🕋
الفرقان
(২৫) আল-ফুরক্বান
৭৭
﴾২৫:১﴿
﴾ ২৫:১ ﴿
تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا ﴿١﴾
কতো মহান তিনি, যিনি তাঁর বান্দার উপর (সত্য মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী এই) ফোরকান' নাযিল করেছেন, যাতে করে সে (ব্যক্তি এর দ্বারা) সৃষ্টিকুলের জন্যে সতর্ককারী হতে পারে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২﴿
﴾ ২৫:২ ﴿
الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا ﴿٢﴾
(তিনিই আল্লাহ তায়ালা) তাঁর জন্যে রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব, তিনি কখনো কাউকে (নিজের) সন্তান বলে গ্রহণ করেননি না (তাঁর এ) সার্বভৌমত্বে অন্য কারো কোনো শরীকানা আছে, তিনিই প্রতিটি বস্তু পয়দা করেছেন এবং তিনি তাঁর (সৃষ্টির) জন্যে (আলাদা আলাদা) পরিমাপ নির্ধারণ করেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩﴿
﴾ ২৫:৩ ﴿
وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً لَا يَخْلُقُونَ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا وَلَا يَمْلِكُونَ مَوْتًا وَلَا حَيَاةً وَلَا نُشُورًا ﴿٣﴾
(এ সত্ত্বেও) এ (মুশরিক) লোকেরা তাঁকে বাদ দিয়ে এমন কিছুকে মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তাদেরই সৃষ্টি করা হয়েছে, (সত্য কথা হচ্ছে) , তারা (যেমন) নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করতে সক্ষম নয়, তেমনি নিজেরা নিজেদের কোনো উপকারও করতে সক্ষম নয় । তারা কাউকে মৃত্যু দিতে পারে না কাউকে জীবনও দিতে পারে না, (তেমনি) পারে না (কেউ একবার মরে গেলে তাকে) পুনরায় উঠিয়ে আনতে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪﴿
﴾ ২৫:৪ ﴿
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلَّا إِفْكٌ افْتَرَاهُ وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ فَقَدْ جَاءُوا ظُلْمًا وَزُورًا ﴿٤﴾
যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অবিশ্বাস করে, তারা (এ কোরআন সম্পর্কে) বলে, এ তো মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়, যা এ ব্যক্তি নিজে থেকে বানিয়ে নিয়েছে এবং অন্য জাতির লোকেরা তার উপর সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে, (মূলত এসব কথা বলে) এরা (এক জঘন্য) যুলুম ও (নির্জলা) মিথ্যা নিয়ে হাযির হয়েছে৷
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫﴿
﴾ ২৫:৫ ﴿
وَقَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلَى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا ﴿٥﴾
তারা বলে, এ (কোরআন) হচ্ছে সেকালের উপকথা, যা এ ব্যক্তি লিখিয়ে নিয়েছে এবং সকাল সন্ধ্যায় তার সামনে এগুলো পড়া হয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬﴿
﴾ ২৫:৬ ﴿
قُلْ أَنْزَلَهُ الَّذِي يَعْلَمُ السِّرَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿٦﴾
(হে নবী, ) তুমি (এদের) বলো, এ (কোরআন) তিনিই নাযিল করেছেন যিনি আকাশসমূহ ও যমীনের সমূদ্বয় রহস্য জানেন, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৭﴿
﴾ ২৫:৭ ﴿
وَقَالُوا مَالِ هَذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ لَوْلَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَلَكٌ فَيَكُونَ مَعَهُ نَذِيرًا ﴿٧﴾
ওরা বলে, এ আবার কেমন (ধরনের) রসূল যে (আমাদের মতো করেই) খাবার খায় এবং (আমাদের মতোই) হাটে বাজারে চলাফেরা করে । কেন তার কাছে কোনো ফেরেশতা নাযিল করা হলো না যে তার সাথে (আযাবের) । সতর্ককারী হয়ে থাকতো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৮﴿
﴾ ২৫:৮ ﴿
أَوْ يُلْقَى إِلَيْهِ كَنْزٌ أَوْ تَكُونُ لَهُ جَنَّةٌ يَأْكُلُ مِنْهَا وَقَالَ الظَّالِمُونَ إِنْ تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلًا مَسْحُورًا ﴿٨﴾
