🕌
الطلاق
(৬৫) আত-তালাক্ব
১২
﴾৬৫:১﴿
﴾ ৬৫:১ ﴿
يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا ﴿١﴾
হে নবী (তোমার সাথীদের বলো) , যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দাও (বা দিতে ইচ্ছা করো) , তখন তাদের ইদ্দতের (অপেক্ষার সময়টুকুর) প্রতি (লক্ষ্য রেখে) তালাক দিয়ো, ইদ্দতের যথার্থ হিসাব রেখো এবং (এ ব্যাপারে) আল্লাহ তাআলা কে ভয় করো, যিনি তোমাদের মালিক প্রভু, ইদ্দতের সময় (কোনো অবস্থায়ই) তাদের নিজেদের বসতবাড়ি থেকে বের করে দিয়ো না, (এ সময়) তারা নিজেরাও যেন তাদের ঘর থেকে বের হয়ে না যায়, তবে যদি তারা কোনো জঘন্য অশ্লীলতা (-জাতীয় অপরাদ) নিয়ে আসে (তাহলে তা ভিন্ন কথা, ইদ্দতের ব্যাপারে) এগুলোই হচ্ছে আল্লাহর সীমারেখা; যে ব্যক্তি আল্লাহর এ সীমারেখা অতিক্রম করে, সে (মূলত এটা দ্বারা) নিজের উপরই নিজে যুলুম করলো; তুমি তো জানো না এর পর আল্লাহ তা'আলা হয়তো (পুনরায় তোমাদের মাঝে সহৃদয়তার কোনো) একটা পথ বের করে দেবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:২﴿
﴾ ৬৫:২ ﴿
فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ ذَلِكُمْ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا ﴿٢﴾
অতঃপর যখন তারা তাদের (ইদ্দতের) সেই নির্ধারিত সময়ে (-র শেষে) উপনীত হয়, তখন তাদের হয় সম্মানজনক পন্থায় (বিয়ে বন্ধনে) রেখে দেবে, না হয় সম্মানের সাথে তাদের আলাদা করে দেবে এবং (উভয় অবস্থায়ই) তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ লোককে তোমরা সাক্ষী বানিয়ে রাখবে, (সাক্ষীদেরও বলো) , তোমরা শুধু আল্লাহর জন্যেই (এ) সাক্ষ্য দান করবে; যারা আল্লাহ তা'আলা ও শেষ বিচার দিনের উপর ঈমান আনে, তাদের সবাইকে এর দ্বারা উপদেশ দেয়া হচ্ছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা কে ভয় করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্যে (সংকট থেকে বের হয়ে আসার) একটা পথ তৈরী করে দেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:৩﴿
﴾ ৬৫:৩ ﴿
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا ﴿٣﴾
এবং তিনি তাকে এমন রিযিক দান করেন যার (উৎস) সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই; যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্যে আল্লাহ তা'আলা ই যথেষ্ট; (কেননা) আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের কাজটি পূর্ণ করেই নেন; আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি জিনিসের জন্যেই একটি পরিমাণ ঠিক করে রেখেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:৪﴿
﴾ ৬৫:৪ ﴿
وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا ﴿٤﴾
তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে যারা ঋতুবতী হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে, তাদের (ইদ্দতের) ব্যাপারে তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকলে (তোমরা) জেনে রেখো, তাদের ইদ্দতের সময় হচ্ছে তিন মাস, (এ তিন মাসের বিধান) তাদের জন্যেও, যাদের এখনও ঋতুকাল শুরুই হয়নি; গর্ভবতী নারীর জন্যে ইদ্দতকাল হচ্ছে তার সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত; (বস্তুত) কেউ যদি আল্লাহকেই ভয় করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা ও (বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিয়ে) তার জন্যে তার প্রত্যেক ব্যাপার সহজ করে দেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:৫﴿
﴾ ৬৫:৫ ﴿
ذَلِكَ أَمْرُ اللَّهِ أَنْزَلَهُ إِلَيْكُمْ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا ﴿٥﴾
(তালাক ও ইদ্দতের ব্যাপারে) এ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা র আদেশ, যা তিনি (মেনে চলার জন্যেই) তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন; অতঃপর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে চলে, তিনি তার গুনাহখাতাকে (তার হিসাব থেকে মুছে দেবেন এবং তিনি তার পুরস্কারকেও বড়ো করে দেবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:৬﴿
﴾ ৬৫:৬ ﴿
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ وَإِنْ كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُمْ بِمَعْرُوفٍ وَإِنْ تَعَاسَرْتُمْ فَسَتُرْضِعُ لَهُ أُخْرَى ﴿٦﴾
