🕌
الأنفال
(৮) আল-আনফাল
৭৫
﴾৮:১﴿
﴾ ৮:১ ﴿
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ قُلِ الْأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١﴾
(হে মোহাম্মদ, ) লোকেরা তোমার কাছে (যুদ্ধলব্ধ ও যুদ্ধে পরিত্যক্ত) অতিরিক্ত (মাল-সামান) সম্পর্কে (আল্লাহ তা’আলার হুকুম) জানতে চাচ্ছে; তুমি (তাদের) বলো, (এ) অতিরিক্ত সম্পদ হচ্ছে (মূলত) আল্লাহ তা’আলার জন্যে এবং (তাঁর) রসূলের জন্যে, অতএব (এ ব্যাপারে) তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো এবং (এ নির্দেশের আলোকে) নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে নাও, আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য করো, যদি তোমরা সত্যিকার (অর্থে) মু’মিন হয়ে থাকো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২﴿
﴾ ৮:২ ﴿
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ﴿٢﴾
মু’মিন তো হচ্ছে সেসব লোক, (যাদের) আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করানো হলে তাদের হৃদয় কসিম্পত হয়ে ওঠে এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা (সব সময়) তাদের মালিকের উপর নির্ভর করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩﴿
﴾ ৮:৩ ﴿
الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ﴿٣﴾
যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদের যা কিছু (অর্থ-সম্পদ) দান করেছি তা থেকে তারা (আমারই পথে) খরচ করে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪﴿
﴾ ৮:৪ ﴿
أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ ﴿٤﴾
(মূলত) এ (গুণসম্পন্ন) লোকগুলোই হচ্ছে সত্যিকার মু’মিন, তাদের মালিকের কাছে তাদের জন্যে (বিপুল) মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা (-র ব্যবস্থা) রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫﴿
﴾ ৮:৫ ﴿
كَمَا أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ بَيْتِكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لَكَارِهُونَ ﴿٥﴾
(সেভাবেই তোমাদের বের হওয়া উচিত ছিলো) যেভাবে তোমার মালিক তোমাকে তোমার বাড়ী থেকে বের করে এনেছেন, অথচ (তখনও) মু’মিনদের একদল লোক (ছিলো এ কাজের দারুন অপছন্দকারী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬﴿
﴾ ৮:৬ ﴿
يُجَادِلُونَكَ فِي الْحَقِّ بَعْدَمَا تَبَيَّنَ كَأَنَّمَا يُسَاقُونَ إِلَى الْمَوْتِ وَهُمْ يَنْظُرُونَ ﴿٦﴾
সত্য (তোমার কাছে) প্রকাশিত হওয়ার পরও এরা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছে, (মনে হচ্ছিলো) তারা যেন দেখতে পাচ্ছিলো, ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকেই তাদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৭﴿
﴾ ৮:৭ ﴿
وَإِذْ يَعِدُكُمُ اللَّهُ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ أَنَّهَا لَكُمْ وَتَوَدُّونَ أَنَّ غَيْرَ ذَاتِ الشَّوْكَةِ تَكُونُ لَكُمْ وَيُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُحِقَّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَيَقْطَعَ دَابِرَ الْكَافِرِينَ ﴿٧﴾
(স্মরণ করো, ) যখন আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন দুটি দলের মধ্যে একটি দল তোমাদের (করায়ত্ত) হবে, (অবশ্য) তোমরা (তখন) চাচ্ছিলে (দুর্বল ও) নিরিহ দলটিই তোমাদের (করায়ত্ত) হোক, অথচ আল্লাহ তা’আলা তাঁর ‘কথা’ দ্বারা সত্য প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছিলেন এবং (এর মাঝ দিয়ে তিনি) কাফেরদের শেকড় কেটে (তাদের নির্মূল করে) দিতে চেয়েছিলেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৮﴿
﴾ ৮:৮ ﴿
لِيُحِقَّ الْحَقَّ وَيُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ ﴿٨﴾
(এর উদ্দেশ্য ছিলো) সত্যকে যেন (তার) সত্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা যায় এবং বাতিলকে যাতে করে (বাতিলের মতোই) নির্মূল করা যায়, যদিও পাপিষ্ঠরা (একে) পছন্দ করেনি।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৯﴿
﴾ ৮:৯ ﴿
إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ ﴿٩﴾
(আরো স্মরণ করো, ) যখন তোমরা তোমাদের মালিকের কাছে (কাতর কন্ঠে) ফরিয়াদ পেশ করছিলে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ফরিয়াদ কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন, হাঁ, আমি তোমাদের (এ যুদ্ধের ময়দানে) পর পর এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করবো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১০﴿
﴾ ৮:১০ ﴿
وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَى وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿١٠﴾
আল্লাহ তা’আলা তোমাদের শুভ সংবাদ দেয়া ও তা দিয়ে তোমাদের মনকে প্রশান্ত করার উদ্দেশেই এটা বলেছিলেন, (নতুবা আসল) সাহায্য তো আল্লাহ তা’আলার কাছ থেকেই আসে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১১﴿
﴾ ৮:১১ ﴿
إِذْ يُغَشِّيكُمُ النُّعَاسَ أَمَنَةً مِنْهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ وَيُذْهِبَ عَنْكُمْ رِجْزَ الشَّيْطَانِ وَلِيَرْبِطَ عَلَى قُلُوبِكُمْ وَيُثَبِّتَ بِهِ الْأَقْدَامَ ﴿١١﴾
