🕌
النور
(২৪) আন্-নূর
৬৪
﴾২৪:১﴿
﴾ ২৪:১ ﴿
سُورَةٌ أَنْزَلْنَاهَا وَفَرَضْنَاهَا وَأَنْزَلْنَا فِيهَا آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿١﴾
(এটি একটি) সুরা, আমিই নাযিল করেছি এবং আমিই (এতে বর্ণিত বিধানসমুহ) ফরয করেছি, আমিই এতে (পরিষ্কার করে আমার) আয়াতসমুহ নাযিল করেছি, যাতে করে তোমরা (এর থেকে) শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২﴿
﴾ ২৪:২ ﴿
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٢﴾
(এ বিধানসমুহের একটি হচ্ছে, ) ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ (সংক্রান্ত বিধানটি। এদের ব্যাপারে আদেশ হচ্ছে) , তাদের প্রত্যেককে তোমরা একশাটি করে বেত্রাঘাত করবে, আল্লাহর দ্বীনের (আদেশ প্রয়োগের) ব্যাপারে ওদের প্রতি কোনো রকম দয়া যেন তোমাদের পেয়ে না বসে, যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও পরকালের উপর ঈমান এনে থাকো, (তাহলে) মু’মিনদের একটি দল যেন তাদের এ শাস্তি প্রত্যক্ষ করার জন্যে (সেখানে মজুদ) থাকে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩﴿
﴾ ২৪:৩ ﴿
الزَّانِي لَا يَنْكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ وَحُرِّمَ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ ﴿٣﴾
(আল্লাহর হুকুম হচ্ছে, ) একজন ব্যভিচারী পুরুষ কোনো ব্যভিচারিণী মহিলা কিংবা কোনো মুশরিক নারী ছাড়া অন্য কোনো ভালো নারীকে বিয়ে করবে না। অপরদিকে একজন ব্যভিচারিণী মহিলা কোনো ব্যভিচারী পুরুষ কিংবা কোনো মুশরিক পুরুষ ছাড়া অন্য কোনো ভালো পুরুষকে বিয়ে করবে না, সাধারণ মু’মিনদের জন্যে এ (বিয়ে) কে হারাম করা হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪﴿
﴾ ২৪:৪ ﴿
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ﴿٤﴾
(অপরদিকে) যারা (খামাখা) সতী সাধ্বী নারীদের উপর (ব্যভিচারের) অপবাদ আরোপ করবে এবং এর সপক্ষে চার জন সাক্ষী হাযির করতে পারবে না, তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং (ভবিষ্যতে) আর কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না, কেননা এরা হচ্ছে (নিকৃষ্ট) গুনাহগার,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫﴿
﴾ ২৪:৫ ﴿
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٥﴾
অবশ্য যেসব ব্যক্তি এ (অন্যায়ের) পর তাওবা করে এবং (নিজেদের) শুধরে নেয় (তাদের কথা আলাদা, আল্লাহ তায়ালা তাদের মাফ করে দেবেন) , আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই ক্ষমাশীল ও বড়ো দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৬﴿
﴾ ২৪:৬ ﴿
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٦﴾
আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের উপর (ব্যভিচারের) অপবাদ আরোপ করে, অথচ নিজেরা ছাড়া তাদের কাছে (অপবাদের পক্ষে) অন্য কোনো সাক্ষীও মজুদ থাকে না, সে অবস্থায় এটাই হবে তাদের সাক্ষ্য যে, তারা আল্লাহর নামে চার বার শপথ করে বলবে, অবশ্যই (এ অভিযোগের ব্যাপারে) সে সত্যবাদী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৭﴿
﴾ ২৪:৭ ﴿
وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ ﴿٧﴾
(এরপর) পঞ্চম বার (শপথ করার সময়) বলবে, মিথ্যাবাদীর উপর যেন আল্লাহ তায়ালার লানত (নাযিল) হয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৮﴿
﴾ ২৪:৮ ﴿
وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَنْ تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ ﴿٨﴾
কোনো স্ত্রীর উপর থেকেও (এভাবে আনীত অভিযোগের) শাস্তি রহিত করা হবে যদি সেও চার বার আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে, এ (পুরুষ) ব্যক্তিটি হচ্ছে আসলেই মিথ্যাবাদী,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৯﴿
﴾ ২৪:৯ ﴿
وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٩﴾
(অতপর সেও) পঞ্চম বার (শপথ করার সময়) বলবে, সে (অভিযোগকারী ব্যক্তিটি) সত্যবাদী হলে তার (অভিযুক্তের) উপরও আল্লাহর অভিশাপ নেমে আসুক।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১০﴿
﴾ ২৪:১০ ﴿
وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ وَأَنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ حَكِيمٌ ﴿١٠﴾
(হে মু’মিনরা, ) যদি তোমাদের উপর আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না থাকতো (তাহলে তোমরা এসব কিছু থেকে মাহরুম থেকে যেতে) , অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন মহান তাওবা গ্রহণকারী এবং প্রবল প্রজ্ঞাময়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১১﴿
﴾ ২৪:১১ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَكُمْ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ مَا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١١﴾
