🕋

لقمان
(৩১) লুকমান

৩৪

﴾৩১:১﴿
﴾ ৩১:১ ﴿
الم ﴿١﴾
আলিফ-লাম-মীম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২﴿
﴾ ৩১:২ ﴿
تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ ﴿٢﴾
এগুলো হচ্ছে একটি জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৩﴿
﴾ ৩১:৩ ﴿
هُدًى وَرَحْمَةً لِلْمُحْسِنِينَ ﴿٣﴾
নেককার মানুষদের জন্যে (এ হচ্ছে) হেদায়াত ও রহমত, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৪﴿
﴾ ৩১:৪ ﴿
الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ﴿٤﴾
যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, (সর্বোপরি) যারা শেষ বিচার দিনের উপর নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৫﴿
﴾ ৩১:৫ ﴿
أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿٥﴾
এ লোকগুলোই তাদের মালিকের পক্ষ থেকে (যথার্থ) হেদায়াতের উপর রয়েছে, (মুলত) এরাই হচ্ছে সফলকাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৬﴿
﴾ ৩১:৬ ﴿
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿٦﴾
মানুষদের মাঝে এমন ব্যক্তিও আছে যে অর্থহীন ও বেহুদা গল্প কাহিনী খরিদ করে, যাতে করে সে (মানুষদের নিতান্ত) অজ্ঞতার ভিত্তিতে আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে, সে একে হাসি, বিদ্রুপ, তামাশা হিসেবেই গ্রহণ করে; তাদের জন্যে অপমানকর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৭﴿
﴾ ৩১:৭ ﴿
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا وَلَّى مُسْتَكْبِرًا كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِي أُذُنَيْهِ وَقْرًا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٧﴾
যখন তার সামনে আমার আয়াতসমুহ তেলাওয়াত করা হয় তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে আদৌ তা শুনতেই পায়নি, তার কান দুটি যেন বধির, তাকে তুমি কঠোর আযাবের সুসংবাদ দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৮﴿
﴾ ৩১:৮ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ جَنَّاتُ النَّعِيمِ ﴿٨﴾
নিঃসন্দেহে যারা আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে নেয়ামতের (সমাহার) জান্নাতসমুহ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৯﴿
﴾ ৩১:৯ ﴿
خَالِدِينَ فِيهَا وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٩﴾
সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে; আল্লাহ তায়ালার প্রতিশ্রুতি অতীব সত্য; তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১০﴿
﴾ ৩১:১০ ﴿
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا وَأَلْقَى فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ وَبَثَ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ ﴿١٠﴾
তিনি আসমানসমুহকে কোনো স্তম্ভ ছাড়াই পয়দা করেছেন, তোমরা তো তা দেখতেই পাচ্ছো তিনি যমীনে পাহাড়সমুহ স্থাপন করে রেখেছেন যাতে করে তা তোমাদের নিয়ে কখনো (একদিকে) ঢলে না পড়ে, (আবার) তাতে প্রত্যেক প্রকারের বিচরণশীল জন্তু তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন; (হাঁ, ) আমিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর (সে পানি দিয়ে) সেখানে আমি সুন্দর সুন্দর জিনিসপত্র উৎপাদন করিয়েছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১১﴿
﴾ ৩১:১১ ﴿
هَذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ بَلِ الظَّالِمُونَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿١١﴾
এ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি, অতঃপর তোমরা আমাকে দেখাও তো, আল্লাহকে বাদ দিয়ে (যাদের তারা উপাসনা করে) তারা কি সৃষ্টি করেছে? (আসলেই) যালেমরা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১২﴿
﴾ ৩১:১২ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَا لُقْمَانَ الْحِكْمَةَ أَنِ اشْكُرْ لِلَّهِ وَمَنْ يَشْكُرْ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ ﴿١٢﴾
আমি লোকমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম যে, তুমি আল্লাহ তায়ালার (নেয়ামতের) শোকর আদায় করো; (কেননা) যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করে সে তো তা করে তার নিজের (ভালোর) জন্যেই, (আর) যদি কেউ অকৃতজ্ঞতা (-জনক আচরণ) করে (তার জানা উচিত) , আল্লাহ তায়ালা নিঃসন্দেহে কারোই মুখাপেক্ষী নন, তিনি যাবতীয় প্রশংসার অধিকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১৩﴿
﴾ ৩১:১৩ ﴿
وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَابُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ ﴿١٣﴾
(হে নবী, স্মরণ করো, ) যখন লোকমান তার ছেলেকে নসীহত করতে গিয়ে বললো, হে বৎস, আল্লাহ তায়ালার সাথে শেরেক করো না; (অবশ্যই) শেরেক হচ্ছে সবচাইতে বড়ো যুলুম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১৪﴿
﴾ ৩১:১৪ ﴿
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ ﴿١٤﴾
আমি মানুষকে (তাদের) পিতা-মাতার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি (যেন তারা তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে, কেননা) , তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দুই বছর পরই সে (সন্তান) বুকের দুধ খাওয়া ছেড়েছে, তুমি তোমার নিজের সৃষ্টির জন্যে) আমার শোকর আদায় করো এবং তোমার (লালন পালনের জন্যে) পিতা-মাতারও কৃতজ্ঞতা আদায় করো; (অবশ্য তোমাদের সবাইকে) আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১৫﴿
﴾ ৩১:১৫ ﴿
وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلَى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿١٥﴾
যদি তারা উভয়ে তোমাকে এ বিষয়ের উপর পীড়াপীড়ি করে যে, তুমি আমার সাথে শেরেক করবে, যে ব্যাপারে তোমার কোনো জ্ঞানই নেই, তাহলে তুমি তাদের দু'জনের (কারোই) কথা মানবে না, তবে দুনিয়ার জীবনে তুমি অবশ্যই তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে, তুমি কথা তো শুধু তারই শোনবে যে ব্যক্তি আমার অভিমুখী হয়ে আছে, অতঃপর তোমাদের আমার দিকেই ফিরে আসতে হবে, তখন আমি তোমাদের বলে দেবো তোমরা (দুনিয়ার জীবনে) কি কি কাজ করতে [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১৬﴿
﴾ ৩১:১৬ ﴿
يَابُنَيَّ إِنَّهَا إِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ ﴿١٦﴾
(লোকমান আরো বললো, ) হে বৎস, যদি (তোমার) কোনো আমল সরিষার দানা পরিমাণ (ছোটোও) হয় এবং তা যদি কোনো শিলাখন্ডের ভেতর কিংবা আসমানসমুহেও (লুকিয়ে) থাকে, অথবা (যদি তা থাকে) যমীনের ভেতরে, তাও আল্লাহ তায়ালা (সেদিন সামনে) এনে হাযির করবেন; আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই সুক্ষ্মদর্শী এবং সকল বিষয়ে সম্যক অবগত । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১৭﴿
﴾ ৩১:১৭ ﴿
يَابُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ ﴿١٧﴾
(লোকমান আরো বললো, ) হে বৎস, তুমি নামায প্রতিষ্ঠা করো, মানুষদের ভালো কাজের আদেশ দাও, মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখো, তোমার উপর কোনো বিপদ মসিবত এসে পড়লে তার উপর ধৈর্য ধারণ করো; (বিপদে ধৈর্য ধারণ করার) এ কাজটি নিঃসন্দেহে একটি বড়ো সাহসিকতাপুর্ণ কাজ, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১৮﴿
﴾ ৩১:১৮ ﴿
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ ﴿١٨﴾
(হে বৎস, ) কখনো অহংকারবশে তুমি মানুষদের জন্যে তোমার গাল ফুলিয়ে রেখে তাদের অবজ্ঞা করো না এবং (আল্লাহর) যমীনে কখনো ঔদ্ধত্যপুর্ণভাবে বিচরণ করো না; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক উদ্ধত অহংকারীকেই অপছন্দ করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:১৯﴿
﴾ ৩১:১৯ ﴿
وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ إِنَّ أَنْكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ ﴿١٩﴾
(হে বৎস, যমীনে চলার সময়) তুমি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো, তোমার কণ্ঠস্বর নীচু করো, কেননা আওয়াযসমুহের মধ্যে সবচাইতে অপ্রীতিকর আওয়ায় হচ্ছে গাধার আওয়ায । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২০﴿
﴾ ৩১:২০ ﴿
أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ ﴿٢٠﴾
তোমরা কি (একথা কখনো) চিন্তা করে দেখোনি, যা কিছু আসমানসমূহে রয়েছে, যা কিছু রয়েছে যমীনের মধ্যে, আল্লাহ তায়ালা তা তোমাদের অধীন করে রেখেছেন এবং তোমাদের উপর তিনি তাঁর দেখা অদেখা যাবতীয় নেয়ামত পুর্ণ করে দিয়েছেন; (কিন্তু এ সত্ত্বেও) মানুষের মাঝে কিছু এমন আছে যারা আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে (অর্থহীন) তর্ক করে, (তাদের কাছে) না আছে (তর্ক করার মতো) কোনো জ্ঞান, না আছে কোনো দীপ্তিমান গ্রন্থ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২১﴿
﴾ ৩১:২১ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ الشَّيْطَانُ يَدْعُوهُمْ إِلَى عَذَابِ السَّعِيرِ ﴿٢١﴾
আর যখন তাদের বলা হয়, (আল্লাহ তায়ালা) যা কিছু নাযিল করেছেন তোমরা তার অনুসরণ করো, (তখন) তারা বলে, আমরা কেবল সে বস্তুরই অনুসরণ করবো যার উপর আমরা আমাদের বাপদাদাদের পেয়েছি; (কিন্তু) শয়তান যদি তাদের (বাপদাদাদের) জাহান্নামের আযাবের দিকে ডাকতে থাকে (তাহলেও কি এরা তাদের অনুসরণ করবে) ? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২২﴿
﴾ ৩১:২২ ﴿
وَمَنْ يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى وَإِلَى اللَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ ﴿٢٢﴾
যদি কোনো ব্যক্তি সৎকর্মশীল হয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজেকে (সম্পূর্ণ) সঁপে দেয়, (তাহলে) সে (যেন মনে করে এর দ্বারা) একটা মযবুত হাতল ধরেছে; (কেননা) যাবতীয় কাজকর্মের চুড়ান্ত পরিণাম আল্লাহ তায়ালার কাছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২৩﴿
﴾ ৩১:২৩ ﴿
وَمَنْ كَفَرَ فَلَا يَحْزُنْكَ كُفْرُهُ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ فَنُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿٢٣﴾
যদি কেউ কুফরী করে তবে তার কুফরী যেন (হে নবী, ) তোমাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ না করে; (কারণ) তাদের তো আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে, অতঃপর আমি তাদের বলে দেবো, (দুনিয়ায় তারা কি আমল করে এসেছে; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা মানুষের অন্তরে যা কিছু লুকায়িত আছে সে ব্যাপারে সম্যক অবগত রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২৪﴿
﴾ ৩১:২৪ ﴿
نُمَتِّعُهُمْ قَلِيلًا ثُمَّ نَضْطَرُّهُمْ إِلَى عَذَابٍ غَلِيظٍ ﴿٢٤﴾
আমি তাদের স্বল্প সময়ের জন্যে কিছু জীবনোপকরণ দিয়ে রাখবো, অতঃপর আমি তাদের কঠিন আযাবের দিকে টেনে নিয়ে যাবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২৫﴿
﴾ ৩১:২৫ ﴿
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٢٥﴾
তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো, আসমানসমুহ ও যমীন কে পয়দা করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে (হাঁ) , আল্লাহ তায়ালাই (সৃষ্টি করেছেন) ; তুমি বলো, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্যে; কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই বুঝে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২৬﴿
﴾ ৩১:২৬ ﴿
لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ ﴿٢٦﴾
আকাশমালা ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা (সবই) আল্লাহ তায়ালার জন্যে; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা (সব ধরনের) অভাবমুক্ত এবং তিনি সমস্ত প্রশংসার মালিক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২৭﴿
﴾ ৩১:২৭ ﴿
وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلَامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ مَا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٧﴾
যমীনের সমস্ত গাছ যদি কলম হয় এবং মহাসমুদ্রগুলোর সাথে যদি আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে তা কালি হয়, তবুও আল্লাহ তায়ালার গুণাবলী সম্পর্কিত কথাগুলো লিখে শেষ করা যাবে না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২৮﴿
﴾ ৩১:২৮ ﴿
مَا خَلْقُكُمْ وَلَا بَعْثُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَاحِدَةٍ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ ﴿٢٨﴾
(হে মানুষ, ) তোমাদের সৃষ্টি করা, তোমাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করা (মুলত আল্লাহ তায়ালার কাছে) একজন মানুষের সৃষ্টি ও তার পুনরুত্থানের মতোই; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) শোনেন এবং দেখেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:২৯﴿
﴾ ৩১:২৯ ﴿
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى وَأَنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿٢٩﴾
তুমি কি চিন্তা করে দেখোনি, আল্লাহ তায়ালা (কিভাবে) রাতকে দিনের ভেতর প্রবেশ করান, আবার দিনকে রাতের ভেতর প্রবেশ করান, (কিভাবে) তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে (তাঁর হুকুমের) অধীন করে রাখেন, প্রত্যেক (গ্রহ উপগ্রহই আপন কক্ষপথে) এক সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করতে থাকবে, নিশ্চয়ই তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৩০﴿
﴾ ৩১:৩০ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ ﴿٣٠﴾
এটাই (চুড়ান্ত) , যেহেতু আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন সত্য, (তাই) তাঁকে ছাড়া এরা অন্য যা কিছুকেই ডাকুক না কেন তা বাতিল (বলে গণ্য হবে) , মহান আল্লাহ তায়ালা, তিনি সুউচ্চ ও অতি মহান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৩১﴿
﴾ ৩১:৩১ ﴿
أَلَمْ تَرَ أَنَّ الْفُلْكَ تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِنِعْمَةِ اللَّهِ لِيُرِيَكُمْ مِنْ آيَاتِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ ﴿٣١﴾
তুমি কি (এটা) লক্ষ্য করোনি, (উত্তাল) সাগরে (একমাত্র) আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহেই জলযান ভেসে চলেছে, যাতে করে তিনি (এর মাধ্যমে) তোমাদের তাঁর (সৃষ্টি বৈচিত্রের) নিদর্শনসমুহ দেখাতে পারেন; অবশ্যই প্রতিটি ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৩২﴿
﴾ ৩১:৩২ ﴿
وَإِذَا غَشِيَهُمْ مَوْجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ فَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا كُلُّ خَتَّارٍ كَفُورٍ ﴿٣٢﴾
যখন (সমুদ্রের) তরঙ্গমালা চাঁদোয়ার মতো হয়ে তাদের আচ্ছাদিত করে ফেলে, তখন তারা আল্লাহ তায়ালাকে ডাকে; দ্বীন একনিষ্ঠভাবে তাঁর জন্যেই নিবেদন করে, অতঃপর যখন আমি তাদের ভূখন্ডে এনে উদ্ধার করি তখন তাদের কিছু লোক বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝামাঝি অবস্থান করে; অবশ্য যখন স্থলভাগে পৌঁছে দেই (মুলত) বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞ ছাড়া কেউই আমার নিদর্শনসমুহ অস্বীকার করে না! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৩৩﴿
﴾ ৩১:৩৩ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْا يَوْمًا لَا يَجْزِي وَالِدٌ عَنْ وَلَدِهِ وَلَا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَالِدِهِ شَيْئًا إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلَا يَغُرَّنَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ ﴿٣٣﴾
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের মালিককে ভয় করো এবং এমন একটি দিনকে ভয় করো, যেদিন কোনো পিতা তার সন্তানের পক্ষ থেকে বিনিময় আদায় করবে না, না কোনো সন্তান তার পিতার পক্ষ থেকে বিনিময় আদায় করতে পারবে; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা সত্য, সুতরাং (হে মানুষ) , এ পার্থিব জীবন যেন তোমাদের কোনোরকম প্রতারিত করতে না পারে এবং প্রতারক (শয়তানও) যেন কখনো তোমাদের আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে কোনো ধােকা দিতে না পারে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩১:৩৪﴿
﴾ ৩১:৩৪ ﴿
إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ﴿٣٤﴾
অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার কাছে কেয়ামতের (সময়) জ্ঞান আছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন, (সন্তানের) শুক্রকীটের মাঝে (তার বুদ্ধি, জ্ঞান, মেধা ও জীবনের ভাগ্যলিপি সক্রান্ত) যা কিছু (মজুদ) রয়েছে তা তিনি জানেন, কোনো মানুষই বলতে পারে না আগামীকাল সে কি অর্জন করবে; না কেউ এ কথা বলতে পারে যে, কোন যমীনে সে মৃত্যুবরণ করবে; নিঃসন্দেহে (এ তথ্যগুলো একমাত্র) আল্লাহ তায়ালাই জানেন, (তিনি) সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]