🕋
الأنعام
(৬) আল-আন'আম
১৬৫
﴾৬:১﴿
﴾ ৬:১ ﴿
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ ﴿١﴾
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্যে, যিনি আকাশমালা ও ভূমন্ডল পয়দা করেছেন। তিনি অন্ধকারসমূহ ও আলো সৃষ্টি করেছেন; অতপর যারা আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করে, তারা (প্রকারান্তুরে এর দ্বারা অন্য কিছুকেই) তাদের মালিকের সমকক্ষ হিসেবে দাঁড় করায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২﴿
﴾ ৬:২ ﴿
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ طِينٍ ثُمَّ قَضَى أَجَلًا وَأَجَلٌ مُسَمًّى عِنْدَهُ ثُمَّ أَنْتُمْ تَمْتَرُونَ ﴿٢﴾
তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনি (প্রত্যেকের জন্যে বাঁচার একটি) মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, (তেমনি তাদের মৃত্যুর জন্যেও) তাঁর কাছে একটি সুনির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে, তারপরও তোমরা সন্দেহে লিপ্ত আছো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩﴿
﴾ ৬:৩ ﴿
وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهْرَكُمْ وَيَعْلَمُ مَا تَكْسِبُونَ ﴿٣﴾
আসমানসমূহের এবং যমীনের (সর্বত্র) তিনিই তো হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ; তিনি (যেমনি) তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়সমূহ জানেন, (তেমনি) তিনি জানেন তোমরা কে (পাপ-পুণ্যের) কতোটুকু উপার্জন করছো তাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪﴿
﴾ ৬:৪ ﴿
وَمَا تَأْتِيهِمْ مِنْ آيَةٍ مِنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ ﴿٤﴾
তাদের মালিকের নিদর্শনসমূহের মধ্যে এমন একটি নিদর্শনও নেই, যা তাদের কাছে আসার পর তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫﴿
﴾ ৬:৫ ﴿
فَقَدْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ فَسَوْفَ يَأْتِيهِمْ أَنْبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٥﴾
তাদের কাছে যতোবারই (আমার পক্ষ থেকে) সত্য (দ্বীন) এসেছে; ততোবারই তারা তা অস্বীকার করেছে; অচিরেই তাদের কাছে সে খবরগুলো এসে হাযির হবে যা নিয়ে তারা হাসি-তামাশা করছিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬﴿
﴾ ৬:৬ ﴿
أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ قَرْنٍ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ مَا لَمْ نُمَكِّنْ لَكُمْ وَأَرْسَلْنَا السَّمَاءَ عَلَيْهِمْ مِدْرَارًا وَجَعَلْنَا الْأَنْهَارَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمْ فَأَهْلَكْنَاهُمْ بِذُنُوبِهِمْ وَأَنْشَأْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ قَرْنًا آخَرِينَ ﴿٦﴾
তারা কি দেখেনি, তাদের আগে আমি এমন বহু জাতিকে বিনাশ করে দিয়েছি যাদের আমি পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা দান করেছিলাম, যা তোমাদেরও করিনি। আকাশ থেকে তাদের উপর আমি প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছি, আবার তাদের (মাটির) নীচ থেকে আমি ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করে দিয়েছি, অতপর পাপের কারণে আমি তাদের (চিরতরে) ধ্বংস করে দিয়েছি, আর তাদের পর (তাদের জায়গায় আবার) আমি এক নতুন জাতির উত্থান ঘটিয়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭﴿
﴾ ৬:৭ ﴿
وَلَوْ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ كِتَابًا فِي قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوهُ بِأَيْدِيهِمْ لَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُبِينٌ ﴿٧﴾
(হে নবী, ) আমি যদি তোমার কাছে কাগজে লেখা কোনো কিতাব নাযিল করতাম এবং তারা যদি তাদের হাত দিয়ে তা ষ্পর্শও করতো, তাহলেও কাফেররা বলতো, এটা তো সস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮﴿
﴾ ৬:৮ ﴿
وَقَالُوا لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ وَلَوْ أَنْزَلْنَا مَلَكًا لَقُضِيَ الْأَمْرُ ثُمَّ لَا يُنْظَرُونَ ﴿٨﴾
তারা বলে, এ (নবী) -র প্রতি কোনো ফেরেশতা নাযিল করা হলো না কেন (যে তার সত্যতা সম্পর্কে আমাদের বলে দিতো) ? যদি সত্যিই আমি কোনো ফেরেশতা পাঠিয়ে দিতাম তাহলে (তাদের) ফয়সালা (তো তখনি) হয়ে যেতো, এরপর তো আর কোনো অবকাশই তাদের দেয়া হতো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯﴿
﴾ ৬:৯ ﴿
وَلَوْ جَعَلْنَاهُ مَلَكًا لَجَعَلْنَاهُ رَجُلًا وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِمْ مَا يَلْبِسُونَ ﴿٩﴾
(তা ছাড়া) আমি যদি (সত্যিই) ফেরেশতা পাঠাতাম, তাকেও তো মানুষের আকৃতিতেই পাঠাতাম, তখনও তো তারা এমনিভাবে আজকের মতো সন্দেহেই নিমজ্জিত থাকতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০﴿
﴾ ৬:১০ ﴿
وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿١٠﴾
(হে রসূল, ) তোমার আগেও বহু নবী-রসূলকে এভাবে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা হয়েছিলো, (অনন্তুর) তাদের মধ্যে যারা নবীর সাথে যে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করেছে তাই (তাদের আযাবের আকারে) পরিবেষ্টন করে ফেলেছে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১﴿
﴾ ৬:১১ ﴿
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ ثُمَّ انْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ ﴿١١﴾
(হে নবী, ) তুমি তাদের বলো, তোমরা এ পৃথিবীতে ঘুরে-ফিরে দেখো, দেখো যারা (নবী-রসূলদের) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের কী (ভয়াবহ) পরিণাম হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২﴿
﴾ ৬:১২ ﴿
قُلْ لِمَنْ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلْ لِلَّهِ كَتَبَ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٢﴾
(হে নবী!) তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, আসমানসমূহ ও যমীনে যা আছে তা সব কার? তুমি বলো, (এর সবকিছুই) আল্লাহ তা’আলার জন্যে; (মানুষদের উপর) দয়া করাটা তিনি তাঁর নিজের উপর (কর্তব্য বলে) স্থির করে নিয়েছেন। কেয়ামতের দিন তিনি তোমাদের অবশ্যই জড়ো করবেন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই; (সত্য অস্বীকার করে) যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে, তারা (এমন একটি দিনের আগমনকে কখনো) বিশ্বাস করে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩﴿
﴾ ৬:১৩ ﴿
وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٣﴾
রাত ও দিনের মাঝে যা কিছু স্থিতি লাভ করছে তার সব কিছুই তাঁর জন্যে; তিনি (এদের সবার কথা) শোনেন এবং (সবার অবস্থা) দেখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪﴿
﴾ ৬:১৪ ﴿
قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّا فَاطِرِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُ قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَسْلَمَ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿١٤﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, আমি কিভাবে আসমানসমূহ ও যমীনের মালিক আল্লাহ তা’আলাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিজের পৃষ্ঠপোষক বানিয়ে নেবো, অথচ তিনিই (সৃষ্টিলোকের সবাইকে) আহার যোগান, তাঁকে কোনো রকমের আহার যোগানো যায় না; (তুমি) বলো, আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন সবার আগে আমি মুসলমান হয়ে যাই এবং (আমাকে এই মর্মে আরো) আদেশ দেয়া হয়েছে, ‘তুমি কখনো মুশরিকদের দলে শামিল হয়ো না।’
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫﴿
﴾ ৬:১৫ ﴿
قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿١٥﴾
(তুমি আরো) বলো, আমি যদি আমার মালিকের কথা না শুনি, তাহলে আমি এক মহাদিবসের আযাব (আমার উপর আপতিত হওয়ার) ভয় করি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৬﴿
﴾ ৬:১৬ ﴿
مَنْ يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ ﴿١٦﴾
সে (কেয়ামতের) দিন যাকে তা (শাস্তি) থেকে রেহাই দেয়া হবে, তার উপর (নিসন্দেহে) আল্লাহ তা’আলা অনুগ্রহ করবেন, আর এটিই (হবে সেদিনের) সস্পষ্ট সাফল্য।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৭﴿
﴾ ৬:১৭ ﴿
وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٧﴾
(জেনে রেখো, ) যদি আল্লাহ তা’আলা তোমাকে কোনো দুঃখ পৌঁছাতে চান তাহলে তিনি ছাড়া আর কেউই (তোমার থেকে) তা দূর করতে পারবে না; অপরদিকে তিনি যদি তোমার কোনো উপকার করেন তাহলে (কেউ তাতে বাধাও দিতে পারে না, ) তিনি সব কিছুর উপর একক ক্ষমতাবান!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৮﴿
﴾ ৬:১৮ ﴿
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ ﴿١٨﴾
তিনি তাঁর বান্দাদের উপর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী; তিনি মহাজ্ঞানী, তিনি সম্যক ওয়াকেফহাল।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৯﴿
﴾ ৬:১৯ ﴿
قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ أَئِنَّكُمْ لَتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللَّهِ آلِهَةً أُخْرَى قُلْ لَا أَشْهَدُ قُلْ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنَّنِي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ ﴿١٩﴾
তুমি (তাদের) বলো, সাক্ষী হিসেবে কার সাক্ষ্য সবচেয়ে বেশী বড়ো? তুমি বলো, (হাঁ) একমাত্র আল্লাহ তা’আলার, যিনি তোমাদের এবং আমার মাঝে (সর্বোত্তম) সাক্ষী হয়ে থাকবেন। এ কোরআন (তাঁর কাছ থেকেই) আমার কাছে নাযিল করা হয়েছে, যেন তা দিয়ে তোমাদের এবং (তোমাদের পর) যাদের কাছে এ গ্রন্থ পৌঁছবে (তাদের সকলকে) আমি (আযাবের) ভয় দেখাই; তোমরা কি (সত্যিই) একথার সাক্ষ্য দিতে পারবে যে, আল্লাহর সাথে আরো কোনো ইলাহ রয়েছে ? (হে নবী, ) তুমি (তাদের) জানিয়ে দাও, আমি (জেনে-বুঝে) কখনো এ ধরনের (মিথ্যা) সাক্ষ্য দিতে পারবো না, তুমি বলো, তিনি তো একক, তোমরা (আল্লাহ তা’আলার সাথে) যে শেরেক করে যাচ্ছো, তার থেকে আমি সম্পূ মুক্ত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২০﴿
﴾ ৬:২০ ﴿
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمُ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٢٠﴾
(তোমার আগে) যাদের আমি কিতাব দান করেছি তারা নবীকে ঠিক সেভাবেই চেনে, যেভাবে চেনে তারা তাদের আপন ছেলেদের, কিন্তুু যারা নিজেরা নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে তারা তো (কখনো) ঈমান আনবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২১﴿
﴾ ৬:২১ ﴿
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ ﴿٢١﴾
তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে আছে, যে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে কোনো মিথ্যা কথা রচনা করে কিংবা তাঁর কোনো আয়াতকে অস্বীকার করে, এ (ধরনের) যালেমরা কখনো সাফল্য লাভ করতে পারবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২২﴿
﴾ ৬:২২ ﴿
وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا أَيْنَ شُرَكَاؤُكُمُ الَّذِينَ كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ ﴿٢٢﴾
একদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করবো, অতপর মুশরিকদের আমি বলবো, তারা সবাই আজ কোথায় যাদের তোমরা (দুনিয়ার জীবনে) আমার সাথে শরীক মনে করতে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২৩﴿
﴾ ৬:২৩ ﴿
ثُمَّ لَمْ تَكُنْ فِتْنَتُهُمْ إِلَّا أَنْ قَالُوا وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ ﴿٢٣﴾
অতপর তাদের (সেদিন) একথা (বলা) ছাড়া কোনো যুক্তিই থাকবে না যে, আল্লাহ তা’আলার কসম, যিনি আমাদের মালিক, আমরা কখনো মুশরিক ছিলাম না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২৪﴿
﴾ ৬:২৪ ﴿
انْظُرْ كَيْفَ كَذَبُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ ﴿٢٤﴾
(হে নবী, ) তুমি চেয়ে দেখো, কিভাবে (আজ) লোকগুলো (আযাব থেকে বাঁচার জন্যে) নিজেরাই নিজেদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং (এও দেখো, ) তাদের নিজেদের রচনা করা মিথ্যা (কিভাবে আজ) নিষ্ফল হয়ে যাচ্ছে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২৫﴿
﴾ ৬:২৫ ﴿
وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ وَجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا حَتَّى إِذَا جَاءُوكَ يُجَادِلُونَكَ يَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ ﴿٢٥﴾
