🕋

الحجر
(১৫) আল-হিজর

৯৯

﴾১৫:১﴿
﴾ ১৫:১ ﴿
الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَقُرْآنٍ مُبِينٍ ﴿١﴾
আলিফ লাম-রা। এগুলো হচ্ছে সেই মহান গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২﴿
﴾ ১৫:২ ﴿
رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ ﴿٢﴾
(এমন একটি দিন অবশ্যই আসবে যেদিন) যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করেছে তারা চাইবে, যদি (সত্যি সত্যিই) তারা মুসলমান হয়ে যেতো! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩﴿
﴾ ১৫:৩ ﴿
ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا وَيُلْهِهِمُ الْأَمَلُ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿٣﴾
(হে নবী, ) তুমি তাদের (নিজ নিজ অবস্থার উপর) ছেড়ে দাও, তারা খাওয়া দাওয়া করুক, ভোগ উপভোগ করতে থাকুক, (মিথ্যা) আশা তাদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখুক, অচিরেই তারা জানতে পারবে (কোন্ প্রতারণার জালে তারা আটকে পড়েছিলো) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪﴿
﴾ ১৫:৪ ﴿
وَمَا أَهْلَكْنَا مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌ مَعْلُومٌ ﴿٤﴾
যে কেনো জনপদকেই আমি ধ্বংস করি না কেন- তার (ধ্বংসের) জন্যে একটি সুনির্দিষ্ট সময় আগে থেকেই লিপিবদ্ধ থাকে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫﴿
﴾ ১৫:৫ ﴿
مَا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَأْخِرُونَ ﴿٥﴾
কোনো জাতিই তার (ধ্বংসের) কাল (যেমন) ত্বরান্বিত করতে পারে না, (তেমনি) তারা তা বিলম্বিতও করতে পারে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬﴿
﴾ ১৫:৬ ﴿
وَقَالُوا يَا أَيُّهَا الَّذِي نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ ﴿٦﴾
তারা বলে, ওহে- যার উপর কোরআন নাযিল করা হয়েছে- তুমি অবশ্যই একজন উন্মাদ ব্যক্তি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭﴿
﴾ ১৫:৭ ﴿
لَوْ مَا تَأْتِينَا بِالْمَلَائِكَةِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٧﴾
তুমি সত্যবাদী (নবী) হলে আমাদের সামনে ফেরেশতাদের নিয়ে আসো না কেন! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮﴿
﴾ ১৫:৮ ﴿
مَا نُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَا كَانُوا إِذًا مُنْظَرِينَ ﴿٨﴾
(হে নবী, তুমি তাদের বলো, আমি ফেরেশতাদের (কখনো) কোনো সঠিক (কারণ) ছাড়া নাযিল করি না, (তাছাড়া একবার যদি আযাবের আদেশ নিয়ে) ফেরেশতারা এসেই যায়, তবে তো আর তাদের কোনো অবকাশই দেয়া হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯﴿
﴾ ১৫:৯ ﴿
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ ﴿٩﴾
আমিই উপদেশ (সম্বলিত কোরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১০﴿
﴾ ১৫:১০ ﴿
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي شِيَعِ الْأَوَّلِينَ ﴿١٠﴾
তোমার আগেও পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মাঝে আমি রসূল পাঠিয়েছিলাম। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১১﴿
﴾ ১৫:১১ ﴿
وَمَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿١١﴾
তাদের কাছে এমন একজন রসূলও আসেনি, যার সাথে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করেনি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১২﴿
﴾ ১৫:১২ ﴿
كَذَلِكَ نَسْلُكُهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ ﴿١٢﴾
এভাবেই আমি অপরাধীদের অন্তরে (ঠাট্টা বিদ্রুপের) এ (প্রবণতা) -কে সঞ্চার করে দেই, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১৩﴿
﴾ ১৫:১৩ ﴿