যারা এ (নবী পরিবার সম্পর্কে) মিথ্যা অপবাদ নিয়ে এসেছে, তারা তো (ছিলো) তোমাদের একটি (ক্ষুদ্র) দল, এ বিষয়টি তোমরা তোমাদের জন্য খারাপ ভেবো না, বরং (তা হচ্ছে) তোমাদের জন্যে (একান্ত) কল্যাণকর, এদের মধ্যে প্রতিটি ব্যক্তি যে যতোটুকু গুনাহ করেছে (সে ততোটুকুই তার ফল পাবে) , আর তাদের মধ্যে যে সবচাইতে বেশী (এ কাজে) অংশ গ্রহণ করেছে, তার জন্যে আযাবও রয়েছে অনেক বড়ো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১২﴿
﴾ ২৪:১২ ﴿
لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنْفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا هَذَا إِفْكٌ مُبِينٌ ﴿١٢﴾
যদি এ (মিথ্যা ঘটনা) -টি শোনার পর মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীরা নিজেদের ব্যাপারে একটা ভালো ধারণা পোষণ করতো! কতো ভালো হতো যদি (তারা একথা) বলতো, এটা হচ্ছে এক নির্জলা অপবাদ মাত্র!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১৩﴿
﴾ ২৪:১৩ ﴿
لَوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَئِكَ عِنْدَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ ﴿١٣﴾
(যারা অপবাদ রটালো) তারাই বা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী হাযির করলো না, যেহেতু তারা (প্রয়োজনীয় চার জন) সাক্ষী হাযির করতে পারেনি, তাই আল্লাহ তায়ালার কাছে তারাই হচ্ছে মিথ্যাবাদী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১৪﴿
﴾ ২৪:১৪ ﴿
وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١٤﴾
(হে মু’মিনরা, ) যদি দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদের উপর আল্লাহ তায়ালার দয়া অনুগ্রহ না থাকতো, তাহলে (একজন নবী পত্মীর) যে বিষয়টির তোমরা চর্চা করছিলে, তার জন্যে এক বড়ো ধরনের আযাব এসে তোমাদের স্পর্শ করতো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১৫﴿
﴾ ২৪:১৫ ﴿
إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ مَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ ﴿١٥﴾
তোমরা এ (মিথ্যা) -কে নিজেদের মুখে মুখে প্রচার করছিলে, নিজেদের মুখ দিয়ে এমন সব কথা বলে যাচ্ছিলে যে ব্যাপারে তোমাদের কোনো কিছুই জানা ছিলো না, তোমরা একে একটি তুচ্ছ বিষয় মনে করছিলে, কিন্তু তা ছিলো আল্লাহ তায়ালার কাছে একটি গুরুতর বিষয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১৬﴿
﴾ ২৪:১৬ ﴿
وَلَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُمْ مَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَتَكَلَّمَ بِهَذَا سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ ﴿١٦﴾
তোমরা যখন ব্যাপারটা শুনলে তখন সাথে সাথেই কেন বললে না যে, আমাদের এটা মোটেই সাজে না যে, আমরা এ ব্যাপারে কোনো কথা বলবো, আল্লাহ তায়ালা অনেক পবিত্র, অনেক মহান। সত্যিই (এ ছিলো) এক গুরুতর অপবাদ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১৭﴿
﴾ ২৪:১৭ ﴿
يَعِظُكُمُ اللَّهُ أَنْ تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَدًا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٧﴾
আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন, তোমরা যদি (সত্যিই) মু’মিন হও তাহলে কখনো এরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি করো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১৮﴿
﴾ ২৪:১৮ ﴿
وَيُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴿١٨﴾
আল্লাহ তায়ালা (তাঁর) আয়াতসমুহ স্পষ্ট করে তোমাদের সামনে বিবৃত করেন এবং আল্লাহ তায়ালা (সবকিছু) জানেন, তিনি বিজ্ঞ, কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:১৯﴿
﴾ ২৪:১৯ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿١٩﴾
যারা মু’মিনদের মাঝে (মিছে অপবাদ রটনা করে) অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্যে রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি, আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) জানেন, আর তোমরা (কিছুই) জানো না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২০﴿
﴾ ২৪:২০ ﴿
وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ وَأَنَّ اللَّهَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ ﴿٢٠﴾
(হে মু’মিনরা, ) যদি তোমাদের উপর আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ না থাকতো (তাহলে একটা বড়ো ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতো) , অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা বড়োই দয়ালু ও স্নেহপ্রবণ!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২১﴿
﴾ ২৪:২১ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ أَبَدًا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢١﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, কখনো শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না, তোমাদের মধ্যে যে কেউই শয়তানের পদাংক অনুসরণ করে (সে যেন জেনে রাখে) , সে (অভিশপ্ত শয়তান) তো তাকে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ দেবে, যদি তোমাদের উপর আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ না থাকতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে কেউই কখনো পাক পবিত্র হতে পারতো না, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে পবিত্র করেন এবং আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) শোনেন, তিনি (সব কিছু) জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২২﴿
