🕌

آل عمران
(৩) আলে-ইমরান

২০০

﴾৩:১﴿
﴾ ৩:১ ﴿
الم ﴿١﴾
আলিফ-লাম-মীম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২﴿
﴾ ৩:২ ﴿
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ﴿٢﴾
মহান আল্লাহ তা’আলা, তিনি ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, (তিনি) চিরঞ্জীব, (তিনি) চিরস্থায়ী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩﴿
﴾ ৩:৩ ﴿
نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ ﴿٣﴾
তিনি সত্য (দ্বীন) সহকারে তোমার উপর (এই) কিতাব নাযিল করেছেন, যা তোমার আগে নাযিল করা যাবতীয় কিতাবের সত্যতা স্বীকার করে। তিনি তাওরাত ও ইনজীলও নাযিল করেছেন; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪﴿
﴾ ৩:৪ ﴿
مِنْ قَبْلُ هُدًى لِلنَّاسِ وَأَنْزَلَ الْفُرْقَانَ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ ﴿٤﴾
মানব জাতিকে (সঠিক) পথ প্রদর্শনের জন্যে ইতিপূর্বে (আল্লাহ তা’আলা আরো কিতাব নাযিল করেছেন) , তিনি (হক ও বাতিলের মধ্যে) ফয়সালা করার মানদন্ড (হিসেবে কোরআন) অবতীর্ণ করেছেন; (তা সত্ত্বেও) যারা আল্লাহ তা’আলার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করবে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি; আল্লাহ তা’আলা অসীম ক্ষমতার মালিক, তিনি চরম প্রতিশোধ গ্রহণকারীও বটে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫﴿
﴾ ৩:৫ ﴿
إِنَّ اللَّهَ لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ ﴿٥﴾
আল্লাহ তা’আলার কাছে আকাশমালা ও ভূখন্ডের কোনো তথ্যই গোপন নেই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬﴿
﴾ ৩:৬ ﴿
هُوَ الَّذِي يُصَوِّرُكُمْ فِي الْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَاءُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٦﴾
তিনি তো সেই মহান সত্তা যিনি (মায়ের পেটে) শুক্রকীটে (থাকতেই) তাঁর ইচ্ছামতো তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন; (আসলেই) আল্লাহ তা’আলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মা’বুদ নেই, তিনি প্রচন্ড ক্ষমতাশালী এবং প্রবল প্রজ্ঞাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭﴿
﴾ ৩:৭ ﴿
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ ﴿٧﴾
তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি তোমার উপর এ কিতাব নাযিল করেছেন। (এই কিতাবে দু’ধরনের আয়াত রয়েছে) , এর কিছু হচ্ছে (সুস্পষ্ট) দ্ব্যর্থহীন আয়াত, সেগুলোই হচ্ছে কিতাবের মৌলিক অংশ, (এ ছাড়া) বাকী আয়াতগুলো হচ্ছে রূপক (বর্ণনায় বর্ণিত, মানুষের মাঝে) যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা (এগুলোকে কেন্দ্র করেই নানা ধরনের) ফেতনা ফাসাদ (সৃষ্টি করে) এবং আল্লাহর কিতাবের (অপ) ব্যাখ্যা করার উদ্দেশে এসব (রূপক) আয়াত থেকে কিছু অংশের অনুসরণ করে, (মূলত) এসব (রূপক) বিষয়ের ব্যাখ্যা আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর কেউই জানে না। (এ কারণেই) যাদের মধ্যে জ্ঞানের গভীরতা আছে তারা (এসব আয়াত সম্পর্কে) বলে, আমরা এর উপর ঈমান এনেছি, এগুলো সবই তো আমাদের মালিকের পক্ষ থেকে (আমাদের দেয়া হয়েছে। সত্য কথা হচ্ছে, আল্লাহর হেদায়াতে) প্রজ্ঞাসম্পন্ন লোকেরাই কেবল শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮﴿
﴾ ৩:৮ ﴿
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ ﴿٨﴾
(তারা আরো বলে, ) হে আমাদের মালিক, (একবার যখন) তুমি আমাদের (সঠিক) পথের দিশা দিয়েছো, (তখন আর) তুমি আমাদের মনকে বাঁকা করে দিয়ো না, একান্ত তোমার কাছ থেকে আমাদের প্রতি দয়া করো, কেননা যাবতীয় দয়ার মালিক তো তুমিই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯﴿
﴾ ৩:৯ ﴿
رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ ﴿٩﴾
হে আমাদের মালিক, তুমি অবশ্যই সমগ্র মানব জাতিকে তোমার সামনে (হিসাব-নিকাশের জন্যে) একদিন একত্রিত করবে, এতে কোন রকম সন্দেহ নেই; নিসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা (কখনোই) ওয়াদা ভংগ করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০﴿
﴾ ৩:১০ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَنْ تُغْنِيَ عَنْهُمْ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَأُولَئِكَ هُمْ وَقُودُ النَّارِ ﴿١٠﴾
যারা (আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর বিধান) অস্বীকার করেছে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি আল্লাহর (আযাব) থেকে (তাদের বাঁচানোর ব্যাপারে) কোনোই উপকারে আসবে না; (প্রকারান্তরে) তারাই জাহান্নামের ইন্ধন হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১﴿
﴾ ৩:১১ ﴿
كَدَأْبِ آلِ فِرْعَوْنَ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿١١﴾
(তাদের পরিণতি হবে) ফেরাউন ও তাদের পূর্ববর্তী (না-ফরমান) জাতিসমূহের মতো; তারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলো, অতএব তাদের অপরাধের কারণে আল্লাহ তা’আলা তাদের (শক্ত করে) পাকড়াও করলেন; (বস্তুত) শাস্তি প্রয়োগে আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত কঠোর। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২﴿
﴾ ৩:১২ ﴿
قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَى جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمِهَادُ ﴿١٢﴾
(হে নবী, ) যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে সেসব (বিদ্রোহী) কাফেরদের তুমি বলে দাও, অচিরেই তোমরা (এ দুনিয়ায় লাঞ্ছিত) পরাজিত হবে এবং (পরকালে) তোমাদের জাহান্নামের (আগুনের) কাছে জড়ো করা হবে; (আর জাহান্নাম!) তা তো হচ্ছে অত্যন্ত নিকৃষ্ট অবস্থান! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩﴿
﴾ ৩:১৩ ﴿
قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُمْ مِثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَنْ يَشَاءُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ ﴿١٣﴾
সে দল দু’টোর মধ্যে তোমাদের জন্যে (শিক্ষণীয়) কিছু নিদর্শন (মজুদ) ছিলো, যারা (বদরের) সম্মুখসমরে একে অপরের সামনাসামনি হয়েছিলো; (এদের মধ্যে) এক বাহিনী লড়ছিলো আল্লাহর (দ্বীনের) পথে, আর অপর বাহিনীটি ছিলো (অবিশ্বাসী) কাফেরদের, (এ সম্মুখসমরে) তারা চর্মচক্ষু দিয়ে তাদের (প্রতিপক্ষকে) তাদের দ্বিগুণ দেখতে পাচ্ছিলো, (তারপরও) আল্লাহ তা’আলা যাকে চান তাকে সাহায্য (ও বিজয়) দান করেন; এ (সব ঘটনার) মাঝে সেসব লোকের জন্যে অনেক কিছু শেখার আছে যারা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪﴿
﴾ ৩:১৪ ﴿
زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الْمَآبِ ﴿١٤﴾
নারী জাতির প্রতি ভালোবাসা, সন্তান সন্ততি, কাঁড়ি কাঁড়ি সোনা রূপা, পছন্দসই ঘোড়া, গৃহপালিত জন্তু ও যমীনের ফসল (সব সময়ই) মানব সন্তানের জন্যে লোভনীয় করে রাখা হয়েছে; (অথচ) এ সব হচ্ছে পার্থিব জীবনের কিছু ভোগের সামগ্রী (মাত্র! স্থায়ী জীবনের) উৎকৃষ্ট আশ্রয় তো একমাত্র আল্লাহ তা’আলার কাছেই রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫﴿
﴾ ৩:১৫ ﴿
قُلْ أَؤُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرٍ مِنْ ذَلِكُمْ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ ﴿١٥﴾
(হে নবী, ) তুমি (তাদের) বলো, আমি কি তোমাদের এগুলোর চাইতে উৎকৃষ্ট কোনো বস্তুর কথা বলবো? (হ্যাঁ, সে উৎকৃষ্ট বস্তু হচ্ছে তাদের জন্যে, ) যারা আল্লাহকে ভয় করে এমন সব লোকদের জন্যে তাদের মালিকের কাছে রয়েছে (মনোরম) জান্নাত, যার পাদদেশ দিয়ে প্রবাহমান থাকবে (অগণিত) ঝর্ণাধারা এবং তারা সেখানে অনাদিকাল থাকবে, আরো থাকবে (তাদের) পূত পবিত্র সংগী ও সংগিনীরা (সর্বোপরি) থাকবে আল্লাহ তা’আলার (অনাবিল) সন্তুষ্টি; আল্লাহ তা’আলা নিজ বান্দাদের (কার্যকলাপের) উপর সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬﴿
﴾ ৩:১৬ ﴿
الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿١٦﴾
যারা বলে, হে আমাদের মালিক, আমরা অবশ্যই তোমার উপর ঈমান এনেছি, অতপর আমাদের (যা) গুনাহখাতা (আছে তা) তুমি মাফ করে দাও এবং (শেষ বিচারের দিন) তুমি আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে দিয়ো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭﴿
﴾ ৩:১৭ ﴿
الصَّابِرِينَ وَالصَّادِقِينَ وَالْقَانِتِينَ وَالْمُنْفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ ﴿١٧﴾
এরা হচ্ছে ধৈর্যশীল এবং সত্যাশ্রয়ী, (এরা) অনুগত এবং দানশীল, (সর্বোপরি) এরা হচ্ছে শেষরাতে কিংবা ঊষালগ্নের পূর্বে ক্ষমা প্রার্থনাকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮﴿
﴾ ৩:১৮ ﴿
شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿١٨﴾
আল্লাহ তা’আলা (স্বয়ং) সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তিনি ছাড়া অন্য কোনো মা’বুদ নেই, ফেরেশতারা এবং জ্ঞানবান মানুষরাও (এই একই সাক্ষ্য দিচ্ছে) , আল্লাহ তা’আলাই একমাত্র ন্যায় ও ইনসাফ কার্যকর করেন, তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মা’বুদ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, তিনি প্রজ্ঞাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯﴿
﴾ ৩:১৯ ﴿
إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿١٩﴾
নিসন্দেহে (মানুষের) জীবন বিধান হিসেবে আল্লাহ তা’আলার কাছে ইসলামই একমাত্র (গ্রহণযোগ্য) ব্যবস্থা। যাদের আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব দেয়া হয়েছিলো, তারা (এ জীবন বিধান থেকে বিচ্যুত হয়ে) নিজেরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ ও হিংসার বশবর্তী হয়ে (বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে) মতানৈক্যে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলো, (তাও আবার) তাদের কাছে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সঠিক জ্ঞান আসার পর। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান অস্বীকার করবে (তার জানা উচিত) , অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২০﴿
﴾ ৩:২০ ﴿
فَإِنْ حَاجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ لِلَّهِ وَمَنِ اتَّبَعَنِ وَقُلْ لِلَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْأُمِّيِّينَ أَأَسْلَمْتُمْ فَإِنْ أَسْلَمُوا فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ ﴿٢٠﴾
যদি এরা তোমার সাথে (এ ব্যাপারে) কোনোরূপ বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাহলে (তুমি তাদের) বলে দাও, আমি এবং আমার অনুসারীরা (সবাই) আল্লাহর কাছে আÍসমর্পণ করে নিয়েছি; অতপর যাদের (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কিতাব দেয়া হয়েছে এবং যারা (কোনো কিতাব না পেয়ে) মূর্খ্(থেকে গেছে) , তাদের (সবাইকেই) জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি সবাই আল্লাহর কাছে আÍসমর্পণ করেছো? (হ্যাঁ, ) তারা যদি (জীবনের সর্বক্ষেত্রে) আল্লাহর আনুগত্য মেনে নেয় তাহলে তারা তো সঠিক পথ পেয়েই গেলো, কিন্তু তারা যদি (ঈমান থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে মনে রেখো, তোমার দায়িত্ব হচ্ছে কেবল (আমার কথা) পৌঁছে দেয়া; আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের (কর্মকান্ড নিজেই) পর্যবেক্ষণ করছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২১﴿
﴾ ৩:২১ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٢١﴾
নিসন্দেহে যারা আল্লাহর (নাযিল করা) নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে, যারা অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করে হত্যা করে মানব জাতিকে যারা ন্যায় ও ইনসাফ মেনে চলার আদেশ দেয় তাদেরও, এদের তুমি এক কঠোর শাস্তির সুসংবাদ দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২২﴿
﴾ ৩:২২ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ ﴿٢٢﴾
(এদের অবস্থা হচ্ছে, ) দুনিয়া আখেরাত উভয় স্থানেই এদের কর্ম ব্যর্থ (ও নিষ্ফল) হয়ে গেছে, (আর এ কারণেই) এদের কোথাও কোনো সাহায্যকারী নাই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২৩﴿
﴾ ৩:২৩ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِنَ الْكِتَابِ يُدْعَوْنَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ وَهُمْ مُعْرِضُونَ ﴿٢٣﴾
(হে নবী, ) তুমি তাদের সম্পর্কে চিন্তা করে দেখেছো কি, যাদের আমার কিতাবের কিছু অংশ দেয়া হয়েছিলো, অতপর তাদের যখন আল্লাহর কিতাবের (সে অংশের) দিকে ডাকা হলো যা তাদের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়সমূহের মীমাংসা করে দেবে, তখন তাদের একদল লোক (এ হেদায়াত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিলো, (মূলত) এরাই হচ্ছে সেসব লোক যারা (আল্লাহর ফয়সালা থেকে) মুখ ফিরিয়ে রাখে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২৪﴿
﴾ ৩:২৪ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ وَغَرَّهُمْ فِي دِينِهِمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ ﴿٢٤﴾
এটা এ কারণে যে, এ (নির্বোধ) লোকেরা বলে, (দোযখের) আগুন আমাদের (শরীর) কখনো স্পর্শ করবে না, (আর যদি একান্ত করেও তা হবে) হাতেগনা কয়েকটি দিনের ব্যাপার মাত্র, (মূলত) তাদের নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসের মাঝে নিজেদের মনগড়া ধারণাই তাদের প্রতারিত করে রেখেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২৫﴿
﴾ ৩:২৫ ﴿
فَكَيْفَ إِذَا جَمَعْنَاهُمْ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٢٥﴾
অতপর (সেদিন) অবস্থাটা হবে, যেদিন আমি সমগ্র মানব সন্তানকে একত্রিত করবো, যেদিন সম্পর্কে কোনো দ্বিধা সন্দেহের অবকাশ নেই, সেদিন প্রত্যেক মানব সন্তানকেই তার নিজস্ব অর্জিত বিনিময় পুরোপুরি দিয়ে দেয়া হবে এবং (সেদিন) তাদের উপর বিন্দুমাত্রও যুলুম করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২৬﴿
﴾ ৩:২৬ ﴿
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢٦﴾
(হে নবী) , তুমি বলো, হে রাজাধিরাজ (মহান আল্লাহ) , তুমি যাকে ইচ্ছা তাকে সাম্রাজ্য দান করো, আবার যার কাছ থেকে চাও তা কেড়েও নিয়ে যাও, যাকে ইচ্ছা তুমি সম্মানিত করো, যাকে ইচ্ছা তুমি অপমানিত করো; সব রকমের কল্যাণ তো তোমার হাতেই নিবদ্ধ; নিশ্চয়ই তুমি সবকিছুর উপর একক ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২৭﴿
﴾ ৩:২৭ ﴿
تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ﴿٢٧﴾
