🕌
النساء
(৪) আন-নিসা
১৭৬
﴾৪:১﴿
﴾ ৪:১ ﴿
يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ﴿١﴾
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের মালিককে ভয় করো, যিনি তোমাদের একটি (মাত্র) ব্যক্তিসত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনি তা থেকে (তার) জুড়ি পয়দা করেছেন, (এরপর) তিনি তাদের (এই আদি জুড়ি) থেকে বহু সংখ্যক নর-নারী (দুনিয়ায় চারদিকে) ছড়িয়ে দিয়েছেন (হে মানুষ) , তোমরা ভয় করো আল্লাহ তা’আলাকে, যাঁর (পবিত্র) নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার (ও পাওনা) দাবী করো এবং সম্মান করো গর্ভ (ধারিণী মা) -কে, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর তীক্ষ দৃষ্টি রেখে চলেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২﴿
﴾ ৪:২ ﴿
وَآتُوا الْيَتَامَى أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِيثَ بِالطَّيِّبِ وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ إِنَّهُ كَانَ حُوبًا كَبِيرًا ﴿٢﴾
এতীমদের ধন-সম্পদ তাদের কাছে দিয়ে দাও, (তাদের) ভালো জিনিসের সাথে (নিজেদের) খারাপ জিনিসের বদল করো না, তাদের সম্পদসমূহ কখনো নিজেদের মালের সাথে মিলিয়ে হযম করে নিয়ো না, এটা (আসলেই) একটা জঘন্য পাপ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩﴿
﴾ ৪:৩ ﴿
وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا ﴿٣﴾
আর যদি তোমাদের এ আশংকা থাকে যে, তোমরা এতীম (মহিলা) -দের মাঝে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তাহলে (সাধারণ) নারীদের মাঝে থেকে তোমাদের যাদের ভালো লাগে তাদের দুই জন, তিন জন কিংবা চার জনকে বিয়ে করে নাও, কিন্তু যদি তোমাদের এই ভয় হয় যে, তোমরা (একের অধিক হলে তাদের মাঝে) ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে (তোমাদের জন্যে) একজনই (যথেষ্ট) , কিংবা যে তোমাদের অধিকারভুক্ত; (তাদেরই যথেষ্ট মনে করে নাও। মনে রেখো, সব ধরনের) সীমালংঘন থেকে বেঁচে থাকার জন্যে এটাই হচ্ছে (উত্তম ও) সহজতর (পন্থা) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪﴿
﴾ ৪:৪ ﴿
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَرِيئًا ﴿٤﴾
নারীদের তাদের মোহরানার অংক একান্ত খুশী মনে তাদের (মালিকানায়) দিয়ে দাও; অতপর তারা যদি নিজেদের মনের খুশীতে এর কিছু অংশ তোমাদের (ছেড়ে) দেয়, তাহলে তোমরা তা খুশী মনে ভোগ করতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫﴿
﴾ ৪:৫ ﴿
وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمُ الَّتِي جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ قِيَامًا وَارْزُقُوهُمْ فِيهَا وَاكْسُوهُمْ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا ﴿٥﴾
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের যে সম্পদকে (দুনিয়ায়) তোমাদের প্রতিষ্ঠা লাভের উপকরণ হিসেবে বানিয়ে দিয়েছেন, তা এই নির্বোধ লোকদের হাতে ছেড়ে দিয়ো না, (অবশ্যই এ থেকে) তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করবে, তাদের পোশাক সরবরাহ করবে, (সর্বোপরি) তাদের সাথে ভালো কথা বলবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬﴿
﴾ ৪:৬ ﴿
وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَلَا تَأْكُلُوهَا إِسْرَافًا وَبِدَارًا أَنْ يَكْبَرُوا وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوا عَلَيْهِمْ وَكَفَى بِاللَّهِ حَسِيبًا ﴿٦﴾
এতীমদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে থাকবে যতোক্ষণ না তারা বিয়ের বয়স পর্যন্ত পৌঁছে, অতপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে (সম্পদ পরিচালনার) যোগ্যতা অনুভব করতে পারো, তাহলে তাদের ধন-সম্পদ তাদের হাতেই তুলে দেবে এবং তাদের বড়ো হবার আগেই (তাড়াহুড়ো করে) তা হযম করে ফেলো না, (এতীমদের পৃষ্ঠপোষক) যদি সম্পদশালী হয় তাহলে সে যেন (এই বাড়াবাড়ি থেকে) বেঁচে থাকে (তবে হ্যাঁ) , যদি সে (পৃষ্ঠপোষক) গরীব হয় তাহলে (সমাজের) প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সে যেন তা থেকে (নিজের পারিশ্রমিক) গ্রহণ করে, যখন তোমরা তাদের ধন-সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দেবে, তখন তাদের উপর সাক্ষী রেখো, (যদিও) হিসাব গ্রহণের জন্যে আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭﴿
﴾ ৪:৭ ﴿
لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا ﴿٧﴾
তাদের পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের রেখে যাওয়া ধন-সম্পদে পুরুষদের (যেমন) নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে, (একইভাবে) নারীদের জন্যেও (সে সম্পদে) নির্র্দিষ্ট অংশ রয়েছে, যা তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনরা রেখে গেছে, (পরিমাণ) অল্প হোক কিংবা বেশী; (উভয়ের জন্যে এর) অংশ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮﴿
﴾ ৪:৮ ﴿
وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينُ فَارْزُقُوهُمْ مِنْهُ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا ﴿٨﴾
(মৃত ব্যক্তির সম্পদ) বন্টনের সময় যখন (তার) আপনজন, এতীম ও মিসকীনরা (সেখানে) এসে হাযির হয়, তখন তা থেকে তাদেরও কিছু দেবে এবং তাদের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯﴿
﴾ ৪:৯ ﴿
وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَافًا خَافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا ﴿٩﴾
(এতীমদের ব্যাপারে) মানুষের (এটুকু) ভয় করা উচিত, যদি তারা নিজেরা (মৃত্যুর সময় এমনি) দুর্বল সন্তানদের পেছনে রেখে চলে আসতো, তাহলে (তাদের ব্যাপারে) তারা (এভাবেই) ভীত শংকিত থাকতো, অতএব তাদের (ব্যাপারে) আল্লাহকে ভয় করে চলা এবং এদের সাথে (হামেশাই) ন্যায়-ইনসাফের কথাবার্তা বলা উচিত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০﴿
﴾ ৪:১০ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا ﴿١٠﴾
যারা অন্যায়ভাবে এতীমদের মাল-সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা যেন আগুন দিয়েই নিজেদের পেট ভর্তি করে, অচিরেই এ লোকগুলো জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১﴿
﴾ ৪:১১ ﴿
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿١١﴾
আল্লাহ তা’আলা (তোমাদের উত্তরাধিকারে) সন্তানদের সম্পর্কে (এ মর্মে) তোমাদের জন্যে বিধান জারি করছেন যে, এক ছেলের অংশ হবে দুই কন্যা সন্তানের মতো, কিন্তু (উত্তরাধিকারী) কন্যারা যদি দু’য়ের বেশী হয় তাহলে তাদের জন্যে (থাকবে) রেখে যাওয়া সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ, আর (সে) কন্যা সন্তান যদি একজন হয়, তাহলে তার (অংশ) হবে (পরিত্যক্ত সম্পত্তির) অর্ধেক; মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্যে থাকবে (সে সম্পদের) ছয় ভাগের এক ভাগ, (অপর দিকে) মৃত ব্যক্তির যদি কোনো সন্তান না থাকে এবং পিতামাতাই যদি হয় (তার একমাত্র) উত্তরাধিকারী, তাহলে তার মায়ের (অংশ) হবে তিন ভাগের এক ভাগ, যদি মৃত ব্যক্তির কোনো ভাই বোন (বেঁচে) থাকে তাহলে তার মায়ের (অংশ) হবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (মৃত্যুর) আগে সে যে ওসিয়ত করে গেছে এবং তার (রেখে যাওয়া) ঋণ আদায় করে দেয়ার পরই (কিন্তু এ সব ভাগ-বাটোয়ারা করতে হবে) ; তোমরা জানো না তোমাদের পিতামাতা ও তোমাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে কে তোমাদের জন্যে উপকারের দিক থেকে বেশী নিকটবর্তী; (অতএব) এ হচ্ছে আল্লাহর বিধান, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা সকল কিছু সম্পর্কে ওয়াকেফহাল এবং তিনিই হচ্ছেন বিজ্ঞ, পরম কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২﴿
﴾ ৪:১২ ﴿
وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ وَصِيَّةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ ﴿١٢﴾
তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে তোমাদের অংশ হচ্ছে অর্ধেক, যদি তাদের কোনো সন্তানাদি না থাকে, আর যদি তাদের সন্তান থাকে তাহলে (সে সম্পত্তিতে) তোমাদের অংশ হবে চার ভাগের এক ভাগ, তারা যে ওসিয়ত করে গেছে কিংবা (তাদের) ঋণ পরিশোধ করার পরই (কিন্তু তোমরা এই অংশ পাবে) ; তোমাদের স্ত্রীদের জন্যে (থাকবে) তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে, যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তাহলে তারা পাবে রেখে যাওয়া সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ, (মৃত্যুর আগে) তোমরা যা ওসিয়ত করে যাবে কিংবা যে ঋণ তোমরা রেখে যাবে তা পরিশোধ করে দেয়ার পরই (এই অংশ তারা পাবে) ; যদি কোনো পুরুষ কিংবা নারী এমন হয় যে, তার কোনো সন্তানও নেই, পিতা মাতাও নেই, (শুধু) আছে তার এক ভাই ও এক বোন, তাহলে তাদের সবার জন্যে থাকবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (ভাই বোন মিলে) তারা যদি এর চাইতে বেশী হয় তবে (মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সস্পদের) এক-তৃতীয়াংশে তারা সবাই (সমান) অংশীদার হবে, অবশ্য (এ সম্পত্তির উপর) মৃত ব্যক্তির যা অসিয়ত করা আছে কিংবা কোনো ঋণ (পরিশোধ) -এর পরই (এ ভাগাভাগি করা যাবে) , তবে (খেয়াল রাখতে হবে) , কখনো উত্তারাধিকারীদের অধিকার পাওয়ার পথে তা যেন ক্ষতিকর হয়ে না দাঁড়ায়, কেননা এ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ; আর আল্লাহ তা’আলা সর্বজ্ঞানী ও পরম ধৈর্যশীল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩﴿
﴾ ৪:১৩ ﴿
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿١٣﴾
এগুলো হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সীমারেখা; যে ব্যক্তি (এর ভেতরে থেকে) তাঁর ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে সে অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে; (মূলত) এ হবে এক মহাসাফল্য।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪﴿
﴾ ৪:১৪ ﴿
وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿١٤﴾
(অপরদিকে) যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের না-ফরমানী করবে এবং তাঁর (নির্ধারিত) সীমারেখা লংঘন করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে (জ্বলন্ত) আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে অনন্তকাল ধরে থাকবে, তার জন্যে (রয়েছে) অপমানকর শাস্তি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫﴿
﴾ ৪:১৫ ﴿
وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ فَإِنْ شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا ﴿١٥﴾
তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা (ব্যভিচারের) দুষ্কর্ম নিয়ে আসবে তাদের (বিচারের) উপর তোমরা নিজেদের মধ্যে থেকে চার জন সাক্ষী যোগাড় করবে, অতপর সে চার জন লোক যদি (ইতিবাচক) সাক্ষ্য প্রদান করে তাহলে সে নারীদের তোমরা ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখবে, যতোদিন না মৃত্যু এসে তাদের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেয়, অথবা আল্লাহ তা’আলা তাদের জন্যে অন্য কোনো ব্যবস্থা না করেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬﴿
﴾ ৪:১৬ ﴿
وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنْكُمْ فَآذُوهُمَا فَإِنْ تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَحِيمًا ﴿١٦﴾
আর তোমাদের মধ্যে যে দুজন (নর-নারী) এ (ব্যভিচারের) কাজ করবে, তাদের দুজনকেই তোমরা শাস্তি দেবে, (হাঁ) তারা যদি তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তাহলে তাদের (শাস্তি দেয়া) থেকে তোমরা সরে দাঁড়াও, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তাওবা কবুলকারী এবং পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৭﴿
﴾ ৪:১৭ ﴿
إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿١٧﴾
আল্লাহ তা’আলার উপর শুধু তাদের তাওবাই (কবুলযোগ্য) হবে, যারা ভুলবশত গুনাহের কাজ করে, অতপর (জানামাত্রই) তারা দ্রুত (তা থেকে) ফিরে আসে, (মূলত) এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের উপর আল্লাহ তা’আলা দয়াপরবশ হন; আর আল্লাহ তা’আলাই হচ্ছেন সর্ববিষয়ে জ্ঞানী, কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৮﴿
﴾ ৪:১৮ ﴿
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ﴿١٨﴾
আর তাদের জন্যে তাওবা (করার কোনো অবকাশই) নেই, যারা (আজীবন) শুধু গুনাহের কাজই করে, এভাবেই (গুনাহের কাজ করতে করতে) একদিন তাদের কারো (দুয়ারে) যখন মৃত্যু এসে হাযির হয়, তখন সে বলে (হে আল্লাহ) , আমি এখন তাওবা করলাম, (আসলে) তাদের জন্যেও (কোনো তাওবা) নয় যারা কাফের অবস্থায় ইহলীলা সাংগ করলো; এরা হচ্ছে সেসব লোক, যাদের জন্যে আমি কঠিন যন্ত্রণাদায়ক আযাবের ব্যবস্থা করে রেখেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৯﴿
﴾ ৪:১৯ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا ﴿١٩﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো তোমাদের জন্যে কখনো জোর করে বিধবা নারীদের উত্তরাধিকারের পণ্য বানানো বৈধ নয়, (বিয়ের সময় মোহর হিসেবে) যা তোমরা তাদের দিয়েছো তার কোনো অংশ তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়ার জন্যে তোমরা তাদের আটক করে রেখো না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা প্রকাশ্য কোনো ব্যভিচারের কাজে লিপ্ত না হয়, তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো, এমনকি তোমরা যদি তাদের পছন্দ নাও করো, এমনও তো হতে পারে, যা কিছু তোমরা পছন্দ করো না তার মধ্যেই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে অফুরন্ত কল্যাণ নিহিত রেখে দিয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২০﴿