তাদের মধ্যে এমন কিছু লোকও আছে যে (বায্যিক দৃষ্টিতে মনে হয়) তোমার কথা সে কান দিয়ে শুনছে, (কিন্তুু আসলে) আমি তাদের মনের উপর পর্দা ঢেলে দিয়েছি, যার কারণে তারা কিছুই উপলব্ধি করতে পারে না, আমি তাদের কানেও ছিপি এঁটে দিয়েছি; (মূলত) তারা যদি (আল্লাহর) সব নিদর্শন দেখেও নেয়, তবু তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে না; এমনকি তারা যখন তোমার সামনে আসবে তখন তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে, (কোরআনের আয়াত সম্পর্কে) কাফেররা বলবে, এতো পুরনো দিনের গল্পকথা ছাড়া আর কিছুই নয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২৬﴿
﴾ ৬:২৬ ﴿
وَهُمْ يَنْهَوْنَ عَنْهُ وَيَنْأَوْنَ عَنْهُ وَإِنْ يُهْلِكُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ ﴿٢٦﴾
তারা (যেমন) নিজেদের তা (শোনা) থেকে বিরত রাখে, (তেমনি) অন্যদেরও তা থেকে দূরে রাখে, (মূলত এ আচরণে) তারা নিজেদেরই ধ্বংস সাধন করছে, অথচ তারা কোনো খবরই রাখে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২৭﴿
﴾ ৬:২৭ ﴿
وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يَا لَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٢٧﴾
তুমি যদি (সত্যিই তাদের) দেখতে পেতে যখন এই (হতভাগ্য) ব্যক্তিদের (জ্বলন্তু) আগুনের পাশে এনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা (চীৎকার করে) বলবে, হায়! যদি আমাদের আবার (দুনিয়ায়) ফেরত পাঠানো হতো, তাহলে আমরা (আর কখনো) আমাদের মালিকের আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম না এবং আমরা (অবশ্যই) ঈমানদার লোকদের দলে শামিল হয়ে যেতাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২৮﴿
﴾ ৬:২৮ ﴿
بَلْ بَدَا لَهُمْ مَا كَانُوا يُخْفُونَ مِنْ قَبْلُ وَلَوْ رُدُّوا لَعَادُوا لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ ﴿٢٨﴾
এর আগে যা কিছু তারা গোপন করে আসছিলো (আজ) তা তাদের সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেলো; (আসলে) যদি তাদের আবার দুনিয়ায় ফেরত পাঠানোও হয়, তবু তারা তাই করে বেড়াবে যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিলো, তারা (আসলেই) মিথ্যাবাদী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:২৯﴿
﴾ ৬:২৯ ﴿
وَقَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ ﴿٢٩﴾
(এ) লোকগুলো আরও বলে, আমাদের এ পার্থিব জীবনই হচ্ছে একমাত্র জীবন, আমরা কখনোই পুনর্জীবিত হবো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩০﴿
﴾ ৬:৩০ ﴿
وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى رَبِّهِمْ قَالَ أَلَيْسَ هَذَا بِالْحَقِّ قَالُوا بَلَى وَرَبِّنَا قَالَ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ ﴿٣٠﴾
হায়! তুমি যদি সত্যিই (সে দৃশ্য) দেখতে পেতে যখন তাদেরকে তাদের মালিকের সামনে দাঁড় করানো হবে এবং তিনি তাদের জিজ্ঞেস করবেন (আজ বলো) , এ দিনটি কি সত্য নয়? তারা বলবে, হাঁ, আমাদের মালিকের শপথ (এটা সত্য) ; তিনি বলবেন, তাহলে (আজ) সে (কঠিন) আযাব ভোগ করো, যাকে তোমরা সব সময় অবিশ্বাস করতে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩১﴿
﴾ ৬:৩১ ﴿
قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوا يَا حَسْرَتَنَا عَلَى مَا فَرَّطْنَا فِيهَا وَهُمْ يَحْمِلُونَ أَوْزَارَهُمْ عَلَى ظُهُورِهِمْ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ ﴿٣١﴾
অবশ্যই তারা (ভীষণভাবে) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, যারা আল্লাহর সামনা সামনি হওয়াকে মিথ্যা বলেছে; আর একদিন যখন (সত্যি সত্যিই) কেয়ামতের ঘন্টা হঠাৎ করে তাদের সামনে এসে হাযির হবে, তখন তারা বলবে, হায় আফসোস, (দুনিয়ায়) এ দিনটিকে আমরা কতোই না অবহেলা করেছি, সেদিন তারা নিজেদের পাপের বোঝা নিজেদের পিঠেই বয়ে বেড়াবে; কতো (ভারী ও) নিকৃষ্ট বোঝা হবে সেটি!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩২﴿
﴾ ৬:৩২ ﴿
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَلَلدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٣٢﴾
আর (এ) বৈষয়িক জীবন, এ তো নিছক কিছু খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়; (মূলত) পরকালের বাড়িঘরই তাদের জন্যে উৎকৃষ্ট যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে; তোমরা কি (মোটেই) অনুধাবন করো না?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩৩﴿
﴾ ৬:৩৩ ﴿
قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ ﴿٣٣﴾
(হে রসূল, ) আমি জানি, এ লোকগুলো যেসব কথাবার্তা বলে, তা তোমাকে (বড়োই) পীড়া দেয়, কিন্তু তুমি কি জানো, এরা (এসব বলে শুধু) তোমাকেই মিথ্যা সাব্যস্ত করছে না; বরং এ যালেমরা (এর মাধ্যমে) আল্লাহ তা’আলার আয়াতকেই অস্বীকার করছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩৪﴿
﴾ ৬:৩৪ ﴿
وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ وَلَقَدْ جَاءَكَ مِنْ نَبَإِ الْمُرْسَلِينَ ﴿٣٤﴾
তোমার আগেও (এভাবে) বহু (নবী) -রসূলকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হয়েছিলো, কিন্তুু তাদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা ও (নানা রকম) নির্যাতন চালাবার পরও তারা (কঠোর) ধৈর্য ধারণ করেছে, শেষ পর্যন্তু তাদের কাছে আমার (পক্ষ থেকে) সাহায্য এসে হাযির হয়েছে। আসলে আল্লাহর কথার রদবদলকারী কেউ নেই, তদুপরি নবীদের (এ সব) সংবাদ তো তোমার কাছে (আগেই) এসে পোঁছেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩৫﴿
﴾ ৬:৩৫ ﴿
وَإِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكَ إِعْرَاضُهُمْ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَبْتَغِيَ نَفَقًا فِي الْأَرْضِ أَوْ سُلَّمًا فِي السَّمَاءِ فَتَأْتِيَهُمْ بِآيَةٍ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَمَعَهُمْ عَلَى الْهُدَى فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْجَاهِلِينَ ﴿٣٥﴾
(তারপরও) যদি তাদের এ উপেক্ষা তোমার কাছে কষ্টকর মনে হয়, তাহলে তোমার সাধ্য থাকলে তুমি (পালানোর জন্যে) ভূগর্ভে কোনো সুড়ংগ কিংবা আসমানে সিঁড়ি তালাশ করো, (পারলে ‘সেখানে চলে যাও) এবং (সেখান থেকে) তাদের জন্যে কোনো কিছু একটা নিদর্শন নিয়ে এসো; (আসলে) আল্লাহ তা’আলা যদি চাইতেন, তিনি তাদের সবাইকে হেদায়াতের উপর জড়ো করে দিতে পারতেন, তুমি কখনো মূর্খ লোকদের দলে শামিল হয়ো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩৬﴿
﴾ ৬:৩৬ ﴿
إِنَّمَا يَسْتَجِيبُ الَّذِينَ يَسْمَعُونَ وَالْمَوْتَى يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ ثُمَّ إِلَيْهِ يُرْجَعُونَ ﴿٣٦﴾
যারা (এ কথাগুলো যথাযথভাবে) শোনে, তারা অবশ্যই (আল্লাহর) ডাকে সাড়া দেয় এবং যারা মরে গেছে আল্লাহ তা’আলা এদের সবাইকেও কবর থেকে উঠিয়ে (জড়ো করে) নেবেন, অতপর (মহা বিচারের জন্যে) তারা সবাই তাঁর সামনে প্রত্যাবর্তিত হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩৭﴿
﴾ ৬:৩৭ ﴿
وَقَالُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّ اللَّهَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنَزِّلَ آيَةً وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٣٧﴾
এরা বলে, (নবীর) উপর তার মালিকের পক্ষ থেকে (আমাদের কথামতো) কোনো নিদর্শন নাযিল করা হয়নি কেন? (হে রসূল, ) তুমি তাদের বলো, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা (সব ধরনের) নিদর্শন পাঠানোর ক্ষমতা রাখেন, কিন্তু এদের অধিকাংশ লোকই তো কিছু জানে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩৮﴿
﴾ ৬:৩৮ ﴿
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ ﴿٣٨﴾
যমীনের বুকে বিচরণশীল যে কোনো জন্তু কিংবা বাতাসের বুকে নিজ ডানা দুটি দিয়ে উড়ে চলা যে কোনো পাখীই (তোমরা দেখো না কেন) এগুলো সবই তোমাদের মতো (আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টি) ; আমি (আমার) গ্রন্থে বর্ণনা বিশ্লেষণে কোনো কিছুই বাকী রাখিনি, অতপর এদের সবাইকে (একদিন) তাদের মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৩৯﴿
﴾ ৬:৩৯ ﴿
وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا صُمٌّ وَبُكْمٌ فِي الظُّلُمَاتِ مَنْ يَشَأِ اللَّهُ يُضْلِلْهُ وَمَنْ يَشَأْ يَجْعَلْهُ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٣٩﴾
যারা আমার আয়াতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে, তারা (হেদায়াতের ব্যাপারে) বধির ও মূক, তারা অন্ধকারে পড়ে আছে; আল্লাহ তা’আলা যাকে চান তাকে গোমরাহ করে দেন; আবার যাকে চান তাকে সঠিক পথের উপর স্থাপন করেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪০﴿
﴾ ৬:৪০ ﴿
قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ أَوْ أَتَتْكُمُ السَّاعَةُ أَغَيْرَ اللَّهِ تَدْعُونَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٤٠﴾
তুমি বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছো, যখন তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে (বড়ো ধরনের) কোনো আযাব আসবে, কিংবা হঠাৎ করে কেয়ামত এসে হাযির হবে, তখন তোমরা কি আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর কাউকে ডাকবে? (বলো) যদি তোমরা সত্যবাদী হও!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪১﴿
﴾ ৬:৪১ ﴿
بَلْ إِيَّاهُ تَدْعُونَ فَيَكْشِفُ مَا تَدْعُونَ إِلَيْهِ إِنْ شَاءَ وَتَنْسَوْنَ مَا تُشْرِكُونَ ﴿٤١﴾
বরং তোমরা (তো সেদিন) শুধু তাঁকেই ডাকবে, তোমরা যে জন্যে তাঁকে ডাকবে তিনি চাইলে তা দূর করে দেবেন (এবং) যাদের তোমরা আল্লাহ তা’আলার সাথে অংশীদার বানাতে, তাদের সবাইকেই (তখন) তোমরা ভুলে যাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪২﴿
﴾ ৬:৪২ ﴿
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِنْ قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُمْ بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ ﴿٤٢﴾
তোমার আগের জাতিসমূহের কাছেও আমি আমার রসূল পাঠিয়েছিলাম, তাদেরও আমি দুঃখ-কষ্ট ও বিপর্যয়ে (-র জালে) আটকে রেখেছিলাম, যাতে করে তারা বিনয়ের সাথে নতিস্বীকার করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪৩﴿
﴾ ৬:৪৩ ﴿
فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا وَلَكِنْ قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٤٣﴾
কিন্তু সত্যিই যখন তাদের উপর আমার বিপর্যয় এসে আপতিত হলো, তখনও তারা কেন বিনীত হলো না, অধিকন্তুু তাদের অন্তুর এতে আরো শক্ত হয়ে গেলো এবং তারা যা করে যাচ্ছিলো, শয়তান তাদের কাছে তা শোভনীয় করে তুলে ধরলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪৪﴿
﴾ ৬:৪৪ ﴿
فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ ﴿٤٤﴾
অতপর তারা সে সব কিছুই ভুলে গেলো, যা তাদের (বার বার) স্মরণ করানো হয়েছিলো; তারপরও আমি তাদের উপর (সচ্ছলতার) সব কয়টি দুয়ারই খুলে দিলাম; শেষ পর্যন্তু যখন তারা তাতেই মত্ত হয়ে গেলো যা তাদের দেয়া হয়েছিলো, তখন আমি তাদের হঠাৎ পাকড়াও করে নিলাম, ফলে তারা নিরাশ হয়ে পড়লো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪৫﴿
﴾ ৬:৪৫ ﴿
فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٤٥﴾
(এভাবেই) যারাই (আল্লাহ তা’আলার ব্যাপারে) যুলুম করেছে, তাদেরই মূলোচ্ছেদ করে দেয়া হয়েছে; আর সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্যেই, যিনি সৃষ্টিকুলের মালিক।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪৬﴿
﴾ ৬:৪৬ ﴿
قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخَذَ اللَّهُ سَمْعَكُمْ وَأَبْصَارَكُمْ وَخَتَمَ عَلَى قُلُوبِكُمْ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِهِ انْظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ ثُمَّ هُمْ يَصْدِفُونَ ﴿٤٦﴾
(হে রসূল, তাদের) তুমি বলো, তোমরা কি একথা ভেবে দেখেছো, যদি আল্লাহ তা’আলা কখনো তোমাদের শোনার ও দেখার ক্ষমতা কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তুরসমূহের উপর মোহর মেরে দেন, তবে আল্লাহ তা’আলা ছাড়া তোমাদের দ্বিতীয় কোনো ইলাহ আছে কি, যে তোমাদের এসব কিছু ফিরিয়ে দিতে পারবে; লক্ষ্য করো, কিভাবে আমার আয়াতসমূহ আমি খুলে খুলে বর্ণনা করছি, এ সত্ত্বেও অতপর তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪৭﴿
﴾ ৬:৪৭ ﴿
قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ بَغْتَةً أَوْ جَهْرَةً هَلْ يُهْلَكُ إِلَّا الْقَوْمُ الظَّالِمُونَ ﴿٤٧﴾
তুমি বলো, তোমরা চিন্তুা করে দেখেছো কি, যদি কখনো অকস্মাৎ (গোপনে) কিংবা প্রকাশ্যভাবে আল্লাহর আযাব তোমাদের উপর আপতিত হয়, (তাতে) কতিপয় যালেম সম্প্রদায়ের লোক ব্যতীত অন্য কাউকে ধ্বংস করা হবে কি?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪৮﴿
﴾ ৬:৪৮ ﴿
وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٤٨﴾
আমি তো রসূলদের (জান্নাতের) সুসংবাদবাহী ও (জাহান্নামের) সতর্ককারী ছাড়া অন্য কোনো হিসেবে পাঠাই না, অতপর যে ব্যক্তি (রসূলদের উপর) ঈমান আনবে এবং (তাদের কথা মতো) নিজেকে সংশোধন করে নেবে, এমন লোকদের (পরকালে) কোনো ভয় নেই এবং তাদের (সেদিন) কোনোরকম চিন্তিুতও হতে হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৪৯﴿
