🕋

الجاثية
(৪৫) আল-জাসিয়া

৩৭

﴾৪৫:১﴿
﴾ ৪৫:১ ﴿
حم ﴿١﴾
হা-মীম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২﴿
﴾ ৪৫:২ ﴿
تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ ﴿٢﴾
পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকেই (এ) কিতাবের অবতরণ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৩﴿
﴾ ৪৫:৩ ﴿
إِنَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٣﴾
নিসন্দেহে আকাশমালা ও যমীনে ঈমানদারদের জন্যে (আল্লাহ তায়ালাকে জানার অগণিত) নিদর্শন রয়েছে; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৪﴿
﴾ ৪৫:৪ ﴿
وَفِي خَلْقِكُمْ وَمَا يَبُثُّ مِنْ دَابَّةٍ آيَاتٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ ﴿٤﴾
(নিদর্শন রয়েছে স্বয়ং) তোমাদের সৃষ্টির মাঝে এবং জীবজন্তুর (বংশ বিস্তারের) মাঝেও, যাদের তিনি যমীনের সর্বত্র ছড়িয়ে রেখেছেন, এর সর্বত্রই (তাঁর কুদরতের অসংখ্য) নিদর্শন (মজুদ) রয়েছে তাদের জন্যে, যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) বিশ্বাস করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৫﴿
﴾ ৪৫:৫ ﴿
وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ رِزْقٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ آيَاتٌ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ ﴿٥﴾
(একইভাবে নিদর্শন রয়েছে) রাত দিনের পরিবর্তনের মাঝে, যে রিযিক (বিভিন্নভাবে) আল্লাহ তায়ালা আসমান থেকে পাঠান, যা দিয়ে তিনি যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করে তোলেন (তার মাঝেও! এ) বায়ুর পরিবর্তনেও (তাঁর কুদরতের বহু) নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে তাদের জন্যে, যারা চিন্তা (গবেষণা) করে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৬﴿
﴾ ৪৫:৬ ﴿
تِلْكَ آيَاتُ اللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ فَبِأَيِ حَدِيثٍ بَعْدَ اللَّهِ وَآيَاتِهِ يُؤْمِنُونَ ﴿٦﴾
এ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার আয়াতসমুহ, যা আমি যথাযথভাবে তোমার কাছে পড়ে শোনাচ্ছি, অতপর (তুমি কি বলতে পারো) আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর এ নিদর্শনের পর আর কিসের উপর তারা ঈমান আনবে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৭﴿
﴾ ৪৫:৭ ﴿
وَيْلٌ لِكُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ ﴿٧﴾
দুর্ভোগ প্রতিটি মিথ্যাবাদী পাপাচারীর জন্যে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৮﴿
﴾ ৪৫:৮ ﴿
يَسْمَعُ آيَاتِ اللَّهِ تُتْلَى عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِرًا كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٨﴾
আল্লাহ তায়ালার আয়াত যখন তার উপর তেলাওয়াত করা হয় তখন সে (তা) শোনে, (কিন্তু) একটু পরেই সে অহংকারী হয়ে এমনভাবে জেদ ধরে যেন সে তা শুনতেই পায়নি, সুতরাং (যে এমন ধরণের আচরণ করে) তুমি তাকে এক কঠিন আযাবের সুসংবাদ দাও! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৯﴿
﴾ ৪৫:৯ ﴿
وَإِذَا عَلِمَ مِنْ آيَاتِنَا شَيْئًا اتَّخَذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿٩﴾
যখন সে আমার আয়াতসমুহের কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে, তখন সে একে পরিহাসের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে; এমন ধরনের লোকদের জন্যে অপমানজনক আযাব রয়েছে; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১০﴿
