🕋

القصص
(২৮) আল-কাসাস

৮৮

﴾২৮:১﴿
﴾ ২৮:১ ﴿
طسم ﴿١﴾
ত্বা-সীম-মীম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২﴿
﴾ ২৮:২ ﴿
تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ ﴿٢﴾
এ হচ্ছে সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩﴿
﴾ ২৮:৩ ﴿
نَتْلُوا عَلَيْكَ مِنْ نَبَإِ مُوسَى وَفِرْعَوْنَ بِالْحَقِّ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٣﴾
(হে নবী, এ আয়াতসমুহের মাধ্যমে) আমি তোমাকে মুসা ও ফেরাউনের কিছু ঘটনা ঠিক ঠিক করে বলে দিতে চাই, (এটা) তাদের জন্যে, যারা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান আনে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪﴿
﴾ ২৮:৪ ﴿
إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا يَسْتَضْعِفُ طَائِفَةً مِنْهُمْ يُذَبِّحُ أَبْنَاءَهُمْ وَيَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ إِنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ ﴿٤﴾
(ঘটনাটা ছিলো এই, ) ফেরাউন (আল্লাহর) যমীনে অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলো, সে তার (দেশের) অধিবাসীদের বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করে রেখেছিলো, সে তাদের একটি দলকে হীনবল করে রেখেছিলো, সে তাদের পুত্রদের হত্যা করতো এবং নারীদের জীবিত রেখে দিতো; অবশ্যই সে ছিলো (যমীনে) বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫﴿
﴾ ২৮:৫ ﴿
وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ ﴿٥﴾
(ফেরাউনের এসব নিপীড়নের মোকাবেলায়) আমি সে যমীনে যাদের হীনবল করে রাখা হয়েছিল তাদের উপর (কিছুটা) অনুগ্রহ করতে এবং আমি তাদের (ফেরাউনের সেবাদাস থেকে উঠিয়ে দেশের) নেতা বানিয়ে দিতে এবং তাদেরকে (এ যমীনের) উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেয়ার এরাদা করলাম; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬﴿
﴾ ২৮:৬ ﴿
وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَنُرِيَ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُمْ مَا كَانُوا يَحْذَرُونَ ﴿٦﴾
আমি (ইচ্ছা করলাম) সে দেশে তাদের ক্ষমতার আসনে বসিয়ে দেবো এবং তাদের মাধ্যমে ফেরাউন, হামান ও তার লয় লশকরদের সে ব্যাপারটা দেখিয়ে দেবো, যে ব্যাপারে তারা আশংকা করতো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭﴿
﴾ ২৮:৭ ﴿
وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ ﴿٧﴾
(এমনি এক সময় মুসার জন্ম হলো, যখন) আমি মুসার মায়ের কাছে এ আদেশ পাঠালাম, তুমি তাকে বুকের দুধ খাওয়াও, যদি কখনো তার (নিরাপত্তার) ব্যাপারে তোমার ভয় হয় তাহলে (বাক্সে ভরে) তাকে সমুদ্রে ফেলে দিয়ো, কোনো রকম ভয় করো না, দুশ্চিন্তাও করো না, অবশ্যই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেবো, আমি তাকে রসুলদের মধ্যে শামিল করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮﴿
﴾ ২৮:৮ ﴿
فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ ﴿٨﴾
(আল্লাহ তায়ালার আদেশ অনুযায়ী মুসার মা তাকে সমুদ্রে ফেলে দিলো, ) অতপর ফেরাউনের লোকজন তাকে (সমুদ্র থেকে) উঠিয়ে নিলো, যেন সে তাদের জন্যে দুশমনী ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে পড়তে পারে; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফেরাউন, হামান ও তাদের বাহিনী ছিলো ভয়ানক অপরাধী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৯﴿
﴾ ২৮:৯ ﴿
وَقَالَتِ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ قُرَّةُ عَيْنٍ لِي وَلَكَ لَا تَقْتُلُوهُ عَسَى أَنْ يَنْفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٩﴾
ফেরাউনের স্ত্রী(এ শিশুটিকে দেখে তার স্বামীকে) বললো, এ শিশুটি আমার এবং তোমার জন্যে চক্ষু শীতলকারী (হবে) , একে হত্যা করো না, হয়তো একদিন এ আমাদের কোনো উপকারও করতে পারে, অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবেও (তো) গ্রহণ করতে পারি, কিন্তু তারা (তখন আল্লাহ তায়ালার পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই) বুঝতে পারেনি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১০﴿
﴾ ২৮:১০ ﴿
وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَى فَارِغًا إِنْ كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلَا أَنْ رَبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٠﴾
(ওদিকে) মুসার মায়ের মন অস্থির হয়ে পড়েছিলো, (আমার প্রতি) আস্থাশীল থাকার জন্যে যদি আমি তার মনকে দৃঢ় না করে দিতাম, তাহলে সে তো (দুশমনদের কাছে) তার খবর প্রকাশ করেই দিচ্ছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১১﴿
﴾ ২৮:১১ ﴿
وَقَالَتْ لِأُخْتِهِ قُصِّيهِ فَبَصُرَتْ بِهِ عَنْ جُنُبٍ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿١١﴾
সে মুসার বোনকে বললো, তুমি (সাগরের পাড় ধরে) এর পেছনে পেছনে যাও, (কথানুযায়ী) সে তাকে দুর থেকে এমনভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলো যে, ফেরাউনের লোকেরা টেরও করতে পারলো না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১২﴿
﴾ ২৮:১২ ﴿
وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِنْ قَبْلُ فَقَالَتْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ ﴿١٢﴾
(ওদিকে) আগে থেকেই আমি তার উপর (ধাত্রীদের) সন্তানের দুধ খাওয়ানো নিষদ্ধি করে রেখেছিলাম, (এ অবস্থা দেখে) সে (বোনটি) বললো, আমি কি তোমাদের এমন একটি পরিবারের নাম (ঠিকানা) বলে দেবো, যারা তোমাদের জন্যে একে লালন পালন করবে, সাথে সাথে তারা এর শুভানুধ্যায়ীও হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১৩﴿
﴾ ২৮:১৩ ﴿
فَرَدَدْنَاهُ إِلَى أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٣﴾
আমি তাকে (আবার) তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে আনলাম, যাতে করে (নিজের সন্তানকে দেখে) তার চোখ ঠান্ডা হয়ে যায় এবং সে কোনো রকম দুঃখ না পায়, সে (একথাটাও ভালো করে) জেনে নিতে পারে, আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা সত্য, যদিও অধিকাংশ লোক এটা জানে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১৪﴿
