🕌

الحديد
(৫৭) আল-হাদীদ

২৯

﴾৫৭:১﴿
﴾ ৫৭:১ ﴿
سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿١﴾
আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সব কিছুই আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা এবং মাহাত্ম ঘোষণা করে, তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২﴿
﴾ ৫৭:২ ﴿
لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢﴾
আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব তাঁরই জন্যে, তিনি জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান, তিনি সব কিছুর উপর চূড়ান্ত ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:৩﴿
﴾ ৫৭:৩ ﴿
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٣﴾
তিনি আদি, তিনি অন্ত, তিনি প্রকাশ্য, তিনি অপ্রকাশ্য এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:৪﴿
﴾ ৫৭:৪ ﴿
هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٤﴾
তিনি হচ্ছেন সেই মহান সত্তা, যিনি ছয় দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তার আরশে সমাসীন হন; তিনি জানেন যা কিছু এ ভূমির ভেতরে প্রবেশ করে, (আবার) যা কিছু ভূমি থেকে বেরিয়ে আসে, আসমান থেকে যা বর্ষিত হয় (তা যেমন তিনি জানেন আবার) আসমানের দিকে যা কিছু ওঠে তাও (তিনি অবগত আছেন) ; তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তিনি তোমাদের সাথেই আছেন; তোমরা যা কিছু করছো আল্লাহ তায়ালা তার সব কিছুই দেখছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:৫﴿
﴾ ৫৭:৫ ﴿
لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ ﴿٥﴾
আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব তাঁর জন্যে, প্রতিটি বিষয়কে তাঁর দিকেই ফিরিয়ে নেয়া হবে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:৬﴿
﴾ ৫৭:৬ ﴿
يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَهُوَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿٦﴾
তিনি রাতকে মিশিয়ে দেন দিনের সাথে, (আবার) দিনকে মিশিয়ে দেন রাতের সাথে; তিনি মনের (কোণে লুকিয়ে থাকা) বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:৭﴿
﴾ ৫৭:৭ ﴿
آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَنْفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُمْ مُسْتَخْلَفِينَ فِيهِ فَالَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَأَنْفَقُوا لَهُمْ أَجْرٌ كَبِيرٌ ﴿٧﴾
(হে মানুষ, তোমরা ঈমান আনো আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের উপর, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যে সম্পদের অধিকারী বানিয়েছেন তা থেকে (তাঁরই পথে) তোমরা ব্যয় করো; অতঃপর তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান। আনবে এবং (আল্লাহর নির্ধারিত পথে) অর্থ ব্যয় করবে, জেনে রেখো, তাদের জন্যে (রয়েছে) এক মহাপুরস্কার । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:৮﴿
﴾ ৫৭:৮ ﴿
وَمَا لَكُمْ لَا تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ لِتُؤْمِنُوا بِرَبِّكُمْ وَقَدْ أَخَذَ مِيثَاقَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٨﴾
তোমাদের এ কি হলো, তোমরা কেন আল্লাহর উপর ঈমান আনছো না? (বিশেষ করে) যখন (স্বয়ং আল্লাহর) রাসূল তোমাদের ডাক দিয়ে বলছেন, তোমরা তোমাদের মালিকের উপর ঈমান আনো এবং তিনি তো (এ মর্মে) তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নিয়েছিলেন, যদি তোমরা সত্যিই ঈমানদার হও (তাহলে সেই প্রতিশ্রুতি পালন করো) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:৯﴿
﴾ ৫৭:৯ ﴿
هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَكُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَإِنَّ اللَّهَ بِكُمْ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ ﴿٩﴾
