🕋
المزمل
(৭৩) আল-মুযযাম্মিল
২০
১ ⋮
يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ ﴿١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হে বস্ত্র আচ্ছাদনকারী (মোহাম্মদ, )
২ ⋮
قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । রাতে (নামাযের জন্যে) ওঠে দাঁড়াও, কিছু অংশ বাদ দিয়ে,
৩ ⋮
نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا ﴿٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তার অর্ধেক (পরিমাণ) অংশ (নামাযের জন্যে দাঁড়াও) , অথবা তার চাইতে আরো কিছু কম,
৪ ⋮
أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا ﴿٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । কিংবা (চাইলে) তার উপর (কিছু সময়) তুমি বাড়িয়েও দিতে পারো, আর তুমি কোরআন তেলাওয়াত করো থেমে থেমে;
৫ ⋮
إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا ﴿٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (মনে রেখো, ) অচিরেই আমি তোমার উপর একটি ভারী (গুরুত্বপূর্ণ বাণী সদৃশ) কিছু রাখতে যাচ্ছি।
৬ ⋮
إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا ﴿٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অবশ্যই) রাতে বিছানা ত্যাগ! তা আত্মসংযমের জন্যে বেশী কার্যকর (পন্থা, তা ছাড়া এ সময়) কোরআন পাঠেরও যথার্থ সুবিধা থাকে বেশী;
৭ ⋮
إِنَّ لَكَ فِي النَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلًا ﴿٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিঃসন্দেহে দিনের বেলায় তোমার থাকে প্রচুর কর্মব্যস্ততা;
৮ ⋮
وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا ﴿٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি তোমার মালিকের নাম স্মরণ করো এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকেই মনোনিবেশ করো;
৯ ⋮
رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا ﴿٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তা'আলা পূর্ব পশ্চিমের একক মালিক, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, অতএব তাঁকেই তুমি অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো।
১০ ⋮
وَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْرًا جَمِيلًا ﴿١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ (নির্বোধ) লোকেরা (তোমার সম্পর্কে) যেসব কথাবার্তা বলে তাতে (কান না দিয়ে বরং) তুমি ধৈৰ্য্য ধারণ করো এবং সৌজন্য সহকারে তাদের পরিহার করো ।
১১ ⋮
وَذَرْنِي وَالْمُكَذِّبِينَ أُولِي النَّعْمَةِ وَمَهِّلْهُمْ قَلِيلًا ﴿١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আর সহায় সম্পদের অধিকারী এ মিথ্যা সাব্যস্তকারীদের (সাথে ফয়সালার) ব্যাপারটা তুমি আমাকে ছেড়ে দাও এবং কিছুদিনের জন্যে তুমি তাদের অবকাশ দিয়ে রাখো।
১২ ⋮
إِنَّ لَدَيْنَا أَنْكَالًا وَجَحِيمًا ﴿١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই আমার কাছে (এ পাপীদের পাঁকড়াও করার জন্যে) শেকল আছে, আছে (আযাব দেয়ার জন্যে) জাহান্নাম,
১৩ ⋮
وَطَعَامًا ذَا غُصَّةٍ وَعَذَابًا أَلِيمًا ﴿١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাদের জন্যে আরো রয়েছে) গলায় আটকে যাবে এমন (ধরনের) খাবার ও যন্ত্রণা দেবে এমন ধরনের আযাব,
১৪ ⋮
يَوْمَ تَرْجُفُ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ وَكَانَتِ الْجِبَالُ كَثِيبًا مَهِيلًا ﴿١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ ঘটনা সেদিন ঘটবে) যেদিন পৃথিবী ও (তার উপর অবস্থিত) পাহাড়সমূহ সব প্রকম্পিত হতে থাকবে এবং পাহাড়সমূহের অবস্থা হবে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা কতিপয় বালুকা স্তুপের ন্যায়।
