🕋

العنكبوت
(২৯) আল-'আনকাবূত

৬৯

﴾২৯:১﴿
﴾ ২৯:১ ﴿
الم ﴿١﴾
আলিফ-লাম-মীম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২﴿
﴾ ২৯:২ ﴿
أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ ﴿٢﴾
মানুষরা কি (এটা) মনে করে নিয়েছে, তাদের (শুধু) এটুকু বলার কারণেই ছেড়ে দেয়া হবে যে, আমরা ঈমান এনেছি এবং তাদের (কোনো রকম) পরীক্ষা করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩﴿
﴾ ২৯:৩ ﴿
وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ ﴿٣﴾
আমি তো সেসব লোকদেরও পরীক্ষা করেছি যারা এদের আগে (এভাবেই ঈমানের দাবী করে) ছিলো, অতপর আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই তাদের ভালো করে জেনে নেবেন যারা (ঈমানের দাবীতে) সত্যবাদী, (আবার ঈমানের) মিথ্যা দাবীদারদেরও তিনি অবশ্যই জেনে নেবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪﴿
﴾ ২৯:৪ ﴿
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ أَنْ يَسْبِقُونَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿٤﴾
যারা সব সময় গুনাহের কাজ করে বেড়ায় তারা এটা ধরে নিয়েছে, তারা (বৈষয়িক প্রতিযোগিতায়) আমার থেকে আগে চলে যাবে, (এটা তাদের) একটা মন্দ সদ্ধিান্ত, যা (আমার সম্পর্কে তারা করতে পারলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫﴿
﴾ ২৯:৫ ﴿
مَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ اللَّهِ فَإِنَّ أَجَلَ اللَّهِ لَآتٍ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿٥﴾
তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ আশা করে, সে আল্লাহ তায়ালার সামনাসামনি হবে (তবে সে যেন জেনে রাখে) , আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত (এ) সময়টা অবশ্যই আসবে; আল্লাহ তায়ালা সবকিছু শোনেন, সব কিছু জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬﴿
﴾ ২৯:৬ ﴿
وَمَنْ جَاهَدَ فَإِنَّمَا يُجَاهِدُ لِنَفْسِهِ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ ﴿٦﴾
যে ব্যক্তি (আল্লাহ তায়ালার পথে) সংগ্রাম সাধনা করে, সে তো (আসলে) তা করে তার নিজের (কল্যাণের) জন্যেই, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুল থেকে প্রয়োজনমুক্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৭﴿
﴾ ২৯:৭ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَحْسَنَ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٧﴾
যারা ঈমান আনে এবং নেক কাজ করে, আমি নিশ্চয়ই তাদের সেসব দোষত্রুটিগুলো দুর করে দেবো এবং তারা যেসব নেক আমল করে আমি তাদের সেসব কর্মের উত্তম ফল দেবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৮﴿
﴾ ২৯:৮ ﴿
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا وَإِنْ جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٨﴾
আমি মানুষকে তাদের পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার আদেশ দিয়েছি; (কিন্তু) যদি কখনো তারা তোমাকে আমার সাথে কাউকে শরীক করার জন্যে জবরদস্তি করে, (যেহেতু এ) ব্যাপারে তোমার কাছে (কোনো রকম) দলীল প্রমাণ নেই, তাই তুমি তাদের কোনো আনুগত্য করো না; কেননা তোমাদের তো ফিরে যাবার জায়গা আমার কাছেই, আর তখন আমি অবশ্যই তোমাদের সবকিছু বলে দেবো, তোমরা (দুনিয়ার জীবনে কে কোথায়) কি করতে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৯﴿
﴾ ২৯:৯ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُدْخِلَنَّهُمْ فِي الصَّالِحِينَ ﴿٩﴾
যারা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আমি অবশ্যই তাদের নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১০﴿
﴾ ২৯:১০ ﴿
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ فَإِذَا أُوذِيَ فِي اللَّهِ جَعَلَ فِتْنَةَ النَّاسِ كَعَذَابِ اللَّهِ وَلَئِنْ جَاءَ نَصْرٌ مِنْ رَبِّكَ لَيَقُولُنَّ إِنَّا كُنَّا مَعَكُمْ أَوَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِمَا فِي صُدُورِ الْعَالَمِينَ ﴿١٠﴾
মানুষদের মাঝে কিছু এমনও আছে যারা (মুখে) বলে, আমরা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান এনেছি, কিন্তু যখন তাদের আল্লাহর পথে চলার জন্যে) কষ্ট দেয়া হয় তখন তারা মানুষের এ পীড়নকে আল্লাহ তায়ালার আযাবের মতোই মনে করে; আবার যখন তোমার মালিকের কোনো সাহায্য আসে তখন তারা (মুসলমানদের) বলতে থাকে, অবশ্যই আমরা তোমাদের সাথে ছিলাম; (এরা মনে করে, ) আল্লাহ তায়ালা কি সৃষ্টিকুলের (মানুষদের) অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে মোটেই অবগত নন? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১১﴿
