🕌
الحج
(২২) আল-হাজ্জ
৭৮
﴾২২:১﴿
﴾ ২২:১ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ ﴿١﴾
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের মালিককে ভয় করো, অবশ্যই কেয়ামতের কম্পন হবে একটি ভয়ংকর ঘটনা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২﴿
﴾ ২২:২ ﴿
يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ ﴿٢﴾
সেদিন তোমরা তা নিজেরা দেখতে পাবে, (দেখবে) বুকের দুধ খাওয়াচ্ছে এমন প্রতিটি নারী (ভয়াবহ আতংকে) তার দুগ্ধপোষ্যকে ভুলে যাবে, প্রতিটি গর্ভবতী (জন্তু) তার (গর্ভস্থিত বস্তুর) বোঝা ফেলে দেবে, মানুষকে যখন তুমি দেখবে তখন (তোমার) মনে হবে তারা বুঝি কিছু নেশাগ্রস্ত মাতাল, কিন্তু তারা আসলে কেউই নেশাগ্রস্ত নয়; বরং (এটা হচ্ছে এক ধরনের আযাব, ) আল্লাহ তায়ালার আযাব কিন্তু অত্যন্ত ভয়াবহ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩﴿
﴾ ২২:৩ ﴿
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَرِيدٍ ﴿٣﴾
মানুষের মধ্যে কিছু (মূখ) লোক আছে, যারা না জেনে (না বুঝে) আল্লাহ তায়ালার (শক্তি মতা) সম্পর্কে তর্ক বিতর্ক করে এবং (সে) প্রতিটি বিদ্রোহী শয়তানের আনুগত্য করে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪﴿
﴾ ২২:৪ ﴿
كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّهُ مَنْ تَوَلَّاهُ فَأَنَّهُ يُضِلُّهُ وَيَهْدِيهِ إِلَى عَذَابِ السَّعِيرِ ﴿٤﴾
অথচ তার উপর (আল্লাহ তায়ালার এ) ফয়সালা তো হয়েই আছে যে, যে কেউই তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে সে (নির্ঘাত) গোমরাহ হয়ে যাবে, আর (এ গোমরাহীই) তাকে (জাহান্নামের) প্রজ্বলিত (আগুনের) শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫﴿
﴾ ২২:৫ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ ﴿٥﴾
হে মানুষ, পুনরুত্থান (দিবস) সম্পর্কে যদি তোমাদের মনে কোনো সন্দেহ থাকে তাহলে (তোমরা আমার সৃষ্টি প্রক্রিয়া ভেবে দেখো-) আমি তোমাদের (প্রথমত) মাটি থেকে, অতপর শুক্র থেকে, অতপর রক্তপিন্ড থেকে, তারপর মাংসপিন্ড থেকে পয়দা করেছি, যা আকৃতি বিশিষ্ট (হয়ে সন্তানে পরিণত হয়েছে) কিংবা আকৃতি বিশিষ্ট না হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে- যেন আমি তোমাদের কাছে (আমার সৃষ্টি কৌশল) প্রকাশ করে দিতে পারি; (অতপর আরো লক্ষ্য করো, ) আমি (শুক্রবিন্দুসমূহের মাঝে) যাকে (পূর্ণ মানুষ বানাতে) চাই তাকে জরায়ুতে একটি সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান করাই, অতপর আমি তোমাদের একটি শিশু হিসেবে (সেখান থেকে) বের করে আনি, অতপর তোমরা তোমাদের পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করো, তোমাদের মধ্যে কেউ (বয়োপ্রাপ্তির আগেই) মরে যায়, আবার তোমাদের অকর্মণ্য (বৃদ্ধ) বয়স পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়, যেন কিছু জানার পরও (তার অবস্থা এমন হয়, ) সে কিছুই (বুঝি এখন আর) জানে না; (সৃষ্টি প্রক্রিয়ার আরেকটি দিক হচ্ছে) তুমি দেখতে পাচ্ছো শুষ্ক ভূমি, অতপর আমি। যখন তার উপর (আসমান থেকে) পানি বর্ষণ করি তখন তা সরস ফলে ফুলে তাজা হয়ে ওঠে, (অতপর) তা সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উদগত করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬﴿
﴾ ২২:৬ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِي الْمَوْتَى وَأَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٦﴾
এগুলো এ জন্যেই (ঘটে) , আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন অমোঘ সত্য, তিনিই মৃতকে জীবন দান করেন এবং সব কিছুর উপর তিনিই একক মতাবান,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭﴿
﴾ ২২:৭ ﴿
وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ ﴿٧﴾
অবশ্যই কেয়ামত আসবে, তাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই, যারা কবরে (শুয়ে) আছে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাদের পুনরুত্থিত করবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৮﴿
﴾ ২২:৮ ﴿
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ ﴿٨﴾
(তারপরও) মানুষদের মধ্যে এমন কিছু আছে যে ব্যক্তি কোনো রকম জ্ঞান, পথনির্দেশ ও দীপ্তিমান কিতাব (প্রদত্ত তথ্য) ছাড়াই আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে (ধৃষ্টতাপূর্ণ) বিতন্ডা শুরু করে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৯﴿
﴾ ২২:৯ ﴿
ثَانِيَ عِطْفِهِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَنُذِيقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَذَابَ الْحَرِيقِ ﴿٩﴾
যাতে মানুষদের সে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করে দিতে পারে; যে ব্যক্তি এমন করে তার জন্যে দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা ও অপমান, (শুধু তাই নয়, ) কেয়ামতের দিন আমি তাকে (জাহান্নামের) আগুনের কঠিন শাস্তিও আস্বাদন করাবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১০﴿
﴾ ২২:১০ ﴿
ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ يَدَاكَ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ ﴿١٠﴾
(আমি তাকে বলবো, এ হচ্ছে তোমার সেই কর্মফল যা তোমার হাত দুটো (আগেই এখানে) পাঠিয়ে দিয়েছে, আর আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের প্রতি কখনো (এতো) বড়ো যালেম নন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১১﴿
﴾ ২২:১১ ﴿
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انْقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ ﴿١١﴾
মানুষের মধ্যে এমন কিছু আছে যে ঈমানের (একান্ত) প্রান্তসীমার উপর (থেকে) আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করে, যদি (এতে) তার কোনো (পার্থিব) উপকার হয় তাহলে সে (ঈমানের ব্যাপারে) নিশ্চিত হয়ে যায়, কিন্তু যদি কোনো দুঃখ কষ্ট তাকে পেয়ে বসে তাহলে তার মুখ পুনরায় (কুফরীর দিকেই) ফিরে যায়, (এভাবে) সে দুনিয়াও হারায় এবং আখেরাতও হারায়, আর এটা হচ্ছে আসলেই এক সুস্পষ্ট তি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১২﴿
﴾ ২২:১২ ﴿
يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُ وَمَا لَا يَنْفَعُهُ ذَلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيدُ ﴿١٢﴾
এ (নির্বোধ) ব্যক্তিরা আল্লাহর বদলে এমন কিছুকে ডাকে, যা তার কোনো অপকারও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না; এটা হচ্ছে (এক) চরমতম গোমরাহী,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১৩﴿
﴾ ২২:১৩ ﴿
يَدْعُو لَمَنْ ضَرُّهُ أَقْرَبُ مِنْ نَفْعِهِ لَبِئْسَ الْمَوْلَى وَلَبِئْسَ الْعَشِيرُ ﴿١٣﴾
ওরা এমন কিছুকে ডাকে, যার তি তার উপকারের চেয়ে বেশী নিকটতর; কতো নিকৃষ্ট (এদের) অভিভাবক, কতো নিকৃষ্ট (সে অভিভাবকের) সহচর!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১৪﴿
﴾ ২২:১৪ ﴿
إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ ﴿١٤﴾
(পক্ষান্তরে) যারা (আল্লাহ তায়ালার উপর) ঈমান আনে এবং নেক কাজ করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে (সুপেয়) ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা যা চান। তাই করেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১৫﴿
﴾ ২২:১৫ ﴿
مَنْ كَانَ يَظُنُّ أَنْ لَنْ يَنْصُرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَلْيَمْدُدْ بِسَبَبٍ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ لْيَقْطَعْ فَلْيَنْظُرْ هَلْ يُذْهِبَنَّ كَيْدُهُ مَا يَغِيظُ ﴿١٥﴾
যদি কেউ মনে করে, আল্লাহ তায়ালা (যাকে নবুওত দিয়েছেন) তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে কোনো সাহায্যই করবেন না, তাহলে (নিজের পরিতৃপ্তির জন্যে) সে যেন আসমান পর্যন্তএকটি রশি ঝুলিয়ে নেয়, অতপর (আসমানে গিয়ে) যেন (ওহী আগমনের ধারা) কেটে দিয়ে আসে, তারপর নিজেই যেন দেখে নেয়, যে জিনিসের প্রতি তার এতো আক্রোশ, (তার) এ কৌশল তা দূর করতে পারে কিনা।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১৬﴿
﴾ ২২:১৬ ﴿
وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَأَنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يُرِيدُ ﴿١٦﴾
এভাবেই সুস্পষ্ট নিদর্শনের মাধ্যমে আমি এ (কোরআন) -টি নাযিল করেছি, আল্লাহ তায়ালা যাকে চান সঠিক পথের হেদায়াত দান করেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১৭﴿
﴾ ২২:১৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئِينَ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا إِنَّ اللَّهَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ ﴿١٧﴾
যারা (আল্লাহর উপর) ঈমান এনেছে, যারা ইহুদী হয়ে গেছে, যারা ছিলো 'সাবেয়ী’, (যারা) খৃস্টান ও অগ্নিপূজক, (সর্বোপরি) যারা আল্লাহর সাথে শেরেক করেছে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা এদের সবার (জান্নাত ও দোযখের) ফয়সালা করে দেবেন; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বস্তুর উপর একক পর্যবেক।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১৮﴿
﴾ ২২:১৮ ﴿
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ ﴿١٨﴾
তুমি কি এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য করোনি, যতো (সৃষ্টি) আসমানসমূহে আছে, যতো আছে যমীনে- সবকিছুই আল্লাহ তায়ালাকে সাজদা করছে, সাজদা করছে সূর্য চন্দ্র, তারকারাজি, পর্বতসমূহ, বৃলতা, যমীনের উপর বিচরণশীল সব জীবজন্তু, (সর্বোপরি) মানুষের মধ্যেও অনেকে; এ মানুষদের অনেকের উপর (না-ফরমানীর কারণে) আল্লাহর আযাব অবধারিত হয়ে আছে; আসলে আল্লাহ তায়ালা যাকে অপমানিত করেন তাকে সম্মান দেয়ার কেউই নেই, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাই করেন যা তিনি এরাদা করেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:১৯﴿
﴾ ২২:১৯ ﴿
هَذَانَ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِنْ نَارٍ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمُ الْحَمِيمُ ﴿١٩﴾