﴾ ৪:২০ ﴿
وَإِنْ أَرَدتُّمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا ﴿٢٠﴾
আর যদি তোমরা এক স্ত্রীকে আরেকজন স্ত্রী দ্বারা বদল করার সংকল্প করেই নাও, তাহলে (মোহর হিসেবে) বিপুল পরিমাণ সোনাদানা দিলেও তার কোনো অংশ তোমরা তার কাছ থেকে ফেরত নিয়ো না; তোমরা কি (তাদের উপর মিথ্যা) অপবাদ দিয়ে ও সুস্পষ্ট পাপাচার করে তা ফেরত নিতে চাচ্ছো?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২১﴿
﴾ ৪:২১ ﴿
وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا ﴿٢١﴾
তোমরা (মোহরানার) সে অংশটুকু ফেরত নেবেই বা কি করে? অথচ (বিভিন্নভাবে) তোমরা তো একে অপরের স্বাদ গ্রহণ করেছো, (তাছাড়া এর মাধ্যমে) তারা তোমাদের কাছ থেকে (বিয়ে বন্ধনের) পাকাপাকি একটা প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নিয়েছিলো (যা তোমরা ভেংগে দিয়েছো) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২২﴿
﴾ ৪:২২ ﴿
وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا ﴿٢٢﴾
নারীদের মধ্য থেকে যাদের তোমাদের পিতা (পিতামহ) -রা বিয়ে করেছে তাদের তোমরা কখনো বিয়ে করো না, (হ্যাঁ, এ নির্দেশ আসার) আগে যা হয়ে গেছে তা তো হয়েই গেছে, এটি (আসলেই) ছিলো এক অশ্লীল (নির্লজ্জ) কাজ এবং খুবই ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট আচরণ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২৩﴿
﴾ ৪:২৩ ﴿
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿٢٣﴾
(বিয়ের জন্যে) তোমাদের উপর হারাম করে দেয়া হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাইদের মেয়ে, বোনদের মেয়ে, (আরো হারাম করা হয়েছে) সেসব মা যারা তোমাদের বুকের দুধ খাইয়েছে, তোমাদের দুধ (খাওয়ার সাথী) বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা, তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছো তাদের আগের স্বামীর ঔরসজাত মেয়েরা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে রয়েছে, (অবশ্য) যদি তাদের সাথে তোমাদের (শুধু বিয়ে হয়ে থাকে কিন্তু) তোমরা কখনো তাদের সাথে সহবাস করোনি, তাহলে (তাদের আগের স্বামীর মেয়েদের বিয়ে করায়) তোমাদের জন্যে কোনো দোষ নেই, (তোমাদের জন্যে) তোমাদের নিজেদের ঔরসজাত ছেলেদের স্ত্রীদের হারাম করা হয়েছে; (উপরন্তু বিয়ের জন্যে) তোমাদের উপর দুই বোনকে একত্র করাও (হারাম করা হয়েছে) , তবে যা কিছু (এর) আগে সংঘটিত হয়ে গেছে (তা তো হয়েই গেছে, সে ব্যাপারে) অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা বড়োই ক্ষমাশীল ও একান্ত দয়াবান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২৪﴿
﴾ ৪:২৪ ﴿
وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُمْ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿٢٤﴾
নারীদের মাঝে বিয়ের দুর্গে অবস্থানকারীদেরও (তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে) , তবে যেসব নারী (যুদ্ধবন্দী হয়ে) তোমাদের অধিকারে এসে পড়েছে তারা ব্যতীত, এ হচ্ছে (বিয়ের ব্যাপারে) তোমাদের উপর আল্লাহ তা’আলার বিধান, এর বাইরে যে সব (নারী) রয়েছে, তাদের তোমাদের জন্যে (এ শর্তে) হালাল করা হয়েছে যে, তোমরা (বিয়ের জন্যে) একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ (মোহর) বিনিময় আদায় করে দেবে এবং তোমরা (বিয়ের) সংরক্ষিত দুর্গে অবস্থান করবে, তোমরা অবাধ যৌনস্পৃহারণে (নিয়োজিত) হবে না; অতপর তাদের মধ্যে যাদের তোমরা এর মাধ্যমে উপভোগ করবে, তাদের (মোহরের) বিনিময় ফরয হিসেবে আদায় করে দাও, (অবশ্য একবার) এ মোহর নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর যে (পরিমাণের) উপর তোমরা উভয়ে একমত হও, তাতে কোনো দোষের কিছু নেই, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা সর্বজ্ঞ, কুশলী,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২৫﴿
﴾ ৪:২৫ ﴿
وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِكُمْ بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ فَانْكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلَا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ وَأَنْ تَصْبِرُوا خَيْرٌ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٢٥﴾
আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির স্বাধীন ও সম্ভ্রান্ত কোনো ঈমানদার নারীকে বিয়ে করার (আর্থিক ও সামাজিক) সামর্থ না থাকে, তাহলে সে যেন তোমাদের অধিকারভুক্ত কোনো ঈমানদার নারীকে বিয়ে করে নেয়; তোমাদের ঈমান সম্পর্কে তো আল্লাহ তা’আলা সম্যক অবগত আছেন; (ঈমানের মাপকাঠিতে) তোমরা তো একই রকম, অতপর তোমরা তাদের (অধিকারভুক্তদের) অভিভাবকদের অনুমতি নিয়ে বিয়ে করো এবং ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক তাদের যথার্থ মোহরানা দিয়ে দাও (এর উদ্দেশ্য হচ্ছে) , তারা যেন বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে যায়(স্বেচ্ছাচারিণী হয়ে) পরপুরুষকে আনন্দদানের কাজে নিয়োজিত না থাকে, অতপর যখন তাদের বিয়ের দুর্গে অবস্থান করে দেয়া হলো, তখন যদি তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, (তখন) তাদের উপর আরোপিত শাস্তির পরিমাণ কিন্তু (বিয়ের) দুর্গে অবস্থানকারিণী স্বাধীন (সম্ভ্রান্ত) নারীদের উপর (আরোপিত শাস্তির) অর্ধেক; তোমাদের মধ্যে যাদের ব্যভিচারে লিপ্ত হবার আশংকা থাকবে, (শুধু) তাদের জন্যেই এ (রেয়াত) -টুকু (দেয়া হয়েছে) ; কিন্তু তোমরা যদি ধৈর্য ধারণ করতে পারো, অবশ্যই তা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর এবং আল্লাহ তা’আলা একান্ত ক্ষমাপরায়ণ ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২৬﴿
﴾ ৪:২৬ ﴿
يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴿٢٦﴾
আল্লাহ তা’আলা (তাঁর বাণীসমূহ) তোমাদের কাছে খুলে খুলে বলে দিতে চান এবং তিনি তোমাদের তোমাদের পূর্ববর্তী (পুণ্যবান) মানুষদের পথে পরিচালিত করতে চান, আর (এর মাধ্যমে) আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ক্ষমা (অনুগ্রহ) করতে চান, আল্লাহ তা’আলা সর্বজ্ঞ, কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২৭﴿
﴾ ৪:২৭ ﴿
وَاللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلًا عَظِيمًا ﴿٢٧﴾
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর ক্ষমাপরবশ হতে চান, (অপরদিকে) যারা নিজেদের (পাশবিক) লালসার অনুসরণ করে, তারা চায় তোমরা, সে ক্ষমার পথ থেকে, বহুদূরে (নিক্ষিপ্ত হয়ে গোমরাহ) থেকে যাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২৮﴿
﴾ ৪:২৮ ﴿
يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا ﴿٢٨﴾
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর থেকে বিধি নিষেধের বোঝা লঘু করে (তোমাদের জীবন সহজ করে) দিতে চান, (কেননা) মানুষকে দুর্বল করে পয়দা করা হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:২৯﴿
﴾ ৪:২৯ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا ﴿٢٩﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, (কখনো) তোমরা একে অপরের ধন-সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, (হ্যাঁ, ) ব্যবসা-বাণিজ্য যা করবে তা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই করবে এবং কখনো (স্বার্থের কারণে) একে অপরকে হত্যা করো না, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি মেহেরবান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩০﴿
﴾ ৪:৩০ ﴿
وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا ﴿٣٠﴾
যে কেউই বাড়াবাড়ি ও যুলুম করতে গিয়ে এই (হত্যার) কাজ করে, অচিরেই আমি তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেবো, (আর) আল্লাহর পক্ষে এ কাজ একেবারেই সহজ (মোটেই কঠিন কিছু নয়) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩১﴿
﴾ ৪:৩১ ﴿
إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلًا كَرِيمًا ﴿٣١﴾
যদি তোমরা সে সমস্ত বড়ো বড়ো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে তোমাদের (ছোটোখাটো) গুনাহ আমি (এমনিই) তোমাদের (হিসাব) থেকে মুছে দেবো এবং অত্যন্ত সম্মানজনক স্থানে আমি তোমাদের প্রবেশ করাবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩২﴿
﴾ ৪:৩২ ﴿
وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا اكْتَسَبُوا وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا اكْتَسَبْنَ وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِ شَيْءٍ عَلِيمًا ﴿٣٢﴾
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একজনের উপর আরেকজনকে যা (কিছু বেশী) দান করেছেন, তোমরা (তা পাওয়ার) লালসা করো না, যা কিছু পুরুষরা উপার্জন করলো তা তাদেরই অংশ হবে; আবার নারীরা যা কিছু অর্জন করলো তাও (হবে) তাদেরই অংশ; তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে তাঁর অনুগ্রহ (পাওয়ার জন্যে) প্রার্থনা করো; অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক ওয়াকেফহাল রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩৩﴿
﴾ ৪:৩৩ ﴿
وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا ﴿٣٣﴾
পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে আমি সবার জন্যেই অভিভাবক বানিয়ে রেখেছি; যাদের সাথে তোমাদের কোনো চুক্তি কিংবা অংগীকার রয়েছে তাদের পাওনা (পুরোপুরিই) আদায় করে দেবে, আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই প্রতিটি বিষয়ের উপর সাক্ষী ¬হয়ে আছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩৪﴿
﴾ ৪:৩৪ ﴿
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا ﴿٣٤﴾
পুরুষরা হচ্ছে নারীদের (কাজকর্মের) উপর প্রহরী, কারণ আল্লাহ তা’আলা এদের একজনকে আরেকজনের উপর (কিছু বিশেষ) মর্যাদা প্রদান করেছেন, (পুরুষের এই মর্যাদার) একটি (বিশেষ) কারণ হচ্ছে, (প্রধানত) তারাই (দাম্পত্য জীবনের জন্যে) নিজেদের অর্থ সম্পদ ব্যয় করে; অতএব সতী-সাধ্বী নারী হবে (একান্ত) অনুগত, (পুরুষদের) অনুপস্থিতিতে তারা (স্বয়ং) আল্লাহর তত্ত্বাবধানে (থেকে) নিজেদের (ইযযত-আবরু ও অন্যান্য) সব অদেখা কিছুর রক্ষণাবেক্ষণ করবে; আর যখন কোনো নারীর অবাধ্যতার (ঔদ্ধত্যের) ব্যাপারে তোমরা আশংকা করো, তখন তোমরা তাদের (ভালো কথার) উপদেশ দাও, (তা কার্যকর না হলে) তাদের সাথে একই বিছানায় থাকা ছেড়ে দাও, (তাতেও যদি তারা সংশোধিত না হয় তাহলে চ’ড়ান্ত ব্যবস্থা হিসেবে) তাদের (মৃদু) প্রহার করো, তবে যদি তারা (এমনিই) অনুগত হয়ে যায়, তাহলে তাদের (খামাখা কষ্ট দেয়ার) উপর অজুহাত খুঁজে বেড়িয়ো না; অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবার চাইতে মহান!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩৫﴿
﴾ ৪:৩৫ ﴿
وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا ﴿٣٥﴾
আর যদি তাদের (স্বামী-স্ত্রী এ) দুজনের মাঝে বিচ্ছেদের আশংকা দেখা দেয়, তাহলে তার পক্ষ থেকে একজন সালিস এবং তার (স্ত্রীর) পক্ষ থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করো, (আসলে) উভয়ে যদি নিজেদের নিষ্পত্তি চায়, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাদের (পুনরায় মীমাংসায় পৌঁছার) তাওফীক দেবেন, আল্লাহ তা’আলা নিশ্চয়ই সম্যক জ্ঞানী, সর্ববিষয়ে ওয়াকেফহাল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩৬﴿
﴾ ৪:৩৬ ﴿
وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا ﴿٣٦﴾
তোমরা এক আল্লাহ তা’আলার ইবাদাত করো, কোনো কিছুকেই তাঁর সাথে অংশীদার বানিয়ো না এবং পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো, (আরো) যারা (তোমাদের) ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, এতীম, মিসকীন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অত্মীয় প্রতিবেশী, (তোমার) পথচারী সংগী ও তোমার অধিকারভুক্ত (দাস দাসী, তাদের সবার সাথেও ভালো ব্যাবহার করো) , অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা এমন মানুষকে কখনো পছন্দ করেন না, যে অহংকারী ও দাম্ভিক।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩৭﴿
﴾ ৪:৩৭ ﴿
الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا ﴿٣٧﴾
(আল্লাহ তা’আলা এমন ধরনের লোকদেরও ভালোবাসেন না) যারা নিজেরা (যেমন) কার্পণ্য করে, (তেমনি) অন্যদেরও কার্পণ্য করার আদেশ করে, (তাছাড়া) আল্লাহ তা’আলা তাদের যা কিছু (ধন-সম্পদের) অনুগ্রহ দান করেছেন তারা তা লুকিয়ে রাখে; আমি কাফেরদের জন্যে এক লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩৮﴿
﴾ ৪:৩৮ ﴿
وَالَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَنْ يَكُنِ الشَّيْطَانُ لَهُ قَرِينًا فَسَاءَ قَرِينًا ﴿٣٨﴾
(আল্লাহ তা’আলা তাদেরও পছন্দ করেন না) যারা লোক দেখানোর উদ্দেশে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তারা আল্লাহ তা’আলা এবং শেষ বিচারের দিনকেও বিশ্বাস করে না; (আর) শয়তান যদি কোনো ব্যক্তির সাথী হয় তাহলে (বুঝতে হবে) সে বড়োই খারাপ সাথী (পেলো) !
