🕋
طه
(২০) ত্ব-হা
১৩৫
﴾২০:১﴿
﴾ ২০:১ ﴿
طه ﴿١﴾
ত্বা-হা,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২﴿
﴾ ২০:২ ﴿
مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى ﴿٢﴾
(হে নবী, ) আমি (এ) কোরআন এ জন্যে নাযিল করিনি যে, তুমি (এর দ্বারা) কষ্ট পাবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩﴿
﴾ ২০:৩ ﴿
إِلَّا تَذْكِرَةً لِمَنْ يَخْشَى ﴿٣﴾
এ (কোরআন) তো হচ্ছে বরং (কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার) একটি (উপায় ও) নসীহত মাত্র সে ব্যক্তির জন্যে, যে (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪﴿
﴾ ২০:৪ ﴿
تَنْزِيلًا مِمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَاوَاتِ الْعُلَا ﴿٤﴾
(এ কিতাব) তাঁর কাছ থেকে অবতীর্ণ, যিনি যমীন ও সমুচ্চ আকাশসমুহ সৃষ্টি করেছেন;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫﴿
﴾ ২০:৫ ﴿
الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴿٥﴾
দয়াময় আল্লাহ তায়ালা মহান আরশে সমাসীন হলেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬﴿
﴾ ২০:৬ ﴿
لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى ﴿٦﴾
আসমানসমুহ ও যমীনে যা কিছু আছে, যা কিছু আছে এ দুয়ের মাঝখানে এবং যমীনের অনন্ত গভীরে, তা (সবই) তাঁর জন্যে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭﴿
﴾ ২০:৭ ﴿
وَإِنْ تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى ﴿٧﴾
(হে মানুষ, ) তুমি যদি জোরে কথা বলো তা (যেমন) তিনি শুনতে পান, (তেমনি) গোপন কথা (বরং তার চাইতেও গোপন যা) তাও তিনি জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮﴿
﴾ ২০:৮ ﴿
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى ﴿٨﴾
আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, যাবতীয় উত্তম নাম তাঁর জন্যেই (নিবেদিত) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯﴿
﴾ ২০:৯ ﴿
وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ مُوسَى ﴿٩﴾
(হে নবী, ) তোমার কাছে কি মুসার কাহিনী পৌঁছেছে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০﴿
﴾ ২০:১০ ﴿
إِذْ رَأَى نَارًا فَقَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَعَلِّي آتِيكُمْ مِنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى ﴿١٠﴾
(বিশেষ করে সে ঘটনাটি) যখন সে (দুরে) আগুন দেখলো এবং তার পরিবারের লোকজনদের বললো, তোমরা (এখানে অপেক্ষায়) থাকো, আমি সত্যিই কিছু আগুন দেখতে পেয়েছি, সম্ভবত তা থেকে কিছু আগুনের টুকরো আমি তোমাদের কাছে নিয়ে আসতে পারবো, কিংবা তা দ্বারা আমি (পথঘাট সংক্রান্ত) কোনো নির্দেশ পেয়ে যাবো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১﴿
﴾ ২০:১১ ﴿
فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ يَا مُوسَى ﴿١١﴾
অতপর সে যখন সে স্থানে পৌঁছুলো তখন তাকে আহ্বান করে বলা হলো, হে মুসা;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২﴿
﴾ ২০:১২ ﴿
إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ إِنَّكَ بِالْوَادِي الْمُقَدَّسِ طُوًى ﴿١٢﴾
নিশ্চয়ই আমি, আমিই হচ্ছি তোমার মালিক, তুমি তোমার জুতো দুটো খুলো ফেলো, কেননা তুমি এখন পবিত্র তুয়া' উপত্যকায় (দাঁড়িয়ে) আছো;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৩﴿
﴾ ২০:১৩ ﴿
وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَى ﴿١٣﴾
আমি তোমাকে (নবুওতের জন্যে) বাছাই করেছি, অতএব যা কিছু তোমাকে এখন ওহীর মাধ্যমে বলা হচ্ছে তা মনোযোগের সাথে শুনো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৪﴿
﴾ ২০:১৪ ﴿
إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي ﴿١٤﴾
আমিই হচ্ছি আল্লাহ তায়ালা, আমি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই, অতএব তুমি শুধু আমারই ইবাদাত করো এবং আমার স্মরণের জন্যে নামায প্রতিষ্ঠা করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৫﴿
﴾ ২০:১৫ ﴿
إِنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى ﴿١٥﴾
কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি (এক সুনির্দষ্টি সময় পর্যন্ত) তা গোপন করে রাখতে চাই, যাতে করে প্রতিটি ব্যক্তিকে কেয়ামতের দিন নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া যায় ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৬﴿
﴾ ২০:১৬ ﴿
فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَنْ لَا يُؤْمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَتَرْدَى ﴿١٦﴾
যে ব্যক্তি কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাস করে না এবং যে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে ওতে বিশ্বাস স্থাপন থেকে কখনো বাধা দিতে না পারে, (এমনটি করলে) অতপর তুমি নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৭﴿
﴾ ২০:১৭ ﴿
وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَى ﴿١٧﴾
হে মুসা (বলো তো) , তোমার ডান হাতে ওটা কি?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৮﴿
﴾ ২০:১৮ ﴿
قَالَ هِيَ عَصَايَ أَتَوَكَّأُ عَلَيْهَا وَأَهُشُّ بِهَا عَلَى غَنَمِي وَلِيَ فِيهَا مَآرِبُ أُخْرَى ﴿١٨﴾
সে বললো, এটি হচ্ছে আমার (হাতের) লাঠি, আমি (কখনো কখনো) এর উপর ভর দিই, আবার কখনো তা দিয়ে আমি আমার মেষের জন্যে (গাছের পাতা পাড়ি, তা ছাড়াও এর মধ্যে আমার জন্যে আরো অনেক কাজ আছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৯﴿
﴾ ২০:১৯ ﴿
قَالَ أَلْقِهَا يَا مُوسَى ﴿١٩﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে মুসা, তুমি তা (মাটিতে) নিক্ষেপ করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২০﴿
﴾ ২০:২০ ﴿
فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَى ﴿٢٠﴾
অতপর সে তা (মাটিতে) নিক্ষেপ করলো, সাথে সাথেই তা সাপ হয়ে (এদিক ওদিক) ছুটাছুটি করতে লাগলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২১﴿
﴾ ২০:২১ ﴿
قَالَ خُذْهَا وَلَا تَخَفْ سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا الْأُولَى ﴿٢١﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন (হে মুসা) , তুমি একে ধরো, ভয় পেয়ো না। (দেখবে) আমি এখনই তাকে তার আগের আকৃতিতে ফিরিয়ে আনছি।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২২﴿
﴾ ২০:২২ ﴿
وَاضْمُمْ يَدَكَ إِلَى جَنَاحِكَ تَخْرُجُ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ آيَةً أُخْرَى ﴿٢٢﴾