﴾ ২৯:১১ ﴿
وَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْمُنَافِقِينَ ﴿١١﴾
আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাদের ভালো করে জেনে নেবেন যারা ঈমান এনেছে, আবার তিনি মুনাফিকদেরও ভালো করে জেনে নেবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১২﴿
﴾ ২৯:১২ ﴿
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا اتَّبِعُوا سَبِيلَنَا وَلْنَحْمِلْ خَطَايَاكُمْ وَمَا هُمْ بِحَامِلِينَ مِنْ خَطَايَاهُمْ مِنْ شَيْءٍ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ ﴿١٢﴾
কাফেররা ঈমানদারদের বলে, তোমরা আমাদের পথের অনুসরণ করো, আমরা (কেয়ামতের দিন) তোমাদের গুনাহসমুহের বোঝা তুলে নেবো; (অথচ) তারা (সেদিন) তাদের নিজেদের গুনাহসমুহের সামান্য পরিমাণ বোঝাও উঠাতে পারবে না; এরা (আসলেই) হচ্ছে মিথ্যাবাদী । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১৩﴿
﴾ ২৯:১৩ ﴿
وَلَيَحْمِلُنَّ أَثْقَالَهُمْ وَأَثْقَالًا مَعَ أَثْقَالِهِمْ وَلَيُسْأَلُنَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَمَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ ﴿١٣﴾
(কেয়ামতের দিন) এরা অবশ্যই তাদের নিজেদের গুনাহের বোঝা উঠাবে, (তারপর) তাদের এ বোঝার সাথে (থাকবে তোমাদের বোঝাও, (দুনিয়ার জীবনে) যতো মিথ্যা কথা তারা উদ্ভাবন করেছে, তাদের অবশ্যই সে ব্যাপারে সেদিন প্রশ্ন করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১৪﴿
﴾ ২৯:১৪ ﴿
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا فَأَخَذَهُمُ الطُّوفَانُ وَهُمْ ظَالِمُونَ ﴿١٤﴾
আমি নূহকে অবশ্যই তার জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম, সে ওদের মাঝে অবস্থান করলো পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর; (তারা তার কথা শুনলো না) অতপর মহাপ্লাবন এসে তাদের পাকড়াও করলো, (মুলত) তারা ছিলো (বড়োই) যালেম । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১৫﴿
﴾ ২৯:১৫ ﴿
فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَصْحَابَ السَّفِينَةِ وَجَعَلْنَاهَا آيَةً لِلْعَالَمِينَ ﴿١٥﴾
(এ মহাপ্লাবন থেকে) আমি তাকে এবং তার সাথে নৌকার আরোহীদের রক্ষা করেছি, আর আমি এ (ঘটনা) কে সৃষ্টিকুলের (মানুষদের) জন্যে একটি নিদর্শন বানিয়ে রেখেছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১৬﴿
﴾ ২৯:১৬ ﴿
وَإِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١٦﴾
আর যখন ইবরাহীম তার জাতিকে বললো, তোমরা এক আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করো এ বং তাঁকেই ভয়। করো; এটাই তোমাদের জন্যে ভালো যদি তোমরা বুঝতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১৭﴿
﴾ ২৯:১৭ ﴿
إِنَّمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا وَتَخْلُقُونَ إِفْكًا إِنَّ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ لَكُمْ رِزْقًا فَابْتَغُوا عِنْدَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُوا لَهُ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿١٧﴾
তোমরা তো আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে কেবল মুর্তিসমুহের পুজা করো এবং (স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে) মিথ্যা কথা উদ্ভাবন করো; আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে যেসব মুর্তির তোমরা পুজা করো, তারা তোমাদের কোনোরকম রিযিকের মালিক নয়, অতএব তোমরা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছেই রিযিক চাও, শুধু তাঁরই ইবাদাত করো এবং তাঁর (নেয়ামতের) শোকর আদায় করো; (কেননা) তোমাদের তাঁর কাছেই ফিরিয়ে নেয়া হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১৮﴿
﴾ ২৯:১৮ ﴿
وَإِنْ تُكَذِّبُوا فَقَدْ كَذَّبَ أُمَمٌ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴿١٨﴾
আর যদি তোমরা (আমার নবীকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করো (তাহলে জেনে রেখো) , তোমাদের আগের জাতির লোকেরাও (তাদের যমানার নবীদের) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে; (মুলত) সুস্পষ্টরূপে (মানুষদের কাছে আল্লাহর কথা) পৌঁছে দেয়াই হচ্ছে রসুলের কাজ । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:১৯﴿
