🕋

الزخرف
(৪৩) আয-যুখরুফ

৮৯

حم ﴿١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হা-মীম,
وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ ﴿٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ,
إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি একে আরবী (ভাষার) কোরআন বানিয়েছি, যাতে করে তোমরা (এটা) অনুধাবন করতে পারো,
وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ ﴿٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ (মহা) গ্রন্থ (কোরআন) আমার কাছে সমুন্নত ও আসল অবস্থায় মজুদ রয়েছে;
أَفَنَضْرِبُ عَنْكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا أَنْ كُنْتُمْ قَوْمًا مُسْرِفِينَ ﴿٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী তুমি বলো, ) আমি কি (সংশোধনের কর্মসুচী থেকে) সম্পর্কহীন হয়ে তোমাদের উপদেশ দেয়ার কাজ (শুধু এ কারণেই) ছেড়ে দেবো যে, তোমরা একটি সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়!
وَكَمْ أَرْسَلْنَا مِنْ نَبِيٍّ فِي الْأَوَّلِينَ ﴿٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আগের লোকদের মাঝে আমি কতো নবীই না পাঠিয়েছি!
وَمَا يَأْتِيهِمْ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাদের অবস্থা ছিলো, ) যে নবীই তাদের কাছে আসতো ওরা তার সাথেই ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো।
فَأَهْلَكْنَا أَشَدَّ مِنْهُمْ بَطْشًا وَمَضَى مَثَلُ الْأَوَّلِينَ ﴿٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের মধ্যে যারা শক্তি সামর্থে প্রবল ছিলো আমি তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিয়েছি, এ ধরনের অনেক উদাহরণ আগে তো অতিবাহিত হয়ে গেছে।
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ ﴿٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি যদি ওদের জিজ্ঞেস করো, আসমানসমুহ ও যমীন কে সৃষ্টি করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো তো সবই পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ তায়ালাই পয়দা করেছেন।
১০
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَجَعَلَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে বিছানা (সদৃশ) করেছেন, তাতে পথঘাট বানিয়েছেন যাতে করে তোমরা (গন্তব্যস্থলে) পৌঁছুতে পারো,
১১
وَالَّذِي نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ فَأَنْشَرْنَا بِهِ بَلْدَةً مَيْتًا كَذَلِكَ تُخْرَجُونَ ﴿١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি আসমান থেকে পরিমাণমতো পানি বর্ষণ করেছেন এবং (তা দিয়ে) মৃত ভূখন্ডকে জীবন দান করেছেন, (একইভাবে) তোমরাও (একদিন) পুনরুত্থিত হবে।
১২
وَالَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنَ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ ﴿١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি সব কিছুই জোড়ায় জোড়ায় পয়দা করেছেন, তিনি তোমাদের জন্যে নৌকা ও চতুষ্পদ জন্তু বানিয়েছেন, যেন তোমরা তার উপর আরোহণ করো,
১৩
لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُولُوا سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ﴿١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যাতে করে তোমরা তাদের পিঠে স্থির হয়ে বসতে পারো, সেগুলোর উপর সুস্থির হয়ে বসার পর তোমরা তোমাদের মালিকের অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো এবং বলো, পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি আমাদের জন্যে একে বশীভূত করে দিয়েছেন, অন্যথায় আমরা তো তা বশীভূত করার কাজে সামর্থবান ছিলাম না,
১৪
وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ﴿١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আর নিসন্দেহে আমরা আমাদের মালিকের দিকেই ফিরে যাবো।
১৫
وَجَعَلُوا لَهُ مِنْ عِبَادِهِ جُزْءًا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَكَفُورٌ مُبِينٌ ﴿١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ সত্ত্বেও) এরা আল্লাহ তায়ালার বান্দাদের মধ্য থেকে কার জন্যে (নাকি) তার (সার্বভৌমত্বের) কিছু অংশ দান করে, মানুষ স্পষ্টতই বড়ো অকৃতজ্ঞ;
১৬
أَمِ اتَّخَذَ مِمَّا يَخْلُقُ بَنَاتٍ وَأَصْفَاكُمْ بِالْبَنِينَ ﴿١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা কি তাঁর নিজস্ব সৃষ্টি থেকে কন্যা সন্তানই বাছাই করেছেন, আর তোমাদের জন্যে মনোনীত করেছেন পুত্র সন্তান!