১৯, এ হচ্ছে (বিপরীতমুখী) দুটো দল, যারা নিজেদের মালিকের ব্যাপারে (একে অন্যের সাথে) বিতর্ক করলো, অতপর এদের মধ্যে যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করে তাদের (পরিধান করানোর) জন্যে আগুনের পোশাক কেটে রাখা হয়েছে; শুধু তাই নয়, তাদের মাথার উপর সেদিন প্রচন্ড গরম পানি ঢেলে দেয়া হবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২০﴿
﴾ ২২:২০ ﴿
يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ ﴿٢٠﴾
তার ফলে যা কিছু তাদের পেটের ভেতর আছে তা সব এবং চামড়াগুলো গলে যাবে;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২১﴿
﴾ ২২:২১ ﴿
وَلَهُمْ مَقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ ﴿٢١﴾
তাদের (শাস্তির) জন্যে সেখানে আরো থাকবে (বড়ো বড়ো) লোহার গদা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২২﴿
﴾ ২২:২২ ﴿
كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا فِيهَا وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ ﴿٢٢﴾
যখনই তারা (দোযখের) তীব্র যন্ত্রণায় (অস্থির হয়ে) তা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে, তখনই তাদের পুনরায় (ধাক্কা দিয়ে তাতে ঠেলে দেয়া হবে (বলা হবে) , জ্বলনের প্রচন্ড যন্ত্রণা আজ তোমরা আস্বাদন করো (এরা ছিলো বিতর্কের প্রথম দল, যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করেছে) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২৩﴿
﴾ ২২:২৩ ﴿
إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ ﴿٢٣﴾
(বিতর্কের দ্বিতীয় দল) যারা (আল্লাহ তায়ালার উপর) ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাদের এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে (অমীয়) ঝর্ণাধারা প্রবাহমান থাকবে, সেখানে তাদের সোনার কাঁকন ও মুক্তা (দিয়ে বানানো মালা) দ্বারা অলংকৃত করা হবে; উপর ন্তু সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২৪﴿
﴾ ২২:২৪ ﴿
وَهُدُوا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوا إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ ﴿٢٤﴾
(এসব পুরস্কার তাদের এ কারণেই দেয়া হবে যে, দুনিয়ায়) তাদের ভালো কথার দিকে হেদায়াত করা হয়েছিলো এবং মহাপ্রশংসিত আল্লাহ তায়ালার পথ তাদের দেখানো হয়েছিলো (এবং তারা যথাযথ তা মেনেও নিয়েছিলো) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২৫﴿
﴾ ২২:২৫ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِي جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ سَوَاءً الْعَاكِفُ فِيهِ وَالْبَادِ وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٢٥﴾
অবশ্যই যারা (নিজেরা) কুফরী করে এবং (অন্যদেরও) আল্লাহর পথে চলতে বাধা দেয়, (বাধা দেয়) । মানুষদের মাসজিদুল হারাম (-এর তাওয়াফ ও যেয়ারত) থেকে- যাকে আমি স্থানীয় অস্থানীয় নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য একই রকম (মর্যাদার স্থান) বানিয়েছি (এমন লোকদের মনে রাখতে হবে) ; যারা তাতে (হারাম শরীফে) ইচ্ছাপূর্বক আল্লাহবিরোধী কাজ করবে, আমি তাদের (সবাইকে) কঠিন আযাব আস্বাদন করাবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২৬﴿
﴾ ২২:২৬ ﴿
وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ ﴿٢٦﴾
(হে নবী, স্মরণ করো, ) যখন আমি ইবরাহীমকে এ (কাবা) ঘর নির্মাণের জন্যে স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম (তখন তাকে আদেশ দিয়েছিলাম) , আমার সাথে অন্য কিছুকে শরীক করো না, আমার (এ) ঘর তাদের জন্যে পবিত্র রেখে যারা (এর) তাওয়াফ করবে, যারা (এখানে নামাযের জন্যে) দাঁড়াবে, রুকু করবে, সাজদা করবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২৭﴿
﴾ ২২:২৭ ﴿
وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ ﴿٢٧﴾
(তাকে আরো আদেশ দিয়েছিলাম, ) তুমি মানুষদের মাঝে হজ্জের ঘোষণা (প্রচার করে) দাও, যাতে করে তারা তোমার কাছে পায়ে হেঁটে ও সর্বপ্রকার দুর্বল উটের পিঠে আরোহণ করে ছুটে আসে, (ছুটে আসে) দূরদূরা ন্তর পথ অতিক্রম করে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২৮﴿
﴾ ২২:২৮ ﴿
لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ﴿٢٨﴾
যাতে করে তারা তাদের নিজেদেরই ফায়দার জন্যে (সময়মতো) এখানে এসে হাযির হয় এবং নির্দিষ্ট দিনসমূ হে (কোরবানী করার) সময় তার উপর আল্লাহ তায়ালার নাম নেয়, যা তিনি তোমাদের দান করেছেন, অতপর (কোরবানীর) এ গোশত থেকে (কিছু) তোমরা (নিজেরা) খাবে, দুস্থ এবং অভাবগ্রস্তদেরও তার কিছু অংশ দিয়ে আহার করাবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:২৯﴿
﴾ ২২:২৯ ﴿
ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ ﴿٢٩﴾
অতপর তারা যেন এখানে এসে তাদের (যাবতীয়) ময়লা কালিমা দূর করে, নিজেদের মানতসমূহ পুরা করে, (বিশেষ করে) এ প্রাচীন ঘরটির যেন তারা তাওয়াফ করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩০﴿
﴾ ২২:৩০ ﴿
ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ وَأُحِلَّتْ لَكُمُ الْأَنْعَامُ إِلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ ﴿٣٠﴾