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৩৯﴿
﴾ ৪:৩৯ ﴿
وَمَاذَا عَلَيْهِمْ لَوْ آمَنُوا بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقَهُمُ اللَّهُ وَكَانَ اللَّهُ بِهِمْ عَلِيمًا ﴿٣٩﴾
কি (দুর্যোগ) তাদের উপর দিয়ে বয়ে যেতো যদি তারা (শয়তানকে সাথী বানানোর বদলে) আল্লাহ তা’আলার উপর ঈমান আনতো এবং ঈমান আনতো পরকাল দিবসের উপর, সর্বোপরি আল্লাহ তা’আলা তাদের যা কিছু দান করেছেন তা থেকে তারা খরচ করতো; (বস্তুত) আল্লাহ তা’আলা তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে ভালোভাবেই ওয়াকেফহাল রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪০﴿
﴾ ৪:৪০ ﴿
إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿٤٠﴾
আল্লাহ তা’আলা কারো উপর এক বিন্দু পরিমাণও যুলুম করেন না, (বরং তিনি তো এতো দয়ালু যে, ) নেকীর কাজ যদি একটি হয় তবে তিনি তার পরিমাণ দ্বিগুণ করে দেন এবং (এর সাথে) তিনি নিজ থেকেও বড়ো কিছু পুরস্কার যোগ করেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪১﴿
﴾ ৪:৪১ ﴿
فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا ﴿٤١﴾
সেদিন (তাদের অবস্থাটা) কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের (কাজে) সাক্ষী (হিসেবে তাদের নবীকে) এনে হাযির করবো এবং (হে মোহাম্মদ, ) এদের সবার কাছে সাক্ষী হিসেবে আমি (সেদিন) তোমাকে নিয়ে আসবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪২﴿
﴾ ৪:৪২ ﴿
يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّى بِهِمُ الْأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا ﴿٤٢﴾
সেদিন যারা আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করেছে এবং (তাঁর) রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে, তারা কামনা করবে, মাটি যদি তাদের নিজেদের সাথে মিশে একাকার হয়ে যেতো! (কারণ সেদিন) কোনো মানুষ কোনো কথাই (মহাবিচারক) আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে গোপন করতে পারবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪৩﴿
﴾ ৪:৪৩ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا ﴿٤٣﴾
হে ঈমানদাররা, তোমরা কখনো নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের কাছে যেও না, যতোক্ষণ পর্যন্ত (তোমরা এতোটুকু নিশ্চিত না হবে যে, ) তোমরা যা কিছু বলছো তা তোমরা (ঠিক ঠিক) জানতে (ও বুঝতে) পারছো, (আবার) অপবিত্র অবস্থায়ও (নামাযের কাছে যেও) না, যতোক্ষণ না তোমরা (পুরোপুরিভাবে) গোসল সেরে নেবে, তবে পথচারী অবস্থায় থাকলে তা ভিন্ন কথা, (আর) যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে পড়ো অথবা প্রবাসে থাকো, কিংবা তোমাদের কেউ যদি পায়খানা থেকে (ফিরে) আসো অথবা তোমরা যদি (দৈহিক মিলনের সাথে) নারী স্পর্শ করো (তাহলে পানি দিয়ে নিজেদের পরিষ্কার করে নেবে) , তবে যদি (এসব অবস্থায়) পানি না-ই পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নেবে (এবং তার পদ্ধতি হচ্ছে) , তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও তোমাদের হাত মাসেহ করে নেবে, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা গুনাহ মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪৪﴿
﴾ ৪:৪৪ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِنَ الْكِتَابِ يَشْتَرُونَ الضَّلَالَةَ وَيُرِيدُونَ أَنْ تَضِلُّوا السَّبِيلَ ﴿٤٤﴾
(হে নবী, ) তুমি কি তাদের (অবস্থা) দেখোনি, যাদের (আসমানী) গ্রন্থের (সামান্য) একটা অংশ দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু তারা গোমরাহীর পথই কিনে নিচ্ছে, তারা তো চায় তোমরা যেন পথভ্রষ্ট হয়ে যাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪৫﴿
﴾ ৪:৪৫ ﴿
وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَائِكُمْ وَكَفَى بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَى بِاللَّهِ نَصِيرًا ﴿٤٥﴾
তোমাদের দুশমনদের আল্লাহ তা’আলা ভালো করেই জানেন; অভিভাবক হিসেবে (যেমন) আল্লাহ তা’আলা যথেষ্ট, তেমনি সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪৬﴿
﴾ ৪:৪৬ ﴿
مِنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَاعِنَا لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانْظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَكِنْ لَعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿٤٦﴾
ইহুদী জাতির মধ্যে কিছু লোক এমন আছে যারা (রসূলের) কথাগুলো মূ (অর্থের) স্থান থেকে সরিয়ে (বিকৃত করে) দেয় এবং তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং (সাথে সাথে) অমান্যও করলাম, (আবার বলে) আমাদের কথা শুনুন, (আসলে ইসলামী) জীবন বিধানে অপবাদদানের উদ্দেশ্যে নিজেদের জিহ্বাকে কুঞ্চিত করে এরা বলে (হে নবী) , আপনি শুনুন (সাথে সাথেই বলে) , আপনার শ্রবণশক্তি রহিত হয়ে যাক, (অথচ এসব কথা না বলে) তারা যদি বলতো (হে নবী) , আমরা (আপনার কথা) শুনলাম এবং (তা) মেনে নিলাম এবং আপনি আমাদের কথা শুনুন, আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন, তাহলে এ বিষয়টা তাদের জন্যে কতোই না ভালো হতো, তাই হতো (বরং) তাদের জন্যে সংগত, কিন্তু সত্য অস্বীকার করার কারণে তাদের উপর আল্লাহ তা’আলা অভিশাপ দিয়েছেন, অতপর (তাদের) সামান্য কিছু লোকই মাত্র ঈমান এনে থাকে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪৭﴿
﴾ ৪:৪৭ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ آمِنُوا بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِمَا مَعَكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَطْمِسَ وُجُوهًا فَنَرُدَهَا عَلَى أَدْبَارِهَا أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّا أَصْحَابَ السَّبْتِ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا ﴿٤٧﴾
হে মানুষেরা, যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে, তোমরা সেই গ্রন্থের উপর ঈমান আনো, যা আমি (মোহাম্মদের উপর) নাযিল করেছি (এ হচ্ছে এমন এক কিতাব) , যা তোমাদের কাছে মজুদ (পূর্ববর্তী) কিতাবের সত্যতা স্বীকার করে, (ঈমান আনো) সে সময় আসার আগে, যখন আমি (পাপিষ্ঠদের) চেহারাসমূহ বিকৃত করে তাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেবো, অথবা (ইহুদীদের পবিত্র দিন) শনিবারের অবমাননাকারীদের প্রতি আমি যেভাবে অভিশাপ নাযিল করেছি (তেমনি কোনো বড়ো বিপর্যয় আসার আগেই ঈমান আনো) , আর আল্লাহ তা’আলার হুকুম, সে তো অবধারিত!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪৮﴿
﴾ ৪:৪৮ ﴿
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا ﴿٤٨﴾
নিসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা কখনো (সে গুনাহ) মাফ করবেন না (যেখানে) তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা হয়, এ ছাড়া অন্য সব গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার বানালো সে সত্যিই (আল্লাহর উপর) মিথ্যা আরোপ করলো এবং একটা মহাপাপে (নিজেকে) জড়ালো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৪৯﴿
﴾ ৪:৪৯ ﴿
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ یُزَكُّوْنَ اَنْفُسَهُمْ ؕ بَلِ اللّٰهُ یُزَكِّیْ مَنْ یَّشَآءُ وَ لَا یُظْلَمُوْنَ فَتِیْلًا﴿٤٩﴾
(হে নবী, ) তুমি কি তাদের অবস্থা দেখোনি যারা নিজেদের খুব পবিত্র মনে করে, অথচ আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা তাকেই পবিত্র করেন এবং (সেদিন) তাদের উপর এক বিন্দু পরিমাণও যুলুম করা হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫০﴿
﴾ ৪:৫০ ﴿
انْظُرْ كَيْفَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَكَفَى بِهِ إِثْمًا مُبِينًا ﴿٥٠﴾
(এদের প্রতি) তাকিয়ে দেখো কিভাবে এরা আল্লাহ তা’আলার উপর মিথ্যা আরোপ করছে, প্রকাশ্য গুনাহ হিসেবে এটাই তো (এদের জন্যে) যথেষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫১﴿
﴾ ৪:৫১ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا هَؤُلَاءِ أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا سَبِيلًا ﴿٥١﴾
তুমি কি তাদের (অবস্থা) দেখোনি, যাদের (আল্লাহ তা’আলার) কিতাবের কিছু অংশ দান করা হয়েছিলো, (তারা আস্তে আস্তে) নানা ধরনের ভিত্তিহীন অমূক যাদুমন্ত্র জাতীয় জিনিস ও (বহুতরো) মিথ্যা মাবুদের উপর ঈমান আনতে শুরু করলো এবং এ কাফেরদের সম্পর্কে তারা বলতে লাগলো, ঈমানদারদের তুলনায় এরাই তো সঠিক পথের উপর রয়েছে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫২﴿
﴾ ৪:৫২ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ وَمَنْ يَلْعَنِ اللَّهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ نَصِيرًا ﴿٥٢﴾
এরাই হচ্ছে সেই (হতভাগ্য) মানুষগুলো, যাদের উপর আল্লাহ তা’আলা অভিসম্পাত করেছেন, আর আল্লাহ তা’আলা যার উপর অভিশাপ পাঠান তার জন্যে তুমি কখনো কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫৩﴿
﴾ ৪:৫৩ ﴿
أَمْ لَهُمْ نَصِيبٌ مِنَ الْمُلْكِ فَإِذًا لَا يُؤْتُونَ النَّاسَ نَقِيرًا ﴿٥٣﴾
অথবা (এরা কি মনে করে যে) , তাদের ভাগে রাজত্ব (ও প্রাচুর্য সংক্রান্ত কিছু বরাদ্দ করা) আছে ? (যদি সত্যি সত্যিই তেমন কিছু এদের দেয়া হতো) তাহলে এরা তো খেজুর পাতার একটি ঝিল্লিও কাউকে দিতে চাইতো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫৪﴿
﴾ ৪:৫৪ ﴿
أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ فَقَدْ آتَيْنَا آلَ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَآتَيْنَاهُمْ مُلْكًا عَظِيمًا ﴿٥٤﴾
অথবা এরা কি অন্যান্য মানব সন্তানদের ব্যাপারে হিংসা (বিদ্বেষ) পোষণ করে, যাদের আল্লাহ তা’আলা নিজস্ব ভান্ডার থেকে (জ্ঞান, কৌশল ও রাজনৈতিক ক্ষমতা) দান করেছেন, (অথচ) আমি তো ইবরাহীমের বংশধরদেরও (আমার) গ্রন্থ (ও সেই গ্রন্থলব্ধ) জ্ঞান-বিজ্ঞান দান করেছিলাম, (এর সাথে) আমি তাদের (এক বিশাল পরিমাণ) রাজত্বও দান করেছিলাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫৫﴿
﴾ ৪:৫৫ ﴿
فَمِنْهُمْ مَنْ آمَنَ بِهِ وَمِنْهُمْ مَنْ صَدَّ عَنْهُ وَكَفَى بِجَهَنَّمَ سَعِيرًا ﴿٥٥﴾
অতপর তাদের মধ্যে অল্প কিছু লোকই তার উপর ঈমান এনেছে, আবার কেউ কেউ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে; এদের (পুড়িয়ে দেয়ার) জন্যে জাহান্নামই যথেষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫৬﴿
﴾ ৪:৫৬ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًا كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا الْعَذَابَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمًا ﴿٥٦﴾
যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে তাদের আমি অচিরেই জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে দেবো, অতপর (পুড়ে যখন) তাদের দেহের চামড়া গলে যাবে তখন আমি তার বদলে নতুন চামড়া বানিয়ে দেবো, যাতে করে তারা আযাব ভোগ করতে পারে, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা মহাপরাক্রমশালী, বিজ্ঞ কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫৭﴿
﴾ ৪:৫৭ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا لَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِيلًا ﴿٥٧﴾
যারা (আমার) আয়াত সমূহ বিশ্বাস করেছে এবং ভালো কাজ করেছে, তাদের অচিরেই আমি এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে তারা (থাকবে) চিরকাল, তাদের জন্যে থাকবে পূতপবিত্র (সংগী) ও সংগিনীরা, (সর্বোপরি) আমি তাদের এক চির স্নিগ্ধ ছায়ায় প্রবেশ করিয়ে দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫৮﴿
﴾ ৪:৫৮ ﴿
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُمْ بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا ﴿٥٨﴾
(হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, ) আল্লাহ তা’আলা তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতসমূহ তাদের (যথার্থ) মালিকের কাছে সোপর্দ করে দেবে, আর যখন মানুষের মাঝে (কোনো কিছুর) ব্যাপারে তোমরা বিচার ফয়সালা করো তখন তা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে করবে; আল্লাহ তা’আলা তোমাদের যা কিছু উপদেশ দেন তা সত্যিই সুন্দর! আল্লাহ তা’আলা সবকিছু দেখেন এবং শোনেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৫৯﴿
﴾ ৪:৫৯ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا ﴿٥٩﴾
হে ঈমানদার মানুষেরা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রসূলের এবং সেসব লোকদের, যারা তোমাদের মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত, অতপর কোনো ব্যাপারে তোমরা যদি একে অপরের সাথে মতবিরোধ করো, তাহলে সে বিষয়টি (ফয়সালার জন্যে) আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহর উপর এবং শেষ বিচার দিনের উপর ঈমান এনে থাকো! (তাহলে) এই পদ্ধতিই হবে (তোমাদের বিরোধ মীমাংসার) সর্বোৎকৃষ্ট উপায় এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়সমূহের ব্যাখ্যার দিক থেকেও (এটি) হচ্ছে উত্তম পন্থা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬০﴿
﴾ ৪:৬০ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا ﴿٦٠﴾
(হে নবী, ) তুমি কি তাদের (অবস্থা) দেখোনি যারা মনে করে, তারা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছে যা তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সে (কিতাবের) উপরও ঈমান এনেছে, যা তোমার আগে নাযিল করা হয়েছে, কিন্তু (ফয়সালার সময় আমার কিতাবের বদলে) এরা মিথ্যা মাবুদদের কাছ থেকেই ফয়সালা পেতে চায়, অথচ এদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো তারা এসব (মিথ্যা মাবুদদের) অস্বীকার করবে; (আসল কথা হচ্ছে) শয়তান এদের সত্য থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬১﴿
﴾ ৪:৬১ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنْكَ صُدُودًا ﴿٦١﴾
এদের যখন বলা হয়, আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলের উপর যা কিছু নাযিল করেছেন তোমরা তার দিকে (ফিরে) এসো, তখন তুমি এই মুনাফিকদের দেখবে, এরা তোমার কাছ থেকে (একে একে) মুখ ফিরিয়ে দূরে সরে যাচ্ছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬২﴿
﴾ ৪:৬২ ﴿
فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا ﴿٦٢﴾
অতপর তাদের কৃতকর্মের কারণে যখন তাদের উপর কোনো বিপদ-মসিবত এসে পড়ে, তখন এদের অবস্থাটা কি হয়? তারা তখন সবাই তোমার কাছে (ছুটে) আসে এবং আল্লাহর নামের কসম করে তোমাকে বলে, আমরা তো কল্যাণ ও সম্প্রীতি ছাড়া আর কিছুই চাইনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬৩﴿
