🕋

الصافات
(৩৭) আস-সাফফাত

১৮২

وَالصَّافَّاتِ صَفًّا ﴿١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । শপথ (সে ফেরেশতাদের) যারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।
فَالزَّاجِرَاتِ زَجْرًا ﴿٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । শপথ (সেসব ফেরেশতার) যারা সজোরে ধমক দেয়,
فَالتَّالِيَاتِ ذِكْرًا ﴿٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । শপথ (সেসব ফেরেশতার) যারা (সদা আল্লাহর) যেকের তেলাওয়াত করে,
إِنَّ إِلَهَكُمْ لَوَاحِدٌ ﴿٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই তোমাদের মাবুদ হচ্ছেন একজন;
رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشَارِقِ ﴿٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি আসমান যমীন ও এ দু'য়ের মাঝখানে অবস্থিত সবকিছুরও মালিক, (তিনি আরো) মালিক (সুর্যোদয়ের স্থান) পুর্বাচলের;
إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ ﴿٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি (তোমাদের) নিকটবর্তী আসমানকে (নয়নাভিরাম) নক্ষত্ররাজি দ্বারা সুসজ্জিত করে রেখেছি;
وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ مَارِدٍ ﴿٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাকে) আমি হেফাযত করেছি প্রত্যেক না-ফরমান শয়তান থেকে,
لَا يَسَّمَّعُونَ إِلَى الْمَلَإِ الْأَعْلَى وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ ﴿٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ফলে তারা উধ্বজগতের (কথাবার্তার) কিছুই শুনতে পায় না, (কিছু শুনতে চাইলেই) প্রত্যেক দিক থেকে তাদের উপর উল্কা নিক্ষিপ্ত হয়,
دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ ﴿٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এই তাড়িয়ে দেয়াই (শেষ) নয়, তাদের জন্যে অবিরাম শাস্তিও রয়েছে,
১০
إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبٌ ﴿١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তা সত্ত্বেও) যদি কোনো (শয়তান) গোপনে হঠাৎ করে কিছু শুনে ফেলতে চায়, তখন জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড সাথে সাথেই তার পশ্চাদ্ধাবন করে ।
১১
فَاسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمْ مَنْ خَلَقْنَا إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِنْ طِينٍ لَازِبٍ ﴿١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি এদের কাছে জিজ্ঞেস করো, তাদের সৃষ্টি করা বেশী কঠিন, না (আসমান যমীনসহ) অন্য সব কিছু, যা আমি পয়দা করেছি (তার সৃষ্টি বেশী কঠিন) ; এ (মানুষ) -দের তো আমি (সামান্য কতোটুকু) আঠাল মাটি দিয়ে পয়দা করেছি।
১২
بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ ﴿١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি (এদের কথায়) বিস্ময়বোধ করছো, অথচ (তোমার কথা নিয়েই) ওরা ঠাট্টা বিদ্রুপ করছে,
১৩
وَإِذَا ذُكِّرُوا لَا يَذْكُرُونَ ﴿١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এদের যখন উপদেশ দেয়া হয়, তখন তারা (তা) স্মরণ করে না,
১৪
وَإِذَا رَأَوْا آيَةً يَسْتَسْخِرُونَ ﴿١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আবার) কোনো নিদর্শন দেখলে (তা নিয়ে) উপহাস করে,
১৫
وَقَالُوا إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ مُبِينٌ ﴿١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বলে, এটা তো সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়,
১৬
أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ ﴿١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তারা প্রশ্ন তোলে, এ আবার কেমন কথা, ) আমরা মরে গিয়ে হাড় ও মাটিতে পরিণত হয়ে যাবো, তখনও কি আমাদের (পুনরায়) জীবিত করা হবে?
১৭
أَوَآبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ ﴿١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমাদের পিতৃপুরুষদেরও (এভাবে ওঠানো হবে) ?
১৮
قُلْ نَعَمْ وَأَنْتُمْ دَاخِرُونَ ﴿١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, এদের) তুমি বলো, হ্যাঁ (অবশ্যই, সেদিন) তোমরা লাঞ্ছিত হবে,
১৯
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنْظُرُونَ ﴿١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন (কেয়ামত) হবে, (তখন) একটি মাত্র প্রচন্ড গর্জন হবে, সাথে সাথেই এরা (সবকিছু) দেখতে পাবে ।
২০
وَقَالُوا يَاوَيْلَنَا هَذَا يَوْمُ الدِّينِ ﴿٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (যারা অস্বীকার করেছিলো) তারা (সেদিন এটা দেখে) বলবে, পোড়া কপাল আমাদের, এটাই তো হচ্ছে (সেই) প্রতিদান পাওয়ার দিন।
২১
هَذَا يَوْمُ الْفَصْلِ الَّذِي كُنْتُمْ بِهِ تُكَذِّبُونَ ﴿٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাদের বলা হবে) হ্যাঁ, এটাই হচ্ছে চুড়ান্ত ফয়সালার দিন, যাকে তোমরা (নিরন্তর) মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে
২২
احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ ﴿٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (ফেরেশতাদের আদেশ দেয়া হবে যাও, ) তোমরা যালেমদের এবং তাদের সংগী-সংগিনীদের (ধরে ধরে) জমা করো, তাদের (দোসরদের) -ও, যারা তাদের গোলামী করতো (এদের সবাইকে এক জায়গায় একত্র করো) ,
২৩
مِنْ دُونِ اللَّهِ فَاهْدُوهُمْ إِلَى صِرَاطِ الْجَحِيمِ ﴿٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে (যাদের এরা মাবুদ বানাতো) তাদেরও (এক সাথে) জাহান্নামের রাস্তা দেখিয়ে দাও ।
২৪
وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ ﴿٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হ্যাঁ, (সেখানে পাঠাবার আগে) তাদের (এখানে) একটুখানি দাঁড় করাও, তারা অবশ্যই (আজ) জিজ্ঞাসিত হবে,
২৫
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ ﴿٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমাদের এ কী হলো, (জবাব দেয়ার সময়) তোমরা আজ একে অপরকে সাহায্য করছো না যে!
