🕌

المجادلة
(৫৮) আল-মুজাদালাহ

২২

﴾৫৮:১﴿
﴾ ৫৮:১ ﴿
قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ ﴿١﴾
(হে রসূল, ) তার কথা আল্লাহ তাআলা (যথার্থই) শুনেছেন, যে (মহিলা) তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছিলো এবং (নিজের অসুবিধার জন্যে) আল্লাহর কাছেই ফরিয়াদ করে যাচ্ছিলো, (আসলে) আল্লাহ তাআলা তোমাদের উভয়ের কথাবার্তাই শুনছেন; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা সব কিছু শোনেন এবং সব কিছু দেখেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:২﴿
﴾ ৫৮:২ ﴿
الَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْكُمْ مِنْ نِسَائِهِمْ مَا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنْكَرًا مِنَ الْقَوْلِ وَزُورًا وَإِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌ ﴿٢﴾
তোমাদের মধ্যে যারা (তাদের মায়েদের শরীরের কোনো অংশের সাথে তুলনা করে) নিজ স্ত্রীদের সাথে যেহার' করে (তাদের জেনে রাখা উচিত) , তাদের স্ত্রীরা কিন্তু কখনো তাদের মা নয়; মা তো হচ্ছে তারা, যারা তাদের জন্ম দিয়েছে; (এ কাজ করে) তারা মূলত) অন্যায় ও মিথ্যা কথাই বলে; (তারপরও) আল্লাহ তাআলা হচ্ছেন (মানুষের) গুনাহ মোচনকারী ও পরম ক্ষমাশীল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:৩﴿
﴾ ৫৮:৩ ﴿
وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا ذَلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿٣﴾
যারা (এভাবে) তাদের স্ত্রীদের সাথে যেহার' করে, অতঃপর (অনুতপ্ত হয়ে) যা কিছু বলে ফেলেছে তা থেকে ফিরে আসতে চায় (তাদের জন্যে বিধান হচ্ছে) , তাদের একে অপরকে স্পর্শ করার পুর্বে একটি দাসের মুক্তি দান করা; এ (বিধানে) -র মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তোমাদের করণীয় কি তা বলে দিচ্ছেন, (কেননা) তোমরা যা করো আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:৪﴿
﴾ ৫৮:৪ ﴿
فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ذَلِكَ لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٤﴾
যে ব্যক্তি (মুক্তিদানের জন্যে কোনো দাস) পাবে না (তার বিধান হচ্ছে) , তাদের একে অপরকে স্পর্শ করার আগে একাধারে দু'মাসের রোযা পালন (করা, স্বাস্থ্যগত কারণে) যে ব্যক্তি (রোযা রাখার) সামর্থ রাখবে না (তার বিধান হচ্ছে) , ষাট জন মিসকীনকে (পেট ভরে) খাওয়ানো; এ বিধান এ জন্যেই (তোমাদের দেয়া হচ্ছে) যেন তোমরা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান আনো; (মনে রাখবে, যেহারের ব্যাপারে) এ হচ্ছে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, যারা (এ সীমা) অস্বীকার করে তাদের জন্যে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:৫﴿
﴾ ৫৮:৫ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يُحَادُّونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ كُبِتُوا كَمَا كُبِتَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَقَدْ أَنْزَلْنَا آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿٥﴾
যারা আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের তেমনিভাবে অপদস্থ করা হবে, যেমনি করে তাদের আগে (বিদ্রোহী) লোকদের অপদস্থ করা হয়েছিলো, আমি তো আমার সুস্পষ্ট আয়াত নাযিল করে দিয়েছি; যারা (এসব আয়াত) অস্বীকার করে তাদের জন্যে অবশ্যই অপমানকর শাস্তি থাকবে, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:৬﴿
﴾ ৫৮:৬ ﴿
يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا أَحْصَاهُ اللَّهُ وَنَسُوهُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ ﴿٦﴾
যেদিন আল্লাহ তাআলা এদের সবাইকে পুনরায় জীবন দান করবেন তখন তাদের সবাইকে তিনি বলে দেবেন তারা কি করে এসেছে; আল্লাহ তাআলা সে কর্মকান্ডের পুংখানুপুংখ হিসাব রেখেছেন, অথচ তারা নিজেরা সে কথা ভুলে গেছে; (সেদিন) আল্লাহ তাআলা নিজেই তাদের সব কয়টি কাজের সাক্ষ্য প্রদান করবেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:৭﴿