﴾ ৪:৬৩ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللَّهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُلْ لَهُمْ فِي أَنْفُسِهِمْ قَوْلًا بَلِيغًا ﴿٦٣﴾
এদের মনের ভেতরে কি (অভিসন্ধি লুকিয়ে) আছে তা আল্লাহ তা’আলা ভালো করেই জানেন, তাই তুমি এদের এড়িয়ে চলো, তুমি এদের ভালো উপদেশ দাও এমন সব কথায়, যা তাদের (অন্তর) ছুঁয়ে যায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬৪﴿
﴾ ৪:৬৪ ﴿
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا ﴿٦٤﴾
(তুমি আরো বলো, ) আমি যখনই কোনো (জনপদে) কোনো রসূল পাঠিয়েছি, তাকে এ জন্যেই পাঠিয়েছি যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তার (শর্তহীন) আনুগত্য করা হবে; যখনি তারা নিজেদের উপর কোনো যুলুম করবে, তখনি তারা তোমার কাছে (ছুটে) আসবে এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে আল্লাহ তা’আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহর রসূলও (তাদের জন্যে) ক্ষমা চাইবে, এমতাবস্থায় তারা অবশ্যই আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু হিসেবে (দেখতে) পাবে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬৫﴿
﴾ ৪:৬৫ ﴿
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا ﴿٦٥﴾
না, আমি তোমার মালিকের শপথ, এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারবে না, যতোক্ষণ না তারা তাদের যাবতীয় মতবিরোধের ফয়সালায় তোমাকে (শর্তহীনভাবে) বিচারক মেনে নেবে, অতপর তুমি যা ফয়সালা করবে সে ব্যাপারে তাদের মনে আর কোনো দ্বিধাদ্বন্দ¡ থাকবে না, বরং তোমার সিদ্ধান্ত তারা সর্বান্তকরণে মেনে নেবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬৬﴿
﴾ ৪:৬৬ ﴿
وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِنْ دِيَارِكُمْ مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِنْهُمْ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا ﴿٦٦﴾
আমি যদি তাদের উপর এ আদেশ জারি করতাম যে, তোমরা নিজেদের জীবন বিসর্জন দাও অথবা তোমরা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে (অন্যত্র চলে) যাও, (তাহলে) তাদের মধ্যে সামান্য সংখ্যক মানুষই তা করতো, যেসব উপদেশ তাদের দেয়া হয়েছে তা যদি তারা মেনে চলতো, তবে তা তাদের জন্যে খুবই কল্যাণকর হতো এবং (তাদের) মানসিক স্থিরতাও (এতে করে) মযবুত হতো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬৭﴿
﴾ ৪:৬৭ ﴿
وَإِذًا لَآتَيْنَاهُمْ مِنْ لَدُنَّا أَجْرًا عَظِيمًا ﴿٦٧﴾
তাহলে আমিও আমার পক্ষ থেকে (এ জন্যে) তাদের বড়ো ধরনের পুরস্কার দিতাম,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬৮﴿
﴾ ৪:৬৮ ﴿
وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا ﴿٦٨﴾
(উপরন্তু) আমি তাদের সরল পথও দেখিয়ে দিতাম!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৬৯﴿
﴾ ৪:৬৯ ﴿
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءَ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا ﴿٦٩﴾
যারা আল্লাহ তা’আলা ও (তাঁর) রসূলের আনুগত্য করে, তারা (শেষ বিচারের দিন সেসব) পুণ্যবান মানুষদের সাথে থাকবে, যাদের উপর আল্লাহ তা’আলা প্রচুর নেয়ামত বর্ষণ করেছেন, এরা (হচ্ছে) নবী-রসূল, যারা (হেদায়াতের) সত্যতা স্বীকার করেছে, (আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গকারী) শহীদ ও অন্যান্য নেককার মানুষ, সাথী হিসেবে এরা সত্যিই উত্তম!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭০﴿
﴾ ৪:৭০ ﴿
ذَلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ عَلِيمًا ﴿٧٠﴾
এ হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে বিরাট এক অনুগ্রহ, (মূত কোনো কিছু) জানার জন্যে আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭১﴿
﴾ ৪:৭১ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا خُذُوا حِذْرَكُمْ فَانْفِرُوا ثُبَاتٍ أَوِ انْفِرُوا جَمِيعًا ﴿٧١﴾
হে ঈমানদাররা, (শত্রুর মোকাবেলায়) তোমরা (সর্বদা) তোমাদের সতর্কতা গ্রহণ করো, অতপর হয় দলে দলে বিভক্ত হয়ে, কিংবা সবাই একসংগে (শত্রুর মোকাবেলা) করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭২﴿
﴾ ৪:৭২ ﴿
وَإِنَّ مِنْكُمْ لَمَنْ لَيُبَطِّئَنَّ فَإِنْ أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ قَالَ قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيَّ إِذْ لَمْ أَكُنْ مَعَهُمْ شَهِيدًا ﴿٧٢﴾
তোমাদের মধ্যে অবশ্যই এমন (মুনাফিক) লোক থাকবে, যে (যুদ্ধের ব্যাপারে) গড়িমসি করবে, তোমাদের উপর কোনো বিপদ-মসিবত এলে সে বলবে, আল্লাহ তা’আলা সত্যিই আমার উপর বড়ো অনুগ্রহ করেছেন, (কেননা) আমি সে সময় তাদের সাথে ছিলাম না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭৩﴿
﴾ ৪:৭৩ ﴿
وَلَئِنْ أَصَابَكُمْ فَضْلٌ مِنَ اللَّهِ لَيَقُولَنَّ كَأَنْ لَمْ تَكُنْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ مَوَدَّةٌ يَا لَيْتَنِي كُنْتُ مَعَهُمْ فَأَفُوزَ فَوْزًا عَظِيمًا ﴿٧٣﴾
আর যদি তোমাদের উপর আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে (বিজয়ের) অনুগ্রহ আসে, তখন সে (এমনভাবে) বলে, যেন তার সাথে তোমাদের কোনো রকম বন্ধুত্বই ছিলো না, সে (তখন আরো) বলে, কতোই না ভালো হতো যদি আমি তাদের সাথে থাকতাম, তাহলে (আজ) আমিও অনেক বড়ো সফলতা অর্জন করতে পারতাম!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭৪﴿
﴾ ৪:৭৪ ﴿
فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ وَمَنْ يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿٧٤﴾
যেসব মানুষ পরকালের বিনিময়ে এ পার্থিব জীবন ও তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিক্রি করে দিয়েছে, সেসব মানুষের উচিত আল্লাহ তা’আলার পথে লড়াই করা, কারণ যে আল্লাহর পথে লড়াই করবে সে এ পথে জীবন বিলিয়ে দেবে কিংবা সে বিজয় লাভ করবে, অচিরেই আমি তাকে (এ উভয় অবস্থার জন্যেই) বিরাট পুরস্কার দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭৫﴿
﴾ ৪:৭৫ ﴿
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَلْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا وَاجْعَلْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ نَصِيرًا ﴿٧٥﴾
তোমাদের এ কি হয়েছে, তোমরা আল্লাহর পথে সেসব অসহায় নর-নারী ও (দুস্থ) শিশু সন্তানদের (বাঁচাবার) জন্যে লড়াই করো না, যারা (নির্যাতনে কাতর হয়ে) ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের মালিক, আমাদের যালেমদের এই জনপদ থেকে বের করে (অন্য কোথাও) নিয়ে যাও, অতপর তুমি আমাদের জন্যে তোমার কাছ থেকে একজন অভিভাবক (পাঠিয়ে) দাও, তোমার কাছ থেকে আমাদের জন্যে একজন সাহায্যকারী পাঠাও!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭৬﴿
﴾ ৪:৭৬ ﴿
الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا ﴿٧٦﴾
যারা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান এনেছে, তারা (সর্বদা) আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, আর যারা (আল্লাহ তা’আলাকে) অস্বীকার করেছে তারা লড়াই করে মিথ্যা মাবুদদের পথে, অতএব তোমরা যুদ্ধ করো শয়তান ও তার চেলা-চামুন্ডাদের বিরুদ্ধে (তোমরা সাহস হারিয়ো না) , অবশ্যই শয়তানের ষড়যন্ত্র খুবই দুর্বল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭৭﴿
﴾ ৪:৭৭ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللَّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةً وَقَالُوا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا الْقِتَالَ لَوْلَا أَخَّرْتَنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ قُلْ مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِمَنِ اتَّقَى وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيلًا ﴿٧٧﴾
(হে নবী, ) তুমি কি তাদের অবস্থা দেখোনি, যাদের (প্রথম দিকে) যখন বলা হয়েছিলো, তোমরা (আপাতত লড়াই থেকে) নিজেদের হাত গুটিয়ে রাখো, (এখন) নামায প্রতিষ্ঠা করো এবং যাকাত প্রদান করো, তখন তারা জেহাদের জন্য অস্থির হয়ে পড়েছিলো, অথচ যখন (পরবর্তী সময়ে) তাদের উপর (সত্যি সত্যিই) লড়াইর হুকুম নাযিল করা হলো (তখন) ! এদের একদল লোক তো (প্রতিপক্ষের) মানুষদের এমনভাবে ভয় করতে শুরু করলো, যেমনি ভয় শুধু আল্লাহ তা’আলাকেই করা উচিত; অথবা তার চাইতেও বেশী ভয়! তারা আরো বলতে শুরু করলো, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের উপর যুদ্ধের এ হুকুম (এতো তাড়াতাড়ি) জারি করতে গেলে কেন? কতো ভালো হতো যদি তুমি আমাদের সামান্য কিছুটা অবকাশ দিতে? (হে নবী, ) তুমি বলো, দুনিয়ার এ ভোগ সামগ্রী অত্যন্ত সামান্য; যে ব্যক্তি (আল্লাহ তা’আলাকে) ভয় করে, তার জন্যে পরকাল অনেক উত্তম। আর (সেই পরকালে) তোমাদের উপর কণামাত্রও কিন্তু অবিচার করা হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭৮﴿
﴾ ৪:৭৮ ﴿
أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ وَإِنْ تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُوا هَذِهِ مِنْ عِنْدِكَ قُلْ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا ﴿٧٨﴾
তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি তোমরা যদি (কোনো) মযবুত দুর্গেও থাকো (সেখানেও মৃত্যু এসে হাযির হবে। এদের অবস্থা হচ্ছে) , যখন কোনো কল্যাণ তাদের স্পর্শ করে তখন তারা বলে, (হ্যাঁ) এ তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে, অপরদিকে যখন কোনো ক্ষতি (ও অকল্যাণ) তাদের স্পর্শ করে তখন তারা বলে, এ (সব) তো এসেছে তোমার কাছ থেকে, তুমি (তাদের) বলে দাও, (কল্যাণ-অকল্যাণ) সব কিছুই তো আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে; এ জাতির হয়েছে কি, এরা মনে হয় কথাটি বুঝতেই চায় না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৭৯﴿
﴾ ৪:৭৯ ﴿
مَا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِكَ وَأَرْسَلْنَاكَ لِلنَّاسِ رَسُولًا وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا ﴿٧٩﴾
যে কল্যাণই তুমি লাভ করো (না কেন, মনে রেখো) , তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, আর যেটুকু অকল্যাণ তোমার উপর আসে তা আসে তোমার নিজের কাছ থেকে; আমি তোমাকে মানুষদের জন্যে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি; আর সাক্ষী হিসেবে তো আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮০﴿
﴾ ৪:৮০ ﴿
مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا ﴿٨٠﴾
যে ব্যক্তি রসূলের আনুগত্য করে সে (যেন) আল্লাহরই আনুগত্য করে, আর যে ব্যক্তি (তার আনুগত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, (মনে রেখো) তাদের উপর আমি তোমাকে প্রহরী বানিয়ে পাঠাইনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮১﴿
﴾ ৪:৮১ ﴿
وَيَقُولُونَ طَاعَةٌ فَإِذَا بَرَزُوا مِنْ عِنْدِكَ بَيَّتَ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ غَيْرَ الَّذِي تَقُولُ وَاللَّهُ يَكْتُبُ مَا يُبَيِّتُونَ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا ﴿٨١﴾
তারা (মুখে মুখে) বলে, (আমরা তোমার) আনুগত্য (স্বীকার করি) ; কিন্তু তারা যখন তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যায়, তখন তাদের একদল লোক রাতের (অন্ধকার) সময়ে একত্রিত হয়ে ঠিক তুমি যা বলো তার বিরুদ্ধেই সলাপরামর্শ করে বেড়ায়; তারা রাতের বেলায় যা কিছু করে আল্লাহ তা’আলা সেসব কর্মকান্ডগুলো (ঠিকমতোই) লিখে রাখছেন, অতএব তুমি এদের উপেক্ষা করে চলো এবং সর্ববিষয়ে শুধু আল্লাহ তা’আলার উপরই ভরসা রাখো, অভিভাবক হিসেবে তো আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮২﴿
﴾ ৪:৮২ ﴿
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا ﴿٨٢﴾
এরা কি কোরআন (ও তার আগমন সূত্র নিয়ে চিন্তা) গবেষণা করে না? এ (গ্রন্থ) -টা যদি আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে আসতো তাহলে তাতে অবশ্যই তারা অনেক গরমিল (দেখতে) পেতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮৩﴿
﴾ ৪:৮৩ ﴿
وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿٨٣﴾
এদের কাছে যখনি নিরাপত্তা কিংবা ভয়ের কোনো খবর আসে, তখন (সত্য মিথ্যা না জেনেই) এরা তা প্রচার করে বেড়ায়, অথচ তারা যদি এ (জাতীয়) খবর আল্লাহর রসূল এবং তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জানিয়ে দিতো, তাহলে এমন সব লোকেরা তা জানতে পারতো, যারা তাদের মধ্যে থেকে সেই খবরের যথার্থতা যাচাই করতে পারতো; যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ না থাকতো, তাহলে (এ প্রচারণার ফলে) হাতেগোনা কিছু লোক ছাড়া তোমাদের অধিকাংশ লোকই শয়তানের অনুসারী হয়ে যেতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮৪﴿
﴾ ৪:৮৪ ﴿
فَقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَكُفَّ بَأْسَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَاللَّهُ أَشَدُّ بَأْسًا وَأَشَدُّ تَنْكِيلًا ﴿٨٤﴾
অতএব (হে নবী) , তুমি আল্লাহর পথে লড়াই করো, (কেননা) তোমাকে শুধু তোমার কাজকর্মের জন্যেই দায়ী করা হবে এবং তুমি (তোমার সাথী) মু’মিনদের (আল্লাহ তা’আলার পথে লড়াই করতে) উদ্বুদ্ধ করতে থাকো, আল্লাহ তা’আলা হয়তো অচিরেই এ কাফেরদের শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন; (কারণ) আল্লাহ তা’আলা শক্তিতে প্রবলতর, (আবার) শাস্তিদানেও তিনি কঠোরতর।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮৫﴿
﴾ ৪:৮৫ ﴿
مَنْ يَشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً يَكُنْ لَهُ نَصِيبٌ مِنْهَا وَمَنْ يَشْفَعْ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُنْ لَهُ كِفْلٌ مِنْهَا وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِ شَيْءٍ مُقِيتًا ﴿٨٥﴾
যদি তার জন্যে কোনো ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করে, তাহলে তাতে অবশ্যই তার অংশ থাকবে, আবার যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় কাজের ব্যাপারে সুপারিশ করবে তাহলে (তার সৃষ্ট অকল্যাণেও) তার (সমপরিমাণ) অংশ থাকবে, আল্লাহ তা’আলাই হচ্ছেন (তোমাদের) সব ধরনের কাজের একক নিয়ন্ত্রণকারী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮৬﴿
﴾ ৪:৮৬ ﴿
وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا ﴿٨٦﴾