﴾ ২৯:১৯ ﴿
أَوَلَمْ يَرَوْا كَيْفَ يُبْدِئُ اللَّهُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ ﴿١٩﴾
এ লোকেরা কি লক্ষ্য করে না, কিভাবে আল্লাহ তায়ালা প্রথমবার তাঁর সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দান করলেন, কিভাবে তাকে আবার (তার আগের অবস্থায়) ফিরিয়ে আনবেন; এ কাজটা আল্লাহ তায়ালার কাছে নিতান্ত সহজ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২০﴿
﴾ ২৯:২০ ﴿
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ ثُمَّ اللَّهُ يُنْشِئُ النَّشْأَةَ الْآخِرَةَ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢٠﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, তোমরা আল্লাহর যমীনে পরিভ্রমণ করো এবং (এর সর্বত্র) দেখো, কিভাবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টিকে প্রথম বার অস্তিত্বে আনেন এবং (একবার ধ্বংস হয়ে গেলে) কিভাবে আবার তিনি তা পুনর্বার পয়দা করেন; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর উপর প্রবল ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২১﴿
﴾ ২৯:২১ ﴿
يُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَيَرْحَمُ مَنْ يَشَاءُ وَإِلَيْهِ تُقْلَبُونَ ﴿٢١﴾
তিনি যাকে চান তাকে শাস্তি দেন আবার যাকে চান তাকে (ক্ষমা করে তার উপর) অনুগ্রহ করেন; (সর্বাবস্থায়) তোমাদের তাঁর দিকেই ফিরে যেতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২২﴿
﴾ ২৯:২২ ﴿
وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَمَا لَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ ﴿٢٢﴾
তোমরা যমীনে (যেমন) আল্লাহ তায়ালাকে (তাঁর পরিকল্পনায়) অক্ষম করে দিতে পারবে না, তেমনি পারবে ) আসমানে (বস্তুত) আল্লাহ তায়ালা ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, নেই কোনো সাহায্যকারীও! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২৩﴿
﴾ ২৯:২৩ ﴿
وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَلِقَائِهِ أُولَئِكَ يَئِسُوا مِنْ رَحْمَتِي وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٢٣﴾
যারা আল্লাহ তায়ালার আয়াতসমুহ ও তাঁর সামনাসামনি হওয়াকে অস্বীকার করে, (মুলত) সেসব লোক আমার অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ে গেছে, আর এরাই হচ্ছে সে সব মানুষ, যাদের জন্যে রয়েছে মর্মনতুদ শাস্তি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২৪﴿
﴾ ২৯:২৪ ﴿
فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا اقْتُلُوهُ أَوْ حَرِّقُوهُ فَأَنْجَاهُ اللَّهُ مِنَ النَّارِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٢٤﴾
অতপর তাদের (ইবরাহীমের জাতির) কাছে এ ছাড়া (আর কোনো) জবাব থাকলো না যে, তারা বলতে লাগলো, একে মেরেই ফেলো কিংবা তাকে আগুনে পুড়িয়ে দাও, অতপর (তারা যখন তাকে আগুনে নিক্ষেপ করলো তখন) আল্লাহ তায়ালা তাকে (জুলন্ত) আগুন থেকে উদ্ধার করলেন; অবশ্যই মু’মিনদের জন্যে এ (ঘটনা) র মাঝে (আল্লাহ তায়ালার কুদরতের) অনেক নিদর্শন মজুদ রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২৫﴿
﴾ ২৯:২৫ ﴿
وَقَالَ إِنَّمَا اتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا مَوَدَّةَ بَيْنِكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ثُمَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُ بَعْضُكُمْ بِبَعْضٍ وَيَلْعَنُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا وَمَأْوَاكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ نَاصِرِينَ ﴿٢٥﴾
(ইবরাহীম) বললো, হে আমার জাতির লোকেরা, তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা (বৃদ্ধি) -র খাতিরে আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে নিজেদের হাতে গড়া মুর্তিগুলোকে (নিজেদের মাবুদ) ধরে নিয়েছো, অথচ কেয়ামতের দিন তোমাদের (এ ভালোবাসার) একজন ব্যক্তি আরেকজনকে (চিনতেও) অস্বীকার করবে, তারা তখন একজন আরেকজনকে অভিশাপ দিতে থাকবে, (পরিশেষে) তোমাদের সবার (চুড়ান্ত) ঠিকানা হবে জাহান্নাম, আর সেদিন কেউই তোমাদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২৬﴿
﴾ ২৯:২৬ ﴿