কিংবা (গায়ব থেকে) তার কাছে কোনো ধন ভান্ডার এসে পড়লো না কেন, অথবা (কমপক্ষে) তার কাছে একটি বাগানই না হয় থাকতো, যা থেকে সে (খাবার সংগ্রহ করে) খেতো, এ যালেম লোকেরা (মুসলমানদের আরো) বলে, তোমরা তো (আসলে) একজন যাদুগ্রস্থ ব্যক্তিরই অনুসরণ করছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৯﴿
﴾ ২৫:৯ ﴿
انْظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا لَكَ الْأَمْثَالَ فَضَلُّوا فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلًا ﴿٩﴾
(হে নবী, ) চেয়ে দেখো, ওরা তোমার সম্পর্কে কি ধরনের কথা বানাচ্ছে, এরা (আসলে) গোমরাহ হয়ে গেছে, কখনো তারা আর সঠিক পথ পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১০﴿
﴾ ২৫:১০ ﴿
تَبَارَكَ الَّذِي إِنْ شَاءَ جَعَلَ لَكَ خَيْرًا مِنْ ذَلِكَ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَيَجْعَلْ لَكَ قُصُورًا ﴿١٠﴾
(হে নবী, তুমি এদের বলো, ) আল্লাহ তায়ালা (এমন) এক মহান সত্তা, যিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের (এ একটি বাগান কেন) এর চাইতে উক্তৃষ্ট বাগানসমূহও দান করতে পারেন, যার নিম্নদেশে (অমীয়) ঝর্ণধারা, প্রবাহিত হবে, (এ ছাড়াও) তিনি (তোমাদের) দিতে পারেন (সুরম্য) প্রাসাদসমূহ!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১১﴿
﴾ ২৫:১১ ﴿
بَلْ كَذَّبُوا بِالسَّاعَةِ وَأَعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيرًا ﴿١١﴾
বরং এরা কেয়ামতের দিনকে অস্বীকার করে, আর যারাই কেয়ামত অস্বীকার করে তাদের জন্যে আমি (জাহান্নামের) জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১২﴿
﴾ ২৫:১২ ﴿
إِذَا رَأَتْهُمْ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظًا وَزَفِيرًا ﴿١٢﴾
তারা যখন দূর থেকে তাদের (মতো অন্যান্য জাহান্নামীদের) দেখবে, তখন তারা (স্পষ্টত) তার গর্জন ও চীৎকার শুনতে পাবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১৩﴿
﴾ ২৫:১৩ ﴿
وَإِذَا أُلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا مُقَرَّنِينَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُورًا ﴿١٣﴾
অতপর হস্তপদ শৃংখলিত অবস্থায় যখন তাদের জাহান্নামের কোনো সংকীর্ণ স্থানে ফেলে দেয়া হবে, তখন সেখানে তারা শুধু (মৃত্যুর) ধ্বংসকেই ডাকতে থাকবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১৪﴿
﴾ ২৫:১৪ ﴿
لَا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُورًا وَاحِدًا وَادْعُوا ثُبُورًا كَثِيرًا ﴿١٤﴾
(তাদের তখন বলা হবে, ) আজ তোমরা ধ্বংস হওয়াকে একবারই শুধু ডেকো না, বরং বহুবার ধ্বংসকে ডাকো (কোনো কিছুই আজ তোমাদের কাজে আসবে না) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১৫﴿
﴾ ২৫:১৫ ﴿
قُلْ أَذَلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ كَانَتْ لَهُمْ جَزَاءً وَمَصِيرًا ﴿١٥﴾
(হে নবী, এদের) তুমি বলো, এটা (জাহান্নামের) এ (কঠোর আযাব) শ্রেয় না সেই স্থায়ী জান্নাত, যার ওয়াদা পরহেযগার লোকদের (আগেই) দিয়ে রাখা হয়েছে, এ (জান্নাতই) হচ্ছে তাদের যথাযথ পুরস্কার ও (চুড়ান্ত) প্রত্যাবর্তনের স্থান!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১৬﴿
﴾ ২৫:১৬ ﴿
لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاءُونَ خَالِدِينَ كَانَ عَلَى رَبِّكَ وَعْدًا مَسْئُولًا ﴿١٦﴾
সেখানে তারা যা কিছু পেতে চাইবে তাই তাদের জন্যে (মজুদ) থাকবে, (তাও আবার) থাকবে স্থায়ীভাবে, এ প্রতিশ্রুতির যথাযথ পালন তোমার মালিকেরই দায়িত্ব।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১৭﴿
﴾ ২৫:১৭ ﴿
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَقُولُ أَأَنْتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِي هَؤُلَاءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِيلَ ﴿١٧﴾