এ হচ্ছে (কাবা ঘর বানানোর) উদ্দেশ্য, যে কেউই আল্লাহ তায়ালার (নির্ধারিত) পবিত্র অনুষ্ঠানমালার সম্মান করে, এটা তার জন্যে তার মালিকের কাছে (একটি) উত্তম কাজ (বলে বিবেচিত হবে, একথাও মনে রেখো) , সেসব জন্তু ছাড়া- সেগুলোর কথা তোমাদের উপর (কোরআনে) পাঠ করা হয়েছে, অন্য সব চতুষ্পদ জন্তুই তোমাদের জন্যে হালাল করা হয়েছে, অতএব তোমরা (এখন) মূর্তি (পূজা) -র অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থেকো এবং বেঁচে থেকো (সব ধরনের মিথ্যা কথা থেকে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩১﴿
﴾ ২২:৩১ ﴿
حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ ﴿٣١﴾
আল্লাহ তায়ালার প্রতি নিষ্ঠাবান হও, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সাথে (অন্য কাউকে) শরীক করে, তার অবস্থা হচ্ছে, সে যেন আসমান থেকে ছিটকে পড়লো, অতপর (মাঝপথেই) কোনো পাখী যেন তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো, কিংবা (আসমান থেকে যমীনে পড়ার আগেই) বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরের কোনো (অজ্ঞাতনামা) স্থানে ফেলে দিলে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩২﴿
﴾ ২২:৩২ ﴿
ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ ﴿٣٢﴾
এ হলো (মুশরিকদের পরিণাম, অপর দিকে) কেউ আল্লাহ তায়ালার নিদর্শনসমূহকে সম্মান করলে তা তার অন্তরের পরহেযগারীর মধ্যেই (শামিল) হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩৩﴿
﴾ ২২:৩৩ ﴿
لَكُمْ فِيهَا مَنَافِعُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى ثُمَّ مَحِلُّهَا إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ ﴿٣٣﴾
(হে মানুষ, ) এসব (পশু) থেকে তোমাদের জন্যে এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত নানাবিধ উপকার (গ্রহণ করার ব্যবস্থা) রয়েছে, অতপর (মনে রেখো, ) তাদের (কোরবানীর) স্থান হচ্ছে প্রাচীন ঘরটির সন্নিকটে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩৪﴿
﴾ ২২:৩৪ ﴿
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ ﴿٣٤﴾
প্রত্যেক জাতির জন্যে আমি (পশু) কোরবানীর এ নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে করে (সেই জাতির) লোকেরা সেসব পশুর উপর আল্লাহ তায়ালার নাম নিতে পারে, যা তিনি তাদের দান করেছেন; সুতরাং তোমাদের মাবুদ তো হচ্ছেন একজন, অতএব তোমরা তাঁরই সামনে আনুগত্যের মাথা নত করো; (হে নবী, ) তুমি (আমার) বিনীত বান্দাদের (সাফল্যের) সুসংবাদ দাও,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩৫﴿
﴾ ২২:৩৫ ﴿
الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَالصَّابِرِينَ عَلَى مَا أَصَابَهُمْ وَالْمُقِيمِي الصَّلَاةِ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ﴿٣٥﴾
(এ বিনীত বান্দা হচ্ছে তারা, ) যাদের সামনে আল্লাহ তায়ালার নাম স্মরণ করা হলে (ভয়ে) তাদের অন্তরাত্না কেঁপে ওঠে, যতো বিপদ (মসিবত তাদের উপর) আসুক না কেন যারা তার উপর ধৈর্য ধারণ করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, (সর্বোপরি) আমি তাদের যে রিযিক দান করেছি তা থেকে তারা (আমারই পথে) ব্যয় করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩৬﴿
﴾ ২২:৩৬ ﴿
وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ كَذَلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٣٦﴾
আমি তোমাদের জন্যে (কোরবানীর) উটগুলোকে আল্লাহ তায়ালার (নির্ধারিত) নিদর্শনসমূহের মধ্যে (শামিল) করেছি, এতেই তোমাদের জন্যে মংগল নিহিত রয়েছে, অতএব (কোরবানী করার সময়) তাদের (সারিবদ্ধভাবে) দাঁড় করিয়ে তাদের উপর আল্লাহ তায়ালার নাম নাও, অতপর (যবাই শেষে) তা যখন একদিকে পড়ে যায় তখন তোমরা তার (গোশত) থেকে নিজেরা খাও, যারা এমনিই (আল্লাহর রিযিকে) সন্তুষ্ট আছে তাদের এবং যারা। (তোমার কাছে) সাহায্যপ্রার্থী হয়, এদের সবাইকে খাওয়াও; এভাবেই আমি এদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছি, যাতে তোমরা (এ জন্যে) আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩৭﴿
﴾ ২২:৩৭ ﴿
لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ ﴿٣٧﴾
আল্লাহ তায়ালার কাছে কখনো (কোরবানীর) গোশত ও রক্ত পৌঁছায় না। বরং তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়াটুকুই পৌঁছায়; এভাবে আল্লাহ তায়ালা এদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে যে (দ্বীনের) পথ তিনি তোমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন তার (সে উপকারের) জন্যে তোমরা তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে পারো; (হে। নবী, ) নিষ্ঠার সাথে যারা নেক কাজ করে তুমি তাদের (জান্নাতের) সুসংবাদ দাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩৮﴿
﴾ ২২:৩৮ ﴿
إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ ﴿٣٨﴾
যারা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান আনে, আল্লাহ তায়ালাই তাদের (যালেমদের থেকে) রা করেন; এতে সন্দেহ নেই, আল্লাহ তায়ালা কখনো বিশ্বাসঘাতক ও না-শোকর বান্দাকে ভালোবাসেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৩৯﴿
