🕋

النمل
(২৭) আন্‌-নামাল

৯৩

طس تِلْكَ آيَاتُ الْقُرْآنِ وَكِتَابٍ مُبِينٍ ﴿١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ত্বা-সীন। এগুলো হচ্ছে কোরআনেরই আয়াত এবং সুস্পষ্ট কিতাব (-এর কতিপয় অংশ) ,
هُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ঈমানদারদের জন্যে (এটা হচ্ছে) হেদায়াত ও সুসংবাদবাহী (গ্রন্থ) ,
الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ﴿٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাদের জন্যে, ) যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, (সর্বোপরি) কেয়ামত দিবসের উপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে।
إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ زَيَّنَّا لَهُمْ أَعْمَالَهُمْ فَهُمْ يَعْمَهُونَ ﴿٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যারা শেষ বিচারের দিনের উপর ঈমান আনে না, তাদের জন্যে তাদের যাবতীয় কর্মকান্ড আমি (সুন্দর) শোভন করে রেখেছি, ফলে তারা উদ্ভান্তের মতো (আপন কর্মকান্ডের চারপাশে) ঘুরে বেড়ায়;
أُولَئِكَ الَّذِينَ لَهُمْ سُوءُ الْعَذَابِ وَهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ ﴿٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের জন্যে রয়েছে (জাহান্নামের) কঠিন আযাব, আর পরকালেও এ লোকেরা ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى الْقُرْآنَ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ ﴿٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) নিশ্চয়ই প্রবল প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তোমাকে (এ) কোরআন দেয়া হয়েছে।
إِذْ قَالَ مُوسَى لِأَهْلِهِ إِنِّي آنَسْتُ نَارًا سَآتِيكُمْ مِنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ آتِيكُمْ بِشِهَابٍ قَبَسٍ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ ﴿٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (স্মরণ করো, ) যখন মুসা তার পরিবারের লোকজনদের বলেছিলো, অবশ্যই আমি আগুন (সদৃশ কিছু) দেখতে পেয়েছি; সেখান থেকে আমি এক্ষুণি তোমাদের কাছে হয় (পথঘাটের ব্যাপারে) কোনো খোঁজ খবর কিংবা (তোমাদের জন্যে) একটি অংগার নিয়ে আসবো, যাতে করে তোমরা (এ ঠান্ডার সময়) আগুন পোহাতে পারো।
فَلَمَّا جَاءَهَا نُودِيَ أَنْ بُورِكَ مَنْ فِي النَّارِ وَمَنْ حَوْلَهَا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর সে যখন (আগুনের) কাছে পৌঁছুলো, তখন তাকে (অদৃশ্য থেকে) আওয়ায দেয়া হলো, বরকতময় হোক সে (নুর) , যা এ আগুনের ভেতর (আলোকিত হয়ে) আছে, বরকতময় হোক সে (মানুষ) যে এর আশেপাশে রয়েছে; সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালা কতো পবিত্র প্রশংসিত ।
يَا مُوسَى إِنَّهُ أَنَا اللَّهُ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আওয়ায এলো, ) হে মুসা, আমিই হচ্ছি আল্লাহ তায়ালা, মহাপরাক্রমশালী ও প্রবল প্রজ্ঞাময়।
১০
وَأَلْقِ عَصَاكَ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّى مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ يَا مُوسَى لَا تَخَفْ إِنِّي لَا يَخَافُ لَدَيَّ الْمُرْسَلُونَ ﴿١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হে মুসা, তুমি তোমার (হাতের) লাঠিটা (যমীনে) নিক্ষেপ করো; অতপর সে যখন তাকে দেখলো, তা যমীনে (জীবিত) সাপের মতো ছুটাছুটি করছে, তখন সে (কিছুটা ভীত হয়ে) উল্টো দিকে দৌড়াতে লাগলো, পেছনের দিকে ফিরেও তাকালো না (তখন আমি বললাম) ; হে মুসা (ভয় পেয়ো না) , আমার সামনে (নবী) রসুলরা কখনো ভয় পায় না,
১১
إِلَّا مَنْ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوءٍ فَإِنِّي غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হ্যাঁ, (যদি) কেউ কখনো কোনো অন্যায় করে (তাহলে তা ভিন্ন কথা) , অতপর সে যদি অন্যায়ের পর তার বদলে (পুনরায়) নেক আমল করে, তাহলে (সে যেন জেনে রাখে) , আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
১২
وَأَدْخِلْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ فِي تِسْعِ آيَاتٍ إِلَى فِرْعَوْنَ وَقَوْمِهِ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ ﴿١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে মুসা, এবার) তুমি তোমার হাত দুটো তোমার জামার (বুক) পকেটের ভেতর ঢুকিয়ে দাও, (বের করে আনলে দেখবে) কোনো রকম দোষত্রটি ব্যতিরেকেই তা উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে এসেছে। (এ মোজেযাগুলো সে) নয়টি নিদর্শনেরই অন্তর্গত, যা ফেরাউন ও তার জাতির জন্যে আমি (মুসার সাথে) পাঠিয়েছিলাম; ওরা অবশ্যই ছিলো একটি গুনাহগার জাতি ।
১৩
فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ ﴿١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর যখন তাদের কাছে আমার উজ্জ্বল নিদর্শনসমুহ হাযির হলো তখন তারা বললো, এ তো হচ্ছে স্পষ্ট যাদু,
১৪
وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ ﴿١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা যুলুম ও ঔদ্ধত্যের কারণে তার সবকিছু প্রত্যাখ্যান করলো, যদিও তাদের অন্তর এসব (নিদর্শন) সত্য বলে গ্রহণ করে নিয়েছিলো; অতপর (হে নবী) , তুমি দেখে নাও, (আমার যমীনে) বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের কি পরিণাম হয়েছিলো!