﴾ ২৪:২২ ﴿
وَلَا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَّا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٢٢﴾
তোমাদের মধ্যে যারা (দ্বীনী) মর্যাদা ও (পার্থিব) ঐশ্বর্যের অধিকারী, তারা যেন (কখনো এ মর্মে) শপথ না করে যে, তারা (তাদের গরীব) আত্মীয় স্বজন, অভাবগ্রস্থ এবং যারা আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় হিজরত করেছে তাদের কোনোরকম সাহায্য করবে না, বরং তাদের উচিত তারা যেন তাদের ক্ষমা করে দেয় এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে, তোমরা কি এটা চাও না যে, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের গুনাহ মাফ করে দিন, আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২৩﴿
﴾ ২৪:২৩ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿٢٣﴾
যারা সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ আরোপ করে, যারা (এ অপবাদের ব্যাপারে) কোনো খবরই রাখে না, (সর্বোপরি) যারা ঈমানদার, (তাদের প্রতি অপবাদ আরোপকারী) এসব মানুষদের জন্যে দুনিয়া ও আখেরাতের উভয় স্থানেই অভিশাপ দেয়া হয়েছে, (উপরন্তু) তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২৪﴿
﴾ ২৪:২৪ ﴿
يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٢٤﴾
সেদিন তাদের উপর (স্বয়ং) তাদের জিহ্বাসমুহ, তাদের হাতগুলো ও তাদের পাগুলো তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২৫﴿
﴾ ২৪:২৫ ﴿
يَوْمَئِذٍ يُوَفِّيهِمُ اللَّهُ دِينَهُمُ الْحَقَّ وَيَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِينُ ﴿٢٥﴾
সেদিন আল্লাহ তায়ালা তাদের যথার্থ প্রাপ্য পুরোপুরি আদায় করে দেবেন এবং তারা জেনে নেবে যে, আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন সুস্পষ্ট সত্য।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২৬﴿
﴾ ২৪:২৬ ﴿
الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ أُولَئِكَ مُبَرَّءُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ ﴿٢٦﴾
(জেনে রেখো, ) নষ্ট নারীরা হচ্ছে নষ্ট পুরুষদের জন্যে, নষ্ট পুরুষরা হচ্ছে নষ্ট নারীদের জন্যে, (আবার) ভালো নারীরা হচ্ছে ভালো পুরুষদের জন্যে, ভালো পুরুষরা হচ্ছে ভালো নারীদের জন্যে, (মুনাফিক) লোকেরা (এদের সম্পর্কে) যা কিছু বলে তারা তা থেকে পাক পবিত্র, (আখেরাতে) এদের জন্যেই রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২৭﴿
﴾ ২৪:২৭ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿٢٧﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারো ঘরে সে ঘরের লোকদের অনুমতি না নিয়ে ও তার বাসিন্দাদের প্রতি সালাম না করে কখনো প্রবেশ করো না, (নৈতিকতা ও শালীনতার দিক থেকে) এটা তোমাদের জন্যে উত্তম (পন্থা, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের এসব বলে দিচ্ছেন) , যাতে করে তোমরা (কথাগুলো) মনে রাখতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২৮﴿
﴾ ২৪:২৮ ﴿
فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فِيهَا أَحَدًا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّى يُؤْذَنَ لَكُمْ وَإِنْ قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا هُوَ أَزْكَى لَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ ﴿٢٨﴾
(ঘরের দরজায় গিয়ে) যদি তোমরা কাউকে সেখানে না পাও, তাহলে সেখানে প্রবেশ করো না, যতোক্ষণ না তোমাদের (ঘরে ঢােকার) অনুমতি দেয়া হবে, যদি কোনো অসুবিধার কথা জানিয়ে) তোমাদের বলা হয় তোমরা ফিরে যাও, তাহলে তোমরা অবশ্যই (বিনা দ্বিধায়) ফিরে যাবে, এটা তোমাদের জন্যে উত্তম, তোমরা (যখন) যা কিছু করো, আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত থাকেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:২৯﴿
﴾ ২৪:২৯ ﴿
لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ مَسْكُونَةٍ فِيهَا مَتَاعٌ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا تَكْتُمُونَ ﴿٢٩﴾
তবে যেসব ঘরে কেউ বসবাস করে না, যেখানে তোমাদের কোনো মাল সামানা রয়েছে, তেমন কোনো ঘরে প্রবেশে তোমাদের কোনো পাপ নেই, (কেননা) আল্লাহ তায়ালা জানেন যা কিছু তোমরা প্রকাশ করো আবার যা কিছু তোমরা গোপন করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩০﴿
﴾ ২৪:৩০ ﴿
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ﴿٣٠﴾
(হে নবী, ) তুমি মু’মিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে (নিম্নগামী ও) সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানসমূহকে হেফাযত করে, এটাই (হচ্ছে) তাদের জন্যে উত্তম পন্থা, (কেননা) তারা (নিজেদের চোখ ও লজ্জাস্থান দিয়ে) যা করে, আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে পুর্ণাংগভাবে অবহিত রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩১﴿