﴾ ২২:৩৯ ﴿
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ ﴿٣٩﴾
যাদের বিরুদ্ধে (কাফেরদের প ক্ষ থেকে) যুদ্ধ চালানো হচ্ছিলো, তাদেরও (এখন যুদ্ধ করার) অনুমতি দেয়া গেলো, কেননা তাদের উপর সত্যিই যুলুম করা হচ্ছিলো; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা এ (মাযলুম) -দের সাহায্য করতে সম্পূর্ণ সম,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪০﴿
﴾ ২২:৪০ ﴿
الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا أَنْ يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ ﴿٤٠﴾
(এরা হচ্ছে কতিপয় মাযলুম মানুষ, ) যাদের অন্যায়ভাবে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছেশুধু এ কারণে যে, তারা বলেছিলো, আমাদের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা; যদি আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির একদলকে আরেক দল দিয়ে শায়েসন্দা না করতেন তাহলে দুনিয়ার বুক থেকে (খৃস্টান সন্যাসীদের) উপাসনালয় ও গির্জাসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেতো, (ধ্বংস হয়ে যেতো ইহুদীদের) ইবাদাতের স্থান ও (মুসলমানদের) মাসজিদসমূহও, যেখানে বেশী বেশী পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার নাম নেয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে আল্লাহ তায়ালার (দ্বীনের) সাহায্য করে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা শক্তিমান ও পরাক্রমশালী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪১﴿
﴾ ২২:৪১ ﴿
الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ ﴿٤١﴾
আমি যদি এ (মুসলমান) -দের (আমার) যমীনে (রাজনৈতিক) প্রতিষ্ঠা দান করি, তাহলে তারা (প্রথমে) নামায প্রতিষ্ঠা করবে, (দ্বিতীয়ত) যাকাত আদায় (-এর ব্যবস্থা) করবে, আর (নাগরিকদের) তারা সৎকাজের আদেশ দেবে। এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে, তবে সব কাজেরই চূড়ান্ত পরিণতি একান্তভাবে আল্লাহ তায়ালারই এখতিয়ারভুক্ত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪২﴿
﴾ ২২:৪২ ﴿
وَإِنْ يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَعَادٌ وَثَمُودُ ﴿٤٢﴾
(হে নবী, ) এ লোকেরা যদি তোমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে (তাতে তোমার উদ্বেগের কিছুই নেই) , এদের আগে নূহের জাতি, আদ ও সামুদের লোকেরাও (তাদের নবীদের) মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিলো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪৩﴿
﴾ ২২:৪৩ ﴿
وَقَوْمُ إِبْرَاهِيمَ وَقَوْمُ لُوطٍ ﴿٤٣﴾
ইবরাহীমের জাতি এবং লুতের জাতিও (তাই করেছিলো) ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪৪﴿
﴾ ২২:৪৪ ﴿
وَأَصْحَابُ مَدْيَنَ وَكُذِّبَ مُوسَى فَأَمْلَيْتُ لِلْكَافِرِينَ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ ﴿٤٤﴾
(আরো করেছে) মাদইয়ানের অধিবাসীরা, মূসাকেও মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে, তারপরও আমি (এ) কাফেরদের ঢিল দিয়ে রেখেছিলাম, অতপর (সময় এসে গেলে) আমি তাদের (ভীষণভাবে) পাকড়াও করেছি, কি ভয়ংকর ছিলো আমার (সে) আযাব!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪৫﴿
﴾ ২২:৪৫ ﴿
فَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا وَهِيَ ظَالِمَةٌ فَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَشِيدٍ ﴿٤٥﴾
আমি ধ্বংস করেছি (আরো) অনেক জনপদ, যার অধিবাসীরা ছিলো যালেম, অতপর তা (বিধ্বস্ত হয়ে) মুখ থুবড়ে পড়ে থাকলো, (কতো) কূপ পরিত্যক্ত হয়ে পড়লো, (কতো) শখের সুন্দর প্রাসাদ বিরান হয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে গেলো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪৬﴿
﴾ ২২:৪৬ ﴿
أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا أَوْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ ﴿٤٦﴾
এরা কি যমীনে ঘুরে ফিরে (এগুলো পর্যবেণ) করেনি? (পর্যবেণ করলে) এদের অন্তর এমন হবে যা দ্বারা এরা তা বুঝতে পারবে, তাদের কান এমন হবে যা দ্বারা তারা শুনতে পারবে, আসলে (অবোধ নির্বোধের) চোখ তো কখনো অন্ধ হয়ে যায় না, অন্ধ হয়ে যায় সে অন্তর, যা মনের ভেতর (লুকিয়ে) থাকে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪৭﴿
﴾ ২২:৪৭ ﴿
وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ ﴿٤٧﴾
(হে নবী, ) এরা তোমার কাছে আযাবের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করে (তুমি বলো) , আল্লাহ তায়ালা কখনো তাঁর ওয়াদার বরখেলাপ করেন না; তোমার মালিকের কাছে যা একদিন, তা তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪৮﴿
﴾ ২২:৪৮ ﴿
وَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ أَمْلَيْتُ لَهَا وَهِيَ ظَالِمَةٌ ثُمَّ أَخَذْتُهَا وَإِلَيَّ الْمَصِيرُ ﴿٤٨﴾
আরো কতো জনপদ ছিলো, তাদেরও আমি (প্রথম দিকে) চিল দিয়ে রেখেছিলাম, অথচ তারা ছিলো যালেম, অতপর (এক সময়) আমি তাদের (কঠিনভাবে) পাকড়াও করেছিলাম, (পরিশেষে সবাইকে তো) আমার কাছেই। ফিরে আসতে হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৪৯﴿