فَآمَنَ لَهُ لُوطٌ وَقَالَ إِنِّي مُهَاجِرٌ إِلَى رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٢٦﴾
অতপর লুত তার উপর ঈমান আনলো। (ইবরাহীম) বললো, আমি (এবার) আমার মালিকের (বলে দেয়া স্থানের) দিকে হিজরত করছি; অবশ্যই তিনি মহাপরাক্রমশালী ও বিজ্ঞ কুশলী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২৭﴿
﴾ ২৯:২৭ ﴿
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ وَآتَيْنَاهُ أَجْرَهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ ﴿٢٧﴾
অতপর আমি তাকে (ছেলে হিসেবে) ইসহাক ও (নাতি হিসেবে) ইয়াকুব দান করলাম, তার বংশধারায় আমি নবুওত ও কিতাব (নাযিলের ধারা অব্যাহত) রাখলাম, (নবুওত দ্বারা) আমি দুনিয়াতেও তাকে পুরস্কৃত করলাম, আর আখেরাতে সে অবশ্যই আমার নেক বান্দাদের দলে শামিল হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২৮﴿
﴾ ২৯:২৮ ﴿
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْعَالَمِينَ ﴿٢٨﴾
আর (আমি) লুতকে (তার লোকদের কাছে) পাঠিয়েছিলাম, যখন সে তার জাতিকে বললো, তোমরা এমন এক অশ্লীল কাজ নিয়ে এসেছে, যা ইতিপুর্বে সৃষ্টিকুলের কোনো মানুষই করেনি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:২৯﴿
﴾ ২৯:২৯ ﴿
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ وَتَقْطَعُونَ السَّبِيلَ وَتَأْتُونَ فِي نَادِيكُمُ الْمُنْكَرَ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا ائْتِنَا بِعَذَابِ اللَّهِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٢٩﴾
(তোমাদের এ কি হলো!) তোমরা কি (তোমাদের কামনা-বাসনার জন্যে মহিলাদের বাদ দিয়ে) পুরুষদের কাছে হাযির হচ্ছো এবং (এ উদ্দেশে আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত) পথকে তোমরা (প্রকারান্তরে) কেটে দিচ্ছে এবং তোমরা তোমাদের ভরা মজলিসে এ অশ্লীল কাজে লপ্তি হচ্ছে; তাদের (লুতের জাতির মানুষের) কাছেও এ ছাড়া আর কোনো জবাব ছিলো না যে, তারা বলল (হ্যাঁ, যাও) , নিয়ে এসো আমাদের উপর আল্লাহর আযাব, যদি তুমি (তোমার আযাবের ওয়াদায়) সত্যবাদী হও । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩০﴿
﴾ ২৯:৩০ ﴿
قَالَ رَبِّ انْصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ ﴿٣٠﴾
(এ কথা শুনে) সে (আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে) বললো, হে আমার মালিক, (এই) ফাসাদী জাতির মোকাবেলায় তুমি আমায় সাহায্য করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩১﴿
﴾ ২৯:৩১ ﴿
وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَى قَالُوا إِنَّا مُهْلِكُو أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ إِنَّ أَهْلَهَا كَانُوا ظَالِمِينَ ﴿٣١﴾
অতপর যখন আমার পাঠানো ফেরেশতারা একটা সুখবর নিয়ে ইবরাহীমের কাছে এলো, তখন তারা বললো, আমরা (লুতের) এ জনপদের অধিবাসীদের ধ্বংস করবো, কেননা তার অধিবাসীরা বড়ো যালেম । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩২﴿
﴾ ২৯:৩২ ﴿
قَالَ إِنَّ فِيهَا لُوطًا قَالُوا نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَنْ فِيهَا لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٣٢﴾
(একথা শুনে) সে বললো, (তা কি করে সম্ভব?) সেখানে তো (নবী) লুতও রয়েছে; তারা বললো, আমরা (ভালো করেই) জানি সেখানে কে (কে) আছে। আমরা লুত এবং তার পরিবারের লোকজনদের অবশ্যই রক্ষা করবো, তবে তার স্ত্রীকে নয়, সে আযাবে পড়ে থাকা লোকদের দলে শামিল হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩৩﴿
﴾ ২৯:৩৩ ﴿
وَلَمَّا أَنْ جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالُوا لَا تَخَفْ وَلَا تَحْزَنْ إِنَّا مُنَجُّوكَ وَأَهْلَكَ إِلَّا امْرَأَتَكَ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٣٣﴾
তারপর যখন (সত্যই) আমার পাঠানো ফেরেশতারা লুতের কাছে এলো, তখন (তাদের আগমন) লুতের কাছে খারাপ লাগলো, এদের (সম্মান রক্ষা করতে পারবে না) কারণে তার মন ভেংগে গেলো, ওরা (এটা দেখে বললো (হে লুত) , তুমি ভয় পেয়ো না, (তুমি) দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হয়ো না । আমরা তুমি এবং তোমার পরিবার-পরিজনদের রক্ষা করবো, তবে তোমার স্ত্রীকে নয়, সে তো আযাবে পড়ে থাকা ব্যক্তিদেরই একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩৪﴿
﴾ ২৯:৩৪ ﴿