১৫
وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ عِلْمًا وَقَالَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَّلَنَا عَلَى كَثِيرٍ مِنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি অবশ্যই দাউদ এবং সোলায়মানকে (দ্বীন দুনিয়ার) জ্ঞান দান করেছিলাম; তারা উভয়েই বললো, যাবতীয় তারীফ আল্লাহ তায়ালার, যিনি তাঁর বহু ঈমানদার বান্দার উপর আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
১৬
وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُدَ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ ﴿١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (দাউদের মৃত্যুর পর) সোলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হলো, (উত্তরাধিকার পেয়ে) সে (তার জনগণকে) বললো, হে মানুষরা, আমাদেরকে (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) পাখীদের বুলি (পর্যন্ত) শেখানো হয়েছে, (এ ছাড়াও) আমাদেরকে (দুনিয়ার) প্রতিটি জিনিসই দেয়া হয়েছে; এ হচ্ছে (আল্লাহ তায়ালার এক) সুস্পষ্ট অনুগ্রহ
১৭
وَحُشِرَ لِسُلَيْمَانَ جُنُودُهُ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ وَالطَّيْرِ فَهُمْ يُوزَعُونَ ﴿١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সোলায়মানের (সেবার) জন্যে মানুষ, জ্বিন ও পাখীদের মধ্য থেকে এক (বিশাল) বাহিনী সমবেত করা হয়েছিলো, এরা আবার বিভিন্ন বুযহে সুবিন্যস্ত ছিলো।
১৮
حَتَّى إِذَا أَتَوْا عَلَى وَادِي النَّمْلِ قَالَتْ نَمْلَةٌ يَا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوا مَسَاكِنَكُمْ لَا يَحْطِمَنَّكُمْ سُلَيْمَانُ وَجُنُودُهُ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সোলায়মান একবার অভিযানে বের হলো, ) তারা যখন পিপীলিকা (অধু্যষিত) উপত্যকায় পৌঁছালো, তখন একটি স্ত্রী পিপীলিকা (তার স্বজনদের) বললো, হে পিপীলিকার দল, তোমরা (দ্রুত) নিজ নিজ গর্তে ঢুকে পড়ো, (দেখো) এমন যেন না হয়, সোলায়মান ও তার বাহিনী নিজেদের অজান্তে তোমাদের পায়ের নীচে পিষে ফেলবে ।
১৯
فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِنْ قَوْلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ ﴿١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তার কথা শুনে সোলায়মান একটু মৃদু হাসি হাসলো এবং বললো, হে আমার মালিক, তুমি আমাকে তাওফীক দাও যাতে করে (এ পিপীলিকাটির ব্যাপারেও আমি অমনোযোগী না হই এবং) আমাকে ও আমার পিতামাতাকে তুমি যেসব নেয়ামত দান করেছো, আমি যেন (বিনয়ের সাথে) তার কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি, আমি যেন এমন সব নেক কাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো, (অতপর) তুমি তোমার অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে তোমার নেককার মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও।
২০
وَتَفَقَّدَ الطَّيْرَ فَقَالَ مَا لِيَ لَا أَرَى الْهُدْهُدَ أَمْ كَانَ مِنَ الْغَائِبِينَ ﴿٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (একবার) সে তার পাখী (বাহিনী) পর্যবেক্ষণ (করতে শুরু) করলো এবং (এক পর্যায়ে) বললো (কি ব্যাপার) , ‘হুদহুদ' (নামক পাখীটা) দেখছি না যে! অথবা সে কি (আজ সত্যিই) অনুপস্থিত?
২১
لَأُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا شَدِيدًا أَوْ لَأَذْبَحَنَّهُ أَوْ لَيَأْتِيَنِّي بِسُلْطَانٍ مُبِينٍ ﴿٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হয় সে (এই অনুপস্থিতির) কোনো পরিষ্কার ও সংঘত কারণ নিয়ে আমার কাছে হাযির হবে, না হয় তাকে আমি (অবহেলার জন্যে) কঠিন শাস্তি দেবো, অথবা (বিদ্রোহ প্রমাণিত হলে) তাকে আমি হত্যাই করে ফেলবো ।
২২
فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍ فَقَالَ أَحَطْتُ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِ وَجِئْتُكَ مِنْ سَبَإٍ بِنَبَإٍ يَقِينٍ ﴿٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ খোঁজাখুঁজির পর) বেশী সময় অতিবাহিত হয়নি, সে (পাখীটি ছুটে এসে) বললো (হে বাদশাহ) , আমি এমন এক খবর জেনেছি, যা তুমি এখনো অবগত হওনি, আমি তোমার কাছে ‘সাবা' (জাতি) -র একটি নিশ্চিত খবর নিয়ে এসেছি (আমার অনুপস্থিতির এ হচ্ছে কারণ) ।
২৩
إِنِّي وَجَدْتُ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌ ﴿٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি সেখানে এক রমণীকে দেখেছি, তাদের উপর সে রাজত্ব করছে (দেখে মনে হলো) , তাকে (দুনিয়ার) সব কয়টি জিনিসই (বুঝি) দেয়া হয়েছে, (তদুপরি) তার কাছে আছে বিরাট এক সিংহাসন।
২৪
وَجَدْتُهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ ﴿٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি তাকে এবং তার জাতিকে (এমন অবস্থায়) পেলাম যে, তারা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে সুর্যকে সাজদা করছে, (মুলত) শয়তান তাদের (এসব পার্থিব) কর্মকান্ড তাদের জন্যে শোভন করে রেখেছে এবং সে তাদের (সৎ) পথ থেকেও নিবৃত্ত করেছে, ফলে ওরা হেদায়াত লাভ করতে পারছে না,
২৫
أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ ﴿٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (শয়তান তাদের বাধা দিয়েছে, যেন তারা আল্লাহ তায়ালাকে সাজদা করতে না পারে, যিনি আসমানসমুহ ও যমীনের (উদ্ভিদসহ সব) গোপন জিনিস বের করে আনেন, (তিনি জানেন) তোমরা যা কিছু গোপন করো এবং যা কিছু প্রকাশ করো।
২৬
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ﴿٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, তিনিই হচ্ছেন মহান আরশের অধিপতি।
২৭
قَالَ سَنَنْظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْكَاذِبِينَ ﴿٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এটা শুনে) সে বললো, হ্যাঁ, আমি এক্ষুণি দেখছি, তুমি কি সত্য কথা বলেছো, না তুমি মিথ্যাবাদীদের একজন!
