🕋

الأعراف
(৭) আল-আ'রাফ

২০৬

﴾৭:১﴿
﴾ ৭:১ ﴿
المص ﴿١﴾
আলিফ লা-ম মী-ম ছোয়া-দ [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২﴿
﴾ ৭:২ ﴿
كِتَابٌ أُنْزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُنْ فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِنْهُ لِتُنْذِرَ بِهِ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٢﴾
(হে নবী, ) এ (মহা) গ্রন্থ তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে যেন তুমি এর দ্বারা (কাফেরদের) ভয় দেখাতে পারো, ঈমানদারদের জন্যে (এটি হচ্ছে) একটি স্মরণিকা, অতএব (এ ব্যাপারে) তোমার মনে যেন কোনো প্রকারের সংকীর্ণতা না থাকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩﴿
﴾ ৭:৩ ﴿
اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ ﴿٣﴾
(হে মানুষ, এ কিতাবে) তোমাদের মালিকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে যা কিছু পাঠানো হয়েছে তোমরা তার (যথাযথ) অনুসরণ করো এবং তা বাদ দিয়ে তোমরা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অনুসরণ করো না; (আসলে) তোমরা খুব কমই উপদেশ মেনে চলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪﴿
﴾ ৭:৪ ﴿
وَكَمْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا فَجَاءَهَا بَأْسُنَا بَيَاتًا أَوْ هُمْ قَائِلُونَ ﴿٤﴾
এমন কতো জনপদ আমি ধ্বংস করে দিয়েছি তাদের উপর আমার আযাব আসতো যখন তারা রাতের বেলায় ঘুমিয়ে থাকতো, কিংবা (আযাব আসতো মধ্য দিনে, ) যখন তারা (আহারের পর) বিশ্রাম করতো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫﴿
﴾ ৭:৫ ﴿
فَمَا كَانَ دَعْوَاهُمْ إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا إِلَّا أَنْ قَالُوا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ ﴿٥﴾
(আর এভাবে) যখন তাদের কাছে আমার আযাব আসতো, তখন তারা এছাড়া আর কিছুই বলতোনা যে, ‘অবশ্যই আমরা ছিলাম যালেম।’ [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬﴿
﴾ ৭:৬ ﴿
فَلَنَسْأَلَنَّ الَّذِينَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ وَلَنَسْأَلَنَّ الْمُرْسَلِينَ ﴿٦﴾
যাদের কাছে নবী পাঠানো হয়েছিলো অবশ্যই আমি তাদের জিজ্ঞেস করবো, (একইভাবে) রসূলদেরও আমি প্রশ্ন করবো (মানুষরা তাদের সাথে কি আচরণ করেছে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭﴿
﴾ ৭:৭ ﴿
فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيْهِمْ بِعِلْمٍ وَمَا كُنَّا غَائِبِينَ ﴿٧﴾
অতপর আমি (আমার নিজস্ব) জ্ঞান দ্বারা তাদের (প্রত্যেকের) কাছে তাদের কার্যাবলী খুলে খুলে বর্ণনা করবো, (কারণ) আমি তো (সেখানে) অনুপস্থিত ছিলাম না! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮﴿
﴾ ৭:৮ ﴿
وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿٨﴾
সেদিন (পাপ-পুণ্যের) পরিমাপ ঠিকভাবেই করা হবে, (সেদিন) যাদের ওযনের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফল হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯﴿
﴾ ৭:৯ ﴿
وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَظْلِمُونَ ﴿٩﴾
আর যাদের পাল্লা সেদিন হালকা হবে, তারা (হচ্ছে এমন সব লোক, যারা) নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে, কারণ এরা (দুনিয়ার জীবনে) আমার আয়াতসমূহ নিয়ে বাড়াবাড়ি করতো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০﴿
﴾ ৭:১০ ﴿
وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ ﴿١٠﴾
আমিই তোমাদের (এই) যমীনের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, (এ জন্যে) আমি তাতে তোমাদের জন্যে সব ধরনের জীবিকার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি; কিন্তু তোমরা (আমার এ নেয়ামতের) খুব কমই শোকর আদায় করে থাকো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১﴿
﴾ ৭:১১ ﴿
وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ لَمْ يَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ ﴿١١﴾
আমিই তোমাদের বানিয়েছি, তারপর আমিই তোমাদের (বিভিন্ন) আকার-অবয়ব দান করেছি, অতপর আমি ফেরেশতাদের বলেছি, (সম্মানের নিদর্শন হিসেবে তোমরা) আদমকে সাজদা করো, তখন (আমার আদেশে) সবাই (আদমকে) সাজদা করলো, একমাত্র ইবলীস ছাড়া, সে কিছুতেই সাজদাকারীদের মধ্যে শামিল হলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২﴿
﴾ ৭:১২ ﴿
قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ ﴿١٢﴾
আল্লাহ তা’আলা বললেন (হে ইবলীস) , আমি যখন (নিজেই) তোমাকে সাজদা করার আদেশ দিলাম, তখন কোন্ জিনিস তোমাকে সাজদা করা থেকে বিরত রাখলো? ইবলীস বললো, (আমি কেন তাকে সাজদা করবো) , আমি তো তার চাইতে উত্তম, (কারণ) তুমি আমাকে বানিয়েছো আগুন থেকে, আর তাকে বানিয়েছো মাটি থেকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩﴿
﴾ ৭:১৩ ﴿
قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَنْ تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّاغِرِينَ ﴿١٣﴾
আল্লাহ তা’আলা বললেন, তুমি এক্ষুণি এখান থেকে, নেমে যাও! এখানে (বসে) অহংকার করবে, এটা তোমার পক্ষে কখনো সাজে না যাও, (এখান থেকে) বেরিয়ে যাও, (কেননা) তুমি অপমানিতদেরই একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪﴿
﴾ ৭:১৪ ﴿
قَالَ أَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ ﴿١٤﴾
সে বললো (হে আল্লাহ তা’আলা) , তুমি আমাকে সেদিন পর্যন্ত (শয়তানী করার) অবকাশ দাও, যেদিন এ (আদম সন্তান) -দের পুনরায় (কবর থেকে) উঠানো হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫﴿
﴾ ৭:১৫ ﴿
قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ ﴿١٥﴾
আল্লাহ তা’আলা বললেন (হা , যাও) , যাদের অবকাশ দেয়া হয়েছে তুমিও তাদের একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬﴿
﴾ ৭:১৬ ﴿
قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿١٦﴾
সে বললো, যেহেতু তুমি (এ আদমের জন্যেই) আমাকে গোমরাহীতে নিমজ্জিত করলে, (তাই) আমিও এদের (গোমরাহ করার) জন্যে অবশ্যই তোমার (প্রদর্শিত প্রতিটি) সরল পথে (-র বাঁকে বাঁকে ওঁৎ পেতে) বসে থাকবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭﴿
﴾ ৭:১৭ ﴿
ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ ﴿١٧﴾
অতপর (পথভ্রষ্ট করার জন্যে) আমি তাদের কাছে অবশ্যই আসবো, আসবো তাদের সামনের দিক থেকে, তাদের পেছন দিক থেকে, তাদের ডান দিক থেকে, তাদের বাঁ দিক থেকে, ফলে তুমি এদের অধিকাংশ লোককেই (তোমার) কৃতজ্ঞতা আদায়কারী (হিসেবে দেখতে) পাবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮﴿
﴾ ৭:১৮ ﴿
قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَدْحُورًا لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ ﴿١٨﴾
আল্লাহ তা’আলা বললেন, বের হয়ে যাও তুমি এখান থেকে অপমানিত ও বিতাড়িত অবস্থায়; (আদম সন্তানের) যারাই তোমার অনুসরণ করবে, (তাদের এবং) তোমাদের সবাইকে দিয়ে নিশ্চয়ই আমি জাহান্নাম পূর্ণ করে দেবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯﴿
﴾ ৭:১৯ ﴿
وَيَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿١٩﴾
(আল্লাহ তা’আলা আদমকে বললেন, ) তুমি এবং তোমার সাথী জান্নাতে বসবাস করতে থাকো এবং এর যেখান থেকে যা কিছু চাও তা তোমরা খাও, কিন্তু এ গাছটির কাছেও যেয়ো না, (গেলে) তোমরা উভয়েই যালেমদের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২০﴿
﴾ ৭:২০ ﴿
فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِنْ سَوْآتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَاكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَنْ تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ ﴿٢٠﴾
অতপর শয়তান তাদের দু’জনকেই কুমন্ত্রণা দিলো যেন সে তাদের নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহ, যা তাদের পরস্পরের কাছ থেকে গোপন করে রাখা হয়েছিলো প্রকাশ করে দিতে পারে, সে (তাদের আরো) বললো, তোমাদের মালিক তোমাদের এ গাছটির (কাছে যাওয়া) থেকে তোমাদের যে বারণ করেছেন, তার উদ্দেশ্য এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, (সেখানে গেলে) তোমরা উভয়েই ফেরেশতা হয়ে যাবে, অথবা (এর ফলে) তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২১﴿
﴾ ৭:২১ ﴿
وَقَاسَمَهُمَا إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ النَّاصِحِينَ ﴿٢١﴾
সে তাদের কাছে কসম করে বললো, আমি অবশ্যই তোমাদের উভয়ের জন্যে (তোমাদের) হিতাকাংখীদের একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২২﴿
﴾ ৭:২২ ﴿
فَدَلَّاهُمَا بِغُرُورٍ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ وَنَادَاهُمَا رَبُّهُمَا أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَنْ تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ وَأَقُلْ لَكُمَا إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُبِينٌ ﴿٢٢﴾
এভাবে সে এদের দুজনকেই প্রতারণার জালে আটকে ফেললো, অতপর (এক সময়) যখন তারা উভয়েই সে গাছ (ও তার ফল) আস্বাদন করলো, তখন তাদের লজ্জাস্থানসমূহ তাদের উভয়ের সামনে খুলে গেলো, (সাথে সাথে) তারা জান্নাতের কিছু লতা পাতা নিজেদের উপর জড়িয়ে (নিজেদের গোপন স্থানসমূহ) ঢাকতে শুরু করলো; তাদের মালিক (তখন) তাদের ডাক দিয়ে বললেন, আমি কি তোমাদের উভয়কে এ গাছটি (-র কাছে যাওয়া) থেকে নিষেধ করিনি এবং আমি কি তোমাদের একথা বলে দেইনি যে, শয়তান হচ্ছে তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য দুশমন? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২৩﴿
﴾ ৭:২৩ ﴿
قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٢٣﴾
(নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে) তারা দুজনেই বলে উঠলো, হে আমাদের মালিক, আমরা আমাদের নিজেদের উপর যুলুম করেছি, তুমি যদি আমাদের মাফ না করো তাহলে অবশ্যই আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্তুদের দলে শামিল হয়ে যাবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২৪﴿
﴾ ৭:২৪ ﴿
قَالَ اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ ﴿٢٤﴾
আল্লাহ তা’আলা বললেন, (এবার) তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও, (আজ থেকে) তোমরা (ও শয়তান চিরদিনের জন্যে) একে অপরের দুশমন, সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে থাকার উদ্দেশে তোমাদের জন্যে সেখানে বসবাসের জায়গা ও জীবন-সামগ্রীর ব্যবস্থা থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২৫﴿
﴾ ৭:২৫ ﴿
قَالَ فِيهَا تَحْيَوْنَ وَفِيهَا تَمُوتُونَ وَمِنْهَا تُخْرَجُونَ ﴿٢٥﴾
আল্লাহ তা’আলা (আরো) বললেন, তোমরা সেখানেই জীবন যাপন করবে, সেখানেই তোমরা মৃত্যুবরণ করবে এবং সেখান থেকেই তোমাদের (পুনরায়) বের করে আনা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২৬﴿
﴾ ৭:২৬ ﴿
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ ﴿٢٦﴾
হে আদম সন্তানরা, আমি তোমাদের উপর পোশাক (সংক্রান্ত বিধান) পাঠিয়েছি, যাতে করে (এর দ্বারা) তোমরা তোমাদের গোপন স্থানসমূহ ঢেকে রাখতে পারো এবং (নিজেদের) সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তুলতে পারো, (তবে আসল) পোশাক হচ্ছে (কিন্তু) তাকওয়ার (আল্লাহর ভয় জাগ্রতকারী) পোশাক, আর এটাই হচ্ছে উত্তম (পোশাক) এবং এটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহেরও একটি (অংশ, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে) , যাতে করে মানুষরা এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২৭﴿
﴾ ৭:২৭ ﴿
يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٢٧﴾
হে আদমের সন্তানরা, শয়তান যেভাবে তোমাদের পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে, তেমনি করে তোমাদেরও সে যেন প্রতারিত করতে না পারে, শয়তান তাদের উভয়ের দেহ থেকে তাদের পোশাক খুলে ফেলেছিলো, যাতে করে তাদের উভয়ের গোপন স্থানসমূহ উভয়ের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে; (মূলত) সে নিজে এবং তার সংগী-সাথীরা তোমাদের এমন সব স্থান থেকে দেখতে পায়, যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না; যারা (আমাকে) বিশ্বাস করে না তাদের জন্যে শয়তানকে আমি অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২৮﴿
﴾ ৭:২৮ ﴿
وَإِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِهَا قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٢٨﴾
(এদের অবস্থা হচ্ছে, ) তারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে তখন তারা বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরও এর উপর পেয়েছি, স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাই আমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন; (হে নবী, ) তুমি বলো, আল্লাহ তা’আলা কখনো অশ্লীল কিছুর হুকুম দেন না; তোমরা কি আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে এমন কিছু বলছো, যার ব্যাপারে তোমরা কিছুই জানো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২৯﴿
﴾ ৭:২৯ ﴿
قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ ﴿٢٩﴾
তুমি (আরো) বলো, আমার মালিক তো শুধু ন্যায়-ইনসাফেরই আদেশ দেন, (তাঁর আদেশ হচ্ছে, ) প্রতিটি ইবাদাতেই তোমরা তোমাদের লক্ষ্য স্থির রাখবে; তাঁকেই তোমরা ডাকো, নিজেদের জীবন বিধানকে একান্তভাবে তাঁর জন্যে খালেস করে; যেভাবে তিনি তোমাদের (সৃষ্টির) শুরু করেছেন সেভাবেই তোমরা (আবার তার কাছে) ফিরে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩০﴿
﴾ ৭:৩০ ﴿
فَرِيقًا هَدَى وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيْهِمُ الضَّلَالَةُ إِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ ﴿٣٠﴾