(হে মুসা, এবার) তুমি তোমার হাত তোমার বগলে রাখো, অতপর (দেখবে) কোনো রকম (অসুখজনিত) দোষত্রুটি ছাড়াই তা নির্মল উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে, এ হচ্ছে (আমার) পরবর্তী নিদর্শন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২৩﴿
﴾ ২০:২৩ ﴿
لِنُرِيَكَ مِنْ آيَاتِنَا الْكُبْرَى ﴿٢٣﴾
(এগুলো এ জন্যে দেয়া হলো যেন) আমি তোমাকে আমার (কুদরতের আরো) বড়ো বড়ো নিদর্শন দেখাতে পারি ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২৪﴿
﴾ ২০:২৪ ﴿
اذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى ﴿٢٤﴾
(হাঁ, এবার এগুলো নিয়ে) তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, কেননা সে (নিজেকে মাবুদ দাবী করে মারাত্মক) সীমালংঘন করে ফেলেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২৫﴿
﴾ ২০:২৫ ﴿
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي ﴿٢٥﴾
সে বললো, হে আমার মালিক, তুমি আমার জন্যে আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দাও ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২৬﴿
﴾ ২০:২৬ ﴿
وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي ﴿٢٦﴾
আমার কাজ আমার জন্যে সহজ করে দাও,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২৭﴿
﴾ ২০:২৭ ﴿
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي ﴿٢٧﴾
আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দুর করে দাও,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২৮﴿
﴾ ২০:২৮ ﴿
يَفْقَهُوا قَوْلِي ﴿٢٨﴾
যাতে করে ওরা আমার কথা (ভালো করে বুঝতে পারে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:২৯﴿
﴾ ২০:২৯ ﴿
وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي ﴿٢٩﴾
আমার আপনজনদের মধ্য থেকে একজনকে) আমার সাহায্যকারী বানাও,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩০﴿
﴾ ২০:৩০ ﴿
هَارُونَ أَخِي ﴿٣٠﴾
হারূন হচ্ছে আমার ভাই (তাকেই বরং তুমি আমার সহযোগী বানিয়ে দাও) ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩১﴿
﴾ ২০:৩১ ﴿
اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي ﴿٣١﴾
তার দ্বারা তুমি আমার শক্তি বৃদ্ধি করো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩২﴿
﴾ ২০:৩২ ﴿
وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي ﴿٣٢﴾
তাকে আমার কাজের অংশীদার বানিয়ে দাও,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩৩﴿
﴾ ২০:৩৩ ﴿
كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا ﴿٣٣﴾
যাতে করে আমরা (উভয়ে মিলে) তোমার অনেক পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩৪﴿
﴾ ২০:৩৪ ﴿
وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا ﴿٣٤﴾
তোমাকে বেশী বেশী স্মরণ করতে পারি;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩৫﴿
﴾ ২০:৩৫ ﴿
إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا ﴿٣٥﴾
নিশ্চয়ই তুমি আমাদের (কার্যক্রমের) সম্যক দ্রষ্টা ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩৬﴿
﴾ ২০:৩৬ ﴿
قَالَ قَدْ أُوتِيتَ سُؤْلَكَ يَا مُوسَى ﴿٣٦﴾
তিনি বললেন, হে মুসা, তুমি যা কিছু চেয়েছো তা (সবই) তোমাকে দেয়া হলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩৭﴿
﴾ ২০:৩৭ ﴿
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَيْكَ مَرَّةً أُخْرَى ﴿٣٧﴾
আমি তো এর আগেও (অলৌকিকভাবে তোমার প্রতিপালনের ব্যবস্থা করে) তোমার উপর আরেকবার অনুগ্রহ করেছিলাম,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩৮﴿
﴾ ২০:৩৮ ﴿
إِذْ أَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّكَ مَا يُوحَى ﴿٣٨﴾
যখন আমি তোমার মায়ের কাছে একটি ইংগিত পাঠিয়েছিলাম, (আসলে) সে (বিষয়টি) ইংগিত করে বলে দেয়ার মতো (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয়ই ছিলো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৩৯﴿
﴾ ২০:৩৯ ﴿
أَنِ اقْذِفِيهِ فِي التَّابُوتِ فَاقْذِفِيهِ فِي الْيَمِّ فَلْيُلْقِهِ الْيَمُّ بِالسَّاحِلِ يَأْخُذْهُ عَدُوٌّ لِي وَعَدُوٌّ لَهُ وَأَلْقَيْتُ عَلَيْكَ مَحَبَّةً مِنِّي وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي ﴿٣٩﴾
(সে ইংগিত ছিলো, ) তুমি তাকে (ফেরাউনের লোকদের কাছ থেকে বাঁচানোর জন্যে জন্মের পর একটি) সিন্দুকের ভেতরে রেখে দাও, অতপর তাকে (সিন্দুকসহ) নদীতে ভাসিয়ে দাও, যেন নদী তাকে (ভাসাতে ভাসাতে) তীরে ঠেলে দেয়, (আমি জানি, ) একটু পরই তাকে উঠিয়ে নেবে (এমন এক ব্যক্তি, যে) আমার দুশমন এবং তারও দুশমন; (হে মুসা, ) আমি আমার কাছ থেকে (ফেরাউন ও অন্য মানুষদের মনে) তোমার জন্যে। ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছিলাম, যেন তুমি আমার চোখের সামনেই বড়ো হতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪০﴿
﴾ ২০:৪০ ﴿
إِذْ تَمْشِي أُخْتُكَ فَتَقُولُ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَنْ يَكْفُلُهُ فَرَجَعْنَاكَ إِلَى أُمِّكَ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَقَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّيْنَاكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا فَلَبِثْتَ سِنِينَ فِي أَهْلِ مَدْيَنَ ثُمَّ جِئْتَ عَلَى قَدَرٍ يَامُوسَى ﴿٤٠﴾
যখন তোমার বোন চলতে থাকলো এবং (এখানে এসে ফেরাউনের লোকজনদের) বললো, আমি কি তোমাদের একথা বলে দেবো যে, কে এর লালন পালনের ভার নিতে পারবে (তারা রাযী হয়ে গেলো) । এভাবেই আমি তোমাকে পুনরায় তোমার মায়ের কাছে (তার কোলেই) ফিরিয়ে আনলাম, যাতে করে তার চোখ জুড়িয়ে যায় এবং (তোমাকে হারিয়ে) সে যেন চিন্তাক্লষ্টি না হয়; স্মরণ করো, যখন তুমি একজন মানুষকে হত্যা করলে, তখন আমি (হত্যাজনিত সেই) মানসিক যন্ত্রণা থেকে তোমাকে মুক্তি দিলাম, (এ ছাড়াও) তোমাকে আমি আরো বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছি। অতপর তুমি বেশ কয়েকটি বছর মাদইয়ানবাসীদের মাঝে কাটিয়ে এলে! এরপর হে মুসা, একটা নির্ধারিত সময় পরেই তুমি (আজ) এখানে এসে উপস্থিত হলে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪১﴿
﴾ ২০:৪১ ﴿
وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي ﴿٤١﴾
আমি (এই দীর্ঘ পরীক্ষা দ্বারা) তোমাকে আমার নিজের (কাজের) জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪২﴿
﴾ ২০:৪২ ﴿
اذْهَبْ أَنْتَ وَأَخُوكَ بِآيَاتِي وَلَا تَنِيَا فِي ذِكْرِي ﴿٤٢﴾
আমার নিদর্শনসমুহ নিয়ে তুমি ও তোমার ভাই (এবার ফেরাউনের কাছে) যাও, (তবে) কখনো আমার যেকেরের মাঝে শৈথিল্য প্রদর্শন করো না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪৩﴿