১৫ ⋮
إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمْ رَسُولًا شَاهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولًا ﴿١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে (তোমাদের কাজকর্মের) সাক্ষ্যদাতা হিসেবে একজন রসূল পাঠিয়েছি, যেমনি করে ফেরাউনের কাছেও আমি একজন রসূল পাঠিয়েছিলাম;
১৬ ⋮
فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ فَأَخَذْنَاهُ أَخْذًا وَبِيلًا ﴿١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর ফেরাউন (আমার পাঠানো) রসূলকে অমান্য করলো, (এ অমান্য করার শাস্তি হিসেবে) আমি তাকে কঠোরভাবে পাঁকড়াও করলাম ।
১৭ ⋮
فَكَيْفَ تَتَّقُونَ إِنْ كَفَرْتُمْ يَوْمًا يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا ﴿١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আজ) যদি তোমরাও সেদিনকে অস্বীকার করো তাহলে আল্লাহর আযাব থেকে (বলো) কিভাবে তোমরা বাঁচতে পারবে, যেদিন (অবস্থার ভয়াবহতা অল্প বয়স্ক) কিশোর বালকদেরও বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে;
১৮ ⋮
السَّمَاءُ مُنْفَطِرٌ بِهِ كَانَ وَعْدُهُ مَفْعُولًا ﴿١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যেদিন তার সাথে আসমান ফেটে ফেটে পড়বে, (এ) হচ্ছে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, আর তা সংঘটিত হবেই।
১৯ ⋮
إِنَّ هَذِهِ تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا ﴿١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ(বাণী) হচ্ছে একটি উপদেশমাত্র, কোনো ব্যক্তি চাইলে (এর মাধ্যমে সহজেই) নিজের মালিকের দিকে যাওয়ার একটা রাস্তা গ্রহণ করে নিতে পারে।
২০ ⋮
إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِنْ ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِنَ الَّذِينَ مَعَكَ وَاللَّهُ يُقَدِّرُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ عَلِمَ أَنْ سَيَكُونُ مِنْكُمْ مَرْضَى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তোমার মালিক (একথা) জানেন, তুমি এবং তোমার সাথে তোমার সাথীদের এক দল (ইবাদাতের জন্যে কখনো) রাতের দুই তৃতীয়াংশ, (কখনো) অর্ধেক অংশ, আবার (কখনো) এক তৃতীয়াংশ দাঁড়িয়ে থাকো; (মূলত) রাত দিনের এ হিসাব তো আল্লাহ তাআলাই ঠিক করে রাখেন; তিনি (এও) জানেন, তোমরা এর সঠিক হিসাব করতে সক্ষম হবে না, তাই আল্লাহ তাআলা (এ ব্যাপারে) তোমাদের উপর ক্ষমাপরায়ণ হয়েছেন, অতএব (এখন থেকে) কোরআনের যে পরিমাণ অংশ তেলাওয়াত করা তোমাদের জন্যে সহজ, ততোটুকুই তোমরা তেলাওয়াত করো; আল্লাহ তা'আলা তোমাদের অবস্থা জানেন, তোমাদের ভেতর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, আবার পরবর্তী কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) সন্ধানের উদ্দেশে সফরে বের হতে পারে, আবার একদল লোক আল্লাহর পথে যুদ্ধে নিয়োজিত হবে, তাই (এ পরিপ্রেক্ষিতে) তা থেকে যেটুকু অংশ পড়া তোমাদের জন্যে সহজ ততোটুকুই তোমরা পড়ো; তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো, (মাল সম্পদের) যাকাত আদায় করো এবং (দান করার মাধ্যমে) আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিতে থাকো; (মনে রাখবে, ) যা কিছু ভালো ও উত্তম কাজ তোমরা আগেভাগেই নিজেদের জন্যে আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে রাখবে, তাই তোমরা আল্লাহর কাছে (সংরক্ষিত দেখতে) পাবে, পুরস্কার ও এর বর্ধিত পরিমাণ হিসেবে তা হবে অতি উত্তম, তারপর (নিজেদের গুনাহ খাতার জন্যে) আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা অতীব দয়ালু ও অধিক ক্ষমাশীল।