🕌
الانسان
(৭৬) আল-ইনসান
৩১
১
⋮
هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَذْكُورًا ﴿١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
কালের (পরিক্রমায়) কোনো একটি সময় মানুষের উপর দিয়ে এমন অতিবাহিত হয়েছে কি যখন সে (এবং তার অস্তিত্ব) উল্লেখ করার মতো কোনো বিষয়ই ছিলো না!
২
⋮
إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعًا بَصِيرًا ﴿٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি (নারী পুরুষের) মিশ্রিত শুক্র থেকে, যেন আমি তাকে (তার ভালো মন্দের ব্যাপারে) পরীক্ষা করতে পারি, অতঃপর (এর উপযোগী করে তোলার জন্যে) তাকে আমি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন করে পয়দা করেছি।
৩
⋮
إِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا ﴿٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
আমি তাকে (চলার) পথ দেখিয়ে দিয়েছি, সে চাইলে (আল্লাহর) কৃতজ্ঞ হবে, না হয় কাফের হয়ে যাবে ।
৪
⋮
إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَلَاسِلَا وَأَغْلَالًا وَسَعِيرًا ﴿٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
কাফেরদের (পাঁকড়াও করার) জন্যে আমি শেকল, বেড়ি ও (শাস্তির জন্যে) আগুনের লেলিহান শিখার ব্যবস্থা করে রেখেছি।
৫
⋮
إِنَّ الْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا ﴿٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
নিঃসন্দেহে যারা সকর্মশীল তারা (জান্নাতে) এমন সুরা পান করবে যার সাথে (সুগন্ধযুক্ত) কপূর মেশানো থাকবে,
৬
⋮
عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا ﴿٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
এ (কপূর মেশানো) পানি হবে প্রবাহমান (এক) ঝর্ণা, যার (প্রবাহ) থেকে আল্লাহর নেক বান্দারা সদা পানীয় গ্রহণ করবে, তারা (যেদিকে যখন ইচ্ছা) এ (ঝর্ণাধারা) -টা প্রবাহিত করে নেবে।
৭
⋮
يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا ﴿٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(এরা হচ্ছে সেসব লোক) যারা মানত' পূরণ করে এবং এমন এক দিনকে ভয় করে, যে দিনের ধ্বংসলীলা হবে (ব্যাপক ও) সুদূরপ্রসারী।
৮
⋮
وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا ﴿٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
এরা শুধু আল্লাহর ভালোবাসায় (উদ্বুদ্ধ হয়েই ফকীর) , মিসকীন, এতীম ও কয়েদীদের খাবার দেয় ।
৯
⋮
إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا ﴿٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(খাবার দেয়ার সময় এরা বলে, ) আমরা শুধু আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্যেই তোমাদের খাবার দিচ্ছি, (বিনিময়ে) আমরা তোমাদের কাছ থেকে কোনো রকম প্রতিদান চাই না না (চাই) কোনো রকম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন।
১০
⋮
إِنَّا نَخَافُ مِنْ رَبِّنَا يَوْمًا عَبُوسًا قَمْطَرِيرًا ﴿١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
আমরা তো সে দিনটির ব্যাপারে আমাদের প্রতিপালককে ভয় করি, যেদিনটি হবে অতীব ভয়ংকর
১১
⋮
فَوَقَاهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَّاهُمْ نَضْرَةً وَسُرُورًا ﴿١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(এরা যেহেতু এ দিনটিকে বিশ্বাস করেছে তাই) আল্লাহ তাআলা আজ তাদের সে দিনের যাবতীয় অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করবেন, তিনি তাদের সজীবতা ও আনন্দ দান করবেন,
১২
⋮
وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا ﴿١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
এরা যে কঠোর ধৈৰ্য্য (ও সহিষ্ণুতা) প্রদর্শন করেছে (তার পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তা'আলা) তাদের জান্নাত ও রেশমী বস্ত্র দান করবেন,
১৩
⋮
مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا ﴿١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(সেই মনোরম জান্নাতে) তারা (সুসজ্জিত) আসনে হেলান দিয়ে বসবে, সেখানে সূর্যের (তাপ) যেমন তারা দেখবে না, তেমনি দেখবে না কোনোরকম শীত (-এর প্রকোপ) ,
১৪
⋮
وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا ﴿١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
তাদের উপর (জান্নাতে) তার গাছের ছায়া ঝুঁকে থাকবে, তার ফলপাকড়াকে তাদের আয়ত্তাধীন করে দেয়া হবে ।
১৫
⋮
وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَا ﴿١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
তাদের (সামনে খাবার) পরিবেশন করা হবে রৌপ্য নির্মিত পাত্রে আর কাচের পেয়ালায় এবং তা হবে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ,
১৬
⋮
قَوَارِيرَا مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا ﴿١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