إِنَّا مُنْزِلُونَ عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ ﴿٣٤﴾
আমরা (অচিরে) এ জনপদের (বাকী) অধিবাসীদের উপর আসমান থেকে এক (ভীতিকর) আযাব নাযিল করবো, কেননা এরা ছিলো (ভীষণ) গুনাহগার জাতি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩৫﴿
﴾ ২৯:৩৫ ﴿
وَلَقَدْ تَرَكْنَا مِنْهَا آيَةً بَيِّنَةً لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ ﴿٣٥﴾
(একদিন সত্যি সত্যিই আমি এ জনপদকে উল্টে দিয়েছি এবং) তখন থেকে আমি তার জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্যে একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন করে রেখে দিয়েছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩৬﴿
﴾ ২৯:৩৬ ﴿
وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَارْجُوا الْيَوْمَ الْآخِرَ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿٣٦﴾
আমি মাদইয়ান (বাসী) -এর কাছে তাদের ভাই শোয়ায়বকে পাঠিয়েছি, তখন সে (তাদের) বললো, হে আমার জাতি, তোমরা এক আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করো এবং পরকাল দিবসের (পুরস্কারের) আশা করো, (আল্লাহর) যমীনে তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩৭﴿
﴾ ২৯:৩৭ ﴿
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ ﴿٣٧﴾
কিন্তু তারা তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করলো, অতপর প্রচন্ড ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করলো, ফলে তারা নিজ নিজ ঘরেই উপুড় হয়ে পড়ে থাকলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩৮﴿
﴾ ২৯:৩৮ ﴿
وَعَادًا وَثَمُودَ وَقَدْ تَبَيَّنَ لَكُمْ مِنْ مَسَاكِنِهِمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَكَانُوا مُسْتَبْصِرِينَ ﴿٣٨﴾
আ'দ এবং সামুদকেও (আমি ধ্বংস করে দিয়েছি) , তাদের (ধ্বংসপ্রাপ্ত) বসতি থেকেই তো তোমাদের কাছে (আযাবের সত্যতা) প্রমাণিত হয়ে গেছে। শয়তান তাদের কাজ তাদের সামনে শোভন করে রেখেছিলো এবং (এ কৌশলে) সে তাদের (সঠিক) রাস্তার থেকে ফিরিয়ে রেখেছিলো, অথচ তারা (তাদের অন্য সব ব্যাপারে) ছিলো দারুণ বিচক্ষণ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৩৯﴿
﴾ ২৯:৩৯ ﴿
وَقَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مُوسَى بِالْبَيِّنَاتِ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ وَمَا كَانُوا سَابِقِينَ ﴿٣٩﴾
কারূন, ফেরাউন এবং হামানকেও (আমি ধ্বংস করেছি) । মুসা তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াত নিয়ে এসেছিলো, কিন্তু তারা (তাকে মানার বদলে) যমীনে বড়ো বেশী অহংকার করেছিলো এবং তারা কোনো অবস্থায় (আমার আযাব থেকে) পালিয়ে আগে চলে যেতে পারতো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪০﴿
﴾ ২৯:৪০ ﴿
فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ خَسَفْنَا بِهِ الْأَرْضَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَغْرَقْنَا وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٤٠﴾
অতপর এদের সবাইকেই আমি (তাদের) নিজ নিজ গুনাহের কারণে পাকড়াও করেছি, এদের কারো উপর প্রচন্ড ঝড় পাঠিয়েছি, কাউকে মহাগর্জন এসে আঘাত হেনেছে, কাউকে আমি যমীনের নীচে গেড়ে দিয়েছি, আবার কাউকে আমি (পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি, (মুলত) আল্লাহ তায়ালা এমন ছিলেন না যে, তিনি এদের উপর কোনো যুলুম করেছেন, যুলুম তো বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪১﴿
﴾ ২৯:৪১ ﴿
مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ كَمَثَلِ الْعَنْكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا وَإِنَّ أَوْهَنَ الْبُيُوتِ لَبَيْتُ الْعَنْكَبُوتِ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿٤١﴾
যেসব লোক আল্লাহ তায়ালার বদলে অন্যকে (নিজেদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে মাকড়সার মতো, তারা (নিজেরাও এক ধরনের) ঘর বানায়; আর (দুনিয়ার) দুর্বলতম ঘর হচ্ছে (এ) মাকড়সার ঘর । কতো ভালো হতো যদি তারা (এ সত্যটুকু) বুঝতে পারতো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪২﴿
﴾ ২৯:৪২ ﴿
إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مِنْ شَيْءٍ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٤٢﴾