২৮
اذْهَبْ بِكِتَابِي هَذَا فَأَلْقِهْ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَانْظُرْ مَاذَا يَرْجِعُونَ ﴿٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি আমার এ চিঠি নিয়ে যাও, এটা তাদের কাছে ফেলে আসো, তারপর তাদের কাছ থেকে (কিছুক্ষণের জন্যে) সরে থেকো, অতপর তুমি দেখো তারা কি উত্তর দেয়?
২৯
قَالَتْ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ إِنِّي أُلْقِيَ إِلَيَّ كِتَابٌ كَرِيمٌ ﴿٢٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সোলায়মানের চিঠি পেয়ে সাবা জাতির) মহিলা (সম্রাজ্ঞী পারিষদদের ডেকে) বললো, হে আমার পারিষদরা, আমার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয়েছে,
৩০
إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿٣٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তা (এসেছে) সোলায়মানের কাছ থেকে এবং তা (লেখা হয়েছে) রহমান রহীম আল্লাহ তায়ালার নামে,
৩১
أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأْتُونِي مُسْلِمِينَ ﴿٣١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (চিঠির বক্তব্য হচ্ছে, তোমরা আমার অবাধ্যতা করো না এবং আনুগত্য স্বীকার করে তোমরা আমার কাছে হাযির হও।
৩২
قَالَتْ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِي فِي أَمْرِي مَا كُنْتُ قَاطِعَةً أَمْرًا حَتَّى تَشْهَدُونِ ﴿٣٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (চিঠি পড়ে) সে (রাণী) বললো, হে আমার পারিষদরা, আমার (এ) বিষয়ে তোমরা আমাকে একটা অভিমত দাও, আমি তো কোনো ব্যাপারেই চুড়ান্ত কোনো আদেশ দেই না, যতোক্ষণ না তোমরা (সে সদ্ধিান্তের পক্ষে) সাক্ষ্য প্রদান না করো।
৩৩
قَالُوا نَحْنُ أُولُو قُوَّةٍ وَأُولُو بَأْسٍ شَدِيدٍ وَالْأَمْرُ إِلَيْكِ فَانْظُرِي مَاذَا تَأْمُرِينَ ﴿٣٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো (একথা ঠিক) , আমরা অনেক শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা, কিন্তু (তারপরও সোলায়মানের সাথে বিদ্রোহের ঝুঁকি নেয়ার ব্যাপারে) সদ্ধিান্ত গ্রহণের (চুড়ান্ত) ক্ষমতা তো তোমারই হাতে, অতএব চিন্তা করে দেখো, (এ পরিস্থিতিতে) তুমি আমাদের কি আদেশ দেবে ?
৩৪
قَالَتْ إِنَّ الْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوا أَعِزَّةَ أَهْلِهَا أَذِلَّةً وَكَذَلِكَ يَفْعَلُونَ ﴿٣٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে (রাণী) বললো, রাজা বাদশাহরা যখন কোনো জনপদে (বিজয়ীর বেশে) প্রবেশ করে তখন তা তছনছ করে দেয়, সেখানকার মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অপদস্থ করে ছাড়ে, আর এরাও (হয়তো) তাই করবে।
৩৫
وَإِنِّي مُرْسِلَةٌ إِلَيْهِمْ بِهَدِيَّةٍ فَنَاظِرَةٌ بِمَ يَرْجِعُ الْمُرْسَلُونَ ﴿٣٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি বরং (সরাসরি হ্যাঁ কিংবা না কোনোটাই না বলে) তার কাছে কিছু তোহফা পাঠিয়ে দেখি দূতেরা কি (জবাব) নিয়ে আসে!
৩৬
فَلَمَّا جَاءَ سُلَيْمَانَ قَالَ أَتُمِدُّونَنِي بِمَالٍ فَمَا آتَانِيَ اللَّهُ خَيْرٌ مِمَّا آتَاكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ ﴿٣٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে (দূত হাদিয়া নিয়ে) যখন সোলায়মানের কাছে এলো তখন সে বললো, তোমরা কি এ ধন সম্পদ (পাঠিয়ে তা) দিয়ে আমাকে সাহায্য করতে চাও? (অথচ) আল্লাহ তায়ালা যা কিছু আমাকে দিয়েছেন তা (তিনি) তোমাদের যা দিয়েছেন তার তুলনায় অনেক উৎকৃষ্ট, তোমরা তোমাদের এ উপঢৌকন নিয়ে এতোই উফুল্লবোধ করছো!
