🕋

الأنبياء
(২১) আল-আম্বিয়া

১১২

﴾২১:১﴿
﴾ ২১:১ ﴿
اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ مُعْرِضُونَ ﴿١﴾
মানুষের জন্যে তাদের হিসাব নিকাশের মুহুর্তটি একা ন্ত কাছে এসে গেছে, অথচ তারা এখনো উদাসীনতার মাঝে (নিমজ্জিত হয়ে সত্য) বিমুখ হয়ে আছে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২﴿
﴾ ২১:২ ﴿
مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ ذِكْرٍ مِنْ رَبِّهِمْ مُحْدَثٍ إِلَّا اسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ ﴿٢﴾
যখন তাদের কাছে তাদের মালিকের কোনো নতুন উপদেশ আসে তখন (মনে হয়) তারা তা শোনছে, কিন্তু তারা (তখনও) নানারকম খেলা ধুলায় নিমগ্ন থাকে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩﴿
﴾ ২১:৩ ﴿
لَاهِيَةً قُلُوبُهُمْ وَأَسَرُّوا النَّجْوَى الَّذِينَ ظَلَمُوا هَلْ هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَفَتَأْتُونَ السِّحْرَ وَأَنْتُمْ تُبْصِرُونَ ﴿٣﴾
ওদের মন থাকে সম্পূর্ণ অমনোযোগী; যারা যালেম তারা গোপনে বলাবলি করে, এ তো তোমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়, তোমরা কি (তারপরও তার) যাদুর ফাঁদে ফেঁসে যাবে? অথচ তোমরা তো (সব কিছুই) দেখতে পাচ্ছো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪﴿
﴾ ২১:৪ ﴿
قَالَ رَبِّي يَعْلَمُ الْقَوْلَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿٤﴾
সে বললো, আমার মালিক (প্রতিটি) কথা জানেন, তা আসমানে থাকুক কিংবা যমীনে, তিনি (সব) শোনেন, (সব) জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫﴿
﴾ ২১:৫ ﴿
بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ ﴿٥﴾
তারা তো বরং (কোরআনের ব্যাপারে) বলে, এগুলো হচ্ছে অলীক স্বপ্নমাত্র, সে নিজেই এসব উদ্ভাবন করেছে, কিংবা সে হচ্ছে একজন কবি, সে (নবী হয়ে থাকলে আমাদের কাছে) এমন সব নিদর্শন নিয়ে আসুক, যা দিয়ে পূর্ববর্তীদের পাঠানো হয়েছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬﴿
﴾ ২১:৬ ﴿
مَا آمَنَتْ قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَفَهُمْ يُؤْمِنُونَ ﴿٦﴾
এদের আগে এমন সব জনপদ আমি ধ্বংস করেছি, তার অধিবাসীরা (এসব নিদর্শন দেখেও) ঈমান আনেনি। (তুমি কি মনে করো) এরা (এখন) ঈমান আনবে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭﴿
﴾ ২১:৭ ﴿
وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٧﴾
তোমার পূর্বে আমি মানুষকেই (সব সময় নবী বানিয়ে) তাদের কাছে পাঠিয়েছি, তোমরা যদি না জানো তাহলে (আগের) কিতাবওয়ালাদের কাছে জিজ্ঞেস করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮﴿
﴾ ২১:৮ ﴿
وَمَا جَعَلْنَاهُمْ جَسَدًا لَا يَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَمَا كَانُوا خَالِدِينَ ﴿٨﴾
আমি তাদের এমন সব দেহাবয়ব দিয়ে পয়দা করিনি যে, তারা খেতে পারতো না, (তা ছাড়া মানুষ হওয়ার কারণে) তারা কেউ (এ দুনিয়ায়) চিরস্থায়ীও হয়নি! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯﴿
﴾ ২১:৯ ﴿
ثُمَّ صَدَقْنَاهُمُ الْوَعْدَ فَأَنْجَيْنَاهُمْ وَمَنْ نَشَاءُ وَأَهْلَكْنَا الْمُسْرِفِينَ ﴿٩﴾
অতপর আমি (আযাবের) ওয়াদা সত্য প্রমাণিত করে দেখালাম, (আযাব যখন এসে গেলো তখন) আমি যাদের চাইলাম শুধু তাদেরই উদ্ধার করলাম, আর সীমালংঘন কারীদের আমি সমূলে বিনাশ করে দিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০﴿
﴾ ২১:১০ ﴿
لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿١٠﴾
(হে মানুষ, ) আমি তোমাদের কাছে (এমন একটি) কিতাব নাযিল করেছি, যাতে (একে একে) তোমাদের (সবার) কথাই রয়েছে, তোমরা কি বুঝতে পারো না! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১১﴿
﴾ ২১:১১ ﴿
وَكَمْ قَصَمْنَا مِنْ قَرْيَةٍ كَانَتْ ظَالِمَةً وَأَنْشَأْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا آخَرِينَ ﴿١١﴾
আমি এর আগে কতো জনপদকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যা ছিলো (আসলেই) যালেম, তাদের পরে তাদের জায়গায় আমি অন্য জাতির উত্থান ঘটিয়েছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১২﴿
﴾ ২১:১২ ﴿
فَلَمَّا أَحَسُّوا بَأْسَنَا إِذَا هُمْ مِنْهَا يَرْكُضُونَ ﴿١٢﴾
এরা যখন আমার আযাব (একান্ত) সামনে দেখতে পেলো তখন সেখান থেকে পালাতে শুরু করলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১৩﴿
﴾ ২১:১৩ ﴿
لَا تَرْكُضُوا وَارْجِعُوا إِلَى مَا أُتْرِفْتُمْ فِيهِ وَمَسَاكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُونَ ﴿١٣﴾
(আমি বললাম, ) তোমরা (আজ) পালিয়ো না, বরং ফিরে যাও তোমাদের সম্পদের কাছে ও তোমাদের বাড়ি ঘরের দিকে যেখানে তোমরা আরাম করছিলে, সম্ভবত তোমাদের (কিছু) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১৪﴿
﴾ ২১:১৪ ﴿
قَالُوا يَاوَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ ﴿١٤﴾
তারা বললো, হায় দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা (সত্যিই) যালেম ছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১৫﴿
﴾ ২১:১৫ ﴿
فَمَا زَالَتْ تِلْكَ دَعْوَاهُمْ حَتَّى جَعَلْنَاهُمْ حَصِيدًا خَامِدِينَ ﴿١٥﴾
অতপর তারা এই আহাজারি করতেই থাকলো, যতো ক্ষণ না আমি তাদের সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছি, আমি তাদের কাটা ফসল ও নির্বাপিত আলোকরশ্মি বানিয়ে দিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১৬﴿
﴾ ২১:১৬ ﴿
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ ﴿١٦﴾
