🕌

المائدة
(৫) আল-মায়িদাহ

১২০

﴾৫:১﴿
﴾ ৫:১ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ ﴿١﴾
হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা যারা ঈমান এনেছো তোমরা ওয়াদাসমূহ পূরণ করো (মনে রেখো) ; তোমাদের জন্যে চার পা’বিশিষ্ট পোষা জন্তু হালাল করা হয়েছে, তবে সেসব জন্তু ছাড়া, যা (বিবরণসহ একটু পরেই) তোমাদের পড়ে শোনানো হচ্ছে, এহরাম (বাঁধা) অবস্থায় (কিন্তু এসব হালাল জন্তু) শিকার করা বৈধ মনে করো না; (অবশ্যই) আল্লাহ তা’আলা যা চান সে আদেশই তিনি জারি করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২﴿
﴾ ৫:২ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلَا الْهَدْيَ وَلَا الْقَلَائِدَ وَلَا آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنْ رَبِّهِمْ وَرِضْوَانًا وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَنْ صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَنْ تَعْتَدُوا وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿٢﴾
. হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা আল্লাহ তা’আলার নিদর্শনসমূহের অসম্মান করো না, সম্মানিত মাসগুলোকেও (যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্যে) কখনো হালাল বানিয়ে নিয়ো না, (আল্লাহর নামে) উৎসর্গীকৃত জন্তুসমূহ ও যেসব জন্তুর গলায় (উৎসর্গের চিহ্ন হিসাবে) পট্টি বেঁধে দেয়া হয়েছে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আল্লাহর পবিত্র (কাবা) ঘরের দিকে রওনা দিয়েছে (তাদের তোমরা অসম্মান করো না) , তোমরা যখন এহরামমুক্ত হবে তখন তোমরা শিকার করতে পারো, (বিশেষ) কোনো একটি সম্প্রদায়ের বিদ্বেষ (এমন বিদ্বেষ যার কারণে) তারা তোমাদের আল্লাহ তা’আলার পবিত্র মাসজিদে আসার পথ বন্ধ করে দিয়েছিলো, যেন তোমাদের (কোনো রকম) সীমালংঘন করতে প্ররোচিত না করে, তোমরা (শুধু) নেক কাজ ও তাকওয়ার ব্যাপারেই একে অপরের সহযোগিতা করো, পাপ ও বাড়াবাড়ির কাজে (কখনো) একে অপরের সহযোগিতা করো না, সর্বাবস্থায়ই আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো, কেননা আল্লাহ তা’আলা (পাপের) দন্ডদানের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩﴿
﴾ ৫:৩ ﴿
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٣﴾
মৃত জন্তু, রক্ত, শুয়োরের গোশ্ত ও যে জন্তু আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কারো নামে যবাই (কিংবা উৎসর্গ) করা হয়েছে, (তা সবই) তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরা, আঘাত খেয়ে মরা, উপর থেকে পড়ে মরা, শিংয়ের আঘাতে মরা, হিংস্র জন্তুর খাওয়া জন্তুও (তোমাদের জন্যে হারাম) , তবে তোমরা তা যদি (জীবিত অবস্থায় পেয়ে) যবাই করে থাকো (তাহলে তা হারাম নয়) । পূজাার বেদীতে বলি দেয়া জন্তুও হারাম, (লটারি কিংবা) জুয়ার তীর নিক্ষেপ করে ভাগ্য নির্ণয় করা (হারাম) , এর সব কয়টাই হচ্ছে বড়ো (বড়ো) গুনাহের কাজ, আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন (নির্মূল করা) সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছে, সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো; আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের উপর আমার (প্রতিশ্রুত) নেয়ামতও আমি পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্যে জীবন বিধান হিসাবে আমি ইসলামকেই মনোনীত করলাম; (হারামের ব্যাপারে মনে রেখো, ) যদি কোনো ব্যক্তিকে ক্ষুধার তাড়নায় (হারাম খেতে) বাধ্য করা হয়, কিন্তু (ইচ্ছা করে) সে কোনো পাপের দিকে ঝুঁকে পড়তে না চায় (তার ব্যাপারটা আলাদা) , অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪﴿
﴾ ৫:৪ ﴿
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللَّهُ فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿٤﴾
৪ . তারা তোমার কাছ থেকে জানতে চায় কোন্ কোন্ জিনিস তাদের জন্যে হালাল করা হয়েছে? তুমি (তাদের) বলো, সব ধরনের পাক-সাফ বস্তুই (তোমাদের জন্যে) হালাল করা হয়েছে এবং সেসব শিকারী (জন্তু ও পাখীর) ধরে আনা (জন্তু এবং পাখী) -ও তোমরা খাও, যাদের তোমরা (শিকার করার নিয়ম) শিক্ষা দিয়েছো, যেভাবে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন, তবে) এর উপর অবশ্যই আল্লাহ তা’আলার নাম নেবে, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকেই ভয় করো; আল্লাহ তা’আলা দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫﴿
﴾ ৫:৫ ﴿
الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَهُمْ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِي أَخْدَانٍ وَمَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٥﴾
আজ তোমাদের জন্যে যাবতীয় পাক জিনিস হালাল করা হলো; যাদের উপর আল্লাহর কিতাব নাযিল করা হয়েছে তাদের খাবারও তোমাদের জন্যে হালাল, আবার তোমাদের খাদ্যদ্রব্যও তাদের জন্যে হালাল, (চরিত্রের) সংরক্ষিত দুর্গে অবস্থানকারী মু’মিন নারী ও তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিলো, যখন তোমরা (তাদের) মোহরানা আদায় করে দেবে, সেসব (আহলে কিতাব ) সতী সাধ্বী নারীরাও (তখন তোমাদের জন্যে হালাল হয়ে যাবে) , তোমরা (থাকবে চরিত্রের) রক্ষক হয়ে, কামনা চরিতার্থ করে কিংবা গোপন অভিসারী (উপ-পত্নী) বানিয়ে নয়; যে কেউই ঈমান অস্বীকার করবে, তার (জীবনের) সব কর্মই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং শেষ বিচারের দিনে সে হবে (চরমভাবে) ক্ষতিগ্রস্তদের একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬﴿
﴾ ৫:৬ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٦﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা যখন নামাযের জন্যে দাঁড়াবে তোমরা তোমাদের (পুরো) মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত তোমাদের হাত দুটো ধুয়ে নেবে, অতপর তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং পা দুটো গোড়ালি পর্যন্ত (ধুয়ে নেবে, ) কখনো যদি (এমন বেশী) নাপাক হয়ে যাও (যাতে গোসল করা ফরয হয়ে যায়) , তাহলে (গোসল করে ভালোভাবে) পবিত্র হয়ে নেবে, যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে পড়ো কিংবা তোমরা যদি সফরে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ যদি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে অথবা যদি নারী সম্ভোগ করে থাকো (তাহলে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো) , আর যদি পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও, (আর তায়াম্মুমের নিয়ম হচ্ছে, সেই পবিত্র) মাটি দিয়ে তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মাসেহ করে নেবে; (মূলত) আল্লাহ তা’আলা কখনো (পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে) তোমাদের কষ্ট দিতে চান না, বরং তিনি চান তোমাদের পাক-সাফ করে দিতে এবং (এভাবেই) তিনি তোমাদের উপর তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দিতে চান, যাতে করে তোমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭﴿
﴾ ৫:৭ ﴿
وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمِيثَاقَهُ الَّذِي وَاثَقَكُمْ بِهِ إِذْ قُلْتُمْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿٧﴾
তোমাদের উপর আল্লাহ তা’আলার নেয়ামতসমূহ তোমরা স্মরণ করো এবং তোমাদের কাছ থেকে যে পাকা প্রতিশ্রুতি তিনি গ্রহণ করেছিলেন (সে কথাও ভুলে যেয়ো না) , যখন তোমরা (তাঁর সাথে অংগীকার করে) বলেছিলে (হে আমাদের মালিক) , আমরা (তোমার কথা) শুনলাম এবং (তা) মেনে নিলাম, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের অন্তরে যা কিছু আছে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮﴿
﴾ ৫:৮ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿٨﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহর জন্যে (সত্য ও) ন্যায়ের উপর সাক্ষী হয়ে অবিচলভাবে দাঁড়িয়ে থাকো, (মনে রাখবে, বিশেষ) কোনো সম্প্রদায়ের দুশমনী যেন তোমাদের এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে, (এর ফলে) তোমরা (তাদের সাথে) ন্যায় ও ইনসাফ করবে না। তোমরা ইনসাফ করো, কারণ এ (কাজ) -টি (আল্লাহ তা’আলাকে) ভয় করে চলার অধিক নিকটতর; তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো; অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে পূর্ণাংগ ওয়াকেফহাল রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯﴿
﴾ ৫:৯ ﴿
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ ﴿٩﴾
যারা ঈমান আনে এবং নেক কাজ করে, আল্লাহ তা’আলা তাদের সবাইকে (এই বলে) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (যে) , তাদের জন্যে (তাঁর কাছে বিশেষ) ক্ষমা ও মহাপুরস্কার রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০﴿
﴾ ৫:১০ ﴿
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴿١٠﴾
(অপরদিকে) যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারা সবাই হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১﴿
﴾ ৫:১১ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ هَمَّ قَوْمٌ أَنْ يَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ فَكَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ﴿١١﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমাদের উপর আল্লাহর নেয়ামত ম্মরণ করো, যখন একটি জনগোষ্ঠী তোমাদের বিরুদ্ধে হাত ওঠাতে উদ্যত হয়েছিলো, তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের সে হাত তোমাদের উপর (আক্রমণ করা) থেকে সংযত করে দিলেন, অতপর তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো, মু’মিনদের তো আল্লাহ তা’আলার উপরই ভরসা করা উচিত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১২﴿
﴾ ৫:১২ ﴿
وَلَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيبًا وَقَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَآمَنْتُمْ بِرُسُلِي وَعَزَّرْتُمُوهُمْ وَأَقْرَضْتُمُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَلَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ فَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ ﴿١٢﴾
আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলদের (কাছ থেকে আনুগত্যের) অংগীকার গ্রহণ করলেন, অতপর আমি (এ কাজের জন্যে) তাদের মধ্য থেকে বারো জন সর্দার নিযুক্ত করলাম; আল্লাহ তা’আলা তাদের বললেন, অবশ্যই আমি তোমাদের সাথে আছি, তোমরা যদি নামায প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত আদায় করো, আমার রসূলদের উপর ঈমান আনো এবং (দ্বীনের কাজে যদি) তোমরা তাদের সাহায্য- সহযোগিতা করো, (সর্বোপরি) আল্লাহ তা’আলাকে তোমরা যদি উত্তম ঋণ প্রদান করো, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদের গুনাহসমূহ মোচন করে দেবো এবং তোমাদের আমি এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবো যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়, এরপর যদি কোনো ব্যক্তি (আল্লাহকে) অস্বীকার করে, তাহলে সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১৩﴿
﴾ ৫:১৩ ﴿
فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴿١٣﴾
(অতপর) তাদের সেই অংগীকার ভংগ করার কারণে আমি তাদের উপর অভিশাপ নাযিল করেছি এবং তাদের হৃদয় কঠিন করে দিয়েছি (তাদের চরিত্রই ছিলো) , তারা (আল্লাহর) কালামকে তার নির্দিষ্ট অর্থ থেকে সরিয়ে নিয়ে বিকৃত করে দিতো, (হেদায়াতের) যা কিছু তাদের শিক্ষা দেয়া হয়েছিলো তার অধিকাংশ কথাই তারা ভুলে গেলো; প্রতিনিয়ত তুমি তাদের দেখতে পাবে, তাদের সামান্য একটি অংশ ছাড়া অধিকাংশ মানুষই (আল্লাহর সাথে) বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে, অতএব তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও, (যথাসম্ভব) তুমি তাদের (সংস্রব) এড়িয়ে চলো; অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা কল্যাণকামী মানুষদের ভালোবাসেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১৪﴿
﴾ ৫:১৪ ﴿
وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَسَوْفَ يُنَبِّئُهُمُ اللَّهُ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ ﴿١٤﴾
আমি তো তাদের (কাছ থেকেও আনুগত্যের) অংগীকার গ্রহণ করেছিলাম, যারা বলে, আমরা খৃস্টান (সম্প্রদায়ের লোক) , অতপর এরাও (সে অংগীকার সম্পর্কিত) অধিকাংশ কথা ভুলে গেলো, যা তাদের স্মরণ করানো হয়েছিলো, অতপর আমিও তাদের (পরষ্পরের) মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত (এক স্থায়ী) শত্রুতা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করে দিলাম; অচিরেই আল্লাহ তা’আলা তাদের বলে দেবেন (দুনিয়ার জীবনে) তারা যা কিছু উদ্ভাবন করতো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১৫﴿
﴾ ৫:১৫ ﴿
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ ﴿١٥﴾
হে আহলে কিতাবরা, তোমাদের কাছে আমার (পক্ষ থেকে) রসূল এসেছে, (আগের) কিতাবের যা কিছু তোমরা এতোদিন গোপন করে রেখেছিলে তার বহু কিছুই সে তোমাদের বলে দিচ্ছে, আবার অনেক কিছু সে এড়িয়েও যাচ্ছে; তোমাদের কাছে (এখন) তো আল্লাহর পক্ষ থেকে আলোকবর্তিকা এবং সুস্পষ্ট কিতাবও এসে হাযির হয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১৬﴿
﴾ ৫:১৬ ﴿
يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿١٦﴾
যে আল্লাহর আনুগত্য করে তার সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এর দ্বারা আল্লাহ তা’আলা তার শান্তি ও নিরাপত্তার পথ বাতলে দেন, অতপর তিনি তাঁর অনুমতিক্রমে তাদের (জাহেলিয়াতের) অন্ধকার থেকে (ঈমানের) আলোতে বের করে আনেন, আর (এভাবেই) তাদের তিনি সঠিক পথে পরিচালিত করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১৭﴿
﴾ ৫:১৭ ﴿
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ قُلْ فَمَنْ يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَنْ يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٧﴾
নিশ্চয়ই তারা কুফরী করেছে, যারা বলেছে, মারইয়ামের পুত্র মাসীহই আল্লাহ; (হে মোহাম্মদ, ) তুমি তাদের বলো, আল্লাহ তা’আলা যদি মারইয়াম পুত্র মাসীহ, তার মা ও গোটা বিশ্ব-চরাচরে যা িছু আছে সব কিছুও ধ্বংস করে দিতে চান, এমন কে আছে যে আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে এদের রক্ষা করতে পারে? এই আকাশমালা, ভূমন্ডল ও এর মধ্যবর্তী স্থানে যা কিছু আছে, তার সার্বভৌমত্ব (এককভাবে) আল্লাহ তা’আলার জন্যেই (নির্দিষ্ট) ; তিনি যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন; আল্লাহ তা’আলা সকল বিষয়ের উপর একক ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১৮﴿
﴾ ৫:১৮ ﴿
وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بَشَرٌ مِمَّنْ خَلَقَ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ ﴿١٨﴾
ইহুদী ও খৃস্টানরা বলে, আমরা আল্লাহর সন্তান এবং তাঁর প্রিয়পাত্র; তুমি (তাদের) বলো, তাহলে তিনি কেন তোমাদের গুনাহের জন্যে তোমাদের দন্ড প্রদান করবেন; (মূলত) তোমরা (সবাই হচ্ছো তাদের মধ্য থেকে কতিপয়) মানুষ, যাদের আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন আবার যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি প্রদান করেন; আসমানসমূহ ও যমীনের মধ্যবর্তী সব কিছুর একক মালিকানা আল্লাহ তা’আলার জন্যেই (নির্দিষ্ট) , সবকিছুকে তাঁর দিকেই ফিরে যেতে হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১৯﴿
﴾ ৫:১৯ ﴿
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَى فَتْرَةٍ مِنَ الرُّسُلِ أَنْ تَقُولُوا مَا جَاءَنَا مِنْ بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ فَقَدْ جَاءَكُمْ بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٩﴾
হে আহলে কিতাবরা, রসূলদের আগমন ধারার উপরই আমার (পক্ষ থেকে) তোমাদের কাছে একজন রসূল এসেছে, সে তোমাদের জন্যে (আমার কথাগুলো) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করছে, যাতে করে তোমরা (বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে) একথা বলতে না পারো যে, (কই) আমাদের কাছে (জান্নাতের) সুসংবাদ বহনকারী ও (জাহান্নামের) সতর্ককারী (হিসেবে) কেউ তো আগমন করেনি, (আজ তো সত্যি সত্যিই) তোমাদের কাছে সুসংবাদবাহী ও সতর্ককারী (একজন রসূল) এসে গেছে, বস্তুত আল্লাহ তা’আলা সর্ববিষয়ে শক্তিমান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২০﴿
﴾ ৫:২০ ﴿
وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَعَلَ فِيكُمْ أَنْبِيَاءَ وَجَعَلَكُمْ مُلُوكًا وَآتَاكُمْ مَا لَمْ يُؤْتِ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ ﴿٢٠﴾
(স্মরণ করো, ) যখন মূসাা তার জাতিকে বলেছিলো, হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর যে নেয়ামত নাযিল করেছেন তা তোমরা স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের মাঝে বহু নবী পয়দা করেছেন, তিনি তোমাদের (এ যমীনের) শাসনকর্তা বানিয়েছেন, এছাড়াও তিনি তোমাদের এমন সব নেয়ামত দান করেছেন যা (এ) সৃষ্টিকূলে (এর আগে) তিনি আর কাউকে দান করেননি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২১﴿
﴾ ৫:২১ ﴿
يَا قَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ ﴿٢١﴾
হে আমার জাতি, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে যে পবিত্র ভূখন্ড লিখে রেখেছেন তোমরা তাতে প্রবেশ করো এবং (এ অগ্রাভিযানে) কখনো পশ্চাদপসরণ করো না; তারপরও তোমরা যদি ফিরে আসো তাহলে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২২﴿
﴾ ৫:২২ ﴿
قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ ﴿٢٢﴾
তারা বললো, হে মূসাা (আমরা কিভাবে সেই জনপদে প্রবেশ করবো) , সেখানে (তো) এক দোর্দন্ড প্রতাপশালী সম্প্রদায় রয়েছে, তারা সেখান থেকে বেরিয়ে না এলে আমরা কিছুতেই সেখানে প্রবেশ করবো না, তারা সেখান থেকে বেরিয়ে এলে আমরা (অবশ্যই) প্রবেশ করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২৩﴿
﴾ ৫:২৩ ﴿
قَالَ رَجُلَانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمَا ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ فَإِذَا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غَالِبُونَ وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٢٣﴾
যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করছিলো, তাদের (এমন) দুজন লোক, যাদের উপর আল্লাহ তা’আলা অনুগ্রহ করেছিলেন, (এগিয়ে এসে) বললো, তোমরা (সদর) দরজা দিয়েই তাদের (জনপদে) প্রবেশ করো, আর (একবার) সেখানে প্রবেশ করলেই তোমরা বিজয়ী হবে, তোমরা যদি (সত্যিকার অর্থে) মু’মিন হও তাহলে আল্লাহর উপরই ভরসা করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২৪﴿
﴾ ৫:২৪ ﴿
قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا أَبَدًا مَا دَامُوا فِيهَا فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ ﴿٢٤﴾
তারা (আরো) বললো, হে মূসাা, সেই (শক্তিশালী) লোকেরা যতোক্ষণ (পর্যন্ত) সেখানে থাকবে, ততোক্ষণ আমরা কোনো অবস্থায়ই সেখানে প্রবেশ করবো না, (বরং) তুমিই যাও, তুমি ও তোমার মালিক উভয়ে মিলে যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে রইলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২৫﴿
﴾ ৫:২৫ ﴿
قَالَ رَبِّ إِنِّي لَا أَمْلِكُ إِلَّا نَفْسِي وَأَخِي فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ ﴿٢٥﴾
(তাদের কথা শুনে) মূসাা বললো, হে (আমার) মালিক (তুমি তো জানো) , আমার নিজের এবং আমার ভাই ছাড়া আর কারো উপর আমার আধিপত্য চলে না, অতএব আমাদের মাঝে ও এই নাফরমান লোকদের মাঝে তুমি একটা মীমাংসা করে দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২৬﴿
﴾ ৫:২৬ ﴿
قَالَ فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ ﴿٢٦﴾
আল্লাহ তা’আলা বললেন, ( হাঁ, তাই হবে, আগামী) চল্লিশ বছর পর্যন্ত সে (জনপদ) তাদের জন্যে নিষিদ্ধ করে দেয়া হলো, (এ সময়ে) তারা উদ্ভ্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াবে; সুতরাং তুমি এই না-ফরমান লোকদের উপর কখনো দুঃখ করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২৭﴿
﴾ ৫:২৭ ﴿