যেদিন তিনি এ (মুশরিক) ব্যক্তিদের এবং তাদের ও তাদের (মাবুদদের) , যাদের এরা আল্লাহর বদলে ইবাদত করতো, (সবাইকে) একত্রিত করবেন অতপর তিনি (সে মাবুদদের) জিজ্ঞেস করবেন, তোমরাই কি আমার এ বান্দাদের গোমরাহ করেছো, না তারা নিজেরাই (সত্য থেকে) বিচ্যুত হয়ে গেছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১৮﴿
﴾ ২৫:১৮ ﴿
قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنْبَغِي لَنَا أَنْ نَتَّخِذَ مِنْ دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنْ مَتَّعْتَهُمْ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا ﴿١٨﴾
ওরা (জবাবে) বলবে (হে আল্লাহ তায়ালা) , তুমি পবিত্র, তুমি মহান, আমরা (তো ছিলাম তোমারই বান্দা, ) তোমার বদলে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করা আমাদের শোভনীয় ছিলো না, তুমি তো এদের এবং এদের পিতৃপুরুষদের (যথষ্টে) ভোগের সামগ্রী দিয়েছিলে, (এগুলো পেয়ে) তারা এমনকি তোমার কথাই ভুলে বসেছে এবং (এভাবেই) তারা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে পরিণত হয়ে গেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:১৯﴿
﴾ ২৫:১৯ ﴿
فَقَدْ كَذَّبُوكُمْ بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسْتَطِيعُونَ صَرْفًا وَلَا نَصْرًا وَمَنْ يَظْلِمْ مِنْكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيرًا ﴿١٩﴾
(আল্লাহ তায়ালা বলবেন, ) তোমাদের এ মাবুদরা তো তোমরা যা বলছো তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, অতএব (এখন) তোমরা (আর আমার আযাব) সরাতে পারবে না, না (তোমরা আজ) কারো সাহায্য পাবে । তোমাদের মধ্যে কেউ যদি (আমার আনুগত্যের) সীমালংঘন করে তাহলে তাকে আমি কঠোর আযাব আস্বাদন। করাবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২০﴿
﴾ ২৫:২০ ﴿
وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا ﴿٢٠﴾
(হে নবী, ) তোমার আগে আমি আরো যতো রসূল পাঠিয়েছি, তারা (মানুষের মতোই) আহার করতো, (অন্য মানুষদের মতোই) তারা হাটে বাজারে যেতো। (আসল কথা হচ্ছে) মানুষদের মধ্য থেকে রসূল পাঠিয়ে আমি তোমাদের একজনকে আরেকজনের জন্যে পরীক্ষা (-র উপকরণ) বানিয়েছি, (এ পরীক্ষায়) তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে না? তোমার মালিক (কিন্তু তোমাদের) সবকিছুই দেখছেন। পারা
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২১﴿
﴾ ২৫:২১ ﴿
وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا الْمَلَائِكَةُ أَوْ نَرَى رَبَّنَا لَقَدِ اسْتَكْبَرُوا فِي أَنْفُسِهِمْ وَعَتَوْا عُتُوًّا كَبِيرًا ﴿٢١﴾
যারা আমার সাথে (তাদের) সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না, তারা বলে, কতো ভালো হতো যদি আমাদের কাছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কোনো ফেরেশতা নাযিল করা হতো, অথবা আমরা যদি আমাদের মালিককে (নিজেদের চোখে) দেখতে পেতাম! তারা (এ সব বলে) নিজেদের বড়ো (অহংকারী) মনে করলো এবং (আল্লাহ তায়ালার নাফরমানীতেও) তারা মাত্রাতিরিক্ত সীমালংঘন করে ফেললো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২২﴿
﴾ ২৫:২২ ﴿
يَوْمَ يَرَوْنَ الْمَلَائِكَةَ لَا بُشْرَى يَوْمَئِذٍ لِلْمُجْرِمِينَ وَيَقُولُونَ حِجْرًا مَحْجُورًا ﴿٢٢﴾
যেদিন (সত্যি সত্যিই) তারা সে ফেরেশতাদের দেখবে, তখন (কিন্তু) অপরাধীদের জন্যে সেদিন কোনো সুসংবাদ থাকবে না, (বরং) তারা বলবে, (হে আল্লাহ, এই ফেরেশতাদের থেকে) আমরা পানাহ চাই পানাহ চাই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২৩﴿
﴾ ২৫:২৩ ﴿
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا ﴿٢٣﴾
(এবার) আমি তাদের সে সব কর্মকান্ডের দিকে মনোনিবেশ করবো, যা তারা (দুনিয়ায়) করে এসেছে, তখন আমি তা উড়ন্ত ধুলিকণার মতোই (নিষ্ফল) করে দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২৪﴿