﴾ ২৪:৩১ ﴿
وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٣١﴾
(হে নবী, একইভাবে) তুমি মু’মিন নারীদেরও বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাযত করে, তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না বেড়ায়, তবে তার (শরীরের) যে অংশ (এমনিই) খোলা থাকে (তার কথা আলাদা) , তারা যেন তাদের বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে রাখে, তারা যেন তাদের স্বামী, তাদের পিতা, তাদের শ্বশুর, তাদের ছেলে, তাদের স্বামীর (আগের ঘরের) ছেলে, তাদের ভাই, তাদের ভাইর ছেলে, তাদের বোনের ছেলে, তাদের (সচরাচর মেলামেশার) মহিলা, নিজেদের অধিকারভুক্ত সেবিকা দাসী, নিজেদের অধীনস্থ (এমন) পুরুষ যাদের (মহিলাদের কাছ থেকে) কোনো কিছুই কামনা করার নেই, কিংবা এমন শিশু যারা এখনো মহিলাদের গোপন অংগ সম্পর্কে কিছুই জানে না (এসব মানুষ ছাড়া তারা যেন) অন্য কারো সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, (চলার সময়) যমীনের উপর তারা যেন এমনভাবে নিজেদের পা না রাখে যে সৌন্দর্য তারা গোপন করে রেখেছিলো তা (পায়ের আওয়াযে) লোকদের কাছে জানাজানি হয়ে যায়, হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, (ত্রুটি বিচ্যুতির জন্যে) তোমরা সবাই আল্লাহর দরবারে তাওবা করো, আশা করা যায় তোমরা নাজাত পেয়ে যাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩২﴿
﴾ ২৪:৩২ ﴿
وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٣٢﴾
তোমাদের মধ্যে যাদের স্ত্রী নেই, তোমরা তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করো, (একইভাবে) তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা ভালো মানুষ তাদেরও (বিয়ে শাদীর ব্যবস্থা করো) , যদি তারা অভাবী হয়, (তাহলে) আল্লাহ তায়ালা (অচিরেই) তাঁর অনুগ্রহ দিয়ে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন, আল্লাহ তায়ালা প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩৩﴿
﴾ ২৪:৩৩ ﴿
وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّى يُغْنِيَهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَالَّذِينَ يَبْتَغُونَ الْكِتَابَ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا وَآتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَنْ يُكْرِهُّنَّ فَإِنَّ اللَّهَ مِنْ بَعْدِ إِكْرَاهِهِنَّ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٣٣﴾
যাদের বিয়ে (করে ব্যয়ভার বহন) করার সামর্থ নেই, আল্লাহ তায়ালা তাদের নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস দাসীদের ভেতর যারা (মুক্তির কোনো অগ্রিম লিখিত) চুক্তি লিখিয়ে নিতে চায়, তোমরা তাদের তা লিখে দাও, যদি তোমরা তাদের (এ চুক্তির) মধ্যে কোনো ভালো (সম্ভাবনা) বুঝতে পারো, (তাহলে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যে সম্পদ দান করেছেন তা থেকে তাদের মুক্তির সময় (মুক্তহস্তে) দান করবে, তোমাদের অধীনস্থ দাসীদের যারা সতী সাধ্বী থাকতে চায়, নিছক পার্থিব ধন সম্পদের আশায় কখনো তাদের ব্যভিচারের জন্যে বাধ্য করো না, যদি তোমাদের কেউ তাদের (এ ব্যাপারে) বাধ্য করে, (তাহলে তারা যেন আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, কারণ তাদের এ বাধ্য করার পরেও (তাওবাকারীদের প্রতি) আল্লাহ তায়ালা (হামেশাই) ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩৪﴿
﴾ ২৪:৩৪ ﴿
وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ آيَاتٍ مُبَيِّنَاتٍ وَمَثَلًا مِنَ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ ﴿٣٤﴾
(হে মু’মিনরা, ) আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমুহ নাযিল করেছি, আরো উদাহরণ (হিসেবে) পেশ করেছি তোমাদের আগে (দুনিয়া থেকে) চলে গেছে তাদের (ঘটনাগুলো) , পরহেযগার লোকদের জন্যে (তা হচ্ছে। শিক্ষণীয়) উপদেশ
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩৫﴿
﴾ ২৪:৩৫ ﴿
اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ نُورٌ عَلَى نُورٍ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٣٥﴾
আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন আসমানসমুহ ও যমীনের নূর, তাঁর এ নূরের উদাহরণ হচ্ছে তা যেমন একটি তাকের মতো, তাতে একটি প্রদীপ (রাখা) আছে, প্রদীপটি (আবার) স্থাপন করা হয়েছে (স্বচ্ছ একটি) কাচের আবরণের ভেতর, কাচের আবরণটি হচ্ছে উজ্জ্বল একটি তারার মতো তা প্রজ্বলিত করা হয় পবিত্র যয়তুন গাছ (নিসৃত তেল) দ্বারা, যা (শুধু) পুর্ব দিকের (সুর্যের আলো থেকেই আলোকপ্রাপ্ত) নয়, পশ্চিম দিকের (সুর্যের আলোকপ্রাপ্তও) নয়, (বরং এটি সব সময়ই প্রজ্বলিত থাকে) , আবার এর তেল এতো পরিষ্কার, (দেখলে) মনে হয়, তা বুঝি নিজে নিজেই জুলে ওঠবে, যদি আগুন তাকে (ততোক্ষণে) স্পর্শ না করে থাকে, (আর যদি আগুন স্পর্শ করেই ফেলে তাহলে তা হবে) নূরের উপর (আরো) নূর, আল্লাহ তায়ালা তাঁর এ নূরের দিকে যাকে চান তাকেই হেদায়াত দান করেন, আল্লাহ তায়ালা (এভাবে) মানুষদের (বোঝানোর) জন্যে নানা উপমা পেশ করে থাকেন, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কেই সম্যক অবগত আছেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩৬﴿
