🕋
الجن
(৭২) আল-জীন
২৮
১ ⋮
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا ﴿١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি বলো, আমার কাছে এ মর্মে ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল (কোরআন) শুনেছে, অতঃপর তারা (নিজেদের লোকদের কাছে গিয়ে) বলেছে, আমরা এক বিস্ময়কর কোরআন শুনে এসেছি,
২ ⋮
يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا ﴿٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যা (তার শ্রোতাকে) সঠিক (ও নির্ভুল) পথ প্রদর্শন করে, তাই আমরা তার উপর ঈমান এনেছি এবং আমরা আর কখনো আমাদের মালিকের সাথে কাউকে শরীক করবো না,
৩ ⋮
وَأَنَّهُ تَعَالَى جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا ﴿٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আর (আমরা বিশ্বাস করি, ) আমাদের মালিকের মানমর্যাদা সকল কিছুর উর্ধ্বে, তিনি কাউকে স্ত্রী কিংবা পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেননি,
৪ ⋮
وَأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى اللَّهِ شَطَطًا ﴿٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আমরা আরো জানি, আমাদের (কতিপয়) নির্বোধ আল্লাহ তা'আলার উপর অসত্য ও বাড়াবাড়িমূলক কথাবার্তা আরোপ করে,
৫ ⋮
وَأَنَّا ظَنَنَّا أَنْ لَنْ تَقُولَ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا ﴿٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (অথচ) আমরা মনে করেছিলাম, মানুষ ও জ্বিন (এ দুই জাতি তো) আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যা আরোপ করতেই পারে না,
৬ ⋮
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْإِنْسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا ﴿٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । মানুষদের মাঝে কতিপয় (মূখ) লোক (বিপদে আপদে) জ্বিনদের কিছু সদস্যের কাছে আশ্রয় চাইতো, (এতে করে) অতঃপর (যারা মানুষ) তারা তাদের গুনাহ আরো বাড়িয়ে দিতো,
৭ ⋮
وَأَنَّهُمْ ظَنُّوا كَمَا ظَنَنْتُمْ أَنْ لَنْ يَبْعَثَ اللَّهُ أَحَدًا ﴿٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ জ্বিনরা মনে করতো যেমনি মনে করতে তোমরা মানুষরা যে, (মৃত্যুর পর) আল্লাহ তা'আলা কখনো কাউকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না,
৮ ⋮
وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا ﴿٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (জ্বিনরা আরো বললো, আমরা আকাশমন্ডল ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি, আমরা একে কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা ভরা পেয়েছি,
৯ ⋮
وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ فَمَنْ يَسْتَمِعِ الْآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَصَدًا ﴿٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমরা আগে তার বিভিন্ন ঘাঁটিতে কিছু (একটা) শোনার প্রত্যাশায় বসে থাকতাম; কিন্তু এখন আমাদের কেউ যদি (এসব ঘাঁটিতে বসে) কিছু শোনার চেষ্টা করে, তাহলে সে প্রতিটি জায়গায় আগে থেকেই তার জন্যে (পেতে রাখা এক) একটি জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড (দেখতে) পায়,
১০ ⋮
وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا ﴿١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমরা বুঝতে পারছিলাম না, পৃথিবীর মানুষদের কোনো অনিষ্ট সাধনের উদ্দেশেই কি এসব (উল্কাপিন্ড বসিয়ে রাখা) হয়েছে? না (এর মাধ্যমে) তাদের মালিক (মূলত) তাদের সঠিক (কোনো) পথ দেখাতে চান,
১১ ⋮
وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَلِكَ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا ﴿١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (মানুষদের মতো) আমাদের মধ্যেও কিছু আছে সকর্মশীল আর কিছু আছে এর ব্যতিক্রম; (পাপ পুণ্যের দিক থেকে) আমরা ছিলাম দ্বিধাবিভক্ত,
১২ ⋮
وَأَنَّا ظَنَنَّا أَنْ لَنْ نُعجِزَ اللَّهَ فِي الْأَرْضِ وَلَنْ نُعْجِزَهُ هَرَبًا ﴿١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমরা বুঝে নিয়েছি, এ ধরার বুকে (কোথাও) আমরা আল্লাহ তাআলা কে (কোনো অবস্থায়ই) অক্ষম করতে পারবো না না আমরা (কখনো তাঁর রাজ্য থেকে) পালিয়ে গিয়ে তাঁকে পরাভূত করে দিতে পারবো,
১৩ ⋮
وَأَنَّا لَمَّا سَمِعْنَا الْهُدَى آمَنَّا بِهِ فَمَنْ يُؤْمِنْ بِرَبِّهِ فَلَا يَخَافُ بَخْسًا وَلَا رَهَقًا ﴿١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমরা যখন হেদায়াতের বাণী (সম্বলিত কোরআন) শোনলাম, তখন আমরা তার উপর ঈমান আনলাম; কেননা যে ব্যক্তি তার মালিকের উপর ঈমান আনে, তার নিজের পাওনা কম পাওয়ার আশংকা থাকে না, (পরকালেও) তাকে লাঞ্ছনা (ও অপমান) পেতে হবে না,
১৪ ⋮
وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا ﴿١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমাদের মধ্যে কিছু আছে যারা (আল্লাহর অনুগত) মুসলিম, আবার কিছু আছে যারা সত্যবিমুখ (কাফের) ; যারা (আল্লাহর) আনুগত্যের পথ বেছে নিয়েছে তারা মুক্তি ও সৎপথই বাছাই করে নিয়েছে।
১৫ ⋮
وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا ﴿١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যারা সত্যবিমুখ তারা অবশ্যই জাহান্নামের ইন্ধন (হবে) ,
১৬ ⋮
وَأَنْ لَوِ اسْتَقَامُوا عَلَى الطَّرِيقَةِ لَأَسْقَيْنَاهُمْ مَاءً غَدَقًا ﴿١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আসলে) লোকেরা যদি সত্য(ও নির্ভুল) পথের উপর সুদৃঢ় থাকতো, তাহলে আমি তাদের (আসমান থেকে) প্রচুর পানি পান করাতাম,
১৭ ⋮
لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ وَمَنْ يُعْرِضْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِ يَسْلُكْهُ عَذَابًا صَعَدًا ﴿١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যেন আমি এর দ্বারা তাদের (ঈমানের) পরীক্ষা নিতে পারি; যদি কোনো মানুষ তার মালিকের স্মরণ (ঈমান ও আনুগত্য) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার মালিকতাকে অবশ্যই কঠোর আযাবে প্রবেশ করাবেন,
১৮ ⋮
وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا ﴿١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হে রসূল, আমার উপর এ মর্মে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, ) মাসজিদসমূহ (একান্তভাবে) আল্লাহ তাআলার ইবাদাতের জন্যে (নির্দিষ্ট) , অতএব তোমরা আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কাউকে ডেকো না,
১৯ ⋮
وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا ﴿١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন আল্লাহর এক বান্দা তাকে ডাকার জন্যে দাঁড়ালো, তখন (মানুষ কিংবা জ্বিনের) অনেক সদস্যই তার আশেপাশে ভীড় জমাতে লাগলো;
২০ ⋮
قُلْ إِنَّمَا أَدْعُو رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِهِ أَحَدًا ﴿٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এদের) তুমি বলো, আমি শুধু আমার মনিবকেই ডাকি, আর আমি তো (কখনো) তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না।
২১ ⋮
قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا ﴿٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি বলো, আমি তোমাদের কোনো ক্ষতিসাধনের যেমন ক্ষমতা রাখি না, তেমনি আমি তোমাদের কোনো ভালো করার ক্ষমতাও রাখি না।
২২ ⋮
قُلْ إِنِّي لَنْ يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا ﴿٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি (তাদের) বলো, (কোনো সংকট দেখা দিলে) আমাকে আল্লাহর পাঁকড়াও থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে ? তিনি ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থলও তো আমি (খুঁজে) পাবো না,
২৩ ⋮
إِلَّا بَلَاغًا مِنَ اللَّهِ وَرِسَالَاتِهِ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ﴿٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আমার কাজ) এ ছাড়া আর কি যে, আমি আল্লাহর কাছ থেকে তাঁর বাণী ও হেদায়াত পৌঁছে দেবো, (পৌঁছে দেয়ার পর) তোমাদের মধ্যে যদি কেউ আল্লাহ তা'আলা এবং তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে। জাহান্নামের (কঠিন) আগুন, যেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে;
২৪ ⋮
حَتَّى إِذَا رَأَوْا مَا يُوعَدُونَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ أَضْعَفُ نَاصِرًا وَأَقَلُّ عَدَدًا ﴿٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এভাবে সত্যি সত্যিই যখন (সে দিনটি চোখের সামনে) দেখতে পাবে যার প্রতিশ্রুতি (তাদের) বার বার দেয়া হচ্ছে, তখন তারা অবশ্যই জানতে পারবে কার সাহায্যকারী কতো দুর্বল এবং কার বাহিনী সংখ্যায় কতো নগণ্য।
২৫ ⋮
قُلْ إِنْ أَدْرِي أَقَرِيبٌ مَا تُوعَدُونَ أَمْ يَجْعَلُ لَهُ رَبِّي أَمَدًا ﴿٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি (এদের) বলো, আমি (নিজেই) জানি না, তোমাদের (কেয়ামত দিবসের) যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে তা কি (আসলেই) সন্নিকটে, না আমার প্রতিপালক তার (আগমনের) জন্যে কোনো (দীর্ঘ মেয়াদ ঠিক করে রেখেছেন।
২৬ ⋮
عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا ﴿٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি (সমগ্র) অদৃশ্য জগতের (জ্ঞানের একক) জ্ঞানী, তাঁর সে অদৃশ্য জগতের কোনো কিছুই তিনি কারো কাছে প্রকাশ করেন না, ।
২৭ ⋮
إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا ﴿٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অবশ্য তাঁর রসূল ছাড়া যাকে তিনি (এ কাজের জন্যে) বাছাই করে নিয়েছেন, কিন্তু তার আগে-পিছেও তিনি (অতন্দ্র প্রহরী নিযুক্ত করে রেখেছেন,
২৮ ⋮
لِيَعْلَمَ أَنْ قَدْ أَبْلَغُوا رِسَالَاتِ رَبِّهِمْ وَأَحَاطَ بِمَا لَدَيْهِمْ وَأَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ عَدَدًا ﴿٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ (প্রহরা) দিয়ে আল্লাহ তাআলা এ কথাটা জেনে নিতে চান, তাঁর নবী রসূলরা (মানুষের কাছে) তাদের মালিকের পক্ষ থেকে হেদায়াতের বাণী (ঠিক ঠিক) পৌঁছে দিয়েছে কিনা, অথচ আল্লাহ তা'আলা এমনিই তাদের সব কিছু পরিবেষ্টন করে রয়েছেন এবং (এ সৃষ্টি জগতের) সবকিছুর গুনতি একমাত্র তিনিই অবগত রয়েছেন।