আসমান যমীন ও তাদের মধ্যবর্তী সব কিছু (-র কোনোটাই) আমি খেলতামাশার জন্যে পয়দা করিনি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১৭﴿
﴾ ২১:১৭ ﴿
لَوْ أَرَدْنَا أَنْ نَتَّخِذَ لَهْوًا لَاتَّخَذْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا إِنْ كُنَّا فَاعِلِينَ ﴿١٧﴾
আমি যদি নেহায়াত কোনো খেলতামাশার বিষয়ই বানাতে চাইতাম তাহলে আমি আমার কাছে যা (নিষ্প্রাণ বস্তু) আছে তা দিয়েই (এসব কিছু) বানিয়ে দিতাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১৮﴿
﴾ ২১:১৮ ﴿
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ ﴿١٨﴾
বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর ছুঁড়ে মারি, অতপর সে (সত্য) এ (মিথ্যা) -র মগ বের করে দেয়, (এর ফলে যা মিথ্যা) তা সাথে সাথেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়; দুর্ভোগ তোমাদের, তোমরা যা কিছু উদ্ভাবন করছো (তা থেকে আল্লাহ তায়ালা অনেক পবিত্র) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১৯﴿
﴾ ২১:১৯ ﴿
وَلَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ عِنْدَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ ﴿١٩﴾
আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তো তাঁর (মালিকানাধীন) , তাঁর (একান্ত) সান্নিধ্যে যেসব (ফেরেশতা) আছে তারা কখনো তাঁর ইবাদাত করতে অহংকার (বোধ) করে না, তারা কখনো ক্লান্তিও বোধ করে না, । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২০﴿
﴾ ২১:২০ ﴿
يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ ﴿٢٠﴾
তারা দিবারাত্রি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে, তারা কখনো কোনো অলসতা করে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২১﴿
﴾ ২১:২১ ﴿
أَمِ اتَّخَذُوا آلِهَةً مِنَ الْأَرْضِ هُمْ يُنْشِرُونَ ﴿٢١﴾
এরা কি (আল্লাহ তায়ালার বদলে) যমীনের কোনো কিছুকে মাবুদ বানিয়ে নিচ্ছে? (এরা যাদের মাবুদ বানাচ্ছে) তারা কি এদের পুনরুত্থান ঘটাবে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২২﴿
﴾ ২১:২২ ﴿
لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴿٢٢﴾
যদি আসমান যমীনে আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত আরো অনেক মাবুদ থাকতো, তাহলে (কবেই যমীন আসমানের) উভয়টাই ধ্বংস হয়ে যেতো, এরা যা কিছু বলে, আরশের মালিক আল্লাহ তায়ালা সে সব কিছু থেকে পবিত্র ও মহান! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২৩﴿
﴾ ২১:২৩ ﴿
لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ ﴿٢٣﴾
তিনি যা কিছু করেন সে ব্যাপারে তাঁকে কোনো প্রশ্ন করা যায় না, বরং তাদেরই (তাদের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২৪﴿
﴾ ২১:২৪ ﴿
أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ هَذَا ذِكْرُ مَنْ مَعِيَ وَذِكْرُ مَنْ قَبْلِي بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ فَهُمْ مُعْرِضُونَ ﴿٢٤﴾
এরা কি আল্লাহ তায়ালা ছাড়া (অন্য কাউকে) মাবুদ বানিয়ে রেখেছে? (হে নবী, তুমি) বলো, তোমরা দলীল প্রমাণ উপস্থিত করো, (এটা) আমার সাথীদের কিতাব এবং (এটা) আমার পূর্ববর্তীদের কিতাব, (পারলে এখান থেকে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করো; ) এদের অধিকাংশ (মানুষই প্রকৃত সত্য) জানে না, তাই (সত্য থেকে) এরা মুখ ফিরিয়ে নেয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২৫﴿
﴾ ২১:২৫ ﴿
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ ﴿٢٥﴾
আমি তোমার আগে এমন কোনো নবী পাঠাইনি যার কাছে ওহী পাঠিয়ে আমি একথা বলিনি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই এবং তোমরা সবাই আমারই ইবাদাত করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২৬﴿
﴾ ২১:২৬ ﴿
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُكْرَمُونَ ﴿٢٦﴾
(এ মূখ) লোকেরা বলে, দয়াময় আল্লাহ তায়ালা (ফেরেশতাদের নিজের) সন্তান বানিয়ে নিয়েছেন; তিনি (এসব কথাবার্তা থেকে) অনেক পবিত্র; বরং তারা হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার সম্মানিত বান্দা, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২৭﴿
﴾ ২১:২৭ ﴿
لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ ﴿٢٧﴾
তারা (কখনো) তাঁর সামনে আগে বেড়ে কথা বলে না, তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২৮﴿
﴾ ২১:২৮ ﴿
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ ﴿٢٨﴾
তাদের সামনে পেছনে যা কিছু আছে তা সবই তিনি জানেন, তারা আল্লাহ তায়ালার সমীপে সেসব লোক ছাড়া অন্য কারো জন্যেই সুপারিশ করে না যাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট রয়েছেন, তারা (নিজেরাও সব সময়) তাঁর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত (থাকে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:২৯﴿
﴾ ২১:২৯ ﴿
وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ ﴿٢٩﴾
(যারা অহংকারী) তাদের মধ্যে যদি কেউ একথা বলে, আল্লাহ তায়ালার বদলে আমিই হচ্ছি মাবুদ, তাহলে তাকে আমি এ জন্যে জাহান্নামের (কঠিন) শাস্তি দেবো; (মূলত) আমি যালেমদের এভাবেই শাস্তি দেই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩০﴿
﴾ ২১:৩০ ﴿
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ ﴿٣٠﴾
এরা কি দেখে না, আসমানসমূহ ও পৃথিবী (এক সময়) ওতপ্রােতভাবে মিশে ছিলো, অতপর আমিই এদের উভয়কে আলাদা করে দিয়েছি এবং আমি প্রাণবান সব কিছুকেই পানি থেকে সৃষ্টি করেছি, (এসব জানার পরও) কি তারা ঈমান আনবে না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩১﴿