﴾ ২২:৪৯ ﴿
قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ ﴿٤٩﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, হে মানুষ, আমি (তো) তোমাদের জন্যে (আযাবের) একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫০﴿
﴾ ২২:৫০ ﴿
فَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ ﴿٥٠﴾
যারা (আল্লাহর উপর) ঈমান আনে এবং (সে অনুযায়ী) নেক কাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে (আল্লাহ তায়ালার) মা ও সম্মানজনক জীবিকা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫১﴿
﴾ ২২:৫১ ﴿
وَالَّذِينَ سَعَوْا فِي آيَاتِنَا مُعَاجِزِينَ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴿٥١﴾
(অপরদিকে) যারা আমার আয়াতসমূহ ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা করে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫২﴿
﴾ ২২:৫২ ﴿
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنْسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴿٥٢﴾
(হে নবী, ) আমি তোমার আগে এমন কোনো নবী কিংবা রসূলই পাঠাইনি (যারা এ ঘটনার সম্মুখীন হয়নি যে) , যখন সে (নবী আল্লাহর আয়াতসমূহ পড়ার) আগ্রহ প্রকাশ করলো তখন শয়তান তার সে আগ্রহের কাজে (কাফেরদের মনে) সন্দেহ ঢেলে দেয়নি, অতপর আল্লাহ তায়ালা শয়তানের নিপ্তি (সন্দেহগুলো) মিটিয়ে দেন এবং আল্লাহ তায়ালা নিজের আয়াতসমূহকে (আরো) মযবুত করে দেন, আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) জানেন, তিনি হচ্ছেন বিজ্ঞ কুশলী,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫৩﴿
﴾ ২২:৫৩ ﴿
لِيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةً لِلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ وَالْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ ﴿٥٣﴾
(এর উদ্দেশ্য হচ্ছে) যেন আল্লাহ তায়ালা (এর মাধ্যমে) শয়তানের প্রপ্তি (সন্দেহ) -গুলোকে সেসব মানুষের পরীক্ষার বিষয় বানিয়ে দিতে পারেন, যাদের অ নদরে (আগে থেকেই মুনাফিকীর) ব্যাধি আছে, উপরন্তু যারা একান্ত পাষাণ হৃদয়; অবশ্যই (এ) যালেমরা অনেক মতবিরোধ ও সন্দেহে নিমজ্জিত হয়ে আছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫৪﴿
﴾ ২২:৫৪ ﴿
وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٥٤﴾
(এটা এ কারণে, ) যাদের (আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে) জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা যেন জানতে পারে, এটাই তোমার মালিকের পক্ষ থেকে আসা সত্য, অতপর তারা যেন তাতে (পুরোপুরি) ঈমান আনে এবং তাদের মন যেন সে দিকে আরো আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫৫﴿
﴾ ২২:৫৫ ﴿
وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي مِرْيَةٍ مِنْهُ حَتَّى تَأْتِيَهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً أَوْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَقِيمٍ ﴿٥٥﴾
যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করে, তারা এ (কোরআনের) ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা থেকে কখনো বিরত হবে না, যতো ক্ষণ না একদিন আকস্মিকভাবে তাদের উপর কেয়ামত এসে পড়বে, অথবা তাদের উপর একটি অবাঞ্ছিত ও ভয়ংকর দিনের আযাব এসে পড়বে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫৬﴿
﴾ ২২:৫৬ ﴿
الْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ﴿٥٦﴾
সেদিন চূড়ানৎদ বাদশাহী হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার; তিনি তাদের সবার মাঝে ফয়সালা করবেন; অতপর যারা (তাঁর উপর) ঈমান এনেছে এবং (সে মোতাবেক) নেক কাজ করেছে, তারা (সেদিন) নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে অবস্থান করবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫৭﴿
﴾ ২২:৫৭ ﴿
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿٥٧﴾
যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তাদের জন্যে অপমানজনক আযাবের ব্যবস্থা থাকবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫৮﴿
﴾ ২২:৫৮ ﴿
وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوا أَوْ مَاتُوا لَيَرْزُقَنَّهُمُ اللَّهُ رِزْقًا حَسَنًا وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ ﴿٥٨﴾
যারা আল্লাহ তায়ালার পথে (তাঁরই সন্তুষ্টির জন্যে) নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে গেছে, পরে (আল্লাহর পথে) নিহত হয়েছে, কিংবা (এমনিই) মৃত্যু বরণ করেছে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা (কেয়ামতের দিন) তাদের উত্তম রিযিক দান করবেন; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন সর্বোত্তম রিযিকদাতা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৫৯﴿
﴾ ২২:৫৯ ﴿
لَيُدْخِلَنَّهُمْ مُدْخَلًا يَرْضَوْنَهُ وَإِنَّ اللَّهَ لَعَلِيمٌ حَلِيمٌ ﴿٥٩﴾
