🕋

الشعراء
(২৬) আশ-শু'আরা

২২৭

طسم ﴿١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ত্বা-সীম, মীম।
تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ ﴿٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এগুলো হচ্ছে সুস্পষ্ট গ্রন্থের (কতিপয়) আয়াত ।
لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ ﴿٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) কেন তারা ঈমান আনছে না (সে দুঃখে) মনে হচ্ছে তুমি তোমার জীবনটাই ধ্বংস করে দেবে।
إِنْ نَشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ آيَةً فَظَلَّتْ أَعْنَاقُهُمْ لَهَا خَاضِعِينَ ﴿٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অথচ) আমি চাইলে এদের উপর আসমান থেকে (এমন) একটি নিদর্শন নাযিল করতে পারি, (যা দেখে) তাদের গর্দান তার দিকে ঝুঁকে পড়বে।
وَمَا يَأْتِيهِمْ مِنْ ذِكْرٍ مِنَ الرَّحْمَنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا عَنْهُ مُعْرِضِينَ ﴿٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখনি দয়াময় আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে এদের কাছে কোনো (নতুন) উপদেশ আসে তখনি তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
فَقَدْ كَذَّبُوا فَسَيَأْتِيهِمْ أَنْبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা যেহেতু (আল্লাহর আযাব) অস্বীকার করেছে, (তাই) অচিরেই তাদের কাছে সে (আযাবের) প্রত্যক্ষ বিবরণ এসে হাযির হবে, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করতো!
أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الْأَرْضِ كَمْ أَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ ﴿٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা কি যমীনের দিকে নযর করে দেখে না! আমি কতো কতো ধরনের উৎকৃষ্ট জিনিসপত্র তাতে উৎপাদন করাই।
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিশ্চয়ই এর মাঝে (ছড়িয়ে) আছে (আমার সৃষ্টি কৌশলের নানা) নিদর্শন; কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষ তা বিশ্বাসই করে না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ ﴿٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমার মালিক অবশ্যই পরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু।
১০
وَإِذْ نَادَى رَبُّكَ مُوسَى أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ﴿١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, তুমি তাদের সে সময়কার কাহিনী শোনাও, ) যখন তোমার মালিক মুসাকে ডাকলেন (ইসলামের দাওয়াত নিয়ে) সে যেন যালেম জাতির কাছে যায়
১১
قَوْمَ فِرْعَوْنَ أَلَا يَتَّقُونَ ﴿١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ফেরাউনের জাতির কাছে; তারা কি (আমার ক্রোধকে) ভয় করে না?
১২
قَالَ رَبِّ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ ﴿١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, হে আমার মালিক, আমি আশংকা করছি তারা আমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে;
১৩
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هَارُونَ ﴿١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তা ছাড়া) আমার হৃদয়ও সংকীর্ণ হয়ে আসছে, আমার জিহবাও (ভালো করে) কথা বলতে পারে না, এমতাবস্থায় (আমার সাহায্যের জন্যে) তুমি হারূনের কাছেও নবুওত পাঠাও।
১৪
وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنْبٌ فَأَخَافُ أَنْ يَقْتُلُونِ ﴿١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তা ছাড়া) আমার উপর তাদের (আগে থেকেই একটা) অপরাধ (জনিত অভিযোগ) আছে, তাই আমি ভয় করছি, এখন তারা (সে অভিযোগে) আমাকে মেরেই ফেলবে,
১৫
قَالَ كَلَّا فَاذْهَبَا بِآيَاتِنَا إِنَّا مَعَكُمْ مُسْتَمِعُونَ ﴿١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা বললেন, না, (তা) কখনো হবে না, আমার আয়াত নিয়ে তোমরা উভয়েই (তার কাছে যাও, আমি তো তোমাদের সাথেই আছি, আমি সবকিছুই শুনতে পাই।
১৬
فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَا إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা দু'জন যাও ফেরাউনের কাছে, অতপর তোমরা তাকে বলো, আমরা সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত রসুল,
১৭
أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ ﴿١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি বনী ইসরাঈলদের আমাদের সাথে যেতে দাও!
১৮
قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ ﴿١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (ফেরাউন এসব শুনে) বললো, হে মুসা, আমরা কি তোমাকে আমাদের তত্ত্বাবধানে রেখে লালন পালন করিনি? তুমি কি তোমার জীবনের বেশ কয়টি বছর আমাদের মধ্যে অতিবাহিত করোনি?
১৯
وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِي فَعَلْتَ وَأَنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ ﴿١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তখন) তোমার যা কিছু করার ছিলো তা তুমি (ঠিকমতোই) করেছো, তুমি তো (দেখছি ভারী) অকৃতজ্ঞ মানুষ!
২০
قَالَ فَعَلْتُهَا إِذًا وَأَنَا مِنَ الضَّالِّينَ ﴿٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো (হ্যাঁ) , আমি তখন সে কাজটি একান্ত না জানা অবস্থায় করে ফেলেছি;
২১
فَفَرَرْتُ مِنْكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِي رَبِّي حُكْمًا وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُرْسَلِينَ ﴿٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে (প্রতিশোধের ব্যাপারে) ভয় পেয়ে গেলাম তখন আমি তোমাদের এখান থেকে পালিয়ে গেলাম, তারপর আমার মালিক আমাকে (বিশেষ) জ্ঞান দান করলেন এবং আমাকে রসুলদের দলে শামিল করলেন।
২২
وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَيَّ أَنْ عَبَّدْتَ بَنِي إِسْرَائِيلَ ﴿٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আর তুমি তোমার (রাজপরিবারের) সে অনুগ্রহ, যা তুমি (আজ) আমার উপর রাখার প্রয়াস পেলে, (তার মুল কারণ এটাই ছিলো) যে, তুমি বনী ইসরাঈলদের নিজের গোলাম বানিয়ে রেখেছিলে;
২৩
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ ﴿٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ফেরাউন বললো, সৃষ্টিকুলের মালিক (আবার) কে?
২৪
قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُوقِنِينَ ﴿٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, তিনি হচ্ছেন আসমানসমুহ ও যমীনের এবং এ উভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে যা কিছু আছে তার সব কিছুর মালিক; (কতো ভালো হতো) যদি তোমরা (এ কথাটা) বিশ্বাস করতে!