(আরো স্মরণ করো, ) যখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের নিরাপত্তা ও স্বস্তির জন্যে তোমাদের তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করে দিয়েছেন এবং তোমাদের উপর তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টির পানি নাযিল করেছেন, উদ্দেশ্য ছিলো এ (পানি) দ্বারা তিনি তোমাদের ধুয়ে পাক-সাফ করবেন, তোমাদের মন থেকে শয়তানের অপবিত্রতা দূর করবেন, তোমাদের মনে সাহস বৃদ্ধি করবেন, (সর্বোপরি যুদ্ধের ময়দানে) তিনি এর মাধ্যমে তোমাদের কদম মযবুত করবেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১২﴿
﴾ ৮:১২ ﴿
إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلَائِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِينَ آمَنُوا سَأُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ فَاضْرِبُوا فَوْقَ الْأَعْنَاقِ وَاضْرِبُوا مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ ﴿١٢﴾
(তাও স্মরণ করো, ) যখন তোমার মালিক ফেরেশতাদের কাছে ওহী পাঠিয়ে বললেন, আমি তোমাদের সাথেই আছি, অতএব তোমরা মু’মিনদের সাহস দাও (তাদের কদম অবিচল রাখো) ; অচিরেই আমি কাফেরদের মনে দারুণ এক ভীতির সঞ্চার করে দেবো, অতএব তোমরা (তাদের) ঘাড়ের উপর আঘাত হানো এবং তাদের (হাড়ের) প্রত্যেক জোড়ায় জোড়ায় আঘাত করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১৩﴿
﴾ ৮:১৩ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ شَاقُّوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَمَنْ يُشَاقِقِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿١٣﴾
এ (কাজ) -টা এ কারণে যে, এরা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে মোকাবেলায় নেমেছে, আর যারাই এভাবে আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে (তাদের জানা উচিত) , আল্লাহ তা’আলা আযাব দানে অত্যন্ত কঠোর।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১৪﴿
﴾ ৮:১৪ ﴿
ذَلِكُمْ فَذُوقُوهُ وَأَنَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابَ النَّارِ ﴿١٤﴾
(হে কাফেররা, ) এ হচ্ছে তোমাদের (যথার্থ পাওনা) , অতপর (ভালো করে) তোমরা এর স্বাদ গ্রহণ করতে থাকো, কাফেরদের জন্যে দোযখের (ভয়াবহ) আযাব তো রয়েছেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১৫﴿
﴾ ৮:১৫ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ ﴿١٥﴾
হে মু’মিন বান্দারা, তোমরা যখন যুদ্ধের ময়দানে কাফেরদের মুখোমুখি মোকাবেলা করবে, তখন কখনো পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১৬﴿
﴾ ৮:১৬ ﴿
وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿١٦﴾
(জেনে রেখো, ) এ (যুদ্ধের) দিন যে ব্যক্তি তার পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, সে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলার গজব অর্জন করবে, তবে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে কিংবা(নিজ) বাহিনীর সাথে মিলিত হবার উদ্দেশ্য ছাড়া (যদি কেউ এমনটি করে তাহলে) , তার জন্যে জাহান্নামই হবে একমাত্র আশ্রয়স্থল; আর জাহান্নাম সত্যিই নিকৃষ্ট জায়গা।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১৭﴿
﴾ ৮:১৭ ﴿
فَلَمْ تَقْتُلُوهُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ قَتَلَهُمْ وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَمَى وَلِيُبْلِيَ الْمُؤْمِنِينَ مِنْهُ بَلَاءً حَسَنًا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿١٧﴾
(যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছে) তাদের তোমরা কেউই হত্যা করোনি, বরং আল্লাহ তা’আলাই তাদের হত্যা করেছেন, আর তুমি যখন (তাদের প্রতি) তীর নিক্ষেপ করছিলে, (মূলত) তুমি নিক্ষেপ করোনি (করেছেন আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং) , তিনি নিজের থেকে মু’মিনদের উত্তম পুরস্কার দান করে (তাদের বিজয়) দিতে চেয়েছেন, নিসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা (সব কিছু) শোনেন এবং (সব কিছু) জানেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১৮﴿
﴾ ৮:১৮ ﴿
ذَلِكُمْ وَأَنَّ اللَّهَ مُوهِنُ كَيْدِ الْكَافِرِينَ ﴿١٨﴾
এটা হচ্ছে তোমাদের (ব্যাপারে তাঁর নীতি) , অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা কাফেরদের ষড়যন্ত্র দুর্বল করে দেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:১৯﴿
﴾ ৮:১৯ ﴿
إِنْ تَسْتَفْتِحُوا فَقَدْ جَاءَكُمُ الْفَتْحُ وَإِنْ تَنْتَهُوا فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَإِنْ تَعُودُوا نَعُدْ وَلَنْ تُغْنِيَ عَنْكُمْ فِئَتُكُمْ شَيْئًا وَلَوْ كَثُرَتْ وَأَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٩﴾
(হে কাফেররা, ) তোমরা একটা সিদ্ধান্ত চেয়েছিলে, হাঁ, (আজ) সে সিদ্ধান্ত (কর মুহূর্তটি) তোমাদের সামনে এসে গেছে, যদি এখনও তোমরা (যুদ্ধ থেকে) বিরত হতে চাও, তাহলে তা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর হবে, তোমরা যদি (আবার যুদ্ধের জন্যে) ফিরে আসো, তাহলে আমরাও (ময়দানে) ফিরে আসবো, আর তোমাদের বাহিনী সংখ্যায় যতোই বেশী হোক না কেন তা তোমাদের কোনোই উপকারে আসবে না, (কারণ) আল্লাহ তা’আলা ঈমানদারদের সাথেই রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২০﴿