﴾ ২৮:১৪ ﴿
وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴿١٤﴾
যখন সে (পুর্ণ) যৌবনে উপনীত হলো এবং (শারীরিক শক্তিতে) পুর্ণতা প্রাপ্ত হলো, (তখন আমি তাকে) জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করলাম; আমি নেককার লোকদের এভাবেই প্রতিফল দান করি । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১৫﴿
﴾ ২৮:১৫ ﴿
وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِنْ أَهْلِهَا فَوَجَدَ فِيهَا رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِ هَذَا مِنْ شِيعَتِهِ وَهَذَا مِنْ عَدُوِّهِ فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِي مِنْ شِيعَتِهِ عَلَى الَّذِي مِنْ عَدُوِّهِ فَوَكَزَهُ مُوسَى فَقَضَى عَلَيْهِ قَالَ هَذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُضِلٌّ مُبِينٌ ﴿١٥﴾
(একদিন) সে নগরীতে প্রবেশ করলো, যখন (সেখানে) নগরবাসীরা অসতর্ক অবস্থায় (আরাম কর) ছিলো, অতপর সে সেখানে দু'জন মানুষকে মারামারি করতে দেখলো, এদের একজন ছিলো তার নিজ জাতি (বনী ইসরাঈলের) আর দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলো তার শত্রু দলের (লোক) , যে ব্যক্তি ছিলো তার দলের, সে তখন দ্বিতীয় ব্যক্তির মোকাবেলায় তার সাহায্য চাইলো, যে ছিলো তার শত্রু দলের, তখন মুসা তাকে একটি ঘুষি মারলো, এভাবে সে তাকে হত্যাই করে ফেললো, (সাথে সাথে অনুতপ্ত হয়ে) সে বললো, এ তো একটা শয়তানী কাজ; অবশ্যই সে (হচ্ছে মানুষের) দুশমন এবং প্রকাশ্য বিভ্রান্তকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১৬﴿
﴾ ২৮:১৬ ﴿
قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ﴿١٦﴾
সে (আরো) বললো, হে আমার মালিক, (অনিচ্ছাকৃত এ কাজ করে) আমি তো আমার নিজের উপর (বড়) যুলুম করে ফেলেছি (হে আল্লাহ তায়ালা) , তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও, অতপর আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিলেন, কেননা তিনি হচ্ছেন ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১৭﴿
﴾ ২৮:১৭ ﴿
قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِلْمُجْرِمِينَ ﴿١٧﴾
সে (আরো) বললো, হে আমার মালিক, তুমি যেভাবে আমার উপর মেহেরবানী করেছো, (সে অনুযায়ী) আমিও তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ) আমি আর কখনো কোনো অপরাধী ব্যক্তির জন্যে সাহায্যকারী হবো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১৮﴿
﴾ ২৮:১৮ ﴿
فَأَصْبَحَ فِي الْمَدِينَةِ خَائِفًا يَتَرَقَّبُ فَإِذَا الَّذِي اسْتَنْصَرَهُ بِالْأَمْسِ يَسْتَصْرِخُهُ قَالَ لَهُ مُوسَى إِنَّكَ لَغَوِيٌّ مُبِينٌ ﴿١٨﴾
অতপর ভীত শংকিত অবস্থায় সে নগরীতে তার ভোর হলো, হঠাৎ সে দেখতে পেলো, আগের দিন যে ব্যক্তি তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলো, সে (আবার) তাকে সাহায্যের জন্য চীৎকার করছে; মুসা (এবার) তাকে বললো, তুমি তো দেখছি ভারী ভেজালে লোক ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:১৯﴿
﴾ ২৮:১৯ ﴿
فَلَمَّا أَنْ أَرَادَ أَنْ يَبْطِشَ بِالَّذِي هُوَ عَدُوٌّ لَهُمَا قَالَ يَا مُوسَى أَتُرِيدُ أَنْ تَقْتُلَنِي كَمَا قَتَلْتَ نَفْسًا بِالْأَمْسِ إِنْ تُرِيدُ إِلَّا أَنْ تَكُونَ جَبَّارًا فِي الْأَرْضِ وَمَا تُرِيدُ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْمُصْلِحِينَ ﴿١٩﴾
(তারপরও) যখন সে (ও ফরিয়াদী ব্যক্তিটি) তাদের উভয়ের শত্রর উপর হাত উঠাতে চাইলো (তখন এ ফরিয়াদী ব্যক্তিটি মনে করলো, মুসা বুঝি তাকে মেরেই ফেলবে) , তাই সে বললো, তুমি কি আজ আমাকে সেভাবেই হত্যা করতে চাও, যেভাবে কাল তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছো, তুমি তো যমীনে দারুণ স্বেচ্ছাচারী হতে চলেছো, তুমি কি মোটেই শান্তি স্থাপনকারী হতে চাও না! ফেলবে) , তাই সে লেছো, তুমি কি মেকভাবে কাল তুমি এক [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২০﴿
﴾ ২৮:২০ ﴿
وَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَسْعَى قَالَ يَا مُوسَى إِنَّ الْمَلَأَ يَأْتَمِرُونَ بِكَ لِيَقْتُلُوكَ فَاخْرُجْ إِنِّي لَكَ مِنَ النَّاصِحِينَ ﴿٢٠﴾
(এর কিছুক্ষণ পরই) এক ব্যক্তি নগরীর (আরেক) প্রান্তর থেকে দৌড়ে এসে বললো, হে মুসা (আমি এমাত্র শুনে এলাম) , ফেরাউনের দরবারীরা তোমাকে হত্যা করার ব্যাপারে পরামর্শ করছে, অতএব তুমি এক্ষুণি (শহর থেকে) বের হয়ে যাও, আমি হচ্ছি তোমার একজন শুভাকাংখী (বন্ধু) ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২১﴿
﴾ ২৮:২১ ﴿
فَخَرَجَ مِنْهَا خَائِفًا يَتَرَقَّبُ قَالَ رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٢١﴾
অতপর সে ভীত আতংকিত অবস্থায় নগরী থেকে বের হয়ে গেলো এবং (যেতে যেতে) বললো, হে মালিক, তুমি আমাকে যালেম জাতি (-র হাত) থেকে রক্ষা করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২২﴿
﴾ ২৮:২২ ﴿
وَلَمَّا تَوَجَّهَ تِلْقَاءَ مَدْيَنَ قَالَ عَسَى رَبِّي أَنْ يَهْدِيَنِي سَوَاءَ السَّبِيلِ ﴿٢٢﴾
(মিসর ছেড়ে) যখন সে মাদইয়ান অভিমুখে যাত্রা করলো তখন বললো, আমি আশা করি আমার মালিক আমাকে সঠিক পথই দেখাবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২৩﴿
﴾ ২৮:২৩ ﴿
وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاءُ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ ﴿٢٣﴾
অবশেষে যখন সে মাদইয়ানের (একটি) পানির (কূপের) কাছে পৌঁছলো, তখন দেখলো তার পাশে অনেক মানুষ, তারা (পশুদের) পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের অদুরে সে দু'জন রমণীকে (দেখতে) পেলো, যারা (নিজ নিজ পশুদের) আগলে রাখছে, সে (তাদের) জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের কি হলো (তোমরা পশুদের পানি খাওয়াচ্ছো না) ? তারা বললো, আমরা (পশুদের) পানি খাওয়াতে পারবো না, যতোক্ষণ না এ রাখালরা (তাদের পশুদের) সরিয়ে না নিয়ে যায় এবং আমাদের পিতা একজন বৃদ্ধ মানুষ বলে আমরা পশুদের পানি খাওয়াতে নিয়ে এসেছি) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২৪﴿
﴾ ২৮:২৪ ﴿
فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ ﴿٢٤﴾