﴾ ৬:৪৯ ﴿
وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا يَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ ﴿٤٩﴾
(অপরদিকে) যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তাদের এই নাফরমানীর কারণে আমার আযাব তাদের ঘিরে ধরবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫০﴿
﴾ ৬:৫০ ﴿
قُلْ لَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ ﴿٥٠﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি বলো, আমি তো তোমাদের (একথা) বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহ তা’আলার বিপুল ধনভান্ডার রয়েছে, না (একথা বলি যে, ) আমি গায়বের কোনো খবর রাখি! আর একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা, (আসলে) আমি তো সেই ওহীরই অনুসরণ করি যা আমার উপর নাযিল করা হয়, তুমি বলো, অন্ধ আর চক্ষুষ্মান ব্যক্তি কি (কখনো) এক হতে পারে? তোমরা কি মোটেই চিন্তুাভাবনা করো না?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫১﴿
﴾ ৬:৫১ ﴿
وَأَنْذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْ يُحْشَرُوا إِلَى رَبِّهِمْ لَيْسَ لَهُمْ مِنْ دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ﴿٥١﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি সে (কিতাবের) মাধ্যমে সেসব লোককে পরকালের (আযাবের) ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যারা এ ভয় করে যে, তাদেরকে (একদিন) তাদের মালিকের সামনে একত্র করা হবে, (সেদিন) তাদের জন্যে তিনি ছাড়া কোনো সাহায্যকারী বন্ধু কিংবা কোনো সুপারিশকারী থাকবে না, আশা করা যায় (এতে করে) তারা সাবধান হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫২﴿
﴾ ৬:৫২ ﴿
وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِنْ شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿٥٢﴾
যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের মালিককেই ডাকে, তাঁরই সন্তুুষ্টি কামনা করে, তাদের তুমি (কখনো তোমার কাছ থেকে) সরিয়ে দিয়ো না, (কারণ) তাদের কাজকর্মের (জবাবদিহিতার) দায়িত্ব (যেমন) তোমার উপর কিছুই নেই, (তেমনি) তোমার কাজকর্মের হিসাব-কিতাবের কোনো রকম দায়িত্বও তাদের উপর নেই, (তারপরও) যদি তুমি তাদের তোমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দাও, তাহলে তুমিও বাড়াবাড়ি করা লোকদের দলে শামিল হয়ে যাবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫৩﴿
﴾ ৬:৫৩ ﴿
وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لِيَقُولُوا أَهَؤُلَاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِنَا أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ ﴿٥٣﴾
আর আমি এভাবেই তাদের একদল দ্বারা অন্য দলের পরীক্ষা নিয়েছি, যেন তারা (একদল) একথা বলতে পারে যে, এরাই কি হচ্ছে আমাদের মাঝে সে দলের লোক, যাদের উপর আল্লাহ তা’আলা তাঁর অনুগ্রহ করেছেন; আল্লাহ তা’আলা কি (তাঁর) কৃতজ্ঞ বান্দাহদের ভালো করে জানেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫৪﴿
﴾ ৬:৫৪ ﴿
وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِنَا فَقُلْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٥٤﴾
যারা আমার আয়াতসমূহের উপর ঈমান এনেছে তারা যখন তোমার কাছে আসবে, তখন তুমি তাদের বলো, (আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে তোমাদের উপর) শান্তিু বর্ষিত হোক তোমাদের উপর অনুগ্রহ করাটা তোমাদের মালিক নিজের কর্তব্য বলে স্থির করে নিয়েছেন; তবে তোমাদের মধ্যে যদি কেউ কখনো অজ্ঞতাবশত কোনো অন্যায় কাজ করে বসে এবং পরক্ষণেই তাওবা করে ও (নিজের জীবন) শুধরে নেয়, তাহলে আল্লাহ তা’আলা (তাকে ক্ষমা করে দেবেন, তিনি) একান্তু ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫৫﴿
﴾ ৬:৫৫ ﴿
وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ ﴿٥٥﴾
আর এভাবেই আমি আমার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫৬﴿
﴾ ৬:৫৬ ﴿
قُلْ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ قُلْ لَا أَتَّبِعُ أَهْوَاءَكُمْ قَدْ ضَلَلْتُ إِذًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُهْتَدِينَ ﴿٥٦﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি (তাদের) বলে দাও, (এক) আল্লাহ তা’আলাকে বাদ দিয়ে তোমরা আর যাদের গোলামী করছো, আমাকে তাদের গোলামী করতে নিষেধ করা হয়েছে; তুমি (তাদের এও) বলে দাও, আমি কখনো তোমাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করি না, (তেমনটি করলে) আমি নিসন্দেহে গোমরাহ হয়ে যাবো এবং আমি আর সত্যের অনুসরণকারী দলের সাথে থাকবো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫৭﴿
﴾ ৬:৫৭ ﴿
قُلْ إِنِّي عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَكَذَّبْتُمْ بِهِ مَا عِنْدِي مَا تَسْتَعْجِلُونَ بِهِ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ يَقُصُّ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِينَ ﴿٥٧﴾
তুমি বলো, আমি অবশ্যই আমার মালিকের এক উজ্জ্বল দলীল-প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি এবং তাই তোমরা অস্বীকার করছো; (এ অস্বীকার করার পরিণাম) যা তোমরা দ্রুত (দেখতে) চাও তা (ঘটানোর ক্ষমতা) আমার কাছে নেই! (সব কিছুর) চুড়ান্তু ক্ষমতা তো কেবলমাত্র আল্লাহ তা’আলার হাতেই রয়েছে; (আর এ মহা) সত্যটিই তিনি (তোমাদের কাছে) বর্ণনা করছেন, তিনিই হচ্ছেন উত্তম ফয়সালাকারী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫৮﴿
﴾ ৬:৫৮ ﴿
قُلْ لَوْ أَنَّ عِنْدِي مَا تَسْتَعْجِلُونَ بِهِ لَقُضِيَ الْأَمْرُ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالظَّالِمِينَ ﴿٥٨﴾
তুমি বলো, (আযাবের) যে বিষয়টার জন্যে তোমরা তাড়াহুড়ো করছো, তা (ঘটানো) যদি আমার ক্ষমতার মধ্যে থাকতো, তাহলে তোমাদের ও আমার মধ্যকার ফয়সালা (অনেক আগেই) হয়ে যেতো! যালেমদের (সাথে কি আচরণ করা উচিত তা) আল্লাহ তা’আলা ভালো করেই জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৫৯﴿
﴾ ৬:৫৯ ﴿
وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ ﴿٥٩﴾
গায়বের চাবিগুলো সব তাঁর হাতেই নিবদ্ধ রয়েছে, সে-ই (অদৃশ্য) খবর তো তিনি ছাড়া আর কারোই জানা নেই; জলে-স্থলে (যেখানে) যা কিছু আছে তা শুধু তিনিই জানেন; (এই সৃষ্টিরাজির মধ্যে) একটি পাতা কোথাও ঝরে না যার (খবর) তিনি ছাড়া অন্য কেউই জানে না, মাটির অন্ধকারে একটি শস্যকণাও নেই নেই কোনো তাজা সবুজ, (কিংবা ক্ষয়িষ্ণু) শুকনো (কিছু) , যার (পূর্ণাংগ) বিবরণ একটি সস্পষ্ট গ্রন্থে মজুদ নেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬০﴿
﴾ ৬:৬০ ﴿
وَهُوَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُمْ بِاللَّيْلِ وَيَعْلَمُ مَا جَرَحْتُمْ بِالنَّهَارِ ثُمَّ يَبْعَثُكُمْ فِيهِ لِيُقْضَى أَجَلٌ مُسَمًّى ثُمَّ إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ ثُمَّ يُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٦٠﴾
তিনিই মহান আল্লাহ, যিনি রাতের বেলা তোমাকে মৃত (মানুষের মতো) করে ফেলেন, আবার দিনের বেলায় তোমরা যা কিছু (যমীনের বুকে) করে বেড়াও, তাও তিনি (পুংখানুপুংখ) জানেন, পরিশেষে সেখানে তিনি তোমাদের (মৃতসম অবস্থা থেকে) আবার (জীবনের অবস্থায়) ফিরিয়ে আনেন, যাতে করে তোমাদের নির্র্দিষ্ট সময়কালটি এভাবে পূর্ণতা প্রাপ্ত হতে পারে, (আর এ মেয়াদ পূরণ করার পর) তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন (একদিন) তাঁর দিকেই (সংঘটিত) হবে, অতপর তিনি তোমাদের (পুংখানুপুংখ) বলে দেবেন তোমরা (দুনিয়ায়) কী কাজ করছিলে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬১﴿
﴾ ৬:৬১ ﴿
وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ ﴿٦١﴾
আল্লাহ তা’আলা নিজ বান্দাদের (যাবতীয় বিষয়ের) উপর পূর্ণ মাত্রায় কর্তৃত্বশীল, (এ জন্যেই) তিনি তোমাদের উপর পাহারাদার (ফেরেশতা) নিযুক্ত করেন; এমনকি (দেখতে দেখতে) তোমাদের কারো যখন মৃত্যু এসে হাযির হয়, তখন প্রেরিত ফেরেশ্তারা তার (জীবনের) সমাপ্তি ঘটিয়ে দেয়, (দায়িত্ব পালনে ফেরেস্তারা) কখনো কোনো ভুল করে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬২﴿
﴾ ৬:৬২ ﴿
ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ أَلَا لَهُ الْحُكْمُ وَهُوَ أَسْرَعُ الْحَاسِبِينَ ﴿٦٢﴾
অতপর তাদের সবাইকে বিচারের জন্যে তাদের আসল মালিকের সামনে ফিরিয়ে নেয়া হবে; হুশিয়ার (থেকো, কারণ) , যাবতীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কিন্তুু একা তাঁর এবং ত্বরিৎ হিসাব গ্রহণে তিনি অত্যন্তু তৎপর।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬৩﴿
﴾ ৬:৬৩ ﴿
قُلْ مَنْ يُنَجِّيكُمْ مِنْ ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ تَدْعُونَهُ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً لَئِنْ أَنْجَانَا مِنْ هَذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ ﴿٦٣﴾
তুমি (তাদের) বলো, যখন তোমরা স্থলভূমে ও সমুদ্রের অন্ধকারে (বিপদে) পড়ো, (যখন) তোমরা কাতর কন্ঠে এবং নীরবে তাঁকেই ডাকতে থাকো, তখন (কে) তোমাদের (সেসব থেকে) উদ্ধার করে? (কাকে তোমরা তখন) বলো (হে মালিক) , আমাদের যদি তুমি এ থেকে বাঁচিয়ে দাও, তাহলে আমরা তোমার কৃতজ্ঞ বান্দাদের দলে শামিল হয়ে যাবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬৪﴿
﴾ ৬:৬৪ ﴿
قُلِ اللَّهُ يُنَجِّيكُمْ مِنْهَا وَمِنْ كُلِّ كَرْبٍ ثُمَّ أَنْتُمْ تُشْرِكُونَ ﴿٦٤﴾
তুমি বলে দাও, হাঁ, আল্লাহ তা’আলাই (তখন) তোমাদের সে (অবস্থা) থেকে এবং অন্যান্য যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে বাঁচিয়ে দেন, তারপরও তোমরা তাঁর সাথে অন্যদের শরীক করো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬৫﴿
﴾ ৬:৬৫ ﴿
قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ انْظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ لَعَلَّهُمْ يَفْقَهُونَ ﴿٦٥﴾
তুমি (আরো) বলো, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর তোমাদের উপর থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আযাব পাঠাতে সক্ষম, অথবা তিনি তোমাদের দল-উপদলে বিভক্ত করে একদলকে আরেক দলের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতেও সম্পূরূপে সক্ষম; লক্ষ্য করো, কিভাবে আমি আমার আয়াতসমূহ (তাদের কাছে) বর্ণনা করি, যাতে করে তারা (সত্য) অনুধাবন করতে পারে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬৬﴿
﴾ ৬:৬৬ ﴿
وَكَذَّبَ بِهِ قَوْمُكَ وَهُوَ الْحَقُّ قُلْ لَسْتُ عَلَيْكُمْ بِوَكِيلٍ ﴿٦٦﴾
তোমার জাতির লোকেরা এ (কোরআন) কে অস্বীকার করেছে, অথচ তাই একমাত্র সত্য; তুমি (তাদের এটুকুই) বলে দাও যে, আমি তোমাদের উপর কর্মবিধায়ক নই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬৭﴿
﴾ ৬:৬৭ ﴿
لِكُلِّ نَبَأٍ مُسْتَقَرٌّ وَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٦٧﴾
প্রতিটি বার্তার (প্রমাণের) জন্যে একটি সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ মজুদ রয়েছে এবং তোমরা অচিরেই (তা) জানতে পারবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬৮﴿
﴾ ৬:৬৮ ﴿
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٦٨﴾
তুমি যখন এমন সব লোককে দেখতে পাও যারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে হাসি-বিদ্রপ করছে, তখন তুমি তাদের কাছ থেকে সরে এসো, যতোক্ষণ না তারা অন্য কথার দিকে মনোনিবেশ করে; যদি কখনো শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে (ওখানে বসিয়ে) রাখে, তাহলে মনে পড়ার পর তুমি যালেম সম্প্রদায়ের সাথে আর বসে থেকো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৬৯﴿
﴾ ৬:৬৯ ﴿
وَمَا عَلَى الَّذِينَ يَتَّقُونَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ وَلَكِنْ ذِكْرَى لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ﴿٦٩﴾
তাদের (এসব) কার্যকলাপের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলাকে যারা ভয় করে, তাদের উপর হিসাবের কোনো দায়দায়িত্ব নেই, তবে উপদেশ তো দিয়েই যেতে হবে, হতে পারে তারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭০﴿
﴾ ৬:৭০ ﴿
وَذَرِ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَعِبًا وَلَهْوًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَذَكِّرْ بِهِ أَنْ تُبْسَلَ نَفْسٌ بِمَا كَسَبَتْ لَيْسَ لَهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ وَإِنْ تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لَا يُؤْخَذْ مِنْهَا أُولَئِكَ الَّذِينَ أُبْسِلُوا بِمَا كَسَبُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ ﴿٧٠﴾