﴾ ২৫:২৪ ﴿
أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُسْتَقَرًّا وَأَحْسَنُ مَقِيلًا ﴿٢٤﴾
সেদিন জান্নাতীদের বাসস্থান ও তাদের বিশ্রামের জায়গা হবে অত্যন্ত মনোরম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২৫﴿
﴾ ২৫:২৫ ﴿
وَيَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَاءُ بِالْغَمَامِ وَنُزِّلَ الْمَلَائِكَةُ تَنْزِيلًا ﴿٢٥﴾
(হে মানুষ, তোমরা সেদিনকে ভয় করো, ) যেদিন আসমান তার মেঘমালা নিয়ে ফেটে পড়বে, আর (তারই মাঝ দিয়ে) দলে দলে ফেরেশতারা (যমীনে) নেমে আসবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২৬﴿
﴾ ২৫:২৬ ﴿
الْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ لِلرَّحْمَنِ وَكَانَ يَوْمًا عَلَى الْكَافِرِينَ عَسِيرًا ﴿٢٦﴾
সেদিন চুড়ান্ত বাদশাহী হবে দয়াময় আল্লাহ তায়ালার জন্যে; যারা অস্বীকার করেছে তাদের উপর সেদিনটি হবে (বড়োই) কঠিন!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২৭﴿
﴾ ২৫:২৭ ﴿
وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَالَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا ﴿٢٧﴾
সেদিন যালেম ব্যক্তি (ক্ষোভে দুঃখে) নিজের হাত দুটো দংশন করতে করতে বলবে, হায়! আমি যদি দুনিয়ায় রসুলের সাথে (দ্বীনের) পথ অবলম্বন করতাম!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২৮﴿
﴾ ২৫:২৮ ﴿
يَاوَيْلَتَى لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا ﴿٢٨﴾
দুর্ভাগ্য আমার, আমি যদি অমুককে (নিজের) বন্ধু না বানাতাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:২৯﴿
﴾ ২৫:২৯ ﴿
لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولًا ﴿٢٩﴾
আমার কাছে (দ্বীনের) উপদেশ আসার পর সে তা থেকে আমাকে বিচ্যুত করে দিয়েছিলো; আর শয়তান তো (হামেশাই) মানুষকে (বিপদের সময় একলা) ফেলে কেটে পড়ে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩০﴿
﴾ ২৫:৩০ ﴿
وَقَالَ الرَّسُولُ يَارَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا ﴿٣٠﴾
সেদিন রসুল বলবে, হে মালিক, অবশ্যই আমার জাতি কোরআনকে (একটি) পরিত্যাজ্য (বিষয়) মনে করেছিলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩১﴿
﴾ ২৫:৩১ ﴿
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا ﴿٣١﴾
(হে নবী, ) এভাবেই আমি (প্রত্যেক যুগের) অপরাধীদের প্রত্যেক নবীর দুশমন বানিয়ে থাকি; অতএব (তুমি মনোক্ষুন্ন হয়ো না) , তোমার পথ প্রদর্শন ও সাহায্য করার জন্যে তোমার মালিকই যথষ্টে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩২﴿
﴾ ২৫:৩২ ﴿
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا ﴿٣٢﴾
যারা (কোরআন) অস্বীকার করে তারা বলে, (আচ্ছা এই) পুরো কোরআনটা তার উপর একবারে নাযিল হলো কেন? (আসলে কোরআন তো) এভাবেই (নাযিল) হওয়া উচিত ছিলো, যাতে করে এ (ওহী) দ্বারা আমি তোমার অন্তরকে মযবুত করে দিতে পারি, (এ কারণেই) আমি একে থেমে থেমে নাযিল করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩৩﴿
﴾ ২৫:৩৩ ﴿
وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا ﴿٣٣﴾
(তা ছাড়া) ওরা তোমার কাছে যে কোনো ধরনের বিষয় (ও সমস্যা) নিয়েই আসুক না কেন, আমি (সাথে সাথেই) তোমার কাছে (এর একটা) যথার্থ সত্য (সমাধান) এনে হাযির করতে পারি এবং (প্রয়োজনে তার) একটা সুন্দর ব্যাখ্যাও বলে দিতে পারি;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩৪﴿
﴾ ২৫:৩৪ ﴿
الَّذِينَ يُحْشَرُونَ عَلَى وُجُوهِهِمْ إِلَى جَهَنَّمَ أُولَئِكَ شَرٌّ مَكَانًا وَأَضَلُّ سَبِيلًا ﴿٣٤﴾
এরা হচ্ছে সে সব লোক যাদের (কেয়ামতের দিন) মুখের উপর ভর দিয়ে জাহান্নামের সামনে জড়ো করা হবে, ওদের সে স্থানটি হবে অতি নিকৃষ্ট, আর ওরা নিজেরাও হবে অতিশয় পথভ্রষ্ট ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩৫﴿