২৬
بَلْ هُمُ الْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ ﴿٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (না, ) আজ তো (দেখছি) এরা সবাই সত্যি সত্যিই আত্মসমর্পণকারী (বনে গেছে) !
২৭
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ ﴿٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ সময়) তারা একে অপরের দিকে মুখ করে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকবে।
২৮
قَالُوا إِنَّكُمْ كُنْتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ الْيَمِينِ ﴿٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (দুর্বল দলটি শক্তিশালী দলকে) বলবে, তোমরাই তো তোমাদের ক্ষমতা নিয়ে আমাদের কাছে আসতে,
২৯
قَالُوا بَلْ لَمْ تَكُونُوا مُؤْمِنِينَ ﴿٢٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বলবে (আমাদের দোষারোপ করছো কেন) , তোমরা তো আদৌ (আল্লাহতে) বিশ্বাসীই ছিলে না,
৩০
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ بَلْ كُنْتُمْ قَوْمًا طَاغِينَ ﴿٣٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমাদের উপর আমাদের কোনো (জবরদস্তিমুলক) কর্তিত্বও তো ছিলো না, বরং তোমরা নিজেরাই ছিলে মারাত্মক সীমালংঘনকারী।
৩১
فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَا إِنَّا لَذَائِقُونَ ﴿٣١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ সময় তাদের উভয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা হবে, ) আজ আমাদের (উভয়ের) উপর আমাদের মালিকের ঘোষণাই সত্য হয়েছে, (আজ) আমরা (উভয়েই জাহান্নামের) শাস্তি আস্বাদনকারী।
৩২
فَأَغْوَيْنَاكُمْ إِنَّا كُنَّا غَاوِينَ ﴿٣٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমরা (আসলেই) তোমাদের বিভ্রান্ত করেছিলাম, আমরা নিজেরাও ছিলাম বিভ্রান্ত!
৩৩
فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ ﴿٣٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সেদিন তারা (সবাই) এই আযাবে সমভাগী হবে ।
৩৪
إِنَّا كَذَلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِينَ ﴿٣٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি না-ফরমান লোকদের সাথে এ ধরনের আচরণই করে থাকি।
৩৫
إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ ﴿٣٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা এমন (বিদ্রোহী) ছিলো, যখন এদের বলা হতো, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, তখন তারা অহংকারে ফেটে পড়তো,
৩৬
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَجْنُونٍ ﴿٣٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা বলতো, আমরা কি একজন পাগল কবিয়ালের কথায় আমাদের মাবুদদের (আনুগত্য) ছেড়ে দেবো?