(অতপর) একদল লোককে তিনি সঠিক পথ দেখিয়েছেন আর দ্বিতীয় দলটির উপর গোমরাহী ও বিদ্রোহ ভালোভাবেই চেপে বসেছে; এরাই (পরবর্তী পর্যায়ে) আল্লাহ তা’আলাকে বাদ দিয়ে শয়তানদের নিজেদের অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে, (এ সত্ত্বেও) তারা নিজেদের সঠিক পথের উপর মনে করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩১﴿
﴾ ৭:৩১ ﴿
يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ ﴿٣١﴾
হে আদম সন্তানরা, তোমরা প্রতিটি ইবাদাতের সময়ই তোমাদের সৌন্দর্য (-মন্ডিত পোশাক) গ্রহণ করো, তোমরা খাও এবং পান করো, তবে কোনো অবস্থাতেই অপচয় করো না, আল্লাহ তা’আলা কখনো অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩২﴿
﴾ ৭:৩২ ﴿
قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ﴿٣٢﴾
(হে নবী, ) তুমি বলো, আল্লাহ তা’আলার (দেয়া) সৌন্দর্য (-মন্ডিত পোশাক) এবং পবিত্র খাবার তোমাদের জন্যে কে হারাম করেছে? এগুলো তো আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং নিজেই তাঁর বান্দাদের জন্যে উদ্ভাবন করে এনেছেন; তুমি বলো, এগুলো হচ্ছে যারা ঈমান এনেছে তাদের পার্থিব পাওনা, (অবশ্য) কেয়ামতের দিন ও এগুলো ঈমানদারদের জন্যেই (নির্দিষ্ট থাকবে) ; এভাবেই আমি জ্ঞানী সমাজের জন্যে আমার আয়াতসমূহ খুলে খুলে বর্ণনা করি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩৩﴿
﴾ ৭:৩৩ ﴿
قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٣٣﴾
তুমি (এদের আরো) বলো, হাঁ, আমার মালিক যা কিছু হারাম করেছেন তা হচ্ছে যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল কাজ, গুনাহ ও অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করা, (তিনি আরো হারাম করেছেন) আল্লাহর সাথে (অন্য কাউকে) শরীক করা, যার ব্যাপারে তিনি কখনো কোনো সনদ নাযিল করেননি এবং আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে তোমাদের এমন সব (বাজে) কথা বলা, যার ব্যাপারে তোমাদের কোনোই জ্ঞান নেই। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩৪﴿
﴾ ৭:৩৪ ﴿
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ ﴿٣٤﴾
প্রত্যেক জাতির জন্যেই (তার উত্থান-পতনের) একটি সুনির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে, যখন তাদের সে মেয়াদ আসবে তখন তারা একদন্ড বিলম্বও করবে না, তেমনি তারা এক মুহূর্ত এগিয়েও আসবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩৫﴿
﴾ ৭:৩৫ ﴿
يَا بَنِي آدَمَ إِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي فَمَنِ اتَّقَى وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٣٥﴾
হে আদম সন্তানরা (শুরুতেই আমি তোমাদের বলেছিলাম) , যখনি তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকে রসূলরা আসবে, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াত পড়ে শোনাবে, তখন যারা (সে অনুযায়ী) আমাকে ভয় করবে এবং (নিজেদের) সংশোধন করে নেবে, তাদের কোনোই ভয় থাকবে না, তারা কখনো দুশ্চিন্তাগ্রস্তুও হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩৬﴿
﴾ ৭:৩৬ ﴿
وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٣٦﴾
আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এবং বড়াই করে এ (সত্য) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩৭﴿
﴾ ৭:৩৭ ﴿
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ أُولَئِكَ يَنَالُهُمْ نَصِيبُهُمْ مِنَ الْكِتَابِ حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا يَتَوَفَّوْنَهُمْ قَالُوا أَيْنَ مَا كُنْتُمْ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالُوا ضَلُّوا عَنَّا وَشَهِدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ ﴿٣٧﴾
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা আরোপ করে কিংবা তাঁর আয়াতকে মিথ্যা সাব্যস্তু করে, তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে? এরা হচ্ছে সেসব ব্যক্তি, যারা কিতাবে (বর্ণিত দুর্ভাাগ্য থেকে) তাদের নিজেদের অংশ পেতে থাকবে; এমনিভাবে (তাদের মৃত্যুর সময়) তাদের কাছে আমার ফেরেশতারা যখন এসে হাযির হবে, তখন তারা বলবে (বলো) , তারা (এখন) কোথায় যাদের তোমরা আল্লাহ তা’আলার বদলে ডাকতে; তারা বলবে আজ সবাই (আমাদের ছেড়ে) সরে গেছে, তারা (সেদিন) সবাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, তারা সত্যিই কাফের ছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩৮﴿
﴾ ৭:৩৮ ﴿
قَالَ ادْخُلُوا فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ فِي النَّارِ كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَعَنَتْ أُخْتَهَا حَتَّى إِذَا ادَّارَكُوا فِيهَا جَمِيعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لِأُولَاهُمْ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِنَ النَّارِ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَلَكِنْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٣٨﴾
আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তোমাদের আগে যেসব মানুষের দল, জ্বিনের দল গত হয়ে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও আজ সবাই জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করো; এমনি করে যখন এক একটি জনগোষ্ঠী (জাহান্নামে) দাখিল হতে থাকবে, তখন তারা তাদের (আদর্শগত ভাই) বোনদের উপর লানত দিতে থাকবে, এভাবে (লানত দিতে দিতে) যখন সবাই সেখানে গিয়ে একত্র হবে, তখন তাদের শেষের দলটি পূর্ববর্তী দলের ব্যাপারে বলবে, হে আমাদের মালিক, এরাই হচ্ছে সেসব লোক যারা আমাদের গোমরাহ করেছিলো, তুমি এদের জাহান্নামের শাস্তিু দ্বিগুণ করে দাও; আল্লাহ তা’আলা বলবেন, (আজ) তোমাদের প্রত্যেকের (শাস্তিু) হবে দ্বিগুণ, কিন্তু তোমরা তো বিষয়টি জানোই না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৩৯﴿
﴾ ৭:৩৯ ﴿
وَقَالَتْ أُولَاهُمْ لِأُخْرَاهُمْ فَمَا كَانَ لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْسِبُونَ ﴿٣٩﴾
তাদের প্রথম দলটি তাদের শেষের দলটিকে বলবে, (হাঁ, আমরা যদি অপরাধী হয়েই থাকি, তবে) তোমাদেরও আমাদের উপর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব ছিলো না (এ সময়ই আল্লাহর ঘোষণা আসবে) , এখন তোমরা সবাই নিজ নিজ কর্মফলের বিনিময়ে (জাহান্নামের) আযাবের স্বাদ গ্রহণ করতে থাকো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪০﴿
﴾ ৭:৪০ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ ﴿٤٠﴾
অবশ্যই যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং দম্ভভরে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাদের জন্যে কখনো (রহমতভরা) আসমানের দুয়ার খুলে দেয়া হবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত একটি সুঁচের ছিদ্রপথ দিয়ে একটি উট প্রবেশ করতে না পারবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত এরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না; আমি এভাবেই অপরাধীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪১﴿
﴾ ৭:৪১ ﴿
لَهُمْ مِنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَمِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ ﴿٤١﴾
(সেদিন) তাদের জন্যে (নীচের) বিছানাও হবে জাহান্নামের, (আবার এই জাহান্নামই হবে) তাদের উপরের আচ্ছাদন, এভাবেই আমি যালেমদের প্রতিফল দিয়ে থাকি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪২﴿
﴾ ৭:৪২ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٤٢﴾
(অপরদিকে) যারা (আমার উপর) ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আমি (তাদের) কারো উপর তাদের সাধ্যের বাইরে দায়িত্বভার অর্পণ করি না, এ (নেক) লোকেরাই হচ্ছে জান্নাতের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরদিন থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪৩﴿
﴾ ৭:৪৩ ﴿
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٤٣﴾
তাদের মনের ভেতর (পরস্পরের বিরুদ্ধে) যে ঘৃণা বিদ্বেষ (লুকিয়ে) ছিলো তা আমি (সেদিন) বের করে ফেলে দেবো, তাদের (জন্যে নির্দিষ্ট জান্নাতের) পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, (এসব দেখে) তারা বলবে, সমস্তু প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্যে, যিনি আমাদের এ (পুরস্কারের স্থান) -টি দেখিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা আমাদের (হেদায়াতের) পথ না দেখালে আমরা নিজেরা কিছুতেই হেদায়াত পেতাম না, আমাদের মালিকের রসূলরা এক সত্য বিধান নিয়ে এসেছিলো। (এ সময়) তাদের জন্যে ঘোষণা দেয়া হবে, আজ তোমাদের সে (জান্নাতের) উত্তরাধিকারী করে দেয়া হলো, (আর এটা হচ্ছে সেসব কার্যক্রমের প্রতিফল) যা তোমরা দুনিয়ার জীবনে করে এসেছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪৪﴿
﴾ ৭:৪৪ ﴿
وَنَادَى أَصْحَابُ الْجَنَّةِ أَصْحَابَ النَّارِ أَنْ قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا قَالُوا نَعَمْ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌ بَيْنَهُمْ أَنْ لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ ﴿٤٤﴾
(এরপর) জান্নাতের অধিবাসীরা জাহান্নামী লোকদের ডেকে বলবে, আমরা তো আমাদের মালিকের (জান্নাত সংক্রান্ত) ওয়াদা সত্য পেয়েছি, তোমরা কি তোমাদের মালিকের ওয়াদাসমূহ সঠিক পাওনি? তারা বলবে, হাঁ, অতপর তাদের মাঝে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, যালেমদের উপর আল্লাহ তা’আলার লানত হোক, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪৫﴿
﴾ ৭:৪৫ ﴿
الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُمْ بِالْآخِرَةِ كَافِرُونَ ﴿٤٥﴾
যারা মানুষদের আল্লাহ তা’আলার পথ থেকে বিরত রাখতে চাইতো এবং তাকে শুধু বাঁকা করতে চাইতো, আর তারা শেষ বিচারের দিনকেও অস্বীকার করতো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪৬﴿
﴾ ৭:৪৬ ﴿
وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ وَعَلَى الْأَعْرَافِ رِجَالٌ يَعْرِفُونَ كُلًّا بِسِيمَاهُمْ وَنَادَوْا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ ﴿٤٦﴾
(জান্নাত ও জাহান্নাম, ) তাদের উভয়ের মাঝে একটি দেয়াল থাকবে, (এই দেয়ালের) উঁচু স্থানের উপর থাকবে (আরেক দলের) কিছু লোক, যারা (সেখানে আনীত) প্রতিটি ব্যক্তিকে তাদের নিজ নিজ চিহ্ন অনুযায়ী চিনতে পারবে, তারা জান্নাতের অধিবাসীদের ডেকে বলবে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এরা (যদিও) তখন পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করেনি, কিন্তু (প্রতি মুহূর্তে) এরা সেখানে প্রবেশ করার আগ্রহ পোষণ করছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪৭﴿
﴾ ৭:৪৭ ﴿
وَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَارُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَابِ النَّارِ قَالُوا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٤٧﴾
অতপর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের অধিবাসীদের (আযাবের) দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, (তখন) তারা বলবে, হে আমাদের মালিক, (তুমি) আমাদের এ যালেম সম্পদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪৮﴿
﴾ ৭:৪৮ ﴿
وَنَادَى أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُمْ بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَى عَنْكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ ﴿٤٨﴾
অতপর (পার্থক্য নির্ণয়কারী সে দেয়ালের) উঁচু স্থানে অবস্থানকারী ব্যক্তিরা (জাহান্নামের) কিছু লোককে যাদের তারা কোনো (বিশেষ) লক্ষণের ফলে চিনতে পারবে ডেকে বলবে, (কই) তোমাদের দলবল কোনোটাই তো (আজ) কাজে এলো না, না (কাজে এলো) তোমাদের অহংকার, যা তোমরা করতে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৪৯﴿
﴾ ৭:৪৯ ﴿
أَهَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿٤٩﴾
(অপরদিকে আজ চেয়ে দেখো মু’মিনদের প্রতি, ) এরা কি সে সব লোক নয়, যাদের ব্যাপারে তোমরা কসম করে বলতে, আল্লাহ তা’আলা এদের তাঁর রহমতের কোনো অংশই দান করবেন না; (অথচ আজ এদেরকেই আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, ) তোমরা সবাই জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদের কোনোই ভয় নেই, না তোমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্তু হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫০﴿
﴾ ৭:৫০ ﴿
وَنَادَى أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿٥٠﴾
(এবার) জাহান্নামের অধিবাসীরা জান্নাতের লোকদের ডেকে বলবে, আমাদের উপর সামান্য কিছু পানি (অন্তু) ঢেলে দাও, অথবা আল্লাহ তা’আলা তোমাদের যে রিযিক দান করেছেন তার কিয়দংশ (আমাদের দাও) ; তারা বলবে, আল্লাহ তা’আলা (আজ) এ দুটি জিনিস (সে সব) কাফেরদের জন্যে হারাম করেছেন, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫১﴿
﴾ ৭:৫১ ﴿
الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَهْوًا وَلَعِبًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فَالْيَوْمَ نَنْسَاهُمْ كَمَا نَسُوا لِقَاءَ يَوْمِهِمْ هَذَا وَمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ ﴿٥١﴾
যারা দ্বীনকে খেল-তামাশায় পরিণত করে রেখেছিলো এবং পার্থিব জীবন তাদের প্রতারণা (-র জালে) আটকে রেখেছিলো, তাদের আজ আমি (ঠিক) সেভাবেই ভুলে যাবো যেভাবে তারা (আমার) সামনা সামনি হওয়ার এ দিনটিকে ভুলে গেছে এবং আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫২﴿
﴾ ৭:৫২ ﴿
وَلَقَدْ جِئْنَاهُمْ بِكِتَابٍ فَصَّلْنَاهُ عَلَى عِلْمٍ هُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٥٢﴾
আমি তাদের কাছে এমন একটি কিতাব নিয়ে এসেছিলাম, যা আমি (বিশদ) জ্ঞান দ্বারা (সমৃদ্ধ করে) বর্ণনা করেছি, যারা (এর উপর) ঈমান আনবে, এ কিতাব (হবে) তাদের জন্যে (সুস্পষ্ট) হেদায়াত ও রহমত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫৩﴿