﴾ ৫৮:৭ ﴿
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٧﴾
তুমি কি কখনো এটা অনুধাবন করো না যে, আসমানসমুহ ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা'আলা তা সবই জানেন; কখনো এমন হয় না যে, তিন ব্যক্তির মধ্যে কোনো গোপন সলাপরামর্শ হয় এবং (সেখানে) চতুর্থ হিসেবে আল্লাহ তা'আলা উপস্থিত থাকেন না এবং পাঁচ জনের মধ্যে (কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যেখানে) ষষ্ঠ' হিসেবে তিনি থাকেন না, (এ সলা পরামর্শকারীদের সংখ্যা) তার চাইতে কম হোক কিংবা বেশী, তারা যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তাআলা সব সময়ই তাদের সাথে আছেন, অতঃপর কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাদের (সবাইকে) বলে দেবেন তারা কি কাজ করে এসেছে; আল্লাহ তাআলা সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:৮﴿
﴾ ৫৮:৮ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ نُهُوا عَنِ النَّجْوَى ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَيَتَنَاجَوْنَ بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَمَعْصِيَةِ الرَّسُولِ وَإِذَا جَاءُوكَ حَيَّوْكَ بِمَا لَمْ يُحَيِّكَ بِهِ اللَّهُ وَيَقُولُونَ فِي أَنْفُسِهِمْ لَوْلَا يُعَذِّبُنَا اللَّهُ بِمَا نَقُولُ حَسْبُهُمْ جَهَنَّمُ يَصْلَوْنَهَا فَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿٨﴾
তুমি কি তাদের লক্ষ্য করো না, যাদের (আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রসূল সম্পর্কে কোনো) গোপন কানাঘুষা করতে নিষেধ করা হয়েছিলো; (কিন্তু) তারা (ঠিক) তারই পুনরাবৃত্তি করলো যা করতে তাদের বারণ করা হয়েছিলো, তারা একে অপরের সাথে সুস্পষ্ট গুনাহের কাজ, মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও রসূলের নাফরমানীর ব্যাপারে কানাঘুষা করতে লাগলো, (অথচ) এরা যখন তোমার সামনে আসে তখন তোমাকে এমনভাবে অভিবাদন জানায়, যা দিয়ে আল্লাহ তা'আলা ও তোমাকে অভিবাদন জানান না, (আর এ সব প্রতারণার সময়) ওরা মনে মনে বলে, আমরা যা বলছি তার জন্যে আল্লাহ তা'আলা আমাদের কোনো প্রকার শাস্তি দিচ্ছেন না কেন?(তুমি তাদের বলো, ) জাহান্নাম তাদের (শাস্তির) জন্যে যথষ্টে, তার আগুনে (পুড়ে) তারাই দগ্ধ হবে, কতো নিকৃষ্ট (হবে সেই) বাসস্থান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:৯﴿
﴾ ৫৮:৯ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَنَاجَيْتُمْ فَلَا تَتَنَاجَوْا بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَمَعْصِيَةِ الرَّسُولِ وَتَنَاجَوْا بِالْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ﴿٩﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা যখন একে অপরের সাথে গোপনে কোনো কথা বলো, তখন কখনো কোনো পাপাচার, সীমালংঘন ও রসূলের বিরোধিতা সম্পর্কিত কথা বলো না; বরং গোপনে কিছু বলতে হলে (সেখানে) একে অপরকে ভালো কাজ ও (আল্লাহকে) ভয় করার কথাই বলো; (সর্বোপরি) সে সর্বময় ক্ষমতার মালিক আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর সামনে (একদিন) তোমাদের (সবাইকে) সমবেত করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১০﴿
﴾ ৫৮:১০ ﴿
إِنَّمَا النَّجْوَى مِنَ الشَّيْطَانِ لِيَحْزُنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيْسَ بِضَارِّهِمْ شَيْئًا إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ﴿١٠﴾
(আসলে এদের) গোপন সলাপরামর্শ তো হচ্ছে একটা শয়তানী প্ররোচনা, যার (একমাত্র) উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈমানদার লোকদের কষ্ট দেয়া (অথচ এরা জানে না) , আল্লাহ তা'আলা র ইচ্ছা ব্যতিরেকে তারা ঈমানদারদের বিন্দুমাত্রও কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না; (তাই) ঈমানদারদের উচিত (হামেশা) আল্লাহর উপরই নির্ভর করা । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১১﴿