২৫
قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ ﴿٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ফেরাউন তার আশেপাশে যারা (বসা) ছিলো তাদের বললো, তোমরা কি শোনছো (মুসা কি বলছে) ?
২৬
قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ ﴿٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, তিনি তোমাদের মালিক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও মালিক।
২৭
قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ ﴿٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ফেরাউন (তার দলবলকে) বললো, তোমাদের কাছে পাঠানো তোমাদের এ রসুল হচ্ছে (আসলেই) এক বদ্ধ পাগল।
২৮
قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, তিনি পূর্ব পশ্চিম উভয় দিকের মালিক, আরো (মালিক) এদের উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে সেসব কিছুরও; (কতো ভালো হতো) যদি তোমরা (তা) অনুধাবন করতে!
২৯
قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهًا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ ﴿٢٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো (হে মুসা) , যদি তুমি আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মাবুদ হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাকে জেলে ভরবো ।
৩০
قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُبِينٍ ﴿٣٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, আমি যদি তোমার সামনে (নবুওতের) সুস্পষ্ট কোনো দলীল প্রমাণ হাযির করি তবুও কি (তুমি এমনটি করবে) ?
৩১
قَالَ فَأْتِ بِهِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٣١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, (যাও) নিয়ে এসো সে দলীল প্রমাণ, যদি তুমি (তোমার দাবীতে) সত্যবাদী হও!
৩২
فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ ﴿٣٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর সে তার লাঠি (যমীনে) নিক্ষেপ করলো, তৎক্ষণাৎ তা একটি দৃশ্যমান অজগর হয়ে গেলো ।
৩৩
وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ ﴿٣٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (দ্বিতীয় নিদর্শন হিসেবে) সে (বগল থেকে) তার হাত বের করলো, (সাথে সাথেই) তা দর্শকদের সামনে চমকাতে লাগলো ।
৩৪
قَالَ لِلْمَلَأِ حَوْلَهُ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ ﴿٣٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ফেরাউন তার আশেপাশে উপবষ্টি দরবারের বড়ো আমলাদের বললো, এ তো (দেখছি) আসলেই একজন সুদক্ষ যাদুকর!
৩৫
يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ ﴿٣٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে তার যাদু (-র শক্তি দিয়ে তোমাদের দেশ থেকে তোমাদেরই বের করে দিতে চায়, বলো, এখন তোমরা আমাকে (এ ব্যাপারে) কি পরামর্শ দেবে?
৩৬
قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَابْعَثْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ ﴿٣٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো, (আমাদের মতে) তুমি তাকে ও তার ভাইকে (কিছু দিনের) অবকাশ দাও এবং (এ সুযোগে) তুমি শহরে বন্দরে (যাদুকরদের নিয়ে আসার ফরমান দিয়ে) সংগ্রাহকদের পাঠিয়ে দাও ।
৩৭
يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ ﴿٣٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাদের বলে দাও, তারা) যেন প্রতিটি সুদক্ষ যাদুকরকে তোমার সামনে এনে হাযির করে ।
৩৮
فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ ﴿٣٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর একটি নির্দিষ্ট দিনে একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সত্যি সত্যিই দেশের) সব যাদুকরদের একত্রিত করা হলো,
৩৯
وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنْتُمْ مُجْتَمِعُونَ ﴿٣٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সাধারণ মানুষদের জন্যেও বলা হলো, তারাও যেন (সেখানে তখন) একত্রিত হয়,
৪০
لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ إِنْ كَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ ﴿٤٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ আশা (নিয়েই সবাই আসবে) যে, যদি যাদুকররা (আজ) বিজয়ী হয় তাহলে আমরা (মুসাকে বাদ দিয়ে) তাদের অনুসরণ করতে পারবো ।
৪১
فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالُوا لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ ﴿٤١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা ফেরাউনের সামনে (এসে) বললো, আমরা যদি (আজ) জয় লাভ করি তাহলে আমাদের জন্যে (পর্যাপ্ত) পুরস্কার থাকবে তো?
৪২
قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًا لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ ﴿٤٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, হাঁ (তা তো অবশ্যই) , তেমন অবস্থায় তোমরাই তো (হবে) আমার ঘনিষ্ঠ জন!
৪৩
قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ ﴿٤٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (মোকাবেলা শুরু হয়ে গেলে) মুসা তাদের বললো (হাঁ) , তোমরাই (আগে) নিক্ষেপ করো যা কিছু তোমাদের (কাছে) নিক্ষেপ করার আছে!