৩৭
ارْجِعْ إِلَيْهِمْ فَلَنَأْتِيَنَّهُمْ بِجُنُودٍ لَا قِبَلَ لَهُمْ بِهَا وَلَنُخْرِجَنَّهُمْ مِنْهَا أَذِلَّةً وَهُمْ صَاغِرُونَ ﴿٣٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা (বরং এগুলো নিয়ে) তাদের কাছেই ফিরে যাও (যারা তোমাদের পাঠিয়েছে এবং গিয়ে তাদের বলো) , আমি অবশ্যই ওদের মোকাবেলায় এমন এক বাহিনী নিয়ে হাযির হবো, (তাদের যা আছে) তা দিয়ে যার প্রতিরোধ করার শক্তি ওদের নেই এবং আমি অবশ্যই তাদের সে জনপদ থেকে লাঞ্ছিতভাবে বের করে দেবো, (পরিণামে) ওরা সবাই অপমানিত হবে।
৩৮
قَالَ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَيُّكُمْ يَأْتِينِي بِعَرْشِهَا قَبْلَ أَنْ يَأْتُونِي مُسْلِمِينَ ﴿٣٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে (নিজের মন্ত্রণা) পরিষদকে বললো, হে আমার পারিষদরা, তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করতে আসার আগেই তার (গোটা) সিংহাসন আমার কাছে (তুলে) নিয়ে আসতে পারে এমন কে (এখানে) আছে ?
৩৯
قَالَ عِفْرِيتٌ مِنَ الْجِنِّ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ تَقُومَ مِنْ مَقَامِكَ وَإِنِّي عَلَيْهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٌ ﴿٣٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । বিশাল (বপুবিশষ্টি) এক জ্বিন দাঁড়িয়ে বললো, তোমরা বর্তমান স্থান থেকে উঠবার আগেই আমি তা তোমার কাছে নিয়ে আসবো, এ বিষয়ের উপর আমি অবশ্যই বিশ্বস্ত ক্ষমতাবান।
৪০
قَالَ الَّذِي عِنْدَهُ عِلْمٌ مِنَ الْكِتَابِ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ فَلَمَّا رَآهُ مُسْتَقِرًّا عِنْدَهُ قَالَ هَذَا مِنْ فَضْلِ رَبِّي لِيَبْلُوَنِي أَأَشْكُرُ أَمْ أَكْفُرُ وَمَنْ شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ ﴿٤٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আরেক জ্বিন যার কাছে আল্লাহ তায়ালার কিতাবের (কিছু বিশেষ) জ্ঞান ছিলো, (দাঁড়িয়ে) বললো (হে বাদশাহ) , তোমার চোখের (পরবর্তি) পলক তোমার দিকে ফেলার আগেই আমি তা তোমার কাছে নিয়ে আসবো; (কথা শেষ না হতেই) সে যখন দেখলো তা (সিংহাসন সব কিছুসহ) তার সামনেই দাঁড়ানো, তখন সে বললো, এ তো হচ্ছে (আসলেই) আমার মালিকের অনুগ্রহ; এর মাধ্যমে তিনি আমার পরীক্ষা নিতে চান (এর মাধ্যমে তিনি দেখতে চান) , আমি কি শোকর আদায় করি, না না-শোকরী করি; (মুলত) যে ব্যক্তি (আল্লাহ তায়ালার) কৃতজ্ঞতা আদায় করে সে (তো) করে তার নিজের কল্যাণের জন্যেই, আর যে ব্যক্তি (তা) প্রত্যাখ্যান করে (সে যেন জেনে রাখে) , তোমার মালিক সব ধরনের অভাব থেকে মুক্ত ও একান্ত মহানুভব।
৪১
قَالَ نَكِّرُوا لَهَا عَرْشَهَا نَنْظُرْ أَتَهْتَدِي أَمْ تَكُونُ مِنَ الَّذِينَ لَا يَهْتَدُونَ ﴿٤١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, তোমরা (এবার) তার সিংহাসনের আকৃতিটা একটু বদলে দাও, আমরা দেখি সে সত্যিই তা টের পায় কিনা, না সেও তাদের দলে শামিল হয়ে যায়, যারা পথের দিশা পায় না।
৪২
فَلَمَّا جَاءَتْ قِيلَ أَهَكَذَا عَرْشُكِ قَالَتْ كَأَنَّهُ هُوَ وَأُوتِينَا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ ﴿٤٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর (যখন) সে (রাণী) এলো (তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো) , তোমার সিংহাসন কি (দেখতে) এমন। ধরনের (ছিলো) ? সে বললো হ্যাঁ, (মনে হয়। এ ধরনেরই (ছিলো, আসলে) এ ঘটনার আগেই আমাদের কাছে সঠিক জ্ঞান এসে গেছে এবং আমরা (সে মর্মে) আত্মসমর্পণও করেছি।
৪৩
وَصَدَّهَا مَا كَانَتْ تَعْبُدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنَّهَا كَانَتْ مِنْ قَوْمٍ كَافِرِينَ ﴿٤٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাকে যে জিনিসটি (ঈমান আনতে এ যাবত) বাধা দিয়ে রেখেছিলো; তা ছিলো আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে অন্যের গোলামী করা; তাই (এতো দিন পর্যন্ত) সে ছিলো কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
৪৪
قِيلَ لَهَا ادْخُلِي الصَّرْحَ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَكَشَفَتْ عَنْ سَاقَيْهَا قَالَ إِنَّهُ صَرْحٌ مُمَرَّدٌ مِنْ قَوَارِيرَ قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٤٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অতপর) তাকে বলা হলো, যাও, এবার প্রাসাদে প্রবেশ করো, সে যখন (প্রাসাদের আয়নাসম বারান্দা) দেখলো তখন তার মনে হলো, এ যেন (স্বচ্ছ জলাশয়) এবং (এটা মনে করেই) সে তার উভয় হাঁটু পর্যন্ত কাপড় টেনে তুলে ধরলো; (তার এ আচরণ দেখে) সে (সোলায়মান) বললো, এটি হচ্ছে স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ; সে। (মহিলা) বললো, হে আমার মালিক, আমি (এতোদিন) আমার নিজের উপর যুলুম করে এসেছি, আজ আমি (আনুগত্যের স্বীকৃতি দিয়ে) সোলায়মানের সাথে আল্লাহ রব্বল আলামীনের উপর ঈমান আনলাম ।
