (যদিও এ ব্যাপারে) তাদের কোনো প্রকারের চৈতন্য নেই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০﴿
﴾ ২:১০ ﴿
فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ ﴿١٠﴾
(আসলে) এদের মনের ভেতর রয়েছে (এক ধরনের মারাত্মক) ব্যাধি, (প্রতারণার কারণে) আল্লাহ তা’আলা (এদের সে) ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের জন্যে রয়েছে (আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে) পীড়াদায়ক আযাব, কেননা তারা মিথ্যা বলছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১﴿
﴾ ২:১১ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ ﴿١١﴾
তাদের যখন বলা হয়, তোমরা (এই শান্তিপূর্ণ) যমীনে অশান্তি (ও বিপর্যয়) সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, না, আমরাই তো হচ্ছি বরং সংশোধনকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২﴿
﴾ ২:১২ ﴿
أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِنْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿١٢﴾
(অথচ) এরাই হচ্ছে (যমীনে যাবতীয়) বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, যদিও তারা (এ ব্যাপারে) কোনো চৈতন্য রাখে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩﴿
﴾ ২:১৩ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٣﴾
তাদের যখন বলা হয়, অন্য লোকেরা যেমন ঈমান এনেছে তোমরাও তেমনিভাবে ঈমান আনো, তারা বলে (হে নবী, তুমি কি চাও) , আমরাও নির্বোধ লোকদের মতো ঈমান আনি? (আসলে) নির্বোধ তো হচ্ছে এরা নিজেরাই, যদিও তারা (এ কথাটা) জানে না! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪﴿
﴾ ২:১৪ ﴿
وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ ﴿١٤﴾
(মুনাফিকদের অবস্থা হচ্ছে, ) তারা যখন ঈমানদার লোকদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি, (আবার) যখন একাকী তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, (ঈমানের কথা বলে ওদের সাথে) আমরা ঠাট্টা করছি মাত্র! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫﴿
﴾ ২:১৫ ﴿
اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿١٥﴾
(মূলত) আল্লাহ তায়ালাই তাদের সাথে ঠাট্টা করে যাচ্ছেন, আল্লাহ তায়ালাই তাদের অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, তারা তাদের বিদ্রোহে বিভ্রান্তের ন্যায়ই ঘুরে বেড়াচ্ছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬﴿
﴾ ২:১৬ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ ﴿١٦﴾
এরা (জেনে বুঝে) হেদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী কিনে নিয়েছে, তাদের এ ব্যবসাটা (কিন্ত) মোটেই লাভজনক হয়নি এবং এরা সঠিক পথের অনুসারীও নয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭﴿
﴾ ২:১৭ ﴿
مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَا يُبْصِرُونَ ﴿١٧﴾
এদের উদাহরণ হচ্ছে সে (হতভাগ্য) ব্যক্তির মতো, যে (অন্ধকারে) আগুন জ্বালাতে চাইলো, যখন তা তার গোটা পরিবেশটাকে আলোকোজ্জ্বল করে দিলো, তখন (হঠাৎ করে) আল্লাহ তায়ালা তাদের (কাছ থেকে) আলোটুকু ছিনিয়ে নিলেন এবং তাদের (এমন) অন্ধকারে ফেলে রাখলেন যে, তারা কিছুই দেখতে পেলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮﴿
﴾ ২:১৮ ﴿
صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ ﴿١٨﴾
(এদের অবস্থা হচ্ছে, ) এরা (কানেও) শোনে না, (চোখেও) দেখে না, (মুখ দিয়ে) কথাও বলতে পারে না, অতএব এসব লোক (সঠিক পথের দিকে) ফিরে আসবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯﴿
﴾ ২:১৯ ﴿
أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّمَاءِ فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ مِنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ ﴿١٩﴾
অথবা (এদের উদাহরণ হচ্ছে) , আসমান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির মতো, এর মাঝে রয়েছে (আবার) অন্ধকার, মেঘের গর্জন ও বিদ্যুতের চমক, বিদ্যুৎ গর্জন ও মৃত্যুর ভয়ে এরা নিজেদের কানে নিজেদের আঙ্গুল ঢুকিয়ে রাখে (এরা জানে না) , আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের (সকল দিক থেকেই) ঘিরে রেখেছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০﴿
﴾ ২:২০ ﴿
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُمْ مَشَوْا فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢٠﴾
(তাতে এদের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে) মনে হয় এখনই বিদ্যুৎ এদের চোখকে নিষ্প্রভ করে দেবে; (এ আতঙ্কজনক অবস্থায়) আল্লাহ তায়ালা যখন এদের জন্যে একটু আলো জ্বালিয়ে দেন তখন এরা সেদিকে চলতে থাকে, আবার যখন তিনি তাদের উপর অন্ধকার চাপিয়ে দেন তখন এরা (একটু থমকে) দাঁড়ায়; অথচ আল্লাহ তায়ালা চাইলে (সহজেই) তাদের শোনার ও দেখার (ক্ষমতা) ছিনিয়ে নিতে পারতেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশক্তিমান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১﴿
﴾ ২:২১ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿٢١﴾
হে মানুষ, তোমরা সেই মহান আল্লাহ তায়ালার দাসত্ব (স্বীকার) করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের আগে যারা ছিলো তাদের (সবাইকে) পয়দা করেছেন, আশা করা যায় (এর ফলে) তোমরা (যাবতীয় সংকট থেকে) বেঁচে থাকতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২﴿
﴾ ২:২২ ﴿
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٢٢﴾
তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি যমীনকে তোমাদের জন্যে শয্যা বানালেন, আসমানকে বানালেন ছাদ এবং আসমান থেকে পানি পাঠালেন, তার সাহায্যে তিনি নানা প্রকারের ফল মূল উৎপাদন করে তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থা করলেন, অতঃপর তোমরা জেনে বুঝে (এ সব কাজে) আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরীক করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩﴿
﴾ ২:২৩ ﴿
وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٢٣﴾
আমি আমার বান্দার উপর যে কিতাব নাযিল করেছি, তার (সত্যতার) ব্যাপারে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে তাহলে যাও তার মতো (করে) একটি সুরা তোমরাও (রচনা করে) নিয়ে এসো, এক আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর যেসব বন্ধুবান্ধব রয়েছে তাদেরও (প্রয়োজনে সহযোগিতার জন্যে) ডাকো, যদি তোমরা তোমাদের দাবীতে সত্যবাদী হও! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪﴿
﴾ ২:২৪ ﴿
فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدِّتْ لِلْكَافِرِينَ ﴿٢٤﴾
কিন্তু তোমরা যদি তা না করতে পারো (এবং আমি জানি) , তোমরা তা কখনোই করতে পারবে না, তাহলে তোমরা (দোযখের) সেই কঠিন আগুনকে ভয় করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, (আল্লাহ তায়ালাকে) যারা অস্বীকার করে তাদের জন্যেই (এটা) প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫﴿
﴾ ২:২৫ ﴿
وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ رِزْقًا قَالُوا هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٥﴾
অতঃপর যারা (এ কিতাবের উপর) ঈমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে, তাদের তুমি (হে নবী) সুসংবাদ দাও এমন এক জান্নাতের, যার নীচ দিয়ে ঝর্ণা প্রবাহিত হতে থাকবে; যখনি তাদের (এ জান্নাতের) কোনো একটি ফল দেয়া হবে তখনি তারা বলবে, এ ধরনের (ফল) তো ইতিপূর্বেও আমাদের দেয়া হয়েছিলো, তাদের (মূলত) এমনি ধরনের জিনিসই সেখানে দেয়া হবে; তাদের জন্যে (আরো) সেখানে থাকবে পবিত্র সহধর্মী এবং সহধর্মিণী এবং তারা সেখানে অনন্ত কাল ধরে অবস্থান করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬﴿
﴾ ২:২৬ ﴿
إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا مَا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ ﴿٢٦﴾
(সত্য প্রমাণের জন্যে) আল্লাহ তায়ালা মশা কিংবা তার চাইতে উপরে যা কিছু আছে তার উদাহরণ দিতেও লজ্জাবোধ করেন না; যারা (আল্লাহর বাণীতে) বিশ্বাস স্থাপন করে তারা জানে, এ সত্য আল্লাহর কাছ থেকেই এসেছে, আর যারা (আগেই) সত্য অস্বীকার করেছে তারা (একে না মানার অজুহাত দিতে গিয়ে) বলে, আল্লাহ তায়ালা এ উদাহরণ দ্বারা কি বুঝাতে চান? (এভাবে) একই ঘটনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা অনেক লোককে গোমরাহীতে নিমজ্জিত করলেও বহু লোককে তিনি (আবার) এ দিয়ে হেদায়াতের পথও দেখান, আর কতিপয় পাপাচারী ব্যক্তি ছাড়া তিনি তা দিয়ে অন্য কাউকে গোমরাহীতে নিমজ্জিত করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭﴿
﴾ ২:২৭ ﴿
الَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿٢٧﴾
(এরা হচ্ছে সে সব লোক) যারা আল্লাহর ফরমান মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর তা ভঙ্গ করে, (ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে) আল্লাহ তায়ালা যেসব সম্পর্কের ( ভিত) মজবুত করতে বলেছেন তা তারা ছিন্ন করে, (সর্বোপরি) যমীনে অহেতুক বিপর্যয় সৃষ্টি করে; এরাই হচ্ছে (আসল) ক্ষতিগ্রস্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৮﴿
﴾ ২:২৮ ﴿
كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٢٨﴾
তোমরা আল্লাহকে কিভাবে অস্বীকার করবে? অথচ তোমরা (প্রথম দিকে) ছিলে মৃত, তিনিই তোমাদের জীবন দিয়েছেন, পুনরায় তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন, অতঃপর (সর্বশেষে) তিনিই আবার তোমাদের জীবন দান করবেন এবং(এভাবেই) তোমাদের (একদিন ) তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৯﴿
﴾ ২:২৯ ﴿
هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٢٩﴾
তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি এ পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের (ব্যবহারের) জন্যে তৈরী করেছেন, অতঃপর তিনি আসমানের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং তাকে সাত আসমানে বিন্যস্ত করলেন, তিনি সবকিছু সম্পর্কেই সম্যক অবগত আছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩০﴿
﴾ ২:৩০ ﴿
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٣٠﴾
(হে নবী, স্মরণ করো, ) যখন তোমার মালিক (তাঁর) ফেরেশতাদের (সম্বোধন করে) বললেন, আমি পৃথিবীতে (আমার) খলীফা বানাতে চাই; তারা বললো, তুমি কি এমন কাউকে (খলীফা) বানাতে চাও যে (তোমার) যমীনে (বিশৃঙ্খলা ও) বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং (স্বার্থের জন্যে) তারা রক্তপাত করবে, আমরাই তো তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার তাসবীহ পড়ছি এবং (প্রতিনিয়ত) তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি; আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জানো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩১﴿
﴾ ২:৩১ ﴿
وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٣١﴾
আল্লাহ তায়ালা অতঃপর (তাঁর খলীফা) আদমকে (প্রয়োজনীয়) সব জিনিসের নাম শিখিয়ে দিলেন, পরে তিনি সেগুলো ফেরেশতাদের কাছে পেশ করে বললেন, (তোমাদের আশংকার ব্যাপারে) তোমরা যদি সত্যবাদী হও (তাহলে) তোমরা আমাকে এর নামগুলো বলো তো? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩২﴿
﴾ ২:৩২ ﴿
قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ ﴿٣٢﴾
ফেরেশতারা বললো (হে আল্লাহ তায়ালা) , তুমি পবিত্র, আমাদের তো (এর বাইরে আর) কিছুই জানা নেই যা তুমি আমাদের শিক্ষা দিয়েছো; তুমিই একমাত্র জ্ঞানী, একমাত্র কুশলী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩৩﴿
﴾ ২:৩৩ ﴿
قَالَ يَا آدَمُ أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ ﴿٣٣﴾
আল্লাহ তায়ালা (এবার) আদমকে বললেন, তুমি তাদের কাছে তাদের নামগুলো বলে দাও, অতএব আদম (আল্লাহর নির্দেশে) তাদের (সামনে) তাদের নামগুলো যখন (সুন্দরভাবে) বলে দিলো, তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমি আসমানসমূহ ও যমীনের যাবতীয় গোপন বস্তু জানি এবং তোমরা যা কিছু প্রকাশ করো আর যা কিছু গোপন করো আমি তাও ভালোভাবে জানি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩৪﴿
﴾ ২:৩৪ ﴿
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ ﴿٣٤﴾
আল্লাহ তায়ালা যখন ফেরেশতাদের বললেন, তোমরা (সম্মানের প্রতীক হিসেবে) আদমের জন্যে সিজদা করো, অতঃপর তারা (আল্লাহর আদেশে) আদমের সামনে সিজদা অবনত হল শুধু ইবলীস ছাড়া; সে সিজদা করতে অস্বীকার করলো এবং অহংকার করলো অতঃপর সে না-ফরমানদের দলে শামিল থেকে গেলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩৫﴿
﴾ ২:৩৫ ﴿
وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿٣٥﴾
আমি বললাম, হে আদম, তুমি এবং তোমার স্ত্রী (পরম সুখে) এই বেহেশতে বসবাস করতে থাকো এবং এ (নেয়ামত) থেকে যা তোমাদের মন চায় তাই তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে আহার করো, তবে এ গাছটির পাশেও যেও না, অন্যথায় তোমরা (দুজনই) সীমালঙ্ঘন কারীদের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩৬﴿
﴾ ২:৩৬ ﴿
فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ ﴿٣٦﴾
(কিন্তু) শয়তান (শেষ পর্যন্ত) সেখান থেকে তাদের উভয়ের পদস্থলন ঘটালো, তারা উভয়ে (বেহেশতের) যেখানে ছিলো সেখান থেকে সে তাদের বের করেই ছাড়লো, আর আমি তাদের বললাম, তোমরা একজন আরেক জনের দুশমন হিসেবে এখান থেকে নেমে পড়ো, তোমাদের (পরবর্তী) বাসস্থান (হবে) পৃথিবী, সেখানে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের জন্যে জীবনের (যাবতীয়) উপকরণ থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩৭﴿
﴾ ২:৩৭ ﴿
فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴿٣٧﴾
অতঃপর আদম তার মালিকের কাছ থেকে (হেদায়াত সম্বলিত) কিছু বাণী পেলো, আল্লাহ তায়ালা তার উপর ক্ষমা-পরবশ হলেন, অবশ্যই তিনি বড়ো মেহেরবান ও ক্ষমাশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩৮﴿
﴾ ২:৩৮ ﴿
قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٣٨﴾
আমি (তাদের) বললাম, তোমরা সবাই (এবার) এখান থেকে নেমে যাও, তবে (যেখানে যাবে অবশ্যই সেখানে) আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে (জীবন বিধান সম্পর্কিত) হেদায়াত আসবে, অতঃপর যে আমার (সেই) বিধান মেনে চলবে তার কোনো ভয় নেই, তাদের কোনো প্রকার উৎকণ্ঠিত ও হতে হবেনা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৩৯﴿
﴾ ২:৩৯ ﴿
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٣٩﴾
আর যারা (আমার বিধান) অস্বীকার করবে এবং আমার আয়াত সমূহ মিথ্যা প্রতিপন্ন (করে লাগামহীন জীবন যাপন) করবে, তারা অবশ্যই জাহান্নামের বাসিন্দা হবে, তারা সেখানে চিরদিন থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪০﴿
﴾ ২:৪০ ﴿
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ ﴿٤٠﴾
হে বনী ইসরাঈল (জাতি) , তোমাদের উপর আমি যেসব নেয়ামত দিয়েছি তোমরা সেগুলো স্মরণ করো, আমার (আনুগত্যের) প্রতিশ্রুতি তোমরা পূর্ণ করো, আমিও (এর বিনিময়ে) তোমাদের (দুনিয়া ও আখিরাতের পুরস্কারের) প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবো এবং তোমরা একমাত্র আমাকেই ভয় করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪১﴿
﴾ ২:৪১ ﴿
وَآمِنُوا بِمَا أَنْزَلْتُ مُصَدِّقًا لِمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ ﴿٤١﴾
আমি (মোহাম্মদের কাছে) যা (কোরআন) নাযিল করেছি, তোমরা এর উপর ঈমান আনো, যা তোমাদের কাছে যা কিছু আছে তার সত্যায়নকারী, তোমরা কিছুতেই এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না এবং (বৈষয়িক স্বার্থে) সামান্য মূল্যে আমার আয়াত বিক্রি করো না এবং তোমরা শুধু আমাকেই ভয় করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪২﴿
﴾ ২:৪২ ﴿
وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٤٢﴾
তোমরা মিথ্যা দিয়ে সত্যকে পোশাক পরিয়ে দিয়ো না এবং সত্যকে জেনে বুঝে লুকিয়েও রেখো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪৩﴿
﴾ ২:৪৩ ﴿
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ ﴿٤٣﴾
তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত আদায় করো, যারা আমার সামনে অবনত হয় তাদের সাথে মিলে তোমরাও আমার আনুগত্য স্বীকার করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪৪﴿
﴾ ২:৪৪ ﴿
أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٤٤﴾
তোমরা কি মানুষদের ভালো কাজের আদেশ করো এবং নিজেদের (জীবনে তা বাস্তবায়নের) কথা ভুলে যাও, অথচ তোমরা সবাই আল্লাহর কিতাব পড়ো; কিন্তু (কিতাবের এ কথা) তোমরা কি বুঝো না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪৫﴿
﴾ ২:৪৫ ﴿
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ ﴿٤٥﴾
(হে ঈমানদার ব্যক্তিরা) তোমরা সবর ও নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও; (যাবতীয় হক আদায় করে) নামায প্রতিষ্ঠা করা (অবশ্যই একটা) কঠিন কাজ, কিন্তু যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের কথা আলাদা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪৬﴿
﴾ ২:৪৬ ﴿
الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلَاقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ﴿٤٦﴾
যারা জানে, একদিন তাদের সবাইকে তাদের মালিকের সামনাসামনি হতে হবে এবং তাদের (সবাইকে) তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে (তার জন্যে এটা কঠিন কিছু নয়) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪৭﴿
﴾ ২:৪৭ ﴿
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿٤٧﴾
হে বনী ইসরাঈল (জাতি) , তোমরা আমার সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাদের দান করেছি (সেই নেয়ামতের মধ্যে একটি ছিলো) , আমি তোমাদের সৃষ্টিকুলের উপর প্রাধান্য দিয়েছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪৮﴿
﴾ ২:৪৮ ﴿
وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ ﴿٤٨﴾
(হে ঈমানদার ব্যক্তিরা) তোমরা সে দিনটিকে ভয় করো যেদিন একজন আরেক জনের কোনোই কাজে আসবে না, একজনের কাছ থেকে আরেকজনের (পক্ষে) কোনো সুপারিশ ও (সেদিন) গ্রহণ করা হবে না, এবং কারও কাছ থেকে মুক্তিপণ নেয়া কিংবা তা নিয়ে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না, না তাদের (সেদিন) কোনো রকম সাহায্য করা হবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৪৯﴿
﴾ ২:৪৯ ﴿
وَإِذْ نَجَّيْنَاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ وَفِي ذَلِكُمْ بَلَاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَظِيمٌ ﴿٤٩﴾
(স্মরণ করো) যখন আমি তোমাদের ফেরাউনের লোকদের (গোলামী) থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম, তারা তোমাদের উপর ভীষণ অত্যাচার করত, তারা নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তি দারা তোমাদের যন্ত্রণা দিত, তারা তোমাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করতো এবং তোমাদের মেয়েদের (তারা) জীবিত রেখে দিতো; তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে এতে তোমাদের জন্যে বড়ো একটা পরীক্ষা (নিহিত) ছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫০﴿
﴾ ২:৫০ ﴿
وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنْجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ ﴿٥٠﴾
(আরো স্মরণ করো) যখন আমি তোমাদের জন্যে সমুদ্রকে দ্বিধাবিভক্ত করে দিয়েছিলাম, অতঃপর আমি তোমাদের (সমূহ মৃত্যুর হাত থেকে) বাঁচিয়ে দিয়েছিলাম এবং আমি ফেরাউন ও তার দলবলকে (সমুদ্রে) ডুবিয়ে দিয়েছিলাম, আর তোমরা তা তো (নিজেরাই) প্রত্যক্ষ করেছিলে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫১﴿
﴾ ২:৫১ ﴿
وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ ﴿٥١﴾
(আরো স্মরণ করো) যখন মুসাকে আমি (বিশেষ একটি কাজের জন্যে) চল্লিশ রাত নির্ধারণ করে দিলাম, তার (যাওয়ার) পর তোমরা একটি বাছুরকে (মাবুদ-রূপে) গ্রহণ করে নিলে, তোমরা (এতে করে) ভীষণ যুলুম করেছিলে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫২﴿
﴾ ২:৫২ ﴿
ثُمَّ عَفَوْنَا عَنْكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٥٢﴾
অতঃপর (এ অপরাধ সর্তেও) আমি (পুনরায়) তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি এ আশায় যে, তোমরা আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫৩﴿
﴾ ২:৫৩ ﴿
وَإِذْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿٥٣﴾
(সে কথাও স্মরণ করো) যখন আমি মুসাকে কিতাব ও ন্যায় অন্যায়ের পরখকারী (একটি মানদণ্ড) দান করেছি, যাতে করে তোমরা হেদায়াতের পথে চলতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫৪﴿
﴾ ২:৫৪ ﴿
وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنْفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴿٥٤﴾
(আরো স্মরণ করো, মুসা যখন তার নিজ লোকদের (কাছে এসে) বললো, হে আমার জাতি, তোমরা (আমার অবর্তমানে) বাছুরকে মাবুদ হিসেবে গ্রহণ করে যে (বড়ো রকমের) যুলুম করেছো, তার জন্যে অবিলম্বে আল্লাহর দরবারে তাওবা করো এবং তোমরা তোমাদের নিজেদের (শেরেকি অভিশপ্ত) নফস্ সমূহকে হত্যা করো, এর মাঝেই আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে; অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর ক্ষমা পরবশ হবেন, (কারণ) তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫৫﴿
﴾ ২:৫৫ ﴿
وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ ﴿٥٥﴾
তোমরা যখন বলেছিলো, হে মুসা, আমরা আল্লাহকে প্রত্যক্ষ ভাবে না দেখলে কখনো তার উপর ঈমান আনবো না, তখন (এ ধৃষ্টতার শাস্তি হিসেবে) মুহূর্তের মধ্যেই বজ্রের (মত এক গযব) তোমাদের উপর নিপতিত হলো, আর তোমরা তার দিকে চেয়েই থাকলে (কিছুই করতে পারলে না) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫৬﴿
﴾ ২:৫৬ ﴿
ثُمَّ بَعَثْنَاكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٥٦﴾
অতঃপর (এই ধ্বংসকর) মৃত্যুর পর তোমাদের আমি পুনরায় জীবন দান করলাম, যাতে করে তোমরা (আমার) কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫৭﴿
﴾ ২:৫৭ ﴿
وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنْزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٥٧﴾