﴾ ৮:২০ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ ﴿٢٠﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো, কখনো তাঁর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না, (বিশেষ করে) যখন তোমরা (সব কিছু) শুনতেই পাচ্ছো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২১﴿
﴾ ৮:২১ ﴿
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ ﴿٢١﴾
তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা (মুখে) বলে, হাঁ, আমরা (নবীর কথা) শোনলাম, কিন্তু তারা আসলে কিছুই শোনে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২২﴿
﴾ ৮:২২ ﴿
إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ ﴿٢٢﴾
আল্লাহ তা’আলার কাছে (তাঁর সৃষ্টির) নিকৃষ্টতম জীব হচ্ছে সেই বধির ও মূক (মানুষগুলো) , যারা (সত্য দ্বীন সম্পর্কে) কিছু বুঝে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২৩﴿
﴾ ৮:২৩ ﴿
وَلَوْ عَلِمَ اللَّهُ فِيهِمْ خَيْرًا لَأَسْمَعَهُمْ وَلَوْ أَسْمَعَهُمْ لَتَوَلَّوْا وَهُمْ مُعْرِضُونَ ﴿٢٣﴾
আল্লাহ তা’আলা যদি জানতেন, এদের ভেতর (সামান্য) কোনো ভালো (গুণও) অবশিষ্ট আছে, তাহলে তিনি তাদের অবশ্যই (হেদায়াতের কথা) শোনাতেন; (অবশ্য) তিনি তাদের শোনালেও তারা তাকে উপেক্ষাই করতো এবং অন্যদিকে ফিরে যেতো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২৪﴿
﴾ ৮:২৪ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ﴿٢٤﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের সত্যিকার অর্থে জীবন দান করবে, (এ কথাটা) জেনে রেখো, আল্লাহ তা’আলা মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন; (আবার) তোমাদের সবাইকে তাঁর কাছেই জড়ো করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২৫﴿
﴾ ৮:২৫ ﴿
وَاتَّقُوا فِتْنَةً لَا تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْكُمْ خَاصَّةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿٢٥﴾
তোমরা (আল্লাহদ্রোহিতার) সেই ফেতনা থেকে বেঁচে থাকো, যার ভয়াবহ শাস্তি যারা তোমাদের মধ্যে যালেম শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আরো জেনে রাখো, আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত কঠোর শাস্তি প্রদানকারী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২৬﴿
﴾ ৮:২৬ ﴿
وَاذْكُرُوا إِذْ أَنْتُمْ قَلِيلٌ مُسْتَضْعَفُونَ فِي الْأَرْضِ تَخَافُونَ أَنْ يَتَخَطَّفَكُمُ النَّاسُ فَآوَاكُمْ وَأَيَّدَكُمْ بِنَصْرِهِ وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٢٦﴾
স্মরণ করো, যখন তোমরা (সংখ্যায়) ছিলে (নিতান্ত) কম, (এই) যমীনে তোমাদের মনে করা হতো তোমরা অত্যন্ত দুর্বল, তোমরা সর্বদাই এ ভয়ে (আতংকিত) থাকতে যে, কখন (অন্য) মানুষরা তোমাদের উপর চড়াও হবে, অতপর আল্লাহ তা’আলা তোমাদের (একটি ভূখন্ডে এনে) আশ্রয় দিলেন, তাঁর (একান্ত) সাহায্য দিয়ে তিনি তোমাদের শক্তিশালী করলেন এবং তিনি এ আশায় তোমাদের (বহুবিধ) উত্তম জিনিস দান করলেন যে, তোমরা (আল্লাহর এসব নেয়ামতের) শোকর আদায় করবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২৭﴿
﴾ ৮:২৭ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٢٧﴾
হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা আল্লাহ তা’আলা ও (তাঁর) রসূলের সাথে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং জেনে-শুনে নিজেদের আমানতেরও খেয়ানত করো না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২৮﴿
﴾ ৮:২৮ ﴿
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ ﴿٢٨﴾
জেনে রেখো, তোমাদের মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি হচ্ছে (আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে) পরীক্ষামাত্র, (যে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে) তার জন্যে আল্লাহ তা’আলার কাছে মহা প্রতিদান রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:২৯﴿
﴾ ৮:২৯ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ ﴿٢٩﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করে চলো, তাহলে তিনি তোমাদের জন্যে (অন্যদের সাথে) পার্থক্য নির্ণয়কারী (কিছু স্বতন্ত্র মর্যাদা) দান করবেন, তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেবেন, তিনি তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন; আল্লাহ তা’আলার দান (আসলেই) অনেক বড়ো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩০﴿
﴾ ৮:৩০ ﴿
وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ ﴿٣٠﴾
(স্মরণ করো, ) যখন কাফেররা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলো, তারা তোমাকে বন্দী করবে অথবা তোমাকে হত্যা করবে কিংবা তোমাকে (আপন ভূমি থেকে) নির্বাসিত করে দেবে; (এ সময় একদিকে) তারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলো, (আরেক দিকে) আল্লাহ তা’আলাও (তোমার পক্ষে) কৌশল চালিয়ে যাচ্ছিলেন; আর আল্লাহ তা’আলাই হচ্ছেন সর্বোৎকৃষ্ট কুশলী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩১﴿
﴾ ৮:৩১ ﴿
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا قَالُوا قَدْ سَمِعْنَا لَوْ نَشَاءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ ﴿٣١﴾