৪৪
فَأَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ ﴿٤٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর তারা তাদের রশি ও লাঠি (মাটিতে) ফেললো এবং তারা বললো, ফেরাউনের ইযযতের কসম, আজ অবশ্যই আমরা বিজয়ী হবো।
৪৫
فَأَلْقَى مُوسَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ ﴿٤٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারপর মুসা তার (হাতের) লাঠি (যমীনে) নিক্ষেপ করলো, সহসা তা (এক বিশাল অজগর হয়ে) তাদের (যাদুর) অলীক সৃষ্টিগুলো গ্রাস করতে লাগলো,
৪৬
فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ ﴿٤٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর (ঘটনার আকস্মিকতা) যাদুকরদের সাজদাবনত করে দিলো,
৪৭
قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٤٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো, আমরা সৃষ্টিকুলের মালিকের উপর ঈমান আনলাম,
৪৮
رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ ﴿٤٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (ঈমান আনলাম) মুসা ও হারূনের মালিকের উপর ।
৪৯
قَالَ آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلَافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٤٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এতে ক্রোধান্বিত হয়ে) সে (ফেরাউন) বললো, (একি!) আমি তোমাদের কোনো রকম) অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার (মালিকের) উপর ঈমান এনে ফেললে! (আমি বুঝতে পারছি, আসলে) এই হচ্ছে তোমাদের সবচাইতে বড়ো (গুরু) , এ-ই তোমাদের সবাইকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে, অতিসত্বর তোমরা তোমাদের অবস্থা) জানতে পারবে; আমি তোমাদের হাত ও পা-বিপরীত দিক থেকে কেটে দেবো, অতপর আমি তোমাদের সবাইকে (একে একে) শূলে চড়াবো,
৫০
قَالُوا لَا ضَيْرَ إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنْقَلِبُونَ ﴿٥٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো, (এতে) আমাদের কোনোই ক্ষতি নেই, (তুমি যাই করো) আমরা তো একদিন আমাদের মালিকের কাছেই ফিরে যাবো,
৫১
إِنَّا نَطْمَعُ أَنْ يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَايَانَا أَنْ كُنَّا أَوَّلَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٥١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমরা আশা করবো (সেদিন) আমাদের মালিক আমাদের (যাদু সংক্রান্ত) সব গুনাহ খাতা মাফ করে দেবেন, কেননা আমরাই (এ দলের মাঝে) সবার আগে ঈমান এনেছি।
৫২
وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِي إِنَّكُمْ مُتَّبَعُونَ ﴿٥٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর আমি মুসার কাছে ওহী পাঠিয়ে বললাম, রাত থাকতে থাকতেই তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে (এ জনপদ থেকে) বেরিয়ে যাও, (সাবধান থেকো, ফেরাউনের পক্ষ থেকে) তোমাদের অবশ্যই অনুসরণ করা হবে।
৫৩
فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ ﴿٥٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ইতিমধ্যে ফেরাউন (সৈন্য জড়ো করার জন্যে) শহরে বন্দরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিলো,
৫৪
إِنَّ هَؤُلَاءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ ﴿٥٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সে বললো, ) এরা তো হচ্ছে একটি ক্ষুদ্র দল মাত্র,
৫৫
وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَائِظُونَ ﴿٥٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা আমাদের (অনেক) ক্রোধের উদ্রেক ঘটিয়েছে,
৫৬
وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَاذِرُونَ ﴿٥٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এদের মোকাবেলায়) আমরা হচ্ছি একটি সম্মিলিত সেনাবাহিনী;
৫৭
فَأَخْرَجْنَاهُمْ مِنْ جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ﴿٥٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি (ধীরে ধীরে এবার) তাদের উদ্যানমালা ও ঝর্ণাধারাসমুহ থেকে বের করে আনলাম,
৫৮
وَكُنُوزٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ ﴿٥٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (বের করে আনলাম) তাদের (সঞ্চিত) ধনভান্ডারসমুহ ও সুরম্য প্রাসাদ থেকে,
৫৯
كَذَلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا بَنِي إِسْرَائِيلَ ﴿٥٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এভাবেই আমি বনী ইসরাঈলদের (ফেরাউন ও তাদের) লোকজনদের (ফেলে আসা) সে সবের মালিক বানিয়ে দিলাম;
৬০
فَأَتْبَعُوهُمْ مُشْرِقِينَ ﴿٦٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা সুর্যোদয়ের প্রাক্কালেই তাদের পশ্চাদ্ধাবন করলো।
৬১
فَلَمَّا تَرَاءَى الْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَابُ مُوسَى إِنَّا لَمُدْرَكُونَ ﴿٦١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এক পর্যায়ে) যখন একদল আরেক দলকে দেখে ফেললো, তখন মুসার সাথীরা বলে ওঠলো, আমরা (বুঝি এখনি) ধরা পড়ে যাবো,
৬২
قَالَ كَلَّا إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهْدِينِ ﴿٦٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, না কিছুতেই নয়, আমার সাথে অবশ্যই আমার মালিক রয়েছেন, তিনি অবশ্যই আমাকে (এ সংকট থেকে বেরিয়ে যাবার একটা) পথ বাতলে দেবেন।
৬৩
فَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنِ اضْرِبْ بِعَصَاكَ الْبَحْرَ فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ ﴿٦٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর আমি (এই বলে) মুসার কাছে ওহী পাঠালাম, তুমি তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত হানো, (আঘাতের পর) তা ফেটে (দু'ভাগ হয়ে) গেলো এবং এর প্রতিটি ভাগ (এতো বড়ো) ছিলো, যেমন উঁচু উঁচু (একটা) পাহাড়,
৬৪
وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ الْآخَرِينَ ﴿٦٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এবার) আমি অপর দলটিকে (এ জায়গার) কাছে নিয়ে এলাম,
৬৫
وَأَنْجَيْنَا مُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَجْمَعِينَ ﴿٦٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (ঘটনার সমাপ্তি এভাবে হলো, ) আমি মুসা ও তার সকল সাথীকে (ফেরাউন থেকে) উদ্ধার করলাম,
৬৬
ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ ﴿٦٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর আমি অপর দলটিকে (সাগরে) ডুবিয়ে দিলাম;
৬৭
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٦٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই এ ঘটনার মাঝে (শিক্ষার) নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষ তো আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমানই আনে না।
৬৮
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ ﴿٦٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমার মালিক অবশ্যই পরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু।
৬৯
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَاهِيمَ ﴿٦٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি ওদের কাছে ইবরাহীমের ঘটনাও বর্ণনা করো।
৭০
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٧٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন সে তার পিতা ও তার জাতির লোকদের (এ মর্মে) জিজ্ঞেস করেছিলো, তোমরা সবাই কার ইবাদাত করো?
৭১
قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِينَ ﴿٧١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো, (হাঁ) , আমরা মুর্তির ইবাদাত করি, নিষ্ঠার সাথেই আমরা তাদের ইবাদাতে মগ্ন থাকি।
৭২
قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ ﴿٧٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো (বলো তো) , তোমরা যখন তাদের ডাকো তারা কি তোমাদের কোনো কথা শুনতে পায়,
৭৩
أَوْ يَنْفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ ﴿٧٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অথবা তারা কি তোমাদের কোনো উপকার করতে পারে; কিংবা (পারে কি) তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে?