(একথা শোনার পর) সে এদের (পশুগুলোকে) পানি খাইয়ে দিলো, তারপর (সরে) একটি (গাছের) ছায়ার দিকে গেলো এবং (আল্লাহকে) বললো, হে আমার মালিক, (এ মুহূর্তে) তুমি (নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে) যে নেয়ামতই আমার উপর নাযিল করবে, আমি একান্তভাবে তারই মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২৫﴿
﴾ ২৮:২৫ ﴿
فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ قَالَتْ إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا فَلَمَّا جَاءَهُ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ قَالَ لَا تَخَفْ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٢٥﴾
(আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত আসতে দেরী হলো না, মুসা দেখতে পেলো) সে দুই রমণীর একজন লজ্জা জড়ানো অবস্থায় তার কাছে এলো এবং বললো, আমার পিতা তোমাকে তার কাছে ডেকেছেন, তুমি যে আমাদের (পশুগুলোকে) পানি খাইয়ে দিয়েছিলে তার জন্যে তিনি তোমাকে কিছু পারিশ্রমিক দিতে চান; অতপর সে তার কথামতো তার (পিতার) কাছে এলো এবং (নিজের) কাহিনী তার কাছে বর্ণনা করলো, (সব শুনে) সে (মুসাকে) বললো, তুমি কোনো ভয় করো না। (এখন) তুমি যালেমদের কাছ থেকে বেঁচে গেছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২৬﴿
﴾ ২৮:২৬ ﴿
قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ ﴿٢٦﴾
সে দু'জন (রমণীর) একজন তার (পিতাকে) বললো, হে (আমার) পিতা, একে বরং তুমি (তোমার) কাজে নিয়োগ করো, কেননা তোমার মজুর হিসেবে সে (ব্যক্তিই) উত্তম (বলে প্রমাণিত) হবে, যে হবে (শারীরিক দিক থেকে) শক্তিশালী এবং (চরিত্রের দিক থেকে) বিশ্বস্ত । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২৭﴿
﴾ ২৮:২৭ ﴿
قَالَ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنْكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَنْ تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ فَإِنْ أَتْمَمْتَ عَشْرًا فَمِنْ عِنْدِكَ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أَشُقَّ عَلَيْكَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿٢٧﴾
(এরপর রমণীদের) পিতা (তাকে) বললো, আমি আমার এ দুই মেয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই, (তবে তা হবে) এ কথার উপর, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে, যদি তুমি (আট বছরের জায়গায়) দশ বছর পুরো করতে চাও, তবে তা হবে একান্ত তোমার ব্যাপার, আমি তোমার উপর কোনো কষ্ট (-কর শর্ত) আরোপ করতে চাই না; আল্লাহ তায়ালা চাইলে তুমি আমাকে সদাচারী ব্যক্তি হিসেবেই দেখতে পাবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২৮﴿
﴾ ২৮:২৮ ﴿
قَالَ ذَلِكَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ أَيَّمَا الْأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَيَّ وَاللَّهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ ﴿٢٨﴾
সে (এতেই রাযি হলো এবং) বললো (ঠিক আছে) , আমার এবং আপনার মাঝে এ চুক্তিই (পাকা হয়ে) থাকলো; আপনার দেয়া দু'টো মেয়াদের যে কোনো একটি যদি আমি পুরণ করি, তাহলে (আপনার পক্ষ থেকে) আমার উপর কোনো বাড়াবাড়ি করা হবে না (এ নিশ্চয়তাটুকু আমি চাই) ; আমাদের এ কথার উপর আল্লাহ তায়ালাই সাক্ষী (হয়ে থাকলেন) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:২৯﴿
﴾ ২৮:২৯ ﴿
فَلَمَّا قَضَى مُوسَى الْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِ آنَسَ مِنْ جَانِبِ الطُّورِ نَارًا قَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَعَلِّي آتِيكُمْ مِنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ جَذْوَةٍ مِنَ النَّارِ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ ﴿٢٩﴾
অতপর মুসা যখন (তার চুক্তিবদ্ধ) মেয়াদ পূর্ণ করে নিলো, তখন সপরিবারে (নিজ দেশের দিকে) রওনা করলো, যখন সে তুর পাহাড়ের পাশে আগুন দেখতে পেলো, তখন সে তার পরিবারের লোকদের বললো, তোমরা (এখানেই) অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি, সম্ভবত আমি সেখান থেকে (রাস্তারঘাট সম্পর্কিত) কোনো খোঁজ খবর নিয়ে আসতে পারবো, আর তা না হলে (কমপক্ষে) জ্বলন্ত আগুনের কিছু টুকরো তো নিয়ে আসতেই পারবো, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩০﴿
﴾ ২৮:৩০ ﴿
فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ مِنْ شَاطِئِ الْوَادِي الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَنْ يَامُوسَى إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ ﴿٣٠﴾
যখন সে আগুনের কাছে পৌঁছালো, তখন উপত্যকার ডান পাশের পবিত্র ভূমিস্থিত একটি গাছ থেকে (গায়বী) আওয়ায এলো, হে মুসা, আমিই আল্লাহ- সৃষ্টিকুলের একমাত্র মালিক, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩১﴿
﴾ ২৮:৩১ ﴿
وَأَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّى مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ يَا مُوسَى أَقْبِلْ وَلَا تَخَفْ إِنَّكَ مِنَ الْآمِنِينَ ﴿٣١﴾
(তাকে আরো বলা হলো, ) তুমি তোমার হাতের লাঠিটি যমীনে নিক্ষেপ করো; যখন সে তাকে দেখলো, তা (জীবন্ত) সাপের মতোই ছুটাছুটি করছে, তখন সে উল্টো দিকে ছুটতে লাগলো, পেছনের দিকে তাকিয়েও দেখলো ; (তার প্রতি তখন আদেশ করা হলো, ) হে মুসা, তুমি এগিয়ে এসো, ভয় পেয়ো না। তুমি হচ্ছো নিরাপদ মানুষদেরই একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩২﴿
﴾ ২৮:৩২ ﴿
اسْلُكْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ وَاضْمُمْ إِلَيْكَ جَنَاحَكَ مِنَ الرَّهْبِ فَذَانِكَ بُرْهَانَانِ مِنْ رَبِّكَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ ﴿٣٢﴾
তুমি তোমার হাত তোমার (বুক) পকেটের ভেতরে রাখো (দেখবে) , কোনো রকম অসুস্থতা ছাড়াই তা উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসছে, (মন থেকে) ভয় (দুরীভূত) করার জন্যে তোমার হাতের বাজু তোমার (বুকের) সাথে মিলিয়ে রাখো, এ হচ্ছে ফেরাউন ও তার দলীয় প্রধানদের কাছে তোমার মালিকের পক্ষ থেকে (নবুওতের) দুটো প্রমাণ; সত্যিই তারা এক গুনাহগার জাতি । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩৩﴿