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ ﴿٢٧﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি এদের কাছে আদমের দুই পুত্রের গল্পটি যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও! (গল্পটি ছিলো, ) যখন তারা দুই জনই (আল্লাহর নামে) কোরবানী পেশ করলো, তখন তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে কোরবানী কবুল করা হলো, আরেকজনের কাছ থেকে তা কিছুতেই কবুল করা হলো না, (যার কোরবানী কবুল করা হয়নি) সে বললো, আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করবো (যার কোরবানী কবুল করা হলো) , সে বললো, আল্লাহ তা’আলা তো শুধু পরহেযগার লোকদের কাছ থেকেই (কোরবানী) কবুল করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২৮﴿
﴾ ৫:২৮ ﴿
لَئِنْ بَسَطْتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِي مَا أَنَا بِبَاسِطٍ يَدِيَ إِلَيْكَ لِأَقْتُلَكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ ﴿٢٨﴾
(হিংসার বশবর্তী হয়ে) তুমি যদি আজ আমাকে হত্যা করার জন্যে আমার দিকে তোমার হাত বাড়াও, তাহলে আমি (কিন্তু) তোমাকে হত্যা করার জন্যে তোমার প্রতি আমার হাত বাড়িয়ে দেবো না, কেননা আমি সৃষ্টিকুলের মালিককে ভয় করি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:২৯﴿
﴾ ৫:২৯ ﴿
إِنِّي أُرِيدُ أَنْ تَبُوءَ بِإِثْمِي وَإِثْمِكَ فَتَكُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ وَذَلِكَ جَزَاءُ الظَّالِمِينَ ﴿٢٩﴾
আমি (বরং) চাইবো, তুমি আমার গুনাহ ও তোমার গুনাহের (বোঝা) একাই তোমার (মাথার) উপর উঠিয়ে নাও এবং (এভাবেই) তুমি জাহান্নামের অধিবাসী হয়ে পড়ো, (মূলত) এ হচ্ছে যালেমদের (যথার্থ) কর্মফল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩০﴿
﴾ ৫:৩০ ﴿
فَطَوَّعَتْ لَهُ نَفْسُهُ قَتْلَ أَخِيهِ فَقَتَلَهُ فَأَصْبَحَ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٣٠﴾
শেষ পর্যন্ত তার কুপ্রবৃত্তি তাকে নিজ ভাইয়ের হত্যার কাজে উস্কানি দিলো, অতপর সে তাকে খুন করেই ফেললো এবং (এ কাজের ফলে) সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩১﴿
﴾ ৫:৩১ ﴿
فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ لِيُرِيَهُ كَيْفَ يُوَارِي سَوْأَةَ أَخِيهِ قَالَ يَا وَيْلَتَا أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَذَا الْغُرَابِ فَأُوَارِيَ سَوْأَةَ أَخِي فَأَصْبَحَ مِنَ النَّادِمِينَ ﴿٣١﴾
অতপর আল্লাহ তা’আলা (সেখানে) একটি কাক পাঠালেন, কাকটি (হত্যাকারীর সামনে এসে) মাটি খুঁড়তে লাগলো, উদ্দেশ্য, তাকে দেখানো কিভাবে সে তার ভাইয়ের লাশ লুকিয়ে রাখবে; (এটা দেখে) সে (নিজে নিজে) বলতে লাগলো, হায়! আমি তো এই কাকটির চাইতেও অক্ষম হয়ে পড়েছি, আমি তো আমার ভাইয়ের লাশটাও গোপন করতে পারলাম না, অতপর সে সত্যি সত্যিই (নিজের কৃতকর্মের জন্যে) অনুতপ্ত হলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩২﴿
﴾ ৫:৩২ ﴿
مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ بَعْدَ ذَلِكَ فِي الْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ ﴿٣٢﴾
(পরবর্তীকালে) ওই (ঘটনার) কারণেই আমি বনী ইসরাঈলদের জন্যে এই বিধান জারি করলাম যে, কোনো মানুষকে হত্যা করার কিংবা পৃথিবীতে ধ্বংসাÍক কাজ (করার শাস্তি বিধান) ছাড়া (অন্য কোনো কারণে) কেউ যদি কাউকে হত্যা করে, সে যেন গোটা মানব জাতিকেই হত্যা করলো; (আবার এমনিভাবে) যদি কেউ একজনের প্রাণ রক্ষা করে তবে সে যেন গোটা মানব জাতিকেই বাঁচিয়ে দিলো; এদের কাছে আমার রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিলো, তারপরও এদের অধিকাংশ লোক এ যমীনের বুকে সীমালংঘনকারী হিসেবেই থেকে গেলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩৩﴿
﴾ ৫:৩৩ ﴿
إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿٣٣﴾
যারা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং (আল্লাহর) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদের হত্যা করা হবে কিংবা তাদের শূলবিদ্ধ করা হবে, অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে, কিংবা দেশ থেকে তাদের নির্বাসিত করা হবে; এই অপমানজনক শাস্তি তাদের দুনিয়ার জীবনের (জন্যে, তাছাড়া) পরকালে তাদের জন্যে ভয়াবহ আযাব তো রয়েছেই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩৪﴿
﴾ ৫:৩৪ ﴿
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٣٤﴾
তবে (এটা তাদের জন্যে নয়, ) যাদের উপর তোমাদের আধিপত্য স্থাপিত হবার আগেই তারা তাওবা করেছে, তোমরা জেনে রেখো, আল্লাহ তা’আলা একান্ত ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩৫﴿
﴾ ৫:৩৫ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٣٥﴾
হে ানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো এবং তাঁর দিকে (ধাবিত হওয়ার জন্যে) উপায় খুঁজতে থাকো (তার বিশেষ একটি উপায় হচ্ছে) , তোমরা আল্লাহর পথে জেহাদ করো, সম্ভবত তোমরা সফলকাম হতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩৬﴿
﴾ ৫:৩৬ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لِيَفْتَدُوا بِهِ مِنْ عَذَابِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَا تُقُبِّلَ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٣٦﴾
আর যারা ঈমান আনতে অস্বীকার করেছে, (কেয়ামতের দিন) পৃথিবীর সমুদয় ধন-দৌলতও যদি তাদের করায়ত্ত থাকে (তার সাথে আরো) যদি সমপরিমাণ সম্পদ তাদের কাছে থাকে, (এ সম্পদ) মুক্তিপণ হিসেবে দিয়েও যদি সে কেয়ামতের দিন জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি পেতে চায় (তাও সম্ভব হবে না) , তার কাছ থেকে (এর কিছুই সেদিন) গ্রহণ করা হবে না, তাদের জন্যে (সেদিন) কঠোর আযাব নির্ধারিত থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩৭﴿
﴾ ৫:৩৭ ﴿
يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ ﴿٣٧﴾
তারা (সেদিন) দোযখের আযাব থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে, কিন্তু (কোনো অবস্থায়ই) তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না, তাদের জন্যে স্থায়ী আযাব নির্দিষ্ট হয়ে আছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩৮﴿
﴾ ৫:৩৮ ﴿
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٣٨﴾
পুরুষ ও নারী এদের যে কেউই চুরি করবে, তাদের হাত দুটো কেটে ফেলো, এটা তাদেরই কর্মফল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত দন্ড; আল্লাহ তা’আলা মহাশক্তিশালী ও প্রবল প্রজ্ঞাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৩৯﴿
﴾ ৫:৩৯ ﴿
فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٣٩﴾
(হাঁ, ) যে ব্যক্তি (এ জঘন্য) যুলুম করার পর (আল্লাহ তা’আলার কাছে) তাওবা করবে এবং নিজের সংশোধন করে নেবে, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তার তাওবা কবুল করবেন; আল্লাহ তা’আলা নিসন্দেহে বড়ো ক্ষমাশীল ও দয়াময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪০﴿
﴾ ৫:৪০ ﴿
أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ يُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَيَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٤٠﴾
তুমি কি (একথা) জানো না, এই আকাশমন্ডলী ও যমীনের একক সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্যে; তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে শাস্তি দেন, আবার যাকে ইচ্ছা তাকে তিনি মাফ করে দেন; (কেননা) সব কিছুর উপর তিনিই হচ্ছেন একক ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪১﴿
﴾ ৫:৪১ ﴿
يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَوَاضِعِهِ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا وَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ فِتْنَتَهُ فَلَنْ تَمْلِكَ لَهُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا أُولَئِكَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿٤١﴾
হে রসূল, যারা দ্রুতগতিতে কুফরীর পথে ধাবিত হচ্ছে, তারা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়, এরা সে দলের (লোক) যারা মুখে বলে, আমরা ঈমান এনেছি, কিন্তু (সত্যিকার অর্থে) তাদের অন্তর কখনো ঈমান আনেনি, আর (তাদের ব্যাপারও নয়) যারা ইহুদী তারা মিথ্যা কথা শোনার জন্যে (সদা) কান খাড়া করে রাখে এবং (তাদের বন্ধু সম্প্রদায়ের) যেসব লোক কখনো তোমার কাছে আসেনি, এরা সেই অপর সম্প্রদায়টির জন্যেই নিজেদের কান খাড়া করে রাখে; আল্লাহর কিতাবের কথাগুলো আপন জায়গায় (বিন্যস্ত) থাকার পরেও এরা তা বিকৃত করে বেড়ায় এবং (অন্যদের কাছে) এরা বলে, (হাঁ) যদি এ (ধরনের কোনো) বিধান তোমাদের দেয়া হয় তাহলে তোমরা তা গ্রহণ করো, আর সে ধরনের কিছু না দেয়া হলে তোমরা (তা থেকে) সতর্ক থেকো; (আসলে) আল্লাহ তা’আলা যার পথচ্যুতি চান, তাকে আল্লাহর (পাকড়াও) থেকে বাঁচানোর জন্যে তুমি তো কিছুই করতে পারো না; এরাই হচ্ছে সেসব (হতভাগ্য) লোক, আল্লাহ তা’আলা কখনো যাদের অন্তরগুলোকে পাক-সাফ করার এরাদা পোষণ করেন না, তাদের জন্যে পৃথিবীতে (যেমনি) রয়েছে অপমান (ও লাঞ্ছনা) , পরকালেও (তেমনি) তাদের জন্যে অপেক্ষা করছে ভয়াবহ আযাব। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪২﴿
﴾ ৫:৪২ ﴿
سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ فَإِنْ جَاءُوكَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ وَإِنْ تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَنْ يَضُرُّوكَ شَيْئًا وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ ﴿٤٢﴾
(ইহুদীদের চরিত্র হচ্ছে, ) এরা (যেমন) মিথ্যা কথা শুনতে অভ্যস্ত, (তেমনি) এরা হারাম মাল খেতেও ওস্তাদ; অতএব এরা যদি কখনো (কোনো বিচার নিয়ে) তোমার কাছে আসে তাহলে তুমি (চাইলে) তাদের বিচার করতে পারো কিংবা তাদের উপেক্ষা করো, যদি তুমি তাদের ফিরিয়ে দাও তাহলে (নিশ্চিত থাকো) , এরা তোমার কোনোই অনিষ্ট করতে পারবে না, তবে যদি তুমি তাদের বিচার ফয়সালা করতে চাও তাহলে অবশ্যই ন্যায়বিচার করবে; নিসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা ন্যায় বিচারকদের ভালোবাসেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪৩﴿
﴾ ৫:৪৩ ﴿
وَكَيْفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِنْدَهُمُ التَّوْرَاةُ فِيهَا حُكْمُ اللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوْنَ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُولَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ ﴿٤٣﴾