৪৫
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ ﴿٤٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম (সে বলেছিলো) , তোমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করো, (এ আহ্বানের সাথে সাথে) তার (জাতির) লোকেরা (মু’মিন ও কাফের এই) দু'দলে বিভক্ত হয়ে পরস্পর বিতর্কে লপ্তি হয়ে গেলো।
৪৬
قَالَ يَا قَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿٤٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সে বললো, একি হলো তোমাদের!) তোমরা কেন (ঈমানের) কল্যাণের পরিবর্তে (আযাবের) অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চাইছো, কেন তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছো না, (এতে করে) তোমাদের উপর অনুগ্রহ করা হতে পারে।
৪৭
قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَنْ مَعَكَ قَالَ طَائِرُكُمْ عِنْدَ اللَّهِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ ﴿٤٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো, আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে তাদের সবাইকে আমাদের দুর্ভাগ্যের কারণ হিসেবেই (দেখতে) পেয়েছি; (এ কথা শুনে) সে বললো, (আসলে) তোমাদের শুভাশুভ সবই তো আল্লাহ তায়ালার এখতিয়ারে; (মুলত) তোমরা এমন এক দলের লোক যাদের (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) পরীক্ষা করা হচ্ছে।
৪৮
وَكَانَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ ﴿٤٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে শহরে ছিলো (নেতা গোছের) এমন নয় জন লোক, যারা আমার যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াতো, সংশোধনমুলক কোনো কাজই তারা করতো না।
৪৯
قَالُوا تَقَاسَمُوا بِاللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُ وَأَهْلَهُ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ أَهْلِهِ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ ﴿٤٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (একদিন) তারা (একজন আরেকজনকে) বললো তোমরা আল্লাহর নামে সবাই কসম করো যে, আমরা রাতের বেলায় তাকে ও তার (ঈমানদার) সাথীদের মেরে ফেলবো, অতপর (তদন্ত এলে) আমরা তার উত্তরাধিকারীকে বলবো, তার পরিবার-পরিজনকে হত্যা করার সময় আমরা তো (সেখানে) উপস্থিত ছিলামই না, আমরা অবশ্যই সত্য কথা বলছি।
৫০
وَمَكَرُوا مَكْرًا وَمَكَرْنَا مَكْرًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٥٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা (যখন সালেহকে মারার জন্যে এ) চক্রান্ত করছিলো, (তখন) আমিও (তাকে রক্ষা করার জন্যে এমন এক) কৌশল (বের) করলাম, যা তারা (বিন্দুমাত্রও) বুঝতে পারেনি।
৫১
فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ مَكْرِهِمْ أَنَّا دَمَّرْنَاهُمْ وَقَوْمَهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٥١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, আজ) তুমি দেখো, তাদের চক্রান্তের কী পরিণাম হয়েছে, আমি তাদের এবং তাদের জাতির সবাইকে ধ্বংস করে দিয়েছি।
৫২
فَتِلْكَ بُيُوتُهُمْ خَاوِيَةً بِمَا ظَلَمُوا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ﴿٥٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (চেয়ে দেখো, ) এ হচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি, তাদেরই যুলুমের কারণে তা (আজ) মুখ থুবড়ে পড়ে আছে; অবশ্য এ (ঘটনার) মাঝে জ্ঞানবান মানুষদের জন্যে (শিক্ষার অনেক) নিদর্শন রয়েছে।
৫৩
وَأَنْجَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ ﴿٥٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যারা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান এনেছে এবং (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করেছে, আমি তাদের (আমার আযাব থেকে) মুক্তি দিয়েছি।
৫৪
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ وَأَنْتُمْ تُبْصِرُونَ ﴿٥٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আর (এক নবী ছিলো) লুত, যখন সে তার জাতিকে বললো, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ নিয়ে আসো, অথচ তোমরা (এর পরিণাম) ভালো করেই দেখতে পাচ্ছো!
