🕌
الصف
(৬১) আস-সফ
১৪
﴾৬১:১﴿
﴾ ৬১:১ ﴿
سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿١﴾
আসমানসমুহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহর (পবিত্রতা ও) মাহাত্ম ঘোষণা করে, তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রবল প্রজ্ঞাময়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:২﴿
﴾ ৬১:২ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ ﴿٢﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা এমন সব কথা বলো কেন যা তোমরা (নিজেরা) করো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:৩﴿
﴾ ৬১:৩ ﴿
كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ ﴿٣﴾
আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ যে, তোমরা এমন সব কথা বলে বেড়াবে যা তোমরা করবে না!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:৪﴿
﴾ ৬১:৪ ﴿
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ ﴿٤﴾
আল্লাহ তাআলা তাদের (বেশী) পছন্দ করেন যারা তাঁর পথে এমনভাবে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, যেন তারা এক শিশাঢালা সুদৃঢ় প্রাচীর।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:৫﴿
﴾ ৬১:৫ ﴿
وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِي وَقَدْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ ﴿٥﴾
(মুসার ঘটনা স্মরণ করো, ) যখন মুসা নিজের জাতিকে বলেছিলো, হে আমার জাতি, তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছো, অথচ তোমরা এ কথা জানো, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো একজন রসূল; অতঃপর লোকেরা যখন বাঁকা পথে চলতে আরম্ভ করলো, তখন আল্লাহ তা'আলা ও তাদের মন বাঁকা করে দিলেন; আল্লাহ তাআলা কখনো না-ফরমান লোকদের সঠিক পথের দিশা দেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:৬﴿
﴾ ৬১:৬ ﴿
وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ ﴿٦﴾
(স্মরণ করো, ) যখন মারইয়াম পুত্র ঈসা তাদের বললো, হে বনী ইসরাঈলের লোকেরা, আমি তোমাদের কাছে পাঠানো আল্লাহর এক রাসুল, আমার আগের তাওরাত কিতাবে যা কিছু আছে আমি তার সত্যতা স্বীকার করি এবং তোমাদের জন্যে আমি হচ্ছি একজন সুসংবাদাতা, (তার একটি সুসংবাদ হচ্ছে) , আমার পর এক রসূল আসবে, তার নাম আহমদ; অতঃপর (আজ) যখন সে (আহমদ সত্য সত্যিই) তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে হাযির হলো তখন তারা বললো, এ হচ্ছে এক সুস্পষ্ট যাদু!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:৭﴿
﴾ ৬১:৭ ﴿
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُوَ يُدْعَى إِلَى الْإِسْلَامِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ﴿٧﴾
তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে আছে যে আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, (অথচ) তাকে ইসলামের দিকেই দাওয়াত দেয়া হচ্ছে; (মূলত) আল্লাহ তা'আলা কখনো সীমালংঘনকারীদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:৮﴿
﴾ ৬১:৮ ﴿
يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ ﴿٨﴾
এ লোকেরা মুখের ফুকারেই আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়; অথচ তিনি তার এ নূর পরিপূর্ণ করে দিতে চান; তা কাফেরদের কাছে যতোই অপছন্দনীয় হোক না কেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:৯﴿
﴾ ৬১:৯ ﴿
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ ﴿٩﴾
তিনি তাঁর রসূলকে একটি স্পষ্ট পথনির্দেশ ও সঠিক জীবন বিধান দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যেন সে (রসূল) একে দুনিয়ার (প্রচলিত) সব কয়টি জীবন ব্যবস্থার উপর বিজয়ী করে দিতে পারে, তা মুশরিকদের কাছে যতোই অপছন্দনীয় হোক না কেন!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:১০﴿
﴾ ৬১:১০ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿١٠﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, আমি কি তোমাদের এমন একটি (লাভজনক) ব্যবসার সন্ধান দেবো যা তোমাদের (মহাবিচারের দিনে) কঠোর আযাব থেকে বাঁচিয়ে দেবে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:১১﴿
﴾ ৬১:১১ ﴿
تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١١﴾
(হ্যাঁ, সে ব্যবসাটি হচ্ছে, ) তোমরা আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রসূলের উপর ঈমান আনবে এবং আল্লাহর (দ্বীন প্রতিষ্ঠার) পথে তোমাদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করবে; এটাই তোমাদের জন্যে ভালো, যদি তোমরা (কথাটা) বুঝতে পারতে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:১২﴿
﴾ ৬১:১২ ﴿
يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿١٢﴾
(ঠিকমতো একাজগুলো করতে পারলে) আল্লাহ তাআলা তোমাদের গুনাহসমুহ মাফ করে দেবেন এবং শেষ বিচারের দিন) তোমাদের তিনি প্রবেশ করাবেন এমন এক (সুরম্য) জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত থাকবে, (সর্বোপরি) তিনি তোমাদের আরো প্রবেশ করাবেন জান্নাতের স্থায়ী নিবাসস্থলের সুন্দর ঘরসমুহে; আর এটাই হচ্ছে সবচাইতে বড়ো সাফল্য,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:১৩﴿
﴾ ৬১:১৩ ﴿
وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٣﴾
আরো একটি (বড়ো ধরনের) অনুগ্রহ (রয়েছে) যা হবে তোমাদের একান্ত কাম্য (এবং তা হচ্ছে) , আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য ও (ময়দানের) আসন্ন বিজয়; (যাও, তোমরা মু’মিন বান্দাদের) এ সুসংবাদ দাও ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬১:১৪﴿
﴾ ৬১:১৪ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا أَنْصَارَ اللَّهِ كَمَا قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ لِلْحَوَارِيِّينَ مَنْ أَنْصَارِي إِلَى اللَّهِ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنْصَارُ اللَّهِ فَآمَنَتْ طَائِفَةٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَكَفَرَتْ طَائِفَةٌ فَأَيَّدْنَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَى عَدُوِّهِمْ فَأَصْبَحُوا ظَاهِرِينَ ﴿١٤﴾
হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা সবাই আল্লাহর (দ্বীনের) সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমনি করে মারইয়াম পুত্র ঈসা (তার) সংগী সাথীদের বলেছিলো, কে আছো তোমরা আল্লাহর (দ্বীনের) পথে আমার সাহায্যকারী? তারা বলেছিলো, হ্যাঁ, আমরা আছি আল্লাহর (পথের) সাহায্যকারী, অতঃপর বনী ইসরাঈলের একটি দল (সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার উপর) ঈমান আনলো, আরেক দল (তা সম্পূর্ণ) অস্বীকার করলো, অতঃপর আমি (অস্বীকারকারী) দুশমনদের উপর ঈমানদারদের সাহায্য করলাম, ফলে (যারা ঈমানদার) তারাই বিজয়ী হলো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]