🕌
التغابن
(৬৪) আত-তাগাবুন
১৮
﴾৬৪:১﴿
﴾ ৬৪:১ ﴿
يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١﴾
আসমানসমুহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ঘোষণা করছে, (যাবতীয়) সার্বভৌমত্ব (যেমন) তাঁর জন্যে, (তেমনি যাবতীয়) প্রশংসাও তাঁর জন্যে, তিনি সকল কিছুর উপর প্রবল ক্ষমতাবান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:২﴿
﴾ ৬৪:২ ﴿
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ فَمِنْكُمْ كَافِرٌ وَمِنْكُمْ مُؤْمِنٌ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٢﴾
তিনিই তোমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন, (এর পর) তোমাদের কিছু লোক মু’মিন হলো আবার কিছু লোক কাফের থেকে গেলো; (আসলে) তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তাআলা সব কিছুই দেখেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:৩﴿
﴾ ৬৪:৩ ﴿
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ ﴿٣﴾
তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে সঠিকভাবে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের তিনি (মানুষের) আকৃতি দিয়েছেন, তাও আবার অতি সুন্দর করে তিনি তোমাদের আকৃতি দিয়েছেন, তাঁর কাছেই (তোমাদের আবার) ফিরে যেতে হবে ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:৪﴿
﴾ ৬৪:৪ ﴿
يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿٤﴾
আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন, তিনি জানেন তোমরা যা কিছু গোপন করো আর যা কিছু প্রকাশ করো; আল্লাহ তাআলা তোমাদের মনের কথাও জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:৫﴿
﴾ ৬৪:৫ ﴿
أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَبَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ فَذَاقُوا وَبَالَ أَمْرِهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٥﴾
তোমাদের কাছে কি সেসব লোকের খোঁজ খবর কিছুই পৌঁছেনি যারা এর আগে (বিভিন্ন নবীর সময়ে) কুফরী করেছিলো, অতঃপর তারা (দুনিয়াতেই) নিজেদের কর্মফল ভোগ করে নিয়েছে, (পরকালেও) তাদের জন্যে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক আযাব রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:৬﴿
﴾ ৬৪:৬ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّهُ كَانَتْ تَأْتِيهِمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَقَالُوا أَبَشَرٌ يَهْدُونَنَا فَكَفَرُوا وَتَوَلَّوْا وَاسْتَغْنَى اللَّهُ وَاللَّهُ غَنِيٌّ حَمِيدٌ ﴿٦﴾
(এটা) এ কারণে যে, তাদের কাছে সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ নিয়ে যখনি আল্লাহর কোনো রসূল আসতো তখনি তারা বলতো, (কতিপয়) মানুষই কি আমাদের পথের সন্ধান দেবে? অতএব তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করলো এবং (ঈমানের পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো, অবশ্য আল্লাহ তা'আলা র (তাদের কাছ থেকে) কিছুই পাওয়ার ছিলো না, আল্লাহ তা'আলা কারোই মুখাপেক্ষী নন, তিনি চির প্রশংসিত।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:৭﴿
﴾ ৬৪:৭ ﴿
زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ ﴿٧﴾
কাফেররা ধারণা করে নিয়েছে, একবার মরে গেলে কখনো তাদের পুনরুত্থিত করা হবে না; তুমি বলো, না তা কখনো নয়; আমার মালিকের শপথ, অবশ্যই মৃত্যুর পর তোমাদের সবাইকে আবার (কবর থেকে) ওঠানো হবে এবং তোমাদের (এক এক করে) বলে দেয়া হবে তোমরা কি কাজ করে এসেছো; আর আল্লাহ তাআলা র পক্ষে এটা অত্যন্ত সহজ কাজ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:৮﴿
﴾ ৬৪:৮ ﴿
فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالنُّورِ الَّذِي أَنْزَلْنَا وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿٨﴾
অতএব তোমরা আল্লাহ তাআলা , তাঁর রসূল এবং আমি যে আলো তোমাদের দিয়েছি তার (বাহন। কোরআনের) উপর ঈমান আনো; তোমরা যা কিছুই করো আল্লাহ তা'আলা তা ভালো করেই জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:৯﴿
﴾ ৬৪:৯ ﴿
يَوْمَ يَجْمَعُكُمْ لِيَوْمِ الْجَمْعِ ذَلِكَ يَوْمُ التَّغَابُنِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ وَيَعْمَلْ صَالِحًا يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿٩﴾