যখন তোমাদের (সালাম বা অন্য কিছু দ্বারা) অভিবাদন জানানো হয়, তখন তোমরা তার চাইতেও উত্তম পন্থায় তার জবাব দাও, (উত্তমভাবে না হলেও) কমপক্ষে (যতোটুকু সে দিয়েছে) ততোটুকুই ফেরত দাও, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা সব কিছুর (পুংখানুপুংখ) হিসাব রাখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮৭﴿
﴾ ৪:৮৭ ﴿
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا ﴿٨٧﴾
আল্লাহ তা’আলা (এক মহান সত্তা) তিনি ছাড়া (দ্বিতীয়) কোনো মাবুদ নেই; অবশ্যই তিনি তোমাদের কেয়ামতের দিন এক জায়গায় জড়ো করবেন, তাতে কোনো রকম সন্দেহ নেই; আর এমন কে আছে যে আল্লাহ তা’আলার চাইতে বেশী সত্য কথা বলতে পারে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮৮﴿
﴾ ৪:৮৮ ﴿
فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ وَاللَّهُ أَرْكَسَهُمْ بِمَا كَسَبُوا أَتُرِيدُونَ أَنْ تَهْدُوا مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا ﴿٨٨﴾
এ কি হলো তোমাদের! তোমরা মুনাফিকদের ব্যাপারে দু’দল হয়ে গেলে? (বিশেষ করে) যখন স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাই তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদের উপর অভিশাপ নাযিল করেছেন; আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং যাদের পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেন তোমরা কি তাদের সঠিক পথে আনতে চাও? (বস্তুত) আল্লাহ তা’আলা যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার (হেদায়াতের) জন্যে তুমি কোনো পথই (খুঁজে) পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৮৯﴿
﴾ ৪:৮৯ ﴿
وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً فَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ أَوْلِيَاءَ حَتَّى يُهَاجِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا ﴿٨٩﴾
তারা তো এটাই কামনা করে যে, তারা যেভাবে কুফরী করেছে তোমরাও তেমনি কুফরী করো, তাহলে তোমরা উভয়ে একই রকম হয়ে যেতে পারো, কাজেই তুমি তাদের মধ্য থেকে কাউকেও নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যতোক্ষণ না তারা আল্লাহ তা’আলার পথে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে (ঈমানের প্রমাণ) না দেবে, আর যদি তারা (হিজরতের) এ কাজটি না করে তাহলে তোমরা তাদের যেখানেই পাবে গ্রেফতার করবে এবং (যুদ্ধরত শত্রুদের সহযোগিতা করার জন্যে) তাদের হত্যা করবে, আর কোন অবস্থায়ই তাদের মধ্য থেকে কাউকে তোমরা বন্ধু ও সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯০﴿
﴾ ৪:৯০ ﴿
إِلَّا الَّذِينَ يَصِلُونَ إِلَى قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ أَوْ جَاءُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَنْ يُقَاتِلُوكُمْ أَوْ يُقَاتِلُوا قَوْمَهُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَسَلَّطَهُمْ عَلَيْكُمْ فَلَقَاتَلُوكُمْ فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ فَمَا جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلًا ﴿٩٠﴾
অবশ্য তাদের কথা আলাদা যারা তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোনো একটি সম্প্রদায়ের সাথে এসে মিলিত হবে, আবার (তাদের ব্যাপারও নয়) যারা তোমাদের সামনে এমন (মানসিক) অবস্থা নিয়ে আসে যে, (মূলত) তাদের অন্তর তোমাদের সাথে (যেমনি) লড়াই করতে বাধা দেয়, (তেমনি) নিজেদের জাতির বিরুদ্ধেও তাদের লড়াই করতে বাধা দেয়; (অপরদিকে) আল্লাহ তা’আলা যদি চাইতেন তিনি তোমাদের উপর এদের ক্ষমতাবান করে দিতে পারতেন, তেমন অবস্থায় তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে লড়াই করতো, অতএব এরা যদি তোমাদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায়, (ময়দানের) লড়াই থেকে বিরত থাকে এবং তোমাদের কাছে শান্তি ও সন্ধির প্রস্তাব পাঠায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের কোনো পন্থাই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে (উন্মুক্ত) রাখবেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯১﴿
﴾ ৪:৯১ ﴿
سَتَجِدُونَ آخَرِينَ يُرِيدُونَ أَنْ يَأْمَنُوكُمْ وَيَأْمَنُوا قَوْمَهُمْ كُلَّمَا رُدُّوا إِلَى الْفِتْنَةِ أُرْكِسُوا فِيهَا فَإِنْ لَمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُوا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ وَيَكُفُّوا أَيْدِيَهُمْ فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأُولَئِكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَيْهِمْ سُلْطَانًا مُبِينًا ﴿٩١﴾
(এই মুনাফিকদের মাঝে) তোমরা (এমন) আরেক দল পাবে, যারা তোমাদের দিক থেকে (যেমন) শান্তি ও নিরাপত্তা পেতে চায়; (তেমনি) তারা তাদের নিজেদের জাতির কাছ থেকেও নিরাপত্তা (ও নিশ্চয়তা) পেতে চায়, কিন্তু এদের যখনি কোনো বিপর্যয় সৃষ্টির কাজের দিকে ডাক দেয়া হবে, তখন সাথে সাথেই এরা তোমাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এরা যদি সত্যিই তোমাদের (সাথে যুদ্ধ করা) থেকে সরে না দাঁড়ায় এবং কোনো শান্তি ও সন্ধি প্রস্তাব তোমাদের কাছে পেশ না করে এবং নিজেদের অস্ত্র সংবরণ না করে, তাহলে তাদের তোমরা যেখানেই পাবে গ্রেফতার করবে এবং (চরম বিদ্রোহের জন্যে) তাদের তোমরা হত্যা করবে; (মূলত) এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের উপর আমি তোমাদের সুস্পষ্ট ক্ষমতা দান করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯২﴿
﴾ ৪:৯২ ﴿
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلَّا خَطَأً وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَأً فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ إِلَّا أَنْ يَصَّدَّقُوا فَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ عَدُوٍّ لَكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ تَوْبَةً مِنَ اللَّهِ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿٩٢﴾
এটা কোনো ঈমানদার ব্যক্তির কাজ নয় যে, সে আরেকজন ঈমানদার ব্যক্তিকে হত্যা করবে, অবশ্য ভুলবশত করে ফেললে (তা স¤পূর্ণ ভিন্ন কথা) যদি কোনো (ঈমানদার) ব্যক্তি আরেকজন ঈমানদার ব্যক্তিকে ভুল করে হত্যা করে, তাহলে (তার বিনিময় হচ্ছে) সে একজন দাস মুক্ত করে দেবে এবং (তার সাথে) নিহত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনকে (তার) রক্তের (ন্যায়সংগত) মূল্য পরিশোধ করে দেবে, তবে (নিহত ব্যক্তির পরিবারের) লোকেরা যদি (রক্তম্যূ) মাফ করে দেয় (তবে তা স্বতন্ত্র কথা) ; এ (নিহত) ঈমানদার ব্যক্তি যদি এমন কোনো জাতির (বা গোত্রের) লোক হয় যারা তোমাদের শত্রু এবং সে (নিহত ব্যক্তি) মু’মিন হয় তাহলে (তার বিনিময় হবে) একজন মু’মিন দাসের মুক্তি; অপরদিকে (নিহত) ব্যক্তি যদি এমন এক সম্প্রদায়ের কেউ হয়ে থাকে, যাদের সাথে তোমাদের কোনো সন্ধি চুক্তি বলবত আছে, তবে তার রক্তের মূল্যআদায় করা ও একজন ঈমানদার দাসের মুক্তিও (অপরিহার্য) , যে ব্যক্তি (মুক্ত করার জন্যে কোনো দাস) পাবে না, (তার বিধান হচ্ছে ক্রমাগত দুই মাসের রোযা রাখা, এ হচ্ছে) আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে (মানুষের) তাওবা (কবুল করানোর ব্যবস্থামাত্র, বস্তুত) আল্লাহ তা’আলা সর্বজ্ঞ, কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯৩﴿
﴾ ৪:৯৩ ﴿
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا ﴿٩٣﴾
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে অনন্তকাল ধরে পড়ে থাকবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর ভয়ানকভাবে রুষ্ট, তাকে তিনি লানত দেন, আল্লাহ তা’আলা তার জন্যে যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯৪﴿
﴾ ৪:৯৪ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللَّهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوا إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا ﴿٩٤﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা যখন আল্লাহ তা’আলার পথে (জেহাদের) রাস্তায় বের হবে, তখন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করবে, কোনো ব্যক্তি (কিংবা সম্প্রদায়) যখন তোমাদের সামনে (শান্তি ও) সন্ধির প্রস্তাব পেশ করে, তখন কিছু বৈষয়িক ধন-সম্পদের প্রত্যাশায় তাকে তোমরা বলো না যে, না, তুমি ঈমানদার নও, (আসলে) আল্লাহ তা’আলার কাছে অনায়াসলভ্য সম্পদ প্রচুর রয়েছে, আগে তোমরাও এমনি ছিলে, অতপর আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, কাজেই তোমরা (বিষয়টি) যাছাই বাছাই করে নিয়ো; তোমরা যা কিছুই করো আল্লাহ তা’আলা সে ব্যাপারে সম্যক অবগত আছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯৫﴿
﴾ ৪:৯৫ ﴿
لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿٩٥﴾
মু’মিনদের মাঝে যারা কোনো রকম (শারীরিক পংগুত্ব ও) অক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও বসে থেকেছে, আর যারা নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহ তা’আলার পথে জেহাদে অবতীর্ণ হয়েছে এরা উভয়ে কখনো সমান নয়; (ঘরে) বসে থাকা লোকদের তুলনায় (ময়দানের) মোজোহেদদের যারা নিজেদের জান মাল দিয়ে (আল্লাহ তা’আলার পথে) জেহাদ করেছে, আল্লাহ তা’আলা তাদের উঁচু মর্যাদা দান করেছেন, (জেহাদ তখনো ফরয ঘোষিত না হওয়ায়) এদের সবার জন্যে আল্লাহ তা’আলা উত্তম পুরস্কারের ওয়াদা করেছেন; (কিন্তু এটা ঠিক যে, ) আল্লাহ তা’আলা (ঘরে) বসে থাকা লোকদের উপর (সংগ্রামরত ময়দানের) মোজাহেদদের অনেক শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯৬﴿
﴾ ৪:৯৬ ﴿
دَرَجَاتٍ مِنْهُ وَمَغْفِرَةً وَرَحْمَةً وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿٩٦﴾
এই মর্যাদা দেয়া হয়েছে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকেই, এর সাথে রয়েছে তাঁর ক্ষমা ও দয়া, (মূত) আল্লাহ তা’আলা বড়ো ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯৭﴿
﴾ ৪:৯৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنْتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيرًا ﴿٩٧﴾
যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে তাদের প্রাণ কেড়ে নেয়ার সময় (মওতের) ফেরেশতারা যখন তাদের জিজ্ঞেস করবে, (বলো তো! এর আগে) সেখানে তোমরা কিভাবে ছিলে? তারা বলবে, আমরা দুনিয়ায় দুর্বল (ও অক্ষম) ছিলাম; ফেরেশতারা বলবে, কেন, (তোমাদের জন্যে) আল্লাহর এ যমীন কি প্রশস্ত ছিলো না? তোমরা ইচ্ছা করলে যেখানে চলে যেতে পারতে, (আসলে) এরা হচ্ছে সেসব লোক যাদের (আবাসস্থল) জাহান্নাম; আর তা কতো নিকৃষ্টতম আবাস!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯৮﴿
﴾ ৪:৯৮ ﴿
إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلًا ﴿٩٨﴾
তবে সেসব নারী-পুরুষ ও শিশু সন্তান, যাদের (হিজরত করার মতো শারীরিক) শক্তি ছিলো না, কোথাও যাওয়ার কোনো উপকরণ ছিলো না, তাদের কথা আলাদা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:৯৯﴿
﴾ ৪:৯৯ ﴿
فَأُولَئِكَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَعْفُوَ عَنْهُمْ وَكَانَ اللَّهُ عَفُوًّا غَفُورًا ﴿٩٩﴾
এরা হচ্ছে সেসব মানুষ আল্লাহ তা’আলা সম্ভবত যাদের কাছ থেকে (গোনাহসমূহ) মাফ করে দেবেন, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা গুনাহ মোচনকারী ও পরম ক্ষমাশীল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০০﴿
﴾ ৪:১০০ ﴿
وَمَنْ يُهَاجِرْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَجِدْ فِي الْأَرْضِ مُرَاغَمًا كَثِيرًا وَسَعَةً وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿١٠٠﴾
আর যে কেউই আল্লাহ তা’আলার পথে হিজরত করবে সে (অচিরেই আল্লাহ তা’আলার) যমীনে প্রশস্ত জায়গা ও অগণিত ধন-সম্পদ পেয়ে যাবে; যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের উদ্দেশে হিজরত করার জন্যে নিজ বাড়ী থেকে বের হয় এবং এমতাবস্থায় মৃত্যু এসে তাকে গ্রাস করে নেয়, তাহলে তার (সে অপূর্ণ হিজরতের) পুরস্কার দেয়ার দায়িত্ব আল্লাহ তা’আলার উপর; আল্লাহ তা’আলা বড়ো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০১﴿
﴾ ৪:১০১ ﴿
وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُبِينًا ﴿١٠١﴾
তোমরা যখন সফরে বের হবে, তখন তোমাদের যদি এ আশংকা থাকে যে, কাফেররা (নামাযের সময় আক্রমণ করে) তোমাদের বিপদগ্রস্ত করে ফেলবে, তাহলে সে অবস্থায় তোমরা যদি তোমাদের নামায সংক্ষিপ্ত করে নাও তাতে তোমাদের কোনোই দোষ নেই; নিসন্দেহে কাফেররা হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্যতম দুশমন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০২﴿
﴾ ৪:১০২ ﴿
وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِنْ وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُمْ مَيْلَةً وَاحِدَةً وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَنْ تَضَعُوا أَسْلِحَتَكُمْ وَخُذُوا حِذْرَكُمْ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا ﴿١٠٢﴾
(হে নবী, ) তুমি যখন মুসলমানদের মাঝে অবস্থান করবে এবং (যুদ্ধাবস্থায়) যখন তুমি তাদের (ইমামতির) জন্যে (নামাযে) দাঁড়াবে, তখন যেন তাদের একদল লোক তোমার সাথে (নামাযে) দাঁড়ায় এবং তারা যেন তাদের অস্ত্র সাথে নিয়ে সতর্ক থাকে; অতপর তারা যখন (নামাযের) সাজদা সম্পন্ন করে নেবে তখন তারা তোমাদের পেছনে থাকবে, দ্বিতীয় দল যারা নামায (তখনো) পড়েনি তারা তোমার সাথে এসে নামায আদায় করবে, (কিন্তু সর্বাবস্থায়ই) তারা যেন সতর্কতা অবলম্বন করে এবং সশস্ত্র (অবস্থায়) থাকে, (কারণ, ) কাফেররা তো এ (সুযোগটুকুই) চায় যে, যদি তোমরা তোমাদের মালসামানা ও অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে একটু অসাবধান হয়ে যাও, যাতে তারা তোমাদের উপর (আকস্মিকভাবে) ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে; অবশ্য (অতিরিক্ত) বৃষ্টি বাদলের জন্যে যদি তোমাদের কষ্ট হয় কিংবা শারীরিকভাবে তোমরা যদি অসুস্থ হও, তাহলে (কিছুক্ষণের জন্যে) তোমরা অস্ত্র রেখে দিতে পারো; কিন্তু (অস্ত্র রেখে দিলেও) তোমরা কিন্তু নিজেদের সাবধানতা বজায় রাখবে; অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা কাফেরদের জন্যে এক অপমানকর আযাব নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০৩﴿
﴾ ৪:১০৩ ﴿
فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ فَإِذَا اطْمَأْنَنْتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا ﴿١٠٣﴾
অতপর তোমরা যখন নামায শেষ করে নেবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে (তথা সর্বাবস্থায়) আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করতে থাকবে, এরপর যখন তোমরা পুরোপুরি স্বস্তি বোধ করবে তখন (যথারীতি) নামায আদায় করবে, অবশ্যই নামায ঈমানদরাদের উপর সুনির্দিষ্ট সময়ের সাথেই ফরয করা হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০৪﴿