﴾ ৪৫:১০ ﴿
مِنْ وَرَائِهِمْ جَهَنَّمُ وَلَا يُغْنِي عَنْهُمْ مَا كَسَبُوا شَيْئًا وَلَا مَا اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١٠﴾
তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম এবং সেসব জিনিস যা তারা (দুনিয়া থেকে) কামাই করে এনেছে (আজ তা) তাদের কোনো কাজেই এলো না, না সেসব (মাবুদ তাদের কোনো কাজে এলো) যাদের তারা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে (নিজেদের) অভিভাবক বানিয়ে রেখেছিলো, তাদের সবার জন্যে রয়েছে (জাহান্নামের) কঠোর শাস্তি; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১১﴿
﴾ ৪৫:১১ ﴿
هَذَا هُدًى وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ لَهُمْ عَذَابٌ مِنْ رِجْزٍ أَلِيمٌ ﴿١١﴾
এ (কোরআন) হচ্ছে (সম্পূর্ণ) হেদায়াত, (তা সত্ত্বেও) যারা তাদের মালিকের আয়াতসমুহকে অস্বীকার করে তাদের জন্যে অতিশয় নিকৃষ্ট ও কঠোরতর আযাব রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১২﴿
﴾ ৪৫:১২ ﴿
اللَّهُ الَّذِي سَخَّرَ لَكُمُ الْبَحْرَ لِتَجْرِيَ الْفُلْكُ فِيهِ بِأَمْرِهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿١٢﴾
আল্লাহ তায়ালাই সেই মহান সত্তা, যিনি সমুদ্রকে তোমাদের অধীন করে রেখেছেন, যাতে করে তোমরা তাঁরই আদেশক্রমে নৌযানসমুহে তাতে চলতে পারো, এর দ্বারা তোমরা তাঁর অনুগ্রহ (রিযিক) সন্ধান করতে পারো এবং শোকর আদায় করতে পারো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১৩﴿
﴾ ৪৫:১৩ ﴿
وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مِنْهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴿١٣﴾
(একইভাবে) তাঁর (অনুগ্রহ) থেকে তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, অবশ্যই এর মধ্যে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে (অনেক) নিদর্শন রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১৪﴿
﴾ ৪৫:১৪ ﴿
قُلْ لِلَّذِينَ آمَنُوا يَغْفِرُوا لِلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ أَيَّامَ اللَّهِ لِيَجْزِيَ قَوْمًا بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿١٤﴾
(হে নবী, ) ঈমানদারদের তুমি বলো, যারা আল্লাহ তায়ালার (অমোঘ বিচারের) দিনগুলো থেকে কিছু আশা করে না, তারা যেন তাদের ক্ষমা করে দেয়, যাতে করে আল্লাহ তায়ালা এ (বিশেষ) দলকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে (পরকালে) পুরোপুরি বিনিময় দিতে পারেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১৫﴿
﴾ ৪৫:১৫ ﴿
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ ﴿١٥﴾
(তোমাদের মাঝে) যদি কেউ কোনো নেক কাজ করে, তা (কিন্তু) সে তার নিজের ভালোর জন্যেই (করে, আবার) যে কেউই কোনো মন্দ কাজ করে, (তার প্রতিফল) (কিন্তু) অতপর তার উপরই (পড়বে, পরিশেষে) তোমাদের সবাইকে স্বীয় মালিকের কাছেই ফিরে যেতে হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১৬﴿
﴾ ৪৫:১৬ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿١٦﴾
আমি বনী ইসরাঈলদের কিতাব, রাষ্ট্র ক্ষমতা ও নবুওত দান করেছিলাম, আমি তাদের উৎকৃষ্ট রিযিক দিয়েছিলাম, (উপরন্তু) আমি (এসব কিছুর মাধ্যমে) তাদের সৃষ্টিকুলের উপর শ্রেষ্ঠত্বও দান করেছিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১৭﴿
﴾ ৪৫:১৭ ﴿
وَآتَيْنَاهُمْ بَيِّنَاتٍ مِنَ الْأَمْرِ فَمَا اخْتَلَفُوا إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿١٧﴾