আমি তোমাদের উপর মেঘের ছায়া দান করেছিলাম, 'মান্না'এবং 'সালওয়া'(নামক খাবারও) তোমাদের জন্যে পাঠিয়েছিলাম; (আমি তোমাদের বলেছিলাম, ) সে সব পবিত্র খাবার খাও, যা আমি তোমাদের দিয়েছি, তা তোমরা উপভোগ করো, (নেয়ামত অবজ্ঞা করে) তারা আমার উপর কোনো অবিচার করেনি, (বরং এর দ্বারা) তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫৮﴿
﴾ ২:৫৮ ﴿
وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ ﴿٥٨﴾
(স্মরণ করো) আমি যখন তোমাদের বলেছিলাম, তোমরা এই জনপদে ঢুকে পড়ো এবং তোমরা তার যেখান থেকেই ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করো, (দম্ভ সহকারে প্রবেশ না করে) মাথা-নত করে ঢোকও, তোমরা ক্ষমার কথা বলবে, আমিও তোমাদের ভুল ত্রটি সমূহ ক্ষমা করে দেবো এবং যারা ভালো কাজ করে আমি (এভাবেই) তাদের (পাওনার অংক) বাড়িয়ে দেই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৫৯﴿
﴾ ২:৫৯ ﴿
فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنْزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ ﴿٥٩﴾
(সুস্পষ্ট হেদায়াত সত্তেও) অতঃপর জালেমরা এমন কিছু ব্যাপার রদবদল করে ফেললো, যা না করার জন্যেই তাদের বলা হয়েছিলো, আমিও এরপর যারা যুলুম করলো তাদের উপর আসমান থেকে গযব নাযিল করলাম, (মূলত) এটা ছিলো তাদের গুনাহর ফল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬০﴿
﴾ ২:৬০ ﴿
وَإِذِ اسْتَسْقَى مُوسَى لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَشْرَبَهُمْ كُلُوا وَاشْرَبُوا مِنْ رِزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿٦٠﴾
(স্মরণ করো, ) যখন মুসা (আমার কাছে) তার জাতির লোকদের জন্যে পানি চাইলো, আমি (তাকে) বললাম, তোমার হাতের লাঠি দিয়ে তুমি (এই) পাথরে আঘাত করো, (আঘাত করা মাত্রই) সে পাথর থেকে বারোটি (পানির) নহর উৎপন্ন হয়ে গেলো; প্রত্যেক গোত্রই নিজ নিজ (পানির) ঘাট চিনে নিলো; (আমি বললাম, ) আল্লাহর দেয়া রিযিক থেকে তোমরা পানাহার করো, তবে (কিছুতেই আমার) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬১﴿
﴾ ২:৬১ ﴿
وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نَصْبِرَ عَلَى طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ مِنْ بَقْلِهَا وَقِثَّائِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ اهْبِطُوا مِصْرًا فَإِنَّ لَكُمْ مَا سَأَلْتُمْ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ ﴿٦١﴾
(স্মরণ করো, ) তোমরা যখন মুসাকে বলেছিলে, হে মুসা, (প্রতিদিন) একই ধরনের খাবারের উপর আমরা কিছুতেই (আর) ধৈর্য ধরতে পারবো না, তুমি তোমার মালিকের কাছে বলো যেন তিনি কিছু ভূমিজাত দ্রব্য তরিতরকারি, পেয়াজ, রসুন, ভূক্টা, ডাল উৎপাদন করেন, সে বললো, তোমরা কি (আল্লাহর পাঠানো) এ উৎকৃষ্ট জিনিসের সাথে একটি তুচ্ছ ধরনের) জিনিসকে বদলে নিতে চাও? (যদি তাই হয়) তাহলে তোমরা অন্য কোনো শহরে সরে পড়ো, যেখানে তোমাদের এসব জিনিস যা তোমরা চাইবে, তা অবশ্যই পাওয়া যাবে, (আল্লাহ তায়ালার আদেশ অমান্য করার ফলে) শেষ পর্যন্ত অপমান ও দারিদ্র তাদের উপর ছেয়ে গেলো; আল্লাহর গযব দ্বারা তারা আক্রান্ত হয়ে গেলো, এটা এ কারণে (যে) , এরা (ক্রমাগত) আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করতে থাকলো এবং আল্লাহর নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করতে থাকলো, আর এসব কিছু এজন্যই ছিলো যে, তারা আল্লাহর সাথে না-ফরমানী ও সীমালঙ্ঘন করছিলো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬২﴿
﴾ ২:৬২ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٦٢﴾
নিঃসন্দেহে যারা ঈমান আনে, তারা খৃষ্টান হোক, ইহুদি হোক, কিংবা সাবী হোক. তারাই হবে মুসল মান, এদের যে কেউ আল্লাহর উপর ঈমান আনবে, ঈমান আনবে পরকালের উপর এবং যথার্থ ভালো কাজ করবে, তাদের জন্যে তাদের মালিকের কাছে পুরস্কার রয়েছে এবং এসব লোকের (যেমন) কোনো ভয় নেই, (তেমনি) তারা চিন্তিতও হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬৩﴿
﴾ ২:৬৩ ﴿
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿٦٣﴾
(স্মরণ করো, ) যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম (যে, তোমরা তাওরাত মেনে চলবে) এবং তুর পাহাড়কে আমি তোমাদের উপর তুলে ধরে (বলে) ছিলাম; যে কিতাব তোমাদের আমি দান করেছি তা শক্তভাবে আকড়ে ধরো এবং তাতে যা কিছু আছে তা স্মরণ রেখো, (এ উপায়ে) তোমরা হয়তো (শয়তান থেকে) নিজেদের বাঁচাতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬৪﴿
﴾ ২:৬৪ ﴿
ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنْتُمْ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٦٤﴾
অতঃপর তোমরা এ (ওয়াদা) থেকে ফিরে গেলে, (কিন্তু তা সত্তেও) আমার অনুদান ও রহমত যদি তোমাদের উপর না থাকতো তাহলে তোমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেতে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬৫﴿
﴾ ২:৬৫ ﴿
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ ﴿٦٥﴾
তোমরা তো ভালো করেই তাদের জানো, যারা তোমাদের মধ্যে শনিবারে (আল্লাহর আদেশ) লংঘন করেছে, অতঃপর আমি তাদের (শুধু এটুকুই) বলেছি, যাও (এবার) তোমরা সবাই অপমানিত বানর (এ পরিণত) হয়ে যাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬৬﴿
﴾ ২:৬৬ ﴿
فَجَعَلْنَاهَا نَكَالًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ ﴿٦٦﴾
এ (ঘটনা) -কে আমি সে সব মানুষদের যারা তখন সেখানে (মজুদ) ছিলো আরো যারা পরে আসবে, তাদের (সবার) জন্যে এটি একটি দৃষ্টান্ত মূলক (ঘটনা) বানিয়ে দিয়েছি, যারা আল্লাহকে ভয় করে এমন লোকদের জন্যেও এ ঘটনা (ছিলো) একটি উপদেশ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬৭﴿
﴾ ২:৬৭ ﴿
وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَةً قَالُوا أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا قَالَ أَعُوَذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ ﴿٦٧﴾
(আরো স্মরণ করো, ) যখন মুসা তার জাতিকে বললো, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা (তাঁর নামে) তোমাদের একটি গাভী যবাই করার আদেশ দিচ্ছেন; তারা (এ কথা শুনে) বললো (হে মুসা) , তুমি কি আমাদের সাথে তামাশা করছো? সে বললো, আমি (তামাশা করে) জাহেলদের দলে শামিল হওয়া থেকে আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহ চাই! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬৮﴿
﴾ ২:৬৮ ﴿
قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّنْ لَنَا مَا هِيَ قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَا فَارِضٌ وَلَا بِكْرٌ عَوَانٌ بَيْنَ ذَلِكَ فَافْعَلُوا مَا تُؤْمَرُونَ ﴿٦٨﴾
তারা (মুসাকে) বললো, তুমি তোমার মালিককে বলো, আমাদের তিনি যেন সুস্পষ্ট বলে দেন তা কেমন (হবে) ? সে বললো, অবশ্যই তা হবে এমন যা বৃদ্ধ হবে না, আবার (একেবারে) বাচ্চাও হবে না; (বরং তা হবে) এর মাঝামাঝি বয়সের (এখন) যা কিছু তোমাদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে তাই করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৬৯﴿
﴾ ২:৬৯ ﴿
قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّنْ لَنَا مَا لَوْنُهَا قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ صَفْرَاءُ فَاقِعٌ لَوْنُهَا تَسُرُّ النَّاظِرِينَ ﴿٦٩﴾
তারা (মুসাকে) বললো, তুমি তোমার মালিককে জিজ্ঞেস করে নাও, তিনি আমাদের যেন বলে দেন তার রং কেমন হবে? সে বললো, তা হবে হলুদ রংয়ের, তার রং এতো আকর্ষণীয় হবে যে, যারা তাকাবে তা তাদেরই পরিতৃপ্ত করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭০﴿
﴾ ২:৭০ ﴿
قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّنْ لَنَا مَا هِيَ إِنَّ الْبَقَرَ تَشَابَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَمُهْتَدُونَ ﴿٧٠﴾
তারা বললো (হে মুসা) , তুমি তোমার মালিককে (আবার) জিজ্ঞেস করে নাও, (আসলে) তা কি ধরনের হবে, (আমরা তো সঠিক গাভী বাছাই করতে পারছি না, ) কারণ আমাদের কাছে (তো সব) গাভী দেখতে একই ধরনের মনে হয়; আল্লাহ তায়ালা চাইলে (এবার) অবশ্যই আমরা সঠিক পথে চলতে পারবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭১﴿
﴾ ২:৭১ ﴿
قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَا ذَلُولٌ تُثِيرُ الْأَرْضَ وَلَا تَسْقِي الْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لَا شِيَةَ فِيهَا قَالُوا الْآنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ ﴿٧١﴾
সে বললো, (তাহলে শুনো, আল্লাহর ইঙ্গিত) সে (গাভী) হবে এমন যে, সেটি কোনো চাষাবাদের কাজ করে না, যমীনে পানি সেচের কাজও করে না, (অর্থাৎ তা হবে) সম্পূর্ণ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত, (একথা শুনে) তারা বললো, এতক্ষণে তুমি (আমাদের সামনে) সত্য ঘটনা নিয়ে এসেছো! অতঃপর তারা (এ ধরনের একটি গাভী) যবাই করলো, যদিও (ইতিপূর্বে) মনে হয়নি যে, তারা এ কাজটি আদৌ করতে চায়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭২﴿
﴾ ২:৭২ ﴿
وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَادَّارَأْتُمْ فِيهَا وَاللَّهُ مُخْرِجٌ مَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ ﴿٧٢﴾
(স্মরণ করো, ) যখন তোমরা একজন লোককে হত্যা করেছিলে, অতঃপর সে ব্যাপারে তোমরা একে অপরের উপর (হত্যার) অভিযোগ আরোপ করতে শুরু করলে, (অথচ) আল্লাহ তায়ালা সে বিষয়ই (মানুষের সামনে) বের করে আনতে চাইলেন, যা তোমরা লুকোবার চেষ্টা করছিলে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭৩﴿
﴾ ২:৭৩ ﴿
فَقُلْنَا اضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا كَذَلِكَ يُحْيِي اللَّهُ الْمَوْتَى وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٧٣﴾
(হত্যাকারীকে খোজার জন্যে) আমি তোমাদের বললাম, (কোরবানী করা) সেই (গাভীর) শরীরের একাংশ দিয়ে তোমরা একে (মৃদু) আঘাত করো, এভাবেই আল্লাহ তায়ালা মৃত ব্যক্তিকে জীবন দান করবেন এবং (এ ঘটনা দ্বারা) তিনি তোমাদের কাছে তাঁর (জ্ঞানের) নিদর্শনস মূহ তুলে ধরেন, আশা করা যায় তোমরা (সত্য) অনুধাবন করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭৪﴿
﴾ ২:৭৪ ﴿
ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً وَإِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الْأَنْهَارُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَاءُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٧٤﴾
(কিন্ত এতো বড়ো একটি নিদর্শন সত্তেও) অতঃপর তোমাদের মন কঠিন হয়ে গেলো, (এমন কঠিন) যেন তা (শক্ত) পাথর, (বরং মাঝে মাঝে মনে হয়) পাথরের চেয়েও (বুঝি তা) বেশী কঠিন; (কেননা) কিছু পাথর এমন আছে যা থেকে (মাঝে মাঝে) ঝর্ণাধারা নির্গত হয়, আবার কোনো কোনো সময় তা বিদীর্ণ হয়ে ফেটেও যায় এবং তা থেকে পানির ফোয়ারা ও বেরিয়ে আসে, (অবশ্য) এর মধ্য থেকে (এমন কিছু পাথর আছে) যা আল্লাহর ভয়ে ধসে পড়ে; আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে মোটেই গাফেল নন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭৫﴿
﴾ ২:৭৫ ﴿
أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿٧٥﴾
(হে ঈমানদার লোকেরা, এরপরও) তোমরা কি এই আশা পোষণ করো যে, এরা তোমাদের (সাথে তোমাদের দ্বীনের) জন্যে ঈমান আনবে? অথচ এদের একাংশ তো (যুগ যুগ ধরে) আল্লাহর কিতাব শুনে আসছে, অতঃপর তারা তাকে বিকৃত করছে, অথচ এরা ভালো করেই তা জানে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭৬﴿
﴾ ২:৭৬ ﴿
وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ قَالُوا أَتُحَدِّثُونَهُمْ بِمَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَاجُّوكُمْ بِهِ عِنْدَ رَبِّكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٧٦﴾
(এদের অবস্থা হচ্ছে, ) এরা যখন ঈমানদারদের সাথে সাক্ষাত করে তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি, কিন্তু এরাই (আবার) যখন গোপনে একে অপরের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, তোমরা কি মুসলমানদের কাছে সে সব কথা প্রকাশ করে দাও যা আল্লাহ তায়ালা (মোহাম্মদের নবুওত সম্পর্কে আগেই তাওরাতে) তোমাদের উপর ব্যক্ত করেছেন; (খবরদার, তোমরা এমনটি কখনো করো না) , তাহলে তারা (একদিন) তোমাদের মালিকের সামনে এটা দিয়েই তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য উত্থাপন করবে, তোমরা কি (এটুকু কথাও) বুঝতে পারো না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭৭﴿
﴾ ২:৭৭ ﴿
أَوَلَا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ﴿٧٧﴾
এরা কি জানে না, (আল্লাহর কিতাবের) যা কিছু এরা গোপন করে (আবার নিজেদের স্বার্থে তারা) যা প্রকাশ করে, তা (সবই) আল্লাহ তায়ালা জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭৮﴿
﴾ ২:৭৮ ﴿
وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ ﴿٧٨﴾
এদের আরেকটি দল, যারা (একান্ত) অশিক্ষিত (নিরক্ষর) , এরা (আল্লাহর) কিতাব সম্পর্কে কিছুই জানে না, (আল্লাহর কিতাব যেন এদের কাছে) একটি নিছক ধ্যান ধারণা (সর্বস্ব পুষ্পক) মাত্র, এরা শুধু অ মূলক ধারণাই করে থাকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৭৯﴿
﴾ ২:৭৯ ﴿
فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ ﴿٧٩﴾
সে সব লোকের জন্যে ধ্বংস (অনিবার্য) , যারা হাত দিয়ে কিতাব লেখে নেয়, তারপর (দুনিয়ার সামনে) বলে, এগুলো হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে (অবতীর্ণ শরীয়তের বিধান) , তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যেন তা দিয়ে (দুনিয়ার) কিছু (স্বার্থ) তারা কিনে নিতে পারে; অতঃপর তাদের হাত যা কিছু রচনা করেছে তার জন্যে তাদের ধ্বংস ও দুর্ভোগ, যা কিছু তারা উপার্জন করেছে তার জন্যেও তাদের দুর্ভোগ । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮০﴿
﴾ ২:৮০ ﴿
وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدًا فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٨٠﴾
এ সব (নির্বোধ) লোকেরা বলে, জাহান্নামের আগুন কখনোই আমাদের স্পর্শ করবে না, একান্ত যেদি করেও) তা হবে নির্দিষ্ট কয়েকটা দিনের (জন্যে) মাত্র, (হে নবী, ) তুমি তাদের বলো, তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে (এমন) কোনো প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছো? আল্লাহ তায়ালা তো কখনো তাঁর প্রতিশ্রুতি ভংগ করেন না, না তোমরা জেনে বুঝেই আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এমন সব কথা বলে বেড়াচ্ছো যা তোমরা নিজেরাই জানো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮১﴿
﴾ ২:৮১ ﴿
بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطْتُ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٨١﴾
হাঁ, যে কোনো ব্যক্তি সেচ্ছায় অপরাধ করেছে এবং যাকে তার পাপ ঘিরে রেখেছে, এমন লোকেরাই হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী এবং সেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮২﴿
﴾ ২:৮২ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٨٢﴾
(আবার) যারাই (আল্লাহ তায়ালার উপর) ঈমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, তারা বেহেশতবাসী হবে, তারা সেখানে চিরদিন থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮৩﴿
﴾ ২:৮৩ ﴿
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ مُعْرِضُونَ ﴿٨٣﴾
যখন আমি বনী ইসরাঈলদের কাছ থেকে (এ মর্মে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবে না এবং মাতা পিতার সাথে স্বৎব্যবহার করবে, আত্নীয় স্বজন, এতীম-মিসকীনদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে, মানুষদের সুন্দর কথা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে; (কিন্তু এ সত্তেও) তোমাদের মধ্যে সামান্য কিছুসংখ্যক লোক ছাড়া অধিকাংশই অতপর সেদিন ফিরে গেছো, এভাবেই তোমরা (প্রতিশ্রুতি থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮৪﴿
﴾ ২:৮৪ ﴿
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لَا تَسْفِكُونَ دِمَاءَكُمْ وَلَا تُخْرِجُونَ أَنْفُسَكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنْتُمْ تَشْهَدُونَ ﴿٨٤﴾
তোমাদের (কাছ থেকে) আমি এ প্রতিশ্রুতিও নিয়েছিলাম যে, তোমরা কেউ কারো রক্তপাত করবে না এবং নিজেদের লোকদের তাদের ঘর বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করবে না, অতপর তোমরা তা স্বীকার করে নিয়েছিলে, তোমরা তো নিজেরাই (এ) সাক্ষ দিচ্ছো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮৫﴿
﴾ ২:৮৫ ﴿
ثُمَّ أَنْتُمْ هَؤُلَاءِ تَقْتُلُونَ أَنْفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًا مِنْكُمْ مِنْ دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِمْ بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِنْ يَأْتُوكُمْ أُسَارَى تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٨٥﴾
তারপর এই তো হচ্ছো তোমরা! একে অপরকে তোমরা হত্যা করতে লাগলে, তোমাদের এক দলকে তোমরা তাদের ভিটেমাটি থেকে বিতাড়িত করে দিতে লাগলে, অন্যায় এবং যুলুম দ্বারা যালেমদের তোমরা তাদের উপর পৃষ্ঠপোষকতা করতে থাকলে (শুধু তাই নয়) , কোনো লোক (যুদ্ধ) বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে এলে তোমরা তাদের জন্যে মুক্তিপণ দাবী করো, (অথচ) তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করাটাই ছিলো তোমাদের উপর অবৈধ কাজ (এবং আল্লাহ তায়ালাকে দেয়া প্রতিশ্রুতির লংঘন) ; তোমরা কি (তাহলে) আল্লাহর কিতাবের একাংশ বিশ্বাস করো এবং আরেক অংশ অবিশ্বাস করো? (সাবধান!) কখনো যদি কোনো (জাতি কিংবা) ব্যক্তি (দ্বীনের অংশবিশেষের উপর ঈমান আনয়নের) এ আচরণ করে, তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কি হবে যে, পার্থিব জীবনে তাদের লাঞ্না ভোগ করতে হবে, তাদের পরকালেও কঠিনতম আযাবের দিকে নিপেক্ষ করা হবে; তোমরা (প্রতিনিয়ত) যা করছো, আল্লাহ তায়ালা সে সব কিছু থেকে মোটেও উদাসীন নন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮৬﴿
﴾ ২:৮৬ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ ﴿٨٦﴾
(বস্তূত) এ লোকেরা আখেরাতের (স্থায়ী জীবনের) বিনিময়ে দুনিয়ার (অস্থায়ী) জীবন খরিদ করে নিয়েছে (এরা যেহেতু আযাব বিশ্বাসই করেনি) , তাই (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) তাদের আযাব কিঞ্চিৎ পরিমাণও হালকা করা হবে না, আর না তাদের (কোনোদিক থেকে কোনো রকম) সাহায্য করা হবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮৭﴿
﴾ ২:৮৭ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِنْ بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ ﴿٨٧﴾
আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি, তারপর একে একে আমি আরো অনেক নবীই পাঠিয়েছি এবং (বাপ ছাড়া সন্তান পয়দা করার মতো) সুস্পষ্ট নিদর্শন দিয়ে আমি মারইয়াম পুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছি এবং (আমার পাঠানো বাণী ও) পবিত্র আত্মার মাধ্যমে তাকে আমি সাহায্য করেছি; (অথচ) যখনি তোমাদের কাছে আল্লাহর কোনো নবী আসতো, তোমাদের মনোপূত না হলে তোমরা অহংকারের বশবর্তী হয়ে তাদের অস্বীকার করেছো, তাদের কাউকে তোমরা মিথ্যাবাদী বলেছো, (আবার) তাদের একদলকে তোমরা হত্যাও করেছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮৮﴿
﴾ ২:৮৮ ﴿
وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ لَعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلًا مَا يُؤْمِنُونَ ﴿٨٨﴾
তারা বলে, (হেদায়াতের জন্যে) আমাদের মন (ও তার দরজা) বন্ধ হয়ে আছে, (আসলে) আল্লাহ তায়ালাকে তাদের (ক্রমাগত) অস্বীকার করার কারণে তিনি তাদের উপর অভিসম্পাত করেছেন, অতপর তাদের সামান্য পরিমাণ লোকই আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৮৯﴿
﴾ ২:৮৯ ﴿
وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿٨٩﴾
যখনি তাদের কাছে আল্লাহর কাছ থেকে কিতাব নাযিল হলো যা তাদের কাছে মজুদ কিতাবের সত্যতা স্বীকার করে, (তা ছাড়া) এর আগে তারা নিজেরাই (সমাজের) অন্যান্য কাফেরদের উপর বিজয়ী হওয়ার জন্যে (এ কিতাব ও তার বাহকের আগমন) কামনা করেছিলো, কিন্তু আজ যখন তা তাদের কাছে এলো এবং যা তারা যথাযথ চিনতেও পারলো তাই তারা অস্বীকার করলো, যারা (আল্লাহর কিতাব) অস্বীকার করে তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত নাযিল হোক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯০﴿
﴾ ২:৯০ ﴿
بِئْسَمَا اشْتَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ أَنْ يَكْفُرُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ بَغْيًا أَنْ يُنَزِّلَ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ فَبَاءُوا بِغَضَبٍ عَلَى غَضَبٍ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿٩٠﴾
কতো নিকৃষ্ট (বস্তু) সেটি, যার বিনিময়ে তারা তাদের নিজেদের মন প্রাণ বিক্রয় করে দিয়েছে, শুধু গোঁড়ামির বশবর্তী হয়েই তারা আল্লাহর নাযিল করা বিধান অস্বীকার করেছে (শুধু এ কারণে যে) , আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে চান তাকেই নবুওত দিয়ে অনুগ্রহ করেন, (তাদের এ কুফরীর ফলে) তারা ক্রোধের উপর ক্রোধে আক্রান্ত হলো; আর কাফেরদের জন্যে তো (এমনিই) অপমানজনক শাস্তি রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯১﴿
﴾ ২:৯১ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَاءَهُ وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِمَا مَعَهُمْ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنْبِيَاءَ اللَّهِ مِنْ قَبْلُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٩١﴾
যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ তায়ালা যা কিছু নাযিল করেছেন তার উপর ঈমান আনো, তারা বলে, আমরা তো শুধু সেসব কিছুর উপরই ঈমান আনি যা আমাদের (বনী ইসরাঈল জাতির) উপর নাযিল করা হয়েছে, এর বাইরে যা তা তারা অস্বীকার করে, (অথচ) তা একান্ত সত্য, তা তাদের কাছে নাযিল করা আল্লাহর কথাগুলোকে ও সত্য বলে স্বীকার করে; (হে নবী, ) তুমি বলো, তোমরা যদি বিশ্বাসীই হও তাহলে আল্লাহর নবীদের ইতিপূর্বে তোমরা কেন হত্যা করেছিলে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯২﴿
﴾ ২:৯২ ﴿
وَلَقَدْ جَاءَكُمْ مُوسَى بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ ﴿٩٢﴾
তোমাদের কাছে তো (এক সময়) সুস্পষ্ট নিদর্শন সহকারে মুসাও (নবী হয়ে) এসেছিলো, অথছ তার (সামান্য কয়দিনের অনুপস্থিতির) পরেই তোমরা একটি বাছুরকে (মাবুদ হিসেবে) গ্রহণ করে নিলে! কতো (বড়ো) যালেম ছিলে তোমরা! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯৩﴿