১৭
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمَنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ ﴿١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অথচ) যখন এদের কাউকে সে (কন্যা সন্তানের) সুসংবাদ দেয়া হয়, যার বর্ণনা ওরা দয়াময় আল্লাহ তায়ালার জন্যে দিয়ে রেখেছে তখন তার (নিজের) চেহারাই কালো হয়ে যায় এবং সে মনস্তাপক্লিষ্ট হয় পড়ে।
১৮
أَوَمَنْ يُنَشَّأُ فِي الْحِلْيَةِ وَهُوَ فِي الْخِصَامِ غَيْرُ مُبِينٍ ﴿١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । একি (আশ্চর্য, কন্যা সন্তান) ! যারা (সাজ) অলংকারে লালিত পালিত হয়, যারা (নিজেদের সমর্থনে) যুক্তি তর্কের বেলায়ও অগ্রণী হতে পারে না (তাদেরই তারা আল্লাহ তায়ালার জন্যে রাখলো?) ।
১৯
وَجَعَلُوا الْمَلَائِكَةَ الَّذِينَ هُمْ عِبَادُ الرَّحْمَنِ إِنَاثًا أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُونَ ﴿١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (শুধু তাই নয়, ) এরা (আল্লাহ তায়ালার) ফেরেশতাদেরও যারা দয়াময় আল্লাহ তায়ালার বান্দা মাত্র, নারী (বলে) স্থির করে নিলো; ফেরেশতাদের সৃষ্টির সময় এরা কি সেখানে মজুদ ছিলো যে, তারা জানে এরা নর না নারী) , তাদের এ দাবীগুলো (ভালো করে) লিখে রাখা হবে এবং (কেয়ামতের দিন) তাদের (এ ব্যাপারে) জিজ্ঞেস করা হবে।
২০
وَقَالُوا لَوْ شَاءَ الرَّحْمَنُ مَا عَبَدْنَاهُمْ مَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ ﴿٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা (আরো) বলে, দয়াময় আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা না করলে আমরা কখনো এ (ফেরেশতা) -দের ইবাদাত করতাম না; এদের কাছে (আসলে) এ ব্যাপারে কোনো জ্ঞানই নেই, এরা শুধু অনুমানের উপরই (ভর করে) চলে;
২১
أَمْ آتَيْنَاهُمْ كِتَابًا مِنْ قَبْلِهِ فَهُمْ بِهِ مُسْتَمْسِكُونَ ﴿٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি কি এর আগে তাদের (অন্য) কোনো কিতাব দিয়েছিলাম যা ওরা (আজ) আঁকড়ে ধরে আছে!
২২
بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ ﴿٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (কোনো কিতাবের বদলে) তারা বরং বলে, আমরা আমাদের বাপ দাদাদের এ মতাদর্শের অনুসারী (হিসেবে) পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসারী মাত্র ।
২৩
وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ ﴿٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) আমি তোমার আগে যখনি কোনো জনপদে এভাবে সতর্ককারী (নবী) পাঠিয়েছি, তখনি তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের এ মতাদর্শের অনুসারী (হিসেবে) পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসারী।
২৪
قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آبَاءَكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ ﴿٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি বলো, যদি আমি তার চাইতে উৎকৃষ্ট পথনির্দেশ তোমাদের কাছে নিয়ে আসি, যার উপর তোমরা তোমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছো (তারপরও তোমরা তাদের অনুসরণ করবে?) তারা বললো, যে (দ্বীন) দিয়ে তোমাকে পাঠানো হয়েছে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।
২৫
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ ﴿٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব আমি তাদের কাছ থেকে (বিদ্রোহের) প্রতিশোধ নিয়েছি, তুমি দেখে নাও মিথ্যাবাদীদের কি (বীভৎস) পরিণাম হয়েছিলো!
