🕋
نوح
(৭১) নুহ
২৮
﴾৭১:১﴿
﴾ ৭১:১ ﴿
إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ أَنْ أَنْذِرْ قَوْمَكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١﴾
আমি নূহকে তার জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম (তাকে আমি বলেছিলাম, হে নূহ) , তোমার জাতির উপর এক ভয়াবহ আযাব আসার আগেই তুমি তাদের সে সম্পর্কে সাবধান করে দাও ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২﴿
﴾ ৭১:২ ﴿
قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ ﴿٢﴾
(আমার আদেশ পেয়ে সে তার জাতিকে বললো, ) হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা, আমি তোমাদের জন্যে একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী ব্যক্তি (মাত্র) ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:৩﴿
﴾ ৭১:৩ ﴿
أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ ﴿٣﴾
তোমরা সবাই আল্লাহর আনুগত্য করো, (সর্বাবস্থায়) তাঁকেই ভয় করো, তোমরা আমার কথা মেনে চলো,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:৪﴿
﴾ ৭১:৪ ﴿
يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرْكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى إِنَّ أَجَلَ اللَّهِ إِذَا جَاءَ لَا يُؤَخَّرُ لَوْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٤﴾
(এতে করে) আল্লাহ তাআলা তোমাদের (আগের) গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন এবং (এ দুনিয়ায়) তিনি তোমাদের এক সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (নিজেদের শুধরে নেয়ার) সুযোগ দেবেন; হ্যাঁ, আল্লাহর সেই নির্দিষ্ট সময় যখন এসে যাবে তখন তাকে কেউই পিছিয়ে দিতে পারবে না । কতো ভালো হতো যদি তোমরা বুঝতে পারতে!
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:৫﴿
﴾ ৭১:৫ ﴿
قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا ﴿٥﴾
(নিরাশ হয়ে আল্লাহকে) সে বললো, হে আমার মালিক, আমি আমার জাতির মানুষগুলোকে দিনে রাতে (সব সময়ই ঈমানের) দাওয়াত দিয়েছি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:৬﴿
﴾ ৭১:৬ ﴿
فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَائِي إِلَّا فِرَارًا ﴿٦﴾
কিন্তু আমার এ (দিবানিশি) দাওয়াতের ফলে (সত্য থেকে) পালিয়ে বেড়ানো ছাড়া তাদের আর কিছুই বৃদ্ধি হয়নি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:৭﴿
﴾ ৭১:৭ ﴿
وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَارًا ﴿٧﴾
যতোবার আমি তাদের (তোমার পথে) ডেকেছি (ডেকেছি) যেন তুমি (তাদের অতীত কৃতকর্ম) ক্ষমা করে দাও, তারা (ততোবারই) কানে আংগুল ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং নিজেদের (অজ্ঞতার) আবরণ দিয়ে নিজেদের (মুখমন্ডল) ঢেকে দিয়েছে (শুধু তাই নয়) , তারা (অন্যায়ের উপর ক্ষমাহীন) জেদ ও অহমিকা প্রদর্শন করেছে, (হেদায়াতকে অবজ্ঞা করার) ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:৮﴿
﴾ ৭১:৮ ﴿
ثُمَّ إِنِّي دَعَوْتُهُمْ جِهَارًا ﴿٨﴾
তারপর আমি তাদের কাছে প্রকাশ্যভাবে (দ্বীনের) দাওয়াত পেশ করেছি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:৯﴿
﴾ ৭১:৯ ﴿
ثُمَّ إِنِّي أَعْلَنْتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْرَارًا ﴿٩﴾
তাদের জন্যে আমি (দ্বীনের) প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছি, আমি চুপে চুপেও তাদের কাছে (দ্বীনের কথা) পেশ করেছি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১০﴿
﴾ ৭১:১০ ﴿
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا ﴿١٠﴾
পরন্তু (বার বার) আমি তাদের বলেছি, (অহমিকা বাদ দিয়ে) তোমরা তোমাদের মালিকের দুয়ারে (নিজেদের অপরাধের জন্যে) ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১১﴿
﴾ ৭১:১১ ﴿
يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا ﴿١١﴾
(তদুপরি) আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর আকাশ থেকে অঝাের বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১২﴿
﴾ ৭১:১২ ﴿
وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا ﴿١٢﴾
এবং (পর্যাপ্ত পরিমাণ) ধনসম্পদ ও সন্তান সন্ততি দিয়ে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্যে বাগবাগিচা ও উদ্যান স্থাপন করবেন, (বিরান ভূমি আবাদ করার জন্যে) তিনি এখানে নদীনালা প্রবাহিত করবেন;
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১৩﴿
﴾ ৭১:১৩ ﴿
مَا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا ﴿١٣﴾
এ কি হলো তোমাদের! তোমরা কি আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে মানমর্যাদা পাওয়ার মোটেই আশা পোষণ করো না?