তুমিই রাতকে দিনের মাঝে শামিল করো, আবার দিনকে রাতের ভেতর শামিল করো; প্রাণহীন (বস্তু) থেকে তুমি (যেমন) প্রাণের আবির্ভাব ঘটাও, (আবার) প্রাণহীন (অসাড়) বস্তু বের করে আনো প্রাণসর্বস্ব (জীব) থেকে এবং যাকে ইচ্ছা তুমি বিনা হিসেবে রিযিক দান করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২৮﴿
﴾ ৩:২৮ ﴿
لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ ﴿٢٨﴾
ঈমানদার ব্যক্তিরা কখনো ঈমানদারদের বদলে অবিশ্বাসী কাফেরদের নিজেদের বন্ধু বানাবে না, যদি তোমাদের কেউ তা করে তবে আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্কই থাকবে না, হাঁ তাদের কাছ থেকে কোনো আশংকা (থাকলে) তোমরা নিজেদের বাঁচানোর প্রয়োজন হলে তা ভিন্ন কথা; আল্লাহ তা’আলা তো বরং তাঁর নিজের ব্যাপারেই তোমাদের ভয় দেখাচ্ছেন (বেশী, কারণ তোমাদের) আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২৯﴿
﴾ ৩:২৯ ﴿
قُلْ إِنْ تُخْفُوا مَا فِي صُدُورِكُمْ أَوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ اللَّهُ وَيَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢٩﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, তোমরা তোমাদের মনের ভেতর কিছু গোপন করে রাখো, কিংবা তা (সবার সামনে) প্রকাশ করে দাও, তা আল্লাহ তা’আলা (ভালোভাবে) অবগত হন; আসমান যমীন ও এর (আভ্যন্তরীণ) সবকিছুও তিনি জানেন, সর্বোপরি আল্লাহ তা’আলা (সৃষ্টিলোকের) সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান, তিনিই সকল শক্তির আধার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩০﴿
﴾ ৩:৩০ ﴿
يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُحْضَرًا وَمَا عَمِلَتْ مِنْ سُوءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ أَمَدًا بَعِيدًا وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ ﴿٣٠﴾
যেদিন প্রত্যেকেই তার ভালো কাজ সামনে হাযির দেখতে পাবে, যে ব্যক্তির কৃতকর্ম খারাপ থাকবে সে সেদিন কামনা করতে থাকবে যে, তার এবং তার (কাজের) মাঝে যদি দুস্তর একটা তফাৎ থাকতো! আল্লাহ তা’আলা তো তোমাদের তাঁর (ক্ষমতা ও শাস্তি) থেকে ভয় দেখাচ্ছেন, কারণ আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের সাথে অত্যন্ত অনুগ্রহশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩১﴿
﴾ ৩:৩১ ﴿
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٣١﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, তোমরা যদি আল্লাহ তা’আলাকে ভালোবাসো, তাহলে আমার কথা মেনে চলো, (আমাকে ভালোবাসলে) আল্লাহ তা’আলাও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তিনি তোমাদের গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন; আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩২﴿
﴾ ৩:৩২ ﴿
قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ ﴿٣٢﴾
তুমি (আরো) বলো, (তোমরা) আল্লাহ তা’আলা ও (তাঁর) রসূলের কথা মেনে চলো, (এ আহ্বান সত্ত্বেও) তারা যদি (এ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয় (তাহলে তুমি জেনে রেখো) , আল্লাহ তা’আলা কখনো কাফেরদের পছন্দ করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩৩﴿
﴾ ৩:৩৩ ﴿
إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿٣٣﴾
অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা আদম, নূহ এবং ইবরাহীমের বংশধর ও ইমরানের বংশধরদের সৃষ্টিকুলের উপর (নেতৃত্ব করার জন্যে) বাছাই করে নিয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩৪﴿
﴾ ৩:৩৪ ﴿
ذُرِّيَّةً بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٣٤﴾
(নেতৃত্বে সমাসীন) এদের সন্তানরা বংশানুক্রমে পরস্পর পরস্পরের বংশধর। আল্লাহ তা’আলা (সবার কথাবার্তা) শুনতে পান এবং (সব কথা তিনি) জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩৫﴿
﴾ ৩:৩৫ ﴿
إِذْ قَالَتِ امْرَأَةُ عِمْرَانَ رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿٣٥﴾
(স্মরণ করো, ) যখন ইমরানের স্ত্রী বললো, হে আমার মালিক, আমার গর্ভে যা আছে তাকে আমি স্বাধীনভাবে তোমার (দ্বীনের কাজ করার) জন্যে উৎসর্গ করলাম, তুমি আমার পক্ষ থেকে এ সন্তানটিকে কবুল করে নাও, অবশ্যই তুমি (সব কথা) শোনো এবং (সব বিষয়) জানো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩৬﴿
﴾ ৩:৩৬ ﴿
فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنْثَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثَى وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ﴿٣٦﴾
অতপর (এক সময়) যখন ইমরানের ¯স্ত্রী তাকে জন্ম দিলো, (তখন) সে বললো, হে আমার মালিক, (একি!) আমি তো (দেখছি) একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছি (একটা মেয়েকে কিভাবে আমি তোমার পথে উৎসর্গ করবো) ; আল্লাহ তা’আলা তো ভালোভাবেই জানতেন, ইমরানের স্ত্রী কি জন্ম দিয়েছে, (আসলে) ছেলে কখনো মেয়ের মতো (সব কাজ আঞ্জাম দিতে সক্ষম) হয়না, (ইমরানের ¯স্ত্রী বললো) , আমি এ শিশুর নাম রাখলাম মারইয়াম এবং আমি এ শিশু ও তার (অনাগত) সন্তানকে অভিশপ্ত শয়তানের (অনিষ্ট) থেকে রক্ষার জন্যে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩৭﴿
﴾ ৩:৩৭ ﴿
فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنْبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّى لَكِ هَذَا قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ﴿٣٧﴾
আল্লাহ তা’আলা (ইমরানের স্ত্রীর দোয়া কবুল করলেন এবং) তাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবেই গ্রহণ করে নিলেন এবং (ধীরে ধীরে) তাকে তিনি ভালোভাবেই গড়ে তুললেন, (আর সে জন্যেই) আল্লাহ তা’আলা তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রাখলেন, (বড়ো হবার পর) যখনি যাকারিয়া তার কাছে (তার নিজস্ব) ইবাদাতের কক্ষে যেতো, (তখনি সে দেখতে) পেতো সেখানে কিছু খাবার (মজুদ রয়েছে, খাবার দেখে) যাকারিয়া জিজ্ঞেস করতো, হে মারইয়াম, এসব (খাবার) তোমার কাছে কোত্থেকে আসে? মারইয়াম জবাব দিতো, এ সব (আসে আমার মালিক) আল্লাহর কাছ থেকে; (আর) অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা যাকে চান তাকে বিনা হিসেবে রিযিক দান করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩৮﴿
﴾ ৩:৩৮ ﴿
هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ ﴿٣٨﴾
সেখানে (দাঁড়িয়েই) যাকারিয়া তার মালিকের কাছে দোয়া করলো, হে আমার মালিক, তুমি তোমার কাছ থেকে আমাকে (তোমার অনুগ্রহের প্রতীক হিসেবে) একটি নেক সন্তান দান করো, নিশ্চয়ই তুমি (মানুষের) ডাক শোনো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৩৯﴿
﴾ ৩:৩৯ ﴿
فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿٣٩﴾
অতপর ফেরেশতারা তাকে ডাক দিলো এমন এক সময়ে যখন সে ইবাদাতের কক্ষে নামায আদায় করছিলো (ফেরেশতারা বললো, হে যাকারিয়া, আল্লাহ তা’আলা তোমার ডাক শুনেছেন) , অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তোমাকে ইয়াহইয়ার (জন্ম সম্পর্কে) সুসংবাদ দিচ্ছেন, (তোমার সে সন্তান) আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বাণীর সত্যায়ন করবে, সে হবে (সমাজের) নেতা, (সে হবে) সচ্চরিত্রবান, (সে হবে) নবী, (সর্বোপরি সে হবে) সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪০﴿
﴾ ৩:৪০ ﴿
قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَقَدْ بَلَغَنِيَ الْكِبَرُ وَامْرَأَتِي عَاقِرٌ قَالَ كَذَلِكَ اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ ﴿٤٠﴾
(এ কথা শুনে) যাকারিয়া বললো, হে আমার মালিক, আমার (ঘরে) ছেলে হবে কিভাবে, (একে তো) আমি নিজে বার্ধক্যে উপনীত হয়ে গেছি, (তদুপরি) আমার স্ত্রীও বন্ধ্যা (সন্তান ধারণে সম্পূর্ণ অক্ষম) ; আল্লাহ তা’আলা বললেন, হাঁ এভাবেই আল্লাহ তা’আলা যা চান তা তিনি করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪১﴿
﴾ ৩:৪১ ﴿
قَالَ رَبِّ اجْعَلْ لِي آيَةً قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ إِلَّا رَمْزًا وَاذْكُرْ رَبَّكَ كَثِيرًا وَسَبِّحْ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ ﴿٤١﴾
যাকারিয়া নিবেদন করলো, হে মালিক, তুমি আমার জন্যে (এর) কিছু (পূর্ব) লক্ষণ ঠিক করে দাও; আল্লাহ তা’আলা বললেন (হাঁ) , তোমার (সে) লক্ষণ হবে এই যে, তুমি তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত মানুষের সাথে ইশারা ইংগিত ছাড়া কথাবার্তা বলবে না; (এ অবস্থায়) তুমি তোমার মালিককে বেশী বেশী স্মরণ করবে এবং সকাল সন্ধ্যায় (তাঁর পবিত্র নামসমূহের) তাসবীহ পাঠ করতে থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪২﴿
﴾ ৩:৪২ ﴿
وَإِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفَاكِ عَلَى نِسَاءِ الْعَالَمِينَ ﴿٤٢﴾
(অতপর মারইয়াম বয়োপ্রাপ্ত হলে) আল্লাহর ফেরেশতারা যখন বললো, হে মারইয়াম, আল্লাহ তা’আলা নিসন্দেহে তোমাকে (একটি বিশেষ কাজের জন্যে) বাছাই করেছেন এবং (সে জন্যে) তোমাকে তিনি পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বের নারীকুলের উপর তিনি তোমাকে বাছাই করেছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪৩﴿
﴾ ৩:৪৩ ﴿
يَا مَرْيَمُ اقْنُتِي لِرَبِّكِ وَاسْجُدِي وَارْكَعِي مَعَ الرَّاكِعِينَ ﴿٤٣﴾
হে মারইয়াম, (এর যোগ্য হওয়ার জন্যে) তুমি সর্বদা তোমার মালিকের অনুগত হও, তাঁর কাছে (আনুগত্যের) মাথা নত করো এবং ইবাদাতকারীদের সাথে তুমিও (তার) ইবাদাত করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪৪﴿
﴾ ৩:৪৪ ﴿
ذَلِكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلَامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ ﴿٤٤﴾
(হে নবী, ) এ সবই তো (ছিলো তোমার জন্যে) অদৃশ্যলোকের সংবাদ, আমিই এগুলো তোমাকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়েছি; (নতুবা) তুমি তো সেখানে তাদের পাশে হাযির ছিলে না (বিশেষ করে) যখন (ইবাদাতখানার পুরোহিতরা) মারইয়ামের পৃষ্ঠপোষক কে হবে এটা নির্বাচনের জন্যে কলম নিক্ষেপ (করে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা) করছিলো, আর তুমি তাদের ওখানেও উপস্থিত ছিলে না যখন তারা (এ নিয়ে) বিতর্ক করছিলো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪৫﴿
﴾ ৩:৪৫ ﴿
إِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ ﴿٤٥﴾
অতপর ফেরেশতারা বললো, হে মারইয়াম, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তোমাকে (একটি পুত্র সন্তানের জন্ম সংক্রান্ত) নিজস্ব এক বাণীর দ্বারা সুসংবাদ দিচ্ছেন, তার নাম মাসীহ (সে পরিচিত হবে) মারইয়ামের পুত্র ঈসা, দুনিয়া আখেরাতের উভয় স্থানেই সে সম্মানিত হবে, সে হবে (আল্লাহর) সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্যতম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪৬﴿
﴾ ৩:৪৬ ﴿
وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَمِنَ الصَّالِحِينَ ﴿٤٦﴾
সে দোলনায় থাকা অবস্থায় (যেমন) মানুষের সাথে কথা বলতে পারবে, পরিণত বয়সেও (তেমনিভাবে তাদের সাথে) কথা বলবে, (বস্তুত) সে হবে নেককার মানুষদের একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪৭﴿
﴾ ৩:৪৭ ﴿
قَالَتْ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ قَالَ كَذَلِكِ اللَّهُ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ إِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ ﴿٤٧﴾
মারইয়াম বললো, হে আমার মালিক, আমার (গর্ভে) সন্তান আসবে কোত্থেকে? আমাকে তো কখনো কোনো মানব সন্তান স্পর্শ পর্যন্ত করেনি; আল্লাহ তা’আলা বললেন, এভাবেই আল্লাহ তা’আলা যাকে চান (চিরাচরিত নিয়ম ছাড়াই) তাকে পয়দা করেন; তিনি যখন কোনো কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তখন শুধু তাকে বলেন, ‘হও’, অতপর (সাথে সাথে) তা (সংঘটিত) হয়ে যায়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪৮﴿
﴾ ৩:৪৮ ﴿
وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ ﴿٤٨﴾
(ফেরেশতারা মারইয়ামকে বললো, ) তোমার সন্তানকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাব ও প্রজ্ঞার বিষয়গুলো শেখাবেন, (সাথে সাথে তিনি তাকে) তাওরাত এবং ইনজীলও শিক্ষা দেবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৪৯﴿
﴾ ৩:৪৯ ﴿
وَرَسُولًا إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِي الْمَوْتَى بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٤٩﴾
(আল্লাহ তা’আলা তাকে) বনী ইসরাঈলদের কাছে রসূল করে পাঠালেন (অতপর সে আল্লাহর রসূল হয়ে তাদের কাছে এসে বললো) , আমি নিসন্দেহে তোমাদের মালিকের কাছ থেকে (নবুওতের কিছু) নিদর্শন নিয়ে এসেছি (এবং সে নিদর্শনগুলো হচ্ছে) , আমি তোমাদের জন্যে মাটি দ্বারা পাখীর মতো করে একটি আকৃতি বানাবো এবং পরে তাতে ফুঁ দেবো, অতপর (তোমরা দেখবে এই) আকৃতিটি আল্লাহর ইচ্ছায় (জীবন্ত) পাখী হয়ে যাবে, আর জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠ রোগীকেও সুস্থ করে দেবো, (আল্লাহর ইচ্ছায় এভাবে) আমি মৃতকেও জীবিত করে দেবো, আমি তোমাদের আরো বলে দেবো, তোমরা তোমাদের ঘরে কি কি জিনিস খাও, আবার কি জিনিস (না খেয়ে) জমা করে রাখো; (মূলত) তোমরা যদি আল্লাহর উপর ঈমান আনো তাহলে (নিসন্দেহে) এতে তোমাদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫০﴿
﴾ ৩:৫০ ﴿
وَمُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَلِأُحِلَّ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي حُرِّمَ عَلَيْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿٥٠﴾
(মাসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম আরও বলবে, ) তাওরাতের যে বাণী আমার কাছে রয়েছে আমি তার সত্যায়নকারী, (তা ছাড়া) তোমাদের উপর হারাম করে রাখা হয়েছে এমন কতিপয় জিনিসও আমি তোমাদের জন্যে হালাল করে দেবো এবং আমি তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে (এই) নিদর্শন নিয়েই এসেছি, অতএব তোমরা আল্লাহকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫১﴿
﴾ ৩:৫১ ﴿
إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ ﴿٥١﴾
নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা আমার মালিক, তোমাদেরও মালিক, অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদাত করো; (আর) এটাই হচ্ছে একমাত্র সঠিক ও সোজা পথ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫২﴿
﴾ ৩:৫২ ﴿