﴾ ২৪:৩৬ ﴿
فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ ﴿٣٦﴾
(এসব ব্যক্তিদের পাওয়া যাবে) সে ঘরসমূহে, যার মধ্যে আল্লাহ তায়ালার সম্মান মর্যাদা উন্নীত করা এবং (তাতে) তাঁর নিজের (পবিত্র) নাম স্মরণ করার জন্যে সবাইকে আদেশ দিয়েছেন, সেসব জায়গাসমুহে সকাল সন্ধ্যা (এরা) আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩৭﴿
﴾ ২৪:৩৭ ﴿
رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ ﴿٣٧﴾
তারা এমন লোক ব্যবসা বাণিজ্য যাদের কখনো আল্লাহ তায়ালা থেকে গাফেল করে দেয় না-না বেচাকেনা তাদের আল্লাহ তায়ালার স্মরণ, নামায প্রতিষ্ঠা ও যাকাত আদায় করা থেকে গাফেল রাখতে পারে, তারা সেদিনকে ভয় করে যেদিন তদের অন্তর ও দৃষ্টিশক্তি ভীতবিহ্বল হয়ে পড়বে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩৮﴿
﴾ ২৪:৩৮ ﴿
لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا وَيَزِيدَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ﴿٣٨﴾
যারা নেক কাজ করে আল্লাহ তায়ালা তাদের যথার্থ উত্তম পুরস্কার দেবেন, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তাদের যা পাওনা তার চাইতেও বেশী দান করবেন, (মূলত) আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে অপরিমিত রিযিক দান করেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৩৯﴿
﴾ ২৪:৩৯ ﴿
وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ الظَّمْآنُ مَاءً حَتَّى إِذَا جَاءَهُ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئًا وَوَجَدَ اللَّهَ عِنْدَهُ فَوَفَّاهُ حِسَابَهُ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿٣٩﴾
(অপর দিকে) যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করে তাদের (দৈনন্দিন) কার্যকলাপ মরুভূমিতে মরীচিকার মতো (একটি প্রতারণা) , পিপাসার্ত মানুষ (দূরে থেকে) তাকে পানি বলে মনে করলো, পরে যখন সে তার কাছে এলো তখন সেখানে পানির (মতো) কিছুই সে পেলো না, (এভাবে প্রতারণা ও মরীচিকার জীবন শেষ হয়ে গেলে) সে শুধু আল্লাহ তায়ালাকেই তার পাশে পাবে, অতপর তিনি তার পাওনা পুর্ণমাত্রায় আদায় করে দেবেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা ত্বরিত হিসাব গ্রহণে সক্ষম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪০﴿
﴾ ২৪:৪০ ﴿
أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ سَحَابٌ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَا أَخْرَجَ يَدَهُ لَمْ يَكَدْ يَرَاهَا وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ ﴿٤٠﴾
কিংবা (তাদের কর্মকান্ডের উদাহরণ হচ্ছে) অতল সমুদ্রের অভ্যন্তরস্থ গভীর অন্ধকারের মতো, অতপর তাকে একটি বিশাল আকারের ঢেউ এসে ঢেকে (আরো অন্ধকার করে) দিলো, তার উপর আরো একটি ঢেউ (এলো) , তার উপর (ছেয়ে গেলো কিছু) ঘন কালো মেঘ, এক অন্ধকারের উপর (এলো) আরেক অন্ধকার, যদি কেউ (এ অবস্থায়) তার হাত বার করে, (আঁধারের কারণে) তার তা দেখার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না, বস্তুত আল্লাহ তায়ালা যার জন্যে কোনো আলো বানাননি তার জন্যে তো (কোথাও থেকে) আলো থাকবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪১﴿
﴾ ২৪:৪১ ﴿
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُسَبِّحُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالطَّيْرُ صَافَّاتٍ كُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَهُ وَتَسْبِيحَهُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ ﴿٤١﴾
(হে মানুষ, ) তুমি কি (ভেবে) দেখোনি, যতো (সৃষ্টি) আসমানসমূহ ও পৃথিবীতে আছে, তারা (সবাই) আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, আর পাখীকুল যারা পাখা বিস্তার করে (আকাশে ওড়ে চলেছে) , তারা সবাইও (এ কাজ করে চলেছে, ) তিনি তার সৃষ্টির প্রত্যেকের প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জানেন, এরা যে যা করছে। আল্লাহ তায়ালা তা সম্যক অবগত রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪২﴿
﴾ ২৪:৪২ ﴿
وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ ﴿٤٢﴾
(মুলত) আসমানসমূহ ও যমীনের যাবতীয় সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহরই জন্যে, (সব কিছুকে) তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪৩﴿
﴾ ২৪:৪৩ ﴿
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُزْجِي سَحَابًا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيْنَهُ ثُمَّ يَجْعَلُهُ رُكَامًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَالِهِ وَيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ جِبَالٍ فِيهَا مِنْ بَرَدٍ فَيُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَصْرِفُهُ عَنْ مَنْ يَشَاءُ يَكَادُ سَنَا بَرْقِهِ يَذْهَبُ بِالْأَبْصَارِ ﴿٤٣﴾