তিনিই সে মহান সত্তা যিনি তাঁর বান্দার উপর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছেন, যেন তিনি তোমাদের (এর দ্বারা জাহেলিয়াতের) অন্ধকার থেকে (ঈমানের) আলোর দিকে বের করে নিতে পারেন; আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু ও একান্ত করুণাময় । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১০﴿
﴾ ৫৭:১০ ﴿
وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿١٠﴾
তোমাদের এ কি হলো, তোমরা কেন আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করতে চাও না, অথচ আসমানসমূহ ও যমীনের সব কিছুর মালিকানা তো আল্লাহ তায়ালার জন্যেই; তোমাদের মধ্যে তারা কখনো একই রকম (মর্যাদার অধিকারী) হবে না, যারা বিজয় সাধিত হওয়ার আগে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করেছে এবং (ময়দানেও) সংগ্রাম করেছে; তাদের মর্যাদা ওদের তুলনায় অনেক বেশী যারা বিজয় সাধিত হবার পর আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করেছে এবং জেহাদে অংশ গ্রহণ করেছে; (অবশ্য) আল্লাহ তায়ালা এদের সবাইকেই উত্তম পুরস্কার প্রদানের ওয়াদা দিয়েছেন; তোমরা যা কিছুই করো আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে পূর্ণাংগভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১১﴿
﴾ ৫৭:১১ ﴿
مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ وَلَهُ أَجْرٌ كَرِيمٌ ﴿١١﴾
কে আছে যে ব্যক্তি আল্লাহকে ঋণ দেবে (এমন) উত্তম ঋণ, (যার বিনিময়) আল্লাহ তায়ালা (পরকালে) তাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবেন এবং তার জন্যে (থাকবে আরো) বড়ো ধরনের পুরস্কার, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১২﴿
﴾ ৫৭:১২ ﴿
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُمْ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿١٢﴾
যেদিন তুমি ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার মহিলাদের এগিয়ে যেতে দেখতে পাবে (দেখবে) তাদের সামনে দিয়ে এবং তাদের ডান পাশ দিয়ে নুরের এক জ্যোতিও এগিয়ে চলেছে, (এ সময় তাদের উদ্দেশে বলা হবে) , আজ সুসংবাদ তোমাদের জন্যে (আর সে সুসংবাদটি হচ্ছে) জান্নাতের, যার পাদদেশ দিয়ে (সুপেয়) ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে, সেখানে (তোমরা) অবস্থান করবে অনন্তকাল ধরে; আর এটা হচ্ছে চরম সাফল্য, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১৩﴿
﴾ ৫৭:১৩ ﴿
يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انْظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِنْ نُورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُورٍ لَهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ ﴿١٣﴾
সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা ঈমানদারদের বলবে, তোমরা আমাদের দিকে একটু তাকাও, যাতে করে আমরা তোমাদের নুর থেকে কিছুটা হলেও আলো গ্রহণ করতে পারি, তাদের বলা হবে, তোমরা (আজ) পেছনে ফিরে যাও এবং (পারলে সেখানে গিয়ে) আলোর সন্ধান করো; অতঃপর এদের (উভয়ের) মাঝখানে একটি প্রাচীর দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে, এতে একটি দরজাও থাকবে; যার ভেতরের দিকে থাকবে (আল্লাহর) রহমত, আর তার বাইরের দিকে থাকবে (ভয়াবহ) আযাব; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১৪﴿
﴾ ৫৭:১৪ ﴿
يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُنْ مَعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنْتُمْ أَنْفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّى جَاءَ أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ ﴿١٤﴾