﴾ ২৫:৩৫ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَجَعَلْنَا مَعَهُ أَخَاهُ هَارُونَ وَزِيرًا ﴿٣٥﴾
অবশ্যই আমি মুসাকে (তাওরাত) গ্রন্থ দান করেছিলাম এবং তার ভাই হারূনকে তার সাথে তার সাহায্যকারী করেছিলাম,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩৬﴿
﴾ ২৫:৩৬ ﴿
فَقُلْنَا اذْهَبَا إِلَى الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَدَمَّرْنَاهُمْ تَدْمِيرًا ﴿٣٦﴾
অতপর আমি তাদের বলেছিলাম, তোমরা উভয়েই (আমার হেদায়াত নিয়ে) এমন এক জাতির কাছে যাও, যারা আমার আয়াতকে অস্বীকার করেছে; অতপর (আমাকে অস্বীকার করায়) আমি তাদের সম্পূর্ণরূপে বিনাশ করে দিয়েছি;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩৭﴿
﴾ ২৫:৩৭ ﴿
وَقَوْمَ نُوحٍ لَمَّا كَذَّبُوا الرُّسُلَ أَغْرَقْنَاهُمْ وَجَعَلْنَاهُمْ لِلنَّاسِ آيَةً وَأَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ عَذَابًا أَلِيمًا ﴿٣٧﴾
(একইভাবে) যখন নুহের সম্প্রদায়ও আমার রসুলদের মিথ্যা সাব্যস্ত করলো, তখন আমি তাদের সবাইকে (প্লাবনের পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি এবং আমি ওদের (পরবর্তী) মানুষদের জন্যে শিক্ষণীয় বিষয় করে রেখেছি; আমি যালেমদের জন্যে মর্মন্তুদ আযাব ঠিক করে রেখেছি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩৮﴿
﴾ ২৫:৩৮ ﴿
وَعَادًا وَثَمُودَ وَأَصْحَابَ الرَّسِّ وَقُرُونًا بَيْنَ ذَلِكَ كَثِيرًا ﴿٣٨﴾
(একই নিয়মে) আমি ধ্বংস করে দিয়েছি আদ, সামুদ ও ‘রাস'এর অধিবাসীদের এবং তাদের অন্তর্বর্তীকালীন আরো বহু সম্প্রদায়কেও,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৩৯﴿
﴾ ২৫:৩৯ ﴿
وَكُلًّا ضَرَبْنَا لَهُ الْأَمْثَالَ وَكُلًّا تَبَّرْنَا تَتْبِيرًا ﴿٣٩﴾
(তাদের) প্রত্যেকের কাছেই আমি (আগের ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমুহের) নিদর্শনসমুহ উপস্থাপন করেছি, (কিন্তু কেউই যখন সতর্কবাণী শোনলো না তখন আমি তাদের সবাইকে চুড়ান্তভাবে নির্মূল করে দিয়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪০﴿
﴾ ২৫:৪০ ﴿
وَلَقَدْ أَتَوْا عَلَى الْقَرْيَةِ الَّتِي أُمْطِرَتْ مَطَرَ السَّوْءِ أَفَلَمْ يَكُونُوا يَرَوْنَهَا بَلْ كَانُوا لَا يَرْجُونَ نُشُورًا ﴿٤٠﴾
এরা তো সে জনপদ দিয়ে প্রতি নিয়ত আসা যাওয়া করে, যার উপর আযাবের বৃষ্টি বর্ষণ করা হয়েছিলো; ওরা কি তা দেখছে না? (আসল কথা হচ্ছে, ) এরা (পুনরায়) জীবিত হওয়ার কোনো আশাই পোষণ করে না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪১﴿
﴾ ২৫:৪১ ﴿
وَإِذَا رَأَوْكَ إِنْ يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ رَسُولًا ﴿٤١﴾
(হে নবী, ) এরা যখন তোমাকে দেখে তখন তোমাকে কেবল ঠাট্টা বিদ্রুপের পাত্ররূপেই গণ্য করে (বলে) ; এ কি সে লোক, যাকে আল্লাহ তায়ালা রসুল করে পাঠিয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪২﴿
﴾ ২৫:৪২ ﴿
إِنْ كَادَ لَيُضِلُّنَا عَنْ آلِهَتِنَا لَوْلَا أَنْ صَبَرْنَا عَلَيْهَا وَسَوْفَ يَعْلَمُونَ حِينَ يَرَوْنَ الْعَذَابَ مَنْ أَضَلُّ سَبِيلًا ﴿٤٢﴾
এ ব্যক্তিই তো আমাদের দেবতাদের (ইবাদাত) থেকে আমাদের সম্পূর্ণ বিচ্যুতই করে দিতো যদি আমরা তাদের উপর দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত না থাকতাম; (হ্যাঁ, ) তারা যখন (আল্লাহ তায়ালার) আযাব (স্বচক্ষে) দেখতে পাবে তখন ভালো করেই জানতে পারবে, কে তোমাদের মাঝে বেশী পথভ্রষ্ট ছিলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪৩﴿
﴾ ২৫:৪৩ ﴿
أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا ﴿٤٣﴾
(হে নবী, ) তুমি কি সে ব্যক্তির (অবস্থা) দেখোনি যে তার কামনা বাসনাকে নিজের মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে; তুমি কি তার (মতো ব্যক্তির) উপর (অভিভাবক হতে পারো?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪৪﴿