তুমি কি দেখো না, আল্লাহ তায়ালাই (এ) মেঘমালা সঞ্চালিত করেন, অতপর তিনি তাকে (তার টুকরোগুলোর) সাথে জুড়ে দেন, তারপর তাকে স্তরে স্তরে সাজিয়ে (পুঞ্জীভূত করে রাখেন) , অতপর এক সময় তুমি মেঘের ভেতর থেকে বৃষ্টি (-র ফোঁটাসমুহ) বেরিয়ে আসতে দেখবে, (আরো দেখবে) আসমানের শিলাস্তর থেকে তিনি শিলা বর্ষণ করেন এবং যার উপর চান তার উপর তা বর্ষণ করেন, (আবার) যাকে চান তাকে তিনি তার (আঘাত) থেকে অব্যাহতিও দেন, মেঘের বিদ্যুত ঝলক (চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দেয়) , মনে হয় তা বুঝি দৃষ্টি (শক্তিকে এক্ষুণি) নিষ্প্রভ করে দিয়ে যাবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪৪﴿
﴾ ২৪:৪৪ ﴿
يُقَلِّبُ اللَّهُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ ﴿٤٤﴾
আল্লাহ তায়ালাই রাত ও দিনের পরিবর্তন ঘটান, অবশ্যই অন্তরদৃষ্টিস্মপন্ন মানুষদের জন্যে এর মাঝে (আল্লাহ তায়ালার কুদরতের) অনেক শিক্ষা রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪৫﴿
﴾ ২৪:৪৫ ﴿
وَاللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَابَّةٍ مِنْ مَاءٍ فَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَى بَطْنِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَى رِجْلَيْنِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَمْشِي عَلَى أَرْبَعٍ يَخْلُقُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٤٥﴾
আল্লাহ তায়ালা বিচরণশীল প্রতিটি জীবকেই পানি থেকে পয়দা করেছেন, অতপর তাদের মধ্যে কিছু চলে তার বুকের উপর ভর দিয়ে, কিছু চলে দু'পায়ের উপর, (আবার) কিছু চলে চার (পা) -এর উপর (ভর করে) , আল্লাহ তায়ালা যখন যা চান তখন তাই পয়দা করেন, অবশ্যই তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪৬﴿
﴾ ২৪:৪৬ ﴿
لَقَدْ أَنْزَلْنَا آيَاتٍ مُبَيِّنَاتٍ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٤٦﴾
আমি অবশ্যই (হেদায়াতের কথা) সুস্পষ্ট করার আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, আর (এর মাধ্যমে) আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে সহজ সরল পথে পরিচালিত করেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪৭﴿
﴾ ২৪:৪৭ ﴿
وَيَقُولُونَ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُولَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ ﴿٤٧﴾
(যারা মুনাফিক) তারা বলে, আমরা আল্লাহ তায়ালা ও রসূলের উপর ঈমান এনেছি এবং আমরা তাঁর আনুগত্য করি। (অথচ) এর একটু পরেই তাদের একটি দল আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের আদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, (বস্তুত) ওরা আসলে মু’মিন নয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪৮﴿
﴾ ২৪:৪৮ ﴿
وَإِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ مُعْرِضُونَ ﴿٤٨﴾
যখন ওদের (সত্যি সত্যিই) আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে করে (আল্লাহর রসূলের পক্ষ থেকে) তাদের পারস্পরিক (বিরোধের) মীমাংসা করা যায়, তখন তাদের একটি দল পাশ কেটে সরে পড়ে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৪৯﴿
﴾ ২৪:৪৯ ﴿
وَإِنْ يَكُنْ لَهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ ﴿٤٩﴾
যদি এ (বিচার ফয়সালার) বিষয়টা তাদের সপক্ষে যায়, তাহলে তারা একান্ত বিনীতভাবে তাঁর কাছে ছুটে আসে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫০﴿
﴾ ২৪:৫০ ﴿
أَفِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَمِ ارْتَابُوا أَمْ يَخَافُونَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ بَلْ أُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٥٠﴾
এদের অন্তরে কি (কুফুরের কোনো) ব্যাধি আছে, না এরা (রসূলের নবুওতের ব্যাপারে) সন্দেহ পোষণ করে, অথবা এরা কি ভয় করে, আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুল ওদের প্রতি কোনো রকম অবিচার করবেন? (আসলে তা নয়, ) বরং তারা নিজেরাই হচ্ছে যালেম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫১﴿
﴾ ২৪:৫১ ﴿
إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿٥١﴾
(অপর দিকে) ঈমানদার লোকদের যখন তাদের পারস্পরিক বিচার ফয়সালার জন্যে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের দিকে আহ্বান জানানো হয়, তখন (খুশী মনেই) তারা বলে, হ্যাঁ, আমরা (আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের আদেশ) শোনলাম এবং তা (যথাযথ) মেনেও নিলাম, বস্তুত এরাই হচ্ছে সফলকাম ব্যক্তি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫২﴿
﴾ ২৪:৫২ ﴿
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ ﴿٥٢﴾
যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে এবং তাঁর নাফরমানী (করা) থেকে বেঁচে থাকে, তারাই হচ্ছে সফলকাম ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫৩﴿