৭৪
قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءَنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ ﴿٧٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো, (না তা পারে না, তবে) আমরা আমাদের বাপদাদাদের এরূপে এদের ইবাদাত করতে দেখেছি,
৭৫
قَالَ أَفَرَأَيْتُمْ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ ﴿٧٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, তোমরা কি কখনো তাদের ব্যাপারটা (একটু) চিন্তা ভাবনা করে দেখেছো যাদের তোমরা ইবাদাত করো,
৭৬
أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ ﴿٧٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা নিজেরা (যেমনি করছো) তোমাদের আগের লোকেরাও (তেমনি করেছে) ,
৭৭
فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ ﴿٧٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এভাবে যাদের ইবাদাত করা হচ্ছে, তারা সবাই হচ্ছে আমার দুশমন । একমাত্র সৃষ্টিকুলের মালিক ছাড়া (তিনিই আমার বন্ধু) ,
৭৮
الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ ﴿٧٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি আমাকে পয়দা করেছেন, অতপর তিনিই আমাকে (অন্ধকারে) চলার পথ দেখিয়েছেন,
৭৯
وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ ﴿٧٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনিই আমাকে আহার্য দেন, তিনিই (আমার) পানীয় যোগান,
৮০
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ ﴿٨٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আর আমি যখন রোগাক্রান্ত হই তখন তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন,
৮১
وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ ﴿٨١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাবেন, তিনিই আমাকে আবার (নতুন) জীবন দেবেন,
৮২
وَالَّذِي أَطْمَعُ أَنْ يَغْفِرَ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ ﴿٨٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । শেষ বিচারের দিন তাঁর কাছ থেকে আমি এ আশা করবো, তিনি আমার গুনাহসমুহ মাফ করে দেবেন;
৮৩
رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ ﴿٨٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অতপর ইবরাহীম দোয়া করলো, ) হে আমার মালিক, তুমি আমাকে জ্ঞান দান করো এবং আমাকে নেককার মানুষদের সাথে মিলিয়ে রেখো ।
৮৪
وَاجْعَلْ لِي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ ﴿٨٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এবং পরবর্তীদের মাঝে তুমি আমার স্মরণ অব্যাহত রেখো,
৮৫
وَاجْعَلْنِي مِنْ وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيمِ ﴿٨٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমাকে তুমি (তোমার) নেয়ামতে ভরা জান্নাতের অধিকারীদের মধ্যে শামিল করে নিয়ো,
৮৬
وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ ﴿٨٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমার পিতাকে (হেদায়াতের তাওফীক দিয়ে) তুমি মাফ করে দাও, কেননা সে গোমরাহদের একজন,
৮৭
وَلَا تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ ﴿٨٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমাকে তুমি সেদিন অপমানিত করো না (যেদিন সব মানুষদের) পুনরায় জীবন দেয়া হবে।
৮৮
يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ ﴿٨٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সেদিন তো (কারো) ধন সম্পদ কাজে লাগবে না না সন্তান সন্ততি (কারো কাজে আসবে) ,
৮৯
إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ ﴿٨٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্য যে আল্লাহর কাছে একটি বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে হাযির হবে (তার কথা আলাদা) ;
৯০
وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ ﴿٩٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সেদিন) জান্নাতকে পরহেযগার লোকদের একান্ত কাছে নিয়ে আসা হবে,
৯১
وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَ ﴿٩١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এবং জাহান্নামকে গুনাহগারদের জন্যে উন্মােচিত করে দেয়া হবে,
৯২
وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ ﴿٩٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তখন) তাদের বলা হবে, (বলো) এখন কোথায় তারা, (দুনিয়ার জীবনে) যাদের তোমরা ইবাদাত করতে,
৯৩
مِنْ دُونِ اللَّهِ هَلْ يَنْصُرُونَكُمْ أَوْ يَنْتَصِرُونَ ﴿٩٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যাদের তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে (ইবাদাতের জন্যে) ডাকতে, আজ তারা তোমাদের কোনো রকম সাহায্য করতে পারবে কি? না তারা নিজেদের (আল্লাহর আযাব থেকে) বাঁচাতে পারবে?
৯৪
فَكُبْكِبُوا فِيهَا هُمْ وَالْغَاوُونَ ﴿٩٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর (যাদের তারা মাবুদ বানাতো) তারা এবং গোমরাহ মানুষ (যারা তাদের ইবাদাত করতো) , সবাইকে। সেখানে অধােমুখী করে নিক্ষেপ করা হবে,
৯৫
وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ ﴿٩٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (নিক্ষেপ করা হবে) ইবলীসের সমুদয় বাহিনীকেও;
৯৬
قَالُوا وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَ ﴿٩٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সেখানে গিয়ে) তারা নিজেরা এক (মহা) বিতর্কে লপ্তি হবে এবং (প্রত্যেকেই নিজ নিজ মাবুদদের) বলবে,
৯৭
تَاللَّهِ إِنْ كُنَّا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٩٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালার কসম, আমরা (দুনিয়াতে) সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলাম,
৯৮
إِذْ نُسَوِّيكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٩٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (বিশেষ করে) যখন আমরা সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার সাথে তোমাদেরও (তাঁর) সমকক্ষ মনে করতাম।
৯৯
وَمَا أَضَلَّنَا إِلَّا الْمُجْرِمُونَ (﴿٩٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আসলে) এ সব বড়ো বড়ো গুনাহগার ব্যক্তিরাই আমাদের পথভ্রষ্ট করে দিয়েছে৷
১০০
فَمَا لَنَا مِنْ شَافِعِينَ ﴿١٠٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হায়! আজ) আমাদের (পক্ষে কথা বলার) জন্যে কেউই রইলো না,
১০১
وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ ﴿١٠١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । না আছে (এমন) কোনো সুহৃদ বন্ধু (যে আল্লাহ তায়ালার কাছে সুপারিশ পেশ করতে পারে?)
১০২
فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٠٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । কতো ভালো হতো যদি আমাদের আরেকবার দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হতো, তাহলে অবশ্যই আমরা ঈমানদার হয়ে যেতাম!
১০৩
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٠٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে এ (ঘটনার) মাঝেও (শিক্ষার) নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক তো ঈমানই আনে
১০৪
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ ﴿١٠٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিশ্চয়ই তোমার মালিক পরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু।
১০৫
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٠٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নুহের জাতির লোকেরাও (আমার) রসুলদের মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিলো,
১০৬
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٠٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন তাদেরই ভাই নুহ (এসে) তাদের বললো (হে আমার জাতি) , তোমরা কি (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করো না?