যখন তাদের সামনে আমার কোনো আয়াত পড়ে শোনানো হতো, তখন তারা বলতো, (হাঁ) আমরা একথা (আগেও) শুনেছি, আমরা চাইলে এ ধরনের কথা তো নিজেরাও বলতে পারি, এগুলো তো আগের লোকদের উপকথা ছাড়া আর কিছু নয়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩২﴿
﴾ ৮:৩২ ﴿
وَإِذْ قَالُوا اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٣٢﴾
তারা যখন বলেছিলো, হে আল্লাহ তা’আলা, (মোহাম্মদের আনীত) কিতাব যদি তোমার কাছ থেকে পাঠানো সত্য হয়, তাহলে (একে অমান্য করার কারণে) তুমি আমাদের উপর আসমান থেকে পাথর বর্ষণ করো, কিংবা তুমি আমাদের উপর কোনো কঠিন শাস্তি পাঠিয়ে দাও।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩৩﴿
﴾ ৮:৩৩ ﴿
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ ﴿٣٣﴾
আল্লাহ তা’আলা এমন নন যে, তিনি তাদের কোনো আযাব দেবেন, অথচ তুমি (সশরীরে) তাদের মধ্যে (বর্তমান) রয়েছো; আর আল্লাহ তা’আলা এমনও নন যে, কোনো (জাতির) মানুষদের তিনি শাস্তি দেবেন, অথচ তারা (কিছু লোক) তখনও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩৪﴿
﴾ ৮:৩৪ ﴿
وَمَا لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبُهُمُ اللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَا كَانُوا أَوْلِيَاءَهُ إِنْ أَوْلِيَاؤُهُ إِلَّا الْمُتَّقُونَ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٣٤﴾
কেনই বা আল্লাহ তা’আলা (যারা কাফের) তাদের আযাব দেবেন না যখন তারা আল্লাহর বান্দাদের মাসজিদুল হারামে আসার পথ থেকে নিবৃত্ত করে, অথচ তারা তো (এ ঘরের) অভিভাবকও নয়; এ ঘরের (আসল) অভিভাবক হচ্ছে তারা, যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই (এ কথাটা) জানে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩৫﴿
﴾ ৮:৩৫ ﴿
وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ ﴿٣٥﴾
(এ ঘরের পাশে) তাদের (জাহেলী যুগের) নামায তো কিছু শিস দেয়া ও তালি বাজানো ছাড়া আর কিছুই ছিলো না; (এ কারণেই আল্লাহ তা’আলা তাদের বলবেন, ) এখন তোমরা তোমাদের কুফরী কার্যকলাপের জন্যে শাস্তি ভোগ করো।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩৬﴿
﴾ ৮:৩৬ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ ﴿٣٦﴾
যারা আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করেছে এবং যারা নিজেদের ধন-সম্পদ (এ খাতেই) ব্যয় করেছে যে, (এর দ্বারা) মানুষদের আল্লাহ তা’আলার পথ থেকে ফিরিয়ে রাখবে; (এদের জন্যে তুমি ভেবো না, ) এরা (এ পথে) ধন-সম্পদ আরো ব্যয় করতে থাকবে, অতপর একদিন সে (ব্যয় করা) -টাই তাদের জন্যে মনস্তাপের কারণ হবে, অতপর (দুনিয়ার জীবনেও) তারা পরাভূত হবে, আর যারা কুফরী করেছে আখেরাতে তাদের সবাইকে জাহান্নামের পাশে একত্রিত করা হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩৭﴿
﴾ ৮:৩৭ ﴿
لِيَمِيزَ اللَّهُ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ وَيَجْعَلَ الْخَبِيثَ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ فَيَرْكُمَهُ جَمِيعًا فَيَجْعَلَهُ فِي جَهَنَّمَ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿٣٧﴾
(এভাবেই) আল্লাহ তা’আলা ভালোকে খারাপ থেকে পৃথক করে দেবেন এবং খারাপগুলোর একটাকে আরেকটার উপর রেখে সবগুলো এক জায়গায় স্তূপীকৃত করবেন, অতপর (গোটা স্তুপ) জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন; ¬(মূলত) এ লোকগুলো সেদিন (ভীষণ) ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩৮﴿
﴾ ৮:৩৮ ﴿
قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ وَإِنْ يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ ﴿٣٨﴾
(হে মোহাম্মদ, ) যারা আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করেছে তাদের তুমি বলো, তারা যদি এ থেকে (এখনো) ফিরে আসে, তাহলে তাদের অতীতের সব কিছুই ক্ষমা করে দেয়া হবে, তবে যদি তারা (তাদের আগের কার্যকলাপের দিকে) ফিরে যায়, তাহলে তাদের (সামনে) আগের (জাতিসমূহের ভয়াবহ) পরিণামের দৃষ্টান্ত তো (মজুদ) রয়েছেই।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৩৯﴿
﴾ ৮:৩৯ ﴿
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ فَإِنِ انْتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٣٩﴾
(হে ঈমানদার লোকেরা, ) তোমরা কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকো, যতোক্ষণ না (আল্লাহর যমীনে কুফরীর) ফেতনা বাকী থাকবে এবং দ্বীন সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তা’আলার জন্যেই (নির্দিষ্ট) হয়ে যাবে, (হাঁ, ) তারা যদি (কুফুর থেকে) নিবৃত্ত হয়, তাহলে আল্লাহ তা’আলাই হবেন তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪০﴿
﴾ ৮:৪০ ﴿
وَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَوْلَاكُمْ نِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ ﴿٤٠﴾
(এসব কিছু সত্ত্বেও) যদি তারা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমরা জেনে রাখো, আল্লাহ তা’আলাই হচ্ছেন তোমাদের অভিভাবক, কতো উত্তম অভিভাবক আল্লাহ তা’আলা; কতো উত্তম সাহায্যকারী (তিনি) ! কুর'আনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ অনুবাদ : হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪১﴿