﴾ ২:৯৩ ﴿
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاسْمَعُوا قَالُوا سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُمْ بِهِ إِيمَانُكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٩٣﴾
(আরো স্মরণ করো, ) যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলাম তোমাদের মাথার উপর তুর পাহাড় তুলে ধরে (আমি বলেছিলাম) , যা কিছু বিধি বিধান আমি তোমাদের দিয়েছি তা শক্ত করে অ্টাউকড়ে ধরো এবং (আমার কথাগুলো) শুনো, (এর জবাবে) তারা (মুখে তো) বললো হ্যাঁ, আমরা (তোমার কথা) শুনেছি, কিন্তু (বাস্তব জীবনে তা অস্বীকার করে বললো, ) আমরা তা অমান্য করলাম, (আসলে) আল্লাহ তায়ালাকে তাদের অস্বীকার করার কারণে সেই বাছুরকে মাবুদ বানানো (র নেশা তখনো) তাদের মনকে আকৃষ্ট করে রেখেছিলো, তুমি (তাদের) বলো, যদি তোমরা সত্যিই মু’মিন হও তাহলে বলতে পারো, এটা কতো খারাপ ঈমান যা একজন ব্যক্তিকে এ ধরনের কাজের আদেশ দেয়? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯৪﴿
﴾ ২:৯৪ ﴿
قُلْ إِنْ كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِنْدَ اللَّهِ خَالِصَةً مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٩٤﴾
যদি (তোমরা মনে করো, ) অন্যদের বদলে পরকালের নিবাস আল্লাহর কাছে শুধু তোমাদের জন্যেই নির্দিস্ট তাহলে (যাও তা পাওয়ার জন্যে) তোমরা মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯৫﴿
﴾ ২:৯৫ ﴿
وَلَنْ يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ ﴿٩٥﴾
(হে নবী, তুমি জেনে রাখো, ) এরা কখনোই কামনা করবেনা (আল্লাহর সাথে যে আচরণ এরা করেছে) এবং নিজেদের হাত দিয়ে এরা যা কিছু অর্জন করেছে (তার পরিণাম) জানার পর এরা কখনো তা কামনা করবে না, আল্লাহ তায়ালা যালেমদের ভালো করেই জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯৬﴿
﴾ ২:৯৬ ﴿
وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَنْ يُعَمَّرَ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ ﴿٩٦﴾
(সত্যি কথা হচ্ছে, ) এদেরকেই বরং তুমি দেখতে পাবে বেঁচে থাকার ব্যাপারে এরা বেশী লোভী, আল্লাহ তায়ালার সাথে যারা শেরেক করে এ (বনী ইসরাঈলের) লোকেরা তাদের চেয়েও (এক কদম) অগ্রসর, এদের প্রত্যেক ব্যক্তিই হাজার বছর জীবিত থাকতে চায়, কিন্তু যতো দীর্ঘ জীবনই এদের দেয়া হোক না কেন, তা কখনো (এদের) তাঁর (অবশ্যন্তাবী) আযাব থেকে বাঁচাতে পারবে না; আল্লাহ তায়ালা এদের (যাবতীয়) কাজকর্ম (পুংখানুপুংখ) পর্যবেণ করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯৭﴿
﴾ ২:৯৭ ﴿
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٩٧﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, কে সে ব্যক্তি যে জিবরাঈলের শক্র হতে পারে? (অথচ) সে তো আল্লাহর আদেশে (আল্লাহর) বাণী সমুহ তোমার অন্তকরণে নাধিল করে দেয়, (তাও এমন এক বাণী) যা তাদের কাছে মজুদ বিষয় সমূহের সত্যতা স্বীকার করে, সর্বোপরি এ হচ্ছে মু’মিনদের জন্যে সুসংবাদ (বাহী গ্রন্থ) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯৮﴿
﴾ ২:৯৮ ﴿
مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ ﴿٩٨﴾
যারা আল্লাহর শত্রু শত্রু তার (বাণীবাহক) ফেরেশতার ও নবী রসূলের শত্রু) জিবরাঈলের ও মীকাঈলের, (তারা একদিন একথাটা বুঝতে পারবে, ) স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন কাফেরদের (বড়ো) শত্রু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:৯৯﴿
﴾ ২:৯৯ ﴿
وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفَاسِقُونَ ﴿٩٩﴾
অবশ্যই আমি তোমার কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন পাঠিয়েছি; পাপী ব্যক্তিরা ছাড়া এসব কিছু কেউই অস্বীকার করতে পারে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০০﴿
﴾ ২:১০০ ﴿
أَوَكُلَّمَا عَاهَدُوا عَهْدًا نَبَذَهُ فَرِيقٌ مِنْهُمْ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٠٠﴾
কিংবা যখনি তারা আল্লাহর সাথে কোনো ওয়াদা করেছে তখনই তাদের এক দল তা ভংগ করেছে; (আসলে) তাদের অধিকাংশই ঈমানদার ছিলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০১﴿
﴾ ২:১০১ ﴿
وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٠١﴾
যখনি তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো নবী আসে এবং যে তাদের কাছে (আগের কিতাবে) যেসব কথা মজুদ রয়েছে তার সত্যতা স্বীকার করে, তখনি সেই আগের কিতাবের ধারকদের একটি দল (পূর্ববর্তী কিতাবের) কথাগুলো এমনভাবে তাদের পেছনের দিকে ফেলে দিলো, যেন তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০২﴿
﴾ ২:১০২ ﴿
وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿١٠٢﴾
(আল্লাহর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেই এরা ক্ষান্ত হয়নি, যাদুমন্ত্রের) এমন কিছু জিনিসও এরা অনুসরণ করতে শুরু করলো, (যা) শয়তান কতৃক সোলায়মান (নবী) -এর রাজত্বের সময় (সমাজে) চালু করা হয়েছিলো, (সত্য কথা হচ্ছে) সোলায়মান কখনো (যাদুকে আল্লাহ বিরোধী কাজে ব্যবহার করে) আল্লাহকে অস্বীকার করেনি, আল্লাহকে তো অস্বীকার করেছে সে সব অভিশপ্ত শয়তান, যারা মানুষকে যাদুমন্ত্র শিক্ষা দিয়েছে; (যাদুপাগল কিছু মানুষদের পরীক্ষার উদ্দেশে) আল্লাহ তায়ালা হারূত মারূত (নামে যে দুজন) ফেরেশতাকে ব্যাবিলনে পাঠিয়েছেন, (আল্লাহর) সেই দু'জন ফেরেশতা (কাউকে) যখনই এ বিষয়ের শিক্ষা দিতো, (প্রথমেই) তারা (একথাটা) তাদের বলে দিতো, আমরা তো হচ্ছি (আল্লাহর) পরীক্ষামাত্র, অতএব (কোনো অবস্থায়ই) তুমি (এ বিদ্যা দিয়ে আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করো না, (এ সত্তেও) তারা তাদের কাছ থেকে এমন কিছু বিদ্যা শিখে নিয়েছিলো, যা দিয়ে এরা স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদের সৃষ্টি করতো, (যদিও) আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো দিনই কেউ কারো সামান্যতম ক্ষতিও সাধন করতে পারবে না; তারা (মূলত) এমন কিছু শিখে যা তাদের কোনো উপকার যেমন করতে পারে না, তেমনি তা তাদের কোনো ক্ষতিও করতে পারে না; তারা যদি জানতো, (শ্রম ও অর্থ দিয়ে) যা তারা কিনে নিয়েছে পরকালে তার কোনো মূল্য নেই; তারা নিজেদের জীবনের পরিবর্তে যা ক্রয় করে নিয়েছে তা সত্যিই নিকৃষ্ট, (কতো ভালো হতো) যদি তারা (কথাটা) জানতো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০৩﴿
﴾ ২:১০৩ ﴿
وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿١٠٣﴾
তারা যদি (আল্লাহর উপর) ঈমান আনতো এবং (তাঁকেই) ভয় করতো, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তারা উৎ্কৃষ্টতম পুরস্কার পেতো; (কতো ভালো হতো) যদি তারা (এটা) অনুধাবন করতো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০৪﴿
﴾ ২:১০৪ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوا وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٠٤﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, (ধৃষ্টতার সাথে কখনো) বলো না (হে নবী) , 'তুমি আমাদের কথা শোনো', বরং (তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যে) বলো (হে নবী) , আমাদের প্রতি লক্ষ্য করো'। এবং তোমরা সর্বদা তার কথা শুনবে (মনে রাখবে) , যারা (তার কথা) অমান্য করে তাদের জন্যে অত্যন্ত বেদনাদায়ক শাস্তি রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০৫﴿
﴾ ২:১০৫ ﴿
مَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلَا الْمُشْرِكِينَ أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْكُمْ مِنْ خَيْرٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَاللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ ﴿١٠٥﴾
(আসলে) এই আহলে কিতাব কিংবা যারা আল্লাহর সাথে প্রকাশ্য শেরেক করে তারা কেউই এটা পছন্দ করে না যে, তোমার কাছে তোমার মালিকের পক্ষ থেকে (নবুওতের মতো) কোনো ভালো কিছু নাযিল হোক, কিন্তু (তারা জানে না, ) আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকেই তাঁর অনুগ্রহে বিশেষভাবে বেছে নেন; আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত অনুগ্রহশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০৬﴿
﴾ ২:১০৬ ﴿
مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٠٦﴾
আমি যখন কোনো আয়াত বাতিল করে দেই বা (বিশেষ কারণে মানুষদের) তা ভুলিয়ে দিতে চাই, তখন তার জায়গায় তার চেয়ে উৎকৃষ্ট কিংবা তারই মতো কোনো আয়াত এনে হাযির করি, তুমি কি জানো না, আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর উপর ক্ষমতা বান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০৭﴿
﴾ ২:১০৭ ﴿
أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا لَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ ﴿١٠٧﴾
তুমি কি জানো না, আসমান সমূহ ও যমীনে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যেই নির্দিষ্ট; তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো বন্ধু নেই, কোনো সাহায্যকারীও নেই । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০৮﴿
﴾ ২:১০৮ ﴿
أَمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَسْأَلُوا رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَى مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ ﴿١٠٨﴾
তোমরা কি তোমাদের নবীর কাছে সে ধরনের (উদ্ভট) প্রশ্ন করতে চাও যেমনি তোমাদের আগে মুসাকে করা হয়েছিলো; কেউ যদি ঈমানকে কুফরীর সাথে বদল করে নেয়, অবশ্যই সে ব্যক্তি সোজা পথ থেকে গোমরাহ হয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১০৯﴿
﴾ ২:১০৯ ﴿
وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٠٩﴾
আহলে কিতাবদের অনেকেই বিদ্বেষের কারণে চাইবে যেভাবেই হোক তোমাদের ঈমানের আলোর বদলে আবার সেই কুফরীর অন্ধকারে ফিরিয়ে নিতে, (এমনকি) সত্য তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও (তারা এপথ থেকে বিরত হবে না) , অতএব তাদের ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত তোমরা ক্ষমার নীতি অবলম্বন করো এবং তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করো; আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর উপর অবশ্যই ক্ষমতাশালী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১০﴿
﴾ ২:১১০ ﴿
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿١١٠﴾
তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো এবং যাকাত আদায় করো; (এর মাধ্যমে) যে সব নেকী তোমরা আল্লাহর কাছে অগ্রিম পাঠাবে তাঁর কাছে (এর সবই) তোমরা (মজুদ) পাবে; তোমরা যা কিছুই করো আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই এর সব কিছু দেখতে পান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১১﴿
﴾ ২:১১১ ﴿
وَقَالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُودًا أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿١١١﴾
তারা বলে, ইহুদী ও খৃষ্টান ছাড়া আর কেউই বেহেশতে যাবে না, (আসলে) এটা হচ্ছে তাদের মিথ্যা কল্পনা; তুমি (হে নবী, ) বলো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও (তাহলে) তোমাদের দলিল প্রমাণ নিয়ে এসো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১২﴿
﴾ ২:১১২ ﴿
بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿١١٢﴾
(তবে হ্যাঁ, ) যে কোনো ব্যক্তিই (আল্লাহর সামনে) নিজের সত্তাকে সমর্পণ করে দেবে এবং সে হবে অবশ্যই একজন নেককার মানুষ, তার জন্যে তার মালিকের কাছে (এর) বিনিময় রয়েছে, তাদের কোনো ভয় ভীতি নেই, আর না (সেদিন) তাদের চিন্তান্বিত হতে হবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১৩﴿
﴾ ২:১১৩ ﴿
وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَى عَلَى شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ فَاللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿١١٣﴾
ইহুদীরা বলে, খৃষ্টানরা কোনো কিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত নয়, খৃষ্টানরা বলে ইহুদীরা কোনো কিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত নয়, অথচ এদের অবস্তা হচ্ছে এরা (উভয়েই আল্লাহর) কিতাব পাঠ করে, আদৌ আল্লাহর কিতাবের কোনো কিছুই জানে না এমন লোকেরা (আবার এদের উভয়ের সম্পর্কে) একই ধরনের কথা বলে, তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছে আল্লাহ তায়ালা শেষ বিচারের দিনে সে বিষয়ে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১৪﴿
﴾ ২:১১৪ ﴿
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُولَئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١١٤﴾
সে ব্যক্তির চেয়ে বড়ো যালেম আর কে আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর (ঘর) মাসজিদে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং তার ধ্বংস সাধনে সচেষ্ট হয়, এ ধরনের লোকদের (বস্তুত) তাতে ঢোকার কোনো যোগ্যতাই নেই, তবে একান্ত ভীত সন্ত্স্ত ভাবে (ঢুকলে তা ভিন্ন কথা) , তাদের জন্যে পৃথিবীতে যেমন অপমান লাঞ্ছনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে পরকালে কঠিনতম শাস্তি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১৫﴿
﴾ ২:১১৫ ﴿
وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿١١٥﴾
(এরা কেবলা বদলের ব্যাপারেও মতবিরোধ করেছিলো, অথচ) পূর্ব পশ্চিম সবই তো আল্লাহ তায়ালার, (তাছাড়া) তোমরা যে দিকেই মুখ ফেরাবে সেদিকেই তো আল্লাহ তায়ালা রয়েছেন; আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী এবং জ্ঞানী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১৬﴿
﴾ ২:১১৬ ﴿
وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلٌّ لَهُ قَانِتُونَ ﴿١١٦﴾
(খৃষ্টান) লোকেরা বলে, আল্লাহ তায়ালা (অমুককে) নিজের সন্তান (রূপে) গ্রহণ করেছেন, অথছ যাবতীয় পবিত্রতা একান্ত ভাবে তাঁর, (তিনি এসব কিছুর অনেক উর্ধে) ; আসমান সমূহ ও যমীনের সব কিছুই তাঁর জন্যে, এর প্রতিটি বস্তুই তাঁর একান্ত অনুগত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১৭﴿
﴾ ২:১১৭ ﴿
بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ ﴿١١٧﴾
আসমানস মূহ ও যমীনের তিনিই স্রষ্টা, যখন তিনি কোনো একটি বিষয়ের সিদ্ধান্ত করেন, সে ব্যাপারে শুধু (এটুকুই) বলেন 'হও', আর সাথে সাথেই তা হয়ে যায়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১৮﴿
﴾ ২:১১৮ ﴿
وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ لَوْلَا يُكَلِّمُنَا اللَّهُ أَوْ تَأْتِينَا آيَةٌ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِثْلَ قَوْلِهِمْ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ قَدْ بَيَّنَّا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ ﴿١١٨﴾
যারা (সঠিক কথা) জানে না তারা বলে, আল্লাহ তায়ালা নিজে আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন, অথবা এমন কোনো নিদর্শন আমাদের কাছে কেন পাঠান না (যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে দেখতে পারবো) ; এদের আগের লোকেরাও এদের মতো করেই কথা বলতো; এদের সবার মন (আসলে) একই ধরনের; (আল্লাহকে) যারা (দৃঢ়ভাবে) বিশ্বাস করে আমি তাদের জন্যে আমার নিদর্শন সমূহ সুস্পষ্ট করে পেশ করে দিয়েছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১১৯﴿
﴾ ২:১১৯ ﴿
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَا تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ ﴿١١٩﴾
অবশ্যই আমি তোমাকে সত্য (দ্বীন) সহ পাঠিয়েছি, পাঠিয়েছি আযাবের ভীতি প্রদর্শনকারী ও (জান্নাতের) সুসংবাদ বাহী হিসেবে। (জেনে রেখো) , তোমাকে জাহান্নামের অধিবাসীদের (দায় দায়িত্তের) ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২০﴿
﴾ ২:১২০ ﴿
وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ ﴿١٢٠﴾
ইহুদী ও খৃষ্টানরা কখনো তোমার উপর খুশী হবে না, হাঁ, তুমি যদি (কখনো) তাদের দলের অনুসরণ করতে শুরু করো (তখনই এরা খুশী হবে) , তুমি তাদের বলে দাও, আল্লাহ তায়ালার হেদায়াতই হচ্ছে একমাত্র পথ; (সাবধান, ) তোমার কাছে সঠিক জ্ঞান আসার পরও যদি তুমি তাদের ইচ্ছানুসারে চলতে থাকো, তাহলে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া তুমি কোনো বন্ধু ও সাহায্যকারী পাবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২১﴿
﴾ ২:১২১ ﴿
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَمَنْ يَكْفُرْ بِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿١٢١﴾
আহলে কিতাব দের মাঝে এমন কিছু লোকও আছে যারা এ (কোরআন) -কে যেভাবে (নিষ্ঠার সাথে) পড়া দরকার সেভাবেই পড়ে; তারা তার উপর ঈমানও আনে; যারা (একে) অস্বীকার করে তারাই হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ লোক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২২﴿
﴾ ২:১২২ ﴿
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿١٢٢﴾
হে বনী ইসরাঈল (জাতি) , তোমরা আমার সে নেয়ামত স্মরণ করো যা আমি তোমাদের দান করেছি, (সে নেয়ামতের অংশ হিসেবে) আমি তোমাদের দুনিয়ার অন্যান্য জাতির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২৩﴿
﴾ ২:১২৩ ﴿
وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِي نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا تَنْفَعُهَا شَفَاعَةٌ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ ﴿١٢٣﴾
তোমরা সে দিনটিকে ভয় করো, যেদিন একজন মানুষ আরেকজনের কোনোই কাজে আসবে না, (সেদিন) তার কাছ থেকে কোনোরকম বিনিময়ও নেয়া হবে না, আবার (একের পক্ষে অন্যের) সুপারিশও সেদিন কোনো উপকারে আসবে না, (সেদিন) এসব লোকদের কোনোরকম সাহায্য ও করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২৪﴿
﴾ ২:১২৪ ﴿
وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ ﴿١٢٤﴾
(আরো স্মরণ করো, ) যখন ইবরাহীমকে তার 'রবং'কতিপয় বিষয়ে (তার আনুগত্যের) পরীক্ষা নিলেন, অতপর তা পুরোপুরি সে আদায় করলো, আল্লাহ তায়ালা বললেন, (এবার) আমি তোমাকে মানব জাতির জন্যে নেতা বানাতে চাই; সে বললো, আমার ভবিষ্যত বংশধররাও (কি নেতা হিসেবে বিবেচিত হবে) ? আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমার এ প্রতিশ্রুতি যালেমদের কাছে পৌঁছবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২৫﴿
﴾ ২:১২৫ ﴿
وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ ﴿١٢٥﴾
(স্মরণ করো) আমি যখন মানুষদের মিলনস্থল ও নিরাপত্তার কেন্দ্র হিসেবে (এ কাবা) ঘরটি নির্মাণ করেছিলাম; (আমি তাদের আদেশ দিয়েছিলাম, ) তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর স্থানটিকে নামাযের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো; আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ দিয়েছিলাম যেন তারা আমার ঘর (কাবা) -কে হেজ্জ ও ওমরার) তাওয়াফকারীদের জন্যে, আল্লাহর ইবাদাতে আত্মনিয়োগ কারীদের জন্যে, (সর্বোপরি তাঁর নামে) রুকু সাজদাকারীদের জন্যে পবিত্র করে রাখে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২৬﴿
﴾ ২:১২৬ ﴿
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ قَالَ وَمَنْ كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلًا ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿١٢٦﴾
ইবরাহীম যখন বলেছিলো, হে মালিক, এ শহরকে তুমি (শান্তি ও) নিরাপত্তার শহর বানিয়ে দাও এবং এখানকার অধিবাসীদের মাঝে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা এবং পরকালে বিশ্বাস করে, তুমি তাদের ফল মূল দিয়ে আহারের যোগান দাও; আল্লাহ তায়ালা বললেন (হ্যাঁ) , যে ব্যক্তি (আমাকে) অস্বীকার করবে তাকেও আমি অল্প কয়েকদিন জীবনের উপায় উপকরণ সরবরাহ করতে থাকবো, অতপর অচিরেই আমি তাদের আগুনের আযাব ভোগ করতে বাধ্য করবো, যা সত্যিই বড়ো নিকৃষ্টতম স্থান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২৭﴿
﴾ ২:১২৭ ﴿
وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٢٧﴾
ইবরাহীম ও ইসমাঈল যখন এই ঘরের ভিত্তি উঠাচ্ছিলো (তখন তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করলো) , হে আমাদের মালিক, (আমরা যে উদ্দেশ্যে এ ঘর নির্মাণ করেছি, তা) তুমি আমাদের কাছ থেকে কবুল করো, একমাত্র তুমিই সব কিছু জানো এবং সব কিছু শোনো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২৮﴿
﴾ ২:১২৮ ﴿
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴿١٢٨﴾
(তারা আরো বললো) হে আমাদের মালিক, আমাদের উভয়কেই তুমি তোমার (অনুগত) মুসলিম বান্দা বানাও এবং আমাদের (পরবর্তী) বংশধরদের মাঝ থেকেও তুমি তোমার একদল অনুগত (বান্দা) বানিয়ে দাও, (হে মালিক) তুমি আমাদের (তোমার ইবাদাতের) আনুষ্ঠানিকতা সমূহ দেখিয়ে দাও এবং তুমি আমাদের উপর দয়াপরবশ হও, কারণ তুমি অত্যন্ত দয়াপরবশ ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১২৯﴿
﴾ ২:১২৯ ﴿
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿١٢٩﴾
হে আমাদের মালিক, তাদের (বংশের) মধ্যে তাদের নিজেদের মাঝ থেকে তুমি (এমন) একজন রসুল পাঠাও, যে তাদের কাছে তোমার আয়াত সমূহ পড়ে শোনাবে, তাদের তোমার কিতাবের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবে, উপরন্তু সে তাদের পবিত্র করে দেবে (হে আল্লাহ্‌, তুমি আমাদের এই দোয়া কবুল করো) ; কারণ তুমিই মহাপরাক্রমশালী ও পরম কুশলী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩০﴿
﴾ ২:১৩০ ﴿
وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ ﴿١٣٠﴾
(জেনে বুঝে) যে নিজেকে মূর্খ বানিয়ে রেখেছে সে ব্যক্তি ছাড়া আর কে এমন হবে, যে ইবরাহীমের (আনীত) জীবন বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে? (অথচ তাকে আমি দুনিয়ায় নবুওতের জন্যে) বাছাই করে নিয়েছি, শেষ বিচারের দিনেও সে (আমার) নেক লোকদের মধ্যে শামিল হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩১﴿
﴾ ২:১৩১ ﴿
إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٣١﴾
যখন আমি তাকে বললাম, তুমি (আমার অনুগত) মুসলিম হয়ে যাও, সে বললো, আমি সৃষ্টিকুলের মালিক (আল্লাহ তায়ালা) র পূর্ণ আনুগত্য স্বীকার করে নিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩২﴿
﴾ ২:১৩২ ﴿
وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ﴿١٣٢﴾
(যে পথ ইবরাহীম নিজের জন্যে বেছে নিলো) সে পথে চলার জন্যে সে তার সন্তান সন্ততিকেও ওসিয়ত করে গেলো, ইয়াকুবও (তার সন্তানদের ওসিয়ত করে বললো) ; হে আমার সন্তানরা, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে এই দ্বীন (ইসলাম) মনোনীত করে দিয়েছেন, অতএব কোনো অবস্থায়ই এ (জীবন) বিধানের আনুগত্য স্বীকার ব্যতিরেকে তোমরা মৃত্যুবরণ করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩৩﴿