﴾ ৭:৫৩ ﴿
هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا تَأْوِيلَهُ يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ فَهَلْ لَنَا مِنْ شُفَعَاءَ فَيَشْفَعُوا لَنَا أَوْ نُرَدُّ فَنَعْمَلَ غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ قَدْ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ ﴿٥٣﴾
এরা কি (চূড়ান্ত কোনো) পরিণামের জন্যে অপেক্ষা করছে? যেদিন (সত্যি সত্যিই) সে পরিণাম তাদের কাছে আসবে, সেদিন যারা ইতিপূর্বে এ (দিনটি) কে ভুলে গিয়েছিলো তারা বলবে, অবশ্যই আমাদের মালিকের পক্ষ থেকে আমাদের রসূলরা (এ দিনের) সত্য (প্রতিশ্রুতি) নিয়েই এসেছিলো, আমাদের জন্যে (আজ) কোনো সুপারিশকারী কি আছে, যারা আমাদের পক্ষে (আল্লাহর কাছে) কিছু বলবে, অথবা (এমন কি হবে যে, ) আমাদের পুনরায় (দুনিয়ায়) ফিরিয়ে দেয়া হবে, যাতে আমরা (সেখানে গিয়ে) আগে যা করতাম তার চাইতে ভিন্ন ধরনের কিছু করে আসতে পারি, (মূলত) এরাই (হচ্ছে সেসব লোক যারা) নিজেরা নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে এবং (আল্লাহর উপর) যা কিছু তারা মিথ্যা আরোপ করতো, তাও তাদের কাছ থেকে (আজ) হারিয়ে গেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫৪﴿
﴾ ৭:৫৪ ﴿
إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُ الْعَالَمِينَ ﴿٥٤﴾
অবশ্যই তোমাদের মালিক আল্লাহ তা’আলা, যিনি ছয় দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনি ‘আরশের’ উপর অধিষ্ঠিত হন। তিনি রাতের পর্দাকে দিনের উপর ছেয়ে দেন, দ্রুতগতিতে তা একে অন্যকে অনুসরণ করে, (তিনিই সৃষ্টি করেছেন) সুরুজ, চাঁদ ও তারাসমূহ, (মূলত) এর সব কয়টিকেই আল্লাহ তা’আলার বিধানের অধীন করে রাখা হয়েছে; জেনে রেখো, সৃষ্টি (যেহেতু) তাঁর, (সুতরাং তার উপর) ক্ষমতাও চলবে একমাত্র তাঁর; সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত দয়ালু ও বরকতময়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫৫﴿
﴾ ৭:৫৫ ﴿
ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ﴿٥٥﴾
(অতএব) তোমরা (একান্ত) বিনয়ের সাথে ও চুপিসারে শুধু তোমাদের মালিক (আল্লাহ তা’আলা) -কেই ডাকো; অবশ্যই তিনি (তাঁর রাজত্বে) যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের পছন্দ করেন না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫৬﴿
﴾ ৭:৫৬ ﴿
وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ ﴿٥٦﴾
(আল্লাহর) যমীনে (একবার) তাঁর শান্তি স্থাপনের পর (তাতে) তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, তোমরা ভয় ও আশা নিয়ে একমাত্র আল্লাহ তা’আলাকেই ডাকো; অবশ্যই আল্লাহর রহমত নেক লোকদের অতি নিকটে রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫৭﴿
﴾ ৭:৫৭ ﴿
وَهُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ حَتَّى إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنَاهُ لِبَلَدٍ مَيِّتٍ فَأَنْزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ كَذَلِكَ نُخْرِجُ الْمَوْتَى لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿٥٧﴾
তিনিই মহান আল্লাহ, যিনি বাতাসকে (বৃষ্টি ও) রহমতের (আগাম) সুসংবাদবাহী হিসেবে (জনপদের দিকে) পাঠান; শেষ পর্যন্ত যখন সে বাতাস (পানির) ভারী মেঘমালা বহন করে (চলতে থাকে) , তখন আমি তাকে একটি মৃত জনপদের দিকে পাঠিয়ে দেই, অতপর (সে) মেঘ থেকেই আমি পানি বর্ষণ করি, অতপর তা দিয়ে (যমীন থেকে) আমি সব ধরনের ফলমূল বের করে আনি; এভাবে আমি মৃতকেও (জীবন থেকে) বের করে আনবো, সম্ভবত (এ থেকে) তোমরা কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫৮﴿
﴾ ৭:৫৮ ﴿
وَالْبَلَدُ الطَّيِّبُ يَخْرُجُ نَبَاتُهُ بِإِذْنِ رَبِّهِ وَالَّذِي خَبُثَ لَا يَخْرُجُ إِلَّا نَكِدًا كَذَلِكَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَشْكُرُونَ ﴿٥٨﴾
উৎকৃষ্ট যমীন- (তা থেকে) তার মালিকের আদেশে তার (উৎকৃষ্ট) ফসলই উৎপন্ন হয়, আর যে যমীন বিনষ্ট হয়ে গেছে তা কঠোর পরিশ্রম ব্যতীত কিছুই উৎপন্ন করে না; এভাবেই আমি আমার নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করে বর্ণনা করি এমন এক জাতির জন্যে, যারা (আমার এসব নেয়ামতের) কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৫৯﴿
﴾ ৭:৫৯ ﴿
لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿٥٩﴾
আমি নূহকে তার জাতির কাছে পাঠিয়েছি, অতপর সে তাদের বললো, হে আমার জাতির লোকেরা, তোমরা আল্লাহ তা’আলার দাসত্ব কবুল করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো মাবুদ নেই; আমি তোমাদের উপর এক কঠিন দিনের আযাবের আশংকা করছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬০﴿
﴾ ৭:৬০ ﴿
قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٦٠﴾
তার জাতির নেতারা বললো (হে নূহ) , আমরা দেখতে পাচ্ছি তুমি এক সুস্পষ্ট গোমরাহীতে (নিমজ্জিত) রয়েছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬১﴿
﴾ ৭:৬১ ﴿
قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَالَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِ الْعَالَمِينَ ﴿٦١﴾
সে বললো, হে আমার সম্পদায়ের লোকেরা, আমার সাথে কোনো গোমরাহী নেই, আমি তো হচ্ছি সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহর পক্ষ থেকে (আসা) একজন রসূল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬২﴿
﴾ ৭:৬২ ﴿
أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنْصَحُ لَكُمْ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٦٢﴾
(আমার কাজ হচ্ছে) আমি আমার মালিকের বাণীসমূহ তোমাদের কাছে পৌঁছে দেবো এবং (সেমতে) তোমাদের শুভ কামনা করবো, (কেননা আখেরাত সম্পর্কে) আমি আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকে এমন কিছু কথা জানি যা তোমরা জানো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬৩﴿
﴾ ৭:৬৩ ﴿
أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَلِتَتَّقُوا وَلَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿٦٣﴾
তোমরা কি এতে আশ্চর্যনি¦ত হচ্ছো যে, তোমাদের কাছে তোমাদেরই (মতো) একজন মানুষের উপর আল্লাহ তা’আলার বাণী এসেছে, যাতে করে সে তোমাদের (আযাব সম্পর্কে) সতর্ক করে দিতে পারে, ফলে তোমরা (সময় থাকতে) সাবধান হবে এবং আশা করা যায় এতে করে তোমাদের উপর দয়া করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬৪﴿
﴾ ৭:৬৪ ﴿
فَكَذَّبُوهُ فَأَنْجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا عَمِينَ ﴿٦٤﴾
অতপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, আমি তাকে এবং তার সাথে যারা নৌকায় (আরোহণ করে) ছিলো, তাদের সবাইকে (আযাব থেকে) উদ্ধার করেছি, আর যারা আমার আযাবসমূহকে মিথ্যা বলেছে তাদের আমি (পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি; এরা ছিলো (আসলেই গোঁড়া ও) অন্ধ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬৫﴿
﴾ ৭:৬৫ ﴿
وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنَ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ ﴿٦٥﴾
আমি আ’দ জাতির কাছে (পাঠিয়েছিলাম) তাদেরই এক ভাই হূদকে, সে (তাদের) বললো, হে আমার জাতি, তোমরা এক আল্লাহ তা’আলার দাসত্ব স্বীকার করো, তিনি ছাড়া তোমাদের দ্বিতীয় কোনো ইলাহ নেই; তোমরা কি (তাঁকে) ভয় করবে না? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬৬﴿
﴾ ৭:৬৬ ﴿
قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ ﴿٦٦﴾
তার জাতির সরদাররা, যারা (তাকে) অস্বীকার করেছে, তারা বললো, আমরা তো দেখছি তুমি নির্বুদ্ধিতায় লিপ্ত আছো এবং আমরা মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬৭﴿
﴾ ৭:৬৭ ﴿
قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٦٧﴾
সে বললো, হে আমার সম্পদায়ের লোকেরা, আমার সাথে কোনোরকম নির্বুদ্ধিতা জড়িত নেই, বরং আমি (হচ্ছি) সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে (আগত) একজন রসূল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬৮﴿
﴾ ৭:৬৮ ﴿
أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ ﴿٦٨﴾
(আমার দায়িত্ব হচ্ছে) আমি আমার মালিকের (কাছ থেকে আসা) বাণীসমূহ তোমাদের কাছে পৌঁছে দেবো, তোমাদের জন্যে আমি একজন বিশ্বস্তু শুভাকাংখী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৬৯﴿
﴾ ৭:৬৯ ﴿
أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٦٩﴾
তোমরা কি (এটা দেখে) বিস্মিত হচ্ছো যে, তোমাদের কাছে তোমাদেরই (মতো) একজন মানুষের উপর তোমাদের মালিকের কাছ থেকে তোমাদের (আযাবের) ভয় দেখানোর জন্যে (সুস্পষ্ট কিছু) বাণী এসেছে; স্মরণ করো, কিভাবে আল্লাহ তা’আলা নূহের পর তোমাদের এই যমীনে খলীফা বানিয়েছেন এবং অন্যান্য সৃষ্টির চাইতে তিনি তোমাদের বেশী ক্ষমতা দান করেছেন, অতএব (হে আমার জাতি) , তোমরা আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহগুলো স্মরণ করো, আশা করা যায় তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭০﴿
﴾ ৭:৭০ ﴿
قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٧٠﴾
তারা (হূদকে) বললো, তুমি কি আমাদের কাছে এ জন্যেই এসেছো যে, আমরা কেবল এক আল্লাহর ইবাদাত করবো এবং আমাদের পূর্বপুরুষরা যাদের বন্দেগী করেছে তাদের বাদ দিয়ে দেবো (এটাই যদি হয়) , তাহলে নিয়ে এসো আমাদের কাছে সে (আযাবের) বিষয়টি, যার ব্যাপারে তুমি আমাদের (এতো) ভয় দেখাচ্ছো, যদি তুমি সত্যবাদী হও! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭১﴿
﴾ ৭:৭১ ﴿
قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ رِجْسٌ وَغَضَبٌ أَتُجَادِلُونَنِي فِي أَسْمَاءٍ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا نَزَّلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ ﴿٧١﴾
সে বললো, তোমাদের উপর তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে আযাব ও ক্রোধ তো নির্ধারিত হয়েই আছে; তোমরা কি আমার সাথে সে (মিথ্যা মাবুদদের) নামগুলোর ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও, যা তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা (এমনি এমনিই) রেখে দিয়েছো, যার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা কোনো রকম সনদ নাযিল করেননি; (অতএব) তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করতে থাকবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭২﴿
﴾ ৭:৭২ ﴿
فَأَنْجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَقَطَعْنَا دَابِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَمَا كَانُوا مُؤْمِنِينَ ﴿٧٢﴾
অতপর (যখন আযাব এলো, তখন) আমি তাকে এবং তার সাথে যেসব (ঈমানদার) ব্যক্তি ছিলো, তাদের আমার রহমত দ্বারা (আযাব থেকে) বাঁচিয়ে দিলাম, আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে আমি তাদের নির্মূল করে দিলাম, (কেননা) এরা ঈমানদার ছিলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭৩﴿
﴾ ৭:৭৩ ﴿
وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ قَدْ جَاءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ هَذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً فَذَرُوهَا تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٧٣﴾
সামুদ জাতির কাছে আমি (পাঠিয়েছিলাম) তাদেরই (এক) ভাই সালেহকে। সে (এসে) বললো, হে আমার জাতি, তোমরা এক আল্লাহ তা’আলার বন্দেগী করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই; তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন এসে হাযির হয়েছে, (আর তোমাদের জন্যে) এ (নিদর্শনটি) হচ্ছে আল্লাহর উষ্ট্রী, একে তোমরা ছেড়ে দাও যেন তা আল্লাহ তা’আলার যমীনে (বিচরণ করে) খেতে পারে, তোমরা তাকে কোনো খারাপ মতলবে স্পর্শ করো না, তাহলে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কঠোর আযাব এসে তোমাদের পাকড়াও করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭৪﴿
﴾ ৭:৭৪ ﴿
وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ عَادٍ وَبَوَّأَكُمْ فِي الْأَرْضِ تَتَّخِذُونَ مِنْ سُهُولِهَا قُصُورًا وَتَنْحِتُونَ الْجِبَالَ بُيُوتًا فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿٧٤﴾
স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তা’আলা আদ জাতির পর তোমাদের (দুনিয়ার) খলীফা বানিয়েছিলেন এবং আল্লাহ তা’আলার যমীনে তিনি তোমাদের প্রতিষ্ঠা দান করেছেন, (যার) ফলে তোমরা এর সমতল ভূমি থেকে (মাটি নিয়ে তা দিয়ে) প্রাসাদ বানাচ্ছো, আর পাহাড় কেটে কেটে নিজেদের ঘর-বাড়ি তৈরী করতে পারছো, অতএব তোমরা আল্লাহ তা’আলার এ সব (জ্ঞান ও প্রকৌশল সংক্রান্ত) নেয়ামত স্মরণ করো এবং কোনো অবস্থায়ই আল্লাহ তা’আলার যমীনে বিপর্যয় ঘটিয়ো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭৫﴿
﴾ ৭:৭৫ ﴿
قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِمَنْ آمَنَ مِنْهُمْ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ صَالِحًا مُرْسَلٌ مِنْ رَبِّهِ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلَ بِهِ مُؤْمِنُونَ ﴿٧٥﴾
তার জাতির সেসব নেতৃস্থানীয় লোক, যারা নিজেদের গৌরবের বড়াই করতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল শ্রেণীর লোকদের যারা তাদের মধ্য থেকে তার উপর ঈমান এনেছে বললো, তোমরা কি সত্যিই জানো, সালেহ আল্লাহ তা’আলার পাঠানো একজন রসূল; তারা বললো (হাঁ) , তার উপর যে বাণী পাঠানো হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭৬﴿
﴾ ৭:৭৬ ﴿
قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا بِالَّذِي آمَنْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ ﴿٧٦﴾
অতপর (সে) অহংকারী লোকেরা বললো, তোমরা যা কিছুতে বিশ্বাস করো আমরা তা অস্বীকার করি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭৭﴿