৩৭
بَلْ جَاءَ بِالْحَقِّ وَصَدَّقَ الْمُرْسَلِينَ ﴿٣٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অথচ আমার নবী কোনো কাব্য নিয়ে আসেনি, ) বরং সে এসেছে সত্য (দ্বীন) নিয়ে এবং সে (আগের) নবীদের সত্যতাও স্বীকার করছে।
৩৮
إِنَّكُمْ لَذَائِقُو الْعَذَابِ الْأَلِيمِ ﴿٣٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে অপরাধীরা, ) তোমাদের (আজ) অবশ্যই (জাহান্নামের) ভয়াবহ আযাব ভোগ করতে হবে,
৩৯
وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ﴿٣٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা যা কিছু (দুনিয়ায়) করতে (আজ) তোমাদের কেবল তারই প্রতিফল দান করা হবে,
৪০
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ ﴿٤٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তবে আল্লাহ তায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দাদের কথা আলাদা,
৪১
أُولَئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَعْلُومٌ ﴿٤١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের জন্যে (আল্লাহ তায়ালার) সুনির্দিষ্ট (উত্তম) রিযিকের ব্যবস্থা থাকবে,
৪২
فَوَاكِهُ وَهُمْ مُكْرَمُونَ ﴿٤٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । থাকবে রকমারি ফলমুল, (তদুপরি) তারা হবে মহাসম্মানে সম্মানিত,
৪৩
فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ﴿٤٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নেয়ামতে ভরপুর জান্নাতে (তারা অবস্থান করবে) ,
৪৪
عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ ﴿٤٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে (মর্যাদার) আসনে সমাসীন থাকবে।
৪৫
يُطَافُ عَلَيْهِمْ بِكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ ﴿٤٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ঘুরে ঘুরে বিশুদ্ধ সুরা তাদের পরিবেশন করা হবে,
৪৬
بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ ﴿٤٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । শুভ্র ও সমুজ্জ্বল, যা (হবে) পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু,
৪৭
لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنْزَفُونَ ﴿٤٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাতে কোনো রকম মাথা ঘুরানির মতো ক্ষতিকর কিছু থাকবে না এবং তার কারণে তারা মাতালও হবে না ।
৪৮
وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ ﴿٤٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের সাথে (আরো) থাকবে সলজ্জ, নম্র ও আয়তলোচনা তরুণীরা,
৪৯
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ ﴿٤٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা যেন (সযত্নে) লুকিয়ে রাখা ডিমের মতো উজ্জ্বল গৌর বর্ণ (সুন্দরী) ।
৫০
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ ﴿٥٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর এর (জান্নাতের) অধিবাসীরা একজন আরেক জনের দিকে ফিরে (নিজেদের হাল অবস্থা) জিজ্ঞেস করবে।
৫১
قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ ﴿٥١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ সময় তাদের মাঝ থেকে একজন বলে ওঠবে, (হ্যাঁ, দুনিয়ার জীবনে) আমার একজন সাথী ছিলো,
৫২
يَقُولُ أَئِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ ﴿٥٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ৫২ যে (আশ্চর্য হয়েই আমাকে) বলতো, তুমিও কি (কেয়ামত) বিশ্বাসীদের একজন?
৫৩
أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَدِينُونَ ﴿٥٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তুমিও কি বিশ্বাস করো, ) আমরা যখন মরে যাবো এবং যখন হাড্ডি ও মাটিতে পরিণত হয়ে যাবো, তখন (আমরা পুনরুত্থিত হবো এবং) আমাদের সবাইকে (আমাদের কাজকর্মের) প্রতিফল দেয়া হবে?
৫৪
قَالَ هَلْ أَنْتُمْ مُطَّلِعُونَ ﴿٥٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে ডাক আসবে, আচ্ছা) তোমরা কি একটু উঁকি দিয়ে (তোমাদের সে সাথীকে এক ন্যর) দেখতে চাও?
৫৫
فَاطَّلَعَ فَرَآهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ ﴿٥٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর সে (একটু ঝুঁকে) তাকে দেখতে পাবে, (সে রয়েছে) জাহান্নামের (ঠিক) মাঝখানে।
৫৬
قَالَ تَاللَّهِ إِنْ كِدْتَ لَتُرْدِينِ ﴿٥٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাকে আযাবে জ্বলতে দেখে) সে বলবে, আল্লাহ তায়ালার কসম, (দুনিয়াতে) তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে ফেলেছিলে,
৫৭
وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ ﴿٥٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আমার উপর) আমার মালিকের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও আজ (তোমার মতো আযাবে) গ্রেফতার করা এ (লোকদের) দলে শামিল থাকতাম।
৫৮
أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ ﴿٥٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হ্যাঁ, এখন তো) আমাদের আর মৃত্যু হবে না!
৫৯
إِلَّا مَوْتَتَنَا الْأُولَى وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ ﴿٥٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্য আমাদের প্রথম মৃত্যুর কথা আলাদা, (এখন তো) আমাদের (আর কোনো রকম) আযাবও দেয়া হবে ।
৬০
إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿٦٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সমস্বরে তারা সবাই বলবে, ) অবশ্যই এটা হচ্ছে এক বড়ো ধরনের সাফল্য।
৬১
لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُونَ ﴿٦١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ ধরনের (মহা সাফল্যের) জন্যে কর্ম সম্পাদনকারীদের অবশ্যই কাজ করে যাওয়া উচিত।
৬২
أَذَلِكَ خَيْرٌ نُزُلًا أَمْ شَجَرَةُ الزَّقُّومِ ﴿٦٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (বলো তো! আল্লাহর বান্দাদের জন্যে) এ মেহমানদারী ভালো না (আযাবের) যাকুমম বৃক্ষ (ভালো) ?