এসব লোক কিভাবে তোমার কাছে বিচারের ভার নিয়ে হাযির হবে, যখন তাদের নিজেদের কাছেই (আল্লাহর পাঠানো) তাওরাত মজুদ রয়েছে, তাতেও তো (বিচার-আচার সংক্রান্ত) আল্লাহর বিধান আছে, (তুমি যা কিছুই করো না কেন) একটু পরেই তারা তোমার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, এরা আসলেই (আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে) ঈমানদার নয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪৪﴿
﴾ ৫:৪৪ ﴿
إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاءَ فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ ﴿٤٤﴾
নিসন্দেহে আমি (মূসাার কাছে) তাওরাত নাযিল করেছি, তাতে (তাদের জন্যে) পথনির্দেশ ও আলোকবর্তিকা বর্তমান ছিলো, আমার নবীরা যারা আমার বিধানেরই অনুবর্তন করতো, ইহুদী জাতিকে এ (হেদায়াত) মোতাবেকই আইন-কানুন প্রদান করতো, (নবীদের পর তাদের) জ্ঞানসাধক ও ধর্মীয় পন্ডিতরাও (এ অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করতো) , কেননা, (নবীর পর) আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণ করার দায়িত্ব এদেরই দেয়া হয়েছিলো, তারা (নিজেরাও) ছিলো এর (প্রত্যক্ষ) সাক্ষী, সুতরাং তোমরা মানুষদের ভয় না করে একান্তভাবে আমাকেই ভয় করো, আর আমার আয়াতসমূহ সামান্য মূল্যে বিক্রি করে দিয়ো না; যারা আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে না, তারাই (হচ্ছে) কাফের। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪৫﴿
﴾ ৫:৪৫ ﴿
وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنْفَ بِالْأَنْفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ فَمَنْ تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٤٥﴾
(তাওরাতের) সেখানে আমি তাদের জন্যে বিধান নাযিল করেছিলাম যে, (তাদের) জানের বদলে জান, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত, (শাস্তি প্রয়োগের সময় এই শারীরিক) যখমটাই কিন্তু আসল দন্ড (বলে বিবেচিত হয়) ; অবশ্য (বাদী পক্ষের) কেউ যদি এই দন্ড মাফ করে দিতে চায়, তাহলে তা তার নিজের (গুনাহ-খাতার) জন্যে কাফফারা (হিসেবে গণ্য) হবে; আর যারাই আল্লাহর নাযিল করা বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করেনা, তারাই যালেম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪৬﴿
﴾ ৫:৪৬ ﴿
وَقَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِمْ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَآتَيْنَاهُ الْإِنْجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ وَمُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ ﴿٤٦﴾
এ ক্রমধারায় অতপর আমি মারইয়াম-পুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছি, (সে সময়) আগে থেকে তাওরাতের যা কিছু (অবশিষ্ট) ছিলো, সে ছিলো তার সত্যতা স্বীকারকারী, আর আমি তাকে ইনজীল দান করেছি, তাতে ছিলো হেদায়াত ও নূর; তখন তাওরাতের যা কিছু (তার কাছে বর্তমান ছিলো ইনজীল কিতাব) তার সত্যতাও সে স্বীকার করেছে, (তদুপরি) তাতে আল্লাহভীরু লোকদের জন্যে পথনির্দেশ ও উপদেশ (মজুদ) ছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪৭﴿
﴾ ৫:৪৭ ﴿
وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنْجِيلِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ﴿٤٧﴾
ইনজীলের অনুসারীদের উচিত এর ভেতর আল্লাহ তা’আলা যা কিছু নাযিল করেছেন তার ভিত্তিতে বিচার ফয়সালা করা; (কেননা) যারাই আল্লাহর নাযিল করা আইনের ভিত্তিতে বিচার করেনা তারাই ফাসেক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪৮﴿
﴾ ৫:৪৮ ﴿
وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ﴿٤٨﴾
(হে মোহাম্মদ, ) আমি তোমার প্রতি সত্য (দ্বীন) -সহ এ কিতাব নাযিল করেছি, (আগের) কিতাব সমূহের যা কিছু (অবিকৃত অবস্থায়) তার সামনে মজুদ রয়েছে, এ কিতাব তার সত্যতা স্বীকার করে (শুধু তাই নয়) , এ কিতাব (তার উপর) হেফাযতকারীও বটে! (সুতরাং) আল্লাহ তা’আলা যেসব বিধি-বিধান নাযিল করেছেন তার ভিত্তিতেই তুমি তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করো, আর (এ বিচারের সময়) তোমার নিজের কাছে যা সত্য (দ্বীন) এসেছে, তার থেকে সরে গিয়ে তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করো না; আমি তোমাদের প্রতিটি (সম্প্রদায়ের) জন্যে শরীয়ত ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছি; আল্লাহ তা’আলা চাইলে তোমাদের সবাইকে একই উম্মত বানিয়ে দিতে পারতেন; বরং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার ভিত্তিতে তোমাদের যাচাই-বাছাই করে নিতে চেয়েছেন, অতএব ভালো কাজে তোমরা সবাই প্রতিযোগিতা করো; (কেননা) আল্লাহ তা’আলার দিকেই হবে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল, (এখানে) তোমরা যেসব বিষয় নিয়ে মতভেদ করতে, (অতপর) তিনি অবশ্যই তা তোমাদের (স্পষ্ট করে) বলে দেবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৪৯﴿
﴾ ৫:৪৯ ﴿
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ ﴿٤٩﴾
(অতএব, হে মোহাম্মদ, ) তোমার উপর আল্লাহ তা’আলা যে আইন-কানুন নাযিল করেছেন তুমি তারই ভিত্তিতে এদের মাঝে বিচার ফয়সালা করো এবং কখনো তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না এবং তাদের থেকে সতর্ক থেকো, যা কিছু আল্লাহ তা’আলা তোমার উপর নাযিল করেছেন তার কোনো কোনো বিষয়ে যেন তারা কখনো তোমাকে ফেতনায় না ফেলতে পারে; অতপর (তোমার ফয়সালায়) যদি এরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে জেনে রেখো, আল্লাহ তা’আলা তাদের নিজেদেরই কোনো গুনাহের জন্যে তাদের কোনোরকম মসিবতে ফেলতে চান; মানুষের মাঝে (আসলে) অধিকাংশই হচ্ছে অবাধ্য। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫০﴿
﴾ ৫:৫০ ﴿
أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ ﴿٥٠﴾
তবে কি তারা পুনরায় জাহেলিয়াতের বিচার ব্যবস্থা তালাশ করছে? অথচ যারা (আল্লাহতে) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তাদের কাছে আল্লাহ তা’আলার চাইতে উত্তম বিচারক আর কে হতে পারে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫১﴿
﴾ ৫:৫১ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ﴿٥١﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা (কখনো) ইহুদী-খৃস্টানদের নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। (কেননা) এরা নিজেরা (সব সময়ই) একে অপরের বন্ধু; তোমাদের মধ্যে কেউ যদি (কখনো) এদের কাউকে বন্ধু বানিয়ে নেয় তাহলে সে তাদেরই দলভুক্ত হয়ে যাবে; আর আল্লাহ তা’আলা কখনো যালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫২﴿
﴾ ৫:৫২ ﴿
فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَى أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ فَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِنْ عِنْدِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَى مَا أَسَرُّوا فِي أَنْفُسِهِمْ نَادِمِينَ ﴿٥٢﴾
অতপর যাদের অন্তরে (মুনাফিকীর) ব্যাধি রয়েছে তাদের তুমি দেখবে, তারা (বিশেষ) তৎপরতার সাথে এই বলে তাদের সাথে মিলিত হচ্ছে যে, ‘আমাদের আশংকা হচ্ছে, কোনো বিপর্যয় এসে আমাদের উপর আপতিত হবে’; পরে হয়তো আল্লাহ তা’আলা (তোমাদের কাছে) বিজয় নিয়ে আসবেন কিংবা তাঁর কাছ থেকে অন্য কিছু (অনুগ্রহ তিনি দান করবেন) , তখন (তা দেখে এ) লোকেরা নিজেদের মনের ভেতর যে কপটতা লুকিয়ে রেখেছিলো, তার জন্যে ভীষণ অনুতপ্ত হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫৩﴿
﴾ ৫:৫৩ ﴿
وَيَقُولُ الَّذِينَ آمَنُوا أَهَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ إِنَّهُمْ لَمَعَكُمْ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَأَصْبَحُوا خَاسِرِينَ ﴿٥٣﴾
(তখন) ঈমানদার লোকেরা বলবে, এরাই কি ছিলো সেসব মানুষ, যারা আল্লাহ তা’আলার নামে বড়ো বড়ো শপথ করতো (যে) , তারা অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে আছে; (এই আচরণের ফলে) তাদের কার্যকলাপ বিনষ্ট হয়ে গেলো, অতপর তারা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫৪﴿
﴾ ৫:৫৪ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٥٤﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছো, তোমাদের মধ্যে কোনো লোক যদি নিজের দ্বীন (ইসলাম) থেকে (মোরতাদ হয়ে) ফিরে আসে (তাতে আল্লাহ তা’আলার কোনো ক্ষতি নেই, ) তবে আল্লাহ তা’আলা অচিরেই (এখানে) এমন এক সম্প্রদায়ের উত্থান ঘটাবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন, তারাও তাঁকে ভালোবাসবে, (তারা হবে) মু’মিনদের প্রতি কোমল ও কাফেরদের প্রতি কঠোর, তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করবে, কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া তারা করবে না; (মূলত) এ (সাহসটুকু) হচ্ছে আল্লাহর একটি অনুগ্রহ, যাকে চান তাকেই তিনি তা দান করেন; আল্লাহ তা’আলা প্রাচুর্যময় ও প্রজ্ঞার আধার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫৫﴿
﴾ ৫:৫৫ ﴿
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ ﴿٥٥﴾
তোমাদের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন আল্লাহ তা’আলা, তাঁর রসূল এবং সেসব ঈমানদার লোকেরা, যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, (সর্বোপরি আল্লাহ তা’আলার সামনে যারা) সদা অবনমিত থাকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫৬﴿
﴾ ৫:৫৬ ﴿
وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ ﴿٥٦﴾
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা, তাঁর রসূল ও ঈমানদারদের নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে (তারা যেন জেনে রাখে) , কেবলমাত্র আল্লাহ তা’আলার দলটিই বিজয়ী হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫৭﴿