﴾ ২৫:৪৪ ﴿
أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا ﴿٤٤﴾
(হে নবী, ) তুমি কি সত্যিই মনে করো, তাদের অধিকাংশ লোক (তোমার কথা) শুনে কিংবা (এর মর্ম বুঝে; (আসলে) ওরা হচ্ছে পশুর মতো, বরং (কোনো কোনো ক্ষেত্রে) তারা (আরো) বেশী বিভ্রান্ত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪৫﴿
﴾ ২৫:৪৫ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظِّلَّ وَلَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ سَاكِنًا ثُمَّ جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلًا ﴿٤٥﴾
(হে নবী, ) তুমি কি তোমার মালিকের (কুদরতের) দিকে তাকিয়ে দেখো না? কি ভাবে তিনি ছায়াকে (সর্বত্র) বিস্তার করে রেখেছেন, তিনি ইচ্ছা করলে তা তো (একই স্থানে) স্থায়ী করে রাখতে পারতেন, অতপর আমি (কিন্তু) সুর্যকে তার উপর একটি স্থায়ী নির্ঘন্ট বানিয়ে রেখেছি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪৬﴿
﴾ ২৫:৪৬ ﴿
ثُمَّ قَبَضْنَاهُ إِلَيْنَا قَبْضًا يَسِيرًا ﴿٤٦﴾
পরে আমি ধীরে ধীরে তাকে আমার দিকে গুটিয়ে আনবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪৭﴿
﴾ ২৫:৪৭ ﴿
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا ﴿٤٧﴾
আল্লাহ তায়ালাই তোমাদের জন্যে রাতকে আবরণ, ঘুমকে আরাম ও দিনকে জেগে ওঠার সময় করে দিয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪৮﴿
﴾ ২৫:৪৮ ﴿
وَهُوَ الَّذِي أَرْسَلَ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا ﴿٤٨﴾
তিনি তাঁর (বৃষ্টিরূপী) রহমতের আগে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন, অতপর আসমান থেকে (তার মাধ্যমে) বিশুদ্ধ পানি বর্ষণ করেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৪৯﴿
﴾ ২৫:৪৯ ﴿
لِنُحْيِيَ بِهِ بَلْدَةً مَيْتًا وَنُسْقِيَهُ مِمَّا خَلَقْنَا أَنْعَامًا وَأَنَاسِيَّ كَثِيرًا ﴿٤٩﴾
যেন তা দিয়ে তিনি মৃত ভূখন্ডে জীবনের সঞ্চার করতে পারেন এবং তা দিয়ে তাঁর সৃষ্ট অসংখ্য জীবজন্তু ও মানুষের পিপাসা নিবারণ করতে পারেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫০﴿
﴾ ২৫:৫০ ﴿
وَلَقَدْ صَرَّفْنَاهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوا فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا ﴿٥٠﴾
আমি বার বার এ (ঘটনা) টি তাদের মাঝে সংঘটিত করি, যাতে করে তারা (এ বিষয়টি থেকে) শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই আমার অকৃতজ্ঞতা ছাড়া অন্য কিছু করতে অস্বীকার করলো ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫১﴿
﴾ ২৫:৫১ ﴿
وَلَوْ شِئْنَا لَبَعَثْنَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ نَذِيرًا ﴿٥١﴾
আমি ইচ্ছা করলে প্রতিটি জনপদে এক একজন সতর্ককারী (নবী) পাঠাতে পারতাম,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫২﴿
﴾ ২৫:৫২ ﴿
فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَجَاهِدْهُمْ بِهِ جِهَادًا كَبِيرًا ﴿٥٢﴾
অতএব, তুমি কাফেরদের (এ অভিযোগের) পেছনে পড়ো না, তুমি (বরং) এ (কোরআন) দিয়ে তাদের প্রচন্ড মোকাবেলা করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫৩﴿
﴾ ২৫:৫৩ ﴿
وَهُوَ الَّذِي مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ هَذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ وَهَذَا مِلْحٌ أُجَاجٌ وَجَعَلَ بَيْنَهُمَا بَرْزَخًا وَحِجْرًا مَحْجُورًا ﴿٥٣﴾
তিনি (একই জায়গায়) দুটো সাগর এক সাথে প্রবাহিত করে রেখেছেন, একটি হচ্ছে মষ্টি ও সুপেয়, আরেকটি লোনা ও ক্ষারবিশষ্টি, উভয়ের মাঝখানে তিনি একটি সীমারেখা বানিয়ে রেখেছেন, (সত্যিই) এটি একটি অনতিক্রম্য ব্যবধান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫৪﴿