সেসব লোকদের তুমি (আল্লাহর বিচারের জন্যে) ছেড়ে দাও, যারা তাদের দ্বীনকে নিছক খেল-তামাশায় পরিণত করে রেখেছে এবং এ পার্থিব জীবন যাদের প্রতারণার জালে আটকে রেখেছে, তুমি এ (কোরআন) দিয়ে (তাদের আমার কথা) স্মরণ করাতে থাকো, যাতে করে কেউ নিজের অর্জিত কর্মকান্ডের ফলে ধ্বংস হয়ে যেতে না পারে, (মহাবিচারের দিন) তার জন্যে আল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোনো সাহায্যকারী বন্ধু এবং সুপারিশকারী থাকবে না। সে যদি নিজের সব কিছু দিয়েও দেয়, তবু তার কাছ থেকে (সেদিন তা) গ্রহণ করা হবে না; এরাই হচ্ছে সে (হতভাগ্য) মানুষ, যাদের নিজেদের অর্জিত গুনাহের কারণে তাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে, আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করার কারণে তাদের জন্যে (আরো থাকবে) ফুটন্তু পানি ও মর্মন্তুদ শাস্তি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭১﴿
﴾ ৬:৭১ ﴿
قُلْ أَنَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُنَا وَلَا يَضُرُّنَا وَنُرَدُّ عَلَى أَعْقَابِنَا بَعْدَ إِذْ هَدَانَا اللَّهُ كَالَّذِي اسْتَهْوَتْهُ الشَّيَاطِينُ فِي الْأَرْضِ حَيْرَانَ لَهُ أَصْحَابٌ يَدْعُونَهُ إِلَى الْهُدَى ائْتِنَا قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَى وَأُمِرْنَا لِنُسْلِمَ لِرَبِ الْعَالَمِينَ ﴿٧١﴾
তুমি (তাদের) বলো, আমরা কি আল্লাহ তা’আলাকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডাকবো, যে না আমাদের কোনো উপকার করতে পারে, না আমাদের কোনো অপকার করতে পারে, আল্লাহ তা’আলা যেখানে আমাদের (চলার জন্যে) সঠিক পথ বাতলে দিয়েছেন, সেখানে তাঁকে বাদ দিয়ে আমরা কি আবার উল্টো পথে ফিরে যাবো ঠিক সে ব্যক্তিটির মতো, যাকে শয়তানরা যমীনের বুকে পথভ্রষ্ট করে দ্বারে দ্বারে ঠোকর খাওয়াচ্ছে, অথচ তার সংগী-সাথীরা তাকে ডাকছে, তুমি আমাদের কাছে এসো, আমাদের কাছে (মজুদ আল্লাহ তা’আলার) সহজ সরল পথের দিকে! তুমি বলে দাও, সত্যিকার অর্থে হেদায়াত তো তাই; যা আল্লাহর (পক্ষ থেকে এসেছে) এবং আমাদের এ আদেশ দেয়া হয়েছে যেন আমরা সৃষ্টিকুলের মালিকের সামনে আনুগত্যের মাথা নত করি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭২﴿
﴾ ৬:৭২ ﴿
وَأَنْ أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَاتَّقُوهُ وَهُوَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ﴿٧٢﴾
আমরা যেন নামায প্রতিষ্ঠা করি এবং আল্লাহ তা’আলাকেই ভয় করি; (কেননা) তিনিই হচ্ছেন এমন সত্তা, যাঁর সামনে (একদিন) তোমাদের সবাইকে সমবেত করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭৩﴿
﴾ ৬:৭৩ ﴿
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَيَوْمَ يَقُولُ كُنْ فَيَكُونُ قَوْلُهُ الْحَقُّ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ ﴿٧٣﴾
তিনিই যথাবিধি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন; যেদিন (আবার) তিনি বলবেন (সব কিছু বিলীন) হয়ে যাও, তখন (সাথে সাথেই) তা (বিলীন) হয়ে যাবে, তাঁর কথাই হচ্ছে চূড়ান্তু সত্য, যেদিন শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে (সেদিন) যাবতীয় কর্তৃত্ব ও বাদশাহী হবে একান্তুই তাঁর; তিনি দৃশ্য-অদৃশ্য সব কিছু সম্পর্কেই সম্যক অবগত রয়েছেন; তিনি প্রজ্ঞাময়, তিনি সম্যক অবগত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭৪﴿
﴾ ৬:৭৪ ﴿
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ آزَرَ أَتَتَّخِذُ أَصْنَامًا آلِهَةً إِنِّي أَرَاكَ وَقَوْمَكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٧٤﴾
(স্মরণ করো, ) যখন ইবরাহীম তার পিতা আযরকে বললো, তুমি কি (সত্যি সত্যিই এই) মূর্তিগুলোকে মাবুদ বানিয়ে নিয়েছো? আমি তো দেখতে পাচ্ছি, তুমি ও তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা ষ্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত রয়েছো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭৫﴿
﴾ ৬:৭৫ ﴿
وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنَ الْمُوقِنِينَ ﴿٧٥﴾
এভাবে আমি ইবরাহীমকে আকাশসমূহ ও যমীনের যাবতীয় পরিচালন ব্যবস্থা দেখাতে চেয়েছিলাম, যেন সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের দলে শামিল হয়ে যেতে পারে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭৬﴿
﴾ ৬:৭৬ ﴿
فَلَمَّا جَنَّ عَلَيْهِ اللَّيْلُ رَأَى كَوْكَبًا قَالَ هَذَا رَبِّي فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَا أُحِبُّ الْآفِلِينَ ﴿٧٦﴾
যখন তার উপর আঁধার ছেয়ে রাত এলো, তখন সে একটি তারকা দেখতে পেলো, (তারকাটি দেখেই) সে বলে উঠলো, এ (বুঝি) আমার মালিক, অতপর যখন তারকাটি ডুবে গেলো, তখন সে (কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে) বললো, যা ডুবে যায় তাকে তো আমি (আমার মালিক বলে) পছন্দ করতে পারি না!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭৭﴿
﴾ ৬:৭৭ ﴿
فَلَمَّا رَأَى الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هَذَا رَبِّي فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَئِنْ لَمْ يَهْدِنِي رَبِّي لَأَكُونَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّالِّينَ ﴿٧٧﴾
(এবার) যখন সে (আকাশে) একটি ঝলমলে চাঁদ দেখলো, তখন বললো (হাঁ) , এই (মনে হয়) আমার মালিক, অতপর (এক পর্যায়ে) যখন তাও ডুবে গেলো তখন সে বললো, আমার ‘রব’ যদি আমাকে সঠিক পথ না দেখান, তাহলে আমি অবশ্যই গোমরাহ লোকদের দলে শামিল হয়ে যাবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭৮﴿
﴾ ৬:৭৮ ﴿
فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَذَا رَبِّي هَذَا أَكْبَرُ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ ﴿٧٨﴾
(এরপর দিনের বেলায়) সে যখন দেখলো একটি আলোকোজ্জ্বল সূর্য এবং (দেখেই) বলতে লাগলো, (মনে হচ্ছে) এই আমার মালিক, (কারণ এ যাবত যা দেখেছি) এটা তার সবগুলোর চাইতে বড়ো, (সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে) তাও যখন ডুবে গেলো, তখন ইবরাহীম (নতুন বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে) নিজের জাতিকে ডেকে বললো, হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা, তোমরা যে সব কিছুকে আল্লাহ তা’আলার সাথে অংশীদার বানাও, আমি তা থেকে সম্পূ মুক্ত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৭৯﴿
﴾ ৬:৭৯ ﴿
إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿٧٩﴾
আমি নিষ্ঠার সাথে সেই মহান সার্বভৌম মালিকের দিকেই আমার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি, যিনি এই আসমানসমূহ ও যমীন (সহ চাঁদ-সুরুজ-গ্রহ-তারা সব কিছু) পয়দা করেছেন, আমি (এখন) আর মুশরিকদের দলভুক্ত নই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮০﴿
﴾ ৬:৮০ ﴿
وَحَاجَّهُ قَوْمُهُ قَالَ أَتُحَاجُّونِّي فِي اللَّهِ وَقَدْ هَدَانِ وَلَا أَخَافُ مَا تُشْرِكُونَ بِهِ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبِّي شَيْئًا وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ ﴿٨٠﴾
(এর পরই) তার জাতির লোকেরা তার সাথে (আল্লাহ তা’আলার ব্যাপারে) বিতর্ক শুরু করে দিলো; (জবাবে) সে বললো, তোমরা কি আমার সাথে স্বয়ং (কুল মাখলুকাতের মালিক) আল্লাহ তা’আলার ব্যাপারে তর্ক করছো, অথচ তিনিই আমাকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন; আমি (এখন আর) তোমাদের (মাবুদদের) ডরাই না যাদের তোমরা আল্লাহ তা’আলার (কাজে) অংশীদার (মনে) করো। অবশ্য আমার মালিক যদি অন্য কিছু চান (সেটা আলাদা কথা) ; আমার মালিকের জ্ঞান সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত; (এরপরও) কি তোমরা সতর্ক হবে না?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮১﴿
﴾ ৬:৮১ ﴿
وَكَيْفَ أَخَافُ مَا أَشْرَكْتُمْ وَلَا تَخَافُونَ أَنَّكُمْ أَشْرَكْتُمْ بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا فَأَيُّ الْفَرِيقَيْنِ أَحَقُّ بِالْأَمْنِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٨١﴾
তোমরা যাকে আল্লাহ তা’আলার সাথে অংশীদার বানাও, তাকে আমি কিভাবে ভয় করবো, অথচ তোমরা আল্লাহ তা’আলার সাথে অন্যদের শরীক করতে ভয় পাও না, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা কোনো প্রমাণপত্র তোমাদের কাছে পাঠাননি; (এ অবস্থায় তোমরাই বলো, ) আমাদের এ উভয় দলের মধ্যে কোন দলটি (দুনিয়া ও আখেরাতে) নিরাপত্তালাভের বেশী অধিকারী? (বলো!) যদি তোমাদের কিছু জানা থাকে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮২﴿
﴾ ৬:৮২ ﴿
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ ﴿٨٢﴾
যারা ঈমান এনেছে এবং যারা তাদের ঈমানকে যুলুম (-এর কালিমা) দিয়ে কলুষিত করেনি, তারাই (হচ্ছে দুনিয়া ও আখেরাতে) নিরাপত্তালাভের বেশী অধিকারী, (মূলত) তারাই হচ্ছে হেদায়াতপ্রাপ্ত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮৩﴿
﴾ ৬:৮৩ ﴿
وَتِلْكَ حُجَّتُنَا آتَيْنَاهَا إِبْرَاهِيمَ عَلَى قَوْمِهِ نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ ﴿٨٣﴾
এ ছিলো (শেরেক সম্পর্কিত) আমার সেই (অকাট্য) যুক্তি, যা আমি ইবরাহীমকে তার জাতির উপর দান করেছিলাম, (এভাবেই) আমি (আমার জ্ঞান দিয়ে) যাকে ইচ্ছা তাকে সমুন্নত করি; অবশ্যই তোমার মালিক প্রবল প্রজ্ঞাময়, কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮৪﴿
﴾ ৬:৮৪ ﴿
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ كُلًّا هَدَيْنَا وَنُوحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَى وَهَارُونَ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴿٨٤﴾
অতপর আমি তাকে দান করেছি ইসহাক ও ইয়াকুব (-এর মতো দুই জন সুপুত্র) ; এদের সবাইকেই আমি সঠিক পথের দিশা দিয়েছিলাম, (এদের) আগে আমি নূহ কেও হেদায়াতের পথ দেখিয়েছি, অতপর তার বংশের মাঝে দাঊদ, সোলায়মান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা এবং হারূনকেও (আমি হেদায়াত দান করেছি) ; আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮৫﴿
﴾ ৬:৮৫ ﴿
وَزَكَرِيَّا وَيَحْيَى وَعِيسَى وَإِلْيَاسَ كُلٌّ مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿٨٥﴾
যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা এবং ইলিয়াসকেও (আমি সঠিক পথ দেখিয়েছিলাম) ; এরা সবাই ছিলো নেককারদের দলভুক্ত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮৬﴿
﴾ ৬:৮৬ ﴿
وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُسَ وَلُوطًا وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿٨٦﴾
আমি (আরো সৎপথ দেখিয়েছিলাম) ইসমাঈল, ইয়াসা, ইউনুস এবং লূত কেও; এদের সবাইকেই আমি (নবুওত দিয়ে) সৃষ্টিকুলের উপর বিশেষ মর্যাদা দান করেছিলাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮৭﴿
﴾ ৬:৮৭ ﴿
وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٨٧﴾
এদের পূর্বপুরুষ, এদের পরবর্তী বংশধর ও এদের ভাই বন্ধুদেরও আমি (নানাভাবে পুরস্কৃত করেছিলাম) , আমি এদেরকে বাছাই করে নিয়েছিলাম এবং আমি এদের সবাইকে সরল পথে পরিচালিত করেছিলাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮৮﴿
﴾ ৬:৮৮ ﴿
ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٨٨﴾
এ হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার হেদায়াত, নিজ বান্দাদের মাঝে যাকে চান তিনি তাকেই এ হেদায়াত দান করেন; (কিন্তু) তারা যদি শেরেক করতো, তাহলে তাদের যাবতীয় কর্ম অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যেতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৮৯﴿
﴾ ৬:৮৯ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ فَإِنْ يَكْفُرْ بِهَا هَؤُلَاءِ فَقَدْ وَكَّلْنَا بِهَا قَوْمًا لَيْسُوا بِهَا بِكَافِرِينَ ﴿٨٩﴾
এরাই ছিলো সেসব লোক, যাদের আমি কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওত দান করেছি, (এ সত্ত্বেও আজ) যদি তারা তা অস্বীকার করে (তাতে আমার কোনোই ক্ষতি নেই) , আমি তো (অতীতে) এমন এক সম্প্রদায়ের উপর এ দায়িত্ব অর্পণ করেছিলাম, যারা কখনো (এগুলো) প্রত্যাখ্যান করেনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯০﴿
﴾ ৬:৯০ ﴿
أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهِ قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَى لِلْعَالَمِينَ ﴿٩٠﴾
এরা হচ্ছে সে সব (সৌভাগ্যবান বান্দা) আল্লাহ তা’আলা যাদের সৎপথে পরিচালিত করেছেন; অতএব (হে মোহাম্মদ) , তুমিও এদের পথের অনুসরণ করো (এবং কাফেরদের) বলো, আমি এর উপর তোমাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক চাই না; (আসলে) এ হচ্ছে (দুনিয়ার) মানুষের জন্যে একটি স্মরণিকা মাত্র।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯১﴿