﴾ ২১:৩১ ﴿
وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ ﴿٣١﴾
আমি যমীনের উপর সুদৃঢ় পাহাড়সমূহ রেখে দিয়েছি যেন তা ওদের নিয়ে (এদিক সেদিক) নড়াচড়া করতে না পারে, এ ছাড়াও আমি ওতে প্রশস্ত রাস্তা তৈরী করে দিয়েছি যাতে করে তারা (তা দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে) পৌঁছুতে পারে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩২﴿
﴾ ২১:৩২ ﴿
وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَحْفُوظًا وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ ﴿٣٢﴾
আমি আকাশকে একটি সুরতি ছাদ হিসেবে তৈরী করেছি, ফিরিয়ে নেয়। এ (নির্বোধ) ব্যক্তিরা তার নিদর্শনা থেকে মুখ [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩৩﴿
﴾ ২১:৩৩ ﴿
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ ﴿٣٣﴾
আল্লাহ তায়ালাই রাত, দিন, সুরুজ ও চাঁদকে পয়দা করেছেন; (এদের) প্রত্যেকেই (মহাকাশের) কপথে সাঁতার কেটে যাচ্ছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩৪﴿
﴾ ২১:৩৪ ﴿
وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِنْ مِتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ ﴿٣٤﴾
(হে নবী, ) আমি তোমার পূর্বেও কোনো মানব সন্তানকে অনন্ত জীবন দান করিনি; সুতরাং আজ তুমি মরে গেলে (তুমি কি মনে করো) তারা এখানে চিরজীবী হয়ে থাকবে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩৫﴿
﴾ ২১:৩৫ ﴿
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ ﴿٣٥﴾
প্রতিটি জীবকেই মরণের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে; (হে মানুষ, ) আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো (এ উভয়) অবস্থার মধ্যে ফেলেই পরীক্ষা করি; অতপর (তোমাদের তো) আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩৬﴿
﴾ ২১:৩৬ ﴿
وَإِذَا رَآكَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ وَهُمْ بِذِكْرِ الرَّحْمَنِ هُمْ كَافِرُونَ ﴿٣٦﴾
কাফেররা যখন তোমাকে দেখে তখন (মনে হয়) তারা তোমাকে কেবল তাদের বিদ্রুপের পাত্ররূপেই গ্রহণ করে; তারা (তোমার দিকে ইশারা করে) বলে, এ কি সে ব্যক্তি, যে তোমাদের দেব দেবীদের (মন্দভাবে) স্মরণ করে, অথচ (এরা নিজেরাই) দয়াময় আল্লাহ তায়ালার স্মরণকে অস্বীকার করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩৭﴿
﴾ ২১:৩৭ ﴿
خُلِقَ الْإِنْسَانُ مِنْ عَجَلٍ سَأُرِيكُمْ آيَاتِي فَلَا تَسْتَعْجِلُونِ ﴿٣٧﴾
(আসলে) মানুষকে সৃষ্টিই করা হয়েছে তাড়াহুড়ো (করার প্রকৃতি) দিয়ে, অচিরেই আমি তোমাদের আমার (কুদরতের) নিদর্শনগুলো দেখিয়ে দেবো, সুতরাং তোমরা আমার কাছে তাড়াহুড়ো কামনা করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩৮﴿
﴾ ২১:৩৮ ﴿
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٣٨﴾
তারা বলে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে বলো কেয়ামতের এই ওয়াদা কবে (পূর্ণ) হবে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৩৯﴿
﴾ ২১:৩৯ ﴿
لَوْ يَعْلَمُ الَّذِينَ كَفَرُوا حِينَ لَا يَكُفُّونَ عَنْ وُجُوهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَنْ ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ ﴿٣٩﴾
কতো ভালো হতো যদি এ কাফেররা (সে ক্ষণটির কথা) জানতো! (বিশেষ করে) যখন তারা তাদের সামনে ও তাদের পেছন থেকে আসা আগুন কিছুতেই প্রতিরোধ করতে পারবে না, (সে সময়ে) তাদের (কোনো রকম) সাহায্যও করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪০﴿
﴾ ২১:৪০ ﴿
بَلْ تَأْتِيهِمْ بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ يُنْظَرُونَ ﴿٤٠﴾
(মূলত কেয়ামত) তাদের উপর আসবে হঠাৎ করে, এসেই তা তাদের হতবুদ্ধি করে দেবে, তখন তাকে তারা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে না, আর না তাদের (এ জন্যে) কোনো অবকাশ দেয়া হবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪১﴿
﴾ ২১:৪১ ﴿
وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٤١﴾
(হে নবী, ) তোমার আগেও অনেক রসূলকে (এভাবে) ঠাট্টা বিদ্রুপ করা হয়েছিলো, পরে (দেখা গেলো) তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছিলো তাই তাদের পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪২﴿
﴾ ২১:৪২ ﴿
قُلْ مَنْ يَكْلَؤُكُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مِنَ الرَّحْمَنِ بَلْ هُمْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِمْ مُعْرِضُونَ ﴿٤٢﴾
(হে নবী) , তুমি এদের জিজ্ঞেস করো, কে তোমাদের দয়াময় আল্লাহ তায়ালার আযাব থেকে রা করবে- তা রাতের বেলায় আসুক কিংবা দিনের বেলায় আসুক, কিন্তু (সে কথা না ভেবে) এরা নিজেদের মালিকের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪৩﴿
﴾ ২১:৪৩ ﴿
أَمْ لَهُمْ آلِهَةٌ تَمْنَعُهُمْ مِنْ دُونِنَا لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنْفُسِهِمْ وَلَا هُمْ مِنَّا يُصْحَبُونَ ﴿٤٣﴾
তবে কি তাদের আরো কোনো মাবুদ আছে যারা আমার (আযাব) থেকে তাদের বাঁচাতে পারবে; তারা তো নিজেদেরই কোনো সাহায্য করতে পারবে না, না তারা আমার কাছ থেকে সেখানে কোনো সাহায্যকারী পাবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪৪﴿
﴾ ২১:৪৪ ﴿