৫৫
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ ﴿٥٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা কি (তোমাদের) যৌনতৃপ্তির জন্যে নারী বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছেই আসবে? (মুলত) তোমরা হচ্ছো একটি মুখ জাতি ।
৫৬
فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ ﴿٥٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তার জাতির লোকদের কাছে এছাড়া আর কোনো উত্তরই ছিলো না যে, লুত পরিবারকে তোমাদের এ জনপদ থেকে বের করে দাও, কেননা এরা কয়েকজন (আসলেই) বেশী ভালো মানুষ।
৫৭
فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَاهَا مِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٥٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (পরিশেষে) আমি তাকে ও তার পরিবার-পরিজনকে (আযাব থেকে) উদ্ধার করলাম, তবে তার সতীকে নয়, তাকে আমি পেছনে পড়ে থাকা (আযাবে নিমজ্জিত) মানুষদের সাথে শামিল করে দিয়েছিলাম।
৫৮
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِينَ ﴿٥٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর (যারা পেছনে রয়ে গেছে) তাদের উপর আমি (গযবের) বৃষ্টি নাযিল করলাম, যাদের ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিলো তাদের জন্য এ বৃষ্টি, (যা সেদিন) ভীত সন্ত্রস্ত এ জাতির (উপর) পাঠানো হয়েছিলো কতোই না নিকৃষ্ট ছিলো!
৫৯
قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى آللَّهُ خَيْرٌ أَمْ مَا يُشْرِكُونَ ﴿٥٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি বলো, সমস্ত তারীফ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যেই এবং (যাবতীয়) শান্তি তাঁর সেসব নেক বান্দার জন্যে, যাদের তিনি বাছাই করে নিয়েছেন; (আসলে) কে শ্রেষ্ঠ আল্লাহ তায়ালা? না এরা (তাঁর সাথে) যাদের শরীক করে? পারা
৬০
أَمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنْزَلَ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُنْبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ ﴿٦٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অথবা তিনি (শ্রেষ্ঠ) - যিনি আসমানসমুহ ও যমীন পয়দা করেছেন এবং আসমান থেকে তোমাদের জন্যে পানি বর্ষণ করেছেন, (আবার) তা দিয়ে (যমীনে) মনোরম উদ্যান তৈরী করেছেন, অথচ তার (একটি ক্ষুদ্র) বৃক্ষ পয়দা করারও তোমাদের ক্ষমতা নেই; (বলো, এসব কাজে) আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্য কেউ মাবুদ আছে কি? বরং তারা হচ্ছে এমন এক সম্প্রদায়, যারা অন্যকে আল্লাহ তায়ালার সমকক্ষ সাব্যস্ত করছে!
৬১
أَمْ مَنْ جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَارًا وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٦١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । কিংবা তিনি (শ্রেষ্ঠ) - যিনি যমীনকে (সৃষ্টিকুলের) বসবাসের উপযোগী করেছেন, (আবার) তার মাঝে মাঝে প্রবাহিত করেছেন অসংখ্য নদীনালা, (যমীনকে সুদৃঢ় করার জন্যে) তার মধ্যে পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, দুই সাগরের মাঝে (মিষ্টি ও লোনা পানির) সীমারেখা সৃষ্টি করে দিয়েছেন; (বলো, এসব কাজে) আল্লাহ তায়ালার সাথে আর কোনো মাবুদ আছে কি? কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক (এ সত্যটুকুও) জানে না;
৬২
أَمْ مَنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ ﴿٦٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অথবা তিনিই (শ্রেষ্ঠ) - যিনি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেন, যখন (নিরুপায় হয়ে) সে তাঁকেই ডাকতে থাকে, তখন (তার) বিপদ আপদ তিনি দুরীভূত করে দেন এবং তিনি তোমাদের এ যমীনে তাঁর প্রতিনিধি বানান; (এসব কাজে) আল্লাহ তায়ালার সাথে আর কোনো মাবুদ কি আছে? (আসলে) তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো;
৬৩
أَمْ مَنْ يَهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَنْ يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿٦٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । কিংবা তিনি (শ্রেষ্ঠ) - যিনি তোমাদের জলে স্থলের (গহীন) অন্ধকারে পথ দেখান, যিনি তাঁর অনুগ্রহ (-সম বৃষ্টি) বর্ষণের আগে তার সুসংবাদ বহন করার জন্যে বাতাস প্রেরণ করেন; (এ সব কাজে) আল্লাহর সাথে অন্য কোনো মাবুদ কি আছে? আল্লাহ তায়ালা অনেক মহান, ওরা যা কিছু তাঁর সাথে শরীক করে তিনি তার চাইতে অনেক ঊর্ধ্বে;
৬৪
أَمْ مَنْ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٦٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অথবা তিনি (শ্রেষ্ঠ) - যিনি (গোটা) সৃষ্টিকে (প্রথম বার) অস্তিত্বে আনয়ন করে (মৃত্যুর পর) তা আবার সৃষ্টি করবেন, কে তোমাদের আসমান ও যমীন থেকে রিযিক সরবরাহ করছেন? আছে কি কোনো মাবুদ আল্লাহর সাথে (এসব কাজে) ? তাদের তুমি বলো (হে নবী) , যদি তোমরা তোমাদের দাবীতে) সত্যবাদী হও তাহলে (তার সপক্ষে) তোমাদের কোনো প্রমাণ নিয়ে এসো।
৬৫
قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ ﴿٦٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি বলো, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আসমানসমুহ ও যমীনে যা কিছু আছে, এদের কেউই অদৃশ্য জগতের কিছু জানে না; তারা এও জানে না, কবে তাদের আবার (কবর থেকে) উঠানো হবে!