﴾ ২০:৪৩ ﴿
اذْهَبَا إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى ﴿٤٣﴾
তোমরা দু'জনে (অবিলম্বে) ফেরাউনের কাছে চলে যাও, কেননা সে মারাত্মকভাবে সীমালংঘন করেছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪৪﴿
﴾ ২০:৪৪ ﴿
فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى ﴿٤٤﴾
(হেদায়াত পেশ করার সময়) তোমরা তার সাথে নম্র কথা বলবে, হতে পারে সে তোমাদের উপদেশ কবুল করবে অথবা সে (আমায়) ভয় করবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪৫﴿
﴾ ২০:৪৫ ﴿
قَالَا رَبَّنَا إِنَّنَا نَخَافُ أَنْ يَفْرُطَ عَلَيْنَا أَوْ أَنْ يَطْغَى ﴿٤٥﴾
তারা বললো, হে আমাদের মালিক, আমরা ভয় করছি সে আমাদের সাথে বাড়াবাড়ি করবে, কিংবা সে (আরো বেশী) সীমালংঘন করে বসবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪৬﴿
﴾ ২০:৪৬ ﴿
قَالَ لَا تَخَافَا إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى ﴿٤٦﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন, তোমরা (কোনোরকম) ভয় করো না, আমি তো তোমাদের সংগেই আছি, আমি (সব কিছু) শুনি, (সব কিছু) দেখি ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪৭﴿
﴾ ২০:৪৭ ﴿
فَأْتِيَاهُ فَقُولَا إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا تُعَذِّبْهُمْ قَدْ جِئْنَاكَ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكَ وَالسَّلَامُ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى ﴿٤٧﴾
সুতরাং তোমরা উভয়ই তার কাছে যাও এবং বলো, আমরা তোমার মালিকের পাঠানো দুজন রসুল, অতএব (এ নিপীড়িত) বনী ইসরাঈলের লোকদের তুমি আমাদের সাথে যাবার (অনুমতি) দাও, তুমি তাদের (আর) কষ্ট দিয়ো না; আমরা তোমার কাছে তোমার মালিকের কাছ থেকে (নবুওতের) নিদর্শন নিয়ে এসেছি; এবং যারা এই হেদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের জন্যে (রয়েছে অনাবিল) শাস্তি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪৮﴿
﴾ ২০:৪৮ ﴿
إِنَّا قَدْ أُوحِيَ إِلَيْنَا أَنَّ الْعَذَابَ عَلَى مَنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى ﴿٤٨﴾
আমাদের উপর (এ মর্মে) ওহী নাযিল করা হয়েছে, যে ব্যক্তি (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করবে এবং যে ব্যক্তি (তার আদেশ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার উপর আল্লাহর আযাব (পড়বে) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৪৯﴿
﴾ ২০:৪৯ ﴿
قَالَ فَمَنْ رَبُّكُمَا يَامُوسَى ﴿٤٩﴾
(এসব শোনার পর) ফেরাউন বললো, হে মুসা (বলো) , কে (আবার) তোমাদের দু'জনের মালিক?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫০﴿
﴾ ২০:৫০ ﴿
قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَى كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَى ﴿٥٠﴾
সে বললো, আমাদের মালিক তিনি, যিনি প্রতিটি জিনিসকে তার (যথাযোগ্য) আকৃতি দান করেছেন, অতপর (সবাইকে তাদের চলার পথ) বাতলে দিয়েছেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫১﴿
﴾ ২০:৫১ ﴿
قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُونِ الْأُولَى ﴿٥١﴾
সে বললো, তাহলে আগের লোকদের অবস্থা কি হবে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫২﴿
﴾ ২০:৫২ ﴿
قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لَا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنْسَى ﴿٥٢﴾
সে বললো, সে বিষয়ের জ্ঞান আমার মালিকের কাছে (সংরক্ষিত বিশেষ) গ্রন্থে মজুদ আছে, আমার মালিক কখনো ভুল পথে যান না তিনি (কারো) কোনো কথা ভুলেও যান না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫৩﴿
﴾ ২০:৫৩ ﴿
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَسَلَكَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِنْ نَبَاتٍ شَتَّى ﴿٥٣﴾
তিনি এমন (এক সত্তা) , যিনি তোমাদের জন্যে যমীনকে বিছানা বানিয়ে দিয়েছেন, ওতে তোমাদের (চলার) জন্যে বহু ধরনের পথঘাটের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, তিনিই আকাশ থেকে বৃষ্টির পানি প্রেরণ করেন; অতপর তা দিয়ে আমি (যমীন থেকে) বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ বের করে আনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫৪﴿
﴾ ২০:৫৪ ﴿
كُلُوا وَارْعَوْا أَنْعَامَكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِأُولِي النُّهَى ﴿٥٤﴾
তোমরা (তা) নিজেরা খাও এবং (তাতে) তোমাদের পশুদেরও চরাও; অবশ্যই এর (মাঝে) বিবেকসম্পন্ন মানুষদের জন্যে (শিক্ষার) অনেক নিদর্শন রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫৫﴿
﴾ ২০:৫৫ ﴿
مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى ﴿٥٥﴾
(এই যে যমীন) তা থেকেই আমি তোমাদের পয়দা করেছি, তাতেই আমি তোমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবো এবং পরিশেষে থেকেই আমি তোমাদের দ্বিতীয় বার বের করে আনবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫৬﴿
﴾ ২০:৫৬ ﴿
وَلَقَدْ أَرَيْنَاهُ آيَاتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَأَبَى ﴿٥٦﴾
(ফেরাউনের অবস্থা ছিলো, আমি তাকে আমার যাবতীয় নিদর্শন দেখিয়েছি, কিন্তু (এ সত্ত্বেও) সে (একে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং অবিশ্বাস করেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫৭﴿
﴾ ২০:৫৭ ﴿
قَالَ أَجِئْتَنَا لِتُخْرِجَنَا مِنْ أَرْضِنَا بِسِحْرِكَ يَامُوسَى ﴿٥٧﴾
(এক পর্যায়ে ফেরাউন বললো, ) হে মুসা, (তুমি কি নবুওতের দাবী নিয়ে) এ জন্যে আমাদের কাছে এসেছো যে, তুমি তোমার যাদু (ও তেলেসমাতি) দিয়ে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫৮﴿
﴾ ২০:৫৮ ﴿
فَلَنَأْتِيَنَّكَ بِسِحْرٍ مِثْلِهِ فَاجْعَلْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ مَوْعِدًا لَا نُخْلِفُهُ نَحْنُ وَلَا أَنْتَ مَكَانًا سُوًى ﴿٥٨﴾
(হাঁ, ) আমরাও তোমার সামনে অতপর অনুরূপ যাদু এনে হাযির করবো, অতএব এসো তোমার এবং আমাদের মাঝে একটি (মোকাবেলার) ওয়াদা ঠিক করে নিই, যার আমরাও খেলাপ করবো না, তুমিও করবে না, (এটা হবে) খোলা ময়দানে (যেন সবাই তা দেখতে পায়) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৫৯﴿
﴾ ২০:৫৯ ﴿
قَالَ مَوْعِدُكُمْ يَوْمُ الزِّينَةِ وَأَنْ يُحْشَرَ النَّاسُ ضُحًى ﴿٥٩﴾
সে বললো, হাঁ তোমাদের সাথে (প্রতিযোগিতার) ওয়াদা হবে (তোমাদের) মেলা বসার দিন, সেদিন মধ্য দিনেই যেন লোকজন এসে জমা হয়ে যায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬০﴿
﴾ ২০:৬০ ﴿