তিনি অবশ্যই তাদের এমন এক স্থানে প্রবেশ করাবেন যা তারা (খুবই) পছন্দ করবে; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা প্রজ্ঞাময় ও একান্ত সহনশীল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬০﴿
﴾ ২২:৬০ ﴿
ذَلِكَ وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنْصُرَنَّهُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌ ﴿٦٠﴾
এই (হচ্ছে তাদের প্রকৃত অবস্থা, ) অপরদিকে কোনো ব্যক্তি (দুশমনকে) যদি ততোটুকুই কষ্ট দেয়, যতোটুকু কষ্ট তাকে দেয়া হয়েছিলো, (তার) সাথে যদি তার উপর বাড়াবাড়িও করা হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই এ (মযলুম) ব্যক্তির সাহায্য করবেন; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা (মানুষের) পাপ মোচন করেন এবং (তাদের) ক্ষমা করে দেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬১﴿
﴾ ২২:৬১ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَأَنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ ﴿٦١﴾
এ হচ্ছে (আল্লাহর নিয়ম, ) আল্লাহ তায়ালা রাতকে দিনের মধ্যে আবার দিনকে রাতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সব কিছু শোনেন সব কিছুই দেখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬২﴿
﴾ ২২:৬২ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ ﴿٦٢﴾
এটা (হচ্ছে আল্লাহর নিয়ম, ) আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন (একমাত্র) সত্য, (প্রয়োজন পূরণের জন্যে) যাদের এরা আল্লাহ তায়ালার বদলে ডাকে, তা সম্পূর্ণ বাতিল ও মিথ্যা এবং আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন সমুচ্চ, তিনিই হচ্ছেন মহান।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬৩﴿
﴾ ২২:৬৩ ﴿
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَتُصْبِحُ الْأَرْضُ مُخْضَرَّةً إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ ﴿٦٣﴾
তুমি কি তাকিয়ে দেখোনি, আল্লাহ তায়ালা (কিভাবে) আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতপর (এ পানি পেয়ে কিভাবে) যমীন সবুজ শ্যামল হয়ে ওঠে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা স্নেহপরায়ণ, তিনি (তাদের যাবতীয়) সূক্ষ বিষয়েরও খবর রাখেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬৪﴿
﴾ ২২:৬৪ ﴿
لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ ﴿٦٤﴾
আসমানসমূহ ও যমীনে (যেখানে) যা কিছু আছে সবই তাঁর জন্যে; আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন (সব ধরনের) অভাবমুক্ত ও (যাবতীয়) প্রশংসার একমাত্র মালিক।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬৫﴿
﴾ ২২:৬৫ ﴿
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ وَالْفُلْكَ تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِأَمْرِهِ وَيُمْسِكُ السَّمَاءَ أَنْ تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ ﴿٦٥﴾
তুমি কি দেখতে পাও না, আল্লাহ তায়ালা (কিভাবে) এ যমীনে যা কিছু আছে তাকে এবং সমুদ্রে বিচরণশীল জলযানকে নিজের আদেশক্রমে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন; তিনিই আসমানকে ধরে রেখেছেন যাতে করে তা যমীনের উপর পড়ে না যায়, কিন্তু তাঁর আদেশ হলে (সেটা ভিন্ন কথা) ; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা মানুষদের সাথে স্নেহপ্রবণ ও দয়াবান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬৬﴿
﴾ ২২:৬৬ ﴿
وَهُوَ الَّذِي أَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَكَفُورٌ ﴿٦٦﴾
তিনিই তোমাদের জীবন দান করেছেন, অতপর তিনিই তোমাদের মৃত্যু দেবেন, পুনরায় তিনিই তোমাদের জীবন দান করবেন, মানুষ (আসলেই) অতিমাত্রায় অকৃতজ্ঞ (তারা সব ভুলে যায়) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬৭﴿
﴾ ২২:৬৭ ﴿
لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ إِنَّكَ لَعَلَى هُدًى مُسْتَقِيمٍ ﴿٦٧﴾
প্রত্যেক জাতির জন্যেই আমি (ইবাদাতের কিছু আচার) অনুষ্ঠান ঠিক করে দিয়েছি যা তারা পালন করে, অতএব এ ব্যাপারে তারা যেন কখনো তোমার সাথে কোনো তর্ক না করে, (মানুষদের) তুমি তোমার মালিকের দিকে ডাকতে থাকো, অবশ্যই তুমি সঠিক পথের উপর রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬৮﴿
﴾ ২২:৬৮ ﴿
وَإِنْ جَادَلُوكَ فَقُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿٦٨﴾
(তারপরও) তারা যদি তোমার সাথে বাকবিতন্ডা করে তাহলে তুমি বলে দাও, তোমরা (আমার সাথে) যা কিছু করছো আল্লাহ তায়ালা তা ভালো করেই জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৬৯﴿
﴾ ২২:৬৯ ﴿
اللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ﴿٦٩﴾
তোমরা যে সব বিষয় নিয়ে (নিজেদের মধ্যে) মতবিরোধ করছো, (কেয়ামতের দিন) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মধ্যকার সেসব বিষয়ের চূড়ান্তফয়সালা করে দেবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭০﴿
﴾ ২২:৭০ ﴿
أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ ﴿٧٠﴾