২৬
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ ﴿٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন ইবরাহীম তার পিতা ও তার জাতিকে বললো, আমি অবশ্যই তাদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত যাদের তোমরা পূজা করো,
২৭
إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ ﴿٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হ্যাঁ, আমি ইবাদাত শুধু তাঁরই করি) যিনি আমাকে পয়দা করেছেন, নিসন্দেহে তিনি আমাকে সৎপথে পরিচালিত করবেন।
২৮
وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ﴿٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে এ কথা তার পরবর্তী বংশধরদের কাছে (তাওহীদের) একটি স্থায়ী ঘোষণা (হিসেবে) রেখে গেলো, যাতে করে তারা (তার বংশের লোকেরা এদিকে) প্রত্যাবর্তন করতে পারে।
২৯
بَلْ مَتَّعْتُ هَؤُلَاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى جَاءَهُمُ الْحَقُّ وَرَسُولٌ مُبِينٌ ﴿٢٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ সত্ত্বেও আমি তাদের ধ্বংস করিনি, বরং আমি তাদের ও তাদের বাপ-দাদাদের (পার্থিব) সম্পদ দান (করা) অব্যাহত রেখেছি, যতোক্ষণ না তাদের কাছে সত্য (দ্বীন) ও পরিষ্কার ঘোষণা নিয়ে (আরেকজন) নবী এসে হাযির হয়েছে।
৩০
وَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ وَإِنَّا بِهِ كَافِرُونَ ﴿٣٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । কিন্তু যখন তাদের কাছে সত্য (দ্বীন) এসে গেলো তখন তারা বলতে লাগলো, এ তো হচ্ছে যাদু, আমরা তো (কিছুতেই) তা মেনে নিতে পারি না।
৩১
وَقَالُوا لَوْلَا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ ﴿٣١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা (এও) বললো, এ কোরআন কেন দুটো জনপদের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির উপর নাযিল হলো না?
৩২
أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَةَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَةُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ ﴿٣٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তারা কি তোমার মালিকের রহমত বণ্টন করছে, (অথচ) আমিই তাদের দুনিয়ার জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করেছি, আমি তাদের একজনের উপর আরেকজনের (বৈষয়িক) মর্যাদা সমুন্নত করেছি, যাতে করে তারা একজন অপরজনকে সেবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে; কিন্তু তোমার মালিকের রহমত অনেক উৎকৃষ্ট (তারা যেসব সম্পদ জমা করে তার চেয়ে বড়ো) ।
৩৩
وَلَوْلَا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ ﴿٣٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যদি (এ কথার) আশংকা না থাকতো যে, (দুনিয়ার) সব কয়টি মানুষ একই পথের অনুসারী হয়ে যাবে, তাহলে দয়াময় আল্লাহ তায়ালার অস্বীকারকারী কাফেরদের ঘরের জন্যে আমি রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিড়ি বানিয়ে দিতাম, যার উপর দিয়ে তারা উঠতো (নামতো) ,
৩৪
وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِئُونَ ﴿٣٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের ঘরের জন্যে (সাজিয়ে দিতাম) রৌপ্য নির্মিত দরজা ও পালংক, যার উপর তারা হেলান দিয়ে বসতো,
৩৫
وَزُخْرُفًا وَإِنْ كُلُّ ذَلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ ﴿٣٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (প্রয়োজনে তা) স্বর্ণ নির্মিতও (করে দিতে পারতাম, আসলে) , এর সব কয়টি জিনিসই তো হচ্ছে পার্থিব জীবনের ধন-সম্পদ; আর (হে নবী, ) আখেরাত (ও তার সম্পদ) তোমার মালিকের কাছে (একান্তভাবে, তাদের জন্যে) যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করে ।
৩৬
وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ ﴿٣٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহ তায়ালার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে একটি শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতপর সে-ই (সর্বক্ষণ) তার সাথী হয়ে থাকে।
৩৭
وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ ﴿٣٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারাই অতপর তাদের (আল্লাহ তায়ালার) পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে, অথচ তারা নিজেরা মনে করে তারা বুঝি সঠিক পথের উপরই রয়েছে।
৩৮
حَتَّى إِذَا جَاءَنَا قَالَ يَا لَيْتَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِينُ ﴿٣٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ) ব্যক্তি যখন (কেয়ামতের দিন) আমার সামনে হাযির হবে, তখন (তার শয়তান সাথীকে দেখে) সে বলবে, হায় (কতো ভালো হতো) যদি (আজ) আমার ও তোমার মাঝে দুই উদয়াচলের ব্যবধান থাকতো, (তুমি) কতো নিকৃষ্ট সাথী (ছিলে আমার) !