فَتَوَلَّى فِرْعَوْنُ فَجَمَعَ كَيْدَهُ ثُمَّ أَتَى ﴿٦٠﴾
(অতপর) ফেরাউন উঠলো এবং (কথানুযায়ী) যাদুর (সামানপত্র) জমা করলো, তারপর (মোকাবেলা দেখার জন্যে) সে (ময়দানে) এসে হাযির হলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬১﴿
﴾ ২০:৬১ ﴿
قَالَ لَهُمْ مُوسَى وَيْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا فَيُسْحِتَكُمْ بِعَذَابٍ وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرَى ﴿٦١﴾
মুসা তাদের (লক্ষ্য করে) বললো, দুর্ভোগ হোক তোমাদের, তোমরা কখনো আল্লাহ তায়ালার উপর মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করো না, তাহলে তিনি তোমাদের আযাব দিয়ে সমুলে ধ্বংস করে দেবেন, (আর) যে ব্যক্তি মিথ্যা বানায় সে ব্যর্থ হয়ে যায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬২﴿
﴾ ২০:৬২ ﴿
فَتَنَازَعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ وَأَسَرُّوا النَّجْوَى ﴿٦٢﴾
(মুসার কথা শুনে) তারা নিজেদের পরিকল্পনার ব্যাপারে একে অন্যের সাথে মতবিরোধ করলো, কিন্তু তারা গোপন সলাপরামর্শ গোপনই রাখলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬৩﴿
﴾ ২০:৬৩ ﴿
قَالُوا إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ يُرِيدَانِ أَنْ يُخْرِجَاكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيقَتِكُمُ الْمُثْلَى ﴿٦٣﴾
(ফেরাউনের) লোকজন বললো, অবশ্যই এ দুজন মানুষ হচ্ছে যাদুকর, তারা যাদুর (খেলা) দিয়ে তোমাদের দেশ থেকে তোমাদের বের করে দিতে এবং তোমাদের এ উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থার অস্তিত্ব খতম করে দিতে চায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬৪﴿
﴾ ২০:৬৪ ﴿
فَأَجْمِعُوا كَيْدَكُمْ ثُمَّ ائْتُوا صَفًّا وَقَدْ أَفْلَحَ الْيَوْمَ مَنِ اسْتَعْلَى ﴿٦٤﴾
অতএব (হে যাদুকররা) , তোমরা তোমাদের সব যাদু একত্রিত করো, তারপর সারিবদ্ধ হয়ে (যাদু দেখানোর জন্যে) উপস্থিত হয়ে যাও, আজ যে (এ মোকাবেলায়) জয়ী হবে সে-ই হবে সফলকাম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬৫﴿
﴾ ২০:৬৫ ﴿
قَالُوا يَامُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَى ﴿٦٥﴾
তারা বললো, হে মুসা (বলো, আগে) তুমি (তোমার লাঠি) নিক্ষেপ করবে না আমরা নিক্ষেপ করবো?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬৬﴿
﴾ ২০:৬৬ ﴿
قَالَ بَلْ أَلْقُوا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى ﴿٦٦﴾
সে বললো, তোমরাই বরং (আগে) নিক্ষেপ করো, যাদুর প্রভাবে তার কাছে মনে হলো তাদের (যাদুর) রশি ও লাঠিগুলো বুঝি এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬৭﴿
﴾ ২০:৬৭ ﴿
فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى ﴿٦٧﴾
(এতে) মুসা তার অন্তরে কিছুটা ভয় (ও শংকা) অনুভব করলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬৮﴿
﴾ ২০:৬৮ ﴿
قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى ﴿٦٨﴾
আমি বললাম (হে মুসা) , তুমি ভয় পেয়ো না, (শেষতক) অবশ্যই তুমি বিজয়ী হবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৬৯﴿
﴾ ২০:৬৯ ﴿
وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى ﴿٦٩﴾
(হে মুসা, ) তোমার ডান হাতে যে (লাঠি) আছে তা (ময়দানে) নিক্ষেপ করো, (দেখবে এ যাবত) যা খেলা ওরা বানিয়েছে এটা সেগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে, (মুলত) ওরা যা কিছুই করেছে তা তো (ছিলো) নেহায়াত যাদুকরের কৌশল; আর যাদুকর কখনো কামিয়াব হয় না যে রাসত্মা দিয়েই সে আসুক না কেন!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭০﴿
﴾ ২০:৭০ ﴿
فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ هَارُونَ وَمُوسَى ﴿٧٠﴾
(মুসার লাঠি বিশাল অজগর হয়ে যাদুকরদের সাপগুলোকে গিলে ফেললো, এটা দেখে) অতপর যাদুকররা সবাই সাজদাবনত হয়ে গেলো এবং তারা বললো, আমরা হারূন ও মুসার মালিকের উপর ঈমান আনলাম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭১﴿
﴾ ২০:৭১ ﴿
قَالَ آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ فَلَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلَافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ وَلَتَعْلَمُنَّ أَيُّنَا أَشَدُّ عَذَابًا وَأَبْقَى ﴿٧١﴾
সে (ফেরাউন) বললো, আমি তোমাদের (এ ধরনের) কোনো অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার উপর ঈমান আনলে! (আমি দেখতে পাচ্ছি) সে-ই হচ্ছে (আসলে) তোমাদের (প্রধান) গুরু, যে তোমাদের যাদু শিক্ষা দিয়েছে (দেখো এবার আমি কি করি) , আমি তোমাদের হাত পা উল্টো দিক থেকে কেটে ফেলবো, তদুপরি আমি তোমাদের খেজুর গাছের কান্ডে শূলবদ্ধি করবো, তোমরা অচিরেই জানতে পারবে আমাদের (উভয়ের মধ্যে কার শাস্তি কঠোরতর ও অধিক স্থায়ী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭২﴿
﴾ ২০:৭২ ﴿
قَالُوا لَنْ نُؤْثِرَكَ عَلَى مَا جَاءَنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالَّذِي فَطَرَنَا فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ﴿٧٢﴾
তারা বললো, আমাদের কাছে যে স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে এবং যিনি আমাদের (এ দুনিয়ায়) পয়দা করেছেন, তাঁর উপর আমরা কখনোই তোমাকে প্রাধান্য দেবো না, সুতরাং তুমি যা করতে চাও তাই করো; তুমি (বড়ো জোর) এ পার্থিব জীবন সম্পর্কেই কোনো সদ্ধিান্ত গ্রহণ করতে পারবে;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭৩﴿
﴾ ২০:৭৩ ﴿
إِنَّا آمَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغْفِرَ لَنَا خَطَايَانَا وَمَا أَكْرَهْتَنَا عَلَيْهِ مِنَ السِّحْرِ وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَى ﴿٧٣﴾
আমরা তো আমাদের মালিকের উপর ঈমান এনেছি, যাতে করে তিনি আমাদের গুনাহসমুহ(বিশেষ করে) তুমি যে আমাদের যাদু করতে বাধ্য করেছো তা যেন মাফ করে দেন; (আমরা বুঝতে পেরেছি, আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন শ্রেষ্ঠ, তিনিই হচ্ছেন অধিকতরো স্থায়ী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭৪﴿
﴾ ২০:৭৪ ﴿
إِنَّهُ مَنْ يَأْتِ رَبَّهُ مُجْرِمًا فَإِنَّ لَهُ جَهَنَّمَ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَا ﴿٧٤﴾
যে ব্যক্তি কোনো অপরাধে অপরাধী হয়ে তার মালিকের দরবারে হাযির হবে, তার জন্যে থাকবে জাহান্নাম (আর জাহান্নাম এমন এক জায়গা) ; যেখানে (মানুষ মরতে চাইলেও) মরবে না, (আবার বাঁচার মতো করে) বাঁচবেও না!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭৫﴿
﴾ ২০:৭৫ ﴿
وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَا ﴿٧٥﴾