এরা আল্লাহ তায়ালার পরিবর্তে যেসব কিছুকে ডাকে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন; তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রবল প্রজ্ঞাময়।। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪৩﴿
﴾ ২৯:৪৩ ﴿
وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ ﴿٤٣﴾
এ হচ্ছে (সেই) উদাহরণ, যা আমি মানুষদের জন্যেই পেশ করি, কেবল জ্ঞানী ব্যক্তিরাই তা বুঝতে পারে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪৪﴿
﴾ ২৯:৪৪ ﴿
خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٤٤﴾
আল্লাহ তায়ালা আসমানসমুহ ও যমীন যথাযথভাবেই সৃষ্টি করেছেন; (বস্তুত) এতে ঈমানদারদের জন্যে (আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বের পক্ষে বড়ো) প্রমাণ রয়েছে৷ পারা [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪৫﴿
﴾ ২৯:৪৫ ﴿
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ ﴿٤٥﴾
(হে নবী, ) যে কিতাব তোমার উপর নাযিল করা হয়েছে, তুমি তা তেলাওয়াত করো এবং নামায প্রতিষ্ঠা করো; নিঃসন্দেহে নামায (মানুষকে) অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে; পরন্তু আল্লাহ তায়ালাকে (হামেশা) স্মরণ করাও একটি মহান কাজ; তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তায়ালা তা সম্যক অবগত আছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪৬﴿
﴾ ২৯:৪৬ ﴿
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَأُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ ﴿٤٦﴾
(হে মুসলমানরা, ) তোমরা কিতাবধারীদের সাথে উত্তম পন্থা ছাড়া কোনোরকম তর্ক-বিতর্ক করো না, আবার তাদের মধ্যে যারা যুলুম করে তাদের কথা আলাদা, আর (তোমরা) বলো, আমরা ঈমান এনেছি (কিতাবের) যা কিছু আমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে (তার উপর) , আরো ঈমান এনেছি যা কিছু তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে (তার উপরও, আসলে) আমাদের মাবুদ ও তোমাদের মাবুদ হচ্ছেন একজন এবং আমরা সবাই তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ করি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪৭﴿
﴾ ২৯:৪৭ ﴿
وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ فَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَمِنْ هَؤُلَاءِ مَنْ يُؤْمِنُ بِهِ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا الْكَافِرُونَ ﴿٤٧﴾
এভাবে আমি তোমার উপর (এ) কিতাব নাযিল করেছি, আমি (আগে) যাদের কিতাব দান করেছিলাম (যারা সত্যানুসন্ধিৎসু ছিলো) তারা এর উপর ঈমান এনেছে, (পরবর্তী) লোকদের মাঝেও (কিছু ভালো মানুষ আছে যারা এর উপর ঈমান এনেছে; (আসলে) অস্বীকারকারীরা ছাড়া কেউই আমার আয়াতের প্রতি বিদ্রোহ করে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪৮﴿
﴾ ২৯:৪৮ ﴿
وَمَا كُنْتَ تَتْلُو مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذًا لَارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ ﴿٤٨﴾
(হে নবী, ) তুমি তো (এ কোরআন নাযিল হওয়ার আগে) কোনো বই পুস্তক পাঠ করোনি, না তুমি তোমার ডান হাত দিয়ে কোনো কিছু লিখে রেখেছো যে, (তা দেখে) অসত্যের পুজারীরা (আজ) সন্দেহে লিপ্ত হয়ে পড়ছে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৪৯﴿
﴾ ২৯:৪৯ ﴿
بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا الظَّالِمُونَ ﴿٤٩﴾
বরং এগুলো হচ্ছে যাদের আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে; তাদের অন্তরে সুস্পষ্ট কিছু নিদর্শন, কতিপয় যালেম ব্যক্তি ছাড়া আমার (এ সুস্পষ্ট) আয়াতের সাথে কেউই গোঁড়ামি করতে পারে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫০﴿
﴾ ২৯:৫০ ﴿
وَقَالُوا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَاتٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّمَا الْآيَاتُ عِنْدَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ ﴿٥٠﴾
তারা (তোমার সম্পর্কে বলে, এ ব্যক্তির কাছে তার মালিকের পক্ষ থেকে (নবুওতের) কোনো প্রমাণ নাযিল হয় না কেন? (হে নবী, ) তুমি বলো, যাবতীয় নিদর্শন তো আল্লাহ তায়ালার হাতেই রয়েছে; আমি তো হচ্ছি (আযাবের) একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫১﴿
﴾ ২৯:৫১ ﴿
أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرَى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٥١﴾