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১৪﴿
﴾ ৭১:১৪ ﴿
وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْوَارًا ﴿١٤﴾
অথচ তিনিই (ক্ষুদ্র একটি শুক্রকীট থেকে) বিভিন্ন পর্যায়ে তোমাদের (মানুষ হিসেবে) সৃষ্টি করেছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১৫﴿
﴾ ৭১:১৫ ﴿
أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ﴿١٥﴾
তোমরা কি দেখতে পাও না, কিভাবে আল্লাহ তাআলা সাত আসমান বানিয়ে স্তরে স্তরে (সাজিয়ে) রেখেছেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১৬﴿
﴾ ৭১:১৬ ﴿
وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا ﴿١٦﴾
কিভাবে এর মাঝে তিনি চাঁদকে আলো (গ্রহণকারী) ও সূর্যকে (আলোদানকারী) প্রদীপ বানিয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১৭﴿
﴾ ৭১:১৭ ﴿
وَاللَّهُ أَنْبَتَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ نَبَاتًا ﴿١٧﴾
আল্লাহ তা'আলা তোমাদের মাটি থেকে (এক বিশেষ পদ্ধতিতে) উদগত করেছেন (ঠিক একটি তৃণ খন্ডের মতো করে) ,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১৮﴿
﴾ ৭১:১৮ ﴿
ثُمَّ يُعِيدُكُمْ فِيهَا وَيُخْرِجُكُمْ إِخْرَاجًا ﴿١٨﴾
আবার (জীবনের শেষে) তিনি তোমাদের সেই মাটির কোলেই ফিরিয়ে নেবেন এবং তা থেকেই একদিন তিনি তোমাদের সহসা বের (করে এনে নতুন জীবন দান) করবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:১৯﴿
﴾ ৭১:১৯ ﴿
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ بِسَاطًا ﴿١٩﴾
আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্যে (এ) যমীনকে বিছানার মতো (সমতল করে) বানিয়েছেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২০﴿
﴾ ৭১:২০ ﴿
لِتَسْلُكُوا مِنْهَا سُبُلًا فِجَاجًا ﴿٢٠﴾
যাতে করে তোমরা এর উন্মুক্ত (ও প্রশস্ত) পথ ধরে চলাফেরা করতে পারো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২১﴿
﴾ ৭১:২১ ﴿
قَالَ نُوحٌ رَبِّ إِنَّهُمْ عَصَوْنِي وَاتَّبَعُوا مَنْ لَمْ يَزِدْهُ مَالُهُ وَوَلَدُهُ إِلَّا خَسَارًا ﴿٢١﴾
নূহ বললো, হে আমার মালিক, আমার জাতির লোকেরা আমার কথা অমান্য করেছে, (আমার বদলে) তারা এমন কিছু লোকের অনুসরণ করেছে যাদের ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কেবল তাদের বিনাশ ছাড়া অন্য কিছুই বৃদ্ধি করেনি,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২২﴿
﴾ ৭১:২২ ﴿
وَمَكَرُوا مَكْرًا كُبَّارًا ﴿٢٢﴾
তারা (সত্যের বিরুদ্ধে) সাংঘাতিক ধরনের এক ষড়যন্ত্র শুরু করেছে,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২৩﴿
﴾ ৭১:২৩ ﴿
وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا ﴿٢٣﴾
তারা বলে, তোমরা তোমাদের (সেসব) দেবতাদের কোনো অবস্থায়ই পরিত্যাগ করো না ওয়াদ' সূয়া' (নামক দেবতাদের) উপাসনা কিছুতেই ছেড়ে দিয়ো না, ইয়াগুস' ইয়াউক' ও নাছর' নামের দেব দেবীকেও (ছাড়বে) না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২৪﴿
﴾ ৭১:২৪ ﴿
وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا ضَلَالًا ﴿٢٤﴾
(হে মালিক, ) এরা বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে পথভ্রষ্ট করেছে, তুমিও আজ এ যালেমদের জন্যে পথভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই বাড়িয়ে দিয়ো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২৫﴿
﴾ ৭১:২৫ ﴿
مِمَّا خَطِيئَاتِهِمْ أُغْرِقُوا فَأُدْخِلُوا نَارًا فَلَمْ يَجِدُوا لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْصَارًا ﴿٢٥﴾
(অতঃপর) তাদের নিজেদের অপরাধের জন্যেই তাদের (মহাপ্লাবনে) ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে, (পরকালেও) তাদের জাহান্নামের কঠিন অনলে প্রবেশ করানো হবে, এ (অবস্থায়) তারা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত দ্বিতীয় কাউকেই কখনোই সাহায্যকারী হিসেবে পাবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২৬﴿
﴾ ৭১:২৬ ﴿
وَقَالَ نُوحٌ رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا ﴿٢٦﴾
নূহ (আরও) বললো, হে আমার মালিক, এ যমীনের অধিবাসী (যালেমদের) একজন (গৃহবাসী) -কেও তুমি (আজ শাস্তি থেকে) রেহাই দিয়ো না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২৭﴿
﴾ ৭১:২৭ ﴿
إِنَّكَ إِنْ تَذَرْهُمْ يُضِلُّوا عِبَادَكَ وَلَا يَلِدُوا إِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا ﴿٢٧﴾
(আজ) যদি তুমি এদের (শাস্তি থেকে) অব্যাহতি দাও, তাহলে এরা (পুনরায়) তোমার বান্দাদের পথভ্রষ্ট করে দেবে, (শুধু তাই নয়) , এরা (ভবিষ্যতেও) দুরাচার পাপী কাফের ছাড়া কাউকেই জন্ম দেবে না ।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৭১:২৮﴿
﴾ ৭১:২৮ ﴿
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا ﴿٢٨﴾
হে আমার প্রতিপালক, তুমি আমাকে, আমার পিতামাতাকে তোমার উপর ঈমান এনে যারা আমার (সাথে ঈমানের এই) ঘরে আশ্রয় নিয়েছে, এমন সব ব্যক্তিদের এবং সব ঈমানদার পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষমা করে দাও, যালেমদের জন্যে চূড়ান্ত ধ্বংস ছাড়া কিছুই তুমি বৃদ্ধি করো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]