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِ وَقَدْ خَلَتْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ ﴿١٣﴾
এরা কোনো অবস্থায়ই তার উপর ঈমান আনবে না, (আসলে) এ নিয়ম তো আগের মানুষদের থেকেই চলে এসেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১৪﴿
﴾ ১৫:১৪ ﴿
وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَابًا مِنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ ﴿١٤﴾
আমি যদি এদের উপর আসমানের দরজাও খুলে দেই, অতপর তারা যদি তাতে চড়তেও শুরু করে (তারপরও এরা ঈমান আনবে না) , [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১৫﴿
﴾ ১৫:১৫ ﴿
لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَسْحُورُونَ ﴿١٥﴾
বরং বলবে, আমাদের দৃষ্টিই মোহাবিষ্ট হয়ে গেছে, কিংবা আমরা হচ্ছি এক যাদুগ্রস্ত্র সমপ্রদায়। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১৬﴿
﴾ ১৫:১৬ ﴿
وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَزَيَّنَّاهَا لِلنَّاظِرِينَ ﴿١٦﴾
(তাকিয়ে দেখো, কিভাবে) আমি আকাশে গম্বুজ তৈরী করে রেখেছি, অতপর তাকে দর্শকদের জন্যে (তারকারাজি দ্বারা) সুসজ্জিত করে রেখেছি, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১৭﴿
﴾ ১৫:১৭ ﴿
وَحَفِظْنَاهَا مِنْ كُلِ شَيْطَانٍ رَجِيمٍ ﴿١٧﴾
তাকে আমি প্রতিটি অভিশপ্ত শয়তান থেকে হেফাযত করে রেখেছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১৮﴿
﴾ ১৫:১৮ ﴿
إِلَّا مَنِ اسْتَرَقَ السَّمْعَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ مُبِينٌ ﴿١٨﴾
হাঁ, যদি কেউ চুরি করে (ফেরেশতাদের) কোনো কথা শুনতে চায় তাহলে সাথে সাথেই একটি প্রদীপ্ত উল্কা তার পেছনে ধাওয়া করে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:১৯﴿
﴾ ১৫:১৯ ﴿
وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْزُونٍ ﴿١٩﴾
আমি যমীনকে বিস্তৃত করে (বিছিয়ে দিয়েছি, ওতে আমি পর্বতমালাকে (পেরেকের মতো) গেড়ে দিয়েছি, (যেন তা নড়াচড়া করতে না পারে) এবং তাতে প্রতিটি জিনিস আমি সুপরিমিতভাবে উৎপাদন করেছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২০﴿
﴾ ১৫:২০ ﴿
وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ وَمَنْ لَسْتُمْ لَهُ بِرَازِقِينَ ﴿٢٠﴾
ওতে আমি তোমাদের জন্যে এবং অন্য সব সৃষ্টির জন্যে জীবিকার ব্যবস্থা করেছি, তোমরা যাদের (কারোই) রিযিকদাতা নও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২১﴿
﴾ ১৫:২১ ﴿
وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا عِنْدَنَا خَزَائِنُهُ وَمَا نُنَزِّلُهُ إِلَّا بِقَدَرٍ مَعْلُومٍ ﴿٢١﴾
কোনো জিনিস এমন নেই যার ভান্ডার আমার হাতে নেই এবং সুনির্দিষ্ট একটি পরিমাণ ছাড়া আমি তা নাযিল করি না।। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২২﴿
﴾ ১৫:২২ ﴿
وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ فَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَسْقَيْنَاكُمُوهُ وَمَا أَنْتُمْ لَهُ بِخَازِنِينَ ﴿٢٢﴾
আমিই বৃষ্টি-গর্ভ বায়ু প্রেরণ করি, তারপর আমিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, অতপর আমিই তোমাদের তা পান করাই, তোমরা নিজেরা তো তার এমন কোনো ভান্ডার জমা করে রাখোনি (যে, সেখান থেকে এসব সরবরাহ আসছে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২৩﴿
﴾ ১৫:২৩ ﴿
وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْيِي وَنُمِيتُ وَنَحْنُ الْوَارِثُونَ ﴿٢٣﴾
অবশ্যই আমি (তোমাদের) জীবন দান করি, (আবার) আমিই তোমাদের মৃতু্য ঘটাই, (সর্বশেষে) আমিই হবো (সব কিছুর নিরংকুশ) মালিক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২৪﴿
﴾ ১৫:২৪ ﴿
وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ ﴿٢٤﴾