৩৯
وَلَنْ يَنْفَعَكُمُ الْيَوْمَ إِذْ ظَلَمْتُمْ أَنَّكُمْ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ ﴿٣٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (বলা হবে, ) যখন তোমরা (শয়তানকে সাথীরূপে গ্রহণ করে নিজেদের উপর) যুলুম করেছিলে, তখন (আজও) তোমরা (এই) আযাবে একজন আরেকজনের অংশীদার হয়ে থাকো। (হে নবী) , তুমি বলো, আজ এগুলো তোমাদের কোনো রকম উপকারই দেবে না।
৪০
أَفَأَنْتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ أَوْ تَهْدِي الْعُمْيَ وَمَنْ كَانَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٤٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী) , তুমি কি বধিরকে (কিছু) শোনাতে পারবে, অথবা পারবে কি পথ দেখাতে সে অন্ধকে যে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত?
৪১
فَإِمَّا نَذْهَبَنَّ بِكَ فَإِنَّا مِنْهُمْ مُنْتَقِمُونَ ﴿٤١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর আমি তোমাকে (দুনিয়া থেকে) উঠিয়ে নিয়ে গেলেও আমি এদের কাছ থেকে অবশ্যই (বিদ্রোহের) প্রতিশোধ নেবো,
৪২
أَوْ نُرِيَنَّكَ الَّذِي وَعَدْنَاهُمْ فَإِنَّا عَلَيْهِمْ مُقْتَدِرُونَ ﴿٤٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অথবা তোমার (জীবদ্দশায়) তোমাকে সে (শাস্তির) বিষয় দেখিয়ে দেই যার ওয়াদা আমি তাদের দিয়েছি। (তাতেও এই প্রতিশোধ কেউ ঠেকাতে পারবে না) , আমি অবশ্যই তাদের উপর প্রবল ক্ষমতায় ক্ষমতাবান।
৪৩
فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ إِنَّكَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٤٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব এ গ্রন্থ, যা তোমার উপর ওহী করে পাঠানো হয়েছে তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো, তুমি অবশ্যই সঠিক পথের উপর রয়েছে।
৪৪
وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ وَسَوْفَ تُسْأَلُونَ ﴿٤٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে এ (কোরআন) -টা তোমার ও তোমার জাতির জন্যে উপদেশ, অচিরেই তোমাদের (এ উপদেশ সম্পর্কে) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ।
৪৫
وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ ﴿٤٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তোমার আগে আমি যেসব রসুল পাঠিয়েছিলাম, তুমি তাদের জিজ্ঞেস করে দেখো, আমি কি (কখনো তাদের জন্যে) দয়াময় আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ ঠিক করে দিয়েছিলাম যার (আসলেই) কোনো ইবাদাত করা যেতো!