৬৩
إِنَّا جَعَلْنَاهَا فِتْنَةً لِلظَّالِمِينَ ﴿٦٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যালেমদের জন্যে আমি তা বিপদস্বরূপ বানিয়ে রেখেছি।
৬৪
إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِي أَصْلِ الْجَحِيمِ ﴿٦٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (মুলত) তা হচ্ছে এমন একটি গাছ, যা জাহান্নামের তলদেশ থেকে উদগত হয়,
৬৫
طَلْعُهَا كَأَنَّهُ رُءُوسُ الشَّيَاطِينِ ﴿٦٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তার ফলগুলো এমন (বিশ্রী) , মনে হবে তা বুঝি (একেকটা) শয়তানের মাথা;
৬৬
فَإِنَّهُمْ لَآكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِئُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ ﴿٦٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (যারা জাহান্নামের অধিবাসী) তারা এ থেকেই ভক্ষণ করবে এবং এ দিয়েই তাদের পেট ভর্তি করবে;
৬৭
ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِنْ حَمِيمٍ ﴿٦٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর তার উপর ফুটন্তপানি (ও পুঁজ) মিলিয়ে তাদের (পান করার জন্যে) দেয়া হবে,
৬৮
ثُمَّ إِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَإِلَى الْجَحِيمِ ﴿٦٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারপর নিঃসন্দেহে তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল হবে (অতলান্ত) জাহান্নামের দিকে।
৬৯
إِنَّهُمْ أَلْفَوْا آبَاءَهُمْ ضَالِّينَ ﴿٦٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিঃসন্দেহে তারা তাদের মাতাপিতাকে গোমরাহ হিসেবে পেয়েছে,
৭০
فَهُمْ عَلَى آثَارِهِمْ يُهْرَعُونَ ﴿٧٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারপরেও (নির্বিচারে) তারা তাদের (গোমরাহ পিতা মাতাদের) পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছে।
৭১
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ الْأَوَّلِينَ ﴿٧١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের আগে (তাদের) পুর্ববর্তীদের অধিকাংশ লোকও (এভাবে) গোমরাহ হয়ে গিয়েছিলো,
৭২
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِمْ مُنْذِرِينَ ﴿٧٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের মধ্যেও আমি সতর্ককারী (নবী) পাঠিয়েছিলাম।
৭৩
فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنْذَرِينَ ﴿٧٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব (হে নবী, ) তুমি একবার (চেয়ে) দেখো, যাদের (এভাবে) সতর্ক করা হয়েছিলো তাদের কী (ভয়াবহ) পরিণাম হয়েছে,
৭৪
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ ﴿٧٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্য আল্লাহ তায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দাদের কথা আলাদা (তারা আযাব থেকে একান্ত নিরাপদ) ।
৭৫
وَلَقَدْ نَادَانَا نُوحٌ فَلَنِعْمَ الْمُجِيبُونَ ﴿٧٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এক সময়) নুহও (সাহায্য চেয়ে) আমাকে ডেকেছিলো, (তার জন্যে) কতো উত্তম সাড়াদানকারী (ছিলাম) আমি,
৭৬
وَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ ﴿٧٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাকে এবং তার পরিবার পরিজনদের আমি এক মহাসংকট থেকে উদ্ধার করেছি,
৭৭
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الْبَاقِينَ ﴿٧٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারই বংশধরদের আমি (দুনিয়ার বুকে) অবশিষ্ট রেখে দিয়েছি,
৭৮
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ ﴿٧٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অনাগত মানুষদের মাঝে আমি তার (উত্তম) স্মরণ অব্যাহত রেখেছি,
৭৯
سَلَامٌ عَلَى نُوحٍ فِي الْعَالَمِينَ ﴿٧٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ৭৯, সৃষ্টিকুলের মাঝে নুহের উপর সালাম বর্ষিত হোক।
৮০
إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴿٨٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই আমি এভাবে সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কৃত করি।
৮১
إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ ﴿٨١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিঃসন্দেহে সে ছিলো আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম ।
৮২
ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ ﴿٨٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর (তার জাতির) অবশিষ্ট (কাফের) সকলকে আমি (বন্যার পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি।
৮৩
وَإِنَّ مِنْ شِيعَتِهِ لَإِبْرَاهِيمَ ﴿٨٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নুহের (পথ অনুসারী) দলের মাঝে ইবরাহীমও ছিলো একজন।
৮৪
إِذْ جَاءَ رَبَّهُ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ ﴿٨٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন সে বিশুদ্ধ মনে তার মালিকের কাছে হাযির হয়েছিলো।
৮৫
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَاذَا تَعْبُدُونَ ﴿٨٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন সে তার পিতা ও তার জাতিকে জিজ্ঞেস করেছিলো (হায়) ! তোমরা (সবাই এসব) কিসের পূজা করছো?
৮৬
أَئِفْكًا آلِهَةً دُونَ اللَّهِ تُرِيدُونَ ﴿٨٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে মনগড়া মাবুদদেরই (পেতে) চাও?
৮৭
فَمَا ظَنُّكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٨٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (বলো, ) এ সৃষ্টিকুলের মালিক সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী?
৮৮
فَنَظَرَ نَظْرَةً فِي النُّجُومِ ﴿٨٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর সে একবার (সত্যের সন্ধানে) তারকারাজির দিকে তাকালো
৮৯
فَقَالَ إِنِّي سَقِيمٌ ﴿٨٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর বললো, সত্যিই আমি অসুস্থ।
৯০
فَتَوَلَّوْا عَنْهُ مُدْبِرِينَ ﴿٩٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অতঃপর) লোকেরা (তার থেকে নিরাশ হয়ে) সবাই চলে গেলো।
৯১
فَرَاغَ إِلَى آلِهَتِهِمْ فَقَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ ﴿٩١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । পরে সে (চুপি চুপি) তাদের দেবতাদের (মন্দিরের) কাছে গেলো এবং (দেবতাদের প্রতি তামাশাচ্ছলে) বললো, কি ব্যাপার (এতো প্রসাদ এখানে পড়ে আছে) , তোমরা খাচ্ছো না যে!