﴾ ২৪:৫৩ ﴿
وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَئِنْ أَمَرْتَهُمْ لَيَخْرُجُنَّ قُلْ لَا تُقْسِمُوا طَاعَةٌ مَعْرُوفَةٌ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿٥٣﴾
(হে নবী, ) এ (মুনাফিক) লোকেরা আল্লাহ তায়ালার নামে শক্ত কসম খেয়ে বলে (আমরা তোমার এতোই অনুগত যে) , তুমি যদি আদেশ করো তাহলে আমরা (ঘরবাড়ী ছেড়ে) অবশ্যই তোমার সাথে বেরিয়ে যাবো। (হে নবী, ) তুমি বলো, তোমরা (বেশী) শপথ করো না, (তোমাদের) আনুগত্য (আমার তো) জানাই (আছে) , তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তায়ালা তা ভালো করেই জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫৪﴿
﴾ ২৪:৫৪ ﴿
قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴿٥٤﴾
(হে নবী, ) তুমি (এদের আরো) বলো, তোমরা আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য করো, আনুগত্য করো আল্লাহর রসূলের (হ্যাঁ) , তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও (তাহলে জেনে রেখো) , আল্লাহ তায়ালার দ্বীন পৌছানোর যে দায়িত্ব তার উপর দেয়া হয়েছে তার জন্যে সে দায়ী, (অপরদিকে আনুগত্যের) যে দায়িত্ব তোমাদের উপর দেয়া হয়েছে তার জন্যে তোমরা দায়ী, যদি তোমরা তার কথামতো চলো তাহলে তোমরা সঠিক পথ পাবে, রসূলের কাজ হচ্ছে (আল্লাহ তায়ালার কথাগুলো) ঠিক ঠিক মতো পৌঁছে দেয়া।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫৫﴿
﴾ ২৪:৫৫ ﴿
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ﴿٥٥﴾
তোমাদের মধ্যে যারা (আল্লাহ তায়ালার উপর) ঈমান আনে এবং (সে অনুযায়ী) নেক কাজ করে, তাদের সাথে আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা করেছেন, তিনি যমীনে তাদের অবশ্যই খেলাফত দান করবেন যেমনিভাবে তিনি তাদের আগের লোকদের খেলাফত দান করেছিলেন, (সর্বোপরি) যে জীবন বিধান তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন তাও তাদের জন্যে (সমাজে ও রাষ্ট্রে) সুদৃঢ় করে দেবেন, তাদের ভীতিজনক অবস্থার পর তিনি তাদের অবস্থাকে (নিরাপত্তা ও) শান্তিতে বদলে দেবেন, (তবে এ জন্যে শর্ত হচ্ছে) তারা শুধু আমারই গোলামী করবে, আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না, এরপরও যে (এবং যারা) তাঁর নেয়ামতের নাফরমানী করবে তারাই গুনাহগার (বলে পরিগণিত হবে) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫৬﴿
﴾ ২৪:৫৬ ﴿
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿٥٦﴾
(হে মুসলমানরা, তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত দাও, রসূলের আনুগত্য করো, আশ করা যায় তোমাদের উপর দয়া (ও অনুগ্রহ) করা হবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫৭﴿
﴾ ২৪:৫৭ ﴿
لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَمَأْوَاهُمُ النَّارُ وَلَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿٥٧﴾
কাফেরদের ব্যাপারে কখনো একথা ভেবো না যে, তারা যমীনে (আমাকে) অক্ষম করে দিতে পারবে, তাদের। ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম, (আর) কতো নিকৃষ্ট এ ঠিকানায়
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫৮﴿
﴾ ২৪:৫৮ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِنْ قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُمْ مِنَ الظَّهِيرَةِ وَمِنْ بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ وَلَا عَلَيْهِمْ جُنَاحٌ بَعْدَهُنَّ طَوَّافُونَ عَلَيْكُمْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴿٥٨﴾
হে (মানুষ, ) তোমরা যারা ঈমান এনেছো (মনে রেখো) , তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস দাসীরা এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা এখনো বয়োপ্রাপ্ত হয়নি, তারা যেন তিনটি সময়ে তোমাদের (কাছে আসার জন্যে) অনুমতি চেয়ে নেয় (সে সময়গুলো হচ্ছে) , ফজর নামাযের আগে, দুপুরে যখন তোমরা (কিছুটা আরাম করার জন্যে) নিজেদের পরিধেয় বস্তু (শিথিল করে) রাখো এবং এশার নামাযের পর। (মুলত) এ তিনটি (সময়) হচ্ছে তোমাদের পর্দা অবলম্বনের (সময়) , এগুলো ছাড়া (অন্য সময়ে আসা যাওয়ার ব্যাপারে) তোমাদের উপর কোনো দোষ নেই, না এতে তাদের জন্যে কোনো রকমের দোষ আছে, (কেননা) তোমরা তো প্রায়ই একে অপরের কাছে সব সময়ই যাতায়াত করে থাকো, আল্লাহ তায়ালা এভাবেই (নিজের) নির্দেশগুলো তোমাদের জন্যে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, (বস্তুত) আল্লাহ তায়ালা মহাজ্ঞানী, তিনি প্রবল প্রজ্ঞাবান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৫৯﴿
﴾ ২৪:৫৯ ﴿
وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴿٥٩﴾
তোমাদের (নিজেদের) সন্তানরাও যখন বয়োপ্রাপ্ত হয়ে যায় তখন তারা যেন (তোমাদের কামরায় প্রবেশের আগে) সেভাবেই অনুমতি নেয়, যেভাবে তাদের আগে (বড়োরা) অনুমতি নিতো, আল্লাহ তায়ালা এভাবেই তাঁর আয়াতসমূহকে তোমাদের কাছে খুলে খুলে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) জানেন, তিনি পরম কুশলী বটে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৬০﴿