﴾ ৫৮:১১ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قِيلَ لَكُمْ تَفَسَّحُوا فِي الْمَجَالِسِ فَافْسَحُوا يَفْسَحِ اللَّهُ لَكُمْ وَإِذَا قِيلَ انْشُزُوا فَانْشُزُوا يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿١١﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, যখন মজলিসসমুহে (একটু নড়েচড়ে) জায়গা প্রশস্ত করে দিতে তোমাদের বলা হয়, তখন তোমরা জায়গা প্রশস্ত করে দিও, (তাহলে) আল্লাহ তাআলা ও তোমাদের জন্যে (জান্নাতে) এভাবে জায়গা প্রশস্ত করে দেবেন, (আবার) কখনো যদি (জায়গা ছেড়ে) ওঠে দাঁড়াতে বলা হয়, তাহলে ওঠে দাঁড়িয়ে যেও, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই কেয়ামতের দিন তাদের মহামর্যাদা দান করবেন; তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তাআলা সে ব্যাপারে পূর্ণ খবর রাখেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১২﴿
﴾ ৫৮:১২ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَاجَيْتُمُ الرَّسُولَ فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَةً ذَلِكَ خَيْرٌ لَكُمْ وَأَطْهَرُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٢﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা যদি কখনো রসূলের সাথে একাকী কোনো কথা বলতে চাও, তাহলে (অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা নিয়ন্ত্রনের কৌশল হিসেবে) তোমরা কিছু দান (সাদাকা) আদায় করে নেবে; এটা তোমাদের (সবার) জন্যে মংগলজনক ও (রসূলের মজলিসের পরিবেশ নিয়ন্ত্রনে রাখার একটি) পবিত্রতম পন্থা, অবশ্য সাদাকা আদায় করার মতো তোমরা যদি কিছু না পাও তাহলে (দুশ্চিন্তা করো না, কেননা, ) আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১৩﴿
﴾ ৫৮:১৩ ﴿
أَأَشْفَقْتُمْ أَنْ تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَاتٍ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا وَتَابَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿١٣﴾
তোমরা কি তোমাদের একাকী কথা বলার আগে সাদাকা আদায় করার আদেশে ভয় পেয়ে গেলে? যদি তোমরা তা করতে না পারো এবং আল্লাহ তাআলা স্বীয় করুণা দ্বারা তোমাদের ক্ষমা করে দেন, তবে তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করতে থাকো, যাকাত আদায় করতে থাকো এবং (সর্বকাজে সর্ববিষয়ে) আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করতে থাকো; তোমরা যা করছো আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই সে সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকেফহাল রয়েছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১৪﴿
﴾ ৫৮:১৪ ﴿
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ تَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مَا هُمْ مِنْكُمْ وَلَا مِنْهُمْ وَيَحْلِفُونَ عَلَى الْكَذِبِ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿١٤﴾
(হে নবী, ) তুমি কি সে সম্প্রদায়ের অবস্থা কখনো লক্ষ্য করোনি, যারা এমন জাতির সাথে বন্ধুত্ব পাতায় যাদের উপর আল্লাহ তা'আলা অভিশাপ দিয়েছেন; এ (সুযোগসন্ধানী) লোকেরা যেমন তোমাদের আপন নয়, (তেমনি) তারাও ওদের আপন নয়, এরা জেনে শুনে আল্লাহর উপর মিথ্যা শপথ করে । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১৫﴿
﴾ ৫৮:১৫ ﴿
أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٥﴾
আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে (জাহান্নামের) কঠোর আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন; তারা যে কাজ করছে তা সত্যিই এক (জঘন্য) অপরাধের কাজ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১৬﴿
﴾ ৫৮:১৬ ﴿
