🕋
المعارج
(৭০) আল-মাআরিজ
৪৪
১
⋮
سَأَلَ سَائِلٌ بِعَذَابٍ وَاقِعٍ ﴿١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(একজন) প্রশ্নকারী ব্যক্তি (আল্লাহ তা'আলা র প্রতিশ্রুত অমোঘ ও) অবধারিত আযাব (দ্রুত) পেতে চাইলো,
২
⋮
لِلْكَافِرينَ لَيْسَ لَهُ دَافِعٌ ﴿٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
এ আযাব তো) হচ্ছে কাফেরদের জন্যে, তার প্রতিরোধকারী কিছুই নেই,
৩
⋮
مِنَ اللَّهِ ذِي الْمَعَارِجِ ﴿٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(এ আযাব আসবে) সমুন্নত মর্যাদার অধিকারী আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে;
৪
⋮
تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ ﴿٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
ফেরেশতাকুল ও (তাদের নেতা জিবরাঈল) রূহ' আল্লাহর দিকে আরোহণ করে এমন একটি দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর,
৫
⋮
فَاصْبِرْ صَبْرًا جَمِيلًا ﴿٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
অতএব (হে নবী, কাফেরদের ব্যাপারে) তুমি উত্তম ধৈর্য ধারণ করো ।
৬
⋮
إِنَّهُمْ يَرَوْنَهُ بَعِيدًا ﴿٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
কাফেররা (তাদের) এ (অবধারিত আযাব) -কে একটি দূরের (ব্যাপার) হিসেবেই দেখতে পায়,
৭
⋮
وَنَرَاهُ قَرِيبًا ﴿٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
অথচ আমি তো তা দেখতে পাচ্ছি একেবারে আসন্ন;
৮
⋮
يَوْمَ تَكُونُ السَّمَاءُ كَالْمُهْلِ ﴿٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
যেদিন আসমান গলিত তামার মতো হয়ে যাবে,
৯
⋮
وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ ﴿٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
আর পাহাড়গুলো হবে (রং বেরংয়ের) ধুনা পশমের মতো,
১০
⋮
وَلَا يَسْأَلُ حَمِيمٌ حَمِيمًا ﴿١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
১০(সেদিন) এক বন্ধু আরেক বন্ধুর খবর নেবে না,
১১
⋮
يُبَصَّرُونَهُمْ يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمِئِذٍ بِبَنِيهِ ﴿١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
অথচ তারা একজন আরেকজনকে সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাবে, (সেদিন) অপরাধী ব্যক্তি আযাব থেকে (নিজেকে) বাঁচাতে মুক্তিপণ হিসেবে তার পুত্র সন্তানদের দিতে পারলেও তা দিতে চাইবে,
১২
⋮
وَصَاحِبَتِهِ وَأَخِيهِ ﴿١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(দিতে চাইবে) নিজের স্ত্রী এবং নিজের ভাইকেও
১৩
⋮
وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُؤْوِيهِ ﴿١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
এবং নিজের পরিবারভুক্ত এমন আপনজনদেরও, যারা তাকে (জীবনভর) আশ্রয় দিয়েছিলো,
১৪
⋮
وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ يُنْجِيهِ ﴿١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(সম্ভব হলে) ভূমন্ডলের সবকিছুই (সে দিতে চাইবে) , তারপরও (জাহান্নাম থেকে) সে বাঁচতে চাইবে,
১৫
⋮
كَلَّا إِنَّهَا لَظَى ﴿١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
না (কোনো কিছুর বিনিময়েই তা থেকে সেদিন বাঁচা যাবে না) ; সে (জাহান্নাম) হচ্ছে একটি প্রজ্বলিত আগুনের লেলিহান শিখা,
১৬
⋮
نَزَّاعَةً لِلشَّوَى ﴿١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
যা চামড়া ও তার আভ্যন্তরীণ মাংসগুলোকে খসিয়ে দেবে,
১৭
⋮
تَدْعُوا مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى ﴿١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(সেদিন) সে (আগুন) এমন সব লোকদের (নিজের দিকে) ডাকবে, যারা (দুনিয়ার জীবনে অবহেলা করে তা থেকে) ফিরে গিয়েছিলো এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিলো,
১৮
⋮
وَجَمَعَ فَأَوْعَى ﴿١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(যারা দুনিয়ার জীবনে বিপুল) ধনরাশি জমা করে তা একান্তভাবে আগলে রেখেছিলো।
১৯
⋮
إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا ﴿١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(আসলে) মানুষকে সৃষ্টিই করা হয়েছে খুব (সংকীর্ণ মনের এক) ভীরু জীব হিসেবে,
২০
⋮
إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا ﴿٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
যখনি তার উপর কোনো বিপদ আসে তখন সে ঘাবড়ে যায়,
২১
⋮
وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا ﴿٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(আবার) যখন তার সচ্ছলতা ফিরে আসে তখন সে (আগের কথা ভুলে গিয়ে) কার্পণ্য করতে আরম্ভ করে,
২২
⋮
إِلَّا الْمُصَلِّينَ ﴿٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(কিন্তু) সেসব লোকদের কথা আলাদা যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে,
২৩
⋮
الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ ﴿٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
যারা নিজেদের নামাযে সার্বক্ষণিকভাবে কায়েম থাকে,
২৪
⋮
وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ ﴿٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(যারা বিশ্বাস করে) তাদের সম্পদে সুনির্দিষ্ট অধিকার আছে।