﴾ ৫:৫৭ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَكُمْ هُزُوًا وَلَعِبًا مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَالْكُفَّارَ أَوْلِيَاءَ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٥٧﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমাদের আগে যাদের (আল্লাহ তা’আলার) কিতাব দেয়া হয়েছিলো, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে বিদ্রƒপ ও খেল-তামাশার বস্তুতে পরিণত করে রেখেছে, তাদের এবং কাফেরদের কখনো তোমরা নিজেদের বন্ধু বানিয়ো না, যদি তোমরা সত্যিকার অর্থে মু’মিন হয়ে থাকো তাহলে একমাত্র আল্লাহ তা’আলাকেই (বন্ধু বানাও এবং তাঁকেই) ভয় করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫৮﴿
﴾ ৫:৫৮ ﴿
وَإِذَا نَادَيْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ اتَّخَذُوهَا هُزُوًا وَلَعِبًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْقِلُونَ ﴿٥٨﴾
যখন তোমরা (মানুষদের) নামাযের জন্যে ডাকো, তখন এই ডাককে এরা হাসি-তামাশা ও খেলার বস্তু বানিয়ে দেয়; এরা হচ্ছে এমন এক সম্প্রদায়, যারা (হক-বাতিলের) কিছুই বোঝে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৫৯﴿
﴾ ৫:৫৯ ﴿
قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ هَلْ تَنْقِمُونَ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلُ وَأَنَّ أَكْثَرَكُمْ فَاسِقُونَ ﴿٥٩﴾
(হে রসূল, ) তুমি এদের বলো, তোমরা যে আমাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছো, তার কারণ এই যে, আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি এবং আমাদের উপর আগে ও বর্তমানে যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি! (আসলে) তোমাদের অধিকাংশ (মানুষই) হচ্ছে গুনাহগার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬০﴿
﴾ ৫:৬০ ﴿
قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِنْ ذَلِكَ مَثُوبَةً عِنْدَ اللَّهِ مَنْ لَعَنَهُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ أُولَئِكَ شَرٌّ مَكَانًا وَأَضَلُّ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ ﴿٦٠﴾
(হে রসূল, ) তুমি বলো, আমি কি তোমাদের বলে দেবো আল্লাহর কাছ থেকে সবচাইতে নিকৃষ্ট পুরস্কার কে পাবে? সে লোক (হচ্ছে, ) যার উপর আল্লাহ তা’আলা অভিশাপ দিয়েছেন, যার উপর আল্লাহর ক্রোধ রয়েছে এবং যাদের কিছু লোককে তিনি বানর, (কিছু লোককে) শুয়োরে পরিণত করে দিয়েছেন, যারা মিথ্যা মাবুদের আনুগত্য স্বীকার করেছে; এরাই হচ্ছে সেসব লোক, (পরকালে) যাদের অবস্থান হবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট এবং (দুনিয়াতেও) এরা সরল পথ থেকে (বহুদূরে) বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬১﴿
﴾ ৫:৬১ ﴿
وَإِذَا جَاءُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَقَدْ دَخَلُوا بِالْكُفْرِ وَهُمْ قَدْ خَرَجُوا بِهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا يَكْتُمُونَ ﴿٦١﴾
তারা যখন তোমার সামনে আসে তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি, (আসলে) তারা তোমার কাছে কুফরী নিয়েই প্রবেশ করছিলো এবং তা নিয়েই তোমার কাছ থেকে তারা বেরিয়ে গেছে; (তারা মনের ভেতর) যা কিছু লুকিয়ে রাখছিলো আল্লাহ তা’আলা সে ব্যাপারে পূর্ণ ওয়াকেফহাল রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬২﴿
﴾ ৫:৬২ ﴿
وَتَرَى كَثِيرًا مِنْهُمْ يُسَارِعُونَ فِي الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٦٢﴾
তাদের অনেককেই তুমি দেখতে পাবে গুনাহ, (আল্লাহর সাথে) বিদ্রোহ ও হারাম মাল ভোগ করার কাজে এরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে চলেছে; এরা যা করে (মূলত) তা বড়োই নিকৃষ্ট কাজ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬৩﴿
﴾ ৫:৬৩ ﴿
لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَنْ قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ ﴿٦٣﴾
(কতো ভালো হতো এদের) ধর্মীয় নেতা ও পন্ডিত ব্যক্তিরা যদি এদের এসব পাপের কথা ও হারাম মাল ভোগ করা থেকে বিরত রাখতো! (কারণ) এরা যা কিছু (সংগ্রহ) করছে তা বড়োই জঘন্য! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬৪﴿
﴾ ৫:৬৪ ﴿
وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنْفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا وَأَلْقَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَارًا لِلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ ﴿٦٤﴾
ইহুদীরা বলে, আল্লাহর (দানের) হাত বাঁধা পড়ে গেছে; (আসলে) তাদের নিজেদের হাতই বাঁধা পড়ে গেছে, আর তারা যা কিছু বলেছে সে কারণে তাদের উপর আল্লাহ তা’আলার অভিশাপ নাযিল করা হয়েছে। আল্লাহর তো (দুনিয়া আখেরাতের) উভয় হাতই মুক্ত, যেভাবে তিনি চান সেভাবেই তিনি দান করেন। (প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে) , তোমার মালিকের পক্ষ থেকে যা কিছু তোমার উপর নাযিল করা হয়েছে, তা তাদের অনেকেরই সীমালংঘন ও কুফরীকে অবশ্যই বাড়িয়ে দিয়েছে; (ফলে) আমি তাদের মাঝে কেয়ামত পর্যন্ত একটা শত্রট্টা ও পরষ্পর বিদ্বেষ সঞ্চার করে দিয়েছি; যখনি তারা যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছে, আল্লাহ তা’আলা তখনি তা নিভিয়ে দিয়েছেন, তারা (বার বার) এ যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টির প্রয়াস পেয়েছে; আসলে আল্লাহ তা’আলা বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের মোটেই ভালোবাসেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬৫﴿
﴾ ৫:৬৫ ﴿
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ ﴿٦٥﴾
যদি আহলে কিতাবরা ঈমান আনতো এবং (আল্লাহকে) ভয় করতো, তবে অবশ্যই আমি তাদের গুনাহখাতা মুছে দিতাম এবং তাদের আমি অবশ্যই নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করাতাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬৬﴿
﴾ ৫:৬৬ ﴿
وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِمْ مِنْ رَبِّهِمْ لَأَكَلُوا مِنْ فَوْقِهِمْ وَمِنْ تَحْتِ أَرْجُلِهِمْ مِنْهُمْ أُمَّةٌ مُقْتَصِدَةٌ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ سَاءَ مَا يَعْمَلُونَ ﴿٦٦﴾
যদি তারা তাওরাত ও ইনজীল (তথা তার বিধান) প্রতিষ্ঠা করতো, আর যা তাদের উপর তাদের মালিকের কাছ থেকে নাযিল করা হয়েছে তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতো, তাহলে তারা রিযিক পেতো তাদের মাথার উপরের (আসমান) থেকে ও তাদের পায়ের নীচের (যমীন) থেকে; তাদের মধ্যে অবশ্য একদল (ন্যায় ও) মধ্যপন্থী লোক রয়েছে, তবে তাদের অধিকাংশই হচ্ছে এমন, যাদের কর্মকান্ড খুবই নিকৃষ্ট! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬৭﴿
﴾ ৫:৬৭ ﴿
يَاأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴿٦٧﴾
হে রসূল, যা কিছু তোমার উপর নাযিল করা হয়েছে তা তুমি (অন্যের কাছে) পৌঁছে দাও, যদি তুমি (তা) না করো তাহলে তুমি তো (মানুষদের কাছে) তার বার্তা পৌঁছে দিলে না! আল্লাহ তা’আলা তোমাকে মানুষের (অনিষ্ট) থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা কখনো কোনো অবাধ্য জাতিকে পথ প্রদর্শন করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬৮﴿
﴾ ৫:৬৮ ﴿
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٦٨﴾
তুমি (তাদের) বলো, হে আহলে কিতাবরা, যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তাওরাত, ইনজীল ও তোমাদের প্রতি তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত না করবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত (মনে করতে হবে, ) তোমরা কোনো কিছুর উপরই প্রতিষ্ঠিত নেই; তোমার মালিকের কাছ থেকে যা কিছু তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে তা তাদের অনেকেরই সীমালংঘন ও কুফরী বাড়িয়ে দেবে, সুতরাং তুমি এই কাফের সম্প্রদায়ের জন্যে মোটেই আফসোস করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৬৯﴿
﴾ ৫:৬৯ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَى مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٦٩﴾
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ছিলো ইহুদী, সাবেয়ী, খৃস্টান (এদের) যে কেউই এক আল্লাহ তা’আলা ও শেষ বিচার দিনের উপর ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে, তাদের কোনো ভয় নেই, (পরকালেও) তাদের কোনো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭০﴿
﴾ ৫:৭০ ﴿
لَقَدْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ رُسُلًا كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُهُمْ فَرِيقًا كَذَّبُوا وَفَرِيقًا يَقْتُلُونَ ﴿٧٠﴾
বনী ইসরাঈলের কাছ থেকে আমি (আনুগত্যের) অংগীকার আদায় করে নিয়েছিলাম এবং (সে মোতাবেক) আমি তাদের কাছে রসূলদের প্রেরণ করেছিলাম; কিন্তু যখনি কোনো রসূল তাদের কাছে এমন কিছু (বিধান) নিয়ে হাযির হয়েছে, যা তাদের পছন্দসই ছিলো না, তখনি তারা (এই রসূলদের) একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছে, আরেক দলকে তারা হত্যা করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭১﴿
﴾ ৫:৭১ ﴿
وَحَسِبُوا أَلَّا تَكُونَ فِتْنَةٌ فَعَمُوا وَصَمُّوا ثُمَّ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ثُمَّ عَمُوا وَصَمُّوا كَثِيرٌ مِنْهُمْ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ ﴿٧١﴾
তারা ধরে নিয়েছিলো, (এতো কিছু করা সত্ত্বেও) তাদের জন্যে কোনো বিপর্যয় থাকবে না, তাই তারা (সত্য গ্রহণ করার ব্যাপারে) অন্ধ ও বধির হয়ে থাকলো, তারপরও আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর ক্ষমাপরবশ হলেন, অতপর তাদের অনেকেই আবার অন্ধ ও বধির হয়ে গেলো; তারা যা কিছু করছে আল্লাহ তা’আলা তা পর্যবেক্ষণ করছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭২﴿
﴾ ৫:৭২ ﴿
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَابَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ ﴿٧٢﴾
নিশ্চয়ই তারা কাফের হয়ে গেছে যারা (একথা) বলেছে, আল্লাহ হচ্ছেন মারইয়ামের পুত্র মাসীহ; অথচ মাসীহ (নিজেই একথা) বলেছে যে, হে বনী ইসরাঈল, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করো, যিনি আমারও মালিক, তোমাদেরও মালিক; মূলত যে কেউই আল্লাহর সাথে শরীক করবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর জান্নাত হারাম করে দেবেন, আর তার (স্থায়ী) ঠিকানা হবে জাহান্নাম; এই যালেমদের (সেদিন) কোনো সাহায্যকারীই থাকবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭৩﴿