﴾ ৪:১০৪ ﴿
وَلَا تَهِنُوا فِي ابْتِغَاءِ الْقَوْمِ إِنْ تَكُونُوا تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَأْلَمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ وَتَرْجُونَ مِنَ اللَّهِ مَا لَا يَرْجُونَ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿١٠٤﴾
কোনো (শত্রু) দলের পেছনে ধাওয়া করার সময় তোমরা বিন্দুমাত্রও মনোবল হারিয়ো না; তোমরা যদি কষ্ট পেয়ে থাকো (তাহলে জেনে রেখো) , তারাও তো তোমাদের মতো কষ্ট পাচ্ছে, ঠিক যেমনিভাবে তোমরা কষ্ট পাচ্ছো। কিন্তু তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে যে (জান্নাত) আশা করো, তারা তো তা করে না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা সর্বজ্ঞ, কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০৫﴿
﴾ ৪:১০৫ ﴿
إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلَا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا ﴿١٠٥﴾
অবশ্যই আমি সত্য (দ্বীনের) সাথে তোমার উপর এ গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে করে আল্লাহ তা’আলা তোমাকে যা (জ্ঞানের আলো) দেখিয়েছেন তার আলোকে তুমি মানুষদের বিচার মীমাংসা করতে পারো; (তবে বিচার ফয়সালার সময়) তুমি কখনো বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষে তর্ক করো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০৬﴿
﴾ ৪:১০৬ ﴿
وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿١٠٦﴾
তুমি আল্লাহ তা’আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা বড়ো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০৭﴿
﴾ ৪:১০৭ ﴿
وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا ﴿١٠٧﴾
যারা নিজেদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তুমি কখনো এমন সব লোকের পক্ষে কথা বলো না, (কেননা) আল্লাহ তা’আলা এই পাপিষ্ঠ বিশ্বাসঘাতকদের কখনো পছন্দ করেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০৮﴿
﴾ ৪:১০৮ ﴿
يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا ﴿١٠٨﴾
এরা মানুষদের কাছ থেকে (নিজেদের কর্ম) লুকিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে তারা কিছুই লুকাতে পারবে না; আল্লাহ তা’আলা (তো হচ্ছেন সেই মহান সত্তা) যিনি রাতের অন্ধকারে তিনি যেসব কথা (বা কাজ) পছন্দ করেন না, এমন সব বিষয়ে যখন এরা সলাপরামর্শ করে, তখনও তিনি তাদের সাথেই থাকেন; এরা যা কিছু করে তা স¤পূর্ণ আল্লাহ তা’আলার জ্ঞানের পরিধির আওতাধীন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১০৯﴿
﴾ ৪:১০৯ ﴿
هَا أَنْتُمْ هَؤُلَاءِ جَادَلْتُمْ عَنْهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَمَنْ يُجَادِلُ اللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْ مَنْ يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا ﴿١٠٩﴾
হ্যাঁ, এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের (সঠিক ঘটনা না জানার কারণে) দুনিয়ার জীবনে তোমরা যাদের পক্ষে কথা বলেছো, কিন্তু কেয়ামতের দিনে আল্লাহ তা’আলার সামনে কে তাদের পক্ষে কথা বলবে, কিংবা কে তাদের উপর (সেদিন) অভিভাবক হবে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১০﴿
﴾ ৪:১১০ ﴿
وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿١١٠﴾
যে ব্যক্তি গুনাহের কাজ করে অথবা (গুনাহ করে) নিজের উপর অবিচার করে, অতপর (এ জন্যে যখন) সে আল্লাহ তা’আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, (তখন) সে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলাকে পরম ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু হিসেবে পাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১১﴿
﴾ ৪:১১১ ﴿
وَمَنْ يَكْسِبْ إِثْمًا فَإِنَّمَا يَكْسِبُهُ عَلَى نَفْسِهِ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿١١١﴾
যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের কাজ করলো, সে কিন্তু এর দ্বারা নিজেই নিজের ক্ষতি সাধন করলো, আল্লাহ তা’আলা সবকিছুই জানেন, তিনি কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১২﴿
﴾ ৪:১১২ ﴿
وَمَنْ يَكْسِبْ خَطِيئَةً أَوْ إِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِ بَرِيئًا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا ﴿١١٢﴾
যে ব্যক্তি একটি অন্যায় কিংবা পাপ কাজ করলো; কিন্তু সে দোষ চাপিয়ে দিলো একজন নির্দোষ ব্যক্তির উপর, এ কাজের ফলে সে (প্রকারান্তরে) সাংঘাতিক একটি অপবাদ ও জঘন্য গুনাহের বোঝা নিজের ঘাড়ে উঠিয়ে নিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১৩﴿
﴾ ৪:১১৩ ﴿
وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُ لَهَمَّتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ أَنْ يُضِلُّوكَ وَمَا يُضِلُّونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَضُرُّونَكَ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا ﴿١١٣﴾
(এ পরিস্থিতিতে) যদি তোমার উপর আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ ও দয়া না থাকতো, তাহলে এদের একদল লোক তো তোমাকে (প্রায়) ভুল পথে পরিচালিত করেই ফেলেছিলো! যদিও তারা এই আচরণ দিয়ে তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকেই পথভ্রষ্ট করতে পারছিলো না, (অবশ্য) তাদের এ (প্রতারণামূক) কাজ দ্বারা তারা তোমার কোনোই ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হতো না! (কারণ) আল্লাহ তা’আলা তাঁর গ্রন্থ ও (সে গ্রন্থলব্ধ) কলা-কৌশল তোমার উপর নাযিল করেছেন এবং তিনি তোমাকে এমন সব কিছুর জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন, যা (আগে) তোমার জানা ছিলো না; তোমার উপর আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ ছিলো অনেক বড়ো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১৪﴿
﴾ ৪:১১৪ ﴿
لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿١١٤﴾
এদের অধিকাংশ গোপন সলাপরামর্শের ভেতরেই কোনো কল্যাণ নিহিত নেই, তবে যদি কেউ (এর দ্বারা) কাউকে কোনো দান-খয়রাত, সৎকাজ ও অন্য মানুষের মাঝে (সম্প্রীতি ও) সংশোধন আনয়ণের আদেশ দেয় তা ভিন্ন কথা; আর আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যদি কেউ এসব কাজ করে তাহলে অতি শীঘ্রই আমি তাকে মহাপুরস্কার দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১৫﴿
﴾ ৪:১১৫ ﴿
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا ﴿١١٥﴾
(আবার) যে ব্যক্তি তার কাছে প্রকৃত সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং ঈমানদারদের পথ ছেড়ে (বেঈমান লোকদের) নিয়ম-নীতির অনুসরণ করবে, তাকে আমি সেদিকেই ধাবিত করবো যেদিকে সে ধাবিত হয়েছে, (এর শাস্তি হিসেবে) তাকে আমি জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে দেবো, (আর) তা কতো নিকৃষ্ট আবাসস্থল!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১৬﴿
﴾ ৪:১১৬ ﴿
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا ﴿١١٦﴾
আল্লাহ তা’আলা (এ বিষয়টি) ক্ষমা করবেন না যে, তাঁর সাথে (কোনো রকম) শরীক করা হবে, এ ছাড়া অন্য সকল গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন; যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে (কাউকে) শরীক করলো, সে (মূত) চরমভাবে গোমরাহ হয়ে গেলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১৭﴿
﴾ ৪:১১৭ ﴿
إِنْ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا إِنَاثًا وَإِنْ يَدْعُونَ إِلَّا شَيْطَانًا مَرِيدًا ﴿١١٧﴾
আল্লাহকে ছাড়া এরা (আর কাকে ডাকে) ডাকে (নিকৃষ্ট) দেবীকে কিংবা কোনো বিদ্রোহী শয়তানকে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১৮﴿
﴾ ৪:১১৮ ﴿
لَعَنَهُ اللَّهُ وَقَالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا ﴿١١٨﴾
তার উপর আল্লাহ তা’আলা অভিশাপ বর্ষণ করেছেন, (কারণ) সে (আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে) বলেছিলো, আমি তোমার বান্দাদের এক অংশকে নিজের (দলে শামিল) করেই ছাড়বো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১১৯﴿
﴾ ৪:১১৯ ﴿
وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ آذَانَ الْأَنْعَامِ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ وَمَنْ يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُبِينًا ﴿١١٩﴾
(সে আরো বলেছিলো, ) আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের গোমরাহ করে দেবো, আমি অবশ্যই তাদের হৃদয়ে নানা প্রকারের মিথ্যা কামনা (বাসনা) জাগিয়ে তুলবো এবং আমি তাদের নির্দেশ দেবো যেন তারা (কুসংস্কারে লিপ্ত হয়ে) জন্তু-জানোয়ারের কান ছিদ্র করে দেয়, আমি তাদের আরো নির্দেশ দেবো যেন তারা আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিকে বিকৃত করে দেয়; (মূত) যে ব্যক্তি (এসব কাজ করে) আল্লাহ তা’আলার বদলে শয়তানকে নিজের পৃষ্ঠপোষক বানিয়ে নেবে, সে এক সুস্পষ্ট ক্ষতি ও লোকসানের সম্মুখীন হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২০﴿
﴾ ৪:১২০ ﴿
يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا ﴿١٢٠﴾
সে (অভিশপ্ত শয়তান) তাদের (নানা) প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের (সামনে) মিথ্যা বাসনার (মায়াজাল) সৃষ্টি করে, আর শয়তান যা প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২১﴿
﴾ ৪:১২১ ﴿
أُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَلَا يَجِدُونَ عَنْهَا مَحِيصًا ﴿١٢١﴾
এরাই হচ্ছে সেসব (হতভাগ্য) ব্যক্তি; যাদের আবাসস্থল হচ্ছে জাহান্নাম, যার (আযাব) থেকে মুক্তির কোনো পন্থাই তারা (খুঁজে) পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২২﴿
﴾ ৪:১২২ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلًا ﴿١٢٢﴾
অপরদিকে যারা (শয়তানের প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে) আল্লাহ তা’আলার উপর ঈমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, তাদের আমি অচিরেই এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে, তারা সেখানে অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে; আল্লাহর ওয়াদা সত্য; আর আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা কে বলতে পারে?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২৩﴿
﴾ ৪:১২৩ ﴿
لَيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ وَلَا يَجِدْ لَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا ﴿١٢٣﴾
(মানুষের ভালোমন্দ যেমনি) তোমাদের খেয়াল খুশীর সাথে জড়িত নয়, (তেমনি তা) আহলে কিতাবদের খেয়ালখুশীর সাথেও সম্পৃক্ত নয় (আসল কথা হচ্ছে) , যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের কাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল ভোগ করতে হবে, আর এ (পাপী) ব্যক্তি (সেদিন) আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কাউকেই নিজেদের পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী হিসেবে পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২৪﴿
﴾ ৪:১২৪ ﴿
وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيرًا ﴿١٢٤﴾
(পক্ষান্তরে) যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজ করবে নর কিংবা নারী, সে যদি ঈমানদার অবস্থায়ই তা (সম্পাদন) করে, তাহলে (সে এবং তার মতো) সব লোক অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, (পুরস্কার দেয়ার সময়) তাদের উপর বিন্দুমাত্রও অবিচার করা হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২৫﴿
﴾ ৪:১২৫ ﴿
وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا ﴿١٢٥﴾
তার চাইতে উত্তম জীবন বিধান আর কার হতে পারে, যে আল্লাহ তা’আলার জন্যে মাথানত করে দেয়, মূত সে-ই হচ্ছে নিষ্ঠাবান ব্যক্তি, (তদুপরি) সে ইবরাহীমের আদর্শের অনুসরণ করে; আর আল্লাহ তা’আলা ইবরাহীমকে স্বীয় বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২৬﴿
﴾ ৪:১২৬ ﴿
وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ مُحِيطًا ﴿١٢٦﴾
আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তার সব কিছুই আল্লাহ তা’আলার জন্যে, আর আল্লাহ তা’আলা (তাঁর ক্ষমতা দিয়ে) সব কিছুই পরিবেষ্টন করে আছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২৭﴿
﴾ ৪:১২৭ ﴿
وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ فِي يَتَامَى النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْوِلْدَانِ وَأَنْ تَقُومُوا لِلْيَتَامَى بِالْقِسْطِ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِهِ عَلِيمًا ﴿١٢٧﴾
(হে নবী, ) তারা তোমার কাছে নারীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানতে চায়, তুমি (তাদের) বলো, আল্লাহ তা’আলা তাদের ব্যাপারে তোমাদের জানিয়ে দিচ্ছেন, আর এ কিতাব থেকে যা কিছু তোমাদের উপর পঠিত হচ্ছে, সেই এতীম নারীদের সম্পর্কিত (ব্যাপার) , আল্লাহ তা’আলা তাদের জন্যে যেসব অধিকার দান করেছেন, যা তোমরা আদায় করতে চাও না, অথচ তোমরা তাদের বিয়ে (ঠিকই) করতে চাও। অসহায় শিশু সন্তান ও এতীমদের ব্যাপারে (তোমাদের বলা হচ্ছে, ) তোমরা যেন সুবিচার কায়েম করো; তোমরা যেটুকু সৎ কাজই করো আল্লাহ তা’আলা তার সবকিছু সম্পর্কেই সম্যকভাবে অবহিত রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২৮﴿
﴾ ৪:১২৮ ﴿
وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا وَالصُّلْحُ خَيْرٌ وَأُحْضِرَتِ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ وَإِنْ تُحْسِنُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا ﴿١٢٨﴾
যদি কোনো স্ত্রীলোক তার স্বামীর কাছ থেকে দুর্ব্যবহার কিংবা অবজ্ঞার আশংকা করে, তাহলে (সে অবস্থায়) পারস্পরিক (ভালোর জন্যে) আপস-নিষ্পত্তি করে নিলে তাদের উপর এতে কোনো দোষ নেই; কারণ (সর্বাবস্থায়) আপস (মীমাংসার পন্থাই) হচ্ছে উত্তম পন্থা, (কিন্তু সমস্যা হচ্ছে) মানুষ আপসে লালসার দিকেই বেশী পরিমাণে ধাবিত হয়ে পড়ে; (কিন্তু) তোমরা যদি সততার পন্থা অবলম্বন করো এবং (শয়তানের কাছ থেকে) নিজেকে রক্ষা করো, তাহলে (সেটাই তোমাদের জন্যে ভালো, কারণ) আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সব কর্মকান্ড অবলোকন করে থাকেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১২৯﴿
﴾ ৪:১২৯ ﴿
وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ وَإِنْ تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿١٢٩﴾