৯২
مَا لَكُمْ لَا تَنْطِقُونَ ﴿٩٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ কি হলো তোমাদের, তোমরা কি কথাও বলো না?
৯৩
فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًا بِالْيَمِينِ ﴿٩٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর সে ওদের উপর সবলে আঘাত হানলো ।
৯৪
فَأَقْبَلُوا إِلَيْهِ يَزِفُّونَ ﴿٩٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (লোকেরা যখন এটা শুনলো) তখন তারা দৌড়াতে দৌড়াতে তার দিকে ছুটে এলো ।
৯৫
قَالَ أَتَعْبُدُونَ مَا تَنْحِتُونَ ﴿٩٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে) সে বললো, তোমরা কি এমন কিছুর পূজা করো, যাদের তোমরা নিজেরাই (পাথর) খোদাই করে নির্মাণ করো,
৯৬
وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ ﴿٩٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অথচ আল্লাহ তায়ালাই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং (সৃষ্টি করেছেন) তোমরা যা কিছু (মাবুদ) বানাও তাদেরও ।
৯৭
قَالُوا ابْنُوا لَهُ بُنْيَانًا فَأَلْقُوهُ فِي الْجَحِيمِ ﴿٩٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ কথা শুনে) তারা (একজন আরেকজনকে) বললো, তার জন্যে একটি অগ্নিকুন্ড প্রস্তুত করো (এবং তাতে আগুন জ্বালাও) , অতঃপর (সে) জ্বলন্ত আগুনে তাকে নিক্ষেপ করো।
৯৮
فَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَسْفَلِينَ ﴿٩٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা (এর মাধ্যমে আসলে) তার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র আঁটতে চেয়েছিলো, কিন্তু আমি তাদের (চক্রান্ত ব্যর্থ ও) হীন করে দিলাম।
৯৯
وَقَالَ إِنِّي ذَاهِبٌ إِلَى رَبِّي سَيَهْدِينِ ﴿٩٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এবার সে বললো, আমি এবার আমার মালিকের (রাস্তার) দিকে বেরিয়ে পড়লাম, (আমি বিশ্বাস করি) অবশ্যই তিনি আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।
১০০
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿١٠٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অতঃপর সে আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করলো, ) হে আমার মালিক, আমাকে তুমি একজন নেক সন্তান দান করো]
১০১
فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ ﴿١٠١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরপর আমি তাকে একজন ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।
১০২
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَابُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَاأَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ ﴿١٠٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সে যখন তার (পিতার) সাথে দৌড়াদৌড়ি করার মতো (বয়সের) অবস্থায় উপনীত হলো, তখন সে (ছেলেকে) বললো, হে বৎস, আমি স্বপ্নে দেখি, আমি (যেন) তোমাকে যবাই করছি, (বলো এ ব্যাপারে) তোমার অভিমত কি? (স্বপ্নের কথা শুনে) সে বললো, হে আমার (স্নেহপরায়ণ) আব্বাজান, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি (অবিলম্বে) তা পালন করুন, ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে (এ সময়েও) ধৈর্যশীলদের মাঝে পাবেন।
১০৩
فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ ﴿١٠٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর যখন তারা (পিতাপুত্র) দুজনই (আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছার সামনে) আত্মসমর্পণ করলো এবং সে তাকে (যবাই করার উদ্দেশ্যে) কাত করে শুইয়ে দিলো,
১০৪
وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ ﴿١٠٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তখন আমি তাকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইবরাহীম,
১০৫
قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴿١٠٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি (আমার দেখানো) স্বপ্ন সত্য প্রমাণ করেছো, (আমি তোমাদের উভয়কেই মর্যাদাবান করবো, মুলত) আমি এভাবেই সঙ্কর্মশীল মানুষদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
১০৬
إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْبَلَاءُ الْمُبِينُ ﴿١٠٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এটা ছিলো (তাদের উভয়ের জন্যে) একটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা মাত্র!