﴾ ৬:৯১ ﴿
وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَ قَدْرِهِ إِذْ قَالُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ قُلْ مَنْ أَنْزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى نُورًا وَهُدًى لِلنَّاسِ تَجْعَلُونَهُ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيرًا وَعُلِّمْتُمْ مَا لَمْ تَعْلَمُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ قُلِ اللَّهُ ثُمَّ ذَرْهُمْ فِي خَوْضِهِمْ يَلْعَبُونَ ﴿٩١﴾
তারা আল্লাহ তা’আলাকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা দান করেনি, (বিশেষ করে) যখন তারা বললো, আল্লাহ তা’আলা কোনো মানুষের উপর (গ্রন্থের) কোনো বস্তুই নাযিল করেননি; তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, (যদি তাই হয় তাহলে) মূসার আনীত কিতাব যা মানুষের জন্যে ছিলো এক আলোকবর্তিকা ও পথনির্দেশ, যা তোমরা কাগজের (পাতায়) লিখে রাখতে, যার কিছু অংশ তোমরা মানুষের সামনে প্রকাশ করতে এবং অধিকাংশই গোপন করে রাখতে, (সর্বোপরি) সে কিতাব দ্বারা তোমাদের এমন সব জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হতো, যার কিছুই তোমরা জানতে না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরাও জানতো না তা কে নাযিল করেছেন? তুমি বলো (হাঁ, ) আল্লাহ তা’আলাই (তা নাযিল করেছেন) , (হে নবী, ) তুমি তাদের (এসব) নিরর্থক আলোচনায় মত্ত থাকতে দাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯২﴿
﴾ ৬:৯২ ﴿
وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَهُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ﴿٩٢﴾
এটি এক বরকতপূর্ণ গ্রন্থ, যা আমি (তোমার কাছে) পাঠিয়েছি, এটি আগের কিতাবের পুরোপুরি সত্যায়ন করে এবং যাতে এ (কিতাব) দিয়ে তুমি মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী জনপদসমূহের মানুষকে সাবধান করবে; যারা আখেরাতের উপর ঈমান আনে তারা এ কিতাবের উপরও ঈমান আনে, আর তারা তাদের নামাযের হেফাযত করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯৩﴿
﴾ ৬:৯৩ ﴿
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَنْ قَالَ سَأُنْزِلُ مِثْلَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ ﴿٩٣﴾
সে ব্যক্তির চাইতে বড়ো যালেম আর কে আছে যে আল্লাহ তা’আলার উপর মিথ্যা আরোপ করে, অথবা বলে, আমার উপর ওহী নাযিল হয়েছে, (যদিও) তার প্রতি কিছুই নাযিল করা হয়নি, (তার চাইতেই বা বড়ো যালেম কে, ) যে বলে, আমি অচিরেই আল্লাহর নাযিল করা গ্রন্থের মতো কিছু নাযিল করে দেখাবো! যদি (সত্যি সত্যিই) যালেমদের মৃত্যু-যন্ত্রণা (উপস্থিত) হবার সময় (তাদের অবস্থাটা) তুমি দেখতে পেতে! যখন (মৃত্যুর) ফেরেশ্তারা তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণবায়ু বের করে দাও; তোমরা আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে যেসব অন্যায় কথা বলতে এবং আল্লাহর আয়াতের ব্যাপারে যে (ক্ষমাহীন) ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে, তার জন্যে আজ অত্যন্তু অবমাননাকর এক আযাব তোমাদের দেয়া হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯৪﴿
﴾ ৬:৯৪ ﴿
وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُمْ مَا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنْكُمْ مَا كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ ﴿٩٤﴾
(আজ সত্যি সত্যিই) তোমরা আমার সামনে (একাকী) নিসঙ্গ অবস্থায় এলে, যেমনি নিসঙ্গ অবস্থায় আমি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, অতপর তোমাদের আমি যা কিছু (বিষয় সম্পদ) দান করেছিলাম, তার সবটুকুই তোমরা পেছনে ফেলে (একান্তু খালি হাতে এখানে) এসেছো, তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারী ব্যক্তিদের যাদের তোমরা মনে করতে তারা তোমাদের (কাজকর্মের) মাঝে অংশীদার, তাদের তো আজ তোমাদের মাঝে দেখতে পাচ্ছি না। বস্তুত তাদের এবং তোমাদের মধ্যকার সেই (মিথ্যা) সম্পর্ক আজ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে এবং তাদের ব্যাপারে তোমরা যা ধারণা করতে তাও আজ নিষ্ফল (প্রমাণিত) হয়ে গেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯৫﴿
﴾ ৬:৯৫ ﴿
إِنَّ اللَّهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَالنَّوَى يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَمُخْرِجُ الْمَيِّتِ مِنَ الْحَيِّ ذَلِكُمُ اللَّهُ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ ﴿٩٥﴾
অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা শস্যবীজ ও আঁটিগুলো অংকুরিত করেন, তিনিই নির্জীব (কিছু) থেকে জীবন্তু (কিছু) বের করে আনেন, (আবার) তিনিই জীবন্তু (কিছু) থেকে প্রাণহীন কিছু নির্গত করেন; এই (সৃষ্টি কৌশলের মালিক) হচ্ছেন আল্লাহ তা’আলা, (এরপরও) তোমরা কোথায় কোথায় ঠোকর খাচ্ছো (বলো) !
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯৬﴿
﴾ ৬:৯৬ ﴿
فَالِقُ الْإِصْبَاحِ وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ﴿٩٦﴾
(রাতের আঁধার ভেদ করে) তিনিই ঊষার উন্মেষ ঘটান, তিনি রাতকে তোমাদের বিশ্রামের জন্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং (দিন তারিখের) হিসাব কিতাবের জন্যে তিনি চাঁদ ও সুরুজ বানিয়েছেন, এসব কিছুই হচ্ছে মহাপরাক্রমশালী ও জ্ঞানী আল্লাহ তা’আলার নির্ধারণ করা (বিষয়) ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯৭﴿
﴾ ৬:৯৭ ﴿
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ﴿٩٧﴾
তিনি তোমাদের জন্যে (অসংখ্য) তারকা বানিয়ে রেখেছেন যেন তোমরা জলে-স্থলের আঁধারে পথের দিশা পেতে পারো, যে সম্প্রদায়ের লোকেরা (এ সব কিছু) জানে, তাদের জন্যে আমি আমার নিদর্শনসমূহ খুলে খুলে বর্ণনা করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯৮﴿
﴾ ৬:৯৮ ﴿
وَهُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَمُسْتَقَرٌّ وَمُسْتَوْدَعٌ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَفْقَهُونَ ﴿٩٨﴾
তিনি তোমাদের মাত্র একটি ব্যক্তিসত্তা থেকে পয়দা করেছেন, অতপর তিনি (তোমাদের) থাকার জায়গা ও মালসামান রাখার জায়গা (বানালেন) , জ্ঞানী লোকদের জন্যে আমি আমার নিদর্শনগুলো (এভাবেই) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে থাকি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:৯৯﴿
﴾ ৬:৯৯ ﴿
وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَأَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا نُخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُتَرَاكِبًا وَمِنَ النَّخْلِ مِنْ طَلْعِهَا قِنْوَانٌ دَانِيَةٌ وَجَنَّاتٍ مِنْ أَعْنَابٍ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُشْتَبِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ انْظُرُوا إِلَى ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَيَنْعِهِ إِنَّ فِي ذَلِكُمْ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٩٩﴾
তিনি আসমান থেকে পানি (-র ধারা) নাযিল করেন, অতপর সে পানি দিয়ে আমি সব রকমের উদ্ভিদ (ও গাছপালা) জন্মানোর ব্যবস্থা করি, তা থেকে সবুজ শ্যামল পাতা উদগত করি, পরে তা থেকে পরষ্পর জড়ানো ঘন শস্যদানাও সৃষ্টি করি এবং (ফলের) ভারে নুয়ে পড়া খেজুরের গোছা বের করে আনি, আংগুরের উদ্যানমালা, জলপাই ও আনার পয়দা করি, এগুলো একে অন্যের সদৃশ হয়, আবার (একটার সাথে) আরেকটার গরমিলও থাকে; গাছ যখন সুশোভিত হয় তখন (এক সময়) তা ফলবান হয়, আবার যখন ফলগুলো পাকতে শুরু করে, তখন তোমরা এই সৃষ্টি-নৈপুণ্যের দিকে তাকিয়ে থাকো; অবশ্যই এতে ঈমানদার লোকদের জন্যে বহু নিদর্শন রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০০﴿
﴾ ৬:১০০ ﴿
وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ وَخَرَقُوا لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ ﴿١٠٠﴾
তারা জ্বিনকে আল্লাহর সাথে শরীক মনে করে, অথচ আল্লাহ তা’আলাই জি¦নদের পয়দা করেছেন, অজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে তারা আল্লাহ তা’আলার উপর পুত্র-কন্যা ধারণের অপবাদও আনয়ন করে, অথচ আল্লাহ তা’আলা মহিমানি¦ত, এরা যা বলে তিনি তার চাইতে অনেক মহান ও পবিত্র।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০১﴿
﴾ ৬:১০১ ﴿
بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ صَاحِبَةٌ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿١٠١﴾
তিনি আসমানসমূহ ও যমীনের (একক) উদ্ভাবক। (এদের তুমি বলো) , তাঁর সন্তুান হবে কি ভাবে, তাঁর তো জীবনসংগিনীই নেই, সব কিছু তিনিই পয়দা করেছেন এবং সব কিছু সম্পর্কে তিনি পুরোপুরিই ওয়াকেফহাল রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০২﴿
﴾ ৬:১০২ ﴿
ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ ﴿١٠٢﴾
তিনিই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের মালিক, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, সব কিছুর (একক) স্রষ্টা তিনি, সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদাত করো, সব কিছুর উপর তিনি চড়ান্তু তত্তাবধায়ক বটে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০৩﴿
﴾ ৬:১০৩ ﴿
لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ ﴿١٠٣﴾
কোনো (সাধারণ) দৃষ্টি তাঁকে দেখতে পায় না, (অথচ) তিনি সব কিছুই দেখতে পান, তিনি সূক্ষ্মদর্শী, তিনি সব কিছু সম্পর্কেই খোঁজ-খবর রাখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০৪﴿
﴾ ৬:১০৪ ﴿
قَدْ جَاءَكُمْ بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ أَبْصَرَ فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ عَمِيَ فَعَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِحَفِيظٍ ﴿١٠٤﴾
তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে (এই) সূক্ষ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন জ্ঞান (-এর নিদর্শন) এসেছে, অতপর যদি কোনো ব্যক্তি (এসব নিদর্শন) দেখতে পায়, তাহলে সে তা দেখবে তার নিজের (কল্যাণের) জন্যেই, আবার যদি কেউ (তা না দেখে) অন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে তার দায়িত্ব তার উপরই (বর্তাবে। তুমি বলো) ; আমি তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০৫﴿
﴾ ৬:১০৫ ﴿
وَكَذَلِكَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ وَلِيَقُولُوا دَرَسْتَ وَلِنُبَيِّنَهُ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ﴿١٠٥﴾
আমি এভাবেই আমার আয়াতগুলো (তোমাদের কাছে) বিধৃত করি, যাতে করে তারা একথা বলতে পারে, তুমি (এসব কথা ভালো করেই) পড়ে এসেছো এবং যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে যেন আমি তাকে (আরো) সস্পষ্ট করে দিতে পারি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০৬﴿
﴾ ৬:১০৬ ﴿
اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ ﴿١٠٦﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি শুধু তারই অনুসরণ করো যা তোমার মালিকের কাছ থেকে তোমার কাছে নাযিল করা হয়েছে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, (এরপরও) যারা শেরেকে লিপ্ত, তাদের তুমি (পুরোপুরিই) এড়িয়ে চলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০৭﴿
﴾ ৬:১০৭ ﴿
وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكُوا وَمَا جَعَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا وَمَا أَنْتَ عَلَيْهِمْ بِوَكِيلٍ ﴿١٠٧﴾
আল্লাহ তা’আলা যদি চাইতেন, তাহলে এরা কেউই তাঁর সাথে শেরেক করতো না; আর আমি (কিন্তু) তোমাকে তাদের উপর পাহারাদার নিযুক্ত করে পাঠাইনি, (সত্যি কথা হচ্ছে, ) তুমি তো তাদের উপর কোনো অভিভাবকও নও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০৮﴿
﴾ ৬:১০৮ ﴿
وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ كَذَلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ مَرْجِعُهُمْ فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٠٨﴾
তারা আল্লাহ তা’আলার বদলে যাদের ডাকে, তাদের তোমরা কখনো গালি-গালাজ করো না, নইলে শত্রট্টতার বশবর্তী হয়ে না জেনে আল্লাহ তা’আলাকেও তারা গালি দেবে; আমি প্রত্যেক জাতির কাছেই তাদের নিজেদের কার্যকলাপ সুশোভন করে রেখেছি, অতপর (সবাইকেই) তাদের মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, (তারপর) তিনি তাদের বলে দেবেন, তারা (দুনিয়ার জীবনে) কি করে এসেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১০৯﴿
﴾ ৬:১০৯ ﴿
وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَئِنْ جَاءَتْهُمْ آيَةٌ لَيُؤْمِنُنَّ بِهَا قُلْ إِنَّمَا الْآيَاتُ عِنْدَ اللَّهِ وَمَا يُشْعِرُكُمْ أَنَّهَا إِذَا جَاءَتْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٠٩﴾