﴾ ৫:৭৩ ﴿
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلَّا إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنْ لَمْ يَنْتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٧٣﴾
তারাও কুফরী করেছে যারা বলেছে, তিন জনের মধ্যে তৃতীয় জন হচ্ছেন আল্লাহ। অথচ এক আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই; তারা যদি এখনো তাদের এসব (অলীক) কথাবার্তা থেকে ফিরে না আসে, তবে তাদের মাঝে যারা (একথা বলে) কুফরী করেছে, তাদের অবশ্যই কঠিন যন্ত্রণাদায়ক আযাবে পেয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭৪﴿
﴾ ৫:৭৪ ﴿
أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٧٤﴾
তারা কি আল্লাহর কাছে তাওবা করবে না? (কখনো কি) তারা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? আল্লাহ তা’আলা বড়োই ক্ষমাশীল ও দয়াময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭৫﴿
﴾ ৫:৭৫ ﴿
مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ انْظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الْآيَاتِ ثُمَّ انْظُرْ أَنَّى يُؤْفَكُونَ ﴿٧٥﴾
মারইয়াম পুত্র মাসীহ তো রসূল ছাড়া কিছুই ছিলো না, তার আগেও (তার মতো) অনেক রসূল গত হয়েছে; তার মা ছিলো এক সত্যনিষ্ঠ মহিলা; তারা (মা ও ছেলে) উভয়ই (আর দু’দশটি মানুষের মতো করেই) খাবার খেতো; তুমি লক্ষ্য করে দেখো, আমি কিভাবে (আমার) আয়াতগুলো খুলে খুলে বর্ণনা করছি, তুমি দেখো, কিভাবে তারা সত্যবিমুখ হয়ে যাচ্ছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭৬﴿
﴾ ৫:৭৬ ﴿
قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿٧٦﴾
তুমি বলো, তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদাত করছো যা তোমাদের কোনো ক্ষতি কিংবা উপকার কিছুই করার ক্ষমতা রাখেনা; (প্রকৃতপক্ষে) আল্লাহ তা’আলা (সব কিছুই) শোনেন এবং (সব কিছুই) জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭৭﴿
﴾ ৫:৭৭ ﴿
قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ ﴿٧٧﴾
তুমি বলো, হে আহলে কিতাবরা, তোমরা কখনো নিজেদের দ্বীনের ব্যাপারে অন্যায় বাড়াবাড়ি করো না, (মাসীহের ব্যাপারে) তোমরা সেসব জাতির খেয়ালখুশীর অনুসরণ করো না, যারা তোমাদের আগেই পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে এবং তারা অনেক লোককেই গোমরাহ করে দিয়েছে, আর তারা নিজেরাও সহজ সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭৮﴿
﴾ ৫:৭৮ ﴿
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ ﴿٧٨﴾
বনী ইসরাঈলদের আরো যারা (মাসীহের ব্যাপারে আল্লাহর এ ঘোষণা) অস্বীকার করেছে, তাদের উপর দাঊদ ও মারইয়াম পুত্র ঈসার মুখ থেকে অভিশাপ দেয়া হয়েছে; কেননা, তারা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং সীমালংঘন করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৭৯﴿
﴾ ৫:৭৯ ﴿
كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ﴿٧٩﴾
তারা যেসব গর্হিত কাজ করতো তা থেকে তারা একে অপরকে বারণ করতো না, তারা যা করতো নিসন্দেহে তা ছিলো নিকৃষ্ট। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮০﴿
﴾ ৫:৮০ ﴿
تَرَى كَثِيرًا مِنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنْفُسُهُمْ أَنْ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ ﴿٨٠﴾
তুমি তাদের মাঝে এমন বহু লোককে দেখতে পাবে, যারা (ঈমানদারদের বদলে) কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতেই বেশী আগ্রহী, অবশ্য তারা নিজেরা যা কিছু অর্জন করে সামনে পাঠিয়েছে তাও অতি নিকৃষ্ট, এ কারণে আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর ক্রোধানি¦ত হয়েছেন, এ লোকেরা চিরকাল আযাবেই নিমজ্জিত থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮১﴿
﴾ ৫:৮১ ﴿
وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ ﴿٨١﴾
তারা যদি সত্যিই আল্লাহ তা’আলা, (তাঁর) নবী ও তাঁর প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি যথাযথ ঈমান আনতো, তাহলে এরা কাফেরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতো না, কিন্তু তাদের তো অধিকাংশ লোকই হচ্ছে গুনাহগার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮২﴿
﴾ ৫:৮২ ﴿
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَوَدَّةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ ﴿٨٢﴾
অবশ্যই তোমরা ঈমানদারদের সাথে শত্রট্টার ব্যাপারে ইহুদী ও মুশরিকদেরই বেশী কঠোর (দেখতে) পাবে, (অপরদিকে) মু’মিনদের সাথে বন্ধুত্বের ব্যাপারে তোমরা সেসব লোককে (কিছুটা) নিকটতর পাবে, যারা বলেছে আমরা খৃস্টান; এটা এই কারণে যে, (তখনো) তাদের মধ্যে ধর্মীয় পন্ডিত ব্যক্তি ও সংসারবিরাগী ফকীর-দরবেশরা মজুদ ছিলো, অবশ্যই এ ব্যক্তিরা অহংকার করে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮৩﴿
﴾ ৫:৮৩ ﴿
وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ ﴿٨٣﴾
রসূলের উপর যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তা যখন এরা শোনে, তখন সত্য চেনার কারণে তুমি এদের অনেকের চোখকেই দেখতে পাবে অশ্রুসজল, (নিবেদিত হয়ে) তারা বলে ওঠে, হে আমাদের মালিক, আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদের (নাম) সত্যের সাক্ষ্যদাতাদের দলে লিখে নাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮৪﴿
﴾ ৫:৮৪ ﴿
وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَمَا جَاءَنَا مِنَ الْحَقِّ وَنَطْمَعُ أَنْ يُدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصَّالِحِينَ ﴿٨٤﴾
আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে আমাদের কাছে যা কিছু সত্য এসেছে তার উপর আমরা ঈমান আনবো না কেন? (অথচ) আমরা এই প্রত্যাশা করি যে, আমাদের মালিক আমাদের সৎকর্মশীলদের দলভুক্ত করে দেবেন, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮৫﴿
﴾ ৫:৮৫ ﴿
فَأَثَابَهُمُ اللَّهُ بِمَا قَالُوا جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ ﴿٨٥﴾
অতপর তারা যা বললো সেজন্যে আল্লাহ তা’আলা সন্তুষ্ট হয়ে (পরকালে) তাদের এমন এক জান্নাত দান করবেন, যার তলদেশ দিয়ে (অমীয়) ঝর্ণাধারা প্রবাহমান থাকবে, সেখানে তারা হবে চিরস্থায়ী; আর এটা হচ্ছে নেককার লোকদের (যথার্থ) পুরস্কার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮৬﴿
﴾ ৫:৮৬ ﴿
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴿٨٦﴾
অপরদিকে যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতগুলো যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তারা সবাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮৭﴿
﴾ ৫:৮৭ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ﴿٨٧﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে যে পবিত্র জিনিসগুলো হালাল করে দিয়েছেন, তোমরা সেগুলো (নিজেদের জন্যে) হারাম করে নিয়ো না, আর কখনো (হারামের) সীমা লংঘন করো না; অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা সীমালংঘনকারীদের অপছন্দ করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮৮﴿
﴾ ৫:৮৮ ﴿
وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي أَنْتُمْ بِهِ مُؤْمِنُونَ ﴿٨٨﴾
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের যে হালাল ও পবিত্র রিযিক দান করেছেন তোমরা তা খাও এবং (এ ব্যাপারে) সে আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো, যাঁর উপর তোমরা ঈমান এনেছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৮৯﴿
﴾ ৫:৮৯ ﴿
لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الْأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٨٩﴾
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্যে তোমাদের পাকড়াও করবেন না, কিন্তুু যে শপথ তোমরা জেনে-বুঝে করো তার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তোমাদের পাকড়াও করবেন, অতপর তার কাফফারা হচ্ছে দশ জন গরীব মিসকীনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ানো, যা তোমরা (সচরাচর) নিজেদের পরিবার পরিজনদের খাইয়ে থাকো, কিংবা তাদের পোশাক দান করা, অথবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেয়া; যে ব্যক্তি (এর কোনোটাই) পাবে না, তার জন্যে (কাফফারা হচ্ছে) তিন দিন রোযা (রাখা) ; শপথ ভাঙলে তোমাদের (শপথ ভাংগার) এ হচ্ছে কাফফারা; (অতএব) তোমরা তোমাদের শপথসমূহ রক্ষা করো; আল্লাহ তা’আলা এভাবেই তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯০﴿
﴾ ৫:৯০ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٩٠﴾
হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো (তোমরা জেনে রেখো) , মদ, জুয়া, পূজাার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর হচ্ছে ঘৃণিত শয়তানের কাজ, অতএব তোমরা তা (সম্পূরূপে) বর্জন করো। আশা করা যায় তোমরা মুক্তি পেয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯১﴿
﴾ ৫:৯১ ﴿
إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ ﴿٩١﴾
শয়তান এই মদ ও জুয়ার মধ্যে (ফেলে) তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দিতে চায় এবং এভাবে সে তোমাদের আল্লাহ তা’আলার স্মরণ ও নামায থেকে দরে সরিয়ে রাখে, তোমরা কি (এ কাজ থেকে) ফিরে আসবে না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯২﴿
﴾ ৫:৯২ ﴿
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴿٩٢﴾
তোমরা (সর্ববিষয়ে) আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রসূলের, (মদ ও জুয়ার ধ্বংসকারীতা থেকে) সতর্ক থেকো, আর তোমরা যদি (রসূলের নির্দেশনা থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে জেনে রাখো, আমার রসূলের দায়িত্ব হচ্ছে সস্পষ্টভাবে (আমার কথাগুলো) পৌঁছে দেয়া। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯৩﴿
﴾ ৫:৯৩ ﴿
لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوْا وَآمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ثُمَّ اتَّقَوْا وَآمَنُوا ثُمَّ اتَّقَوْا وَأَحْسَنُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴿٩٣﴾
যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে, (এ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে) তারা যা কিছু খেয়েছে তার জন্যে তাদের উপর কোনোই গুনাহ নেই, (হাঁ, ভবিষ্যতে) যদি তারা সাবধান থাকে, (আল্লাহর উপর) ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, অতপর (আল্লাহ তা’আলার নিষেধ থেকে) তারা সতর্ক থাকে, (একইভাবে যতোক্ষণ পর্যন্তু) তারা ঈমান আনবে ও নেক আমল করবে, অতপর আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করবে ও সততার নীতি অবলম্বন করতে থাকবে (আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তাদের ক্ষমা করে দেবেন, কেননা) ; আল্লাহ তা’আলা সৎকর্মশীল মানুষদের ভালোবাসেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯৪﴿
﴾ ৫:৯৪ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَيَبْلُوَنَّكُمُ اللَّهُ بِشَيْءٍ مِنَ الصَّيْدِ تَنَالُهُ أَيْدِيكُمْ وَرِمَاحُكُمْ لِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَخَافُهُ بِالْغَيْبِ فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٩٤﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, (এহরাম বাঁধা অবস্থায়) আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই এমন কিছু শিকারের বস্তু দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা নেবেন, যেগুলো তোমরা সহজেই নিজেদের হাত ও বর্শা দ্বারা ধরতে পারো, যেন আল্লাহ তা’আলা এ কথা ভালো করে জেনে নিতে পারেন যে, কে তাঁকে গায়বের সাথে ভয় করে, সুতরাং এর পরও যদি কেউ সীমালংঘন করে, তার জন্যে যন্ত্রণাদায়ক আযাব রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯৫﴿
﴾ ৫:৯৫ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا لِيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ عَفَا اللَّهُ عَمَّا سَلَفَ وَمَنْ عَادَ فَيَنْتَقِمُ اللَّهُ مِنْهُ وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ ﴿٩٥﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, এহরাম (বাঁধা) অবস্থায় কখনো শিকার হত্যা করো না, যদি তোমাদের কেউ (এ অবস্থায়) জেনে-বুঝে কেউ তাকে হত্যা করে (তার জন্যে এর বিনিময় হচ্ছে) , সে যে জন্তু হত্যা করেছে তার সমান পর্যায়ের একটি গৃহপালিত জন্তু কোরবানী হিসেবে কাবায় পৌঁছে দেবে, (যার) ফয়সালা করবে তোমাদের দু’জন ন্যায়বান বিচারক ব্যক্তি, কিংবা (তার জন্যে) কাফফারা হবে (কয়েকজন) গরীব -মিসকীনকে খাওয়ানো অথবা সমপরিমাণ রোযা রাখা, যাতে করে সে আপন কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়, (এ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে) যা কিছু গত হয়ে গেছে আল্লাহ তা’আলা তা মাফ করে দিয়েছেন; কিন্তু (এর পর) যদি কেউ (এর) পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা (অবশ্যই) তার কাছ থেকে প্রতিশোধ নেবেন; আর আল্লাহ তা’আলা পরাক্রমশালী ও প্রতিশোধ গ্রহণে প্রবল শক্তিমান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯৬﴿
﴾ ৫:৯৬ ﴿
أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ مَتَاعًا لَكُمْ وَلِلسَّيَّارَةِ وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ﴿٩٦﴾
তোমাদের জন্যে সমুদ্রের শিকার হালাল করা হয়েছে এবং তার খাবার হচ্ছে তোমাদের জন্যে ও (সমুদ্রের) পর্যটকদের জন্যে (উৎকৃষ্ট) সম্পদ, (মনে রাখবে) , যতোক্ষণ পর্যন্তু তোমরা এহরাম (বাঁধা) অবস্থায় থাকবে, ততোক্ষণ পর্যন্তু (শুধু) স্থলভাগের শিকারই তোমাদের জন্যে হারাম থাকবে; তোমরা ভয় করো আল্লাহ তা’আলাকে, যাঁর সমীপে তোমাদের সবাইকে জড়ো করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯৭﴿
﴾ ৫:৯৭ ﴿
جَعَلَ اللَّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيَامًا لِلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرَامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلَائِدَ ذَلِكَ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٩٧﴾
আল্লাহ তা’আলা (খানায়ে) কাবাকে সম্মানিত করেছেন মানব জাতির জন্যে (তার) ভিত্তি হিসেবে (তিনি একে প্রতিষ্ঠা করেছেন) , একইভাবে তিনি সম্মানিত করেছেন (হজ্জের) পবিত্র মাসগুলোকে, কোরবানীর জন্তু গুলোকে এবং (এ উদ্দেশে বিশেষ) পট্টি বাঁধা জন্তুুগুলোকে, এসব (বিধান) এ জন্যেই (দেয়া হয়েছে) যাতে করে তোমরা (এ কথা) জেনে নিতে পারো যে, আকাশমালা ও পৃথিবীর যেখানে যা কিছু আছে আল্লাহ তা’আলা তা সবই জানেন, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯৮﴿
﴾ ৫:৯৮ ﴿
اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ وَأَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٩٨﴾
তোমরা জেনে রাখো, আল্লাহ তা’আলা শাস্তিদানের ব্যাপারে (যেমনি) কঠোর, (তেমনি পুরস্কারের বেলায়) আল্লাহ তা’আলা অত্যন্তু ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:৯৯﴿
﴾ ৫:৯৯ ﴿
مَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا تَكْتُمُونَ ﴿٩٩﴾
রসূলের দায়িত্ব (হেদায়াতের বাণী) পৌঁছে দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়, আর তোমরা যা কিছু প্রকাশ করো, যা কিছু গোপন রাখো, আল্লাহ তা’আলা তা সবই জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০০﴿
﴾ ৫:১০০ ﴿
قُلْ لَا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ فَاتَّقُوا اللَّهَ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿١٠٠﴾
(হে রসূল, ) তুমি বলো, পাক এবং নাপাক জিনিস কখনো সমান হতে পারে না, নাপাক জিনিসের প্রাচুর্য যতোই তোমাকে চমৎকৃত করুক না কেন! অতএব হে জ্ঞানবান মানুষরা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, (আশা করা যায়) তোমরা সফলকাম হতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০১﴿
﴾ ৫:১০১ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلُوا عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ ﴿١٠١﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, (আল্লাহর নবীর কাছে) এমন সব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করো না, যার জবাব প্রকাশ করা হলে (তাতে) তোমাদের কষ্ট হবে, অবশ্য কোরআন নাযিল হবার মুহূর্তে যদি তোমরা সে প্রশ্ন করো, তাহলে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে; (এ বিধান জারির) আগে যা কিছু হয়ে গেছে তা আল্লাহ তা’আলা তোমাদের মাফ করে দিয়েছেন: কেননা আল্লাহ তা’আলা পরম ক্ষমাশীল ও ধৈর্যশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০২﴿
﴾ ৫:১০২ ﴿
قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِنْ قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا كَافِرِينَ ﴿١٠٢﴾
তোমাদের আগেও কিছু সম্প্রদায় (তাদের নবীকে এ ধরনের) প্রশ্ন করতো, কিন্তুু এর পরক্ষণেই তারা তা অমান্য করতে শুরু করলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০৩﴿
﴾ ৫:১০৩ ﴿
مَا جَعَلَ اللَّهُ مِنْ بَحِيرَةٍ وَلَا سَائِبَةٍ وَلَا وَصِيلَةٍ وَلَا حَامٍ وَلَكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَأَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ﴿١٠٣﴾
দেবতার উদ্দেশে প্রেরিত (কান ছেঁড়া) ‘বহীরা’, (দেবতার নামে উৎসর্গীকৃত) ‘সায়েবা’, (দেবতার উদ্দেশে ছেড়ে দেয়া নর ও মাদী বাচ্চা প্রসবকারী) ‘ওয়াসীলা’ ও (দেবতার উদ্দেশে ছেড়ে দেয়া দশ বাচ্চা প্রসবকারিণী উষ্ট্রী) ‘হাম’ এর কোনোটাই কিন্তু আল্লাহ তা’আলা নির্দিষ্ট করে দেননি, বরং কাফেররাই (এসব কুসংস্কার দিয়ে) আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, আর এদের অধিকাংশ লোক তো (সত্য-মিথ্যার তফাৎটুকুও) উপলব্ধি করে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০৪﴿
﴾ ৫:১০৪ ﴿
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ ﴿١٠٤﴾
যখন এদের বলা হয়, আল্লাহ তা’আলা যা কিছু নাযিল করেছেন তোমরা সেদিকে এসো, (এসো তাঁর) রসূলের দিকে, (তখন) তারা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের যে বিধানের উপর পেয়েছি তা-ই আমাদের জন্যে যথেষ্ট; যদিও তাদের বাপ-দাদারা (সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে) কিছুই জানতো না এবং তারা হেদায়াতের পথেও চলতোনা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০৫﴿
﴾ ৫:১০৫ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿١٠٥﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমাদের নিজেদের দায়িত্ব তোমাদের নিজেদের উপর, অন্য (কোনো) ব্যক্তি যদি গোমরাহ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে সে পথভ্রষ্ট ব্যক্তি তোমাদের কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না, যতোক্ষণ পর্যন্তু তোমরা নিজেরা সঠিক পথের উপর চলতে থাকবে; তোমাদের ফেরার জায়গা (কিন্তু) আল্লাহর দিকেই, অতপর আল্লাহ তা’আলা তোমাদের (সেদিন) বলে দেবেন তোমরা কে কী করছিলে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০৬﴿
﴾ ৫:১০৬ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ أَوْ آخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنْتُمْ ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَأَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةُ الْمَوْتِ تَحْبِسُونَهُمَا مِنْ بَعْدِ الصَّلَاةِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ إِنِ ارْتَبْتُمْ لَا نَشْتَرِي بِهِ ثَمَنًا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَلَا نَكْتُمُ شَهَادَةَ اللَّهِ إِنَّا إِذًا لَمِنَ الْآثِمِينَ ﴿١٠٦﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমাদের কারো যখন মৃত্যু (সময়) এসে উপনীত হয়, ওসিয়ত করার এ মুহূর্তে তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন ন্যায়পরায়ণ মানুষকে সাক্ষী বানিয়ে রাখবে, আর যদি তোমরা প্রবাসে থাকো এবং এ সময় যদি তোমাদের উপর মৃত্যুর বিপদ এসে পড়ে, তখন বাইরের লোকদের মধ্য থেকে দু’জন ব্যক্তিকে সাক্ষী বানিয়ে নেবে; (পরে যদি এ ব্যাপারে) তোমাদের কোনো সন্দেহ দেখা দেয় তাহলে (সাক্ষী) দু’জনকে নামাযের পর আটকে রাখবে, অতপর তারা আল্লাহর নামে কসম করে বলবে, আমরা কোনো স্বার্থের খাতিরে এ সাক্ষ্য বিক্রি করবো না, (এর কোনো পক্ষ আমাদের) ঘনিষ্ঠ অত্মীয় হলেও (নয়) , আমরা আল্লাহর (জন্যে এ) সাক্ষ্য গোপন করবো না, (কেননা) আমরা যদি তেমন কিছু করি তাহলে আমরা গুনাহগারদের দলে শামিল হয়ে যাবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০৭﴿