﴾ ২:১৩৩ ﴿
أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ ﴿١٣٣﴾
(হে ইহুদী জাতি) তোমরা কি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকুবের সামনে (তার) মৃত্যু এসে হাযির হলো এবং সে যখন তার ছেলে মেয়েদের বললো (বলো) , আমার মৃত্যুর পর তোমরা কার ইবাদাত করবে? তারা বললো, আমরা (অবশ্যই) তোমার মাবুদ (তোমার পূর্বপুরুষ) ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের মাবুদের ইবাদাত করবো, (এ) মাবুদ হচ্ছেন একক, আমরা তাঁর আত্মসমর্পণ কারী বান্দা হয়েই থাকবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩৪﴿
﴾ ২:১৩৪ ﴿
تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٣٤﴾
এরা ছিলো এক (ধরনের) জাতি, যারা (আজ) গত হয়ে গেছে, তারা যা করে গেছে তা তাদের নিজেদের জন্যে, (আবার) তোমরা যা করবে তা হবে তোমাদের নিজেদের জন্যে, তারা যা কিছু করছিলো সে ব্যাপারে তোমাদের (কিছু) জিজ্ঞেস করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩৫﴿
﴾ ২:১৩৫ ﴿
وَقَالُوا كُونُوا هُودًا أَوْ نَصَارَى تَهْتَدُوا قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿١٣٥﴾
এরা বলে, তোমরা ইহুদী কিংবা খৃস্টান হয়ে যাও, তাহলে তোমরা সঠিক পথে পরিচালিত হবে; (হে নবী) তুমি বলো, (আমাদের কাছে তো) বরং ইব্রাহীমের একনিষ্ঠ মতাদর্শই রয়েছে; আর সে কখনো মুশরিকদের অন্তভূক্ত ছিলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩৬﴿
﴾ ২:১৩৬ ﴿
قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ ﴿١٣٦﴾
তোমরা বলো, আমরা তো আল্লাহ্র উপর ঈমান এনেছি এবং ঈমান এনেছি আল্লাহ তায়ালা আমাদের কাছে যা কিছু নাযিল করেছেন তার উপর, (আমাদের আগে) ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের (পরবর্তী) সন্তানদের উপর যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তাও (আমরা মানি, তাছাড়া) , মূসা, ঈসা সহ সব নবীকে তাদের মালিকের পক্ষ থেকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তার উপরও আমরা ঈমান এনেছি, আমরা এদের কারো মধ্যেই কোনো তারতম্য করি না, আমরা তো হচ্ছি আল্লাহরই অনুগত (বান্দা) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩৭﴿
﴾ ২:১৩৭ ﴿
فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٣٧﴾
আর এরা যদি তোমাদের মতোই আল্লাহর উপর ঈমান আনতো তাহলে তারাও সঠিক পথ পেতো, তারা যদি (সে পথ থেকে) ফিরে আসে তাহলে তারা অবশ্যই (উপদলীয়) অনৈক্যের মাঝে পড়ে যাবে, আল্লাহ তায়ালাই তোমার জন্যে যথেষ্ট হবেন, তিনিই শোনেন, তিনিই জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩৮﴿
﴾ ২:১৩৮ ﴿
صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً وَنَحْنُ لَهُ عَابِدُونَ ﴿١٣٨﴾
(হে নবী, তাদের তুমি) বলো, আসল রং হচ্ছে আল্লাহ তায়ালারই, এমন কে আছে যার রং তাঁর রঙের চেয়ে উৎকৃষ্ট হতে পারে? (আমরা ঘোষণা করছি) আমরা তাঁরই ইবাদাত করি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৩৯﴿
﴾ ২:১৩৯ ﴿
قُلْ أَتُحَاجُّونَنَا فِي اللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ ﴿١٣٩﴾
(হে নবী) তুমি তাদের বলো, তোমরা কি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারেই আমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও? অথচ তিনি (যেমন) আমাদের মালিক, (তেমনি) তিনি তোমাদেরও মালিক, আমাদের কাজ আমাদের জন্যে আর তোমাদের কাজ তোমাদের জন্যে, আমরা তাঁর আনুগত্যের ব্যাপারে সবাই হচ্ছি নিষ্ঠাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪০﴿
﴾ ২:১৪০ ﴿
أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ كَانُوا هُودًا أَوْ نَصَارَى قُلْ أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَتَمَ شَهَادَةً عِنْدَهُ مِنَ اللَّهِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿١٤٠﴾
অথবা তোমরা কি একথা বলতে চাও যে, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের বংশধররা সবাই ছিলো ইহুদী কিংবা খৃষ্টান? (হে নবী) তুমি বলে দাও, এ ব্যাপারে তোমরা বেশী জানো না আল্লাহ তায়ালা বেশী জানেন? যদি কোনো ব্যক্তি তার কাছে মজুদ আল্লাহর কাছ থেকে (আগত) সাক্ষ্য প্রমাণ গোপন করে, তাহলে তার চেয়ে বড়ো যালেম আর কে হতে পারে? আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কাজকর্মের ব্যাপারে মোটেই গাফেল নন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪১﴿
﴾ ২:১৪১ ﴿
تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٤١﴾
এরাও ছিলো এক (ধরনের) সম্প্রদায়, যারা (আজ) গত হয়ে গেছে, তারা যা করে গেছে তা তাদের জন্যে, আর তোমাদের কর্মফল হবে তোমাদের জন্যে, তারা যা কিছু করছিলো সে ব্যাপারে তোমাদের কিছু জিজ্ঞেস করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪২﴿
﴾ ২:১৪২ ﴿
سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا قُلْ لِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿١٤٢﴾
(কেবলা বদলের ব্যাপারে) মানুষদের ভেতর থেকে কিছু মুর্খ লোক অচিরেই বলতে শুরু করবে (এ কি হলো) , এতোদিন যে কেবলার উপর তারা প্রতিষ্ঠিত ছিলো, (আজ) কিসে তাদের সে দিক থেকে ফিরিয়ে দিলো? (হে নবী) তুমি (তাদের) বলে দাও, পুর্ব পশ্চিম (সবই) আল্লাহ তায়ালার জন্যে; আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪৩﴿
﴾ ২:১৪৩ ﴿
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ وَإِنْ كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ ﴿١٤٣﴾
এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী মানব দলে পরিণত করেছি, যেন তোমরা দুনিয়ার অন্যান্য মানুষদের উপর (হেদায়াতের) সাক্ষী হয়ে থাকতে পারো (এবং একইভাবে) রসুলও তোমাদের উপর সাক্ষী হয়ে থাকতে পারে, যে কেবলার উপর তোমরা (এতোদিন) প্রতিষ্ঠিত ছিলে, আমি তা এ উদ্দেশেই নির্ধারণ করেছিলাম, যাতে করে আমি এ কথাটা জেনে নিতে পারি যে, তোমাদের মধ্যে কে রসুলের অনুসরণ করে আর কে তার কথা থেকে ফিরে যায়, তাদের উপর এটা ছিলো কঠিন (পরীক্ষা) , অবশ্য আল্লাহ তায়ালা যাদের হেদায়াত দান করেছেন তাদের কথা আলাদা; আল্লাহ তায়ালা কখনো তোমাদের ঈমান বিনষ্ট করবেন না; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা মানুষদের সাথে বড়ো দয়ালু ও একান্ত মেহেরবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪৪﴿
﴾ ২:১৪৪ ﴿
قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ ﴿١٤٤﴾
(কেবলা পরিবর্তনের জন্যে) তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে (যেভাবে আমার আদেশের অপেক্ষায়) থাকতে, তা আমি অবশ্যই দেখতে পেয়েছি, তাই আমি তোমার পছন্দমতো (দিককেই) কেবলা বানিয়ে দিচ্ছি, (এখন থেকে) তোমরা এই মর্যাদাসম্পন্ন মাসজিদের দিকে ফিরে (নামায আদায় করতে) থাকবে; তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের মুখমন্ডল সে দিকেই ফিরিয়ে দেবে; এসব লোক যাদের কাছে আগেই কিতাব নাযিল করা হয়েছিলো, তারা ভালো করেই জানে; এ ব্যাপারটা তোমার মালিকের পক্ষ থেকে আসা সম্পূর্ণ একটি সত্য (ঘটনা, এ সত্তেও) তারা যে আচরণ করে যাচ্ছে আল্লাহ তায়ালা তা থেকে মোটেই অনবহিত নন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪৫﴿
﴾ ২:১৪৫ ﴿
وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ بِكُلِّ آيَةٍ مَا تَبِعُوا قِبْلَتَكَ وَمَا أَنْتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُمْ بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ ﴿١٤٥﴾
যাদের ইতি পুর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সামনে যদি তুমি (দুনিয়ার) সব কয়টি প্রমাণও এনে হাযির করো, (তারপরও) এরা তোমার কেবলার অনুসরণ করবে না, আর (এর পর) তুমিও তাদের কেবলার অনুসরণকারী হতে পারো না, (তাছাড়া) এদের এক দলও তো আরেক দলের কেবলার অনুসরণ করে না; আমার পক্ষ থেকে এ জ্ঞান তোমাদের কাছে পৌঁছার পর তুমি যদি তাদের ইচ্ছা আকাংখার অনুসরণ করো, তাহলে অবশ্যই তুমি যালেমদের দলে শামিল হয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪৬﴿
﴾ ২:১৪৬ ﴿
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿١٤٦﴾
যাদের আমি কিতাব দান করেছি এরা তাকে এতো ভালো করে চেনে, যেমনি এরা চেনে আপন ছেলেদের; এদের একদল সত্য গোপন করার চষ্টো করছে, অথচ এরা তো সব কিছুই জানে | [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪৭﴿
﴾ ২:১৪৭ ﴿
الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ ﴿١٤٧﴾
(হে নবী, তুমি তাদের বলো) তোমার মালিকের পক্ষ থেকে (এ হচ্ছে) একমাত্র সত্য, সুতরাং কোনো অবস্থায়ই তোমরা সন্দেহ পোষণ কারীদের দলে শামিল হয়ো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪৮﴿
﴾ ২:১৪৮ ﴿
وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ أَيْنَمَا تَكُونُوا يَأْتِ بِكُمُ اللَّهُ جَمِيعًا إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٤٨﴾
প্রত্যেক (জাতির) জন্যে (ইবাদাতের) একটা দিক (নির্দষ্টি) থাকে, যে দিকে সে (জাতি) মুখ করে (দাঁড়ায়) , অতএব তোমরা (আসল) কল্যাণের দিকে অগ্রসর হবার কাজে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো; তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তিনি তোমাদের সবাইকে (একই স্থানে) এনে হাযির করবেন; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৪৯﴿
﴾ ২:১৪৯ ﴿
وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿١٤٩﴾
তুমি যে কোনো স্থান থেকেই বেরিয়ে আসো না কেন, (নামাযের জন্যে) মাসজিদে হারামের দিকে মুখ ফেরাও, কেননা এটাই হচ্ছে আল্লাহ তায়লার কাছ থেকে (কেবলা সংক্রান্ত) সঠিক (সিদ্ধান্ত) ; আর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কার্যাবলী সম্পর্কে মোটেই উদাসীন নন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫০﴿
﴾ ২:১৫০ ﴿
وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِي عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٥٠﴾
(হে নবী) যে দিক থেকেই তুমি বেরিয়ে আসবে, (নামাযের জন্যে সেখান থেকেই) মাসজিদে হারামের দিকে মুখ ফিরিয়ে (দাঁড়িয়ে) যেও; (এ সময়) যেখানেই তুমি থাকো না কেন সে (কোবার) দিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তাহলে (প্রতিপক্ষের) লোকদের কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে খাড়া করানোর মতো কোনো যুক্তি অবশষ্টি থাকবে না, তাদের মধ্য থেকে যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের কথা অবশ্য আলাদা, তোমরা এসব ব্যক্তিদের ভয় করো না, তোমরা বরং ভয় করো আমাকে. যাতে করে আমি তোমাদের উপর আমার নেয়ামত পুর্ণ করে দিতে পারি, এর ফলে তোমরাও সঠিক পথের সন্ধান পেতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫১﴿
﴾ ২:১৫১ ﴿
كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ ﴿١٥١﴾
(এই সঠিক পথের সন্ধান দেয়ার জন্যেই) আমি এভাবে তোমাদের কাছে তোমাদের মাঝ থেকেই একজনকে রসুল করে পাঠিয়েছি, যে ব্যক্তি প্রথমত) তোমাদের কাছে আমার আয়াত'পড়ে শোনাবে, (দ্বিতীয়ত) সে তোমাদের (জীবন) পরিশুদ্ধ করে দেবে এবং (তৃতীয়ত) সে তোমাদের আমার কিতাব ও (তার অন্তর্নিহিত) জ্ঞান শিক্ষা দেবে, (সর্বোপরি) সে তোমাদের এমন বিষয়সমুহের জ্ঞান দান করবে, যা তোমরা কখনো জানতে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫২﴿
﴾ ২:১৫২ ﴿
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ ﴿١٥٢﴾
অতএব (এসব অনুগ্রহের জন্যে) তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, (তাহলে) আমিও তোমাদের স্মরণ করবো, তোমরা আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং কখনো তোমরা আমার অকৃতজ্ঞ হয়ো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫৩﴿
﴾ ২:১৫৩ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿١٥٣﴾
হে (মানুষ) তোমরা যারা ঈমান এনেছো, (পরম) ধৈর্য ও (খালেস) নামাযের মাধ্যমে তোমরা (আমার কাছে) সাহায্য প্রার্থনা করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীল মানুষদের সাথে আছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫৪﴿
﴾ ২:১৫৪ ﴿
وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِنْ لَا تَشْعُرُونَ ﴿١٥٤﴾
যারা আল্লাহ তায়ালার পথে নিহত হয়েছে তাদের তোমরা (কখনো) মৃত বলো না; বরং তারাই হচ্ছে (আসল) জীবিত (মানুষ) , কিন্তু (এ বিষয়টির) কিছুই তোমরা জানো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫৫﴿
﴾ ২:১৫৫ ﴿
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ ﴿١٥٥﴾
আমি অবশ্যই (ঈমানের দাবীতে) তোমাদের পরীক্ষা করবো, (কখনো) ভয়-ভীতি, (কখনো) ক্ষুধা-অনাহার, (কখনো) তোমাদের জান মাল ও ফসলাদির ক্ষতি সাধন করে (তোমাদের পরীক্ষা করা হবে। যারা ধৈর্যের সাথে এর মোকাবেলা করে) ; তুমি (সে) ধৈর্যশীলদের (জান্নাতের) সুসংবাদ দান করো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫৬﴿
﴾ ২:১৫৬ ﴿
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ﴿١٥٦﴾
যখনি তাদের সামনে (কোনো) পরীক্ষা এসে হাযির হয় তখনি তারা বলে, আমরা তো আল্লাহর জন্যেই, আমাদের তো (একদিন) আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫৭﴿
﴾ ২:১৫৭ ﴿
أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ ﴿١٥٧﴾
(বস্তত) এরা হচ্ছে সে সব ব্যক্তি, যাদের উপর রয়েছে তাদের মালিকের পক্ষ থেকে অগণিত রহমত ও অপার করুণা; আর এরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫৮﴿
﴾ ২:১৫৮ ﴿
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ ﴿١٥٨﴾
অবশ্যই “সাফা” এবং “মারওয়া” (পাহাড় দুটো হচ্ছে) আল্লাহ তায়ালার নিদর্শন সমুহের অন্যতম, অতএব যদি তোমাদের মধ্যে কোনো লোক হজ্জ কিংবা ওমরা আদায় (করার এরাদা) করে, তার জন্যে এই উভয় (পাহাড়ের) মাঝে তাওয়াফ করাতে দোষের কিছু নেই; (কেননা) যদি কোনো ব্যক্তি (অন্তরে) নিষ্ঠার সাথে কোনো ভালো কাজ করে তাহলে (তারা যেন জেনে রাখে) , নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা কৃতজ্ঞতা পরায়ণ ও প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৫৯﴿
﴾ ২:১৫৯ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ ﴿١٥٩﴾
মানুষের জন্যে যেসব (বিধান) আমি আমার কিতাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, তারপর যারা আমার নাযিল করা (সেসব) সুস্পষ্ট নিদর্শনসমুহ ও পরিষ্কার পথনির্দেশ গোপন করে, এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের উপর আল্লাহ তায়ালা অভিসম্পাত করেন, অভিশাপ বর্ষণ করে অন্যান্য অভিশাপকারীরাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬০﴿
﴾ ২:১৬০ ﴿
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴿١٦٠﴾
তবে তারা (এ কাজ থেকে) ফিরে আসবে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেবে, খোলাখুলিভাবে তারা (সেসব সত্য) কথা প্রকাশ করবে (যা এতোদিন আহলে কিতাবরা গোপন করে আসছিলো) , এরাই হবে সেসব লোক যাদের উপর আমি দয়া পরবশ হবো, আমি পরম ক্ষমাকারী, দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬১﴿
﴾ ২:১৬১ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ﴿١٦١﴾
যারা কুফরী করেছে এবং এই কাফের অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করেছে, তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, ফেরেশতাদের অভিশাপ, (সর্বোপরি) অভিশাপ সমগ্র মানবকুলের। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬২﴿
﴾ ২:১৬২ ﴿
خَالِدِينَ فِيهَا لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنْظَرُونَ ﴿١٦٢﴾
(এই অভিশপ্ত অবস্থা নিয়েই) এরা সেখানে চিরদিন থাকবে, শাস্তির মাত্রা এদের উপর থেকে (বিন্দুমাত্রও) কম করা হবে না, তাদের কোনো রকম অবকাশও দেয়া হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬৩﴿
﴾ ২:১৬৩ ﴿
وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ ﴿١٦٣﴾
তোমাদের মাবুদ হচ্ছেন একজন, তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই, তিনি দয়ালু, তিনি মেহেরবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬৪﴿
﴾ ২:১৬৪ ﴿
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ ﴿١٦٤﴾
নিঃসন্দেহে আসমান যমীনের সৃষ্টির মাঝে, রাত দিনের এই আবর্তনের মাঝে, মহাসাগরে ভাসমান জাহাজ সমুহে, যা মানুষের জন্যে কল্যাণকর দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, (এর সব কয়টিতে) আল্লাহ তায়ালার নিদর্শন মজুদ রয়েছে, (আরো আছে) আল্লাহ তায়ালা আকাশ থেকে (বৃষ্টি আকারে) যা কিছু নাযিল করেন (সেই বৃষ্টির) পানির মাঝে, ভূমির নির্জীব হওয়ার পর তিনি এ পানি দ্বারা তাতে নতুন জীবন দান করেন, অতপর এই ভূখন্ডে সব ধরনের প্রাণীর তিনি আবির্ভাব ঘটান, অবশ্যই বাতাসের প্রবাহ সৃষ্টি করার মাঝে এবং সে মেঘমালা, যা আসমান যমীনের মাঝে বশীভূত করে রাখা হয়েছে, তার মাঝে সুস্থ বিবেকবান সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬৫﴿
﴾ ২:১৬৫ ﴿
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ ﴿١٦٥﴾
মানুষদের মাঝে কিছু সংখ্যক এমনও রয়েছে, যে আল্লাহর বদলে অন্য কিছুকে তাঁর সমকক্ষ মনে করে, তারা তাদের তেমনি ভালোবাসে যেমনটি শুধু আল্লাহ তায়ালাকেই তাদের ভালোবাসা উচিত; আর যারা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান আনে তারা তো তাঁকেই সর্বাধিক পরিমাণে ভালোবাসবে; যারা (আল্লাহর আনুগত্য না করে) বাড়াবাড়ি করছে তারা যদি আযাব স্বচক্ষে দেখতে পেতো (তাহলে এরা বুঝতে পারতো) , আসমান যমীনের সমুদয় শক্তি একমাত্র আল্লাহর জন্যেই, শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬৬﴿
﴾ ২:১৬৬ ﴿
إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ ﴿١٦٦﴾
(সেদিন) ভয়াবহ শাস্তি দেখে (হতভাগ্য) লোকেরা (দুনিয়ায়) যাদের তারা মেনে চলতো, তাদের অনুসারীদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা বলবে (বলবে, আমরা তো এদের চিনিই না) এদের উভয়ের মধ্যকার (ভংগুর) সব সম্পর্ক সেদিন ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬৭﴿
﴾ ২:১৬৭ ﴿
وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ ﴿١٦٧﴾
এ (হতাশা গ্রস্থ) অনুসারীরা সেদিন বলবে, আবার যদি একবার আমাদের জন্যে (পৃথিবীতে) ফিরে যাবার (সুযোগ) থাকতো, তাহলে আজ যেমনি করে (তারা) আমাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে, আমরা (সেখানে গিয়ে) তাদের সাথে (যাবতীয়) সম্পর্কচ্ছেদ করে আসতাম, এভাবেই আল্লাহ তায়ালা তাদের সমগ্র জীবনের কর্মকান্ডগুলো তাদের সামনে একরাশ (লজ্জা ও) আক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরবেন; তাদের জন্যে যে জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে আছে, এরা (কখনো সেই) জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬৮﴿
﴾ ২:১৬৮ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ ﴿١٦٨﴾
হে মানুষ, তোমরা (আল্লাহর) যমীনে যা কিছু হালাল ও পবিত্র জিনিস আছে তা খাও এবং (হালাল হারামের ব্যাপারে) শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না; অবশ্যই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন| [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৬৯﴿
﴾ ২:১৬৯ ﴿
إِنَّمَا يَأْمُرُكُمْ بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاءِ وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿١٦٩﴾
(শয়তানের কাজ হচ্ছে) সে তোমাদের (সব সময়) পাপ ও অশ্মীল কাজের আদেশ দেয়, যাতে করে আল্লাহ তায়ালার নামে তোমরা এমন সব কথা বলতে শুরু করো যা সম্পর্কে তোমরা কিছুই জানো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭০﴿
﴾ ২:১৭০ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ ﴿١٧٠﴾
তাদের যখন বলা হয়, আল্লাহ তায়ালা যা কিছু নাযিল করেছেন তোমরা তা মেনে চলো, তারা বলে, আমরা তো শুধু সে পথেরই অনুসরণ করবো যে পথের উপর আমরা আমাদের বাপ দাদাদের পেয়েছি; তাদের বাপ দাদারা যদি (এ ব্যাপারে) কোনো জ্ঞান বুদ্ধির পরিচয় নাও দিয়ে থাকে, কিংবা তারা যদি হেদায়াত নাও পেয়ে থাকে (তবুও কি তারা তাদের অনুসরণ করবে) ? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭১﴿
﴾ ২:১৭১ ﴿
وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَاءً وَنِدَاءً صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ﴿١٧١﴾
এভাবে যারা (হেদায়াত) অস্বীকার করে, তাদের উদাহরণ হচ্ছে এমন (জন্তর মতো) , যে (তার পালের আরেকটি জন্তুকে) যখন ডাক দেয়, তখন (পেছনের সেই জন্তুটি তার) চীৎকার ও কান্নার আওয়ায ছাড়া আর কিছুই শুনতে পায় না; (মুলত) এরা (কানেও) শোনে না, (কথাও) বলতে পারে না, (চোখেও) দেখে না, (এ কারণে হেদায়াতের কথাও) এরা বুঝে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭২﴿
﴾ ২:১৭২ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ ﴿١٧٢﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, আমি যেসব পাক পবিত্র জিনিস তোমাদের দান করেছি (নিসংকোচে) তা তোমরা খাও এবং (এ নেয়ামতের জন্যে) আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করো, (অবশ্য) যদি তোমরা (হালাল হারামের ব্যাপারে) একান্তভাবে শুধু তাঁরই দাসত্ব করো। কুর'আনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ অনুবাদ : হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭৩﴿
﴾ ২:১৭৩ ﴿
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٧٣﴾
অবশ্যই তিনি মৃত (জন্তু গোশত) , সব ধরনের রক্ত ও শুকরের গোশত হারাম (ঘোষণা) করেছেন এবং (এমন সব জন্তও হারাম করছেন) যা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো নামে যবাই (কিংবা উৎসর্ণ) করা হয়েছে, তবে (সে ব্যক্তির কথা আলাদা) যাকে (এজন্যে) বাধ্য করা হয়েছে, যদি সে ব্যক্তি এমন হয় যে, সে (আল্লাহর আইনের) সীমালংঘনকারী হয় না, অথবা (যেটুকু হলে জীবনটা বাচে তার চাইতে বেশী ভোগ করে তাতে) অভ্যস্ত হয়ে পড়ে না, তাহলে (এই অপারগতার সময়ে হারাম খেলে) তার উপর কোনো গুনাহ নেই; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল, তিনি অনেক মেহেরবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭৪﴿
﴾ ২:১৭৪ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٧٤﴾