فَلَمَّا أَحَسَّ عِيسَى مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنْصَارِي إِلَى اللَّهِ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنْصَارُ اللَّهِ آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ﴿٥٢﴾
অতপর ঈসা যখন তাদের থেকে কুফরী আঁচ করতে পারলো, তখন সে (সাথীদের ডেকে) বললো, কে (আছো তোমরা) আল্লাহ তা’আলার (পথের) দিকে (চলার সময়) আমার সাহায্যকারী হবে! হাওয়ারীরা বললো, (হ্যাঁ) আমরাই (হবো) আল্লাহর সাহায্যকারী; আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি (হে ঈসা) , তুমি সাক্ষী থাকো, আমরা সবাই আল্লাহর এক একজন অনুগত বান্দা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫৩﴿
﴾ ৩:৫৩ ﴿
رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ ﴿٥٣﴾
(হাওয়ারীরা বললো, ) হে আল্লাহ, তুমি যা কিছু নাযিল করেছো আমরা তার উপর ঈমান এনেছি এবং আমরা রসূলের কথাও মেনে নিয়েছি, সুতরাং তুমি (সত্যের পক্ষে) সাক্ষ্যদাতাদের সাথে আমাদের (নাম) লিখে দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫৪﴿
﴾ ৩:৫৪ ﴿
وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ ﴿٥٤﴾
বনী ইসরাঈলের লোকেরা (আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে দারুণ) শঠতা করলো, তাই আল্লাহও কৌশলের পন্থা গ্রহণ করলেন; (বস্তুত) আল্লাহ তা’আলাই হচ্ছেন সর্বোত্তম কৌশলী! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫৫﴿
﴾ ৩:৫৫ ﴿
إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأَحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ﴿٥٥﴾
যখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, হে ঈসা, আমি তোমার এ দুনিয়ার (জীবন কাটানোর) কাল শেষ করতে যাচ্ছি এবং (অচিরেই) আমি তোমাকে আমার কাছে তুলে আনবো, যারা (তোমাকে মেনে নিতে) অস্বীকার করছে তাদের (যাবতীয় পাপ) থেকেও আমি তোমাকে পবিত্র করে নেবো, আর যারা তোমাকে অনুসরণ করছে তাদের আমি কেয়ামত পর্যন্ত এই অস্বীকারকারীদের উপর (বিজয়ী করে) রাখবো, অতপর তোমাদের সবাইকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে, সেদিন (ঈসা সম্পর্কিত) যেসব বিষয়ে তোমরা মতবিরোধে লিপ্ত ছিলে তার সব কয়টি বিষয়ই আমি তোমাদের মাঝে মীমাংসা করে দেবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫৬﴿
﴾ ৩:৫৬ ﴿
فَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَأُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ ﴿٥٦﴾
যারা (আমার বিধান) অস্বীকার করেছে আমি তাদের এ দুনিয়ায় (অপমান) ও আখেরাতে (আগুনে দগ্ধ হওয়ার) কঠোরতর শাস্তি দেবো, (এ থেকে বাঁচানোর মতো সেদিন) তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫৭﴿
﴾ ৩:৫৭ ﴿
وَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ ﴿٥٧﴾
অপরদিকে যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে, অতপর আল্লাহ তাদের (সবাই) -কে তাদের পাওনা পুরোপুরিই আদায় করে দেবেন; আল্লাহ তা’আলা যালেমদের কখনো ভালোবাসেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫৮﴿
﴾ ৩:৫৮ ﴿
ذَلِكَ نَتْلُوهُ عَلَيْكَ مِنَ الْآيَاتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيمِ ﴿٥٨﴾
এই (কিতাব) যা আমি তোমাকে পড়ে শোনাচ্ছি, তা হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শন ও জ্ঞানপূর্ণ উপদেশ বিশেষ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৫৯﴿
﴾ ৩:৫৯ ﴿
إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ ﴿٥٩﴾
আাল্লাহ তা’আলার কাছে ঈসার উদাহরণ হচ্ছে (প্রথম মানুষ) আদমের মতো; তাকেও আল্লাহ তা’আলা (মাতা-পিতা ছাড়া সরাসরি) মাটি থেকে পয়দা করেছেন, তারপর তাকে বললেন, (এবার তুমি) হয়ে যাও, সাথে সাথে তা (মানুষে পরিণত) হয়ে গেলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬০﴿
﴾ ৩:৬০ ﴿
الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلَا تَكُنْ مِنَ الْمُمْتَرِينَ ﴿٦٠﴾
(এ হচ্ছে) তোমার মালিক (আল্লাহ) -এর পক্ষ থেকে (আসা) সত্য (প্রতিবেদন) , অতপর তোমরা কখনো সেসব দলে শামিল হয়ো না যারা (ঈসার ব্যাপারে নানারকম) সন্দেহ পোষণ করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬১﴿
﴾ ৩:৬১ ﴿
فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ ﴿٦١﴾
এ বিষয়ে আল্লাহর কাছ থেকে (সঠিক) জ্ঞান আসার পরও যদি কেউ তোমার সাথে (খামাখা) ঝগড়া-বিবাদ ও তর্র্ক করতে চায় তাহলে তুমি তাদের বলে দাও, এসো (আমরা সবাই এ ব্যাপারে একমত হই) , আমরা আমাদের ছেলেদের ডাকবো এবং তোমাদের ছেলেদেরও ডাকবো, (একইভাবে আমরা ডাকবো) আমাদের নারীদের এবং তোমাদের নারীদেরও, (সাথে সাথে) আমরা আমাদের নিজেদের এবং তোমাদেরও (এক সাথে জড়ো হওয়ার জন্যে) ডাক দেবো, অতপর (সবাই এক জায়গায় জড়ো হলে) আমরা বিনীতভাবে দোয়া করবো, (আমাদের মধ্যে) যে মিথ্যাবাদী তার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬২﴿
﴾ ৩:৬২ ﴿
إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْقَصَصُ الْحَقُّ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلَّا اللَّهُ وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٦٢﴾
এ হচ্ছে সঠিক (ও নির্ভুল) ঘটনা। আল্লাহ তা’আলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মা’বুদ নেই; নিসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা পরম শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬৩﴿
﴾ ৩:৬৩ ﴿
فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِالْمُفْسِدِينَ ﴿٦٣﴾
অতপর তারা যদি (এ চ্যালেঞ্জ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে (তারা যেন জেনে রাখে, ) আল্লাহ তা’আলা কলহ সৃষ্টিকারীদের (ভালো করেই) জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬৪﴿
﴾ ৩:৬৪ ﴿
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ﴿٦٤﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, হে কিতাবধারীরা, এসো আমরা এমন এক কথায় (উভয়ে একমত হই) যা আমাদের কাছে এক (ও অভিন্ন এবং সে কথাটি হচ্ছে) , আমরা উভয়েই আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবো না এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে অংশীদার বানাবো না, (সর্বোপরি) এক আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আমরা আমাদের মাঝেও একে অপরকে প্রভু বলে মেনে নেবো না; অতপর তারা যদি (এ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তাদের তুমি বলে দাও, তোমরা সাক্ষী থেকো, আমরা আল্লাহর সামনে আনুগত্যের মাথা নত করে দিয়েছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬৫﴿
﴾ ৩:৬৫ ﴿
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تُحَاجُّونَ فِي إِبْرَاهِيمَ وَمَا أُنْزِلَتِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنْجِيلُ إِلَّا مِنْ بَعْدِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٦٥﴾
(তুমি আরো বলো, ) হে কিতাবধারীরা, তোমরা ইবরাহীম সম্পর্কে (আমাদের সাথে অযথা) কেন তর্ক করো, অথচ (তোমরা জানো) তাওরাত ও ইনজীল তার (অনেক) পরে নাযিল করা হয়েছে; তোমরা কি (এ কথা) বুঝতে পারছো না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬৬﴿
﴾ ৩:৬৬ ﴿
هَا أَنْتُمْ هَؤُلَاءِ حَاجَجْتُمْ فِيمَا لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَاجُّونَ فِيمَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٦٦﴾
হ্যাঁ, এর কয়েকটি বিষয়ে তোমাদের (হয়তো) কিছু কিছু জানাশোনা ছিলো এবং সে বিষয়ে তো তোমরা তর্ক বিতর্কও করলে, কিন্তু যেসব বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞানই নেই সেসব বিষয়ে তোমরা বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছো কেন? আল্লাহ তা’আলাই (সব কিছু) জানেন, তোমরা কিছুই জানো না, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬৭﴿
﴾ ৩:৬৭ ﴿
مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَكِنْ كَانَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿٦٧﴾
(সঠিক ঘটনা হচ্ছে, ) ইবরাহীম না ছিলো ইহুদী না ছিলো খৃস্টান; বরং সে ছিলো একজন একনিষ্ঠ মুসলিম; সে কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত ছিলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬৮﴿
﴾ ৩:৬৮ ﴿
إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرَاهِيمَ لَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُ وَهَذَا النَّبِيُّ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاللَّهُ وَلِيُ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٦٨﴾
মানুষদের ভেতর ইবরাহীমের সাথে (ঘনিষ্ঠতম) সম্পর্কের বেশী অধিকার তো আছে সেসব লোকের, যারা তার অনুসরণ করেছে, এ নবী ও (তার উপর) ঈমান আনয়নকারীরাই (হচ্ছে) ইবরাহীমের ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তি; (মূলত) আল্লাহ তা’আলা একমাত্র তাদেরই সাহায্যকারী (পৃষ্ঠপোষক) যারা তাঁর উপর ঈমান আনে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৬৯﴿
﴾ ৩:৬৯ ﴿
وَدَّتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يُضِلُّونَكُمْ وَمَا يُضِلُّونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ ﴿٦٩﴾
এ কিতাবধারীদের একটি দল (বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে) তোমাদের কোনো না কোনোভাবে পথভ্রষ্ট করে দিতে চায়; যদিও তাদের এ বোধটুকু নেই যে, (তাদের এসব কর্মপন্থা) তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকেই পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭০﴿
﴾ ৩:৭০ ﴿
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَأَنْتُمْ تَشْهَدُونَ ﴿٧٠﴾
হে কিতাবধারীরা, তোমরা (জেনে বুঝে) কেন আল্লাহর আয়াত (ও তাঁর বিধান) অস্বীকার করছো, অথচ (এই ঘটনাসমূহের সত্যতার) সাক্ষ্য তো তোমরা নিজেরাই বহন করছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭১﴿
﴾ ৩:৭১ ﴿
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَلْبِسُونَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٧١﴾
হে কিতাবধারীরা, কেন তোমরা ‘হক’-কে বাতিলের সাথে মিশিয়ে দিচ্ছো, (এতে করে) তোমরা তো সত্যকেই গোপন করে দিচ্ছো, অথচ (এটা যে সত্যের একান্ত পরিপন্থী) তা তোমরা ভালো করেই জানো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭২﴿
﴾ ৩:৭২ ﴿
وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ﴿٧٢﴾
আহলে কিতাবদের (মধ্য থেকে) একদল (নির্বোধ) তাদের নিজেদের লোকদের বলে, মুসলমানদের উপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা সকাল বেলায় তার উপর ঈমান আনো এবং বিকেল বেলায় (গিয়ে) তা অস্বীকার করো, (এর ফলে) তারা সম্ভবত (ঈমান থেকে) ফিরে আসবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭৩﴿
﴾ ৩:৭৩ ﴿
وَلَا تُؤْمِنُوا إِلَّا لِمَنْ تَبِعَ دِينَكُمْ قُلْ إِنَّ الْهُدَى هُدَى اللَّهِ أَنْ يُؤْتَى أَحَدٌ مِثْلَ مَا أُوتِيتُمْ أَوْ يُحَاجُّوكُمْ عِنْدَ رَبِّكُمْ قُلْ إِنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٧٣﴾
যারা তোমাদের জীবন বিধানের অনুসরণ করে, এমন সব লোকজন ছাড়া অন্য কারো কথাই তোমরা মেনে নিয়ো না; (হে নবী, ) তুমি বলে দাও, একমাত্র হেদায়াত হচ্ছে আল্লাহর হেদায়াত (তোমরা একথা মনে করো না যে) , তোমাদের যে ধরনের (ব্যবস্থা) দেয়া হয়েছে তেমন ধরনের কিছু অন্য কাউকেও দেয়া হবে এবং (সে সূত্র ধরে) অন্য লোকেরা তোমাদের মালিকের দরবারে তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো রকম যুক্তিতর্ক খাড়া করবে, (হে নবী) ; তুমি তাদের বলে দাও, (হেদায়াতের এ) অনুগ্রহ অবশ্যই আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই তা দান করেন; আল্লাহ তা’আলা বিশাল, প্রজ্ঞাসম্পন্ন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭৪﴿
﴾ ৩:৭৪ ﴿
يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ ﴿٧٤﴾
নিজের দয়া দিয়ে তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই (হেদায়াতের জন্যে) খাস করে নেন; (বস্তুত) আল্লাহ তা’আলা হচ্ছেন অসীম দয়া ও অনুগ্রহের মালিক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭৫﴿
﴾ ৩:৭৫ ﴿
وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِقِنْطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِدِينَارٍ لَا يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ إِلَّا مَا دُمْتَ عَلَيْهِ قَائِمًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿٧٥﴾
আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোকও আছে, তুমি যদি তার কাছে ধন সম্পদের এক স্তুপও আমানত রাখো, সে (চাওয়ামাত্রই) তা তোমাকে ফেরত দেবে, আবার এদের মধ্যে এমন কিছু (লোকও) আছে যার কাছে যদি একটি দীনারও তুমি রাখো, সে তা তোমাকে ফিরিয়ে দেবে না, হ্যাঁ, যদি (এ জন্যে) তুমি তার উপর চেপে বসতে পারো তাহলে (সেটা ভিন্ন) , এটা এই কারণে যে, এরা বলে, এই (অ-ইহুদী) অশিক্ষিত লোকদের ব্যাপারে আমাদের উপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, (এভাবেই) এরা বুঝে শুনে আল্লাহর উপর মিথ্যা কথা বলে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭৬﴿
﴾ ৩:৭৬ ﴿
بَلَى مَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ وَاتَّقَى فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ ﴿٧٦﴾
অবশ্য যে ব্যক্তি (আল্লাহর সাথে স¤ক্সাদিত) প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলে এবং (সে ব্যাপারে) সাবধানতা অবলম্বন করে, (তাদের জন্যে সুখবর হচ্ছে) আল্লাহ তা’আলা সাবধানী লোকদের খুব ভালোবাসেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭৭﴿
﴾ ৩:৭৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٧٧﴾
(যারা নিজেদের আল্লাহর সাথে স¤ক্সাদিত) প্রতিশ্রুতি ও শপথসমূহ সামান্য (বৈষয়িক) মূল্যে বিক্রি করে দেয়, পরকালে তাদের জন্যে (আল্লাহর পুরস্কারের) কোনো অংশই থাকবে না, সেদিন এদের সাথে আল্লাহ তা’আলা কোনো কথাবার্তা বলবেন না, (এমনকি সেদিন) আল্লাহ তা’আলা তাদের দিকে তাকিয়েও দেখবেন না এবং আল্লাহ তা’আলা তাদের পাক পবিত্রও করবেন না, (সত্যিই) এদের জন্যে রয়েছে কঠোর পীড়াদায়ক আযাব। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭৮﴿
﴾ ৩:৭৮ ﴿
وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿٧٨﴾
এদের মধ্যে এমন কিছু লোকও আছে, যারা কিতাবের কোনো অংশ যখন পড়ে তখন নিজেদের জিহ্বাকে এমনভাবে এদিক-সেদিক করে নেয়, যাতে তোমরা মনে করতে পারো যে, সত্যি বুঝি তা কিতাবের কোনো অংশ, কিন্তু (আসলে) তা কিতাবের কোনো অংশই নয়, তারা আরো বলে, এটা আল্লাহর কাছ থেকেই এসেছে, কিন্তু তা আল্লাহর কাছ থেকে আসা কিছু নয়, এরা জেনে শুনে আল্লাহর উপর মিথ্যা কথা বলে চলেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৭৯﴿