﴾ ৭:৭৭ ﴿
فَعَقَرُوا النَّاقَةَ وَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ وَقَالُوا يَا صَالِحُ ائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ ﴿٧٧﴾
অতপর, তারা উষ্ট্রীটিকে মেরে ফেললো এবং (এর দ্বারা) তারা তাদের মালিকের নির্দেশের স্পষ্ট বিরোধিতা করলো এবং তারা বললো, হে সালেহ (আমরা তো উষ্ট্রীটিকে মেরে ফেললাম) , যদি তুমি (সত্যিই) রসূল হয়ে থাকো তাহলে সে (আযাবের) বিষয়টা নিয়ে এসো, যার ওয়াদা তুমি আমাদের দিচ্ছো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭৮﴿
﴾ ৭:৭৮ ﴿
فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ ﴿٧٨﴾
অতপর এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করে ফেললো, ফলে তারা নিজেদের ঘরেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৭৯﴿
﴾ ৭:৭৯ ﴿
فَتَوَلَّى عَنْهُمْ وَقَالَ يَا قَوْمِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَةَ رَبِّي وَنَصَحْتُ لَكُمْ وَلَكِنْ لَا تُحِبُّونَ النَّاصِحِينَ ﴿٧٩﴾
তারপর সে তাদের কাছ থেকে অন্যদিকে চলে গেলো এবং সে নিজের জাতিকে বললো, আমি আমার মালিকের (সতর্ক) বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং তোমাদের জন্যে কল্যাণও কামনা করেছিলাম, কিন্তু তোমরা তো কল্যাণকামীদের পছন্দই করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮০﴿
﴾ ৭:৮০ ﴿
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْعَالَمِينَ ﴿٨٠﴾
(আমি) লূতকেও (পাঠিয়েছিলাম) , যখন সে তার জাতিকে বলেছিলো, তোমরা এমন এক অশ্লীলতার কাজ করছো, যা তোমাদের আগে সৃষ্টিকুলের আর কেউ (কখনো) করেনি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮১﴿
﴾ ৭:৮১ ﴿
إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ ﴿٨١﴾
তোমরা যৌন তৃপ্তির জন্যে নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছে যাও, তোমরা বরং হচ্ছো বরং এক সীমালংঘনকারী জাতি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮২﴿
﴾ ৭:৮২ ﴿
وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوهُمْ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ ﴿٨٢﴾
তার জাতির (তখন) এ কথা বলা ছাড়া আর কোনো জবাবই ছিলো না যে, (সবাই মিলে) তাদের তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, (কেননা) এরা হচ্ছে কতিপয় পাক পবিত্র মানুষ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮৩﴿
﴾ ৭:৮৩ ﴿
فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٨٣﴾
অতপর (যখন আমার আযাব এলো, তখন) আমি তাকে এবং তার পরিবার-পরিজনকে উদ্ধার করলাম, তার স্ত্রীকে ছাড়া সে (আযাব কবলিত হয়ে) পেছনের লোকদের মধ্যে শামিল থেকে গেলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮৪﴿
﴾ ৭:৮৪ ﴿
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ ﴿٨٤﴾
আমি তাদের উপর প্রচন্ড (আযাবের) বৃষ্টি বর্ষণ করলাম; (হাঁ) অতপর তুমি (ভালো করে) চেয়ে দেখো, অপরাধী ব্যক্তিদের পরিণাম (সেদিন) কী ভয়াবহ হয়েছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮৫﴿
﴾ ৭:৮৫ ﴿
وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ قَدْ جَاءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٨٥﴾
আর মাদইয়ানবাসীদের কাছে (আমি পাঠিয়েছিলাম) তাদেরই ভাই শোয়ায়বকে; সে তাদের বললো, হে আমার জাতি, তোমরা এক আল্লাহ তা’আলার বন্দেগী করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই; তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন এসে গেছে, অতপর তোমরা (সে মোতাবেক) ঠিক ঠিক মতো পরিমাপ ও ওযন করো, মানুষদের (দেয়ার সময়) কখনো (কম দিয়ে তাদের) ক্ষতিগ্রস্তু করো না, আল্লাহ তা’আলার এ যমীনে (শান্তি ও) সংস্কার স্থাপিত হওয়ার পর তাতে তোমরা (পুনরায়) বিপর্যয় সৃষ্টি করো না; তোমরা যদি (আল্লাহ তা’আলার উপর) ঈমান আনো তাহলে এটাই (হবে) তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮৬﴿
﴾ ৭:৮৬ ﴿
وَلَا تَقْعُدُوا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِهِ وَتَبْغُونَهَا عِوَجًا وَاذْكُرُوا إِذْ كُنْتُمْ قَلِيلًا فَكَثَّرَكُمْ وَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ ﴿٨٦﴾
প্রতিটি রাস্তুায় তোমরা এজন্যে বসে থেকো না যে, তোমরা লোকদের ধমক (দেবে ভীত সন্ত্রস্তু করবে) এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের তোমরা আল্লাহ তা’আলার পথ থেকে বিরত রাখবে, আর সব সময় (অহেতুক) বক্রতা (ও দোষত্রুটি) খুঁজতে থাকবে; স্মরণ করে দেখো, যখন তোমরা সংখ্যায় ছিলে নিতান্ত কম, অতপর আল্লাহ তোমাদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিলেন এবং তোমরা (পুনরায়) চেয়ে দেখো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮৭﴿
﴾ ৭:৮৭ ﴿
وَإِنْ كَانَ طَائِفَةٌ مِنْكُمْ آمَنُوا بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ وَطَائِفَةٌ لَمْ يُؤْمِنُوا فَاصْبِرُوا حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَنَا وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ ﴿٨٧﴾
আমাকে যে বাণী দিয়ে পাঠানো হয়েছে তার উপর কোনো একটি জনগোষ্ঠী যদি ঈমান আনে, আর একটি দল যদি তার উপর আদৌ ঈমান না আনে, তারপরও তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, যতোক্ষণ না আল্লাহ তা’আলা নিজেই আমাদের মাঝে একটা ফয়সালা করে দেন, তিনিই হচ্ছেন উত্তম ফয়সালাকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮৮﴿
﴾ ৭:৮৮ ﴿
قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لَنُخْرِجَنَّكَ يَا شُعَيْبُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَكَ مِنْ قَرْيَتِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا قَالَ أَوَلَوْ كُنَّا كَارِهِينَ ﴿٨٨﴾
তার সম্প্রদায়ের কিছু নেতৃস্থানীয় লোক- যারা বড়াই অহংকার করছিলো বললো, হে শোয়ায়ব, আমরা অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেবো, অথবা তোমাদের অবশ্যই আমাদের জাতিতে ফিরে আসতে হবে; সে বললো, যদি আমরা ইচ্ছুক না হই তাহলেও (কি তাই হবে) ? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৮৯﴿
﴾ ৭:৮৯ ﴿
قَدِ افْتَرَيْنَا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا إِنْ عُدْنَا فِي مِلَّتِكُمْ بَعْدَ إِذْ نَجَّانَا اللَّهُ مِنْهَا وَمَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَعُودَ فِيهَا إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّنَا وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنْتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ ﴿٨٩﴾
সেখান থেকে আল্লাহ তা’আলা আমাদের (একবার) মুক্তি দেয়ার পর যদি আমরা আবার তোমাদের জীবনাদর্শে ফিরে আসি, তাহলে আমরা (এর মাধ্যমে) আল্লাহ তা’আলার উপর মিথ্যা আরোপ করবো; আমাদের পক্ষে এটা কখনো সম্ভব নয় যে, আমরা সেখানে ফিরে যাবো, হাঁ আমাদের মালিক যদি আমাদের ব্যাপারে অন্য কিছু চান (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা) ; অবশ্যই আমাদের মালিকের জ্ঞান সব কিছুর উপর ছেয়ে আছে; আমরা একান্তভাবে আল্লাহ তা’আলার উপর নির্ভর করি; (এবং আমরা বলি, ) হে আমাদের মালিক, আমাদের এবং আমাদের জাতির মাঝে তুমি (সঠিক একটা) ফয়সালা করে দাও, কারণ তুমিই হচ্ছো সর্বোত্তম ফয়সালাকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯০﴿
﴾ ৭:৯০ ﴿
وَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لَئِنِ اتَّبَعْتُمْ شُعَيْبًا إِنَّكُمْ إِذًا لَخَاسِرُونَ ﴿٩٠﴾
তার জাতির নেতৃস্থানীয় লোক যারা (আল্লাহ তা’আলার নবীকে) অস্বীকার করেছে, তারা (সে জাতির সাধারণ মানুষদের) বললো, তোমরা যদি শোয়ায়বের অনুসরণ করো তাহলে তোমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯১﴿
﴾ ৭:৯১ ﴿
فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ ﴿٩١﴾
(নবীর কথা অমান্য করার কারণে) একটা প্রচন্ড ভূকসম্পন এসে তাদের (এমনভাবে) আঘাত করলো যে, অতপর দেখতে দেখতে তারা সবাই তাদের নিজ নিজ ঘরেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯২﴿
﴾ ৭:৯২ ﴿
الَّذِينَ كَذَّبُوا شُعَيْبًا كَأَنْ لَمْ يَغْنَوْا فِيهَا الَّذِينَ كَذَّبُوا شُعَيْبًا كَانُوا هُمُ الْخَاسِرِينَ ﴿٩٢﴾
যারা শোয়ায়বকে অমান্য করলো, তারা এমন (-ভাবে ধ্বংস) হয়ে গেলো (দেখে মনে হয়েছে) , এখানে কোনোদিন কেউ বসবাসই করেনি, (বস্তুত) তারাই সেদিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা শোয়ায়বকে অস্বীকার করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯৩﴿
﴾ ৭:৯৩ ﴿
فَتَوَلَّى عَنْهُمْ وَقَالَ يَا قَوْمِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَنَصَحْتُ لَكُمْ فَكَيْفَ آسَى عَلَى قَوْمٍ كَافِرِينَ ﴿٩٣﴾
এরপর সে (শোয়ায়ব) তাদের কাছ থেকে চলে গেলো, (যাবার সময়) সে বললো, হে আমার জাতি, আমি তোমাদের কাছে আমার মালিকের বাণীসমূহ পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং আমি (আন্তরিকভাবেই) তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছিলাম, আমি কেন এমন সব মানুষের জন্যে (আজ) আফসোস করবো যারা আল্লাহকেই অস্বীকার করে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯৪﴿
﴾ ৭:৯৪ ﴿
وَمَا أَرْسَلْنَا فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا أَخَذْنَا أَهْلَهَا بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَضَّرَّعُونَ ﴿٩٤﴾
আমি কোনো জনপদে কোনো নবী পাঠিয়েছি অথচ সেই জনপদে মানুষদের অভাব ও কষ্ট দিয়ে পাকড়াও করিনি, এমনটি কখনো হয়নি, আশা (করা গিয়েছিলো) , এর ফলে তারা আল্লাহ তা’আলার কাছে বিনয়াবনত হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯৫﴿
﴾ ৭:৯৫ ﴿
ثُمَّ بَدَّلْنَا مَكَانَ السَّيِّئَةِ الْحَسَنَةَ حَتَّى عَفَوْا وَقَالُوا قَدْ مَسَّ آبَاءَنَا الضَّرَّاءُ وَالسَّرَّاءُ فَأَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٩٥﴾
অতপর আমি তাদের দুঃখ-কষ্টের জায়গাকে সচ্ছল অবস্থার দ্বারা বদলে দিয়েছি, এমনকি যখন তারা (আমার নেয়ামত দ্বারা) প্রাচুর্য লাভ করলো, তখন তারা (আমাকেই ভুলে বসলো এবং) বললো, সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতা তো আমাদের পূর্বপুরুষদের উপরও এসেছে, অতপর আমি তাদের এমন আকস্মিকভাবে পাকড়াও করলাম যে, তারা টেরও পেলো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯৬﴿
﴾ ৭:৯৬ ﴿
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿٩٦﴾
অথচ যদি সেই জনপদের মানুষগুলো (আল্লাহ তা’আলার উপর) ঈমান আনতো এবং (আল্লাহ তা’আলাকে) ভয় করতো, তাহলে আমি তাদের উপর আসমান যমীনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম, কিন্তু (তা না করে) তারা (আমার নবীকেই) মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, সুতরাং তাদের কর্মকান্ডের জন্যে আমি তাদের (ভীষণভাবে) পাকড়াও করলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯৭﴿
﴾ ৭:৯৭ ﴿
أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَائِمُونَ ﴿٩٧﴾
(এ) লোকালয়ের মানুষগুলো কি এতোই নির্ভয় হয়ে গেছে (তারা মনে করে নিয়েছে) , আমার আযাব (নিঝুম) রাতে তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর হয়ে) থাকবে! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯৮﴿
﴾ ৭:৯৮ ﴿
أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ ﴿٩٨﴾
অথবা জনপদের মানুষগুলো কি নির্ভয় হয়ে ধরে নিয়েছে যে, আমার আযাব তাদের উপর মধ্য দিনে এসে পড়বে না যখন তারা খেল-তামাশায় মত্ত থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:৯৯﴿
﴾ ৭:৯৯ ﴿
أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ ﴿٩٩﴾
কিংবা তারা কি আল্লাহ তা’আলার কলা-কৌশল থেকেও নির্ভয় হয়ে গেছে, অথচ আল্লাহ তা’আলার কলা-কৌশল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জাতি ছাড়া অন্য কেউই নিশ্চিন্ত হতে পারে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০০﴿
﴾ ৭:১০০ ﴿
أَوَلَمْ يَهْدِ لِلَّذِينَ يَرِثُونَ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِ أَهْلِهَا أَنْ لَوْ نَشَاءُ أَصَبْنَاهُمْ بِذُنُوبِهِمْ وَنَطْبَعُ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ ﴿١٠٠﴾
(আগের) লোকদের চলে যাওয়ার পর (তাদের জায়গায়) যারা পরে দুনিয়ার উত্তরাধিকারী হয়েছে, তাদের কি এ বিষয়টি কখনো হেদায়াতের পথ দেখায় না যে, আমি ইচ্ছা করলে (যে কোনো সময়ই) তাদের অপরাধের জন্যে তাদের পাকড়াও করতে পারি এবং (এমনভাবে) তাদের দিলের উপর মোহর মেরে দিতে পারি যে, তারা (সত্যের ডাক) শুনতেই পাবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০১﴿
﴾ ৭:১০১ ﴿
تِلْكَ الْقُرَى نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَائِهَا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا بِمَا كَذَّبُوا مِنْ قَبْلُ كَذَلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِ الْكَافِرِينَ ﴿١٠١﴾
এই যে জনপদসমূহ যাদের কিছু কিছু কাহিনী আমি তোমাকে শোনাচ্ছি, তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে রসূলরা এসেছিলো, কিন্তু তারা যে বিষয়টি এর আগে অস্বীকার করেছিলো, তার উপর ঈমান আনলো না; আর এভাবেই আল্লাহ তা’আলা অবিশ্বাসী কাফেরদের অন্তরে মোহর মেরে দেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০২﴿
﴾ ৭:১০২ ﴿
وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِمْ مِنْ عَهْدٍ وَإِنْ وَجَدْنَا أَكْثَرَهُمْ لَفَاسِقِينَ ﴿١٠٢﴾
আমি এদের বেশী সংখ্যক মানুষকেই (আমার সাথে সম্পাদিত) প্রতিশ্রুতির পালনকারী হিসেবে পাইনি, বরং এদের অধিকাংশকেই আমি (বড়ো বড়ো অপরাধে) অপরাধী পেয়েছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০৩﴿
﴾ ৭:১০৩ ﴿