(এ সত্তেও) যারা আল্লাহর নাযিল করা (তার) কিতাবের অংশবিশেষ গোপন করে রাখে এবং সামান্য (বৈষয়িক) মুল্যে তা বিক্রি করে দেয়, তারা এটা দিয়ে যা হাসিল করে তা হছে আগুন যা দিয়ে তারা নিজেদের পেট ভর্তি করে রাখে (শেষ বিচারের দিনে) আল্লাহ তায়ালা তাদের সাথে কথা বলবেন না, তিনি তাদের (সেদিন) পবিত্রও করবেন না, ভয়াবহ আযাব এদের জন্যেই নির্দিষ্ট। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭৫﴿
﴾ ২:১৭৫ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ ﴿١٧٥﴾
এরা হেদায়াতের বদলে গোমরাহীর পথ কিনে নিয়েছে, ক্ষমার বদলে তারা আযাব (বেছে) নিয়েছে, এরা ধৈর্যের সাথে (ধীরে ধীরে) জাহান্নামের আগুনের উপর গিয়ে পড়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭৬﴿
﴾ ২:১৭৬ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ ﴿١٧٦﴾
এটা এই জন্যে, আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির জন্যে আগে থেকেই সত্য (দ্বীন) সহকারে কিতাব নাযিল করে দিয়েছেন; যারা এই কিতাবে মতবিরোধে লপ্তি হয়েছে, তারা সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে অনেক দুরে নিক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭৭﴿
﴾ ২:১৭৭ ﴿
لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ ﴿١٧٧﴾
তোমরা তোমাদের মুখ পুর্ব দিকে ফেরাও বা পশ্চিম দিকে ফেরাও, এতে কিন্তু কোনই কল্যাণ নিহিত নেই, আসল নেকী হচ্ছে একজন মানুষ ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, পরকালের উপর, ফেরেশতাদের উপর, (আল্লাহর) কিতাবের উপর, (কিতাবের বাহক) নবী রসুলদের উপর এবং আল্লাহর দেয়া মাল সম্পদ তাঁরই ভালোবাসা পাবার মানসে আত্মীয় স্বজন, এতীম মিসকীন ও পথিক মুসাফিরের জন্যে ব্যয় করবে, সাহায্যপ্রাথর্নী (দুস্থ মানুষ, সর্বোপরি) মানুষদের (কয়েদ ও দাসত্বের) বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার কাজে অর্থ ব্যয় করবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে, (দোরিদ্র বিমোচনের জন্যে) যাকাত আদায় করবো, (তাছাড়াও রয়েছে সেসব পুণ্যবান মানুষ) ; যারা প্রতিশ্রুতি দিলে তা পালন করে, ক্ষুধা দারিদ্রের সময় ও দুর্দিনে ধৈর্য ধারণ করে, (মুলত) এরাই হচ্ছে সত্যবাদী এবং এরাই হচ্ছে প্রকৃত আল্লাহভীরু মানুষ | [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭৮﴿
﴾ ২:১৭৮ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنْثَى بِالْأُنْثَى فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ذَلِكَ تَخْفِيفٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٧٨﴾
হে মানুষ, যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের জন্যে নরহত্যার “কেসাস'(তথা প্রতিশোধ কিভাবে নিতে হবে তা) নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে (এবং তা এই যে, মৃত) স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি দণ্ডাজ্ঞা পাবে) , দাসের বদলে (পাবে) দাস, নারীর বদলে নারীর উপর (দন্ড প্রযোজ্য হবে) , অবশ্য যে হত্যাকারীকে (যাকে হত্যা করা হয়েছে তার পরিবারের লোকেরা কিংবা) তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, তার ক্ষেত্রে কোনো ন্যায়ানুগ পন্থা অনুসরণ কেরে তা সম্পন্ন) করতে হবে, এটা তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে দন্ড হ্রাস (করার উপায়) এবং তাঁর একটি অনুগ্রহ মাত্র; যদি কেউ এরপরও বাড়াবাড়ি করে, তাহলে তার জন্যে কঠোর শাস্তি রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৭৯﴿
﴾ ২:১৭৯ ﴿
وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿١٧٩﴾
হে বিবেকবান লোকেরা, (আল্লাহর নির্ধারিত) এই “কেসাস'এর মাঝেই (সত্যিকার অর্থে) তোমাদের (সমাজ ও জাতির) “জীবন'(নিহিত) রয়েছে, আশা করা যায় (অতপর) তোমরা সতর্ক হয়ে চলবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮০﴿
﴾ ২:১৮০ ﴿
كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ ﴿١٨٠﴾
(হে ঈমানদার লোকেরা) তোমাদের জন্যে এই আদেশ জারি করা হয়েছে যে, যদি তোমাদের মাঝে কোনো লোকের মৃত্য এসে হাযির হয় এবং সে যদি কিছু সম্পদ রেখে যায়, (তাহলে) ন্যায়ানুগ পন্থায় (তা বন্টনের কাজে) তার পিতামাতা ও আত্মীয় স্বজনের জন্যে ওসিয়তের ব্যবস্থা রয়েছে, এটা পরহেজগার লোকদের উপর (একান্ত) করণীয় | [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮১﴿
﴾ ২:১৮১ ﴿
فَمَنْ بَدَّلَهُ بَعْدَمَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿١٨١﴾
যারা তার (এই) ওসিয়ত শুনে নেয়ার পর (নিজেদের স্বার্থে) তা পাল্টে নিলো (তাদের জানা উচিত) ; এটা বদলানোর অপরাধের দায়িত্ব তাদের উপরই বর্তাবে, আল্লাহ তায়ালা সব কিছুই শোনেন এবং সব কিছুই তাঁর জানা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮২﴿
﴾ ২:১৮২ ﴿
فَمَنْ خَافَ مِنْ مُوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٨٢﴾
(অবশ্য) কারো যদি অসিয়তকারীর কাছ থেকে (এ ধরনের) আশংকা থাকে যে, (সে পক্ষপাতিত্ব করে) কারো প্রতি অবিচার করে গেছে, কিংবা (কারো সাথে এর ফলে) না-ইনসাফী করা হয়েছে, তাহলে (যদি সদিচ্ছা নিয়ে) মুল বিষয়টির সংশোধন করে দেয়, এতে তার কোনো দোষ হবে না; আল্লাহ তায়ালা বড়োই ক্ষমাশীল, মেহেরবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮৩﴿
﴾ ২:১৮৩ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿١٨٣﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের উপর রোযা ফরয করে দেয়া হয়েছে, যেমনি করে ফরয করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা (এর মাধ্যমে আল্লাহকে) ভয় করতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮৪﴿
﴾ ২:১৮৪ ﴿
أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١٨٤﴾
(রোযা ফরয করা হয়েছে) কয়েকটি নির্দষ্টি দিনের জন্যে; (তারপরও) কেউ যদি সে (দিনগুলোতে) অসুস্থ হয়ে যায় কিংবা কেউ যদি (তখন) সফরে থাকে, সে ব্যক্তি সমপরিমাণ দিনের রোযা (সুস্থ হয়ে অথবা সফর থেকে ফিরে এসে) আদায় করে নেবে; (এরপরও) যাদের উপর (রোযা) একান্ত কষ্টকর হবে, তাদের জন্যে এর বিনিময়ে ফেদিয়া থাকবে (এবং তা) হচ্ছে একজন গরীব ব্যক্তিকে (তৃপ্তিভরে) খাবার দেয়া; অবশ্য যদি কোনো ব্যক্তি (এর চাইতে বেশী দিয়ে) ভালো কাজ করতে চায়, তাহলে এ (অতিরিক্ত) কাজ তার জন্যে হবে একান্ত কল্যাণকর; তবে (এ সময়) তোমরা যদি রোযা রাখতে পারো তাই তোমাদের জন্যে ভালো; তোমরা যদি রোযার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে (যে, এতেই কল্যাণ রয়েছে!) [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮৫﴿
﴾ ২:১৮৫ ﴿
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿١٨٥﴾
রোযার মাস (এমন একটি মাস) যাতে কোরআন নাযিল করা হয়েছে, আর এই কোরআন (হচ্ছে) মানব জাতির জন্যে পথের দিশা, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন, (মানুষদের জন্যে হক বাতিলের) পার্থক্যকারী, অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে এতে রোযা রাখবে; (তবে) যদি সে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, সে পরবর্তী (কোনো সময়ে) গুনে গুনে সেই পরিমাণ দিন পুরণ করে নেবে; (এ সুযোগ দিয়ে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের (জীবন) আসান করে দিতে চান, আল্লাহ তায়ালা কখনোই তোমাদের (জীবন) কঠোর করে দিতে চান না। আল্লাহর উদ্দেশ্য হচ্ছে, তোমরা যেন গুনে গুনে (রোযার) সংখ্যাগুলো পুরণ করতে পারো, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের (কোরআনের মাধ্যমে জীবন যাপনের) যে পদ্ধতি শিখিয়েছেন তার জন্যে তোমরা তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮৬﴿
﴾ ২:১৮৬ ﴿
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ ﴿١٨٦﴾
(হে নবী) আমার কোনো বান্দা যখন তোমাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (তাকে তুমি বলে দিয়ো) , আমি (তার একান্ত) কাছেই আছি; আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে, তাই তাদেরও উচিত আমার আহ্বানে সাড়া দেয়া এবং (সম্পূর্ণ ভাবে) আমার উপরই ঈমান আনা, আশা করা যায় এতে করে তারা সঠিক পথের সন্ধান পাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮৭﴿
﴾ ২:১৮৭ ﴿
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ﴿١٨٧﴾
রোযার মোসের) রাতের বেলায় তোমাদের স্ত্রীদের কাছে যৌন মিলনের জন্যে যাওয়া তোমাদের জন্য হালাল করে দেয়া হয়েছে; (কারণ, তোমাদের) নারীরা যেমনি তোমাদের জন্যে পোশাক (স্বরূপ, ঠিক) তোমরাও তাদের জন্যে পোশাক (সমতুল্য) ; আল্লাহ তায়ালা এটা জানেন, (রোযার মাসে রাতের বেলায় স্ত্রী সহবাসের ব্যাপারে) তোমরা (নানা ধরনের) আত্ম প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছিলে, তাই তিনি (তোমাদের উপর থেকে কড়াকড়ি শিথিল করে) তোমাদের উপর দয়া করলেন এবং তোমাদের মাফ করে দিলেন, এখন তোমরা চাইলে তাদের সাথে সহবাস করতে পারো এবং (এ ব্যাপারে) আল্লাহ পাক তোমাদের জন্যে যা (বিধি বিধান কিংবা সন্তান) লিখে রেখেছেন তা সন্ধান করো। (রোযার সময় পানাহারের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে) , তোমরা পানাহার অব্যাহত রাখতে পারো যতোক্ষণ পর্যন্ত রাতের অন্ধকার রেখার ভেতর থেকে ভোরের শুভ্র আলোক রেখা তোমাদের জন্যে পরিষ্কার প্রতিভাত না হয়, অতপর তোমরা রাতের আগমন পর্যন্ত রোযা পুর্ণ করে নাও, (তবে) মাসজিদে যখন তোমরা এতেকাফ অবস্থায় থাকবে তখন নারী সম্ভোগ থেকে বিরত থেকো; এই হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত সীমারেখা, অতএব তোমরা কখনো এর কাছেও যেয়ো না; এভাবেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর যাবতীয় নিদর্শন মানুষদের জন্যে বলে দিয়েছেন, যাতে করে তারা (এ আলোকে) আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করতে পারে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮৮﴿
﴾ ২:১৮৮ ﴿
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١٨٨﴾
তোমরা একে অন্যের অর্থ সম্পদ অন্যায় অবৈধভাবে আত্মসাত করো না, (আবার) জেনে বুঝে অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভোগ করার জন্যে এর একাংশ বিচারকদের সামনে ঘুষ (কিংবা উপঢৌকন) হিসেবেও পেশ করো না| [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৮৯﴿
﴾ ২:১৮৯ ﴿
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِهَا وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَى وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿١٨٩﴾
(হে নবী) তারা তোমাকে নতুন চাদ গুলো (ও তাদের বাড়া কমা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, তুমি তাদের বলে দাও, (মুলত) এগুলো হচ্ছে মানব জাতির জন্যে (একটি স্থায়ী) সময় নির্ঘন্ট (যার মাধ্যমে মানুষরা দিন তারিখ সম্পর্কে জানতে পারে) , তাছাড়া (এর মাধ্যমে লোকেরা) হজ্জের সময়সুচীও (জেনে নিতে পারে। এহরাম বাধার পর) পেছন দরজা দিয়ে (ঘরে) প্রবেশ করার মাঝে কোনো সওয়াব নেই, আসল নেকী হচ্ছে কে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করলো (তা দেখা, এখন থেকে) ঘরে ঢোকার সময় (সামনের) দুয়ার দিয়েই তোমরা আসা যাওয়া করো, তোমরা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করবে, আশা করা যায় তোমরা কামিয়াব হতে পারবে| [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯০﴿
﴾ ২:১৯০ ﴿
وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ﴿١٩٠﴾
তোমরা আল্লাহ তায়ালার পথে সেসব লোকের সাথে লড়াই করো যারা তোমাদের সাথে লড়াই করে, (কিন্ত কোনো অবস্থায়ই) সীমালংঘন করো না; কারণ আল্লাহ তায়ালা কখনো সীমালংঘন কারীদের পছন্দ করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯১﴿
﴾ ২:১৯১ ﴿
وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُمْ مِنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ وَلَا تُقَاتِلُوهُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّى يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ فَإِنْ قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ كَذَلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ ﴿١٩١﴾
যেখানেই তোমরা তাদের পাও সেখানেই তোমরা তাদের হত্যা করো, যে সব স্থান থেকে তারা তোমাদের বহিষ্কার করে দিয়েছে তোমরাও তাদের সেসব স্থান থেকে বের করে দাও (জেনে রেখো) , ফেতনা ফাসাদ (দাঙ্গা হাঙ্গামা) নরহত্যার চাইতেও বড়ো অপরাধ, তোমরা কাবা ঘরের পাশে কখনো তাদের সাথে যুদ্ধে লপ্তি হয়ো না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা সেখানে তোমাদের আক্রমণ না করে, তারা যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তাহলে তোমরাও তাদের সাথে যুদ্ধ করো; (মুলত) এভাবেই কাফেরদের শাস্তি দেয়া হয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯২﴿
﴾ ২:১৯২ ﴿
فَإِنِ انْتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٩٢﴾
তবে তারা যদি (যুদ্ধবিগ্রহ থেকে) ফিরে আসে তাহলে (মনে রেখো) , আল্লাহ তায়ালা বড়োই ক্ষমাশীল ও দয়ার আধার | [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯৩﴿
﴾ ২:১৯৩ ﴿
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ فَإِنِ انْتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ ﴿١٩٣﴾
তোমরা তাদের সাথে লড়াই করতে থাকো, যতোক্ষণ না (যমীন থেকে) ফেতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং (আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দেয়া) জীবন ব্যবস্থা ( পুর্ণাংগভাবে) আল্লাহর জন্যে নির্দাষ্টি হয়ে যায়; যদি তারা (যুদ্ধ থেকে) ফিরে আসে তবে তাদের সাথে আর কোনো বাড়াবাড়ি নয়, (তবে হ্যা যারা নিজেরাই) যালেম তাদের উপর (এটা প্রযোজ্য নয়) | [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯৪﴿
﴾ ২:১৯৪ ﴿
الشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ ﴿١٩٤﴾
একটি সম্মানিত মাসের বদলেই একটি সম্মানিত মাস (আশা করা যাবে, প্রয়োজনে) এ সম্মানিত মাসসমুহেও প্রতিশোধ (ব্যবস্থা) বৈধ হবে; (এ সময়) যদি কেউ তোমাদের উপর হস্ত প্রসারিত করে তাহলে তোমরাও তাদের উপর তেমনি হস্ত প্রসারিত করে (জবাব) দাও, তবে (সর্বদাই) আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, মনে রেখো, যারা (অপরাধ থেকে) বেচে থাকে আল্লাহ তায়ালা তাদের সাথে রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯৫﴿
﴾ ২:১৯৫ ﴿
وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴿١٩٥﴾
আল্লাহর পথে অর্থ সম্পদ ব্যয় করো, (অর্থ সম্পদ আঁকড়ে ধরে) নিজেদের হাতেই নিজেদের ধ্বংসের অতলে নিক্ষেপ করো না এবং তোমরা (অন্য মানুষদের সাথে দয়া) অনুগ্রহ করো, নিশ্চই আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহকারী ব্যক্তিদের ভালোবাসেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯৬﴿
﴾ ২:১৯৬ ﴿
وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ فَإِذَا أَمِنْتُمْ فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذَلِكَ لِمَنْ لَمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿١٩٦﴾
আল্লাহ তায়ালার (সন্তুষ্টির) জন্যে হজ্জ ও ওমরা সম্পন্ন করো; (পথে) যদি তোমাদের কোথাও আটকে দেয়া হয় তাহলে সে স্থানেই কোরবানীর জন্যে যা কিছু সহজভাবে (হাতের কাছে) পাওয়া যায় তা দিয়েই কোরবানী আদায় করে নাও, (তবে) কোরবানীর পশু তার নির্দষ্টি গন্তব্যস্থলে পৌঁছার আগ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের মাথা যুন্ডন করো না; যদি তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে, অথবা যদি তার মাথায় কোনো রোগ থাকে (যে কারণে আগেই তার মাথা মুন্ডন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে) , তাহলে সে যেন এর বিনিময় (ফেদিয়া আদায় করে, এবং তা) হচ্ছে কিছু রোযা (রাখা) অথবা অর্থ দান করা, কিংবা কোরবানী আদায় করা, অতপর তোমরা যখন নিরাপদ হয়ে যাবে তখন তোমাদের কেউ যদি এক সাথে হজ্জ ও ওমরা আদায় করতে চায়, তার উচিত (তার সাধ্য অনুযায়ী) কোরবানী আদায় করা, যদি কোরবানী করার মতো কোনো পশু সে না পায় (তাহলে) সে যেন হজ্জের সময়কালে তিনটি এবং তোমরা যখন বাড়ি ফিরে আসবে তখন সাতটি (সর্বমোট) পুর্ণ দশটি রোযা রাখবে, এই (সুবিধা) টুকু শুধু তাদের জন্যে, যাদের পরিবার পরিজন আল্লাহর ঘরের আশেপাশে বর্তমান নেই; তোমরা আল্লাহকেই ভয় করো, জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালা কঠোর আযাব প্রদানকারী বটে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯৭﴿
﴾ ২:১৯৭ ﴿
الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ ﴿١٩٧﴾
হজ্জের মাসসমুহ (একান্ত) সুপরিচিত, সে সময়গুলোর মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্জ (আদায়) করার মনস্থ করবে (সে যেন জেনে রাখে) , হজ্জের ভেতর (কোনো) যৌন সম্ভোগ নেই, নেই কোনো অশ্লীল গালিগালাজ বা ঝগড়াঝাটি, আর যতো ভালো কাজই তোমরা আদায় করো আল্লাহ তায়ালা (অবশ্যই) তা জানেন; (হজ্জের নিয়ত করলে) এর জন্যে তোমরা পাথেয় যোগাড় করে নেবে, যদিও আল্লাহর ভয়টাই হচ্ছে (মানুষের) সর্বোৎকৃষ্ট পাথেয়, অতএব হে বুদ্ধিমান মানুষরা, তোমরা আমাকেই ভয় করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯৮﴿
﴾ ২:১৯৮ ﴿
لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِنْ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ ﴿١٩٨﴾
(হজ্জের এ সময়গুলোতে) যদি তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করতে (গিয়ে কোনো অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে) চাও তাতে তোমাদের কোনোই দোষ নেই, অতপর তোমরা যখন আরাফাতের ময়দান থেকে ফিরে আসবে তখন (মোযদালাফায়) “মাশয়ারে হারাম'-এর কাছে এসে আল্লাহকে স্মরণ করবে, (ঠিক) যেমনি করে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের (তাঁকে ডাকার) পথ বলে দিয়েছেন, তেমনি করে তাঁকে স্মরণ করবে, ইতি পুর্বে তোমরা (আসলেই) পথভ্রষ্টদের দলে শামিল ছিলে | [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:১৯৯﴿
﴾ ২:১৯৯ ﴿
ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٩٩﴾
তারপর তোমরা সে স্থান থেকে ফিরে এসো, যেখান থেকে অন্য (হজ্জ পালনকারী) ব্যক্তিরা ফিরে আসে, (নিজেদের ভুল ভ্রান্তির জন্যে) আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা (গুনাহ খাতা) মাফ করে দেন, তিনি বড়োই দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০০﴿
﴾ ২:২০০ ﴿
فَإِذَا قَضَيْتُمْ مَنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ﴿٢٠٠﴾
যখন তোমরা তোমাদের (হজ্জের যাবতীয়) আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নেবে তখন (এখানে বসে আগের দিনে) যেভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের (গৌরবের কথা) স্মরণ করতে, তেমনি করে বরং তার চাইতে বেশী পরিমাণে (এখন) আল্লাহকে স্মরণ করো; মানুষদের ভেতর থেকে একদল লোক বলে, হে আমাদের মালিক, (সব) ভালো জিনিস তুমি আমাদের এ দুনিয়াতেই দিয়ে দাও, বস্তুত (যারা এ ধরনের কথা বলে) তাদের জন্যে পরকালে আর কোনো পাওনাই (বাকী) থাকে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০১﴿
﴾ ২:২০১ ﴿
وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿٢٠١﴾
(আবার) এ মানুষদেরই আরেক দল বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, এ ছুনিয়ায়ও তুমি আমাদের কল্যাণ দান করো, পরকালেও তুমি আমাদের কল্যাণ দান করো; (সর্বোপরি) তুমি আমাদের আগুনের আযাব থেকে নিষ্কৃতি দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০২﴿
﴾ ২:২০২ ﴿
أُولَئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِمَّا كَسَبُوا وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿٢٠٢﴾
এ ধরনের লোকদের তাদের নিজ নিজ উপার্জন মোতাবেক তাদের যথার্থ হিস্যা রয়েছে, আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০৩﴿
﴾ ২:২০৩ ﴿
وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَى وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ﴿٢٠٣﴾
হাতে গোনা (হজ্জের) এ কয়টি দিনে (বেশী পরিমাণে) আল্লাহকে স্মরণ করো; (হজ্জের পর) যদি কেউ তাড়াহুড়ো করে দু'দিনের মধ্যে (মিনা থেকে মক্কায় ফিরে আসে) তাতে (যেমন) কোনো দোষ নেই, (তেমনি) যদি কোনো ব্যক্তি সেখানে আরো বেশী অপেক্ষা করতে চায় তাতেও কোনো দোষ নেই, (এ নিয়ম হচ্ছে) তার জন্যে, যে আল্লাহকে ভয় করেছে, তোমরা শুধু আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করো এবং জেনে রাখো, একদিন তোমাদের তাঁর কাছেই জড়ো করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০৪﴿
﴾ ২:২০৪ ﴿
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيُشْهِدُ اللَّهَ عَلَى مَا فِي قَلْبِهِ وَهُوَ أَلَدُّ الْخِصَامِ ﴿٢٠٤﴾
মানুষদের মাঝে এমন লোকও আছে, পার্থিব জীবনে যার কথা তোমাকে খুবই উৎফুল্ল করবে, তার মনে যা কিছু আছে তার উপর সে আল্লাহ তায়ালাকে সাক্ষী বানায়, কিন্তু (এর প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে) সে ভীষণ ঝগড়াটে ব্যক্তি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০৫﴿
﴾ ২:২০৫ ﴿
وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْفَسَادَ ﴿٢٠٥﴾
সে যখন (আল্লাহর যমীনের কোথাও) ক্ষমতার আসনে বসতে পারে, তখন সে নানা প্রকারে অশান্তি সৃষ্টি করতে শুরু করে, (যমীনের) শস্য ক্ষেত্র বিনাশ করে, (জীবজন্তু) বংশ নির্মূল করতে চায়; (মুলত) আল্লাহ তায়ালা কখনো বিপর্যয় (সৃষ্টিকারী মানুষদের) পছন্দ করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০৬﴿
﴾ ২:২০৬ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُ اتَّقِ اللَّهَ أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالْإِثْمِ فَحَسْبُهُ جَهَنَّمُ وَلَبِئْسَ الْمِهَادُ ﴿٢٠٦﴾
যখন তাকে বলা হয়, (ফেতনা ফাসাদ সৃষ্টি না করে) তুমি আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, তখন তাকে (মিথ্যা) অহংকারে পেয়ে বসে যা গুনাহের সাথে (মেশানো থাকে, মুলত) এ (চরিত্রের) লোকের জন্যে জাহান্নামই যথষ্ট্রে; আর তা হচ্ছে একান্ত নিকৃষ্টতম ঠিকানা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০৭﴿
﴾ ২:২০৭ ﴿
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ ﴿٢٠٧﴾
এ মানুষদের ভেতর (আবার) এমন কিছু লোকও রয়েছে, যারা আল্লাহ তায়ালার (এতোটুকু) সন্তুষ্ট লাভের জন্যে নিজের জীবন (পর্যন্ত) বিক্রি করে দেয়, আল্লাহ তায়ালা (এ ধরনের) বান্দাদের প্রতি সত্যিই অনুগ্রহশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০৮﴿
﴾ ২:২০৮ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ ﴿٢٠٨﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা পুরোপুরি ইসলামে (-র ছায়াতলে) এসে যাও এবং কোনো অবস্থায়ই (অভিশপ্ত) শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না; কেননা শয়তান হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্যতম দুশমন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২০৯﴿