এরা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করে বলে, যদি তাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে, তাহলে অবশ্যই তারা তার উপর ঈমান আনবে; তুমি বলো, নিদর্শন পাঠানো (সম্পূত) আল্লাহ তা’আলার ব্যাপার, তুমি কি জানো (এদের অবস্থা) , নিদর্শন এলেও এরা কিন্তুু কখনো ঈমান আনবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১০﴿
﴾ ৬:১১০ ﴿
وَنُقَلِّبُ أَفْئِدَتَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُوا بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَنَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿١١٠﴾
আমি (অচিরেই) তাদের অন্তুকরণ ও দৃষ্টিশক্তিকে (অন্যদিকে) ফিরিয়ে দেবো, যেমন তারা প্রথম বারেই এ (কোরআনের) উপর ঈমান আনেনি এবং আমি (এবার) তাদের অবাধ্যতার আবর্তে ঘুরপাক খাওয়ার জন্যে ছেড়ে দেবো!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১১﴿
﴾ ৬:১১১ ﴿
وَلَوْ أَنَّنَا نَزَّلْنَا إِلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةَ وَكَلَّمَهُمُ الْمَوْتَى وَحَشَرْنَا عَلَيْهِمْ كُلَّ شَيْءٍ قُبُلًا مَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ ﴿١١١﴾
(এমনকি) আমি যদি তাদের কাছে (আমার) ফেরেশ্তাদেরও পাঠিয়ে দেই এবং (কবর থেকে) মৃত ব্যক্তিরাও যদি (উঠে এসে) তাদের সাথে কথা বলে, কিংবা আমি যদি (দুনিয়ার) সমুদয় বস্তুুও এনে তাদের উপর জড়ো করে দেই, তবু এরা (কখনো) ঈমান আনবে না, অবশ্য (এদের কারো ব্যাপারে) যদি আল্লাহ তা’আলা (ভিন্ন কিছু) চান (তা আলাদা কথা। আসলে) , এদের অধিকাংশ ব্যক্তিই মূর্খের আচরণ করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১২﴿
﴾ ৬:১১২ ﴿
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ ﴿١١٢﴾
আমি এভাবেই প্রত্যেক নবীর জন্যে (যুগে যুগে কিছু কিছু) দুশমন বানিয়ে রেখেছি মানুষের মাঝ থেকে, (কিছু আবার) জ্বিনদের মাঝ থেকে, যারা প্রতারণা করার উদ্দেশে একে অন্যকে চমকপ্রদ কথা বলে, তোমার মালিক চাইলে তারা (অবশ্য এটা) করতো না, অতএব তুমি তাদের ছেড়ে দাও, তারা যা পারে মিথ্যা রচনা করে বেড়াক!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১৩﴿
﴾ ৬:১১৩ ﴿
وَلِتَصْغَى إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوا مَا هُمْ مُقْتَرِفُونَ ﴿١١٣﴾
যারা শেষ বিচারের দিনের উপর ঈমান রাখে না, তাদের মন এর ফলে শয়তানের প্রতি অনুরাগী হয়ে পড়ে, যাতে করে তারা তার ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকতে পারে, (সর্বোপরি) তারা যেসব কুকর্ম চালিয়ে যেতে চায়, তাও এর ফলে নির্বিঘ্নে তারা চালিয়ে যেতে পারে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১৪﴿
﴾ ৬:১১৪ ﴿
أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلًا وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ ﴿١١٤﴾
(তুমি বলো, ) আমি কি আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কোনো ফয়সালাকারী সন্ধান করবো, অথচ তিনিই হচ্ছেন সেই মহান সত্তা, যিনি তোমাদের কাছে সবিস্তুারে কিতাব নাযিল করেছেন; (আগে) যাদের আমি আমার কিতাব দান করেছিলাম তারা জানে, তোমার মালিকের পক্ষ থেকে সত্য বাণী নিয়েই এটা (আল কোরআন) নাযিল করা হয়েছে, অতএব তুমি কখনো সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১৫﴿
﴾ ৬:১১৫ ﴿
وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١١٥﴾
ন্যায় ও ইনসাফ (-এর আলোকে) তোমার মালিকের কথাগুলোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং তাঁর কথা পরিবর্তন করার কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১৬﴿
﴾ ৬:১১৬ ﴿
وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ ﴿١١٦﴾
(হে মোহাম্মদ, ) দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষের কথা যদি তুমি মেনে চলো, তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহ তা’আলার পথ থেকে বিচ্যুত করে ছাড়বে; কেননা এরা নিছক অনুমানের উপর ভিত্তি করেই চলে, (অধিকাংশ ব্যাপারে) এরা মিথ্যা ছাড়া অন্য কিছু বলেই না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১৭﴿
﴾ ৬:১১৭ ﴿
إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ مَنْ يَضِلُّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ ﴿١١٧﴾
তোমার মালিক নিসন্দেহে (এ কথা) ভালো করেই জানেন কে তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হচ্ছে, (আবার) কে সঠিক পথের অনুসারী তাও তিনি সম্যক অবগত রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১৮﴿
﴾ ৬:১১৮ ﴿
فَكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ بِآيَاتِهِ مُؤْمِنِينَ ﴿١١٨﴾
যদি আল্লাহ তা’আলার আয়াতের উপর তোমরা বিশ্বাস করো, তাহলে তোমরা (শুধু) সেসব (জন্তুর গোশ্ত) খাবে, যার উপর (যবাই করার সময়) আল্লাহ তা’আলার নাম নেয়া হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১১৯﴿
﴾ ৬:১১৯ ﴿
وَمَا لَكُمْ أَلَّا تَأْكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَقَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ وَإِنَّ كَثِيرًا لَيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ ﴿١١٩﴾
তোমাদের এ কি হয়েছে! তোমরা সেসব (জন্তুর গোশ্ত) কেন খাবে না, যার উপর (যবাইর সময়) আল্লাহ তা’আলার নাম নেয়া হয়েছে, (বিশেষ করে যখন) আল্লাহ তা’আলা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে, তিনি তোমাদের উপর কোন্ কোন্ বস্তু হারাম করেছেন সে কথা অবশ্যই আলাদা যখন তোমাদের তার কাছে একান্ত বাধ্য (ও নিরুপায়) করা হয়। অধিকাংশ মানুষ সুষ্ঠু জ্ঞান ছাড়াই নিজেদের খেয়াল-খুশীমতো (মানুষকে) বিপথে চালিত করে; নিসন্দেহে তোমার মালিক সীমালংঘনকারীদের ভালো করেই জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২০﴿
﴾ ৬:১২০ ﴿
وَذَرُوا ظَاهِرَ الْإِثْمِ وَبَاطِنَهُ إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الْإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوا يَقْتَرِفُونَ ﴿١٢٠﴾
তোমরা প্রকাশ্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, (বেঁচে থাকো) তার গোপন অংশ থেকেও; নিসন্দেহে যারা কোনো গুনাহ অর্জন করবে, তাদের কৃতকর্মের যথাযথ ফল তাদের প্রদান করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২১﴿
﴾ ৬:১২১ ﴿
وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ ﴿١٢١﴾
(যবাইর সময়) যার উপর আল্লাহ তা’আলার নাম নেয়া হয়নি, সে (জন্তুর গোশ্ত) তোমরা কখনো খাবে না, (কেননা) তা হচ্ছে জঘন্য গুনাহের কাজ; শয়তানের (কাজই হচ্ছে) তার সংগী-সাথীদের মনে প্ররোচনা দেয়া, যেন তারা তোমাদের সাথে (এ নিয়ে) ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়, যদি তোমরা তাদের কথা মেনে চলো, তাহলে অবশ্যই তোমরা মুশরিক হয়ে পড়বে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২২﴿
﴾ ৬:১২২ ﴿
أَوَمَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٢٢﴾
যে ব্যক্তি (এক সময়) ছিলো মৃত, অতপর আমি তাকে জীবিত করলাম, (তদুপরি) তার জন্যে এমন এক আলোকবর্তিকাও আমি বানিয়ে দিলাম, যার আলো দিয়ে মানুষের সমাজে সে চলার (দিশা) পাচ্ছে, সে কি কখনো সে ব্যক্তির মতো হতে পারে, যে এমন অন্ধকারে (পড়ে) আছে, যেখান থেকে সে (কোনোক্রমেই) বেরিয়ে আসতে পারছে না; এভাবেই কাফেরদের জন্যে তাদের কর্মকান্ডকে শোভনীয় (ও সুখকর) বানিয়ে রাখা হয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২৩﴿
﴾ ৬:১২৩ ﴿
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ أَكَابِرَ مُجْرِمِيهَا لِيَمْكُرُوا فِيهَا وَمَا يَمْكُرُونَ إِلَّا بِأَنْفُسِهِمْ وَمَا يَشْعُرُونَ ﴿١٢٣﴾
এভাবে আমি প্রত্যেক জনপদে তার কিছু কিছু বড়ো অপরাধী নিযুক্ত করে রেখেছি, যেন তারা সেখানে (অন্যদের) ধোকা দিতে পারে; (আসলে) এসব কিছুর মাধ্যমে তারা তাদের নিজেদেরই প্রতারিত করছে, অথচ তারা নিজেরা এ কথাটা মোটেই উপলব্ধি করতে পারছে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২৪﴿
﴾ ৬:১২৪ ﴿
وَإِذَا جَاءَتْهُمْ آيَةٌ قَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ حَتَّى نُؤْتَى مِثْلَ مَا أُوتِيَ رُسُلُ اللَّهِ اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ سَيُصِيبُ الَّذِينَ أَجْرَمُوا صَغَارٌ عِنْدَ اللَّهِ وَعَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا كَانُوا يَمْكُرُونَ ﴿١٢٤﴾
তাদের কাছে যখনি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আয়াত আসে তখন তারা বলে উঠে, আমরা এর উপর কখনো ঈমান আনবো না, যতোক্ষণ না আমাদেরও তাই দেয়া হয় যা আল্লাহর রসূলদের দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা ভালো করেই জানেন তাঁর রেসালাত তিনি কোথায় রাখবেন; যারা এ অপরাধ করেছে তারা অচিরেই আল্লাহর পক্ষ থেকে অপমান ও কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে কেননা তারা আল্লাহ তা’আলার সাথে প্রতারণা করছিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২৫﴿
﴾ ৬:১২৫ ﴿
فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ كَذَلِكَ يَجْعَلُ اللَّهُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٢٥﴾
আল্লাহ তা’আলা কাউকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাইলে তিনি তার হৃদয়কে ইসলামের জন্যে খুলে দেন, (আবার) যাকে তিনি বিপথগামী করতে চান তার হৃদয়কে অতিশয় সংকীর্ণ করে দেন, (তার পক্ষে ইসলামের অনুসরণ করা এমন কঠিন হয়) যেন কোনো একজন ব্যক্তি আকাশে চড়তে চাইছে; আর যারা (আল্লাহর উপর) বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তা’আলা এভাবেই তাদের উপর (অপমানজনক লাঞ্ছনা ও) নাপাকী ছেয়ে দেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২৬﴿
﴾ ৬:১২৬ ﴿
وَهَذَا صِرَاطُ رَبِّكَ مُسْتَقِيمًا قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَذَّكَّرُونَ ﴿١٢٦﴾
(মূলত) এটিই হচ্ছে তোমার মালিকের (দেখানো) সহজ সরল পথ; আমি অবশ্যই আমার আয়াতসমূহ উপদেশ গ্রহণে আগ্রহীদের জন্যে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২৭﴿
﴾ ৬:১২৭ ﴿
لَهُمْ دَارُ السَّلَامِ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَهُوَ وَلِيُّهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٢٧﴾
তাদের মালিকের কাছে রয়েছে (তাদের) জন্যে শান্তির এক সুন্দর নিবাস, আল্লাহ তা’আলাই তাদের অভিভাবক, (দুনিয়ায়) তারা যা করতো এটা হচ্ছে তারই বিনিময়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২৮﴿
﴾ ৬:১২৮ ﴿
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُمْ مِنَ الْإِنْسِ وَقَالَ أَوْلِيَاؤُهُمْ مِنَ الْإِنْسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَبَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَّلْتَ لَنَا قَالَ النَّارُ مَثْوَاكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ ﴿١٢٨﴾
(স্মরণ করো, ) যেদিন আল্লাহ তা’আলা তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন, (তখন তিনি শয়তানরূপী জ্বিনদের) বলবেন, হে জ্বিন সম্প্রদায়, তোমরা তো (বিভিন্ন সময়) অনেক মানুষকেই গোমরাহ করেছো, (এ সময়) মানুষের ভেতর থেকে (যারা) তাদের বন্ধু (তারা) বলবে, হে আমাদের মালিক, আমাদের এক একজন এক একজনকে (ব্যবহার করে) দুনিয়ার জীবনে প্রচুর লাভ কামাচ্ছিলাম, আর এভাবেই আমরা চূড়ান্ত সময়ে এসে হাযির হয়েছি, যা তুমি আমাদের জন্যে নির্দিষ্ট করে রেখেছিলে; আল্লাহ তা’আলা বলবেন, (হাঁ, আজ সে গোমরাহীর জন্যে) তোমাদের ঠিকানা (হবে জাহান্নামের) আগুন, সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে, অবশ্য আল্লাহ তা’আলা যা কিছু চাইবেন (তা আলাদা) ; তোমার মালিক অবশ্যই প্রজ্ঞাময় ও সম্যক অবহিত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১২৯﴿
﴾ ৬:১২৯ ﴿
وَكَذَلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظَّالِمِينَ بَعْضًا بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿١٢٩﴾
আমি এভাবে একদল যালেমকে তাদেরই (অন্যায়) কার্যকলাপের দরুন আরেক দল যালেমের উপর ক্ষমতাবান করে দেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩০﴿
﴾ ৬:১৩০ ﴿
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنْفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ ﴿١٣٠﴾
(আল্লাহ তা’আলা সেদিন আরো বলবেন, ) হে জ্বিন ও মানুষ সম্পদায় (বলো) , তোমাদের কাছে কি তোমাদেরই মধ্য থেকে আমার (এমন এমন) সব রসূল আসেনি, যারা আমার আয়াতগুলো তোমাদের কাছে বর্ণনা করতো, (উপরন্তু) যারা তোমাদের ভয় দেখাতো যে, তোমাদের আজকের এ দিনের সম্মুখীন হতে হবে; (সেদিন) ওরা বলবে, হাঁ (এসেছিলো, তবে আজ) আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিচ্ছি, (মূলত) দুনিয়ার জীবন এদের প্রতারিত করে রেখেছিলো, তারা নিজেদের বিরুদ্ধেই একথার সাক্ষ্য দেবে যে, তারা (আসলেই) কাফের ছিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩১﴿