১০৭
وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ ﴿١٠٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এ কারণেই) আমি তার (ছেলের) পরিবর্তে (আমার নিজের পক্ষ থেকে) একটা বড়ো কোরবানী (-র জন্তু সেখানে) দান করলাম।
১০৮
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ ﴿١٠٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অনাগত মানুষদের জন্যে এ বিধান চালু রেখে) তার স্মরণ আমি অব্যাহত রেখে দিলাম ।
১০৯
سَلَامٌ عَلَى إِبْرَاهِيمَ ﴿١٠٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । শান্তি বর্ষিত হোক ইবরাহীমের উপর ।
১১০
كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴿١١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এভাবেই আমি (আমার) নেক বান্দাদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
১১১
إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ ﴿١١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই সে ছিলো আমার মু’মিন বান্দাদের একজন।
১১২
وَبَشَّرْنَاهُ بِإِسْحَاقَ نَبِيًّا مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿١١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (কিছুদিন পর) আমি তাকে (এ মর্মে) ইসহাকের (জন্মের) সুসংবাদ দান করলাম যে, সে (হবে) নবী ও আমার নেক বান্দাদের একজন।
১১৩
وَبَارَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَى إِسْحَاقَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِنَفْسِهِ مُبِينٌ ﴿١١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি তার উপর (ও তার সন্তান) ইসহাকের উপর আমার (অগণিত) বরকত নাযিল করেছি; তাদের উভয়ের বংশধরদের মাঝে কিছু সকর্মশীল মানুষ (যেমন) আছে, তেমনি) আছে কিছু না-ফরমান, যারা নিজেদের উপর নিজেরা যুলুম করে স্পষ্ট অত্যাচারী (হয়ে বসে আছে) !
১১৪
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَى مُوسَى وَهَارُونَ ﴿١١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি মুসা ও হারূনের উপর (অনেক) অনুগ্রহ করেছি,
১১৫
وَنَجَّيْنَاهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ ﴿١١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি তাদের দুজনকে ও তাদের জাতিকে বড়ো (রকমের এক) সংকট থেকে উদ্ধার করেছি,
১১৬
وَنَصَرْنَاهُمْ فَكَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ ﴿١١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি (ফেরাউনের মোকাবেলায়) তাদের (প্রভূত) সাহায্য করেছি, ফলে (এক পর্যায়ে) তারা বিজয়ীও হয়েছে,
১১৭
وَآتَيْنَاهُمَا الْكِتَابَ الْمُسْتَبِينَ ﴿١١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি তাদের উভয়কে বিশদ গ্রন্থ (তাওরাত) দান করেছি,
১১৮
وَهَدَيْنَاهُمَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿١١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এর মাধ্যমে) তাদের উভয়কে আমি (দ্বীনের) সহজ পথ বাতলে দিয়েছি,
১১৯
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِي الْآخِرِينَ ﴿١١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ১১৯, আমি অনাগত মানুষদের মাঝে তাদের উত্তম স্মরণ অব্যাহত রেখেছি,
১২০
سَلَامٌ عَلَى مُوسَى وَهَارُونَ ﴿١٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সালাম বর্ষিত হোক মুসা ও হারূনের উপর।
১২১
إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴿١٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই আমি নেককার লোকদের এভাবে পুরস্কার দিয়ে থাকি!
১২২
إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (মুলত) এরা দুজনই ছিলো আমার মু’মিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
১২৩
وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আমার বান্দা) ইলিয়াসও ছিলো রসুলদের একজন;
১২৪
إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন সে তার জাতিকে (ডেকে) বলেছিলো, তোমরা কি আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করবে না?
১২৫
أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ الْخَالِقِينَ ﴿١٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা কি ‘বা'ল’ দেবতাকেই ডাকতে থাকবে, (আল্লাহ তায়ালা-) যিনি শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা, তাঁকে (এভাবেই) পরিত্যাগ করবে?
১২৬
اللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ ﴿١٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা যিনি তোমাদের মালিক, মালিক তোমাদের পূর্ববর্তী বাপ দাদাদেরও ।
১২৭
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ ﴿١٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলো, কাজেই অতঃপর তাদের অবশ্যই (দন্ড ভোগ করার জন্যে) হাযির করা হবে,
১২৮
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ ﴿١٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ১২৮, তবে আল্লাহ তায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দাদের কথা আলাদা।
১২৯
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ ﴿١٢٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি অনাগত মানুষদের মধ্যে তার উত্তম স্মরণ বাকী রেখে দিয়েছি,
১৩০
سَلَامٌ عَلَى إِلْيَاسِينَ ﴿١٣٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সালাম বর্ষিত হোক ইলিয়াস (-পন্থী নেক বান্দা) -দের উপর
১৩১
إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴿١٣١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাদের স্মরণ অব্যাহত রেখে) আমি এভাবেই সৎকর্মপরায়ণ মানুষদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
১৩২
إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٣٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্যই সে ছিলো আমার নেক বান্দাদের মধ্যে একজন।
১৩৩
وَإِنَّ لُوطًا لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٣٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিঃসন্দেহে নূতও ছিলো রসুলদের একজন;
১৩৪