﴾ ২:২০৯ ﴿
فَإِنْ زَلَلْتُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْكُمُ الْبَيِّنَاتُ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٠٩﴾
আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এসব সুস্পষ্ট নিদর্শন তোমাদের কাছে এসে যাওয়ার পরও যদি তোমাদের পদস্থলন হয়, তাহলে নিশ্চিত জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালা মহা বিজ্ঞ ও পরাক্রমশালী । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১০﴿
﴾ ২:২১০ ﴿
هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِنَ الْغَمَامِ وَالْمَلَائِكَةُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ ﴿٢١٠﴾
তারা কি (সেদিনের) অপেক্ষা করছে, যখন আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং তাঁর ফেরেশতাসহ মেঘের ছায়া দিয়ে (এখানে) আসবেন এবং (তখন তাদের ভাগ্যের চুড়ান্ত) ফয়সালা হয়ে যাবে; (তাছাড়া) সব কয়টি ব্যাপার (সর্বশেষে) তাঁর কাছেই উপনীত হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১১﴿
﴾ ২:২১১ ﴿
سَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَمْ آتَيْنَاهُمْ مِنْ آيَةٍ بَيِّنَةٍ وَمَنْ يُبَدِّلْ نِعْمَةَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُ فَإِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿٢١١﴾
তুমি বনী ইসরাঈলদের জিজ্ঞেস করো, কি পরিমাণ সুস্পষ্ট নিদর্শন আমি তাদের দান করেছি; (আমি তাদের বলেছি) যার কাছে (হেদায়াতের) নেয়ামত আসার পর সে নিজে তা বদলে ফেলে, (তার জন্যে) আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তি দানকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১২﴿
﴾ ২:২১২ ﴿
زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاللَّهُ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ﴿٢١٢﴾
যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করেছে, তাদের জন্যে তাদের এ পার্থিব জীবনটা খুব লোভনীয় করে (সাজিয়ে) রাখা হয়েছে, এরা ঈমানদার ব্যক্তিদের বিদ্রপ করে, (অথচ) এ ঈমানদার ব্যক্তি যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করেছে, শেষ বিচারের দিন তাদের মর্যাদা (এদের তুলনায়) অনেক বেশী হবে; আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে অপরিমিত রিযিক দান করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১৩﴿
﴾ ২:২১৩ ﴿
كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٢١٣﴾
(এক সময়) সব মানুষ একই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত ছিলো (পরে এরা নানা দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে তাদের স্রস্টাকেই ভুলে গেলো) তখন আল্লাহ তায়ালা (সঠিক পথের অনুসারীদের) সুসংবাদবাহী আর গুনাহগারদের জন্যে আযাবের সতর্ককারী হিসেবে নবীদের পাঠালেন, তিনি সত্যসহ গ্রন্থও নাযিল করলেন, যেন তা মানুষদের এমন পারস্পরিক বিরোধসমুহের চুড়ান্ত ফয়সালা করতে পারে, যে ব্যাপারে তারা মতবিরোধ করে; তাদের কাছে সুস্পষ্ট হেদায়াত পাঠানো সত্তেও তারা পারস্পরিক (বিদ্রোহ ও) বিদ্বেষ সৃষ্টির জন্যে মতবিরোধ করেছে, অতপর আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে স্বীয় ইচ্ছায় সেই সঠিক পথ দেখালেন, যার ব্যাপারে ইতি পুর্বে তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছিলো; আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে সঠিক পথ দেখান । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১৪﴿
﴾ ২:২১৪ ﴿
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ ﴿٢١٤﴾
তোমরা কি মনে করে নিয়েছো যে, তোমরা (এমনি এমনিই) বেহেশতে চলে যাবে? (এখনো) পুর্ববতর্নী নবীদের অনুসারীদের (বিপদের) মতো কিছুই তোমাদের উপর নাধিল হয়নি, তাদের উপর (বহু ধরনের) বিপর্যয় ও সংকট এসেছে, কঠোর নির্যাতনে তারা নির্যাতিত হয়েছে, (কঠিন) নিগীড়নে তারা শিহরিত হয়ে ওঠেছে, এমন কি স্বয়ং আল্লাহর নবী ও তার সংগী সাথীরা (অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে) এই বলে (আর্তনাদ করে) উঠেছে, আল্লাহ তায়ালার সাহায্য কৰে (আসবে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয়জনদের সান্তুবনা দিয়ে বললেন) , অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার সাহায্য অতি নিকটে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১৫﴿
﴾ ২:২১৫ ﴿
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ ﴿٢١٥﴾
তারা তোমার কাছে জানতে চাইবে তারা কি (কি খাতে) খরচ করবে, তুমি (তাদের) বলে দাও, যা কিছুই তোমরা তোমাদের পিতামাতার জন্যে, আত্মীয় স্বজনদের জন্যে, এতীম অসহায় মিসকীনদের জন্যে এবং মুসাফিরের জন্যে খরচ করবে (তাই আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করবেন) ; যা ভালো কাজ তোমরা করবে আল্লাহ তায়ালা তা অবশ্যই জানতে পারবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১৬﴿
﴾ ২:২১৬ ﴿
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٢١٦﴾
সত্য প্রতিষ্ঠা ও অসত্য নির্মূল করার জন্যে) যুদ্ধ তোমাদের উপর ফরয করে দেয়া হয়েছে, আর এটাই তোমাদের ভালো লাগে না, কিন্তু (তোমাদের জেনে রাখা উচিত, ) এমন কোন জিনিস তো থাকতে পারে যা তোমাদের ভালো লাগে না, অথছ তাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, আবার (একই ভাবে) এমন কোনো জিনিস, যা তোমাদের খুবই ভালো লাগবে, কিন্তু (পরিণামে) তা হবে তোমাদের জন্যে (খুবই) ক্ষতিকর; আল্লাহ তায়ালাই সবচাইতে ভালো জানেন, তোমরা কিছুই জানো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১৭﴿
﴾ ২:২১৭ ﴿
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِنْدَ اللَّهِ وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢١٧﴾
সম্মানিত মাস ও তাতে যুদ্ধ করা সম্পর্কে তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি তাদের বলে দাও, এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ করা অনেক বড়ো গুনাহর কথা; (কিন্তু আল্লাহর কাছে এর চাইতেও বড়ো গুনাহ হচ্ছে) , আল্লাহর পথ থেকে মানুষদের ফিরিয়ে রাখা, আল্লাহকে অস্বীকার করা, খানায়ে কাবার দিকে যাওয়ার পথ রোধ করা ও সেখানকার অধিবাসীদের সেখান থেকে বের করে দেয়া, আর (আল্লাহ দ্রোহিতার) ফেতনা ফাসাদ হত্যাকান্ডের চাইতেও অনেক বড়ো (অন্যায়; এ কারণেই) এরা তোমাদের সাথে (এ মাসসমুহে) লড়াই বন্ধ করে দেবে বলে (তুমি) ভেবো না, তারা তো পারলে (বরং) তোমাদের সবাইকে তোমাদের (ইসলামী) জীবন বিধান থেকেও ফিরিয়ে নিতে চাইবে; যদি তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার দ্বীন থেকে ফিরে যায়, অতপর সে মৃত্যুমুখে পতিত হয় এমন অবস্থায় যে, সে (সুস্পষ্ট) কাফের ছিলো, তাহলে তারাই হবে সে লোক যাদের যাবতীয় কর্মকান্ড দুনিয়া আখেরাতে বিফলে যাবে, আর এরাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১৮﴿
﴾ ২:২১৮ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٢١٨﴾
যারা ঈমান এনেছে, যারা হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জেহাদ করেছে, তারাই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অনুগৃহীত হবার আশা করতে পারে; আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল অত্যন্ত দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২১৯﴿
﴾ ২:২১৯ ﴿
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ﴿٢١٩﴾
(হে নবী) এরা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে; তুমি (তাদের) বলে দাও, এ দুটো জিনিসের মধ্যে অনেক বড়ো ধরনের পাপ রয়েছে, (যদিও) মানুষের জন্যে (এর) কিছু কিছু (ব্যবসায়িক) উপকারিতাও রয়েছে; কিন্তু এর উভয়ের (ধ্বংসকারী) গুনাহ তার (ব্যবসায়িক) উপকারিতার চাইতে অনেক বেশী; তারা তোমাকে (এও) জিজ্ঞেস করে, তারা (নেক কাজে) কি কি খরচ করবে; তুমি তাদের বলো, (দৈনন্দিন প্রয়োজন পুরণের পর) যা অতিরিক্ত (তাই) ; আল্লাহ তায়ালা এভাবে তোমাদের জন্যে (তাঁর) আয়াত সমুহ খুলে খুলে বলে দেন, যাতে করে তোমরা এ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২০﴿
﴾ ২:২২০ ﴿
فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلَاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ وَإِنْ تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٢٠﴾
(এ নির্দেশ তোমাদের) ইহকাল ও পরকালের (কল্যাণের) জন্যেই; তোমাকে তারা এতীমদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে; তুমি বলো, তাদের জন্যে (গৃহীত সব পন্থাই) উত্তম; যদি তোমরা (তোমাদের ধন সম্পদ) তাদের সাথে মিশিয়ে ফেলো (তাতে কোনো দোষ নেই, কারণ) , তারা তো তোমাদেরই ভাই; আর আল্লাহ তায়ালা (এটা) ভালো করেই জানেন, (কে) ন্যায়ানুগ (পন্থায় আছে আর কে) ফাসাদী (স্বভাবের লোক) , আল্লাহ তায়ালা চাইলে (এ ব্যাপারে) আরো অধিক কড়াকড়ি আরোপ করতে পারতেন; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা মহান ক্ষমতাবান কুশলী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২১﴿
﴾ ২:২২১ ﴿
وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ﴿٢٢١﴾
তোমরা (কখনো) কোনো মুশরিক নারী বিয়ে করো না, যতোক্ষণ না তারা ঈমান আনে, মনে রেখো, একজন মুসলমান দাসীও একজন (এতিহ্যবাহী) মুশরিক নারীর চাইতে উত্তম, যদিও এ (মুশরিক) নারীটি তোমাদের বেশী ভালো লাগে, (হে মুসলিম মহিলারা) , তোমরা কখনো কোনো মুশরিক পুরুষদের বিয়ে করো না যতোক্ষণ না তারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে; (কেননা) একজন ঈমানদার দাসও (একজন উচু খান্দানের) মুশরিক ব্যক্তির চাইতে ভালো, যদিও এ মুশরিক ব্যক্তিটি তোমাদের ভালো লাগে; (আসলে) এরা তোমাদের জাহান্নামের (আগুনের) দিকেই ডাকবে, আর আল্লাহ তায়ালা হামেশাই তাঁর মু’মিন বান্দাদের তাঁর আদেশবলে জান্নাত ও ক্ষমার দিকেই আহ্বান জানান এবং (এ জন্যে) তিনি তাঁর আয়াতসমুহ মানুষদের কাছে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন, যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২২﴿
﴾ ২:২২২ ﴿
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ ﴿٢٢٢﴾
(হে নবী) তারা তোমার কাছ থেকে (মহিলাদের মাসিক) খতুকাল (ও এ সময় তাদের সাথে দৈহিক মিলন) সম্পর্কে জানতে চাইবে; তুমি (তাদের) বলো, (আসলে মহিলাদের) এ (সময়টা) হচ্ছে একটা (অপবিত্র ও) কষ্টকর অবস্থা, কাজেই খতুস্রাবকালে তাদের সংগ বর্জন করবে এবং তোমরা (দৈহিক মিলনের জন্যে) তাদের কাছে যেও না, যতোক্ষণ না তারা (পুনরায়) পবিত্র হয়, অতপর তারা যখন পুরো পাক সাফ হয়ে যায় তখন তোমরা তাদের কাছে যাও (দৈহিক মিলনের) যে পদ্ধতি আল্লাহ তায়ালা শিখিয়ে দিয়েছেন সেভাবে যাবে; আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই সেসব লোকদের ভালোবাসেন যারা আল্লাহর দিকেই ফিরে আসে এবং যারা পাক পবিত্রতা অবলম্বন করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২৩﴿
﴾ ২:২২৩ ﴿
نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ وَقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ مُلَاقُوهُ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٢٢٣﴾
তোমাদের স্ত্রীরা হচ্ছে তোমাদের জন্যে (সন্তান উৎপাদনের) ফসল ক্ষেত্র, তোমরা তোমাদের এই ফসল ক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই গমন করো, তোমরা (সময় থাকতে) নিজেদের জন্যে কিছু অগ্রিম নেক আমল পাঠিয়ে দাও; তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, জেনে রেখো, একদিন তোমাদের সবাইকে তাঁর সামনাসামনি হতে হবে। মু’মিনদের তুমি (পুরস্কারের) সুসংবাদ দান করো । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২৪﴿
﴾ ২:২২৪ ﴿
وَلَا تَجْعَلُوا اللَّهَ عُرْضَةً لِأَيْمَانِكُمْ أَنْ تَبَرُّوا وَتَتَّقُوا وَتُصْلِحُوا بَيْنَ النَّاسِ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٢٤﴾
তোমরা তোমাদের (এমন) শপথের জন্যে আল্লাহর নামকে কখনো ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে না, (যার মাধ্যমে) ভালো কাজ করা, আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করা এবং মানুষদের মাঝে শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করার কাজ থেকে তোমরা দূরে থাকবে, কারণ আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সব কিছুই শোনেন এবং সব কথাই তিনি জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২৫﴿
﴾ ২:২২৫ ﴿
لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ ﴿٢٢٥﴾
আল্লাহ তায়ালা তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্যে কখনো পাকড়াও করবেন না, তবে তিনি অবশ্যই সে সব শপথের ব্যাপারে তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, যা তোমরা আন্তরিক ভাবে সম্পন্ন করো; (বস্তুত) আল্লাহ তায়ালা বড়ো ক্ষমাশীল ও ধৈর্যশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২৬﴿
﴾ ২:২২৬ ﴿
لِلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِنْ فَاءُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٢٢٦﴾
যেসব লোক নিজ স্ত্রীদের কাছে যাবে না বলে কসম করেছে, তাদের (এ ব্যাপারে মনস্থির করার জন্যে) চার মাসের অবকাশ রয়েছে, (এ সময়ের ভেতর) যদি তারা (তাদের কসম থেকে) ফিরে আসে (তাহলে জেনে রেখো) , আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও দয়াবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২৭﴿
﴾ ২:২২৭ ﴿
وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلَاقَ فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٢٧﴾
(আর) তারা যদি (এ সময়ের ভেতর) তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত করে, তাহলে (তারা যেন জেনে রাখে) আল্লাহ তায়ালা সব শোনেন জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২৮﴿
﴾ ২:২২৮ ﴿
وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِنْ كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٢٨﴾
তালাকপ্রাপ্তা মহিলারা যেন তিনটি মাসিক খতু (অথবা খতু থেকে পবিত্র থাকার তিনটি মুদ্দত) পর্যন্ত নিজেদের (পুনরায় বিয়ের বন্ধন) থেকে দুরে রাখে; তাদের গর্ভে আল্লাহ তায়ালা যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা গোপন করা কোনো অবস্থায়ই তাদের পক্ষে ন্যায়সংগত হবে না, যদি তারা আল্লাহর উপর এবং পরকালের উপর ঈমান আনে; এ সময়ের ভেতর তাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তাদের স্বামীরা অবশ্য বেশী অধিকারী, যদি তারা উভয়ে পরস্পর মিলে মিশে চলতে চায়; পুরুষদের উপর নারীদের যেমন ন্যায়ানুগ অধিকার রয়েছে, তেমনি রয়েছে নারীদের উপর পুরুষের অধিকার, (পারিবারিক ভরণ পোষণের দায়িত্বের কারণে) তাদের উপর পুরুষের মর্যাদা এক মাত্রা বেশী রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বিপুল ক্ষমতার মালিক, (তিনি পরম) কুশলী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২২৯﴿
﴾ ২:২২৯ ﴿
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٢٢٩﴾
তালাক দু'বার (মাত্র উচ্চারণ করা যেতে পারে, তৃতীয় বারের আগেই) হয় সম্মান মর্যাদার সাথে তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে, অথবা সঃহৃদয়তার সাথে তাকে চলে যেতে দেবে; তোমাদের জন্যে এটা কোনো অবস্থায়ই ন্যায়সংগত নয় যে, (বিয়ের আগে) যা কিছু তোমরা তাদের দিয়েছো তা তাদের থেকে ফিরিয়ে নেবে, তবে আল্লাহর নির্দিষ্ট সীমারেখার ভেতরে থেকে স্বামী স্ত্রী একত্রে জীবন কাটাতে পারবে না, এমন আশংকা যদি দেখা দেয় (তখন আলাদা হয়ে যাওয়াটাই উত্তম, এমন অবস্থায়) যদি তোমাদের ভয় হয় যে, এরা আল্লাহর বিধানের গন্ডির ভেতর থাকতে পারবে না; তাহলে স্ত্রী যদি স্বামীকে কিছু বিনিময় দেয় (এবং তা দিয়ে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে নেয়) , তাহলে তাদের উভয়ের উপর এটা কোন দোষণীয় (বিষয়) হবে না, (জেনে রাখো) এটা হচ্ছে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, তা কখনো অতিক্রম করো না, আর যারা আল্লাহর দেয়া সীমারেখা লংঘন করে, তারা হচ্ছে সুস্পষ্ট যালেম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩০﴿
﴾ ২:২৩০ ﴿
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ﴿٢٣٠﴾
যদি সে তাকে তালাক দিয়েই দেয়, তাহলে তারপর (এ) স্ত্রী তার জন্যে (আর) বৈধ হবে না, (হা) যদি তাকে অপর কোনো স্বামী বিয়ে করে এবং (নিয়মমাফিক তাকে) তালাক দেয় এবং (পরবতর্নী পর্যায়ে) তারা যদি (সত্যিই) মনে করে, তারা (এখন স্বামী স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে) আল্লাহর সীমারেখা মেনে চলতে পারবে, তাহলে পুনরায় (বিয়ে বন্ধনে) ফিরে আসাতে তাদের উপর কোন দোষ নেই; এটা হচ্ছে আল্লাহর (বেধে দেয়া) সীমারেখা, যারা (এ সম্পর্কে) অবগত আছে আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্যে এ নির্দেশ সুস্পষ্ট করে পেশ করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩১﴿
﴾ ২:২৩১ ﴿
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٢٣١﴾
যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা যখন তাদের অপেক্ষার সময় (ইদ্দত) পুর্ণ করে নেয়, তখন (হয়) মর্যাদার সাথে তাদের ফিরিয়ে আনো, নতুবা ভালোভাবে তাদের বিদায় করে দাও, শুধু কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে কখনো তাদের আটকে রেখো না, এতে তোমরা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখাই লংঘন করবে, আর যে ব্যক্তি এমন কাজ করে সে (প্রকারান্তরে) নিজের উপরই যুলুম করে; (সাবধান) আল্লাহর নির্দেশ সমুহকে কখনো হাসি তামাশার বস্তু মনে করো না, স্মরণ করো (তোমরা ছিলে অজ্ঞ) , আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর (হেদায়াতের বাণী পাঠিয়ে) নেয়ামত দান করেছেন, শুধু তাই নয়) তিনি তোমাদের জন্যে জ্ঞান ও যুক্তি পুর্ণ কিতাব নাধিল করেছেন, যা তোমাদের (দৈনন্দিন জীবনের) নিয়ম (কানুন) বাতলে দেয়; (অতএব) তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, তিনি তোমাদের যাবতীয় কাজকর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকেফহাল রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩২﴿
﴾ ২:২৩২ ﴿
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ ذَلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكُمْ أَزْكَى لَكُمْ وَأَطْهَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٢٣٢﴾
যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দাও, অতপর (তালাকপ্রাপ্ত) স্ত্রীরাও তাদের নির্ধারিত অপেক্ষার সময় (ইদ্দত পালন) শেষ করে নেয়, তখন তোমরা তাদের (পছন্দমতো) স্বামীদের সাথে বিয়ের ব্যাপারে বাধা দিয়ো না, যদি তারা (বিয়ের জন্যে) সম্মান জনক ভাবে কোনো এঁকমত্যে পৌঁছে থাকে; তোমাদের ভেতর যারা আল্লাহ তায়ালা ও পরকালীন জীবনের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের এ আদেশই দেয়া হচ্ছে; (মুলত) এটা তোমাদের জন্যে অধিক সম্মানের এবং অনেক পবিত্র (কর্মধারা, কারণ) ; আল্লাহ তায়ালা জানেন, তোমরা কিছুই জানো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩৩﴿
﴾ ২:২৩৩ ﴿
وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا لَا تُضَارَّ وَالِدَةٌ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُودٌ لَهُ بِوَلَدِهِ وَعَلَى الْوَارِثِ مِثْلُ ذَلِكَ فَإِنْ أَرَادَا فِصَالًا عَنْ تَرَاضٍ مِنْهُمَا وَتَشَاوُرٍ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا وَإِنْ أَرَدْتُمْ أَنْ تَسْتَرْضِعُوا أَوْلَادَكُمْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُمْ مَا آتَيْتُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٢٣٣﴾
মায়েরা পুরো দুটো বছরই (সন্তানকে) বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত (এ নিয়ম তার জন্যে) , যে চায় (সন্তানের) দুধ খাওয়ানো পুরো মাত্রায় আদায় করুক; সন্তানের পিতা (দুধ খাওয়ানোর) জন্যে মায়েদের (সম্মানজনক) ভরণ পোষণ (সুনিশ্চিত) করবে; কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেয়া যাবে না, (পিতার সংগতির কথা ভাবতে গিয়ে দেখতে হবে) মায়েরাও যেন (আবার) নিজ সন্তান নিয়ে (বেশী) কষ্টে না পড়ে যায় এবং পিতাকেও যেন সন্তান (জন্ম দেয়ার) কারণে (অযথা) কষ্টে পড়ে যেতে না হয়, (সেটাও খেয়াল রাখতে হবে, সন্তানের পিতার অবর্তমানে) তার উত্তরাধিকারীদের উপর সন্তানের জন্মদাত্রী মায়ের অধিকার এভাবেই বহাল থাকবে, (তবে কোনো পর্যায়ে) পিতামাতা যদি পারস্পরিক সম্মতি ও পরামর্শের ভিত্তিতে আগে ভাগেই সন্তানের দুধ ছাড়িয়ে নিতে চায় তাতেও তাদের উপর কোনো দোষের কিছু নেই; তোমরা যদি নিজেদের বদলে অন্য কাউকে সন্তানের দুধ খাওয়ানোর জন্যে নিয়োগ করতে চাও এবং যদি দুগ্ধদাত্রীর পাওনা যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেয়া হয়, তাতেও কোনো গুনাহ নেই; (সর্বাবস্থায়) আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং জেনে রেখো, তোমরা যা কিছুই করো আল্লাহ তায়ালা তার সব কিছুই দেখতে পান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩৪﴿
﴾ ২:২৩৪ ﴿
وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنْفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿٢٣٤﴾
তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তারা (যদি তাদের) স্ত্রীদের (জীবিত) রেখে যায় (সে অবস্থায় স্ত্রীরা যদি বিয়ে করতে চায় তাহলে) , তারা তাদের নিজেদের চার মাস দশ দিন পর্যন্ত সময় বিয়ে থেকে বিরত রাখবে, (অপেক্ষার) এ সময়টুকু যখন তারা পুরণ করে নেবে, তখন নিজেদের বিয়ের ব্যাপারে তারা ন্যায়ানুগ পন্থায় (যা ইচ্ছা তাই) করতে পারবে এবং এ বিষয়টিতে তাদের উপর কোনো গুনাহ নেই; (মুলত) তোমরা যে যাই করো না কেন, আল্লাহ তায়ালা (সব কাজেরিই) খবর রাখেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩৫﴿
﴾ ২:২৩৫ ﴿
وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنْتُمْ فِي أَنْفُسِكُمْ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَكِنْ لَا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّا أَنْ تَقُولُوا قَوْلًا مَعْرُوفًا وَلَا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي أَنْفُسِكُمْ فَاحْذَرُوهُ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ ﴿٢٣٥﴾