দ্বীন সংক্রান্ত বিষয়গুলো আমি তাদের কাছে বিশদভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, অতপর যে মতবিরোধ তারা নিজেদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে তা (কিন্তু তাদের অজ্ঞতার কারণে নয়; বরং তা) ছিলো তাদের পারস্পরিক জেদের কারণে; (হে নবী, ) কেয়ামতের দিন তোমার মালিক তাদের মধ্যে সে সমস্ত (বিষয়ের) ফয়সালা করে দেবেন যে ব্যাপারে তারা (দুনিয়ায়) মতবিরোধ করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১৮﴿
﴾ ৪৫:১৮ ﴿
ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٨﴾
অতপর (হে নবী, ) আমি তোমাকে দ্বীনের এক (বিশেষ) পদ্ধতির উপর এনে স্থাপন করেছি, অতএব তুমি শুধু তারই অনুসরণ করো, (শরীয়তের ব্যাপারে) সেসব লোকদের ইচ্ছা আকাংখার অনুসরণ করো না যারা (আখেরাত সম্পর্কে কিছুই জানে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:১৯﴿
﴾ ৪৫:১৯ ﴿
إِنَّهُمْ لَنْ يُغْنُوا عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَإِنَّ الظَّالِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَاللَّهُ وَلِيُ الْمُتَّقِينَ ﴿١٩﴾
আল্লাহ তায়ালার মোকাবেলায় এরা তোমার কোনোই কাজে আসবে না; যালেমরা অবশ্যই একজন আরেকজনের বন্ধু, আর পরহেযগার লোকদের (আসল) বন্ধু হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা (স্বয়ং) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২০﴿
﴾ ৪৫:২০ ﴿
هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ ﴿٢٠﴾
এ (কোরআন) হচ্ছে মানুষের জন্যে সুস্পষ্ট দলীল, (সর্বোপরি) বিশ্বাসীদের জন্যে তা হচ্ছে জ্ঞানের কথা, পথনির্দেশ ও অনুগ্রহ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২১﴿
﴾ ৪৫:২১ ﴿
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ نَجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءً مَحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿٢١﴾
যারা অপকর্ম করে তারা কি মনে করে নিয়েছে, আমি তাদের সে লোকদের মতো করে দেবো যারা ঈমান এনেছে এবং সে অনুযায়ী) নেক আমল করেছে, তাদের জীবন ও তাদের মরণ কি (ঈমান গ্রহণকারীদের মতো) একই ধরনের হবে? কতো নম্নিমানের ধারণা পোষণ করছে এরা (আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে) ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২২﴿
﴾ ৪৫:২২ ﴿
وَخَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَلِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٢٢﴾
আল্লাহ তায়ালা আসমানসমুহ ও যমীনকে যথাযথভাবেই সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে (এ দু'য়ের মাঝে বসবাসরত) প্রতিটি বাসিন্দাদের তার কর্মের ঠিক ঠিক বিনিময় দেয়া যেতে পারে, (কেয়ামতের দিন) তাদের কারো প্রতি বিন্দুমাত্র যুলুম করা হবে না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২৩﴿
﴾ ৪৫:২৩ ﴿
أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿٢٣﴾
(হে নবী, ) তুমি কি সে ব্যক্তিটির প্রতি লক্ষ্য করেছো যে ব্যক্তি নিজের খেয়াল খুশীকে নিজের মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে এবং (পর্যাপ্ত পরিমাণ) জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তায়ালা তাকে গোমরাহ করে দিয়েছেন, তার কান ও তার অন্তরে তিনি মোহর মেরে দিয়েছেন, তার চোখে তিনি পর্দা এঁটে দিয়েছেন; এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালার পর কে পথনির্দেশ দেবে? তারপরও কি তোমরা কোনো উপদেশ গ্রহণ করবে না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২৪﴿