৬৬
بَلِ ادَّارَكَ عِلْمُهُمْ فِي الْآخِرَةِ بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِنْهَا بَلْ هُمْ مِنْهَا عَمُونَ ﴿٦٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (মনে হচ্ছে, ) আখেরাত সম্পর্কে এদের জ্ঞান নিশেষ হয়ে গেছে। (না, আসলে তা নয়, ) বরং তারা (এ ব্যাপারে) সন্দেহে (নিমজ্জিত হয়ে) আছে, কিন্তু তারা সে সম্পর্কে (জেনে বুঝেই) অন্ধ হয়ে আছে।
৬৭
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَئِذَا كُنَّا تُرَابًا وَآبَاؤُنَا أَئِنَّا لَمُخْرَجُونَ ﴿٦٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করে তারা বলে, আমরা ও আমাদের বাপদাদারা (মৃত্যুর পর) যখন মাটি হয়ে যাবো, তখনও কি আবার আমরা (কবর থেকে) উখিত হবো!
৬৮
لَقَدْ وُعِدْنَا هَذَا نَحْنُ وَآبَاؤُنَا مِنْ قَبْلُ إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ ﴿٦٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এমন (ধরনের) ওয়াদা তো আমাদের সাথে এবং এর আগে আমাদের বাপ-দাদাদের সাথেও করা হয়েছিলো, (আসলে) এগুলো ভিত্তিহীন কথা ছাড়া আর কিছুই নয়! যা পুর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত হয়ে আসছে।
৬৯
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ ﴿٦٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি বলো, তোমরা (আল্লাহর) যমীনে সফর করো এবং দেখো অপরাধীদের পরিণাম কি (ভয়াবহ) হয়েছে?
৭০
وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ ﴿٧٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি ওদের (কোনো) কাজের উপর দুঃখ করো না, যা কিছু ষড়যন্ত্র ওরা তোমার বিরুদ্ধে করুক না কেন (তাতেও) মনোক্ষুন্ন হয়ো না!
৭১
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٧١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বলে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে বলো, (আযাবের) ওয়াদা কখন আসবে!
৭২
قُلْ عَسَى أَنْ يَكُونَ رَدِفَ لَكُمْ بَعْضُ الَّذِي تَسْتَعْجِلُونَ ﴿٧٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি বলো, (আযাবের) যে বিষয়টি তোমরা ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছো তার কিছু অংশ সম্ভবত তোমাদের পেছনে এসে দাঁড়িয়ে আছে!
৭৩
وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُونَ ﴿٧٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই তোমার মালিক মানুষদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই (আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহের) শোকর আদায় করে না।
৭৪
وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ ﴿٧٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যা কিছু তাদের মন গোপন করে, আর যা কিছু তা বাইরে প্রকাশ করে, তোমার মালিক তা ভালো করেই জনেন।
৭৫
وَمَا مِنْ غَائِبَةٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ ﴿٧٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আসমান ও যমীনে এমন কোনো গোপন রহস্য নেই যা (আমার) সুস্পষ্ট গ্রন্থে (লিপিবদ্ধ) নেই।।
৭৬
إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَقُصُّ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَكْثَرَ الَّذِي هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿٧٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই এ কোরআন বনী ইসরাঈলদের উপর তাদের এমন অনেক কথা প্রকাশ করে দেয়, যার ব্যাপারে তারা (একে অপরের সাথে) মতভেদ করে থাকে।
৭৭
وَإِنَّهُ لَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٧٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে এ (কোরআন) হচ্ছে ঈমানদারদের জন্যে (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) হেদায়াত ও রহমত।
৭৮
إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُمْ بِحُكْمِهِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ ﴿٧٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তোমার মালিক নিজ প্রজ্ঞা অনুযায়ীই এদের মাঝে মীমাংসা করে দেবেন, তিনি পরাক্রমশালী, তিনি সর্বজ্ঞ,
৭৯
فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّكَ عَلَى الْحَقِّ الْمُبِينِ ﴿٧٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব (হে নবী, সর্বাবস্থায়ই) তুমি আল্লাহ তায়ালার উপর নির্ভর করো; নিসন্দেহে তুমি সুস্পষ্ট সত্যের উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে।
৮০
إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى وَلَا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَاءَ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ ﴿٨٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি মৃত লোকদের কখনো (কিছু) শোনাতে পারবে না, বধিরকেও তোমার আওয়ায শোনাতে পারবে না, (বিশেষ করে) যখন তারা (তোমাকে দেখে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।
৮১
وَمَا أَنْتَ بِهَادِي الْعُمْيِ عَنْ ضَلَالَتِهِمْ إِنْ تُسْمِعُ إِلَّا مَنْ يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا فَهُمْ مُسْلِمُونَ ﴿٨١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (একইভাবে) তুমি অন্ধদেরও (তাদের) গোমরাহী থেকে সঠিক পথের উপর আনতে পারবে না; তুমি তো শুধু তাদেরই (তোমার কথা) শোনাতে পারবে, যারা আমার আয়াতসমুহের উপর ঈমান আনে এবং সে অনুযায়ী (আল্লাহ তায়ালার কাছে) আত্মসমর্পণ করে।
৮২
وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ ﴿٨٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (শুনে রাখো, ) যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় তাদের উপর এসে পড়বে, তখন আমি মাটির ভেতর থেকে তাদের জন্যে এক (অদ্ভুত) জীব বের করে আনবো, যা (অলৌকিকভাবে) তাদের সাথে কথা বলবে, মানুষরা (অনেকেই) আমার আয়াতসমুহে বিশ্বাস করে না।
৮৩
وَيَوْمَ نَحْشُرُ مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ فَوْجًا مِمَّنْ يُكَذِّبُ بِآيَاتِنَا فَهُمْ يُوزَعُونَ ﴿٨٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সেদিনের কথা ভাবো, ) যেদিন আমি প্রতিটি উম্মত থেকে এক একটি দলকে এনে জড়ো করবো, যারা আমার আয়াতসমুহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, অতপর তাদের বিভিন্ন দলে উপদলে ভাগ করে দেয়া হবে ।
৮৪
حَتَّى إِذَا جَاءُوا قَالَ أَكَذَّبْتُمْ بِآيَاتِي وَلَمْ تُحِيطُوا بِهَا عِلْمًا أَمْ مَاذَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٨٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এমনি করে ওরা যখন (আল্লাহ তায়ালার সামনে) হাযির হবে, তখন (আল্লাহ তায়ালা তাদের) জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কি আমার আয়াতসমুহকে (শুধু এ কারণেই) অস্বীকার করেছিলে এবং তোমাদের (সীমিত) জ্ঞান দিয়ে তোমরা সে (আয়াতের মর্ম) পর্যন্ত পুঁতৌেছুতে পারোনি, (বলো, তার সাথে) তোমরা (আর কি) কি আচরণ করতে ?