তুমি কি জানো না, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তায়ালা তার সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন, এর সবকিছু একটি কিতাবে (সংরক্ষিত) রয়েছে, এ (সংরক্ষণ প্রক্রিয়া) -টা আল্লাহ তায়ালার কাছে (অত্যন্ত) সহজ একটি কাজ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭১﴿
﴾ ২২:৭১ ﴿
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَمَا لَيْسَ لَهُمْ بِهِ عِلْمٌ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ ﴿٧١﴾
(তারপরও) তারা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে এমন সব কিছুর গোলামী করে, যার সমর্থনে আল্লাহ তায়ালা কোনো দলীল-প্রমাণ নাযিল করেননি এবং যে ব্যাপারে তাদের নিজেদের (কাছেও) কোনো জ্ঞান নেই; বস্তুত সীমালংঘনকারীদের জন্যে (কেয়ামতের দিন) কোনোই সাহায্যকারী থাকবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭২﴿
﴾ ২২:৭২ ﴿
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ تَعْرِفُ فِي وُجُوهِ الَّذِينَ كَفَرُوا الْمُنْكَرَ يَكَادُونَ يَسْطُونَ بِالَّذِينَ يَتْلُونَ عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا قُلْ أَفَأُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِنْ ذَلِكُمُ النَّارُ وَعَدَهَا اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿٧٢﴾
(হে নবী, ) যখন এদের সামনে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয় তখন তুমি কাফেরদের চেহারায় (তীব্র) অসন্তোষ দেখতে পাবে; অবস্থা দেখে মনে হয়, যারা তাদের সামনে আয়াত তেলাওয়াত করছে। এরা বুঝি এখনি তাদের উপর হামলা করবে; (হে নবী, ) তুমি (এদের) বলো, আমি কি তোমাদের এর চাইতে মন্দ কিছুর সংবাদ দেবো? (তা হচ্ছে জাহান্নামের) আগুন; আল্লাহ তায়ালা যার ওয়াদা করেছেন- (ওয়াদা করেছেন) তাদের সাথে যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করে, আবাসস্থল হিসেবে তা কতো নিকৃষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭৩﴿
﴾ ২২:৭৩ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ ﴿٧٣﴾
হে মানুষ, (তোমাদের জন্যে এখানে) একটি উদাহরণ পেশ করা হচ্ছে, কান পেতে তা শুনো; আল্লাহ তায়ালা ছাড়া তোমরা যাদের ডাকো, তারা তো কখনো ( ক্ষুদ্র) একটি মাছিও তৈরী করে দেখাতে পারবে না, যদি এ (কাজের) জন্যে তারা সবাই একত্রিতও হয়; (এমনকি) যদি সে (মাছি) তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নিয়ে যায় তবে তারা তার কাছে থেকে তাও ছাড়িয়ে নিতে পারবে না; (যাদের এতোটুকু মতা নেই) কতো দুর্বল (তারা) , যারা (এদের কাছে সাহায্য) প্রার্থনা করে; কতো দুর্বল তারা যাদের কাছে (এ সাহায্য) চাওয়া হচ্ছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭৪﴿
﴾ ২২:৭৪ ﴿
مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ ﴿٧٤﴾
এ (মূখ) ব্যক্তিরা আল্লাহ তায়ালাকে কোনো মূল্যায়নই করতে পারেনি, ঠিক যেভাবে (তাঁর মতার) মূল্যায়ন করা উচিত ছিলো; আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭৫﴿
﴾ ২২:৭৫ ﴿
اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ ﴿٧٥﴾
আল্লাহ তায়ালা (তাঁর ওহী বহন করার জন্যে) ফেরেশতাদের মধ্য থেকে বাণীবাহক মনোনীত করেন, মানুষদের ভেতর থেকেও (তিনি এটা করেন) ; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সবকিছু শোনেন ও সব কিছু দেখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭৬﴿
﴾ ২২:৭৬ ﴿
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ ﴿٧٦﴾
তাদের সামনে যা আছে তা (যেমনি) তিনি জানেন, (তেমনি) জানেন তাদের পেছনে যা আছে তাও; (কেননা একদিন) তাঁর কাছেই সবকিছুকে ফিরে যেতে হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭৭﴿
﴾ ২২:৭৭ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٧٧﴾
হে মানুষ, যারা ঈমান এনেছো, তোমরা আল্লাহ তায়ালার সামনে রুকু করো, সাজদা করো এবং তোমাদের মালিকের যথাযথ ইবাদাত করো, নেক কাজ করতে থাকো, আশা করা যায় এতে করে তোমরা মুক্তি পেয়ে যাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২২:৭৮﴿
﴾ ২২:৭৮ ﴿
وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ ﴿٧٨﴾
আর আল্লাহ তায়ালার পথে তোমরা জেহাদ করো, যেমনি তাঁর জন্যে জেহাদ করা (তোমাদের) উচিত, তিনি (দুনিয়ার নেতৃত্বের জন্যে) তোমাদেরই মনোনীত করেছেন এবং (এ) জীবন বিধানের ব্যাপারে তিনি তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি, (তোমরা প্রতিষ্ঠিত থেকো) তোমাদের (আদি) পিতা ইবরাহীমের দ্বীনের উপর; সে আগেই তোমাদের 'মুসলিম’ নাম রেখেছিলো, এর (কোরআনের) মধ্যেও (তোমাদের এ নামই দেয়া হয়েছে) , যেন (তোমাদের) রসূল তোমাদের (মুসলিম হবার) উপর সা্য প্রদান করতে পারে, আর তোমরাও (দুনিয়ার গোটা) মানব জাতির উপর (আল্লাহর দ্বীনের) সা প্রদান করতে পারো, অতএব নামায প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত আদায় করো এবং আল্লাহ তায়ালার রশি শক্তভাবে ধারণ করো, তিনিই হচ্ছেন তোমাদের একমাত্র অভিভাবক, কতো উত্তম অভিভাবক (তিনি) , কতো উত্তম সাহায্যকারী (তিনি) !
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]