২৫
⋮
لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴿٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
এমন সব লোকদের, যারা (অভাবের তাড়নায় কিছু পেতে চায় এবং যারা (যাবতীয় সুযোগ সুবিধা থেকে) বঞ্চিত,
২৬
⋮
وَالَّذِينَ يُصَدِّقُونَ بِيَوْمِ الدِّينِ ﴿٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(তারাও নয়) যারা বিচার দিনের সত্যতা স্বীকার করে,
২৭
⋮
وَالَّذِينَ هُمْ مِنْ عَذَابِ رَبِّهِمْ مُشْفِقُونَ ﴿٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
শ(তদুপরি) যারা তাদের মালিকের আযাবকে ভয় করে,
২৮
⋮
إِنَّ عَذَابَ رَبِّهِمْ غَيْرُ مَأْمُونٍ ﴿٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালকের আযাবের বিষয়টি এমন যে, এ থেকে (মোটেই) নিশ্চিন্ত (হয়ে বসে) থাকা যায় না।
২৯
⋮
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ﴿٢٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
যারা (হারাম কাজ থেকে) নিজেদের যৌন অংগসমূহের হেফাযত করে,
৩০
⋮
إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ ﴿٣٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
অবশ্য নিজেদের স্ত্রীদের কিংবা এমন সব মহিলাদের বেলায় (এটা প্রযোজ্য) নয়, যারা (আল্লাহ তা'আলার অনুমোদিত পন্থায়) তাদের মালিকানাধীন রয়েছে, (এদের ব্যাপারে সংযম না করা হলে এ জন্য) তারা তিরস্কৃত হবে না,
৩১
⋮
فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ ﴿٣١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(আল্লাহ তাআলা র নির্ধারিত এ সীমারেখার) বাইরে যারা (যৌন সম্ভোগের জন্যে) অন্য কিছু পেতে চাইবে, তারা হবে (শরীয়তের সুস্পষ্ট) সীমালংঘনকারী,
৩২
⋮
وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ ﴿٣٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
যারা তাদের আমানত ও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে,
৩৩
⋮
وَالَّذِينَ هُمْ بِشَهَادَاتِهِمْ قَائِمُونَ ﴿٣٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
যারা (সত্যের পক্ষে) সাক্ষ্য প্রদানের ব্যাপারে অটল থাকে,
৩৪
⋮
وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ﴿٣٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(সর্বোপরি) যারা নিজেদের নামাযের হেফাযত করে;
৩৫
⋮
أُولَئِكَ فِي جَنَّاتٍ مُكْرَمُونَ ﴿٣٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(পরকালে) এরাই আল্লাহর জান্নাতে মর্যাদা সহকারে প্রবেশ করবে;
৩৬
⋮
فَمَالِ الَّذِينَ كَفَرُوا قِبَلَكَ مُهْطِعِينَ ﴿٣٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
এ কাফেরদের (আজ) কী হলো? এরা কেন এভাবে উধ্বশ্বাসে তোমার সামনে ছুটে আসছে,
৩৭
⋮
عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ عِزِينَ ﴿٣٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(ছুটে আসছে) ডান দিক থেকে, বাম দিক থেকে দলে দলে!
৩৮
⋮
أَيَطْمَعُ كُلُّ امْرِئٍ مِنْهُمْ أَنْ يُدْخَلَ جَنَّةَ نَعِيمٍ ﴿٣٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
তাদের প্রত্যেক ব্যক্তি কি এ (মিথ্যা) আশা পোষণ করে যে, তাকে (আল্লাহর) নেয়ামতভরা জান্নাতে দাখিল করা হবে?
৩৯
⋮
كَلَّا إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِمَّا يَعْلَمُونَ ﴿٣٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
না, তা কখনো সম্ভব নয়, আমি তাদের এমন এক জিনিস দিয়ে বানিয়েছি যা তারা (ভালো করেই জানে ।
৪০
⋮
فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ ﴿٤٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
আমি উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের মালিকের শপথ করছি, অবশ্যই আমি (বিদ্রোহীদের ধ্বংস সাধনে) সক্ষম,
৪১
⋮
عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ خَيْرًا مِنْهُمْ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ ﴿٤١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(আমি সক্ষম) এদের চাইতে উৎকৃষ্ট কাউকে দিয়ে এদের বদলে দিতে এবং আমি (এতে) কখনো অক্ষম নই।
৪২
⋮
فَذَرْهُمْ يَخُوضُوا وَيَلْعَبُوا حَتَّى يُلَاقُوا يَوْمَهُمُ الَّذِي يُوعَدُونَ ﴿٤٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(হে নবী, ) তুমি বরং এদের ছেড়ে দাও, এরা কিছুদিন খেল তামাশায় নিমগ্ন থাক ঠিক সেদিনটির সম্মুখীন হওয়া পর্যন্ত, যেদিনের (ব্যাপারে বার বার) তাদের ওয়াদা দেয়া হচ্ছে।
৪৩
⋮
يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعًا كَأَنَّهُمْ إِلَى نُصُبٍ يُوفِضُونَ ﴿٤٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
সেদিন যখন এরা (নিজ নিজ) কবর থেকে বের হয়ে আসবে, তখন এমন দ্রুতগতিতে এরা দৌড়াতে থাকবে, (দেখে মনে হবে) তারা (সবাই বুঝি) কোনো শিকারের (লক্ষ্যবস্তুর) দিকে ছুটে চলেছে,
৪৪
⋮
خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَانُوا يُوعَدُونَ ﴿٤٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত, অপমান ও লাঞ্ছনায় তাদের সবকিছু থাকবে আচ্ছন্ন; (তখন তাদের বলা হবে) এ হচ্ছে সেই (মহা) দিবস, তোমাদের কাছে যেদিনের ওয়াদা করা হয়েছিলো।