﴾ ৩:৭৯ ﴿
مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ ﴿٧٩﴾
কোনো মানব সন্তানের পক্ষেই এটা (সম্ভব) নয় যে, আল্লাহ তা’আলা তাকে তাঁর কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওত দান করবেন, অতপর সে লোকদের (ডেকে) বলবে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে (এখন) সবাই আমার বান্দা হয়ে যাও, বরং সে (তো নবুওতপ্রাপ্তির পর এ কথাই) বলবে, তোমরা সবাই তোমাদের মালিকের বান্দা হয়ে যাও, এটা এই কারণে যে, তোমরাই মানুষদের (এই) কিতাব শেখাচ্ছিলে এবং তোমরা নিজেরাও (তাই) অধ্যয়ন করছিলে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮০﴿
﴾ ৩:৮০ ﴿
وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلَائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْبَابًا أَيَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ﴿٨٠﴾
আল্লাহর ফেরেশতা ও তাঁর নবীদের প্রতিপালকরূপে স্বীকার করে নিতে এ ব্যক্তি তোমাদের কখনো আদেশ দেবে না; একবার আল্লাহর অনুগত মুসলমান হবার পর সে কিভাবে তোমাদের পুনরায় কুফরীর আদেশ দিতে পারে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮১﴿
﴾ ৩:৮১ ﴿
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ ﴿٨١﴾
আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর নবীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন (তখন তিনি বলেছিলেন, এ হচ্ছে) কিতাব ও (তার ব্যবহারিক) জ্ঞান কৌশল, যা আমি তোমাদের দান করলাম, অতপর তোমাদের কাছে যখন (আমার কোনো) রসূল আসবে, যে তোমাদের কাছে রক্ষিত (আগের) কিতাবের সত্যায়ন করবে, তখন তোমরা অবশ্যই তার (আনীত বিধানের) উপর ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে; আল্লাহ তা’আলা জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি এ (কথার) উপর এ অংগীকার গ্রহণ করছো? তারা বললো, হ্যাঁ আমরা (মেনে চলার) অংগীকার করছি; আল্লাহ তা’আলা বললেন, তাহলে তোমরা সাক্ষী থেকো এবং আমিও তোমাদের সাথে (এ অংগীকারে) সাক্ষী হয়ে রইলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮২﴿
﴾ ৩:৮২ ﴿
فَمَنْ تَوَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ﴿٨٢﴾
অতপর যারা তা ভংগ করে (এ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারা অবশ্যই বিদ্রোহী (বলে পরিগণিত) হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮৩﴿
﴾ ৩:৮৩ ﴿
أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ ﴿٨٣﴾
তারা কি আল্লাহর (দেয়া জীবন) ব্যবস্থার বদলে অন্য কোনো বিধানের সন্ধান করছে? অথচ আসমান যমীনে যা কিছু আছে ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক, আল্লাহ তা’আলার (বিধানের) সামনে আÍসমর্পণ করে আছে এবং প্রত্যেককে তো তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮৪﴿
﴾ ৩:৮৪ ﴿
قُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَالنَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ ﴿٨٤﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি, ঈমান এনেছি আমাদের উপর যা নাযিল করা হয়েছে তার উপর, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের অন্যান্য বংশধরদের প্রতি যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার উপরও (আমরা ঈমান এনেছি) , আমরা আরো ঈমান এনেছি, মূসা, ঈসা এবং অন্য নবীদের তাদের মালিকের পক্ষ থেকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তার উপরও, (আল্লাহর) এ নবীদের কারো মাঝেই আমরা কোনো ধরনের তারতম্য করি না, (মূলত) আমরা সবাই হচ্ছি আল্লাহর কাছে আÍসমর্পণকারী (মুসলমান) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮৫﴿
﴾ ৩:৮৫ ﴿
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٨٥﴾
যদি কেউ ইসলাম ছাড়া (নিজের জন্যে) অন্য কোনো জীবন বিধান অনুসন্ধান করে তবে তার কাছ থেকে সে (উদ্ভাবিত) ব্যবস্থা কখনো গ্রহণ করা হবে না, পরকালে সে চরম ব্যর্থ হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮৬﴿
﴾ ৩:৮৬ ﴿
كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ وَشَهِدُوا أَنَّ الرَّسُولَ حَقٌّ وَجَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ﴿٨٦﴾
(বলো, ) যারা ঈমানের (আলো পাওয়ার) পর কুফরী করেছে, আল্লাহ তা’আলা তাদের কিভাবে (আবার আলোর) পথ প্রদর্শন করবেন, অথচ (এর আগে) এরাই সাক্ষ্য দিয়েছিলো যে, আল্লাহর রসূল সত্য এবং (এ রসূলের মাধ্যমেই) এদের কাছে উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ এসেছিলো; (আসলে) আল্লাহ তা’আলা কখনো সীমালংঘনকারী ব্যক্তিদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮৭﴿
﴾ ৩:৮৭ ﴿
أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ أَنَّ عَلَيْهِمْ لَعْنَةَ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ﴿٨٧﴾
এসব (সীমালংঘনজনিত) কার্যকলাপের একমাত্র প্রতিদান হিসেবে তাদের উপর আল্লাহ তা’আলা, তাঁর ফেরেশতা ও অন্য সব মানুষের অভিশাপ (বর্ষিত হবে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮৮﴿
﴾ ৩:৮৮ ﴿
خَالِدِينَ فِيهَا لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنْظَرُونَ ﴿٨٨﴾
(সে অভিশপ্ত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম, ) সেখানে তারা অনাদিকাল ধরে পড়ে থাকবে, (এক মুহূর্তের জন্যেও) তাদের উপর শাস্তির মাত্রা কমানো হবে না, না আযাব থেকে তাদের (একটুখানি) বিরাম দেয়া হবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৮৯﴿
﴾ ৩:৮৯ ﴿
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٨٩﴾
(তবে) তাদের কথা আলাদা, যারা (এসব কিছুর পর) তাওবা করেছে এবং (তারপর) নিজেদের সংশোধন করে নিয়েছে, আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯০﴿
﴾ ৩:৯০ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الضَّالُّونَ ﴿٩٠﴾
কিন্তু যারা একবার ঈমান আনার পর কুফরীর (পথ) অবলম্বন করেছে, অতপর তারা এই বেঈমানী (কার্যকলাপ) দিন দিন বাড়াতেই থেকেছে, (আল্লাহর দরবারে) তাদের তাওবা কখনো কবুল হবে না, কারণ এ ধরনের লোকেরাই হচ্ছে পথভ্রষ্ট। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯১﴿
﴾ ৩:৯১ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا وَلَوِ افْتَدَى بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ ﴿٩١﴾
(এটা সুনিশ্চিত, ) যারা আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করেছে এবং কুফরী অবস্থায়ই তাদের মৃত্যু হয়েছে, তারা যদি নিজেদের (আল্লাহর আযাব থেকে) বাঁচানোর জন্যে এক পৃথিবীপSর্ণ স্বর্ণও মুক্তিপণ হিসেবে খরচ করে, তবু তাদের কারো কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না; বস্তুত এরাই হচ্ছে সে সব (হতভাগ্য) ব্যক্তি যাদের জন্যে রয়েছে মর্মন্তুদ আযাব, আর সেদিন তাদের কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯২﴿
﴾ ৩:৯২ ﴿
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ ﴿٩٢﴾
তোমরা কখনো (যথার্থ) নেকী অর্জন করতে পারবে না, যতোক্ষণ না তোমরা তোমাদের ভালোবাসার জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করবে; (মূলত) তোমরা যা কিছুই ব্যয় করো, আল্লাহ তা’আলা তা জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯৩﴿
﴾ ৩:৯৩ ﴿
كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلًّا لِبَنِي إِسْرَائِيلَ إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَى نَفْسِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ تُنَزَّلَ التَّوْرَاةُ قُلْ فَأْتُوا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٩٣﴾
(আজ তোমাদের জন্যে যে) সব খাবার (হালাল করা হয়েছে তা এক সময়) বনী ইসরাঈলদের জন্যেও হালাল ছিলো, (অবশ্য) এমন (দু’একটা) জিনিস বাদে, যা তাওরাত নাযিল হওয়ার আগেই ইসরাঈল তার নিজের উপর হারাম করে রেখেছিলো; তুমি বলো (সন্দেহ থাকলে যাও) , তোমরা গিয়ে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পড়ে শোনাও, যদি (তোমরা তোমাদের দাবীর ব্যাপারে) সত্যবাদী হও! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯৪﴿
﴾ ৩:৯৪ ﴿
فَمَنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٩٤﴾
যারা এরপরও আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, নিসন্দেহে তারা (বড়ো) যালেম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯৫﴿
﴾ ৩:৯৫ ﴿
قُلْ صَدَقَ اللَّهُ فَاتَّبِعُوا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿٩٥﴾
তুমি বলো, আল্লাহ তা’আলা সত্য কথা বলেছেন, অতএব তোমরা সবাই নিষ্ঠার সাথে ইবরাহীমের মতাদর্শ অনুসরণ করো, আর ইবরাহীম কখনো (আল্লাহর সাথে) মুশরিকদের (দলে) শামিল ছিলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯৬﴿
﴾ ৩:৯৬ ﴿
إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ ﴿٩٦﴾
নিশ্চয়ই গোটা মানব জাতির জন্যে সর্বপ্রথম যে ঘরটি বানিয়ে রাখা হয়েছিলো তা ছিলো বাক্কায় (তথা মক্কা নগরীতে, ) এ ঘরকে কল্যাণ মঙ্গলময় এবং (মানবকুলের) দিশারীটি বানানো হয়েছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯৭﴿
﴾ ৩:৯৭ ﴿
فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ ﴿٩٧﴾
এখানে রয়েছে (আল্লাহ তা’আলার) সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, (আরো) রয়েছে (ইবাদাতের জন্যে) ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থান (এই ঘরের বিশেষ মর্যাদা হচ্ছে) , যে এখানে প্রবেশ করবে সে (দুনিয়া আখেরাত উভয় স্থানেই) নিরাপদ (হয়ে যাবে; দ্বিতীয় মর্যাদা হচ্ছে) মানব জাতির উপর আল্লাহর জন্যে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তিরই এ ঘর পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ থাকবে, সে যেন এই ঘরের হজ্জ আদায় করে, আর যদি কেউ (এ বিধান) অস্বীকার করে (তার জেনে রাখা উচিত) , আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টিকুলের মোটেই মুখাপেক্ষী নন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯৮﴿
﴾ ৩:৯৮ ﴿
قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ شَهِيدٌ عَلَى مَا تَعْمَلُونَ ﴿٩٨﴾
(হে নবী!) তুমি বলো, হে আহলে কিতাবরা, তোমরা কেন (জেনে বুঝে) আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করো, অথচ তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা’আলাই তার উপর সাক্ষী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:৯৯﴿
﴾ ৩:৯৯ ﴿
قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ تَبْغُونَهَا عِوَجًا وَأَنْتُمْ شُهَدَاءُ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٩٩﴾
তুমি (আরো) বলো, হে আহলে কিতাবরা, যারা ঈমান এনেছে তোমরা কেন তাদের আল্লাহর পথ থেকে ফেরাতে চেষ্টা করছো (এভাবেই) তোমরা (আল্লাহর) পথকে বাঁকা করতে চাও, অথচ (এই লোকদের সত্যপন্থী হবার ব্যাপারে) তোমরাই তো সাক্ষী; আল্লাহ তা’আলা তোমাদের এই সব (বিদ্রোহমলক) আচরণ সম্পর্কে মোটেই উদাসীন নন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০০﴿
﴾ ৩:১০০ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا فَرِيقًا مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ يَرُدُّوكُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ ﴿١٠٠﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো (আগে) যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তোমরা যদি তাদের কোনো একটি দলের কথা মেনে চলো, তাহলে (মনে রেখো) , এরা ঈমান আনার পরও (ধীরে ধীরে) তোমাদের কাফের বানিয়ে দেবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০১﴿
﴾ ৩:১০১ ﴿
وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنْتُمْ تُتْلَى عَلَيْكُمْ آيَاتُ اللَّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُ وَمَنْ يَعْتَصِمْ بِاللَّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿١٠١﴾
আর তোমরা কিভাবে কুফরী করবে, যখন তোমাদের সামনে (বার বার) আল্লাহর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হচ্ছে, তাছাড়া (এ আয়াতের বাহক স্বয়ং) আল্লাহর রসূল যখন তোমাদের মাঝেই মজুদ রয়েছে, যে ব্যক্তিই আল্লাহ (ও তাঁর বিধান) -কে শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে, সে অবশ্যই সোজা পথে পরিচালিত হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০২﴿
﴾ ৩:১০২ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ﴿١٠٢﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহকে ভয় করো, ঠিক যতোটুকু ভয় তাঁকে করা উচিত, (আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ) আত্মসমর্পণকারী না হয়ে তোমরা কখনো মৃত্যু বরণ করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০৩﴿
﴾ ৩:১০৩ ﴿
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٠٣﴾
তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না, তোমরা তোমাদের উপর আল্লাহর (সেই) নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের দুশমন ছিলে, অতপর আল্লাহ তা’আলা (তাঁর দ্বীনের বন্ধন দিয়ে) তোমাদের একের জন্যে অপরের মনে ভালোবাসার সঞ্চার করে দিলেন, অতপর (যুগ যুগান্তরের শত্রুতা ভুলে) তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে একে অপরের ভাই’ হয়ে গেলে, অথচ তোমরা ছিলে (হানাহানির) অগ্নিকুন্ডের প্রান্তসীমায়, অতপর সেখান থেকে আল্লাহ তা’আলা (তাঁর রহমত দিয়ে) তোমাদের উদ্ধার করলেন; আল্লাহ তা’আলা এভাবেই তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদের কাছে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন, যাতে করে তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পেতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০৪﴿
﴾ ৩:১০৪ ﴿
وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿١٠٤﴾
তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা (মানুষদের কল্যাণের দিকে ডাকবে, সত্য ও) ন্যায়ের আদেশ দেবে, আর (অসত্য ও) অন্যায় কাজ থেকে (তাদের) বিরত রাখবে; (সত্যিকার অর্থে) এরাই হচ্ছে সাফল্যমন্ডিত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০৫﴿
﴾ ৩:১০৫ ﴿
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١٠٥﴾