بَلْ مَتَّعْنَا هَؤُلَاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى طَالَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ أَفَلَا يَرَوْنَ أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا أَفَهُمُ الْغَالِبُونَ ﴿٤٤﴾
৪৪ (মূলত) আমি এদের এবং এদের পিতৃপুরুষদের যাবতীয় ভোগসম্ভার দান করে যাচ্ছিলাম এবং এভাবে এদের উপর দিয়ে (সমৃদ্ধির) এক দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে; এখন কি তারা দেখতে পাচ্ছে না, আমি যমীনকে চারদিক থেকে তাদের উপর সংকুচিত করে আনছি, তারপরও কি তারা বিজয়ী হবে (বলে আশা করে) ? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪৫﴿
﴾ ২১:৪৫ ﴿
قُلْ إِنَّمَا أُنْذِرُكُمْ بِالْوَحْيِ وَلَا يَسْمَعُ الصُّمُّ الدُّعَاءَ إِذَا مَا يُنْذَرُونَ ﴿٤٥﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, আমি তো শুধু ওহী দিয়ে তোমাদের (জাহান্নামের) ভয় দেখাই, কিন্তু এই বধিররা ডাক শুনতে পায়না, (বার বার) তাদের সতর্ক করা হলেও (তারা সে সতর্কবাণীর কিছুই শুনতে পায় না) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪৬﴿
﴾ ২১:৪৬ ﴿
وَلَئِنْ مَسَّتْهُمْ نَفْحَةٌ مِنْ عَذَابِ رَبِّكَ لَيَقُولُنَّ يَاوَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ ﴿٤٦﴾
(অথচ) তোমার মালিকের আযাবের সামান্য কিছু অংশও যদি এদের স্পর্শ করে তখন এরা বলে উঠবে, হায় দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা সত্যিই যালেম ছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪৭﴿
﴾ ২১:৪৭ ﴿
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ ﴿٤٧﴾
কেয়ামতের দিন আমি ন্যায়বিচারের জন্যে একটি মানদন্ড স্থাপন করবো, অতপর সেদিন কারো (কোনো মানব স নব্দানের) উপরই কোনো রকম যুলুম হবে না; যদি একটি শস্য দানা পরিমাণ কোনো আমলও (তার কোথাও লুকিয়ে) থাকে, (হিসাবের পাল্লায়) তা আমি (যথার্থই) এনে হাযির করবো, হিসাব নেয়ার জন্যে আমিই যথেষ্ট। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪৮﴿
﴾ ২১:৪৮ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى وَهَارُونَ الْفُرْقَانَ وَضِيَاءً وَذِكْرًا لِلْمُتَّقِينَ ﴿٤٨﴾
অবশ্য আমি মূসা ও হারূনকে (ন্যায় অন্যায়ের) ফয়সালাকারী একটি গ্রন্থ দিয়েছিলাম, পরহেযগার লোকদের জন্যে দিয়েছিলাম (আঁধারে চলার) আলো ও (জীবনে চলার) উপদেশ, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৪৯﴿
﴾ ২১:৪৯ ﴿
الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَهُمْ مِنَ السَّاعَةِ مُشْفِقُونَ ﴿٤٩﴾
(এটা তাদের জন্যে) যারা আল্লাহ তায়ালাকে না দেখেও ভয় করে এবং তারা কেয়ামত সম্পর্কে ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫০﴿
﴾ ২১:৫০ ﴿
وَهَذَا ذِكْرٌ مُبَارَكٌ أَنْزَلْنَاهُ أَفَأَنْتُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ ﴿٥٠﴾
আর এ হচ্ছে বরকতপূর্ণ উপদেশ, এটি আমিই নাযিল করেছি, তোমরা কি এর অস্বীকারকারী হতে চাও? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫১﴿
﴾ ২১:৫১ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَا إِبْرَاهِيمَ رُشْدَهُ مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا بِهِ عَالِمِينَ ﴿٥١﴾
আমি আগে ইবরাহীমকে ভালোমন্দ বিচারের জ্ঞান দান করেছিলাম এবং আমি সে সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫২﴿
﴾ ২১:৫২ ﴿
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ ﴿٥٢﴾
যখন সে তার পিতা ও তার জাতির (লোকদের) বললো, এ (নিষ্প্রাণ) মূর্তিগুলো আসলে কি- যার (ইবাদাতের) জন্যে তোমরা শক্ত হয়ে বসে আছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫৩﴿
﴾ ২১:৫৩ ﴿
قَالُوا وَجَدْنَا آبَاءَنَا لَهَا عَابِدِينَ ﴿٥٣﴾
তারা বললো, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এগুলোর ইবাদাত করতে দেখেছি (এর চাইতে বেশী কিছু আমরা জানি না) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫৪﴿
﴾ ২১:৫৪ ﴿
قَالَ لَقَدْ كُنْتُمْ أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٥٤﴾
সে বললো, (এগুলোর পূজা করে) তোমরা নিজেরা (যেমন আজ) সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত হচ্ছো, (তেমনি) তোমাদের পূর্বপুরুষরাও (গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলো) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫৫﴿
﴾ ২১:৫৫ ﴿
قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنْتَ مِنَ اللَّاعِبِينَ ﴿٥٥﴾
তারা বললো, তুমি কি আসলেই আমাদের কাছে কোনো সত্য নিয়ে এসেছো, না অযথাই (আমাদের সাথে) তামাশা করছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫৬﴿
﴾ ২১:৫৬ ﴿
قَالَ بَل رَبُّكُمْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا عَلَى ذَلِكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ ﴿٥٦﴾
সে বললো (না, এটা কোনো তামাশার বিষয় নয়) , বরং তোমাদের মালিক যিনি, তিনিই আসমানসমূহ ও যমীনের মালিক, তিনিই এগুলো সৃষ্টি করেছেন, আর আমি নিজেই হচ্ছি এ ব্যাপারে সাক্ষীদের একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫৭﴿
﴾ ২১:৫৭ ﴿
وَتَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُمْ بَعْدَ أَنْ تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ ﴿٥٧﴾
আল্লাহ তায়ালার শপথ, তোমরা এখান থেকে সরে গেলে আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা কৌশল অবলম্বন করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫৮﴿
﴾ ২১:৫৮ ﴿