(এমন কি সে অপেক্ষার সময় শেষ হওয়ার আগেও) তোমরা কেউ যদি তাকে বিয়ে করার (জন্যে) পয়গাম পাঠাও, কিংবা তেমন কোনো ইচ্ছা যদি তোমরা নিজেদের মনের ভেতর লুকিয়েও রাখো, (তোতেও) তোমাদের উপর কোনো দোষ নেই; কেননা আল্লাহ তায়ালা এটা ভালো করেই জানেন, তাদের কথা অবশ্যই তোমরা বার বার মনে করবে, কিন্তু (সাবধান আড়ালে আবডালে থেকে) গোপনে তাদের বিয়ের কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ো না, তাদের সাথে কখনো তোমাদের কথা বলতে হলে তা বলবে সম্মানজনক গন্থায়; আর ইদ্দত (অপেক্ষার শরীয়তসম্মত সময়) শেষ হবার আগে কখনো তার সাথে বিয়ের সংকল্প করো না; জেনে রেখো, তোমাদের মনের সব (ইচ্ছা অভিসন্ধির) কথা কিন্তু আল্লাহ তায়ালা ভালো করেই জানেন, অতএব তোমরা একমাত্র তাঁর থেকেই সতর্ক হও (এবং একথাও জেনে রেখো) , আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ধৈর্যশীল, মহান ক্ষমাশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩৬﴿
﴾ ২:২৩৬ ﴿
لَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا لَهُنَّ فَرِيضَةً وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى الْمُوسِعِ قَدَرُهُ وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرُهُ مَتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ ﴿٢٣٦﴾
স্ত্রীদের (শারীরিকভাবে) স্পর্শ করা কিংবা তাদের জন্যে মোহরের কোনো অংক নির্ধারণের আগেই যদি তোমরা তাদের তালাক দাও, তাতে (শরীয়তের দৃষ্টিতে) তোমাদের উপর কোনো গুনাহ নেই, (এ পরিস্থিতিতে মোহরের কোনো অংক নির্ধারিত না হলেও) তাদের ন্যায়ানুগ পন্থায় কিছু পরিমাণ (অর্থ) আদায় করে দেবে, ধনী ব্যক্তির উপর (এটা হবে তার) নিজ ক্ষমতা অনুযায়ী এবং গরীব ব্যক্তির উপর (হবে) তার সংগতি অনুযায়ী, (এটা) নেককার লোকদের উপর (আরোপিত) স্ত্রীদের একটি অধিকার বটে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩৭﴿
﴾ ২:২৩৭ ﴿
وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةً فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلَّا أَنْ يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَلَا تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٢٣٧﴾
যদি (এমন হয়) তোমরা তাদের (শারীরিক ভাবে) স্পর্শ করোনি, কিন্তু মোহরের অংক নির্ধারিত করে নিয়েছো, এমতাবস্থায় যদি তোমরা তাদের তালাক দাও, তাহলে তাদের জন্যে (থাকবে) নির্ধারিত মোহরের অর্ধেক পরিমাণ, যা) আদায় করে দিতে হবে, (হ্যাঁ) তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী নিজের থেকে যদি তোমাদের তা মাফ করে দেয় কিংবা যে (স্বামীর) হাতে বিয়ের বন্ধন রয়েছে সে যদি (স্ত্রীকে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশী দিয়ে) অনুগ্রহ দেখাতে চায় (তাহলে) তা হবে আল্লাহভীতির ও একান্ত কাছাকাছি; কখনো একে অপরের প্রতি দয়া ও সহৃদয়তা দেখাতে ভুলো না; কারণ তোমরা (কে) কি কাজ করো, তার সব কিছুই আল্লাহ তায়ালা পর্যবেক্ষণ করছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩৮﴿
﴾ ২:২৩৮ ﴿
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ﴿٢٣٨﴾
তোমরা নামায সমুহের উপর (গভীরভাবে) যত্নবান হও, (বিশেষ করে) মধ্যবর্তী নামাজ এবং আল্লাহর জন্যে বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে থাক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৩৯﴿
﴾ ২:২৩৯ ﴿
فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا فَإِذَا أَمِنْتُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَمَا عَلَّمَكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ ﴿٢٣٩﴾
অতপর যদি তোমরা ভীতিপ্রদ কোনো অবস্থার সম্মুখীন হও (তখন প্রয়োজনে তোমরা নামায পড়বে) পায়ের উপর দাঁড়িয়ে কিংবা সওয়ারীর উপর থাকা অবস্থায়, তারপর তোমরা যখন নিরাপদ হয়ে যাবে তখন আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করো, যেভাবে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে স্মরণ করার (নিয়ম) শিখিয়েছেন যার কিছুই তোমরা ইতি পুর্বে জানতে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪০﴿
﴾ ২:২৪০ ﴿
وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِي مَا فَعَلْنَ فِي أَنْفُسِهِنَّ مِنْ مَعْرُوفٍ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٤٠﴾
তোমাদের মধ্য থেকে যদি কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং সে বিধবা স্ত্রীদের রেখে যায়, (তার উত্তর সুরিদের জন্যে তার) ওসিয়ত থাকবে যেন তারা এক বছর পর্যন্ত তাদের স্ত্রীদের ব্যয়ভার বহন করে, (কোনো অবস্থায় যেন তার ভিটেমাটি থেকে) তাকে বের করে দেয়া না হয়, (এ সময় পুরণ হবার আগে) যদি তারা নিজেরাই বের হয়ে যায় এবং তারা নিজেদের ব্যাপারে কোনো ভিন্ন সিদ্ধান্ত করে কোনো সম্মানজনক ব্যবস্থা করে নেয়; তাহলে এ জন্যে তোমাদের উপর কোনো দোষ পড়বে না; আল্লাহ তায়ালা (সবার উপর) শক্তিশালী, তিনি বিজ্ঞ কুশলীও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪১﴿
﴾ ২:২৪১ ﴿
وَلِلْمُطَلَّقَاتِ مَتَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ ﴿٢٤١﴾
(স্বামীদের উপর) তালাকপ্রাপ্তা মহিলাদের জন্যে ন্যায় সংগত ভরণ পোষনের দায়িত্ত থাকবে; আল্লাহ তায়ালাকে যারা ভয় করে এটা তাদের উপর (আরোপিত) দায়িত্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪২﴿
﴾ ২:২৪২ ﴿
كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٢٤٢﴾
এভাবেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর আয়াতগুলো তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, যাতে করে তোমরা বুঝতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪৩﴿
﴾ ২:২৪৩ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَهُمْ أُلُوفٌ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيَاهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ ﴿٢٤٣﴾
তুমি কি (তাদের পরিণতি) দেখোনি যারা মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলো, অথচ তারা (সংখ্যায়) ছিলো হাজার হাজার, তাদের (এ কাপুরুষোচিত আচরণে রুষ্ট হয়ে) আল্লাহ তায়ালা তাদের বললেন, তোমরা নিপাত হয়ে যাও, (অতঃপর এক সময় তাদের বংশধররা সাহসিকতার সাথে যালেমের মোকাবেলা করলো) । আল্লাহ তায়ালা তাদের পুনরায় (সামাজিক ও রাজনৈতিক) জীবন দান করলেন; আল্লাহ তায়ালা (এ ধরনের সাহসী) মানুষদের উপর (সর্বদাই) অনুগ্রহশীল; কিন্তু মানুষদের অধিকাংশই (এ জন্যে) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪৪﴿
﴾ ২:২৪৪ ﴿
وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٤٤﴾
(অতএব হে মুসলমানরা, কাপুরুষতা না দেখিয়ে) তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করো এবং (এ কথা) ভালো করে জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালা (যেমন সব) শোনেন, (তেমনি) তিনি সব কিছু জানেনও । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪৫﴿
﴾ ২:২৪৫ ﴿
مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٢٤٥﴾
(তোমাদের মধ্য থেকে) কে (এমন) হবে যে আল্লাহকে উত্তম খণ দেবে, (যে কেউই আল্লাহকে ঋন দেবে সে যেন জেনে রাখে) , আল্লাহ তায়ালা ঋনের সে অংক) তার জন্যে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন; আল্লাহ তায়ালা কাউকে ধনী আবার কাউকে গরীব করে দেন, (আর সব শেষে) তোমাদের (ধনী গরীব) সবাইকে তো একদিন তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪৬﴿
﴾ ২:২৪৬ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الْمَلَأِ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى إِذْ قَالُوا لِنَبِيٍّ لَهُمُ ابْعَثْ لَنَا مَلِكًا نُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ أَلَّا تُقَاتِلُوا قَالُوا وَمَا لَنَا أَلَّا نُقَاتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِنْ دِيَارِنَا وَأَبْنَائِنَا فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ تَوَلَّوْا إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ ﴿٢٤٦﴾
তুমি কি বনী ইসরাঈল দলের কতিপয় নেতা সম্পর্কে চিন্তা করোনি? যখন তারা মুসার আগমনের পর তদানিন্তন নবীর কাছে বলেছিলো, আমাদের জন্যে একজন বাদশাহ ঠিক করে দাও, যেন (তার সাথে) আমরা আল্লাহর পথে লড়াই করতে পারি; (আল্লাহর) সে নবী (তাদের) বললো, তোমাদের অবস্থা আগের লোকদের মতো এমন হবে না তো যে, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের লড়াইর আদেশ দেবেন এবং তোমরা লড়াই করবে না, তারা বললো, আমরা কেন আল্লাহর পথে লড়বো না, (বিশেষ করে যখন) আমাদের নিজেদের বাড়ি ঘর থেকে আমাদের বের করে দেয়া হয়েছে, আমাদের ছেলে মেয়েদেরও (বের করে দেয়া হয়েছে) , অতপর যখন (সত্যি সত্যিই) তাদের আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের আদেশ দেয়া হলো তখন কতিপয় (সাহসী) বান্দা ছাড়া অধিকাংশই ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গেছে; (আসলে) আল্লাহ তায়ালা যালেমদের ভালো করেই জানেন । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪৭﴿
﴾ ২:২৪৭ ﴿
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا قَالُوا أَنَّى يَكُونُ لَهُ الْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِالْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةً مِنَ الْمَالِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٤٧﴾
তাদের নবী তাদের বললো, আল্লাহ তায়ালা তালুতকে তোমাদের উপর বাদশাহ (নিযুক্ত) করে পাঠিয়েছেন; (এ কথা শুনে) তারা বললো, তার কি অধিকার আছে যে আমাদের উপর রাজত্ব করার? বাদশাহীর অধিকার (বরং) তার চাইতে আমাদেরই বেশী রয়েছে, (তাছাড়া) অর্থ প্রাচূর্যও তো তার বেশী নেই; আল্লাহর নবী বললো, (শাসন ক্ষমতার জন্যে) আল্লাহ তায়ালা তাকেই বাছাই করেছেন এবং (এ কাজের জন্যে) তার শারীরিক যোগ্যতা ও জ্ঞান (প্রতিভা) আল্লাহ তায়ালা বাড়িয়ে দিয়েছেন; (আসলে) আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকেই তাঁর রাজ ক্ষমতা দান করে থাকেন; তাঁর ভান্ডার অনেক প্রশস্ত, আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকেই রাজত্ব দেন, আল্লাহ তায়ালা প্রাচুর্যময় ও মহাবিজ্ঞ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪৮﴿
﴾ ২:২৪৮ ﴿
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ آيَةَ مُلْكِهِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِمَّا تَرَكَ آلُ مُوسَى وَآلُ هَارُونَ تَحْمِلُهُ الْمَلَائِكَةُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٢٤٨﴾
তাদের নবী তাদের (আরো) বললো, (আল্লাহ তায়ালা যাকে পাঠাচ্ছেন) তার বাদশাহীর অবশ্যই একটা চিহ্ন থাকবে এবং তা হচ্ছে, সে তোমাদের সামনে (হারানো) সিন্দুকটি এনে হাযির করবে, এতে তোমাদের জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে (সান্তুনা ও) প্রশান্তির বিষয় থাকবে, (তাছাড়া) এ (অমুল্য) সিন্দুকে মুসা ও হারূনের পরিবার পরিজনের কিছু রেখে যাওয়া (জিনিসপত্রও) থাকবে, (আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে) তাঁর ফেরেশতারা এ সিন্দুক তোমাদের জন্যে বহন করে আনবে, যদি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করো তাহলে (তোমরা দেখবে) , এসব কিছুতে তোমাদের জন্যে (এক ধরনের) নিদর্শন রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৪৯﴿
﴾ ২:২৪৯ ﴿
فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُمْ بِنَهَرٍ فَمَنْ شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَنْ لَمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ فَلَمَّا جَاوَزَهُ هُوَ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ قَالُوا لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلَاقُو اللَّهِ كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿٢٤٩﴾
(রাজত্ব পেয়ে) তালুত যখন নিজ বাহিনী নিয়ে এগিয়ে গেলো, তখন সে (তার লোকদের) বললো, আল্লাহ তায়ালা একটি নদী (-র পানি) দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করবেন, যদি তোমাদের মধ্যে কেউ এর পানি পান করে তাহলে সে আর আমার দলভুক্ত থাকবে না, আর যে ব্যক্তি তা খাবে না সে অবশ্যই আমার দলভুক্ত থাকবে, তবে কেউ যদি তার হাত দিয়ে সামান্য এক আঁজলা (পানি খেয়ে) নেয় তা ভিন্ন কথা, অতপর (সেখানে গিয়ে) হাতেগোনা কয়জন লোক ছাড়া আর সবাই তৃপ্তিভরে পানি পান করলো; এ কয়জন লোক, যারা তার কথায় তার সাথে ঈমান এনেছিলো, তারা এবং তালুত যখন নদী পার হয়ে এগিয়ে গেলো, তখন তারা (নিজেদের দীনতা দেখে) বলে উঠলো, হে আল্লাহ, আজ জালুত এবং তার বিশাল বাহিনীর মোকাবেলা করার শক্তি আমাদের নেই; (এ সময় তাদেরই সাথী বন্ধুরা) যারা জানতো তাদের আল্লাহর সামনে হাযির হতে হবে, তারা বললো, (ইতিহাসে এমন) অনেকবারই দেখা গেছে, আল্লাহর সাহায্য নিয়ে একটি ক্ষুদ্র দলও বিশাল সেনাবাহিনীর উপর জয়ী হয়েছে; (কেননা) আল্লাহ তায়ালা ধের্যশীলদের সাথেই থাকেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫০﴿
﴾ ২:২৫০ ﴿
وَلَمَّا بَرَزُوا لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالُوا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٥٠﴾
তারপর (যখন) সে তার সৈন্য নিয়ে (মোকাবেলা করার জন্যে) দাঁড়ালো, তখন তারা (আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে) বললো, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের সবরের তাওফীক দান করো, দুশমনের মোকাবেলায় আমাদের কদম অটল রাখো এবং অবিশ্বাসী কাফেরদের মোকাবেলায় তুমি আমাদের সাহায্য করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫১﴿
﴾ ২:২৫১ ﴿
فَهَزَمُوهُمْ بِإِذْنِ اللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُدُ جَالُوتَ وَآتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُ مِمَّا يَشَاءُ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَفَسَدَتِ الْأَرْضُ وَلَكِنَّ اللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿٢٥١﴾
লড়াইয়ের ময়দানে তারা তাদের পরজুদস্ত (লাঞ্ছিত) করে দিলো এবং দাউদ আল্লাহর সাহায্য নিয়ে জালুতকে হত্যা করলো, আল্লাহ তায়ালা তাকে দুনিয়ার রাজত্ব দান করলেন এবং তাকে (রাজক্ষমতা চালানোর) কৌশলও শিক্ষা দিলেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে নিজ ইচ্ছামতো আরো (বহু) বিষয়ের জ্ঞান দান করেন; (আসলে) আল্লাহ তায়ালা যদি (যুগে যুগে) একদল লোককে দিয়ে আরেকদল লোককে শায়েস্তা না করতেন, তাহলে এই ভূখন্ড ফেতনা ফাসাদে ভরে যেতো, কিন্তু (আল্লাহ তায়ালা তা চাননি, কেননা) আল্লাহ তায়ালা এ সৃষ্টিকুলের উপর বড়োই অনুগ্রহশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫২﴿
﴾ ২:২৫২ ﴿
تِلْكَ آيَاتُ اللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ ﴿٢٥٢﴾
(এ কিতাবে বর্ণিত) এসব ঘটনা হচ্ছে আল্লাহর এক একটা নিদর্শন (মাত্র) , যা যথাযথ ভাবে আমি তোমাকে শুনিয়েছি (এর কোনো ঘটনাই তো তুমি জানতে না) ; তুমি অবশ্যই আমার পাঠানো (নবী) রসুলদের একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫৩﴿
﴾ ২:২৫৩ ﴿
تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنْهُمْ مَنْ كَلَّمَ اللَّهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَلَكِنِ اخْتَلَفُوا فَمِنْهُمْ مَنْ آمَنَ وَمِنْهُمْ مَنْ كَفَرَ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلُوا وَلَكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ ﴿٢٥٣﴾
এই (যে) নবী রসূলরা (রয়েছে) এদের কাউকে কারো উপর আমি বেশী মর্যাদা দান করেছি। এদের মধ্যে এমনও (কেউ) ছিলো যাদের সাথে আল্লাহ তায়ালা কথা বলেছেন এবং (এর মাধ্যমে) কারো মর্যাদা তিনি বাড়িয়ে দিয়েছেন; আমি মারইয়ামের ছেলে ঈসাকে (কতিপয়) উজ্জ্বল নিদর্শন দিয়েছিলাম, অতপর পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে আমি সাহায্য করেছি; আল্লাহ তায়ালা চাইলে তাদের (আগমনের) পর যাদের কাছে এসব উজ্জ্বল নিদর্শন এসেছে তারা কখনো মারামারিতে লিপ্ত হতো না, কিন্তু (রসুলদের পর) তারা (দলে উপদলে) বিভক্ত হয়ে গেলো, অতপর তাদের মধ্যে কিছু লোক ঈমান আনলো আবার তাদের কিছু লোক (আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর নবীকে) অস্বীকার করলো, (অথচ) আল্লাহ পাক চাইলে এরা কেউই যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হতো না, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যা চান তাই করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫৪﴿
﴾ ২:২৫৪ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٢٥٤﴾
হে ঈমানদাররা, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, আমার দেয়া ধন সম্পদ থেকে (আমার পথে) ব্যয় করো সে দিনটি আসার আগে, যেদিন কোনো বেচাকেনা চলবেনা, কোন রকম বন্ধুত্ব ভালোবাসা ও কাজে আসবেনা, না সেদিন কারো কাছ থেকে কোন সুপারিশ গ্রহন করা হবে। (মূলত এ দিনের) অস্বীকার কারীরাই হচ্ছে যালেম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫৫﴿
﴾ ২:২৫৫ ﴿
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ ﴿٢٥٥﴾
মহান আল্লাহ তা’আলা, তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, তিনি অনাদি সত্তা, ঘুম (তো দূরের কথা, সামান্য) তন্দ্রাও তাঁকে আচ্ছন্ন করে না; আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তার সব কিছুরই একচ্ছত্র মালিকানা তাঁর; কে এমন আছে যে তাঁর দরবারে বিনা অনুমতিতে সুপারিশ করবে? তাদের বর্তমান ভবিষ্যতের সব কিছুই তিনি জানেন, তাঁর জানা বিষয়সমূহের কোনো কিছুই কারো জ্ঞানের সীমা পরিসীমার আয়ত্তাধীন হতে পারে না, তবে কিছু জ্ঞান যদি তিনি কাউকে দান করে থাকেন (তবে তা ভিন্ন কথা) , তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য আসমান যমীনের সব কিছুই পরিবেষ্টন করে আছে, এ উভয়টির হেফাযত করার কাজ কখনো তাঁকে পরিশ্রান্ত করে না, তিনি পরাক্রমশালী ও অসীম মর্যাদাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫৬﴿
﴾ ২:২৫৬ ﴿
لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٥٦﴾
(আল্লাহর) দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জোর জবরদস্তি নেই, (কারণ) সত্য (এখানে) মিথ্যা থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে, তোমাদের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি বাতিল (মতাদর্শ) -কে অস্বীকার করে, আল্লাহর (দেয়া জীবনাদর্শের) উপর ঈমান আনে, সে যেন এর মাধ্যমে এমন এক শক্তিশালী রশি ধরলো, যা কোনোদিনই ছিঁড়ে যাবার নয়; আল্লাহ তা’আলা (সব কিছুই শোনেন) এবং (সবকিছুই) জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫৭﴿
﴾ ২:২৫৭ ﴿
اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٥٧﴾
যারা (আল্লাহর উপর) ঈমান আনে, আল্লাহ তা’আলাই হচ্ছেন তাদের সাহায্যকারী (বন্ধু) , তিনি (জাহেলিয়াতের) অন্ধকার থেকে তাদের (ঈমানের) আলোতে বের করে নিয়ে আসেন, (অপরদিকে) যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে, বাতিল (শক্তিসমূহ) -ই হয়ে থাকে তাদের সাহায্যকারী, তা তাদের (দ্বীনের) আলোক থেকে (কুফরীর) অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়; এরাই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫৮﴿
﴾ ২:২৫৮ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِي حَاجَّ إِبْرَاهِيمَ فِي رَبِّهِ أَنْ آتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ إِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّيَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا أُحْيِي وَأُمِيتُ قَالَ إِبْرَاهِيمُ فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنَ الْمَغْرِبِ فَبُهِتَ الَّذِي كَفَرَ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ﴿٢٥٨﴾
তুমি কি সে ব্যক্তির অবস্থা দেখোনি যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা’আলা (দুনিয়ার) রাষ্ট্র ক্ষমতা দেয়ার পর সে ইব্রাহীমের সাথে স্বয়ং মালিকের ব্যাপারেই বিতর্কে লিপ্ত হলো, (বিতর্কের এক পর্যায়ে) ইবরাহীম বললো, আমার মালিক তিনি, যিনি (সৃষ্টিকুলকে) জীবন দান করেন, মৃত্যু দান করেন, সে বললো, জীবন মৃত্যু তো আমিও দিয়ে থাকি, ইবরাহীম বললো, (আমার) আল্লাহ তা’আলা পূর্ব দিক থেকে (প্রতিদিন) সূর্যের উদয়ন ঘটান, (একবার) তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে বের করে দেখাও তো!(এতে সত্য) অস্বীকারকারী ব্যক্তিটি হতভম্ব হয়ে গেলো, (আসলে) আল্লাহ তা’আলা যালেম জাতিকে কখনো পথের দিশা দেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৫৯﴿
﴾ ২:২৫৯ ﴿
أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّى يُحْيِي هَذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ بَلْ لَبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانْظُرْ إِلَى طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ وَانْظُرْ إِلَى حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً لِلنَّاسِ وَانْظُرْ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢٥٩﴾
অথবা (ঘটনাটি) কি সেই ব্যক্তির মতো যে একটি বস্তির পাশ দিয়ে যাবার সময় যখন দেখলো, তা (বিধ্বস্ত হয়ে) আপন অস্তিত্বের উপর মুখ থুবড়ে পড়ে আছে, (তখন) সে ব্যক্তি বললো, এ মৃত জনপদকে কিভাবে আল্লাহ তা’আলা আবার পুনর্জীবন দান করবেন, এক পর্যায়ে আল্লাহ তা’আলা (সত্যি সত্যিই) তাকে মৃত্যু দান করলেন এবং (এভাবেই তাকে) একশ বছর ধরে মৃত (ফেলে) রাখলেন, অতপর তাকে পুনরায় জীবিত করলেন; এবার জিজ্ঞেস করলেন, (বলতে পারো) তুমি কতোকাল (মৃত অবস্থায়) কাটিয়েছো? সে বললো, আমি একদিন কিংবা একদিনের কিছু অংশ (মৃত অবস্থায়) কাটিয়েছি, আল্লাহ তা’আলা বললেন, বরং এমনি অবস্থায় তুমি একশ বছর কাটিয়ে দিয়েছো, তাকিয়ে দেখো তোমার নিজস্ব খাবার ও পানীয়ের দিকে, (দেখবে) তা বিন্দুমাত্র পচেনি, তোমার গাধাটির দিকেও দেখো, (তাও একই অবস্থায় আছে, আমি এসব এ জন্যেই দেখালাম) , যেন আমি তোমাকে মানুষদের জন্যে (পরকালীন জীবনের) একটি (জীবন্ত) প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারি, এ (মৃত জীবের) হাড় পাঁজরগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখো, (তুমি নিজেই দেখতে পাবে) আমি কিভাবে তা একটার সাথে আরেকটার জোড়া লাগিয়ে (নতুন জীবন) দিয়েছি, অতপর কিভাবে তাকে আমি গোশতের পোশাক পরিয়ে দিয়েছি, অতএব (এভাবে আল্লাহর দেখানো) এ বিষয়টি যখন তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেলো তখন সে বলে উঠলো, আমি জানি, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬০﴿
﴾ ২:২৬০ ﴿