﴾ ৪৫:২৪ ﴿
وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ ﴿٢٤﴾
এ (মুখ) লোকেরা এও বলে, আমাদের এ পার্থিব দুনিয়া ছাড়া আর কোনো জীবনই নেই, আমরা (এখানেই) মরি বাঁচি, কালের আবর্তন ছাড়া অন্য কিছু আমাদের ধ্বংশও করেনা। (মুলত) এদের এ ব্যাপারে কোনোই জ্ঞান নেই, এরা শুধু আন্দায অনুমানের ভিত্তিতেই কথা বলে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২৫﴿
﴾ ৪৫:২৫ ﴿
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ مَا كَانَ حُجَّتَهُمْ إِلَّا أَنْ قَالُوا ائْتُوا بِآبَائِنَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٢٥﴾
যখন এদের কাছে আমার (কিতাবের) সুস্পষ্ট আয়াতগুলো পড়া হয় তখন এদের কাছে এ ছাড়া আর কোনো যুক্তিই থাকে না যে, তারা বলে, তোমরা যদি (কেয়ামতের দাবীতে) সত্যবাদী হও তাহলে আমাদের বাপ-দাদাদের (কবর থেকে) নিয়ে এসো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২৬﴿
﴾ ৪৫:২৬ ﴿
قُلِ اللَّهُ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يَجْمَعُكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٢٦﴾
(হে নবী, ) তুমি (এদের) বলো, আল্লাহ তায়ালাই তোমাদের জীবন দান করেন, তিনিই তোমাদের মৃত্যু দেন, তিনিই (আবার) কেয়ামতের দিন তোমাদের পুনরায় একত্রিত করবেন, এটা (সংঘটিত) হবার ব্যাপারে কোনোই সন্দেহ নেই, কিন্তু (তারপরও) অধিকাংশ মানুষ (এ সম্পর্কে কিছুই) জানে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২৭﴿
﴾ ৪৫:২৭ ﴿
وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَخْسَرُ الْمُبْطِلُونَ ﴿٢٧﴾
আকাশমন্ডলী ও যমীনের যাবতীয় সার্বভৌমত্ব আল্লাহ তায়ালার জন্যেই, যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন এই বাতিলপন্থীরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২৮﴿
﴾ ৪৫:২৮ ﴿
وَتَرَى كُلَّ أُمَّةٍ جَاثِيَةً كُلُّ أُمَّةٍ تُدْعَى إِلَى كِتَابِهَا الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٢٨﴾
(হে নবী, সেদিন) তুমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দেখবে (মহাবিচারকের সামনে) ভয়ে আতংকে নতজানু হয়ে পড়ে থাকবে। প্রত্যেক জাতিকেই তাদের আমলনামার দিকে ডাক দেয়া হবে; (তাদের বলা হবে, দুনিয়ায়) তোমরা যা কিছু করতে আজ তোমাদের তার (যথাযথ) প্রতিফল দেয়া হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:২৯﴿
﴾ ৪৫:২৯ ﴿
هَذَا كِتَابُنَا يَنْطِقُ عَلَيْكُمْ بِالْحَقِّ إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخُ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٢٩﴾
এ হচ্ছে আমার (সংরক্ষিত) নথিপত্র, যা তোমাদের (কর্মকান্ডের) উপর ঠিক ঠিক বর্ণনাই পেশ করবে; তোমরা যখন যা করতে আমি তা (এখানে সেভাবেই) লিখে রেখেছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৩০﴿
﴾ ৪৫:৩০ ﴿
فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَيُدْخِلُهُمْ رَبُّهُمْ فِي رَحْمَتِهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ ﴿٣٠﴾
যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে, (আজ) তাদের মালিক তাদের তাঁর অনুগ্রহে (জান্নাতে) দাখিল করাবেন; আর এটাই হবে সুস্পষ্ট সাফল্য। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৩১﴿
﴾ ৪৫:৩১ ﴿
وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا أَفَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَاسْتَكْبَرْتُمْ وَكُنْتُمْ قَوْمًا مُجْرِمِينَ ﴿٣١﴾
অপরদিকে যারা কুফরী অবলম্বন করেছে (আমি তাদের বলবো) , তোমাদের সামনে কি আমার আয়াতসমুহ (বার বার) পড়ে শোনানো হতো না? অতপর (এ সত্বেও) তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিলে, (মুলত) তোমরা ছিলে নাফরমান জাতি! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৩২﴿
﴾ ৪৫:৩২ ﴿
وَإِذَا قِيلَ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ لَا رَيْبَ فِيهَا قُلْتُمْ مَا نَدْرِي مَا السَّاعَةُ إِنْ نَظُنُّ إِلَّا ظَنًّا وَمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِينَ ﴿٣٢﴾
যখন (তোমাদের) বলা হতো, আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামত (সংঘটিত) হওয়ার মধ্যে কোনো রকম সন্দেহ নেই, তখন তোমরা (অহংকার করে) বলতে, আমরা জানি না কেয়ামত (আবার) কি, আমরা (এ ব্যাপারে সামান্য) কিছু ধারণাই করতে পারি মাত্র, কিন্তু আমরা তো তাতে বিশ্বাসীও নই! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৩৩﴿
﴾ ৪৫:৩৩ ﴿
وَبَدَا لَهُمْ سَيِّئَاتُ مَا عَمِلُوا وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٣٣﴾
(সেদিন) তাদের মন্দ কাজগুলো তাদের কাছে স্পষ্ট প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং সে বিষয়টিই তাদের পরিবষ্টেন। করে নেবে যে ব্যাপারে তারা হাসি ঠাট্টা করে বেড়াতো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৩৪﴿
﴾ ৪৫:৩৪ ﴿
وَقِيلَ الْيَوْمَ نَنْسَاكُمْ كَمَا نَسِيتُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا وَمَأْوَاكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ نَاصِرِينَ ﴿٣٤﴾
(ওদের তখন) বলা হবে, আজ আমি তোমাদের (জেনে শুনেই) ভুলে যাবো, ঠিক যেভাবে তোমরা (দুনিয়ায় থাকতে) এ দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিলে, (আজ) তোমাদের ঠিকানা হবে (জাহান্নামের) আগুন, (সে আগুন থেকে বাঁচার জন্যে এখানে) তোমরা কোনোই সাহায্যকারী পাবে না । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৩৫﴿
﴾ ৪৫:৩৫ ﴿
ذَلِكُمْ بِأَنَّكُمُ اتَّخَذْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا وَغَرَّتْكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فَالْيَوْمَ لَا يُخْرَجُونَ مِنْهَا وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُونَ ﴿٣٥﴾
এটা এ কারণে যে, তোমরা আল্লাহ তায়ালার আয়াতসমুহ নিয়ে হাসি তামাশা করতে এবং (তোমাদের) পার্থিব জীবন দারুণভাবে তোমাদের প্রতারিত করে রেখেছিলো, (সুতরাং) আজ তাদের সেখান থেকে বের করা হবে না না (আল্লাহ তায়ালার দরবারে) তাদের কোনো রকম অজুহাত পেশ করার সুযোগ দেয়া হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৩৬﴿
﴾ ৪৫:৩৬ ﴿
فَلِلَّهِ الْحَمْدُ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَرَبِّ الْأَرْضِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٣٦﴾
অতএব, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্যে, যিনি আসমানসমুহের মালিক, তিনি যমীনের মালিক, তিনি মালিক গোটা সৃষ্টিকুলের! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৪৫:৩৭﴿
﴾ ৪৫:৩৭ ﴿
وَلَهُ الْكِبْرِيَاءُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٣٧﴾
আকাশমন্ডলী এবং যমীনের সমস্ত গৌরব ও মাহাত্ম তাঁর জন্যেই (নিবেদিত) , তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]