তোমাদের আগে যারা (এ যমীন থেকে) গত হয়ে গেছে তাদের (যেমন) আমি জানি, তেমনি তোমাদের পরবর্তীদেরও আমি (ভালো করে) জানি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২৫﴿
﴾ ১৫:২৫ ﴿
وَإِنَّ رَبَّكَ هُوَ يَحْشُرُهُمْ إِنَّهُ حَكِيمٌ عَلِيمٌ ﴿٢٥﴾
নিসন্দেহে তোমার মালিক একদিন তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন; তিনি অবশ্যই প্রবল প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২৬﴿
﴾ ১৫:২৬ ﴿
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَإٍ مَسْنُونٍ ﴿٢٦﴾
অবশ্যই আমি মানুষকে ছাঁচে ঢালা শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে পয়দা করেছি, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২৭﴿
﴾ ১৫:২৭ ﴿
وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ مِنْ نَارِ السَّمُومِ ﴿٢٧﴾
আর (হাঁ, ) জিন! তাকে আমি আগেই আগুনের উত্তপ্ত শিখা থেকে সৃষ্টি করেছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২৮﴿
﴾ ১৫:২৮ ﴿
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَإٍ مَسْنُونٍ ﴿٢٨﴾
(স্মরণ করো, ) যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, আমি (অচিরেই) ছাঁচে ঢালা ঠনঠনে শুকনো মাটি থেকে মানুষ পয়দা করতে যাচ্ছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:২৯﴿
﴾ ১৫:২৯ ﴿
فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ ﴿٢٩﴾
অতপর যখন আমি তাকে পুরোপুরি সুঠাম করে নেবো এবং আমার রূহ থেকে (কিছু) তাতে ফুঁকে দেবো, তখন তোমরা সবাই তার সামনে সাজদাবনত হয়ে যাবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩০﴿
﴾ ১৫:৩০ ﴿
فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ ﴿٣٠﴾
অতপর (আল্লাহর আদেশে) ফেরেশতারা সবাই সাজদা করলো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩১﴿
﴾ ১৫:৩১ ﴿
إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى أَنْ يَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ ﴿٣١﴾
একমাত্র ইবলীস ছাড়া- সে সাজদাকারীদের দলভুক্ত হতে অস্বীকার করলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩২﴿
﴾ ১৫:৩২ ﴿
قَالَ يَا إِبْلِيسُ مَا لَكَ أَلَّا تَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ ﴿٣٢﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন, তোমার কি হলো, তুমি যে সাজদাকারীদের দলে শামিল হলে না! [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩৩﴿
﴾ ১৫:৩৩ ﴿
قَالَ لَمْ أَكُنْ لِأَسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهُ مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَإٍ مَسْنُونٍ ﴿٣٣﴾
সে বললো (হে আল্লাহ) , আমি কখনো এমন মানুষের জন্যে সাজদা করতে পারি না- যাকে তুমি ছাঁচে ঢালা শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে বানিয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩৪﴿
﴾ ১৫:৩৪ ﴿
قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ ﴿٣٤﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন, (তাই যদি বলো) তাহলে তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও, কেননা তুমি অভিশপ্ত, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩৫﴿
﴾ ১৫:৩৫ ﴿
وَإِنَّ عَلَيْكَ اللَّعْنَةَ إِلَى يَوْمِ الدِّينِ ﴿٣٥﴾
হিসাব নিকাশের দিন পর্যন্ত তোমার উপর অভিশাপ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩৬﴿
﴾ ১৫:৩৬ ﴿
قَالَ رَبِّ فَأَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ ﴿٣٦﴾