৪৬
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَقَالَ إِنِّي رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٤٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি মুসাকেও আমার নিদর্শনসমুহ দিয়ে ফেরাউন ও তার পারিষদদের কাছে পাঠিয়েছিলাম, অতপর সে (তাদের কাছে গিয়ে) বললো, আমি হচ্ছি সৃষ্টিকুলের মালিকের রসুল।
৪৭
فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِآيَاتِنَا إِذَا هُمْ مِنْهَا يَضْحَكُونَ ﴿٤٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন সে (সত্যি সত্যিই) আমার নিদর্শনসমুহ নিয়ে তাদের কাছে এলো, তখন সাথে সাথে তারা তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগলো।
৪৮
وَمَا نُرِيهِمْ مِنْ آيَةٍ إِلَّا هِيَ أَكْبَرُ مِنْ أُخْتِهَا وَأَخَذْنَاهُمْ بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ﴿٤٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি তাদের যে নিদর্শনই দেখাতাম তা হতো আগেরটার চাইতে বড়ো, (সবই যখন ব্যর্থ হলো তখন) আমি তাদের আযাব দিয়ে পাকড়াও করলাম, যাতে করে তারা (আমার দিকে) ফিরে আসে।
৪৯
وَقَالُوا يَا أَيُّهَا السَّاحِرُ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ إِنَّنَا لَمُهْتَدُونَ ﴿٤٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আযাব দেখলেই তারা মুসাকে বলতো, ) হে যাদুকর, তোমার মালিক তোমার সাথে যে ওয়াদা করেছেন তার ভিত্তিতে তার কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, (নিষ্কৃতি পেলে) আমরা সঠিক পথে চলবো ।
৫০
فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ ﴿٥٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর আমি যখন তাদের উপর থেকে আযাব সরিয়ে নিলাম, তখনই তারা (মুসাকে দেয়া) অংগীকার ভঙ্গ করে বসলো।
৫১
وَنَادَى فِرْعَوْنُ فِي قَوْمِهِ قَالَ يَا قَوْمِ أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهَذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِنْ تَحْتِي أَفَلَا تُبْصِرُونَ ﴿٥١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (একদিন) ফেরাউন তার জাতিকে ডাকলো এবং বললো, হে আমার জাতি (তোমরা কি বলো) , মিসরের রাজত্ব কি আমার জন্যে নয়? এ নদীগুলো কি আমার (প্রাসাদের) নীচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না? তোমরা কি (কিছুই) দেখতে পাচ্ছো না?
৫২
أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلَا يَكَادُ يُبِينُ ﴿٥٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি কি সে ব্যক্তি থেকে শ্রেষ্ঠ নই যে (খুব) নীচু (জাতের লোক) এবং সে তো (নিজের) কথাগুলো পর্যন্ত স্পষ্ট করে বলতে পারে না।
৫৩
فَلَوْلَا أُلْقِيَ عَلَيْهِ أَسْوِرَةٌ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ جَاءَ مَعَهُ الْمَلَائِكَةُ مُقْتَرِنِينَ ﴿٥٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাছাড়া নবী হলে) তাকে সোনার কংকণ পরানো হলো না কেন, কিংবা তার সাথে দল বেঁধে (আসমানের) ফেরেশতারাই বা কেন এলো না?
৫৪
فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ ﴿٥٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এসব বলে) সে তার জাতিকে বেকুব বানিয়ে দিলো, (এক পর্যায়ে) তারা তার কথা মেনেও নিলো; নিসন্দেহে ওরা ছিলো এক নাফরমান সম্প্রদায়ের লোক!