১০৭
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ ﴿١٠٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসুল,
১০৮
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٠٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব, তোমরা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
১০৯
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٠٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি এ (দাওয়াত পৌঁছানোর) জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক দাবী করি না, আমার যা পারিশ্রমিক তা তো রাম্বুল আলামীনের কাছেই (মজুদ) রয়েছে,
১১০
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সুতরাং তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো;
১১১
قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ ﴿١١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো, আমরা কিভাবে তোমার উপর ঈমান আনবো যখন আমরা দেখতে পাচ্ছি কতিপয় নীচু লোক তোমার আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে;
১১২
قَالَ وَمَا عِلْمِي بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, ওরা (কে) কি কাজ করে তা আমার জানার (বিষয়) নয়।
১১৩
إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَى رَبِّي لَوْ تَشْعُرُونَ ﴿١١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের (কাজের) হিসাব গ্রহণ করা (আমার দায়িত্ব নয়, এটা) তো সম্পূর্ণ আমার মালিকের ব্যাপার, (কতো ভালো হতো এ কথাটা) যদি তোমরাও বুঝতে পারতে,
১১৪
وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এটা আমার কাজ নয় যে, যারা ঈমান আনবে (নম্নিমানের মানুষ হওয়ার কারণে) আমি তাদের আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দেবো,
১১৫
إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ مُبِينٌ ﴿١١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি তো একজন সতর্ককারী ছাড়া আর কিছুই নই;
১১৬
قَالُوا لَئِنْ لَمْ تَنْتَهِ يَا نُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمَرْجُومِينَ ﴿١١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো, হে নুহ, যদি তুমি (এ কাজ থেকে) ফিরে না আসো, তাহলে তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে ।
১১৭
قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِي كَذَّبُونِ ﴿١١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, হে আমার মালিক, (তুমি দেখতে পাচ্ছো কিভাবে) আমার জাতি আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলো!
১১৮
فَافْتَحْ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ فَتْحًا وَنَجِّنِي وَمَنْ مَعِيَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি আমার এবং তাদের মাঝে একটা ফয়সালা করে দাও, তুমি আমাকে এবং আমার সাথে যেসব ঈমানদার মানুষরা আছে তাদের (সবাইকে) এদের (ফেতনা) থেকে উদ্ধার করো।
১১৯
فَأَنْجَيْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ ﴿١١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আমি তার এ দোয়া কবুল করলাম, ) তাকে এবং তার সংগী সাথী যারা ভরা নৌকায় (তার সাথে) আরোহী ছিলো, তাদের (মহাপ্লাবন থেকে বাঁচিয়ে দিলাম,
১২০
ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ الْبَاقِينَ ﴿١٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর অবশষ্টি লোকদের আমি ডুবিয়ে দিলাম;
১২১
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ ঘটনার মাঝেও (শিক্ষণীয়) নিদর্শন আছে; কিন্তু এদের মধ্যে অধিকাংশ লোক তো ঈমানই আনে না ।
১২২
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ ﴿١٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই তোমার মালিক, মহাপরাক্রমশালী এবং পরম দয়ালু।
১২৩
كَذَّبَتْ عَادٌ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আ'দ সম্প্রদায়ের লোকেরাও (তাদের) রসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলো ।
১২৪
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন তাদেরই এক (-জন শুভাকাংখী) ভাই (এসে) তাদের বললো (হে আমার জাতির লোকেরা) , এ কি হলো তোমাদের, তোমরা কি (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করবে না?
১২৫
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ ﴿١٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি হচ্ছি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসুল,
১২৬
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো,
১২৭
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি তো এ (কাজের) জন্যে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো রব্দুল আলামীন আল্লাহ তায়ালার কাছেই (মজুদ) রয়েছে;
১২৮
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ ﴿١٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা প্রতিটি উঁচুস্থানে স্মৃতি (-সৌধ হিসেবে বড়ো বড়ো ঘর) বানিয়ে নিচ্ছো, যা তোমরা (একান্ত) অপচয় (হিসেবেই) করছো,
১২৯
وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ ﴿١٢٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এমন (নিপুণ শিল্পকর্ম দিয়ে) প্রাসাদ বানাচ্ছো, (যা দেখে) মনে হয় তোমরা বুঝি এ পৃথিবীতে চিরদিন থাকবে,
১৩০
وَإِذَا بَطَشْتُمْ بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ ﴿١٣٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অপরদিকে) তোমরা যখন কারও উপর আঘাত হানো, সে আঘাত হানো অত্যন্ত নিষ্ঠুর স্বেচ্ছাচারী হিসেবে,
১৩১
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٣١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো,
১৩২
وَاتَّقُوا الَّذِي أَمَدَّكُمْ بِمَا تَعْلَمُونَ ﴿١٣٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা ভয় করো তাঁকে যিনি তোমাদের এমন সবকিছু দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা ভালো করেই জানো,
১৩৩
أَمَدَّكُمْ بِأَنْعَامٍ وَبَنِينَ ﴿١٣٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি চতুষ্পদ জন্তু জানোয়ার, সন্তান সন্ততি দিয়ে তোমাদের সাহায্য করেছেন,
১৩৪
وَجَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ﴿١٣٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সাহায্য করেছেন সুরম্য) উদ্যানমালা ও ঝর্ণাধারা দিয়ে,
১৩৫
إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿١٣٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সত্যিই আমি (এসব অকৃতজ্ঞ আচরণের কারণে) তোমাদের জন্যে একটি কঠিন দিনের শাস্তির ভয় করছি,
১৩৬
قَالُوا سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُنْ مِنَ الْوَاعِظِينَ ﴿١٣٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো (হে নবী) , তুমি আমাদের কোনো উপদেশ দাও কিংবা না দাও; উভয়টাই আমাদের জন্যে সমান,
১৩৭
إِنْ هَذَا إِلَّا خُلُقُ الْأَوَّلِينَ ﴿١٣٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তোমার) এ সব কথা আগের লোকদের নিয়ম নীতি ছাড়া আর কিছুই নয়,
১৩৮
وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ ﴿١٣٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আসলে) আমরা কখনো আযাব প্রাপ্ত হবো না,
১৩৯
فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَاهُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٣٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর তারা তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করলো, আমিও তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিলাম, (মুলত) এ (ঘটনা) -র মাঝেও রয়েছে (শিক্ষণীয়) নির্দশন, (তা সত্ত্বেও) তাদের অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।
১৪০
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ ﴿١٤٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিশ্চয় তোমার মালিক পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৪১
كَذَّبَتْ ثَمُودُ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٤١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এভাবে) সামুদ জাতিও (তাদের) রসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলো,
১৪২
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَالِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٤٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন তাদেরই (এক) ভাই সালেহ তাদের বলেছিলো (তোমাদের এ কি হলো) , তোমরা কি (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করবে না?