﴾ ৫:১০৭ ﴿
فَإِنْ عُثِرَ عَلَى أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِثْمًا فَآخَرَانِ يَقُومَانِ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِينَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِمُ الْأَوْلَيَانِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِنْ شَهَادَتِهِمَا وَمَا اعْتَدَيْنَا إِنَّا إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ ﴿١٠٧﴾
পরে যদি একথা প্রকাশ পায়, এ (বাইরের) দু’জন সাক্ষী অপরাধে লিপ্ত ছিলো, তাহলে আগে (যাদের) স্বার্থহানি ঘটেছিলো তাদের মধ্য থেকে দু’জন সাক্ষী তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে, তারা (এসে) আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য অপেক্ষা বেশী সত্যভিত্তিক (হবে) , আমরা (সাক্ষ্যের ব্যাপারে) সীমালংঘন করিনি (আমরা যদি তেমনটি করি) , তাহলে আমরা যালেমদের দলভুক্ত হয়ে পড়বো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০৮﴿
﴾ ৫:১০৮ ﴿
ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يَأْتُوا بِالشَّهَادَةِ عَلَى وَجْهِهَا أَوْ يَخَافُوا أَنْ تُرَدَّ أَيْمَانٌ بَعْدَ أَيْمَانِهِمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاسْمَعُوا وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ ﴿١٠٨﴾
এ (পদ্ধতি) -তে বেশী আশা করা যায় যে, তারা ঠিক ঠিক সাক্ষ্য নিয়ে আসবে অথবা তারা অন্তুতপক্ষে এ ভয় করবে যে, (তাদের) কসম আবার অন্য কারো কসম দ্বারা বাতিল করে দেয়া হবে; তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো এবং (রসূলের কথা) শোনো; আল্লাহ তা’আলা কখনো পাপী লোকদের সৎপথে পরিচালিত করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১০৯﴿
﴾ ৫:১০৯ ﴿
يَوْمَ يَجْمَعُ اللَّهُ الرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَا أُجِبْتُمْ قَالُوا لَا عِلْمَ لَنَا إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ ﴿١٠٩﴾
যেদিন আল্লাহ তা’আলা সকল রসূলকে একত্রিত করে জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের (দাওয়াতের প্রতি মানুষদের পক্ষ থেকে) কিভাবে সাড়া দেয়া হয়েছিলো; তারা বলবে, আমরা তো (তার) কিছুই জানি না; যাবতীয় গায়বের বিষয়ে তুমিই পরিজ্ঞাত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১০﴿
﴾ ৫:১১০ ﴿
إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ وَعَلَى وَالِدَتِكَ إِذْ أَيَّدْتُكَ بِرُوحِ الْقُدُسِ تُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَإِذْ عَلَّمْتُكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَإِذْ تَخْلُقُ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ بِإِذْنِي فَتَنْفُخُ فِيهَا فَتَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِي وَتُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ بِإِذْنِي وَإِذْ تُخْرِجُ الْمَوْتَى بِإِذْنِي وَإِذْ كَفَفْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَنْكَ إِذْ جِئْتَهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُبِينٌ ﴿١١٠﴾
(স্মরণ করো, ) যখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, হে মাইরয়াম-পুত্র ঈসা, আমার সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাকে ও তোমার মাকে দান করেছিলাম, যখন আমি পবিত্র আত্মা দিয়ে তোমাকে সাহায্য করেছিলাম। তুমি মানুষের সাথে (যেমনি) দোলনায় থাকতে কথা বলতে, (তেমনি বলতে) পরিণত বয়সেও, আমি যখন তোমাকে কিতাব, জ্ঞান-বিজ্ঞান, তাওরাত ও ইনজীল দান করেছিলাম, যখন তুমি আমারই হুকুমে কাঁচা মাটি দিয়ে পাখি সদৃশ আকৃতি বানাতে, অতপর তাতে ফুঁ দিতে, আর আমার আদেশক্রমেই তা পাখী হয়ে যেতো, আমারই হুকুমে তুমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করে দিতে, আমারই আদেশে তুমি মৃতদের (কবর থেকে) বের করে আনতে, পরে যখন তুমি তাদের কাছে (নবুওতের) এসব নিদর্শন নিয়ে পৌঁছলে, তখন তাদের মধ্যে যারা (তোমাকে) অস্বীকার করেছিলো তারা বললো, এ নিদর্শনগুলো যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়, তখন আমিই তোমার (কোনো অনিষ্ট সাধন) থেকে বনী ইসরাঈলদের নিবৃত্ত করে রেখেছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১১﴿
﴾ ৫:১১১ ﴿
وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ ﴿١١١﴾
(আরো স্মরণ করো, ) যখন আমি হাওয়ারীদের (অন্তুরে) এ প্রেরণা দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রসূলের প্রতি ঈমান আনো, তারা বললো (হে মালিক) , আমরা (তোমার উপর) ঈমান আনলাম, তুমি (এ কথার) সাক্ষ্য থেকো যে, আমরা তোমার অনুগত ছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১২﴿
﴾ ৫:১১২ ﴿
إِذْ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ هَلْ يَسْتَطِيعُ رَبُّكَ أَنْ يُنَزِّلَ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِنَ السَّمَاءِ قَالَ اتَّقُوا اللَّهَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١١٢﴾
(অতপর) যখন এই হাওয়ারীদের দল বললো, হে মারইয়াম-পুত্র ঈসা! তোমার মালিক কি আসমান থেকে খাবার সজ্জিত একটি টেবিল আমাদের জন্যে পাঠাতে পারেন? ঈসা জবাব দিলো, (সত্যিই) যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো তাহলে (কোনো অহেতুক দাবী পেশ করার ব্যাপারে) তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১৩﴿
﴾ ৫:১১৩ ﴿
قَالُوا نُرِيدُ أَنْ نَأْكُلَ مِنْهَا وَتَطْمَئِنَّ قُلُوبُنَا وَنَعْلَمَ أَنْ قَدْ صَدَقْتَنَا وَنَكُونَ عَلَيْهَا مِنَ الشَّاهِدِينَ ﴿١١٣﴾
তারা বললো, আমরা (শুধু এটুকুই) চাই যে, আল্লাহর পাঠানো সেই (টেবিল) থেকে (কিছু) খাবার খেতে, এতে আমাদের মন পরিতৃপ্ত হয়ে যাবে, (তাছাড়া এতে করে) আমরা এও জানতে পারবো তুমি আমাদের কাছে সঠিক কথা বলেছো, আমরা নিজেরাও এর উপর সাক্ষী হবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১৪﴿
﴾ ৫:১১৪ ﴿
قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنْزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِنْكَ وَارْزُقْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ ﴿١١٤﴾
মারইয়াম-পুত্র ঈসা (আল্লাহর দরবারে) বললো, হে আল্লাহ, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের জন্যে আসমান থেকে খাবার সজ্জিত একটি টেবিল পাঠাও, এ হবে আমাদের জন্যে, আমাদের পূর্ববর্তী ও আমাদের পরবর্তীদের জন্যে তোমার কাছ থেকে (পাঠানো) একটি আনন্দোৎসব; (সর্বোপরি এটা) হবে তোমার (কুদরতের একটি) নিদর্শন, তুমি আমাদের রিযিক দাও, কেননা তুমিই হচ্ছো উত্তম রিযিকদাতা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১৫﴿
﴾ ৫:১১৫ ﴿
قَالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ ﴿١١٥﴾
আল্লাহ তা’আলা বললেন, হাঁ, আমি তোমাদের উপর (অচিরেই) তা পাঠাচ্ছি, তবে এরপরও যদি তোমাদের কেউ (আমার ক্ষমতা) অস্বীকার করে তাহলে তাকে আমি এমন কঠিন শাস্তি দেবো, যা আমি সৃষ্টিকুলের কাউকেই আর দেবো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১৬﴿
﴾ ৫:১১৬ ﴿
وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ إِنْ كُنْتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ ﴿١١٦﴾
যখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, হে মারইয়াম পুত্র ঈসা! তুমি কি কখনো (তোমার) লোকদের (একথা) বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে ‘ইলাহ’ বানিয়ে নাও! (এ কথার উত্তরে) সে বলবে (হে আল্লাহ) , সমগ্র পবিত্রতা তোমার জন্যে, এমন কোনো কথা আমার পক্ষে শোভা পেতো না, যে কথা বলার আমার কোনো অধিকারই ছিলো না, যদি আমি তাদের এমন কোনো কথা বলতামই, তাহলে তুমি তো অবশ্যই তা জানতে; নিশ্চয়ই তুমি তো জানো আমার মনে যা কিছু আছে, কিন্তুু আমি তো জানি না তোমার মনে কি আছে; যাবতীয় গায়ব অবশ্যই তুমি ভালো করে অবগত আছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১৭﴿
﴾ ৫:১১৭ ﴿
مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ ﴿١١٧﴾
তুমি আমাকে যা কিছু বলতে হুকুম করেছো আমি তো তাদের তাছাড়া (অন্য) কিছুই বলিনি, (আর সে কথা ছিলো) , তোমরা শুধু আল্লাহ তা’আলার ইবাদাত করো, যিনি আমার মালিক, তোমাদেরও মালিক, আমি যতোদিন তাদের মধ্যে ছিলাম ততোদিন তো আমি (নিজেই তাদের কার্যকলাপের) সাক্ষী ছিলাম, কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমিই ছিলে তাদের উপর একক নেগাহবান, যাবতীয় ক্রিয়াকর্মের তুমিই ছিলে একক খবরদার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১৮﴿
﴾ ৫:১১৮ ﴿
إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿١١٨﴾
(আজ) তাদের অপরাধের জন্যে তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও (দিতে পারো) , কারণ তারা তো তোমারই বান্দা, আর তুমি যদি তাদের ক্ষমা করে দাও (তাও তোমার মর্জি) , অবশ্যই তুমি হচ্ছো বিপুল ক্ষমতাশালী, প্রজ্ঞাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১১৯﴿
﴾ ৫:১১৯ ﴿
قَالَ اللَّهُ هَذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿١١٩﴾
আল্লাহ তা’আলা বলবেন (হাঁ) , এ হচ্ছে সেদিন, যেদিন সত্যাশ্রয়ী ব্যক্তিরা তাদের সততার জন্যে (প্রচুর) কল্যাণ লাভ করবে; (আর সে কল্যাণ হচ্ছে, ) তাদের জন্যে এমন সুরম্য জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে অমীয় ঝর্ণাধারা প্রবাহিত থাকবে, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে; আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর সন্তুষ্ট থাকবেন এবং তারাও আল্লাহর উপর সন্তুুষ্ট থাকবে; (বস্তুত) এ হচ্ছে এক মহাসাফল্য। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫:১২০﴿
﴾ ৫:১২০ ﴿
لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٢٠﴾
আকাশমালা ও যমীন এবং এর মধ্যবর্তী সমগ্র সৃষ্টিলোকের ভেতর যা কিছু আছে তার সমূদয় বাদশাহী তো আল্লাহর জন্যেই এবং তিনিই সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]