إِذْ نَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ ﴿١٣٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন আমি তাকে এবং তার সকল পরিবার পরিজনকে (একটি পাপী সম্প্রদায়ের উপর আগত আযাব থেকে) উদ্ধার করেছি,
১৩৫
إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ ﴿١٣٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । একজন বৃদ্ধা মহিলা বাদে, (কেননা) সে ছিলো পেছনে পড়ে থাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত লোকদেরই অন্তর্ভুক্ত।
১৩৬
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ ﴿١٣٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর অবশিষ্ট সবাইকে আমি বিনাশ করে দিয়েছি।
১৩৭
وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِمْ مُصْبِحِينَ ﴿١٣٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা তো (ভ্রমণের সময়) তাদের সে (ধ্বংসাবশেষ) -গুলোর উপর দিয়েই ভোর বেলায় (পথ) অতিক্রম করে থাকো,
১৩৮
وَبِاللَّيْلِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿١٣٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অতিক্রম করো) প্রতি (সন্ধ্যা ও) রাতের বেলায়; তবুও কি তোমরা (এ ঘটনা থেকে) কিছু শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
১৩৯
وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٣٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ইউনুসও ছিলো রসুলদের একজন;
১৪০
إِذْ أَبَقَ إِلَى الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ ﴿١٤٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এটা সে সময়ের কথা) যখন সে পালিয়ে গিয়ে একটি (মাল) -ভর্তি নৌযানে পৌঁছুলো,
১৪১
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ ﴿١٤١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (নৌকাটি অচল হয়ে যাওয়ায়) আরোহীদের মাঝে এ অলক্ষুণে ব্যক্তি কে, (অতঃপর) লটারির মাধ্যমে তা পরীক্ষা করা হলো এবং (ফলাফল অনুযায়ী) সে (ইউনুসই অলক্ষুণে) অপরাধী সাব্যস্ত হলো,
১৪২
فَالْتَقَمَهُ الْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ ﴿١٤٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর একটি (বড়ো আকারের) মাছ এসে তাকে গিলে ফেললো, এ অবস্থায় সে (মাছের পেটে বসে) নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো।
১৪৩
فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ ﴿١٤٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যদি সে (তখন) আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মাহাত্ম ঘোষণা না করতো,
১৪৪
لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ ﴿١٤٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাহলে তাকে তার পেটে কেয়ামত পর্যন্ত কাটাতে হতো!
১৪৫
فَنَبَذْنَاهُ بِالْعَرَاءِ وَهُوَ سَقِيمٌ ﴿١٤٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর আমি তাকে (মাছের পেট থেকে বের করে) একটি গাছপালাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, (এ সময়) সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো,
১৪৬
وَأَنْبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِنْ يَقْطِينٍ ﴿١٤٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সেখানে) তার উপর (ছায়া দান করার জন্যে) আমি একটি (লতাবিশিষ্ট) লাউ গাছ উদগত করলাম,
১৪৭
وَأَرْسَلْنَاهُ إِلَى مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ ﴿١٤٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর তাকে আমি এক লক্ষ লোকের (জনবসতির) কাছে (নবী বানিয়ে) পাঠালাম; বরং এ সংখ্যা (অন্য হিসেবে ছিলো) আরো বেশী,
১৪৮
فَآمَنُوا فَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ ﴿١٤٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরপর তারা (তার উপর) ঈমান আনলো, ফলে আমিও তাদের একটি (সুনির্দিষ্ট) সময় পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিলাম;
১৪৯
فَاسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ الْبَنَاتُ وَلَهُمُ الْبَنُونَ ﴿١٤٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) এদের তুমি জিজ্ঞেস করো, তারা কি মনে করে, তোমাদের মালিকের জন্যে রয়েছে কন্যা সন্তান আর তাদের জন্য রয়েছে (সব) পুত্র সন্তান?
১৫০
أَمْ خَلَقْنَا الْمَلَائِكَةَ إِنَاثًا وَهُمْ شَاهِدُونَ ﴿١٥٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি কি ফেরেশতাদের মহিলা করেই বানিয়েছিলাম এবং (বানাবার সময় তারা কি সেখানে উপস্থিত ছিলো?
১৫১
أَلَا إِنَّهُمْ مِنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ ﴿١٥١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সাবধান, তারা কিন্তু এসব কথা নিজেরা নিজেদের মন থেকেই বানিয়ে বলে,
১৫২
وَلَدَ اللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ ﴿١٥٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা সন্তান জন্ম দিয়েছেন, (আসলে) ওরা হচ্ছে (সুস্পষ্ট) মিথ্যাবাদী।
১৫৩
أَصْطَفَى الْبَنَاتِ عَلَى الْبَنِينَ ﴿١٥٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা কি (ছেলেদের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের জন্যে) কন্যা সন্তানদের পছন্দ করেছেন?
১৫৪
مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ ﴿١٥٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ কি (হলো) তোমাদের? কেমন (অর্থহীন) সিদ্ধান্ত করছো তোমরা?
১৫৫
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿١٥٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা কি (কখনোই কোনো) সদুপদেশ গ্রহণ করবে না?
১৫৬
أَمْ لَكُمْ سُلْطَانٌ مُبِينٌ ﴿١٥٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অথবা আছে কি (এর পক্ষে) তোমাদের কাছে কোনো সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ?
১৫৭
فَأْتُوا بِكِتَابِكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿١٥٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (থাকলে) তোমরা তোমাদের (সে) কিতাব নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও!