(হে নবী, ) এদের জন্যে এটাই কি যথেষ্ট নয় যে, স্বয়ং আমিই তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের কাছে তেলাওয়াত করা হচ্ছে; অবশ্যই ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে এতে (আল্লাহ তায়ালার) অনুগ্রহ ও নসীহত রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫২﴿
﴾ ২৯:৫২ ﴿
قُلْ كَفَى بِاللَّهِ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ شَهِيدًا يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالَّذِينَ آمَنُوا بِالْبَاطِلِ وَكَفَرُوا بِاللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿٥٢﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট, (কেননা) আসমানসমুহ ও যমীনে যা আছে (তার) সবকিছু তিনি জানেন; যারা বাতিলের উপর ঈমান আনে এবং আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করে, তারাই হচ্ছে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫৩﴿
﴾ ২৯:৫৩ ﴿
وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَلَوْلَا أَجَلٌ مُسَمًّى لَجَاءَهُمُ الْعَذَابُ وَلَيَأْتِيَنَّهُمْ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٥٣﴾
(হে নবী, ) এরা তোমার কাছে আযাব ত্বরান্বিত করার কথা বলে; যদি (আল্লাহ তায়ালার কাছে) এদের (শাস্তি দেয়ার) জন্যে একটি দিনক্ষণ সুনির্দিষ্ট না থাকতো, তাহলে কবেই না তাদের উপর আযাব এসে যেতো; অবশ্যই এদের উপর আকস্মিকভাবে আযাব আসবে এবং তারা জানতেও পারবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫৪﴿
﴾ ২৯:৫৪ ﴿
يَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ ﴿٥٤﴾
তোমার কাছে এরা আযাব ত্বরান্বিত করার কথা বলে; (অথচ) জাহান্নাম তো কাফেরদের পরিবেষ্টন করেই নেবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫৫﴿
﴾ ২৯:৫৫ ﴿
يَوْمَ يَغْشَاهُمُ الْعَذَابُ مِنْ فَوْقِهِمْ وَمِنْ تَحْتِ أَرْجُلِهِمْ وَيَقُولُ ذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٥٥﴾
যেদিন আযাব তাদের গ্রাস করবে তাদের উপর থেকে এবং তাদের পায়ের নীচ থেকে, আল্লাহ তায়ালা (তখন) বলবেন, (দুনিয়ায়) তোমরা যা কিছু করতে (এখন তার) মজা উপভোগ করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫৬﴿
﴾ ২৯:৫৬ ﴿
يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ أَرْضِيَ وَاسِعَةٌ فَإِيَّايَ فَاعْبُدُونِ ﴿٥٦﴾
হে আমার বান্দারা, যারা আমার উপর ঈমান এনেছো, আমার যমীন অনেক প্রশস্ত, সুতরাং তোমরা অতঃপর একমাত্র আমারই ইবাদাত করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫৭﴿
﴾ ২৯:৫৭ ﴿
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ ﴿٥٧﴾
প্রতিটি জীবকেই মরণের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এর পর তোমাদের সবাইকে আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫৮﴿
﴾ ২৯:৫৮ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُبَوِّئَنَّهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ ﴿٥٨﴾
যারা আমার উপর ঈমান আনবে এবং নেক কাজ করবে, আমি তাদের জন্যে অবশ্যই জান্নাতে (সুরম্য) কোঠা তৈরী করবো, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহমান থাকবে, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; কতো উত্তম পুরস্কার এ নেককার মানুষগুলোর জন্যে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৫৯﴿
﴾ ২৯:৫৯ ﴿
الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ﴿٥٩﴾
(নেককার মানুষ হচ্ছে তারা, ) যারা ধৈর্য ধারণ করেছে (এবং সর্বাবস্থায়) নিজেদের মালিকের উপরই নির্ভর করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬০﴿
﴾ ২৯:৬০ ﴿
وَكَأَيِّنْ مِنْ دَابَّةٍ لَا تَحْمِلُ رِزْقَهَا اللَّهُ يَرْزُقُهَا وَإِيَّاكُمْ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿٦٠﴾
কতো (ধরনের) বিচরণশীল জীব (এ দুনিয়ায়) রয়েছে, যারা কেউই নিজেদের রিযিক (নিজেরা কাঁধে) বহন করে বেড়ায় না, আল্লাহ তায়ালাই তাদের এবং তোমাদের নিত্যদিনের) রিযিক সরবরাহ করেন, তিনি সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬১﴿
﴾ ২৯:৬১ ﴿
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ ﴿٦١﴾
(হে নবী, ) তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো, আসমানসমুহ ও যমীন কে পয়দা করেছেন, সুর্য ও চন্দ্রকে কে বশিভূত করে রেখেছেন, তারা অবশ্যই বলবে, (একমাত্র) আল্লাহ তায়ালা, (কিন্তু তারপরও) এরা কোথায় কোথায় ঠোকর খাচ্ছে ? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬২﴿