﴾ ২৮:৩৩ ﴿
قَالَ رَبِّ إِنِّي قَتَلْتُ مِنْهُمْ نَفْسًا فَأَخَافُ أَنْ يَقْتُلُونِ ﴿٣٣﴾
সে বললো, হে আমার মালিক, আমি (নিতান্ত ভুলবশত) তাদের একজন মানুষকে হত্যা করেছি, তাই আমার ভয় হচ্ছে তারা (সে হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে) আমাকে মেরে ফেলবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩৪﴿
﴾ ২৮:৩৪ ﴿
وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ ﴿٣٤﴾
আমার ভাই হারূন, সে আমার চাইতে ভালো করে কথা বলতে পারে, অতএব তুমি তাকে সাহায্যকারী হিসেবে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও, যাতে করে সে আমাকে সমর্থন করতে পারে, আমার ভয় হচ্ছে, (আমি একা গেলে) তারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩৫﴿
﴾ ২৮:৩৫ ﴿
قَالَ سَنَشُدُّ عَضُدَكَ بِأَخِيكَ وَنَجْعَلُ لَكُمَا سُلْطَانًا فَلَا يَصِلُونَ إِلَيْكُمَا بِآيَاتِنَا أَنْتُمَا وَمَنِ اتَّبَعَكُمَا الْغَالِبُونَ ﴿٣٥﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন (তুমি চিন্তা করো না) , আমি তোমার ভাইকে দিয়ে তোমার হাত শক্তিশালী করবো এবং আমার আয়াতসমুহ দিয়ে আমি তোমাদের (এমন) শক্তি যোগাবো যে, অতপর তারা (আর) কখনো তোমাদের কাছে পৌঁছতে পারবে না, (পরিশেষে) তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরাই তাদের উপর বিজয়ী হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩৬﴿
﴾ ২৮:৩৬ ﴿
فَلَمَّا جَاءَهُمْ مُوسَى بِآيَاتِنَا بَيِّنَاتٍ قَالُوا مَا هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُفْتَرًى وَمَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ ﴿٣٦﴾
অতপর যখন মুসা আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমুহ নিয়ে ওদের কাছে হাযির হলো, তখন তারা বললো, এ তো কতিপয় অলীক ইন্দ্রজাল ছাড়া আর কিছুই নয়, আমরা আমাদের বাবা-দাদাদের যমানায়ও তো এমন কিছু (ঘটতে) । শুনিনি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩৭﴿
﴾ ২৮:৩৭ ﴿
وَقَالَ مُوسَى رَبِّي أَعْلَمُ بِمَنْ جَاءَ بِالْهُدَى مِنْ عِنْدِهِ وَمَنْ تَكُونُ لَهُ عَاقِبَةُ الدَّارِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ ﴿٣٧﴾
মুসা বললো, আমার মালিক ভালো করেই জানেন কে তাঁর কাছ থেকে হেদায়াত নিয়ে এসেছে এবং (সেদিনের মতো আজ) কার পরিণাম কি হবে? (তবে একথা ঠিক, ) যালেমরা কখনোই সফল হয় না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩৮﴿
﴾ ২৮:৩৮ ﴿
وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ فَاجْعَلْ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَطَّلِعُ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ مِنَ الْكَاذِبِينَ ﴿٣٨﴾
ফেরাউন বললো, হে আমার পারিষদরা, আমি তো জানি না, আমি ছাড়া তোমাদের আরও কোনো মাবুদ আছে (অতপর সে হামানকে বললো) , হে হামান (যাও) , আমার জন্যে (ইট তৈরীর জন্যে) মাটি আগুনে পোড়াও, অতপর (তা দিয়ে) আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যেন আমি (তাতে ওঠে) মুসার মাবুদকে দেখে নিতে পারি, আমি অবশ্য তাকে মিথ্যাই মনে করি! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৩৯﴿
﴾ ২৮:৩৯ ﴿
وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ ﴿٣٩﴾
সে এবং তার বাহিনীর লোকেরা অন্যায়ভাবেই (আল্লাহর) যমীনে অহংকার করলো, ওরা ধরে নিয়েছিলো, ওদের কখনো আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪০﴿
﴾ ২৮:৪০ ﴿
فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ ﴿٤٠﴾
অতপর আমি তাকে এবং তার গোটা বাহিনীকে ধরে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম, অতএব (হে নবী) , তুমি দেখো, (বিদ্রোহ করলে) যালেমদের পরিণাম কি ভয়াবহ হয়ে থাকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪১﴿
﴾ ২৮:৪১ ﴿
وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنْصَرُونَ ﴿٤١﴾
আমি ওদের এমন সব লোকদের নেতা বানিয়েছি যারা (জাহান্নামের) আগুনের দিকেই ডাকবে, (এ কারণেই) কেয়ামতের দিন তাদের (কোনো রকম) সাহায্য করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪২﴿
﴾ ২৮:৪২ ﴿
وَأَتْبَعْنَاهُمْ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ هُمْ مِنَ الْمَقْبُوحِينَ ﴿٤٢﴾
দুনিয়ায় (যেমন) আমি তাদের পেছনে আমার লানত লাগিয়ে রেখেছি, (তেমনি) কেয়ামতের দিনও তারা নিতান্ত ঘৃণিত লোকদের মধ্যে শামিল হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪৩﴿
﴾ ২৮:৪৩ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ مِنْ بَعْدِ مَا أَهْلَكْنَا الْقُرُونَ الْأُولَى بَصَائِرَ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ﴿٤٣﴾
অতীতের বহু মানবগোষ্ঠীকে আমার সাথে বিদ্রোহের আচরণের জন্যে ধ্বংস করার পর আমি মুসাকে (তাওরাত) কিতাব দান করেছি, এ কিতাব ছিলো মানুষদের জন্যে জ্ঞান ও তত্ত্বকথার সমাহার, (সর্বোপরি) এ (কিতাব ছিলো) তাদের জন্যে হেদায়াত ও রহমত, যাতে করে তারা (এ থেকে) শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪৪﴿
﴾ ২৮:৪৪ ﴿
وَمَا كُنْتَ بِجَانِبِ الْغَرْبِيِّ إِذْ قَضَيْنَا إِلَى مُوسَى الْأَمْرَ وَمَا كُنْتَ مِنَ الشَّاهِدِينَ ﴿٤٤﴾
(হে নবী, ) মুসাকে যখন আমি (নওবুওতের) বিধান দিয়েছিলাম, তখন তুমি (তূর পাহাড়ের) পশ্চিম পাশে (সে বিশেষ স্থানটিতে উপস্থিত) ছিলে না, না তুমি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দলে শামিল ছিলে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪৫﴿
﴾ ২৮:৪৫ ﴿
وَلَكِنَّا أَنْشَأْنَا قُرُونًا فَتَطَاوَلَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ وَمَا كُنْتَ ثَاوِيًا فِي أَهْلِ مَدْيَنَ تَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا وَلَكِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ ﴿٤٥﴾
বরং তারপর আমি আরো অনেক মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটিয়েছিলাম, অতপর তাদের উপরও বহু যুগ অতিবাহিত হয়ে গেছে (তারাও আজ কেউ অবশষ্টি নেই) , আর তুমি মাদইয়ানবাসীদের মাঝেও উপস্থিত ছিলে না যে, তুমি তাদের কাছে আমার আয়াতসমুহ পড়ে পড়ে শুনিয়েছে, কিন্তু (সে সময়ের খবরাখবর তোমার কাছে) । পৌঁছানোর জন্যে আমিই (সেখানে মজুদ) ছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪৬﴿