﴾ ২৫:৫৪ ﴿
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَرًا فَجَعَلَهُ نَسَبًا وَصِهْرًا وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيرًا ﴿٥٤﴾
তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি মানুষকে (এক বিন্দু) পানি থেকে পয়দা করেছেন, অতপর তিনি তাকে (রক্ত সম্পর্ক দ্বারা) পরিবার (বন্ধন) ও (বৈবাহিক বন্ধন দ্বারা) জামাইয়ে (শ্বশুরে) পরিণত করেছেন; তোমার মালিক প্রভূত ক্ষমতাবান,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫৫﴿
﴾ ২৫:৫৫ ﴿
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُهُمْ وَلَا يَضُرُّهُمْ وَكَانَ الْكَافِرُ عَلَى رَبِّهِ ظَهِيرًا ﴿٥٥﴾
(এসব কিছু সত্ত্বেও) তারা আল্লাহর বদলে এমন সবকিছুর ইবাদাত করে যা না তাদের কোনো উপকার করতে পারে, না তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে; (আসলে প্রতিটি) কাফের ব্যক্তি নিজের মালিকের মোকাবেলায় (বিদ্রোহীরই বেশী) সাহায্যকারী (হয়) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫৬﴿
﴾ ২৫:৫৬ ﴿
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ﴿٥٦﴾
(হে নবী, ) আমি তো তোমাকে কেবল (জান্নাতের) সুসংবাদদাতা ও (জাহান্নামের) সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫৭﴿
﴾ ২৫:৫৭ ﴿
قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِلَّا مَنْ شَاءَ أَنْ يَتَّخِذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا ﴿٥٧﴾
তুমি (এদের) বলো, আমি তো তোমাদের কাছ থেকে এ জন্যে কোনো পারিশ্রমিক দাবী করছি না, (হ্যাঁ, আমি চাই তোমাদের) প্রতিটি ব্যক্তিই যেন তার মালিক পর্যন্ত পৌঁছার (সঠিক) রাস্তাটি অবলম্বন করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫৮﴿
﴾ ২৫:৫৮ ﴿
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ وَكَفَى بِهِ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا ﴿٥٨﴾
(হে নবী, ) তুমি সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর নির্ভর করো, যাঁর মৃত্যু নেই। তুমি তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো; তিনি তাঁর বান্দাদের গুনাহখাতা সম্পর্কে সম্যক ওয়াকেফহাল,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৫৯﴿
﴾ ২৫:৫৯ ﴿
الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا ﴿٥٩﴾
তিনিই মহান আল্লাহ তায়ালা, যিনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী ও ওদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনি (তাঁর) আরশে সমাসীন হন, (তিনি) অতি দয়াবান আল্লাহ, তাঁর (মর্যাদা) সম্পর্কে সে লোককে তুমি জিজ্ঞেস করো যে (এ সম্পর্কে অবগত আছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬০﴿
﴾ ২৫:৬০ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اسْجُدُوا لِلرَّحْمَنِ قَالُوا وَمَا الرَّحْمَنُ أَنَسْجُدُ لِمَا تَأْمُرُنَا وَزَادَهُمْ نُفُورًا ﴿٦٠﴾
যখন ওদের বলা হয়, তোমরা দয়াময় (আল্লাহ তায়ালা) -এর প্রতি সাজদাবনত হও, তখন তারা বলে, দয়াময় (আল্লাহ আবার) কে? যাকেই তুমি সাজদা করতে বলবে তাকেই কি আমরা সাজদা করবো? (বস্তুত তোমার এ আহ্বান) তাদের বিদ্বেষকে বরং আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬১﴿
﴾ ২৫:৬১ ﴿
تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُنِيرًا ﴿٦١﴾
কতো মহান সেই সত্তা, যিনি আসমানে অসংখ্য গম্বুজ বানিয়েছেন, এরই মাঝে তিনি (আবার) পয়দা করেছেন প্রদীপ (-সম একটি সুর্য) এবং একটি জ্যোতির্ময় চাঁদ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬২﴿
﴾ ২৫:৬২ ﴿
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ خِلْفَةً لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَذَّكَّرَ أَوْ أَرَادَ شُكُورًا ﴿٦٢﴾