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُوسَى بِآيَاتِنَا إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَظَلَمُوا بِهَا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ ﴿١٠٣﴾
এদের (ধ্বংসের) পর আমি মূসাকে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ দিয়ে ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে পাঠিয়েছি, কিন্তু তারাও (আমার) নিদর্শনসমূহের সাথে বাড়াবাড়ি করেছে, (আজ) তুমি দেখে নাও, (আমার যমীনে) বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন ছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০৪﴿
﴾ ৭:১০৪ ﴿
وَقَالَ مُوسَى يَا فِرْعَوْنُ إِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٠٤﴾
মূসা বললো, হে ফেরাউন, আমি অবশ্যই সৃষ্টিকুলের মালিকের পক্ষ থেকে পাঠানো একজন রসূল। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০৫﴿
﴾ ৭:১০৫ ﴿
حَقِيقٌ عَلَى أَنْ لَا أَقُولَ عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ قَدْ جِئْتُكُمْ بِبَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ فَأَرْسِلْ مَعِيَ بَنِي إِسْرَائِيلَ ﴿١٠٥﴾
এটা নিশ্চিত, আমি আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলবো না, আমি অবশ্যই তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছি, অতএব তুমি বনী ইসরাঈলদের (মুক্তি দিয়ে) আমার সাথে যেতে দাও! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০৬﴿
﴾ ৭:১০৬ ﴿
قَالَ إِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿١٠٦﴾
ফেরাউন বললো, তুমি যদি (সত্যিই তেমন) কোনো নিদর্শন এনে থাকো এবং তুমি যদি (তোমার দাবীতে) সত্যবাদী হও, তাহলে তা (সামনে) নিয়ে এসো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০৭﴿
﴾ ৭:১০৭ ﴿
فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ ﴿١٠٧﴾
অতপর সে তার হাতের লাঠিটি মাটিতে নিক্ষেপ করলো, সাথে সাথেই তা প্রকাশ্য একটি অজগরে পরিণত হয়ে গেলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০৮﴿
﴾ ৭:১০৮ ﴿
وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ ﴿١٠٨﴾
অতপর সে (বগল থেকে) তার হাত বের করলো, সাথে সাথে তা (উৎসাহী) দর্শকদের জন্যে চমকাতে লাগলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১০৯﴿
﴾ ৭:১০৯ ﴿
قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ ﴿١٠٩﴾
(অবস্থা দেখে) ফেরাউনের জাতির প্রধান ব্যক্তিরা বললো, এ তো (দেখছি আসলেই) একজন সুদক্ষ যাদুকর! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১০﴿
﴾ ৭:১১০ ﴿
يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ ﴿١١٠﴾
(আসলে) এ ব্যক্তি তোমাদের সবাইকে তোমাদের (নিজেদের) দেশ থেকেই বের করে দিতে চায়, (এ পরিস্থিতিতে) তোমরা (আমাকে) কি পরামর্শ দিচ্ছো? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১১﴿
﴾ ৭:১১১ ﴿
قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ ﴿١١١﴾
(অতপর) তারা ফেরাউনকে বললো, আপাতত তাকে এবং তার ভাইকে কিছু দিনের জন্যে এমনিই থাকতে দাও এবং (এ সুযোগে) তোমরা শহরে-বন্দরে (সরকারী) সংগ্রাহক পাঠিয়ে দাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১২﴿
﴾ ৭:১১২ ﴿
يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ ﴿١١٢﴾
যেন তারা দেশের সকল দক্ষ যাদুকরদের (অবিলম্বে) তোমার কাছে নিয়ে আসে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১৩﴿
﴾ ৭:১১৩ ﴿
وَجَاءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوا إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ ﴿١١٣﴾
(সিদ্ধান্ত মোতাবেক) যাদুকররা যখন ফেরাউনের কাছে এলো, তখন তারা বললো, আমরা যদি (আজ মূসার মোকাবেলায়) বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্যে নিশ্চিত পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে তো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১৪﴿
﴾ ৭:১১৪ ﴿
قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ ﴿١١٤﴾
সে বললো, হাঁ (তা তো অবশ্যই) এবং তোমরাই হবে (দরবারের) ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তিদের অন্যতম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১৫﴿
﴾ ৭:১১৫ ﴿
قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ ﴿١١٥﴾
(এবার) যাদুকররা বললো, হে মূসা, (যাদুর বাণ) তুমি আগে নিক্ষেপ করবে না আমরা আগে তা নিক্ষেপ করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১৬﴿
﴾ ৭:১১৬ ﴿
قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ ﴿١١٦﴾
সে বললো, তোমরাই (বরং) আগে নিক্ষেপ করো, অতপর তারা (তাদের বাণ) নিক্ষেপ করে মানুষদের দৃষ্টিশক্তির উপর যাদু করে ফেললো, (এতে করে) তারা মানুষদের ভীত-আতংকিত করে তুললো, তারা (সেদিন সত্য সত্যই) বড়ো যাদুমন্ত্র নিয়ে হাযির হয়েছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১৭﴿
﴾ ৭:১১৭ ﴿
وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ ﴿١١٧﴾
অতপর আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম এবং তাকে বললাম, এবার তুমি (যমীনে) তোমার লাঠিটি নিক্ষেপ করো, (নিক্ষিপ্ত হবার সাথে সাথেই) তা যাদুকরদের অলীক বানোয়াটগুলোকে গ্রাস করে ফেললো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১৮﴿
﴾ ৭:১১৮ ﴿
فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١١٨﴾
অতপর সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো, আর তারা যা কিছু বানিয়ে এনেছিলো তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১১৯﴿
﴾ ৭:১১৯ ﴿
فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ ﴿١١٩﴾
সেখানে তারা সবাই পরাভূত হলো এবং তারা লাঞ্ছিত হয়ে (ফিরে) গেলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২০﴿
﴾ ৭:১২০ ﴿
وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ ﴿١٢٠﴾
অতপর (সত্যের সামনে) যাদুকরদের অবনত করে দেয়া হলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২১﴿
﴾ ৭:১২১ ﴿
قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٢١﴾
তারা (সবাই সমস্বরে) বলে উঠলো, আমরা সৃষ্টিকুলের মালিকের উপর ঈমান আনলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২২﴿
﴾ ৭:১২২ ﴿
رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ ﴿١٢٢﴾
(যিনি) মূসা ও হারূনের মালিক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২৩﴿
﴾ ৭:১২৩ ﴿
قَالَ فِرْعَوْنُ آمَنْتُمْ بِهِ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّ هَذَا لَمَكْرٌ مَكَرْتُمُوهُ فِي الْمَدِينَةِ لِتُخْرِجُوا مِنْهَا أَهْلَهَا فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿١٢٣﴾
(ঘটনার এই আকস্মিক মোড় পরিবর্তন দেখে) ফেরাউন বললো, (একি!) আমি তোমাদের কোনো রকম অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার উপর ঈমান আনলে! (আসলে আমি বুঝতে পারলাম, ) এ ছিলো তোমাদের সবার নিশ্চিত একটা ষড়যন্ত্র! (এ) নগরে (বসেই) তোমরা তা পাকিয়েছো, যাতে করে তার অধিবাসীদের তোমরা সেখান থেকে বের করে দিতে পারো, অচিরেই তোমরা (এ বিদ্রোহের পরিণাম) জানতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২৪﴿
﴾ ৭:১২৪ ﴿
لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلَافٍ ثُمَّ لَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ ﴿١٢٤﴾
আমি অবশ্যই তোমাদের একদিকের হাত ও অন্যদিকের পাগুলো কেটে ফেলবো, এরপর আমি তোমাদের সবাইকে শুলে চড়াবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২৫﴿
﴾ ৭:১২৫ ﴿
قَالُوا إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنْقَلِبُونَ ﴿١٢٥﴾
তারা বললো, আমরা তো (একদিন) আমাদের মালিকের কাছে ফিরে যাবোই (তাই আমরা তোমার শাস্তির পরোয়া করি না) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২৬﴿
﴾ ৭:১২৬ ﴿
وَمَا تَنْقِمُ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِآيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ ﴿١٢٦﴾
তুমি আমাদের কাছ থেকে এ কারণেই (এই) প্রতিশোধ নিচ্ছো যে, আমাদের মালিকের নিদর্শনসমূহ, যা তাঁর কাছ থেকে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে, আমরা তার উপর ঈমান এনেছি; (আমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রার্থনা করি, ) হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দাও এবং (তোমার) অনুগত বান্দা হিসেবে তুমি আমাদের মৃত্যু দিয়ো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২৭﴿
﴾ ৭:১২৭ ﴿
وَقَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآلِهَتَكَ قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبْنَاءَهُمْ وَنَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ وَإِنَّا فَوْقَهُمْ قَاهِرُونَ ﴿١٢٧﴾
ফেরাউনের জাতির সরদাররা তাকে বললো, তুমি কি মূসা ও তার দলবলকে এ যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্যে এমনিই ছেড়ে দিয়ে রাখবে এবং তারা তোমাকে ও তোমার দেবতাদের (এভাবে) বর্জন করেই চলবে? সে বললো (না, তা কখনো হবে না) , আমি (অচিরেই) তাদের ছেলেদের হত্যা করে ফেলবো এবং তাদের মেয়েদের আমি জীবিত রাখবো, (নিসন্দেহে) আমি তাদের উপর বিপুল ক্ষমতায় ক্ষমতাবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২৮﴿
﴾ ৭:১২৮ ﴿
قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةِ لِلْمُتَّقِينَ ﴿١٢٨﴾
মূসা এবার তার জাতিকে বললো, (তোমরা) আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাও এবং ধৈর্য ধারণ করো (মনে রেখো) , অবশ্যই এ যমীন (হচ্ছে) আল্লাহ তা’আলার, তিনি নিজ বান্দাদের মাঝে যাকে চান তাকেই এ যমীনের ক্ষমতা দান করেন; চূড়ান্ত সাফল্য তাদের জন্যেই যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১২৯﴿
﴾ ৭:১২৯ ﴿
قَالُوا أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا قَالَ عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ ﴿١٢٩﴾
তারা (মূসাকে) বললো, তুমি আমাদের কাছে (নবী হয়ে) আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি, আর (এখন) তুমি আমাদের কাছে আসার পরও আমরা একইভাবে নির্যাতিত হচ্ছি; (এর কি কোনো শেষ হবে না?) মূসা বললো (হাঁ, হবে) , খুব তাড়াতাড়িই সম্ভবত তোমাদের মালিক তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করে দেবেন এবং (এ) দুনিয়ায় তিনি তোমাদের তার স্থলাভিষিক্ত করবেন, অতপর আল্লাহ তা’আলা দেখবেন তোমরা কিভাবে (তার) কাজ করো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩০﴿
﴾ ৭:১৩০ ﴿
وَلَقَدْ أَخَذْنَا آلَ فِرْعَوْنَ بِالسِّنِينَ وَنَقْصٍ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ ﴿١٣٠﴾
ক্রমাগত বেশ কয়েক বছর ধরে আমি ফেরাউনের লোকজনদের দুর্ভিক্ষ ও ফসলের স্বল্পতা দিয়ে আক্রান্ত করে রেখেছিলাম, (ভাবছিলাম) সম্ভবত তারা (কিছুটা হলেও) বুঝতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩১﴿
﴾ ৭:১৩১ ﴿
فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوا لَنَا هَذِهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٣١﴾
যখন তাদের উপর ভালো সময় আসতো তখন তারা বলতো, এ তো ছিলো আমাদের নিজেদেরই (পাওনা) , আবার যখন দুঃসময় তাদের পেয়ে বসতো, তখন নিজেদের দুর্ভাগ্যের ভার তারা মূসা এবং তার সংগী-সাথীদের উপরই আরোপ করতো; হাঁ, তাদের দুর্ভাগ্যের যাবতীয় বিষয় তো আল্লাহ তা’আলার হাতেই রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই (এ সম্পর্কে) অবহিত নয়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩২﴿
﴾ ৭:১৩২ ﴿
وَقَالُوا مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ لِتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ ﴿١٣٢﴾
তারা (মূসাকে আরো) বললো, আমাদের উপর যাদুর প্রভাব বিস্তার করার জন্যে তুমি যতো নিদর্শনই নিয়ে আসো না কেন, আমরা কখনো তোমার উপর ঈমান আনবো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩৩﴿
﴾ ৭:১৩৩ ﴿
فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الطُّوفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ آيَاتٍ مُفَصَّلَاتٍ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ ﴿١٣٣﴾
(এ ধৃষ্টতার জন্যে) অতপর আমি তাদের উপর ঝড়-তুফান (দিলাম) , পংগপাল (পাঠালাম) , উকুন (ছড়ালাম) , ব্যাঙ (ছেড়ে দিলাম) ও রক্ত (-পাতজনিত বিপর্যয়) নাযিল করলাম, এর সবকয়টিই (তাদের কাছে এসেছিলো আমার এক একটা) সুস্পষ্ট নিদর্শন (হিসেবে, কিন্তু এ সত্ত্বেও) তারা অহংকার বড়াই করতেই থাকলো, আসলেই তারা ছিলো একটি অপরাধী জাতি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩৪﴿
﴾ ৭:১৩৪ ﴿
وَلَمَّا وَقَعَ عَلَيْهِمُ الرِّجْزُ قَالُوا يَامُوسَى ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ لَئِنْ كَشَفْتَ عَنَّا الرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِي إِسْرَائِيلَ ﴿١٣٤﴾
যখনি তাদের উপর কোনো বিপর্যয় আসতো, তখন তারা বলতো হে মূসা! তোমার প্রতি প্রদত্ত তোমার মালিকের প্রতিশ্রুতি মতো তুমি আমাদের জন্যে তোমার মালিকের কাছে দোয়া করো, যদি (এবারের মতো) আমাদের উপর থেকে এ বিপদ দূর করে দাও, তাহলে অবশ্যই আমরা তোমার উপর ঈমান আনবো এবং বনী ইসরাঈলদেরও তোমার সাথে যেতে দেবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩৫﴿
﴾ ৭:১৩৫ ﴿
فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الرِّجْزَ إِلَى أَجَلٍ هُمْ بَالِغُوهُ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ ﴿١٣٥﴾
অতপর যখনি তাদের উপর থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে যে সময়টুকু সে জন্যে নির্ধারিত ছিলো সে বালা-মসিবত আমি অপসারণ করে নিতাম, তখন সাথে সাথেই তারা ওয়াদা ভংগ করে ফেলতো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩৬﴿
﴾ ৭:১৩৬ ﴿