فَجَعَلَهُمْ جُذَاذًا إِلَّا كَبِيرًا لَهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ ﴿٥٨﴾
অতপর (তারা চলে গেলে) ওদের বড়োটি ছাড়া অন্য মূর্তিগুলোকে সে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিলো, যাতে করে তারা তার (ঘটনা জানার জন্যে এ বড়োটার) দিকেই ধাবিত হতে পারে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৫৯﴿
﴾ ২১:৫৯ ﴿
قَالُوا مَنْ فَعَلَ هَذَا بِآلِهَتِنَا إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ ﴿٥٩﴾
(যখন তারা ফিরে এসে মূর্তিদের এ দুরবস্থা দেখলো, তখন তারা বললো, আমাদের দেবতাদের সাথে এ আচরণ করলো কে? যে-ই করেছে নিসন্দেহে সে যালেমদেরই একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬০﴿
﴾ ২১:৬০ ﴿
قَالُوا سَمِعْنَا فَتًى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ ﴿٦٠﴾
লোকেরা বললো, আমরা শুনেছি এক যুবক ওদের সমালোচনা করছিলো, (হ্যাঁ) সে যুবককে বলা হয়। ইবরাহীম; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬১﴿
﴾ ২১:৬১ ﴿
قَالُوا فَأْتُوا بِهِ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ ﴿٦١﴾
তারা বললো, (যাও) তাকে সব মানুষের চোখের সামনে এনে হাযির করো, যাতে করে তারা (তার বিরুদ্ধে) সা্য দিতে পারে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬২﴿
﴾ ২১:৬২ ﴿
قَالُوا أَأَنْتَ فَعَلْتَ هَذَا بِآلِهَتِنَا يَا إِبْرَاهِيمُ ﴿٦٢﴾
(ইবরাহীমকে আনার পর) তারা (তাকে) জিজ্ঞেস করলো, হে ইবরাহীম, তুমিই কি আমাদের মাবুদগুলোর সাথে এ আচরণ করেছো; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬৩﴿
﴾ ২১:৬৩ ﴿
قَالَ بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا فَاسْأَلُوهُمْ إِنْ كَانُوا يَنْطِقُونَ ﴿٦٣﴾
(সে বললো, ) বরং ওদের বড়োটিই সম্ভবত (এসব কিছু) ঘটিয়েছে, তোমরা তাদেরকেই জিজ্ঞেস করো না, তারা যদি কথা বলতে পারে (তাহলে তারাই বলবে কে তাদের সাথে এ আচরণ করেছে) ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬৪﴿
﴾ ২১:৬৪ ﴿
فَرَجَعُوا إِلَى أَنْفُسِهِمْ فَقَالُوا إِنَّكُمْ أَنْتُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٦٤﴾
(ইবরাহীমের এ অভিনব যুক্তি শুনে) তারা (নিজেরা চিন্তা করে) নিজেদের দিকেই ফিরে এলো এবং একে অপরকে বলতে লাগলো (যালেম তো সে নয়, যে ওটা ভেংগেছে) , যালেম তো হচ্ছো তোমরা (যারা এর পূজা। করো) , [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬৫﴿
﴾ ২১:৬৫ ﴿
ثُمَّ نُكِسُوا عَلَى رُءُوسِهِمْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هَؤُلَاءِ يَنْطِقُونَ ﴿٦٥﴾
অতপর (লজ্জায়) ওদের মাথা অবনত হয়ে গেলো, ওরা বললো (হে ইবরাহীম) , তুমি তো (ভালো করেই) জানো, এরা কথা বলতে পারে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬৬﴿
﴾ ২১:৬৬ ﴿
قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكُمْ شَيْئًا وَلَا يَضُرُّكُمْ ﴿٦٦﴾
সে বললো, তাহলে তোমরা কেন আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর পূজা করো যারা তোমাদের কোনো উপকারও করতে পারে না, তোমাদের কোনো অপকারও করতে পারে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬৭﴿
﴾ ২১:৬৭ ﴿
أُفٍّ لَكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٦٧﴾
ধিক তোমাদের জন্যে এবং আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের পূজা করো তাদের জন্যেও; তোমরা কি (এদের এ অক্ষমতাটুকু) বুঝতে পারছে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬৮﴿
﴾ ২১:৬৮ ﴿
قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانْصُرُوا آلِهَتَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ فَاعِلِينَ ﴿٦٨﴾
(এ সময় রাজার) লোকেরা বললো, একে আগুনে পুড়িয়ে দাও, যদি তোমরা কিছু করতেই চাও তাহলে (আগে গিয়ে) তোমাদের মূর্তিগুলোর প্রতিশোধ গ্রহণ করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৬৯﴿
﴾ ২১:৬৯ ﴿
قُلْنَا يَانَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ ﴿٦٩﴾
(অপরদিকে) আমি (আগুনকে) বললাম, হে আগুন, তুমি ইবরাহীমের জন্যে শীতল ও শান্তিময় হয়ে যাও, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭০﴿
﴾ ২১:৭০ ﴿
وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ ﴿٧٠﴾
ওরা তার বিরুদ্ধে একটা ফন্দি আঁটতে চাইলো, আর আমি (উল্টো) তাদের ক্ষতিগ্রস্ত (ও ব্যর্থ) করে দিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭১﴿
﴾ ২১:৭১ ﴿
وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ ﴿٧١﴾
অতপর আমি তাকে এবং (আমার নবী) নূতকে উদ্ধার করে এমন এক দেশে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি দুনিয়াবাসীর জন্যে অনেক কল্যাণ রেখেছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭২﴿
﴾ ২১:৭২ ﴿
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ نَافِلَةً وَكُلًّا جَعَلْنَا صَالِحِينَ ﴿٧٢﴾
অতপর আমি ইবরাহীমকে (তার ছেলে হিসেবে) ইসহাক দান করলাম; তার উপর অতিরিক্ত দান করলাম (পৌত্র হিসেবে) ইয়াকুব; এদের সবাইকেই আমি ভালো (মানুষ) বানিয়েছিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭৩﴿
﴾ ২১:৭৩ ﴿
وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ ﴿٧٣﴾
আমি তাদের (দুনিয়ার মানুষদের) নেতা বানিয়েছিলাম, তারা আমার নির্দেশ অনুসারে (মানুষকে) সুপথ দেখাতো, নেক কাজ করা, নামায প্রতিষ্ঠা করা ও যাকাত দেয়ার জন্যে আমি তাদের কাছে ওহী পাঠিয়েছি, তারা (সর্বত্রই) আমার আনুগত্য করতো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭৪﴿