সে বললো (হে মালিক, তাহলে) তুমিও আমাকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দাও যেদিন তাদের পুনরায় জীবিত করা হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩৭﴿
﴾ ১৫:৩৭ ﴿
قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ ﴿٣٧﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন (হাঁ যাও) , যাদের (এ) অবকাশ দেয়া হয়েছে তুমি তাদের অন্তরভুক্ত (হলে) , [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩৮﴿
﴾ ১৫:৩৮ ﴿
إِلَى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُومِ ﴿٣٨﴾
(এ অবকাশ) সুনির্দিষ্ট সময় আসার দিন পর্যন্ত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৩৯﴿
﴾ ১৫:৩৯ ﴿
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٣٩﴾
সে বললো, হে আমার মালিক, তুমি যেভাবে (আজ) আমাকে পথভ্রষ্ট করে দিলে (আমিও তোমার শপথ করে বলছি) , আমি মানুষদের জন্যে পৃথিবীতে তাদের (গুনাহের কাজসমূহ) শোভন করে তুলবো এবং তাদের সবাইকে আমি পথভ্রষ্ট করে ছাড়বো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪০﴿
﴾ ১৫:৪০ ﴿
إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ ﴿٤٠﴾
তবে তাদের মধ্যে যারা তোমার খাঁটি বান্দা তাদের কথা আলাদা। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪১﴿
﴾ ১৫:৪১ ﴿
قَالَ هَذَا صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيمٌ ﴿٤١﴾
আল্লাহ তায়ালা বললেন, (আমার নিষ্ঠাবান বান্দাহদের জন্যে মূলত) আমার কাছ পর্যন্ত (পৌঁছানোর) এটাই হচ্ছে সহজ সরল পথ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪২﴿
﴾ ১৫:৪২ ﴿
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ ﴿٤٢﴾
(হাঁ, ) এ গোমরাহ মানুষদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তারা ছাড়া অন্যরা অবশ্যই আমার (খাঁটি) বান্দা, তাদের উপর তোমার কোনো আধিপত্য চলবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪৩﴿
﴾ ১৫:৪৩ ﴿
وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٤٣﴾
আর অবশ্যই জাহান্নাম হচ্ছে তাদের সবার প্রতিশ্রুত স্থান, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪৪﴿
﴾ ১৫:৪৪ ﴿
لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مَقْسُومٌ ﴿٤٤﴾
তাতে থাকবে সাতটি (বিশালকায়) দরজা; (আবার) এগুলোর প্রতিটি দরজা (দিয়ে প্রবেশ করা) -এর জন্যে থাকবে এক একটা নির্দিষ্ট অংশ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪৫﴿
﴾ ১৫:৪৫ ﴿
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ﴿٤٥﴾
(এর বিপরীত) যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করে তারা অবশ্যই (সেদিন) জান্নাত ও ঝর্ণাধারায় (বহুমুখী নেয়ামতে) অবস্থান করবে; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪৬﴿
﴾ ১৫:৪৬ ﴿
ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ ﴿٤٦﴾
(এই বলে তাদের অভিবাদন জানানো হবে, ) তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে সেখানে প্রবেশ করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪৭﴿
﴾ ১৫:৪৭ ﴿
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ ﴿٤٧﴾
তাদের অন্তরে ঈর্ষা বিদ্বেষ যাই থাক আমি (সেদিন) তা দূর করে দেবো, তারা একে অপরের ভাই হয়ে পরস্পরের মুখোমুখি সেখানে অবস্থান করবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪৮﴿
﴾ ১৫:৪৮ ﴿
لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ ﴿٤٨﴾
সেখানে তাদের কোনোরকম অবসাদ স্পর্শ করবে না, আর তাদের সেখান থেকে কোনো দিন বেরও করে দেয়া হবে না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৪৯﴿
﴾ ১৫:৪৯ ﴿
نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ﴿٤٩﴾