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ ﴿١٣٦﴾
অতপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিলাম, তাদের আমি সাগরে ডুবিয়ে দিলাম, কেননা, তারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলো এবং (আমার) এ (শাস্তি) থেকে তারা উদাসীন হয়ে গিয়েছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩৭﴿
﴾ ৭:১৩৭ ﴿
وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ الْحُسْنَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُ وَمَا كَانُوا يَعْرِشُونَ ﴿١٣٧﴾
এবার আমি (সত্যি সত্যিই) তাদের ক্ষমতার আসনে বসিয়ে দিলাম, যাদের (এতোদিন) দুর্বল করে রাখা হয়েছিলো, (তাদের আমি) এ রাজ্যের পূর্ব-পশ্চিম (-সহ সব কয়টি) প্রান্তের অধিকারী বানিয়ে দিলাম, যাতে আমি আমার প্রভূত কল্যাণ ছড়িয়ে দিয়েছি, (এভাবেই) বনী ইসরাঈলের উপর প্রদত্ত তোমার মালিকের (প্রতিশ্রুতির) সেই কল্যাণবাণী সত্যে পরিণত হলো, কেননা তারা ধৈর্য ধারণ করেছিলো; ফেরাউন ও তার জাতির যাবতীয় শিল্পকর্ম ও উঁচু প্রাসাদ যা তারা নির্মাণ করেছিলো, আমি সব কিছুই ধ্বংস করে দিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩৮﴿
﴾ ৭:১৩৮ ﴿
وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ ﴿١٣٨﴾
(ফেরাউনকে ডুবিয়ে মারার পর) আমি বনী ইসরাঈলদের সমুদ্র পার করিয়ে দিয়েছি, অতপর (সমুদ্রের ওপারে) তারা এমন একটি জাতির কাছে এসে পেঁৗঁছলো, যারা (সব সময়) তাদের মূর্তিদের উপর পূজার অর্ঘ দেয়ার জন্যে বসে থাকতো, (এদের দেখে বনী ইসরাঈলের) লোকেরা বললো, হে মূসা, তুমি আমাদের জন্যেও (এ ধরনের) একটি দেবতা বানিয়ে দাও, যেমন দেবতা রয়েছে এদের; (এ কথা শুনে) সে তাদের বললো, তোমরা হচ্ছো আসলেই এক মূর্খ জাতি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৩৯﴿
﴾ ৭:১৩৯ ﴿
إِنَّ هَؤُلَاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٣٩﴾
এ লোকেরা যেসব কাজে লিপ্ত রয়েছে, তা (একদিন) ধ্বংস করে দেয়া হবে এবং এরা যা করছে তাও সম্পূর্ণ বাতিল (বলে গণ্য) হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪০﴿
﴾ ৭:১৪০ ﴿
قَالَ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَهًا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿١٤٠﴾
মূসা (আরো) বললো, আমি কি তোমাদের জন্যে আল্লাহ তা’আলাকে বাদ দিয়ে অন্য একজন মাবুদ তালাশ করতে যাবো অথচ এই আল্লাহ তা’আলাই তোমাদের দুনিয়ার সব কিছুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪১﴿
﴾ ৭:১৪১ ﴿
وَإِذْ أَنْجَيْنَاكُمْ مِنَ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ يُقَتِّلُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ وَفِي ذَلِكُمْ بَلَاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَظِيمٌ ﴿١٤١﴾
(তা ছাড়া তোমাদের সে সময়ের কথা স্মরণ করা উচিত, ) যখন আমি তোমাদের ফেরাউনের লোকজনদের কাছ থেকে মুক্ত করেছিলাম, তারা তোমাদের মর্মান্তিক শাস্তি দিতো, তারা তোমাদের পুত্র-সন্তানদের হত্যা করতো, আর তোমাদের মেয়েদের তারা জীবিত ছেড়ে দিতো; এতে তোমাদের জন্যে তোমাদের পরোয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এক মহা পরীক্ষা নিহিত ছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪২﴿
﴾ ৭:১৪২ ﴿
وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً وَقَالَ مُوسَى لِأَخِيهِ هَارُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ ﴿١٤٢﴾
মূসাকে (আমার কাছে ডাকার জন্যে) আমি তিরিশটি রাত নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, (পরে) তাতে আরো দশ মিলিয়ে তা পূর্ণ করেছি, এভাবেই তার জন্যে তার মালিকের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে, (যাত্রার প্রাক্কালে) মূসা তার ভাই হারূনকে বললো, (আমার অবর্তমানে) আমার লোকদের মাঝে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, তাদের (প্রয়োজনীয়) সংশোধন করবে, কখনো বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদের কথামতো চলবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪৩﴿
﴾ ৭:১৪৩ ﴿
وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ قَالَ لَنْ تَرَانِي وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَى صَعِقًا فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٤٣﴾
যখন মূসা আমার সাক্ষাতের জন্যে (নির্ধারিত স্থানে) এসে পৌঁছলো এবং তার মালিক তার সাথে কথা বললেন, তখন সে বললো, হে আমার মালিক, আমাকে (তোমার কুদরত) দেখাও, আমি তোমার দিকে তাকাই; তিনি বললেন (না) , তুমি কখনো আমাকে দেখতে পাবে না, তুমি বরং (অনতিদূরের) পাহাড়টির দিকে তাকিয়ে দেখো, যদি (আমার নূর দেখার পর) পাহাড়টি স্বস্থানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তাহলে তুমি অবশ্যই (সেখানে) আমায় দেখতে পাবে, অতপর যখন তার মালিক পাহাড়ের উপর (স্বীয়) জ্যোতি নিক্ষেপ করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলো, (সাথে সাথেই) মূসা বেহুশ হয়ে গেলো, পরে যখন সে সংজ্ঞা ফিরে পেলো তখন সে বললো, মহাপবিত্রতা তোমার (হে আল্লাহ) , আমি তোমার কাছে তাওবা করছি, আর তোমার উপর ঈমান আনয়নকারীদের মধ্যে আমিই (হতে চাই) প্রথম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪৪﴿
﴾ ৭:১৪৪ ﴿
قَالَ يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ ﴿١٤٤﴾
আল্লাহ তা’আলা বললেন, হে মূসা, আমি মানুষের মাঝ থেকে তোমাকে আমার নবুওত ও আমার সাথে বাক্যালাপের মর্যাদা দিয়ে বাছাই করে নিয়েছি, অতএব আমি তোমাকে (হেদায়াতের) যা কিছু (বাণী) দিয়েছি তা (নিষ্ঠার সাথে) গ্রহণ করো এবং (এ জন্যে তুমি আমার) কৃতজ্ঞতা আদায় করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪৫﴿
﴾ ৭:১৪৫ ﴿
وَكَتَبْنَا لَهُ فِي الْأَلْوَاحِ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْعِظَةً وَتَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ فَخُذْهَا بِقُوَّةٍ وَأْمُرْ قَوْمَكَ يَأْخُذُوا بِأَحْسَنِهَا سَأُرِيكُمْ دَارَ الْفَاسِقِينَ ﴿١٤٥﴾
এই ফলকের মধ্যে আমি তার জন্যে সর্ববিষয়ের উপদেশমালা ও সব কিছুর বিস্তারিত বিবরণ লিখে দিলাম, অতএব একে (শক্ত করে) আঁকড়ে ধরো এবং তোমার জাতির লোকদের বলো, তারা যেন এর উৎকৃষ্ট অংশ গ্রহণ করে; অচিরেই আমি তোমাদের (সেসব ধ্বংসপ্রাপ্ত) পাপীদের আস্তানা দেখাবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪৬﴿
﴾ ৭:১৪৬ ﴿
سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِنْ يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ ﴿١٤٦﴾
অচিরেই আমি সেসব মানুষের দৃষ্টি আমার (এসব) নিদর্শন থেকে (ভিন্ন দিকে) ফিরিয়ে দেবো, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বাহাদুরী করে বেড়ায়; (আসলে) এ লোকেরা যদি (অতীত ধ্বংসাবশেষের) সব কয়টি চিহ্নও দেখতে পায়, তবু তারা তার উপর ঈমান আনবে না, যদি তারা সঠিক পথ দেখতেও পায়, তবু তারা (পথকে) পথ বলে গ্রহণ করবে না, যদি এর কোথাও কোনো বাঁকা পথ তারা দেখতে পায়, তাহলে তাকেই (অনুসরণযোগ্য) পথ হিসেবে গ্রহণ করবে; এটা এ কারণে যে, তারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, এবং তারা এ (আযাব) থেকেও উদাসীন ছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪৭﴿
﴾ ৭:১৪৭ ﴿
وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٤٧﴾
যারা আমার আয়াতসমূহ ও পরকালে আমার সামনা সামনি হওয়ার বিষয়কে অস্বীকার করবে, তাদের সব কার্যকলাপই বিনষ্ট হয়ে যাবে; আর তারা (এ দুনিয়ায়) যা কিছু করবে তাদের তেমনিই প্রতিফল দেয়া হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪৮﴿
﴾ ৭:১৪৮ ﴿
وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَى مِنْ بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ أَلَمْ يَرَوْا أَنَّهُ لَا يُكَلِّمُهُمْ وَلَا يَهْدِيهِمْ سَبِيلًا اتَّخَذُوهُ وَكَانُوا ظَالِمِينَ ﴿١٤٨﴾
মূসার জাতির লোকেরা তার (তূর পর্বতে গমনের) পর নিজেদের অলংকার দিয়ে একটি গো-বাছুর বানিয়ে নিলো, (তা ছিলো জীবনবিহীন) একটি দেহমাত্র যার আওয়ায ছিলো শুধু (গরুর) হাম্বা রব; এ লোকেরা কি দেখতে পায় না যে, সে (দেহ) -টি তাদের সাথে কোনো কথা বলে না, না সেটি তাদের কোনো পথের দিশা দেয়, কিন্তু এ সত্ত্বেও তারা সেটিকে (মাবুদ বলে) গ্রহণ করলো, তারা ছিলো (আসলেই) যালেম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৪৯﴿
﴾ ৭:১৪৯ ﴿
وَلَمَّا سُقِطَ فِي أَيْدِيهِمْ وَرَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوا قَالُوا لَئِنْ لَمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿١٤٩﴾
অতপর যখন তারা অনুতপ্ত হলো এবং (নিজেরা) এটা দেখতে পেলো যে, তারা গোমরাহ হয়ে গেছে, তখন তারা বললো, আমাদের মালিক যদি আমাদের উপর দয়া না করেন এবং (গো-বাছুরকে মাবুদ বানানোর জন্যে) যদি তিনি আমাদের ক্ষমা না করেন, তাহলে আমরা নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫০﴿
﴾ ৭:১৫০ ﴿
وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفًا قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُونِي مِنْ بَعْدِي أَعَجِلْتُمْ أَمْرَ رَبِّكُمْ وَأَلْقَى الْأَلْوَاحَ وَأَخَذَ بِرَأْسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُ إِلَيْهِ قَالَ ابْنَ أُمَّ إِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُونِي وَكَادُوا يَقْتُلُونَنِي فَلَا تُشْمِتْ بِيَ الْأَعْدَاءَ وَلَا تَجْعَلْنِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿١٥٠﴾
(কিছু দিন পর) মূসা যখন ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের লোকজনের কাছে ফিরে এলো, তখন সে (এসব কথা শুনে) বললো, আমার (তূর পর্বতে যাওয়ার) পর তোমরা কি জঘন্য কাজই না করেছো! তোমরা কি তোমাদের মালিকের কাছ থেকে (কোনো পরিষ্কার) আদেশ আসার আগেই (তোমরা আল্লাহর আদেশের ব্যাপারে) তাড়াহুড়া (শুরু) করলে! (রাগে ও ক্ষোভে) সে ফলকগুলো ফেলে দিলো এবং তার ভাইর মাথা (-র চুল) ধরে তাকে নিজের দিকে টেনে আনলো; (মূসাকে লক্ষ্য করে) সে বললো, হে আমার মায়ের ছেলে (আমার সহোদর ভাই) , এ জাতির লোকগুলো আমাকে দুর্বল করে দিতে চেয়েছিলো, তারা (এক পর্যায়ে) আমাকে তো মেরেই ফেলতে চেয়েছিলো, তুমি (আজ) আমার সাথে এমন কোনো আচরণ করো না যা শত্র“দের আনন্দিত করবে, আর তুমি আমাকে কখনো যালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫১﴿
﴾ ৭:১৫১ ﴿
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ ﴿١٥١﴾
সে (মূসা) বললো, হে আমার মালিক, আমাকে ও আমার ভাইকে তুমি মাফ করে দাও এবং তুমি আমাদের তোমার রহমতের মধ্যে দাখিল করে নাও, তুমিই সবচাইতে বড়ো দয়াবান। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫২﴿
﴾ ৭:১৫২ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ ﴿١٥٢﴾
(আল্লাহ তা’আলা মূসাকে বললেন, হাঁ, ) যেসব লোক গরুর বাছুরকে মাবুদ বানিয়েছে, অচিরেই তাদের উপর তাদের মালিকের পক্ষ থেকে ‘গযব’ আসবে, আর দুনিয়ার জীবনেও (তাদের উপর আসবে) অপমান এবং লাঞ্ছনা; আল্লাহ তা’আলার নামে মিথ্যা কথা রটনাকারীদের আমি এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫৩﴿
﴾ ৭:১৫৩ ﴿
وَالَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِهَا وَآمَنُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٥٣﴾
যেসব লোক অন্যায় কাজ করেছে, এরপর তারা তাওবা করেছে এবং (যথাযথ) ঈমান এনেছে, নিশ্চয়ই এ (যথার্থ) তাওবার পর তোমার মালিক ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু (হিসেবে তাদের সাথে আচরণ করবেন) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫৪﴿
﴾ ৭:১৫৪ ﴿
وَلَمَّا سَكَتَ عَنْ مُوسَى الْغَضَبُ أَخَذَ الْأَلْوَاحَ وَفِي نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ ﴿١٥٤﴾
পরে যখন মূসার ক্রোধ (কিছুটা) প্রশমিত হলো, তখন সে (তাওরাতের) ফলকগুলো তুলে নিলো, তার পাতায় হেদায়াত ও রহমত (সম্বলিত কথাবার্তা লিখিত) ছিলো এমন সব লোকের জন্যে, যারা তাদের মালিককে ভয় করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫৫﴿
﴾ ৭:১৫৫ ﴿
وَاخْتَارَ مُوسَى قَوْمَهُ سَبْعِينَ رَجُلًا لِمِيقَاتِنَا فَلَمَّا أَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ قَالَ رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُمْ مِنْ قَبْلُ وَإِيَّايَ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ مِنَّا إِنْ هِيَ إِلَّا فِتْنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَنْ تَشَاءُ وَتَهْدِي مَنْ تَشَاءُ أَنْتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ ﴿١٥٥﴾
মূসা তার সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে (এবার) সত্তর জন লোককে আমার নির্ধারিত সময়ে সমবেত হবার জন্যে বাছাই করে নিলো, যখন এক প্রচন্ড ভূকসম্পন এসে তাদের আক্রমণ করলো (তখন) মূসা বললো, হে আমার মালিক, তুমি চাইলে তাদের সবাইকে ও আমাকে আগেই ধ্বংস করে দিতে পারতে; (আজ) আমাদের মধ্যকার কয়েকটি নির্বোধ মানুষ যে আচরণ করেছে, (তার জন্যে) তুমি কি আমাদের সবাইকে ধ্বংস করে দেবে! অথচ এ ব্যাপারটা তোমার একটা পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই নয়; এ (পরীক্ষা) দিয়ে যাকে চাও তাকে তুমি বিপথগামী করো, আবার যাকে চাও তাকে সঠিক পথও তো দেখাও! তুমি হচ্ছো আমাদের অভিভাবক, অতএব তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও, আমাদের উপর তুমি দয়া করো, কেননা তুমিই হচ্ছো সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমার আধার। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫৬﴿
﴾ ৭:১৫৬ ﴿
وَاكْتُبْ لَنَا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ قَالَ عَذَابِي أُصِيبُ بِهِ مَنْ أَشَاءُ وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٥٦﴾