﴾ ২৯:৬২ ﴿
اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَيَقْدِرُ لَهُ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٦٢﴾
(বস্তুত) আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের মাঝে যাকে চান তার রিযিক প্রশস্ত করে দেন, (আবার যাকে চান) তার জন্যে তা কমিয়ে দেন; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর ব্যাপারে সম্যক অবগত আছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬৩﴿
﴾ ২৯:৬৩ ﴿
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ﴿٦٣﴾
(হে নবী, ) যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, আসমান থেকে কে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর কে যমীন একবার মরে যাওয়ার পর সে (পানি) দ্বারা তাতে জীবন সঞ্চার করেছেন, অবশ্যই এরা বলবে, একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই; তুমি বলো, যাবতীয় তারীফ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যে; কিন্তু ওদের অধিকাংশ মানুষই (তা) অনুধাবন করে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬৪﴿
﴾ ২৯:৬৪ ﴿
وَمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَهْوٌ وَلَعِبٌ وَإِنَّ الدَّارَ الْآخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿٦٤﴾
এ পার্থিব জীবন তো অর্থহীন কতিপয় খেল তামাশা ছাড়া (আসলেই) আর কিছু নয়; নিশ্চয় আখেরাতের জীবন হচ্ছে সত্যিকারের জীবন । কতো ভালো হতো যদি তারা (এ বিষয়টা) জানতো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬৫﴿
﴾ ২৯:৬৫ ﴿
فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ ﴿٦٥﴾
যখন এরা জলযানে আরোহণ করে (নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়) , তখন তারা নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ তায়ালাকেই ডাকে, জীবন বিধানকে একমাত্র তার জন্যে (নিবেদন করে) , কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যখন তাদের মুক্তি দিয়ে হলে নামিয়ে নিরাপদ করে দেন, (তখন) সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালার সাথেই এরা শরীক করতে শুরু করে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬৬﴿
﴾ ২৯:৬৬ ﴿
لِيَكْفُرُوا بِمَا آتَيْنَاهُمْ وَلِيَتَمَتَّعُوا فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿٦٦﴾
যেন আমি তাদের (উপর) যা কিছু অনুগ্রহ করেছি তা তারা অস্বীকার করতে পারে এবং (এভাবেই এরা) কয়টা দিন (দুনিয়ায়) ভোগবিলাস করে কাটিয়ে দিতে পারে । অচিরেই এরা (আসল ঘটনা) জানতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬৭﴿
﴾ ২৯:৬৭ ﴿
أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا حَرَمًا آمِنًا وَيُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ أَفَبِالْبَاطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَةِ اللَّهِ يَكْفُرُونَ ﴿٦٧﴾
এরা কি দেখতে পাচ্ছে না, (কিভাবে) আমি (এ মক্কাকে) শান্তি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়ে রেখেছি, অথচ তার চারপাশে মানুষদের (প্রতিনিয়ত জোর করে) ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে; এরপরও কি। তারা বাতিলের উপর ঈমান আনবে এবং আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত অস্বীকার করবে ? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬৮﴿
﴾ ২৯:৬৮ ﴿
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْكَافِرِينَ ﴿٦٨﴾
তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে হতে পারে যে (স্বয়ং) আল্লাহ তায়ালার উপরই মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, অথবা তার কাছে যখন সত্য এসে যায় তখন তাকেই অস্বীকার করে; (হে নবী, ) এমন ধরনের অস্বীকারকারীদের জন্যে জাহান্নামই কি (একমাত্র) আশ্রয়স্থল (হওয়া উচিত) নয়? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾২৯:৬৯﴿
﴾ ২৯:৬৯ ﴿
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ ﴿٦٩﴾
(অপরদিকে) যারা আমারই পথে জেহাদ করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা নেককার বান্দাদের সাথে রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]