﴾ ৮:৪১ ﴿
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٤١﴾
(হে মু’মিনরা, ) তোমরা জেনে রেখো, যুদ্ধে যে সম্পদ তোমরা অর্জন করেছো, তার এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ তায়ালার জন্যে, রসুলের জন্যে, (তাঁর) স্বজনদের জন্যে, এতীমদের জন্যে, মিসকীনদের জন্যে ও পথচারী মুসাফিরদের জন্যে, তোমরা যদি আল্লাহতে বিশ্বাস করো, (আরো) বিশ্বাস করো সে (বিজয়ঘটিত) বিষয়টির প্রতি, যা আমি হক ও বাতিলের চুড়ান্ত মীমাংসার দিন এবং একে অপরের মুখোমুখি হবার দিন আমার বান্দার উপর নাধিল করেছিলাম; আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন সর্ববিষয়ের উপর একক ক্ষমতাবান|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪২﴿
﴾ ৮:৪২ ﴿
إِذْ أَنْتُمْ بِالْعُدْوَةِ الدُّنْيَا وَهُمْ بِالْعُدْوَةِ الْقُصْوَى وَالرَّكْبُ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلَوْ تَوَاعَدْتُمْ لَاخْتَلَفْتُمْ فِي الْمِيعَادِ وَلَكِنْ لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَا مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٤٢﴾
যুদ্ধক্ষেত্রে) তোমরা ছিলে উপত্যকার নিকট প্রান্তের, তারা ছিলো দুর প্রান্তের, আর (কোরায়শ) কাফেলা ছিলো তোমাদের তুলনায় নিন্নভূমিতে; যদি তোমরা আগেই (এ ব্যাপারে) তাদের সাথে কোনো (অগ্রিম চুক্তির) সন্ধি করতে চাইতে, তাহলে এ সন্ধি বাস্তবায়নে তোমরা অবশ্যই মতবিরোধ করতে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাই ঘটাতে চেয়েছিলেন যা ঘটানো আল্লাহ তায়ালার মঞ্জুর ছিলো (এ জন্যেই তিনি উভয় দলকে রণক্ষেত্রে সামনাসামনি করালেন, যাতে করে) , যে দলটি ধ্বংস হবে সে যেন সত্য (মিথ্যা) স্পষ্ট হওয়ার পরই ধ্বংস হয়, আবার যে দলটি বেঁচে থাকবে সেও যেন সত্যাসত্য প্রমাণের ভিত্তিতেই বেঁচে থাকে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪৩﴿
﴾ ৮:৪৩ ﴿
إِذْ يُرِيكَهُمُ اللَّهُ فِي مَنَامِكَ قَلِيلًا وَلَوْ أَرَاكَهُمْ كَثِيرًا لَفَشِلْتُمْ وَلَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَلَكِنَّ اللَّهَ سَلَّمَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿٤٣﴾
(আরো স্মরণ করো, ) আল্লাহ তায়ালা তোমাকে যখন স্বপ্নে তাদের সংখ্যা কম দেখিয়েছিলেন, (তখন) যদি তিনি তোমাকে তাদের সংখ্যা বেশী দেখাতেন তাহলে অবশ্যই তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং এ বিষয়ে তোমরা একে অপরের সাথে বিতর্ক শুরু করে দিতে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা (এটা না করে তোমাদের) নিরাপদ করে দিয়েছেন; কেননা তিনি মানুষের অন্তরে যা কিছু (লুকিয়ে) থাকে সে সম্পর্কে সম্যক ওয়াকেফহাল রয়েছেন|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪৪﴿
﴾ ৮:৪৪ ﴿
وَإِذْ يُرِيكُمُوهُمْ إِذِ الْتَقَيْتُمْ فِي أَعْيُنِكُمْ قَلِيلًا وَيُقَلِّلُكُمْ فِي أَعْيُنِهِمْ لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ ﴿٤٤﴾
(সে সময়ের কথাও স্মরণ করো, ) যখন তোমরা (যুদ্ধের ময়দানে) তাদের সামনাসামনি হলে, তখন তোমাদের চোখে তাদের (সংখ্যা) আল্লাহ তায়ালা (নিতান্ত) কম (করে) দেখালেন এবং তাদের চোখেও তিনি তোমাদের (সংখ্যা) দেখালেন কম (এর উদ্দেশ্য ছিলো) , যেন আল্লাহ তায়ালা তাই ঘটিয়ে দেখান যা কিছু তিনি (এ ঘটনার মাধ্যমে) ঘটাতে চান; (কেননা) আল্লাহ তায়ালার দিকেই সব কিছুকে ফিরে যেতে হবে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪৫﴿
﴾ ৮:৪৫ ﴿
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٤٥﴾
হে ঈমানদার লোকেরা, কোনো বাহিনীর সাথে যখন তোমরা সামনাসামনি হও, তখন ময়দানে অবিচল থাকবে এবং (বিজয়ের আসল উৎসুক) আল্লাহ তায়ালাকে বেশী বেশী করে স্মরণ করতে থাকবে, আশা করা যায় তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪৬﴿
﴾ ৮:৪৬ ﴿
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿٤٦﴾
তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করো, নিজেদের মধ্যে পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ করো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রতিপত্তি খতম হয়ে যাবে, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪৭﴿
﴾ ৮:৪৭ ﴿
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ خَرَجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بَطَرًا وَرِئَاءَ النَّاسِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ ﴿٤٧﴾
তোমরা (কখনো) তাদের মতো হয়ো না, যারা অহংকার ও লোকদের (নিজেদের শান-শওকত) দেখানোর জন্যে নিজেদের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং সাধারণ মানুষদের যারা আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে; মুলত) তাদের সমুদয় কার্যকলাপই আল্লাহ তায়ালা পরিবেষ্টন করে আছেন]
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪৮﴿
﴾ ৮:৪৮ ﴿
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَكُمْ فَلَمَّا تَرَاءَتِ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنْكُمْ إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿٤٨﴾