(হে নবী, ) তুমি আমার বান্দাদের একথা বলে দাও, আমি অবশ্যই অসীম ও পরম দয়ালু, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫০﴿
﴾ ১৫:৫০ ﴿
وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ ﴿٥٠﴾
(তাদের আরো বলে দাও) নিসন্দেহে আমার আযাবও হচ্ছে অত্যন্ত কঠোর। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫১﴿
﴾ ১৫:৫১ ﴿
وَنَبِّئْهُمْ عَنْ ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ ﴿٥١﴾
(হে নবী, ) তুমি তাদের ইবরাহীমের মেহমানের কাহিনী থেকে (কিছু কথা) শোনাও। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫২﴿
﴾ ১৫:৫২ ﴿
إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلَامًا قَالَ إِنَّا مِنْكُمْ وَجِلُونَ ﴿٥٢﴾
যখন তারা তার কাছে হাযির হয়ে বললো, (তোমার উপর) 'সালাম', তখন সে (তাদের ভাব ভংগি দেখে) বললো, আমরা অবশ্যই তোমাদের ব্যাপারে শংকিত। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫৩﴿
﴾ ১৫:৫৩ ﴿
قَالُوا لَا تَوْجَلْ إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ عَلِيمٍ ﴿٥٣﴾
ওরা বললো, না, তুমি আশংকা করো না, আমরা তোমাকে এক জ্ঞানবান সন্তানদানের শুভ সংবাদ দিচ্ছি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫৪﴿
﴾ ১৫:৫৪ ﴿
قَالَ أَبَشَّرْتُمُونِي عَلَى أَنْ مَسَّنِيَ الْكِبَرُ فَبِمَ تُبَشِّرُونَ ﴿٥٤﴾
সে বললো, তোমরা আমার (এমন অবস্থার) উপর (সন্তানদানের) সুসংবাদ দিচ্ছো- (যখন) বার্ধক্য (-জনিত অবস্থা। আমাকে স্পর্শ করে ফেলেছে, অতপর (এ অবস্থায়) তোমরা আমাকে কিসের সুসংবাদ দেবে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫৫﴿
﴾ ১৫:৫৫ ﴿
قَالُوا بَشَّرْنَاكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُنْ مِنَ الْقَانِطِينَ ﴿٥٥﴾
তারা বললো, হাঁ, আমরা তোমাকে সঠিক সুসংবাদই দিচ্ছি, অতএব তুমি হতাশাগ্রস্তদের দলভুক্ত হয়ো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫৬﴿
﴾ ১৫:৫৬ ﴿
قَالَ وَمَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّالُّونَ ﴿٥٦﴾
সে বললো, গোমরাহ ব্যক্তি ছাড়া আল্লাহর রহমত থেকে কে নিরাশ হতে পারে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫৭﴿
﴾ ১৫:৫৭ ﴿
قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا الْمُرْسَلُونَ ﴿٥٧﴾
হে (আল্লাহর পাঠানো) ফেরেশতারা, বলো (আমাকে এ সুসংবাদ দেয়া ছাড়া) তোমাদের (সামনে) আর কি (অভিযান) রয়েছে? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫৮﴿
﴾ ১৫:৫৮ ﴿
قَالُوا إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَى قَوْمٍ مُجْرِمِينَ ﴿٥٨﴾
তারা বললো (হাঁ) , আমাদের এক নাফরমান জাতির বিরুদ্ধে (অভিযানে) পাঠানো হয়েছে (যারা অচিরেই বিনাশ হয়ে যাবে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৫৯﴿
﴾ ১৫:৫৯ ﴿
إِلَّا آلَ لُوطٍ إِنَّا لَمُنَجُّوهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٥٩﴾
তবে লুতের আপনজনরা বাদে; আমরা অবশ্যই (আযাবের সময়) তাদের সবাইকে উদ্ধার করবো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬০﴿
﴾ ১৫:৬০ ﴿
إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَا إِنَّهَا لَمِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٦٠﴾
কিন্তু তার স্ত্রীকে নয় (আল্লাহ তায়ালা তার ব্যাপারে বলেন) , আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি, সে (আযাবের সময়) পশ্চাদ্বর্তী দলভুক্ত হয়ে থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬১﴿
﴾ ১৫:৬১ ﴿
فَلَمَّا جَاءَ آلَ لُوطٍ الْمُرْسَلُونَ ﴿٦١﴾
যখন (সে) ফেরেশতারা নূতের পরিবার পরিজনদের কাছে এসে হাযির হলো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬২﴿
﴾ ১৫:৬২ ﴿
قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ مُنْكَرُونَ ﴿٦٢﴾
(তখন) সে বললো আপনারা তো (দেখছি) অপরিচিত ধরনের লোক। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬৩﴿
﴾ ১৫:৬৩ ﴿
قَالُوا بَلْ جِئْنَاكَ بِمَا كَانُوا فِيهِ يَمْتَرُونَ ﴿٦٣﴾
তারা বললো (না আসলে তা নয়) , আমরা তো বরং তাদের কাছে সে (আযাবের) বিষয়টাই নিয়ে এসেছি, যার ব্যাপারে তারা ছিলো সন্দিগ্ধ। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬৪﴿
﴾ ১৫:৬৪ ﴿
وَأَتَيْنَاكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ ﴿٦٤﴾
আমরা (তোমার কাছে) সত্য সংবাদ নিয়ে এসেছি এবং আমরা (হচ্ছি) সত্যবাদী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬৫﴿
﴾ ১৫:৬৫ ﴿
فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِنَ اللَّيْلِ وَاتَّبِعْ أَدْبَارَهُمْ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ وَامْضُوا حَيْثُ تُؤْمَرُونَ ﴿٦٥﴾
সুতরাং তুমি রাতের কিছু অংশ থাকতে তোমার লোকজনসহ (এ জনপদ থেকে বেরিয়ে পড়ো এবং তুমি। নিজে তাদের পেছনে পেছনে চলতে থেকো, (সাবধান!) তোমাদের মধ্যে একজনও যেন পেছনে ফিরে না তাকায়, (ঠিক) যেদিকে (যাওয়ার জন্যে) তোমাদের আদেশ করা হবে, সেদিকেই চলতে থাকবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬৬﴿
﴾ ১৫:৬৬ ﴿
وَقَضَيْنَا إِلَيْهِ ذَلِكَ الْأَمْرَ أَنَّ دَابِرَ هَؤُلَاءِ مَقْطُوعٌ مُصْبِحِينَ ﴿٦٦﴾
(ইতিমধ্যে) আমি তার কাছে এ ফয়সালা পাঠিয়ে দিয়েছি যে, এ জনপদের মানুষগুলোকে ভোর হতেই মূলোৎপাটিত করে দেয়া হবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬৭﴿
﴾ ১৫:৬৭ ﴿
وَجَاءَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ يَسْتَبْشِرُونَ ﴿٦٧﴾
(ইতিমধ্যে) নগরের অধিবাসীরা উল্লসিত হয়ে (লুতের কাছে এসে) হাযির হলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬৮﴿
﴾ ১৫:৬৮ ﴿
قَالَ إِنَّ هَؤُلَاءِ ضَيْفِي فَلَا تَفْضَحُونِ ﴿٦٨﴾
(এদের আসতে দেখে) সে বললো (হে আমার দেশবাসী) , এরা হচ্ছে আমার মেহমান, (এদের সাথে অশালীন আচরণ করে) তোমরা আমাকে অপমান করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৬৯﴿
﴾ ১৫:৬৯ ﴿
وَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ ﴿٦٩﴾
তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং আমাকে (এদের সামনে) হেয় করো না। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭০﴿
﴾ ১৫:৭০ ﴿
قَالُوا أَوَلَمْ نَنْهَكَ عَنِ الْعَالَمِينَ ﴿٧٠﴾
তারা বললো, আমরা কি তোমাকে সৃষ্টিকূলের (মেহমানদারী করা) থেকে নিষেধ করিনি? [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭১﴿
﴾ ১৫:৭১ ﴿
قَالَ هَؤُلَاءِ بَنَاتِي إِنْ كُنْتُمْ فَاعِلِينَ ﴿٧١﴾
(এদের উক্তি শুনে) সে বললো, (একান্তই) যদি তোমরা কিছু (কামনা বাসনা চরিতার্থ করতে চাও, তবে এখানে আমার (জাতির) মেয়েরা রয়েছে (এদের বিয়ে করে তোমরা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারো) ; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭২﴿
﴾ ১৫:৭২ ﴿
لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿٧٢﴾
(আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে নবী, ) তোমার জীবনের শপথ (করে বলছি, সেদিন) এরা নিদারুণ এক নেশায় বিভোর হয়ে পড়েছিলো (আল্লাহর গর্বের কোনো কথাই এরা বিশ্বাস করলো না) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭৩﴿
﴾ ১৫:৭৩ ﴿
فَأَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَةُ مُشْرِقِينَ ﴿٧٣﴾
অতপর সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই এক মহানাদ (এসে) তাদের উপর আঘাত হানলো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭৪﴿
﴾ ১৫:৭৪ ﴿
فَجَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ ﴿٧٤﴾
তারপর আমি তাদের নগরগুলো উলটিয়ে দিলাম এবং ওদের উপর পাকানো মাটির পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করলাম; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭৫﴿
﴾ ১৫:৭৫ ﴿
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِلْمُتَوَسِّمِينَ ﴿٧٥﴾
অবশ্যই এ (ঘটনার) মাঝে পর্যবেক্ষনসম্পন্ন মানুষদের জন্যে (শিক্ষার) বহু নিদর্শন রয়েছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭৬﴿
﴾ ১৫:৭৬ ﴿
وَإِنَّهَا لَبِسَبِيلٍ مُقِيمٍ ﴿٧٦﴾
(ধ্বংসস্তুপের নিদর্শন হিসেবে) তা (আজো) রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে (আছে) । [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭৭﴿
﴾ ১৫:৭৭ ﴿
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٧٧﴾
অবশ্যই এর মাঝে ঈমানদারদের জন্যে (আল্লাহর) নিদর্শন (মজুদ রয়েছে; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭৮﴿
﴾ ১৫:৭৮ ﴿
وَإِنْ كَانَ أَصْحَابُ الْأَيْكَةِ لَظَالِمِينَ ﴿٧٨﴾
(তের জাতির মতো) 'আইকা'র অধিবাসীরাও যালেম ছিলো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৭৯﴿
﴾ ১৫:৭৯ ﴿
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍ مُبِينٍ ﴿٧٩﴾
অতপর আমি তাদের কাছ থেকেও (তাদের নাফরমানীর) প্রতিশোধ নিলাম, আর (আজ এ) উভয় (জনপদই আযাবের চিহ্ন বহন করে) প্রকাশ্যে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে; [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮০﴿
﴾ ১৫:৮০ ﴿
وَلَقَدْ كَذَّبَ أَصْحَابُ الْحِجْرِ الْمُرْسَلِينَ ﴿٨٠﴾
(একইভাবে) 'হেজর'বাসীরাও নবীদের অস্বীকার করেছিলো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮১﴿
﴾ ১৫:৮১ ﴿
وَآتَيْنَاهُمْ آيَاتِنَا فَكَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ ﴿٨١﴾
আমি আমার নিদর্শনসমূহ তাদের কাছে প্রেরণ করেছিলাম, অতপর তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮২﴿
﴾ ১৫:৮২ ﴿
وَكَانُوا يَنْحِتُونَ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا آمِنِينَ ﴿٨٢﴾
তারা পাহাড় কেটে কেটে নিজেদের জন্যে ঘর বানাতো (এ আশায় যে) , তারা (সেখানে) নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮৩﴿
﴾ ১৫:৮৩ ﴿
فَأَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَةُ مُصْبِحِينَ ﴿٨٣﴾
অতপর (নাফরমানীর জন্যে একদিন) প্রত্যষে তাদের উপর মহানাদ এসে আঘাত হানলো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮৪﴿
﴾ ১৫:৮৪ ﴿
فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿٨٤﴾
সুতরাং তারা (জীবনভর) যা কিছু কামাই করেছে, (আল্লাহর গযবের সামনে) তা কোনোই কাজে আসেনি। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮৫﴿
﴾ ১৫:৮৫ ﴿
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَإِنَّ السَّاعَةَ لَآتِيَةٌ فَاصْفَحِ الصَّفْحَ الْجَمِيلَ ﴿٨٥﴾
(জেনে রেখো, আকাশমালা, যমীন এবং এ দু'য়ের মাঝখানে যা কিছু আছে তার কোনোটাই আমি অযথা পয়দা করিনি; অবশ্যই (সব কিছুর শেষে) একদিন কেয়ামত আসবে (এবং এ সৃষ্টিলীলা ধ্বংস হয়ে যাবে) , অতএব হে নবী, তুমি পরম ঔদাসীন্যের সাথে (ওদের) উপেক্ষা করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮৬﴿
﴾ ১৫:৮৬ ﴿
إِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ ﴿٨٦﴾
নিশ্চয়ই তোমার মালিক হচ্ছেন এক মহাস্রষ্টা, মহাজ্ঞানী। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮৭﴿
﴾ ১৫:৮৭ ﴿
وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ ﴿٨٧﴾