﴾ ২৪:৬০ ﴿
وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَنْ يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٦٠﴾
বৃদ্ধা নারী, যাদের এখন আর কারো বিয়ের (বন্ধনে আসার) আশা নেই, তাদের উপর কোনো দোষ নেই, যদি তারা তাদের (শরীর থেকে অতিরিক্ত) কাপড় খুলে রাখে, (তবে শর্ত হচ্ছে) তারা সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী হবে না, (অবশ্য) এ (অতিরিক্ত কাপড় খোলা) থেকেও যদি তারা বিরত থাকতে পারে তা (তাদের জন্যে) ভালো, আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) শোনেন, আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৬১﴿
﴾ ২৪:৬১ ﴿
لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَنْ تَأْكُلُوا مِنْ بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ آبَائِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ إِخْوَانِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخَوَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَعْمَامِكُمْ أَوْ بُيُوتِ عَمَّاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخْوَالِكُمْ أَوْ بُيُوتِ خَالَاتِكُمْ أَوْ مَا مَلَكْتُمْ مَفَاتِحَهُ أَوْ صَدِيقِكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَأْكُلُوا جَمِيعًا أَوْ أَشْتَاتًا فَإِذَا دَخَلْتُمْ بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٦١﴾
যে ব্যক্তি অন্ধ তার উপর কোনো (বিধি নিষেধের) সংকীর্ণতা নেই, যে পঙ্গু তার উপর কোনো (বিধি নিষেধের) সংকীর্ণতা নেই, যে ব্যক্তি অসুস্থ তার উপরও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং তোমাদের নিজেদের উপরও কোনো দোষ নেই যদি তোমরা তোমাদের নিজেদের ঘর থেকে কিছু খেয়ে নাও, একইভাবে এটাও তোমাদের জন্যে দূষণীয় হবে না, যদি তোমরা তোমাদের পিতা (পিতামহের) ঘরে, মায়েদের ঘরে, ভাইদের ঘরে, বোনদের ঘরে, চাচাদের ঘরে, ফুফুদের ঘরে, মামাদের ঘরে, খালাদের ঘরে, (আবার) এমন সব ঘরে যার চাবি তোমাদের অধিকারে রয়েছে, কিংবা তোমাদের বন্ধুদের ঘরে (কিছু খাও) , অতপর এতেও কোনো দোষ নেই যে, (এসব জায়গায়) তোমরা সবাই একত্রে খাবে কিংবা আলাদা আলাদা খাবে, তবে যখনি (এসব) ঘরে প্রবেশ করবে তখন একে অপরের প্রতি সালাম করবে, এটা হচ্ছে আল্লাহর কাছ থেকে (তাঁরই নির্ধারিত) কল্যাণময় এক পবিত্র অভিবাদন, এভাবেই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে তাঁর আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে করে তোমরা বুঝতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৬২﴿
﴾ ২৪:৬২ ﴿
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ أُولَئِكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأْذَنْ لِمَنْ شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ ﴿٦٢﴾
(খাঁটি ঈমানদার ব্যক্তি তো হচ্ছে তারা, ) যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান আনে, কখনো যদি তারা কোনো সমষ্টিগত ব্যাপারে তার সাথে একত্রিত হয় তাহলে যতোক্ষণ তারা তার কাছ থেকে অনুমতি চাইবে , ততোক্ষণ তারা (সেখান থেকে) কেউ সরে যাবে না, (হে নবী, ) যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের উপর বিশ্বাস করে, যদি তারা কখনো তাদের নিজেদের কোনো কাজে (বাইরে যাবার জন্যে) তোমার কাছে অনুমতি চায়, তাহলে তুমি যাকে ইচ্ছা তাকে অনুমতি দিয়ো এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে এদের গুনাহ মাফের জন্যে দোয়া করো, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৬৩﴿
﴾ ২৪:৬৩ ﴿
لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٦٣﴾
(হে মুসলমানরা, ) যখন নবী তোমাদের ডাকে, তখন তাঁর ডাককে পারস্পরিক ডাকের মতো মনে করো না, আল্লাহ তায়ালা সেসব লোকদের ভালো করেই জানেন যারা (নিজেদের) আড়াল করে (নবীর) সামনে থেকে (নানা অজুহাতে) সরে যায়, সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের এ ব্যাপারে ভয় করা উচিত, তাদের উপর (এ বিরুদ্ধাচরণের জন্যে এ দুনিয়ায়) কোন বিপর্যয় এসে পড়বে কিংবা (পরকালে) কোনো কঠিন আযাব এসে তাদের গ্রাস করে নেবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৪:৬৪﴿
﴾ ২৪:৬৪ ﴿
أَلَا إِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قَدْ يَعْلَمُ مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ وَيَوْمَ يُرْجَعُونَ إِلَيْهِ فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٦٤﴾
(হে মানুষ, তোমরা) জেনে রেখো, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ তায়ালার জন্যে (নিবেদিত) , তোমরা যে (অবস্থার) উপর আছো, আল্লাহ তায়ালা তা ভালো করেই জানেন, যেদিন মানুষ সবাই তাঁর দিকেই প্রত্যবর্তিত হবে, সেদিন তিনি তাদের সবকিছুই জানিয়ে দেবেন, যা কিছু তারা (দুনিয়ায়) করতো । আল্লাহ তায়ালা সব বিষয়েই ওয়াকেফহাল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]