যখন শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের সামনে খুব চাকচিক্যময় করে পেশ করেছিলো এবং সে তাদের বলেছিলো, আজ মানুষের মধ্যে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না এবং আমি তো তোমাদের পাশেই আছি, অতঃপর যখন উভয় দল সম্মুখসমরে ঝাঁপিয়ে পড়লো, তখন সে কেটে পড়লো এবং বললো, তোমাদের সাথে আমার কোনোই সম্পর্ক নেই, আমি এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি যা তোমরা দেখতে পাও না, আমি অবশ্যই আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করি এবং (আমি জানি) আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন কঠোর শাস্তিদাতা|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৪৯﴿
﴾ ৮:৪৯ ﴿
إِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ غَرَّ هَؤُلَاءِ دِينُهُمْ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٤٩﴾
মুনাফিক ও তাদের দলবল যাদের দিলে (গোমরাহীর) ব্যাধি রয়েছে, যখন তারা বললো, এ লোকদের (মুলত) তাদের (নতুন) দ্বীন (মারাত্মকভাবে) প্রতারিত করে রেখেছে; (সত্য কথা হচ্ছে, ) যে কোনো ব্যক্তিই (বিপদে-আপদে) আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করে (সে বুঝতে পারবে) , আল্লাহ তায়ালা প্রবল পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫০﴿
﴾ ৮:৫০ ﴿
وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ ﴿٥٠﴾
তুমি যদি (সত্যিই) সেই (করুণ) অবস্থা দেখতে পেতে, যখন আল্লাহর ফেরেশতারা কাফেরদের রূহ বের করে নিয়ে যাচ্ছিলো, ফেরেশতারা (তখন) তাদের মুখমন্ডল ও পৃষ্ঠদেশে (ক্রমাগত) আঘাত করে যাচ্ছিলো (এবং তারা বলছিলো) , তোমরা আগুনের আযাব উপভোগ করো |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫১﴿
﴾ ৮:৫১ ﴿
ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ ﴿٥١﴾
(মুলত) এটা হচ্ছে তোমাদের নিজেদেরই উভয় হাতের কামাই, যা তোমরা (আগেই এখানে) পাঠিয়েছিলো, আল্লাহ তায়ালা কখনো তাঁর বান্দার উপর যুলুম করেন না,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫২﴿
﴾ ৮:৫২ ﴿
كَدَأْبِ آلِ فِرْعَوْنَ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿٥٢﴾
(এদের পরিণতি হবে, ) ফেরাউনের আপনজন ও তাদের পূর্ববর্তী কাফেরদের মতোই; তারা সবাই আল্লাহ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা শক্তিশালী ও কঠোর শাস্তিদানকারী|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫৩﴿
﴾ ৮:৫৩ ﴿
ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَى قَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَأَنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٥٣﴾
এটা এ কারণে যে, আল্লাহ তায়ালা যখন কোনো জাতিকে কোনো নেয়ামত দান করেন, তিনি ততোক্ষণ পর্যন্ত তাঁর সে নেয়ামত (তাদের জন্যে) বদলে দেন না, যতোক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) শোনেন, (সব কিছু) জানেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫৪﴿
﴾ ৮:৫৪ ﴿
كَدَأْبِ آلِ فِرْعَوْنَ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ فَأَهْلَكْنَاهُمْ بِذُنُوبِهِمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَكُلٌّ كَانُوا ظَالِمِينَ ﴿٥٤﴾
(এরাও হচ্ছে) ফেরাউন, তার স্বজন ও তাদের আগের লোকদের মতো; আল্লাহর আয়াতকে তারা (সরাসরি) মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, ফলে আমি তাদের (কুফরীর) অপরাধের জন্যে তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি এবং ফেরাউনের স্বজনদের আমি ডুবিয়ে দিয়েছি, (মুলত) তারা সবাই ছিলো যালেম|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫৫﴿
﴾ ৮:৫৫ ﴿
إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الَّذِينَ كَفَرُوا فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٥٥﴾
নিশ্চয়ই (আল্লাহর এ) যমীনে (বিচরণশীল) জীবের মধ্যে আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম হচ্ছে তারা, যারা (স্বয়ং এ যমীনের স্রষ্টাকেই) অস্বীকার করে এবং তারা (তাঁর উপর) ঈমান আনে না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫৬﴿
﴾ ৮:৫৬ ﴿
الَّذِينَ عَاهَدْتَ مِنْهُمْ ثُمَّ يَنْقُضُونَ عَهْدَهُمْ فِي كُلِّ مَرَّةٍ وَهُمْ لَا يَتَّقُونَ ﴿٥٦﴾
(তারাও এ নিকৃষ্ট লোকদের অন্যতম, ) যাদের সাথে তুমি (বাকায়দা) সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর করেছো, অতঃপর তারা প্রতিবার সুযোগ পেয়েই সে চুক্তি ভংগ করেছে এবং (এ ব্যাপারে) তারা (কাউকেই) পরোয়া করেনি|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫৭﴿
﴾ ৮:৫৭ ﴿
فَإِمَّا تَثْقَفَنَّهُمْ فِي الْحَرْبِ فَشَرِّدْ بِهِمْ مَنْ خَلْفَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ ﴿٥٧﴾
অতএব, এ লোকদের যদি কখনো তুমি ধরতে পারো, তাহলে তাদের মুল বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন করে এমনভাবে শাস্তি দেবে, যাতে তাদের পরবর্তী বাহিনী (এ থেকে কিছু) শিক্ষা গ্রহণ করে| কুর'আনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ অনুবাদ : হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫৮﴿
﴾ ৮:৫৮ ﴿
وَإِمَّا تَخَافَنَّ مِنْ قَوْمٍ خِيَانَةً فَانْبِذْ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ ﴿٥٨﴾