﴾ ২১:৭৪ ﴿
وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ تَعْمَلُ الْخَبَائِثَ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ ﴿٧٤﴾
(ইবরাহীমের মতো) আমি নূতকেও প্রজ্ঞা দান করেছিলাম, তাকেও আমি এমন একটি জনপদ থেকে উদ্ধার করে এনেছি যার অধিবাসীরা অশ্লীল কাজ করতো; সত্যিই তারা ছিলো জঘন্য বদ ও গুনাহগার জাতি, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭৫﴿
﴾ ২১:৭৫ ﴿
وَأَدْخَلْنَاهُ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿٧٥﴾
আর আমি তাকে আমার (অপরিসীম) অনুগ্রহের ভেতর প্রবেশ করিয়েছি; নিসন্দেহে সে ছিলো একজন সকর্মশীল (নবী) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭৬﴿
﴾ ২১:৭৬ ﴿
وَنُوحًا إِذْ نَادَى مِنْ قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ ﴿٧٦﴾
(হে নবী, তুমি নূহের কাহিনীও তাদের শোনাও, ) নূহ যখন আমাকে ডেকেছিলো, (ডেকেছিলো ইবরাহীমেরও) আগে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার পরিবার পরিজনদের আমি এক মহাসংকট থেকে উদ্ধার করেছিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭৭﴿
﴾ ২১:৭৭ ﴿
وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٧٧﴾
আমি তাকে এমন এক জাতির মোকাবেলায় সাহায্য করেছিলাম যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিলো; (আসলেই) তারা ছিলো বড়ো খারাপ জাতের লোক, অতপর আমি তাদের সবাইকে (মহাপ্লাবনে) ডুবিয়ে দিয়েছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭৮﴿
﴾ ২১:৭৮ ﴿
وَدَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ ﴿٧٨﴾
দাউদ ও সোলায়মানের ঘটনাও (তাদের শোনাও) , যখন তারা একটি ক্ষেতের ফসলের (মোকদ্দমায়) রায়। প্রদান করছিলো। (মোকদ্দমাটা ছিলো এমন) , রাতের বেলায় (মানুষদের) কিছু মেষ (অন্য মানুষদের ক্ষেতে ঢুকে) তা তছনছ করে দিলো, এই বিচারপর্বটি আমি নিজেও তাদের সাথে পর্যবেণ করছিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৭৯﴿
﴾ ২১:৭৯ ﴿
فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلًّا آتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا وَسَخَّرْنَا مَعَ دَاوُدَ الْجِبَالَ يُسَبِّحْنَ وَالطَّيْرَ وَكُنَّا فَاعِلِينَ ﴿٧٩﴾
অতপর আমি (সঠিক রায় যা-) তা সোলায়মানকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম, (অবশ্য) আমি তাদের (উভয়কেই) প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম, আমি পাহাড় পর্বত এবং পাখ-পাখালিকেও দাউদের অনুগত করে দিয়েছিলাম যেন। তারাও (তার সাথে) আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারে; আর আমিই (এ সব কিছু) ঘটাচ্ছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮০﴿
﴾ ২১:৮০ ﴿
وَعَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍ لَكُمْ لِتُحْصِنَكُمْ مِنْ بَأْسِكُمْ فَهَلْ أَنْتُمْ شَاكِرُونَ ﴿٨٠﴾
আর আমি তাকে তোমাদের (যুদ্ধে ব্যবহারের) জন্যে বর্ম বানানো শিক্ষা দিয়েছি, যাতে তোমরা তোমাদের যুদ্ধের সময় (পরস্পরের আক্রমণ থেকে) নিজেদের বাঁচাতে পারো, তারপরও কি তোমরা (আমার) শোকরগোযার হবে না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮১﴿
﴾ ২১:৮১ ﴿
وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ عَاصِفَةً تَجْرِي بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَالِمِينَ ﴿٨١﴾
আমি প্রবল হাওয়াকে সোলায়মানের জন্যে বশীভূত করে দিয়েছিলাম, তা তার আদেশে সে দেশের দিকে। ধাবিত হতো যেখানে আমি প্রভূত কল্যাণ রেখে দিয়েছি; (মূলত) আমি প্রতিটি বিষয়ের ব্যাপারেই সম্যক অবগত আছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮২﴿
﴾ ২১:৮২ ﴿
وَمِنَ الشَّيَاطِينِ مَنْ يَغُوصُونَ لَهُ وَيَعْمَلُونَ عَمَلًا دُونَ ذَلِكَ وَكُنَّا لَهُمْ حَافِظِينَ ﴿٨٢﴾
৮২ শয়তানদের মাঝে (তার) কিছু (জ্বিন অনুসারী) তার জন্যে (সমুদ্রে) ডুবুরীর কাজ করতো, তার জন্যে এ ছাড়াও এরা বহু কাজ আঞ্জাম দিতো, তাদের রব তো আমিই ছিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮৩﴿
﴾ ২১:৮৩ ﴿
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ ﴿٨٣﴾
(স্মরণ করো, ) যখন আইয়ূব তার মালিককে ডেকে বলেছিলো (হে আল্লাহ) , আমাকে এক কঠিন অসুখে পেয়ে বসেছে, (আমায় তুমি) নিরাময় করো, (কেননা) তুমিই হচ্ছো দয়ালুদের সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮৪﴿
﴾ ২১:৮৪ ﴿
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِنْ ضُرٍّ وَآتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُمْ مَعَهُمْ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَذِكْرَى لِلْعَابِدِينَ ﴿٨٤﴾
অতপর আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম, তার যে কষ্ট ছিলো তা আমি দূর করে দিলাম, তাকে (যে শুধু) তার পরিবার পরিজনই ফিরিয়ে দিলাম (তা নয়) ; বরং তাদের (সবাইকে) আমার কাছ থেকে বিশেষ দয়া এবং আমার বান্দাদের জন্যে উপদেশ হিসেবে আরো সমপরিমাণ (অনুগ্রহ) দান করলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮৫﴿
﴾ ২১:৮৫ ﴿
وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِنَ الصَّابِرِينَ ﴿٨٥﴾
(আরো স্মরণ করো, ) ইসমাঈল, ইদ্রীস ও যুল কিফলের (কথা) , এরা সবাই (আমার) ধৈর্যশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮৬﴿
﴾ ২১:৮৬ ﴿
وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُمْ مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿٨٦﴾