১৪৩
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ ﴿١٤٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসুল,
১৪৪
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٤٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো ।
১৪৫
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٤٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি তো তোমাদের কাছে (এ কাজের জন্যে) কোনো রকম পারিশ্রমিক দাবী করছি না, আমার (যা কিছু) পারিশ্রমিক তা তো সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহর কাছেই (মজুদ) রয়েছে;
১৪৬
أَتُتْرَكُونَ فِي مَا هَاهُنَا آمِنِينَ ﴿١٤٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা কি (ধরেই নিয়েছো, ) এ (দুনিয়া) -র মাঝে যা কিছু রয়েছে, তার মধ্যে নিরাপদে (বাস করার জন্যে) তোমাদের এমনিই ছেড়ে দেয়া হবে,
১৪৭
فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ﴿١٤٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিরাপদ থাকবে (তোমরা) এ উদ্যনামালা ও এ ঝর্ণাধারার মধ্যে?
১৪৮
وَزُرُوعٍ وَنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيمٌ ﴿١٤٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । শস্যক্ষেত্র, (এ) নাযুক ও ঘন গোছাবিশষ্টি খেজুর বাগিচার মধ্যেও (কি তোমরা নিরাপদ থাকতে পারবে) ,
১৪৯
وَتَنْحِتُونَ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا فَارِهِينَ ﴿١٤٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা যে নিপুণ শিল্প দ্বারা পাহাড় কেটে রংচং করে বাড়ী বানাও (তাতে কি তোমরা চিরদিন থাকতে পারবে?)
১৫০
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٥٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (ওর কোনোটাতেই যখন তোমরা নিরাপদ নও তখন) তোমরা আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো,
১৫১
وَلَا تُطِيعُوا أَمْرَ الْمُسْرِفِينَ ﴿١٥١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সে সব) সীমালংঘনকারী মানুষদের কথা শুনো না,
১৫২
الَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ ﴿١٥٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যারা (আল্লাহর) যমীনে শুধু বিপর্যয়ই সৃষ্টি করে এবং কখনো (সমাজের) সংশোধন করে না।
১৫৩
قَالُوا إِنَّمَا أَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ ﴿١٥٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এসব শুনে) তারা বললো (হে সালেহ) , আসলেই তুমি হচ্ছো একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি,
১৫৪
مَا أَنْتَ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا فَأْتِ بِآيَةٍ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿١٥٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি তো আমাদেরই মতো একজন মানুষ, যদি তুমি (তোমার দাবীতে) সত্যবাদী হও তাহলে (ভিন্ন কোনো) প্রমাণ নিয়ে এসো!
১৫৫
قَالَ هَذِهِ نَاقَةٌ لَهَا شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَعْلُومٍ ﴿١٥٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো এ উষ্ট্ৰী (হচ্ছে আমার নবুওতের প্রমাণ) , এর জন্যে (কুয়ার) পানি পান করার (একটি নির্দিষ্ট) পালা থাকবে, আর একটি নির্দিষ্ট দিনের পালা থাকবে তোমাদের (পশুদের পানি) পান করার জন্যে,
১৫৬
وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿١٥٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । কখনো একে কোনো রকম দুঃখ ক্লেশ দেয়ার উদ্দেশে স্পর্শও করো না, নতুবা বড়ো (কঠিন) দিনের আযাব তোমাদের পাকড়াও করবে।
১৫৭
فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا نَادِمِينَ ﴿١٥٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর (পায়ের নলি কেটে) তারা সেটিকে হত্যা করলো, তখন (কঠিন শাস্তি দেখে) তারা ভীষণভাবে অনুতপ্ত হলো,
১৫৮
فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٥٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর (আল্লাহ তায়ালার) শাস্তি এসে তাদের গ্রাস করলো, এ (ঘটনা) -র মাঝেও রয়েছে (আল্লাহ তায়ালার বিশেষ) নিদর্শন; কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষ তো ঈমানই আনে না ।
১৫৯
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ ﴿١٥٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে তোমার মালিক মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৬০
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٦٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (একইভাবে) লুতের জাতিও (আল্লাহর) রসুলদের অস্বীকার করেছে,
১৬১
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٦١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন তাদের ভাই লুত এসে তাদের বললো (এ কি হলো তোমাদের) , তোমরা কি (আল্লাহর আযাবকে) ভয় করবে না?
১৬২
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ ﴿١٦٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে আমি হচ্ছি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসুল,
১৬৩
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٦٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো,
১৬৪
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٦٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি তো এ (কাজের) জন্যে তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় চাচ্ছি না, আমার বিনিময় তো সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহর দরবারেই (মজুদ) রয়েছে;
১৬৫
أَتَأْتُونَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعَالَمِينَ ﴿١٦٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ কি হলো তোমাদের! জৈবিক প্রয়োজন পূরণের জন্যে) তোমরা দুনিয়ার পুরুষগুলোর কাছেই যাও,
১৬৬
وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ ﴿١٦٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অথচ তোমাদের মালিক তোমাদের (এ প্রয়োজনের) জন্যে তোমাদের স্ত্রী সাথীদের পয়দা করে রেখেছেন, তাদের তোমরা পরিহার করে (এ নোংরা কাজে লপ্তি) থাকো; তোমরা (আসলেই) এক মারাত্মক সীমালংঘনকারী জাতি।
১৬৭
قَالُوا لَئِنْ لَمْ تَنْتَهِ يَا لُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِينَ ﴿١٦٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো, হে লুত, যদি তুমি তোমার এসব (ওয়ায নসীহত) থেকে নিবৃত্ত না হও, তাহলে তুমি হবে বহিষ্কৃতদের একজন।
১৬৮
قَالَ إِنِّي لِعَمَلِكُمْ مِنَ الْقَالِينَ ﴿١٦٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো (দেখো) , আমি তোমাদের এ নোংরা কাজকে অত্যন্ত ঘৃণা করি;
১৬৯
رَبِّ نَجِّنِي وَأَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ ﴿١٦٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এবার লুত আল্লাহ তায়ালাকে বললো, ) হে আমার মালিক, তারা যা কিছু করে তুমি আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে সে সব (ঘৃণিত কাজ) থেকে বাঁচাও।
১৭০
فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ ﴿١٧٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর আমি লুত ও তার পরিবার পরিজনদের সকলকে উদ্ধার করলাম।
১৭১
إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ ﴿١٧١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তার পরিবারের) এক (পাপী) বৃদ্ধাকে বাদ দিয়ে, সে (উদ্ধারের সময়) পেছনেই থেকে গেলো (এবং আযাবে নিমজ্জিত হয়ে গেলো) ,
১৭২
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ ﴿١٧٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর অবশষ্টি সবাইকেই আমি সমপুর্ণ ধ্বংস করে দিলাম,
১৭৩
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِينَ ﴿١٧٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের উপর আমি (আযাবের) বৃষ্টি বর্ষণ করলাম, (যাদের ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিলো) তাদের জন্যে কতো নিকৃষ্ট ছিলো সেই (আযাবের) বৃষ্টি!