৫৫
فَلَمَّا آسَفُونَا انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٥٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন তারা আমাকে দারুণভাবে ক্রোধান্বিত করলো তখন আমিও তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিলাম এবং তাদের সবাইকে (পানিতে) ডুবিয়ে দিলাম।
৫৬
فَجَعَلْنَاهُمْ سَلَفًا وَمَثَلًا لِلْآخِرِينَ ﴿٥٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি পরবর্তী বংশধরদের জন্যে তাদের ইতিহাসের (উল্লেখযোগ্য) ঘটনা ও (শিক্ষণীয়) দৃষ্টান্ত করে রাখলাম।
৫৭
وَلَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْيَمَ مَثَلًا إِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ يَصِدُّونَ ﴿٥٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, তাদের কাছে) যখনই মারইয়াম পুত্রের উদাহরণ পেশ করা হয়, তখন সাথে সাথে তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা সে কারণে (খুশীতে) চীৎকার জুড়ে দেয়।
৫৮
وَقَالُوا أَآلِهَتُنَا خَيْرٌ أَمْ هُوَ مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلَّا جَدَلًا بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ ﴿٥٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বলতে থাকে, আমাদের মাবুদরা ভালো না সে (মারইয়াম পুত্র ঈসা ভালো, আসলে) ; এরা কেবল বিতর্কের উদ্দেশেই এসব কথা উপস্থাপন করে; বরং এরা তো কলহপরায়ণ জাতিই বটে।
৫৯
إِنْ هُوَ إِلَّا عَبْدٌ أَنْعَمْنَا عَلَيْهِ وَجَعَلْنَاهُ مَثَلًا لِبَنِي إِسْرَائِيلَ ﴿٥٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (মুলত) সে ছিলো আমারই একজন বান্দা, যার উপর আমি অনুগ্রহ করেছিলাম, তাকে বনী ইসরাঈলদের জন্যে আমি (আমার কুদরতের) একটা অনুকরণীয় আদর্শ বানিয়েছিলাম;
৬০
وَلَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَا مِنْكُمْ مَلَائِكَةً فِي الْأَرْضِ يَخْلُفُونَ ﴿٦٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি চাইলে তোমাদের বদলে আমি ফেরেশতাদের পাঠাতাম, (সে অবস্থায়) তারাই (দুনিয়ায় আমার) প্রতিনিধিত্ব করতো!
৬১
وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُونِ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ ﴿٦١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে (মারইয়াম পুত্র ঈসা) হবে (মুলত) কেয়ামতের একটি নিদর্শন (হে নবী, তুমি বলো) , তোমরা সে (কেয়ামতের) ব্যাপারে কখনো সন্দেহ পোষণ করো না, তোমরা আমার আনুগত্য করো; (কেননা) এটাই (তোমাদের জন্যে) সহজ সরল পথ।
৬২
وَلَا يَصُدَّنَّكُمُ الشَّيْطَانُ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ ﴿٦٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । শয়তান যেন কোনো অবস্থায়ই (এ পথ থেকে) তোমাদের বিচ্যুত করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রেখো) , নিসন্দেহে সে হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।।
৬৩
وَلَمَّا جَاءَ عِيسَى بِالْبَيِّنَاتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُمْ بِالْحِكْمَةِ وَلِأُبَيِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي تَخْتَلِفُونَ فِيهِ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿٦٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ঈসা যখন স্পষ্ট দলীল প্রমাণ নিয়ে এলো তখন সে (তার লোকদের) বললো, আমি তোমাদের কাছে প্রজ্ঞা নিয়ে এসেছি এবং তোমরা (যে আমার অবস্থান সম্পর্কে) নানা মতবিরোধ করছে তা আমি তোমাদের স্পষ্ট করে বলে দেবো, অতএব তোমরা (আল্লাহ তায়ালার আযাবকে) ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো]
৬৪
إِنَّ اللَّهَ هُوَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ ﴿٦٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন আমার মালিক, তোমাদেরও মালিক, অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদাত করো; এটাই হচ্ছে সরল পথ।
৬৫
فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِنْ بَيْنِهِمْ فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْ عَذَابِ يَوْمٍ أَلِيمٍ ﴿٦٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ সত্ত্বেও) তাদের বিভিন্ন দল (তাকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে (নানা) মতানৈক্য সৃষ্টি করলো, অতপর দুর্ভোগ ও কঠিন দিনের আযাব তাদের জন্যেই যারা (অযথা) বাড়াবাড়ি করলো।
৬৬
هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٦٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা কি (এ ফয়সালার জন্যে) কেয়ামত (-এর ক্ষণটি) আসার অপেক্ষা করছে, তা (কিন্তু একদিন) আকস্মিকভাবেই তাদের উপর এসে পড়বে এবং তারা টেরও পাবে না।
৬৭
الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ ﴿٦٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সেদিন (দুনিয়ার) বন্ধুরা সবাই একে অপরের দুশমন হয়ে যাবে, অবশ্য যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করেছে তাদের কথা আলাদা ।