তখন মুনাফিক দল ঈমানদারদের ডেকে বলবে, আমরা কি (দুনিয়ার জীবনে) তোমাদের সাথী ছিলাম না; তারা বলবে, হ্যাঁ (অবশ্যই ছিলে) , তবে তোমরা নিজেরাই নিজেদের (গোমরাহীর বিপদে) বিপদগ্রস্ত করে দিয়েছিলে, তোমরা (সব সময় সুযোগের) অপেক্ষায় থাকতে, (নানা রকমের) সন্দেহ পোষণ করতে, (আসলে দুনিয়ার) মোহ তোমাদের সব সময়ই প্রতারিত করে রাখছিলো, আর এভাবে একদিন (তোমাদের ব্যাপারে) আল্লাহর (পক্ষ থেকে মৃত্যুর) ফয়সালা এসে হাযির হলো এবং সে (প্রতারক শয়তান) তোমাদের আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কেও ধোঁকায় ফেলে রেখেছিলো । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১৫﴿
﴾ ৫৭:১৫ ﴿
فَالْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنْكُمْ فِدْيَةٌ وَلَا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مَأْوَاكُمُ النَّارُ هِيَ مَوْلَاكُمْ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿١٥﴾
অতঃপর আজ (আযাব থেকে বাঁচানোর জন্যে) তোমাদের কাছ থেকে কোনো রকম মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে , আর না তাদের কাছ থেকে কোনো রকম মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করেছে; (আজ) তোমাদের (উভয়ের) ঠিকানা হবে (জাহান্নামের) আগুন; (আর এ) আগুনই হবে (এখানে) তোমাদের (একমাত্র) সাথী; কতো নিকৃষ্ট তোমাদের (এ) পরিণাম! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১৬﴿
﴾ ৫৭:১৬ ﴿
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ ﴿١٦﴾
ঈমানদারদের জন্যে এখনো কি সে ক্ষণটি এসে পৌঁছয়নি যে, আল্লাহর (আযাবের) স্মরণে, আল্লাহ তায়ালা যে সঠিক (কিতাব) নাযিল করেছেন তার স্মরণে তাদের অন্তরসমূহ বিগলিত হয়ে যাবে এবং সে (কখনোই) তাদের মতো হবে না, যাদের কাছে এর আগে আল্লাহর কিতাব নাযিল করা হয়েছিলো, অতঃপর তাদের উপর এক। দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গেলো, যার ফলে তাদের মনও কঠিন হয়ে গেলো; এদের মধ্যে এক বিরাট অংশই নাফরমান (থেকে গেলো) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১৭﴿
﴾ ৫৭:১৭ ﴿
اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿١٧﴾
তোমরা জেনে রেখো, আল্লাহ তায়ালাই এ ভূমিকে তার মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন দান করেন; অবশ্যই আমি (আমার) যাবতীয় নির্দশন তোমাদের জন্যে খুলে খুলে বর্ণনা করেছি, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১৮﴿
﴾ ৫৭:১৮ ﴿
إِنَّ الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ ﴿١٨﴾
যেসব পুরুষ ও নারী (অকাতরে আল্লাহর পথে) দান করে এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করে, তাদের (সে ঋণ) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে, (উপরন্তু) তাদের জন্যে (থাকবে আরো) সম্মানজনক পুরস্কার । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:১৯﴿
﴾ ৫৭:১৯ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ أُولَئِكَ هُمُ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ عِنْدَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْ وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴿١٩﴾
আর যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে, ঈমান এনেছে তাঁর রসুলের উপর, তারাই হচ্ছে যথার্থ সত্যবাদী, যারা তাদের মালিকের সামনে সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দান করবে, তাদের সবার জন্যে (রয়েছে) তাদের (মালিকের পক্ষ থেকে) পুরস্কার এবং তাদের নিজেদের নুর (-ও, যা তাদের সাফল্যের প্রমাণ বহন করবে, অপরদিকে) , যারা আমাকে অস্বীকার করেছে এবং আমার নিদর্শনসমূহ মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে তারা হবে জাহান্নামের বাসিন্দা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২০﴿