যেদিন তোমাদের (আগে পরের সমস্ত মানুষ ও জ্বিনকে) একত্র করা হবে, (একত্র করা হবে সে) মহাসমাবেশের দিনটির জন্যে (যেদিন বলা হবে, হে মানুষ ও জ্বিন) , আজকের দিনটিই হচ্ছে (তোমাদের আসল) লাভ লোকসানের দিন; (লাভের দিন তার জন্যে) যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে, তিনি (আজ) তার গুনাহ মোচন করে দেবেন এবং তাকে তিনি এমন এক (সুরম্য) জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, তারা সেখানে অনন্তকাল অবস্থান করবে; (আর) এটাই হচ্ছে পরম সাফল্য।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:১০﴿
﴾ ৬৪:১০ ﴿
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ خَالِدِينَ فِيهَا وَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿١٠﴾
(এটা লোকসানের দিন তাদের জন্যে, ) যারা (আল্লাহ তাআলা কে) অস্বীকার করেছে এবং আমার আয়াতসমুহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে (এদের ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্ত হচ্ছে) , এরা সবাই জাহান্নামের অধিবাসী (হবে) , সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে; কতো নিকৃষ্ট সে আবাসস্থল!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:১১﴿
﴾ ৬৪:১১ ﴿
مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿١١﴾
আল্লাহ তা'আলা র অনুমতি ব্যতীত (কোনো) বিপদই আসে না; যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলা র উপর বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহ তাআলা তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন; আর আল্লাহ তাআলা সব বিষয়েই সম্যক অবগত রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:১২﴿
﴾ ৬৪:১২ ﴿
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَإِنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴿١٢﴾
তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রসূলের, তোমরা যদি (এ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে (জেনে রেখো) , আমার রসূলের দায়িত্ব (হচ্ছে আমার কথাগুলো) সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:১৩﴿
﴾ ৬৪:১৩ ﴿
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ ﴿١٣﴾
আল্লাহ তা'আলা (মহান সত্তা) , তিনি ছাড়া কোনোই মাবুদ নেই, অতএব প্রতিটি ঈমানদার বান্দার উচিত সর্ববিষয়ে তাঁর উপরই নির্ভর করা ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:১৪﴿
﴾ ৬৪:১৪ ﴿
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِنْ تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٤﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, অবশ্যই তোমাদের স্ত্রী ও সন্তান সন্ততিদের মাঝে তোমাদের (কিছু) দুশমন রয়েছে, অতএব তাদের ব্যাপারে তোমরা সতর্ক থেকো, অবশ্য তোমরা যদি (তাদের) অপরাধ ক্ষমা করে দাও, তাদের দোষত্রট উপেক্ষা করো এবং তাদের মাফ করার নীতি অবলম্বন করো, তবে আল্লাহ তাআলা পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:১৫﴿
﴾ ৬৪:১৫ ﴿
إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَاللَّهُ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ ﴿١٥﴾
তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি হচ্ছে (তোমাদের জন্যে) পরীক্ষা মাত্র; (আর এ পরীক্ষায় কামিয়াব হতে পারলে) অবশ্যই আল্লাহ তাআলা র কাছে মহাপুরস্কার রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:১৬﴿
﴾ ৬৪:১৬ ﴿
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنْفِقُوا خَيْرًا لِأَنْفُسِكُمْ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿١٦﴾
অতএব তোমরা সাধ্য মোতাবেক আল্লাহ তাআলা কে ভয় করো, তোমরা (রসূলের আদেশ) শুনো এবং (তাঁর) কথামতো চলো, আল্লাহর দেয়া ধন সম্পদ থেকে (তাঁরই উদ্দেশে) খরচ করো, এতে তোমাদের নিজেদের জন্যেই কল্যাণ রয়েছে; যে ব্যক্তিকে তার মনের লোভ লালসা থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে (সে এবং তার মতো) লোকেরাই হচ্ছে সফলকাম।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:১৭﴿
﴾ ৬৪:১৭ ﴿
إِنْ تُقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ ﴿١٧﴾
যদি তোমরা আল্লাহ তা'আলা কে ঋণ দাও উত্তম ঋণ, তাহলে (দুনিয়া ও আখেরাতে) তিনি তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন এবং তিনি তোমাদের (গুনাহ খাতা) মাফ করে দেবেন; আল্লাহ তা'আলা বড়োই গুণগ্রাহী ও পরম ধৈর্যশীল, আছে তহুল
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৪:১৮﴿
﴾ ৬৪:১৮ ﴿
عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿١٨﴾
দেখা-অদেখা (সব কিছুই) তিনি জানেন, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]