৬৮
يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلَا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿٦٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সেদিন আমি পরহেযগার বান্দাদের বলবো, ) হে আমার বান্দারা, আজ তোমাদের কোনো ডর-ভয় নেই, না তোমরা আজ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে,
৬৯
الَّذِينَ آمَنُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا مُسْلِمِينَ ﴿٦٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা হচ্ছে সেসব লোক, যারা (দুনিয়াতে) আমার আয়াতসমুহের উপর ঈমান এনেছে, (মুলত) তারা ছিলো (আমার) অনুগত বান্দা।
৭০
ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ ﴿٧٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আমি আরো বলবো, ) তোমরা এবং তোমাদের সংগী সংগিনীরা জান্নাতে প্রবেশ করো, সেখানে তোমাদের (সম্মানজনক) মেহমানদারী করা হবে।
৭১
يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِصِحَافٍ مِنْ ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٧١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সেখানে তাদের উপর সোনার থালা ও পানপাত্রের প্রচুর আনাগোনা চলবে, যা কিছুই (তাদের) মন চাইবে এবং যা কিছুই তাদের (দৃষ্টিতে) ভালো লাগবে তা সবই (সেখানে মজুদ) থাকবে (উপরন্তু তাদের বলা হবে) , তোমরা এখানে চিরদিন থাকবে,
৭২
وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٧٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আর এটা হচ্ছে সেই (চিরস্থায়ী) জান্নাত, যার (আজ) তোমরা উত্তরাধিকারী হলে, এটা হচ্ছে তোমাদের সে (নেক) আমলের বিনিময় যা তোমরা (দুনিয়ার জীবনে) করে এসেছে।
৭৩
لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِنْهَا تَأْكُلُونَ ﴿٧٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এখানে) তোমাদের জন্যে প্রচুর পরিমাণ ফল-পাকড়া (মজুদ) থাকবে, যা থেকে তোমরা (প্রাণভরে) খেতে পারবে,
৭৪
إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي عَذَابِ جَهَنَّمَ خَالِدُونَ ﴿٧٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অপর দিকে) অপরাধীরা থাকবে নিশ্চিত জাহান্নামে, সেখানে তারা থাকবে চিরদিন,
৭৫
لَا يُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَهُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ ﴿٧٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (মুহূর্তের জন্যেও শাস্তি) তাদের থেকে লঘু করা হবে না এবং (একান্ত) হতাশ হয়েই তারা সেখানে পড়ে থাকবে,
৭৬
وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا هُمُ الظَّالِمِينَ ﴿٧٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ আযাব দিয়ে কিন্তু) আমি তাদের উপর মোটেই যুলুম করিনি, বরং তারা (বিদ্রোহ করে) নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে।
৭৭
وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ قَالَ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ ﴿٧٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ওরা (জাহান্নামের প্রহরীকে) ডেকে বলবে, ওহে প্রহরী, (আজ) তোমার প্রতিপালক (যদি মৃত্যুর মাধ্যমে) আমাদের ব্যাপারটা শেষ করে দিতেন (তাহলেই ভালো হতো) ; সে (প্রহরী) বলবে, (না, তা কিছুতেই হবার নয়, এভাবেই) তোমাদের (এখানে) চিরকাল পড়ে থাকতে হবে ।
৭৮
لَقَدْ جِئْنَاكُمْ بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ ﴿٧٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (নবী বলবে, ) আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে সত্য (দ্বীন) নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশ লোকই (এ থেকে) অনীহা প্রকাশ করেছিলো ।
৭৯
أَمْ أَبْرَمُوا أَمْرًا فَإِنَّا مُبْرِمُونَ ﴿٧٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা কি (নবীকে কষ্ট দেয়ার) পরিকল্পনা গ্রহণ করেই ফেলেছে (তাহলে তারা শুনুক) , আমিও (তাকে কষ্ট থেকে বাঁচানোর) আমার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছি,
৮০
أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ بَلَى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ ﴿٨٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা কি ধরে নিয়েছে, আমি তাদের গোপন কথা ও সলাপরামর্শসমুহ শুনতে পাই না; অবশ্যই (আমি তা শুনতে পাই) , তাছাড়া আমার পাঠানো (ফেরেশতা) যারা তাদের (ঘাড়ের) পাশে (বসে) আছে, তারাও (তো) সব লিখে রাখছে।
৮১
قُلْ إِنْ كَانَ لِلرَّحْمَنِ وَلَدٌ فَأَنَا أَوَّلُ الْعَابِدِينَ ﴿٨١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি (এদের) বলো, যদি দয়াময় আল্লাহ তায়ালার কোনো সন্তান থাকতো, তাহলে আমিই তার প্রথম ইবাদাতগোযারদের মধ্যে অগ্রণী হতাম!