﴾ ৬:১৩১ ﴿
ذَلِكَ أَنْ لَمْ يَكُنْ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا غَافِلُونَ ﴿١٣١﴾
এটা এ জন্যে, তোমার মালিক অন্যায়ভাবে এমন কোনো জনপদের মানুষকে ধ্বংস করেন না, যার অধিবাসীরা (সত্য দ্বীন সম্পর্কে) সম্পূর্ণ গাফেল থাকে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩২﴿
﴾ ৬:১৩২ ﴿
وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ ﴿١٣٢﴾
তাদের নিজস্ব কর্ম অনুযায়ী প্রতিটি ব্যক্তির জন্যেই (তার) মর্যাদা রয়েছে, তোমার মালিক তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে মোটেই উদাসীন নন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩৩﴿
﴾ ৬:১৩৩ ﴿
وَرَبُّكَ الْغَنِيُّ ذُو الرَّحْمَةِ إِنْ يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَسْتَخْلِفْ مِنْ بَعْدِكُمْ مَا يَشَاءُ كَمَا أَنْشَأَكُمْ مِنْ ذُرِّيَّةِ قَوْمٍ آخَرِينَ ﴿١٣٣﴾
তোমার মালিক কারো মুখাপেক্ষী নন, দয়া ও অনুগ্রহের মালিক তিনি; তিনি যদি চান তাহলে তোমাদের (এই জনপদ থেকে) সরিয়ে নিতে পারেন, এবং তোমাদের পরে অন্য যাদের তিনি চান এখানে (তোমাদের জায়গায়) বসিয়েও দিতে পারেন, যেমনি করে তোমাদেরও তিনি অন্য সম্পদায়ের বংশধর থেকে উত্থান ঘটিয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩৪﴿
﴾ ৬:১৩৪ ﴿
إِنَّ مَا تُوعَدُونَ لَآتٍ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ ﴿١٣٤﴾
তোমাদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে তা অবশ্যই আসবে, আর তোমরা (আল্লাহ তা’আলাকে) ব্যর্থ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩৫﴿
﴾ ৬:১৩৫ ﴿
قُلْ يَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَى مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَنْ تَكُونُ لَهُ عَاقِبَةُ الدَّارِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ ﴿١٣٥﴾
(তাদের তুমি বলে দাও, ) হে আমার জাতি, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় (যা যা করার) করে যাও, আমিও (আমার করণীয়) করে যাবো, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কার জন্যে পরিণামের (সুন্দর) ঘরটি (নির্দিষ্ট) রয়েছে; (এও জানতে পারবে যে, ) যালেমরা কখনো সাফল্য লাভ করতে পারে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩৬﴿
﴾ ৬:১৩৬ ﴿
وَجَعَلُوا لِلَّهِ مِمَّا ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ وَالْأَنْعَامِ نَصِيبًا فَقَالُوا هَذَا لِلَّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهَذَا لِشُرَكَائِنَا فَمَا كَانَ لِشُرَكَائِهِمْ فَلَا يَصِلُ إِلَى اللَّهِ وَمَا كَانَ لِلَّهِ فَهُوَ يَصِلُ إِلَى شُرَكَائِهِمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿١٣٦﴾
স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা যে শস্য উৎপাদন করেছেন ও গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, এ (মূর্খ) ব্যক্তিরা তারই এক অংশ আল্লাহর জন্যে নির্দিষ্ট করে রাখে এবং নিজেদের খেয়ালখুশীমতো (একথা) বলে, এ অংশ হচ্ছে আল্লাহর জন্যে, আর এ অংশ হচ্ছে আমাদের দেবতাদের জন্যে, অতপর যা তাদের দেবতাদের জন্যে (রাখা হয়) তা (কখনো) আল্লাহর কাছ পর্যন্ত পৌঁছায় না, (যদিও) আল্লাহর (নামে) যা (রাখা হয় তা শেষতক) তাদের দেবতাদের কাছে গিয়েই পৌঁছে; কতো নিকৃষ্ট তাদের এ বিচার!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩৭﴿
﴾ ৬:১৩৭ ﴿
وَكَذَلِكَ زَيَّنَ لِكَثِيرٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ قَتْلَ أَوْلَادِهِمْ شُرَكَاؤُهُمْ لِيُرْدُوهُمْ وَلِيَلْبِسُوا عَلَيْهِمْ دِينَهُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ ﴿١٣٧﴾
এভাবে বহু মুশরিকের ক্ষেত্রেই তাদের শরীক (দেবতা) রা তাদের আপন সন্তানদের হত্যা করার (জঘন্য) কাজটিকেও একান্ত শোভনীয় করে রেখেছে, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের ধ্বংস সাধন করা এবং তাদের গোটা জীবন বিধানকেই তাদের কাছে সন্দেহের বিষয়ে পরিণত করে দেয়া, অবশ্য আল্লাহ তা’আলা চাইলে তারা (কখনো) এ কাজ করতো না, অতএব তুমি তাদের ছেড়ে দাও, মিথ্যা রচনা নিয়ে (তাদের তুমি কিছুদিন ব্যস্তু) থাকতে দাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩৮﴿
﴾ ৬:১৩৮ ﴿
وَقَالُوا هَذِهِ أَنْعَامٌ وَحَرْثٌ حِجْرٌ لَا يَطْعَمُهَا إِلَّا مَنْ نَشَاءُ بِزَعْمِهِمْ وَأَنْعَامٌ حُرِّمَتْ ظُهُورُهَا وَأَنْعَامٌ لَا يَذْكُرُونَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا افْتِرَاءً عَلَيْهِ سَيَجْزِيهِمْ بِمَا كَانُوا يَفْتَرُونَ ﴿١٣٨﴾
তারা বলে, এসব গবাদিপশু এবং এ খাদ্যশস্য নিষিদ্ধ (তালিকাভুক্ত) , আমরা যাকে চাইবো সে ছাড়া অন্য কেউ তা খেতে পারবে না, এটা তাদের (মনগড়া একটা) ধারণা মাত্র (আবার তারা মনে করে) , কিছু গবাদিপশু আছে যার পীঠ (আরোহণ কিংবা মাল সামান রাখার জন্যে) নিষিদ্ধ, আবার কিছু গবাদিপশু আছে যার উপর (যবাই করার সময়) তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে না, আল্লাহর উপর মিথ্যা রচনা করার উদ্দেশেই (তাদের) এসব অপচেষ্টা; অচিরেই আল্লাহ তা’আলা তাদের এ মিথ্যাচারের জন্যে তাদের (যথাযথ) প্রতিফল দান করবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৩৯﴿
﴾ ৬:১৩৯ ﴿
وَقَالُوا مَا فِي بُطُونِ هَذِهِ الْأَنْعَامِ خَالِصَةٌ لِذُكُورِنَا وَمُحَرَّمٌ عَلَى أَزْوَاجِنَا وَإِنْ يَكُنْ مَيْتَةً فَهُمْ فِيهِ شُرَكَاءُ سَيَجْزِيهِمْ وَصْفَهُمْ إِنَّهُ حَكِيمٌ عَلِيمٌ ﴿١٣٩﴾
তারা বলে, এসব গবাদিপশুর পেটে যা কিছু আছে তা শুধু আমাদের পুরুষদের জন্যেই নির্দিষ্ট এবং আমাদের (মহিলা) সাথীদের জন্যে তা হারাম, তবে যদি এ (পশুর পেটে) মরা কিছু থাকে তাহলে তাতে তারা (নারী-পুরুষ) উভয়েই সমান অংশীদার; আল্লাহ তা’আলা অতি শীঘ্রই তাদের এ ধরনের উদ্ভট কথা বলার প্রতিফল দান করবেন; নিসন্দেহে তিনি হচ্ছেন প্রবল প্রজ্ঞাময়, তিনি সর্বজ্ঞ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪০﴿
﴾ ৬:১৪০ ﴿
قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ قَتَلُوا أَوْلَادَهُمْ سَفَهًا بِغَيْرِ عِلْمٍ وَحَرَّمُوا مَا رَزَقَهُمُ اللَّهُ افْتِرَاءً عَلَى اللَّهِ قَدْ ضَلُّوا وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ ﴿١٤٠﴾
অবশ্য যারা (নেহায়াত) নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞতার বশবর্র্তী হয়ে নিজেদের সন্তানদের হত্যা করলো এবং আল্লাহ তা’আলা তাদের যে রিযিক দান করেছেন তা নিজেদের উপর হারাম করে নিলো, আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে (নানা ধরনের) মিথ্যা (কথা) রচনা করলো; এসব কাজের মাধ্যমে এরা সবাই দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্তু হয়ে গেলো, এরা কখনো সৎপথের অনুসারী ছিলো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪১﴿
﴾ ৬:১৪১ ﴿
وَهُوَ الَّذِي أَنْشَأَ جَنَّاتٍ مَعْرُوشَاتٍ وَغَيْرَ مَعْرُوشَاتٍ وَالنَّخْلَ وَالزَّرْعَ مُخْتَلِفًا أُكُلُهُ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُتَشَابِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ كُلُوا مِنْ ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ ﴿١٤١﴾
মহান আল্লাহ তা’আলা- যিনি নানা প্রকারের উদ্যান বানিয়েছেন, কিছু লতা-গুল্ম, যা কোনো কান্ড ছাড়াই মাচানের উপর তুলে রাখা (হয়েছে, আবার কিছু গাছ) , যা মাচানের উপর তুলে রাখা হয়নি (স্বীয় কান্ডের উপর তা এমনিই দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরো সৃষ্টি করেছেন) , খেজুর গাছ এবং বিভিন্ন (স্বাদ ও) প্রকার বিশিষ্ট খাদ্যশস্য ও আনার (এগুলো স্বাদে গন্ধে এক রকমও হতে পারে) , আবার তা ভিন্ন ধরনেরও হতে পারে, যখন তা ফলবান হয় তখন তোমরা তার ফল খাও, তোমরা ফসল তোলার দিনে (যে বঞ্চিত) তার হক আদায় করো, কখনো অপচয় করো না; কেননা, আল্লাহ তা’আলা অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪২﴿
﴾ ৬:১৪২ ﴿
وَمِنَ الْأَنْعَامِ حَمُولَةً وَفَرْشًا كُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ ﴿١٤٢﴾
গবাদিপশুর মধ্যে (কিছু পশু হচ্ছে) ভারবাহী ও কিছু হচ্ছে খাবার উপযোগী, আল্লাহ তা’আলা যা তোমাদের দান করেছেন তা তোমরা খাও এবং (এ পর্যায়ে) কখনো শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না; অবশ্যই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪৩﴿
﴾ ৬:১৪৩ ﴿
ثَمَانِيَةَ أَزْوَاجٍ مِنَ الضَّأْنِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْمَعْزِ اثْنَيْنِ قُلْ آلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿١٤٣﴾
(আল্লাহ তা’আলা তোমাদের দিয়েছেন এই) আট প্রকারের গৃহপালিত জন্তু, (প্রথমত) তার দুটো মেষ, (দ্বিতীয়ত) তার দুটো ছাগল (হে মোহাম্মদ) , তুমি (তাদের) জিজ্ঞেস করো, এর (নর দুটো কিংবা মাদি) অথবা তাদের মায়েরা যাকিছু পেটে রেখেছে তার কোনোটি (কি আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে) হারাম করেছেন? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ বলো যদি তোমরা সত্যবাদী হও!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪৪﴿
﴾ ৬:১৪৪ ﴿
وَمِنَ الْإِبِلِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْبَقَرِ اثْنَيْنِ قُلْ آلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ وَصَّاكُمُ اللَّهُ بِهَذَا فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ﴿١٤٤﴾
(তৃতীয়ত) দুটো উট, (চতুর্থত) দুটো গরু; এর (নর দুটো কিংবা মাদী) দুটো কি আল্লাহ তা’আলা হারাম করেছেন, অথবা এদের উভয়ের মায়েরা যা কিছু পেটে রেখেছে তা (কি তিনি তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন) ? আল্লাহ তা’আলা যখন তোমাদের (হারামের) আদেশটি দিয়েছিলেন তখন তোমরা কি সেখানে উপস্থিত ছিলে? অতপর তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে হতে পারে যে মানুষকে গোমরাহ করার জন্যে অজ্ঞতাবশত আল্লাহর নামে মিথ্যা (কথা) রচনা করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা সীমালংঘনকারী সম্পদায়কে সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪৫﴿
﴾ ৬:১৪৫ ﴿
قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ رَبَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٤٥﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি (এদের) বলো, আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে একজন ভোজনকারী মানুষ (সাধারণত) যা খায় তার মধ্যে এমন কোনো জিনিস তো আমি পাচ্ছি না যাকে হারাম করা হয়েছে, (হাঁ, তা যদি) মরা জন্তু, প্রবাহিত রক্ত এবং শুয়োরের গোশ্ত (হয় তাহলে তা অবশ্যই হারাম) , অতপর এসব হচ্ছে নাপাক, অথবা এমন (এক) অবৈধ (জন্তু) যা আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কারো নামে যবাই করা হয়েছে, তবে যদি কাউকে না-ফরমানী এবং সীমালংঘনজনিত অবস্থা ব্যতিরেকে (এর কোনো একটি জিনিস খেতে) বাধ্য করা হয়, তাহলে (তার ক্ষেত্রে) তোমার মালিক অবশ্যই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪৬﴿
﴾ ৬:১৪৬ ﴿
وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِي ظُفُرٍ وَمِنَ الْبَقَرِ وَالْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ شُحُومَهُمَا إِلَّا مَا حَمَلَتْ ظُهُورُهُمَا أَوِ الْحَوَايَا أَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍ ذَلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِبَغْيِهِمْ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ ﴿١٤٦﴾
আর আমি ইহুদীদের জন্যে নখযুক্ত সব পশুই হারাম করে দিয়েছি, গরু এবং ছাগলের চর্বিও আমি তাদের জন্যে হারাম করেছি, তবে (জন্তুর চর্বির) যা কিছু তাদের উভয়ের পিঠ, আঁত কিংবা হাড়ের সাথে জড়ানো থাকে তা (হারাম) নয়; এভাবেই এগুলোকে (হারাম করে) আমি তাদের অবাধ্যতার শাস্তিু দিয়েছিলাম, নিসন্দেহে আমি সত্যবাদী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪৭﴿
﴾ ৬:১৪৭ ﴿
فَإِنْ كَذَّبُوكَ فَقُلْ رَبُّكُمْ ذُو رَحْمَةٍ وَاسِعَةٍ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُهُ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ ﴿١٤٧﴾
(এরপরও) যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে তাহলে তুমি বলো, অবশ্যই তোমাদের মালিক এক বিশাল দয়ার আধার, (তবে) অপরাধীদের উপর থেকে তাঁর শাস্তিু কেউই ফেরাতে পারবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪৮﴿
﴾ ৬:১৪৮ ﴿