আমি তাদের আমার রহমতের মধ্যে দাখিল করলাম, কেননা তারা ছিলো নেককার মানুষদের দলভুক্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮৭﴿
﴾ ২১:৮৭ ﴿
وَذَا النُّونِ إِذْ ذَهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَنْ لَنْ نَقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿٨٧﴾
আর (স্মরণ করো) 'যুনুন’ (-এর কথা) , যখন সে রাগ করে নিজের লোকজনদের ছেড়ে বের হয়ে গিয়েছিলো, সে মনে করেছিলো আমি (বুঝি) তাকে ধরতে পারবো না (অতপর আমি যখন তাকে সত্যি সত্যিই ধরে ফেললাম) , তখন সে (মাছের পেটের) অন্ধকারে বসে আমাকে (এই বলে) ডাকলো, হে আল্লাহ তায়ালা, তুমি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, তুমি পবিত্র, তুমি মহান, অবশ্যই আমি সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছি, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮৮﴿
﴾ ২১:৮৮ ﴿
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنْجِي الْمُؤْمِنِينَ ﴿٨٨﴾
অতপর আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাকে (তার মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে আমি উদ্ধার করলাম; আর এভাবেই আমি আমার মু’মিন বান্দাদের সব সময় উদ্ধার করি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৮৯﴿
﴾ ২১:৮৯ ﴿
وَزَكَرِيَّا إِذْ نَادَى رَبَّهُ رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ ﴿٨٩﴾
আর (স্মরণ করো, ) যাকারিয়া (-র কথা) , যখন সে তার মালিককে ডেকে বলেছিলো, হে আমার মালিক, তুমি আমাকে একা (নিসন্তান করে) রেখে দিয়ো না, তুমিই হচ্ছে উৎকৃষ্ট মালিকানার অধিকারী, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯০﴿
﴾ ২১:৯০ ﴿
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَى وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ ﴿٩٠﴾
অতপর আমি তার জন্যেও সাড়া দিয়েছিলাম, তাকে দান করেছিলাম (নেক সন্তান) ইয়াহইয়া এবং তার (মনের আশা পূরণের) জন্যে আমি তার স্ত্রীকে (বন্ধ্যাত্বমুক্ত করে সমপূর্ণ সুস্থ (সন্তান ধারণােপযোগী) করে দিয়েছিলাম; (আসলে) এ লোকগুলো (হামেশাই) সকাজে (একে অন্যের সাথে) প্রতিযোগিতা করতো, তারা আমাকে আশা ও ভীতির সাথে ডাকতো; তারা সবাই ছিলো আমার অনুগত (বান্দা) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯১﴿
﴾ ২১:৯১ ﴿
وَالَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهَا مِنْ رُوحِنَا وَجَعَلْنَاهَا وَابْنَهَا آيَةً لِلْعَالَمِينَ ﴿٩١﴾
(স্মরণ করো সেই পুণ্যবতী নারীকে, ) যে নিজ সতীত্ব রক্ষা করেছিলো, অতপর তার মধ্যে আমি আমার পক্ষ থেকে এক (বিশেষ সম্মানী) আত্না থুকে দিলাম, এভাবে আমি তাকে এবং তার পুত্রকে দুনিয়াবাসীর জন্যে এক নিদর্শন বানিয়ে দিয়েছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯২﴿
﴾ ২১:৯২ ﴿
إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ ﴿٩٢﴾
(যাদের কথা আমি বললাম, ) এ হচ্ছে তোমাদেরই স্বজাতি, এরা সবাই একই জাতি, আর আমি (এদের) তোমাদের সবাইর মালিক, অতএব তোমরা আমারই গোলামী করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯৩﴿
﴾ ২১:৯৩ ﴿
وَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ كُلٌّ إِلَيْنَا رَاجِعُونَ ﴿٩٣﴾
(কিন্তু পরবর্তী সময়ে) তারা নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ করে নিজেদের (দ্বীনের) বিষয়কে টুকরো টুকরো করে ফেললো (অথচ) সর্বশেষে এদের সবাইকে (এক হয়ে) আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯৪﴿
﴾ ২১:৯৪ ﴿
فَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْيِهِ وَإِنَّا لَهُ كَاتِبُونَ ﴿٩٤﴾
কোনো ব্যক্তি যদি মু’মিন অবস্থায় কোনো নেক কাজ করে তাহলে তার (সৎপথে চলার এ) প্রচেষ্টাকে কিছুতেই অস্বীকার করা হয় না, অবশ্যই আমি তার জন্যে (তার প্রতিটি কাজকে) লিখে রাখি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯৫﴿
﴾ ২১:৯৫ ﴿
وَحَرَامٌ عَلَى قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَنَّهُمْ لَا يَرْجِعُونَ ﴿٩٥﴾
এটা কখনো সম্ভব নয় যে, যে জাতিকে আমি একবার ধ্বংস করে দিয়েছি তারা আবার (তাদের ধ্বংস পূর্ব অবস্থায়) ফিরে আসবে [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯৬﴿
﴾ ২১:৯৬ ﴿
حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ ﴿٩٦﴾
এমনকি যখন (কেয়ামতের নিদর্শন হিসেবে) ইয়াজুজ ও মাজুজকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং ওরা প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে (পতংগের মতো) নীচের দিকে বেরিয়ে আসতে থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯৭﴿
﴾ ২১:৯৭ ﴿
وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا يَا وَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِنْ هَذَا بَلْ كُنَّا ظَالِمِينَ ﴿٩٧﴾
এবং (কেয়ামতের ব্যাপারে আমার) অমোঘ প্রতিশ্রুতি আসন্ন হয়ে আসবে, (তখন) তা আসতে দেখে যারা (এতোদিন) একে অস্বীকার করেছিলো তাদের চু স্থির হয়ে যাবে; (তারা বলবে) হায়, কতোই না দুর্ভোগ আমাদের, আমরা এ (দিনটি) সম্পর্কেই উদাসীন ছিলাম, বরং আমরা সত্যিই ছিলাম (বড়ো) যালেম! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯৮﴿
﴾ ২১:৯৮ ﴿
إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُونَ ﴿٩٨﴾
(তখন তাদের বলা হবে, ) তোমরা এবং তোমাদের সে সব কিছু, যাদের তোমরা আল্লাহর বদলে মাবুদ বানাতে, সবাই জাহান্নামের ইন্ধন হবে; (আজ) তোমাদের সবাইকেই সেখানে পৌঁছুতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:৯৯﴿