اتَّخَذُوا أَيْمَانَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَلَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ ﴿١٦﴾
তারা তাদের (মিথ্যা) শপথগুলোকে (নিজেদের স্বার্থ রক্ষায়) ঢাল বানিয়ে নিতো, অতঃপর তারা মানুষদের আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতো, অতএব তাদের জন্যে (রয়েছে) এক লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১৭﴿
﴾ ৫৮:১৭ ﴿
لَنْ تُغْنِيَ عَنْهُمْ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿١٧﴾
আল্লাহ তাআলা র (শাস্তির) কাছ থেকে (তাদের বাঁচানোর জন্যে) সেদিন তাদের ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি কোনোটাই কোনো কাজে আসবে না; তারা তো দোযখেরই বাসিন্দা, সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১৮﴿
﴾ ৫৮:১৮ ﴿
يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ جَمِيعًا فَيَحْلِفُونَ لَهُ كَمَا يَحْلِفُونَ لَكُمْ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ عَلَى شَيْءٍ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْكَاذِبُونَ ﴿١٨﴾
যেদিন আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে পুনরুজ্জীবিত করবেন (আশ্চর্য! সেদিনও) তারা তাঁর সামনে (এ মিথ্যা) শপথ (করে দায়িত্বমুক্তির চেষ্টা) করবে, যেমনি করে তারা (আজ স্বার্থসিদ্ধির জন্যে) তোমাদের সাথে মিথ্যা শপথ করছে, তারা ভাববে, (দুনিয়ার মতো সেখানেও বুঝি এর মাধ্যমে) কিছু উপকার পাওয়া যাবে; (হে রসূল, ) তুমি (এদের থেকে) সাবধান থেকো, এরা কিন্তু মিথ্যাচারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:১৯﴿
﴾ ৫৮:১৯ ﴿
اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَأَنْسَاهُمْ ذِكْرَ اللَّهِ أُولَئِكَ حِزْبُ الشَّيْطَانِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿١٩﴾
(আসলে) শয়তান এদের উপর পুরোপুরি প্রভাব বিস্তার করে নিয়েছে, শয়তান এদের আল্লাহর স্মরণ (সম্পূর্ণ) ভুলিয়ে দিয়েছে। এরা হচ্ছে শয়তানের দল; (হে রসূল, ) তুমি জেনে রাখো, শয়তানের দলের ধ্বংস অনিবার্য। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:২০﴿
﴾ ৫৮:২০ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ يُحَادُّونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ فِي الْأَذَلِّينَ ﴿٢٠﴾
যারা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা অবশ্যই সেদিন চরম লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:২১﴿
﴾ ৫৮:২১ ﴿
كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ ﴿٢١﴾
আল্লাহ তাআলা তো (এ) সিদ্ধান্ত (জানিয়েই) দিয়েছেন যে, আমি এবং আমার রসূল অবশ্যই জয়ী হবো, ' নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা শক্তিমান ও পরাক্রমশালী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৫৮:২২﴿
﴾ ৫৮:২২ ﴿
لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿٢٢﴾
(হে রসূল, ) আল্লাহ তা'আলা ও পরকালের উপর ঈমান এনেছে এমন কোনো সম্প্রদায়কে তুমি কখনো পাবে না যে, তারা এমন লোকদের ভালোবাসে যারা আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, যদি সে (আল্লাহবিরোধী) লোকেরা তাদের পিতা, ছেলে, ভাই কিংবা নিজেদের জাতি গোত্রের লোকও হয় (তবুও নয়) ; এ (আপসহীন) ব্যক্তিরাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের অন্তরে আল্লাহ তা'আলা ঈমান (এর ফয়সালা) এঁকে দিয়েছেন এবং নিজস্ব গায়বী মদদ দিয়ে তিনি (এ দুনিয়ায়) তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছেন; কেয়ামতের দিন তিনি তাদের এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে; (সর্বোপরি) আল্লাহ তাআলা তাদের উপর প্রসন্ন হবেন এবং তারাও (সেদিন) তাঁর উপর সন্তুষ্ট হবে; এরাই হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার নিজস্ব বাহিনী, আর হ্যাঁ, আল্লাহর বাহিনীই (শেষতক) কামিয়াব হয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]