অপর দিকে যে ব্যক্তিই তার কাছে মু’মিন হয়ে কোনো নেক কাজ নিয়ে হাযির হবে তারাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের জন্যে রয়েছে সমুচ্চ মর্যাদা,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭৬﴿
﴾ ২০:৭৬ ﴿
جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ مَنْ تَزَكَّى ﴿٧٦﴾
এমন এক স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল; এ হচ্ছে সে ব্যক্তির পুরস্কার যে (স্বীয় জীবনকে) পবিত্র রেখেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭৭﴿
﴾ ২০:৭৭ ﴿
وَلَقَدْ أَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِي فَاضْرِبْ لَهُمْ طَرِيقًا فِي الْبَحْرِ يَبَسًا لَا تَخَافُ دَرَكًا وَلَا تَخْشَى ﴿٧٧﴾
আমি মুসার কাছে এ মর্মে ওহী পাঠিয়েছি, তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের বেলায়ই এ দেশ ছেড়ে চলে যাও এবং (আমার আদেশে) তুমি ওদের জন্যে সমুদ্রের মধ্যে একটি শুষ্ক সড়ক বানিয়ে নাও, পেছন থেকে কেউ তোমাকে ধাওয়া করবে এ আশংকা তুমি কখনোই করো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭৮﴿
﴾ ২০:৭৮ ﴿
فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ بِجُنُودِهِ فَغَشِيَهُمْ مِنَ الْيَمِّ مَا غَشِيَهُمْ ﴿٧٨﴾
(মুসা তার জাতিকে নিয়ে সাগর পানে বেরিয়ে গেলো, ) অতপর ফেরাউন তার সৈন্য সামন্তসহ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করলো, তারপর সাগরের (অথৈ) পানি তাদের ডুবিয়ে দিলো, ঠিক যেমনটি তাদের ডুবিয়ে দেয়া উচিত ছিলো;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৭৯﴿
﴾ ২০:৭৯ ﴿
وَأَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَهُ وَمَا هَدَى ﴿٧٩﴾
(মুলত) ফেরাউন তার জাতিকে গোমরাহ করে দিয়েছে, সে কখনোই তাদের সঠিক পথ দেখায়নি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮০﴿
﴾ ২০:৮০ ﴿
يَابَنِي إِسْرَائِيلَ قَدْ أَنْجَيْنَاكُمْ مِنْ عَدُوِّكُمْ وَوَاعَدْنَاكُمْ جَانِبَ الطُّورِ الْأَيْمَنَ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى ﴿٨٠﴾
হে বনী ইসরাঈল (চেয়ে দেখো) , আমি (কিভাবে) তোমাদের (প্রধান) শত্রু (ফেরাউন) থেকে তোমাদের মুক্তি দিয়েছি এবং আমি তোমাদের (নবীর) কাছে তূর (পাহাড়ের) ডান দিকের যে (স্থানে তাওরাত গ্রন্থ দানের) ওয়াদা করেছিলাম (তাও পুরণ করেছি, ) তোমাদের জন্যে আমি (আরো) নাযিল করেছি মান' এবং সালওয়া'(নামের কিছু পবিত্র খাবার) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮১﴿
﴾ ২০:৮১ ﴿
كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَلَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي وَمَنْ يَحْلِلْ عَلَيْهِ غَضَبِي فَقَدْ هَوَى ﴿٨١﴾
তোমাদের আমি যা পবিত্র খাবার দান করেছি তা খাও এবং তাতে বাড়াবাড়ি করো না, বাড়াবাড়ি করলে তোমাদের উপর আমার গযব অবধারিত হয়ে যাবে, আর যার উপর আমার গযব অবধারিত হবে সে তো ধ্বংসই হয়ে যাবে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮২﴿
﴾ ২০:৮২ ﴿
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى ﴿٨٢﴾
আমি অবশ্যই তার প্রতি ক্ষমাশীল যে ব্যক্তি তাওবা করলো, ঈমান আনলো, নেক কাজ করলো, অতপর হেদায়াতের পথে থাকলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮৩﴿
﴾ ২০:৮৩ ﴿
وَمَا أَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ يَامُوسَى ﴿٨٣﴾
(মুসা এখানে আসার পর আমি তাকে বললাম, ) হে মুসা, কোন জিনিস তোমার জাতির লোকদের কাছ থেকে (এখানে আসার জন্যে) তোমাকে তাড়াতাড়ি করালো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮৪﴿
﴾ ২০:৮৪ ﴿
قَالَ هُمْ أُولَاءِ عَلَى أَثَرِي وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَى ﴿٨٤﴾
(সে বললো, না) তারা তো আমার পেছনেই রয়েছে, আমি তোমার কাছে আসতে তাড়াতাড়ি করলাম যাতে করে হে মালিক, তুমি আমার উপর সন্তুষ্ট হও,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮৫﴿
﴾ ২০:৮৫ ﴿
قَالَ فَإِنَّا قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِنْ بَعْدِكَ وَأَضَلَّهُمُ السَّامِرِيُّ ﴿٨٥﴾
তিনি বললেন, তোমার (চলে আসার) পর আমি তোমার জাতিকে (আরেক) পরীক্ষায় ফেলেছি, সামেরী' (নামের এক ব্যক্তি) তাদের গোমরাহ করে দিয়েছিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮৬﴿
﴾ ২০:৮৬ ﴿
فَرَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفًا قَالَ يَاقَوْمِ أَلَمْ يَعِدْكُمْ رَبُّكُمْ وَعْدًا حَسَنًا أَفَطَالَ عَلَيْكُمُ الْعَهْدُ أَمْ أَرَدْتُمْ أَنْ يَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَأَخْلَفْتُمْ مَوْعِدِي ﴿٨٦﴾
অতপর মুসা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে তার জাতির কাছে ফিরে এলো, (এসে তাদের) সে বললো, হে আমার জাতি (এ তোমরা কি করলে) , তোমাদের মালিক কি তোমাদের একটি উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি যে, তোমাদের তিনি এ যমীনের কর্তৃত্ব সমর্পণ করবেন) , তবে কি আল্লাহ তায়ালার প্রতিশ্রুতি(র সময়') টি তোমাদের কাছে খুব দীর্ঘ মনে হয়েছিলো (তোমরা আর অপেক্ষা করতে পারলে না) , কিংবা তোমরা এটাই চেয়েছো, তোমাদের উপর তোমাদের মালিকের গযব অবধারিত হয়ে পড়ুক, অতপর তোমরা আমার ওয়াদা ভংগ করে ফেললে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮৭﴿
﴾ ২০:৮৭ ﴿
قَالُوا مَا أَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا وَلَكِنَّا حُمِّلْنَا أَوْزَارًا مِنْ زِينَةِ الْقَوْمِ فَقَذَفْنَاهَا فَكَذَلِكَ أَلْقَى السَّامِرِيُّ ﴿٨٧﴾
তারা বললো (হে মুসা) , আমরা তোমার প্রতিশ্রুতি নিজেদের ইচ্ছায় ভংগ করিনি (আসলে যা ঘটেছে তা ছিলো) , জাতির (মানুষদের) অলংকারপত্রের বোঝা আমাদের উপর চাপানো হয়েছিলো, আমরা তা (বইতে না পেরে আগুনে) নিক্ষেপ করে দেই (এ ছিলো আমাদের অপরাধ) , এভাবেই সামেরী (আমাদের প্রতারণার জালে) নিক্ষেপ করলো;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮৮﴿
﴾ ২০:৮৮ ﴿
فَأَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ فَقَالُوا هَذَا إِلَهُكُمْ وَإِلَهُ مُوسَى فَنَسِيَ ﴿٨٨﴾
তারপর সে (অলংকার দিয়ে) তাদের জন্যে একটি বাছুর বের করে আনলো, (মুলত) তার (ছিলো) একটি (নিষপ্রাণ) অবয়ব, তাতে গরুর (মতো) শব্দ ছিলো (মাত্র) , তারা (এটুকু দেখেই) বলতে লাগলো, এ হচ্ছে। তোমাদের মাবুদ, (এটি) মুসারও মাবুদ, কিন্তু মুসা (এর কথা) ভুলে (আরেক মাবুদের সন্ধানে তূর' পাহাড়ে চলে) গেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৮৯﴿
﴾ ২০:৮৯ ﴿