(ইদ্দতের এ সময়ে) তোমরা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী তাদের সে ধরনের বাড়িতে থাকতে দিয়ো, যে ধরনের বাড়িতে তোমরা নিজেরা থাকো, কোনো অবস্থায়ই তাদের উপর সংকট সৃষ্টি করার মতলবে তাদের কষ্ট দিয়ো না; আর যদি তারা সন্তানসম্ভবা হয়, তাহলে (ইদ্দতের নিয়ম অনুযায়ী) তারা সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত তাদের খোরপোষ দিতে থাকো, (সন্তান জন্মদানের পর) যদি তারা তোমাদের সন্তানদের (নিজেদের) বুকের দুধ খাওয়ায়, তাহলে তোমরা তাদের পারিশ্রমিক আদায় করে দেবে এবং (এ পারিশ্রমিকের অংক ও সন্তানের কল্যাণের ব্যাপারটা) ভালোভাবে নিজেদের মধ্যে ন্যায়সংগত পন্থায় সমাধান করে নেবে, যদি তোমরা একে অন্যের সাথে জেদ করো, তাহলে অন্য কোনো মহিলা এ সন্তানকে দুধ খাওয়াবে;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:৭﴿
﴾ ৬৫:৭ ﴿
لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا ﴿٧﴾
বিত্তশালী ব্যক্তি তার সংগতি অনুযায়ী (স্ত্রীদের) খোরপোষ দেবে; আবার যে ব্যক্তির অর্থনৈতিক সংগতি সীমিত করে রাখা হয়েছে সে ব্যক্তি ততোটুকু পরিমাণই খোরপোষ দেবে যতোটুকু আল্লাহ তা'আলা তাকে দান করেছেন; আল্লাহ তাআলা যাকে যে পরিমাণ সামর্থ্য দান করেছেন তার বাইরে কখনো (কোনো) বোঝা তার উপর তিনি চাপান না; (আল্লাহর উপর নির্ভর করলে) আল্লাহ তা'আলা (তাকে) অচিরেই অভাব অনটনের পর সচ্ছলতা দান করবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:৮﴿
﴾ ৬৫:৮ ﴿
وَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ عَتَتْ عَنْ أَمْرِ رَبِّهَا وَرُسُلِهِ فَحَاسَبْنَاهَا حِسَابًا شَدِيدًا وَعَذَّبْنَاهَا عَذَابًا نُكْرًا ﴿٨﴾
কতো জনপদের মানুষরাই তো নিজেদের মালিক ও তাঁর রসূলের নির্দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলো, অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে (সে জন্যে) কঠিন হিসাব আদায় করে নিয়েছি এবং আমি ওদের কঠোর শাস্তি দিয়েছি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:৯﴿
﴾ ৬৫:৯ ﴿
فَذَاقَتْ وَبَالَ أَمْرِهَا وَكَانَ عَاقِبَةُ أَمْرِهَا خُسْرًا ﴿٩﴾
এরপর তারা ভালো করেই তাদের কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করলো, মূলত তাদের কাজের পরিণাম ফল (ছিলো) চরম ক্ষতি ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:১০﴿
﴾ ৬৫:১০ ﴿
أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا فَاتَّقُوا اللَّهَ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ الَّذِينَ آمَنُوا قَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكُمْ ذِكْرًا ﴿١٠﴾
আল্লাহ তাআলা (পরকালে) তাদের জন্যে এক কঠিন আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন, অতএব (হে মানুষ) , তোমরা যারা জ্ঞানসম্পন্ন, তোমরা যারা আল্লাহ তাআলা র উপর ঈমান এনেছো, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কাছে তাঁর উপদেশবাণী নাযিল করেছেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:১১﴿
﴾ ৬৫:১১ ﴿
رَسُولًا يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِ اللَّهِ مُبَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ وَيَعْمَلْ صَالِحًا يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا قَدْ أَحْسَنَ اللَّهُ لَهُ رِزْقًا ﴿١١﴾
(তিনি আরো পাঠিয়েছেন। তাঁর রসূল, যে তোমাদের আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমুহ পড়ে শোনায়, যাতে করে সে (রসূল) তোমাদের সেসব লোকদের যারা ঈমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে, তাদের (জাহেলিয়াতের) অন্ধকার থেকে (হেদায়াতের) আলোতে নিয়ে আসতে পারে; তোমাদের যে কেউই আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং ভালো কাজ করে, আল্লাহ তাআলা তাকেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন (এমন এক জান্নাতে) , যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে। সেখানে তারা অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে; এমন লোকের জন্যে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা উত্তম রিযিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৬৫:১২﴿
﴾ ৬৫:১২ ﴿
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا ﴿١٢﴾
আল্লাহ তা'আলা যিনি এ সাত আসমান ও তাদের অনুরূপ সংখ্যক যমীন সৃষ্টি করেছেন; (আবার) উভয়ের মাঝখানে (যা কিছু আছে তাদের জন্যে) তাঁর নির্দেশ জারি হয়, যাতে করে তোমরা একথা অনুধাবন করতে পারো, (আকাশ পাতালের) সকল কিছুর উপর তিনিই (একক) ক্ষমতাবান এবং তাঁর জ্ঞান (এ সৃষ্টিলোকের) প্রতিটি বস্তুকেই পরিবষ্টেন করে রেখেছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]