তুমি আমাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ লিখে দাও, হেদায়াতের জন্যে আমরা তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি; আল্লাহ তা’আলা বললেন (হাঁ) , আমার শাস্তি আমি যাকে ইচ্ছা তাকেই দেই, আর আমার দয়া তো (আসমান-যমীনের) সবকয়টি জিনিসকেই পরিবেষ্টন করে রেখেছে; আমি অবশ্যই তা লিখে দেবো এমন লোকদের জন্যে, যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে, যারা যাকাত আদায় করে, (সর্বোপরি) যারা আমার আয়াতসমূহের উপর ঈমান আনে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫৭﴿
﴾ ৭:১৫৭ ﴿
الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿١٥٧﴾
যারা এই বার্তাবাহক নিরক্ষর রসূলের অনুসরণ করে চলে যার উল্লেখ তাদের (কিতাব) তাওরাত ও ইনজীলেও তারা দেখতে পায়, যে (নবী) তাদের ভালো কাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, যে তাদের জন্যে যাবতীয় পাক জিনিসকে হালাল ও নাপাক জিনিসসমূহকে তাদের উপর হারাম ঘোষণা করে, তাদের ঘাড় থেকে (মানুষের গোলামীর) যে বোঝা ছিলো তা সে নামিয়ে দেয় এবং (মানুষের চাপানো) যেসব বন্ধন তাদের গলার উপর (ঝুলানো) ছিলো তা সে খুলে ফেলে; অতপর যারা তাঁর উপর ঈমান আনে, যারা তাকে সাহায্য সহযোগিতা করে, (সর্বোপরি) তার সাথে (কোরআনের) যে আলো পাঠানো হয়েছে তার অনুসরণ করে, তারাই হচ্ছে সফলকাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫৮﴿
﴾ ৭:১৫৮ ﴿
قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٥٨﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি বলো, হে মানুষ, আমি তোমাদের সবার কাছে আল্লাহ তা’আলার রসূল (হিসেবে এসেছি) , আল্লাহ তা’আলা যিনি আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র মালিক, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান, অতএব তোমরা (সেই) মহান আল্লাহ তা’আলার উপর ঈমান আনো, তাঁর বার্তাবাহক নিরক্ষর রসলের উপরও তোমরা ঈমান আনো, যে (রসূল নিজেও) আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর বাণীতে বিশ্বাস করে এবং তোমরা তাঁকে অনুসরণ করো, আশা করা যায় তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৫৯﴿
﴾ ৭:১৫৯ ﴿
وَمِنْ قَوْمِ مُوسَى أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ ﴿١٥٩﴾
মূসার জাতির মধ্যে এমন একটি সম্প্রদায়ও আছে, যারা (অন্যদের) সত্যের পথ দেখায় এবং নিজেরাও সে অনুযায়ী ইনসাফ করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬০﴿
﴾ ৭:১৬০ ﴿
وَقَطَّعْنَاهُمُ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أَسْبَاطًا أُمَمًا وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى إِذِ اسْتَسْقَاهُ قَوْمُهُ أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانْبَجَسَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَشْرَبَهُمْ وَظَلَّلْنَا عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ وَأَنْزَلْنَا عَلَيْهِمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿١٦٠﴾
আমি তাদের বারোটি গোত্রে ভাগ করে তাদের স্বতন্ত্র দলে পরিণত করে দিয়েছি, মূসার সম্প্রদায়ের লোকেরা যখন তার কাছে পানি চাইলো, তখন আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম, তুমি তোমার হাতের লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করো, অতপর তা থেকে বারোটি ঝর্ণাধারা উদ্ভূত হলো; প্রত্যেক দল তাদের (নিজেদের) পানি পান করার স্থান চিনে নিলো; আমি তাদের উপর মেঘের ছায়াও বিস্তার করে দিলাম, তাদের কাছে ‘মান’ ও ‘সালওয়া’ (নামক উৎকৃষ্ট খাবার) পাঠালাম; (তাদের আমি এও বললাম, ) তোমাদের আমি যেসব পবিত্র জিনিস দান করেছি তা তোমরা খাও; (আমার কৃতজ্ঞতা আদায় না করে) তারা আমার উপর কোনো যুলুম করেনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬১﴿
﴾ ৭:১৬১ ﴿
وَإِذْ قِيلَ لَهُمُ اسْكُنُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ وَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ وَقُولُوا حِطَّةٌ وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا نَغْفِرْ لَكُمْ خَطِيئَاتِكُمْ سَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ ﴿١٦١﴾
(সে সময়ের কথাও স্মরণ করো, ) যখন তাদের বলা হয়েছিলো, তোমরা এই জনপদে গিয়ে বসবাস করো এবং সেখান থেকে যা কিছু চাও তোমরা আহার করো এবং বলো (হে মালিক) , আমরা তোমার কাছে ক্ষমা চাই, আর (যখনি সেই) জনপদের দ্বারপথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবে, (তখন) সাজদাবনত অবস্থায় প্রবেশ করবে, আমি তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবো; আমি অচিরেই উত্তম লোকদের অতিরিক্ত দান করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬২﴿
﴾ ৭:১৬২ ﴿
فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَظْلِمُونَ ﴿١٦٢﴾
কিন্তু তাদের মধ্যে যারা যালেম ছিলো, তারা তাদের যা (করতে) বলা হয়েছিলো তা সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে ভিন্ন কথা বললো, তাই আমিও তাদের এ যুলুমের শাস্তি হিসেবে তাদের উপর আসমান থেকে আযাব পাঠালাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬৩﴿
﴾ ৭:১৬৩ ﴿
وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا وَيَوْمَ لَا يَسْبِتُونَ لَا تَأْتِيهِمْ كَذَلِكَ نَبْلُوهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ ﴿١٦٣﴾
তাদের কাছ থেকে সেই জনপদের কথা জিজ্ঞেস করো, যা ছিলো সাগরের পাড়ে (অবস্থিত) । যখন সেখানকার মানুষরা শনিবারে (আল্লাহ তা’আলার বেঁধে দেয়া) সীমালংঘন করতো, (আসলে) শনিবারেই (সাগরের) মাছগুলো তাদের কাছে উঁচু হয়ে পানির উপরিভাগে (ভেসে) আসতো এবং শনিবার ছাড়া অন্য কোনোদিন তা আসতো না, (বস্তুত) তাদের অবাধ্যতার কারণেই আমি তাদের অনুরূপ পরীক্ষা নিচ্ছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬৪﴿
﴾ ৭:১৬৪ ﴿
وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ﴿١٦٤﴾
(আরো স্মরণ করো, ) যখন তাদের একদল লোক এও বলছিলো, তোমরা এমন একটি দলকে কেন উপদেশ দিতে যাচ্ছো, যাদের আল্লাহ তা’আলা ধ্বংস করতে, অথবা (গুনাহের জন্যে) যাদের কঠোর শাস্তি দিতে যাচ্ছেন, তারা বললো, এটা হচ্ছে তোমাদের মালিকের দরবারে (নিজেদের) একটা ওযর পেশ করা (যে, আমরা উপদেশ দিয়েছি) । হতে পারে, তারা এর ফলে সাবধান হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬৫﴿
﴾ ৭:১৬৫ ﴿
فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنْجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ ﴿١٦٥﴾
অতপর যা তাদের (বার বার) স্মরণ করানো হচ্ছিলো তা তারা সম্পর্ণ ভুলে গেলো, তখন আমি (সে দল থেকে) এমন লোকদের উদ্ধার করলাম, যারা নিজেরা গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকতো, আর কঠিন শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করলাম তাদের যারা যুলুম করেছে, তাদের নিজেদের গুনাহর জন্যে (আমি তাদের আযাব দিয়েছিলাম) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬৬﴿
﴾ ৭:১৬৬ ﴿
فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ ﴿١٦٦﴾
তাদের যেসব (ঘৃণিত) কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছিলো, যখন তারা তা (ধৃষ্টতার সাথে) করে যাচ্ছিলো, তখন আমি তাদের বললাম, এবার তোমরা সবাই লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬৭﴿
﴾ ৭:১৬৭ ﴿
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿١٦٧﴾
(স্মরণ করো, ) যখন তোমার মালিক (ইহুদীদের উদ্দেশে) ঘোষণা দিলেন, তিনি কেয়ামত পর্যন্ত এ জাতির উপর এমন লোকদের (শক্তিধর করে) পাঠাতে থাকবেন, যারা তাদের নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তি দিতে থাকবে; (একথা) নিশ্চিত, তোমার মালিক (যেমন) সত্বর শাস্তি দান করেন, (তেমনি) তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬৮﴿
﴾ ৭:১৬৮ ﴿
وَقَطَّعْنَاهُمْ فِي الْأَرْضِ أُمَمًا مِنْهُمُ الصَّالِحُونَ وَمِنْهُمْ دُونَ ذَلِكَ وَبَلَوْنَاهُمْ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ﴿١٦٨﴾
আমি তাদের দলে দলে বিভক্ত করে যমীনে ছড়িয়ে দিয়েছি, তাদের মধ্যে কিছু নেককার মানুষ (ছিলো) , আবার তাদের কিছু (ছিলো) এর চাইতে ভিন্ন ধরনের, ভালো-মন্দ (উভয়) অবস্থার (সম্মুখীন) করে আমি তাদের পরীক্ষা নিয়েছি এ আশায় যে, হয়তো তারা (কখনো হেদায়াতের পথে) প্রত্যাবর্তন করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৬৯﴿
﴾ ৭:১৬৯ ﴿
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَذَا الْأَدْنَى وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِنْ يَأْتِهِمْ عَرَضٌ مِثْلُهُ يَأْخُذُوهُ أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِمْ مِيثَاقُ الْكِتَابِ أَنْ لَا يَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ وَدَرَسُوا مَا فِيهِ وَالدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿١٦٩﴾
(কিন্তু) তাদের (অযোগ্য) উত্তরসুরিরা (একের পর এক) এ যমীনে উত্তরাধিকারী হলো, তারা আল্লাহ তা’আলার কিতাবেরও উত্তরাধিকারী হলো, তারা এ দুনিয়ার ধন-সম্পদ করায়ত্ত করে নেয়, (অপরদিকে মূর্খের মতো) বলতে থাকে, আমাদের (শেষ বিচারের দিন) মাফ করে দেয়া হবে, কিন্তু (অর্জিত সম্পদের) অনুরূপ সম্পদ যদি তাদের কাছে এসে পড়ে, তারা সাথে সাথেই তা হস্তগত করে নেয়; (অথচ) তাদের কাছ থেকে আল্লাহ তা’আলার কিতাবের এ প্রতিশ্রুতি কি নেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ তা’আলা সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলবে না! আল্লাহ তা’আলার সেই কিতাবে যা আছে তা তো তারা (নিজেরা বহুবার) অধ্যয়নও করেছে; আর পরকালীন ঘরবাড়ি! (হাঁ) যারা (আল্লাহকে) ভয় করে তাদের জন্যে তো তাই হচ্ছে উত্তম (নিবাস) , তোমরা কি (এ বিষয়টি) অনুধাবন করো না ? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭০﴿
﴾ ৭:১৭০ ﴿
وَالَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِالْكِتَابِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ ﴿١٧٠﴾
অপরদিকে যারা আল্লাহর কিতাবকে (কঠোরভাবে) আঁকড়ে ধরে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে (তারা জানে) , আমি কখনো সংশোধনকারীদের বিনিময় নষ্ট করি না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭১﴿
﴾ ৭:১৭১ ﴿
وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿١٧١﴾
যখন আমি তাদের (মাথার) উপর পাহাড়কে উঁচু করে রেখেছিলাম, মনে হচ্ছিলো তা যেন একটি ছায়া, তারা তো ধরেই নিয়েছিলো, তা বুঝি (এখনি) তাদের উপর পড়ে যাবে (আমি তাদের বললাম, ) তোমাদের আমি (হেদায়াত সম্বলিত) যে কিতাব দিয়েছি তা কঠোরভাবে আঁকড়ে ধরো এবং তাতে যা কিছু আছে তা (বার বার) স্মরণ করো, (এর ফলে) আশা করা যায় তোমরা বেঁচে থাকতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭২﴿
﴾ ৭:১৭২ ﴿
وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ ﴿١٧٢﴾
(তোমরা স্মরণ করো, ) যখন তোমাদের মালিক আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের (পরবর্তী) সন্তান-সন্ততিদের বের করে এনেছেন এবং তাদের নিজেদের উপর (এ মর্মে আনুগত্যের) স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন যে, আমি কি তোমাদের মালিক নই? তারা (সবাই) বললো, হাঁ নিশ্চয়ই, আমরা (এর উপর) সাক্ষ্য দিলাম, (এর উদ্দেশ্য ছিলো) যেন কেয়ামতের দিন তোমরা একথা বলতে না পারো যে, আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭৩﴿
﴾ ৭:১৭৩ ﴿
أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِنْ بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ ﴿١٧٣﴾
কিংবা (একথাও যেন না) বলো যে, আল্লাহর সাথে শেরেক তো আমাদের বাপ-দাদারা আগে করেছে আর আমরা তো ছিলাম তাদের পরবর্তী বংশধর, বাতিলপন্থীদের কার্যক্রমের জন্যে কি তুমি আমাদের ধ্বংস করবে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭৪﴿
﴾ ৭:১৭৪ ﴿
وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ﴿١٧٤﴾
এভাবেই আমি (অতীতের) দৃষ্টান্তসমূহ তাদের কাছে খোলাখুলি বর্ণনা করি, সম্ভবত এরা (সোজা পথে) ফিরে আসবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭৫﴿
﴾ ৭:১৭৫ ﴿
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ ﴿١٧٥﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তুমি তাদের কাছে (এমন) একটি মানুষের কাহিনী (পড়ে) শোনাও, যার কাছে আমি (নবীর মাধ্যমে) আমার আয়াতসমূহ নাযিল করেছিলাম, সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, অতপর শয়তান তার পিছু নেয় এবং সে সম্পূর্ণ গোমরাহ লোকদের দলভুক্ত হয়ে পড়ে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭৬﴿
﴾ ৭:১৭৬ ﴿
وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ ذَلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ﴿١٧٦﴾
(অথচ) আমি চাইলে তাকে এ (আয়াতসমূহ) দ্বারা উচ্চ মর্যাদা দান করতে পারতাম, কিন্তু সে তো (ঊর্ধ্বমুখী আসমানের বদলে) নিুমুখী যমীনের প্রতিই আসক্ত হয়ে পড়ে এবং (পার্থিব) কামনা-বাসনার অনুসরণ করে। তার উদাহরণ হচ্ছে কুকুরের উদাহরণের মতো, যদি তুমি তাকে দৌড়াতে থাকো তবু সে (জিহ্বা বের করে) হাঁপাতে থাকে, আবার তোমরা সেটিকে ছেড়ে দিলেও সে (জিহ্বা ঝুলিয়ে) হাঁপাতে থাকে; এ হচ্ছে তাদের দৃষ্টান্ত যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, এ কাহিনীগুলো (তাদের) তুমি পড়ে শোনাও, হয়তো বা তারা চিন্তা-গবেষণা করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭৭﴿
﴾ ৭:১৭৭ ﴿
سَاءَ مَثَلًا الْقَوْمُ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَأَنْفُسَهُمْ كَانُوا يَظْلِمُونَ ﴿١٧٧﴾
যে সম্প্রদায়ের লোকেরা আমার নিদর্শনসমূহ মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করে আসছে, তাদের উদাহরণ কতোই না নিকৃষ্ট ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭৮﴿
﴾ ৭:১৭৮ ﴿
مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِي وَمَنْ يُضْلِلْ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿١٧٨﴾
আল্লাহ তা’আলা যাকে পথ দেখান সে (সঠিক) পথ প্রাপ্ত হবে, আবার যাকে তিনি গোমরাহ করেন তারা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত (হয়ে পড়ে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৭৯﴿
﴾ ৭:১৭৯ ﴿
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ ﴿١٧٩﴾
বস্তুত বহু সংখ্যক মানুষ ও জ্বিন (আছে, যাদের) আমি জাহান্নামের জন্যেই পয়দা করেছি, তাদের কাছে যদিও (বুঝার মতো) দিল আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা চিন্তা করে না, তাদের কাছে (দেখার মতো) চোখ থাকলেও তারা তা দিয়ে (সত্য) দেখে না, আবার তাদের কাছে (শোনার মতো) কান আছে, কিন্তু তারা সে কান দিয়ে (সত্য কথা) শোনে না; (আসলে) এরা হচ্ছে কতিপয় জন্তু-জানোয়ারের মতো, বরং (কোনো কোনো ক্ষেত্রে) তাদের চাইতেও এরা বেশী প্রথভ্রষ্ট, এসব লোকেরা (দারুণ) উদাসীন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮০﴿
﴾ ৭:১৮০ ﴿
وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٨٠﴾
আল্লাহ তা’আলার জন্যেই যাবতীয় সুন্দর নামসমূহ (নিবেদিত) , অতএব তোমরা সে সব ভালো নামেই তাঁকে ডাকো এবং সেসব লোকের কথা ছেড়ে দাও যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়; যা কিছু তারা (দুনিয়ার জীবনে) করে এসেছে, অচিরেই তার যথাযথ ফল তারা পাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮১﴿
﴾ ৭:১৮১ ﴿
وَمِمَّنْ خَلَقْنَا أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ ﴿١٨١﴾
আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের (মানুষ ও জ্বিনদের) মাঝে (আবার) এমন একটি দল আছে, যারা (মানুষকে) সঠিক পথের দিকে ডাকে এবং (সেমতে) নিজেরাও (নিজেদের জীবনে) ইনসাফ কায়েম করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮২﴿
﴾ ৭:১৮২ ﴿
وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٨٢﴾
যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, ক্রমে ক্রমে আমি তাদের এমনভাবে (ধ্বংসের দিকে ঠেলে) নিয়ে যাবো, তারা (তা) টেরও পাবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮৩﴿
﴾ ৭:১৮৩ ﴿
وَأُمْلِي لَهُمْ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ ﴿١٨٣﴾
আমি তাদের (বিদ্রোহের) জন্যে অবকাশ দিয়ে রাখবো এবং (এ ব্যাপারে) আমার কৌশল (কিন্তু) অত্যন্ত শক্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮৪﴿
﴾ ৭:১৮৪ ﴿
أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا مَا بِصَاحِبِهِمْ مِنْ جِنَّةٍ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ مُبِينٌ ﴿١٨٤﴾
তারা কি কখনো চিন্তা করে দেখে না! তাদের সাথী (মোহাম্মদ) কোনো পাগল নয়; সে তো হচ্ছে (আযাবের) একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮৫﴿
﴾ ৭:১৮৫ ﴿
أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ فَبِأَيِ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ ﴿١٨٥﴾
তারা কি আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের (বিষয়টির) দিকে কখনো তাকিয়ে দেখে না এবং তাকিয়ে দেখে না আল্লাহ তা’আলা এখানে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন (তার প্রতি এবং এর প্রতিও যে, ) তাদের (অবস্থানের) মেয়াদও হয়তো নিকটবর্তী হয়ে এসেছে, এর পর আর কোন্ কথা আছে যা বললে এরা ঈমান আনবে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮৬﴿
﴾ ৭:১৮৬ ﴿
مَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَيَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿١٨٦﴾
আল্লাহ তা’আলা যাকে পথহারা করে দেন তাকে পথে আনার আর (দ্বিতীয়) কেউই নেই; আল্লাহ তা’আলা তো তাদের (সবাইকেই) তাদের অবাধ্যতায় উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ছেড়ে দেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮৭﴿
﴾ ৭:১৮৭ ﴿
يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٨٧﴾
তারা তোমার কাছে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, এ দিনটি কখন সংঘটিত হবে; তুমি (তাদের) বলো, এ জ্ঞান তো (রয়েছে) আমার মালিকের কাছে, এর সময় আসার আগে তিনি তা প্রকাশ করবেন না, (তবে) আকাশমন্ডল ও যমীনের জন্যে সেদিন তা হবে একটি ভয়াবহ ঘটনা; এটি তোমাদের কাছে একান্ত আকস্মিকভাবেই; তারা (এ প্রশ্নটি এমনভাবে) জিজ্ঞেস করে যে, মনে হয় তুমি বুঝি বিষয়টি সম্পর্কে সব কিছু জানো; (তাদের) বলো, কেয়ামতের জ্ঞান তো একমাত্র আল্লাহ তা’আলার কাছেই রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই (এ সত্যটুকু) জানে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮৮﴿
﴾ ৭:১৮৮ ﴿
قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿١٨٨﴾
তুমি (আরো) বলো, আমার নিজের ভালো-মন্দের মালিকও তো আমি নই, তবে আল্লাহ তা’আলা যা চান তাই হয়; যদি আমি অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতাম, তাহলে আমি (নিজের জন্যে সে জ্ঞানের জোরে) অনেক ফায়দাই হাসিল করে নিতে পারতাম এবং কোনো অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করতে পারতো না, আমি তো শুধু (একজন নবী, জাহান্নামের) সতর্ককারী ও (জান্নাতের) সুসংবাদবাহী মাত্র, শুধু সে জাতির জন্যে যারা আমার উপর ঈমান আনে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৮৯﴿
﴾ ৭:১৮৯ ﴿
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا فَلَمَّا تَغَشَّاهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِيفًا فَمَرَّتْ بِهِ فَلَمَّا أَثْقَلَتْ دَعَوَا اللَّهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحًا لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ ﴿١٨٩﴾
তিনিই আল্লাহ তা’আলা, যিনি তোমাদের একটি প্রাণ থেকে পয়দা করেছেন এবং (পরবর্তী পর্যায়ে) তার থেকে তিনি তার জুড়ি বানিয়েছেন, যেন তার (জুড়ির) কাছে (গিয়ে) সে পরম শান্তি লাভ করতে পারে, অতপর যখন (পুরুষ) সাথীটি (তার) মহিলা সাথীটিকে (দৈহিক প্রয়োজনের জন্যে) ঢেকে দিলো, তখন মহিলা সাথীটি এক লঘু গর্ভ ধারণ করলো (এবং প্রথম দিকে) সে এ নিয়েই চলাফেরা করলো; পরে যখন সে (গর্ভের কারণে ওযনে) ভারী হয়ে এলো, তখন তারা (পুরুষ-মহিলা) উভয়েই তাদের মালিককে ডেকে বললো, হে আল্লাহ তা’আলা, যদি তুমি আমাদের একটি সুস্থ ও পূর্ণাংগ সন্তান দান করো, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার কৃতজ্ঞতা আদায়কারীদের দলে শামিল হবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯০﴿
﴾ ৭:১৯০ ﴿
فَلَمَّا آتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آتَاهُمَا فَتَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿١٩٠﴾
পরে (সত্যিই) যখন তিনি তাদের উভয়কে একটি (নিখুঁত) ও ভালো সন্তান দান করলেন, তখন তারা যা কিছু (সন্তানের আকারে আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাদের দেয়া হয়েছে (সে ব্যাপারেই) অন্যদের শরীক বানিয়ে নিলো, আল্লাহ তা’আলা কিন্তু তাদের এ শরীক বানানো থেকে অনেক পবিত্র। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯১﴿
﴾ ৭:১৯১ ﴿
أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ ﴿١٩١﴾
এরা কি আল্লাহ তা’আলার সাথে এমন কিছুকে শরীক (মনে) করে, যারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তাদের নিজেদেরই সৃষ্টি করা হয় ! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯২﴿
﴾ ৭:১৯২ ﴿
وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلَا أَنْفُسَهُمْ يَنْصُرُونَ ﴿١٩٢﴾
তারা তাদের কাউকে কোনো রকম সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং তারা নিজেদেরও কোনো রকম সাহায্য করতে পারে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯৩﴿
﴾ ৭:১৯৩ ﴿
وَإِنْ تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَتَّبِعُوكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ أَدَعَوْتُمُوهُمْ أَمْ أَنْتُمْ صَامِتُونَ ﴿١٩٣﴾
তোমরা যদি এ (মূর্খ) লোকদের হেদায়াতের পথের দিকে আহবান করো, তারা তোমাদের কথা শুনবে না, (তাই) তোমরা তাদের হেদায়াতের পথে ডাকো কিংবা চুপ করে থাকো উভয়টাই তোমাদের জন্যে সমান কথা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯৪﴿
﴾ ৭:১৯৪ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿١٩٤﴾
আল্লাহ তা’আলাকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের (সাহায্যের জন্যে) ডাকো, তারা তো তোমাদের মতোই কতিপয় বান্দা, তোমরা তাদের ডেকেই দেখো না, তোমরা (তোমাদের দাবীতে) সত্যবাদী হলে তাদের উচিত তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়া। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯৫﴿
﴾ ৭:১৯৫ ﴿
أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا قُلِ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنْظِرُونِ ﴿١٩٥﴾
তাদের কি কোনো পা আছে যার (উপর ভর) দিয়ে তারা চলতে পারে, অথবা তাদের কি কোনো (ক্ষমতাধর) হাত আছে যা দিয়ে তারা সব কিছু ধরতে পারে, কিংবা তাদের কি কোনো চোখ আছে যা দিয়ে তারা (সব কিছু) দেখতে পারে, কিংবা আছে তাদের কোনো কান যা দিয়ে তারা শুনতে পারে! তুমি বলো, তোমরা ডাকো তোমাদের শরীকদের, এরপর তোমরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো, (ষড়যন্ত্র করার সময়) আমাকে কোনো অবকাশও দিয়ো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯৬﴿
﴾ ৭:১৯৬ ﴿
إِنَّ وَلِيِّيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ ﴿١٩٦﴾
(তুমি তাদের বলো, ) নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ তা’আলা, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন, তিনি হামেশাই ভালো লোকদের অভিভাবকত্ব করেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯৭﴿
﴾ ৭:১৯৭ ﴿
وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَا أَنْفُسَهُمْ يَنْصُرُونَ ﴿١٩٧﴾
আল্লাহ তা’আলাকে বাদ দিয়ে যাদের তোমরা ডাকো, তারা তোমাদের কোনো রকম সাহায্য করতে সক্ষম নয়, (এমন কি) তারা নিজেদেরও কোনো রকম সাহায্য করতে পারে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯৮﴿
﴾ ৭:১৯৮ ﴿
وَإِنْ تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَسْمَعُوا وَتَرَاهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ ﴿١٩٨﴾
তোমরা যদি (কখনো) তাদের হেদায়াতের পথে আসার আহ্বান জানাও, তবে তারা শুনতেই পাবে না; (কথা বলার সময়) যদিও তুমি দেখছো, তারা তোমার দিকেই চেয়ে আছে, কিন্তু এরা (সত্য) দেখতেই পায় না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:১৯৯﴿
﴾ ৭:১৯৯ ﴿
خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ ﴿١٩٩﴾
(হে মোহাম্মদ, এদের সাথে) তুমি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করো, নেক কাজের আদেশ দাও এবং মূর্খ লোকদের তুমি এড়িয়ে চলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২০০﴿
﴾ ৭:২০০ ﴿
وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٠٠﴾
কখনো যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, সাথে সাথেই তুমি আল্লাহ তা’আলার কাছে আশ্রয় চাও; অবশ্যই তিনি (সব কিছু) শোনেন এবং (সব কিছু) জানেন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২০১﴿
﴾ ৭:২০১ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ ﴿٢٠١﴾
আল্লাহ তা’আলাকে যারা ভয় করে তাদের যদি কখনো শয়তানের পক্ষ থেকে কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে, তবে তারা (সাথে সাথেই) আÍসচেতন হয়ে পড়ে, তৎক্ষণাৎ তাদের চোখ খুলে যায়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২০২﴿
﴾ ৭:২০২ ﴿
وَإِخْوَانُهُمْ يَمُدُّونَهُمْ فِي الْغَيِّ ثُمَّ لَا يُقْصِرُونَ ﴿٢٠٢﴾
তাদের (কাফের) ভাই-বন্ধুরা তাদের বিদ্রোহের পথেই টেনে নিয়ে যেতে চায়, অতপর তারা (চেষ্টার) কোনো ত্রুটি করে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২০৩﴿
﴾ ৭:২০৩ ﴿
وَإِذَا لَمْ تَأْتِهِمْ بِآيَةٍ قَالُوا لَوْلَا اجْتَبَيْتَهَا قُلْ إِنَّمَا أَتَّبِعُ مَا يُوحَى إِلَيَّ مِنْ رَبِّي هَذَا بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿٢٠٣﴾
(আবার) যখন তুমি (কিছু দিন) তাদের কাছে কোনো আয়াত এনে হাযির না করো, তখন তারা বলে, ভালো হতো যদি তুমি নিজেই তেমন কিছু বেছে না নিতে! তুমি বলো, আমি তো তাই অনুসরণ করি যা আমার মালিকের কাছ থেকে আমার কাছে নাযিল হয়, আর এ (কোরআন) হচ্ছে তোমাদের মালিকের কাছ থেকে নাযিল করা (অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন) নিদর্শন, যারা ঈমান এনেছে (এ কিতাব) তাদের জন্যে হেদায়াত ও রহমত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২০৪﴿
﴾ ৭:২০৪ ﴿
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿٢٠٤﴾
যখন (তোমার সামনে) কোরআন তেলাওয়াত করা হয় তখন (মনোযোগের সাথে) তা শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো, আশা করা যায় (এর ফলে) তোমাদের উপর দয়া করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২০৫﴿
﴾ ৭:২০৫ ﴿
وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ ﴿٢٠٥﴾
(হে নবী, ) তোমার মালিককে স্মরণ করো মনে মনে, সকাল-সন্ধ্যায় সবিনয়ে ও সশংক চিত্তে, অনুচ্চ স্বরের কথাবার্তা দিয়েও (তাঁকে তুমি স্মরণ করো) , কখনো গাফেলদের দলে শামিল হয়ো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭:২০৬﴿
﴾ ৭:২০৬ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُونَ ﴿٢٠٦﴾
নিসন্দেহে যারা তোমার মালিকের একান্ত সান্নিধ্যে আছে, তারা কখনো অহংকার করে তাঁর ইবাদাত থেকে বিরত থাকে না, তারা তাঁর তাসবীহ করে এবং তাঁর জন্যে সাজদা করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]