﴾ ২৮:৪৬ ﴿
وَمَا كُنْتَ بِجَانِبِ الطُّورِ إِذْ نَادَيْنَا وَلَكِنْ رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أَتَاهُمْ مِنْ نَذِيرٍ مِنْ قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ﴿٤٦﴾
মুসাকে যখন আমি (প্রথম বার) আওয়ায দিয়েছিলাম, তখনও তুমি তূর পাহাড়ের (কোনো) দিকেই মজুদ ছিলে না, কিন্তু এটা হচ্ছে (তোমার প্রতি) তোমার মালিকের রহমত (যে, তিনি তোমাকে এ সব অবহিত করেছেন) , যাতে করে (এর মাধ্যমে) তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারো, যাদের কাছে তোমার আগে কোনো সতর্ককারী আসেনি যে, তারা উপদেশ গ্রহণ করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪৭﴿
﴾ ২৮:৪৭ ﴿
وَلَوْلَا أَنْ تُصِيبَهُمْ مُصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهُمْ فَيَقُولُوا رَبَّنَا لَوْلَا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ آيَاتِكَ وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٤٧﴾
এমন যেন না হয়, ওদের কৃতকর্মের জন্যে ওদের উপর কোনো বিপর্যয় এসে পড়বে এবং (তখন) তারা বলবে, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের কাছে কোনো রসূল পাঠালে না কেন? তাহলে আমরা তোমার আয়াতসমুহের অনুবর্তন করতাম এবং আমরা (সবাই) ঈমানদারদের দলে শামিল হয়ে যেতাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪৮﴿
﴾ ২৮:৪৮ ﴿
فَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا لَوْلَا أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ مُوسَى أَوَلَمْ يَكْفُرُوا بِمَا أُوتِيَ مُوسَى مِنْ قَبْلُ قَالُوا سِحْرَانِ تَظَاهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونَ ﴿٤٨﴾
অতপর যখন আমার কাছ থেকে তাদের কাছে সত্য (দ্বীন) এলো, তখন তারা বলতে লাগলো, এ (নবী) -কে। সে ধরনের কিছু (কিতাব) দেয়া হলো না কেন, যা মুসাকে দেয়া হয়েছিলো, (কিন্তু তুমি বলো, ) মুসাকে যা দেয়া হয়েছিলো তা কি ইতিপুর্বে এরা অস্বীকার করেনি? তারা তো (এও) বলেছে, এ উভয়টিই হচ্ছে যাদু, এর একটি আরেকটির সমর্থক এবং তারা বলেছে, আমরা (এর) কোনোটাই মানি না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৪৯﴿
﴾ ২৮:৪৯ ﴿
قُلْ فَأْتُوا بِكِتَابٍ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ هُوَ أَهْدَى مِنْهُمَا أَتَّبِعْهُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٤٩﴾
(হে নবী, ) তুমি (এদের) বলো, যদি (উভয়টাই মিথ্যা হয় এবং) তোমরা (তোমাদের এ দাবীতে) সত্যবাদী হও, তাহলে আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে অন্য কোনো কিতাব নিয়ে এসো, যা এ দু'টোর তুলনায় ভালো হবে, (তাহলে) আমিও তার অনুসরণ করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫০﴿
﴾ ২৮:৫০ ﴿
فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنَ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ﴿٥٠﴾
যদি এরা তোমার এ কথার কোনো জবাব না দেয়, তাহলে জেনে রেখো, এরা (আসলে) নিজেদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করেই (এসব বলে) ; তার চাইতে বেশী গোমরাহ ব্যক্তি আর কে আছে যে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কোনো হেদায়াত (পাওয়া) ছাড়াই কেবল নিজের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে; আল্লাহ তায়ালা কখনো যালেম জাতিকে পথ দেখান না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫১﴿
﴾ ২৮:৫১ ﴿
وَلَقَدْ وَصَّلْنَا لَهُمُ الْقَوْلَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ﴿٥١﴾
আমি (আমার) বাণী (কোরআনের এ কথাকে) তাদের জন্যে ধীরে ধীরে পাঠিয়েছি, যাতে করে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫২﴿
﴾ ২৮:৫২ ﴿
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِهِ هُمْ بِهِ يُؤْمِنُونَ ﴿٥٢﴾
(কোরআন নাযিলের) আগে আমি যাদের আমার কিতাব দান করেছিলাম (তাদের মধ্যে যারা সত্যানুসন্ধিৎসু ছিলো) , তারা এর উপর ঈমান এনেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫৩﴿
﴾ ২৮:৫৩ ﴿
وَإِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ قَالُوا آمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّنَا إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ ﴿٥٣﴾
যখন তাদের সামনে এ কিতাব তেলাওয়াত করা হয় তখন তারা বলে, আমরা এর উপর ঈমান এনেছি, (কেননা) আমরা জানি, এটাই সত্য, এটা আমাদের মালিকের কাছ থেকেই এসেছে, আমরা আগেও (আল্লাহর কিতাব) মানতাম । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫৪﴿
﴾ ২৮:৫৪ ﴿
أُولَئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ بِمَا صَبَرُوا وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ﴿٥٤﴾
এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের তাদের (দ্বীনের পথে) ধৈর্য ধারণের জন্যে দু'বার পুরস্কৃত করা হবে, তারা তাদের ভালো (আমল) দ্বারা মন্দ (আমল) দুর করে, আমি তাদের যে রিযিক দান করেছি তারা তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫৫﴿
﴾ ২৮:৫৫ ﴿
وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ وَقَالُوا لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ ﴿٥٥﴾
এরা যখন কোনো বাজে কথা শুনে তখন তা পরিহার করে চলে এবং (এদের) বলে, আমাদের কাজের (দায়িত্ব) আমাদের (উপর) , আর তোমাদের (কাজের) দায়িত্ব তোমাদের (উপর) , তোমাদের জন্যে সালাম, তা ছাড়া আমরা জাহেলদের সাথে তর্ক করতে চাই না! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫৬﴿
﴾ ২৮:৫৬ ﴿
إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ ﴿٥٦﴾
যাকে তুমি ভালোবাসো (তবে এ ভালোবাসার কারণেই) তুমি তাকে হেদায়াত দান করতে পারবে না, তবে হ্যাঁ, আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে অবশ্যই তিনি হেদায়াত দান করেন, তিনি ভালো করেই জানেন কারা এ হেদায়াতের অনুসারী (হবে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫৭﴿