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةً مِنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلَى كُلِّ جَبَلٍ مِنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًا وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٦٠﴾
(আরো স্মরণ করো, ) যখন ইবরাহীম বললো, হে মালিক, মৃতকে তুমি কিভাবে (পুনরায়) জীবিত কর তা আমাকে একটু দেখিয়ে দাও; আল্লাহ তা’আলা বললেন, কেন, (না দেখে) কি তুমি বিশ্বাস করো না? ইবরাহীম বললো, হাঁ (প্রভু, আমি বিশ্বাস করি) , কিন্তু (এর দ্বারা) আমার মন একটু সান্তনা পাবে (এই যা) ; আল্লাহ তা’আলা বললেন (তুমি বরং এক কাজ করো) , চারটি পাখী ধরে আনো, অতপর (আস্তে আস্তে) এই পাখীগুলোকে তোমার কাছে পোষ মানিয়ে নাও (যাতে ওদের নাম তোমার কাছে পরিচিত হয়ে যায়) , তারপর (তাদের কেটে কয়েক টুকরায় ভাগ করো, ) তাদের (কাটা) এক একটি টুকরো এক একটি পাহাড়ের উপর রেখে এসো, অতপর ওদের (সবার নাম ধরে) তুমি ডাকো, (দেখবে জীবন্ত পাখীতে পরিণত হয়ে) ওরা তোমার কাছে দৌড়ে আসবে; তুমি জেনে রাখো, আল্লাহ তা’আলা মহাশক্তিশালী, বিজ্ঞ কুশলী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬১﴿
﴾ ২:২৬১ ﴿
مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٦١﴾
যারা নিজেদের ধন সম্পদ আল্লাহ তা’আলার পথে খরচ করে তাদের উদাহরণ হচ্ছে একটি বীজের মতো, যে বীজটি বপন করার পর তা থেকে (একে একে) সাতটি শীষ বেরুলো, আবার এর প্রতিটি শীষে রয়েছে একশ শস্য দানা; (আসলে) আল্লাহ তা’আলা যাকে চান তাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন; আল্লাহ তা’আলা অনেক প্রশস্ত, অনেক বিজ্ঞ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬২﴿
﴾ ২:২৬২ ﴿
الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنْفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٦٢﴾
যারা আল্লাহ তা’আলার পথে নিজেদের ধন সম্পদ ব্যয় করে এবং ব্যয় করে তা প্রচার করে বেড়ায় না, খোটা দেয় না, এবং কষ্ট ও দেয়না (এ জন্যে) তাদের মালিকের কাছে তাদের জন্যে পুরস্কার (সংরক্ষিত) রয়েছে, (শেষ বিচারের দিন) এদের কোনো ভয় নেই, তাদের (সেদিন) দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হতে হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬৩﴿
﴾ ২:২৬৩ ﴿
قَوْلٌ مَعْرُوفٌ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِنْ صَدَقَةٍ يَتْبَعُهَا أَذًى وَاللَّهُ غَنِيٌّ حَلِيمٌ ﴿٢٦٣﴾
(একটুখানি) সুন্দর কথা বলা এবং (উদারতা দেখিয়ে) ক্ষমা করে দেয়া সেই দানের চাইতে অনেক ভালো, যে দানের পরিণামে কষ্টই আসে; আল্লাহ তা’আলা কারোরই মুখাপেক্ষী নন, তিনি পরম ধৈর্যশীল বটে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬৪﴿
﴾ ২:২৬৪ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَى كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌ فَأَصَابَهُ وَابِلٌ فَتَرَكَهُ صَلْدًا لَا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِمَّا كَسَبُوا وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴿٢٦٤﴾
হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা (উপকারের) খোঁটা দিয়ে এবং (অনুগৃহীত ব্যক্তিকে) কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান সদকা বরবাদ করে দিয়ো না ঠিক সেই (হতভাগ্য) ব্যক্তির মতো, যে শুধু লোক দেখানোর উদ্দেশেই দান করে, সে আল্লাহ তা’আলা ও পরকালের উপর বিশ্বাস করে না; তার (দানের) উদাহরণ হচ্ছে, যেন একটি মসৃণ শিলাখন্ডের উপর কিছু মাটি(-র আবরণ পড়ল) , সেখানে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলো, অতপর তা পাথরটিকে শক্ত করেই রেখে গেল (দান খয়রাত করে) তারা (যাকিছু) অর্জন করল তা দিয়ে তারা কিছুই করতে পারলো না, আর যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তা’আলা তাদের কখনো সঠিক পথ দেখান না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬৫﴿
﴾ ২:২৬৫ ﴿
وَمَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ وَتَثْبِيتًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍ بِرَبْوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٌ فَآتَتْ أُكُلَهَا ضِعْفَيْنِ فَإِنْ لَمْ يُصِبْهَا وَابِلٌ فَطَلٌّ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٢٦٥﴾
(অপরদিকে) যারা আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্যে এবং নিজেদের মানসিক অবস্থা (আল্লাহর পথে) সুদৃঢ় রাখার জন্যে নিজেদের ধন সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ হচ্ছে, যেন তা কোনো উঁচু পাহাড়ের উপত্যকায় একটি (সুসজ্জিত) ফসলের বাগান, যদি সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হয় তাহলে ফসলের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়, আর প্রবল বৃষ্টিপাত না হলেও বৃষ্টির শিশির বিন্দুগুলোই (ফসলের জন্য) যথেষ্ট হয়, আল্লাহ তা’আলা ভালো করেই পর্যবেক্ষণ করেন তোমরা কে কি কাজ করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬৬﴿
﴾ ২:২৬৬ ﴿
أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُونَ لَهُ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ لَهُ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَأَصَابَهُ الْكِبَرُ وَلَهُ ذُرِّيَّةٌ ضُعَفَاءُ فَأَصَابَهَا إِعْصَارٌ فِيهِ نَارٌ فَاحْتَرَقَتْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ﴿٢٦٦﴾
তোমাদের কেউ কি চাইবে যে, তার কাছে (ফলে ফুলে সুশোভিত) একটি বাগান থাকুক, যাতে খেজুর ও আংগুরসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল থাকবে, তার তলদেশ দিয়ে আবার প্রবাহমান থাকবে কতিপয় ঝর্ণাধারা, আর (এর ফল ভোগ করার আগেই) বাগানের মালিক বয়সের ভারে নুয়ে পড়বে এবং তার কিছু দুর্বল সন্তান থাকবে, (এ অবস্থায় হঠাৎ করে) এক আগুনে বাতাস এসে তার সব (স্বপ্ন) জ্বালিয়ে দিয়ে যাবে; এভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর নিদর্শনগুলো তোমাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা (আল্লাহ তা’আলার এসব কথার উপর) চিন্তা গবেষণা করতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬৭﴿
﴾ ২:২৬৭ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ وَلَسْتُمْ بِآخِذِيهِ إِلَّا أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ ﴿٢٦٧﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা নিজেরা যা অর্জন করেছো, সে পবিত্র (সম্পদ) এবং যা আমি যমীনের ভেতর থেকে তোমাদের জন্যে বের করে এনেছি, তার থেকে (একটি) উৎকৃষ্ট অংশ (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো, (আল্লাহর জন্যে এমন) নিকৃষ্টতম জিনিস গুলো বেছে রেখে তার থেকে ব্যয় করো না, যা অন্যরা তোমাদের দিলে তোমরা তা গ্রহণ করবে না, অবশ্য যা কিছু তোমরা অনিচ্ছা কৃতভাবে গ্রহণ করো তা আলাদা, তোমরা জেনে রেখো, আল্লাহ তা’আলা (তোমাদের দানের) মুখাপেক্ষী নন, সব প্রশংসার মালিক তো তিনিই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬৮﴿
﴾ ২:২৬৮ ﴿
الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَغْفِرَةً مِنْهُ وَفَضْلًا وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٦٨﴾
শয়তান সব সময়ই তোমাদের অভাব অনটনের ভয় দেখাবে এবং সে (নানাবিধ) অশ্লীল কর্মকান্ডের আদেশ দেবে, আর আল্লাহ তা’আলা তোমাদের তাঁর কাছ থেকে অসীম বরকত ও ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন (এবং সে দিকেই তিনি তোমাদের ডাকছেন) , আল্লাহ তা’আলা প্রাচুর্যময় ও সম্যক অবগত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৬৯﴿
﴾ ২:২৬৯ ﴿
يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ ﴿٢٦٩﴾
আল্লাহ তা’আলা যাকে চান তাকে (একান্তভাবে) তাঁর পক্ষ থেকে (বিশেষ) জ্ঞান দান করেন, আর যে ব্যক্তিকে (আল্লাহ তা’আলার সেই) বিশেষ জ্ঞান দেয়া হলো (সে যেন মনে করে) , তাকে প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে, আর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া (আল্লাহর এসব কথা থেকে) অন্য কেউ কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করতে পারে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭০﴿
﴾ ২:২৭০ ﴿
وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ نَفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُمْ مِنْ نَذْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ ﴿٢٧٠﴾
তোমরা যা কিছু খরচ করো আর যা কিছু (খরচ করার জন্যে) মানত করো, আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তা ভালো করেই জানেন; যালেমদের (আসলেই) কোনো সাহায্যকারী নেই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭১﴿
﴾ ২:২৭১ ﴿
إِنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿٢٧١﴾
(আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্যে) তোমরা যা কিছু দান করো, তা যদি প্রকাশ্যভাবে (মানুষদের সামনে) করো তা ভালো কথা (তাতে কোনো দোষ নেই) , তবে যদি তোমরা তা (মানুষদের কাছে) গোপন রাখো এবং (চুপে চুপে) অসহায়দের দিয়ে দাও, তা হবে তোমাদের জন্যে উত্তম; (এ দানের কারণে) আল্লাহ তা’আলা তোমাদের বহুবিধ গুনাহ খাতা মুছে দেবেন, আর তোমরা যাই করো না কেন, আল্লাহ তা’আলা সব কিছু সম্পর্কেই ওয়াকেফহাল রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭২﴿
﴾ ২:২৭২ ﴿
لَيْسَ عَلَيْكَ هُدَاهُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنْفُسِكُمْ وَمَا تُنْفِقُونَ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ﴿٢٧٢﴾
(যারা তোমার কথা শোনে না, ) তাদের হেদায়াতের দায়িত্ব তোমার উপর নয়, তবে আল্লাহ তা’আলা যাকে চান তাকেই সঠিক পথ দেখান, তোমরা যা দান সদকা করো এটা তোমাদের জন্যেই কল্যাণকর, (কারণ) তোমরা তো এ জন্যেই খরচ করো যেনো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারো; (তোমরা আজ) যা কিছু দান করবে (আগামীকাল) তার পুরোপুরি পুরস্কার তোমাদের আদায় করে দেয়া হবে, (সেদিন) তোমাদের উপর কোনো রকম যুলুম করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭৩﴿
﴾ ২:২৭৩ ﴿
لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُمْ بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ ﴿٢٧٣﴾
দান সদকা তো (তোমাদের মাঝে এমন) কিছু গরীব মানুষের জন্যে, যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত, যারা (নিজেদের জন্যে) যমীনের বুকে চেষ্টা সাধনা করতে পারে না, আত্মসম্মান বোধের কারণে কিছু চায় না বলে অজ্ঞ (মূর্খ) লোকেরা এদের মনে করে এরা (বুঝি) সচ্ছল, কিন্তু তুমি এদের (বাহ্যিক) চেহারা দেখেই এদের (সঠিক অবস্থা) বুঝে নিতে পারো, এরা মানুষদের কাছ থেকে কাকুতি মিনতি করে ভিক্ষা করতে পারে না; তোমরা যা কিছুই খরচ করবে আল্লাহ তা’আলা তার (যথার্থ) বিনিময় দেবেন, কারণ তিনি সব কিছুই দেখেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭৪﴿
﴾ ২:২৭৪ ﴿
الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٧٤﴾
যারা দিন রাত প্রকাশ্যে ও সংগোপনে নিজেদের মাল সম্পদ ব্যয় করে, তাদের মালিকের দরবারে তাদের এ দানের প্রতিফল (সুরক্ষিত) রয়েছে, তাদের উপর কোনো রকম ভয় ভীতি থাকবে না, তারা চিন্তিতও হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭৫﴿
﴾ ২:২৭৫ ﴿
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٧٥﴾
যারা সূদ খায় তারা (মাথা উঁচু করে) দাঁড়াতে পারবে না, (দাঁড়ালেও) তার দাঁড়ানো হবে সে ব্যক্তির মতো, যাকে শয়তান নিজস্ব পরশ দিয়ে (দুনিয়ার লোভ লালসায়) মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে; এটা এ কারণে, যেহেতু এরা বলে, ব্যবসা বাণিজ্য তো সূদের মতোই (একটা কারবারের নাম) , অথচ আল্লাহ তা’আলা ব্যবসা হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন, তাই তোমাদের যার (যার) কাছে তার মালিকের পক্ষ থেকে (সূদ সংক্রান্ত) এ উপদেশ পৌঁছেছে, সে অতপর সূদের কারবার থেকে বিরত থাকবে, আগে (এ আদেশ আসা পর্যন্ত) যে সূদ সে খেয়েছে তা তো তার জন্যে অতিবাহিত হয়েই গেছে, তার ব্যাপার একান্তই আল্লাহ তা’আলার সিদ্ধান্তের উপর; কিন্তু (এরপর) যে ব্যক্তি (আবার সূদী কারবারে) ফিরে আসবে, তারা অবশ্যই জাহান্নামের অধিবাসী হবে, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭৬﴿
﴾ ২:২৭৬ ﴿
يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ ﴿٢٧٦﴾
আল্লাহ তা’আলা সূদ নিশ্চিহ্ন করেন, (অপর দিকে) দান সদকা (-র পবিত্র কাজ) -কে তিনি (উত্তরোত্তর) বৃদ্ধি করেন; আল্লাহ তা’আলা (তাঁর নেয়ামতের প্রতি) অকৃতজ্ঞ পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের কখনো পছন্দ করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭৭﴿
﴾ ২:২৭৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٧٧﴾
তবে যারা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহ তা’আলার উপর ঈমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে, নামায প্রতিষ্ঠা করেছে, যাকাত আদায় করেছে, তাদের সেদিন কোনো ভয় থাকবে না, তারা সেদিন চিন্তিতও হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭৮﴿
﴾ ২:২৭৮ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٢٧٨﴾
হে ঈমনদার লোকেরা, তোমরা (সূদের ব্যাপারে) আল্লাহকে ভয় করো, আগের (সূদী কারবারের) যে সব বকেয়া আছে তোমরা তা ছেড়ে দাও, যদি সত্যিই তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আনো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৭৯﴿
﴾ ২:২৭৯ ﴿
فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تُظْلَمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ ﴿٢٧٩﴾
যদি তোমরা এমনটি না করো, তাহলে অতপর আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে (তোমাদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধের (ঘোষণা থাকবে) , আর যদি (এখনো) তোমরা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসো তাহলে তোমরা তোমাদের মূলধন ফিরে পাবার অধিকারী হবে, (সূদী কারবার দ্বারা) অন্যের উপর যুলুম করো না, তোমাদের উপরও অতপর (সূদের) যুলুম করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৮০﴿
﴾ ২:২৮০ ﴿
وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٢٨٠﴾
সে (ঋণ গ্রহীতা) ব্যক্তি কখনো যদি অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে তাহলে (তার উপর চাপ দিয়ো না, বরং) তার সচ্ছলতা ফিরে আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও; আর যদি তা মাফ করে দাও, তাহলে তা হবে তোমাদের জন্যে অতি উত্তম কাজ, যদি তোমরা (ভালোভাবে) জানো (তাহলে তাই কর। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৮১﴿
﴾ ২:২৮১ ﴿
وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٢٨١﴾
সে দিনটিকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে, সেদিন প্রত্যেক মানব সন্তানকে (জীবনভর) কামাই করা পাপপুণ্যের পুরোপুরি ফলাফল দিয়ে দেয়া হবে, (কারো উপর সেদিন) কোনো ধরনের যুলুম করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৮২﴿
﴾ ২:২৮২ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَاكْتُبُوهُ وَلْيَكْتُبْ بَيْنَكُمْ كَاتِبٌ بِالْعَدْلِ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَنْ يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ اللَّهُ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْئًا فَإِنْ كَانَ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُ بِالْعَدْلِ وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ فَإِنْ لَمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى وَلَا يَأْبَ الشُّهَدَاءُ إِذَا مَا دُعُوا وَلَا تَسْأَمُوا أَنْ تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَى أَجَلِهِ ذَلِكُمْ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَادَةِ وَأَدْنَى أَلَّا تَرْتَابُوا إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً حَاضِرَةً تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَا وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ وَلَا يُضَارَّ كَاتِبٌ وَلَا شَهِيدٌ وَإِنْ تَفْعَلُوا فَإِنَّهُ فُسُوقٌ بِكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٢٨٢﴾
হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা যখন পরস্পরের সাথে নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্যে ঋণের চুক্তি করো তখন তা লিখে রাখো; তোমাদের মধ্যকার যে কোনো একজন লেখক সুবিচারের ভিত্তিতে (এ চুক্তিনামা) লিখে দেবে, যাকে আল্লাহ তা’আলা লেখা শিখিয়েছেন সে যেন কখনো লিখতে অস্বীকৃতি না জানায়, (লেখার সময়) ঋণ গ্রহীতা (লেখককে) বলে দেবে কি (কি শর্ত সেখানে) লিখতে হবে, (এ পর্যায়ে) লেখক কে অবশ্যই তার মালিক আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করা উচিত, (চুক্তিনামা লেখার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে) তার কিছুই যেন বাদ না পড়ে; যদি সে ঋণ গ্রহীতা অজ্ঞ মূর্খ্ এবং (সব দিক থেকে) দুর্বল হয়, অথবা (চুক্তিনামার কথাবার্তা বলে দেয়ার) ক্ষমতাই তার না থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে তার কোনো অভিভাবক ন্যায়ানুগ পন্থায় বলে দেবে কি কি কথা লিখতে হবে; (তদুপরি) তোমাদের মধ্য থেকে দুই জন পুরুষকে (এ চুক্তিপত্রে) সাক্ষী বানিয়ে নিয়ো, যদি দুই জন পুরুষ (একত্রে) পাওয়া না যায় তাহলে একজন পুরুষ এবং দুজন মহিলা (সাক্ষী হবে) , যাতে করে তাদের একজন ভুলে গেলে দ্বিতীয় জন তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে; এমন সব লোকদের মধ্য থেকে সাক্ষী নিতে হবে যাদেরকে উভয় পক্ষই পছন্দ করবে, (সাক্ষীদের) যখন (সাক্ষ্য প্রদানের জন্যে) ডাকা হবে তখন তারা তা অস্বীকার করবে না; (লেনদেনের সময়) পরিমাণ ছোট হোক কিংবা বড়ো হোক, দিন ক্ষণসহ (তা লিখে রাখার ব্যাপারে) অবহেলা করো না; এটা আল্লাহর কাছে ন্যায্যতর ও সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে অধিক মযবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং (পরবর্তীকালে) যাতে তোমরা সন্দিগ্ধ না হও, তার সমাধানের জন্যেও এটা নিকটতর (পন্থা) , যা কিছু তোমরা নগদ (হাতে হাতে) আদান প্রদান করো তা (সব সময়) না লিখলেও তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই, তবে ব্যবসায়িক লেনদেনের সময় অবশ্যই সাক্ষী রাখবে, (দলিলের) লেখক ও (চুক্তিনামার) সাক্ষীদের কখনো (তাদের মত বদলানোর জন্যে) কষ্ট দেয়া যাবে না; তারপরও তোমরা যদি তাদের এ ধরনের যাতনা প্রদান করো তাহলে (জেনে রেখো) , তা হবে (তোমাদের জন্যে) একটি মারাত্মক গুনাহ, (এ ব্যাপারে) আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সবকিছুই শিখিয়ে দিচ্ছেন, (কেননা) আল্লাহ তা’আলা সবকিছুই জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৮৩﴿
﴾ ২:২৮৩ ﴿
وَإِنْ كُنْتُمْ عَلَى سَفَرٍ وَلَمْ تَجِدُوا كَاتِبًا فَرِهَانٌ مَقْبُوضَةٌ فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ ﴿٢٨٣﴾
যদি তোমরা কখনো সফরে থাকো এবং (এ কারণে ঋণের চুক্তি লেখার মতো) কোনো লেখক না পাও, তাহলে (চুক্তি লেখার বদলে) কোনো জিনিস বন্ধক রেখে দাও, যখন তোমাদের কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে কোনো বন্ধকী জিনিসের ব্যাপারে বিশ্বাস করে, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তিকে বিশ্বাস করা হয়েছে তার উচিত সেই আমানত যথাযথ ফেরত দেয়া এবং (আমানতের ব্যাপারে) আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করা, যিনি তার মালিক; তোমরা কখনো সাক্ষ্য গোপন করো না, যে ব্যক্তি তা গোপন করে সে অবশ্যই অন্তরের দিক থেকে পাপিষ্ঠ (সাব্যস্ত হয়) ; বস্তুত আল্লাহ তা’আলা তোমাদের যাবতীয় কাজকর্মের ব্যাপারেই সম্যক অবগত রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৮৪﴿
﴾ ২:২৮৪ ﴿
لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ فَيَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢٨٤﴾
আসমান যমীনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ তা’আলার জন্যে, তোমরা তোমাদের মনের ভেতরে যা কিছু আছে তা যদি প্রকাশ করো কিংবা তা গোপন করো, আল্লাহ তা’আলা (একদিন) তোমাদের কাছ থেকে এর (পুরোপুরিই) হিসাব গ্রহণ করবেন; (এরপর) তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে মাফ করে দেবেন, (আবার) যাকে ইচ্ছা তাকে তিনি শাস্তি দেবেন; আল্লাহ তা’আলা সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৮৫﴿
﴾ ২:২৮৫ ﴿
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴿٢٨٥﴾
(আল্লাহর) রসূল সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছে যা তার উপর তার মালিকের পক্ষ থেকে নাযিল করা হয়েছে, আর যারা (সে রসূলের উপর) বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারাও (সে একই বিষয়ের উপর) ঈমান এনেছে; এরা সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাবসমূহের উপর, তাঁর রসূলদের উপর। (তারা বলে, ) আমরা তাঁর (পাঠানো) নবী রসূলদের কারো মাঝে কোনো রকম পার্থক্য করি ন; আর তারা বলে, আমরা তো (আল্লাহর নির্দেশ) শুনেছি এবং (তা) মেনেও নিয়েছি, হে আমাদের মালিক, (আমরা) তোমার ক্ষমা চাই এবং (আমরা জানি, ) আমাদের (একদিন) তোমার কাছেই ফিরে যেতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২:২৮৬﴿
﴾ ২:২৮৬ ﴿
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٨٦﴾
আল্লাহ তা’আলা কখনো কাউকেই তার শক্তি সামর্থের বাইরে কোনো কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না; সে ব্যক্তির জন্যে ততোটুকুই বিনিময় রয়েছে যতোটুকু সে (এ দুনিয়ায়) সম্পন্ন করবে, আবার সে যতোটুকু (মন্দ দুনিয়ায়) অর্জন করেছে তার উপর তার (ততোটুকু শাস্তিই) পতিত হবে; (অতএব, হে মু’মিন ব্যক্তিরা, তোমরা এই বলে দোয়া করো, ) হে আমাদের মালিক, যদি আমরা কিছু ভুলে যাই, (কোথাও) যদি আমরা কোনো ভুল করে বসি, তার জন্যে তুমি আমাদের পাকড়াও করো না, হে আমাদের মালিক, আমাদের পূর্ববর্তী (জাতিদের) উপর যে ধরনের বোঝা তুমি চাপিয়েছিলে তা আমাদের উপর চাপিয়ো না, হে আমাদের মালিক, যে বোঝা বইবার সামর্থ আমাদের নেই তা তুমি আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ো না, তুমি আমাদের উপর মেহেরবানী করো। তুমি আমাদের মাফ করে দাও। আমাদের উপর তুমি দয়া করো। তুমিই আমাদের (একমাত্র আশ্রয়দাতা) বন্ধু, অতএব কাফেরদের মোকাবেলায় তুমি আমাদের সাহায্য করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]