سَيَقُولُ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكْنَا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِنْ شَيْءٍ كَذَلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ حَتَّى ذَاقُوا بَأْسَنَا قُلْ هَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوهُ لَنَا إِنْ تَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ أَنْتُمْ إِلَّا تَخْرُصُونَ ﴿١٤٨﴾
অচিরেই এ মুশরিক লোকগুলো বলতে শুরু করবে, যদি আল্লাহ তা’আলা চাইতেন তাহলে আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষরা তো শেরেক করতাম না, না (এভাবে) আমরা কোনো জিনিস (নিজেদের উপর) হারাম করে নিতাম; (তুমি তাদের বলো, এর) আগেও অনেকে (এভাবে আল্লাহর আয়াতকে) অস্বীকার করেছে; অবশেষে তারা আমার শাস্তিুর স্বাদ ভোগ করেছে; তুমি (তাদের) জিজ্ঞেস করো, তোমাদের কাছে কি সত্যিই (এমন) কোনো জ্ঞান (মজুদ) আছে? (থাকলে) অতপর তা বের করে আমার জন্যে নিয়ে এসো, তোমরা তো কল্পনার উপর (নির্ভর করেই) কথা বলো এবং (হামেশাই) মিথ্যার অনুসরণ করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৪৯﴿
﴾ ৬:১৪৯ ﴿
قُلْ فَلِلَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ فَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ ﴿١٤٩﴾
তুমি (আরো) বলো, (সব কিছুর) চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহ তা’আলার কাছেই রয়েছে, তিনি যদি চাইতেন তাহলে তিনি তোমাদের সবাইকেই সৎপথে পরিচালিত করে দিতেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫০﴿
﴾ ৬:১৫০ ﴿
قُلْ هَلُمَّ شُهَدَاءَكُمُ الَّذِينَ يَشْهَدُونَ أَنَّ اللَّهَ حَرَّمَ هَذَا فَإِنْ شَهِدُوا فَلَا تَشْهَدْ مَعَهُمْ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَهُمْ بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ ﴿١٥٠﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি বলো (যাও) , তোমাদের সেসব সাক্ষী নিয়ে এসো যারা একথার সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তা’আলাই এসব জিনিস (তোমাদের উপর) হারাম করেছেন। (তাদের মধ্যে) কিছু সাক্ষী যদি সাক্ষ্য দেয়ও, তবু তুমি তাদের সাথে কোনো সাক্ষ্য দিয়ো না, যারা আমার আয়াতকে অস্বীকার করেছে, যারা পরকালের উপর ঈমান আনেনি, আসলে তারা অন্য কিছুকে তাদের মালিকের সমকক্ষ মনে করে, (তাদেরও তুমি কখনো অনুসরণ করো না।)
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫১﴿
﴾ ৬:১৫১ ﴿
قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿١٥١﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি বলো, এসো আমিই (বরং) তোমাদের বলে দেই তোমাদের মালিক কোন্ কোন্ জিনিস তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন (সে জিনিসগুলো হচ্ছে) , তোমরা তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করবে না, পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করবে, দারিদ্রের আশংকায় কখনো তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না; কেননা আমিই তোমাদের ও তাদের উভয়েরই আহার যোগাই, প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে হোক তোমরা অশ্লীলতার কাছেও যেয়োনা, আল্লাহ তা’আলা যে জীবনকে তোমাদের জন্যে মর্যাদাবান করেছেন তাকে কখনো যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে হত্যা করো না এ হচ্ছে তোমাদের (জন্যে কতিপয় নির্দেশ) , আল্লাহ তা’আলা এর মাধ্যমে তোমাদের আদেশ দিয়েছেন, এগুলো যেন তোমরা মেনে চলো, আশা করা যায় তোমরা (তাঁর বাণীসমূহ) অনুধাবন করতে পারবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫২﴿
﴾ ৬:১৫২ ﴿
وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَبِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿١٥٢﴾
তোমরা কখনো এতীমদের সম্পদের কাছেও যাবে না, তবে উদ্দেশ্য যদি নেক হয় তাহলে সে একটা নির্দিষ্ট বয়সসীমায় পৌছা পর্যন্ত (কোনো পদক্ষেপ নিলে তা ভিন্ন কথা) , পরিমাপ ও ওযন (করার সময়) ন্যায্যভাবেই তা করবে, আমি (কখনো) কারো উপর তার সাধ্যসীমার বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপাই না, যখনি তোমরা কোনো ব্যাপারে কথা বলবে তখন ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে, যদি তা (তোমাদের একান্ত) আপনজনের (বিরুদ্ধে) -ও হয়, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে দেয়া সব অংগীকার পূরণ করো এ হচ্ছে তোমাদের (জন্যে আরো কতিপয় বিধান) ; এর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের আদেশ দিয়েছেন (তোমরা যেন এগুলো মেনে চলো) , আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫৩﴿
﴾ ৬:১৫৩ ﴿
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿١٥٣﴾
এটা হচ্ছে আমার (দেখানো) সহজ সরল পথ, অতএব একমাত্র এরই তোমরা অনুসরণ করো, কখনো ভিন্ন পথ অবলম্বন করো না, কেননা (ভিন্ন পথ অবলম্বন করলে) তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে এ হচ্ছে তোমাদের (জন্যে আরো কয়েকটি বিধান) ; আল্লাহ তা’আলা (এর মাধ্যমে) তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন (যেন তোমরা এগুলো মেনে চলো) , আশা করা যায় তোমরা (আল্লাহ তা’আলাকে) ভয় করবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫৪﴿
﴾ ৬:১৫৪ ﴿
ثُمَّ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ تَمَامًا عَلَى الَّذِي أَحْسَنَ وَتَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لَعَلَّهُمْ بِلِقَاءِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ ﴿١٥٤﴾
অতপর আমি মূসাকে (হেদায়াত সম্বলিত) কিতাব দান করেছিলাম, (তা ছিলো) পরিপূর্ণ এবং বিশদ হেদায়াত ও রহমত, যাতে করে (বনী ইসরাঈল সম্পদায়ের) লোকেরা এ কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করে যে, (একদিন) তাদের (সবাইকে) তাদের মালিকের সমীপে হাযির হতে হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫৫﴿
﴾ ৬:১৫৫ ﴿
وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿١٥٥﴾
এ কল্যাণময় কিতাব আমিই (তোমাদের জন্যে) নাযিল করেছি, অতএব তোমরা এর অনুসরণ করো এবং (কিতাবের শিক্ষানুযায়ী) তোমরা (আল্লাহ তা’আলাকে) ভয় করো, হয়তো তোমাদের উপর (দয়া ও) অনুগ্রহ প্রদর্শন করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫৬﴿
﴾ ৬:১৫৬ ﴿
أَنْ تَقُولُوا إِنَّمَا أُنْزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِنْ قَبْلِنَا وَإِنْ كُنَّا عَنْ دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ ﴿١٥٦﴾
(এখন) তোমরা আর একথা বলতে পারবে না যে, (আল্লাহর) কিতাব তো আমাদের আগের (ইহুদী ও খৃষ্টান এ) দুটো সম্পদায়কেই দেয়া হয়েছিলো, (তাই) আমরা সেসব কিতাবের পাঠ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫৭﴿
﴾ ৬:১৫৭ ﴿
أَوْ تَقُولُوا لَوْ أَنَّا أُنْزِلَ عَلَيْنَا الْكِتَابُ لَكُنَّا أَهْدَى مِنْهُمْ فَقَدْ جَاءَكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَّبَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَصَدَفَ عَنْهَا سَنَجْزِي الَّذِينَ يَصْدِفُونَ عَنْ آيَاتِنَا سُوءَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوا يَصْدِفُونَ ﴿١٥٧﴾
অথবা একথা বলারও কোনো অজুহাত পাবে না যে, যদি (ইহুদী খৃস্টানদের মতো) আমাদেরও কোনো কিতাব দেয়া হতো, তা হলে আমরা তো তাদের চাইতে বেশী সৎপথের অনুসারী হতে পারতাম, (আজ) তোমাদের কাছে (সত্যিই) তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ, হেদায়াত ও রহমত (সর্বস্ব কিতাব) এসেছে (তোমরা এর অনুসরণ করো) , তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে, যে আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করবে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে (জেনে রেখো) , যারাই এভাবে আমার আয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অচিরেই আমি তাদের এ জঘন্য আচরণের জন্যে এক নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তিু দেবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫৮﴿
﴾ ৬:১৫৮ ﴿
هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا قُلِ انْتَظِرُوا إِنَّا مُنْتَظِرُونَ ﴿١٥٨﴾
তারা কি (সে দিনের) প্রতীক্ষা করছে যে, তাদের কাছে (আসমান থেকে আল্লাহ তা’আলার) ফেরেশ্তা নাযিল হবে, কিংবা স্বয়ং তোমাদের মালিকই তাদের কাছে এসে (তাদের হাতে কিতাব দিয়ে) যাবেন, অথবা মালিকের পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শনের কোনো অংশ এসে (তাদের জান্নাত-জাহান্নাম দেখিয়ে দিয়ে) যাবে, (অথচ) যেদিন সত্যিই তোমার মালিকের (পক্ষ থেকে এমন) কোনো নিদর্শন আসবে, সেদিন তো (হবে কেয়ামতের দিন, তখন) যে ব্যক্তি এর আগে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি তার ঈমান দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করেনি, তার জন্যে এ ঈমান আনাটা কোনোই কাজে আসবে না; (হে মোহাম্মদ, ) তুমি (তাদের) বলো, (ঠিক আছে, ) তোমরাও প্রতীক্ষা করো, আমিও প্রতীক্ষা করছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৫৯﴿
﴾ ৬:১৫৯ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ﴿١٥٩﴾
যারা নিজেদের দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে নিজেরাই নানা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের কোনো দায়িত্বই তোমার উপর নেই; তাদের (ফয়সালার) ব্যাপারটা আল্লাহ তা’আলার হাতে, (যেদিন তারা তাঁর কাছে ফিরে যাবে) তখন তিনি তাদের বিস্তুারিত বলবেন, তারা কে কি করছিলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৬০﴿
﴾ ৬:১৬০ ﴿
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿١٦٠﴾
তোমাদের মাঝে কেউ যদি একটা সৎকাজ নিয়ে (আল্লাহ তা’আলার সামনে) আসে, তাহলে তার জন্যে দশ গুণ বিনিময়ের ব্যবস্থা থাকবে, (অপরদিকে) যদি কেউ একটা গুনাহের কাজ নিয়ে আসে, তাকে (তার) একটাই প্রতিফল দেয়া হবে, (সেদিন) তাদের কারো উপরই যুলুম করা হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৬১﴿
﴾ ৬:১৬১ ﴿
قُلْ إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿١٦١﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি (তাদের) বলো, অবশ্যই আমার মালিক আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন সুপ্রতিষ্ঠিত জীবন বিধান, এটাই হচ্ছে ইবরাহীমের একনিষ্ঠ প্থ, সে কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত ছিলো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৬২﴿
﴾ ৬:১৬২ ﴿
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٦٢﴾
তুমি (একান্ত বিনয়ের সাথে) বলো, অবশ্যই আমার নামায, আমার (আনুষ্ঠানিক) কাজকর্ম, আমার জীবন, আমার মুত্যু সব কিছুই সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তা’আলার জন্যে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৬৩﴿
﴾ ৬:১৬৩ ﴿
لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ ﴿١٦٣﴾
তাঁর শরীক (সমকক্ষ) কেউ নেই, আর একথা (বলার জন্যেই) আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, (আÍসমর্পণকারী) মুসলমানদের মধ্যে আমিই হচ্ছি সর্বপ্রথম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৬৪﴿
﴾ ৬:১৬৪ ﴿
قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِي رَبًّا وَهُوَ رَبُّ كُلِّ شَيْءٍ وَلَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ ﴿١٦٤﴾
তুমি (আরো) বলো, (এরপরও) আমি কি আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কোনো মালিক সন্ধান করে বেড়াবো? অথচ (আমি জানি) তিনিই সব কিছুর (নিরংকুশ) মালিক; (তাঁর বিধান হচ্ছে) প্রতিটি ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্যে এককভাবে নিজেই দায়ী হবে এবং কেয়ামতের দিন কোনো বোঝা বহনকারী ব্যক্তিই অন্য কোনো লোকের (পাপের) বোঝা বহন করবে না, অতপর (একদিন) তোমাদের সবাইকে তোমাদের (আসল) মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, সেদিন আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সেসব কিছুই জানিয়ে দেবেন, যা নিয়ে (দুনিয়ার জীবনে) তোমরা মতবিরোধ করতে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬:১৬৫﴿
﴾ ৬:১৬৫ ﴿
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الْأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ إِنَّ رَبَّكَ سَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٦٥﴾
তিনিই সেই (মহান) সত্তা, যিনি তোমাদের এ যমীনে তাঁর খলিখা বানিয়েছেন এবং (এ কারণে তিনি) তোমাদের একজনকে অন্য জনের উপর (কিছু বেশী) মর্যাদা দান করেছেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সবাইকে যা কিছু দিয়েছেন তা দিয়েই তিনি তোমাদের কাছ থেকে (কৃতজ্ঞতার) পরীক্ষা নিতে চান; (জেনে রেখো, ) তোমার মালিক শাস্তিুদানের ব্যাপারে অত্যন্ত (কঠোর ও) তৎপর, (আবার) তিনিই বড়ো ক্ষমাশীল ও পরম দয়াময়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]