﴾ ২৮:৫৭ ﴿
وَقَالُوا إِنْ نَتَّبِعِ الْهُدَى مَعَكَ نُتَخَطَّفْ مِنْ أَرْضِنَا أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَمًا آمِنًا يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقًا مِنْ لَدُنَّا وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٥٧﴾
(হে নবী, ) এরা বলে, যদি আমরা তোমার সাথে মিলে হেদায়াতের পথ ধরি তাহলে (অবিলম্বে) আমাদের এ যমীন থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে; (তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, ) আমি কি তাদের (বসবাসের) জন্যে শান্তি ও নিরাপত্তার শহরে জায়গা করে দেইনি? যেখানে তাদের রিযিকের জন্যে আমার কাছ থেকে সব ধরনের ফলমুল আসে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই (শোকর আদায় করতে) জানে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫৮﴿
﴾ ২৮:৫৮ ﴿
وَكَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَرْيَةٍ بَطِرَتْ مَعِيشَتَهَا فَتِلْكَ مَسَاكِنُهُمْ لَمْ تُسْكَنْ مِنْ بَعْدِهِمْ إِلَّا قَلِيلًا وَكُنَّا نَحْنُ الْوَارِثِينَ ﴿٥٨﴾
আমি এমন অসংখ্য জনপদ নির্মূল করে দিয়েছি, যার অধিবাসীদের তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মদমত্ত করে রেখেছিলো, (অথচ) এ হচ্ছে তাদের ঘরবাড়িগুলো (আর এ হচ্ছে তার ধ্বংসাবশেষ) , এদের (ধ্বংসের) পর (এসব জায়গায়) সামান্যই কোনো মানুষের বসতি ছিলো; (শেষ পর্যন্ত) আমিই (সব কিছুর) মালিক হয়ে থাকলাম । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৫৯﴿
﴾ ২৮:৫৯ ﴿
وَمَا كَانَ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى حَتَّى يَبْعَثَ فِي أُمِّهَا رَسُولًا يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا وَمَا كُنَّا مُهْلِكِي الْقُرَى إِلَّا وَأَهْلُهَا ظَالِمُونَ ﴿٥٩﴾
(হে নবী, ) তোমার মালিক কোনো জনপদকেই ধ্বংস করেন না, যতোক্ষণ না সে (জনপদের) কেন্দ্রস্থলে কোনো নবী না পাঠান, যে তাদের কাছে আমার আয়াতসমুহ তেলাওয়াত করবে, আমি জনপদসমুহ কখনো বরবাদ করি না, যতোক্ষণ না সেখানকার অধিবাসীরা যালেম (হিসেবে পরিগণিত) হয়ে যায়৷ [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬০﴿
﴾ ২৮:৬০ ﴿
وَمَا أُوتِيتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَزِينَتُهَا وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَى أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٦٠﴾
তোমাদের যা কিছু দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে কেবল এ (অস্থায়ী) পার্থিব জীবনের ভোগবিলাস ও তার শোভা সামগ্রী মাত্র, (মনে রাখবে) যা কিছু আল্লাহ তায়ালার কাছে আছে তা (এর চাইতে) অনেক উৎকৃষ্ট এবং স্থায়ী, তোমরা কি বুঝতে পারো না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬১﴿
﴾ ২৮:৬১ ﴿
أَفَمَنْ وَعَدْنَاهُ وَعْدًا حَسَنًا فَهُوَ لَاقِيهِ كَمَنْ مَتَّعْنَاهُ مَتَاعَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ثُمَّ هُوَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الْمُحْضَرِينَ ﴿٦١﴾
যাকে আমি (জান্নাতের) উত্তম প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছি এবং যে ব্যক্তি (কেয়ামতের দিন) তা পেয়েও যাবে, সে ব্যক্তি কি করে তার মতো হবে যাকে আমি পার্থিব জীবনের কিছু ভোগসম্ভার দিয়ে রেখেছি অতপর যে ব্যক্তি তাদের মধ্যে গন্য হবে যাদের কেয়ামতের দিন আমার সম্মুখে তলব করা হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬২﴿
﴾ ২৮:৬২ ﴿
وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ ﴿٦٢﴾
সেদিন আল্লাহ তায়ালা তাদের ডাক দেবেন এবং বলবেন, আজ কোথায় আমার (সেসব) শরীক, যাদের তোমরা (আমার সার্বভৌমত্বে) অংশীদার মনে করতে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬৩﴿
﴾ ২৮:৬৩ ﴿
قَالَ الَّذِينَ حَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَغْوَيْنَا أَغْوَيْنَاهُمْ كَمَا غَوَيْنَا تَبَرَّأْنَا إِلَيْكَ مَا كَانُوا إِيَّانَا يَعْبُدُونَ ﴿٦٣﴾
(আযাবের) এ বিধান যাদের উপর কার্যকর হবে তারা (তখন) বলবে, হে আমাদের মালিক, এরাই হচ্ছে সেসব ব্যক্তি যাদের আমরা গোমরাহ করেছিলাম, আমরা যেমনি এদের গোমরাহ করেছিলাম, তেমনি আমরা নিজেরাও গোমরাহ হয়ে গিয়েছিলাম, (আজ) আমরা তোমার দরবারে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাচ্ছি, এরা কেবল আমাদেরই গোলামী করতো না (এরা নিজেদের প্রবৃত্তির গোলামীও করতো) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬৪﴿
﴾ ২৮:৬৪ ﴿
وَقِيلَ ادْعُوَا شُرَكَاءَكُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَرَأَوُا الْعَذَابَ لَوْ أَنَّهُمْ كَانُوا يَهْتَدُونَ ﴿٦٤﴾
অতপর (মুশরিকদের) বলা হবে, ডাকো আজ তোমাদের শরীকদের, তারপর তারা তাদের ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের কোনোই জবাব দিতে পারবে না, (ইতিমধ্যে) মোশরকেরা নিজের চোখেই আযাব দেখতে পাবে, কতো ভালো হতো যদি এরা সঠিক পথের সন্ধান পেতো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬৫﴿
﴾ ২৮:৬৫ ﴿
وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ ﴿٦٥﴾
সেদিন (আল্লাহ তায়ালা পুনরায়) তাদের ডাক দেবেন এবং বলবেন, নবীদের তোমরা কি জবাব দিয়েছিলে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬৬﴿
﴾ ২৮:৬৬ ﴿
فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ الْأَنْبَاءُ يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَاءَلُونَ ﴿٦٦﴾
সেদিন তাদের (মনের) উপর (থেকে) সব বিষয়ই হারিয়ে যাবে, তারা একে অপরের কাছে কোনো কথা জিজ্ঞেস করার সুযোগ পাবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬৭﴿
﴾ ২৮:৬৭ ﴿
فَأَمَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَى أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ ﴿٦٧﴾
তবে যে ব্যক্তি তাওবা করেছে এবং ঈমান এনেছে, নেক আমল করেছে (তার কথা আলাদা) , আশা করা যায়। সে মুক্তিপ্রাপ্তদের দলে শামিল হবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬৮﴿
﴾ ২৮:৬৮ ﴿
وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿٦٨﴾
(হে নবী, তুমি তাদের বলো, তোমার মালিক যা চান তাই তিনি পয়দা করেন এবং (তাদের জন্যে) যে বিধান। তিনি পছন্দ করেন তাই তিনি জারি করেন, (এ ব্যাপারে) তাদের কারোই কোনো ক্ষমতা নেই, আল্লাহ তায়ালা মহান, ওদের শেরেক থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৬৯﴿
﴾ ২৮:৬৯ ﴿
وَرَبُّكَ يَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمْ وَمَا يُعْلِنُونَ ﴿٦٩﴾
তোমার মালিক আরো জানেন, যা কিছু এদের অন্তর গোপন করে এবং যা কিছু এরা প্রকাশ করে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭০﴿
﴾ ২৮:৭০ ﴿
وَهُوَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْحَمْدُ فِي الْأُولَى وَالْآخِرَةِ وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٧٠﴾
আর তিনিই মহান আল্লাহ তায়ালা, তিনি) ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই; সমস্ত তারীফ তাঁর জন্যে দুনিয়াতে (যেমন) এবং আখেরাতেও (তেমনি) , আইন ও বিধান তাঁরই, তোমাদের তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭১﴿
﴾ ২৮:৭১ ﴿
قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِضِيَاءٍ أَفَلَا تَسْمَعُونَ ﴿٧١﴾
(হে নবী, ) এদের জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো, যদি আল্লাহ তায়ালা রাতকে তোমাদের উপর কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন তাহলে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া এমন কোন মাবুদ আছে যে তোমাদের একটুখানি আলো এনে দিতে পারবে; (তারপরও) তোমরা কর্ণপাত করবে না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭২﴿
﴾ ২৮:৭২ ﴿
قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ أَفَلَا تُبْصِرُونَ ﴿٧٢﴾
তুমি (আরো) বলো, তোমরা কখনো একথা কি ভেবে দেখেছো, আল্লাহ তায়ালা যদি দিনকেও (রোয) কেয়ামত পর্যন্ত (স্থায়ী করে) তোমাদের উপর বসিয়ে দেন, তাহলে (বলো) আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কোন মাবুদ আছে যে তোমাদের (জন্যে) রাত এনে দিতে পারবে, যেখানে তোমরা এতোটুকু বিশ্রাম নেবে, তোমরা কি (আল্লাহ তায়ালার এ নেয়ামত) দেখতে পাও না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭৩﴿
﴾ ২৮:৭৩ ﴿
وَمِنْ رَحْمَتِهِ جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٧٣﴾
এটা তো তাঁরই রহমত যে, তিনি তোমাদের জন্যে রাত ও দিন বানিয়েছেন। যাতে করে তোমরা (রাতে) আরাম করতে পারো এবং (দিনের বেলায়) তাঁর (জীবিকার) অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো, যেন তোমরা তাঁর শোকর আদায় করতে পারো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭৪﴿
﴾ ২৮:৭৪ ﴿
وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ ﴿٧٤﴾
সেদিন (আবার) আল্লাহ তায়ালা তাদের ডাক দেবেন এবং বলবেন, কোথায় (আজ) আমার সেসব শরীক যাদের তোমরা (আমার সার্বভৌমত্বে) অংশীদার মনে করতে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭৫﴿
﴾ ২৮:৭৫ ﴿
وَنَزَعْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيدًا فَقُلْنَا هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ فَعَلِمُوا أَنَّ الْحَقَّ لِلَّهِ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ ﴿٧٥﴾
সেদিন আমি প্রত্যেক জাতির মাঝ থেকে এক একজন সাক্ষী বের করে আনবো, অতপর (তাদের) বলবো, তোমরা (সবাই তোমাদের পক্ষে) দলীল প্রমাণ হাযির করো, (সেদিন) ওরা সবাই বুঝতে পারবে, (যাবতীয় সত্য) একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যেই নির্ধারিত, তারা (আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে) যেসব কথা উদ্ভাবন করতো তা নিমিষেই তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭৬﴿
﴾ ২৮:৭৬ ﴿
إِنَّ قَارُونَ كَانَ مِنْ قَوْمِ مُوسَى فَبَغَى عَلَيْهِمْ وَآتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوزِ مَا إِنَّ مَفَاتِحَهُ لَتَنُوءُ بِالْعُصْبَةِ أُولِي الْقُوَّةِ إِذْ قَالَ لَهُ قَوْمُهُ لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ ﴿٧٦﴾
নিসন্দেহে কারূন ছিলো মুসার জাতির লোক, (কিন্তু তা সত্ত্বেও) সে তাদের উপর ভারী যুলুম করেছিলো, (অথচ) আমি তাকে (এতো) বিশাল পরিমাণ ধনভান্ডার দান করেছিলাম যে, তার (ভান্ডারের) চাবিগুলো (বহন করা) একদল শক্তিশালী লোকের পক্ষেও ছিলো (একটা) কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তার জাতির লোকেরা তাকে বললো, (ধন সম্পদ নিয়ে) দম্ভ করো না, নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭৭﴿
﴾ ২৮:৭৭ ﴿
وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ ﴿٧٧﴾
(এবং এই যে সম্পদ) যা আল্লাহ তায়ালা তোমাকে দিয়েছেন, তা দিয়ে পরকালের কল্যাণ তালাশ করো এবং দুনিয়া থেকে সম্পদের যে (আসল) অংশ (পরকালে নিয়ে যেতে হবে) তা ভুলে যেয়ো না এবং আল্লাহ তায়ালা যেভাবে (ধন সম্পদ দিয়ে) তোমার উপর মেহেরবানী করেছেন, তুমিও তেমনি (তাঁর পথে তা ব্যয় করে তাঁর বান্দাদের উপর) দয়া করো, (সম্পদের বাহাদুরী দিয়ে) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে যেয়ো না; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা ফাসাদী লোকদের ভালোবাসেন না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭৮﴿
﴾ ২৮:৭৮ ﴿
قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي أَوَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَهْلَكَ مِنْ قَبْلِهِ مِنَ الْقُرُونِ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُ قُوَّةً وَأَكْثَرُ جَمْعًا وَلَا يُسْأَلُ عَنْ ذُنُوبِهِمُ الْمُجْرِمُونَ ﴿٧٨﴾
কারূন (একথা শুনে) বললো, এ (বিশাল) ধন সম্পদ আমার জ্ঞান (ও যোগ্যতা) -বলেই আমাকে দেয়া হয়েছে; কিন্তু এ (মুখ) লোকটা কি জানতো না, আল্লাহ তায়ালা তার আগে বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, যারা শক্তি সামর্থে তার চাইতে ছিলো অনেক প্রবল এবং তাদের জমা মুলধনও (তার তুলনায়) ছিলো অনেক বেশী; অপরাধীদের তাদের অপরাধ (-জনিত অজুহাত) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৭৯﴿