তোমরা (কখনো) তাদের মতো হয়ে যেয়ো না, যাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং (নিজেদের মধ্যে) নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে; এরাই হচ্ছে সে সব মানুষ যাদের জন্যে কঠোর শাস্তি রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০৬﴿
﴾ ৩:১০৬ ﴿
يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ فَأَمَّا الَّذِينَ اسْوَدَّتْ وُجُوهُهُمْ أَكَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ ﴿١٠٦﴾
সে (কেয়ামতের) দিন (নিজেদের নেক আমল দেখে) কিছু সংখ্যক চেহারা শুভ্র সমুজ্জ্বল হয়ে যাবে, (আবার) কিছু সংখ্যক মানুষের চেহারা (ব্যর্থতার নথিপত্র দেখার পর) কালো (ও বিশ্রী) হয়ে পড়বে, (হাঁ) যাদের মুখ (সেদিন) কালো হয়ে যাবে (জাহান্নামের প্রহরীরা তাদের জিজ্ঞেস করবে) , ঈমানের (নেয়ামত পাওয়ার) পরও কি তোমরা কুফরীর পথ অবলম্বন করেছিলে? অতপর তোমরা নিজেদের কুফরীর প্রতিফল (হিসেবে) এ আযাব উপভোগ করতে থাকো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০৭﴿
﴾ ৩:১০৭ ﴿
وَأَمَّا الَّذِينَ ابْيَضَّتْ وُجُوهُهُمْ فَفِي رَحْمَةِ اللَّهِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿١٠٧﴾
আর যাদের চেহারা আলোকোজ্জ্বল হবে, তারা (সেদিন) আল্লাহ তা’আলার (অফুরন্ত) দয়ার আশ্রয়ে থাকবে, তারা সেখানে থাকবে চিরদিন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০৮﴿
﴾ ৩:১০৮ ﴿
تِلْكَ آيَاتُ اللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ وَمَا اللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًا لِلْعَالَمِينَ ﴿١٠٨﴾
এর সব কিছুই হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শন, যথাযথভাবে আমি সেগুলো তোমাকে পড়ে শোনাচ্ছি; কেননা আল্লাহ তা’আলা (তাঁর আয়াতসমূহ গোপন রেখে এবং পরে সে জন্যে শাস্তির বিধান করে) সৃষ্টিকুলের উপর কোনো যুলুম করতে চান না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১০৯﴿
﴾ ৩:১০৯ ﴿
وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ ﴿١٠٩﴾
(মূলত) আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর জন্যে; সব কিছুকে একদিন আল্লাহর দিকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১০﴿
﴾ ৩:১১০ ﴿
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ ﴿١١٠﴾
তোমরাই (হচ্ছো দুনিয়ার) সর্বোত্তম জাতি, সমগ্র মানব জাতির (কল্যাণের) জন্যেই তোমাদের বের করে আনা হয়েছে, (তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে) তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে, আর তোমরা নিজেরাও আল্লাহর উপর (পুরোপুরি) ঈমান আনবে, আহলে কিতাবরা যদি (সত্যি সত্যিই) ঈমান আনতো তাহলে এটা তাদের জন্যে কতোই না ভালো হতো; তাদের মধ্যে কিছু কিছু ঈমানদার ব্যক্তিও রয়েছে, তবে তাদের অধিকাংশই হচ্ছে সত্যত্যাগী লোক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১১﴿
﴾ ৩:১১১ ﴿
لَنْ يَضُرُّوكُمْ إِلَّا أَذًى وَإِنْ يُقَاتِلُوكُمْ يُوَلُّوكُمُ الْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنْصَرُونَ ﴿١١١﴾
সামান্য কিছু দুঃখ কষ্ট দেয়া ছাড়া তারা তোমাদের কখনো কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, তারা যদি কোনো সময় তোমাদের সাথে সম্মুখসমরে লিপ্ত হয়, তাহলে তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, অতপর তাদের কোনো রকম সাহায্য করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১২﴿
﴾ ৩:১১২ ﴿
ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوا إِلَّا بِحَبْلٍ مِنَ اللَّهِ وَحَبْلٍ مِنَ النَّاسِ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الْمَسْكَنَةُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ ﴿١١٢﴾
যেখানেই এদের পাওয়া যাবে সেখানেই এদের অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে রাখা হবে, তবে আল্লাহ তা’আলার নিজের প্রতিশ্রুতি ও মানুষের প্রতিশ্রুতি (-র মাধ্যমে কিছুটা নিরাপত্তা পাওয়া গেলে সেটা) ভিন্ন, এরা (আল্লাহর ক্রোধ ও) গযবের পাত্র হয়েছে, এদের উপর দারিদ্র ও লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এর কারণ ছিলো, এরা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর বিধানকে অস্বীকার করেছে, (আল্লাহর) নবীদের এরা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে; (মূলত) এ হচ্ছে তাদের বিদ্রোহ ও সীমালংঘনের ফল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১৩﴿
﴾ ৩:১১৩ ﴿
لَيْسُوا سَوَاءً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ ﴿١١٣﴾
তারা (আহলে কিতাব) আবার সবাই এক রকম নয়, তাদের মধ্যে এমন কিছু লোকও আছে; যারা (সত্য ও ন্যায়ের উপর অবিচল হয়ে) দাঁড়িয়ে আছে, যারা সারা রাত আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং নামায পড়ে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১৪﴿
﴾ ৩:১১৪ ﴿
يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَأُولَئِكَ مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿١١٤﴾
তারা আল্লাহ তা’আলা ও শেষ বিচার দিনের উপর ঈমান রাখে এবং (মানুষদের) তারা ন্যায় কাজের আদেশ দেয় ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, সৎকাজে এরা প্রতিযোগিতা করে, এ (ধরনের) মানুষরাই হচ্ছে (মূলত) নেক লোকদের অন্তর্ভুক্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১৫﴿
﴾ ৩:১১৫ ﴿
وَمَا يَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ يُكْفَرُوهُ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ ﴿١١٥﴾
তারা যা কিছু ভালো কাজ করবে (প্রতিদান দেয়ার সময়) তা কখনো অস্বীকার করা হবে না; (কারণ) আল্লাহ তা’আলা পরহেযগার লোকদের ভালো করেই জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১৬﴿
﴾ ৩:১১৬ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَنْ تُغْنِيَ عَنْهُمْ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿١١٦﴾
(একথা) সুনিশ্চিত, যারা আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করে, তাদের ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি আল্লাহ তা’আলার মোকাবেলায় তাদের কোনোই উপকারে আসবে না; বরং তারা হবে (নিশ্চিত) জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে অনন্তকাল তারা পড়ে থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১৭﴿
﴾ ৩:১১৭ ﴿
مَثَلُ مَا يُنْفِقُونَ فِي هَذِهِ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَثَلِ رِيحٍ فِيهَا صِرٌّ أَصَابَتْ حَرْثَ قَوْمٍ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ فَأَهْلَكَتْهُ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَكِنْ أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿١١٧﴾
এ (ধরনের) লোকেরা এ দুনিয়ার জীবনে যা খরচ করে, তার উদাহরণ হচ্ছে, যারা নিজেদের উপর অবিচার করেছে সেই দলের শস্যক্ষেত্রের উপর দিয়ে প্রবাহমান হীমশীতল (তীব্র) বাতাসের মতো, যা (তাদের শস্যক্ষেত) বরবাদ করে দিয়ে গেলো; (মূলত) আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর কোনোই অবিচার করেননি; বরং (কুফরীর পন্থা অবলম্বন করে) এরা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১৮﴿
﴾ ৩:১১৮ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِنْ دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالًا وَدُّوا مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ ﴿١١٨﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা কখনো নিজেদের (দলভুক্ত) লোকজন ছাড়া অন্য কাউকে নিজেদের (অন্তরংগ) বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, কেননা এরা তোমাদের অনিষ্ট সাধনের কোনো পথই অনুসরণ করতে দ্বিধা করবে না, তারা তো তোমাদের ক্ষতি (ও ধ্বংস) -ই কামনা করে, তাদের (জঘন্য) প্রতিহিংসা ও (বিদ্বেষ) তাদের মুখ থেকেই (এখন) প্রকাশ পেতে শুরু করেছে, অবশ্য তাদের অন্তরে লুকানো হিংসা (ও বিদ্বেষ) বাইরের অবস্থার চাইতেও মারাÍক, আমি সব ধরনের নিদর্শনই তোমাদের সামনে খোলাখুলি বলে দিচ্ছি, তোমাদের যদি সত্যিই জ্ঞানবুদ্ধি থাকে (তাহলে তোমরা এ সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১১৯﴿
﴾ ৩:১১৯ ﴿
هَا أَنْتُمْ أُولَاءِ تُحِبُّونَهُمْ وَلَا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِالْكِتَابِ كُلِّهِ وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ قُلْ مُوتُوا بِغَيْظِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿١١٩﴾
এরা হচ্ছে সেসব মানুষ, যাদের তোমরা ভালোবাসো; কিন্তু তারা তোমাদের (মোটেই) ভালোবাসে না, তোমরা তো (তোমাদের আগে আমার নাযিল করা) সব কয়টি কিতাবের উপরও ঈমান আনো (আর তারা তো তোমাদের কিতাবকে বিশ্বাসই করে না) , এ (মুনাফিক) লোকগুলো যখন তোমাদের সাথে সাক্ষাত করে তখন বলে, হ্যাঁ, আমরা (তোমাদের কিতাবকে) মানি, আবার যখন এরা একান্তে (নিজেদের লোকদের কাছে) চলে যায়, তখন নিজেদের ক্রোধের বশবর্তী হয়ে এরা তোমাদের (সাফল্যের) উপর (নিজেদের) আংগুল কামড়াতে শুরু করে; তুমি (তাদের) বলো, যাও, নিজেদের ক্রোধের (আগুনে) নিজেরাই (পুড়ে) মরো, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা (এ মুনাফিকদের) মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা যাবতীয় (চক্রান্তমলক) বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২০﴿
﴾ ৩:১২০ ﴿
إِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ ﴿١٢٠﴾
(তাদের অবস্থা হচ্ছে, ) তোমাদের কোনো কল্যাণ হলে (তার কারণে) তাদের খারাপ লাগে, আবার তোমাদের কোনো অকল্যাণ দেখলে তারা আনন্দে ফেটে পড়ে; (এ প্রতিকূল অবস্থায়) যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারো এবং নিজেরা সাবধান হয়ে চলতে পারো, তাহলে তাদের চক্রান্ত (ও ষড়যন্ত্র) তোমাদের কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা তাদের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিবেষ্টন করে আছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২১﴿
﴾ ৩:১২১ ﴿
وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِينَ مَقَاعِدَ لِلْقِتَالِ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿١٢١﴾
(হে নবী, স্মরণ করো, ) যখন তুমি (খুব) ভোরবেলায় তোমার আপনজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মু’মিনদের যুদ্ধের ঘাটিসমহে মোতায়েন করছিলে (তখন তুমি জানতে) , আল্লাহ তা’আলা সব কিছু শোনেন এবং (তাঁর বান্দাদের) তিনি ভালো করেই জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২২﴿
﴾ ৩:১২২ ﴿
إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلَا وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ﴿١٢٢﴾
(বিশেষ করে সেই নাযুক পরিস্থিতিতে) যখন তোমাদের দু’টো দল মনোবল হারিয়ে ফেলার উপক্রম করে ফেলেছিলো, (তখন) আল্লাহ তা’আলাই তাদের উভয় দলের (সেই ভগ্ন মনোবল জোড়া লাগাবার কাজে) অভিভাবক হিসেবে মজুদ ছিলেন, আর আল্লাহর উপর যারা ঈমান আনে তাদের তো (সর্বাবস্থায়) তাঁর উপরই ভরসা করা উচিত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২৩﴿
﴾ ৩:১২৩ ﴿
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿١٢٣﴾
(এই ভরসা করার কারণেই) বদরের (যুদ্ধে) আল্লাহ তা’আলা তোমাদের বিজয় ও সাহায্য দান করেছিলেন, অথচ (তোমরা জানো) তোমরা কতো দুর্বল ছিলে; অতএব আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা (আল্লাহর) কৃতজ্ঞতা আদায় করতে সক্ষমূহবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২৪﴿
﴾ ৩:১২৪ ﴿
إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلَاثَةِ آلَافٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُنْزَلِينَ ﴿١٢٤﴾
(সে মুহূর্তের কথাও স্মরণ করো, ) যখন তুমি মু’মিনদের বলছিলে, (যুদ্ধে বিজয় লাভ করার জন্যে) তোমাদের মালিক যদি আসমান থেকে তিন হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে তোমাদের সাহায্য করেন, তাহলে তোমাদের (বিজয়ের জন্যে তা কি) যথেষ্ট হবে না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২৫﴿
﴾ ৩:১২৫ ﴿
بَلَى إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ هَذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ ﴿١٢٥﴾
অবশ্যই তোমরা যদি ধৈর্য ধারণ করো এবং (শয়তানের চক্রান্ত থেকে) বেঁচে থাকতে পারো, এ অবস্থায় তারা (শত্রুবাহিনী) যদি তোমাদের উপর দ্রুত গতিতে আক্রমণ করে বসে তাহলে তোমাদের মালিক (প্রয়োজনে) পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়েও তোমাদের সাহায্য করবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২৬﴿
﴾ ৩:১২৬ ﴿
وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَى لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُمْ بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ ﴿١٢٦﴾
(আসলে) এ সংখ্যাটা (বলে) আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে একটি সুসংবাদ দিয়েছেন, (নতুবা বিজয়ের জন্যে তো তিনি একাই যথেষ্ট, আল্লাহ তা’আলা চেয়েছেন) যেন এর ফলে তোমাদের মন (কিছুটা) প্রশান্ত (ও আশ্বস্থ) হতে পারে, আর সাহায্য ও বিজয়! তা তো পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকেই আসে, তিনিই সর্বজ্ঞ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২৭﴿
﴾ ৩:১২৭ ﴿
لِيَقْطَعَ طَرَفًا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَوْ يَكْبِتَهُمْ فَيَنْقَلِبُوا خَائِبِينَ ﴿١٢٧﴾
আল্লাহ তা’আলা এর দ্বারা কাফেরদের এক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চান, অথবা তাদের একাংশকে তিনি এর মাধ্যমে লাঞ্ছিত করে দিতে চান, যেন তারা ব্যর্থ হয়ে (যুদ্ধের ময়দান থেকে) ফিরে যায়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২৮﴿
﴾ ৩:১২৮ ﴿
لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ ﴿١٢٨﴾
(হে নবী) , এ ব্যাপারে তোমার কিছুই করার নেই, আল্লাহ তা’আলা চাইলে তাদের উপর দয়াপরবশ হবেন কিংবা তিনি চাইলে তাদের কঠোর শাস্তি দেবেন, কেননা এরা ছিলো (স্পষ্টত) যালেম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১২৯﴿
﴾ ৩:১২৯ ﴿
وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٢٩﴾
আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তার সব হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন; আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩০﴿
﴾ ৩:১৩০ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿١٣٠﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা (ইসলামকে একটি পূর্ণাংগ বিধান হিসেবে) বিশ্বাস করেছো, চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খেয়ো না এবং তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩১﴿
﴾ ৩:১৩১ ﴿
وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ ﴿١٣١﴾
(জাহান্নামের) আগুনকে তোমরা ভয় করো, যা তৈরী করে রাখা হয়েছে তাদের জন্যে যারা (একে) অস্বীকার করেছে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩২﴿
﴾ ৩:১৩২ ﴿
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿١٣٢﴾
তোমরা আল্লাহ তা’আলা ও (তাঁর) রসূলের কথা মেনে চলো, আশা করা যায় তোমাদের উপর দয়া করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩৩﴿
﴾ ৩:১৩৩ ﴿
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ ﴿١٣٣﴾
তোমরা তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়ার কাজে প্রতিযোগিতা করো, আর সেই জান্নাতের জন্যেও (প্রতিযোগিতা করো) যার প্রশস্ত তা আকাশ ও পৃথিবী সমান, আর এই (বিশাল) জান্নাত প্রম্তুত করে রাখা হয়েছে সে সব (ভাগ্যবান) লোকদের জন্যে, যারা আল্লাহকে ভয় করে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩৪﴿
﴾ ৩:১৩৪ ﴿
الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴿١٣٤﴾
সচ্ছল হোক কিংবা অসচ্ছল সর্বাবস্থায় যারা (আল্লাহর পথে) নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, যারা নিজেদের ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষের অপরাধসমূহ যারা ক্ষমা করে দেয়; (আসলে) ভালো মানুষদের আল্লাহ তা’আলা (হামেশাই) ভালোবাসেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩৫﴿
﴾ ৩:১৩৫ ﴿
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿١٣٥﴾
(ভালো মানুষ হচ্ছে তারা, ) যারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে কিংবা (এর দ্বারা) নিজেদের উপর নিজেরা যুলুম করে ফেলে (সাথে সাথেই) তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং গুনাহের জন্যে (আল্লাহর) ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর কে আছে যে তাদের গুনাহ মাফ করে দিতে পারে? (তদুপরি) এরা জেনে বুঝে নিজেদের গুনাহের উপর অটল হয়েও বসে থাকে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩৬﴿
﴾ ৩:১৩৬ ﴿
أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ ﴿١٣٦﴾
এই (সে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত) মানুষগুলো! মালিকের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিদান হবে, আল্লাহ তা’আলা তাদের ক্ষমা করে দেবেন, আর (তাদের) এমন এক জান্নাত (দেবেন) যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে, সেখানে (নেককার) লোকেরা অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে। (সৎ) কর্মশীল ব্যক্তিদের জন্যে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কতো সুন্দর প্রতিদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩৭﴿
﴾ ৩:১৩৭ ﴿
قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ سُنَنٌ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُروا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ ﴿١٣٧﴾
তোমাদের আগেও (বহু জাতির) বহু উদাহরণ (ছিলো যা এখন) অতীত হয়ে গেছে, সুতরাং (এদের পরিণতি দেখার জন্যে) তোমরা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াও এবং দেখো, (আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর বিধান) মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের পরিণতি কি হয়েছিলো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩৮﴿
﴾ ৩:১৩৮ ﴿
هَذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ ﴿١٣٨﴾
(বস্তুত) এটি হচ্ছে মানব জাতির জন্যে একটি (সুস্পষ্ট) ব্যাখ্যা এবং আল্লাহ তা’আলাকে যারা ভয় করে এটি তাদের জন্যে একটি সুস্পষ্ট পথনির্দেশ ও সদুপদেশ (বৈ কিছুই নয়) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৩৯﴿
﴾ ৩:১৩৯ ﴿
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٣٩﴾
তোমরা হতোদ্যমূহয়ো না, চিন্তিতত হয়ো না, তোমরা যদি (সত্যিকার অর্থে) ঈমানদার হও তাহলে তোমরাই বিজয়ী হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪০﴿
﴾ ৩:১৪০ ﴿
إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ ﴿١٤٠﴾
তোমাদের উপর যদি (কোনো সাময়িক) আঘাত আসে (এতে মনোক্ষুণ্য হবার কি আছে) , এ ধরনের আঘাত তো (সে) দলের উপরও এসেছে, আর (এভাবেই) আমি মানুষের মাঝে (তাদের উত্থান পতনের) দিনগুলোকে পালাক্রমে অদল-বদল করাতে থাকি, যাতে করে আল্লাহ তা’আলা (এ কথাটা) জেনে নিতে পারেন যে, কে (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহর উপর ঈমান রাখে এবং (এর মাধ্যমে) তোমাদের মাঝখান থেকে কিছু শহীদ’ও আল্লাহ তা’আলা তুলে নিতে চান, (মূলত) আল্লাহ তা’আলা কখনো যালেমদের পছন্দ করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪১﴿
﴾ ৩:১৪১ ﴿
وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ ﴿١٤١﴾
(এর মাধ্যমে তিনি মূলত) ঈমানদার বান্দাদের পরিশুদ্ধ করে কাফেরদের না¯ানাবুদ করে দিতে চান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪২﴿
﴾ ৩:১৪২ ﴿
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ ﴿١٤٢﴾
তোমরা কি মনে করো তোমরা (এমনি এমনি) বেহেশতে প্রবেশ করে যাবে, অথচ আল্লাহ তা’আলা (পরীক্ষার মাধ্যমে) এ কথা জেনে নেবেন না যে, কে (তাঁর পথে) জেহাদ করতে প্রস্তুত হয়েছে এবং কে (বিপদে) কঠোর ধৈর্য ধারণ করতে পেরেছে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪৩﴿
﴾ ৩:১৪৩ ﴿
وَلَقَدْ كُنْتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَلْقَوْهُ فَقَدْ رَأَيْتُمُوهُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ ﴿١٤٣﴾
তোমরা মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার আগে থেকেই তা কামনা করছিলে, আর (এখন) তো তা দেখতেই পাচ্ছো, দেখতে পাচ্ছো তোমরা নিজেদের (চর্ম) চোখে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪৪﴿
﴾ ৩:১৪৪ ﴿
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ ﴿١٤٤﴾
মোহাম্মদ একজন রসূল ছাড়া (অতিরিক্ত) কিছুই নয়, তার আগেও বহু রসূল গত হয়ে গেছে (এবং তারা সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে) ; তাই সে যদি (আজ) মরে যায় অথবা তাকে যদি কেউ মেরে ফেলে, তাহলে তোমরা কি (তার আনীত হেদায়াত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেবে? আর যে ব্যক্তিই (এ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে কখনো আল্লাহর (দ্বীনের) কোনোরকম ক্ষতি সাধন করতে পারবে না, আল্লাহ তা’আলা অচিরেই কৃতজ্ঞ বান্দাদের প্রতিফল দান করবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪৫﴿
﴾ ৩:১৪৫ ﴿
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَابًا مُؤَجَّلًا وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الْآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِينَ ﴿١٤٥﴾
কোনো প্রাণীই আল্লাহর (সিদ্ধান্ত ও) অনুমতি ছাড়া মরবে না, (আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রত্যেকটি প্রাণীরই মৃত্যুর) দিনক্ষণ সুনির্দিষ্ট (হয়ে আছে, ) যে ব্যক্তি পার্থিব পুরস্কারের প্রত্যাশা করে আমি তাকে (এ দুনিয়াতেই) তার কিছু অংশ দান করবো, আর যে ব্যক্তি আখেরাতের পুরস্কারের ইচ্ছা পোষণ করবে আমি তাকে সে (চিরন্তন পাওনা) থেকেই এর প্রতিফল দান করবো এবং অচিরেই আমি (আমার প্রতি) কৃতজ্ঞদের (যথার্থ) প্রতিফল দান করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪৬﴿
﴾ ৩:১৪৬ ﴿
وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ ﴿١٤٦﴾
(আল্লাহর) আরো অনেক নবীই (এখানে এসে) ছিলো, সে নবী (আল্লাহর পথে) যুদ্ধ করেছে, তার সাথে (আরো যুদ্ধ করেছে) অনেক সাধক (ও জ্ঞানবান) ব্যক্তি, আল্লাহর পথে তাদের উপর যতো বিপদ-মসিবতই এসেছে তাতে (কোনোদিনই) তারা হতাশ হয়ে পড়েনি, তারা দুর্বলও হয়নি, (বাতিলের সামনে তারা) মাথাও নত করেনি, (এ ধরনের) ধৈর্যশীল ব্যক্তিদেরই আল্লাহ তা’আলা ভালোবাসেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪৭﴿
﴾ ৩:১৪৭ ﴿
وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّا أَنْ قَالُوا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿١٤٧﴾
তাদের (মুখে) এছাড়া অন্য কথা ছিলো না যে, তারা বলছিলো, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের যাবতীয় গুনাহখাতা মাফ করে দাও, আমাদের কাজকর্মের সব বাড়াবাড়ি তুমি ক্ষমা করে দাও এবং (বাতিলের মোকাবেলায়) তুমি আমাদের কদমগুলোকে মযবুত রাখো, হক ও বাতিলের (সম্মুখসমরে) কাফেরদের উপর তুমি আমাদের বিজয় দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪৮﴿
﴾ ৩:১৪৮ ﴿
فَآتَاهُمُ اللَّهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴿١٤٨﴾
অতপর আল্লাহ তা’আলা এই (নেক) বান্দাদের দুনিয়ার জীবনেও (ভালো) প্রতিফল দিয়েছেন এবং পরকালীন জীবনেও তিনি তাদের উত্তম পুরস্কার দিয়েছেন; আল্লাহ তা’আলা নেককার বান্দাদের ভালোবাসেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৪৯﴿
﴾ ৩:১৪৯ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ ﴿١٤٩﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা (আল্লাহর উপর) ঈমান এনেছো, তোমরা যদি (কথায় কথায়) এ কাফেরদের অনুসরণ করতে শুরু করো, তাহলে এরা তোমাদের (ঈমান) পূর্ববর্তী (জাহেলিয়াতের) অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, ফলে তোমরা নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্র¯ হয়ে পড়বে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫০﴿
﴾ ৩:১৫০ ﴿
بَلِ اللَّهُ مَوْلَاكُمْ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِينَ ﴿١٥٠﴾
আল্লাহ তা’আলাই হচ্ছেন তোমাদের একমাত্র (রক্ষক ও) অভিভাবক এবং তিনিই হচ্ছেন তোমাদের উত্তম সাহায্যকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫১﴿
﴾ ৩:১৫১ ﴿
سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَمَأْوَاهُمُ النَّارُ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّالِمِينَ ﴿١٥١﴾
অচিরেই আমি এ কাফেরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে দেবো, কারণ তারা আল্লাহর সাথে অন্যদের শরীক (বানিয়ে তাদের অনুসরণ) করেছে, অথচ তাদের এ কাজের সপক্ষে আল্লাহ তা’আলা কোনো দলীল-প্রমাণ (তাদের কাছে) পাঠাননি, এদের শেষ গন্তব্যস্থল হচ্ছে (জাহান্নামের) আগুন; যালেমদের বাসস্থান (এই) জাহান্নাম কতো নিকৃষ্ট! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫২﴿
﴾ ৩:১৫২ ﴿
وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللَّهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُمْ بِإِذْنِهِ حَتَّى إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُمْ مِنْ بَعْدِ مَا أَرَاكُمْ مَا تُحِبُّونَ مِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ وَلَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٥٢﴾
(ওহুদের ময়দানে) আল্লাহ তা’আলা তোমাদের যে (সাহায্য দেয়ার) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি পালন করেছেন, (যুদ্ধের প্রথম দিকে) তোমরা আল্লাহর অনুমতি (ও সাহায্য) নিয়ে তাদের নিমর্ল করে যাচ্ছিলে! পরে যখন তোমরা সাহস (ও মনোবল) হারিয়ে ফেললে এবং (আল্লাহর রসূলের বিশেষ একটি) আদেশ পালনের ব্যাপারে মতপার্থক্য শুরু করে দিলে, এমনকি আল্লাহর রসূল যখন তোমাদের ভালোবাসার সেই জিনিস (তথা আসন্ন বিজয়) দেখিয়ে দিলেন, তারপরও তোমরা তার কথা অমান্য করে (তার বলে দেয়া স্থান ছেড়ে) চলে গেলে, তোমাদের কিছু লোক (ঠিক তখন) বৈষয়িক ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত হয়ে পড়লো, (অপর দিকে) তখনও তোমাদের কিছু লোক পরকালের কল্যাণই চাইতে থাকলো, অতপর আল্লাহ তা’আলা (এর দ্বারা তোমাদের ঈমানের) পরীক্ষা নিতে চাইলেন এবং তা থেকে তোমাদের অন্য দিকে ফিরিয়ে দিলেন, অতপর আল্লাহ তা’আলা তোমাদের মাফ করে দিলেন, আল্লাহ তা’আলা (হামেশাই) ঈমানদারদের উপর দয়াবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫৩﴿
﴾ ৩:১৫৩ ﴿
إِذْ تُصْعِدُونَ وَلَا تَلْوُونَ عَلَى أَحَدٍ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ فِي أُخْرَاكُمْ فَأَثَابَكُمْ غَمًّا بِغَمٍّ لِكَيْلَا تَحْزَنُوا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا مَا أَصَابَكُمْ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿١٥٣﴾
(ওহুদের সম্মুখসমরে বিপর্যয় দেখে) তোমরা যখন (ময়দান ছেড়ে পাহাড়ের) উপরের দিকে ওঠে যাচ্ছিলে এবং তোমরা তোমাদের কোনো লোকের প্রতি লক্ষ্য রাখছিলে না, অথচ আল্লাহর রসূল তোমাদের (তখনও) পেছন থেকে ডাকছিলো (কিন্তু তোমরা শুনলে না) , তাই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের দুঃখের পর দুঃখ দিলেন, যেন তোমাদের কাছ থেকে যা হারিয়ে গেছে এবং যা কিছু বিপদ তোমাদের উপর পতিত হয়েছে এর (কোনোটার) ব্যাপারে তোমরা উদ্বিগ্ন (ও মর্মাহত) না হও, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সব ধরনের কর্মকান্ড সম্পর্কেই ওয়াকেফহাল রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫৪﴿
﴾ ৩:১৫৪ ﴿
ثُمَّ أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِ الْغَمِّ أَمَنَةً نُعَاسًا يَغْشَى طَائِفَةً مِنْكُمْ وَطَائِفَةٌ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنْفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ يُخْفُونَ فِي أَنْفُسِهِمْ مَا لَا يُبْدُونَ لَكَ يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هَاهُنَا قُلْ لَوْ كُنْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ إِلَى مَضَاجِعِهِمْ وَلِيَبْتَلِيَ اللَّهُ مَا فِي صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِي قُلُوبِكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿١٥٤﴾