أَفَلَا يَرَوْنَ أَلَّا يَرْجِعُ إِلَيْهِمْ قَوْلًا وَلَا يَمْلِكُ لَهُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا ﴿٨٩﴾
(ধিক তাদের বুদ্ধির উপর, ) তারা কি দেখেনা, ওটা তাদের কথার কোনো উত্তর দেয় না, না ওটা তাদের কোনো রকম ক্ষতি কিংবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯০﴿
﴾ ২০:৯০ ﴿
وَلَقَدْ قَالَ لَهُمْ هَارُونُ مِنْ قَبْلُ يَاقَوْمِ إِنَّمَا فُتِنْتُمْ بِهِ وَإِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمَنُ فَاتَّبِعُونِي وَأَطِيعُوا أَمْرِي ﴿٩٠﴾
(মুসা তার জাতির কাছে ফিরে আসার) আগেই হারূন তাদের বলেছিলো, হে আমার জাতি, এ (গো-বাছুর) দ্বারা তোমাদের (ঈমানেরই) পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে, তোমাদের মালিক তো হচ্ছেন দয়াময় আল্লাহ তায়ালা, তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার আদেশ মেনে চলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯১﴿
﴾ ২০:৯১ ﴿
قَالُوا لَنْ نَبْرَحَ عَلَيْهِ عَاكِفِينَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى ﴿٩١﴾
ওরা বললো, যতোক্ষণ পর্যন্ত মুসা আমাদের কাছে ফিরে না আসবে আমরা এর (পুজা) থেকে বিরত হবো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯২﴿
﴾ ২০:৯২ ﴿
قَالَ يَاهَارُونُ مَا مَنَعَكَ إِذْ رَأَيْتَهُمْ ضَلُّوا ﴿٩٢﴾
(মুসা এসে এসব না-ফরমানী কাজ দেখলো, ) সে বললো, হে হারূন, তুমি যখন দেখলে ওরা গোমরাহ হয়ে গেছে, তখন তোমাকে কোন জিনিস বিরত রেখেছিলো
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯৩﴿
﴾ ২০:৯৩ ﴿
أَلَّا تَتَّبِعَنِي أَفَعَصَيْتَ أَمْرِي ﴿٩٣﴾
যে, তুমি আমার কথার অনুসরণ করলে না! তুমি কি আমার আদেশ (তাহলে) অমান্যই করলে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯৪﴿
﴾ ২০:৯৪ ﴿
قَالَ يَاابْنَ أُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي إِنِّي خَشِيتُ أَنْ تَقُولَ فَرَّقْتَ بَيْنَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَمْ تَرْقُبْ قَوْلِي ﴿٩٤﴾
সে বললো, হে আমার মায়ের ছেলে, তুমি আমার দাড়ি ও মাথার (চুল) ধরো না, আমি (এমনি একটি) আশংকা করেছিলাম, তুমি (ফিরে এসে হয়তো) বলবে, তুমি বনী ইসরাঈলদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং তুমি আমার কথা পালনে যত্ন নাওনি।'
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯৫﴿
﴾ ২০:৯৫ ﴿
قَالَ فَمَا خَطْبُكَ يَاسَامِرِيُّ ﴿٩٥﴾
সে বললো হে সামেরী (বলো) তোমার ব্যাপারটা কি (হয়েছিলো?)
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯৬﴿
﴾ ২০:৯৬ ﴿
قَالَ بَصُرْتُ بِمَا لَمْ يَبْصُرُوا بِهِ فَقَبَضْتُ قَبْضَةً مِنْ أَثَرِ الرَّسُولِ فَنَبَذْتُهَا وَكَذَلِكَ سَوَّلَتْ لِي نَفْسِي ﴿٩٦﴾
সে বললো, আসলে আমি যা দেখেছিলাম তা ওরা দেখেনি (ঘটনাটা ছিলো) , আমি আল্লাহর বাণীবাহকের পদচিহ্ন থেকে এক মুঠো (মাটি) নিয়ে নিলাম, অতপর তা ওতে নিক্ষেপ করলাম, আমার মন (কেন জানি) এভাবেই আমাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিয়েছিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯৭﴿
﴾ ২০:৯৭ ﴿
قَالَ فَاذْهَبْ فَإِنَّ لَكَ فِي الْحَيَاةِ أَنْ تَقُولَ لَا مِسَاسَ وَإِنَّ لَكَ مَوْعِدًا لَنْ تُخْلَفَهُ وَانْظُرْ إِلَى إِلَهِكَ الَّذِي ظَلْتَ عَلَيْهِ عَاكِفًا لَنُحَرِّقَنَّهُ ثُمَّ لَنَنْسِفَنَّهُ فِي الْيَمِّ نَسْفًا ﴿٩٧﴾
সে বললো, চলে যাও (আমার সম্মুখ থেকে) , তোমার জীবদ্দশায় তোমার জন্যে এ (শাস্তিই নির্ধারিত) হলো, তুমি বলতে থাকবে- আমাকে কেউ স্পর্শ করো না', এ ছাড়া তোমার জন্যে আরো আছে (পরকালের আযাবের) ওয়াদা, যা কখনো তোমার কাছ থেকে সরে যাবে না, তাকিয়ে দেখো তোমার বানানো মাবুদের প্রতি, যার পুজায় তুমি (এতোদিন) রত ছিলে; আমি ওকে অবশ্যই জ্বালিয়ে দেবো, অতপর তার ছাই বিক্ষিপ্ত করে (সমুদ্রে) নিক্ষেপ করবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯৮﴿
﴾ ২০:৯৮ ﴿
إِنَّمَا إِلَهُكُمُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا ﴿٩٨﴾
(হে মানুষ, ) তোমাদের মাবুদ তো কেবল আল্লাহ তায়ালাই, যিনি ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই; তিনি তাঁর জ্ঞান দিয়ে সব কিছু পরিবষ্টেন করে আছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:৯৯﴿
﴾ ২০:৯৯ ﴿
كَذَلِكَ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ مَا قَدْ سَبَقَ وَقَدْ آتَيْنَاكَ مِنْ لَدُنَّا ذِكْرًا ﴿٩٩﴾
(হে নবী, মুসার) যেসব ঘটনা তোমার আগে ঘটেছে তার সংবাদ আমি এভাবেই তোমাকে শুনিয়ে যাবো, (তা ছাড়া) আমি তোমাকে আমার কাছ থেকে একটি স্মরণিকাও দান করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০০﴿
﴾ ২০:১০০ ﴿
مَنْ أَعْرَضَ عَنْهُ فَإِنَّهُ يَحْمِلُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وِزْرًا ﴿١٠٠﴾
যে কেউই এ (স্মরণিকা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে কেয়ামতের দিন (নিজ কাঁধে) গুনাহের এক ভারী বোঝা বইবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০১﴿
﴾ ২০:১০১ ﴿
خَالِدِينَ فِيهِ وَسَاءَ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حِمْلًا ﴿١٠١﴾
তারা চিরদিন সেখানে থাকবে; কেয়ামতের (কঠিন) দিনে তাদের জন্যে এ বোঝা কতো মন্দ (প্রমাণিত) হবে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০২﴿
﴾ ২০:১০২ ﴿
يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقًا ﴿١٠٢﴾
যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে সেদিন আমি অপরাধীদের এমন অবস্থায় জমা করবো, (ভয়ে) তাদের চোখ নীল (ও দৃষ্টিহীন) থাকবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০৩﴿
﴾ ২০:১০৩ ﴿
يَتَخَافَتُونَ بَيْنَهُمْ إِنْ لَبِثْتُمْ إِلَّا عَشْرًا ﴿١٠٣﴾
তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে থাকবে, তোমরা (দুনিয়ায় বড়ো জোর) দশ দিন অবস্থান করে এসেছো
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০৪﴿
﴾ ২০:১০৪ ﴿
نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُونَ إِذْ يَقُولُ أَمْثَلُهُمْ طَرِيقَةً إِنْ لَبِثْتُمْ إِلَّا يَوْمًا ﴿١٠٤﴾
(আসলে) আমি জানি (সে অবস্থানের সঠিক পরিমাণ নিয়ে) যা কিছু বলছিলো, বিশেষ করে) যখন তাদের মধ্যকার সবচাইতে বিবেকবান ব্যক্তি (যে সৎপথে ছিলো) বলবে, তোমরা তো (দুনিয়ায়) মাত্র একদিন অবস্থান করে এসেছো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০৫﴿
﴾ ২০:১০৫ ﴿
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنْسِفُهَا رَبِّي نَسْفًا ﴿١٠٥﴾