তোমরা কখনো (একাধিক) স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ করতে পারবে না, যদিও (মনে প্রাণে) তোমরা তা চাইবে, তাই তাদের একজনের দিকে তুমি (সমস্ত মনোযোগ দিয়ে) এমনভাবে ঝুঁকে পড়ো না যে, (দেখে মনে হবে) আরেকজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় (রেখে দিয়েছো) ; তোমরা যদি সংশোধনের (চেষ্টা করো এবং) আল্লাহ তা’আলাকেও ভয় করো, তাহলে (তুমি দেখবে, ) আল্লাহ তা’আলা অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩০﴿
﴾ ৪:১৩০ ﴿
وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ وَكَانَ اللَّهُ وَاسِعًا حَكِيمًا ﴿١٣٠﴾
(অতপর) যদি (সত্যি সত্যিই) তারা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তার ভান্ডার থেকে দান করে তাদের সবাইকে পারস্পরিক মুখাপেক্ষিতা থেকে রেহাই দেবেন, আল্লাহ তা’আলা (নিসন্দেহে) প্রাচুর্যময় ও প্রশংসাভাজন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩১﴿
﴾ ৪:১৩১ ﴿
وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ وَإِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَانَ اللَّهُ غَنِيًّا حَمِيدًا ﴿١٣١﴾
আসমান যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ তা’আলার জন্যে, তোমাদের আগেও যাদের কাছে কিতাব নাযিল করা হয়েছিলো, তাদের আমি এ নির্দেশ দিয়েছিলাম যেন তারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে; (আমি) তোমাদেরও নির্দেশ দিচ্ছি, আর যদি তোমরা (আল্লাহকে) অস্বীকার করো (তাহলে জেনে রেখো) , আকাশ-পাতালে যা কিছু আছে সব কিছুই তো আল্লাহ তা’আলার জন্যে; আল্লাহ তা’আলা বে-নিয়ায, সব প্রশংসা তাঁরই (প্রাপ্য) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩২﴿
﴾ ৪:১৩২ ﴿
وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا ﴿١٣٢﴾
অবশ্যই আসমান-যমীনের সব কয়টি জিনিসের মালিকানা তাঁর, যাবতীয় কর্ম সম্পাদনে আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩৩﴿
﴾ ৪:১৩৩ ﴿
إِنْ يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ وَيَأْتِ بِآخَرِينَ وَكَانَ اللَّهُ عَلَى ذَلِكَ قَدِيرًا ﴿١٣٣﴾
হে মানুষ, তিনি চাইলে যে কোনো সময় (যমীনের কর্তৃত্ব¡ থেকে) তোমাদের অপসারণ করে অন্য কোনো সম্প্রদায়কে এনে বসিয়ে দিতে পারেন, এ কাজে তিনি অবশ্যই ক্ষমতাবান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩৪﴿
﴾ ৪:১৩৪ ﴿
مَنْ كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللَّهِ ثَوَابُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا بَصِيرًا ﴿١٣٤﴾
তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ দুনিয়াতেই (তার) পুরস্কার পেতে চায় (তার জেনে রাখা উচিত) , আল্লাহ তা’আলার কাছে তো ইহকাল পরকাল (এ উভয়কালের) পুরস্কারই রয়েছে, আল্লাহ তা’আলা সব কিছু শোনেন এবং সব কিছুই দেখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩৫﴿
﴾ ৪:১৩৫ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا ﴿١٣٥﴾
হে ঈমানদাররা, তোমরা (সর্বদাই) ইনসাফের উপর (দৃঢ়ভাবে) প্রতিষ্ঠিত থেকো এবং আল্লাহ তা’আলার জন্যে সত্যের সাক্ষী হিসেবে নিজেকে পেশ করো, যদি এ (কাজ) -টি তোমার নিজের, নিজের পিতামাতার কিংবা নিজের আত্মীয় স্বজনের উপরেও আসে (তবুও তা তোমরা মনে রাখবে) , সে ব্যক্তি ধনী হোক কিংবা গরীব (এটা কখনো দেখবে না, কেননা) , তাদের উভয়ের চাইতে আল্লাহ তা’আলার অধিকার অনেক বেশী, অতএব তুমি কখনো ন্যায়বিচার করতে নিজের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করো না, যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো কিংবা (সাক্ষ্য দেয়া থেকে) বিরত থাকো, তাহলে (জেনে রাখবে, ) তোমরা যা কিছুই করো না কেন, আল্লাহ তা’আলা তার যথার্থ খবর রাখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩৬﴿
﴾ ৪:১৩৬ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا ﴿١٣٦﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর উপর, তাঁর রসূলের উপর, সে কিতাবের উপর যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন এবং সেসব কিতাবের উপর যা (ইতিপূর্বে তিনি) নাযিল করেছেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করলো, (অস্বীকার করলো) তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর (পাঠানো) কিতাবসমূহ, তাঁর নবী রসূলদের ও পরকাল দিবসকে, (বুঝতে হবে) সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩৭﴿
﴾ ৪:১৩৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا ﴿١٣٧﴾
যারা একবার ঈমান আনলো আবার কুফরী করলো, (কিছু দিন পর) আবার ঈমান আনলো, এরপর (সুযোগ বুঝে) আবার কাফের হয়ে গেলো, এরপর কুফরীর পরিমাণ তারা (দিনে দিনে) বাড়িয়ে দিলো, (ঈমান নিয়ে তামাশা করার) এ লোকদের আল্লাহ তা’আলা কখনো ক্ষমা করবেন না, না কখনো তিনি এ ব্যক্তিদের সঠিক পথ দেখাবেন!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩৮﴿
﴾ ৪:১৩৮ ﴿
بَشِّرِ الْمُنَافِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ﴿١٣٨﴾
(হে নবী, ) মুনাফিক ব্যক্তিদের তুমি সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে ভয়াবহ আযাব রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৩৯﴿
﴾ ৪:১৩৯ ﴿
الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا ﴿١٣٩﴾
যারা (দুনিয়ার ফায়েদার জন্যে) ঈমানদারদের বদলে কাফেরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা (কি এর দ্বারা) এদের কাছ থেকে কোনো রকম মান-সম্মানের প্রত্যাশা করে? অথচ (সবটুকু) মান-সম্মান তো আল্লাহ তা’আলার জন্যেই (নির্দিষ্ট) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪০﴿
﴾ ৪:১৪০ ﴿
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا ﴿١٤٠﴾
আল্লাহ তা’আলা (ইতিপূর্বেও) এ কিতাবের মাধ্যমে তোমাদের উপর আদেশ নাযিল করেছিলেন যে, তোমরা যখন দেখবে (কাফেরদের কোনো বৈঠকে) আল্লাহ তা’আলার নাযিল করা কোনো আয়াত অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তার সাথে ঠাট্টা-বিদ্রপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে (এ ধরনের মজলিসে) বসো না, যতোক্ষণ না তারা অন্য কোনো আলোচনায় লিপ্ত হয়, (এমনটি করলে) অবশ্যই তোমরা তাদের মতো হয়ে যাবে (জেনে রেখো) , আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই সব কাফের ও মুনাফিকদের জাহান্নামে একত্রিত করে ছাড়বেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪১﴿
﴾ ৪:১৪১ ﴿
الَّذِينَ يَتَرَبَّصُونَ بِكُمْ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ فَتْحٌ مِنَ اللَّهِ قَالُوا أَلَمْ نَكُنْ مَعَكُمْ وَإِنْ كَانَ لِلْكَافِرِينَ نَصِيبٌ قَالُوا أَلَمْ نَسْتَحْوِذْ عَلَيْكُمْ وَنَمْنَعْكُمْ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَاللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا ﴿١٤١﴾
যারা সব সময়ই তোমাদের (শুভ দিনের) প্রতীক্ষায় থাকে, যদি আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহে তোমাদের বিজয় আসে তখন এরা (কাছে এসে) বলবে, কেন, আমরা কি (এ যুদ্ধে) তোমাদের পক্ষে ছিলাম না? (আবার) যদি কখনো কাফেরদের (ভাগে বিজয়ের) অংশ (লেখা) হয়, তাহলে এরা (সেখানে গিয়ে) বলবে, আমরা কি তোমাদের মুসলমানদের কাছ থেকে রক্ষা করিনি? এমতাবস্থায় শেষ বিচারের দিনেই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উভয়ের মাঝে ফয়সালা শুনিয়ে দেবেন এবং আল্লাহ তা’আলা (সেদিন) মু’মিনদের বিরুদ্ধে এ কাফেরদের কোনো (অজুহাত পেশ করার) পথ অবশিষ্ট রাখবেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪২﴿
﴾ ৪:১৪২ ﴿
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَى يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿١٤٢﴾
অবশ্যই মুনাফিকরা আল্লাহ তা’আলাকে ধোকা দেয়, (মূত এর মাধ্যমে) আল্লাহই তাদের প্রতারণায় ফেলে দিচ্ছেন, এরা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন একান্ত আলস্যভরেই দাঁড়ায়, আর তারাও কেবল লোকদের দেখায়, এরা আল্লাহ তা’আলাকে আসলে কমই স্মরণ করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪৩﴿
﴾ ৪:১৪৩ ﴿
مُذَبْذَبِينَ بَيْنَ ذَلِكَ لَا إِلَى هَؤُلَاءِ وَلَا إِلَى هَؤُلَاءِ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا ﴿١٤٣﴾
এরা (কুফরী ও ঈমানের) এ দোটানায় দোদুল্যমান, (এরা) না এদিকে না ওদিকে; তুমি সে ব্যক্তিকে কখনো (সঠিক) পথ দেখাতে পারবে না, যাকে আল্লাহ তা’আলাই গোমরাহ করে দেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪৪﴿
﴾ ৪:১৪৪ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَتُرِيدُونَ أَنْ تَجْعَلُوا لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا مُبِينًا ﴿١٤٤﴾
হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা ঈমানদার ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কাফেরদের নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না; তোমরা কি (তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে) আল্লাহ তা’আলার কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে (কোনো) সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে দিতে চাও?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪৫﴿
﴾ ৪:১৪৫ ﴿
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا ﴿١٤٥﴾
এ মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিন্মস্তরে অবস্থান করবে, তুমি সেদিন তাদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪৬﴿
﴾ ৪:১৪৬ ﴿
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِلَّهِ فَأُولَئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿١٤٦﴾
তবে তাদের কথা আলাদা, যারা তাওবা করে এবং (পরবর্তী জীবনকে তাওবার আলোকে) সংশোধন করে নেয়, আল্লাহ তা’আলার রশি শক্ত করে ধরে রাখে এবং একমাত্র আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশেই তাদের জীবন বিধানকে নিবেদিত করে নেয়, এসব লোকেরা অবশ্যই (সেদিন) বিশ্বাসী বান্দাদের সাথে (অবস্থান) করবে; আর অচিরেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর ঈমানদার বান্দাদের বড়ো ধরনের পুরস্কার দেবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪৭﴿
﴾ ৪:১৪৭ ﴿
مَا يَفْعَلُ اللَّهُ بِعَذَابِكُمْ إِنْ شَكَرْتُمْ وَآمَنْتُمْ وَكَانَ اللَّهُ شَاكِرًا عَلِيمًا ﴿١٤٧﴾
(তোমরাই বলো, ) আল্লাহ তা’আলা কি (খামাখা) তোমাদের শাস্তি দেবেন যদি তোমরা (তাঁর প্রতি) কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং তাঁর উপর ঈমান আনো; (বস্তুত) আল্লাহ তা’আলা হচ্ছেন (সর্বোচ্চ) পুরস্কারদাতা, সম্যক ওয়াকেফহাল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪৮﴿
﴾ ৪:১৪৮ ﴿
لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا ﴿١٤٨﴾
আল্লাহ তা’আলা প্রকাশ্যভাবে মন্দ বলা (কখনো) পছন্দ করেন না, তবে যে ব্যক্তির উপর অবিচার করা হয়েছে তার কথা আলাদা; আল্লাহ তা’আলা ভালোভাবেই শোনেন এবং জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৪৯﴿
﴾ ৪:১৪৯ ﴿
إِنْ تُبْدُوا خَيْرًا أَوْ تُخْفُوهُ أَوْ تَعْفُوا عَنْ سُوءٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِيرًا ﴿١٤٩﴾
ভালো কাজ তোমরা প্রকাশ্যে করো কিংবা তা গোপনে করো, অথবা কোন মন্দ কাজের জন্যে যদি তোমরা ক্ষমা করে দাও, তাহলে (তোমরাও দেখতে পাবে, ) আল্লাহ তা’আলা অতি ক্ষমাশীল ও প্রবল শক্তিমান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫০﴿
﴾ ৪:১৫০ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا ﴿١٥٠﴾
যারা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলদের অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহ তা’আলা ও রসূলদের মাঝে (এই বলে) একটা পার্থক্য করতে চায় যে, আমরা (রসূলদের) কয়েকজনকে স্বীকার করি আবার কয়েকজনকে অস্বীকার করি, এর দ্বারা (আসলে) এরা (নিজেদের জন্যে) একটা মাঝামাঝি রাস্তা বের করে নিতে চায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫১﴿
﴾ ৪:১৫১ ﴿
أُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ حَقًّا وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا ﴿١٥١﴾
এরাই হচ্ছে সত্যিকারের কাফের, আর আমি এ কাফেরদের জন্যেই নির্দিষ্ট করে রেখেছি এক চরম লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫২﴿
﴾ ৪:১৫২ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَمْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ أُولَئِكَ سَوْفَ يُؤْتِيهِمْ أُجُورَهُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا ﴿١٥٢﴾
(অপরদিকে) যারা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান আনে এবং তাদের একজনের সাথে আরেকজনের কোনো রকম পার্থক্য করে না, এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের তিনি অচিরেই অনেক পুরস্কার দান করবেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও মহাদয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫৩﴿
﴾ ৪:১৫৩ ﴿
يَسْأَلُكَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَنْ تُنَزِّلَ عَلَيْهِمْ كِتَابًا مِنَ السَّمَاءِ فَقَدْ سَأَلُوا مُوسَى أَكْبَرَ مِنْ ذَلِكَ فَقَالُوا أَرِنَا اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ بِظُلْمِهِمْ ثُمَّ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ فَعَفَوْنَا عَنْ ذَلِكَ وَآتَيْنَا مُوسَى سُلْطَانًا مُبِينًا ﴿١٥٣﴾
আহলে কিতাবের লোকেরা তোমার কাছে চায়, তুমি যেন আসমান থেকে তাদের জন্যে কোনো কিতাব নাযিল করো! এরা তোমার কাছে এর চাইতেও বড়ো রকমের দাবী পেশ করেছিলো, তারা বলেছিলো (হে মূসাা) , তুমি স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাকেই আমাদের প্রকাশ্যভাবে দেখিয়ে দাও, অতপর তাদের এই বাড়াবাড়ির জন্যে তাদের উপর প্রচন্ড বজ্রপাত এসে নিপতিত হয়েছে এবং (এ সম্পর্কিত) সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ তাদের কাছে আসার পরও তারা গো-বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে, অতপর আমি তাদের এ অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম এবং আমি মূসাাকে স্পষ্ট প্রমাণ (-সহ কিতাব) দান করলাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫৪﴿
﴾ ৪:১৫৪ ﴿
وَرَفَعْنَا فَوْقَهُمُ الطُّورَ بِمِيثَاقِهِمْ وَقُلْنَا لَهُمُ ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُلْنَا لَهُمْ لَا تَعْدُوَا فِي السَّبْتِ وَأَخَذْنَا مِنْهُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا ﴿١٥٤﴾