﴾ ৫৭:২০ ﴿
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ ﴿٢٠﴾
তোমরা জেনে রাখো, এ পার্থিব জীবন খেলাধূলা, (হাসি) তামাশা জাঁকজমক (প্রদর্শন) , পরস্পর অহংকার প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা, ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি বাড়ানোর চেষ্টা সাধনা ছাড়া আর কিছুই নয়; (সমগ্র বিষয়টা) যেন আকাশ থেকে বর্ষিত (এক পশলা) বৃষ্টি, যার (উৎপাদিত) ফসলের সমাহার কৃষকের মনকে খুশীতে ভরে দেয়, অতঃপর (একদিন) তা শুকিয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে তুমি দেখতে পাও, তা হলুদ রং ধারণ করতে শুরু করেছে, তারপর তা (অর্থহীন) খড়কুটায় পরিণত হয়ে যায়, (কাফেরদের জন্যে পার্থিব জীবনের চেষ্টা সাধনা এমনি এক অর্থহীন কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়) ; আর পরকালের জীবনে (তাদের জন্যে থাকবে) কঠোর আযাব এবং (ঈমানদারদের জন্যে থাকবে) আল্লাহর পক্ষ থেকে (তাঁর) ক্ষমা ও সন্তুষ্টি; (সত্যি কথা হচ্ছে, ) দুনিয়ার এ জীবন কতিপয় ধােকা প্রতারণার সামগ্রী বৈ কিছুই নয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২১﴿
﴾ ৫৭:২১ ﴿
سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ ﴿٢١﴾
(অতএব, এ সব অর্থহীন প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে) তোমরা তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সেই (প্রতিশ্রুত) ক্ষমা ও চিরন্তন জান্নাত পাওয়ার জন্যে এগিয়ে যাও, (এমন জান্নাত) যার আয়তন আসমান যমীনের সমান প্রশস্ত, তা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে সেসব মানুষদের জন্যে, যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর (পাঠানো) রসুলের উপর ঈমান এনেছে; ( মূলত) এ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার এক অনুগ্রহ, যাকে তিনি চান তাকেই তিনি এ অনুগ্রহ প্রদান করেন; আর আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন মহা অনুগ্রহশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২২﴿
﴾ ৫৭:২২ ﴿
مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ ﴿٢٢﴾
(সামগ্রিকভাবে গোটা) দুনিয়ার উপর কিংবা (ব্যক্তিগতভাবে) তোমাদের উপর যখনি কোনো বিপর্যয় আসে, তাকে অস্তিত্ব দান করার (বহু) আগেই (তার বিবরণ একটি গ্রন্থে লেখা থাকে, আর আল্লাহ তায়ালার জন্যে এ কাজ অত্যন্ত সহজ, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২৩﴿
﴾ ৫৭:২৩ ﴿
لِكَيْ لَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ ﴿٢٣﴾
(আগেই লিখে রাখার এ ব্যবস্থাটি এ জন্যেই রাখা হয়েছে। যাতে করে তোমাদের কাছ থেকে যা কিছু (সুযোগ সুবিধা) হারিয়ে গেছে তার জন্যে তোমরা আফসোস না করো এবং আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যা কিছু দিয়েছেন তাতেও যেন তোমরা বেশী হর্ষোৎফুল্ল না হও; আল্লাহ তায়ালা এমন সব লোকদের ভালোবাসেন না যারা ঔদ্ধত্য ও অহংকার প্রদর্শন করে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২৪﴿
﴾ ৫৭:২৪ ﴿
الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَمَنْ يَتَوَلَّ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ ﴿٢٤﴾
(আল্লাহ তায়ালা তাদেরও ভালোবাসেন না) যারা নিজেরা কার্পণ্য করে, আবার অন্যদেরও কার্পণ্য করার আদেশ দেয়; যে ব্যক্তি (জেনে বুঝে আল্লাহর হুকুম থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয় (তার জানা উচিত) , আল্লাহ তায়ালা কারোই মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি মহান প্রশংসায় প্রশংসিত । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২৫﴿
﴾ ৫৭:২৫ ﴿
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ ﴿٢٥﴾