(হে নবী, ) তারা তোমার কাছে (কেয়ামতের সময়) পাহাড়গুলোর অবস্থা (কি হবে) জানতে চাইবে, তুমি তাদের বলো, (সে সময়) আমার মালিক এগুলোকে (টুকরো টুকরো করে) উড়িয়ে দেবেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০৬﴿
﴾ ২০:১০৬ ﴿
فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا ﴿١٠٦﴾
অতপর তাকে তিনি মসৃণ ও সমতল ভূমিতে পরিণত করে ছাড়বেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০৭﴿
﴾ ২০:১০৭ ﴿
لَا تَرَى فِيهَا عِوَجًا وَلَا أَمْتًا ﴿١٠٧﴾
তুমি এতে কোনো রকম অসমতল ও উঁচু নীচু দেখবে না;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০৮﴿
﴾ ২০:১০৮ ﴿
يَوْمَئِذٍ يَتَّبِعُونَ الدَّاعِيَ لَا عِوَجَ لَهُ وَخَشَعَتِ الْأَصْوَاتُ لِلرَّحْمَنِ فَلَا تَسْمَعُ إِلَّا هَمْسًا ﴿١٠٨﴾
সেদিন সব মানুষ একজন আহ্বানকারীর পেছনে চলতে থাকবে, তার জন্যে কোনো বাঁকা পথ থাকবে না (সে চাইলেও অন্য দিকে যেতে পারবে না) , সেদিন দয়াময় আল্লাহ তায়ালার (প্রচন্ড ক্ষমতার) সামনে অন্য সব শব্দই ক্ষীণ হয়ে যাবে, (এ ভয়ংকর পরিস্থিতিতে ভীতবিহ্বল মানুষের পায়ে চলার) মৃদু আওয়ায ছাড়া আর কিছুই তুমি শুনতে পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১০৯﴿
﴾ ২০:১০৯ ﴿
يَوْمَئِذٍ لَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَرَضِيَ لَهُ قَوْلًا ﴿١٠٩﴾
সেদিন পরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালার সামনে কারো কোনো রকম সুপারিশই কাজে আসবে না, অবশ্য যাকে করুণাময় আল্লাহ তায়ালা অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন, তার কথা আলাদা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১০﴿
﴾ ২০:১১০ ﴿
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا ﴿١١٠﴾
তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি সম্যক অবগত আছেন, তারা তা দিয়ে তাঁর বিশাল জ্ঞানকে কোনো দিনই পরিবষ্টেন করতে পারে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১১﴿
﴾ ২০:১১১ ﴿
وَعَنَتِ الْوُجُوهُ لِلْحَيِّ الْقَيُّومِ وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًا ﴿١١١﴾
(সেদিন) মানুষের চেহারাগুলো (সেই) চিরঞ্জীব ও অনাদি সত্তার সামনে অবনত হয়ে যাবে, ব্যর্থ হবে সে ব্যক্তি, যে সেদিন শুধু যুলুমের ভারই বহন করবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১২﴿
﴾ ২০:১১২ ﴿
وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا يَخَافُ ظُلْمًا وَلَا هَضْمًا ﴿١١٢﴾
(অপরদিকে) যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে (দুনিয়ায়) নেক কাজ করেছে, (সেদিন) সে কোনো যুলুমের ভয় করবে না এবং কোনো ক্ষতির ভয়ও না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১৩﴿
﴾ ২০:১১৩ ﴿
وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا ﴿١١٣﴾
এভাবেই আমি কোরআনকে (পরিষ্কার) আরবী (ভাষায়) নযিল করেছি এবং তাতে (মানুষদের পরিণাম সম্পর্কে) সাবধানতা সংক্রান্ত কথাগুলো সবিসত্মার বর্ণনা করেছি, যেন তারা (গোমরাহী থেকে) বেঁচে থাকতে পারে, কিংবা (তাদের মনে) তা তাদের জন্যে কোনো চিন্তা ভাবনার সৃষ্টি করতে পারে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১৪﴿
﴾ ২০:১১৪ ﴿
فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ وَلَا تَعْجَلْ بِالْقُرْآنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا ﴿١١٤﴾
আল্লাহ তায়ালা অতি মহান, তিনিই (সৃষ্টিকুলের) প্রকৃত বাদশাহ (তিনিই কোরআন নাযিল করেছেন, হে নবী) , তোমার কাছে তার ওহী নাযিল পুর্ণ হওয়ার আগে কোরআনের ব্যাপারে কখনো তাড়াহুড়ো করো না, (তবে জ্ঞান বাড়াতে চাইলে) বলো, হে আমার মালিক, আমার জ্ঞান (-ভান্ডার) তুমি বৃদ্ধি করে দাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১৫﴿
﴾ ২০:১১৫ ﴿
وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَى آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا ﴿١١٥﴾
আমি এর আগে আদম (সন্তানের) প্রতি নির্দেশ দান করেছিলাম, কিন্তু সে (এসব কথা) ভুলে গেছে, (আসলে) আমি (কখনো) সে ব্যাপারে তাকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ পাইনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১৬﴿
﴾ ২০:১১৬ ﴿
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى ﴿١١٦﴾
আমি ফেরেশতাদের (যখন) বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সাজদা করো, তখন তারা (সাথে সাথেই) সাজদা করলো, কিন্তু ইবলীস, (সে) অস্বীকার করলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১৭﴿
﴾ ২০:১১৭ ﴿
فَقُلْنَا يَاآدَمُ إِنَّ هَذَا عَدُوٌّ لَكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَى ﴿١١٧﴾
আমি আদমকে বললাম, এ (শয়তান) হচ্ছে তোমার ও তোমার (জীবন) সাথীর দুশমন; সুতরাং (দেখো) এমন যেন না হয় যে, সে তোমাদের উভয়কেই জান্নাত থেকে বের করে দেবে এবং (এর ফলে) তুমি দারুণ দুঃখ কষ্টে পড়ে যাবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১৮﴿
﴾ ২০:১১৮ ﴿
إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَى ﴿١١٨﴾
(অথচ) এখানে তুমি কখনো ক্ষুধার্ত হও না, কখনো পোশাকবিহীনও হও না!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১১৯﴿
﴾ ২০:১১৯ ﴿
وَأَنَّكَ لَا تَظْمَأُ فِيهَا وَلَا تَضْحَى ﴿١١٩﴾
তুমি (কখনো) এখানে পিপাসার্ত হও না, কখনো রোদেও কষ্ট পাও না!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২০﴿
﴾ ২০:১২০ ﴿
فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ قَالَ يَاآدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَى شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَا يَبْلَى ﴿١٢٠﴾
(কিন্তু এতো সাবধান করা সত্ত্বেও) অতপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিলো; সে (তাকে) বললো, হে আদম, আমি কি তোমাকে অনন্ত জীবনদায়িনী একটি গাছের কথা বলবো (যার ফল খেলে তুমি এখানে চিরজীবন থাকতে পারবে) এবং বলবো এমন রাজত্বের কথা, যার কখনো পতন হবে না!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২১﴿
﴾ ২০:১২১ ﴿
فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى ﴿١٢١﴾
অতপর তারা উভয়ে ওই (নিষদ্ধি গাছের) ফল খেলো, সাথে সাথেই তাদের শরীরের লজ্জাস্থানসমুহ তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং তারা (লজ্জায় তাড়াতাড়ি করে) জান্নাতের (বিভিন্ন গাছের) পাতা দ্বারা নিজেদের লজ্জাস্থান ঢাকতে শুরু করলো, এভাবেই আদম তার মালিকের নাফরমানী করলো এবং (এ কারণে) সে (সাময়িকভাবে) পথভ্রষ্ট হয়ে গেলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২২﴿