এদের উপর তূর পাহাড়কে উঠিয়ে উঁচু করে ধরে আমি এদের কাছ থেকে (আনুগত্যের) প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলাম, আমি তাদের বলেছিলাম, নগরের দ্বারপ্রান্ত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার সময় তোমরা একান্ত অনুগত হয়ে ঢুকবে, আমি তাদের (আরো) বলেছিলাম, তোমরা শনিবারে (মাছ ধরে আমার বিধানের) সীমালংঘন করো না, (এ ব্যাপারে) আমি তাদের কাছ থেকে শক্ত প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিলাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫৫﴿
﴾ ৪:১৫৫ ﴿
فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ وَكُفْرِهِمْ بِآيَاتِ اللَّهِ وَقَتْلِهِمُ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَقَوْلِهِمْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ طَبَعَ اللَّهُ عَلَيْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿١٥٥﴾
অতপর তাদের (পক্ষ থেকে এই) প্রতিশ্রুতি ভংগ করা, আল্লাহর আয়াতসমূহকে তাদের অস্বীকার করা এবং অন্যায়ভাবে আল্লাহ তা’আলার নবীদের তাদের হত্যা করা, (তদুপরি) তাদের (একথা) বলা, আমাদের হৃদয় (বাতিল চিন্তাধারায়) আচ্ছাদিত (হয়ে আছে) , প্রকৃতপক্ষে তাদের (ক্রমাগত) অস্বীকার করার কারণে আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং তাদের দিলের উপর মোহর মেরে দিয়েছেন, তাই এদের কম সংখ্যক লোকই ঈমান আনে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫৬﴿
﴾ ৪:১৫৬ ﴿
وَبِكُفْرِهِمْ وَقَوْلِهِمْ عَلَى مَرْيَمَ بُهْتَانًا عَظِيمًا ﴿١٥٦﴾
যেহেতু এরা (আল্লাহকে) অস্বীকার করতেই থাকলো, এরা (পুণ্যবতী) মারইয়ামের উপরও জঘন্য অপবাদ আনলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫৭﴿
﴾ ৪:১৫৭ ﴿
وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينًا ﴿١٥٧﴾
তাদের (এ মিথ্যা) উক্তি যে, আমরা অবশ্যই মারইয়ামের পুত্র ঈসাকে হত্যা করেছি, যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল, (যদিও আসল ঘটনা হচ্ছে) তারা কখনোই তাকে হত্যা করেনি, তারা তাকে শূলবিদ্ধও করেনি, (মূলত) তাদের কাছে (ধাঁধার কারণে) এমনি একটা কিছু মনে হয়েছিলো; (তাদের মাঝে) যারা (সঠিক ঘটনা না জানার কারণে) তার ব্যাপারে মতবিরোধ করেছিলো, তারাও (এতে করে) সন্দেহে পড়ে গেলো, এ ব্যাপারে তাদের অনুমানের অনুসরণ করা ছাড়া সঠিক কোনো জ্ঞানই ছিলো না, (তবে) এটুকু নিশ্চিত, তারা তাকে হত্যা করেনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫৮﴿
﴾ ৪:১৫৮ ﴿
بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا ﴿١٥٨﴾
বরং (আসল ঘটনা ছিলো, ) আল্লাহ তা’আলা তাকে তাঁর নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন; আল্লাহ তা’আলা মহাপরাক্রমশালী ও মহাপ্রজ্ঞাময়। (কাউকে উঠিয়ে নেয়া তার কাছে মোটেই কঠিন কিছু নয়।)
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৫৯﴿
﴾ ৪:১৫৯ ﴿
وَإِنْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا ﴿١٥٩﴾
(এই) আহলে কিতাবদের মাঝে এমন একজনও থাকবে না, যে ব্যক্তি তার মৃত্যুর আগে (ইসা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলার এই কথার) উপর ঈমান আনবে না, কেয়ামতের দিনে সে নিজেই এদের উপর সাক্ষী হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬০﴿
﴾ ৪:১৬০ ﴿
فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيرًا ﴿١٦٠﴾
ইহুদীদের বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনমূলক আচরণের জন্যে এমন অনেক পবিত্র জিনিসও আমি তাদের জন্যে হারাম করে দিয়েছিলাম যেটা তাদের জন্যে (আগে) হালাল ছিলো, এটা এই কারণে যে, এরা বহু মানুষকে আল্লাহ তা’আলার পথ থেকে বিরত রেখেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬১﴿
﴾ ৪:১৬১ ﴿
وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ﴿١٦١﴾
(যেহেতু) এরা (লেনদেনে) সূদ গ্রহণ করে, অথচ এদের তা থেকে (সুস্পষ্টভাবে) নিষেধ করা হয়েছিলো এবং এরা অন্যের মাল-সম্পদ ধোকা প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাস করে; তাদের মধ্যে (এ সব অপরাধে লিপ্ত) কাফেরদের জন্যে আমি তাই কঠিন আযাব নির্দিষ্ট করে রেখেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬২﴿
﴾ ৪:১৬২ ﴿
لَكِنِ الرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ مِنْهُمْ وَالْمُؤْمِنُونَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَالْمُقِيمِينَ الصَّلَاةَ وَالْمُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالْمُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أُولَئِكَ سَنُؤْتِيهِمْ أَجْرًا عَظِيمًا ﴿١٦٢﴾
কিন্তু তাদের মধ্যে যাদের (আবার) জ্ঞানের গভীরতা রয়েছে তারা এবং এমন সব ঈমানদার যারা তোমার উপর যা কিছু নাযিল হয়েছে তার উপর বিশ্বাস করে, (সাথে সাথে) তোমার পূর্ববর্তী নবী ও রসূলদের উপর যা নাযিল হয়েছে তার উপরও বিশ্বাস করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, (সর্বোপরি) আল্লাহ তা’আলা ও শেষ দিনের উপর ঈমান আনে; (মূলত) এরাই হচ্ছে সেসব (সৌভাগ্যবান) মানুষ, যাদের অচিরেই আমি মহাপুরস্কার দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬৩﴿
﴾ ৪:১৬৩ ﴿
إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا ﴿١٦٣﴾
(হে নবী, ) আমি তোমার কাছে আমার ওহী পাঠিয়েছি, যেমনি করে আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তার পরবর্তী নবীদের প্রতি, আমি (অরো) ওহী পাঠিয়েছি ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের কাছে, (ওহী পাঠিয়েছি) ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারূন ও সোলায়মানের কাছেও, অতপর আমি দাউদের উপর যাবুর (গ্রন্থ) অবতীর্ণ করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬৪﴿
﴾ ৪:১৬৪ ﴿
وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا ﴿١٦٤﴾
রসূলদের মাঝে এমনও অনেকে আছে, যাদের কথা ইতিপূর্বে আমি তোমার কাছে বলেছি, কিন্তু এদের মাঝে বহু রসূল এমনও আছে যাদের (নাম ঠিকানা) কিছুই আমি তোমাকে বলিনি; মূসাার সাথে তো আল্লাহ তা’আলা কথাও বলেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬৫﴿
﴾ ৪:১৬৫ ﴿
رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا ﴿١٦٥﴾
রসূলরা (ছিলো জান্নাতের) সুসংবাদবাহী ও (জাহান্নামের) ভয় প্রদর্শনকারী, (তাদের এ জন্যেই পাঠানো হয়েছিলো) যাতে করে রসূলদের আগমনের পর আল্লাহ তা’আলার উপর মানব জাতির কোনো অজুহাত খাড়া করার সুযোগ না থাকে; (সত্যিই) আল্লাহ তা’আলা মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬৬﴿
﴾ ৪:১৬৬ ﴿
لَكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِمَا أَنْزَلَ إِلَيْكَ أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ وَالْمَلَائِكَةُ يَشْهَدُونَ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا ﴿١٦٦﴾
কিন্তু (মানুষ যতো অজুহাতই পেশ করুকনা কেন, ) আল্লাহ তোমার উপর যা কিছু নাযিল করেছেন তা তাঁর (প্রত্যক্ষ) জ্ঞানের মাধ্যমেই করেছেন, ফেরেশতারাও তো (এ কথার) সাক্ষ্য দেবে; যদিও (ওহীর) সাক্ষ্য প্রদানের জন্যে আল্লাহ তা’আলা (একা) -ই যথেষ্ট।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬৭﴿
﴾ ৪:১৬৭ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ قَدْ ضَلُّوا ضَلَالًا بَعِيدًا ﴿١٦٧﴾
নিশ্চয়ই যারা (এই ওহী) অস্বীকার করে এবং (অন্য মানুষদেরও) আল্লাহ তা’আলার পথ থেকে সরিয়ে রাখে, তারা আসলে গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬৮﴿
﴾ ৪:১৬৮ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَظَلَمُوا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ طَرِيقًا ﴿١٦٨﴾
নিশ্চয়ই যারা কুফরী করলো এবং (চরমভাবে) সীমালংঘন করলো, (তাদের ব্যাপারে) এটা কখনো হবে না যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের ক্ষমা করে দেবেন, আর না তিনি তাদের সঠিক রাস্তা দেখাবেন!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৬৯﴿
﴾ ৪:১৬৯ ﴿
إِلَّا طَرِيقَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا ﴿١٦٩﴾
কিন্তু একটি মাত্র (রাস্তাই তাদের জন্যে উন্মুক্ত থাকবে এবং তা হচ্ছে) জাহান্নামের রাস্তা, যেখানে তারা অনন্তকাল ধরে পড়ে থাকবে; (শাস্তি প্রদানের) এ কাজ আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৭০﴿
﴾ ৪:১৭০ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الرَّسُولُ بِالْحَقِّ مِنْ رَبِّكُمْ فَآمِنُوا خَيْرًا لَكُمْ وَإِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿١٧٠﴾
হে মানুষরা, আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে তোমাদের জন্যে সঠিক (বিধান) নিয়ে রসূল এসেছে, যদি (তার আনীত এ বিধানের উপর) তোমরা ঈমান আনো, এতেই তোমাদের জন্যে কল্যাণ (রয়েছে) , আর তোমরা যদি তা মেনে নিতে অস্বীকার করো তাহলে (জেনে রেখো, ) এই আসমান-যমীনের সর্বত্র (যেখানে) যা কিছু আছে তার সব কিছুই আল্লাহ তা’আলার জন্যে এবং আল্লাহ তা’আলা সর্বজ্ঞ, কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৭১﴿
﴾ ৪:১৭১ ﴿
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انْتَهُوا خَيْرًا لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا ﴿١٧١﴾
হে কিতাবধারীরা, নিজেদের দ্বীনের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না এবং (ঈসার ঘটনা নিয়ে) আল্লাহ তা’আলার উপর সত্য ছাড়া কোনো মিথ্যা চাপিয়ো না; (সে সত্য কথাটি হচ্ছে এই যে, ) মারইয়ামের পুত্র মাসীহ ছিলো (একজন) রসূল ও তার এমন এক বাণী, যা তিনি মারইয়ামের উপর প্রেরণ করেছেন এবং সে ছিলো আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে পাঠানো এক ‘রূহ’, অতএব (হে আহলে কিতাবরা) , তোমরা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলদের উপর ঈমান আনো, আর (কখনো) এটা বলো না যে, (মাবুদের সংখ্যা) তিন; এ (জঘন্য মিথ্যা) থেকে তোমরা বেঁচে থেকো, (এটাই) তোমাদের জন্যে উত্তম; নিসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা; তিনি তো একক মাবুদ; আল্লাহ তা’আলা এ (মূর্খতা) থেকে অনেক পবিত্র যে, তাঁর কোনো সন্তান থাকবে; এ আকাশ ও ভূমন্ডলের সব কিছুর মালিকানাই তো তাঁর, আর অভিভাবক হিসেবে আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৭২﴿
﴾ ৪:১৭২ ﴿
لَنْ يَسْتَنْكِفَ الْمَسِيحُ أَنْ يَكُونَ عَبْدًا لِلَّهِ وَلَا الْمَلَائِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ وَمَنْ يَسْتَنْكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيْهِ جَمِيعًا ﴿١٧٢﴾
(ঈসা) মাসীহ কখনো (এতে) বিন্দুমাত্রও নিজেকে হেয় মনে করেনি যে, সে হবে আল্লাহ তা’আলার বান্দা, আল্লাহ তা’আলার একান্ত ঘনিষ্ঠ ফেরেশতারাও (একে লজ্জাকর মনে করেনি) ; কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহ তা’আলার বন্দেগী করা সত্যিই লজ্জাকর বিষয় মনে করে (এবং এটা ভেবে) সে অহংকার করে (তার জানা উচিত) , অচিরেই আল্লাহ তা’আলা এদের সকলকে তাঁর সামনে একত্রিত (করে দন্ডাজ্ঞা দান) করবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৭৩﴿
﴾ ৪:১৭৩ ﴿
فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدُهُمْ مِنْ فَضْلِهِ وَأَمَّا الَّذِينَ اسْتَنْكَفُوا وَاسْتَكْبَرُوا فَيُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَلَا يَجِدُونَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا ﴿١٧٣﴾
যেসব মানুষ আল্লাহ তা’আলার উপর ঈমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে, (সেদিন) তিনি তাদের এর জন্যে পুরোপুরি পুরস্কার দেবেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁর একান্ত অনুগ্রহ থেকে তাদের (পাওনা) আরো বাড়িয়ে দেবেন, অপরদিকে যারা আল্লাহ তা’আলার বিধান মেনে নেয়া লজ্জাজনক কিছু মনে করলো এবং অহংকার করলো, তাদের (সবাইকেই) আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তি দান করবেন, (সেদিন) তারা আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৭৪﴿
﴾ ৪:১৭৪ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُبِينًا ﴿١٧٤﴾
হে মানুষ, তোমাদের মালিকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল প্রমাণ এসেছে এবং আমিই তোমাদের কাছে উজ্জ্বল জ্যোতি নাযিল করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৭৫﴿
﴾ ৪:১৭৫ ﴿
فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَاعْتَصَمُوا بِهِ فَسَيُدْخِلُهُمْ فِي رَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ وَيَهْدِيهِمْ إِلَيْهِ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا ﴿١٧٥﴾
অতপর যারা (সে জ্যোতি দিয়ে) ঈমান আনলো এবং তাকে শক্ত করে আঁকড়ে থাকলো, আল্লাহ তা’আলা তাদের অচিরেই তাঁর অফুরন্ত দয়া ও অনুগ্রহে (জান্নাতে) প্রবেশ করাবেন এবং তাদের তিনি সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪:১৭৬﴿
﴾ ৪:১৭৬ ﴿
يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا وَلَدٌ فَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةً رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَنْ تَضِلُّوا وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿١٧٦﴾
(হে নবী, ) তারা তোমার কাছে (বিভিন্ন বিষয়ে) ফতোয়া জানতে চায়; তুমি বলো, আল্লাহ তা’আলা সে ব্যক্তির (উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ব্যাপারে) তোমাদের তাঁর সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন; যার মাতা পিতা কেউই নেই, আবার তার নিজেরও কোনো সন্তান নেই, (এ ধরনের) কোনো ব্যক্তি যদি মারা যায় এবং সে ব্যক্তি যদি সন্তানহীন হয় এবং তার একটি বোন থাকে, তাহলে সে বোনটি সে (মৃত) ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশের মালিক হবে, অপরদিকে সে যদি নিসন্তান হয়, তাহলে সে তার বোনের (সম্পত্তির) উত্তরাধিকারী হবে; (আবার) যদি তারা দুজন হয়, তাহলে তারা দুই বোন সেই পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ অংশের মালিক হবে; যদি সে ভাইবোনেরা কয়েকজন হয়, তাহলে মেয়েদের অংশ এক ভাগ ও পুরুষদের অংশ দুই ভাগ হবে; আল্লাহ তা’আলা (উত্তরাধিকারের এ আইন-কানুন) অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তোমাদের জন্যে বলে দিয়েছেন, যাতে করে (মানুষের উদ্ভাবিত বন্টন পদ্ধতিতে) তোমরা বিভ্রান্ত হয়ে না পড়ো; আল্লাহ তা’আলা সব কিছুর ব্যাপারেই সম্যক ওয়াকেফহাল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]