এর পর আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর এমন সন্তোষ (-জনক পরিস্থিতি) নাযিল করে দিলেন যে, তা তোমাদের একদল লোককে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে দেয়, আর আরেক দল, যারা নিজেরাই নিজেদের উদ্বিগ্ন করে রেখেছিলো, তারা তাদের জাহেলী (যুগের) ধারণা অনুযায়ী আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে অন্যায় ধারণা করতে থাকে, (এক পর্যায়ে) তারা এও বলতে শুরু করে, (যুদ্ধ পরিচালনার) এ কাজে কি আমাদের কোনো ভূমিকা আছে? (হে নবী, ) তুমি (তাদের) বলো, (এ ব্যাপারে আমারও কোনো ভূমিকা নেই, ক্ষমতা ও) কর্তৃত্বের সবটুকুই আল্লাহর হাতে, (এই দলের) লোকেরা তাদের মনের ভেতর যেসব কথাবার্তা গোপন করে রেখেছে তা তোমার সামনে (খোলাখুলি) প্রকশ করে না; তারা বলে, এ (যুদ্ধ পরিচালনার) কাজে যদি আমাদের কোনো ভূমিকা থাকতো, তাহলে আজ আমরা এখানে নিহত হতাম না; তুমি তাদের বলে দাও, যদি আজ তোমরা সবাই ঘরের ভেতরেও থাকতে তবুও নিহত হওয়া যাদের অবধারিত ছিলো তারা (তাদের মরণের) বিছানার দিকে বের হয়ে আসতো, আর এভাবেই তোমাদের মনের (ভেতর লুকিয়ে রাখা) বিষয়সমূহের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পরীক্ষা করেন এবং এ (ঘটনার মাঝ) দিয়ে তিনি তোমাদের অন্তরে যা কিছু আছে তাও পরিশুদ্ধ করে দেন, তোমাদের মনের কথা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা সম্যক ওয়াকেফহাল রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫৫﴿
﴾ ৩:১৫৫ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا وَلَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ ﴿١٥٥﴾
দু’টি বাহিনী যেদিন (সম্মুখসমরে) একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলো, সেদিন যারা (ময়দান থেকে) পালিয়ে গিয়েছিলো তাদের একাংশের অর্জিত কাজের জন্যে শয়তানই তাদের পদস্খলন ঘটিয়ে দিয়েছিলো, অতপর (তারা অনুতপ্ত হলে) আল্লাহ তা’আলা তাদের ক্ষমা করে দিলেন; আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম ধৈর্যশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫৬﴿
﴾ ৩:১৫৬ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ كَفَرُوا وَقَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ إِذَا ضَرَبُوا فِي الْأَرْضِ أَوْ كَانُوا غُزًّى لَوْ كَانُوا عِنْدَنَا مَا مَاتُوا وَمَا قُتِلُوا لِيَجْعَلَ اللَّهُ ذَلِكَ حَسْرَةً فِي قُلُوبِهِمْ وَاللَّهُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿١٥٦﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা কাফেরদের মতো হয়ো না (তাদের অবস্থা ছিলো এমন) , এ কাফেরদের কোনো ভাই (বন্ধু) যখন বিদেশ (বিভূঁইয়ে) মারা যেতো, কিংবা কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হতো, তখন এরা (তাদের সম্পর্কে) বলতো, এরা যদি (বাইরে না গিয়ে) আমাদের কাছে থাকতো, তাহলে এরা কিছুতেই মরতো না এবং এরা নিহতও হতো না, এভাবেই এ (মানসিকতা) -কে আল্লাহ তা’আলা তাদের মনের আক্ষেপে পরিণত করে দেন, (আসলে) আল্লাহই মানুষের জীবন দেন, আল্লাহই মানুষের মৃত্যু ঘটান এবং তোমরা (এই দুনিয়ায়) যা করে যাচ্ছো আল্লাহ তা’আলা তার সব কিছুই দেখেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫৭﴿
﴾ ৩:১৫৭ ﴿
وَلَئِنْ قُتِلْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ مُتُّمْ لَمَغْفِرَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرَحْمَةٌ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ ﴿١٥٧﴾
তোমরা যদি আল্লাহর পথে নিহত হও অথবা (সে পথে থেকেই) তোমরা মৃত্যুবরণ করো, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে (যে) রহমত ও ক্ষমা (লাভ করবে) , তা হবে (কাফেরদের) সঞ্চিত অর্থ সামগ্রীর চাইতে অনেক বেশী উত্তম! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫৮﴿
﴾ ৩:১৫৮ ﴿
وَلَئِنْ مُتُّمْ أَوْ قُتِلْتُمْ لَإِلَى اللَّهِ تُحْشَرُونَ ﴿١٥٨﴾
(আল্লাহর পথে) যদি তোমরা জীবন বিলিয়ে দাও, অথবা (তাঁরই পথে) তোমাদের মৃত্যু হয়, (তাহলেই তোমাদের কি করার থাকবে? কারণ, ) তোমাদের তো একদিন আল্লাহ তা’আলার সমীপে (এমনিই) একত্রিত করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৫৯﴿
﴾ ৩:১৫৯ ﴿
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ ﴿١٥٩﴾
এটা আল্লাহর এক (অসীম) দয়া যে, তুমি এদের সাথে ছিলে কোমল প্রকৃতির (মানুষ, এর বিপরীতে) যদি তুমি নিষ্ঠুর ও পাষাণ হৃদয়ের (মানুষ) হতে, তাহলে এসব লোক তোমার আশপাশ থেকে সরে যেতো, অতএব তুমি এদের (অপরাধসমূহ) মাফ করে দাও, এদের জন্যে (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং কাজকর্মের ব্যাপারে এদের সাথে পরামর্শ করো, অতপর (সে পরামর্শের ভিত্তিতে) সংকল্প একবার যখন তুমি করে নেবে তখন (তার সফলতার জন্যে) আল্লাহর উপর ভরসা করো; অবশ্যই আল-াহ তা’আলা (তাঁর উপর) নির্ভরশীল মানুষদের ভালোবাসেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬০﴿
﴾ ৩:১৬০ ﴿
إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِنْ يَخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنْصُرُكُمْ مِنْ بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ﴿١٦٠﴾
যদি আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে কোনো শক্তিই তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না, আর তিনিই যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে (এখানে) এমন কোন শক্তি আছে যে অতপর তোমাদের কোনোরকম সাহায্য করতে পারে! কাজেই আল্লাহর উপর যারা ঈমান আনে তাদের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬১﴿
﴾ ৩:১৬১ ﴿
وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَغُلَّ وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿١٦١﴾
(কোনো) নবীর পক্ষেই (কোনো বস্তুর) খেয়ানত করা সম্ভব নয়; (হাঁ মানুষের মধ্যে) কেউ যদি কিছু খেয়ানত করে তাহলে কেয়ামতের দিন সে ব্যক্তিকে তার (খেয়ানতের) সে বস্তুসহ (আল্লাহর দরবারে) হাযির হতে হবে, অতপর প্রত্যেককেই তার অর্জিত (ভালো মন্দের) পাওনা সঠিকভাবে আদায় করে দেয়া হবে, (সেদিন) তাদের কারো উপর অবিচার করা হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬২﴿
﴾ ৩:১৬২ ﴿
أَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَ اللَّهِ كَمَنْ بَاءَ بِسَخَطٍ مِنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿١٦٢﴾
যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ অনুসরণ করে, তার সাথে কিভাবে সে ব্যক্তির তুলনা করা যায়, যে আল্লাহর বিরোধী পথে চলে শুধু তাঁর ক্রোধই অর্জন করেছে, তার (এমন ব্যক্তির) জন্যে জাহান্নামের আগুন হবে একমাত্র বাসস্থান; আর তা (হবে সত্যিই) একটি নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬৩﴿
﴾ ৩:১৬৩ ﴿
هُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ اللَّهِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ ﴿١٦٣﴾
এরা নিজ নিজ আমল অনুযায়ী আল্লাহর কাছে বিভিন্ন স্তরে (বিভক্ত) হবে, আল্লাহ তা’আলা এদের সব ধরনের কার্যকলাপের উপর সজাগ দৃষ্টি রাখেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬৪﴿
﴾ ৩:১৬৪ ﴿
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿١٦٤﴾
আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তাঁর ঈমানদার বান্দাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মাঝ থেকে একজন ব্যক্তিকে রসূল করে পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ পড়ে শোনায় এবং (সে অনুযায়ী) সে তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করে, (সর্বোপরি) সে (নবী) তাদের আল্লাহর কিতাব ও (তাঁর গ্রন্থলব্ধ) জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়, অথচ এরা সবাই ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬৫﴿
﴾ ৩:১৬৫ ﴿
أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُمْ مِثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّى هَذَا قُلْ هُوَ مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٦٥﴾
যখনি তোমাদের উপর (ওহুদ যুদ্ধের) বিপদ নেমে এলো তখনি তোমরা বলতে শুরু করলে, (পরাজয়ের) এ বিপদ কিভাবে এলো (কার দোষে এলো) ? অথচ (বদরের যুদ্ধে) এর চাইতে দ্বিগুণ (পরাজয়ের) বিপদ তো তোমরাই তাদের ঘটিয়েছিলে; (হে নবী, ) তুমি বলো, এটা এসেছে তোমাদের নিজেদের কারণেই; আল্লাহ তা’আলা সর্ববিষয়ের উপর (অসীম ক্ষমতায়) ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬৬﴿
﴾ ৩:১৬৬ ﴿
وَمَا أَصَابَكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيَعْلَمَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٦٦﴾
(ওহুদের ময়দানে) দু’দলের সম্মুখ লড়াইয়ের দিনে যে (সাময়িক) বিপর্যয় তোমাদের উপর এসেছিলো, তা (এসেছে) আল্লাহর ইচ্ছায়, এ (বিপর্যয়) দিয়ে আল্লাহ তা’আলা (এ কথাটা) জেনে নিতে চান, কারা তাঁর উপর (সঠিক অর্থে) ঈমান এনেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬৭﴿
﴾ ৩:১৬৭ ﴿
وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ نَافَقُوا وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِ ادْفَعُوا قَالُوا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالًا لَاتَّبَعْنَاكُمْ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْإِيمَانِ يَقُولُونَ بِأَفْوَاهِهِمْ مَا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُونَ ﴿١٦٧﴾
(এর মাধ্যমে) তাদের (পরিচয়ও) তিনি জেনে নেবেন, যারা (এই চরম মুহূর্তে) মুনাফিকী) করেছে, এ মুনাফিকদের যখন বলা হয়েছিলো যে, (সবাই এক সাথে) আল্লাহর পথে লড়াই করো, অথবা (কমপক্ষে নিজেদের শহরের) প্রতিরক্ষাটুকু তোমরা করো, তখন তারা বললো, যদি আমরা জানতাম আজ (সত্যি সত্যিই) যুদ্ধ হবে, তাহলে অবশ্যই আমরা তোমাদের অনুসরণ করতাম, (এ সময়) তারা ঈমানের চাইতে কুফরীরই বেশী কাছাকাছি অবস্থান করছিলো, এরা মুখে এমন সব কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই; আর এরা যা কিছু গোপন করে আল্লাহ তা’আলা তা সম্যক অবগত আছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬৮﴿
﴾ ৩:১৬৮ ﴿
الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا قُلْ فَادْرَءُوا عَنْ أَنْفُسِكُمُ الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿١٦٨﴾
(এরা হচ্ছে সেসব মুনাফিক) , যারা (যুদ্ধে শরীক না হয়ে ঘরে) বসে থাকলো (এবং) ভাইদের সম্পর্কে বললো, তারা যদি (তাদের মতো ঘরে বসে থাকতো এবং) তাদের কথা শুনতো, তাহলে তারা (আজ এভাবে) মারা পড়তো না; (হে নবী, ) তুমি (এ মুনাফিকদের) বলো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে তোমাদের থেকে মৃত্যু সরিয়ে দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৬৯﴿
﴾ ৩:১৬৯ ﴿
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ ﴿١٦٩﴾
যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের তোমরা কোনো অবস্থাতেই ‘মৃত’ বলো না, তারা তো জীবিত, তাদের মালিকের পক্ষ থেকে (জীবিত লোকদের মতোই) তাদের রিযিক দেয়া হচ্ছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭০﴿
﴾ ৩:১৭০ ﴿
فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿١٧٠﴾
আল্লাহ তা’আলা নিজ অনুগ্রহ দিয়ে তাদের যা কিছু দান করেছেন তাতেই তারা পরিতৃপ্ত এবং যারা এখনো তাদের পেছনে রয়ে গেছে, যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হতে পারেনি, তাদের ব্যাপারেও এরা খুশী, কেননা এমন ধরনের লোকদের জন্যে (এখানে) কোনো ভয় নেই এবং তারা (সে দিন কোনোরকম) চিন্তাও করবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭১﴿
﴾ ৩:১৭১ ﴿
يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٧١﴾
এ (ভাগ্যবান) মানুষরা আল্লাহর পক্ষ থেকে অফুরন্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহে উৎফুল¬ আনন্দিত হয়, (কারণ) আল্লাহ তা’আলা ঈমানদার বান্দাদের পাওনা কখনো বিনষ্ট করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭২﴿
﴾ ৩:১৭২ ﴿
الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا مِنْهُمْ وَاتَّقَوْا أَجْرٌ عَظِيمٌ ﴿١٧٢﴾
(ওহুদের এতো বড়ো) আঘাত আসার পরও যারা (আবার) আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে আরো যারা নেক কাজ করেছে, (সর্বোপরি) সর্বদা যারা আল্লাহকে ভয় করে চলেছে, এদের সবার জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭৩﴿
﴾ ৩:১৭৩ ﴿
الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ﴿١٧٣﴾
যাদের মানুষরা যখন বললো, তোমাদের বিরুদ্ধে (কাফেরদের) এক বিশাল বাহিনী জমায়েত হয়েছে, অতএব তোমরা তাদের ভয় করো, (এ বিষয়টাই যারা যথার্থ ঈমানদার) তাদের ঈমানকে আরো বাড়িয়ে দিলো, তারা বললো, আল্লাহ তা’আলাই আমাদের জন্যে যথেষ্ট এবং তিনিই হলেন উত্তম কর্মবিধায়ক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭৪﴿
﴾ ৩:১৭৪ ﴿
فَانْقَلَبُوا بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ لَمْ يَمْسَسْهُمْ سُوءٌ وَاتَّبَعُوا رِضْوَانَ اللَّهِ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَظِيمٍ ﴿١٧٤﴾
অতপর আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহ নিয়ে এরা (এমনভাবে) ফিরে এলো যে, কোনো প্রকার অনিষ্টই তাদের স্পর্শ করতে পারলো না, এরা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথই অনুসরণ করলো; (ব¯ুত) আল্লাহ তা’আলা মহা অনুগ্রহশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭৫﴿
﴾ ৩:১৭৫ ﴿
إِنَّمَا ذَلِكُمُ الشَّيْطَانُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَاءَهُ فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٧٥﴾
এই হচ্ছে তোমাদের (প্ররোচনাদানকারী) শয়তান, তারা (শত্রুপক্ষের অতিরঞ্জিত শক্তির কথা বলে) তাদের আপনজনদের ভয় দেখাচ্ছিলো, তোমরা কোনো অবস্থায়ই তাদের (এ হুমকিকে) ভয় করবে না, বরং আমাকেই ভয় করো, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) ঈমানদার হও! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭৬﴿
﴾ ৩:১৭৬ ﴿
وَلَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ إِنَّهُمْ لَنْ يَضُرُّوا اللَّهَ شَيْئًا يُرِيدُ اللَّهُ أَلَّا يَجْعَلَ لَهُمْ حَظًّا فِي الْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١٧٦﴾
(হে নবী, ) যারা দ্রুতগতিতে কুফরীর পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের কর্মকান্ড যেন তোমাকে চিন্তানি¦ত না করে, তারা কখনো আল্লাহর বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না; (মূলত) আল্লাহ তা’আলা এদের জন্যে পরকালে (পুরস্কারের) কোনো অংশই রাখতে চান না, তাদের জন্যে অবশ্যই কঠিন আযাব রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭৭﴿
﴾ ৩:১৭৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الْكُفْرَ بِالْإِيمَانِ لَنْ يَضُرُّوا اللَّهَ شَيْئًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٧٧﴾