তিনি রাত ও দিনকে (পরস্পরের) অনুগামী করেছেন (তাদের জন্যে) , যারা এসব কিছু থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে কিংবা (সে জন্যে) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬৩﴿
﴾ ২৫:৬৩ ﴿
وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا ﴿٦٣﴾
দয়াময় (আল্লাহ তায়ালা) -এর বান্দা তো হচ্ছে তারা, যারা যমীনে নেহায়াত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন জাহেল ব্যক্তিরা (অশালীন ভাষায়) তাদের সম্বােধন করে, তখন তারা নেহায়াত প্রশান্তভাবে জবাব দেয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬৪﴿
﴾ ২৫:৬৪ ﴿
وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا ﴿٦٤﴾
যারা তাদের মালিকের উদ্দেশে সাজদাবনত হয়ে ও দন্ডায়মান থেকে (তাদের) রাতগুলো কাটিয়ে দেয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬৫﴿
﴾ ২৫:৬৫ ﴿
وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا ﴿٦٥﴾
যারা বলে, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব দূরে রেখো, কেননা তার আযাব হচ্ছে নিশ্চিত বিনাশ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬৬﴿
﴾ ২৫:৬৬ ﴿
إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا ﴿٦٦﴾
(তদুপরি) আশ্রয় ও থাকার জন্যে তা হবে একটি নিকৃষ্ট জায়গা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬৭﴿
﴾ ২৫:৬৭ ﴿
وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا ﴿٦٧﴾
তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় (যেমন) করে না, (তেমনি কোনো প্রকার) কার্পণ্যও তারা করে না; বরং তাদের ব্যয় (সব সময় এ দুয়ের) মধ্যবর্তী (একটি ভারসাম্যমুলক) অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬৮﴿
﴾ ২৫:৬৮ ﴿
وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا ﴿٦٨﴾
যারা আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্য কোনো মাবুদকে ডাকে না, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে যাকে হত্যা করতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন তাকে যারা হত্যা করে না, (উপরন্তু) যারা ব্যভিচার করে না, যে ব্যক্তিই এসব। (অপরাধ) করবে সে (তার গুনাহের) শাস্তি ভোগ করবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৬৯﴿
﴾ ২৫:৬৯ ﴿
يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا ﴿٦٩﴾
কেয়ামতের দিন তার জন্যে এ শাস্তি আরো বাড়িয়ে দেয়া হবে, সেখানে সে অপমানিত হয়ে চিরকাল পড়ে থাকবে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৭০﴿
﴾ ২৫:৭০ ﴿
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿٧٠﴾
কিন্তু যারা (এসব থেকে) তাওবা করেছে, আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আল্লাহ তায়ালা এমন সব লোকদের (পেছনের) গুনাহসমুহ তাদের নেক আমল দ্বারা বদলে দেবেন; আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৫:৭১﴿
﴾ ২৫:৭১ ﴿
وَمَنْ تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مَتَابًا ﴿٧١﴾
﴾২৫:৭২﴿
﴾ ২৫:৭২ ﴿
وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا ﴿٧٢﴾
﴾২৫:৭৩﴿
﴾ ২৫:৭৩ ﴿
وَالَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ لَمْ يَخِرُّوا عَلَيْهَا صُمًّا وَعُمْيَانًا ﴿٧٣﴾
﴾২৫:৭৪﴿
﴾ ২৫:৭৪ ﴿
وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا ﴿٧٤﴾
﴾২৫:৭৫﴿
﴾ ২৫:৭৫ ﴿
أُولَئِكَ يُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةً وَسَلَامًا ﴿٧٥﴾
﴾২৫:৭৬﴿
﴾ ২৫:৭৬ ﴿
خَالِدِينَ فِيهَا حَسُنَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا ﴿٧٦﴾
﴾২৫:৭৭﴿
﴾ ২৫:৭৭ ﴿
قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلَا دُعَاؤُكُمْ فَقَدْ كَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ يَكُونُ لِزَامًا ﴿٧٧﴾