﴾ ২৮:৭৯ ﴿
فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ فِي زِينَتِهِ قَالَ الَّذِينَ يُرِيدُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا يَا لَيْتَ لَنَا مِثْلَ مَا أُوتِيَ قَارُونُ إِنَّهُ لَذُو حَظٍّ عَظِيمٍ ﴿٧٩﴾
অতপর (একদিন) সে তার লোকদের সামনে (নিজের শান শওকতের প্রদর্শনী করার জন্যে) জাঁকজমকের সাথে বের হলো; (মানুষদের মাঝে) যারা পার্থিব জীবনের (ভোগবিলাস) কামনা করতো তখন তারা বললো, আহা! (কতো ভালো হতো) কারূনকে যা দেয়া হয়েছে তা যদি আমাদেরও থাকতো, আসলেই সে মহাভাগ্যবান ব্যক্তি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮০﴿
﴾ ২৮:৮০ ﴿
وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَيْلَكُمْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرٌ لِمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا وَلَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الصَّابِرُونَ ﴿٨٠﴾
(অপরদিকে) যাদের (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা বললো, ধিক তোমাদের (সম্পদের) উপর, (বস্তুত) যারা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান আনে এবং নেক কাজ করে, তাদের জন্যে তো আল্লাহ তায়ালার দেয়া পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ, আর তা শুধু ধৈর্যশীলরাই পেতে পারে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮১﴿
﴾ ২৮:৮১ ﴿
فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الْأَرْضَ فَمَا كَانَ لَهُ مِنْ فِئَةٍ يَنْصُرُونَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُنْتَصِرِينَ ﴿٨١﴾
পরিশেষে আমি তাকে এবং তার (ঐশ্বর্যে ভরা) প্রাসাদকে যমীনে গেড়ে দিলাম । তখন (যারা তার এ সম্পদের জন্যে একটু আগেই আক্ষেপ করছিলো তাদের) এমন কোনো দলই (সেখানে মজুদ) ছিলো না, যারা আল্লাহ তায়ালার (গযবের) মোকাবেলায় তাকে (একটু) সাহায্য করতে পারলো, না সে নিজে নিজেকে (গযব থেকে) রক্ষা করতে পারলো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮২﴿
﴾ ২৮:৮২ ﴿
وَأَصْبَحَ الَّذِينَ تَمَنَّوْا مَكَانَهُ بِالْأَمْسِ يَقُولُونَ وَيْكَأَنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَيَقْدِرُ لَوْلَا أَنْ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا لَخَسَفَ بِنَا وَيْكَأَنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ ﴿٨٢﴾
মাত্র গতকাল (সন্ধ্যা) পর্যন্ত যারা তার জায়গায় পৌঁছার কামনা করছিলো, তারা আজ সকাল বেলায়ই বলতে লাগলো, (আসলে) আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের মাঝে যাকে চান (তার জন্যে) রিযিক বাড়িয়ে দেন, আর যাকে চান (তার জন্যে) তা সংকীর্ণ করে দেন, যদি আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর তাঁর অনুগ্রহ না করতেন, তবে আমাদেরও তিনি (কারূনের মতোই আজ) যমীনের ভেতর পুঁতে দিতেন; (আসলেই) কাফেররা কখনোই সফলকাম হয় না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮৩﴿
﴾ ২৮:৮৩ ﴿
تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ ﴿٨٣﴾
এটা হচ্ছে আখেরাতের (চির শান্তির) ঘর, আমি এটা তাদের জন্যে নির্ধারিত করে রেখেছি যারা দুনিয়ায় (কোনো রকম) প্রাধান্য বিস্তার করতে চায় না- না তারা (যমীনে) কোনো রকম বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায়, শুভ পরিণাম তো (এই) পরহেযগার মানুষদের জন্যেই রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮৪﴿
﴾ ২৮:৮৪ ﴿
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى الَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٨٤﴾
যে ব্যক্তিই (কেয়ামতের দিন কোনো) নেকী নিয়ে হাযির হবে, তাকে তার (পাওনার) চাইতে বেশী পুরস্কার দেয়া হবে, আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ নিয়ে আসবে (সে যেন জেনে রাখে) , যারাই মন্দ কাজ করেছে তাদের কেবল সেটুকু পরিমাণ শাস্তিই দেয়া হবে, যে পরিমাণ (মন্দ তারা নিয়ে এখানে) হাযির হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮৫﴿
﴾ ২৮:৮৫ ﴿
إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ قُلْ رَبِّي أَعْلَمُ مَنْ جَاءَ بِالْهُدَى وَمَنْ هُوَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٨٥﴾
(হে নবী, ) যে আল্লাহ তায়ালা এ কোরআন তোমার উপর অবশ্য পালনীয় করেছেন, তিনি অবশ্যই তোমাকে তোমার (কাংখিত পুণ্য) ভূমিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন; তুমি (তাদের) বলো, আমার মালিক এটা ভালো করেই জানেন, কে তাঁর কাছ থেকে হেদায়াত নিয়ে এসেছে আর কে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে (নিমজ্জিত) রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮৬﴿
﴾ ২৮:৮৬ ﴿
وَمَا كُنْتَ تَرْجُو أَنْ يُلْقَى إِلَيْكَ الْكِتَابُ إِلَّا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ ظَهِيرًا لِلْكَافِرِينَ ﴿٨٦﴾
(হে নবী, ) তুমি (তো কখনো) এ আশা করোনি, তোমার উপর কোনো কিতাব নাযিল হবে, (হ্যাঁ, এটা ছিলো) তোমার মালিকের একান্ত মেহেরবানী (যে, তিনি তোমাকে কিতাব দান করেছেন) , সুতরাং তুমি কখনো (সত্য প্রত্যাখ্যানকারী) যালেমদের পক্ষ নেবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮৭﴿
﴾ ২৮:৮৭ ﴿
وَلَا يَصُدُّنَّكَ عَنْ آيَاتِ اللَّهِ بَعْدَ إِذْ أُنْزِلَتْ إِلَيْكَ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿٨٧﴾
(দেখো, ) এমন যেন কখনো না হয় যে, তোমার উপর আল্লাহ তায়ালার আয়াতসমুহ নাযিল হবার পর তারা তোমাকে (এর অনুসরণ থেকে) বিরত রাখবে, (তোমার কাজ হবে) তুমি মানুষদের তোমার মালিকের দিকে আহ্বান করবে এবং নিজে তুমি কখনো মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৮:৮৮﴿
﴾ ২৮:৮৮ ﴿
وَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٨٨﴾
কখনো আল্লাহ তায়ালার সাথে তুমি অন্য কোনো মাবুদকে ডেকো না। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো মাবুদ নেইও । তাঁর মহান সত্তা ছাড়া প্রতিটি বস্তুই ধ্বংসশীল; যাবতীয় সার্বভৌমত্ব তাঁর জন্যেই এবং তোমাদের সবাইকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]