১৫৮
وَجَعَلُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ ﴿١٥٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ লোকেরা আল্লাহ তায়ালা ও জ্বিন জাতির মধ্যে একটা সম্পর্ক স্থির করে রেখেছে; অথচ জ্বিনেরা জানে, অন্য বান্দাদের মতোই তারা আল্লাহ তায়ালার আদেশের অধীন এবং তাদের মধ্যে যারা বদকার তাদের অবশ্যই (শাস্তির জন্যে) একদিন উপস্থিত করা হবে।
১৫৯
سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴿١٥٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা (আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে) যেসব (বেহুদা) কথাবার্তা বলে, আল্লাহ তায়ালা তা থেকে পবিত্র ও মহান,
১৬০
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ ﴿١٦٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তবে (হ্যাঁ) , যারা আল্লাহ তায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দা তারা আলাদা ।
১৬১
فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ ﴿١٦١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব (হে কাফেররা) , তোমরা এবং তোমরা যাদের গোলামী করো,
১৬২
مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ بِفَاتِنِينَ ﴿١٦٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সবাই মিলেও) তাদের (আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে) বিভ্রান্ত করতে পারবে না,
১৬৩
إِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ الْجَحِيمِ ﴿١٦٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা কেবল তাদেরই গোমরাহ করতে পারবে, যারা জাহান্নামের অধিবাসী ।
১৬৪
وَمَا مِنَّا إِلَّا لَهُ مَقَامٌ مَعْلُومٌ ﴿١٦٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (ফেরেশতাদের কথা স্বতন্ত্র, কেননা তারা বলেছিলো, ) আমাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে একটি নির্ধারিত (পবিত্র) স্থান রয়েছে,
১৬৫
وَإِنَّا لَنَحْنُ الصَّافُّونَ ﴿١٦٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমরা তো (আল্লাহ তায়ালার সামনে) সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান থাকি,
১৬৬
وَإِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُونَ ﴿١٦٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এবং (সদা সর্বদা) আমরা তাঁর পবিত্রতা ও মাহাত্ম ঘোষণা করি ।
১৬৭
وَإِنْ كَانُوا لَيَقُولُونَ ﴿١٦٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এসব লোকেরাই (কোরআন নাযিলের আগে) বলতো,
১৬৮
لَوْ أَنَّ عِنْدَنَا ذِكْرًا مِنَ الْأَوَّلِينَ ﴿١٦٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । পুর্ববর্তী লোকদের কিতাবের মতো যদি আমাদের (কাছেও কোনো) উপদেশ (গ্রন্থ) থাকতো,
১৬৯
لَكُنَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ ﴿١٦٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ১৬৯, তাহলে (তার বদৌলতে) আমরাও আল্লাহ তায়ালার নিষ্ঠাবান বান্দা হয়ে যেতাম ।
১৭০
فَكَفَرُوا بِهِ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿١٧٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতঃপর (যখন তাদের কাছে আল্লাহর কিতাব এলো) , তখন তারা তা অস্বীকার করলো, অচিরেই তারা (এ আচরণের পরিণাম) জানতে পারবে ।
১৭১
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ ﴿١٧١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমার (খাস) বান্দা রসুলদের ব্যাপারে আমার এ কথা সত্য হয়েছে,
১৭২
إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ ﴿١٧٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে,
১৭৩
وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ ﴿١٧٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এবং আমার বাহিনীই (সর্বশেষে) বিজয়ী হবে।
১৭৪
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّى حِينٍ ﴿١٧٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব (হে নবী) , কিছু কালের জন্যে তুমি এদের উপেক্ষা করো,
১৭৫
وَأَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ ﴿١٧٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে থাকো, অচিরেই তারা (বিদ্রোহের পরিণাম) দেখতে পাবে।
১৭৬
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ ﴿١٧٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা কি (তাহলে) সত্যিই আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায়?
১৭৭
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ ﴿١٧٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এর আগে) যাদের (এভাবে) সতর্ক করা হয়েছিলো তাদের আঙ্গিনায় যখন শাস্তি নেমে এলো, তখন (গযব নাযিলের সে) সকালটা তাদের জন্যে কতো মন্দ ছিলো!
১৭৮
وَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّى حِينٍ ﴿١٧٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব (হে নবী) , কিছুকালের জন্যে তুমি এদের উপেক্ষা করো,
১৭৯
وَأَبْصِرْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ ﴿١٧٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি (শুধু) ওদের পর্যবেক্ষণই করে যাও, শীঘ্রই ওরা (সত্য প্রত্যাখ্যানের) পরিণাম (নিজেরাই) প্রত্যক্ষ করবে ।
১৮০
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴿١٨٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । পবিত্র তোমার মালিকের মহান সত্তা, তারা (তাঁর সম্পর্কে) যা কিছু (অর্থহীন) কথাবার্তা বলে, তিনি তা থেকে পবিত্র (অনেক বড়ো, সকল ক্ষমতার একক অধিকারী) ,
১৮১
وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ ﴿١٨١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অনাবিল) শান্তি বর্ষিত হোক রসুলদের উপর,
১৮২
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٨٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সমস্ত প্রশংসা (নিবেদিত) সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার জন্যে ।



ফন্ট সাইজ
15px
17px