৮৫
وَوَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ بِمَا ظَلَمُوا فَهُمْ لَا يَنْطِقُونَ ﴿٨٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যেহেতু এরা (দুনিয়ার জীবনে নানা ধরনের) যুলুম করেছে, (তাই আজ) এদের উপর (আযাবের) প্রতিশ্রুতি পুরো হয়ে যাবে, অতপর এরা (আর) কোনো রকম উচ্চবাচ্যও করতে পারবে না।
৮৬
أَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا اللَّيْلَ لِيَسْكُنُوا فِيهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٨٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা কি দেখেনি, আমি রাতকে এ জন্যেই তৈরী করেছি যেন তারা তাতে বিশ্রাম করতে পারে, (অপরদিকে জীবিকার প্রয়োজনে) দিনকে বানিয়েছি আলোকোজ্জ্বল; অবশ্যই এর (দিবারাত্রির পার্থক্যের) মাঝে তাদের জন্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে, যারা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান আনে।
৮৭
وَيَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَفَزِعَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ وَكُلٌّ أَتَوْهُ دَاخِرِينَ ﴿٨٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, যারা আসমানসমুহে আছে এবং যারা যমীনে আছে, তারা সবাই সেদিন ভীত সনস্ত হয়ে পড়বে, তবে (তাদের কথা) আলাদা যাদের আল্লাহ তায়ালা (এ থেকে বঁচাতে) চাইবেন; সবাই সেদিন তাঁর সামনে অবনমিত অবস্থায় হাযির হবে।
৮৮
وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ إِنَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَفْعَلُونَ ﴿٨٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে মানুষ, আজ) তুমি পাহাড়কে দেখতে পাচ্ছো, তুমি মনে করে নিয়েছে তা অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে; (কিন্তু কেয়ামতের দিন) এ পাহাড়গুলোই মেঘের মতো উড়তে থাকবে, এটা আল্লাহ তায়ালারই সৃষ্টির শৈল্পিক নিপুণতা, যিনি প্রতিটি জিনিস মযবুত করে বানিয়ে রেখেছেন; তোমরা যা কিছু করছো অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সেসব ব্যাপারে সম্যক অবগত আছেন।
৮৯
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا وَهُمْ مِنْ فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ ﴿٨٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সেদিন) যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজ নিয়ে (আমার সামনে) হাযির হবে তাকে উৎকৃষ্ট (প্রতিফল) দেয়া হবে, এমন ধরনের লোকেরা (সেদিনের) ভীতিকর অবস্থা থেকেও নিরাপদ থাকবে ।
৯০
وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٩٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অপরদিকে) যে ব্যক্তি কোনোরকম মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাদের (সেদিন) উল্টো করে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, (জাহান্নামের প্রহরীরা তাদের বলবে) ; তোমরা যা কিছু করতে তার বিনিময় এ ছাড়া আর কি তোমাদের দেয়া যাবে ?
৯১
إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَهَا وَلَهُ كُلُّ شَيْءٍ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿٩١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, তুমি বলো, ) আমাকে তো শুধু এটুকুই আদেশ দেয়া হয়েছে যেন আমি এ (মক্কা) নগরীর (আসল) মালিকের ইবাদাত করি, যিনি একে সম্মানিত করেছেন, সব কিছু তার জন্যে (নিবেদিত) , আমাকে (এও) হুকুম দেয়া হয়েছে যেন আমি (তাঁরই আদেশের সামনে) আত্মসমর্পণ করি,
৯২
وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَا أَنَا مِنَ الْمُنْذِرِينَ ﴿٩٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি যেন কোরআন তেলাওয়াত করি, অতপর যে ব্যক্তি হেদায়াতের পথ অনুসরণ করবে সে তো তা করবে তার নিজের (মুক্তির) জন্যেই, আর যে ব্যক্তি (এরপরও) গোমরাহ থেকে যাবে, (তাকে শুধু) তুমি (এটুকু) বলো, আমি তো কেবল (তোমার জন্যে জাহান্নামের) একজন সতর্ককারী মাত্র!
৯৩
وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَتَعْرِفُونَهَا وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٩٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি আরো বলো, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যেই, অচিরেই তিনি তোমাদের এমন কিছু নিদর্শন দেখাবেন, যা দেখলে) তোমরা তা সহজেই চিনে নেবে; তোমরা যা কিছু আচরণ করছো আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে মোটেই বেখবর নন।



ফন্ট সাইজ
15px
17px