যদি কখনো কোনো জাতির কাছ থেকে তোমার এ আশংকা হয় যে, তারা (চুক্তি ভংগ করে) বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তাহলে তুমিও (তাদের সাথে সম্পাদিত) চুক্তি একইভাবে তাদের (মুখের) উপর ছুঁড়ে দাও (তবে তোমরা নিজেরা তা আগে লংঘন করো না) ; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা খেয়ানতকারীদের পছন্দ করেন না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৫৯﴿
﴾ ৮:৫৯ ﴿
وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَبَقُوا إِنَّهُمْ لَا يُعْجِزُونَ ﴿٥٩﴾
আর কাফেররা যেন কখনোই এমন ধারণা করতে না পারে যে, ওরা (তোমাদের পেছনে ফেলে নিজেরা) এগিয়ে গেছে; (আসলে) তারা (তোমাদের পরাভূত করার কোনো) ক্ষমতাই রাখে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬০﴿
﴾ ৮:৬০ ﴿
وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ﴿٦٠﴾
তাদের (সাথে যুদ্ধের) জন্যে তো তোমরা যথাসাধ্য সাজ-সরঞ্জাম, শক্তি ও ঘোড়া প্রস্তুত রাখবে এবং এ দিয়ে তোমরা আল্লাহর দুশমন ও তোমাদের ছুশমনদের ভীত-সন্ত্স্ত করে দেবে, (এ ছাড়াও কিছু লোক আছে) যাদের পরিচয় তোমরা জানো না, শুধু আল্লাহ তায়ালাই তাদের চেনেন; আল্লাহ তায়ালার পথে তোমরা যা কিছুই ব্যয় করবে, তার পুরোপুরি প্রতিদান তোমাদের (পরকালে) আদায় করে দেয়া হবে এবং তোমাদের উপর বিন্দুমাত্রও যুলুম করা হবে না।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬১﴿
﴾ ৮:৬১ ﴿
وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿٦١﴾
(হে মোহাম্মদ, ) তারা যদি সন্ধির প্রতি আগ্রহ দেখায়, তাহলে তুমিও সন্ধির দিকে ঝুঁকে যাবে এবং (সর্বদা) আল্লাহর উপরই ভরসা করবে; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) শোনেন, (সব কিছু) দেখেন|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬২﴿
﴾ ৮:৬২ ﴿
وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللَّهُ هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ ﴿٦٢﴾
আর যদি কখনো তারা (সন্ধির আড়ালে) তোমাকে ধোকা দিতে চায়, তাহলে (তোমার দুশ্চন্তাগ্রস্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই, কেননা) তোমার (রক্ষার) জন্যে তো আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট; (অতীতেও) তিনি তাঁর (সরাসরি) সাহায্য ও এক দল মু’মিন দ্বারা তোমাকে শক্তি যুগিয়েছেন,
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬৩﴿
﴾ ৮:৬৩ ﴿
وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٦٣﴾
আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তরসমুহের মাঝে পারস্পরিক (ভালোবাসা ও) সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে দিয়েছেন; অথচ তুমি যদি দুনিয়ার যাবতীয় সম্পদও (এর পেছনে) ব্যয় করতে, তবু তুমি এ মানুষদের দিলগুলোর মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন স্থাপন করতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এদের মাঝে প্রীতি স্থাপন করে দিয়েছেন; অবশ্যই তিনি পরাক্রমশালী ও বিজ্ঞ কুশলী|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬৪﴿
﴾ ৮:৬৪ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٦٤﴾
হে নবী, তোমার জন্যে এবং তোমার অনুবর্তনকারী মু’মিনদের জন্যে তো আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬৫﴿
﴾ ৮:৬৫ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ يَغْلِبُوا أَلْفًا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ ﴿٦٥﴾
হে নবী, তুমি মু’মিনদের যুদ্ধের জন্যে উদ্বুদ্ধ করো (মনে রেখো) ; তোমাদের মধ্যে বিশ জন লোকও যদি ধৈর্যশীল হতে পারে তাহলে তারা দুশ' লোকের উপর বিজয়ী হবে, আবার তোমাদের মাঝে (এমন লোকের সংখ্যা) যদি একশ হয় তাহলে তারা এক হাজার লোকের উপর জয় লাভ করবে, এর কারণ হচ্ছে, তারা এমন জাতি যারা (আল্লাহর শক্তি সম্পর্কে) কিছুই বোঝে না|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬৬﴿
﴾ ৮:৬৬ ﴿
الْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفًا فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿٦٦﴾
(এ নিশ্চয়তা দ্বারা) এখন আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর থেকে (উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার) বোঝা হালকা করে দিয়েছেন, (যেহেতু) তিনি (একথা) জানেন, তোমাদের মধ্যে কিছু ছুর্বলতা রয়েছে; (অতঃপর) তোমাদের মধ্যে যদি একশ' ধৈর্যশীল মানুষ থাকে তাহলে তারা দুশ'র উপর বিজয়ী হবে, আবার যদি থাকে তোমাদের এক হাজার ধৈর্যশীল ব্যক্তি, তাহলে তারা আল্লাহ তায়ালার হুকুমে বিজয়ী হবে দু'হাজার লোকের উপর; (জেনে রেখো, ) আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সাথেই রয়েছেন|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬৭﴿
﴾ ৮:৬৭ ﴿
مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٦٧﴾
কোনো নবীর পক্ষেই এটা শোভা পায় না যে, সে তার কাছে বন্দীদের আটকে রাখবে, যতোক্ষণ পর্যন্ত সে নে রক্তপাত ঘটাবে এবং (আল্লাহর) শত্রদের নিপাত না করে দেবে; আসলে তোমরা তো দুনিয়ার (সামান্য) ্বার্টুকুই চাও, আর আল্লাহ তায়ালা চান (তোমাদের) আখেরাতের কল্যাণ (দান করতে) ; আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়]
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬৮﴿