৮২
سُبْحَانَ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴿٨٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা অনেক পবিত্র, তিনি আসমানসমুহ ও যমীনের মালিক, মহান আরশের তিনি অধিপতি, এরা যা কিছু তাঁর সম্পর্কে বলে তিনি তা থেকে পবিত্র।
৮৩
فَذَرْهُمْ يَخُوضُوا وَيَلْعَبُوا حَتَّى يُلَاقُوا يَوْمَهُمُ الَّذِي يُوعَدُونَ ﴿٨٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব (হে নবী) , তুমি এদের (সেদিন পর্যন্ত) অর্থহীন কথাবার্তা ও খেলাধুলায় (মত্ত) থাকতে দাও, যখন তারা সে (কঠিন) দিনটির সম্মুখীন হবে, যার ওয়াদা (বার বার) তাদের কাছে করা হয়েছে।
৮৪
وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهٌ وَفِي الْأَرْضِ إِلَهٌ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ ﴿٨٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি হচ্ছেন আসমানে মাবুদ, যমীনেও মাবুদ; তিনি বিজ্ঞ, কুশলী, সর্বজ্ঞ।
৮৫
وَتَبَارَكَ الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَعِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٨٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (প্রভূত) বরকতময় তিনি, আসমানসমুহ, যমীন ও এ উভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে (যেখানে) যা কিছু আছে, (এ সব কিছুর একক) সার্বভৌমত্ব তাঁর জন্যেই, কেয়ামতের সঠিক খবর তাঁর কাছেই রয়েছে, পরিশেষে তোমাদের সবাইকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।
৮৬
وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿٨٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাঁকে বাদ দিয়ে এরা অন্য যেসব (মাবুদ) -কে ডাকে, তারা তো (আল্লাহ তায়ালার কাছে) সুপারিশের (কোনো) ক্ষমতাই রাখে না, তবে যারা সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে এবং (সত্যকে) জানবে (তাদের কথা আলাদা) ।
৮৭
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ ﴿٨٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, তুমি) যদি তাদের জিজ্ঞেস করো, কে তাদের পয়দা করেছেন, তারা বলবে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা, (তাহলে বলো) তোমরা (তাঁকে বাদ দিয়ে) কোথায় কোথায় ঠোকর খাচ্ছো?
৮৮
وَقِيلِهِ يَا رَبِّ إِنَّ هَؤُلَاءِ قَوْمٌ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٨٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আল্লাহ তায়ালা) তাঁর (রসুলের) এ বক্তব্য (সম্পর্কেও জানেন) , হে আমার মালিক, এরা হচ্ছে এমন লোক যারা কখনোই ঈমান আনবে না।
৮৯
فَاصْفَحْ عَنْهُمْ وَقُلْ سَلَامٌ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿٨٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে রসুল, ) অতপর তুমি এদের থেকে বিমুখ থাকো, (এদের ব্যাপার) ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখো এবং (তাদের উদ্দেশে) বলো সালাম; (কেননা) অচিরেই ওরা সত্য মিথ্যা জানতে পারবে।



ফন্ট সাইজ
15px
17px