১৭৪
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٧٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ (ঘটনা) -র মাঝেও (রয়েছে শিক্ষণীয়) নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না ।
১৭৫
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ (﴿١٧٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে তোমার মালিক মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৭৬
كَذَّبَ أَصْحَابُ الْأَيْكَةِ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٧٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আইকা'র অধিবাসীরাও রসুলদের অস্বীকার করেছিলো,
১৭৭
إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٧٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন শোয়ায়ব তাদের বলেছিলো (হে আমার জাতি) , তোমরা কি (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করবে না?
১৭৮
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ ﴿١٧٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে আমি হচ্ছি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসুল,
১৭৯
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٧٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ১৭৯, সুতরাং তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো,
১৮০
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٨٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আমি যে তোমাদের ডাকছি) এ জন্যে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক দাবী করছি না, (কারণ) আমার পারিশ্রমিক যা, তা তো সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার কাছেই মজুদ রয়েছে;
১৮১
أَوْفُوا الْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُخْسِرِينَ ﴿١٨١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে মানুষ, মাপের সময়) তোমরা পুরোপুরি মেপে দেবে, (মাপে কম দিয়ে) তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের দলভুক্ত হয়ো না ।
১৮২
وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ ﴿١٨٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (ওযন করার সময়) পাল্লা ঠিক রেখে ওযন করবে,
১৮৩
وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿١٨٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । মানুষদের পাওনা কখনো কম দেবে না এবং দুনিয়ায় (খামাখা) ফেতনা ফাসাদ সৃষ্টি করো না,
১৮৪
وَاتَّقُوا الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالْجِبِلَّةَ الْأَوَّلِينَ ﴿١٨٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ভয় করবে তাঁকে যিনি তোমাদের এবং তোমাদের আগে যারা গত হয়ে গেছে তাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন;
১৮৫
قَالُوا إِنَّمَا أَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ ﴿١٨٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বললো (হে শোয়ায়ব) , তুমি (তো) দেখছি যাদুগ্রস্ত ব্যক্তিদেরই অন্তর্ভুক্ত,
১৮৬
وَمَا أَنْتَ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَإِنْ نَظُنُّكَ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ ﴿١٨٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তুমি কিভাবে নবী হলে?) তুমি তো আমাদেরই মতো মানুষ, আমরা মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই অন্তর্ভুক্ত,
১৮৭
فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِنَ السَّمَاءِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿١٨٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হ্যাঁ, ) তুমি যদি সত্যবাদী হও তাহলে যাও, আসমান (ভেংগে) এর একটি টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও ।
১৮৮
قَالَ رَبِّي أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿١٨٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে বললো, যা কিছু (উদ্ভট দাবী) তোমরা করছো আমার মালিক তা ভালো করেই জানেন,
১৮৯
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ الظُّلَّةِ إِنَّهُ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿١٨٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ১৮৯, অতপর তারা তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করলো, পরিণামে মেঘাচ্ছন্ন দিনের এক ভীষণ আযাব তাদের পাকড়াও করলো, এ ছিলো সত্যিই এক কঠিন দিনের আযাব।
১৯০
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٩٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ (ঘটনা) -র মাঝেও (শিক্ষার) নিদর্শন আছে; (কিন্তু) তাদের অনেকেই (এর উপর) ঈমান আনে না।
১৯১
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ ﴿١٩١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে তোমার মালিক মহাপরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু।
১৯২
وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٩٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) অবশ্যই এ (কোরআন) -টি রব্বল আলামীনের নাযিল করা (একটি গ্রন্থ) ;
১৯৩
نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ ﴿١٩٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । একজন বিশ্বস্ত ফেরেশতা (আমারই আদেশে) এটা নাযিল করেছে,
১৯৪
عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ ﴿١٩٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (নাযিল করেছে) তোমারই মনের উপর যাতে করে তুমিও সতর্ককারী (নবী) -দের একজন হতে পারো,
১৯৫
بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ ﴿١٩٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (একে নাযিল করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়;
১৯৬
وَإِنَّهُ لَفِي زُبُرِ الْأَوَّلِينَ ﴿١٩٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আগের (উম্মতদের কাছে) নাযিল করা কিতাবসমুহে অবশ্যই এটি (উল্লিখিত) আছে।
১৯৭
أَوَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ آيَةً أَنْ يَعْلَمَهُ عُلَمَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ ﴿١٩٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এটা কি এদের জন্যে দলিল নয় যে, বনী ইসরাঈলের আলেমরাও এর সম্পর্কে পুর্ণ অবগত আছে;
১৯৮
وَلَوْ نَزَّلْنَاهُ عَلَى بَعْضِ الْأَعْجَمِينَ ﴿١٩٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যদি আমি এ (কোরআন) কে (আরবীর বদলে অন্য) কোনো অনারবের উপর (তার ভাষায়) নাযিল করতাম,
১৯৯
فَقَرَأَهُ عَلَيْهِمْ مَا كَانُوا بِهِ مُؤْمِنِينَ ﴿١٩٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারপর সে (অনারব) ব্যক্তি তাদের কাছে এসে এটা (কিতাব) পাঠ করতো, অতপর (ভাষার অজুহাত তুলে) এর উপর তারা (মোটেই) ঈমান আনতো না;
২০০
كَذَلِكَ سَلَكْنَاهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ ﴿٢٠٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এভাবেই আমি এ বিষয়টি নাফরমান অপরাধীদের অন্তরে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছি;
২০১
لَا يُؤْمِنُونَ بِهِ حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ ﴿٢٠١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা (আসলে) কখনো এর উপর ঈমান আনবে না, যতোক্ষণ না তারা কোনো কঠিন আযাব (নিজেদের চোখে) দেখতে পাবে,
২০২
فَيَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٢٠٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আর সে (আযাব কিন্তু তাদের কাছে আসবে একান্ত আকস্মিকভাবেই, তারা কিছুই টের পাবে না,
২০৩
فَيَقُولُوا هَلْ نَحْنُ مُنْظَرُونَ ﴿٢٠٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তখন তারা বলবে, আমাদের কি (কিছু সময়ের জন্যেও) অবকাশ দেয়া হবে না?