﴾ ৮:৬৮ ﴿
لَوْلَا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿٦٨﴾
যদি (এ ব্যাপারে) আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে পূর্বের কোনো (ফরমান) লেখা না থাকতো, তাহলে (বন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তোমরা) যা কিছু নিয়েছো, তার জন্যে একটা বড়ো ধরনের আযাব তোমাদের পেয়ে বসতো
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৬৯﴿
﴾ ৮:৬৯ ﴿
فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٦٩﴾
অতএব যা কিছু তোমরা গনীমত হিসেবে লাভ করেছো, (নিঃসংকোচে) তোমরা তা খাও, (কেননা) তা সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো; আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই ক্ষমাশীল ও দয়ালু
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৭০﴿
﴾ ৮:৭০ ﴿
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِمَنْ فِي أَيْدِيكُمْ مِنَ الْأَسْرَى إِنْ يَعْلَمِ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمْ خَيْرًا يُؤْتِكُمْ خَيْرًا مِمَّا أَخَذَ مِنْكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٧٠﴾
হে নবী, তোমার হাতে যেসব বন্দী রয়েছে, তাদের তুমি বলো, আল্লাহ তায়ালা যদি তোমাদের দিলে ভালো কিছু (গ্রহণের যোগ্যতা আছে বলে) জানতে পান, তাহলে তিনি তোমাদের (ঈমানের) এমন এক কল্যাণ দান করবেন যা তোমাদের কাছ থেকে (মুক্তিপণ হিসেবে) গৃহীত সম্পদের চাইতে অনেক ভালো এবং তিনি তোমাদের (গুনাহসমুহও) মাফ করে দেবেন; আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও দয়াবান|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৭১﴿
﴾ ৮:৭১ ﴿
وَإِنْ يُرِيدُوا خِيَانَتَكَ فَقَدْ خَانُوا اللَّهَ مِنْ قَبْلُ فَأَمْكَنَ مِنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴿٧١﴾
আর তারা যদি তোমার সাথে বিশ্বাস ভংগ করতে চায় (তাহলে তুমি ভেবো না) , এরা তো এর আগে আল্লাহ তায়ালার সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং (এ কারণেই) তাদের মধ্য থেকে তিনি তোমাদের বিজয় (ক্ষমতা) দান করেছেন; আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন জ্ঞানবান ও কুশলী |
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৭২﴿
﴾ ৮:৭২ ﴿
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولَئِكَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يُهَاجِرُوا مَا لَكُمْ مِنْ وَلَايَتِهِمْ مِنْ شَيْءٍ حَتَّى يُهَاجِرُوا وَإِنِ اسْتَنْصَرُوكُمْ فِي الدِّينِ فَعَلَيْكُمُ النَّصْرُ إِلَّا عَلَى قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٧٢﴾
নিঃসন্দেহে যারা ঈমান এনেছে (এবং এই ঈমানের জন্যে) হিজরত করেছে, নিজেদের জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জেহাদ করেছে এবং যারা (মোহাজেরদের) আশ্রয় দিয়েছে ও (তাদের) সাহায্য করেছে, তারা সবাই পরস্পরের বন্ধু; (অপরদিকে) যারা ঈমান এনেছে অথচ এখনো হিজরত করেনি, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা হিজরত না করবে ততোক্ষণ পর্যন্ত তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তোমাদের উপর নেই, (তবে কখনো) যদি তারা (একান্ত) দ্বীনের খাতিরে তোমাদের কাছে কোনো সাহাষ্য চায়, তাহলে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য, (তবে তা) যেন এমন কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে না হয় যাদের সাথে তোমাদের (কোনো রকম) চুক্তি রয়েছে; (বস্তুত) তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তায়ালা তা সব কিছুই দেখেন
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৭৩﴿
﴾ ৮:৭৩ ﴿
وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ ﴿٧٣﴾
যারা কুফরী করেছে তারা একে অপরের বন্ধু, তোমরা যদি (একে অপরকে সাহায্য করার) সে কাজটি না করো, তাহলে (আল্লাহর এ) যমীনে ফেতনা-ফাসাদ ও বড়ো ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হবে|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৭৪﴿
﴾ ৮:৭৪ ﴿
آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ ﴿٧٤﴾ )
যারা ঈমান এনেছে, (এ ঈমানের জন্যে) হিজরত করেছে, নিজেদের জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জেহাদ করেছে এবং যারা (এ হিজরতকারীদের) থাকার জায়গা দিয়েছে এবং (তাদের) সাহায্য করেছে, মুলত) এরা সবাই হচ্ছে সত্যিকারের মু’মিন; এদের জন্যে (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) ক্ষমা ও উত্তম জীবিকার ব্যবস্থা রয়েছে।
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾৮:৭৫﴿
﴾ ৮:৭৫ ﴿
وَالَّذِينَ آمَنُوا مِنْ بَعْدُ وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا مَعَكُمْ فَأُولَئِكَ مِنْكُمْ وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٧٥﴾
আর যারা পরে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে জেহাদ করেছে, তারাও তোমাদের অন্তর্ভূক্ত; যারা আত্মীয়তার বন্ধনে একে অপরের সাথে আবদ্ধ, আল্লাহর কেতাৰ অনুযায়ী তারাও একে অন্যের (উত্তরাধিকারের বেশী) হকদার, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সব ব্যাপার জানেন।|
[হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]