অবশ্যই আমি তোমাকে সাত আয়াত (বিশিষ্ট একটি সূরা) দিয়েছি, যা (নামাযের ভেতর ও বাইরে) বার বার পঠিত হয়- আরো দিয়েছি (জীবন বিধান হিসাবে) মহান (গ্রন্থ) কোরআন। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮৮﴿
﴾ ১৫:৮৮ ﴿
لَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَى مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِنْهُمْ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٨٨﴾
আমি এ (কাফেরদের) মাঝে কিছু লোককে ভোগ বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, তার প্রতি তুমি কখনো তোমার দু'চোখ তুলে তাকাবে না, তাদের (অবস্থার) উপর তুমি কোনো লোভ করবে না, (ওদের কথা বাদ দিয়ে) বরং তুমি ঈমানদারদের দিকেই ঝুঁকে থেকো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৮৯﴿
﴾ ১৫:৮৯ ﴿
وَقُلْ إِنِّي أَنَا النَّذِيرُ الْمُبِينُ ﴿٨٩﴾
(সবাইকে) বলে দাও, আমি হচ্ছি (জাহান্নামের) সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯০﴿
﴾ ১৫:৯০ ﴿
كَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى الْمُقْتَسِمِينَ ﴿٩٠﴾
যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত তাদের উপরও আমি এভাবেই (কিতাব) নাযিল করেছিলাম, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯১﴿
﴾ ১৫:৯১ ﴿
الَّذِينَ جَعَلُوا الْقُرْآنَ عِضِينَ ﴿٩١﴾
(এরা হচ্ছে সেসব লোক) যারা কোরআনকে টুকরো টুকরো করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯২﴿
﴾ ১৫:৯২ ﴿
فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٩٢﴾
সুতরাং (হে নবী, ) তোমার মালিকের শপথ, ওদের আমি অবশ্যই প্রশ্ন করবো, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯৩﴿
﴾ ১৫:৯৩ ﴿
عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿٩٣﴾
(প্রশ্ন করবো) সেসব বিষয়ে যা কিছু (আচরণ) তারা (কোরআনের সাথে) করেছে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯৪﴿
﴾ ১৫:৯৪ ﴿
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ ﴿٩٤﴾
অতএব তোমাকে যে আদেশ দেয়া হয়েছে তুমি খোলাখুলি জনসম্মুক্ষে তা বলে দাও এবং (এর পরও) যারা (আল্লাহর সাথে) শরীক করে তাদের তুমি উপেক্ষা করো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯৫﴿
﴾ ১৫:৯৫ ﴿
إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ ﴿٩٥﴾
বিপকারী ব্যক্তিদের মোকাবেলায় আমিই তোমার জন্যে যথেষ্ট, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯৬﴿
﴾ ১৫:৯৬ ﴿
الَّذِينَ يَجْعَلُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿٩٦﴾
যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে তারা অচিরেই (তাদের পরিণাম) জানতে পারবে। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯৭﴿
﴾ ১৫:৯৭ ﴿
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّكَ يَضِيقُ صَدْرُكَ بِمَا يَقُولُونَ ﴿٩٧﴾
(হে নবী, ) আমি (একথা) ভালো করেই জানি, ওরা যা কিছু বলে তাতে তোমার অন্তর সংকুচিত হয়, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯৮﴿
﴾ ১৫:৯৮ ﴿
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ ﴿٩٨﴾
অতএব তুমি তোমার মালিকের প্রশংসা দ্বারা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো এবং তুমিও সাজদাকারীদের দলে শামিল হয়ে যাও, [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]
﴾১৫:৯৯﴿
﴾ ১৫:৯৯ ﴿
وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ ﴿٩٩﴾
(হে নবী, ) যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার কাছে নিশ্চিত (মৃতু্যজনিত) ঘটনা না আসবে ততোক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমার মালিকের ইবাদাত করতে থাকো। [হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।]