রূপালী স্ফটিক পাত্র, (যার সবটুকুই) পরিবেশনকারীরা যথাযথভাবে পূর্ণ করে রাখবে।
১৭
⋮
وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلًا ﴿١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
সেখানে তাদের এমন এক (অপূর্ব) সুরা পান করানো হবে, যার সাথে মেশানো হবে যানজাবীল' (নামের এক মূল্যবান সুগন্ধ) ,
১৮
⋮
عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا ﴿١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
তাতে রয়েছে (জান্নাতের) এক (অমিয়) ঝর্ণা, যার নাম রাখা হয়েছে সালসাবীল' ।
১৯
⋮
وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَنْثُورًا ﴿١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
তাদের চারদিকে ঘোরাঘুরি করবে একদল কিশোর বালক, যারা (বয়সের ভারে বৃদ্ধ হয়ে যাবে না, ) চিরকাল কিশোর থাকবে, যখনি তুমি তাদের দিকে তাকাবে মনে হবে এরা বুঝি কতিপয় ছড়ানো ছিটানো মুক্তা ।
২০
⋮
وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا ﴿٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
সেখানে যখন যেদিকে তুমি তাকাবে, দেখবে শুধু নেয়ামতেরই সমারোহ, আরও দেখবে (নেয়ামতে উপচে পড়া) এক বিশাল সাম্রাজ্য।
২১
⋮
عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُنْدُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا ﴿٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
বেহেশতবাসীদের পরনের কাপড় হবে অতি সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও মোটা মখমল, তাদের পরানো হবে রূপার কংকণ, (তদুপরি তাদের মালিক সেদিন তাদের শরাবান তহুরা' (মহাপবিত্র উৎকৃষ্ট পানীয় পান করাবেন।
২২
⋮
إِنَّ هَذَا كَانَ لَكُمْ جَزَاءً وَكَانَ سَعْيُكُمْ مَشْكُورًا ﴿٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(তাদের মালিক বলবেন, হে আমার বান্দারা, ) এ হচ্ছে তোমাদের জন্যে (আমার) পুরস্কার এবং তোমাদের (যাবতীয়) চেষ্টা সাধনার স্বীকৃতি!
২৩
⋮
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ تَنْزِيلًا ﴿٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(হে নবী, ) আমি (এ মহাগ্রন্থ) কোরআন ধীরে ধীরে তোমার উপর নাযিল করেছি,
২৪
⋮
فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْ آثِمًا أَوْ كَفُورًا ﴿٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
সুতরাং (এদের ব্যাপারেও ধীরে ধীরে) তুমি ধৈৰ্য্য এর সাথে তোমার মালিকের নির্দেশের অপেক্ষা করো, আর এদের মধ্যে যারা পাপী ও সত্যের পথ প্রত্যাখ্যানকারী, কখনো তাদের আনুগত্য করবে না,
২৫
⋮
وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةً وَأَصِيلًا ﴿٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
তুমি সকাল সন্ধ্যা শুধু তোমার মালিকের নাম স্মরণ করতে থাকো,
২৬
⋮
وَمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ لَهُ وَسَبِّحْهُ لَيْلًا طَوِيلًا ﴿٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
রাতের একাংশ তাঁর সামনে সাজদাবনত থাকো এবং রাতের দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করতে থাকো।
২৭
⋮
إِنَّ هَؤُلَاءِ يُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ وَيَذَرُونَ وَرَاءَهُمْ يَوْمًا ثَقِيلًا ﴿٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
এরা বৈষয়িক স্বার্থের এ (সহজলভ্য) পার্থিব জগতকেই বেশী ভালোবাসে এবং পরে যে তাদের উপর একটা কঠিন দিন আসছে তা (এরা) উপেক্ষা করে!
২৮
⋮
نَحْنُ خَلَقْنَاهُمْ وَشَدَدْنَا أَسْرَهُمْ وَإِذَا شِئْنَا بَدَّلْنَا أَمْثَالَهُمْ تَبْدِيلًا ﴿٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
(অথচ) আমিই এদের সৃষ্টি করেছি এবং এদের জোড়াগুলো ও তার বাঁধন আমিই মযবুত করেছি, আবার আমি যখন ইচ্ছা করবো তখন এদের (এ শক্ত বাঁধন শিথিল করে তাদের) আকৃতিই বদলে দেবো।
২৯
⋮
إِنَّ هَذِهِ تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا ﴿٢٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
এটা হচ্ছে অবশ্যই একটি উপদেশ বিশেষ, অতএব যার ইচ্ছা সে (একে আঁকড়ে ধরে) নিজের মালিকের কাছে যাওয়ার (একটা) পথ করে নিতে পারে।
৩০
⋮
وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿٣٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
আর আল্লাহ তা'আলা যা চেয়েছেন সেটা ছাড়া তোমরা তো কিছুই চাইতে পারো না; অবশ্যই আল্লাহ তাআলা সব কিছু জানেন এবং তিনি প্রজ্ঞাময়।
৩১
⋮
يُدْخِلُ مَنْ يَشَاءُ فِي رَحْمَتِهِ وَالظَّالِمِينَ أَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ﴿٣١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ ।
তিনি যাকে চান তাকে তাঁর অফুরন্ত রহমতের মাঝে প্রবেশ করান; যালেমদের জন্যে আল্লাহ তাআলা কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন।