🕌

الأحزاب
(৩৩) আল-আহযাব

৭৩

﴾৩৩:১﴿
﴾ ৩৩:১ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿١﴾
হে নবী, আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সব কিছু জানেন, তিনি বিজ্ঞ কুশলী, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২﴿
﴾ ৩৩:২ ﴿
وَاتَّبِعْ مَا يُوحَى إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا ﴿٢﴾
তোমার মালিকের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা কিছু ওহী নাযিল হয় তুমি শুধু তারই অনুসরণ করো; তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই সে সম্পর্কে সম্যক ওয়াকেফহাল রয়েছেন, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩﴿
﴾ ৩৩:৩ ﴿
وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا ﴿٣﴾
তুমি (শুধু) আল্লাহ তায়ালার উপরই নির্ভর করো; চুড়ান্ত কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহ তায়ালাই (তোমার জন্যে) যথেষ্ট। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪﴿
﴾ ৩৩:৪ ﴿
مَا جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِنْ قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ وَمَا جَعَلَ أَزْوَاجَكُمُ اللَّائِي تُظَاهِرُونَ مِنْهُنَّ أُمَّهَاتِكُمْ وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ ذَلِكُمْ قَوْلُكُمْ بِأَفْوَاهِكُمْ وَاللَّهُ يَقُولُ الْحَقَّ وَهُوَ يَهْدِي السَّبِيلَ ﴿٤﴾
(হে মানুষ, ) আল্লাহ তায়ালা কোনো মানুষের জন্যে তার বুকে দুটো অন্তর পয়দা করেননি, না তিনি তোমাদের সঙ্গীদের, যাদের সাথে তোমরা তোমাদের মায়েদের তুলনা করে) যেহার করো, তাদের সত্যি সত্যি তোমাদের মা বানিয়েছেন, (একইভাবে) তিনি তোমাদের পালক পুত্রকেও তোমাদের পুত্র বানাননি; (আসলে) এগুলো হচ্ছে (নিছক) তোমাদের মুখেরই কথা; সত্য কথা তো আল্লাহ তায়ালাই বলেন এবং তিনিই তোমাদের পথ প্রদর্শন করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫﴿
﴾ ৩৩:৫ ﴿
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿٥﴾
(হে ঈমানদাররা, ) তোমরা (যাদের পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছো) তাদের পিতার পরিচয়েই ডাকো, এটাই আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে অধিক ন্যায়সংগত, যদি তোমরা তাদের পিতা কারা সে পরিচয় না জানো, তাহলে (মনে করবে) তারা তোমাদেরই দ্বীনী ভাই ও তোমাদেরই দ্বীনী বন্ধু; এ ব্যাপারে (আগে) যদি তোমাদের কোনো ভুল হয়ে থাকে তাহলে তাতে তোমাদের জন্যে কোনো গুনাহ নেই, তবে যদি তোমাদের মন ইচ্ছা করে এমন কিছু করে (তাহলে তোমরা গুনাহগার হবে) ; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬﴿
﴾ ৩৩:৬ ﴿
النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ إِلَّا أَنْ تَفْعَلُوا إِلَى أَوْلِيَائِكُمْ مَعْرُوفًا كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا ﴿٦﴾
আল্লাহর নবী মু’মিনদের কাছে তাদের নিজেদের চাইতেও বেশী প্রিয় এবং নবীর সঙ্গীরা হচ্ছে তাদের মা (সমান, কিন্তু) ; আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী (যারা) আত্মীয় স্বজন (তারা) সব মু’মিন মোহাজের ব্যক্তির চাইতে একজন আরেকজনের বেশী নিকটতর, অবশ্য তোমরা যদি তোমাদের বন্ধু বান্ধবদের সাথে কিছু সদাচরণ করতে চাও; এ সব কথা আল্লাহ তায়ালার কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৭﴿
﴾ ৩৩:৭ ﴿
وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَأَخَذْنَا مِنْهُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا ﴿٧﴾
(হে নবী, স্মরণ করো, ) যখন আমি নবী রসুলদের কাছ থেকে (আমার বিধান পৌঁছে দেয়ার) প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম, (প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম) তোমার কাছ থেকে, নূহ, ইবরাহীম, মুসা এবং মারইয়াম পুত্র ঈসার কাছ থেকেও, এদের কাছ থেকে আমি (দ্বীন পৌঁছানোর) পাকাপোক্ত ওয়াদা নিয়েছিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৮﴿
﴾ ৩৩:৮ ﴿
لِيَسْأَلَ الصَّادِقِينَ عَنْ صِدْقِهِمْ وَأَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا أَلِيمًا ﴿٨﴾
যাতে করে (তাদের মালিক কেয়ামতের দিন) এসব সত্যবাদীদের তাদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারেন, আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের জন্যে পীড়াদায়ক আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৯﴿
﴾ ৩৩:৯ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَمْ تَرَوْهَا وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا ﴿٩﴾
হে (মানুষ) , তোমরা যারা ঈমান এনেছো, তোমরা নিজেদের উপর আল্লাহ তায়ালার (সে) অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো, যখন শত্রু সৈন্য তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিলো, অতঃপর আমি তাদের উপর এক প্রচন্ড বায়ু প্রেরণ করেছি এবং (তাদের কাছে) পাঠিয়েছি এমন সব সৈন্য, যাদের তোমরা কখনো দেখতে পাওনি; তোমরা তখন যা কিছু করছিলে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তা দেখছিলেন, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১০﴿
﴾ ৩৩:১০ ﴿
إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَ ﴿١٠﴾
যখন তারা তোমাদের উপর থেকে, তোমাদের নীচ থেকে তোমাদের উপর (হামলা করার জন্যে) আসছিলো, যখন (ভয়ে) তোমাদের চক্ষু বিস্ফরিত হয়ে পড়েছিলো, প্রাণ হয়ে পড়েছিলো কণ্ঠাগত এবং (আল্লাহর সাহায্যে বিলম্ব দেখে) তোমরা আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে নানা রকমের ধারণা করতে লাগলে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১১﴿
﴾ ৩৩:১১ ﴿
هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا ﴿١١﴾
সে (বিশেষ) সময়ে ঈমানদাররা চরমভাবে পরীক্ষিত এবং তারা মারাত্মকভাবে কম্পিত হয়ে পড়েছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১২﴿
﴾ ৩৩:১২ ﴿
وَإِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا غُرُورًا ﴿١٢﴾
সে সময় মুনাফিক এবং যাদের মনে (সন্দেহের) ব্যাধি ছিলো তারা বলতে লাগলো, আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুল আমাদের সাথে যে ওয়াদা করেছেন তা (মুলত) প্রতারণা বৈ কিছুই ছিলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১৩﴿
﴾ ৩৩:১৩ ﴿
وَإِذْ قَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ يَا أَهْلَ يَثْرِبَ لَا مُقَامَ لَكُمْ فَارْجِعُوا وَيَسْتَأْذِنُ فَرِيقٌ مِنْهُمُ النَّبِيَّ يَقُولُونَ إِنَّ بُيُوتَنَا عَوْرَةٌ وَمَا هِيَ بِعَوْرَةٍ إِنْ يُرِيدُونَ إِلَّا فِرَارًا ﴿١٣﴾
(বিশেষ করে, ) যখন তাদের একটি দল (এসে) বললো, হে ইয়াসরেবের অধিবাসীরা, (আজ শত্রু বাহিনীর সামনে) তোমাদের দাঁড়াবার মতো কোনো জায়গা নেই, অতএব তোমরা ফিরে যাও, (এমনকি) তাদের একাংশ (তোমার কাছে এই বলে) অনুমতিও চাইছিলো যে, আমাদের বাড়ীঘরগুলো সবই অরক্ষিত রয়েছে (তাই আমরা ফিরে যেতে চাই) , অথচ (আল্লাহ তায়ালা জানেন) তা অরক্ষিত ছিলো না; (আসলে ময়দান থেকে) এরা শুধু পালাতে চেয়েছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১৪﴿
﴾ ৩৩:১৪ ﴿
وَلَوْ دُخِلَتْ عَلَيْهِمْ مِنْ أَقْطَارِهَا ثُمَّ سُئِلُوا الْفِتْنَةَ لَآتَوْهَا وَمَا تَلَبَّثُوا بِهَا إِلَّا يَسِيرًا ﴿١٤﴾
যদি শত্রু দল নগরীর চারপাশ থেকে ওদের ভেতর প্রবেশ করতো এবং (যারা মুনাফিক) তাদের যদি (বিদ্রোহের) ফেতনা খাড়া করার জন্যে বলতো, তবে তারা নির্দ্বিধায় তাও মেনে নিতো, এ ব্যাপারে তারা মোটেই বিলম্ব করতো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১৫﴿
﴾ ৩৩:১৫ ﴿
وَلَقَدْ كَانُوا عَاهَدُوا اللَّهَ مِنْ قَبْلُ لَا يُوَلُّونَ الْأَدْبَارَ وَكَانَ عَهْدُ اللَّهِ مَسْئُولًا ﴿١٥﴾
অথচ এ লোকেরাই ইতিপুর্বে আল্লাহ তায়ালার সাথে ওয়াদা করেছিলো, তারা (কখনো ময়দান থেকে) পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না (তাদের জানা উচিত) , আল্লাহ তায়ালার (সাথে সম্পাদন করা) ওয়াদা সম্পর্কে অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১৬﴿
﴾ ৩৩:১৬ ﴿
قُلْ لَنْ يَنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ إِنْ فَرَرْتُمْ مِنَ الْمَوْتِ أَوِ الْقَتْلِ وَإِذًا لَا تُمَتَّعُونَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿١٦﴾
(হে নবী, এদের) তুমি বলো, যদি তোমরা মৃত্যু থেকে পালাতে চাও অথবা (কেউ তোমাদের) হত্যা (করবে এ কারণে পালাতে চাও) , তাহলে এই পালানো তোমাদের কোনোই উপকার দেবে না, (আর যদি কোনোরকম পালিয়ে যেতে সক্ষমও হও) তাহলেও তো সামান্য কয়দিনের উপকারই ভোগ করতে দেয়া হবে মাত্র। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১৭﴿
﴾ ৩৩:১৭ ﴿
قُلْ مَنْ ذَا الَّذِي يَعْصِمُكُمْ مِنَ اللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوءًا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً وَلَا يَجِدُونَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا ﴿١٧﴾
(হে নবী, ) যদি আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কোনো অমঙ্গল করতে চান অথবা চান তোমাদের কোনো মঙ্গল করতে তাহলে (এ উভয় অবস্থায়) তুমি বলো, এমন কে আছে যে তোমাদের আল্লাহ তায়ালা (-র সিদ্ধান্ত) থেকে বাঁচাতে পারবে, আল্লাহ তায়ালা ব্যতিরেকে এরা (সেদিন) না পাবে কোনো অভিভাবক, না পাবে কোনো সাহায্যকারী; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১৮﴿
﴾ ৩৩:১৮ ﴿
قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الْمُعَوِّقِينَ مِنْكُمْ وَالْقَائِلِينَ لِإِخْوَانِهِمْ هَلُمَّ إِلَيْنَا وَلَا يَأْتُونَ الْبَأْسَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿١٨﴾
অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মধ্যকার সেসব (মুনাফিক) লোকদের চেনেন, যারা (অন্যদের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করা থেকে) বাধা দেয় এবং তাদের ভাই বন্ধুদের বলে, তোমরা আমাদের কাছে এসে যাও, (আসলে) ওদের অল্প সংখ্যক লোকই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:১৯﴿
﴾ ৩৩:১৯ ﴿
أَشِحَّةً عَلَيْكُمْ فَإِذَا جَاءَ الْخَوْفُ رَأَيْتَهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَيْكَ تَدُورُ أَعْيُنُهُمْ كَالَّذِي يُغْشَى عَلَيْهِ مِنَ الْمَوْتِ فَإِذَا ذَهَبَ الْخَوْفُ سَلَقُوكُمْ بِأَلْسِنَةٍ حِدَادٍ أَشِحَّةً عَلَى الْخَيْرِ أُولَئِكَ لَمْ يُؤْمِنُوا فَأَحْبَطَ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا ﴿١٩﴾
(যে কয়জন এসেছে তারাও) তোমাদের (বিজয়ের) উপর কুণ্ঠিত থাকে, অতঃপর যখন (তোমাদের উপর) কোনো বিপদ আসে, তখন তুমি তাদের দেখবে তারা চক্ষু উল্টিয়ে তোমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে যেন কোনো ব্যক্তির উপর মৃত্যু চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু (যখন তোমরা বিজয় লাভ করো) তখন এরাই (গনীমতের) সম্পদের উপর লোভী হয়ে তোমাদের সাথে বাকচাতুরী শুরু করে; (আসলে) এ লোকগুলো কিন্তু কখনো ঈমান আনেনি, আল্লাহ তায়ালা (তাই) ওদের সব কাজই বিনষ্ট করে দিয়েছেন; আর এ কাজটা তো আল্লাহ তায়ালার জন্যে অত্যন্ত সহজ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২০﴿
﴾ ৩৩:২০ ﴿
يَحْسَبُونَ الْأَحْزَابَ لَمْ يَذْهَبُوا وَإِنْ يَأْتِ الْأَحْزَابُ يَوَدُّوا لَوْ أَنَّهُمْ بَادُونَ فِي الْأَعْرَابِ يَسْأَلُونَ عَنْ أَنْبَائِكُمْ وَلَوْ كَانُوا فِيكُمْ مَا قَاتَلُوا إِلَّا قَلِيلًا ﴿٢٠﴾
(অবরোধ প্রত্যাহার সত্ত্বেও) এরা মনে করে (এখনো) শত্রু বাহিনী চলে যায়নি এবং শত্রপক্ষ যদি (আবার) এসে চড়াও হয়, তখন এরা মনে করবে, কতো ভালো হতো যদি তারা (মরুভূমির) বেদুঈনদের সাথে (ওখানেই) থেকে যেতে পারতো এবং (সেখানে বসেই ফিরে আসা নিরাপদ কিনা) তোমাদের এ খবর নিতে পারতো, যদিও এরা (এখনও) তোমাদের মাঝে আছে, (কিন্তু) এরা খুব কম লোকই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২১﴿
﴾ ৩৩:২১ ﴿
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا ﴿٢١﴾
(হে মুসলমানরা, ) তোমাদের জন্যে অবশ্যই আল্লাহর রসুলের (জীবনের) মাঝে (অনুকরণযোগ্য) উত্তম আদর্শ রয়েছে, (আদর্শ রয়েছে) এমন প্রতিটি ব্যক্তির জন্যে, যে আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ পেতে আগ্রহী এবং যে পরকালের (মুক্তির) আশা করে, (সর্বোপরি) সে বেশী পরিমাণে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২২﴿
﴾ ৩৩:২২ ﴿
وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا ﴿٢٢﴾
(খাঁটি) ঈমানদাররা যখন (শত্র বাহিনীকে দেখলো, তখন তারা বলে উঠলো, এ তো হচ্ছে তাই, যার ওয়াদা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুল আমাদের কাছে আগেই করেছিলেন, আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুল অবশ্যই সত্য কথা বলেছেন, (এ ঘটনার ফলে) তাদের ঈমান ও আনুগত্যের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেলো; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২৩﴿
﴾ ৩৩:২৩ ﴿
مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا ﴿٢٣﴾
ঈমানদারদের মাঝে কিছু লোক তো এমন রয়েছে যারা আল্লাহ তায়ালার সাথে (জীবনবাজির) যে ওয়াদা করেছিলো তা সত্য প্রমাণ করলো, তাদের কিছু সংখ্যক (মানুষ) তো নিজের কোরবানী পুর্ণ (করে শাহাদাত লাভ) করলো, আর কেউ এখনো (শাহাদাতের) অপেক্ষা করছে, তারা তাদের (আসল) লক্ষ্য কখনো পরিবর্তন করেনি, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২৪﴿
﴾ ৩৩:২৪ ﴿
لِيَجْزِيَ اللَّهُ الصَّادِقِينَ بِصِدْقِهِمْ وَيُعَذِّبَ الْمُنَافِقِينَ إِنْ شَاءَ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿٢٤﴾
(যুদ্ধ তো এ জন্যেই যে, ) এতে করে সত্যবাদীদের আল্লাহ তায়ালা তাদের সত্যবাদিতার পুরস্কার দেবেন, আর মুনাফিকদের তিনি চাইলে শাস্তি দেবেন কিংবা তিনি তাদের উপর ক্ষমাপরবশ হবেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২৫﴿
﴾ ৩৩:২৫ ﴿
وَرَدَّ اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا خَيْرًا وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا ﴿٢٥﴾
আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের তাদের (যাবতীয়) ক্রোধসহ (এমনিই মদীনা থেকে) ফিরিয়ে দিলেন, (এ অভিযানে) তারা কোনো কল্যাণই লাভ করতে পারেনি; আল্লাহ তায়ালাই (এ) যুদ্ধে মু’মিনদের জন্যে যথেষ্ট প্রমাণিত হলেন; (মুলত) আল্লাহ তায়ালা প্রবল শক্তিমান ও পরাক্রমশালী, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২৬﴿
﴾ ৩৩:২৬ ﴿
وَأَنْزَلَ الَّذِينَ ظَاهَرُوهُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ صَيَاصِيهِمْ وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ فَرِيقًا تَقْتُلُونَ وَتَأْسِرُونَ فَرِيقًا ﴿٢٦﴾
আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা (এ যুদ্ধে) তাদের সাহায্য করেছে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরও দুর্গ থেকে অবতরণ করালেন এবং তাদের অন্তরে (মুসলমানদের সম্পর্কে এমন) ভীতির সঞ্চার করালেন যে, (আজ) তোমরা (তাদের) এক দলকে হত্যা করছো, আরেক দলকে বন্দী করছো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২৭﴿
﴾ ৩৩:২৭ ﴿
وَأَوْرَثَكُمْ أَرْضَهُمْ وَدِيَارَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ وَأَرْضًا لَمْ تَطَئُوهَا وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرًا ﴿٢٧﴾
তিনি তোমাদের তাদের যমীন, বাড়ীঘর ও সহায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিলেন, (আল্লাহ তায়ালা এর ফলে তোমাদের) এমন সব ভূখন্ডেরও (অধিকারী বানিয়ে দিলেন) যেখানে তোমরা এখনো কোনো (সামরিক) অভিযান পরিচালনাই করোনি; (সত্যিই) আল্লাহ তায়ালা সর্ববিষয়ের উপর (একক) ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২৮﴿
﴾ ৩৩:২৮ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا ﴿٢٨﴾
হে নবী, তুমি তোমার সঙ্গীদের বলো, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভোগবিলাস কামনা করো তাহলে এসো, আমি তোমাদের (তার কিছু অংশ) দিয়ে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দেই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:২৯﴿
﴾ ৩৩:২৯ ﴿
وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿٢٩﴾
আর যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রসুল ও পরকাল কামনা করো তাহলে (জেনে রেখো) , তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্যে মহা পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩০﴿
﴾ ৩৩:৩০ ﴿
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ مَنْ يَأْتِ مِنْكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ يُضَاعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَيْنِ وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا ﴿٣٠﴾
হে নবীপত্নীরা, তোমাদের মধ্যে যারা খোলাখুলি কোনো অশ্লীল কাজ করবে, তার শাস্তি দ্বিগুণ করে দেয়া হবে; আর এ কাজ আল্লাহ তায়ালার জন্যে অত্যন্ত সহজ। পারা [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩১﴿
﴾ ৩৩:৩১ ﴿
وَمَنْ يَقْنُتْ مِنْكُنَّ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَتَعْمَلْ صَالِحًا نُؤْتِهَا أَجْرَهَا مَرَّتَيْنِ وَأَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا كَرِيمًا ﴿٣١﴾
তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করবে, এর সাথে সে নেক কাজও করবে, আমি তাকে দু'বার তার কাজের পুরস্কার দান করবো, আমি (পরকালে) তার জন্যে সম্মানজনক রিযিক প্রস্তুত করে রেখেছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩২﴿
﴾ ৩৩:৩২ ﴿
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا ﴿٣٢﴾
হে নবীপত্মীরা, তোমরা অন্যান্য নারীদের মতো (সাধারণ নারী) নও, যদি তোমরা (সত্যিই) আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, তাহলে (অন্য পুরুষদের সাথে) কথা বলার সময় কোমলতা অবলম্বন করো না, (যদি এমন করো) তাহলে যার অন্তরে কোনো ব্যাধি আছে সে তোমার ব্যাপারে প্রলুব্ধ হয়ে পড়বে, (তবে) তোমরা (সর্বদাই) নিয়মমাফিক কথাবার্তা বলবে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩৩﴿
﴾ ৩৩:৩৩ ﴿
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا ﴿٣٣﴾
তোমরা ঘরে অবস্থান করবে, পুর্বেকার জাহেলিয়াতের যমানার (নারীদের) মতো নিজেদের প্রদর্শনী করে বেড়াবে না, তোমরা নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করবে; আল্লাহ তায়ালা (মুলত) এসব কিছুর মাধ্যমে নবী পরিবার (তথা) তোমাদের মাঝ থেকে (সব ধরনের) অপবিত্রতা দুর করে (তোমাদের) পাক সাফ করে দিতে চান, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩৪﴿
﴾ ৩৩:৩৪ ﴿
وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا ﴿٣٤﴾
তোমাদের ঘরে আল্লাহ তায়ালার কিতাবের আয়াত ও তাঁর জ্ঞানতত্ত্বের যেসব কথা তেলাওয়াত করা হয় তা স্মরণ রেখো; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা সুক্ষ্মদর্শী এবং তিনি সম্যক অবগত । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩৫﴿
﴾ ৩৩:৩৫ ﴿
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا ﴿٣٥﴾
মুসলমান পুরুষ মুসলমান নারী, মু’মিন পুরুষ মু’মিন নারী, ফরমাঁবদার পুরুষ ফরমবর্দার নারী, সত্যবাদী পুরুষ সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ দানশীল নারী, রোযাদার পুরুষ রোযাদার নারী, যৌন অংগসমুহের হেফাযতকারী পুরুষ (এ অংগসমুহের) হেফাযতকারী নারী, (সর্বোপরি) আল্লাহ তায়ালাকে অধিক পরিমাণে স্মরণকারী পুরুষ স্মরণকারী নারী (নিঃসন্দেহে) এদের জন্যে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা ও মহাপুরস্কার ঠিক করে রেখেছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩৬﴿
﴾ ৩৩:৩৬ ﴿
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا ﴿٣٦﴾
আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুল যখন কোনো ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তখন কোনো মু’মিন পুরুষ ও কোনো মু’মিন নারীর তাদের সে ব্যাপারে নিজেদের কোনো রকম এখতিয়ার থাকবে না (যে তারা তাতে কোনো রদবদল করবে) ; যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলের নাফরমানী করবে, সে নিঃসন্দেহে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩৭﴿
﴾ ৩৩:৩৭ ﴿
وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا ﴿٣٧﴾
(হে নবী, তুমি স্মরণ করো) , যখন তুমি সে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বলছিলে, যার উপর আল্লাহ তায়ালা বিরাট অনুগ্রহ করেছেন এবং তুমিও (নিজের পুত্র বানিয়ে) যার উপর অনুগ্রহ করেছো (তুমি তাকে বলেছিলে) , তুমি তোমার সঙ্গীকে (বিয়ের বন্ধনে) রেখে দাও এবং আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, (কিন্তু এ পর্যায়ে) তোমার মনের ভেতরে যে কথা তুমি লুকিয়ে রেখেছিলে আল্লাহ তায়ালা পরে তা প্রকাশ করে দিলেন, (আসলে তোমার পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা সঙ্গীকে বিয়ে করার ব্যাপারে) তুমি মানুষদের (কথাকেই) ভয় করছিলে, অথচ (তুমি জানো) আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন ভয় পাওয়ার বেশী হকদার; অতঃপর (এক সময়) যখন যায়দ তার (সঙ্গীর) কাছ থেকে নিজের প্রয়োজন শেষ করে (তাকে তালাক দিয়ে) দিলো, তখন আমি তোমার সাথে তার বিয়ে সম্পন্ন করে দিলাম, যাতে করে (ভবিষ্যতে) মু’মিনদের উপর তাদের পালক পুত্রদের সঙ্গীদের বিয়ের মাঝে (আর) কোনো সংকীর্ণতা (অবশিষ্ট) না থাকে, (বিশেষ করে) তারা যখন তাদের সঙ্গীদের কাছ থেকে নিজেদের প্রয়োজন শেষ করে (তাদের তালাক দিয়ে) দেয়, (আর সর্বশেষে) আল্লাহ তায়ালার আদেশই কার্যকর হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩৮﴿
﴾ ৩৩:৩৮ ﴿
مَا كَانَ عَلَى النَّبِيِّ مِنْ حَرَجٍ فِيمَا فَرَضَ اللَّهُ لَهُ سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا ﴿٣٨﴾
আল্লাহ তায়ালা নবীর জন্যে যে ফয়সালা করে দিয়েছেন, সে (ব্যাপারে) নবীর উপর কোনো বিধি নিষেধ নেই; আগের (নবীদের) ক্ষেত্রেও এ ছিলো আল্লাহ তায়ালার বিধান; আর আল্লাহ তায়ালার বিধান তো (আগে থেকেই) নির্ধারিত হয়ে আছে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৩৯﴿
﴾ ৩৩:৩৯ ﴿
الَّذِينَ يُبَلِّغُونَ رِسَالَاتِ اللَّهِ وَيَخْشَوْنَهُ وَلَا يَخْشَوْنَ أَحَدًا إِلَّا اللَّهَ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا ﴿٣٩﴾
যারা (মানুষদের কাছে) আল্লাহ তায়ালার বাণী পৌঁছে দিতো, তারা আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করতো, তারা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কাউকেই ভয় করতো না; (কেননা মানুষের) হিসাব নেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালাই। যথেষ্ট। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪০﴿
﴾ ৩৩:৪০ ﴿
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا ﴿٤٠﴾
হে মানুষ (তোমরা জেনে রেখো) , মোহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নয়, বরং সে তো হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার রসুল এবং নবীদের সিলমোহর (শেষনবী) , আল্লাহ তায়ালা সর্ববিষয়ে অবগত রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪১﴿
﴾ ৩৩:৪১ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا ﴿٤١﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে বেশী বেশী স্মরণ করো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪২﴿
﴾ ৩৩:৪২ ﴿
وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا ﴿٤٢﴾
এবং সকাল সন্ধ্যায় তোমরা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪৩﴿
﴾ ৩৩:৪৩ ﴿
هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ لِيُخْرِجَكُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا ﴿٤٣﴾
তিনিই (মহান আল্লাহ তায়ালা, যিনি) তোমাদের উপর অনুগ্রহ (বর্ষণ) করেন, তাঁর ফেরেশতারাও (তোমাদের জন্যে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা চেয়ে তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেন) , যাতে করে (আল্লাহ) তোমাদের অন্ধকার থেকে (ইসলামের) আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন; (বস্তুত) আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন মু’মিনদের জন্যে পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪৪﴿
﴾ ৩৩:৪৪ ﴿
تَحِيَّتُهُمْ يَوْمَ يَلْقَوْنَهُ سَلَامٌ وَأَعَدَّ لَهُمْ أَجْرًا كَرِيمًا ﴿٤٤﴾
যেদিন তারা আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাৎ করবে, সেদিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের সালাম দ্বারা অভিবাদন করা হবে, তিনি তাদের জন্যে (এক) সম্মানজনক পুরস্কার নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪৫﴿
﴾ ৩৩:৪৫ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ﴿٤٥﴾
হে নবী, আমি তোমাকে (হেদায়াতের) সাক্ষী (বানিয়ে) পাঠিয়েছি, (তোমাকে) বানিয়েছি (জান্নাতের) সুসংবাদদাতা ও (জাহান্নামের) সতর্ককারী, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪৬﴿
﴾ ৩৩:৪৬ ﴿
وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا ﴿٤٦﴾
আল্লাহ তায়ালার অনুমতিক্রমে তুমি হচ্ছে আল্লাহর দিকে আহবানকারী ও (হেদায়াতের) এক সুস্পষ্ট প্রদীপ [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪৭﴿
﴾ ৩৩:৪৭ ﴿
وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا ﴿٤٧﴾
(অতএব) তুমি মু’মিনদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক মহাঅনুগ্রহ রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪৮﴿
﴾ ৩৩:৪৮ ﴿
وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ وَدَعْ أَذَاهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا ﴿٤٨﴾
কখনো কাফের ও মুনাফিকদের কথা শুনো না, তাদের যাবতীয় নির্যাতন উপেক্ষা করে চলো, আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করো; (কেননা) কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহ তায়ালাই তোমার জন্যে যথেষ্ট । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৪৯﴿
﴾ ৩৩:৪৯ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا فَمَتِّعُوهُنَّ وَسَرِّحُوهُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا ﴿٤٩﴾
হে মু’মিনরা, যখন তোমরা মু’মিন রমণীদের বিয়ে করো, অতঃপর (কোনো রকম) স্পর্শ করার আগেই তাদের তালাক দাও, তাহলে (এমতাবস্থায়) তাদের উপর কোনো ইদ্দত (বাধ্যতামুলক) নয় যে, তোমরা তা গুনতে শুরু করবে, তবু তোমরা তাদের কিছু দিয়ে দেবে এবং (সৌজন্যের সাথেই) তাদের বিদায় করে দেবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫০﴿
﴾ ৩৩:৫০ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللَّاتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَالَاتِكَ اللَّاتِي هَاجَرْنَ مَعَكَ وَامْرَأَةً مُؤْمِنَةً إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَنْ يَسْتَنْكِحَهَا خَالِصَةً لَكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِي أَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ لِكَيْلَا يَكُونَ عَلَيْكَ حَرَجٌ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿٥٠﴾
হে নবী, আমি তোমার জন্যে সেসব সঙ্গীদের হালাল করেছি, যাদের তুমি (যথার্থ) মোহর আদায় করে দিয়েছো (সেসব মহিলাও তোমার জন্যে আমি হালাল করেছি) , যারা তোমার অধিকারভুক্ত, যাদের আল্লাহ তায়ালা তোমাকে দান করেছেন এবং তোমার চাচাতো বোন, ফুফাতো বোন, মামাতো বোন, খালাতো বোন, যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে, (তা ছাড়া রয়েছে) সে মু’মিন নারী, যে (কোনো কিছু ছাড়াই) নিজেকে নবীর জন্যে নিবেদন করবে এবং নবী চাইলে তাকে বিয়ে করবে, এ বিশেষ (অনুমতি শুধু) তোমার জন্যে, অন্য মু’মিনদের জন্যে নয়; (সাধারণ) মু’মিনদের সঙ্গী ও অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যাপারে আমি তাদের উপর যে বিধি বিধান নির্ধারণ করেছি, তা অবশ্য আমি (ভালো করেই জানি, (তোমার ব্যাপারে এ সুবিধা আমি এ জন্যেই দিয়েছি) যেন তোমার উপর কোনো ধরনের সংকীর্ণতা না থাকে; আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫১﴿
﴾ ৩৩:৫১ ﴿
تُرْجِي مَنْ تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ وَمَنِ ابْتَغَيْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكَ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ تَقَرَّ أَعْيُنُهُنَّ وَلَا يَحْزَنَّ وَيَرْضَيْنَ بِمَا آتَيْتَهُنَّ كُلُّهُنَّ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا فِي قُلُوبِكُمْ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَلِيمًا ﴿٥١﴾
(তোমার জন্যে আরেকটি অতিরিক্ত সুবিধা হচ্ছে, ) তুমি ইচ্ছা করলে তাদের মধ্য থেকে কাউকে (নিজের কাছ থেকে) দুরে রাখতে পারো, আবার যাকে ইচ্ছা তাকে নিজের কাছেও রাখতে পারো; যাকে তুমি দুরে রেখেছে। তাকে যদি (পুনরায়) তুমি (নিজের কাছে) রাখতে চাও, তাতেও তোমার উপর কোনো গুনাহ নেই; এ (বিশেষ সুযোগ তোমাকে) এ জন্যেই দেয়া হয়েছে যেন এতে করে ওদের চক্ষু শীতল থাকে, তারা (অযথা) দুঃখ না পায় এবং তুমি ওদের যা দেবে তাতেই যেন ওরা সবাই সন্তুষ্ট থাকতে পারে; তোমাদের মনে যা কিছু আছে আল্লাহ তায়ালা তা (ভালো করেই) জানেন, আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ ও পরম সহনশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫২﴿
﴾ ৩৩:৫২ ﴿
لَا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ وَلَا أَنْ تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ أَزْوَاجٍ وَلَوْ أَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ إِلَّا مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ رَقِيبًا ﴿٥٢﴾
(হে নবী, এর বাইরে) তোমার জন্যে বৈধ নয় যে, তুমি তোমার (বর্তমান) সঙ্গীদের বদলে (অন্য নারীদের সঙ্গীরূপে) নেবে, যদিও সেসব নারীর সৌন্দর্য তোমাকে আকৃষ্ট করে, অবশ্য তোমার অধিকারভুক্ত দাসীরা (এ বিধি নিষেধের) ব্যতিক্রম, স্মরণ রাখবে, আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫৩﴿
﴾ ৩৩:৫৩ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمًا ﴿٥٣﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, তোমরা নবীর ঘরে প্রবেশ করো না, অবশ্য যখন তোমাদের খাওয়ার জন্যে (আসার) অনুমতি দেয়া হয় (তাহলে) সে অবস্থায় এমন সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে প্রবেশ করো, যাতে তোমাদের (খাওয়ার জন্যে) অপেক্ষা করতে না হয়, কিন্তু কখনো যদি তোমাদের ডাকা হয় তাহলে (সময়মতোই) প্রবেশ করো, অতঃপর যখন খাবার (গ্রহণ) শেষ করে ফেলবে তখন সাথে সাথে (সেখান থেকে) চলে যেয়ো এবং (সেখানে কোনো অর্থহীন) কথাবার্তায় নিমগ্ন হয়ো না; তোমাদের এ বিষয়টি নবীকে কষ্ট দেয়, সে তোমাদের (এ কথা বলতে) লজ্জাবোধ করে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা সত্য বলতে মোটেই লজ্জাবোধ করেন না; (হ্যাঁ, ) তোমাদের যদি নবীপত্মীদের কাছ থেকে কোনো জিনিসপত্র চাইতে হয় তাহলে পর্দার আড়াল থেকে চেয়ে নিয়ো, এটা তোমাদের ও তাদের অন্তরকে পাক সাফ রাখার জন্যে অধিকতর উপযোগী; তোমাদের কারো জন্যেই এটা বৈধ নয় যে, তোমরা আল্লাহর রসুলকে কষ্ট দেবে (না এটা তোমাদের জন্যে বৈধ যে) , তোমরা তাঁর পরে কখনো তাঁর সঙ্গীদের বিয়ে করবে, এটা আল্লাহ তায়ালার কাছে একটি বড়ো (অপরাধের) বিষয় । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫৪﴿
﴾ ৩৩:৫৪ ﴿
إِنْ تُبْدُوا شَيْئًا أَوْ تُخْفُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا ﴿٥٤﴾
তোমরা কোনো জিনিস প্রকাশ করো কিংবা তা গোপন করো, আল্লাহ তায়ালা (তা) সবই জানেন, তিনি অবশ্যই সর্বজ্ঞ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫৫﴿
﴾ ৩৩:৫৫ ﴿
لَا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِي آبَائِهِنَّ وَلَا أَبْنَائِهِنَّ وَلَا إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ أَخَوَاتِهِنَّ وَلَا نِسَائِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ وَاتَّقِينَ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا ﴿٥٥﴾
(যারা নবীপত্মী) , তাদের উপর তাদের পিতা, ছেলে, ভাইদের ছেলে, বোনদের ছেলে, (সব সময়ে আসা যাওয়া করা) মহিলারা এবং নিজেদের অধিকারভুক্ত দাসীদের (সামনে আসা ও তাদের কাছ থেকে পর্দা না করার) ব্যাপারে কোনো অপরাধ নেই, (হে নবীপত্মীরা) , তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সব কিছু প্রত্যক্ষ করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫৬﴿
﴾ ৩৩:৫৬ ﴿
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا ﴿٥٦﴾
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর উপর দরূদ পাঠান; (অতএব) হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরাও নবীর উপর দরূদ পাঠাতে থাকো এবং (তাঁকে) উত্তম অভিবাদন (পেশ) করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫৭﴿
﴾ ৩৩:৫৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُهِينًا ﴿٥٧﴾
যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলকে কষ্ট দেয় তাদের উপর দুনিয়া আখেরাত (উভয় জায়গায়ই) আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ বর্ষণ করেন, (কেয়ামতের দিন) তিনি তাদের জন্যে অপমানজনক আযাব ঠিক করে রেখেছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫৮﴿
﴾ ৩৩:৫৮ ﴿
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا ﴿٥٨﴾
যারা মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদের কষ্ট দেয় তেমন ধরনের কিছু (দোষ) তারা না করা সত্ত্বেও, (যারা এমনটি করে) তারা তো (মুলত) মিথ্যা ও স্পষ্ট অপবাদের বোঝাই বহন করে চলে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৫৯﴿
﴾ ৩৩:৫৯ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿٥٩﴾
হে নবী, তুমি তোমার সঙ্গী, মেয়ে ও সাধারণ মু’মিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের চাদর (থেকে কিয়দংশ) নিজেদের উপর টেনে দেয়, এতে করে তাদের চেনা (অনেকটা) সহজ হবে এবং তাদের কোনোরকম উত্ত্যক্ত করা হবে না, (জেনে রেখো) , আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬০﴿
﴾ ৩৩:৬০ ﴿
لَئِنْ لَمْ يَنْتَهِ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ وَالْمُرْجِفُونَ فِي الْمَدِينَةِ لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لَا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلًا ﴿٦٠﴾
মুনাফিক দল, (তাদের সাথে) যাদের অন্তরে কুফরীর ব্যাধি রয়েছে ও যারা মদীনায় (তোমার বিরুদ্ধে) গুজব রটনা করে বেড়ায়, তারা যদি (তাদের নোংরা কার্যকলাপ থেকে) বিরত না হয়, তাহলে (হে নবী) , আমি নিশ্চয়ই তোমাকে তাদের উপর প্রবল করে (বসিয়ে) দেবো, অতঃপর এরা সেখানে তোমার প্রতিবেশী হিসেবে সামান্য কিছু দিনই থাকতে পারবে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬১﴿
﴾ ৩৩:৬১ ﴿
مَلْعُونِينَ أَيْنَمَا ثُقِفُوا أُخِذُوا وَقُتِّلُوا تَقْتِيلًا ﴿٦١﴾
(এরপরও এখানে যারা থেকে যাবে তারা) থাকবে অভিশপ্ত হয়ে, অতঃপর তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে পাকড়াও করা হবে এবং (বিশ্বাসঘাতকতার জন্যে) তাদের মৃত্যু দন্ডে দন্ডিত করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬২﴿