আমি অবশ্যই আমার রাসূলদের কতিপয় সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ (মানুষদের কাছে) পাঠিয়েছি এবং আমি তাদের সাথে কিতাব পাঠিয়েছি, আরো পাঠিয়েছি (আমার পক্ষ থেকে এক) ন্যায়দন্ড, যাতে করে মানুষ (এর মাধ্যমে) ইনসাফের উপর কায়েম থাকতে পারে, তাদের জন্যে আমি লোহা নাযিল করেছি, যার মধ্যে (একদিকে যেমন। রয়েছে) বিপুল শক্তি, (অন্য দিকে রয়েছে) মানুষের বহুবিধ উপকার, এর মাধ্যমে (মূলত) আল্লাহ তায়ালা জেনে নিতে চান কে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলদের না দেখেও সাহায্য করতে এগিয়ে আসে; আল্লাহ তায়ালা প্রচন্ড শক্তিমান ও মহাপরাক্রমশালী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২৬﴿
﴾ ৫৭:২৬ ﴿
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَاهِيمَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِمَا النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ فَمِنْهُمْ مُهْتَدٍ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ ﴿٢٦﴾
আমি নুহ ও ইবরাহীমকে আমার রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি এবং তাদের উভয়ের বংশধরদের মাঝে আমি নবুওত ও কিতাব (প্রেরণের ব্যবস্থা করে) রেখেছি, অতঃপর তাদের মাঝে কিছু কিছু লোক সঠিক পথ অবলম্বন। করেছে, (অবশ্য) তাদের অধিকাংশ লোকই ছিলো না-ফরমান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২৭﴿
﴾ ৫৭:২৭ ﴿
ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِمْ بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَآتَيْنَاهُ الْإِنْجِيلَ وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً وَرَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَ رِعَايَتِهَا فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ ﴿٢٧﴾
তারপর (তাদের বংশে) একের পর এক আমি অনেক রাসূলই প্রেরণ করেছি, তাদের পরে (এক পর্যায়ে) আমি মারইয়াম পুত্র ঈসাকে (রাসূল বানিয়ে) পাঠিয়েছি এবং তাকে আমি (হেদায়াতের গ্রন্থ) ইঞ্জিল দান করেছি, (এর প্রতিষ্ঠায়) যারা তার আনুগত্য করেছে তাদের মনে (তার প্রতি) দয়া ও করুণা দান করেছি; (তার অনুসারীদের অনুসৃত) সন্ন্যাসবাদ! (আসলে) তারা নিজেরাই এর উদ্ভব ঘটিয়েছে, আমি কখনো এটা তাদের জন্যে নির্ধারণ করিনি, (আমি তাদের শুধু বলেছিলাম) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে, অতঃপর তারা এর যথাযথ হক আদায় করেনি, তারপর তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের আমি (যথার্থ) পুরস্কার দিয়েছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই ছিলো না-ফরমান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২৮﴿
﴾ ৫৭:২৮ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٢٨﴾
হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং তাঁর প্রেরিত রসুলের উপর ঈমান আনো, এর ফলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দ্বিগুণ অনুগ্রহে ভূষিত করবেন, তিনি তোমাদের জন্যে স্থাপন করবেন সেই আলো, যার সাহায্যে তোমরা পথ চলতে সক্ষম হবে, (উপরন্তু) তিনি তোমাদের (যাবতীয় গুনাহ খাতা) মাফ করে দেবেন; আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৭:২৯﴿
﴾ ৫৭:২৯ ﴿
لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ ﴿٢٩﴾
আহলে কিতাবরা যেন একথাটা (ভালো করে) জেনে নিতে পারে, আল্লাহ তায়ালার সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও তাদের কোনো অধিকার নেই, যাবতীয় অনুগ্রহ! সে তো সম্পূর্ণ আল্লাহ তায়ালারই হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই এ অনুগ্রহ দান করেন; (মূলত) আল্লাহ তায়ালা সুমহান অনুগ্রহশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]