﴾ ২০:১২২ ﴿
ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَى ﴿١٢٢﴾
কিন্তু (তার ক্ষমা প্রার্থনার পর) তার মালিক তাকে (তার বংশধরদের পথ প্রদর্শনের জন্যে) বাছাই করে নিলেন, তার উপর ক্ষমাপরবশ হলেন এবং তাকে সঠিক পথনির্দেশ দিলেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২৩﴿
﴾ ২০:১২৩ ﴿
قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى ﴿١٢٣﴾
তিনি বললেন, (শয়তান ও তোমরা এখন) উভয় দলই এখান থেকে নেমে পড়ো, (মনে রাখবে) তোমরা কিন্তু একজন আরেক জনের (জঘন্য) দুশমন, অতপর (তোমাদের জীবন পরিচালনার জন্যে) আমার কাছ থেকে হেদায়াত (পথনির্দেশ) আসবে, অতপর যে আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে সে না কখনো (দুনিয়ায়) বিপথগামী হবে, না (আখেরাতে সে) কোনো কষ্ট পাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২৪﴿
﴾ ২০:১২৪ ﴿
وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى ﴿١٢٤﴾
(হাঁ, ) যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে তার জন্যে (জীবনে) বাঁচার সামগ্রী সংকুচিত হয়ে যাবে, (সর্বোপরি) তাকে আমি কেয়ামতের দিন অন্ধ বানিয়ে হাযির করবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২৫﴿
﴾ ২০:১২৫ ﴿
قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا ﴿١٢٥﴾
সে (নিজেকে এভাবে দেখার পর) বলবে, হে আমার মালিক, তুমি আমাকে কেন (আজ) অন্ধ বানিয়ে উঠালে? (দুনিয়াতে তো) আমি চক্ষুষ্মন ব্যক্তিই ছিলাম!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২৬﴿
﴾ ২০:১২৬ ﴿
قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى ﴿١٢٦﴾
তিনি বলবেন, (আসলে দুনিয়াতেও) তুমি এমনিই (অন্ধ) ছিলে! আমার আয়াতসমুহ তোমার কাছে। এসেছিলো, কিন্তু তুমি তা ভুলে ছিলে, এভাবে আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২৭﴿
﴾ ২০:১২৭ ﴿
وَكَذَلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِآيَاتِ رَبِّهِ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَى ﴿١٢٧﴾
(মুলত) আমি এভাবেই তাদের প্রতিফল দেই, যারা (আমার আয়াত নিয়ে) বাড়াবাড়ি করে, সে তার মালিকের আয়াতের উপর কখনো ঈমান আনে না; (সত্যিকার অর্থে) পরকালের আযাবই হচ্ছে বেশী কঠিন এবং অধিক স্থায়ী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২৮﴿
﴾ ২০:১২৮ ﴿
أَفَلَمْ يَهْدِ لَهُمْ كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنَ الْقُرُونِ يَمْشُونَ فِي مَسَاكِنِهِمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لِآيَاتٍ لِأُولِي النُّهَى ﴿١٢٨﴾
এদের আগে আমি কতো কতো জনপদ ধ্বংস করে দিয়েছি, আর এ (ধ্বংসপ্রাপ্ত) জনপদসমুহের উপর দিয়ে এরা তো (হামেশাই) চলাফেরা করে; অবশ্যই এতে বিবেকবান মানুষদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১২৯﴿
﴾ ২০:১২৯ ﴿
وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ لَكَانَ لِزَامًا وَأَجَلٌ مُسَمًّى ﴿١٢٩﴾
যদি তোমার মালিকের পক্ষ থেকে (এদের অবকাশ দেয়ার এ) ঘোষণা না থাকতো এবং এদের উপর আযাব আসার সুনির্দষ্টি কালক্ষণ আগেই ঠিক করা না থাকতো, তাহলে এদের উপর (কবেই আযাব) অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়তো;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৩০﴿
﴾ ২০:১৩০ ﴿
فَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَى ﴿١٣٠﴾
অতএব (হে নবী) , এরা যা কিছুই বলে তুমি তার উপর ধৈর্য ধারণ করো, তুমি (বরং) তোমার মালিকের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো সুর্যোদয়ের আগে ও তা অস্ত যাওয়ার আগে, রাতের বেলায় এবং দিনের দুই প্রান্তেও তুমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো, সম্ভবত (কেয়ামতের দিন) তুমি সন্তুষ্ট হতে পারবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৩১﴿
﴾ ২০:১৩১ ﴿
وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَى مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ وَرِزْقُ رَبِّكَ خَيْرٌ وَأَبْقَى ﴿١٣١﴾
(হে নবী, ) পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ ভোগ বিলাসের সেসব উপকরণ আমি তাদের অনেককেই দিয়ে রেখেছি, তার দিকে তুমি কখনো তোমার দুচোখ তুলে তাকাবে না, (আসলে আমি এসব কিছু এ কারণেই দিয়েছি) যেন আমি তাদের পরীক্ষা করতে পারি, (মুলত) তোমার মালিকের রিযিকই হচ্ছে উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৩২﴿
﴾ ২০:১৩২ ﴿
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى ﴿١٣٢﴾
(হে নবী, ) তোমার পরিবার পরিজনকে নামাযের আদেশ দাও এবং তুমি (নিজেও) তার উপর অবিচল থেকো, আমি তো তোমার কাছে কোনোরকম রিযিক (জীবনোপকরণ) চাই না, রিযিক তো তোমাকে আমিই দান। করি; আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করার জন্যেই রয়েছে উত্তম পরিণাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৩৩﴿
﴾ ২০:১৩৩ ﴿
وَقَالُوا لَوْلَا يَأْتِينَا بِآيَةٍ مِنْ رَبِّهِ أَوَلَمْ تَأْتِهِمْ بَيِّنَةُ مَا فِي الصُّحُفِ الْأُولَى ﴿١٣٣﴾
(এরপরও মুখ) লোকেরা বলে, এ ব্যক্তি তার মালিকের কাছ থেকে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন; (তুমি কি মনে করো, ) তাদের কাছে সেসব দলীল প্রমাণ নেই যা আগের কিতাবসমুহে মজুদ রয়েছে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৩৪﴿
﴾ ২০:১৩৪ ﴿
وَلَوْ أَنَّا أَهْلَكْنَاهُمْ بِعَذَابٍ مِنْ قَبْلِهِ لَقَالُوا رَبَّنَا لَوْلَا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ آيَاتِكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَذِلَّ وَنَخْزَى ﴿١٣٤﴾
আমি যদি এর আগেই তাদের কোনো আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিতাম তাহলে অবশ্যই এরা বলতো, হে আমাদের মালিক, তুমি (আযাব পাঠাবার আগে) আমাদের কাছে একজন রসুল পাঠালে না কেন? (রসুল) পাঠালে আমরা এভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার আগেই তোমার আয়াতসমুহ মেনে চলতাম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২০:১৩৫﴿
﴾ ২০:১৩৫ ﴿
قُلْ كُلٌّ مُتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوا فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ أَصْحَابُ الصِّرَاطِ السَّوِيِّ وَمَنِ اهْتَدَى ﴿١٣٥﴾
(হে নবী, এদের) বলো (হাঁ) , প্রত্যেক ব্যক্তিই (তার কাজের প্রতিফল পাবার) অপেক্ষা করছে, অতএব তোমরাও অপেক্ষা করো, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে সঠিক পথের অনুসারী কারা, আর কারাই বা সোজা সঠিক পথ পেয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]