﴾ ৩৩:৬২ ﴿
سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا ﴿٦٢﴾
(তোমার) আগে (বিদ্রোহী হিসেবে) যারা অতিবাহিত হয়ে গেছে তাদের ব্যাপারেও এ ছিলো আল্লাহ তায়ালার নীতি, আল্লাহ তায়ালার এ নিয়মে তুমি কখনো কোনো ব্যতিক্রম দেখবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬৩﴿
﴾ ৩৩:৬৩ ﴿
يَسْأَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا ﴿٦٣﴾
মানুষরা তোমাকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, তুমি (তাদের) বলো, তার জ্ঞান তো একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছেই রয়েছে; (হে নবী, ) তুমি এ বিষয়টি কি করে জানবে? সম্ভবত কেয়ামত খুব নিকটেই (এসে গেছে) ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬৪﴿
﴾ ৩৩:৬৪ ﴿
إِنَّ اللَّهَ لَعَنَ الْكَافِرِينَ وَأَعَدَّ لَهُمْ سَعِيرًا ﴿٦٤﴾
তবে (কেয়ামত যখনই আসুক) আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই কাফেরদের উপর (আগেই) অভিশাপ দিয়েছেন এবং তাদের শাস্তির জন্যে প্রজ্বলিত আগুনের শিখাও প্রস্তুত করে রেখেছেন, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬৫﴿
﴾ ৩৩:৬৫ ﴿
خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا لَا يَجِدُونَ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا ﴿٦٥﴾
সেখানে তারা চিরদিন থাকবে, (সেখান থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে) তারা কোনো রকম অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬৬﴿
﴾ ৩৩:৬৬ ﴿
يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَا لَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَ ﴿٦٦﴾
সেদিন তাদের চেহারাসমুহ) ওলট পালট করে (প্রজ্বলিত) আগুনে রাখা হবে, সেদিন তারা বলবে, হায়, (কতো ভালো হতো) যদি আমরা আল্লাহ তায়ালা ও রসুলের আনুগত্য করে আসতাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬৭﴿
﴾ ৩৩:৬৭ ﴿
وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَ ﴿٦٧﴾
তারা (সেদিন আরো) বলবে, হে আমাদের মালিক, (দুনিয়ার জীবনে) আমরা আমাদের নেতা ও বড়োদের কথাই মেনে চলেছি, তারাই আমাদের তোমার পথ থেকে গোমরাহ করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬৮﴿
﴾ ৩৩:৬৮ ﴿
رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِيرًا ﴿٦٨﴾
হে আমাদের মালিক, ওদের তুমি (আজ) দ্বিগুণ পরিমাণ শাস্তি দাও এবং তাদের উপর বড়ো রকমের অভিশাপ পাঠাও । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৬৯﴿
﴾ ৩৩:৬৯ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ آذَوْا مُوسَى فَبَرَّأَهُ اللَّهُ مِمَّا قَالُوا وَكَانَ عِنْدَ اللَّهِ وَجِيهًا ﴿٦٩﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা (অর্থহীন অপবাদ দিয়ে) মুসাকে কষ্ট দিয়েছে, আল্লাহ তায়ালা তাকে সেসব কিছু থেকে নির্দোষ প্রমাণিত করলেন, যা তারা (তার বিরুদ্ধে) রটনা করেছে, সে ছিলো আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে বড়ো মর্যাদাবান ব্যক্তি; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৭০﴿
﴾ ৩৩:৭০ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا ﴿٧٠﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং (সর্বদা) সত্য কথা বলো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৭১﴿
﴾ ৩৩:৭১ ﴿
يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا ﴿٧١﴾
(তাহলে) তিনি তোমাদের জীবনের কর্মকান্ড শুধরে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন; যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য লাভ করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৭২﴿
﴾ ৩৩:৭২ ﴿
إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا ﴿٧٢﴾
অবশ্যই আমি (কোরআনের এ) আমানত (এক সময়) আসমানসমুহ, পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে পেশ করেছিলাম, তারা একে বহন করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলো, সবাই এতে ভীত হয়ে গেলো, অবশেষে মানুষই তা বহন করে নিলো; নিঃসন্দেহে সে (মানুষ) একান্ত যালেম ও (এ আমানত বহন করার পরিণাম সম্পর্কে) একান্তই অজ্ঞ । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৩৩:৭৩﴿
﴾ ৩৩:৭৩ ﴿
لِيُعَذِّبَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْمُشْرِكِينَ وَالْمُشْرِكَاتِ وَيَتُوبَ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿٧٣﴾
আল্লাহ তায়ালা মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী, মুশরিক পুরুষ, মুশরিক নারীদের (এ আমানতের দায়িত্বে অবহেলার জন্যে) কঠোর শাস্তি দেবেন এবং মু’মিন পুরুষ মু’মিন নারীদের উপর (আমানতের দায়িত্ব পালনে ভুল ত্রুটির জন্যে) ক্ষমাপরবশ হবেন; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা একান্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]