২০৪
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ ﴿٢٠٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অথচ) সে লোকগুলোই (এক সময়) আযাবকে ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলো!
২০৫
أَفَرَأَيْتَ إِنْ مَتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ ﴿٢٠٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি (এ বিষয়টা) চিন্তা করে দেখেছো কি, যদি আমি তাদের অনেক দিন ধরে (পার্থিব) ভোগবিলাস ভোগ করতেও দিই,
২০৬
ثُمَّ جَاءَهُمْ مَا كَانُوا يُوعَدُونَ ﴿٢٠٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারপর যে (আযাব) সম্পর্কে তাদের ওয়াদা করা হয়েছিলো তা যদি (সত্যিই) তাদের কাছে এসে পড়ে,
২০৭
مَا أَغْنَى عَنْهُمْ مَا كَانُوا يُمَتَّعُونَ ﴿٢٠٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাহলে (এই) যে বৈষয়িক বিলাস তারা ভোগ করছিলো, তা সব কি কোনো কাজে লাগবে?
২০৮
وَمَا أَهْلَكْنَا مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنْذِرُونَ ﴿٢٠٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি (কাফেরদের) কোনো জনপদই ধ্বংস করিনি যার জন্যে (কোনো) সতর্ককারী (নবী) ছিলোনা,
২০৯
ذِكْرَى وَمَا كُنَّا ظَالِمِينَ ﴿٢٠٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ হচ্ছে মুলত সুস্পষ্ট) উপদেশ, আর আমি তো যালেম নই (যে, সতর্ক না করেই তাদের ধ্বংস করে দেবো) ।
২১০
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيَاطِينُ ﴿٢١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ (কোরআন) টি কোনো শয়তান নাযিল করেনি।
২১১
وَمَا يَنْبَغِي لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ ﴿٢١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ওরা এ কাজের যোগ্যও নয়, না তারা তেমন কোনো ক্ষমতা রাখে;
২১২
إِنَّهُمْ عَنِ السَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ ﴿٢١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের তো (ওহী) শোনা থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়েছে;
২১৩
فَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتَكُونَ مِنَ الْمُعَذَّبِينَ ﴿٢١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব তুমি কখনো আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্য কোনো মাবুদকে ডেকো না, নতুবা তুমিও শাস্তিযোগ্য লোকদের দুলভুক্ত হয়ে যাবে।
২১৪
وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ ﴿٢١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি তোমার নিকটতম আত্মীয় স্বজনদের (আল্লাহ তায়ালার আযাব থেকে) ভয় দেখাও,
২১৫
وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٢١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যে ব্যক্তি ঈমান নিয়ে তোমার অনুবর্তন করবে তুমি তার প্রতি স্নেহের আচরণ করো,
২১৬
فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٢١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যদি কেউ তোমার সাথে নাফরমানী করে তাহলে তুমি তাকে বলে দাও, তোমরা (আল্লাহ তায়ালার সাথে) যে আচরণ করছো তার (পরিণামের) জন্যে আমি কিন্তু মোটেই) দায়ী নই,
২১৭
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ ﴿٢١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাদের অবাধ্য আচরণে তুমি মনোক্ষুন্ন হয়ো না, তুমি বরং) সর্বোচ্চ পরাক্রমশালী ও দয়ালু আল্লাহ তায়ালার উপরই ভরসা করো,
২১৮
الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ ﴿٢١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যিনি তোমাকে দেখতে থাকেন, যখন তুমি (নামাযে) দাঁড়াও,
২১৯
وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ ﴿٢١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এবং সাজদাকারীদের মাঝে তোমার ওঠা বসাও (তিনি প্রত্যক্ষ করেন) ।
২২০
إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿٢٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই তিনি (সব কিছু) শোনেন, (সব কিছুই) জানেন।
২২১
هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَى مَنْ تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ ﴿٢٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) আমি কি তোমাকে বলে দেবো, শয়তান কার উপর (বেশী) সওয়ার হয়?
২২২
تَنَزَّلُ عَلَى كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ ﴿٢٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (শয়তান সওয়ার হয়) প্রতিটি ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপী মানুষের উপর,
২২৩
يُلْقُونَ السَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ ﴿٢٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ওরা (শয়তানের কথা) শোনার জন্যে কান পেতে থাকে, আর তাদের অধিকাংশই হচ্ছে (নিরেট) মিথ্যাবাদী;
২২৪
وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ ﴿٢٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আর কবিদের কথা!) কবিরা (তো অধিকাংশই হয় পথভ্রষ্ট, ) তাদের অনুসরণ করে (আরো) কতিপয় গোমরাহ ব্যক্তি;
২২৫
أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِي كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَ ﴿٢٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি কি দেখতে পাও না, ওরা (কল্পনার হাওয়ায় চড়ে) প্রতিটি ময়দানে উদ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়,
২২৬
وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ ﴿٢٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা এমন কথা (অন্যদের) বলে যা তারা নিজেরা করে না,
২২৭
إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَذَكَرُوا اللَّهَ كَثِيرًا وَانْتَصَرُوا مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا وَسَيَعْلَمُ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَيَّ مُنْقَلَبٍ يَنْقَلِبُونَ ﴿٢٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তবে যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে ও (সে অনুযায়ী) নেক কাজ করে এবং বেশী করে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে, তাদের কথা আলাদা । তাদের উপর যুলুম করার পরই কেবল তারা (আত্মরক্ষামুলক) প্রতিশোধ গ্রহণ করে; আর যুলুম যারা করে তারা অচিরেই জানতে পারবে তাদের (একদিন) কোথায় ফিরে যেতে হবে ।



ফন্ট সাইজ
15px
17px