﴾ ২১:৯৯ ﴿
لَوْ كَانَ هَؤُلَاءِ آلِهَةً مَا وَرَدُوهَا وَكُلٌّ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٩٩﴾
তারা যদি সত্যিই মাবুদ হতো যাদের তোমরা গোলামী করতে, তাহলে আজ তারা কিছুতেই (জাহান্নামে) প্রবেশ করতো না; (উপাস্য উপাসক) সবাই তাতে চিরকাল ধরে অবস্থান করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০০﴿
﴾ ২১:১০০ ﴿
لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَهُمْ فِيهَا لَا يَسْمَعُونَ ﴿١٠٠﴾
এদের জন্যে সেখানে শুধু শাস্তির ভয়াবহ চীৎকারই (শুধু অবশিষ্ট) থাকবে, (এ চীৎকার ছাড়া) তারা সেখানে (অন্য) কিছুই শুনতে পাবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০১﴿
﴾ ২১:১০১ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى أُولَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ ﴿١٠١﴾
(অপরদিকে) যাদের জন্যে আমার কাছ থেকে (অন নব্দ) কল্যাণ নির্ধারিত হয়ে আছে, অবশ্যই তাদের (জাহান্নাম ও) তার (আযাব) থেকে (অনেক) দ রে রাখা হবে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০২﴿
﴾ ২১:১০২ ﴿
لَا يَسْمَعُونَ حَسِيسَهَا وَهُمْ فِي مَا اشْتَهَتْ أَنْفُسُهُمْ خَالِدُونَ ﴿١٠٢﴾
তারা (তাদের সুখের ঘরে বসে ভয়াবহ চীৎকারের) ক্ষিণতম শব্দও শুনতে পাবে না, তাদের জন্যে তো (বরং সেখানে) তাদের মন যা চায় তাই (হাযির) থাকবে, (তাও থাকবে আবার) চিরকাল ধরে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০৩﴿
﴾ ২১:১০৩ ﴿
لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ ﴿١٠٣﴾
(জাহান্নামের) বড়ো ভীতি তাদের (সেদিন মনে) কোনো রকম দুশ্চি নদার সৃষ্টি করতে পারবে না, (সেদিন) ফেরেশতারা তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলবে; তোমাদের সাথে যে ওয়াদা করা হয়েছিলো, এ হচ্ছে তোমাদের সে (ওয়াদা পূরণের) দিন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০৪﴿
﴾ ২১:১০৪ ﴿
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ ﴿١٠٤﴾
(এটা এমন একদিন) যেদিন আমি আসমানসমূহকে গুটিয়ে নেবো, ঠিক যেভাবে কিতাবসমূহ গুটিয়ে ফেলা হয়; যেভাবে আমি একদিন এ সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবেই আমি আবার এর পুনরাবৃত্তি ঘটাবো, এটা (এমন এক) ওয়াদা, (যা) পালন করা আমার উপর জরুরী; আর এ কাজ তো আমি করবোই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০৫﴿
﴾ ২১:১০৫ ﴿
وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ ﴿١٠٥﴾
আমি যবুর কিতাবেও এ উপদেশ উল্লেখের পর (দুনিয়ার কর্তৃতের ব্যাপারে পরিষ্কার করে আমার) এ কথা লিখে দিয়েছি, (একমাত্র) আমার যোগ্য বান্দারাই (এ) যমীনের (নেতৃত্ব করার) অধিকারী হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০৬﴿
﴾ ২১:১০৬ ﴿
إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِقَوْمٍ عَابِدِينَ ﴿١٠٦﴾
এ (কথার) মধ্যে (আমার) ইবাদাতগোযার বান্দাদের জন্যে সত্যিই এক (মহা) পয়গাম (নিহিত) আছে; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০৭﴿
﴾ ২১:১০৭ ﴿
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ ﴿١٠٧﴾
(হে নবী, ) আমি তো তোমাকে সৃষ্টিকুলের জন্যে রহমত বানিয়েই পাঠিয়েছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০৮﴿
﴾ ২১:১০৮ ﴿
قُلْ إِنَّمَا يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ﴿١٠٨﴾
তুমি (এদের) বলো, আমার উপর এই মর্মে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদের মাবুদ একজনই, তোমরা কি (তাঁর) অনুগত বান্দা হবে না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১০৯﴿
﴾ ২১:১০৯ ﴿
فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ آذَنْتُكُمْ عَلَى سَوَاءٍ وَإِنْ أَدْرِي أَقَرِيبٌ أَمْ بَعِيدٌ مَا تُوعَدُونَ ﴿١٠٩﴾
(হ্যাঁ, ) তারা যদি তোমার কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তুমি বলো, আমি তোমাদের (জান্নাতের সুখবর দেয়ার পাশাপাশি আযাবের ব্যাপারেও) একই পরিমাণ সতর্ক করছি, আমি (নিজেও) একথা জানি না, যে (আযাবের) ওয়াদা তোমাদের কাছে করা হচ্ছে তা (আসলেই) কি খুব কাছে, নাকি তা (অনেক) দূরে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১১০﴿
﴾ ২১:১১০ ﴿
إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ مِنَ الْقَوْلِ وَيَعْلَمُ مَا تَكْتُمُونَ ﴿١١٠﴾
একমাত্র তিনিই জানেন যা কিছু উচ্চ স্বরে বলা হয় এবং তিনিই জানেন যা কিছু তোমরা ( অন্তরে) গোপন করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১১১﴿
﴾ ২১:১১১ ﴿
وَإِنْ أَدْرِي لَعَلَّهُ فِتْنَةٌ لَكُمْ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ ﴿١١١﴾
আমি জানি না, (অবকাশের) এ (সময়টুকু) হতে পারে তোমাদের জন্যে এক পরীক্ষা (মাত্র, কিংবা হতে পারে) সুনির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্যে (তোমাদের) কিছু মাল সম্পদ (দান করা) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২১:১১২﴿
﴾ ২১:১১২ ﴿
‎ قَالَ رَبِّ احْكُمْ بِالْحَقِّ وَرَبُّنَا الرَّحْمَنُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ ﴿١١٢﴾
(সর্বশেষে) সে বললো, হে আমার মালিক, তুমি (এদের ব্যাপারটা) ন্যায়ের সাথে মীমাংসা করে দাও; (হে মানুষ, ) তোমরা (আল্লাহ সম্পর্কে) যা কিছু কথা বানাচ্ছো, সেসব (কিছুর অনিষ্টের) ব্যাপারে একমাত্র আমাদের। মালিক দয়াময় আল্লাহ তায়ালার কাছেই আশ্রয় চাওয়া যেতে পারে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]