যারা ঈমানের বদলে কুফরী খরিদ করে নিয়েছে, তারা আল্লাহর (কোনোই) ক্ষতি করতে পারবে না, এদের জন্যে মর্মান্তিক শাস্তির বিধান রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭৮﴿
﴾ ৩:১৭৮ ﴿
وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ خَيْرٌ لِأَنْفُسِهِمْ إِنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ لِيَزْدَادُوا إِثْمًا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿١٧٨﴾
কাফেররা যেন এটা কখনো মনে না করে, আমি যে তাদের ঢিল দিয়ে রেখেছি এটা তাদের জন্যে কল্যাণকর হবে, (আসলে) আমি তো তাদের অবকাশ দিচ্ছি যেন, তারা তাদের গুনাহ (-এর বোঝা) আরো বাড়িয়ে নিতে পারে, আর (তোমাদের মধ্যে) তাদের জন্যেই (প্রস্তুত) রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৭৯﴿
﴾ ৩:১৭৯ ﴿
مَا كَانَ اللَّهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتَّى يَمِيزَ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى الْغَيْبِ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَجْتَبِي مِنْ رُسُلِهِ مَنْ يَشَاءُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَإِنْ تُؤْمِنُوا وَتَتَّقُوا فَلَكُمْ أَجْرٌ عَظِيمٌ ﴿١٧٩﴾
আল্লাহ তা’আলা কখনো তাঁর ঈমানদার বান্দাদের তোমরা বর্তমানে যে (ভালো মন্দে মিশানো) অবস্থার উপর আছো এর উপর ছেড়ে দিতে চান না, যতোক্ষণ না তিনি সৎলোকদের অসৎ লোকদের থেকে আলাদা করে দেবেন; (একইভাবে) এটা আল্লাহ তা’আলার কাজ নয় যে, তিনি তোমাদের অদৃশ্য জগতের (খোঁজ খবরের উপর) কিছু অবহিত করবেন, তবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলদের মাঝ থেকে যাকে চান তাকে (বিশেষ কোনো কাজের জন্যে) বাছাই করে নেন, অতপর তোমরা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করো, তোমরা যদি আল্লাহর উপর যথাযথভাবে ঈমান আনো এবং নিজেরা সাবধান হয়ে চলতে পারো, তাহলে তোমাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮০﴿
﴾ ৩:১৮০ ﴿
وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿١٨٠﴾
আল্লাহ তা’আলা নিজের অনুগ্রহ দিয়ে তাদের যে প্রাচুর্য দিয়েছেন যারা তা আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কার্পণ্য করে তারা যেন কখনো এটা মনে না করে, এটা তাদের জন্যে কোনো কল্যাণকর কিছু হবে; না, এ কৃপণতা (আসলে) তাদের জন্যে খুবই অকল্যাণকর। কার্পণ্য করে তারা যা জমা করেছে, অচিরেই কেয়ামতের দিন তা দিয়ে তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে, আসমানসমূহ ও যমীনের উত্তরাধিকার তো আল্লাহ তা’আলার জন্যেই, আর তোমাদের প্রতিটি কার্যকলাপ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বিশেষভাবে অবগত রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮১﴿
﴾ ৩:১৮১ ﴿
لَقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا وَقَتْلَهُمُ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَنَقُولُ ذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ ﴿١٨١﴾
আল্লাহ তা’আলা সেই (ইহুদী) লোকদের কথা (ভালো করেই) শুনেছেন, যখন তারা (বিদ্রƒপ করে) বলেছিলো (হ্যাঁ) , আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই গরীব, আর আমরা হচ্ছি ধনী, তারা যা কিছু বলে তা আমি (তাদের হিসেবের খাতায়) লিখে রাখবো, (আমি আরো লিখে রাখবো) অন্যায়ভাবে তাদের নবীদের হত্যা করার বিষয়টিও, (সেদিন) আমি তাদের বলবো, এবার এই জাহান্নামের স্বাদ উপভোগ করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮২﴿
﴾ ৩:১৮২ ﴿
ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ ﴿١٨٢﴾
এ (আযাব) হচ্ছে তোমাদের নিজেদেরই হাতের কামাই, যা তোমরা (আগেই এখানে) পাঠিয়েছো, আল্লাহ তা’আলা কখনো তাঁর নিজ বান্দাদের প্রতি অবিচারক নন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮৩﴿
﴾ ৩:১৮৩ ﴿
الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ عَهِدَ إِلَيْنَا أَلَّا نُؤْمِنَ لِرَسُولٍ حَتَّى يَأْتِيَنَا بِقُرْبَانٍ تَأْكُلُهُ النَّارُ قُلْ قَدْ جَاءَكُمْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِي بِالْبَيِّنَاتِ وَبِالَّذِي قُلْتُمْ فَلِمَ قَتَلْتُمُوهُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿١٨٣﴾
যারা বলে, (স্বয়ং) আল্লাহ তা’আলাই তো আমাদের আদেশ দিয়েছেন যেন আমরা কোনো রসূলের উপর ঈমান না আনি, যতোক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন একটা কোরবানী এনে হাযির করবে, যাকে (গায়ব থেকে এক) আগুন এসে খেয়ে ফেলবে; (হে মোহাম্মদ, ) তুমি (তাদের বলো, হ্যাঁ আমার আগেও তোমাদের কাছে বহু নবী রসূল এসেছে, তারা সবাই উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়েই এসেছিলো, তোমরা (আজ) যে কথা বলছো তা সহই তো তারা এসেছিলো, তা সত্ত্বেও তোমরা তাদের হত্যা করলে কেন? আজ যদি তোমরা এতোই সত্যবাদী হও (তাহলে কেন এসব আচরণ করলে?) [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮৪﴿
﴾ ৩:১৮৪ ﴿
فَإِنْ كَذَّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ جَاءُوا بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَالْكِتَابِ الْمُنِيرِ ﴿١٨٤﴾
(হে মোহাম্মদ, ) এরা যদি তোমাকে অস্বীকার করে (তাহলে এ নিয়ে তুমি উদ্বিগ্ন হয়ো না, কারণ) , তোমার আগেও এমন বহু নবী রসূল (নবুওতের) সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ ও আল্লাহর কাছ থেকে নাযিল করা হেদায়াতের দীপ্তিমান গ্রন্থমালা নিয়ে এসেছিলো, তাদেরও (এমনিভাবেই) অস্বীকার করা হয়েছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮৫﴿
﴾ ৩:১৮৫ ﴿
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ ﴿١٨٥﴾
প্রত্যেক প্রাণীই মরণের স্বাদ ভোগ করবে; (অতপর) তোমাদের (জীবনভর) কামাইর প্রতিফল কেয়ামতের দিন আদায় করে দেয়া হবে, যাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে বাঁচিয়ে দেয়া হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; সেই হবে সফল ব্যক্তি। (মনে রেখো, ) এই পার্থিব জীবন কিছু বাহ্যিক ছলনার মাল সামানা ছাড়া আর কিছুই নয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮৬﴿
﴾ ৩:১৮৬ ﴿
لَتُبْلَوُنَّ فِي أَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذًى كَثِيرًا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ ﴿١٨٦﴾
(হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, ) নিশ্চয়ই জান মালের (ক্ষতি সাধনের) মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। (এ পরীক্ষা দিতে গিয়ে) তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী স¤ক্স্রদায় যাদের কাছে আল্লাহর কিতাব নাযিল হয়েছিলো এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্যদের শরীক করেছে, তাদের (উভয়ের) কাছ থেকে অনেক (কষ্টদায়ক) কথাবার্তা শুনবে; এ অবস্থায় তোমরা যদি ধৈর্য ধারণ করো এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো, তাহলে তা হবে অত্যন্ত বড়ো ধরনের এক সাহসিকতার ব্যাপার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮৭﴿
﴾ ৩:১৮৭ ﴿
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ ﴿١٨٧﴾
(স্মরণ করো, ) যখন আল্লাহ তা’আলা এই কিতাবধারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলেন, (তিনি তাদের বলেছিলেন) তোমরা একে মানুষদের কাছে বর্ণনা করবে এবং একে তোমরা গোপন করবে না, কিন্তু তারা এ প্রতিশ্রুতি নিজেদের পেছনে ফেলে রাখলো এবং অত্যন্ত অল্প মল্যে তা বিক্রি করে দিলো; বড়োই নিকৃষ্ট ছিলো (যেভাবে) তারা সে বেচাকেনার কাজটি করলো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮৮﴿
﴾ ৩:১৮৮ ﴿
لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِنَ الْعَذَابِ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٨٨﴾
এমন সব লোকদের ব্যাপারে তুমি কখনো ভেবো না যারা নিজেরা যা করে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে, আবার নিজেরা যা কখনো করেনি তার জন্যেও প্রশংসিত হতে ভালোবাসে, তুমি কখনো ভেবো না যে, এরা (বুঝি) আল্লাহর আযাব থেকে অব্যাহতি পেয়ে গেছে, (মূলত) এদের জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৮৯﴿
﴾ ৩:১৮৯ ﴿
وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٨٩﴾
আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব এককভাবে আল্লাহর জন্যে; আল্লাহ তা’আলাই সবকিছুর উপর একক ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯০﴿
﴾ ৩:১৯০ ﴿
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ ﴿١٩٠﴾
নিসন্দেহে আসমানসমূহ ও যমীনের (নিখুঁত) সৃষ্টি এবং দিবা রাত্রির আবর্তনের মধ্যে জ্ঞানবান লোকদের জন্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯১﴿
﴾ ৩:১৯১ ﴿
الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿١٩١﴾
(এই জ্ঞানবান লোক হচ্ছে তারা) যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের এই সৃষ্টি (নৈপুণ্য) সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে (এবং স্বতস্ফূর্তভাবে তারা বলে ওঠে) , হে আমাদের মালিক, (সৃষ্টি জগত) -এর কোনো কিছুই তুমি অযথা বানিয়ে রাখোনি, তোমার সত্তা অনেক পবিত্র, অতএব তুমি আমাদের জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে নিষ্কৃতি দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯২﴿
﴾ ৩:১৯২ ﴿
رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ ﴿١٩٢﴾
হে আমাদের মালিক, যাকেই তুমি জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমানিত করবে, (আর সেই অপমানের দিনে) যালেমদের জন্যে কোনোরকম সাহায্যকারীই থাকবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯৩﴿
﴾ ৩:১৯৩ ﴿
رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ ﴿١٩٣﴾
হে আমাদের মালিক, আমরা শুনতে পেয়েছি একজন আহ্বানকারী (নবী মানুষদের) ঈমানের দিকে ডাকছে (সে বলছিলো, হে মানুষরা) , তোমরা তোমাদের মালিক আল-াহর উপর ঈমান আনো, (হে মালিক, সেই আহ্বানকারীর কথায়) অতপর আমরা ঈমান এনেছি, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দাও, (হিসাবের খাতা থেকে) আমাদের দোষত্রুটি ও গুনাহসমূহ মুছে দাও, (সর্বশেষে তোমার) নেক লোকদের সাথে তুমি আমাদের মৃত্যু দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯৪﴿
﴾ ৩:১৯৪ ﴿
رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ ﴿١٩٤﴾
হে আমাদের মালিক, তুমি তোমার নবী রসূলদের মাধ্যমে যেসব (পুরস্কারের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছো তা আমাদের দান করো এবং কেয়ামতের দিন তুমি আমাদের অপমানিত করো না; নিশ্চয়ই তুমি কখনো ওয়াদার বরখেলাপ করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯৫﴿
﴾ ৩:১৯৫ ﴿
فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ ﴿١٩٥﴾
অতএব তাদের মালিক (এই বলে) তাদের আহ্বানে সাড়া দিলেন যে, আমি নর-নারী নির্বিশেষে তোমাদের কোনো কাজ কখনো বিনষ্ট করবো না, (আমি সবার কাজের বিনিময়ই দেবো) এবং তোমরা তো একে অপরেরই অংশ, অতএব (তোমাদের মাঝে) যারা (নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে) হিজরত করেছে এবং যারা নিজেদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছে, আমারই পথে যারা নির্যাতিত হয়েছে, (সর্বোপরি) যারা (আমার জন্যে) লড়াই করেছে এবং (আমারই জন্যে) জীবন দিয়েছে, আমি তাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবো, অবশ্যই আমি এদের (এমন) জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে, এ হচ্ছে (তাদের জন্যে) আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে পুরস্কার, আর উত্তম পুরস্কার তো আল্লাহ তা’আলার কাছেই রয়েছে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯৬﴿
﴾ ৩:১৯৬ ﴿
لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ ﴿١٩٦﴾
(হে মোহাম্মদ, ) জনপদসমূহে যারা আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করেছে, তাদের (দাম্ভিক) পদচারণা যেন কোনোভাবেই তোমাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯৭﴿
﴾ ৩:১৯৭ ﴿
مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمِهَادُ ﴿١٩٧﴾
(কেননা এসব কিছু হচ্ছে) সামান্য (কয়দিনের) সামগ্রী মাত্র, অতপর তাদের (সবারই অনন্ত) নিবাস (হবে) জাহান্নাম; আর জাহান্নামূহচ্ছে নিকৃষ্টতম আবাসস্থল! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯৮﴿
﴾ ৩:১৯৮ ﴿
لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نُزُلًا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلْأَبْرَارِ ﴿١٩٨﴾
তবে যারা নিজেদের মালিককে ভয় করে চলে, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট হয়ে আছে (সুরম্য) উদ্যানমালা, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা, সেখানে তারা অনাদিকাল থাকবে, এ হবে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে (তাদের জন্যে) আতিথেয়তা, আর আল্লাহ তা’আলার কাছে যা (পুরস্কার সংরক্ষিত) আছে, তা অবশ্যই নেককার লোকদের জন্যে অতি উত্তম জিনিস! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:১৯৯﴿
﴾ ৩:১৯৯ ﴿
وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَمَنْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِينَ لِلَّهِ لَا يَشْتَرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿١٩٩﴾
(ইতিপর্বে) আমি যাদের কাছে কিতাব পাঠিয়েছি, সেসব কিতাবধারী লোকদের মাঝে এমন লোক অবশ্যই আছে, যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে, তোমাদের এই কিতাবের উপর তারা (যেমনি) বিশ্বাস করে (তেমনি) তারা বিশ্বাস করে তাদের উপর প্রেরিত কিতাবের উপরও, এরা আল্লাহর জন্যে ভীত সন্ত্রস্ত্র ও বিনয়ী বান্দা, এরা আল্লাহর আয়াতকে (স্বার্থের বিনিময়ে) সামান্য মল্যে বিক্রি করে না, এরাই হচ্ছে সেসব ব্যক্তি, যাদের জন্যে তাদের মালিকের কাছ থেকে অগাধ পুরস্কার রয়েছে, নিসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা হচ্ছেন দ্রুত হিসাব সম্পন্নকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩:২০০﴿
﴾ ৩:২০০ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٢٠٠﴾
হে মু’মিনরা, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, (ধৈয্যের এ কাজে) একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো, (শত্রুর মোকাবেলায়) সুদৃঢ় থেকো, একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করো, (এভাবেই) আশা করা যায় তোমরা সফলকামূহতে পারবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]